পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।
সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।
এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।
এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।
সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ
সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সিসিকের ছুটি বাতিল
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ
সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।
মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।
আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।
আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।
শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।
এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের রাউজানে স্থানীয় একটি বাজারে প্রকাশ্যে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবদল কর্মীর নাম মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)। তিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা ও পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন আবদুল মজিদ। এ সময় বাজারেই মুখোশ পরা একদল অস্ত্রধারী যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন মজিদকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, তার চোখের ওপরে, বুকে ও কোমরে মোট তিনটি গুলি লাগে।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) টিবলু কান্তি দে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মিজানুর রহমানের জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন ওরফে সুজন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে।
কাজী নিজাম উদ্দিনকে উদ্ধারের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তার বাবা ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সোবহান। এ সময় তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী আবদুস সোবহান বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার ছেলে নগরের পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে তারাবিহর নামাজ আদায়ের জন্য বাসা থেকে বের হন। নামাজ শেষে প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি মসজিদ থেকে বের হন। মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নামাজে যাওয়ার সময় তিনি মুঠোফোন বাসায় রেখে যান। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে খোঁজ নেওয়া হলেও অনেকগুলো অচল থাকায় তাঁর পরবর্তী অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারা বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে দাবি করেন।
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বাবা বলেন, ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গুরুত্ব সহকারে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
বাবার ভাষ্য, তার ছেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া কোথাও যেতেন না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছেন তার ছেলে। এমন একজন মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক।
পরিবারের দাবি, কাজী নিজাম উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী নিজাম উদ্দিনের মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। তাকে জোর করে নিয়ে গেছে, এ রকম কিছু আমরা পাইনি। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভর্নরের সামনেই একদল কর্মকর্তা জড়ো হয়ে তাকে কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলাকা ছেড়ে যান।
জানা যায়, এ সময় একদল কর্মকর্তা জড়ো হয়ে উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কার্যালয় ত্যাগে বাধ্য করেন। পরে তাকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।
এসময় ঘটনাস্থলে নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন, পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, অতিরিক্ত পরিচালক তানভীরসহ প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মকর্তাদের মব সৃষ্টি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন সরকারের সময়ে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলা থেকে লাফিয়ে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মৌসুমী আক্তার তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের ওয়াজেদুল ইসলামের মেয়ে। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মায়ের সঙ্গে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন মৌসুমী। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় উঠে নিচে লাফিয়ে পড়েন। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই ইউসুফ আলী জানান, মৌসুমী গত দেড় বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। নিয়মিত চিকিৎসায় তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তবে গত পাঁচ দিন ধরে তার অবস্থার আবারও অবনতি হয়। চিকিৎসার জন্যই মা তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। বর্তমানে লাশ হাসপাতালের মর্গে আছে।
হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।
মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, তরুণীটি ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। হাসপাতাল প্রশাসনের সবাই গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। ভিকটিমের কিছু কাগজপত্র ঘটে জানা যায় তিনি মারাত্মকভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতাকর্মীরা আদালত থেকে জামিন পেলেও তাদের পুনরায় অন্য মামলায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান।
গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ডিআইজি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেঞ্জের অধীন আটটি জেলার পুলিশ সুপারদের (ডিএসবি) এই নির্দেশ পালনের কথা বলা হয়েছে।
ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আদিষ্ট হয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে—
১) কার্যক্রম নিষিদ্ধ/স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী জামিনে মুক্তির পর দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে এবং মাঠপর্যায়ে তৎপরতা প্রদর্শনে সক্ষম—তাদের জামিন হওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শোন অ্যারেস্ট) হবে। তবে যারা বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই।
২) প্রটোকল ও প্রটেকশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আগে থেকেই গ্রুপ মেসেজের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের অবহিত করা হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব জেলায় পাঠানো হয়েছে নির্দেশনা
রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। জেলাগুলো হলো— রাজশাহী জেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, নওগাঁ জেলা, নাটোর জেলা, পাবনা জেলা, সিরাজগঞ্জ জেলা, বগুড়া জেলা ও জয়পুরহাট জেলা।
