সিলেটে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো দ্বিতীয় দফায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন।
জানা গেছে, এর আগে গত ৩০ মে বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রথম দফায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়করা। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ফের বন্যা দেখা দেওয়ায় দ্বিতীয় দফায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধের ঘোষণা এলো।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া না পর্যন্ত সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিলেটের সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে তলিয়ে গেছে সাদাপাথর, জাফলং, বিছানাকান্দিসহ প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্র।
এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, বন্যা পরিস্থিতির জন্য সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে সেগুলো কার্যকর করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গড়ে তোলা একটি চুনাপাথর কারখানায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কারখানার তিনটি চুল্লি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সেখানে মজুত থাকা চুনাপাথর জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে একটি চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলে গ্যাস নির্গমন শুরু হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কারখানাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাওয়া যায়নি।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, অবৈধভাবে একটি চুনাপাথর কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যদিও কারখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সেখানে তিনটি চুল্লি নির্মাণ এবং চুনাপাথর মজুত করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তিতাসের পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে কারখানা চালানো। কিন্তু সংযোগ নেওয়ার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং পাইপলাইন থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি আর চালু করা না যায়, সে জন্য চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। জব্দ করা চুনাপাথর ও চুল্লির ইট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাবনী আক্তার তারানা আরও বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনের লিকেজ বন্ধে কাজ করছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। জমির মালিক অবৈধভাবে কারখানা স্থাপনের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে জমি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে পুরো কার্যক্রমের কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কারখানাটি স্থাপনের আগে তার কাছ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়নি কিংবা তাকে অবহিত করা হয়নি। গ্যাস লিকেজের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন এটি একটি অবৈধ কারখানা। স্থানীয়ভাবে যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহের প্রধান উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে এখনো গ্যাস নির্গত হচ্ছে। প্রথম দিকে পানিতে বুদবুদ দেখে স্থানীয়রা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও পরে বুদবুদের পরিমাণ বেড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্তে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি সামনে আসে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে চুরি করে নদীর পাশের নবনির্মিত চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সময়ই পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। লিকেজ বন্ধে তাদের কাজ চলমান রয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (আঞ্চলিক অপারেশন) প্রকৌ.সুমেধ মনি চাকমা, ব্যবস্থাপক (অপারেশন এন্ড মেইনটেনেন্স)মো. শামীম হোসেন, কিশোরগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটেলিয়ান সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ ও ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলার সিএনজি স্টেশন এলাকা থেকে ১ হাজার ৯৭৫ পিস ভারতীয় ইয়াবাসহ মো, নাসির নামে একজনকে আটক করে বিজিবি। এ সময় মো, রাসেল ও মো, শাকিল নামে দুজন পালিয়ে যায়। এর আগে রোববার রাতে বালিয়ামারি সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৫৮ বোতল ভারতীয় মদ আটক করে বিজিবি। তবে এ সময় কাউকে আটক করতে পারেনি।
আটক নাসির (৪৫) কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলার খাটিয়ামারি গ্রামের মৃত মো. মনিরুজ্জামানের ছেলে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ ও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাদকসহ আসামিকে রৌমারি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাঞ্ছারামপুরে ঝগড়া থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (২ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ কনস্টেবল ফরহাদ, এমদাদুল হক, সাইফুল আলম ও হোসনে মোবারক। ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামে হযরত শাহ রাহাত আলী (র.) এর বার্ষিক ওরশ শুরু হয়। ওরশে স্থানীয় মনির নামে এক ব্যক্তি তার দোকানের জন্য রাজন মিয়ার কাছ থেকে জেনারেটরের বিদ্যুৎ সংযোগ ভাড়া নেন। গত রোববার রাতে বিল পরিশোধ নিয়ে মনির ও রাজন মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ নিয়ে মনির পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। পরে সে তার লোকজন নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়।
থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, পুলিশের উপর হামলা ও আহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত মনিরসহ জড়িতদের আটক করতে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
নওগাঁ সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মো. আব্দুল আহাদ (২০) নামে এক পেশাদার ছিনতাইকারীকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আহাদ নওগাঁ শহরের চকদেব (মাস্টারপাড়া) এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া গ্রুপে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টার পর ভুক্তভোগী নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম ও তার বন্ধু তানভীর জেলা পরিষদ পার্কে ঘুরতে যান। এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মানিব্যাগ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের আব্দুল করিম এর ছেলে। তিনি এবং তার বন্ধু তানভীর নওগাঁ শহরের ডিগ্রি মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
