বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিপৎসীমা ছাড়াল নদীর পানি, নেত্রকোণায় বন্যার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৯ জুন, ২০২৪ ১০:৫৯
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯ জুন, ২০২৪ ১০:৫৮

নেত্রকোণায় বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান। এ ছাড়া জেলার প্রধান সবকটি নদীর পানিই বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর এই নির্বাহী প্রকৌশলী।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পূর্বধলা উপজেলার কংশ নদীর জারিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার, খালিয়াজুড়ি উপজেলার ধনু নদীর পানি ৬৬ সেন্টিমিটার এবং দূর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি দূর্গাপুর পয়েন্টে ৯৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, আমাদের ত্রাণের ব্যবস্থা যেগুলো তা প্রস্তুত আছে। আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার যারা আছেন তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। উত্তরে দিকে উজান এলাকায় পানি বা বৃষ্টি হচ্ছে কি না এগুলোও আমরা মনিটরিং করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সামগ্রিকভাবে প্রস্তুত আছি। আমাদের প্রতিনিধি যারা আছেন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা প্রার্থনা করি আল্লাহর কাছে যেন বন্যা না হয়। তারপরও যদি হয়, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুত আছি।

বিষয়:

সহনশীল ও টেকসই নগরী গড়তে কেসিসি―র নতুন উদ্যোগ

* জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য সমন্বিত কৌশলপত্র হস্তান্তর * বাস্তুচ্যুতি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে : কেসিসি প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

‘খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু-জনিত অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনার কৌশল’ শীর্ষক একটি সমন্বিত কৌশল পত্র খুলনা সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলপত্রটি হস্তান্তর করেন কারিতাস-খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। কেসিসির সহযোগিতায় ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন (ডিআরআর এন্ড সিসিএ)’ প্রকল্পের আওতায কারিতাস-খুলনা অঞ্চল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষে এই কৌশল পত্রটি প্রণয়ন করা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম) এবং কারিতাস বাংলাদেশ যৌথভাবে কৌশলপত্রটি প্রণয়ন করেছে। কৌশলপত্রটি প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।

কৌশলপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক কারিতাস কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুতি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে এবং জীবিকার তাগিদে তারা মহানগর ও মহানগর সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। উদ্বাস্তু এ সকল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কেসিসির পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ কৌশলপত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সেবা প্রদান এবং সম্পদ বরাদ্দ আরও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।

প্রণীত কৌশলপত্র খুলনা সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা, সেবাপ্রদান, সমন্বয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী সংক্রান্ত নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। একই সঙ্গে এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ এবং কমিউনিটি প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করার একটি কাঠামো প্রদান করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় নগর সেবা, জীবিকার সুযোগ, সামাজিক সুরা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সমান ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যৌথ অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে নগর সেবাদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কেসিসির ভূমিকা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জলবায়ু অভিবাসী কৌশলপত্র প্রণয়নের যাত্রা, বিভিন্ন ধাপ এবং অংশীজনদের পরামর্শ ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া তুলে ধরে বক্তৃতা করেন কুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন, কেসিসির পরিকল্পনা কাঠামোর সঙ্গে কৌশলপত্রের উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন কেসিসির চিফ প্লানিং অফিসার আবির-উল-জব্বার এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে কারিতাস বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরে বক্তৃতা করেন কারিতাস-খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। ইউনিসেফ, এ্যাডামস, এ্যাডব, ওয়ার্ল্ড ভিশন, নবলোক, জেজেএস, ব্রাক, রূপান্তর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, উত্তরণ, সুশীলন-সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, কেসিসির ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


ঝালকাঠির শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরে টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাসনাইন তালুকদার দিবস, ঝালকাঠি

শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার টেন্ডার মূল্যায়ন নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে আগের দরপত্র কার্যক্রম বাতিল করে পুনঃ দরপত্র আহবান করায় এই অভিযোগটি প্রকাশ্যে উঠে এসেছে।

জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায় পরিচালন বাজেটের আওতায় ৭০১৬ প্রকল্পের খোলা দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) প্রক্রিয়ায় গত ১৭ জুন দুটি পৃথক দরপত্র আহবান করা হয়। এরমধ্যে কাঠালিয়া উপজেলার চেচরীরামপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মানে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

অপর দিকে একই প্যাকেজে নলছিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সিমানা প্রাচীর ও বালু ভড়াটে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা টেন্ডার আহবান করা হয়। এ টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ চলমান। এতে কাঠালিয়ার কাজে ৪ জন এবং নলছিটির কাজে মোট ৩২ জন ঠিকাদার অংশ নেয়।

শিক্ষা প্রকৌশল দফতর থেকে দেয়া তথ্য বলছে, কাঠালিয়া এবং নলছিটির টেন্ডার কাজে বিগত পাঁচ অর্থবছরে নির্মাণ কাজে গড়ে বার্ষিক লেনদেন থাকতে হবে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা হাল অর্থবছরে না থাকায় রি-টেন্ডার করা হয়েছে।

কিন্তু দুটো কাজেই অংশ নেয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরএম ট্রেডিং দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছে, 'তারা তাদের লাইসেন্সের পক্ষে কক্সবাজারে সেনাবাহীনির বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার কার্য সম্পাদন করেছে। ঐ কাজের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কাজ সম্পাদন সনদপত্রে ৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাজ সফল ভাবে গত ২০২৩ সনের ৩০ এপ্রিল তারিখে সম্পাদনের কথা উল্লেখ করেছে। ঐ টাকার মধ্যে ভ্যাট ও আয়কর বাবাদ মোট ৪ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫শত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে বলেও সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।'

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরএম ট্রেডিং এর প্রতিনিধি মো. সুমন অভিযোগ করে বলেন, 'এই কাজ সম্পাদন সনদপত্রেই পেমেন্ট সার্টিফিকেটের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের লাইসেন্স রেসপনসিভ করেও সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে পেমেন্ট সার্টিফিকেটের অযুহাতে রিটেন্ডার দিয়ে পূর্বের টেন্ডার বাতিল করেন।'

এই টেন্ডার প্রকৃয়া থেকে আমাদের বাতিল করতে পারলে নলছিটির মূল্যায়নে রাখা কাজ থেকেও আমাদের ননরেসপনসিভ করতে সুবিধা হয়। এমনটাই অভিযোগ আরএম ট্রেডিং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধি মো. সুমনের।

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝালকাঠি শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা আরএম ট্রেডার্সের কাজ সম্পাদনের সনদপত্রটি যাচাই বাছাই করে লাইসেন্স ননরেসপন্সিভ করেছি।

পেমেন্ট সার্টিফিকেটের সকল তথ্য কাজ শেষ করার সনদপত্রে উল্লেখ থাকলেও ননরেসপন্সিভ করা যায় কিনা জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী স্নেহলতা রায় দৈনিক বাংলাকে বলেন, 'পিপিআর এর নির্দেশনা অনুযায়ি পৃথক পেমেন্ট সার্টিফিকেট দিতে না পারায় ননরেসপন্সিভ করা হয়েছে।


দৌলতপুরে ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ

অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানা । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি নকল সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সিগারেট তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যৌথ অভিযানে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের ফার্মের গোডাউনের ভেতরে গড়ে তোলা অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানাটির সন্ধান পায়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, ‘নেভি, ডার্বি ও রয়েল’ ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেটসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সিগারেটের মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা।

গোডাউনের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, তিনি জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় গোডাউনটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

এর আগে গত ৯ মে র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন এবং প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে কিছুদিনের মধ্যেই কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, আগের অভিযানের পর কারখানাটি সিলগালা করা হলেও পরবর্তীতে মালিকপক্ষ আদালতে মামলা করে সেটি পুনরায় চালু করেছে।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।


