সিলেটে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো দ্বিতীয় দফায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন।
জানা গেছে, এর আগে গত ৩০ মে বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রথম দফায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়করা। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ফের বন্যা দেখা দেওয়ায় দ্বিতীয় দফায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধের ঘোষণা এলো।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া না পর্যন্ত সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিলেটের সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে তলিয়ে গেছে সাদাপাথর, জাফলং, বিছানাকান্দিসহ প্রধান প্রধান পর্যটনকেন্দ্র।
এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, বন্যা পরিস্থিতির জন্য সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে সেগুলো কার্যকর করা হয়েছে।
তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই পিরোজপুরের রাস্তায় কর্মরত প্রান্তিক ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
বুধবার (১ জুলাই) রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেশব্যাপী ‘হিটওয়েভ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পিরোজপুর জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এক বিশেষ ছাতা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ করা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিন পিরোজপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থানরত ট্রাফিক পুলিশ, রিকশাচালক, মুচি এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের হাতে এই ছাতাগুলো তুলে দেওয়া হয়।
ছাতা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পিরোজপুর ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘তীব্র গরমে রাস্তায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে তাদের সুরক্ষায় আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। মানবসেবায় রেড ক্রিসেন্ট সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
উক্ত কর্মসূচিতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পিরোজপুর ইউনিটের কর্মকর্তা, আজীবন সদস্য এবং যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত থেকে ছাতা বিতরণে সহায়তা করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য স্থানেও এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের হাসান আলী নামের এক সফল মৎস্য ব্যবসায়ী এবার শখের বশে বিলুপ্তপ্রায় ও দৃষ্টিনন্দন ‘কালিম পাখি’ পালন করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সাধারণত হাওর-বিল বা জলাভূমির এই বুনো পাখিকে খাঁচায় বন্দি না রেখে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও পোষ মানিয়ে পালন করায় প্রতিদিন তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় উৎসুক জনতা।
জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের ওই মৎস্য ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মাছ ব্যবসার পাশাপাশি দেশীয় ও সৌখিন পাখি পালনে আগ্রহী ছিলেন। প্রায় বছর খানেক আগে তিনি সৌখিনভাবে এক জোড়া কালিম পাখির ছানা সংগ্রহ করেন। প্রথম দিকে পাখি দুটি বুনো স্বভাবের হলেও নিবিড় পরিচর্যা, সঠিক পুষ্টি এবং ভালোবাসার কারণে অল্প দিনেই তারা গৃহপালিত হাঁস-মুরগির মতো পোষ মেনে যায়। বর্তমানে পাখি দুটি চুকনগর বাজারের পাশে তার নিজস্ব খামার ও মৎস্য ঘেরের আশেপাশে উন্মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায় এবং মালিকের ডাক শুনলেই কাছে ছুটে আসে।
খামারি জানান, নীল ও বেগুনি রঙের মিশ্রণে চোখ ধাঁধানো রূপের এই কালিম পাখিটির পা ও ঠোঁট টকটকে লাল। এই পাখি লালন-পালন করা বেশ সহজ। এরা মূলত জলজ উদ্ভিদ, কচি ঘাস, ধানের শীষের পাশাপাশি বাজারে কিনতে পাওয়া ব্রয়লার ফিড, গম এবং ছোট চিংড়ি বা মাছ খেয়ে জীবন ধারণ করে। গৃহপালিত হাঁসের মতোই এদের রোগবালাই অত্যন্ত কম এবং দেশীয় আবহাওয়াতে এরা দারুণভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।
চুকনগর বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এক সময় খুলনার বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলসহ বিভিন্ন বিলে প্রচুর কালিম পাখি দেখা যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও শিকারিদের দৌরাত্ম্যে এই পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। চুকনগরের বুকে উন্মুক্ত অবস্থায় এমন সুন্দর পাখি ঘুরে বেড়াতে দেখে অনেকেই মুগ্ধ হচ্ছেন। অনেকে আবার এই মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও কালিম পাখি পালনের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
উদ্যোক্তা মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান আলী জানান, কেবল শখের বশে শুরু করলেও এখন তিনি এটিকে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘কালিম পাখি খুবই বুদ্ধিমান। এদের ঠিকমতো যত্ন নিলে এরা চমৎকার পোষ মানে। আমার এখানে পাখি দুটি সম্পূর্ণ মুক্ত পরিবেশে বড় হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এরা ডিম দেবে এবং বাচ্চা ফুটিয়ে এদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।’
ডুমুরিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড, আশরাফুল কবির বলেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ নিয়ম মেনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ক্ষুণ্ণ না করে যদি এই ধরনের বিরল প্রজাতির পাখির কৃত্রিম প্রজনন ও খামার তৈরি করা যায়, তবে তা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি সৌখিন পাখিপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আয়ের উৎস হতে পারে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শাখা, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার উদ্যোগে গত এক মাসে (জুন) হারিয়ে যাওয়া ১০১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যলায়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন।
