টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বিশ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় তলিয়ে গেছে সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর নিন্মাঞ্চল। ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশংকা করা হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন অবস্থায় আছে নগরও। নগরের অনেক রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার পরও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেড়েই চলছে পানি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে সিলেটের ৪টি নদীর পানি ৬ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, গতকাল সোমবার রাত পর্যন্ত সিলেট জেলায় প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। তবে মঙ্গলবার স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, জেলায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের দিন কোরবানির পশুর মাংস, শুকনো খাবার, সেলাইন ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ শাহ মো সজিব জানান, সিলেটে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মি.মি বৃষ্টি হয়েছে। আর ৯ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১২ মিলিমিটার। আগামী দুইদিন সিলেটে টানা বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত ২৭ মে ঢলে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। এতে জেলার সব উপজেলায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি হন। সেই বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ফের বন্যা কবলিত হয়েছে সিলেট।
সোমবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, জেলার ১৩টির মধ্যে ১০টি উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পানিবন্দী। তবে বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকায় বাড়ছে প্লাবিত এলাকা। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তৃর্ন এলাকা তলিয়ে গেছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার মামার দোকার এলাকার ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রবল বেগে ঢল নামছে। এলাকার অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে।
এদিকে, গতকাল সোমবার ঈদের দিন সকালে টানা বৃষ্টিতে নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে ঈদের জামাত ও কোরবানি নিয়ে বিপাকে পড়েন নগরবাসী। তবে দুপুরের পর বৃষ্টি থামলে নামতে শুরু করে নগরের পানি। কিন্তু মঙ্গলবার ভোররাত থেকে ফের শুরু হয় সিলেটে বৃষ্টিপাত। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সিলেট নগরের পানি। ফলে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে নগরে।
নগরের উপশহর এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম আহমদ বলেন, পানিতে বাসা ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় গতকাল কোরবানি দিতে পারিনি। গতকাল থেকে আজ পরিস্থিতি আরও খারাপ। পানি দ্রুত বেগে বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরের সব নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে শাহজালাল উপশহর প্রায় পুরোটাই পানির নিচে। অনেকের বাসার নিচতলায় গলা পর্যন্ত পানি। এছাড়া যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ মহানগরের অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত।
এছাড়া নগরের মধ্যে অনেক সড়কে পানি রয়েছে। এয়ারপোর্ট সড়ক, সিলেট-তাবিল সড়ক, দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোডসহ বিভিন্ন সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান পানির নিচে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জানায়, এ সময় পর্যন্ত সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা থেকে ১৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীটির সিলেট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং নদীর সারিগোয়াইন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ইন্ডিয়া মেট্রোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত ৩৯৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে দ্রুত বাড়ছে সিলেটের নদ-নদীর পানি। সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় ৫৩৮ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন ড্রেন ও খালের ময়লা-আবর্জনার ব্লকেজ অপসারণ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বনিকের নির্দেশনায় পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা এস্কেভেটর মেশিনসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিহারী পয়েন্ট, ষোলঘর পয়েন্ট, হুসেন বখতসংলগ্ন দুর্গাবাড়ি মন্দিরের বিপরীত পাশের ড্রেন, কামারখালসহ বিভিন্ন ড্রেন ও খালের ময়লা অপসারণ করা হয়। এসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে ড্রেনের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল।
দুর্গাবাড়ির পাশের মুদির দোকানদার মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, ‘পৌরসভা থেকে ড্রেনের মুখ পরিষ্কার করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে ময়লা জমে থাকায় পানি যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অল্প বৃষ্টি হলেই পানি জমে যেত। পাশে পৌরসভার একটি ডাস্টবিন রয়েছে, সেখানে যদি সবাই দায়িত্বশীলভাবে ময়লা ফেলেন তাহলে আর এ ধরনের সমস্যা হবে না।’
