পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।
সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।
এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।
এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।
সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ
সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সিসিকের ছুটি বাতিল
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ
সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।
মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।
আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।
আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।
শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।
এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি ফোম মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে এগারোটা দিকে টঙ্গী বাজার আনারকলি রোডের মা সফুরন্নেছা সুপার মার্কেটে এই ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গী, উত্তরা ও কুর্মিটোলার মোট ৬টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মার্কেটের ভিতরে একটি দোকানে হঠাৎ করে আগুনের কুন্ডলী দেখতে পান তারা। মুহূর্তেই বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পরে। এতে ১০ থেকে ১৫টি দোকানের সব মালামাল পুরে ছাই হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের দাবি মার্কেটটিতে বিপুল পরিমাণ ধায্য কেমিক্যাল, ফোম ও প্লাস্টিক সামগ্রী ছিল। তাছাড়া জনবহুল এলাকা হওয়ার মানুষের উপচে পড়া ভীড় ও পানি সংকটে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।
ফায়ার সার্ভিসের (ঢাকা জোন ৩) এর উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট তাৎক্ষণিক ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আগুনের ভয়াবহতা দেখে উত্তরা ও কুর্মিটোলা থেকে আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়। মোট ৬টি ইউনিটের দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে প্রচুর ধায্য পদার্থ থাকায় ও পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে।
প্রাচীন বাংলার জনপদ যশোরের মণিরামপুর। এই জনপদের ধুলোবালি আর মাটির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের বিস্ময়। মণিরামপুর বাজার থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ভোজগাতি ইউনিয়নের দোনার গ্রামে নিভৃতে দাঁড়িয়ে আছে এক ঢিবি, যা স্থানীয়দের কাছে ‘দমদম পীরস্থান’ নামে পরিচিত। এক সময় লোকমুখে এটি সুলতানি আমলের স্থাপনা বলে পরিচিত থাকলেও, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন দেখিয়েছে এক অবিশ্বাস্য সত্য। এটি কেবল কয়েকশ বছরের নয়, বরং ১৮শ বছরেরও বেশি প্রাচীন এক জনপদের ধ্বংসাবশেষ যা আমাদের নিয়ে যায় যিশুখ্রিস্টের জন্মের সমসাময়িক এক সুপ্রাচীন অতীতে।
১৯৮৬ সালের এক বিকেলে স্থানীয়রা যখন ঢিবি সংলগ্ন মাদ্রাসার জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন, তখন হঠাৎ কোদালের মুখে বেরিয়ে আসে প্রাচীন ইটের সুনিপুণ গাঁথুনি। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। দীর্ঘকাল মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা রহস্যময় এক স্থাপত্যের হাতছানি হাজার হাজার মানুষকে সেই অজপাড়াগাঁয়ে টেনে আনে। জনমানুষের এই কৌতূহলকে গুরুত্ব দিয়ে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম খনন কাজ শুরু করে। খননকালে প্রথমদিকে ছাদ বিহীন ৮টি পূর্ণাঙ্গ কক্ষ আবিস্কৃত হয়। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় উন্মোচিত হয় এক বিশাল মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। ২০০৬-০৭ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্য মোট কক্ষ পাওয়া যায় ১৮টি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফার খননকালে দেখা যায়, এই মন্দিরটি মূলত দুটি পৃথক যুগে নির্মিত হয়েছিল। প্রথম যুগে এটি ছিল একটি বর্গাকার স্থাপনা, যা পরবর্তীকালে মন্দিরের পবিত্রতা ও কর্মপরিধি বাড়াতে পূর্বদিকে সম্প্রসারিত করে আয়তাকার রূপ দেওয়া হয়। গর্ভগৃহের ভেতরে পাওয়া যায় ছোট-বড় ২৪টি কক্ষ, যা আজও দর্শকদের ভাবিয়ে তোলে সেই সময়ের উন্নত স্থাপত্যশৈলী নিয়ে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই ঢিবিটি আসলে এক বিরল প্রত্নস্থল। এখানে তিনটি ভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতার ছাপ একই সুতোয় গাঁথা। খননকালে পাওয়া ছোট পাথরের বুদ্ধমূর্তি আর পোড়ামাটির ফলক সাক্ষ্য দেয় এটি এক সময় বৌদ্ধদের উপাসনালয় ছিল। আবার মন্দিরের নকশায় পদ্মপাপড়ি খচিত ইট, সাপের ফণাযুক্ত পাত্র এবং ১৩তম জৈন তীর্থঙ্কর মল্লিনাথের বিগ্রহের উপস্থিতি ইঙ্গিত করে যে, এটি ছিল একটি প্রাচীন জৈন মন্দির। সেখানে সম্ভবত পঞ্চনাগ বা সপ্তনাগের উপাসনা হতো। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতকের ‘এন্টিমনির কাজল শলাকা’ এবং ‘রুলেটেড’ মৃৎপাত্রের মতো দুর্লভ প্রত্নবস্তুর আবিষ্কার একে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মন্দিরের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। সময়ের বিবর্তনে মন্দিরটি পরিত্যক্ত হলে এলাকাটি জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং কালক্রমে এটি একটি উঁচু ঢিবি বা সমাধিতে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে কোনো এক সুফি সাধক এখানে আস্তানা গাড়লে এটি ‘পীরস্থান’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