এ সময় হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অনেকেই সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইসিটি, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে পরিনত হয়েছে। হারানো মোবাইল মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দিতে পেরে আনন্দিত। নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো সকল মোবাইল উদ্ধারের জন্য সর্বদাই তৎপর রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মোহাম্মদ জিন্নাহ আল মামুনসহ কিসের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচয়হীন ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো এক নেপালী যুবকের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। তিনি নেপালের নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতিমধ্যে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারত সীমান্তের জলঙ্গী এলাকা হয়ে ওই যুবক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। বর্তমানে তিনি ইসলামপুর এলাকার ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি পলাশ আহমেদের (মুক্তার সরকার)এর হেফাজতে রয়েছেন। মানবিক কারণে পলাশ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আশ্রয়, চিকিৎসাসহ ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই যুবকের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি ইমো নম্বর দেন। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পর জানা যায়, যুবকের নাম রিয়ান আনসারী। তিনি নেপালের বারা জেলার কালাইয়া থানার বাসিন্দা এবং বাদল আনসারীর ছেলে।
রিয়ানের পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন কয়েকবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন, যা তার মানসিক অবস্থার উন্নতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রিয়ানের দেখাশোনাকারী পলাশ আহমেদ বলেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে রিয়ান আমার কাছেই আছে। পরিবারের একজন সদস্যের মতো করেই তাকে দেখাশোনা করছি। সে ভাত খেতে চায় না, গোশতের ঝোল দিয়ে মুড়ি মাখা ও ডিম ভাজি খেতে বেশি পছন্দ করে। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করে না।
এ বিষয়ে উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অনিন্দ্য গুহর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকৃতির শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে সমৃদ্ধির এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে মৌলভীবাজারের আকবরপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে এই গবেষণা কেন্দ্র ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে এই কেন্দ্রটি দেশের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ৩১৪ বিঘা বিশাল জমির ওপর গড়ে ওঠা এই গবেষণা কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত ফল চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে; উদ্ভাবিত হয়েছে ১১টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত ফলের জাত, যা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে এই কেন্দ্রে শুধু ফলই নয়, স্থানীয় আবহাওয়া উপযোগী বিভিন্ন সবজি ও তেল জাতীয় মাঠ ফসল নিয়েও চলছে ব্যাপক গবেষণা। একটি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবন করতে কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ বছর নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ে এই কেন্দ্র থেকে যে ১১টি ফলের জাত অবমুক্ত করা হয়েছে, তা হলো, ১৯৯৬ সালে বারি পেয়ারা-২, বারি লিচি-২, বারি লিচি-৩, ১৯৯৭ সালে বারি বাতাবি লেবু-১, বারি কামরাঙ্গা-১, বারি কামরাঙা-২, ২০০৮ সালে বারি কাঁঠাল-১, ২০১২ সালে বারি আম-১০, ২০১৮ সালে বারি জারা লেবু-১, ২০২৩ সালে বারি কাঁঠাল- ৫ এবং বর্তমানে এখানে ড্রাগন, কাঁঠাল, জাম্বুরা, পেয়ারা, আম, আনারস, লিচু এবং জারা ও কলেম্বুসহ বিভিন্ন লেবু জাতীয় ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
অন্য অঞ্চলে ভালো ফলন হলেও মৌলভীবাজার অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার কারণে যেসব সবজি আগে এখানে ভালো হতো না, সেগুলোকে এ অঞ্চলের উপযোগী করার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অতীতে পানি কচু ও লতি কচু নিয়ে সফল গবেষণার পর বর্তমানে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, বরবটি, লালশাক, শিম, পটোল ও টমেটো নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি তেল জাতীয় ফসলের ঘাটতি মেটাতে বাদাম, চিনা বাদাম, সরিষা ও সূর্যমুখীর ওপর গবেষণা চলছে। এছাড়া কফি ও গোলমরিচের মতো অর্থকরী ফসলের জাত নিয়েও পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা সফল হলে ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে নতুন জাত হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।
গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জানান, প্রথমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভালো ফলন হওয়া ফসলের নমুনা বা বীজ সংগ্রহ করা হয়। কখনো কখনো বিদেশি জাত এনেও পরীক্ষা করা হয়। এরপর এই অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে রোগবালাইমুক্ত ও অধিক ফলনশীল জাত তৈরি করা যায়, তা নিয়ে চলে দীর্ঘমেয়াদি ট্রায়াল। প্রাথমিক সফলতা মিললে পরে তা ব্যাপকভাবে চাষের উপযোগী জাত হিসেবে অনুমোদন পায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুরক্ষিত এই কেন্দ্রের ভেতরে কফি, গোলমরিচ, ড্রাগন, চায়না লেবু ও সিড লেবুসহ নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ। স্থানীয় বাসিন্দা জুনেদ মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখছি খুব নিরিবিলি পরিবেশে এখানে কৃষি গবেষণা হয়। সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত হলেও এখান থেকে উন্নত জাতের বিভিন্ন ফল ও গাছের চারা সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হয়।
কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষিশাস্ত্র) মো. আব্দুল মাজেদ মিয়া ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন জানান, অন্য অঞ্চলের সফল ফসলকে এই অঞ্চলের উপযোগী করে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সময় বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরাও আধুনিক এই জাতগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।
মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল এই কার্যক্রমের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমাদের মূল কাজ হলো অঞ্চলভিত্তিক কৃষি উন্নয়ন। আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে যেসব ফসল এখানে হতো না, আমরা সেগুলোর গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে এবং পোকামাকড় প্রতিরোধী করে এই অঞ্চলের উপযোগী জাত তৈরি করি। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (Non-profitable Organization)। আমরা অত্যন্ত সীমিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে উন্নত বীজ ও চারা সরবরাহ করছি। ফলে এক সময় এই অঞ্চলে যেসব ফল ও সবজি চাষের কথা ভাবা যেত না, এখন তা অনায়াসেই উৎপন্ন হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের নবগ্রাম কাশতা এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে সাকিবুল ইসলাম (১৭)নামের অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অটোরিকশার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করেন পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি স্যান্ডেলকেও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১২ টার দিকে এ মরদেহ উদ্ধার করেন থানা পুলিশ। নিহত সাকিবুল ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা গ্রামের রহম আালী ওরফে টুলুর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নবগ্রাম কাশতা গোলাই এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে একটি পাটক্ষেত থেকে সাকিবুলের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায় , প্রথমে অটোরিকশার সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে নিহতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে তিনটি স্যান্ডেল জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে স্বপন (২২) নামে এক ফার্নিচার ডিজাইনারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের নির্দেশনা দেন।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর বাসার পাশে একটি ডোবা থেকে পারভীন আক্তার (৪৬) নামে এক বিধবা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরের দিকে সখীপুর পৌর সভার ৭ নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেইটের দক্ষিণে বাসার কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারভীন আক্তার ওই ওয়ার্ডের মৃত হুমায়ন খানের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী তিনি। ছেলে ঢাকার সাভারে চাকরি করার সুবাদে সেখানে থাকেন। মেয়েকেও বিয়ে দিয়েছেন গত দু মাস হলো। এরপর থেকেই পারভীন বাসায় একাই থাকতেন। গত ২৯ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার সাভারে চাকুরিরত ছেলে সোাহেল রানা ফাহাদের সঙ্গে মোবাইলে তার সর্বশেষ কথা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে ফাহাদসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা একাধিকবার ফোন করলেও মোবাইল বেজে গেলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
পরে ৩০জুন সন্ধায় ফাহাদ ঢাকা থেকে ফিরে সখীপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। গতকাল রাত থেকেই পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি শুরু করেন।
খোজাখুজির একপর্যায়ে আজ বুধবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে মামলার বাদী সোহেল রানা ফাহাদ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এবিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বাসাইল-সখীপুর ইনচার্জ এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন বুঝা যাচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দায়ীদের সনাক্ত কারণের কাজ অব্যাহত আছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগর লবী। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, "এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে।"
খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ১জুলাই দুপুরে সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগর লবী।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, "এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে হবে।"
সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস এবং ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খন্দকার হাফিজুর রহমান,
ডুমুরিয়া উপজেলাপ্রাণী সম্মপদ কর্মকর্তা ড, আশরাফুল কবির,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর ইউ এস আই কাজল মল্লিক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা, প্রথম শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম,মহিলা বিষয় কর্মকর্তা হাসি রাণী, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, চুকনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম রুহুল আমিন,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিবাশীষ বিশ্বাস, চেয়ারম্যান মাহাবুবুর মোল্লা, শেখ হেলাল উদ্দিন, জহিরুল হক, গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, সমাবেশ মন্ডল,মোসলেম আলী, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সরোয়ার হোসেন, আব্দুল মালেক,নিত্যানন্দ মন্ডল, মাওলানা ওমর আলী, খুলনা জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্লা কবিরুল ইসলাম,শিক্ষক আইয়ুব হুসেইন, মাওলানা মোক্তার হোসেন, প্রমুখ।।
বক্তারা ডুমুরিয়া উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সুন্দর রাখতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়া ছাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা বালিয়াডাঙ্গী থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
নিখোঁজ এই ছাত্রীরা সবাই চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে খুশি, মল্লিকা ও ঋতু দেবনাথ, যারা দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। এছাড়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুজুতি রানী দেবনাথও তাদের সঙ্গে ছিল। তারা চারজনই গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি।
