শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ভয়াবহ বন্যা, আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে

ছবি: দৈনিক বাংলা
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯ জুন, ২০২৪ ১৫:৪০

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ঢলের পানিতে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জুড়ী শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ইতোমধ্যে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন।

ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকার সড়ক। সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার জায়ফরনগর ও পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন।

ঢলের পানি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই অঞ্চলের মানুষজন। অনেকেই তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা উঁচু এলাকায় আত্মীয় স্বজনদের বাসায় ছুটছেন। নিম্নাঞ্চলের মানুষদের অনেকেই জানিয়েছেন, ঢলের পানিতে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। এখন নিরুপায় হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহাব উদ্দিন (এমপি) জায়ফরনগর ও পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি জুড়ী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ও মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের খোঁজখবর নেন। তাদের মধ্যে খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাইন উদ্দিন, জেলা পরিষদ সদস্য বদরুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম হেলাল উদ্দিন, জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম রেজা।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনির উদ্যোগে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনফর আলী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান আজ বুধবার সকালে জানান, ‘বন্যায় ইতিমধ্যে উপজেলার ৬৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জুড়ীতে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৬০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি এখন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছি। ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬০ টি পরিবারের প্রায় ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এই সংখ্যা সময়ের সঙ্গে সেঙ্গ বাড়ছে। আমরা শুকনো খাবার বিতরণ করছি। গতরাতে জায়ফরনগর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

বিষয়:

পিরোজপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

আর্থিক সংকট ও পারিবারিক বিরোধের কারণে পিরোজপুরের নাজিরপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছেলে। গতকাল শুক্রবার পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়েন উত্তর জয়পুর থেকে পুলিশ অভিযুক্ত যতিশ বালাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে রাতে সাংবাদিকদের এক প্রেসকনফারেন্সে জানান পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

নিহত জুতিকা বালা (৫০) জেলার নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর গ্রামের নারায়ন বালার স্ত্রী।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়েন উত্তর জয়পুর এলাকায় জুতিকা বালা নামের এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করে নিহতের বড় ছেলে যতিশ বালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে যতিশ পরে পুলিশের কাছে তার মাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে।

পুলিশের কাছে অভিযুক্ত যতিশ স্বীকারোক্তিতে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আর্থিক নানা সংকট ও পারিবারিক বিরোধের কারণে তার মায়ের উপরে ক্ষোভ ছিল। তাই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বৃহস্পতিবার রাতে ঘরে থাকা দা দিয়ে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে যতিশ।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম আরও জানান, এ হত্যা কাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বামী নারায়ন বালা বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

প্রেসকনফারেন্সে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো: মুকিত হাসান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম, নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম হাওলদারসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।


কক্সবাজারে পাহাড় ধসে শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজার শহর ও আশেপাশের এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসে এ যাবত চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পাহাড় ধসে তিন জনের মৃত্যু হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে শহরের সৈকত পাড়ায় মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারে এক শিশু নিহত এবং তিন জন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হল, শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫), সৈকত পাড়ার মো. সেলিমের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মীম (১৩) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ভারী বর্ষণের সময় কক্সবাজার শহরের সৈকত পাড়ায় পাহাড় ধসে স্থানীয় বাসিন্দা সেলিমের ঘরের উপর মাটি চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আশেপাশের তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুরো মাটি সরিয়ে মীম নামের এক শিশুকে মৃত উদ্ধার করে।

এছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দু’দিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।

বিষয়:

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)। কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে গত তিন সপ্তায় কক্সবাজারে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এক দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সিকদার বাজার এলাকায় বসবাসকারি সাইফুল ইসলামের বাড়ির উপর আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মাটির দেয়াল ভেঙে সাইফুলের ঘুমন্ত শিশু চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে মাটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে ভোরে শহরের এবিসি ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় জমিলা আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ওসি।

জমিলার পরিবারকে উদ্ধৃত করে রকিবুজ্জামান বলেন, ভোরে জমিলা আক্তার রান্না ঘরের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার স্বামী আরেক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়লে জমিলা মাটি চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ নিজেদের বাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় লায়লা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান রকিবুজ্জামান।