এই প্রত্নস্থলের নামকরণের গল্পটিও বেশ রোমাঞ্চকর। প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, অতীতে এই উঁচু ঢিবির ওপর দিয়ে হেঁটে চলার সময় মাটির নিচ থেকে এক ধরনের গুম গুম বা ‘দমদম’ আওয়াজ পাওয়া যেত। সেই রহস্যময় শব্দ থেকেই এর নাম হয়ে যায় ‘দমদম টিবি’। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দমদম পীরস্থান ঢিবি থেকে কিছুটা দক্ষিণে মঙ্গল শাহ নামে এক পীরের আস্তানা ছিল। একসময় এলাকার মানুষ বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় এখানে টাকা, মুরগি ও ছাগল মানত করতেন। রোগমুক্তির পর তারা সেই স্থানে মানত করা পশু-পাখি জবাই করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করতেন। বর্তমানে এ প্রথা এখনো কিছুটা চালু থাকলেও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। তবে এই প্রথা ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য স্থানীয়দের জানা নেই। এছাড়াও এই ঢিবির পাশেই রয়েছে বিশাল এক জলাধার, যার নাম ‘কুমারী দিঘি’। এই দিঘিকে ঘিরে স্থানীয়দের অন্তহীন লোককথা আজও মুখে মুখে ঘোরে। এক সময় বিশ্বাস করা হতো, এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান হলে কুমারী মেয়েরা দিঘির পাড়ের কুয়ায় গিয়ে প্রার্থনা করলে মুহূর্তের মধ্যেই সোনার থালা-বাসন আর গামলা ভেসে উঠত। ব্যবহার শেষে আবার ফেরত দিলে সেগুলো অদৃশ্য হয়ে যেত। সেই অলৌকিক কুয়া আজ ভরাট হয়ে গেলেও তাকে ঘিরে মানুষের আবেগ কমেনি। তবে পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি টানে দিঘির পাড়ে থাকা রহস্যময় ‘অচিন বৃক্ষ’। এই দুর্লভ প্রজাতির গাছগুলো যেন প্রকৃতির এক রহস্যময় খেলা। কথিত আছে, সেই ১৮শ বছর আগে মন্দির প্রতিষ্ঠার সময়ই এগুলো লাগানো হয়েছিল। সাতটি গাছের মধ্যে এখন মাত্র তিনটি টিকে আছে। এদের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো, বছরের ছয় মাস এই গাছগুলো একদম শুকনো কাঠের মতো প্রাণহীন হয়ে থাকে, আর বাকি ছয় মাস অলৌকিক প্রাণ ফিরে পেয়ে নতুন পাতায় ও সুগন্ধি ফুলে ভরে ওঠে। এমন অদ্ভুত গাছ এদেশের আর কোথাও দেখা যায় না। অনেকে বিশ্বাস করেন এই ফুল সব রোগের মহৌষধ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক চেষ্টা করেও এই গাছ অন্য কোথাও লাগানো সম্ভব হয়নি; নিজের মাটি ছেড়ে গেলেই চারাগুলো মারা যায়।
দমদম পীরস্থান ঢিবির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে। খনন কাজের তদারকিতে থাকা একজন গবেষক জানান, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় দফার খননে আমরা লক্ষ্য করি মাটির প্রতিটি স্তর ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কথা বলছে। বিশেষ করে খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের ‘রুলেটেড’ মৃৎপাত্রের টুকরো পাওয়া যাওয়াটা আমাদের জন্য বড় আবিষ্কার। এটি প্রমাণ করে যে, প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই অঞ্চলে একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং শিল্পমনা জনপদ ছিল। অন্যদিকে, ঢিবির পাশেই বসবাসরত আশিোর্ধ্ব আব্দুল কুদ্দুস শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলায় এই ঢিবিকে খুব ভয় পেতাম। ঘন জঙ্গলে ঘেরা জায়গাটার নিচে সোনার শহর আছে বলে বড়দের কাছে শুনতাম। আজ যখন প্রাচীন ঘরগুলো চোখের সামনে দেখি, তখন অবাক হয়ে ভাবি আমরা আসলে কত প্রাচীন এক ইতিহাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। বর্তমানে এলাকাটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ঢাকা থেকে আসা একজন গবেষক মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে বৌদ্ধ, জৈন এবং মুসলিম ঐতিহ্যের এমন সহাবস্থান বিরল। বিশেষ করে ‘অচিন বৃক্ষ’ উদ্ভিদবিজ্ঞানের কাছেও একটি রহস্য হতে পারে। সরকারিভাবে একে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এটি দেশের অন্যতম সেরা হেরিটেজ সাইট হতে পারে।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তিন অ্যালামনাই। তারা হলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী ও বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. এম এ রহিম। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, চিকিৎসা, জনপ্রশাসন এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) এবং ঢাকাস্থ পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের বিজ্ঞানী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে তিনি জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার শীর্ষ সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি হিসেবে কর্মরত আছেন।
ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবের অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাবেক মহাপরিচালক এবং ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোষ্ট হারভেস্ট টেকনোলজি (এফএমপিএইচটি) বিভাগের প্রাক্তন মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বাকৃবির কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফিলিং স্টেশনগুলিতে চাহিদা মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক, মোটরসাইকেল আরোহীরা ভোগান্ততে পড়েছেন। ফিলিং স্টেশন থেকে তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ পাচ্ছেন না। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করতে না পারায়ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন পাম্প মালিকরা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে থেকে শহরের ফিলিং স্টেশনে ঘুরে গেলে দেখা যায়, বাস,পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা জ্বালানি তেল নিতে স্টেশনে ভিড় করছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ তারা চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছে না।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা ও ইসরায়েলে যুদ্ধের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানিয়েছেন।
যাত্রী নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে যাবেন প্রাইভেটকার চালক মো.রাজু। তিনি বলেন, পাম্পে জ্বালানির জন্য এসেছি আমার গাড়ির জন্য প্রয়োজন ২০ লিটার কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে দিচ্ছে ৪ লিটার। এখন বাকি পথ কিভাবে যাবো সেই চিন্তায় আছি। আমাদের দাবি সরকার যেন দ্রুত দেশের জ্বালানি সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
মোটরসাইকেল আরোহী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বাইকের জন্য তেল নিতে এসে দেখি পাম্প থেকে একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে ২শত টাকার বেশি জ্বালানি তৈল দিচ্ছে না। আমার চাহিদা মত তেল পায়নি। তৈল তো খাবার জিনিস না বেশি নিয়ে কি করবো।
আরেক মোটরসাইকেল আরোহী রায়হান মিয়া বলেন, আমি বাইকের জন্য ফুল ট্যাংকি করতে আসছি কিন্তু পাম্প থেকে ফুল ট্যাংকি করতে দেয়নি। আমাকে মাত্র ৫ শত টাকার তৈল দিয়েছে৷
ঔষধ কোম্পানি বিক্রয় কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের তো সবসময় মার্কেটে দৌঁড়াদৌড়ি করতে হয়। তাই গাড়িতে বেশি জ্বালানি রাখতে হয়। কিন্ত আমরা সেই পরিমাণ তেল পাচ্ছি না।
মোটরসাইকেল আরোহী মো. রিয়াদ বলেন, তিনশ টাকার তৈল চেয়েছি তারা ১শত টাকার তেল দিয়েছে। আমি গ্রাম থেকে এসেছি যে পরিমাণ তেল নিতে কিন্ত যে পরিমাণ তেল দিয়েছে তা যেতেই শেষ হয়ে যাবে।
মোটরসাইকেল সাইকেল আরোহী সাইফুল আলম বলেন, আমি ঢাকায় যাবো দরকার ১ হাজার টাকার তেল। কিস্তু পাম্প থেকে আমাকে দিয়েছে ২শত টাকার তেল। এখন কিভাবে ঢাকায় যাবো সেই ভাবনায় আছি।
এবিষয়ে মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার আহমেদ জিসান বলেন, আমাদের দেশের জ্বালানি চাহিদা মতো
সরবরাহ ঠিক রাখতে। সরকার যেন যে কোন পরিস্থিতিতে দেশে ১/২ মাসের জন্য জ্বালানি তেল মজুত রাখেন। দেশে যেকোন সংকটকালে মজুতকৃত জ্বালানি তেল দিয়ে সংকট দূর করতে পারেন।
ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন মালিক আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, আমাদের পাম্পে যা চাহিদা রয়েছে সেই অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছি না। এই সপ্তাহে পেয়েছি কিন্তু সামনের সপ্তাহে কি পরিমাণ জ্বালানি পাবো সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। স্বল্প জ্বালানি দিয়েই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী না দিয়ে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে।
‘সোনালী আশের সোনার দেশ পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসন ও জেলা পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে মাগুরায় জাতীয় পাট দিবসে র্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালি শেষে মাগুরা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে হয় আলোচনা সভা।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল দীপঙ্কর ঘোষ, জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ মাহবুবুল ইসলাম, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক আব্দুল আউয়াল, পাট চাষি রাজু আহমেদ, মো. মিলন মিয়া ও মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে পাটের বিকল্প নেই। প্রতি বছর বাংলাদেশ বিদেশে পাট রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তাই পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ গড়তে পাটের চাষ বাড়াতে হবে। জেলার পাট চাষিদের প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন, উদ্বুদ্ধকরণ, বিনামূল্যে সার প্রদান করতে হবে। পাট ও পাট জাত পণ্যের বাজার বাড়াতে পাটের চাষ বাংলাদেশের বাড়াতে হবে।