স্থানীয় জায়গার মালিক রাজীব বণিক বলেন, ‘ড্রেনের পাশে অনেকে ময়লা ফেলার কারণে বারবার এটি বন্ধ হয়ে যায়। পৌরসভা কিছুদিন পরপর পরিষ্কার করলেও আবার ময়লা জমে যায়। সবাই যদি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলেন তাহলে পরিবেশ সুন্দর থাকবে এবং পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক থাকবে।’
পৌরসভার যান্ত্রিক সুপারভাইজার সাঈদ আনোয়ার বাপ্পি জানান, পৌর প্রশাসকের নির্দেশনায় সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চলছে। বিহারী পয়েন্ট থেকে শুরু করে বক পয়েন্টসংলগ্ন এলাকা, মুসলিম হোস্টেল, বাঁধনপাড়া, কামারখাল, রায়পাড়া, সোমপাড়া, আরপিনগর খাল, কোর্ট প্রাঙ্গণ ও তেঘরিয়াসহ পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য এলাকার ড্রেনও পরিষ্কার করা হবে।
গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ আর গ্রামীণ জীবনের এক শান্ত-স্নিগ্ধ ছবি ফুটে উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের মানিকচাপর এলাকায় ফসলের মাঠে দেখা মিলেছে এক অপরূপ গ্রামীণ দৃশ্যের।
সেখানে দেখা যায়, সবুজ ফসলের মাঠের এক কোণে শান্ত মনে ঘাস খাচ্ছে ৬টি মহিষ। আর তাদের যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং মহিষগুলো যাতে ফসলের ক্ষতি না করে, সেজন্য পাশেই লাঠি হাতে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছেন এক কৃষক আবেদ আলী ।
স্থানীয়রা জানান, আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যই এখন বিলুপ্তপ্রায়। একসময় তাড়াশের চলনবিল অঞ্চলে লাঙল-জোয়াল আর মহিষের পালের অবাধ বিচরণ ছিল নিত্যদিনের চিত্র। কালের বিবর্তনে ট্রাক্টর আর পাওয়ার টিলার সেই জায়গা দখল করে নিলেও, মানিকচাপর এলাকার এই দৃশ্যটি যেন মুহূর্তের জন্য সবাইকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
মাঠে মহিষ চড়ানোর সময় কথা হয় সেই কৃষক আবেদ আলীর সাথে। মুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও চোখে ছিল সন্তুষ্টির হাসি। নিজের জীবনের গল্প ও মহিষ পালনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এখনকার দিনে তো মাঠের হাল চাষ থেকে শুরু করে সব কাজই মেশিনে হয়। মহিষের গাড়ি বা মহিষের হাল এখন আর চোখে পড়ে না। কিন্তু আমি বাপ-দাদার আমলের এই অভ্যাসটা ছাড়তে পারি নাই। প্রতিদিন বিকেলে এই ছয়টা মহিষ নিয়া মাঠে আসি খোলা হাওয়া আর তাজা ঘাসের খোঁজে।
তিনি আরও বলেন, এদের পেছনে খাটুনি যেমন আছে, তেমনি লাভও আছে। এই মহিষের খাঁটি দুধ বিক্রি করেই প্রতিদিন আমার সংসার চলে। আবার কোরবানির হাটে ভালো দামে বিক্রি করলে একবারে অনেকগুলো টাকা হাতে পাওয়া যায়। কষ্ট হলেও এদের আমি নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করি। এই ছয়টা মহিষই আমার সংসারের মূল চাকা।
সবুজ মাঠ, অলস ভঙ্গিতে মহিষের ঘাস খাওয়া আর কৃষক আবেদ আলীর এই পাহারার চিত্রটি ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী অনেক পথচারীকেই আকৃষ্ট করছে। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে গ্রামীণ এই শান্ত ও মনোরম পরিবেশ এক টুকরো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
মাগুরা সদর উপজেলার বেরইন পলিতা ইউনিয়নের রামদের গাতি গ্রামে মায়ের অগোচরে বাবা কর্তৃক এক নবজাতক শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা সহ মোট চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর গ্রামের শাহানুর ও মনিরা দম্পতির বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, মাগুরা সদরের বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদের গাতি গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগর হোসেন (৩৪) ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুনের (২৫) ঘরে একটি কন্যা শিশুর জন্ম হয়। অর্থের লোভে শিশুটির বাবা সাগর হোসেন মাত্র ২৫ হাজার টাকায় মায়ের অগোচরে শিশুটিকে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর গ্রামের মো. সাহাবুর ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুন এর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে শিশুটির বয়স একমাস ২৫ দিন হলে তার মা বিষয়টি জানতে পেরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চান।
অভিযোগের পর মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শত্রু জিতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
শিশুটির পিতা সাগর হোসেনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, অভাবের তাড়নায় তিনি এ কাজ করেছেন এবং পরে জীনে নিয়ে গেছে বলে একটি নাটক সাজান।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এক প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, জনগণের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে মাগুরার পুলিশের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধানের পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দুই সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগসংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, গত ১৬ জুন কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রশিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধানকে ঘিরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ওই দুই আইনজীবী। এ সময় অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, প্রশাসন জিসানের সঙ্গে আইনজীবী ও স্বজনদের কথা বলতে দেয়নি।
নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা জিসানের মামলায় ওকালতনামা নেইনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলেছি। নিয়োগ বাতিলের আদেশে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে জিসানের মামলার বিষয়ে কথা বলার কারণেই এ সিদ্ধান্ত হয়ে থাকতে পারে।’
কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে। তারা দুজনই সরকারি আইনজীবী ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হয়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে কোনো আসামির পক্ষে অবস্থান নেওয়া সমীচীন নয়।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় যেকোনো সময় সরকারি আইনজীবীদের নিয়োগ বাতিল করতে পারে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, নিয়োগ বাতিল হওয়া দুই আইনজীবী জিসানের পক্ষে ওকালতনামা না নিলেও আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে তার পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন।’
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে তার পরিবার দাবি করে। পরদিন দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে একই দিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে দাউদকান্দি থানায় ২৫ বছর বয়সি এক বিধবা নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
খাল, বিল ও নদী-অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম। এক সময়ের উত্তাল ধলেশ্বরীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই হাওর জনপদ বর্ষায় প্লাবিত হয় বিশাল জলরাশিতে। আবার শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র খরা; খাল-বিল ফেটে হয় চৌচির।
প্রমত্তা ধলেশ্বরী তখন রূপান্তরিত হয় সবুজ ফসলের মাঠে। ‘মাছের ভাণ্ডর’ বলে খ্যাত এই হাওরে শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় দেশীয় মাছের তীব্র সংকট। ফলে জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।
অষ্টগ্রাম উপজেলায় প্রায় ৮৭৭৯ জেলে পরিবারের বসবাস। খাল-বিল ও নদী-নালায় পানি না থাকায় বছরের প্রায় ৬ মাস তাদের বেকার থাকতে হয়। ফলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মেয়ের বিয়ে, সংসারের ভরণপোষণ এবং নৌকা-জাল কিনতে গিয়ে দিন দিন তাদের ঋণের বোঝা বাড়ছে। ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা ও গভীর উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের দিন।
জরাজীর্ণ টিন ও বাঁশের নড়বড়ে বাসস্থানে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। বাসিন্দাদের চোখে-মুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ। নির্ঘুম চোখ, শরীরে ক্লান্তি আর রোগা জীর্ণ-শীর্ণ দেহ সবকিছুই যেন সাব্ষ্য দিচ্ছে তাদের নিদারুণ দৈন্যতার। চরম দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে হাওরের নিভৃত পল্লীগুলোতে বংশপরম্পরায় বসবাস করছে মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই মৎস্যজীবী গোষ্ঠী। আবহমান কাল ধরে মাছ শিকারই তাদের জীবিকার একমাত্র প্রধান উৎস।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ায় তাদের জীবন আজ দুর্বিষহ। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালি জমে ভরাট হয়ে গেছে হাওরের নদী, নালা ও খাল-বিল। পর্যাপ্ত জলাধারের অভাব এবং নদীতে মাছের অপ্রতুলতার কারণে তারা উপার্জন ক্ষমতা হারাচ্ছেন। এক সময় ঘাটে ঘাটে সারি সারি মাছ ধরার ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা থাকত, মাছ ধরার ক্ষেত্রও ছিল অবাধ। এখন আর সেই চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না।
চলতি বছরের ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত হাওরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়টাতে জেলেরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কোনো সরকারি বিকল্প সাহায্য বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন।
জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর বর্ষাকালে মাছ ধরার সুযোগ থাকলেও জলমহালগুলো থাকে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ইজারাদারদের দখলে। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেও বন্ধ হয়নি জলমহাল ইজারা প্রথা; কেবল দখলদারদের হাতবদল হয়েছে। জেলেদের নৌকা প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা ইজারাদারদের দিয়ে জলমহালের আশপাশে মাছ ধরার সুযোগ মিললেও পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় তাদের অভাব দূর হচ্ছে না।