নিহত লায়লা বেগমের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় লায়লা বেগম ছেলে জোনায়েদকে কোলে নিয়ে পাহাড়ের মাটি ভাঙছে কি না দেখতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল। এ সময় আকস্মিক পাহাড় ধসে বসতবাড়ির ওপর মাটিচাপা পড়ে। এতে তার স্বামী ও অপর ২ মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও লায়লা বেগম ও এক শিশুসন্তান মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও তার মা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দুদিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।

শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, আরও পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি

এদিকে, আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারি (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।

ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে।

উত্তরে নদীর পানি বাড়ছে

এদিকে, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীর পানি বাড়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর ফলে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ‘সামান্য অবনতি’ হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দেশের ৯টি নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল।

ওই সময় বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১১০টি স্টেশনের মধ্যে ৪৭টি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ৬১ পয়েন্টে বাড়ছিল আর অপরিবর্তিত ছিল দুই পয়েন্টে।

বুলেটিনে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীর পানি ‘সময় বিশেষে’ বাড়তে পারে।

তাতে ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা ও দুধকুমার নদী-সংলগ্ন কুড়িগ্রাম জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।

এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের মহানন্দা, যমুনাশ্বরী, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুর্নভবা, টাঙ্গন এবং ইছামতি- যমুনা নদীর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এদিকে গঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে, এ পরিস্থিতি আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

ব্রহ্মপুত্রের পানিও বাড়ছে, অন্যদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে; আগামী ২৪ ঘণ্টায় দুই নদীর পানিই স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে বুলেটিনে।

সেখানে বলা হয়, পদ্মা নদীর পানি এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে; তবে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এ সময় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আত্রাই নদীর পানি বাঘাবাড়ী পয়েন্টে কমে নদী সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।


পদার্থবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দেওয়া হলো দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে এসে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন পেয়ে হতভম্ব হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় হলে দায়িত্বরত শিক্ষকরাও বিব্রত হন, কারণ প্রশ্নপত্র আগে দেখার সুযোগ তাদেরও ছিল না। পরে প্রশাসনের নির্দেশে ওই প্রশ্ন ফেরত নিয়ে দুই ঘণ্টা পর পুনরায় প্রথম পত্রের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিজয় সরণি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নপত্র নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দুপুর ১২টায় তা শুরু হয়।

ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার জানান, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবের।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রসচিব বা তাদের প্রতিনিধিকে প্রশ্নপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা ঠিকমতো হলেও লিখিত পরীক্ষায় সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা শিক্ষা বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনকে জানাই। শিক্ষা বোর্ডের পরামর্শে দ্রুত সময়ে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন তুলে নিয়ে প্রথম পত্রের পরীক্ষা শুরু করতে বলা হয়।


বাঘাইছড়িতে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১১ জুলাই, ২০২৪ ১১:২৪
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করার অপরাধে দুই ব্যক্তিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার উপজেলার মডেল টাউন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার মডেল টাউন এলাকায় মো. হারুন এবং শান্তি বিকাশ চাকমা নামের দুই ব্যক্তি গোপনে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে- এমন সংবাদ পাওয়ার পর ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর ঘটনাস্থলে হারুনকে ৫০ হাজার টাকা এবং শান্তি বিকাশ চাকমাকে এক লাখ জরিমানা করা হয়। এ সময় পাহাড় কাটার সরঞ্জমাদি জব্দ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার।

অভিযান পরিচালনাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ইউএনও) বলেন, দীর্ঘদিন থেকে লোকচক্ষুর আড়ালে একটি চক্র পাহাড় কেটে বিভিন্ন নিচু জায়গা ভরাটের জন্য মাটি বিক্রি করছে- এমন সংবাদ পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় দুই ব্যক্তিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।


বাঙ্গালী নদীর তীব্র ভাঙনে আতঙ্কিত এলাকাবাসী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১১ জুলাই, ২০২৪ ১১:২৫
তাজুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া)

যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বাঙ্গালী নদীতে ব‍্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ডোমকান্দি গ্রামে নদীভাঙনের কবলে পড়ে গাছপালা, বাড়ির আঙিনাসহ প্রায় ২৫ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে স্থানীয়রা নদীভাঙনের শব্দ শুনতে পেয়ে দ্রুত গরু, ছাগল, আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেন। নিমিষেই গাছপালা ও বসতবাড়ির আঙিনা নদীগর্ভে বিলীন হয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখা যায়নি। দুপুরের পর থেকে সিসি ব্লক ফেলার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাঙ্গালী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের অবহেলার কারণে নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, শুকনো মৌসুমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবি কনস্ট্রাকশন ৫০০ মিটার নদীর ডান তীর রক্ষার কাজ শুরু করেন। বাঁধা দিলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বর্ষার আগে কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর নদীর গাইড ওয়ালের কাজ করে, বেড ও জিও ব্যাগ বিছায়ে রেখে কাজ বন্ধ রাখেন। পরে বর্ষার মৌসুম চলে আসায় বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ভাঙনের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় আফতাব হোসেন বলেন, মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে নদীভাঙন সৃষ্টি হয়েছে বেশি। এখানে মূল ঠিকাদার কাজ না করে সাব-ঠিকাদার দিয়ে কাজ করাচ্ছিলেন। ঠিকমতো সম্পূর্ণ কাজ শেষ করলে আজ হয়তো এভাবে তাদের ভাঙনের কবলে পড়তে হতো না।

এবি কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আজম মুঠোফোনে জানান, ডোমকান্দি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় ওই জায়গায় ব্লক তৈরি করা সম্ভব হয়নি। অন্য জায়গায় ব্লক তৈরি করে নৌকাযোগে আনতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ড্রাম পিং, বেড ও জিও বিছানো হয়েছে। নদীভাঙন রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, তাদের হাতে ড্রাম পিং ব্লক ও বস্তা মজুত আছে। সেগুলো ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের লোক ওখানে গিয়েছে। তারা নৌকা ঠিক করে দ্রুত কাজ করবে।


বাঁশের চাঁই তৈরি করে সচ্ছল তিন গ্রামের মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১১ জুলাই, ২০২৪ ১৪:২৭
হাসান মাহমুদ রিপন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার মাছ ধরার বাঁশের চাঁই তৈরি করে সচ্ছল। এখন বর্ষা মৌসুম। চাঁইয়ের চাহিদা বেশি। তাই চাঁই তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ চাঁই শিল্পের বেশির ভাগ কারিগরই হলো নারী। সংসার সামলিয়ে ঘরে বসে এ কাজের মাধ্যমে তারা বাড়তি আয় করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ভূমিকা রাখছেন। এ ছাড়া স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরাও মা-বাবাকে এ কাজে সহযোগিতা করছে।

উপজেলার সোনারগাঁ পৌরসভার সাহাপুর, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়া পাড়া ও রামগঞ্জ- এ তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার চাঁই তৈরির পেশায় জড়িত। সারা বছর চাঁই তৈরি করা হলেও বর্ষা মৌসুমে চাঁইয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। সোনারগাঁয়ের চাঁই শুধু সোনারগাঁয়েই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন চাঁই কারিগররা।

রামগঞ্জ গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, কেউ বাঁশ কাটছে, কেউ শলা তুলছে, কেউ শলা চাঁছছে আবার কেউবা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে চাঁই বোনা ও বাঁধার কাজে। ঘরের বারান্দায়, উঠানে, গাছের ছাঁয়ায় যে যেখানে পারছে সেখানে বসেই চাঁই বানানোর কাজ করছে।

সোনারগাঁ পৌরসভার সাহাপুর গ্রামের চাঁই তৈরির কারিগর সনদ সরকার জানান, একটি মুলি বাঁশ দিয়ে চিংড়ি মাছ ধরার চারটি চাঁই হয়, আর একটি মোড়ল বাঁশ দিয়ে কুঁচে ধরার চাঁই হয় ২৫টি। পাঁচ ধরনের চাঁই বানানো হয় এই তিন গ্রামে। এ ছাড়া রকাই জাতের মুলি বাঁশ দিয়ে চাঁই তৈরি করা হয়। এ বাঁশ চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে আনা হয়। চাঁই বানানোর প্রধান কাঁচামাল হলো বাঁশ ও সুতা। বিভিন্ন মাপে বাঁশের শলা কেটে রোদে শুকিয়ে তার পর শুরু হয় চাঁই তৈরির কাজ। একটি চাঁই তৈরির জন্য প্রায় ৮টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। সোনারগাঁয়ের আনন্দবাজার ও কাইকারটেক হাটে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা এ চাঁই কিনতে আসেন।

