শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সিলেটের বন্যা: লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। গতকাল কোম্পানিগঞ্জ সদর থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।

গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।

এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।

এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিসিকের ছুটি বাতিল

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ

সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও এবার স্বস্তিদায়ক হবে: সড়কমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম বলেছেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।

শুক্রবার (২২ মে) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে এবং বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জনের পরিবার এবং আহত ৩৩ জনের মাঝে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আহতদের ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৫৯ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দেশের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছরই ঈদযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবার সহযোগিতা, জনসচেতনতা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে।

সড়কমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। চালকদের অদক্ষতা, আনফিট যানবাহন ও জনগণের অসচেতনতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এসব কমিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।


পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ১৩ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ‘ঈদ উপহার’ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসকদের কাছে চেক হন্তান্তর করেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, চট্টগ্রাম সিটির মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, খুলনার প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, গাজীপুরের শওকত হোসেন সরকার, নারায়ণগঞ্জের অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, সিলেটের আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বরিশালের বিলকিস জাহান শিরীনসহ ১৩ সিটির প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিকেলে বাসায় আসর নামাজ পড়ে পায়ে হেঁটে গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছুটির দিনে দলের কার্যালয়ে এসেছেন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সারাদেশের সিটি করপোরেশনের প্রশাসক-মেয়রের কাছে ঈদ বোনাস হস্তান্তর করেছেন।’


সুন্দরবনের ডাকাতদের কাছে জিম্মি ২১ জেলে উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

সুন্দরবনে পৃথক দুটি অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত ‘দয়াল বাহিনী’ ও ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (২২ মে) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে সপ্তমবারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গহিনে প্রবেশ করলে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখালসংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। গোপন তথ্যে জানা যায়, জিম্মি জেলেদের নিয়ে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা কয়রা থানায় আন্দারমানিকের টোটা, কেওড়াতলা খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানায় সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকাল ৫টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গহিনে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ১১ জন জেলে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


সাভারে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার সাভারে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাক (৬৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বিনোদবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আমিনবাজার ফাঁড়ি পুলিশ।

গ্রেপ্তার আব্দুর রাজ্জাক পটুয়াখালীর বাউফলের বাসিন্দা। তিনি সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বিনোদবাড়ি এলাকার ওই বাসায় থাকতেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তি একই বাড়ির পাশাপাশি দুটি ঘরে থাকে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে রাজ্জাক শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি প্রকাশ পেলে লোকজন সন্ধ্যায় রাজ্জাকের বাড়ি ঘেরাও করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

তিনি আরও বলেন, রাতে ভুক্তভোগীর পরিবার ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছে।


সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান কারারক্ষীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান কারারক্ষী গোলাম মোস্তফা (৫৫)। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কেরানীগঞ্জে বুধবার (২০ মে) রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন গোলাম মোস্তফা। পরে ঢামেক হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহত গোলাম মোস্তফা ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার বন্ধনহোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. কালাম উদ্দিনের ছেলে এবং কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রধান কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের সহকর্মী কারারক্ষী মো. আরমান বলেন, গত বুধবার দুপুরের দিকে কেরানীগঞ্জে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন গোলাম মোস্তফা। পরে আমরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।


অব্যবস্থাপনার দায়ে নৌ-মন্ত্রণালয়ের ১৬ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোরাজিব আহসানের ঝটিকা পরিদর্শনে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দেরিতে আসার প্রমাণ পাওয়ায় ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়েছে। সম্প্রতি বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন নৌপরিবহন দপ্তরে এই আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার (২২ মে) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনকালে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ ছাড়া অনেক কর্মচারী নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে উপস্থিত হন। এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে অবহেলা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তাদের বরিশাল কার্যালয়ের মোট ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে। এদের মধ্যে ড্রেজিং বিভাগের ৯ জন, নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের ২ জন, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের ১ জন এবং হিসাব বিভাগের ১ জন রয়েছেন।

এর পাশাপাশি একই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) তাদের ৩ জন কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং কঠোরভাবে অফিস সময় মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি অফিসগুলোতে শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝটিকা পরিদর্শন অব্যাহত রাখা হবে।’


