শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
২০ পৌষ ১৪৩২

ফের সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

ফাইল ছবি
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮ জুন, ২০২৪ ২০:২৩

সিলেটে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো দ্বিতীয় দফায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন।

জানা গেছে, এর আগে গত ৩০ মে বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রথম দফায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়করা। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ফের বন্যা দেখা দেওয়ায় দ্বিতীয় দফায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধের ঘোষণা এলো।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া না পর্যন্ত সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিলেটের সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে তলিয়ে গেছে সাদাপাথর, জাফলং, বিছানাকান্দিসহ প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্র।

এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, বন্যা পরিস্থিতির জন্য সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে সেগুলো কার্যকর করা হয়েছে।

বিষয়:

হাত-পায়ে ভর করে চলা মাসুদার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি সুবিধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর গ্রামে বসবাস ৫০ বছর বয়সি মসুদা বেগমের। জন্ম থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে হাঁটতে পারেন না। শুধু হাঁটতে পারা নয়, সে একজন বাকপ্রতিবন্ধীও। দুটি হাত ও দুটি পা ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলাই তার জীবনের একমাত্র ভরসা। এইভাবেই প্রতিদিন তিনি লড়াই করে টিকে আছেন।

মসুদার জীবন যেন দুঃখ আর সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অন্যদের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাঁটা তার কল্পনার বাইরের বিষয়। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ধরে তিনি যখন দুই হাত ও দুই পা মাটিতে ঠেকিয়ে সামনের দিকে এগোন, তখন অনেকেই বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন, আবার কেউ কেউ চোখ ফিরিয়ে নেন। কিন্তু কারও দৃষ্টি তার জীবনের যন্ত্রণাকে লাঘব করতে পারেনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মসুদা জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। বর্তমানে বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। একমাত্র ভাইয়ের কাছেই তার আশ্রয়। তার ভাই দিনমজুরি কাজ করেন। সংসার চালানোয় দায়, বোনের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় ভাইটির। কেউ দয়া করে কিছু দিলে তা দিয়েই কোনরকম দিন কাটাতে পারেন।

প্রতিবেশী মাওলানা শাহে আলম বলেন, ‘চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। মসুদা সরকারি কোন সহায়তাও পান না। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সহায়তার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে হয়তো একটি হুইলচেয়ার বা অন্তত চলাচলের উপযোগী কোনো সহায়ক যন্ত্র পেতে পারতেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্য আর অবহেলার কারণে সে স্বপ্ন আজও অধরাই রয়ে গেছে।’

একই এলাকার ইউনুস বলেন, ‘মসুদা বেগম মায়ের গর্ভ থেকেই প্রতিবন্ধী। একজন ভাই আছে, তাও অসহায়। মানুষ কিছু সহযোগিতা করলে খরচ চলে। সে সরকারি কোন সহযোগিতা পায়না। তবে সরকার সহযোগিতা করলে কোন রকম চলতে পারবে।

মসুদা বেগমের ভাই বেল্লাল বলেন, ‘আমার পাঁচ বোন ও আমি সবার ছোট। প্রতিবন্ধী বোনটি সবার বড়। আমার বোন কোন ধরনের ভাতা পাচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোন সহযোগিতা করেনি। আমি একা মানুষ কাজ করে নিজের সংসার চালাই, এবং বোনেরও খরচ চালাই। সরকারের কাছে সাহায্য চাই।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। মসুদাকে সরকারি ভাতার আওতায় আনা হবে।’


শিক্ষকতার সঙ্গে সামাজিক ক্ষেত্রেও অবদান রাখছেন জাসিন্তা নকরেক

৪৩ বছর ধরে জয়িতা গারো নারী মধুপুর গড়ের আলো ছড়াচ্ছে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

ষাটের দশকে নারী শিক্ষা ছিল অনেক কঠিন। তেমনটা ছিল না পাঠ চুকানোর বিদ্যালয়। সহপাঠীরও ছিল অভাব। বিদ্যালয়ে সহপাঠী পাওয়া যেমন ছিল কষ্ট সাধ্য, তেমনি পাঠ চালিয়ে যাওয়াও ছিল আরো কঠিন। অভাব অনটন খাদ্য পোশাক পরিচ্ছদের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণটাও ছিল অনেক পরিবারের পক্ষে সাধ্যের বাহিরে। এমন সময় নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নিজেরদের জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের শিক্ষা প্রদান করা আলো ছড়ানোর মধ্যে একজন হলো জাসিন্তা নকরেক। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে। শালবন এলাকার টেলকি মান্দি গ্রামের এই নারী ১৯৬৩ সালে জন্ম গ্রহন করে। তার বাবার নাম স্বর্গীয় মার্টিন হাদিমা। ঐ সময় শালবন ছিল ঘন অরণ্যেঘেরা। নানা বৃক্ষ রাজি লতা পাতা নানা জীবজন্তুর অভয়ারণ্য। হতো জুম চাষও। তার বেড়ে উঠা শৈশব কৈশোর জীবন যৌবনের সবটুকু সময় কেটেছে লাল মাটির এ গড় অঞ্চলে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মধুপুর শহর থেকে ১০/১২ কিলোমিটার দূরে অরণখোলা ইউনিয়নের টেলকি গ্রামে গিয়ে তার সাথে কথা বলে জানা যায় জাসিন্তা নকরেকের আলো ছড়ানোর গল্প। ২০২৫ সালে তিনি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমাজ সেবায় অসামান্য অবদান রাখায় নির্বাচিত হয়ে অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা।

