শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৭ ফাল্গুন ১৪৩২

সিলেটের বন্যা: লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। গতকাল কোম্পানিগঞ্জ সদর থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।

গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।

এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।

এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিসিকের ছুটি বাতিল

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ

সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যে স্বস্তি, দাম বাড়তি ছোলা-লেবু-বেগুনের

প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি
আপডেটেড ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:০৩
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

রমজান মাস সামনে রেখে ঝিনাইদহের নিত্যপণ্যের বাজারে চাল-ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলার দাম বেশ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ছোলাবুট, লেবু, বেগুন, পেঁয়াজ ও শসার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া জেলার অধিকাংশ বাজারে শাক-সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালেই রয়েছে। রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখতে সরকারের মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিন জেলা শহরের নতুন হাটখোলা বাজার ঘুরে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলা শহর ও বড় বাজারগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনের ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা, রসুন প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বেগুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে লাউ আকার ভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পিস, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, করলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজারে বেগুন কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে রমজান মাস শুরুর আগের দিনই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।

সবজি ছাড়াও রমজান মাসে খেজুর, চিনি, আখের গুড়, ছোলাবুট ও লেবুর দাম কিছুটা বেড়েছে। মান ভেদে খেুজরের দাম সাড়ে ৩০০ টাকা কেজিতেও পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া লাল চিনি কেজি প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সাদা চিনি কেজি প্রতি ১৪০ টাকা, দেশী ছোলা প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও আমদানিকৃত ছোলা প্রতি কেজি ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

নাহিদ হোসাইন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘রোজার আগে অন্যান্য বছর নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বেড়ে যেত, এবার সে রকম চিত্র দেখছি না। গত রমজানেও মানুষ বাজারে স্বস্তি পেয়েছে। আশা করব, নতুন সরকার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’

দিলারা পারভীন নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, ‘কাগজি লেবু, শসা, বেগুন ও করলার দাম বেশ বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এক হালি লেবুর দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে।’

আনারুল ইসলাম নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘রসুন, আদা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আলুর দাম নাগালেই রয়েছে। কাঁচা মালের দাম সব সময় ওঠানামা করে। বাজারে শাক-সবজির জোগানের ওপর দাম কমবেশি হয়।’

পাইকারি সবজি ও নিত্যপণ্য ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, ‘ছোলাবুট, ভোজ্যতেল, চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এখন বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই। এ জন্যই মূলত বাজারের দাম দর ঠিক আছে। রমজান মাস উপলক্ষে বেচাকেনাও বেড়েছে।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, ‘রমজান মাস সামনে রেখে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত এরই মধ্যে অভিযান শুরু করেছে। গত এক বছরে আমরা বাজার সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। সবজির বাজার, মুরগি ও মাংসের দোকান ও ইফতারসামগ্রী বিক্রয়ের দোকানগুলোতে অভিযান চলমান রয়েছে। রমজান মাসজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


চট্টগ্রামে এক সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ সুলতান গ্রেপ্তার, দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে দুটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরের বায়েজিদ লিংক রোডের আরেফিন নগর এলাকা থেকে এক সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইকরাম চট্টগ্রামের তালিকাভু্ক্ত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে ধরতে পুলিশকে ‘সহায়তাকারী’ বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে র‌্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ‘অস্ত্র কেনা-বেচার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইকরামকে আরেফিন নগর এলাকার বায়েজিদ লিঙ্ক রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

ইকরামের কাছে থেকে ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।

র‌্যাব কর্মকর্তা হাফিজুর বলেন, ইকরাম চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী ছিলেন। চট্টগ্রামের স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর তিনি পালিয়ে ভারত হয়ে দুবাই চলে যান। সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলার সঙ্গে সখ্যতা হয়, যিনি গত নভেম্বরে বায়েজিদ চালিতাতলী এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন।

ইকরাম বিদেশে পালিয়ে থাকা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের হয়েও কাজ করতেন বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা হাফিজুর।

র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইকরাম মধ্যপ্রাচ্যে পালিয়ে থেকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন ও মুরাদপুর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন। একসময় ‘রিচ কিডস’ নামে একটি ‘কিশোর গ্যাং’ পরিচালনা করতেন।