মৌলভীবাজারে ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী ট্রাক ছড়ায়, চালক নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ধামাইপার ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী একটি ট্রাক নিচের ছড়ায় পড়ে চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধামাইপার ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তেল নিয়ে ট্রাকটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। সকালে ধামাইপার ব্রিজে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের ছড়ায় পড়ে যায়। এতে ট্রাকের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের রেলিং ভাঙা এবং নিচে ট্রাকটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত হেলপারকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে রাজনগর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আলী হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে মৌলভীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় রেকার ভ্যান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সহায়তায় যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ট্রাক থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাকারিয়া বলেন, ‘ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে রেকার ভ্যানের প্রয়োজন হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ট্রাকে চালক ও হেলপার ছিলেন।’

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ট্রাকে চালক ও হেলপারসহ দুজন ছিলেন। চালক নিহত হয়েছেন এবং হেলপারকে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’


খুলনায় যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা

খুলনার রূপসা থানা । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীরামপুরে ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১টার দিকে রূপসা ব্রিকস নামক ইট ভাটায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ফখরুল উপজেলার নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে ও যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই।

স্থানীয়রা জানায়, নিহতের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল রূপসা ব্রিকস ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। ফখরুল প্রতিদিনের মতো ইটভাটা ও মাছের ঘের দেখাশোনার জন্য গত মঙ্গলবার রাতে ওই ভাটায় যায়।

এর আগে ওইদিন বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সাথে ফখরুলের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে তৈয়ব রাতে ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় ভাটায় অবস্থানকালে রাতে ভাটার অফিস রুমের পাশে একদল অস্ত্রধারী ফখরুলের ওপর গুলি চালায়। একটি গুলি লাগে ঘাড়ে। আরেকটি ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় প্রবেশ করে। তবে কারা এবং কী কারণে ফখরুলকে হত্যা করেছে, তা পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

এদিকে ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ আরও তিনভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ফখরুলকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ফরহাদ জানায়, আমার ভাই ফখরুল রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে যুবদলেরকর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমার ভাটার ক্যানেলে ও মাছ চাষ করত। রাতে ওর মেয়ের ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। রাস্তায় ওর সাথে দেখা হলে আমাকে জানায় ওষুধ নিয়ে ভাটা থেকে ঘুরে বাড়ি ফেরবে।

রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, ‘রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। লাশের সুরতহালে দেখা যায় তার শরীরে দুটি গুলি লেগেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাতেই তার ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।’


দেশের ৩ জেলায় নতুন পুলিশ সুপারকে পদায়ন

জসীম উদ্দিন, ওমর ফারুক ও আমিনুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ৩টি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে ৩ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই ৩ জেলার বর্তমান পুলিশ সুপারসহ আরও দুই কর্মকর্তাকে হাইওয়ে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুর জেলার নতুন পুলিশ সুপার করা হয়েছে। পুলিশ স্টাফ কলেজের সরকার ওমর ফারুককে খুলনা জেলার পুলিশ সুপার এবং সিলেট ডিআইজি রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামকে কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গাজীপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকেও হাইওয়ে পুলিশে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।


মৌলভীবাজারে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে তেলবাহী ট্রাক, চালক নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজেশ ভৌমিক, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ধামাইপার ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী একটি ট্রাক নিচের ছড়ায় পড়ে চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধামাইপার ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তেল নিয়ে ট্রাকটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। সকালে ধামাইপার ব্রিজে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের ছড়ায় পড়ে যায়। এতে ট্রাকের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের রেলিং ভাঙা এবং নিচে ট্রাকটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত হেলপারকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে রাজনগর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আলী হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে মৌলভীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় রেকার ভ্যান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সহায়তায় যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ট্রাক থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাকারিয়া বলেন, ‘ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে রেকার ভ্যানের প্রয়োজন হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ট্রাকে চালক ও হেলপার ছিলেন।’

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ট্রাকে চালক ও হেলপারসহ দুজন ছিলেন। চালক নিহত হয়েছেন এবং হেলপারকে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট মহানগরীর একটি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাসহ তিন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ভবনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ওই বাসার বাসিন্দা হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া এলাকায় মুরুব্বি হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে সত্তার মিয়া ছাড়াও রয়েছেন তার স্ত্রী এবং তাদের একজন গৃহপরিচারিকা। ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

একইভাবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, “স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে এ ধরনের একটি খবর শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।” পুলিশ বর্তমানে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।


ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে অবরোধ, এক ঘণ্টা পর রেল চলাচল স্বাভাবিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে গফরগাঁও স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মশাখালী এলাকায় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি আটকে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘ সময় ওই রুটে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীদের সরিয়ে নেওয়া হলে পুনরায় চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, “মশাখালী স্টেশনে যমুনা ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে আন্দোলন করছেন। আজ সকাল থেকে তারা ট্রেনটি আটকে রেখেছিলেন। পরে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য মশাখালী স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি সময়ের দাবি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এদিন সকালে রেললাইনে লাল কাপড় টাঙিয়ে তারা ট্রেনটি থামিয়ে দেন। তবে মশাখালী রেলস্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৩০ জুলাই থেকে চলমান এই আন্দোলনের কারণে সাধারণ যাত্রীদের নিয়মিত চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।


খুলনায় ইটভাটায় ঢুকে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার রূপসা উপজেলায় গভীর রাতে একটি ইটভাটার ভেতরে ফখরুল শেখ নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের কিসমত খুলনা গ্রামের ‘মেসার্স রূপসা ব্রিকস’ নামক ইটভাটায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফখরুল শেখ রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং বর্তমানে সক্রিয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক। পারিবারিক মালিকানাধীন ওই ইটভাটায় মাঝেমধ্যে চুরির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার খাতিরে ফখরুল প্রায়ই রাতে সেখানে পাহারার দায়িত্ব পালন করতেন। মঙ্গলবার রাতেও তিনি ভাটায় অবস্থান করছিলেন। এমন সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত সেখানে প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে জানান যে, “পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।” আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে নিহতের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোসহ উপকূলীয় অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে। “চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।” লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকতে পারে বিধায় এই সতর্কতা জারি করা হয়।

একই সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোর জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সকল নৌযানকে “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে হবে।” লঘুচাপের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে আবহাওয়া সংক্রান্ত আরও তথ্য জানানো হবে।


আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হিজরি বর্ষপঞ্জির সফর মাসের শেষ বুধবার মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ হিসেবে পরিচিত। ফারসি ও আরবি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই পারিভাষিক নামটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘সফর মাসের শেষ বুধবার’।

বুধবার (১২ আগস্ট) আজ আখেরি চাহার সোম্বা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ের দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থেকে সাময়িক আরোগ্য লাভ করেছিলেন। জনশ্রুতি রয়েছে যে, “সফর মাসের শেষ বুধবারে মহানবী (সা.) প্রচণ্ড অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করলে সাহাবিরা খুশি হয়ে দান সদকা করেন ও শুকরিয়া আদায় করেন বলে মত পাওয়া যায়।” সেই পুণ্যস্মৃতি স্মরণে একদল ধর্মপ্রাণ মানুষ নফল ইবাদত ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে দিবসটি উদ্‌যাপন করেন এবং বাংলাদেশেও দিনটি ঐচ্ছিক সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে এই দিবসটির ঐতিহাসিক ভিত্তি ও পালন নিয়ে দেশের আলেম ও ইসলামি গবেষকদের মাঝে প্রবল মতপার্থক্য বিদ্যমান। গবেষকদের একটি বড় অংশ দাবি করেন, মহানবী (সা.) ঠিক কোন দিনে সুস্থ হয়েছিলেন কিংবা তাঁর সেই অসুস্থতার প্রকৃতি কেমন ছিল, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ইতিহাসে অকাট্য কোনো তথ্য নেই। এমনকি মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর সুযোগ্য সাহাবিদের কাউকেও এই দিবসটি পালন করতে দেখা যায়নি। প্রাপ্ত ঐতিহাসিক বর্ণনায় দেখা যায়, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অসুস্থতা সফর মাসের শেষ দিকে শুরু হয়ে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, যার ফলে নির্দিষ্ট কোনো বুধবারকে আরোগ্যের দিন হিসেবে চিহ্নিত করা বৈজ্ঞানিকভাবেই জটিল।

