শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

সিলেটের বন্যা: লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। গতকাল কোম্পানিগঞ্জ সদর থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।

গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।

এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।

এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিসিকের ছুটি বাতিল

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ

সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


সিংগাইরে বৃদ্ধার মানবেতর জীবন, মীমাংসার আশ্বাসে ঘর ছাড়া পরিবার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামে ভিটেবাড়ি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জরিনা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ। বসতঘর ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে তিনি ও তার মেয়ে রত্না আক্তার রুমা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আঠালিয়া মৌজার আরএস ৯২৩, ৯২৪ ও ৯২৯ দাগের ৬৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জরিনা বেগমের দাবি, তার নানা কোনো ছেলে সন্তান রেখে যাননি। ফলে তার মা ও দুই খালা ওই সম্পত্তির মালিক। মায়ের ওয়ারিশ সূত্রে তারা ২২ বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

পরিবারটির অভিযোগ, খালার ওয়ারিশান হিসেবে তার ছেলে জোয়ার্দার খাঁ সম্পত্তির একটি অংশ নোয়াখালীর ইছাক নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। পরে ওই জমি স্থানীয় আঠালিয়া গ্রামের মৃত জব্বারের ছেলে প্রবাসী মিলনের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকেই বৃদ্ধ জরিনা বেগমের পরিবারকে উচ্ছেদের নানা চেষ্টা করে মিলন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মিলনের পক্ষ নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় মেম্বারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল বৃদ্ধর বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ এপ্রিল জরিনা বেগমের ভিটেবাড়িতে ঢোকে তারা ঘর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে অভিযুক্ত মিলন ঘরবাড়ি ভাঙচুরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘জরিনা বেগমের ওই জায়গায় কোনো বৈধ স্বত্ব নেই। মানবিক কারণে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পাশেই ৫ শতাংশ জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছি ।’

এদিকে বৃদ্ধর মেয়ে রত্না আক্তার রুমা বলেন, ‘মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে আমাদের ভিটেবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হয়নি। মিলন ফাঁকি দিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার পর আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। বর্তমানে একটি ছোট দোকান ঘরে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের কথা হয়েছে বলে শুনেছি।’


গজারিয়ায় হোসেন্দী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কৃষি ও মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২.১০ কি.মি দীর্ঘ হোসেন্দী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। ইশতেহার অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হোসেন্দী ইউনিয়নের কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। পর্যায়ক্রমে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে জানান, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৯ লাখ ৭৫ হাজার ৯৫৪ টাকা। খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধির ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মৌসুমী মাহবুব, জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. হামিদা মুস্তফা এবং গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আলী স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না শিক্ষার্থীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

বিদ্যালয়ে প্রবেশের তিনটি রাস্তাই বর্তমানে চরম নাজেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তাগুলো অত্যন্ত সরু ও চিকন হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকায় প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তাগুলোর বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায় মারাত্মক কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই পথগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের প্রতিদিন এই ভাঙা ও সরু রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠাতে তারা উদ্বিগ্ন থাকেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানকে স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, রাস্তার এই করুণ অবস্থার কারণে প্রতিদিন সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ উপজেলার ১নং চিলাহাটি ইউনিয়ন সাবেক ছিটমহল এলাকায় চিলাহাটি প্রামাণিক পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ২০১৫ খ্রি., সরকারিকরণ হয় ১৪ই জানুয়ারি ২০২০।

চিলাহাটি প্রামাণিক পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাছানাত জামান প্রামাণিক তিনি জানান, বিদ্যালয়টি পঞ্চগড় জেলার সীমান্তবর্তী, নীলফামারী জেলার ডোমার চিলাহাটির পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেক ছাত্র-ছাত্রী এখানে ভর্তি হয়েছে কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না। এবার আমাদের ভর্তির কার্যক্রম অনলাইনে হওয়ায় পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার অনেক ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছিল কিন্তু আবাসন ব্যবস্থা প্রত্যেকটা শ্রেণিকক্ষ না থাকায় তারা মিচুয়াল করে, বিভিন্নভাবে এখান থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, অবহেলিত এলাকা হিসেবে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন আবাসন ব্যবস্থা বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তাগুলো মেরামত ব্যবস্থা করলে শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে পারব।