পক্ষান্তরে, হাওরের অধিকাংশ কৃষক এখন কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ ধরার সকল কৌশল রপ্ত করে নিয়েছেন। বর্ষাকালে তারাও মাছ ধরায় নিয়োজিত হন। মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও কৃষকদের দাপটে দুর্বল প্রকৃতির পেশাদার জেলেরা যত্রতত্র জাল ফেলতে ভয় পান। নানা কারণে মাছ ধরা এখন জেলে সম্প্রদায়ের কাছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই বংশানুক্রমিক এই পেশা ছেড়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিনমজুরির মতো বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন। জেলে পরিবারের নারী-পুরুষদের এখন দৈনিক কৃষি মজুর হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে অভ্যস্ত না হওয়ায় অন্য পেশায় তারা ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছেন না।
গভীর রাত কিংবা সারা রাত ঝড়-বৃষ্টি ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তাদের মাছ ধরতে হয়। দীর্ঘদিন এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অনেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে পড়ছেন। অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পেরে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পতিত হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক অবহেলা ও জাতিভেদ প্রথার কারণেও তারা সামাজিকভাবে এখনো বেশ পিছিয়ে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উদ্যোগে নদী খনন এবং হাওরের জলমহালগুলো ইজারাভুক্ত না করে সাধারণ জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে তারা অবাধে মাছ ধরার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জেলেদের প্রশিক্ষিত করে টেকসই ও বিকল্প জীবিকার উৎস তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি নানামুখী সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফুল ইসলাম রিয়েল জানান: ‘হাওরের হতদরিদ্র জেলেদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী বছর থেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তাদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ খাদ্য সহায়তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কালনী নদীর তীর থেকে মুখমণ্ডল থেঁতলানো অবস্থায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সামনে কালনী নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাতের কোন এক সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
নিহত মো. শফিক মিয়া (৩১) আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় আব্দুল্লাহপুর বাজারে শ্রমিকের কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শফিক মিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। ওই মীমাংসার অংশ হিসেবে সাবেক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, শফিকের কাছে ৪০ হাজার টাকা ছিল এবং বাকি ১০ হাজার টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। টাকাগুলো সবসময় নিজের কাছেই রাখতেন। এ কারণে টাকার লোভে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিন জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ অংশের বাঘমারা পূর্ব কাটুটিলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের জহির মিয়ার দুই ছেলে হামিদ মিয়া ও কাবিল মিয়া এবং একই এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়া।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে হামিদ, কাবিল ও সাব্বির একটি নৌকা নিয়ে হাকালুকি হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ অংশে মাছ ধরতে যান। দুপুর গড়াতেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থালেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
বজ্রপাতের পর হামিদ ও সাব্বিরের মরদেহ নৌকার ওপরেই পড়ে ছিল। তবে কাবিল মিয়ার মরদেহটি নৌকা থেকে ছিটকে হাওরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা হামিদ ও সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করলেও কাবিল মিয়ার সন্ধান পাননি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিখোঁজ কাবিল মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের জন্য হাওরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে পাঁচটা) পানিতে তলিয়ে যাওয়া মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজনের মরদেহ পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
হাওরপাড়ে তিন তরুণের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজনগরের কামালপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম।
ঢাকা ও টাঙ্গাইলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও অনুমোদনবহির্ভূত গ্যাস ব্যবহার বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পাইপলাইন অপসারণ এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