জেলা পুলিশের পাঠানো ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়- ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ভুক্তভোগীরা প্রথমে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। পরে পুলিশ সুপার তাদের মামলা করার পরামর্শ দেন এবং ডিবিকে আসামি শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেন।
ডিবি পুলিশ পার্ক এলাকার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. আব্দুল আহাদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের আরও তিনটি মামলা রয়েছে। ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত আহাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
বান্দরবানের রুমা উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন সংক্রামক ও ঋতুভিত্তিক রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় দিনব্যাপী একটি বিশেষ মেডিকেল আউটরিচ ক্যাম্প হয়েছে। এতে পাহাড়ের গহিন এলাকার মোট ৪৬৫ জন নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ নানা ধরনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসান তার কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উন্নয়ন সংস্থা ‘গ্রিন হিল’-এর যৌথ উদ্যোগে এবং Momentum Integrated Health Resilience (MIHR) প্রজেক্টের সামগ্রিক সহায়তায় এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত শুক্রবার গ্যালেংগ্যা ইউনিয়নের কুরাং বাজার এলাকায় দিনব্যাপী এ ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল।
ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসান আরও তথ্য দেন যে, গত রোববার সকাল থেকে রেমাক্রী প্রাংসা ৩নং ওয়ার্ডের চরম দুর্গম বাশিরাম পাড়া ও হাস্তরাং পাড়ায় একটি পৃথক মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। তারা সেখানে হামের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
তাদের একটি টিম এখনো রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের দুর্গম এলাকাগুলোতে অবস্থান করছে। পাহাড়ি পথ ধরে এই মেডিকেল টিমটি লোকালয়ে ফিরে এলে সেখানে মোট কতজনকে হামসহ অন্যান্য টিকা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় দুর্গম জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, টিকাদান ও রোগ নির্ণয় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ বর্ষা মৌসুমে ঘরের কাছেই এমন প্রয়োজনীয় সেবা পেয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং পাহাড়ের এই বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে ভবিষ্যতেও যেন নিয়মিত এমন আউটরিচ ক্যাম্প আয়োজন করা হয় তার জোর দাবি জানিয়েছেন।
মাগুরায় বাসার ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে কামরুল হাসান শিবলু (৪৫) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। গতকাল
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মাগুরা শহরের ভায়না টিটিসি পাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
মৃত কামরুল হাসান শিবলু একই এলাকার মৃত আকবর মুন্সির ছেলে। সে বাসের টিকিট বিক্রি করতো ভায়না মোড়ে।
মৃতের ছেলে পাভেল মুন্সি জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে সকালে নিজ ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে আমার বাবা এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।
মাগুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রুহুল আমিন জানান, সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাগুরা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে উঠে এসেছে পুলিশের একটি শর্টগান। সোমবার (আগস্ট) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সিংগারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রেজাউল নামের এক ব্যক্তির পুকুরে জেলেরা জাল ফেলে মাছ ধরার সময় হঠাৎ একটি শর্টগান জালে আটকা পড়ে। বিষয়টি জানানো হলে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
আড়াইহাজার থানার অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এসআই শফিউল ইসলাম অস্ত্রের রেজিস্টার যাচাই করে নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া শর্টগানটি আড়াইহাজার থানা-পুলিশের এবং এর বাট নম্বর ৬৫১।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে এটি একটি। অস্ত্রটি কীভাবে পুকুরে পৌঁছেছে এবং এতদিন সেখানে পড়ে ছিলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ডায়াবেটিক সমিতির নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় ক্ষেতলাল পৌরসভার কাচারী বাজার ও থানাসংলগ্ন এলাকায় সামসুল হোদা তালুকদারের দান করা ২০ শতাংশ জমির ওপর এ সমিতির নতুন ভবনের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদ রানাপ্রধান।
অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হিন্দা শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুস সালাম। মোনাজাত শেষে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ উচ্চারণের মাধ্যমে ভবন নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
জানা যায়, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও ব্যক্তিগত অনুদান এবং জয়পুরহাট জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ফলক উন্মোচনের পর জেলা পরিষদের প্রশাসক সমিতির পুরোনো ভবন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে নিজে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার জন্য রক্তের নমুনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সরকার মোহাম্মদ রায়হান ও সহকারী প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান। ক্ষেতলাল সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রউফ এবং ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মঞ্জুর-এ-মওলা পলাশ, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সদস্য ও ক্ষেতলাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আলী হাসান মুক্তার, ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক নাফেউল হাদি মিঠু প্রমুখ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতালটি চালু হলে ক্ষেতলালের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি বাস্তবে রূপ নেবে।