জাসিন্তা নকরেক তার গ্রাম থেকে বন পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে পড়তে আসতেন। বন পাড়ি দিতে ভয় হতো। কখনও সাথী পাওয়া যেত, কখনো পাওয়া যেত না এমন পরিস্থিতি নিত্যদিন আসতে হতো পড়তে। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ১৯৬৯ সালে ৫ম পাশ করে ষষ্ঠ শ্রেনী ভর্তি হন জলছত্র কর্পোস উচ্চ বিদ্যালয়ে। ঐ সময় তার মা অসুস্থ ও দেশে যুদ্ধ বাঁধার কারণে বিদ্যালয়ের যাতায়াত নিরাপদ না থাকায় পড়া বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তার বোনের কাছে ১৯৭২ সালে সেলাই শিখে কাজ করে সংসারের ভাইবোনদের দেখাশোনা শুরু করে। মায়ের অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পড়ে যায় তার উপর। এভাবে সংসারের কাজের পাশাপাশি ২৯৭৫ সালে আবার ভর্তি হয়ে অষ্টম পাশ করে নবাব গঞ্জের গোল্লা মিশন সেন্ট গালর্স হাইস্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি পাশ করে। নিজ এলাকায় এসে কর্পোস খ্রীস্টি হাইস্কুলে এসে শিক্ষকতা শুরু করে। পরে মধুপুর কলেজ হয়ে ট্রান্সফার হয়ে চলে যায় টাঙ্গাইল কুমুদিনী কলেজে।

তিনি জানান, নিজেদের এলাকায় তেমন স্কুল না থাকায় ১৯৮৩ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে শিক্ষকতা। প্রথমে সাইনামারী ও পরে বেরিবাইদ মিশনারী স্কুলে। এভাবে গায়রা, টেলকি, গেৎচুয়া ও পরে আবার গায়রা মিশনারী স্কুলে এখন তিনি টেলকি মিশনারী স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছে। ৪৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি আলো ছড়িয়েছে বন এলাকায় নিজের জাতিগোষ্ঠীসহ স্থানীয়দের মাঝে। শুধু শিক্ষকতাই নয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে রেখেছে অবদান।

তিন মেয়ে স্বামী নিয়ে তার জীবন সংসার। তিন মেয়েকে করেছে উচ্চ শিক্ষিত। বড় মেয়ে ঢাকায় ব্যবসা করে। মেঝো মেয়ে ব্যুরো বাংলাদেশের প্রশাসন বিভাগে কর্মরত। ছোট মেয়ে জাপানে পড়াশোনা শেষ করে ঐ দেশেই চাকরি করছে।

এছাড়াও তিনি গারো সম্প্রদায়ের নারীদের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে। তাদের নিজেদের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

জাসিনাতা নকরেক জানান, শালবনের পাশেই তার বেড়ে উঠা। এখানেই তার মায়ের বাড়ি। পাশেই তার দাদার বাড়ি। পাশের গ্রাম থেকে তাদের প্রথা অনুযায়ী জামাই এনেছে রাজাবাড়ি গ্রা থেকে। তিনি বলেন তার মায়ের সাথে মধুপুর বনে জুম চাষ করতে যেত। জুমের অনেক কথাই তার মনে পড়ে। জুমে ধান, দেওধান, কাউন, ভুটা, বরবটি, করল্লা, তিল, তুলা, শিমুল, কচুসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হতো। এখন আর জুম চাষ নেই রয়েছে তার মনের স্মৃতিতে।

তিনি আরো জানান, মানুষ সৃষ্টি সেরা হিসেবে ভালো মানুষ হওয় দরকার। সৎ ও সহযোগিতা মূলক মনোভাব থাকা দরকার। যেন প্রত্যেকটা পরিবার আর্দশ পরিবার হিসেবে গড়ে উঠে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে আধ্যাত্মিক নৈতিকতা মূলক পরিবার সমাজ যেন গড়ে উঠে। এতে সুন্দর হবে গ্রাম। শহর দেশ যেন ভালো সুন্দর হয়। সব মানুষ যেন ভালো মানুষ হয়।

কারো ক্ষতির মনোভাব যেন না থাকে, পরামর্শ দিয়ে যেন সহযোগী হয়, সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠে আগামী প্রজন্ম এমনটাই প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