গত বুধবার (১৭ জুন) তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মহাব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপকদের উপস্থিতিতে ঢাকা জেলার আমিনবাজারের সালেহপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্থানীয়দের অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের কারণে বৈধ গ্রাহকরা প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযানে সালেহপুর এলাকার এক আবাসিক গ্রাহকের সংযোগ থেকে অবৈধভাবে ওয়াশিং কারখানায় গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে লক-উইং ককে প্লাস্টিক সিল লাগানো হয়। একইভাবে একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অবৈধভাবে মডিফাইড বার্নারের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ছাড়া পাঁচজন বৈধ গ্রাহকের প্রাঙ্গণে অনুমোদনবহির্ভূতভাবে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে লক-উইং ককে প্লাস্টিক সিল স্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইয়ের নাজিরপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রায় ৭৪০ ফুট দীর্ঘ ৩/৪ ইঞ্চি ব্যাসের জিআই পাইপ অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি আনুমানিক ৫৬টি বাড়ির ৬৩টি ডাবল চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এ সময় অবৈধ গ্যাস সরবরাহের পাঁচটি উৎসস্থল স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন (কিলিং) করা হয় এবং দুটি সম্পূর্ণ অবৈধ রেগুলেটর জব্দ করা হয়। অনুমোদনের অতিরিক্ত চুলায় গ্যাস ব্যবহারের দায়ে তিনজন গ্রাহকের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অভিযানে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের দায়ে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও চুরি রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
খাল, বিল ও নদী-অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম। এক সময়ের উত্তাল ধলেশ্বরীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই হাওর জনপদ বর্ষায় প্লাবিত হয় বিশাল জলরাশিতে। আবার শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র খরা; খাল-বিল ফেটে হয় চৌচির।
প্রমত্তা ধলেশ্বরী তখন রূপান্তরিত হয় সবুজ ফসলের মাঠে। 'মাছের ভান্ডর' বলে খ্যাত এই হাওরে শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় দেশীয় মাছের তীব্র সংকট। ফলে জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।
অষ্টগ্রাম উপজেলায় প্রায় ৮৭৭৯ জেলে পরিবারের বসবাস। খাল-বিল ও নদী-নালায় পানি না থাকায় বছরের প্রায় ৬ মাস তাদের বেকার থাকতে হয়। ফলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মেয়ের বিয়ে, সংসারের ভরণপোষণ এবং নৌকা-জাল কিনতে গিয়ে দিন দিন তাদের ঋণের বোঝা বাড়ছে। ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা ও গভীর উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের দিন।
জরাজীর্ণ টিন ও বাঁশের নড়বড়ে বাসস্থানে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। বাসিন্দাদের চোখে-মুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ। নির্ঘুম চোখ, শরীরে ক্লান্তি আর রোগা জীর্ণ-শীর্ণ দেহ সবকিছুই যেন সাব্ষ্য দিচ্ছে তাদের নিদারুণ দৈন্যতার। চরম দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে হাওরের নিভৃত পল্লীগুলোতে বংশপরম্পরায় বসবাস করছে মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই মৎস্যজীবী গোষ্ঠী। আবহমান কাল ধরে মাছ শিকারই তাদের জীবিকার একমাত্র প্রধান উৎস।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ায় তাদের জীবন আজ দুর্বিষহ। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালি জমে ভরাট হয়ে গেছে হাওরের নদী, নালা ও খাল-বিল। পর্যাপ্ত জলাধারের অভাব এবং নদীতে মাছের অপ্রতুলতার কারণে তারা উপার্জন ক্ষমতা হারাচ্ছেন। এক সময় ঘাটে ঘাটে সারি সারি মাছ ধরার ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা থাকত, মাছ ধরার ক্ষেত্রও ছিল অবাধ। এখন আর সেই চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না।
চলতি বছরের ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত হাওরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়টাতে জেলেরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কোনো সরকারি বিকল্প সাহায্য বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন।
জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর বর্ষাকালে মাছ ধরার সুযোগ থাকলেও জলমহালগুলো থাকে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ইজারাদারদের দখলে। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেও বন্ধ হয়নি জলমহাল ইজারা প্রথা; কেবল দখলদারদের হাতবদল হয়েছে। জেলেদের নৌকা প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা ইজারাদারদের দিয়ে জলমহালের আশপাশে মাছ ধরার সুযোগ মিললেও পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় তাদের অভাব দূর হচ্ছে না।
পক্ষান্তরে, হাওরের অধিকাংশ কৃষক এখন কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ ধরার সকল কৌশল রপ্ত করে নিয়েছেন। বর্ষাকালে তারাও মাছ ধরায় নিয়োজিত হন। মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও কৃষকদের দাপটে দুর্বল প্রকৃতির পেশাদার জেলেরা যত্রতত্র জাল ফেলতে ভয় পান। নানা কারণে মাছ ধরা এখন জেলে সম্প্রদায়ের কাছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই বংশানুক্রমিক এই পেশা ছেড়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিনমজুরির মতো বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন। জেলে পরিবারের নারী-পুরুষদের এখন দৈনিক কৃষি মজুর হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে অভ্যস্ত না হওয়ায় অন্য পেশায় তারা ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছেন না।
