রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩ ফাল্গুন ১৪৩২

সিলেটের বন্যা: লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। গতকাল কোম্পানিগঞ্জ সদর থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।

গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।

এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।

এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিসিকের ছুটি বাতিল

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ

সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে নিহতের চাচা জাকির হোসেন, নানা চারু মিয়া ও সৌরভ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জানান, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মান্নান মিয়ার ছেলে মো. রাহিম মিয়া (৩৫) পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৮ হাজার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে রাফসান, লোকমান ও ইয়াসিনসহ তাদের সহযোগীরা তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে বাড়ির অদূরে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি-ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সুলতানপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে।


যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে দেড় হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ জন আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দেড় হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে শম্ভুগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে আটক করেছে নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

উদ্ধারকৃত মাদক ইয়াবার মোট ওজন ১৫০ গ্রাম, যার আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ আড়াই হাজার টাকাও জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের দুজন নেত্রকোনার এবং আরেকজন ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা।

মাদক কারবারিরা হলেন- নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলার বরহাটি গ্রামের মৃত. জজ মিয়ার ছেলে মো. রুহল আমিন (৩৫) ও পূর্বধলা উপজেলার মানিকদীর গ্রামের মানিকদীর গ্রামের মৃত মাহতাব উদ্দিনের ছেলে মো. খোরশেদ আলম ওরফে আলম (৩২) এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানাধীন শ্যামগঞ্জ এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে অলিউল্লাহ (২৪)।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসেব তথ্য জানানো হয়েছে। গত শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ গোলচত্বর সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক-এর নেতৃত্বে একটি রেইডিং টিম শম্ভুগঞ্জ গোলচত্বরের তনুশ্রী হোমিও হলের পূর্ব পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় নেত্রকোনাগামী ‘রফরফ এন্টারপ্রাইজ’ নামক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিকালে বাসে থাকা তিন যাত্রীর হেফাজত থেকে আকাশি, সাদা ও কালো রংয়ের পলিথিনে মোড়ানো জিপারযুক্ত প্যাকেটে লুকানো অবস্থায় মোট ১ হাজার ৫ শত পিস কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন জানানো হয়েছে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।


প্রাইভেটকার-অটোভ্যানের সংঘর্ষে ২ জন নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রাইভেটকার ও অটোভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের উপজেলার জোকারচর গোহালিয়াবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে অটোভ্যান চালক মোহাম্মদ আমীর আলী (৪০) ও একই গ্রামের মান্নানের ছেলে শরীফ উদ্দিন (৪১)। তিনি অটোভ্যানের যাত্রী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী একটি প্রাইভেটকার জোকারচর এলাকায় পৌঁছালে মহাসড়ক পারাপারের সময় একটি অটোভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক ও ভ্যানে থাকা এক যাত্রী সড়কেই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

এরপর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক যাত্রী শরীফ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভ্যান চালক আমির আলীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত দুইজনের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


বেনাপোল পিকনিক ট্রাজেডি: ৯ শিশুশিক্ষার্থী হারানোর এক যুগ

২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে মুজিব নগরে যান। সেখান থেকে চৌগাছা হয়ে বেনাপোলে ফেরার পথে চৌগাছার ঝাউতলা কাঁদবিলা পুকুর পাড় নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় নয়জন এবং আহত হয় আরো ৪৭ জন শিশুশিক্ষার্থী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

২০১৪ সালের পিকনিক ট্রাজেডিতে নিহত নয় শিশুশিক্ষার্থীর স্মরণে বেনাপোল পৌরসভা বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিল। নির্মিত সেই স্মৃতিস্তম্ভে বুকে তীরবিদ্ধ অবস্থায় উড়ছে নয়টি কবুতরের প্রতীক। পাশে লেখা ‘আমার বর্ণমালা, তুমি ভালো থেকো’। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো। তবে এবার দিনটি উপলক্ষে কোনো আলোচনা সভা, শোক র‌্যালি বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন হয়নি। শুধু পৌরসভার পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর এ দিনে বেনাপোল পৌরসভা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক র‌্যালি, কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এবার কোনো আয়োজন না থাকায় নিহত শিশুদের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে বেদনা আরো গভীর হয়েছে।

বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘আগে প্রতিবছর পৌরসভা থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। স্কুল থেকেও মিলাদ ও আলোচনা সভা করা হতো। এবার নির্বাচন ও সরকারি ছুটির কারণে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। তাই আয়োজন হয়নি।’

সকাল ১০টার দিকে বেনাপোল পৌরসভার সচিব সাইফুল ইসলাম বিশ্বাসের নেতৃত্বে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোক র‌্যালি করে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পৌরসভার সচিব বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারো পৌরসভা দায়িত্ব পালন করেছে। অন্য সংগঠন বা স্কুল কর্তৃপক্ষ আয়োজন না করলে আমাদের বলার কিছু নেই।’

বেনাপোল নাগরিক কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমেদ স্বপন বলেন, ‘দিন দিন আমরা স্মৃতি ভুলে যাচ্ছি। আগে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিত। এবার প্রশাসন বা স্কুল কমিটির মনেই নেই দিনটির কথা।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে মুজিব নগরে যান। সেখান থেকে চৌগাছা হয়ে বেনাপোলে ফেরার পথে চৌগাছার ঝাউতলা কাঁদবিলা পুকুর পাড় নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় নয়জন এবং আহত হয় আরো ৪৭ জন শিশুশিক্ষার্থী।

ঘটনাস্থলে নিহতরা হলো; বেনাপোল পৌরসভার ছোটআঁচড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া (১০) ও তার বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জেবা আক্তার (৮), ছোটআঁচড়া গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা (১০), রফিকুল ইসলামের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুনা আক্তার মীম (৯), লোকমান হোসেনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শান্ত (৯), গাজিপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন (১০) ও নামাজ গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি (১১)।

১৩ দিন পর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোটআঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইকরামুল (১১)। সর্বশেষ দুর্ঘটনার ৩২ দিন পর ১৯ মার্চ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ানুর রহমান (১১)।


কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, অটোচালকসহ নিহত ২ আহত ৭

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৭ জন বাসযাত্রী। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন দাউদকান্দি উপজেলার বাহাদুরখোলা এলাকার অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন (৩৮) এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার সুরুজগঞ্জ বোয়ালিয়া এলাকার বাসযাত্রী মিজানুর রহমান (৪৯)।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের জিংলাতলী এলাকায় ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৬২০৩ নম্বরের একটি ইকোনো পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন বাসযাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


কুলাউড়ায় ‘নিঃশব্দের শব্দময়তা’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট লেখক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপনের কাব্যগ্রন্থ ‘নিঃশব্দ্যের শব্দময়তা’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সাহিত্যপ্রেমী, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম শকু।

কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রবীণ শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শকু বলেন, নিঃশব্দ্যের শব্দময়তা নামটি ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও গভীর। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর লেখাতেও আমরা এমন কঠিন ও গভীর শব্দের ব্যবহার দেখি। বইটির নামেও তেমন এক দার্শনিক আবেদন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন সত্য উচ্চারণে সাহসী। বিভিন্ন টেলিভিশন বিতর্কে তিনি যুক্তির দৃঢ়তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এমপি শকু আরও বলেন, কুলাউড়ার জনগণ গত ১২ তারিখে তার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা পালনে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বইয়ের লেখক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন তার বক্তব্যে দেশনায়ক তারেক রহমানকে উৎসর্গ করা গ্রন্থটির রচনাপ্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তফা মহসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডা. আবু বক্কর, মো. মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, জিয়া পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি ও বহির্বিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফোরাম কুলাউড়ার সভাপতি ড. সাইফুল আলম চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, অধ্যক্ষ ফরহাদ আহমদ, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন বাবলু, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিন্টু, প্রভাষক সিপার উদ্দিন, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এহসান চৌধুরী, টিবিএফ চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম শামীম, সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. হেমন্ত চন্দ্র পাল, প্রভাষক খালিক উদ্দিন, অপূর্ব শর্মা, খছরু চৌধুরী, ওয়াহিদ মুরাদ ও ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।