জাসিন্তা নকরেকের স্বামী শৈলেস দালবত জানান, তারা স্বামী স্ত্রী মিলে এখন বাড়ি সংসার করছে। তিনি কৃষি কাজ করে, তার স্ত্রী শিক্ষকতা করে। মেয়েরাও চাকরি ব্যবসা করে। সুখের সংসার। মানুষের বিপদ আপদে জাসিন্তা ছুটে যায়। এগিয়ে আসে সমাজের বিভিন্ন কাজে। তার এমন কাজ ও অর্জনে তিনি খুশি বলে জানান।


উন্নয়ন ও সুশাসনের নতুন পথে হাঁটছে পঞ্চগড়

নতুন জেলা প্রশাসক সায়েমুজ্জামানের দৃঢ় নেতৃত্বে চা-শিল্পে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের অনন্য উদ্যোগ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের নেতৃত্বে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে জেলার সার্বিক চিত্রে এসেছে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অপরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ, পরিবেশ দূষণ ও চা-শিল্পে অনিয়ম-সবকিছুতেই ধীরে ধীরে ফিরছে শৃঙ্খলা। প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগে পঞ্চগড় এখন উন্নয়ন ও সুশাসনের নতুন পথে হাঁটছে। এক সময় পঞ্চগড় শহরের সড়কগুলো ছিল চলাচলের অনুপযোগী। ধুলাবালি, বালির স্তূপ ও ময়লা আবর্জনায় শহরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ত।

বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ধুলার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতো। বর্তমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত পানি ছেটানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ধুলাবালি ও আবর্জনা পরিষ্কারে জোরদার করা হয়েছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে নগর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘদিন জমে থাকা বালির স্তূপ ও ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। ফলে শহরের পরিবেশ যেমন পরিচ্ছন্ন হচ্ছে, তেমনি নাগরিকদের ভোগান্তিও কমে আসছে।

পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ইতোমধ্যে কয়েকটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে।

পঞ্চগড় ট্রাক টার্মিনালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষিকা নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভে নামলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

একইভাবে পঞ্চগড় রেলস্টেশনের একটি রেলক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসচালক নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসী রেল চলাচল বন্ধ করে দিলে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

এসব ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে।

উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার পাশাপাশি জেলার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক খাত চা-শিল্পেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সবুজ চা-পাতার মূল্য নির্ধারণী সভায় চা-শিল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, কারখানা মালিক ও চা-চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পঞ্চগড়ে প্রতি কেজি সবুজ চা-পাতার সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত চা-চাষিরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে সব চা-চাষিকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই নিবন্ধন কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে শেষ করতে হবে। নিবন্ধন না করলে কোনো চা-চাষি সরকারি সার ও কৃষি সহায়তা পাবেন না। একই সঙ্গে নিবন্ধনবিহীন চা-চাষিদের উৎপাদিত সবুজ চা-পাতা কোনো কারখানা কিনতে পারবে না।

নিবন্ধিত চা-চাষিদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া সবুজ চা-পাতার কর্তন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সবুজ চা-পাতার কর্তন কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের পর কোনো কারখানা সবুজ চা-পাতা কিনতে পারবে না। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩১ ডিসেম্বরের পর সংগৃহীত সবুজ চা-পাতা দিয়ে গ্রিন টি উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা প্রশাসনের এসব সমন্বিত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড় অদূর ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও চা-শিল্পে একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও কঠোর তদারকি জেলার উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।


রাজধানীতে বুয়েট উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব ই-রিকশার পাইলটিং কর্মসূচির উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) উদ্ভাবিত তিন চাকার ই-রিকশার পাইলটিং কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আফতাবনগর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জিগাতলা এলাকায় পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকার সড়কগুলোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন উদ্ভাবিত এই ই-রিকশাটি সাধারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক এবং নিরাপদ। বুয়েটের প্রকৌশলীদের তৈরিকৃত এই নকশায় উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম এবং কার্যকর গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৮ ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারি, যা একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। পাইলটিং পর্যায়ে এই রিকশাগুলোর ব্রেকিং সক্ষমতা, আরোহীর আরাম এবং চালকের নিয়ন্ত্রণ দক্ষতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানিয়েছেন যে, ঢাকার বাস্তবতায় যানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই এবং এই কর্মসূচির সফলতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এই ই-রিকশাগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির ফলে রিকশাগুলো নির্ধারিত এলাকার বাইরে বা কোনো প্রধান সড়কে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কতটি রিকশা চলাচল করবে, তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নির্ধারণ করে দেবে। যাতায়াত ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগে স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে বিদ্যমান সব প্যাডেল ও অবৈধ ব্যাটারি রিকশাকে এই আধুনিক ই-রিকশায় রূপান্তর করা।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ই-রিকশা চালকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রায় ২৪ হাজার রিকশাচালককে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে এবং লাইসেন্স ইস্যু করেছে। ঢাকা উত্তরের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এবং দক্ষিণের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষিত চালকরাই নির্ধারিত এলাকায় এই যান চালাতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আফতাবনগর ও ধানমন্ডি এলাকায় নতুন ই-রিকশা এবং মতিঝিল এলাকায় রূপান্তরিত ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে পুরো ঢাকা শহরে এই সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।