এদিকে ইকরাবের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক আবুল কামাল আজাদকে (৬২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইকরামের চাঁদার টাকা তার চালক তুলতেন বলে র‌্যাবের ভাষ্য।

গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা শপিং সিটি কমপ্লেক্স থেকে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় সাজ্জাদকে ধরতে পুলিশকে সহায়তা করে ইকরাম ও তার স্ত্রী রুমা আক্তার স্মৃতি।

এরপর ২০ মার্চ স্মৃতি নিরাপত্তা চেয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেছিলেন। যেখানে তিনি ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারে পুলিশকে সহায়তা করার কথা উল্লেখ করেন।

মামলায় স্মৃতি উল্লেখ করেছিলেন, ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না এখন ‘হত্যার হুমকি’ দিচ্ছেন। এছাড়া বড় সাজ্জাদ ভারতীয় একটি নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তিনি ‘ব্যবসা করতে পারবেন না’ বলে হুমকি দেন।

ওই মামলায় স্মৃতি ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, বড় সাজ্জাদ, হাবিব খান, রায়হান, হেলাল, হাসান, আরমান ওরফে ডবল হাজারি, ইমন, বোরহান, রাজু, মোহাম্মদ ও দিদারসহ ১১ জনকে আসামি করেন।


নওগাঁয় ৪ পাওয়ার টিলার উদ্ধার, আটক ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দায় ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় চারটি পাওয়ার টিলার উদ্ধার ও চোরাই কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার দাড়ীক্ষেত্র গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন (৪৫) ও জেলার মহাদেবপুর উপজেলার লালবাড়ি গ্রামের মৃত আবুল বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মিলন হোসেনের (৫০)।

জানা যায়- ইরিবোরো মৌসুমের শুরু থেকে মান্দার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর-পাওয়ার টিলার চুরির ঘটনা ঘটে। এর পরিপেক্ষিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদে গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চোর সন্দেহে ফারুক হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যে মহাদেবপুর থানার শালবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মিলন হোসেনকে আটক করা হয় এবং তার হেফাজতে থাকা চারটি পাওয়ার টিলার উদ্ধার করা হয়। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও কয়েকটি ট্রাক্টর চুরির কথা পুলিশের নিকট স্বীকার করে। এ সময় পাওয়ার টিলার আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি মিনি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

ট্রাক্টর হারানোর অভিযোগকারী দুজন বাদী রহিদুল ইসলাম এবং জয়নুল ইসলাম বিশ্বাস পুলিশের এই সাফল্যজনক অভিযানে অত্যন্ত আনন্দিত। পাওয়ার টিলারগুলো উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীরা। কৃষি নির্ভর মান্দা এলাকার কৃষি কাজে ব্যবহৃত চারটি পাওয়ার টিলার উদ্ধার এবং চোর চক্রের দুইজন সদস্য আটক হওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা মান্দা থানা পুলিশ তথা নওগাঁ জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। গতকাল বুধবার পুলিশ সুপার এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন।

নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় অপরাধ প্রতিরোধে এবং আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে জেলা পুলিশ সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে। তিনি অপরাধ প্রতিরোধে জনসাধারণকে তথ্য দিয়ে জেলা পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। আটকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


কক্সবাজারের টেকনাফে ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ৯৫ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফে বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ৯৫ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এদিন সকাল ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন দক্ষিণ জালিয়া পাড়া সংলগ্ন প্যারাবন এলাকায় এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালীন মাদক পাচারকারীরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ইয়াবার বিশাল চালানটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বিপরীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, মাদক পাচারের মতো অপরাধ দমনে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কোস্ট গার্ডের এ ধরনের কঠোর ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।


বাল্যবিবাহ ও শিশু শ্রম মুক্ত উপজেলা ঘোষণার লক্ষ্যে সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