নওগাঁয় খাশির মাংস বলে কুকুরের মাংস বিক্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাটে কুকুর জবাই করে খাসির মাংস বলে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তোপের মুখে দ্রুত দোকান ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

জানা যায়, ধামইরহাট এর নেংড়াপীর–ইসবপুর সড়কের তেতুলতলী মোড়ে খাসির মাংস বিক্রি করতেন স্থানীয় কসাই এনতাজুল ও তার সহযোগী দুলু মৌলভী। তারা নিয়মিত বাড়ি থেকে মাংস এনে বাজারে বিক্রি করতেন। গতকাল রোববার সকালে এনতাজুলের বাড়িতে কুকুর ধরে জবাই করার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে বাজারে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা দ্রুত মাংস ফেলে দোকান থেকে পালিয়ে যায়। অল্প সময়েই শত শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।

জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত এনতাজুল ও দুলু মৌলভী পলাতক রয়েছেন।’

থানা পুলিশের ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘জবাইকৃত কুকুরের মাথা, চামড়া এবং মাংস জব্দ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’


সেলফি তুলতে গিয়ে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

রেললাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করার কয়েক মিনিটের মাথায় কুমিল্লার লালমাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন মহিউদ্দিন (২৮) নামে এক যুবক। আজ রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বাগমারা দুধ বাজার সংলগ্ন বাইপাস এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মহিউদ্দিন বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেঙ্গাহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দিন সকালে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বাগমারা বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি রেললাইনে গিয়ে নিজের একটি সেলফি তোলেন এবং ‘ইসলামি শান্তি’ নামক নিজের ফেসবুক আইডিতে সেটি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, শুভ সকাল’। দুর্ভাগ্যবশত, পোস্টটি করার কিছুক্ষণ পরই নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় তিনি লাইনের ওপরই ছিলেন। দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে আরও একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য জামায়াতে ইসলামি করি না। হেরে যাওয়ার পরও শিবির, আলহামদুলিল্লাহ।’ তাঁর আকস্মিক এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নিহতের স্বজনরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাকসাম স্টেশন ছেড়ে বাগমারার দিকে যাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ট্রেনের নিচেই কাটা পড়ে মহিউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অসতর্কভাবে রেললাইনে চলাচল ও সেলফি তোলার ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।


ধানমণ্ডি ৩২ থেকে ঢাবি শিক্ষকসহ আটক ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানমণ্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হলে তাকে আটক করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এ সময় কুমিল্লা থেকে আসা আরো এক নারীকেও আটক করা হয়। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে আজ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঢাবির এই অধ্যাপক। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।

পরে এদিন বিকেলে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যান আ ক ম জামাল উদ্দীন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দীন ওই এলাকায় গেলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে যান।


চরাঞ্চলে ফসল পরিবহনে প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ফসল উৎপাদনের উৎকৃষ্ট চরাঞ্চল চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্ণেশন এলাকা। কৃষি পণ্য বহনে এ অঞ্চলের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি।

উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্ণেশন এলাকা। এই চরটি কৃষি নির্ভর এলাকা। কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে বেশিরভাগ মানুষ। এ অঞ্চলকে ফসলের স্বর্গরাজ্য বললেও কম বলা হবে। দিগন্ত ফসলের মাঠ জুড়ে নানান রকমের ফসলের সমারোহ। যেদিকেই তাকানো যায় সেদিকেই শুধু ফসল আর ফসল। বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন রকমের ফসলের চাষ হয় চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্ণেশন এলাকায়। পিঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন চাষ প্রায় শেষের দিকে। এখন অবশ্য বেশ কিছু জমিতে পেঁয়াজ-রসুনের আবাদ রয়েছে। পেঁয়াজ-রসুন উঠে গেলেই শুরু হবে ইরি ধান চাষের ধুম পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষ হবে সেসব এলাকা জুড়ে। তবে কৃষি পন্য বহনে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হয় অনেক। এই চরাঞ্চলে রাস্তার বেহাল দশা। কৃষি পন্য বহনে এ অঞ্চলের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি। পন্য বহনে কৃষকের খরচ পরে যায় বেশি। ফলে কৃষকরা লাভবান হন কম। ভাঙা রাস্তার কারণে ক্ষেত থেকে তুলে তা বাজারজাত করতে প্রথমে ঘোড়ার গাড়ি এবং পরে অন্য যানবাহনে নিয়ে শহরে বিক্রি করতে হয়।

এ চরাঞ্চলের বেশ কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, সারাবছর কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে ভালো রাস্তা না থাকায় ফসল আনা-নেয়ায় খরচ পরে যায় বেশি। তারা দাবি করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন আমাদের এই চরের রাস্তাগুলো মেরামত করে দিলে আমরা চরবাসী উপকৃত হতাম।

এলাকাটি পদ্মা নদীর কোল ঘেষে গড়ে উঠায় বছরের প্রায় ৪ মাস বেশিরভাগ কৃষি জমি পানিতে থাকায় অনেকেই কৃষি কাজের পাশাপাশি মৎস্য শিকারে নিয়োজিত থাকে।

উজানচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ রাসেল শেখ বলেন, চরবাসীর চলাচল ও ফসল আনা-নেয়ার জন্য মজলিশপুর ব্রিজ করা হয়েছে। রাস্তার কাজ চলমান থাকায় চলাচল থাকায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। রাস্তার কাজ শেষ হলেই ভোগান্তি অনেকটা কমে যাবে।


হোসেনপুরে আসামি নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় কনস্টেবল নিহত, আহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার করে থানায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নজরুল ইসলাম (৫০) নামে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পদোরগাতি এলাকায় পুলিশের বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কনস্টেবল নজরুল ইসলামসহ ছয়জন আহত হন।

আশংকাজনক অবস্থায় কনস্টেবল নজরুল ইসলামকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মারা যান তিনি।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সিএনজি অটোরিকশায় থাকা কনস্টেবল নজরুল গুরুতর আহত হন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশার চালক, গ্রেপ্তার আসামি এবং আরো তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।


রেললাইনে সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার লালমাইতে রেললাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মহি উদ্দিন (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লালমাই উপজেলার বাগমারা দুধবাজার বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মহি উদ্দিন পাশ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেঙ্গাহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, অটোরিকশা নিয়ে বাগমারা বাজারে যান মহি উদ্দিন।

তিনি রেললাইনে দাঁড়িয়ে একটি সেলফি তোলেন এবং সেটি ‘ইসলামি শান্তি’ নামের নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, শুভ সকাল।’ এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকাগামী একটি ট্রেন চলে এলে সরে যাওয়ার আগেই তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল ট্রেন। সম্ভবত সেই ট্রেনে কাটা পড়ে বাগমারা বাজারে মহি উদ্দিন নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই নিহতের স্বজনরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে গেছেন।


রবিবার  “মহা শীব রাত্রী” সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ মন্দিরে সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু পুণ্যার্থীদের শীব স্নান 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

“মহা শীব রাত্রী” উপলক্ষে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শীব চতুর্দশী তিথিতে শীব স্নান করাবেন । দেশের তথা বিদেশ থেকেও প্রতি বছর এই শীব চতুর্দশী তিথিতে লক্ষ লক্ষ সনাতনী পুণ্যার্থীরা অংশ নিতে আসেন।