বর্ষার বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা। গত জুলাই মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯৪ জন। আর আগস্ট মাসের প্রথম দুই দিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১৫ জন। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার দাউদকান্দি উপজেলাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে শুধু দাউদকান্দি উপজেলাতেই ১৮২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি মাসের প্রথম দুই দিনেই সেখানে আরও ২১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। উপজেলার সবজিকান্দি, নাগেরকান্দি ও সাহাপাড়া গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
এদিকে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।
চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা সালমা আক্তার ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা জানান, প্রথমে সালমা আক্তারের জ্বর আসে। কয়েকদিন পর তার মেয়েও জ্বরে আক্রান্ত হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, মা-মেয়ে দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
অপরদিকে, কুমিল্লা নগরীর একটি প্রতিষ্ঠানে নাইট শিফটে কর্মরত আলী নেওয়াজ ভূঁইয়া গত শুক্রবার থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাসার পাশের ড্রেন ও কর্মস্থলে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকতে হয়। এরপরই জ্বরে আক্রান্ত হই।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, দিন দিন ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় এক পর্যটকের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় এই রোমাঞ্চকর বিনোদনমূলক কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৈকতের কোনো পয়েন্টেই আর প্যারাসেইলিং করা যাবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার দুপুরে দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় ‘ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে প্যারাসেইলিংয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ৫-৬টি স্পিডবোটের ইঞ্জিন, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, গত শনিবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে প্যারাসেইলিং করার সময় ছিটকে পড়ে শৌভিক রয় নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই সৈকতে এ ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকদের অভিযোগ, যথাযথ আবহাওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়াই এসকল ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
নিহত পর্যটকের বোন এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রবিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। শৌভিক রয়ের মৃত্যুর পর থেকে সাধারণ পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন যে, মেরিন ড্রাইভের পার্শ্ববর্তী এসকল প্যারাসেইলিং পয়েন্টের কোনো বৈধ প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল না। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইতোমধ্যে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সকল প্যারাসেইলিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নানাবিধ প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। রবিবার (২ আগস্ট) সকালে উক্ত কার্যালয়ে এক আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক সরাসরি ভূমি কর্মকর্তা এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী খান এবং অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল, সফিকুল ইসলাম খান ও আব্দুল হালিম।
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক সফিপুর এলাকার অন্য একটি ভূমি অফিসও পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল করিম ভূঁইয়া স্বয়ং এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, জনসেবা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি রোধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিতে নতুন পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ৩ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে একটি আংশিক বৃষ্টি বলয় সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, এটি আংশিক বৃষ্টি বলয় হওয়ার কারণে দেশের সব স্থানে সমানভাবে বৃষ্টি না হয়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
বিভাগওয়ারী বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বৃষ্টি বলয় চলাকালীন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে। খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে পরবর্তী দিন রাজশাহীতে বিস্তৃত হবে। ৫ ও ৬ আগস্ট দেশের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টির প্রকোপ ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে এবং এই দুই দিন সারা দেশেই বর্ষণের তীব্রতা সর্বোচ্চ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবল বর্ষণের ফলে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ৫ ও ৬ আগস্ট সারা দেশে আকাশ মেঘলা থাকবে এবং রোদের দেখা মেলা ভার হবে, তবে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যে রোদ উঠতে পারে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হিসেবে রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ২২০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার এবং সিলেট ও ময়মনসিংহে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে ১৭০ থেকে ২২০ মিলিমিটার, খুলনায় ১৪০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালের বিভিন্ন স্থানে ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টিপাত মূলত তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রের ক্ষেত্রে বড় কোনো দুর্যোগের সংকেত না থাকলেও গভীর মেঘমালার প্রভাবে হঠাৎ দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে চলাচলের ক্ষেত্রে তাই বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের ফলে এই বৃষ্টি বলয়ের সময়সূচি ও শক্তির কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
দেশের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দৌরাত্ম্য বাড়ছে সশস্ত্র ডাকাত দলের। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে কোটি টাকার লেনদেনকারী ব্যবসায়ী ও বিকাশ এজেন্ট—কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না এই অপরাধীরা। কোথাও পুলিশি পোশাক পরে পথরোধ, কোথাও সড়কে পেরেক লাগানো কাঠ বা গাছের গুঁড়ি ফেলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বাস জিম্মি, আবার কোথাও গোপন সোর্সের খবরের ভিত্তিতে টার্গেট কুপিয়ে লাখ লাখ টাকা ছিনতাই করা হচ্ছে। কক্সবাজার, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় সারাদেশের পরিবহন খাতে মারাত্মক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