বালুবাড়ি পল্লীশ্রী মিলনায়তনে দিনাজপুর এরিয়া প্রোগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর আয়োজনে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাল্যবিবাহ ও শিশু শ্রম মুক্ত দিনাজপুর উপজেলা ঘোষণা করার লক্ষ্যে দিনাজপুরের সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ দিনাজপুর এরিয়া কোঅর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার সেবাস্টিয়ান পিউরিফিকেশন এর সভাপতির বক্তব্যে বলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ, উন্নয়ন এবং অ্যাডভোকেসি সংস্থা। শিশু ও তার পরিবার এবং সমাজ থেকে দারিদ্র এবং অন্যায্যতা দূর করে শিশুদের জীনে পরিপূর্ণতা আনায়নের লক্ষ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বব্যাপী দরিদ্রতম ও সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্থ শিশু এবং সমাজের জন্য সেবা প্রদানে নিবেদিত একটি সংগঠন। তারই আলোকে ইতোমধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিভিন্ন পর্যায়ের জনগণকে বাল্যবিবাহ ও শিশু শ্রম মুক্ত দিনাজপুর উপজেলা ঘোষণা করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

আমরা বলছি না যে একদিনে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত দিনাজপুর উপজেলা হবে। আমরা সবাই মিলে এই ব্যাপারে সকলকে সচেতন হলে একদিন দিনাজপুর বাল্যবিবাহ ও শিশু শ্রম মুক্ত উপজেলা হবে। সঞ্চালকের দায়িক্ত পালন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের নর্দান বাংলাদেশ ক্লাস্টারের কো-অডিনেটর, ফিল্ড কমিউনিকেশন আলভী হোসাইন। মুক্ত আলোচনা করেন দৈনিক বাংলার দিনাজপুর প্রতিনিধি মো. মিজানুর রহমান দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল হুদা দুলাল, রতন সিং, খাদেমুল ইসলাম, মো. রিয়াজুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান আসাদ, রস্তম আলী মন্ডল, আব্দুর রাজ্জাক, শাহারিয়ার হিরু, সুলতান মাহামুদ, শাহিন হোসেন, রেজাউল করিম রঞ্জু। আয়োজকরা আরও জানায় বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত দিনাজপুর উপজেলা ঘোষণা করতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে এই ব্যাপারে সাংবাদিকদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

আসুন, সবাই মিলে আগামীতে দিনাজপুর সদর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করতে পারি।


সখীপুরে টাকা না পেয়ে নানিকে কুপিয়ে হত্যা, নাতি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে নানিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে নাতির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বেদেনা সুন্দরির মৃত্যুতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে অভিযুক্ত নাতি নয়ন চন্দ্র কোচকে (১৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়ন চন্দ্র কোচ তার নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বঁটি দিয়ে নানিকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন অভিযোগ করেছেন, অন্য নাতিদের তুলনায় কম স্নেহ পাওয়া এবং টাকা-পয়সা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নয়ন ছোটবেলা থেকেই মাঝে মধ্যে নানির বাড়িতে থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা, সে নেশায় জড়িত। নেশার টাকার জন্যই এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে সবাই মনে করছে।’

সখীপুর থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বেদেনা সুন্দরি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।’


কুলাউড়ায় মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২১ ফেব্রুয়ারী শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

সভায় ভাষা দিবসের শুরুতে রাত ১২ টা ০১ মিনিটে শহরস্থ শহীদ মিনারে পুস্পার্ঘ অর্পন, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন, বেলা সাড়ে ১১ টায় পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণীর কর্মসূচি নেয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আনিসুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিবাস চন্দ্র পাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা ডা,

জাকির হোসেন, কুলাউড়া থানার এসআই প্রদ্যুৎ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক রেদওয়ান খান, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনব্যাপী তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রী সাধারণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনব্যাপী তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৮টার পর থেকে যানজট শুরু হয় এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত যানজট আরো তীব্র হয়। পরে বিকাল ৩ টা থেকে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল শুরু করে।

খবর নিয়ে জানা যায়, এশিয়ান হাইওয়েতে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক, গাড়ি নষ্ট হওয়া এবং যানবাহনের ধীরগতিসহ একাধিক কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে বন্দরের মদনপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেনে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তীব্র যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এসময় পায়ে হেটে যাত্রী সাধারণকে পায়ে হেটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