গভীর রাত কিংবা সারা রাত ঝড়-বৃষ্টি ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তাদের মাছ ধরতে হয়। দীর্ঘদিন এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অনেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে পড়ছেন। অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পেরে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পতিত হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক অবহেলা ও জাতিভেদ প্রথার কারণেও তারা সামাজিকভাবে এখনো বেশ পিছিয়ে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উদ্যোগে নদী খনন এবং হাওরের জলমহালগুলো ইজারাভুক্ত না করে সাধারণ জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে তারা অবাধে মাছ ধরার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জেলেদের প্রশিক্ষিত করে টেকসই ও বিকল্প জীবিকার উৎস তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি নানামুখী সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফুল ইসলাম রিয়েল জানান: "হাওরের হতদরিদ্র জেলেদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী বছর থেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তাদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ খাদ্য সহায়তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।"
ভোলা পৌরসভা এলাকার এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সকাল ১১টার দিকে ভোলা পৌরসভার উত্তরপাড়া এলাকায় একটি বাসার পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটের পূর্ব পাশের রুমে খাটের ওপর মোছা. সুমাইয়া আক্তার মিতু (২২)-কে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. বশির আহমেদ বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় রুজু করা হয়।
পরে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। গত ১৭ জুন রাত আনুমানিক ১টার দিকে র্যাব-৮-এর সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. সোহাগ (২৭), মোছা. কহিনুর বেগম (৫৫) এবং মো. মুলা আক্তার (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভোলা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রস্তোম পুর আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন খাল খনন এবং মাটি ভরাট কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল আউয়াল।
পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘মাননীয় দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই খাল খনন ও মাটি ভরাট কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আশ্রয়ন প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খাল খননের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা যেমন উন্নত হবে, তেমনি ভরাটকৃত ভূমিতে বাসিন্দাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বসবাসের পরিবেশ তৈরি হবে।
পরিদর্শন দলের অন্যান্য সদস্য: এই পরিদর্শনকালে মুখ্য সমন্বয়ক ও জেলা প্রশাসকের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন— ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার, ডুমুরিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস
পরিদর্শন শেষে অতিথিবৃন্দ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডুমুরিয়া আশ্রয়ন এলাকার দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে যাবে এবং বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান আরও বেগবান হবে।
পিরোজপুরে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির উদ্যোগে একটি ‘অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে গত বুধবার (১৭ জুন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এই অন্ধকার দূর করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী নারীরা যাতে দ্রুত আইনি সহায়তা পেতে পারেন, সেজন্য সরকারি হেল্পলাইন নম্বর—১০৯, ৯৯৯ এবং ১০৯৮-এর প্রচার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। একইসঙ্গে তিনি ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
ব্র্যাক জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক উর্মি ভাদুড়ীর সঞ্চালনায় এবং ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কোর্ডিনেটর জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ডায়ালগটিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ,সাব ইন্সপেক্টর রাশিদা আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মণ্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন।
এসময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ। তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখছে।
শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভুমিকা রাখায় উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি পূর্ণবাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ, মরিচ বীজ, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।