তাহেরীর বিতর্কিত স্ট্যাটাসের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সাংবাদিক সমাজকে নিয়ে আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা। গত বুধবার (৬ মে) রাতে তাহেরীর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘হবিগঞ্জ-৪, মাধবপুর-চুনারুঘাটের সাংবাদিক ভাইয়েরা কী রাজনৈতিক আধিপত্যবাদীদের রোষানলে পরাধীন?’ এ ছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রকৃত সাংবাদিক ভাইদের কলমের কালি অর্থের চেয়েও দামি এবং সালামের পর কালাম হবে।’

এমন বক্তব্যকে সাংবাদিক সমাজের প্রতি অসম্মানজনক ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

মাধবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা। মাধবপুর-চুনারুঘাটের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে সাহসিকতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ বা আধিপত্যের কাছে সাংবাদিক সমাজ মাথানত করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমরা ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করার অনুরোধ করছি।’

মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিয়ে এমন প্রশ্ন তোলার আগে বাস্তবতা যাচাই করা উচিত ছিল। স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে জনগণের পক্ষে কাজ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য সাংবাদিক সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করার শামিল। আমরা এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

মাধবপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কাদের বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের সম্মানহানি হয়—এমন বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। সাংবাদিকদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে তাদের ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন ছিল। আমরা তার এমন মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি এবং এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।’

চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘চুনারুঘাট ও মাধবপুরের সাংবাদিকরা সবসময় জনস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিক সমাজকে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করা দুঃখজনক। গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হলেও অসম্মানজনক মন্তব্য কাম্য নয়। আমরা এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তাহেরীর ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অনেকেই স্ট্যাটাসটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


ভোলার দৌলতখানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ভোলার দৌলতখান থানাধীন চর মদনপুর-সংলগ্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস ভোলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মো. লোকমান মেম্বারের বাড়ি তল্লাশি করে ১টি দেশীয় একনলা বন্দুক ও ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়। এ সময় কোষ্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’

উল্লেখ্য, উক্ত আসামিকে গত ২৫ এপ্রিল ২০২৫ কোস্ট গার্ড কর্তৃক অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে মর্মে জানা যায়।

জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের অবহেলা, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক ভোগান্তির চিত্র পেছনে ফেলে নতুন রূপে এগিয়ে যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র এক বছর দুই মাসে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে পৌর এলাকার দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটিয়েছেন প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম। ফলে শহরের অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, বিনোদন ও নাগরিক সেবায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এখন উন্নয়নের ছোঁয়া স্পষ্ট। বিশেষ করে শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠটি পেয়েছে আধুনিক রূপ। মাঠের চারপাশে বসার সুব্যবস্থা, সৌন্দর্যবর্ধনে গাছপালা রোপণ এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যায়ামগার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকেলে সেখানে শতাধিক মানুষ হাঁটা ও শরীরচর্চা করছেন। মাঠে মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ করায় পরিবেশও ফিরে পেয়েছে স্বাভাবিকতা। পাশাপাশি সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক শৌচাগার।

শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় আনা হয়েছে পরিবর্তন। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে অলিগলিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এ ছাড়া মশার উপদ্রব কমাতে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে মশকনিধন কার্যক্রম।

শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পৌর শিশু পার্ক, যা স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও জেলায় গড়ে ওঠেনি। একইসঙ্গে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে টেরাকোটায় সাজানো দৃষ্টিনন্দন উন্মুক্ত মঞ্চ, যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক কসাইখানাও।

পৌরসভার অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলাবিশিষ্ট আধুনিক শপিংমল নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। পৌরভবনের পাশে নির্মিতব্য এ শপিংমলে থাকবে লিফট, শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

শহরের আনন্দ বাবুর পুল এলাকার বাসিন্দা সিজানুর রহমান বলেন, ‘মাত্র এক বছরেই অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ইচ্ছা থাকলে যে পরিবর্তন সম্ভব, সেটি এখন চোখে পড়ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আইনুল হক বলেন, ‘আগে পৌরসভার নানা সমস্যা ছিল। এখন ধীরে ধীরে সেগুলোর সমাধান হচ্ছে। শহরটা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বাসযোগ্য হয়েছে।’

রাহাত হোসেন বলেন, ‘বড় মাঠের উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। এখন পরিবার নিয়ে সেখানে সময় কাটানো যায়, যা আগে কল্পনাও করা যেত না।’