নোয়াখালীর সোনাপুরগামী একুশে পরিবহনের যাত্রী আয়েশা আক্তার মনি ও আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাসে উঠে ২ ঘন্টা সময় লেগেছে ৩ কিলোমিটার অতিক্রম করতে।’

স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রী আবুল হোসেন বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে ৩ মিনিটের রাস্তা কাঁচপুর যেতে সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা। মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানজটে পড়ে।’

হানিফ পরিবহনের বাস চালক মনির বলেন, ‘সড়কে তুলনামূলক গাড়ির বেশি চাপ রয়েছে এবং মদনপুরের এশিয়ান হাইওয়েতে যানজট থাকায় এ ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।’

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার টিআই (ইনচার্জ) বিষ্ণু চন্দ্র বলেন, ‘যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, মদনপুর হয়ে যাওয়া এশিয়ান হাইওয়েতে সড়কের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ওই সড়ক দিয়ে ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করছে। এর কারণে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল পুলিশ ক্যাম্পের টিআই মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, এশিয়ান হাইওয়েতে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং ধীরগতি ও গাড়ি বিকল হওয়াসহ একাধিক কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা মহাসড়কে যানজট নিরসনে সবাই কাজ করছি।


টঙ্গীতে বিক্রমপুর আবাসিক হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক হোটেল থেকে রাসেল (৪১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেল চারটার দিকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকার হোটেল বিক্রমপুর (আবাসিক) থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত রাসেল কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার নায়কান্দি ভুঁইয়া পাড়া গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন বাবুর্চী।

হোটেল ম্যানেজার জাহিদ হোসেন কাজল বলেন, গতকাল রাত সাড়ে দশটার দিকে হোটেলে এসে ২য় তলার ২৪ নম্বর কক্ষে উঠেন মৃত রাসেল। পরে বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে হোটেলের পরিচ্ছন্নতা কর্মী রুম পরিস্কার করতে গেলে কোন সারা শব্দ না পেয়ে কতৃপক্ষকে খবর দেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ তার রুম থেকে কোন সাড়া না পেয়ে পুলিশের খবর দেয়। পরে পুলিশ রুমের দরজা ভেঙ্গে রাসেলকে মৃত অবস্থায় বিছানার উপর করে থাকতে দেখে।

টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ মৃতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।


রূপগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় যুবক গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় সোলাইমান (৪০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার তারাবো পৌরসভার বোচারবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সুলাইমান বোচারবাগ এলাকার মৃত আব্দুল সাত্তারের ছেলে।

রুপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সাবজেল হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে সোলাইমান। পরে এই ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সোলায়মানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওসি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত সুলাইমানকে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ৩ এ পাঠানো হয়েছে।


বড়াইগ্রামে শিক্ষা ও জনসেবা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শিক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে সরেজমিন তদারকি করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও এলাকা পরিদর্শন করা হয়।

কর্মসূচির শুরুতে জেলা প্রশাসক আহমেদপুর মোজাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয় এবং দিয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। একটি শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান নিশ্চিত করতে হবে। অবহেলা বা গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে যা যা প্রয়োজন, প্রশাসন তা নিশ্চিত করবে।

পরবর্তীতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় তিনি বলেন, মেধাবীদের স্বীকৃতি দেওয়া মানে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নৈতিক শিক্ষা সমানভাবে গুরুত্ব পেতে হবে।

এরপর বড়াইগ্রাম থানা পরিদর্শন করে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। সেবাপ্রার্থীরা যেন দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বড়াইগ্রাম পৌরসভা এবং মাঝগাও ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করা হয়। উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সবশেষে বড়াইগ্রাম উপশহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ। সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে জানান, উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।


