পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।
সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।
এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।
এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।
সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ
সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সিসিকের ছুটি বাতিল
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ
সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।
মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।
আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।
আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।
শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।
এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া স্টোর তেল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—খাজানগর এলাকার আশরাফুল (২৮), সিএনজি চালক জাকারিয়া, আমেনা খাতুন ও কমেলা খাতুন। অপর একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরগামী সিএনজিটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক সরাসরি ধাক্কা দিলে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনাস্থলের পাশে থাকা দোকানদার রবিউল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে দেখি সিএনজিটি একেবারে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। যাত্রীদের কেউই নড়াচড়া করছিল না। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী আব্দুল হালিম বলেন, “এই বাইপাস সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল করে। এখানে গতিনিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো না হলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটবে।”
হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো: আবু ওবায়েদ বলেন, “দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নওগাঁ জেলা পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখার উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ১২৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন। হারানো ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইসিটি শাখার একটি বিশেষ দল বিভিন্ন থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত চালায়। প্রযুক্তিগত সহায়তায় মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত করে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যস্ততাসহ বিভিন্ন কারণে হারানো সকল মোবাইল পুলিশের পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তবে নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো সকল মোবাইল উদ্ধারের জন্য সর্বদাই তৎপর রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।”
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাতির ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের নির্দেশে তাঁর ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও বিএনপি নেতাকর্মীরা দুই ডাকাতকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) রাতে মরদাসাদি গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত দুজন হলেন - মোহাম্মদ জাকারিয়া (৬০) ও মো. সোলায়মান (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদ ইউনিয়নের খিরদাসাদি গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রব-এর বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। প্রকাশ্যে দিবালোকে এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদকে অবহিত করে জানান, ডাকাতদের কয়েকজনকে তাঁরা চিনতে পেরেছেন। এরপর সাংসদের নির্দেশে তাঁর ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া, থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন রাতে ডাকাত কবলিত মরদাসাদি গ্রামে অভিযান চালান। ওই রাতে চালানো অভিযানে স্থানীয়রা দুই ডাকাতকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার জানান, ডাকাতির ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং তাঁদের সহযোগীরা কারা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি দেশের স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকলে গণতন্ত্র চলতে পারে না। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। ওয়েজ বোর্ডকে যত দ্রুত সম্ভব সময়োপযোগী করা হবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও জানান, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেকারত্ব দূরীকরণে হাত দিয়েছি। পরিকল্পিতভাবে কর্মসংস্থানের ম্যাপিং করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে।
সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
রাত ১২টা ১মিনিটে প্রথম প্রহরে উপজেলা প্রশাসন চত্বরে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়।
দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এরপর শ্রদ্ধা জানান, বোরহানউদ্দিন থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুক্তিযোদ্ধা , জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বোরহানউদ্দিন প্রেসক্লাব, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতাষ্ঠান সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো।
এ সময় তারা ১মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় তাঁদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। এরপর উপজেলা প্রশাসন জামে মসজিদের ইমাম ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের অমর লগ্নে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী। আজ শনিবার সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বর্তমানে প্রচলিত ‘মব কালচার’ বা গণ-উন্মাদনার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গড়ার পথে মব কালচার অন্যতম প্রধান বাধা। যারা এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে এই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী মনে করেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব অবস্থান থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
বক্তব্য চলাকালে মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী দেশের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এখন সবার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তবে সেই অপকর্মের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে ঊর্ধ্বে না রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখার প্রধান শর্ত।
সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ফলাফল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার ফলে তা ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের বিষয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অন্যদিকে, যেসব ক্ষেত্রে ‘না’ ভোট এসেছে, সেখানে নিয়ম অনুযায়ী সংসদে আলোচনা হবে এবং নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আইনবিদদের সঠিক ব্যাখ্যার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সাধারণ জনগণকে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে জানার ও বোঝার অনুরোধ করেন।
সবশেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও একটি ঐক্যের ডাক দেন। তিনি বলেন, ভিন্ন মতপথ থাকাটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, তবে সব ইস্যুতে কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশকে স্থিতিশীল রাখা এবং সরকারের গঠনমূলক কাজে সহায়তা করা সকল রাজনৈতিক শক্তির নৈতিক দায়িত্ব। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর ও পৌর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ দল ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়ার শপথ নেওয়ার মাধ্যমেই তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে নজিরবিহীন গতি সঞ্চার করার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন অংশীজন ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বন্দরের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধান করা গেলে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যার সরাসরি সুফল পাবে দেশের সাধারণ ভোক্তা সমাজ।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, কাস্টমস থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক পর্যন্ত প্রতিটি স্টেকহোল্ডারের সমস্যাগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বন্দরের অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হয়েছে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজন এমন বিষয়গুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের কথা মাথায় রেখে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো দ্রুততম সময়ে খালাস করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রীর মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে বাজারে কোনো পণ্যেরই বাড়তি দাম থাকার যৌক্তিকতা নেই।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সহজীকরণের পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার নিয়েও এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে শেয়ার বাজারের ওপর সাধারণ মানুষ যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শেয়ার বাজার এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সঙ্গে সরকার আপস করবে না। তিনি জানান, পুঁজিবাজারে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে এই খাতে এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
