পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।
সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।
এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।
এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।
সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ
সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সিসিকের ছুটি বাতিল
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ
সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।
মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।
আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।
আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।
শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।
এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে শহীদ মনির হোসেনের নামে একটি হলের নামকরণসহ তার পরিবারের পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম, রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. হারুন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ চালুর প্রাক্কালে জেএসএসের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের হামলায় মনির হোসেন নির্মমভাবে নিহত হন। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি এবং মনিরের পরিবার সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি।
সমাবেশে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা বিস্তার, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন সময় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়ও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
পিসিসিপি নেতারা অবিলম্বে শহীদ মনির হোসেনের নামে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের একটি হলের নামকরণ, তার পরিবারকে পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরি প্রদান, একই ঘটনায় আহত জামাল হোসেনকে ক্ষতিপূরণ এবং মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাজসেবা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বছর আটটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমাজের তিন ব্যক্তি এবং পাঁচটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে এই সম্মানজনক পদকে ভূষিত করা হয়।
পদকপ্রাপ্তরা হলেন- উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আব্দুর রশিদ সোহাগ, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে শ্রুতি রানী দে এবং অ্যাডভোকেসিতে নাগরিক নেতা হাওয়া বেগম।
এছাড়া পদকপ্রাপ্ত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- স্যোশাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণে আপলিফট বাংলাদেশ, পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাষানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সামাজিক সংগঠন হিসেবে উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি, প্রাণী সুরক্ষায় ফাউন্ডেশন এবং সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ডিএসসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্টজন।
নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের মাধ্যমে যারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।
ডিএনসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
জামালপুরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয়রা। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার নারিকেলী এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থী ও গহেরপাড়া এলাকার স্থানীয়রা। অবরোধ চলাকালে নিহত জিহাদের মা তাহমিনা আক্তার শোভা, বড় ভাই অনন্ত, চাচাতো ভাই সাকিসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বক্তারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পূর্ব পরিকল্পিভাবে গহেরপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মুন্না, আবুল কাশেম, সাঈদসহ ৪ থেকে ৫ জন জিহাদকে মারধর ও ধারালো চাকু দিয়ে হত্যা করে।
এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা অবিলম্বে সকল আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অবরোধের কারণে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধের খবর পেয়ে সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, মামলার প্রধান আসামিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে স্বাভাবিক হয় যানবাহন চলাচল।
উল্লেখ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গহেরপাড়া এলাকায় স্থানীয় ফিরোজ মিয়ার ছেলে জিহাদকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত জিহাদের বাবা ফিরোজ মিয়া ৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে দুস্থ অসহায় শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনী শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে মধুপুরে স্থাপিত বিএডিসি ক্যাম্পের মাঠে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পাহাড়িয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতের মধ্যে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র পেয়ে সুবিধাভোগীরা খুশি বলে জানিয়েছে।
বিতরণকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনায় ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার ও এরিয়া কমান্ডার ঘাটাইল এরিয়া মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ দরিদ্র অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্বোধন করেন।
সেনাবাহিনীর প্রেস বিজ্ঞাপিতে জানিয়েছে, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শীত মৌসুমে অসহায় ও দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও ঘাটাইল অঞ্চলের সেনাসদস্যরা।
ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ১৯ পদাতিক এ ধরনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে বলে আশাব্যক্ত করেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং। এ সময় সদর দপ্তর ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমাদ উদ্দিন আহমেদ, এসপিপি, পিএসসিসহ ঘাটাইল অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মধুপুরের কাকরাইদ সেনাক্যাম্পে শীতবস্ত্র নিতে আসা গাছাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রাবেয়া (৪০) জানান, তাদের এলাকায় কিছু দিন যাবত প্রচণ্ড শীত। এ সময়ে সেনাবাহিনীর এ শীতবস্ত্র পেয়ে সে খুব খুশি। শীত নিবারণে তার কাজে লাগবে।
জলছত্র গ্রামের বৃদ্ধ সুমতি দাস (৬০) বলেন, ‘এ শীতের মধ্যে কম্বলসহ প্যাকেজ উপহার পেয়ে সহায়তা পেয়ে সে আনন্দিত। সে ভাবতেই পারেনি, সেনাবাহিনীর কম্বল পাবে। তার বাড়ির পাশের মেম্বার একটি টিকেট দিছে, সেটা নিয়ে কাকারাইদ সেনাক্যাম্পে আসতে বলছে, এসে সে কম্বলসহ অন্যান্য শীতের বস্ত্র পেয়েছে।’
রামকৃষ্ণবাড়ি গ্রামের আজাহার আলী (৬০) জানান, তার বাড়ি কাকরাইদের পাশের গ্রামে। সে একটি স্লিপ পেয়ে এসেছে। এসে শীতের মধ্যে শীতবস্ত্র পেয়েছে। এ জন্য তিনি অনেক খুশি বৃদ্ধকালে এ সহায়তা পেয়ে আনন্দিত বলে জানালেন তিনি।
শুধু রাবেয়া, সুমতি আর আজাহারই নয় এমন প্রায় দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা সেনাবাহিনীর দেওয়া শীতবস্ত্র পেয়েছে বলে জানা গেছে। অরণখোলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, ‘তার এলাকাসহ আশপাশের এলাকা গ্রামের মানুষদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অংশ নিতে পেরে সে খুশি। শীতের সময় দরিদ্র অসহায় মানুষরা শীতবস্ত্র পেয়ে খুশি তেমনি সে নিজেও খুশি হয়ে।
চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। সরিষার হলুদ ফুলে ভরে ওঠেছে একরের পর একর জমি। কোথাও খেতের পরিচর্যা করছেন কৃষকরা। আবার কোথাও দল বেঁধে সবাই দেখতে আসছেন সরিষার খেত। বিস্তীর্ণ উপজেলায়জুড়ে হলুদ ফুলের সমাহার। মৌমাছির আনাগোনায় ভরে উঠেছে সব খেত।
বোরো লাগানোর আগে কম খরচে এই অর্থকারী ফসল আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তারা। এই কৃষকদের দেখে আশপাশের অন্যান্য কৃষকরাও সরিষার আবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। সরিষা আবাদে খরচ কম এবং একই জমিতে বোরো চাষে খরচ কম লাগে। আমন ও ইরি বোরোর মাঝের উৎপাদনকারী ফসল সরিষা। তাই কৃষক এটি চাষে বেশি ঝুঁকছেন।
উপজেলার লক্ষীর হাট এলাকার কৃষক জানান, আমরা এবার সরকারিভাবে সরিষার বীজ পেয়েছি। আবাদ ভালোই হবে মনে হয়।
এবারে উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২০২৫-২৬ অর্থবছর এ সরিষার আবাদ- ৩,৮১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে।
এদিকে রোগবালাই ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যার ফলে দেবীগঞ্জ উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাঈম মোর্শদ জানান, তিনটি জাত সরিষার রোপণ করা হয় এ বছরে বারি সরিষা, বিনা সরিষা, স্থানীয় সরিষা টরি, আবহাওয়া ভালো রয়েছে, মাঠপর্যায়ে রোগবালাইয়ের আক্রমণ না থাকায় ফলন বাম্পার হবে বলে আশাবাদী ৪,০০০ কৃষককে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এখানকার সরিষা থেকে তেলের পাশাপাশি মধু উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ভোজ্যতেল ও মধুর চাহিদা পূরণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নোয়াখালী সুপার মার্কেটে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় কুমিল্লা থেকে স্ত্রীসহ আন্তজেলা চোর চক্রের প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। একই ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে তাদের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তারসহ চোরাই সোয়া নয় ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আন্তজেলা স্বর্ণচোরচক্রের মূলহোতা মো. মোর্শেদ ওরফে মোশারফ, তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার ও মো. আলাউদ্দিন ওরফে পিচ্চি আলাউদ্দিন (২৬)। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই চোরদের শনাক্ত ও চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধারে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপনে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে পুলিশ। সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত শনিবার সকালে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর ভাঙা সড়কে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে আন্তজেলা চোরচক্রের মূলহোতা মোর্শেদ ও তার স্ত্রী শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে পিচ্চি আলাউদ্দিনকে তার বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বসতঘর থেকে তিন ভরি ৫ আনা ২ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে চট্রগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানা এলাকার বড় দিঘীর পাড় এলাকায় শিল্পীর বাসা তল্লাশি করে ৫ ভরি ১৫ আনা ৭ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।’
পুলিশ সুপার আরও জানান, অনুসন্ধানে আসামি মোর্শেদ মহসিন ওরফে মোশারফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আগের আটটি মামলা এবং পিচ্চি আলাউদ্দিনের নামে সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের সঠিক কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সুপার এ.টি.এম মোশারফ হোসেন আরও বলেন, ‘আটকদের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মীর মোশাররফ হোসেনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো করা হয়েছে। মোরশেদ ও পিচ্চি আলাউদ্দিন আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাগুরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, মাগুরার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির, মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওযার্দী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আলফাজ উদ্দিন, মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কাজী শামছুজ্জামান ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল কাদের, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা এস এম শান্তনু চৌধুরী, জেলা নির্বাচন অফিসার ফারাজী বেনজির আহম্মদ, মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মদ, জেলা জামায়াতের আমীর এমবি বাকের মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, মাগুরার পিপি সাখাওয়াত হোসেন, জিপি এড মঞ্জুরুল হাসান, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