রামগঞ্জ গ্রামের বানু সরকার জানান, প্রতি সপ্তাহে তারা প্রায় ২০০টি চাঁই বিক্রি করে থাকেন। ১০০ ছোট মাঝারি চাঁই বানাতে খরচ হয় ৬-৮ হাজার টাকা, বিক্রি হয় ১০-১২ হাজার টাকায়। তাদের মাসিক আয় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। এগুলো বিক্রি করার জন্য হাটে-বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় পাইকাররাই বাড়িতে এসে নিয়ে যান।

কারিগররা আরও জানান, আকারভেদে ছোট সাইজের চাঁই বিক্রি হয় ১০০-১৫০ টাকায়। মাঝারি সাইজের চাঁই ৩০০-৫০০ ও বড় সাইজের চাঁই বিক্রি হয় ১-২ হাজার টাকায়।

কারিগর স্বপন দাস বলেন, ‘চাঁই তৈরির কাজ করে গড়ে দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকা উপার্জন করি। মোটামুটি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোই আছি।’

কারিগর দীনা সরকার বলেন, মুলি বাঁশের দাম আগে ছিল ২০-২৫ টাকা, বর্তমানে তা ২০০-৩০০ টাকা। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভও আগের চেয়ে কম হয়। তবে বর্তমানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল বাজারে আসায় আগের চেয়ে চাঁই বিক্রি অনেকটাই কম।

বৈদ্যেরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সূচনা রানী জানান, মা-বাবাকে সহযোগিতার জন্য সে চাঁই তৈরির কাজ করেন। এই চাঁই বিক্রি করেই তাদের সংসার চলে।

চাঁই তৈরির কারিগর সাতভাইয়াপাড়ার রণজিৎ সরকার বলেন, চিংড়ি মাছের চাঁইয়ের চাহিদা বেশি। সোনারগাঁ ছাড়াও পটুয়াখালী, ফরিদপুর, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর জেলার মানুষ অর্ডার দিয়ে এখানে চাঁই কিনতে আসেন। সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে এ শিল্পের আরও প্রসার ঘটত।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, বাঁশের তৈরি চাঁই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে।


বছর না যেতেই খানাখন্দ ফুলবাড়িয়ার রাস্তায়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১০ জুলাই, ২০২৪ ১১:১৫
মো. আল আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

রাস্তা নয়, এ যেন মরণফাঁদ! ১৪ কিলোমিটার রাস্তার খানিকটা পথ এগুলোই একের পর এক খানাখন্দ। কিছু কিছু জায়গায় রাস্তার পাশে ভেঙে গোলাকার বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে এতে স্থানীয়রা লাল নিশান টানিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে লাগাতার বৃষ্টিতে খানাখন্দগুলোতে পানি জমে রয়েছে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে পথচারীদের। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া টু গাড়োহাট সড়কের এ বেহাল অবস্থা।

জানা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে এ সড়কের সংস্কারকাজ করা হয়। অথচ বছর শেষ না হতেই সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় ইট, সুরকি, পাথর ও বিটুমিন উঠে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহন চালক ও পথচারীরা।

অথচ উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তা এটি। রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণির লোকজনের চলাচলে ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ বলেন, ‘প্রতিবছর রাস্তা মেরামত করলেও এ রাস্তার অবস্থা আবারও খারাপ হয়ে যায়। রাস্তার এ অবস্থার কারণে অসুখ-বিসুখ হলে চিকিৎসা নিতে রোগী ও স্বজনদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। গুনতে হয় অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া। এ ছাড়া রাস্তায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।’

সুহেল মিয়া নামে এক সিএনজিচালক বলেন, রাস্তায় পানি আটকে থাকায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। যেসব স্থানে গর্ত ও খানাখন্দ হয়েছে সেখানে উঁচু করে আরসিসি ঢালাই করলে আর এমন ভোগান্তি হতো না।

শিক্ষক আতিকুল হাসান বলেন, ‘বর্ষাকালে এ রাস্তা আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির সময়ে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। অতিদ্রুত এর একটা স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, বর্ষায় যেসব রাস্তার ক্ষতি হয়েছে, তা জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য তালিকা করে প্রস্তাবনা পাঠানোর কাজ চলছে।


রৌমারী-চিলমারী রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ, ভোগান্তি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১০ জুলাই, ২০২৪ ১১:১৬
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