কক্সবাজার: টেকনাফে বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, বিকাশ এজেন্টের ৫৭ লাখ টাকা লুট। রোববার (২ আগস্ট) বেলা পৌনে দুইটার দিকে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে দিনদুপুরে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ডাকাতির ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে ‘পালকি পরিবহন’-এর একটি বাস কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। বাসটি দমদমিয়া এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল অস্ত্রধারী ডাকাত সড়কে পেরেকযুক্ত কাঠ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয়। বাসের চাকা ফুটো হওয়ার ঝুঁকিতে বাসটি থামতে বাধ্য হলে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
৫-৬ জন মুখোশধারী ডাকাত বাসে উঠে সরাসরি বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধিকে খুঁজতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কর্মী মো. আল আরমানকে (২৬) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয় এবং অপর প্রতিনিধি একরাম হোসেনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে ৫৭ লাখ টাকা ভর্তি দুটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
টেকনাফের বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, সকালে সীমান্ত ব্যাংক থেকে তোলা ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে কর্মীরা হ্নীলা, লেদা ও হোয়াইক্যং যাচ্ছিলেন। গোপন খবরের ভিত্তিতেই এই ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
গুরুতর আহত আরমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসচালক ফয়েজুল করিম ও তার সহকারীকে থানায় আনা হয়েছে। লুটের টাকা উদ্ধারে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান চলছে।
কুমিল্লা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডাকাত দলের সদস্যরা। দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৩ কিলোমিটার মহাসড়কে যানবাহনের গতিরোধ, রড, পাথর এবং ডিম নিক্ষেপ করে ডাকাতি ছিনতাই করাই সংঘবদ্ধ এ দলের কাজ।
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর, ইলিয়টগঞ্জ, গোমতা, চান্দিনার মাধাইয়া, সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন অংশে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং প্রবাস ফেরত লোকজন তাদের প্রধান টার্গেট।
সূত্র জানায়, মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত এসব ডাকাত বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় বাসা ভাড়া করে তারা ঘাপটি মেরে আছে। বিশেষ করে ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ময়নামতি এবং পদুয়ার বাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক ডাকাত সদস্য বাসা ভাড়া করে থাকে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রাতের আঁধারে বিভিন্ন ভাড়া বাড়িতে তারা একত্রিত হয়ে গোপন বৈঠক করে। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে তারা দেশীয় মোবাইল সিমের পরিবর্তে বিদেশি সিম নম্বর ব্যবহার করে। তাছাড়া বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে ডাকাতির মিশন এবং যোগাযোগ রক্ষা করে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, আমরা ডাকাতি প্রতিরোধে নিয়মিত টহল জোরদার করেছি। ডাকাত দলের সদস্যদের পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।
কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, শীর্ষ ডাকাত জজ এবং তার সঙ্গীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কয়েকজনেক এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ অংশে পুলিশি পোশাকের ছদ্মবেশ ধারণ করে ডাকাতি চালিয়েছে এক সংঘবদ্ধ চক্র। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ব্যবসায়ী মো. সামছুল আলম সরকার পরিবার নিয়ে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা ১০-১২ জনের একটি দল তাদের গাড়ির গতি রোধ করে।
ছিনতাই ও গাড়ি নিয়ে চম্পট: অস্ত্রের মুখে পুরো পরিবারকে জিম্মি ও মারধর করে ৪টি মোবাইল ফোন, নগদ ৯৩ হাজার টাকা কেড়ে নেয় ডাকাতরা। এমনকি মূল গাড়িটি ছিনিয়ে নিয়ে তারা সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুরে অভিযান চালিয়ে ৩ আসামিকে (রাসেল, শিপন ও অহিবুর) গ্রেপ্তার করে মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করেছে।
টাঙ্গাইল: এর আগে ১৪ জুলাই রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকার ঢাকাগামী সার্ভিস লেনে ডাকাতির উদ্দেশে সমবেত হয়েছিল একটি ডাকাত চক্র।
টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ বিশেষ নাইট পেট্রোল পরিচালনাকালে রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে বগুড়ার আরিফ (৩২) ও টাঙ্গাইলের সাজ্জাত (২২) নামের দুই ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেফাজত থেকে ১টি পিকআপ গাড়ি, ১টি হাইড্রোলিক জ্যাক, ১টি হাইড্রোলিক কাটার, ২টি লোহার পাইপ, অ্যাডজাস্টেবল রেঞ্চ ও প্লাস উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানাধীন মোবারকপুর ইউনিয়নের কানসাট-গোমস্তাপুর রোডের মিনু বাজার এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সিএনজি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ রাসেল (২৭),কানু ডাকাত (৪৭) এবং রুবেল (২২) নামের তিন ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করে। পুলিশ জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে চলাচলকারী গাড়ি ও পথচারীদের জিম্মি করে ডাকাতি করে আসছিল।
পর পর একাধিক মহাসড়কে সশস্ত্র ডাকাতি ও সহিংসতার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অপরাধ পর্যালোচনা সভায় হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ওই সভায় হাইওয়ে পুলিশের সব ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন রিজওনাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ সব থানা/ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ।
পরিবহন চালক ও যাত্রীদের দাবি হাইওয়ে পুলিশের টহল কেবল প্রধান পয়েন্টগুলোতে সীমাবদ্ধ না রেখে ঝুঁকিপূর্ণ লিংক রোড ও নির্জন স্থানগুলোতে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা গোয়েন্দা নজরদারি ও মোবাইল পেট্রোল চালু করতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি দিন দিন আরও বাড়বে।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার কক্সবাজার, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।