বোরহানউদ্দিনে আল হাইয়া বিজ্ঞান স্কুলের যাত্রা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা জেলা প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিনে শিক্ষা খাতে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করল আল-হাইয়া বিজ্ঞান স্কুল। নতুন বছরের তৃতীয় দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) বোরহানউদ্দিন দক্ষিণ বাস স্টান্ড সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভবনে শিক্ষার্থী ও অভিবাকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

বই উৎসব ও দোয়া অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কাজী মো: শহীদুল আলম নাসিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হামিম আহমেদ, সিনিয়র অফিসার জনতা ব্যাংক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মো: জাফরউল্লাহ, (অবঃপ্রাপ্ত) ম্যানেজার কৃষি ব্যাংক, আঃ হাই সহ সভাপতি আল-হাইয়া বিজ্ঞান স্কুল।

উদ্বোধনের পর দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সফলতা কামনা করা হয়। পরে প্রধান অতিথিসহ বিশেষ অতিথিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষসহ সার্বিক বিষয়াদি পরিদর্শন করেন। এর আগে স্কুলের শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলওয়াত, ছড়া, কবিতা আবৃত্তি সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আল-হাইয়া বিজ্ঞান স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি মনে করি একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সফলতা নির্ভর করে চারটি স্টেকহোল্ডারের ওপর। এর মধ্যে প্রথম স্টেকহোল্ডার ম্যানেজমেন্ট, দ্বিতীয় স্টেকহোল্ডার শিক্ষক ও স্টাফরা, তৃতীয় স্টেকহোল্ডার শিক্ষার্থীরা এবং চতুর্থ স্টেকহোল্ডার হচ্ছেন অভিভাবকরা। এই সবগুলো একত্রে মিললেই একজন শিক্ষার্থী সফল হয়ে উঠবে। শিশুদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটানো এবং নৈতিক অবক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে এ স্কুল পরিচালনার কথা জানান তিনি'।

‘সাইন্স উইথ মোরালিটি’—এ আদর্শ ধারণ করে জাতীয়মানের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার অবারিত সুযোগ নিয়ে বোরহানউদ্দিন পৌর শহরের দক্ষিণ বাস স্টান্ড সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান প্লাজার দোতলার ওপর আধুনিক ও স্থাপত্যর ছোয়ায় গড়ে উঠেছে স্কুল ক্যাম্পাস। জাতীয় শিক্ষাক্রমের বাংলা ভার্সনে স্কুলে শিশু থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকার্যক্রম চালু হচ্ছে। এ স্কুলের কারিকুলাম এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যেন শিক্ষার্থীদের প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এতে তারা আধুনিক জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের বাধা মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য দক্ষ হয়ে গড়ে উঠবে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, আল-হাইয়া বিজ্ঞান স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হরা হয়েছে। ভবনটিতে শিশু থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পৃথক ক্লাস রুমের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া চারপাশে রয়েছে খোলা বারান্দা। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবেন। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে শ্রেণিকক্ষে।

সরেজমিন স্কুল ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, সুপ্রশস্ত লম্বা সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়। দোতলায় উঠে হাতের ডান পাশে রয়েছে সাইন্স ল্যাব ও কম্পিউটার ল্যাব। স্কুলটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, অঙ্কনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাবা-মায়ের হাত ধরে প্রথম স্কুলে আসা ছোট্ট শিশুটির দুরন্ত শৈশব, উচ্ছলতায় ভরা কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যের উদ্দীপনায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার গল্প। এখানে হাত বাড়ালেই শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অন্বেষণ করে আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারবে।

স্কুলে প্রবেশ করার জন্য শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কার্ড ব্যবহার করে শিক্ষার্থী যখন স্কুলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে সাথে সাথে অভিবাবকের কাছে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ চলে যাবে। স্কুল ছুটির পর অনুরুপ পদ্ধতি অনুসরন করা হবে। অভিভাবক ঘরে বসেই জানতে পারবে বাচ্চা কখন স্কুলে প্রবেশ করেছে কখন ত্যাগ করেছে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সখ্য গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিসর বিস্তৃত হবে এবং তারা আরও বেশি দক্ষ হয়ে গড়ে উঠবে।