এশিয়া মহাদেশের অন্যতম সনাতনী সম্প্রদায়ের তীর্থ স্হান সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ মন্দির। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় বারশো ফুট উচু পাহাড়ের উপরে চন্দ্রনাথ মন্দির অবস্থিত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সনাতনী পুণ্যার্থীরা উপবাস থেকে পায়ে হেটে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা উচু রাস্তা বেয়ে বারোশ ফুট উপরে উঠে চন্দ্রনাথ মন্দির দর্শন, শীব স্নান ও পূজা দিয়ে আবার পুনরায় নীচে নেমে আসবে। এই উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এই বারও পসরা সাজিয়ে বিভিন্ন পন্যের মেলা বসেছে।

গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পন্য ব্যবসায়ীরা মেলা পসরা সাজিয়েছে। শীব দর্শন, স্নান ও পূজা তিন দিন কিন্তু শীব চতুর্দশীর এই মেলা পনেরো দিন ধরে চলবে, শেষ হবে আগামী দুল পুর্নিমায়। ব্যাস কুন্ডে পুণ্য স্নান করে পরিবারের পরলোকগতদের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ তর্পণ করছেন পুণ্যার্থীরা। সনাতনী পুরান মতে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে থেকে সীতাকুণ্ডে শীব চতুর্দশী অতিথিতে এই মেলা চলে আসছে। শীব চতুর্দশী তিথি ও মেলা উপলক্ষে স্রাইন কমিটি বিশেষ বিশেষ ব্যবস্হা গ্রহণ করেছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। সিসি ক্যমেরা দ্বারা মনিটরিং করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত দুই দিন আগে দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী কোন সহিংসতা হতে পারে ধারণা ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন গোষ্ঠীর মধ্যে। তাই এবার মেলায় লোক সমাগম একটু কম হয়েছে। অন্যান্যবার দশ থেকে বিশ লক্ষ লোক সমাগম হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত শনিবারের (১৪ ফেব্রুয়ারি) চেয়ে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চন্দ্রনাথ ধামের ব্যাসকুণ্ড, শ্রদ্ধাঙ্গন, ভৈরব মন্দির এলাকায় তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা বেড়েছে। ব্রাহ্মণরা ব্যাসকুণ্ডের শ্রাদ্ধ তর্পণ করছেন মতুয়া সম্প্রদায় ও জেলে সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানগুলো মোহন্ত আস্তান বাড়ির ভেতরে অনুষ্ঠান চলছে।

পুণ্যার্থীরা সীতাকুণ্ডের মঠ মন্দির পরিক্রমা করে স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির ও চন্দ্রনাথ মন্দিরের শিবের মাথায় জল ঢেলে স্নান করাচ্ছেন। তৃতীয় দিন অমাবস্যা তিথিতে মৃত পূর্বপুরুষের আত্মার সন্তুষ্টির জন্য শ্রাদ্ধ করবেন। মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তীর্থধাম এলাকায় পরিদর্শন করেছেন।

সীতাকুণ্ডের স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিরের পূজারী দীপক চক্রবর্তী জানান,শিব চতুর্দশী তিথি রোববার সন্ধ্যা ৬ টা ১৮ মিনিটে শুরু হয়ে থাকবে সোমবার সন্ধ্যা ৬ টা ২ মিনিট পর্যন্ত। এরপর চলবে পিতৃ পুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ-তর্পন। মেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী জানান, মেলায় পুণ্যার্থীর আগমন ঘটছে । শনিবার থেকে শুরু হওয়া শিব চতুর্দশী স্নান শেষ হবে সোমবার।

তিনি আশা করছেন তিন দিনের এ শিবচতুর্দশী মেলায় ১০ লক্ষ সনাতনী পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মেলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। সার্বিক মনিটরিং চলছে আসা করি নির্বিঘ্নে সমাগম সম্পূর্ণ করা যাবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এবারের মেলা নিরাপদ হবে এমন আশা করছেন তিনি।


banner close