রৌমারী ফেরিঘাটে ব্রহ্মপুত্র নদে বন্যার পানি বৃদ্ধি এবং রাস্তা সংস্কারজনিত কারণে ১০ দিন ধরে চিলমারী-রৌমারী রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পরিবহনের চালকরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা নির্মাণ করে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন রৌমারী ফেরিঘাটে গিয়ে ও কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। দেখা যায়, কাচা ও পাকা রাস্তার ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে মালবাহী ট্রাক ও ছোট-বড় যানবাহন।

বিআইডব্লিউটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকঢোল পিটিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান, নৌপরিবহন সচিব সমন্বয়ে চিলমারী-রৌমারী রুটে ফেরি কুঞ্জলতা ও ফেরি বেগম সুফিয়া কামালের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তবে নদের নাব্যর কারণে বিআইডব্লিউটিএ ফেরি কুঞ্জলতাকে সরিয়ে যুক্ত করেন ফেরি কদমকে, নদীভাঙন, ব্রিজ ভেঙে ও রাস্তা সংস্কার কাজের কারণে ইতোপূর্বে এ রুটে কয়েক দফা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। চিলমারী ও রৌমারী নৌপথের দৈর্ঘ্য ২১ কিলোমিটার। তবে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এ পথের দৈর্ঘ্য ১৩ থেকে ১৪ কিলোমিটারে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ ফেরি পারাপারের সময় লাগবে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। এ ফেরি সার্ভিস চালু হলে রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী নয়, কুড়িগ্রাম জেলাসহ ৮টি জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ অনেকটা সহজ হবে। কমবে যাতায়াত খরচও।

গত ২৮ জুন থেকে রৌমারী ফেরিঘাটে বন্যার পানি এবং চিলমারী ফেরিঘাটে রাস্তাসংস্কার কাজের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে ঘাটের কয়েক শ’ শ্রমিক।

বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, চিলমারী ফেরিঘাটের রাস্তা সংস্কার কাজের পরিবেশ না হওয়ায় এবং নদের বন্যার পানির তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিঘাটটি ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।


ময়মনসিংহে ট্রাকের ধাক্কায় ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে যাত্রীবাহী ইজিবাইকে ট্রাকের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চরশিহারি গ্রামের আব্দুল কদ্দুস তালুকদারের ছেলে ইজিবাইক চালক তসলিম মিয়া (২৮), জাটিয়া চরপাড়া গ্রামের আমিনুল হকের ছেলে আরিফুজ্জামান রাকিব (২০) এবং নশতি গ্রামের আব্দুল খালেকের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৫)।

বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান।

ঘটনাটি যেভাবে ঘটল

ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইক ঈশ্বরগঞ্জের দিকে আসার সময় কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইকটি সড়কের নিচে ছিটকে পড়লে চালক ও একজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় জাহানারা বেগম ও এমদাদুল হককে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান জাহানারা বেগম।

ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করে ট্রাকের হেলপারকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছেন ওসি মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান।


সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পানিবন্দি এক লাখ মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ জুলাই, ২০২৪ ১০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি পানিবন্দি মানুষের। দুই জেলায় এক লাখেরও বেশি মানুষ গত এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি। স্কুলগুলোতে পানি ঢুকে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিস্তারিত সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনে-

সিরাজগঞ্জ

গত ৬ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে ১ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার ৫টি উপজেলার ১৮ হাজার পরিবারের মোট ৮৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি এখনো।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের কৃষক জলিল শেখ বলেন, ‘যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আশপাশের গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে বাড়ির মধ্যে হাঁটুপানিতে বসবাস করছেন। এমনকি চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে।’

মোহনপুর গ্রামের তাঁতশ্রমিক শহিদুল ইসলাম ও কোরবার আলী বলেন, ‘গত ১ সপ্তাহ ধরে তাঁত কারখানায় পানি উঠেছে। এতে তাঁতের কাজ নেই। ঘরে বসে ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে কাজকর্ম না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপদে রয়েছি। ছেলেমেয়ে কেউ স্কুলে যেতে পারছে না।’