যমুনার ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ হবে অচিরেই: পাণিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অচিরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে নদীর তীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর বাম তীরের ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামী অর্থবছর থেকে যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু করা হবে।’

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।’ যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন।

যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর নদীর তীরের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ‘আমরা যা বলি, তাই করি। নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন শরীফা হক, মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, মো. শাহজাহান সিরাজ, হাসানুজ্জামিল শাহীন, মাহমুদুল হক সানু এবং খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতা-কর্মী এবং ভাঙনকবলিত এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


শ্বশুরবাড়িতে মাছের ঘেরে পড়ে ছিল কৃষকের লাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় একটি মাছের ঘের থেকে আবু সাঈদ কারিগর (৪৮) নামের এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) সকালে উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের পাটকেলঘাটা থানার চকারকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত আবু সাঈদ কারিগর কলারোয়া উপজেলার দেওড়া গ্রামের মোন্তাজ কারিগরের ছেলে। চকারকান্দায় তার শ্বশুরবাড়ি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রফিকুল বলেন, আবু সাঈদের সঙ্গে ১৫ বছর আগে চকারকান্দা গ্রামের হাফিজুরের মেয়ের বিয়ে হয়। বছরখানেক আগে আবু সাঈদ স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করায় হাফিজুর সাতক্ষীরায় আদালতে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) মামলার মীমাংসা হয়েছে। এরপর আবু সাঈদ হাফিজুরের বাড়িতে ছিলেন। শুক্রবার (২২ মে) সকালে শ্বশুরের ঘেরে যেতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সকাল ৯টার দিকে স্বপন মণ্ডল নামের এক ব্যক্তির মাছের ঘেরে আবু সাঈদের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাটকেলঘাটা থানার ওসি শফিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্‌রোগজনিত কারণে এই মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্য মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


৩২ মণের ‘ঠাণ্ডা ভোলার’ দাম ১২ লাখ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

১১ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩২ মণ। কালো শরীর, চার পায়ের নিচের দিকে ও কপালে সাদা রঙের ছাপ। শান্ত প্রকৃতি হওয়ায় ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঠাণ্ডা ভোলা’। আসন্ন ঈদুল আজহার পশুর হাটে বিক্রির জন্য গরুটি বড় করেছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ফুলেরগাতী গ্রামের কৃষক প্রসেনজিৎ রায় (৩১)। ঠাণ্ডা ভোলাকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায়ই লোকজন আসছেন।

প্রসেনজিৎ রায়ের গোয়ালে ছয়টি গরু ছিল। ঠাণ্ডা ভোলাকে পালন করতে গিয়ে তিনি একে একে সব গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি জানান, সাড়ে ছয় বছর আগে একটি খামার থেকে ৩২ হাজার টাকায় ছোট্ট বকনা বাছুর কিনেছিলেন। ঘরের লক্ষ্মী মনে করে বাছুরটির নাম রাখা হয় ‘রাজলক্ষ্মী’। এরপর সে মাত্র একটি বাচ্চা প্রসব করে। সেটি এড়ে বাছুর। এখন রাজলক্ষ্মীর বাছুর ‘ঠাণ্ডা ভোলা’ বড় হয়েছে। তাকে তৈরি করা হয়েছে কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য। তিনি জানান, ঠাণ্ডা ভোলার ওজন করা হয়নি। তবে প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে আসা লোকজন হিসাব–নিকাশ করে আমাদের জানিয়েছেন, তার ওজন ৩২ মণের বেশি। ষাঁড়টির দাম ১২ লাখ টাকা চাইছেন প্রসেনজিৎ রায়।

প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘ঠাণ্ডা ভোলা ছোটবেলা থেকেই একেবারই শান্ত স্বভাবের। তাই ওর নাম রেখেছি ঠাণ্ডা ভোলা। এবার কোরবানিতে বিক্রির জন্য ওকে তৈরি করেছি। ওকে কোনো ফিড খাওয়ানো হয়নি কিংবা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন দেওয়া হয়নি। আমি চাই, ক্রেতারা সামনাসামনি এসে ওকে দেখে পছন্দ করে দাম বলুক। যদি দামদরে হয়, তাহলে বিক্রি করব।’

পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো ষাঁড়টির সার্বক্ষণিক যত্ন নেন প্রসেনজিতের মা ঝরনা রায় (৫৬)। তিনি বলেন, ‘ফ্রিজিয়ান জাতের ঠাণ্ডা ভোলার বয়স চার বছর আট মাস। একেবারই প্রাকৃতিক পরিবেশে ঠাণ্ডা ভোলাকে আদর-যত্নে লালন–পালন করেছি। ওকে কাঁচা ঘাস, শর্ষের খইল, সয়াবিনের খইল, ছোলা, ভুট্টার ভুসি ও খড় খাইয়ে বড় করেছি।’

স্থানীয় পশুচিকিৎসক পবিত্র বিশ্বাস বলেন, ‘এই গরুর কৃত্রিম প্রজনন থেকে শুরু করে সবকিছুই দেখভাল করি। পরিবারের লোকজন ঠাণ্ডা ভোলাকে সন্তানের মতো লালন–পালন করে। ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের নিচে থাকে। দিনে অন্তত একবার করে গোসল করায়, খাবার খায় অর্গানিক। কোরবানি ঈদের জন্য এই গরুর মাংস সম্পূর্ণ নিরাপদ।’

অভয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে ওই এলাকায় গিয়ে আমি ষাঁড়টি দেখে এসেছি। ষাঁড়টি প্রাকৃতিকভাবে বড় করে তোলা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে বড় করে তোলা গরুগুলো বেশ স্বাস্থ্যবান হয়। এবার ঈদে ষাঁড়টির দামও বেশি পাওয়া যাবে।’


নৌকায় পুলিশের লাশবাহী ভ্যান, আলোচনায় কুড়িগ্রামের যোগাযোগ দুর্ভোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি নৌকায় তোলা লাশবাহী ভ্যানের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা। ছবিটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা, বিচ্ছিন্নতা ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত সোমবার (১৮ মে) ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেন সামিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি লেখেন, ‘আমরা কুড়িগ্রামবাসী কতটা অসহায়, অবহেলিত ও বঞ্চিত, সেটা এই লাশবাহী গাড়ি দেখলেই বোঝা যায়। কবে হবে এই সমস্যার সমাধান?’ তার এই পোস্ট ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ দেখেছেন। এতে অসংখ্য মানুষ আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সামিউল ইসলাম জানান, গত সোমবার (১৮ মে) রৌমারীতে তার বাড়ি ফেরার পথে চিলমারীর রমনা ঘাটে নৌকার ওপর লাশবাহী ভ্যানটি দেখতে পান। পরে সেটি মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিটি কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবির লাশবাহী ভ্যানটি রৌমারী থানার। কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা শহরে নিতে এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়। তবে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ভ্যানটি কখনো কাঁচা ও ভাঙা রাস্তা ঠেলে, আবার কখনো নৌকায় তুলে নদী পার করতে হয়।

লাশবাহী গাড়িটির চালক আশিয়াল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চল পেরিয়ে লাশ নিয়ে জেলা শহরে পৌঁছানো খুবই কষ্টসাধ্য। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে একইভাবে লাশ নিয়ে আবার রৌমারীতে ফিরতে হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে লাশ বহনের জন্য একটি কাঠের ভ্যান ব্যবহার করা হতো। সেটিতে লাশ পরিবহন ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। পরে রৌমারী থানা বিশেষভাবে একটি লাশবাহী ভ্যান তৈরি করে দেয়। তবে যানবাহনের পরিবর্তন হলেও এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রৌমারী ও রাজিবপুর দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা জনপদ। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে প্রতি বছর বহু মানুষ ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অসুস্থ মানুষকে নৌকায় করে হাসপাতালে নিতে হয়, আবার মৃত্যুর পর লাশও নদী পেরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ভাঙা রাস্তা, কাদামাটি ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এখানকার মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা।

রৌমারী থানার ওসি কাওছার আলী বলেন, ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লাশ বহনের জন্য গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। আগে কাঠের ভ্যানে লাশ নেওয়া হতো। খোলা অবস্থায় লাশ বহন করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ বছর বিশেষভাবে ভ্যানটি তৈরি করা হয়েছে।’