পৌর প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সুযোগ পেলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। একটি মানসম্মত স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে না হয়। এ ছাড়া শহর সম্প্রসারণ এবং চৌরঙ্গী মোড় থেকে গাছবাড়ি পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নীলফামারীর সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘নীলফামারীর উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতেও বড় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

নাগরিকদের প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে নীলফামারী পৌরসভা উত্তরাঞ্চলের একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহরে পরিণত হবে।


উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিনের অবহেলা, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক ভোগান্তির চিত্র পেছনে ফেলে নতুন রূপে এগিয়ে যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র এক বছর দুই মাসে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে পৌর এলাকার দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটিয়েছেন প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম। ফলে শহরের অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, বিনোদন ও নাগরিক সেবায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এখন উন্নয়নের ছোঁয়া স্পষ্ট। বিশেষ করে শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠটি পেয়েছে আধুনিক রূপ। মাঠের চারপাশে বসার সুব্যবস্থা, সৌন্দর্যবর্ধনে গাছপালা রোপণ এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যায়ামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকেলে সেখানে শতাধিক মানুষ হাঁটা ও শরীরচর্চা করছেন। মাঠে মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ করায় পরিবেশও ফিরে পেয়েছে স্বাভাবিকতা। পাশাপাশি সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক শৌচাগার।

শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় আনা হয়েছে পরিবর্তন। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে অলিগলিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এছাড়া মশার উপদ্রব কমাতে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে মশকনিধন কার্যক্রম।

শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পৌর শিশু পার্ক, যা স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও জেলায় গড়ে ওঠেনি। একইসঙ্গে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে টেরাকোটায় সাজানো দৃষ্টিনন্দন উন্মুক্ত মঞ্চ, যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক কসাইখানাও।

পৌরসভার অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক শপিংমল নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। পৌরভবনের পাশে নির্মিতব্য এ শপিংমলে থাকবে লিফট, শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

শহরের আনন্দ বাবুর পুল এলাকার বাসিন্দা সিজানুর রহমান বলেন, “মাত্র এক বছরেই অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ইচ্ছা থাকলে যে পরিবর্তন সম্ভব, সেটি এখন চোখে পড়ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আইনুল হক বলেন, “আগে পৌরসভার নানা সমস্যা ছিল। এখন ধীরে ধীরে সেগুলোর সমাধান হচ্ছে। শহরটা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বাসযোগ্য হয়েছে।”

রাহাত হোসেন বলেন, “বড় মাঠের উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। এখন পরিবার নিয়ে সেখানে সময় কাটানো যায়, যা আগে কল্পনাও করা যেত না।”

পৌর প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সুযোগ পেলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। একটি মানসম্মত স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে না হয়। এছাড়া শহর সম্প্রসারণ এবং চৌরঙ্গী মোড় থেকে গাছবাড়ি পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নীলফামারীর সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “নীলফামারীর উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতেও বড় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

নাগরিকদের প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে নীলফামারী পৌরসভা উত্তরাঞ্চলের একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহরে পরিণত হবে।


৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অপরাধী চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ২৩:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট’ নামের একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের বিরুদ্ধে জনসাধারণের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।

সিআইডির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মো. ওবায়দুল্লাহকে (৩৩) সিআইডি-র ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিটের একটি দল ঢাকার সবুজবাগ থানার বাসাবো এলাকা থেকে আটক করে।

তদন্তকারীদের মতে, এই প্রতারক চক্রটি উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রলুব্ধ করত এবং দাবি করত যে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে তিন হাজার টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে এবং ৩৩ মাসের মধ্যে তা দ্বিগুণ হবে।

ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত বড় অংকের বিনিয়োগ করতে এবং প্লট কেনার জন্যও চাপ দেওয়া হতো।

সিআইডি সূত্র জানিয়েছে যে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, রিসিপ্ট এবং সার্ভার ডেটা থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, হাজার হাজার ভুক্তভোগী এই প্রতারণামূলক প্রকল্পে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তি একাই ১৪টি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ২.৫ কোটি টাকার লেনদেন পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।

বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পর প্রতারকরা তাদের অফিস বন্ধ করে দেয় এবং আত্মগোপনে চলে যায়। গোয়েন্দা ভিত্তিক ট্র্যাকিং এবং টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে যে-কোনো বিনিয়োগ করার আগে সতর্ক থাকতে এবং পরিচয়পত্র যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।


অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

চুক্তিবন্ধ বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির রুটি। নোংরা পরিবেশে তৈরি এসব প্যাকেটজাত খাদ্য খাওয়ার ফলে শিশুদের শরীরে পুষ্টি জোগানের পরিবর্তে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাপ্তাহিক রুটিনে পচা ডিম ও কৃত্রিমভাবে পাকানো কলা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এসব চিত্র নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে ও শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। এই সংস্থাটি কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ হাজার ৩৩৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি (মিড ডে মিল) প্রকল্পের খাদ্য সরবরাহ করে আসছে। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী সপ্তাহে ৬ দিন রুটিন মোতাবেক রুটি, কলা, ডিম, দুধ সরবরাহ করে থাকে।

গত ২৮ এপ্রিল ১ নম্বর উত্তর চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরঞ্জাবাড়ি বটতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ওই বিদ্যালয় দুটিতে চুক্তিবদ্ধ এনজিওর একজন কর্মী ছোট ছোট চিকন (চাম্পা) কলা নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে দাড়িয়ে আছেন। এ সময় দেখা যায় কলাগুলোর মধ্যে অনেক কলা থেথলে গিয়ে কালো হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে কলাগুলো কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে। এ সময় ওই কর্মীকে কলার সাইজ এত ছোট কেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘কলা প্রতি বরাদ্দ ৫ টাকা তাই এর থেকে বড় কলা দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ সরকারিভাবে প্রতি পিস কলার বরাদ্দ ১০ টাকা ধরা রয়েছে।’

গত ২৯ এপ্রিল চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চড়কবন প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুড়া ইউনাইটেড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা কোনো কোনো দিন পুরো খাবার পাই না। আমাদের রুটির প্যাকেট ছিড়ে একটি করে রুটি, দুধের প্যাকেট কেটে এককাপ করে দুধ ও ডিম কেটে অর্ধেক করে দেয়। চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থী আশা মনি, রাজিয়া আক্তার বলে, ‘রুটির প্যাকেট একটি রুটি খেয়ে দেখি রুটিটি শক্ত ও টক তাই অন্যটি আর খেতে পারিনি।’

মাগুড়া ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনন্ত কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের বরাদ্দ সংকট তাই একজনের বরাদ্দ দুজনকে দিয়ে দেই।’ এটা করার কোনো নিয়ম আছে কি না প্রশ্ন করলে তিনি তার কোনো জবাব দেননি।

চাঁদখানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিছুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেয়ে একটি প্যাকেট খুলে দেখি রুটিগুলো শক্ত ও টক হয়ে গেছে তাই শিক্ষার্থীরা খেতে অনিহা প্রকাশ করেছে।’

পুষনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনোয়ার হোসেন ও সালমা বেগম বলেন, ‘পুষনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয়। কয়েকদিন আগে ওই স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম বিতরণ করা হলে আমরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করি। বাচ্চারা এসব খাবার খেলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই বিষয়টির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা বেগম ঘটনার বিষয় স্বীকার করে বলেন, ‘পচা ডিম বিতরণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

এ সময় প্যাকেটের গায়ে দেখা যায়, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে তৈরিকরা রুটিগুলো নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের তৃপ্তি বেকারি থেকে উৎপাদন করা হয়েছে। ৩০ এপ্রিল দুপুরে ওই বেকারির সামনে গিয়ে দেখা যায়, বেকারিটির সামনে মশামাছি ভ্যান ভ্যান করছে। একদম গেট-সংলগ্ন স্থানে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে শিশুদের জন্য তৈরিকৃত রুটিগুলো রাখা হয়েছে। এ সময় উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাছে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকদের পরিহিত পোশাকগুলো ময়লা তারা ভালো করে মুখ হাত পরিষ্কার না করে কারখানায় কাজ করছে। কারখানাটির টয়লেটগুলো অপরিষ্কার ও নোংরা।