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল মান্নান (৩২) নামে এক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীর ওপর মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সারতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান সারতা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গ্রামের মোড়ে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের নবীর উদ্দিনের ছেলে মনিরুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে জানান, প্রায় দুই বছর আগে মনিরুজ্জামান তার দোকান থেকে সার ও কীটনাশক বাকি নেন। ওই সময় কীটনাশক বাবদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পাওনা হয়। পরে একাধিকবার টাকা চাইতে গেলে মনিরুজ্জামান বিভিন্নভাবে তালবাহানা করেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে মনিরুজ্জামান আবারও কীটনাশক বাকি চাইতে দোকানে আসেন। কিন্তু আগের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় আব্দুল মান্নান তাকে আর বাকি দিতে অস্বীকার করেন। এতে মনিরুজ্জামান দোকান থেকে সরে যান। পরে কিছুক্ষণ পর তিনি দলবল নিয়ে এসে আব্দুল মান্নানের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। এ সময় মারধরে গুরুতর আহত হয়ে আব্দুল মান্নান জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে দোকানের ক্যাশবাক্সে থাকা টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় মনিরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান বলেন, আব্দুল মান্নানের সঙ্গে কোনো মারামারি হয়নি। তবে টাকা পাওনা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে শতাধিক দরিদ্র অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবার পেল জাস ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে জাস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের শতাধিক পরিবারের মাঝে এ ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
জানা যায়, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের জাস ফাউন্ডেশন প্রতি বছর দরিদ্র অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, ঈদ উপহার, নতুন কাপড় ও মাংস বিতরণ করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার, চর পোগলদিঘা, পাশ্ববর্তী কাজিপুর উপজেলার পশ্চিম ছালাল, ফুরকুনির মোড়ে একাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপলক্ষে উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিরতণ করা হয়। এ সময় উপহার হিসেবে নতুন শাড়ি, থ্রী-পিস ও খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেল, লবন, আলু, পেয়াজ, চিনি বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাস ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানজিলা সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, সদস্য নুরুল ইসলাম, শাহাদত হোসেন মিলন, আবু তাহের, কামরুল হাসান প্রমুখ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মামুন বলেন, ‘মামলার ১নং আসামি ফজলুর রহমান হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আহত থাকায় তাকে সদর হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যান্য আসামিদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের ব্যাপারেও কাজ চলমান। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক থাকায় আরও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ইবি থানায় ফজলুর রহমানসহ ৪ জনের নামে এজহার দায়ের করেন আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। পরে বিকেলে ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ফজলুরকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- বিভাগটির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।
এদিকে গত বুধবার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টায় তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পুলিশ তার থেকে দুই পাতায় লিখিত স্টেটমেন্ট নেয়। লিখিত স্টেটমেন্টে ফজলুর রহমান হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে মামলা হওয়া পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তিনি আহত থাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়া রুনার নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান চিৎকার শুনে উদ্ধার করতে যাওয়া আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসাপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গতকাল ওই শিক্ষিকার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিকেলে তার স্বামী চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বরগুনার আমতলী পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ডোবা ও নালা দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। এসব ডোবার পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছির বংশবিস্তার ঘটছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাসিন্দারা মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত ডোবা-নালা পরিষ্কার করে মশা নিধনের দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে আমতলী পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পৌর শহরের বিভিন্ন ডোবা ও নালা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ডোবা-নালা পরিষ্কার বা সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে বছরের পর বছর ধরে এসব স্থানে পচা পানি ও আবর্জনা জমে পরিবেশের অবনতি ঘটছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চারপাশের লেক, এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের লেক, সবুজবাগ লেক, চাওড়া লেক, খোন্তাকাটা লেক, বকুলনেছা মহিলা কলেজের লেক এবং আমতলী সরকারি কলেজের লেকসহ বিভিন্ন স্থানের ডোবা-নালায় ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। অনেক জায়গায় ডোবার পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