কোরবানির ঈদ মাতাতে প্রস্তুত মৌলভীবাজারের কামাররা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে শুরু হয়েছে কামারদের দম ফেলার ফুসরতহীন ব্যস্ততা। কোরবানি পশুর মাংস কাটার দা, ছুরি, বঁটি ও চাপাতি তৈরি এবং শান দেওয়ার কাজে দিন-রাত টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে স্থানীয় কামারপাড়াগুলো।

সরেজমিনে উপজেলার ভানুগাছ বাজার, শমশেরনগর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার ও আদমপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারা বছর অলস সময় পার করলেও এখন কারিগরদের যেন নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। কয়লার গনগনে আগুনে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ির নিখুঁত পিটুনিতে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ধারালো সরঞ্জাম। একই সাথে পুরনো হাঁপরের শোঁ-শোঁ শব্দ আর হাতুড়ি পেটার আওয়াজে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

বাজারে নানাবিধ সরঞ্জাম ও দামের চিত্র: এ বছর বাজারে লোহার তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম নিচে তুলে ধরা হলো-রেল লাইনের পাতের দা ৫০০ টাকা, রেল লাইনের পাতের চাপাতি ৫৫০ টাকা, গাড়ির স্প্রিংয়ের উন্নত চাপাতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আকারভেদে বড় ছুরি ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকা, বঁটি ও ছোট ছুরি ১০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া পুরনো সরঞ্জাম শান দেওয়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার লড়াই ও সংকট: স্থানীয় কর্মকার শ্যামল জানান, বেচাকেনা টুকটাক শুরু হলেও পশু কেনাবেচা পুরোদমে শুরু হলে আমাদের ব্যস্ততা আরও বাড়বে। তবে বাজারে লোহার দাম বাড়লেও সেই তুলনায় আমরা পণ্যের দাম বা হাড়ভাঙা পরিশ্রমের সঠিক মজুরি পাচ্ছি না।

অন্য কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারা বছর পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার এই আদি পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি অর্থ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আগেভাগেই প্রস্তুতি ক্রেতাদের; এদিকে শেষ মুহূর্তের ভিড় ও ঝামেলা এড়াতে সচেতন ক্রেতারা আগেভাগেই সেরে নিচ্ছেন কেনাকাটার কাজ। বাজারে আসা ক্রেতা রাজন ও জামাল মিয়া জানান, ঈদের শেষ সময়ে কামার দোকানগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। তাই পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো আগেভাগেই কিনে বা শান দিয়ে প্রস্তুত রাখছেন তারা।

লোহা আর আগুনের সাথে যুদ্ধ করে চলা এই কারিগরদের আশা, এবার কোরবানির ঈদ তাদের সারা বছরের মন্দা কাটিয়ে মুখে কিছুটা হলেও হাসির ঝিলিক এনে দেবে।


ঝড়ে ২৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন জামালপুরের দুই উপজেলার ৫০ গ্রাম 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি 

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে জামালপুরের দুটি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন রয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, উপড়ে পড়েছে গাছ। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পানির সংকট নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৭টা থেকে টানা তিন ঘণ্টা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। এ সময় মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার ওপর দিয়ে তীব্র বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে সড়কের পাশের অসংখ্য গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ে। এতে মাদারগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রাম এখনো বিদ্যুৎহীন। অন্যদিকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী, পূর্ব গামারিয়া, ঢেংগারগড়, দেলিরপাড়, রৌহারকান্দাসহ ১০টি গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। মুঠোফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেকেই প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না। ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সমস্যাও বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া মোটর চালাতে না পারায় অনেক বাসাবাড়িতে পানি ওঠানো যাচ্ছে না। এতে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, ‘প্রায় ২৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। কখন আসবে তাও জানি না। মোবাইল চার্জ দিতে পারছি না। লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছি না। ঘরে থাকা ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