কারখানাটির মালিক রফিকুল ইসলামের সাথে এসব বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, ‘ভাই আমার কাগজপত্র সব ঠিক আছে তবে আমার সাথে ওই সংস্থা কোনো চুক্তি করেনি। তারা আমার কাগজপত্র নিয়ে অন্য কারও সাথে চুক্তি করেছে।’ কিন্তু প্যাকেটের গায়েতো আপনার বেকারির নাম রয়েছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছ থেকে ১০ হাজার প্যাকেট নেওয়া হয় বাকিগুলো কে দেয় আমি জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাই এগুলা নিয়ে লেখালেখি করলে আমার বাকিটাকা তুলতে সমস্যা হবে। আপনারা দয়া করে এনজি প্রতিনিধি সাথে কথা বলেন।’

সরকারের সাথে চুক্তিবন্ধ এনজিও ইএসডিওর জেলা ম্যানেজার ও প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামছুল আলমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘ভাই আমরা তৃপ্তি বেকারির সাথেই চুক্তি করেছি।’ এ রকম নোংরা পরিবেশে উৎপাদিত খাবার কীভাবে শিশুদের খাওয়াচ্ছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ভাই আপনারা অনেক সিনিয়র সাংবাদিক আপনারাতো জানেন বিষয়টি নিয়ে নিউজ হলে আগে আমরাই সমস্যায় পড়ব। আমাদের সংশোধনের সুযোগ দেন।’ এর আগেওতো শুরুর দিকে পচা রুটি দিয়েছিলেন, বললে তিনি বলেন, ‘ভাই আগের রুটিগুলো লালমনির হাট থেকে নিয়েছিলাম সমস্যার হওয়ার পর আর নেইনি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনের সাথে কথা বলার জন্য তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার সাথে মোবাইলে কথা হলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় ট্রেনিংয়ে এসেছি বলে কল কেটে দেন।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পচা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে এটা জেনেছি। আমি বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়গুলো সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’


সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। বিএনপির বহিষ্কৃত এক নেতার দায়ের করা এই মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেন।

প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন। বক্তারা বলেন, ‘ওই নেতা প্রথমে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি প্রতিহিংসাবশত বরিশাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি করেন।’

সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, ‘সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য এ ধরনের মামলার আশ্রয় নেওয়া মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকি। ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ করে সত্যের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, বর্তমানেও হবে না।’ তারা আরও বলেন, ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বিঘ্নিত হলে সমাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নষ্ট হবে।

সভায় বক্তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’ হয়রানিমূলক এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত তা রেকর্ডভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের সাংবাদিক সমাজে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রতিবাদ সভায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


ঝালকাঠিতে সাবেক মন্ত্রী আমুর পরিত্যক্ত বাসভবনের গেট কেটে উন্মুক্ত করল শিক্ষার্থীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর পরিত্যক্ত বাসভবন ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে জুলাই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া একদল শিক্ষার্থী বাসভবনের সামনে স্থাপিত টিনের বেড়া অপসারণ করে এবং প্রধান গেট কেটে উন্মুক্ত করে দেয়।

বিগত সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট বিকেলে বিক্ষুব্ধ জনতা আমুর ঝালকাঠির বাসভবনটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ওই বাড়ির সামনে স্থানীয়রা ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।

তবে সম্প্রতি অজ্ঞাত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বাড়িটির প্রধান ফটক টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে। ফলে সেখানে ময়লা ফেলা এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে টিনের বেড়া অপসারণ করে। একই সঙ্গে তারা ইলেকট্রিক কাটার মেশিন ব্যবহার করে প্রধান গেট কেটে ফেলে। পরে খুলে ফেলা ঢেউটিন তাৎক্ষণিকভাবে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি, পরিত্যক্ত স্থাপনাকে ঘিরে এ ধরনের অবরোধ সৃষ্টি করে জনসাধারণের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত করা ঠিক নয়। তারা স্থানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটার ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কলাপাড়া  (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

দক্ষিণের অপরূপ সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার জন্যই নয়, নতুন নতুন মনোরম প্রাকৃতিক স্পটের কারণেও আলোচনায়। এরই মধ্যে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত মনোরম প্রাকৃতিক স্পট। পাশাপাশি এর কাছেই অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’ ও পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এই দুই স্থানকে ঘিরে আগ্রহ প্রকৃতিপ্রেমীদের।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত সবুজ বনভূমি, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, লেক ও সমুদ্রের ঢেউয়ের অপূর্ব সম্মিলনে গড়ে ওঠা এক অনন্য নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ ও নির্মল বাতাসের কারণে এক নৈসর্গিক আবহ বিরাজ করছে।