স্বজনরা জানান, দীর্ঘ সময় পার হলেও ছাত্রীরা বাড়ি না ফেরায় তারা সম্ভাব্য সকল স্থানে তল্লাশি চালিয়েছেন। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাদের কোনো হদিস মেলেনি। চার ছাত্রীর এমন রহস্যজনকভাবে একসঙ্গে উধাও হওয়ার ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে নিখোঁজ চার ছাত্রীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।” পুলিশ নিখোঁজ ছাত্রীদের অবস্থান শনাক্ত করতে তৎপরতা শুরু করেছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
কুমিল্লা নগরীর কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১-এর পৃথক দুইটি মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর এবং বুধবার (১ জুলাই) সকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (১ জুলাই) র্যাব-১১-এর অধিনায়কের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩০ জুন দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতয়ালী মডেল থানার টিক্কারচর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি বিশেষ আভিযানিক দল। অভিযানে মাহমুদুল হাসান জিদান (২৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
একইভাবে, ১ জুলাই সকালে কোতয়ালী মডেল থানার তেলীকোনা এলাকায় পরিচালিত পৃথক আরেকটি অভিযানে মো. মনির হোসেন (৩৭) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে ৩০ কেজি গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
র্যাব-১১ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে র্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, র্যাব-১১ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৭৫০ জনের বেশি মাদক কারবারিসহ হত্যা, অস্ত্র, ধর্ষণ, অপহরণ, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত বিপুল সংখ্যক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুরে একটি মাছের ঘের থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) ভোরে ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর খেজুরতলা সড়কের বড় খালের মাথা সংলগ্ন একটি মাছের ঘের থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত যুবকের নাম সঞ্জিব সরকার (৩০) । সে উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে সঞ্জিব সরকার বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে স্থানীয়রা তার নিজস্ব মাছের ঘেরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারকে জানায়।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা অন্যত্র সঞ্জিব হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে তার মরদেহ নিজস্ব মাছের ঘেরের সামনে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে রহস্যজনক এ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলায় পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আতাইকুলা ইউনিয়নের কুচিয়ামাড়া উত্তরপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—সদর উপজেলার কৈজুরী শ্রীপুর এলাকার সাদেক আলী প্রামাণিকের ছেলে শবদুল প্রামাণিক (৩৫) এবং তাঁর স্ত্রী আশা খাতুন (২৫)। আহত ব্যক্তির নাম আলম মোল্লা (৩০)। তিনি নিহত আশা খাতুনের ভাই।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শবদুল প্রামাণিক কিছুদিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে কুচিয়ামাড়া উত্তরপাড়া গ্রামে শ্বশুর আবুল হোসেন চৌকিদারের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁরা বাড়ির পাশের একটি পুকুর সেচ দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় পানি তোলার পাম্পের (মোটর) বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে হঠাৎ পুকুরের পানির মধ্যে পড়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো পুকুরটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে এবং পানিতে থাকা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মেইন সুইচ বন্ধ করে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে পথেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এদিকে বোন ও দুলাভাইকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন আশা খাতুনের ভাই আলম মোল্লা। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান দৈনিক তৃতীয় মাত্রাকে বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এটি একটি দুর্ঘটনা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুলিশের দুই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) এবং একজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) অবসরে গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ছিল তাদের শেষ কর্মদিবস।
অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- পুলিশ সদর দপ্তরের ডেভেলপমেন্ট শাখার অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ, ঢাকা রেঞ্জের প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এবং ডিআইজি মো. আবুল খায়ের।
অবসরে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ ডেভেলপমেন্ট শাখার আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ছিলেন।
জানা গেছে, চলতি মাসের ৪ জুন রেজাউল করিম মল্লিক অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। ওই সময় তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্বে ছিলেন। একই পদে থেকে তাকে অবসরে যেতে হলো। গত ২৮ জুন পুলিশের চার অতিরিক্ত আইজিপিকে বিভিন্ন দপ্তরে পদায়ন করা হলেও রেজাউল করিম মল্লিককে কোথাও পদায়ন করা হয়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হওয়ার আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ছিলেন। গত বছরের ১২ এপ্রিল রেজাউল করিম মল্লিককে ডিবিপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় রেজাউল করিম মল্লিক রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি-মন্ত্রী, আমলা ও দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বঞ্চনার শিকার হন বলেও জানা যায়।
অন্যদিকে ডিআইজি আবুল খায়ের ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের (টিডিএস) ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিন কর্মকর্তার শেষ কর্মদিবসে পুলিশ সদর দপ্তরের অফিসার্স ক্যাফেটেরিয়ায় বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।