বক্তারা সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে কোন প্রতিবন্ধকতা বা যড়যন্ত্র কোন অবস্থাতেই হতে দেওয়া হবে না বলেন, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান সতর্ক করেন সকলকে। সভায় বিশেষ করে আগামী নির্বাচনকে গুরুত্ব এনে জেলার কোথাও কোন সন্ত্রাস, নাশকতা না হয় তার জন্য মাগুরা পুলিশ ব্যাপকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়। এ সময় যানজট, আত্মহত্যা, ইভটিজিং, শিশুধর্ষণ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাগুরা পুলিশ মাগুরার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মাগুরার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিকভাবে দ্বায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ঝিনাইদহে নারী খেলোয়াড় ও সংগঠকদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিজম কুমার সরকার সিভিল সার্জন, ডা. কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, ক্রীড়া অফিসার আমানুল্লাহ আহমেদসহ ক্রীড়া সংস্থার নেতরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নারী ক্রিকেট দলে ডাক পাওয়া জোয়ারিয়া ফেরদৌস জয়িতা, হকি দলে ডাক পাওয়া রিয়া আক্তার, জাতীয় কাবাডি যশোর যোনের চ্যাম্পিয়ন, আন্তজেলা বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ ও অনূর্ধ্ব -২৩ ভলিবলে কৃতিত্ব রাখায় মোটর ৪০ জন নারী খেলোয়াড় ও সংগঠককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সেসময় বক্তারা বলেন, নারীদের খেলাধুলায় আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারবে। নারী ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধিত খেলোয়াড় ও সংগঠকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে ইসলামি জালসা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৮৩ বছর ধরে চলে আসা এই উৎসবটি রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়।
সকাল থেকেই শালমারা গ্রামের কয়েকটি পুকুর ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাছ ধরা উৎসবে অংশ নিতে গ্রামের শত শত মানুষ পুকুরে নেমে পড়েন। নৌকা, কলাগাছের ভেলা ও জাল ব্যবহার করে সৌখিন শিকারিরা সকাল থেকে মাছ ধরতে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি পুকুরে মাছ ধরার আনন্দে মেতে উঠেছেন অংশগ্রহণকারীরা। উৎসবকে ঘিরে শুধু গ্রামবাসীই নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীরা পুকুরপাড়ে ভিড় জমান।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিকারিদের অনেকেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করেন। পানিতে জাল টানার সময় হইহুল্লোড়, হাসি-আনন্দ আর উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বড় মাছ শিকার করতে পারা শিকারিদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের স্পষ্ট ছাপ।
মাছ শিকারিরা জানান, মাছ পাওয়া এখানে মুখ্য বিষয় নয়। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবে অংশ নেওয়া এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
গ্রামবাসীদের মতে, এই মাছ ধরা উৎসব শালমারা গ্রামের ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মাছ ধরা উৎসবে আসা সাকিব নামে একজন বলেন, ‘প্রতি বছর এই আয়োজন করা হয় । আমরা দেখতে আসি। মাছ ধরা দেখতে খুব ভালো লাগে। দেখে মনে হয় বাঙালির চিরচেনা সেই ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। শিকারিদের অনেকেই রুই, কাতলা, চিতল, ফলি, তেলাপিয়া, বিভিন্ন জাতের কার্প মাছসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছ ধরেন। উৎসবে কেউ অনেক মাছ ধরতে পারলেও কিছু মাছ শিকারি তেমন একটা মাছ পায়নি। তবে যারা বড় আকারের মাছ শিকার করেছেন তাদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের ছাপ।
সৌখিন মাছ শিকারি কাহার আলী বলেন, ‘মাছ ধরতে আমার ভালো লাগে। আজ অনেক মাছ পেয়েছি। তাই খুশি একটু বেশিই। তবে মাছ শিকারিরা বলেন, মাছ পাওয়া বড় বিষয় নয়; এখানে অংশ নিয়েছি এটাই আনন্দের ছিল।’
শালমারা গ্রামের মোতালেব জানায়, এবছর ৮৩তম শালমারা দাখিল মাদ্রাসার ইসলামী জালসা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জালসার একদিন আগে গ্রামবাসী এ মাছ ধরার আয়োজন করে থাকে। সে দিক দিয়ে প্রায় ৮৩ বছর ধরে মাছ ধরার এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে গ্রামবাসী।
মাছ শিকারী জয়নাল আবেদীন জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে থেকে কলাগাছ কেটে ভেলা তৈরী করে রেখেছিলাম মাছ ধরার জন্য। জালসার আগের দিন মাছ ধরার এই উৎসবে আমরা বাড়তি আনন্দ উপভোগ করি।
চলনবিল পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি এস.এম রাজু আহমেদ বলেন, এই মাছ ধরা উৎসব আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে একই সঙ্গে পরিবেশ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধবভাবে এ ধরনের উৎসব আয়োজন করা হলে ঐতিহ্য রক্ষা যেমন হবে, তেমনি চলনবিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহরের কাউতলি মোড় এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষজন অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির আহমেদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এ. বি. এম. মুছা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ হাফিজ উল্লাহ, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখপাত্র আরিফ বিল্লাহ, মো: সাবের হোসেন, তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভূঁইয়া প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও বৈধ গ্রাহকরা পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলছে। শীত মৌসুম শুরুর পর থেকে সংকট আরও বেড়েছে। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস সরবরাহ হচ্ছের দেশের বিভিন্ন স্থানে। অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কার্যালয়, সড়ক-রেলপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন দে ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ এখন কৃষিতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত মুখ। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে অল্প সময়েই তিনি ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। তার এই সাফল্য স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, কয়েক বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে নিজ গ্রামের আহমেদ সিটি গার্ডেন এলাকার অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষিকাজ শুরু করেন সাজিদ। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি।
কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা পান সাজিদ। পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে মালচিং, ড্রিপ ইরিগেশন এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এতে উৎপাদন খরচ কমে আসে এবং ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আহমেদ সিটি গার্ডেনের পতিত জমি পরিষ্কারের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আবাদকৃত ৪০ শতাংশ জমিতে বর্তমানে করলা উত্তোলন চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কেজি করলা উত্তোলন করা হয়েছে। বাজারে করলার পাইকারি মূল্য কেজি প্রতি ৬০ টাকা হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার টাকার করলা বিক্রি হয়েছে।
সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আনুমানিক দেড় থেকে ২ টন করলা বিক্রি করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রবাস থেকে দেশে ফিরে স্থায়ী ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে কৃষিকেই সবচেয়ে নিরাপদ মনে হয়েছে।” চলতি মৌসুমে তিনি আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনার কথাও জানান।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান বলেন, সাজিদের খামার থেকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহ হচ্ছে। এতে তার আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সাফল্য প্রমাণ করে—যথাযথ উদ্যোগ, পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কৃষিই হতে পারে লাভজনক ও টেকসই পেশা।” তিনি আরও বলেন, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য সাজিদের এই অর্জন একটি বাস্তব উদাহরণ।
প্রবাস ফেরত সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজকে কৃষিমুখী হওয়ার একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার মধ্যবর্তী মেঘনা নদীতে একটি জেলে ট্রলার ডুবে চার জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ট্রলারে থাকা পাঁচজনের মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারলেও বাকি চারজনের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন,মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পালপাড়া গ্রামের শাহীন মীর (১৭), আরিফ হোসেন (১৯), শাহীন (১৭) ও নয়ন (১৯)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলে শামিম হোসেন দিদার (২৫) জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৪টার দিকে হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের বাথুয়ারচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সাজাহান দিদারের ছেলে।
দিদার বলেন,পাঁচজন মিলে একটি ছোট ট্রলারে করে রাতে মাছ ধরতে যাই। জাল পেতে ট্রলার নোঙর করে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ভোররাতে হঠাৎ বিকট শব্দ ও ধাক্কায় ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রলার উল্টে আমরা সবাই নদীতে ছিটকে পড়ি। সবাই তীরে ওঠার চেষ্টা করি। অন্য জেলেদের সহায়তায় আমি উঠতে পারলেও বাকিরা আর উঠতে পারেনি।
তিনি ধারণা করেন, কোনো লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যেতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা বলতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ মৃধা জানান, রাতেই একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চার জেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
নৌ-পুলিশের কালীগঞ্জ স্টেশনের ইনচার্জ মো. এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন এলাকায় পড়েছে।
বরিশাল হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার জানান, ঘটনার পরদিন দুপুরে তিনি বিষয়টি অবগত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নৌ-পুলিশকে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপরতা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। গত এক মাসে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে দেশি ও বিদেশি পিস্তল, এলজি, পাইপগান, শটগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রামদা, কিরিচ, ছুরি ও চাপাতির মতো দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, দেশি ও বিদেশি মদ, মাদকজাত ইনজেকশন, ফ্রাফ সিরাপ এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
পুলিশের তথ্যমতে, এক মাসে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮৫ জন, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানে আটক ৪২৬ জন, নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ৭৫০ জন এবং ডাকাতি মামলায় আটক ২১ জন। সব মিলিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জনে।
ডাকাতি প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে ৪টি পিকআপ ও ১টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে ডাকাতির মাধ্যমে লুণ্ঠিত ৫ দশমিক ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ফেনী জেলা থেকে ডাকাতি হওয়া ৮টি গরু উদ্ধার করা হয়।
নগরীতে চুরি ও ছিনতাই রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ হিসেবে কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে দিন-রাত তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি ও চুরি-ছিনতাই দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে চেকপোস্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।