এখানে এসে পর্যটকরা সবুজ প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, ছবি তোলা, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি এবং নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেক ভ্রমণপিপাসু এখানে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটান। এখানকার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো—একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল অভিজ্ঞতা।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মৌরি ও বাপ্পা দম্পতি বলেন, ‘আমরা অনেক জায়গায় ঘুরেছি; কিন্তু এক জায়গা থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা দুটোই দেখা যায়—এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। এখানকার পরিবেশ খুবই শান্ত ও মনোরম।’

আরেক পর্যটক রাব্বানী বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ডে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছি। এখানকার নীরবতা আর নির্মল বাতাস আলাদা এক শান্তি দেয়।’

স্থানীয় ট্যুর গাইড আবুল কালাম জানান, শুরুতে স্থানীয় কয়েকজন মিলে জায়গাটিকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে ডাকতেন। পরে ভ্রমণব্লগার মি. লাক্সছু মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিডিও ধারণ করেন। কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির লেকসহ আশপাশের দৃশ্য তার ভিডিওতে ওঠে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই জায়গাটি দেশজুড়ে পরিচিতি পেতে শুরু করে।

মি. লাক্সছু বলেন, ‘প্রথম যখন এখানে আসি, জায়গাটি তেমন পরিচিত ছিল না। চারদিকে সবুজ গাছ, নীল আকাশ আর সাগরের শান্ত ঢেউ দেখে মনে হয়েছিল—এ যেন বাংলাদেশের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। সেই ভাবনা থেকেই ব্লগে ‘‘মিনি সুইজারল্যান্ড’’ নামটি ব্যবহার করি।’

কুয়াকাটার আরেক আকর্ষণ ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়ে বেড়ানোর দৃশ্য পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। আশপাশের সবুজ বনভূমি ও শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এলাকাটি ধীরে ধীরে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে কুয়াকাটায় পর্যটনের নতুন মাত্রা যোগ হবে। কুয়াকাটার মাস্টার প্লানে এই পর্যটন স্পট দুটিকে সম্পৃক্ত করুন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কুয়াকাটাবাসীর’ সভাপতি ও মহিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই এলাকাকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা সম্ভব। তবে পরিবেশ সংরক্ষণে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, পর্যটন ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘এখানে পরিকল্পিতভাবে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন চাঙা হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের গাইড, নৌ-ট্যুর অপারেটর ও পর্যটনভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে এলাকার অর্থনীতি আরও শক্ত হবে।’

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসচেতন পর্যটকের কারণে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাউন্ড বক্স বাজানো, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা এবং ময়লা-আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে এই নিরিবিলি প্রকৃতি।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘এই এলাকাকে ঘিরে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যটন স্পটগুলোর সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, কাউছার হামিদ বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পর্যটন প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যটন কুয়াকাটার মাস্টার প্লানের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।’

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।


কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্ত, নাব্যতা ফেরাতে শিগগিরই খনন শুরু হবে: টুকু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

‘মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কার্পজাতীয় মাছের আধিক্য বাড়াতে মাছের পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রায় ২৬ হাজার জেলে পরিবারের মাঝে বিশেষ ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) সকালে বিএফডিসির ফিশারি ঘাটে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইমাম উদ্দিন কবীরের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, রাঙামাটি পৌর প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন খান এবং চট্টগ্রাম নৌপুলিশ ইউনিটের পুলিশ সুপার বি. এম. নুরুজ্জামান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রাঙামাটি বিএফডিসির নিজস্ব হ্যাচারিতে উৎপাদিত প্রায় ৬০ মেট্রিক টন মাছের পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হবে, যা হ্রদের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খুব শিগগিরই খনন কাজ শুরু করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ হ্রদের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষেধাজ্ঞাকালে সকল জেলেকে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হ্রদে কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না এবং এ বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়, যাতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে জেলেরা অধিক মাছ আহরণ করতে পারবেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’

তিনি জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে যেন কোনো ধরনের অবৈধ মাছ শিকার না করা হয় এবং সবাই মিলে কাপ্তাই হ্রদের সম্পদ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করা হয়।


banner close