ইসলামপুর উপজেলার পূর্ব গামারিয়ার বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে কারেন্ট চলে গেছে এখন পর্যন্ত আসে নাই। শুধু আজ না সামান্য বৃষ্টি হলেই কারেন্ট চলে যায়। এখন ফোনের চার্জও ঠিকভাবে দিতে পারতেছি না। আজকেও (শুক্রবার) সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। কারেন্ট আজও আসবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। গাছের ডাল পড়ে প্রায় ৭০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এ ছাড়া অন্তত ১৩০টি গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালের ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও লাইন মেরামতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। কয়েকটি এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা গেলেও জনবলসংকটের কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে।’

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামপুর উপজেলার কাজ প্রায় শেষের দিকে। বিকেলের মধ্যে আশা করছি পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে। তবে মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুতের অনেক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে কাজ চলছে। কিন্তু এ উপজেলার পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে আরও সময় লাগতে পারে।’


সুমাইয়ার বাঁচার স্বপ্নে বড় বাধা দারিদ্র্যতা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমানুল্লাহ আসিফ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর)

দেড় মাসে লাগে ১২ ব্যাগ রক্ত। ছোট্ট শরীরে একের পর এক সূচের আঘাত। হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে থেকেও ১২ বছর বয়সি সুমাইয়া আক্তার সম্পা এখনো বাঁচার স্বপ্ন দেখে। তবে তার এই স্বপ্নে বড় বাধা দারিদ্র্যতা। চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর দিন কাটছে রক্ত, জ্বর, ব্যথা আর কেমোথেরাপির আশঙ্কা নিয়ে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীরে বাসা বেঁধেছে ব্লাড ক্যান্সার। সুমাইয়ার বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বেকিকুড়া আমবাগান বাজার গ্রামে। তার বাবা আব্দুল করিম একজন হতদরিদ্র অটোরিকশাচালক।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে জীবিকার তাগিদে সপরিবারে নারায়ণগঞ্জ চলে গিয়েছিলেন সুমাইয়ার বাবা আব্দুল করিম। অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকম ডাল-ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করছিলেন তারা।প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে তাদের তৃতীয় সন্তান সুমাইয়া।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, সুমাইয়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। এখন প্রায়ই তার শরীর রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে বারবার দিতে হচ্ছে বি-পজিটিভ রক্ত।

গত দেড় মাসে অন্তত ১২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে তাকে। জ্বর ও অসহ্য ব্যথায় দুর্বল হয়ে পড়ছে শিশুটি। ঠিকমতো চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে দিন দিন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে তার শরীর। পরিবারটির দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ছে না। বড় মেয়েকে গত বছর বিয়ে দিয়েছেন তারা। মেজো ছেলে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে গেছে। আর ছোট মেয়ে সুমাইয়া এখন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছে।

সুমাইয়ার মা রিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা গরিব মানুষ ট্যাহা পয়সা না থাকায় মেয়েডারে চিকিৎসা করাতে পারতেছি না। তিনি জানান, গত দুই মাস আগে হঠাৎ করে সুমাইয়া অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন তারা সরা শরীর সাদা হয়ে যায় ও অবশ হয়ে যায়। প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের প্রো-একটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে সেখানের চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা সুমাইয়ার শরীরের নানা ধরনের পরীক্ষা নীরিক্ষা করার পর নিশ্চিত হন সে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। এখন প্রায়ই তার শরীর সাদা হয়ে যায়। আর সাদা হয়ে গেলেই তার শরীরের বি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত দিতে হয়। গত দেড় মাসে প্রায় ১২ ব্যাগ রক্ত ভরতে হয়েছে সুমাইয়ার শরীরে। এদিকে, সুমাইয়ার শরীরে জ্বর থাকে ও ব্যাথা করে। চিকিৎসা এবং পথ্যের অভাবে দিন দিন তার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সুমাইয়াকে বাঁচাতে হলে নিয়মিত রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৮ থেকে ৯টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। প্রতিটি কেমোথেরাপিতে খরচ হতে পারে প্রায় দেড় লাখ টাকা। সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মতো, যা এই পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। তাই অসহায় বাবা-মা সরকারি বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহায়তা কামনা করেছেন।


banner close