দৌলতদিয়ায় মহাসড়কে পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর চাতাল, ভোগান্তিতে মানুষ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাত্তার মেম্বার পাড়ায় বালুর চাতালে পানিতে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে চলাচলের রাস্তাঘাট, এমনকি টয়লেট ও রান্নাঘর পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছে। এছাড়া মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ এসব বালুর চাতাল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তির দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব চাতাল তৈরি করে বালুর ব্যবসা করে আসছে। বালু আনলোডের ফলে বর্ষার শুরুতেই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বাইপাস সড়কসহ দৌলতদিয়ার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু ব্যবসা জমজমাট ব্যবসা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা মহাসড়কের পাশে বালুর চাতাল তৈরি করে অবৈধ বালুর ব্যবসা করে আসছে। ফলে ফেরিতে উঠা ও নামার যানবাহন চলাচল ব্যহত হচ্ছে। পদ্মা নদী থেকে বালুবাহী বাল্কহেডে ভর্তি করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মহাসড়কের পাশে এসব বালুর স্তূপ গড়ে উঠেছে। উক্ত চাতাল থেকে বালু নেওয়ার জন্য প্রতিদিন শত শত ড্রাম ট্রাক ব্যবহৃত হচ্ছে। ড্রাম ট্রাকের চাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ড্রেন লাইন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে ড্রেন দিয়ে নদীতে বের করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে লাইসেন্স বিহীন অপ্রাপ্ত চালক দিয়ে চালানো হচ্ছে ড্রামট্রাকগুলো।

তবে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র থেকে জানা যায়, এ সমস্ত বালুর চাতাল স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয় এগুলো কোন জমিই লিজ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের চাতাল হওয়ায় সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস পান না অনেকেই। দিনের পর দিন পানিবন্দি অবস্থায় থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে নাভিশ্বাসে।

শ্রমিক দলের সভাপতি ও চাতালের বালু ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “আমার চাতালে মাঝে মাঝে বালু রাখা হয়। সেখান থেকে পানি জমে না বা সেখান থেকে পানি ঐ সমস্ত বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং জগোদিশ সরকার প্রতিদিন ৫-৭টি বলগেট বালু নামায়। তার চাতালের পানিতেই এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কোন অবৈধ ব্যবসা চলতে দেয়া যাবেনা৷ ইতিমধ্যে আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি, আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আরিচা অঞ্চল সুব্রত রায় বলেন, নদীর আশেপাশে কোন অবস্থায় বালুর চাতাল করা যাবে না এবং আমরা কোন রকম অনুমতি দেইনি। গতবছর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল এবারও খুব শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলবো।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা কয়েকটি গাড়ি আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করেছি এবং তারা মুচলেকা দিয়েছে বলেছে খোলা ট্রাকে বালু পরিবহন করবেনা। এছাড়াও গাড়ি চলাচলের নিয়ম, লোড-আনলোডের বিষয়ে সতর্ক করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, আজকেও আমি দেখে আসছি সড়কের পাশে ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে ভেকুর সাহায্যে বালু লোড করছে। আমরা খুব দ্রুত তাদেরকে ডেকে বসবো এবং সতর্ক করবো, না শুনলো কঠোর অবস্থানে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


ব্যবসায়ীকে হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হেকমত আলী (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আরও একজনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন রূপগঞ্জের মোল্লাবাড়ি ইয়াকুব হোসাইনের ছেলে রফিকুল ইসলাম সবুজ (৩০)।

তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সে পলাতক ছিল। তার ভাই মাহফুজুর রহমানকে (২৬) ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সে উপস্থিত ছিল।

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ (পিপিএম) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, হেকমত আলী রূপগঞ্জের কালাদি এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে। তিনি ভুলতা নুর ম্যানশন মার্কেটে মোটর পার্টসের দোকান হাসান এন্টারপ্রাইজের মালিক ছিলেন। ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন হেকমত আলী।

পরে ১৪ এপ্রিল তার দোকানের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম সবুজ, তার ভাই মাহফুজুর রহমান, মামুন মিয়া ও বাবা ইয়াকুব মোল্লাকে আসামি করে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে মামলা করেন হেকমতের স্ত্রী রোকসানা বেগম।

আসামিদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম সবুজকে গ্রেপ্তারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। সবুজ জানায়, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বস্তাবন্দি লাশ ড্রামের ভেতরে ঢুকিয়ে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সেটি মাছের খামারে ফেলে দেওয়া হয়। তিন মাস পর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় আদালত সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।


banner close