কুড়িগ্রামের ক্যাম্পে বিজিবি সদস্যের গুলিবিদ্ধ মরদেহ

বিজিবি সদস্য নাসিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) ক্যাম্প থেকে এক সদস্যের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দেড়টার দিকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন গঙ্গারহাট বিওপি ক্যাম্প থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিজিবির গোয়েন্দা বিভাগ ও পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করছে।

নিহত বিজিবি সদস্য নাসিম উদ্দিন (২৩) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের বাবুল মণ্ডলের ছেলে।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে নাসিম সীমান্ত টহলে যাওয়ার উদ্দেশে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে অস্ত্র গ্রহণ করেন। পরে ক্যাম্পের ব্যারাকের পূর্ব পাশের বাউন্ডারির ভেতরে অবস্থান নেন তিনি। কিছু সময় পর হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়।

গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নাসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরে গতকাল শুক্রবার সকালে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গঙ্গারহাট বিজিবি ক্যাম্পটি সড়ক সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ক্যাম্পটির কিছু দূরেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি ক্যাম্প রয়েছে। গভীর রাতে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘুম থেকে জেগে উঠে ক্যাম্পের দিকে ছুটে যান। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিজিবি সদস্যরা তাদের ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। পরে জানা যায়, এক বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহত সৈনিক নাসিম অবিবাহিত ছিলেন। তিনি পারিবারিক কিছু সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে এসব বিষয়ের বিস্তারিত তিনি সহকর্মীদের জানাননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাসিম বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বিজিবির গোয়েন্দা বিভাগ। তদন্তে অন্য কোনো কারণ বা তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মেহেদী ইমাম জানান, নিহত সৈনিকের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান নাঈম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’


৩০ কার্যদিবসের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা দেন।

এর আগে জুমার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার হয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে দিয়ে শাহবাগে এসে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য দেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তার বক্তব্য শেষে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। এতে শাহবাগ মোড়ের এক পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ। এর মধ্যে ২৯ ডিসেম্বর ‘স্যালুটিং আওয়ার কালচারাল হিরো’ শিরোনামে অনলাইন প্রচার কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। এরপর আবার শুক্রবার (২ জানুয়ারি) শাহবাগে অবস্থান নেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগে অবস্থান নিয়ে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

ওসমান হাদিকে খুনের কারণ উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ইনসাফের আন্দোলন শুরু করেছিল। ফলে অনেকেই মনে করেছে হাদিকে যদি এখনই হত্যা করা না যায় তাহলে পরবর্তী সময় তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সীমান্তে লাশ ফেলা যাবে না। দিল্লির তাঁবেদারি করা যাবে না। সবকিছু একই সূত্রে গেঁথে তারপর হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।’

খুনিদের গ্রেপ্তারে সরকারের সদিচ্ছা নেই উল্লেখ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘হাদিকে গুলি করা আজ ২১ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ২১ জনকেও সরকার গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। খুনিদের বাপ, মা, বোন, ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এমন একজনকেও তারা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো সদিচ্ছা আছে বলেও আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না।’

আবদুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, ডিএমপি কমিশনার সংবাদ সম্মেলন করে বলে যে ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে জড়িত দুজনকে মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মেঘালয় পুলিশ বলছে, কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তার মানে হলো ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

সরকার পতনের ঘোষণা দিয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমাদের কথা খুব সুস্পষ্ট। সরকার ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে, আমরা ৩০ কার্যদিবস সময় দিয়েছিলাম। আর বাকি আছে ২২ দিন। আমরা ওই কার্যদিবস ধরেই আগাইতেছি। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যদি সরকার এই খুনের বিচারকার্য সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা ৩০ কার্যদিবসের পর সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করব।’

৭ জানুয়ারির মধ্যে শুধু খুন যারা করেছেন, তারা নন, এই খুনের পেছনে যারা রয়েছেন, প্রত্যেককে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করার দাবি জানান আবদুল্লাহ আল জাবের।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য আজ শনিবার তারা সব রাজনৈতিক দলের কাছে যাবেন। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশপন্থী তাদের কাছে যাব। যারা ভারতের তাঁবেদারি করে, তাদের কাছে যাব না। যত বাংলাদেশপন্থি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে, প্রতিটির কাছে যাব। তাদের কাছে সহযোগিতা চাইব। তারা সহযোগিতা করলে আলহামদুলিল্লাহ, না করলে আমরা রাজপথে থাকব।’


এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট, দামও বেশি

* গ্যাস সংকটে ৮ মাস বন্ধ সিইউএফএল, দিনে ক্ষতি ৩ কোটি টাকা * ১২০০ টাকার এলপিজি মিলছে না ১৮০০ টাকায়ও * নতুন দাম ঘোষণা হবে কাল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্যবিদায়ী বছরের মতো নতুন বছরেও গ্যাস সংকটি দিয়ে শুরু হলো। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি, দেশীয় উৎস থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়া, এলএনজি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং সমুদ্রবক্ষে অনুসন্ধান কার্যক্রমে স্থবিরতায় চাপে পড়া জ্বালানি খাত ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এদিকে, লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সুযোগ নিচ্ছেন এলপিজি খাতের ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী সিন্ডিকেট। সরবরাহ সংকটের অজুহাত তুলে তারা দাম নিয়ে এক রকম নৈরাজ্যে মেতে উঠছেন; কাটছেন ভোক্তাদের পকেট।