মিঠাবাজার এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়া বলেন, ডোবা-নালা ময়লায় ভরে গেলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তা অপসারণে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এসব স্থানে বড় বড় মশা জন্ম নিচ্ছে। মশার তাড়নায় ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।
সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গোপাল মাঝি বলেন, ডোবার পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশা ও মাছির উপদ্রব বাড়ায় পরিবেশও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একই এলাকার বাসিন্দা অসীম মৃধা বলেন, ময়লায় প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে। রাতে এসব মশা বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, মশার যন্ত্রণায় ঘরে টেকা মুশকিল হয়ে গেছে। কিন্তু মশা নিধনে পৌরসভা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিত্যক্ত ডোবা-নালাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মশা নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌর শহরের ডোবা-নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নাটোরের সিংড়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের থেলকুড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম (কালিগঞ্জ ফাঁড়ি), এসআই বিপ্লব কুমার রায় (কালিগঞ্জ ফাঁড়ি) এবং এসআই নেজাম ইসলাম (সিংড়া থানা)। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল আশরাফুল ইসলামকে নন্দীগ্রাম উপজেলার একটি হাসপাতালে ও দুইজন পুলিশকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থেলকুড় গ্রামের সিয়াম আলী (১৯) সরিষা মারাই করার একটি গাড়ি নিয়ে রাস্তা থেকে মাঠে নামার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় গাড়িটি উল্টে গেলে সিয়াম গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নন্দীগ্রামের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশ জানায়, হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা মৃত্যুর কাগজপত্র থানায় জমা দিয়ে দাফন সম্পন্ন করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হন। পরে সিংড়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আ.ব.ম আব্দুন নূর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে একটি মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ থেলকুড় গ্রামে যায়। সেখানে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে। এ ঘটনার মূল উস্কানিদাতাকে শনাক্তের কাজ চলমান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ নারীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ‘কর্ণেলস্ ফাউন্ডেশন’। এরই ধারবাহিকতায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন হওয়ায় গ্রামীণ নারীদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সেলাই কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় এলাকার বেকার নারীরা ঘরে বসে না থেকে কাজের সুযোগ পাবেন, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখবে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার নারচী ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামে প্রতিষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন ‘কর্ণেল ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জগলুল আহসান। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জগলুল আহসান বলেন, গ্রামীণ জনপদের নারীরা আজ আর পিছিয়ে নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে। ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ বাঁশগাড়িসহ সারিয়াকান্দি-সোনাতলা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নারীদের দর্জি বিজ্ঞানে দক্ষ করে তুলবে এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, এই সেলাই কেন্দ্রে নারীরা শুধু শ্রমের বিনিময়ে অধিক ভাবে সাবলম্বী হতে পারবেন। কেননা, সেলাই কেন্দ্র থেকেই সেলাই মেশিন, কাপড় সহ যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হবে এবং নারীদের প্রস্তুতকৃত পোশাক বিভিন্ন শপিংমলে বিক্রয়মূল্যের অর্ধেক টাকা পোশাক প্রস্তুতকারীদের প্রদান করা হবে। এছাড়াও আধুনিক পোশাক তৈরীতে নারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে এই সেলাই কেন্দ্র থেকেই। অনুষ্ঠানে নারচী ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্রের প্রশিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি সেলাই কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষনার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় অধিকাংশ খাল কচুরিপানা ও বিভিন্ন আগাছায় ভরে গেছে। ফলে খালগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় এ পানি ব্যবহারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আগে এসব খালের পানি রান্না, গোসল, থালাবাসন ধোয়া এবং গবাদিপশুর পানীয় জলের কাজে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা খালসহ নলবুনিয়া খাল, শরণখোলার বড় খাল এবং বিভিন্ন ছোট খাল বর্তমানে আগাছা ও কচুরিপানায় প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন খালগুলো পরিষ্কার না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চালরায়েন্দা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুল জমাদ্দার বলেন, ‘একসময় খালগুলো পরিষ্কার ছিল, তখন এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন আগাছা ও কচুরিপানায় ভরে গেছে। নৌকা চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