অর্থমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেয়ার বাজারে এই শৃঙ্খলা ফিরে আসলে কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন না, বরং এটি দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে বড় ধরনের পুঁজির জোগান দেবে। এর ফলে একদিকে যেমন কলকারখানার উৎপাদন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখা এই সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন। মেহদীবাগের এই বৈঠকে বন্দর ও কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা অর্থমন্ত্রীর এই ত্বরিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোকসজ্জা করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শোকের এই দিনে শহীদ মিনারকে উৎসবের আমেজে রঙিন আলোয় সাজানো শহীদদের আত্মদানকে অবজ্ঞা করার শামিল বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে গত রাত থেকেই ফেসবুকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
অমর একুশের প্রথম প্রহরে বাউফলের পাবলিক মাঠ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে সবার নজর কাড়ে শহীদ মিনারের চারপাশের চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা ও ঝাড়বাতি। সাধারণত ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি শোকাবহ দিন হিসেবে পালিত হলেও, বাউফল প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী সজ্জাকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।
স্থানীয় সাংবাদিক শহিদুল হক ওরফে এমরান হাসান সোহেল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন যে, ১৯৫২ সালের এই দিনে মায়ের ভাষার জন্য বাংলার বীর সন্তানরা রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। জাতি যখন তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগে শোকাভিভূত, তখন শহীদ মিনারকে ঝাড়বাতি দিয়ে রঙিন করে তোলা শহীদদের প্রতি এক ধরনের ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন যে, শোকের দিনে এমন আলোকসজ্জা তিনি তাঁর জীবনে কখনো দেখেননি এবং সেখানে উপস্থিত থেকেও স্থানীয় সংসদ সদস্য এর কোনো প্রতিবাদ না করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
বাউফল উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফিরোজও এই আলোকসজ্জা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাজধানীর মূল বেদিতে যেখানে কোনো আলোকসজ্জা নেই এবং ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখা হয়েছে, সেখানে বাউফলে এমন রঙিন লাইটিংয়ের যৌক্তিকতা কোথায়? তাঁর এই স্ট্যাটাসের নিচে অসংখ্য নেটিজেন মন্তব্য করে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অপরিকল্পিত ও অমর্যাদাকর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সমালোচনার মুখে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ তাঁর দপ্তরের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান যে, আলোকসজ্জা করার উদ্দেশ্য কোনো উৎসব পালন নয়, বরং রাতের অন্ধকারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় দৃশ্যমানতা বাড়ানো বা আলো স্বল্পতা দূর করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, এই লাইটিংয়ে কেবল জাতীয় পতাকার লাল ও সবুজ রং ব্যবহার করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় আলপনা আঁকা হলে যদি দোষ না হয়, তবে জাতীয় পতাকার রঙে আলোকায়ন কোনোভাবেই বিতর্কিত হতে পারে না। তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার পরও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ কাটেনি। অনেকের মতে, আলোকসজ্জার পরিবর্তে কেবল প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা রাখা যেত, যা দিবসের মূল ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করতে সহায়ক হতো। সব মিলিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে এই আলোকসজ্জার বিষয়টি বাউফলের জনমনে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের তীব্র বাধা ও হট্টগোলের কারণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অভিযোগ উঠেছে, উত্তেজিত নেতাকর্মীরা এসময় রুমিন ফারহানার হাত থেকে পুষ্পস্তবক কেড়ে নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে রাত পৌনে ১২টার দিকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি যখন বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে উত্তেজিত বিএনপি কর্মীরা রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি টেনেহিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। তবে উত্তেজনার মুখে শেষ পর্যন্ত আর শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব হয়নি রুমিন ফারহানার পক্ষে। পরে নিজের অনুসারীদের পাহারায় তিনি দ্রুত শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। নিজের নির্বাচনী এলাকায় নিজ দলেরই একটি অংশের কাছ থেকে এমন আচরণের শিকার হওয়ায় রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাত ১২টা ১ মিনিটে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার শ্রদ্ধা নিবেদনকালে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে সরাইল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
যশোরের শার্শায় আল আমিন হোসেন নামে এক পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন হোসেন একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শার্শা থানার ওসি শাহ-আলম বলেন, হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মিলন রহমান (১৬) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বুড়ইল গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন একই গ্রামের দিলবরের ছেলে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে মিলন স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় শেষে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ৫ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে ১০ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত এসে তাকে ছরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা মিলনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, কী ঘটনায় মিলনকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনই বলতে পারছি না। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার উথলী ফার্মগেটের কাছে রেললাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে ছিটকে পড়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উথলী ফার্মগেট অতিক্রম করার সময় লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে দূরে ছিটকে পড়ে।
ওই সময় দায়িত্বরত গেইটম্যান অচিন্ত্য সাহা জানান, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। তারা দ্রুতই এসে মেরামত করবে।
খবর পেয়ে মোবারকগঞ্জ প্রকৌশলী বিভাগ থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি দল দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় ঘটনাস্থলে এসে রেললাইনের মেরামত কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় গেইটম্যান মনিস কুমার শর্মা বলেন, সকাল পৌনে ১০ টার সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন অতিক্রম করার পর রেল লাইনের কিছু অংশ ভেঙে দূরে চলে যায়। ট্রেন লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ইজিবাইকের ধাক্কায় তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মুবিন (৯) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের আয়েশার মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই শিশু কালাদহ গ্রামের বড়িল পাড়া এলাকার হায়দার আলীর ছেলে এবং স্থানীয় ক্বওমী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।
প্রতিবেশী শিমুল সরকার জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাড়ির পাশেই কেশরগঞ্জ টু পাটিরা সড়কে বাই সাইকেল চালানো শিখছিলেন শিশু মুবিন। হঠাৎ করে কেশরগঞ্জগামী একটি ইজিবাইকের সাথে দুর্ঘটনা শিকার হয়। এ সময় শিশুটির মাথার ওপর দিয়ে ইজিবাইকের চাকা উঠে পড়লে শিশুটি মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় (ইউডি) অপমৃত্যু থানায় মামলা হয়েছে।