গত কয়েক দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের সব সময় বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি গুনতে হলেও এবার দাম বাড়া সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চড়া দামের পাশাপাশি সংকটও তীব্র করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতে স্বাভাবিকভাবে পাইপ লাইনের গ্যাস সরবরাহ কমে যায় বলে সিলিন্ডারের গ্যাসের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। চাহিদা ও জোগানের এই অসামঞ্জস্যের সুযোগ নিয়ে খুচরা পর্যায়ে দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোক্তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

১২০০ টাকার এলপিজি ১৮০০ টাকায়ও মিলছে না বলে জানালেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা কাওসার খান। তিনি জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে এলপিজি শেষ হওয়ার পর পাড়ার দোকানে ফোন করেন কিন্তু সেখানে এলপিজি সিলিন্ডার নেই। এরপর আরেক দোকানে ফোন করেও পাননি।

শেষে আরেকটি দোকানে একটি সিলিন্ডার পান। কাওসার খান বলেন, ‘এক সিলিন্ডারের দাম দিতে হয়েছে দেড় হাজার টাকা। হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধি চিন্তা করা যায় না।’

কল্যাণপুর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা ফারজানা নীলা বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর সিলিন্ডার দোকানে খোঁজ করে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজি পাওয়া গেলেও দাম দিতে হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ টাকার বেশি গুনতে হয়েছে তাকে।

সিলিন্ডার খুঁজতে গিয়ে ৩১ ডিসেম্বর একই রকম বিপদে পড়েন মিরপুরের কাজীপাড়ার আসমা আখতার। তিনি ১ হাজার ৮০০ টাকায়ও পাননি। তিনি বলেন, ১২ কেজি এলপিজি কিনতে দিতে হয়েছে ২ হাজার ১০০ টাকা। অথচ ডিসেম্বরে সরকার নির্ধারিত এলপিজির দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা।

রাজধানীর মুগদাপাড়ার গৃহিণী মাহবুবা আলম সাথী জানান, ১২ কেজি এলপি গ্যাসের একটি সিলিন্ডার বিইআরসির নির্ধারণ করা দামে কখনোই কিনতে পারেন না। ২০০ টাকা বাড়তি গুনতে হলেও নিরুপায় হয়ে মেনে নেন। তবে গত মঙ্গলবার বাসায় ১২ কেজির সিলিন্ডার দিয়ে সরবরাহকারী ২ হাজার টাকা দাম চাইলে হতভম্ব হয়ে পড়েন তিনি। বিকল্প না থাকায় এক লাফে দেড় গুণ হওয়া দামই দিতে বাধ্য হন।

মাহবুবা আলম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিইআরসি ডিসেম্বরে ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। অথচ এই দাম মানছেন না বিক্রেতারা। তারা বিক্রি করছেন নিজেদের তৈরি বাড়তি দামে। এবার তো একেবারে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। তদারকিই যদি না থাকে, তাহলে দাম নির্ধারণ করে লাভ কী? এ ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাস ব্যবহার না করেও প্রতি মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা বিল নিচ্ছে তিতাস। এর ওপর সিলিন্ডারের জন্য আগে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি মাসে গ্যাসের জন্যই প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ। এখন সেটাও বেড়েছে এক লাফে ৫০০-৬০০ টাকা। সিলিন্ডারের গ্যাস নিয়ে এই অরাজকতা কবে শেষ হবে?

রামপুরার বনশ্রীর বাসিন্দা আলী মোহাম্মদ বলেন, ‘১ হাজার ৮০০ টাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছি কয়েক দিন আগে। আগে কিছু কোম্পানি কিছুটা কম দাম রাখত। কিন্তু এখন সবারই এক দাম। দামের চেয়েও বড় সমস্যা হলো, অনেক দোকানে এখন গ্যাসসহ সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না।’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মিত হয়েছে। আবাসিক খাতে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় এসব ভবনেও তিতাসের গ্যাসের সংযোগ নেই। এসব ভবনের বাসিন্দারাও রান্নার জন্য এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। নিম্ন আয়ের অনেক মানুষও এখন এলপিজি-নির্ভর। ফলে বিপুল ভোক্তাশ্রেণিকে জিম্মি করে অধিক মুনাফার সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