দিবসটির স্বপক্ষে যারা যুক্তি দেন, তারা প্রধানত ‘বারো চান্দের ফজিলত’ ও ‘রাহাতুল কুলুব’ এর মতো গ্রন্থগুলোর সহায়তা নেন। এসব গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, নবীজির সুস্থতার সংবাদে খুশি হয়ে হজরত আবু বকর (রা.) ৭ হাজার দিনার ও হজরত ওমর (রা.) ৫ হাজার দিনারসহ অন্যান্য সাহাবিরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আধুনিক ইসলামি পণ্ডিতগণ এই বর্ণনাগুলোকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার দিনক্ষণ নিয়ে ইতিহাসে যথেষ্ট বিভ্রান্তি রয়েছে; কেউ বলেছেন তা শুরু হয়েছিল শনিবার, কেউ বুধবার আবার কেউবা সোমবারের কথা উল্লেখ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম হিজরিতে এক ইহুদির জাদুর প্রভাবে মহানবী (সা.) অসুস্থ হয়েছিলেন বলে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার সঙ্গে ১১ হিজরির সফর মাসের এই দিবসের কোনো সম্পর্ক থাকা সম্ভব নয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তারা সতর্ক করে বলেন যে, কোনো ইবাদত বা পদ্ধতি যদি শরিয়তের নির্ভরযোগ্য উৎস তথা কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত না হয়, তবে সওয়াবের আশায় তা পালন করা বিদআত বা ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ উদ্ভাবন হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রমাণ ছাড়া ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ বা ‘শেষ বুধবার’ পালন করার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নিয়ে ইসলামি মহলে এখনো বিতর্ক ও সংশয় রয়ে গেছে।


বন্ধ তিন পাটকল চালুতে ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ

* বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত সরকার: প্রধানমন্ত্রী * প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে বিজেএমসির চুক্তি * কর্মসংস্থান হবে সাড়ে ১১ হাজার মানুষের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর মাধ্যমে দেশের পাট শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার হতে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনায় মিল তিনটি চালু করতে প্রাণ-আরএফএল এবং হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। চুক্তি অনুযায়ী, তিনটি পাটকলে মোট ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যা প্রায় ১১ হাজার ৬২৯ জনের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চু্ক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার। অন্যদিকে, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, মোট তিনটি পাটকলের মধ্য থেকে সিরাজগঞ্জ ও খুলনার দুটি মিলের ইজারা নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্য মিলটি নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ। চালুর পর এ তিনটি পাটকল থেকে সম্মিলিতভাবে বছরে সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার বা আয় দাঁড়াবে প্রায় ১,১৭৫ কোটি টাকা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক খাতকে আরও বেগবান করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এদিকে, সচিবালয়ে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম)র একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন।

অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্ধ থাকা সরকারি পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের এই ধারা বজায় থাকলে এবং নতুন বিনিয়োগ এলে দেশীয় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির নতুন নতুন বাজার তৈরি হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত এ পাটকলটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। চুক্তি অনুযায়ী, মিলটি পুনরায় সচল করতে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। কারখানাটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে এখানে প্রায় ৫,২৩৮ জন মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই কারখানা থেকে বছরে সম্ভাব্য ৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার আশা করা হচ্ছে।

স্টার জুট মিলস লিমিটেড (খুলনা): খুলনার দিঘলিয়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী স্টার জুট মিলস ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। এই মিলটি চালুর পেছনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। মিলটি পুনরায় চালু হলে এখানেও প্রায় ৫,২৩৮ জন শ্রমিকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই মিলটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।

প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড (খুলনা): খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসের ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ। এটি চালু করতে হ্যামকো গ্রুপ প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। কারখানাটি সচল হলে অন্তত ১,১৫৩ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হবে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে বিজেএমসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি লিজগ্রহীতাদের কাছে জমি ও অবকাঠামোর দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি হস্তান্তরিত মিলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টি পাটকল তাদের বাণিজ্যিক উৎপাদন সফলভাবে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


banner close