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন-অর-রশিদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও আইসিটি রোজিনা আক্তার বলেন, ‘বন্যার কারণে এ পর্যন্ত জেলার ৫টি উপজেলার ৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মিলে ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, দুই দিন ধরে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী তিন-চার দিন পানি কমবে। এরপর আবারও পানি বাড়তে পারে। তবে ভারী বন্যার আশঙ্কা নেই। এ ছাড়া ভাঙন-কবলিত এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ৬ ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর বলেন, চলতি বন্যায় জেলার ৬ হাজার ৪৯৭ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এসব জমির পাট, তিল, কলা ও মরিচ এখন পানির নিচে। এখনো ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, জেলার ৫টি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ৩৮৫টি পরিবারের ৮৩ হাজার ১৫২ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য ৯৫ মেট্রিক টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মজুত রয়েছে আরও ৪০৫ টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা ও ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলো পানিতে কানায়-কানায় পরিপূর্ণ। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। চরাঞ্চলের অনেকে নৌকায় বা স্বজনদের বাড়ি ও উঁচু জায়গা আশ্রয় নিয়েছেন।

গাবসারার কালীপুর গ্রামের সবুর আলী বলেন, ‘৩-৪ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছি। ১২ জনের পরিবার, শিশু-সন্তান ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছি। চরের সব জায়গায় পানি আর পানি। এ ছাড়া কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে খাবারও নেই, দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি।’

একই গ্রামের আছর উদ্দিন, শফিকুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, ‘বাড়িতে পানি, যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। নৌকাতেই থাকতে হচ্ছে। নতুন পানিতে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বেড়ে গেছে। সবার মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পাইনি।’

এদিকে রোববার বিকেলে উপজেলার অর্জুনা পরিষদ মাঠে বন্যা-কবলিত অসহায়দের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বন্যার্তদের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন বিতরণ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া পানিবন্দিদের তালিকা সম্পন্ন হয়েছে। অতিদ্রুত তাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা এবং ভাঙন-কবলিত রাস্তায় যাতায়াতের জন্য আপাতত বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হবে।’

বিষয়:

লাম্পি স্কিন রোগে এক মাসে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ জুলাই, ২০২৪ ১০:০৫
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ছড়িয়ে পড়া লাম্পি স্কিন (এলএসডি) রোগে আক্রান্ত হয়ে এক মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক গরু মারা গেছে। পল্লি চিকিৎসকদের চিকিৎসায় বেশি টাকা খরচ করেও গরু বাঁচাতে না পারায় চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা।

খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত চর্মরোগটি গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষার শুরুর দিকে বছরে দুবার ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত মশা, মাছি ও বিশেষ পোকার মাধ্যমে গরুর দেহে ভাইরাস ছড়ায়। এ ছাড়া সংক্রমিত গরুর সঙ্গে খাবার গ্রহণ করলেও এ রোগ ছড়াতে পারে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার তালম পদ্মপাড়ায় করিম সুপারের একটি, তালম গ্রামের সোরহাব হোসেনের দুটি, বকুলের একটি, হাবিব মাস্টারের একটি, রবিউল করিমের একটি, আলামিনের একটি, মোতালেবের একটি, সেলিম সরকারের একটি, কালামের একটি, নামা সিলেট গ্রামের তাহের উদ্দিনের একটি, দিঘী গ্রামের জহুরুল ইসলামের দুটি, সগুনা গ্রামের মাহবুর হোসেনের একটি, চরকুশাবাড়ি গ্রামের লিটন আহমদের একটি, ভাটার পাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের একটি, রহমত আলীর একটি, খালকুলা গ্রামের সবের আলীর একটি, তাড়াশ পৌর এলাকার কৃষক ইউনুস আলীর একটি, সানোয়ার হোসেনের একটি, দিঘুরিয়া গ্রামের আউয়াল হোসেনের একটি, শিবপুর গ্রামের মহন আলীর একটিসহ উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে কৃষক ও খামারিদের কমপক্ষে ৫০টি গরু মারা গেছে।

তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের তালম পদ্মপাড়া গ্রামের মাদ্রাসার সুপার মো. করিম হোসেনের বাড়ির উঠানে গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড দুর্গন্ধ গোয়াল ঘর থেকে বাড়ির চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। যেন সেখানে থাকাই দায়। বাড়ির অনেকে নাকে কাপড় দিয়ে সরে যাচ্ছেন দূরে। এরই মধ্যে গামছায় মুখ বেঁধে গোয়ালে ঢুকলেন দুজন কৃষক। তারপর একটি মরা গরুর চার পা রশিতে বাঁধা হলো। এরপর রশিতে বাঁধা গরুর পায়ের ভিতর দিয়ে লম্বা কাঠ দিয়ে ওই দুজন কৃষক কষ্ট করে কাঁধে নিয়ে রওনা হলেন। লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া গরু মাটিতে পুঁতে রাখার জন্য কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়ি থেকে দূরে ফাঁকা স্থানে।