আরেক বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, ‘খালের পানি এখন নষ্ট হয়ে গেছে। কচুরিপানার কারণে এই পানি ঘরের কাজেও ব্যবহার করা যায় না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের মাঝখানে চায়না দুয়ারী জাল ও বুচনা জাল পেতে মাছ ধরার কারণে কচুরিপানা ও আগাছা আটকে থাকে। এতে খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘নতুন কর্মরত হওয়ায় বিষয়টি জেনেছি। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আগামী ঈদের পরপর স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততায় খালগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত খালগুলো পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে শরণখোলার খালগুলো আবারও আগের মতো স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাবে।
কুড়িগ্রাম জেলার মূল ভূখণ্ড হতে ব্রহ্মপুত্র নদবিচ্ছিন্ন রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা। প্রতিদিন দুই উপজেলা থেকে মামলা মোকদ্দমা, স্কুল-কলেজ, অফিসিয়াল ও চিকিৎসাজনিত নানা কাজে মানুষজনকে জেলা সদর কুড়িগ্রামে যাতায়াত করতে হয়। জেলা সদরে যাতায়াতে দীর্ঘ নৌ-পথ পাড়ি দেওয়ার অধিকাংশ সময় কেটে যায় নৌকায়। একদিনে প্রয়োজনীয় কাজ সমাধান করে বাড়িতে ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। রাত যাপন করলে হোটেলে থাকা খাওয়াসহ খরচ হয় অতিরিক্ত টাকা। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য যা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই কষ্টের হাত থেকে রেহাই পেতে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো পাকিস্তান আমল থেকেই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ব্রিজ, সরকারি কলেজ, চৌকি-আদালত, রৌমারীকে মুক্তাঞ্চল ও জেলা ঘোষণা, রৌমারী পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণাসহ প্রায় ২১ দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন। অবশেষে জামালপুর থেকে শেরপুর, শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জ ও রৌমারী রেলপথ সম্প্রসারণে সম্ভাব্যতা যাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেলপথ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের শাখা-২ এর উপসচিব শেখ শামছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, জামালপুর থেকে শেরপুর হয়ে নাকুগাও স্থলবন্দর পর্যন্ত নতুন সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়। পরে গত ১ জানুয়ারি প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে শেরপুর-রৌমারী রেলওয়ে কানেকটিভিটির জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হিসেবে প্রকল্পটির নাম করণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিষয়টি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে আরএডিপিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়। আরএডিপি প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।
নির্দেশনাপত্রে স্বাক্ষর করেন রেণপথ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের শাখা-২ এর উপসচিব শেখ শামছুর রহমান। গত ১ জানুয়ারি এক স্মারকের একটি পত্র মারফত তিনি নতুন নির্দেশনা জারি করেন। উপসচিব শেখ শামছুর রহমান ওই স্মারকপত্রে স্বাক্ষর করেন ৪ জানুয়ারি-২০২৬। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শেরপুর জেলার ৩টি উপজেলা, জামালপুর জেলার ২টি উপজেলা ও কুড়িগ্রাম জেলার ২টি উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। রেলপথ প্রতিষ্ঠা হলে নাকুগাও স্থলবন্দর, বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর স্থল বন্দর ও রৌমারি স্থলবন্দর এবং রৌমারী-চিলমারী ফেরি সার্ভিন এর মাধ্যমে সোনাহাট স্থলবন্দরের সাথে সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে রৌমারী-চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদেও সেতু নির্মাণ হলে সরকার রেলখাত থেকে রাস্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়বে। উন্নত হবে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের দারিদ্র্যতম মঙ্গাপিড়িত বৃহত্তর কুড়িগ্রাম-রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবনের অর্থনীতির মানচিত্র।
রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি সাধারণ সম্পাদক শাহ আবদুল মোমেন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার শেরপুর, জামালপুর- রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভ্যবতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনের এ দাবি বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।