অবশ্য দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীদের অজুহাত বরাবরের মতো সরবরাহের সংকটের। বনশ্রীর ‘আইডিয়াল এলপিজি’র স্বত্বাধিকারী ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমরা এখন পাইকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছি না। কোম্পানিগুলো থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। বিইআরসি ডিসেম্বরের নতুন দাম ঘোষণা করার পর সরবরাহ আরও কমে গেছে। শীত মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ না থাকায় বাজারে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি বলেন, পরিবেশক থেকে প্রতিটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৫২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের খুচরা বিক্রেতা বজলুর রহমান বলেন, পরিবেশকদের কাছ থেকে সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আজ অর্ডার দিলে কয়েক দিন পর সরবরাহ পাওয়া যায়। সরকারি দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা হলেও পাইকারি পর্যায়ে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকার বেশি দামে। ফলে তাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহকারী কোম্পানি ফ্রেশ এলপি গ্যাসের এরিয়া সেলস ম্যানেজার মো. আফজাল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি আমদানি কমেছে। এতে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কোম্পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এলসি জটিলতার কারণে আমদানির সমস্যা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

গ্যাস সংকটে ৮ মাস ধরে বন্ধ সিইউএফএল, দৈনিক ক্ষতি ৩ কোটি: পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিলের পর এবার দেশে গ্যাসের সরবরাহ সর্বনিম্ন। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকিটা পূরণ হচ্ছে আমদানি করা এলএনজি থেকে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় যা খুব নগণ্য। এ ছাড়া দেশীয় কূপ খননের মাধ্যমে সহসা বাড়তি গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্থবির হয়ে আছে সমুদ্রবক্ষে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমও। ফলে এক চরম সংকটপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়েই শুরু হলো গ্যাস খাতের বছরটি। এই অবস্থার মধ্যেই আগামীকাল রোববার বিইআরসির নতুন দাম ঘোষণার কথা রয়েছে।

বিইআরসি ও এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র বলছে, শীতের সময় বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। এতে দামও কিছুটা বাড়তি থাকে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানির জাহাজসংকট। নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে।

লোয়াবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ বলেন, ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। সরবরাহের সংকটেই মূলত বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবু তারা পরিবেশকদের কাছে বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ করছেন। তবে খুচরা বিক্রেতারা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

এই অবস্থার আগামীকাল রোববার চলতি মাসের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন মূল্য জানানো হবে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত জানুয়ারি (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী, এই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা ওই বিকাল ৩টায় ঘোষণা করা হবে। গত ২ ডিসেম্বর সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আগামীকাল এলপিজির পাশাপাশি ঘোষণা করা হবে অটোগ্যাসের দামও।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলার) তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে গ্যাসের সর্বোচ্চ চাহিদা রয়েছে চার হাজার মিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে দুই হাজার ৮ মিলিয়ন বা ২৮০ কোটি থেকে সর্বোচ্চ তিন হাজার মিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের। ফলে চাহিদার তুলনায় সংকট রয়েছে প্রায় ১০০০ মিলিয়ন বা ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের।


হাসিনা-কামালকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে : প্রেস সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ভারতের পালিয়ে থাকা অপরাধীদের পাঠানোর বিষয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের ফেরত পেতে সময়ের প্রয়োজন। তবে তাদের দেশে ফেরত আনা হবে। এক সময় না এক সময় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে দেশে ফিরতেই হবে এবং বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় অবস্থিত নিতাই গৌর সেবাশ্রমে অধ্যক্ষ বাবাজী মহারাজ চিন্ময় আনন্দ দাসের (চঞ্চল গোসাই) সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সারা বাংলাদেশে অত্যন্ত সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা গ্রাম ও শহরে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা বিরোধীদের কথা বলে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। তারা নিজেরাই নিজেদের ডিসকোয়ালিফাইড করেছে। কোনো রাজনৈতিক দল যখন হাতে অস্ত্র তুলে নেয়, সাধারণ মানুষ ও ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়, তখন জনগণ সেই দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। স্বাধীনতার চেতনাকে পুঁজি করে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পুলিশ ও এনএসআইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক অত্যাচার ও জুলুম চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এজন্য তাদের অবশ্যই দেশে ফিরে এসে বিচার মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে আসেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশ ত্যাগ করেন।

এসময় সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলাম, মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান, নিতাই গৌর সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভৌমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহন বন্ধের দাবিতে টঙ্গীতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে ধর্ষেণের হুমকির প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভুলেশন ও ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের সদস্য নুরনবীর ওপর ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের শ্রমিকদের হামলার প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভুলেশনের সদস্যরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের গাজীপুরে চলাচলের অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে তারা টঙ্গীতে অনুপ্রবেশ করছে। তাদের চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান। যাত্রীদের হয়রানি করেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেন এই পরিবহনের চালক ও হেলপাররা। এ সময় বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভুলেশনের সদস্য নুরনবী প্রতিবাদ করায় তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। পরে খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা পুলিশের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং নুরনবীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ভিক্টর পরিবহন বন্ধ ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এতে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির মূখ্য সংগঠক আকাশ ঘোষ, যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম আকাশ সহ বাংলাদেশ ইয়ুথ রেভুলেশনের কর্মীরা।