স্থানীয়রা জানান, গত মাস খানেক ধরে প্রত্যন্ত গ্রামে কৃষক, খামারিদের গরুর লাম্পি স্কিনে আক্রান্তের হার বেড়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাজুড়ে। আর গত এক মাসে এ উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে কৃষক ও খামারিদের কমপক্ষে ৫০টি গবাদিপশু (গরু) মারা গেছে।

তালম গ্রামের কৃষক সোরহাব আলী জানান, প্রথমে তার লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। খাবারের রুচি কমে আসে। এক সময় আক্রান্ত গরুর জ্বর বেশি হয়ে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে। এরপর গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়ায় গুটি গুটি ক্ষত দেখা দেয়। সে ক্ষত কয়েক দিনে পচে গিয়ে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। পাশাপাশি গরুর দুই পায়ের মাঝে বুকের নিচে পানি জমতে ঝুলে পড়ে।

তিনি বলেন, ‘আমার দুটি গরু লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ওই দুই গরুর চিকিৎসা করাতে দুই সপ্তাহে পল্লি প্রাণী চিকিৎসকদের ভিজিট ও দামি দামি ওষুধ কিনতে প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয় করি। তারপরও আমার গরু দুটি বাঁচাতে পারিনি।’

ভুক্তভোগী কৃষক এবং খামারিদের ভাষ্য, উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরেনারি হাসপাতালে গেলে গরুসহ অন্যান্য গবাদিপশুর তেমন চিকিৎসা পান না। আবার পল্লি প্রাণী চিকিৎসকদের কাছে গেলে তারাও দু-একটি ইনজেকশন আর অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়ে প্রথমবারের হাজার ১২০০ টাকা বিল করেন। আর বলেন, চিকিৎসা করেন দেখা যাক কি হয়।

চৌড়া গ্রামের পল্লি প্রাণী চিকিৎসক মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, তালম, কুসুম্বী ও বিনোদপুরসহ অনেক গ্রামে লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চলছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডা. অলিউল ইসলাম গরু মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরেনারি হাসপাতালে থেকে লাম্পি স্কিনসহ নানা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর চিকিৎসায় আমরা আন্তরিক। এ ছাড়া এরই মধ্যে শত শত গরুকে লাম্পি স্কিনের প্রতিষেধক টিকাও দেওয়া হয়েছে। আর লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত গবাদিপশু গরুর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ প্রতিষেধক টিকা কাজ করলেও ২০-২৫ ভাগ কাজ করবে না। পাশাপাশি পল্লি প্রাণী চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শাস্তি দেওয়া ছাড়া কিছু করার এখতিয়ার নেই।


কাস্টমস কমিশনার এনামুলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হকের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার (০৮ জুলাই) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় ১০ কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গত ৪ জুলাই এনামুলের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন একই আদালত। জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে গুলশানের জোয়ার সাহারায় ৬১ লাখ টাকার তিন কাঠা জমি, খিলক্ষেত্রে ৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকার ৩৩ শতাংশ জমি, কাকরাইলের আইরিশ নূরজাহানে কমনস্পেসসহ ১১৭০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, যার মূল্য ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা, একই ভবনে কারপার্কি স্পেসহ ১৮৩৫ বর্গফুট ফ্ল্যাট, যার মূল্য ৫১ লাখ ২৯০০ হাজার টাকা।

এছাড়া কারপার্কিংসহ কাকরাইলে ১৯০০ বর্গফুট ও ৩৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, যার মূল্য ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গাজীপুরে ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকার পাঁচ কাঠা জমি। মোহাম্মদপুরে তিনটি বাণিজ্যিক ভবনে চার হাজার বর্গফুটের তিনটি স্পেস। যার প্রতিটির মূল্য ৭১ লাখ ৩৫ হাজার করে। মোহাম্মদপুরে ১০ হাজার ৯৬৫ বর্গফুটের স্পেস রয়েছে যার মূল্য দুই কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। গুলশানের ৭২ লাখ টাকার ২৪২৮ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং বাড্ডায় চার কাঠা নাল জমি যার মূল্য ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।


banner close