মাদারীপুরে ভাসমান ও হতদরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে আছি মাদারীপুর’ এর আয়োজনে মাদারীপুর পৌরশহরে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে ভাসমান ও হতদরিদ্রদের মাঝে শতাধিক শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও ‘রাইটস্ যশোর’ এনজিও এর মাদারীপুর জেলার প্রোগ্রাম অফিসার বায়োজিদ মিয়া তার কর্মীদের সাথে নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে-ঘুরে ছিন্নমূল, ভাসমান ও হতদরিদ্রদের মাঝে ভালো মানের নতুন জ্যাকেট বিতরণ করেন। এ সময় তার সাথে যোগ দেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলার সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থা ‘আসক ফাউন্ডেশন’ এর জেলা শাখার সভাপতি শরীফ ফায়েজুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ, সমাজসেবী হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক এমদাদুল হক মিলন সহ ওই সংগঠনের উপদেষ্টারা, সমন্বয়ক ও কর্মীরা। মানবিক এই কাজকে সর্বস্তরের মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।


মাগুরা জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন, প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে বাড়ছে ভীড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মাগুরার বিভিন্ন এলাকার মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে হলুদ সরিষা ফুল। দেখে মনে হয় যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। প্রকৃতি যেন সেজেছে এক মনোমুগ্ধকর সাজে। মাঝে মাঝে পৌষের হিমশীতল বাতাস এসে দোলা দিচ্ছে সরিষা ফুলে। যা প্রতিনিয়ত মানুষের মন কারছে। আর প্রকৃতির সেই সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে প্রতিদিন মাগুরার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন কেউ বা আবার টিক-টক বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের জুইতারা গ্রাম, আলমখালী, পাটকেলবাড়ি, মালঞ্চি সহ বিভিন্ন গ্রাম গুলোর মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে হলুদ রঙে সজ্জিত সরিষা ফুল। যার সৌন্দর্যে ছুটে আসছে মৌমাছিরাও। কিছু কিছু মাঠ ঘুরে দেখা যায় ফুল ঝরে ফল আসতে শুরু করেছে।

সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের জুইতারা গ্রামের কৃষক ছমির মিয়া বলেন, প্রতিবছরই মাগুরায় সরিষা অনেক ভালো হয়। তবে এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষা ভালো হইছে। আমি এক বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করছি আশা করি ভালো লাভ হবে।

জেলার কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, এ বছর জেলায় ২২ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সদরে ১০ হাজার ৪০৮ হেক্টর, শ্রীপুরে ১,৪০৫ হেক্টর, শালিখায় ৭,৩৬০ হেক্টর এবং মহম্মদপুরে ৩,৭২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।

মাগুরার কৃষিবিদ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এ বছর সরিষা চাষের জন্য কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। প্রচণ্ড শীতে বা কুয়াশায় তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে আশা করছি।

সরিষা ফুলের মাঠ দেখতে আসা দর্শনার্থী শাকিরা বলেন, প্রতিবছর মাগুরা শহর থেকে সরিষা ফুলের মাঠ দেখতে আসি। প্রকৃতির এত সুন্দর মনোরম পরিবেশ না দেখে থাকতে পারিনা। প্রতিবছরই কোনো না কোনো মাঠে যেয়ে আমরা ছবি তুলি। মাঠের পাশ দিয়ে যে যাবে তারই মন চাইবে একবার এই অপরূপ সৌন্দর্যের ফুলগুলিকে ছুঁয়ে দেখতে।


গারো পাহাড় সীমান্তে ভারতীয় মদ ও চোরাচালান পণ্য জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

গারো পাহাড় সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় মদ ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবি বিষয়টি নিশ্চিত করে।

গত বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি শেরপুর-ময়মনসিংহ সীমান্ত এলাকার একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ, আতশ, গরু ও প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করা হয়। তবে এসব ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।

বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার ভূঁইয়াপাড়া, হালুয়াঘাট উপজেলার গোবরাকুড়া ও গাবরাখালী এলাকা এবং শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ম্যারিংপাড়া এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করেন বিজিবি সদস্যরা।

অভিযানকালে অভিনব কায়দায় ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ৩৪ বোতল নিষিদ্ধ ভারতীয় মদ, ৩২ প্যাকেট আতশবাজি, ৫টি ভারতীয় গরু, ৩৫০ পিস পন্ডস ফেসওয়াশ, ১ হাজার ৫০০ পিস ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ক্রিম, ২১ হাজার ২০০ পিস জিলেট ব্লেড, ২৩ পিস কম্বল ও ৩০ কেজি ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত এসব চোরাচালানি পণ্য ও মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মোট বাজারমূল্য ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারসহ যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।


banner close