শেরপুরের গারো পাহাড় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া রাবার বাগান এলাকা দিয়ে অভিনব কৌশলে ভারতীয় মদ পাচারের চেষ্টা করে একটি চোরাকারবারি চক্র। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে বিজিবির একটি টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মো লাল চাঁন (২৩) নামের একজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২৪ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালপত্রের আনুমানিক সিজার মূল্য ৫১ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় আটক আসামিসহ পলাতক আরও চারজনের বিরুদ্ধে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানায় মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি পৃথক অভিযানে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা ও শালবাগান কুচপাড়া, ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিগ্রাম গাঁড়োকোনা এবং ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার শিমুলকুচি এলাকা থেকে পাচারকালে ভারতীয় মদ, ফেনসিডিল, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও শনপাপড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালপত্রের মোট আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ টাকা।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোরতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদারীপুরের সর্বত্র মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ জনজীবন। বিশেষ করে দেড় শতাধিক বছরের মাদারীপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিকরা এখন এই উপদ্রবে সবচেয়ে বেশি অতিষ্ঠ। এ বছর বর্ষা মৌসুম ও গরম আসতে না আসতেই গত বছরের তুলনায় মাদারীপুর পৌর শহরের পরিমাণ ও ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের বেলায় তো বটেই, দিনের বেলায়ও মশার উপদ্রবে কোথাও দুদণ্ড বসে কাজকর্ম করার সুযোগ নেই। এ শহরে মশারি ছাড়া বিশ্রাম কিংবা ঘুমানোর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরাই বেশি ভুক্তভোগী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মশকনিধন-সংক্রান্ত কাজের ব্যাপারে মাদারীপুর পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক (উপসচিব) মোছা. জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘আমাদের পৌরসভার এসব টিম বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটাচ্ছে এবং আজও শহরের কুলপদ্দি চৌরাস্তা, পানিছত্র এলাকায় এ কার্যক্রম চলছে এবং সামনে আরও সকল এলাকায় তা অব্যাহত থাকবে। স্প্রে মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটালেও মশা তেমন মরছে না বা বিনাশ হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে নির্ধারিত ব্রান্ডের ‘মসকুইটোসাইড ফর ফগিং’ তরল ওষুধ মশকনিধনে আমাদের টিম প্রয়োগ করছে। এতে মশা পুরোপুরি বিনাশ হচ্ছে না- এমন কথা আমরাও শুনছি, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনসাধারণের সমস্যা লাঘবে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।’
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘থানা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।’
এমপি হাসনাত বলেন, ‘মাটিখেকোরা আগে থেকেই পুলিশকে সময় জানিয়ে দেয় কখন মাটি কাটবে। এসিল্যান্ড বা ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের সতর্ক করে দেয়, ফলে স্পটে কাউকে পাওয়া যায় না। এক-দুই লাখ টাকা জরিমানাকেও তারা বিনিয়োগ হিসেবে ধরে নেয়। তিনি দাবি করেন, সমঝোতার ভিত্তিতেই গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এতে থানার কিছু সদস্য জড়িত। অভিযানে যাওয়ার আগেই থানা থেকে তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।’ এতে ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আমি গোমতীর বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করেছি, তখন কেউ সাহস করেনি মাটি কাটতে।’ তিনি প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘দেবিদ্বার অংশে পাঁচটি স্পটের একটিতেও যেন আর এক কোদাল মাটি কাটা না হয়। অন্যথায় আমি ধরে নেব আপনারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন।’ এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় দেবিদ্বার থানার ওসির সামনেই কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ওসি আন্তরিক হলেও তার কিছু কর্মকর্তা ‘ফুললি করাপ্টেড’। সেকেন্ড অফিসার মতিন ও এসআই ভবতোষ টাকা ছাড়া এক কদম পা ফেলে না। আমি প্রমাণ নিয়ে বলছি। এ বিষয়ে ওসি সাহেব প্রদক্ষেপ নেবেন।’
থানায় ‘হেলাল’ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে দালাল ও মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ তুলে এমপি হাসনাত ওসির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘থানা আপনি চালান না থানা চালায় হেলাল। থানাকে হেলালগং মুক্ত করতে হবে, থানাকে দালালমুক্ত করতে হবে এবং ভুক্তভোগীরা যেন সরাসরি ওসি সঙ্গে কথা বলতে পারে সে ব্যবস্থা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। আপনি সকল অফিসারদের নিয়ে বসুন, এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।’ দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন, দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকার ভাসমান ব্যবসায়ীদের স্থানান্তর করে পুরোনো বাজার ও জেলা পরিষদ মার্কেটে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেন এমপি, যাতে সড়কের যানজট কমানো যায়।
ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, যানজট নিরসন এবং জননিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার তদরকি বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ তিনি মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ইলিশ বিক্রির দায়ে যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত জাটকা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেশবপুর বড় মাছ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জাটকা ইলিশ বিক্রির অপরাধে পৌর শহরের ভোগতি নরেন্দ্রপুর গ্রামের আফসার আলী বিশ্বাসের ছেলে কামরুজ্জামানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে কেশবপুর বড় মাছ বাজারে আইন ভঙ্গ করে জাটকা ইলিশ বিক্রির দায়ে কামরুল বিশ্বাসকেও নগদ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে জব্দকৃত সব জাটকা ইলিশ পরবর্তীতে কেশবপুর শিশুসদন এতিমখানায় হস্তান্তর ও বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘জাটকা ইলিশ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। জাটকা সংরক্ষণ না হলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, জব্দকৃত ইলিশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের অংশ হিসেবে এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁর রাণীনগরে সুবিধাবঞ্চিত ৪১৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাণীনগর মহিলা কলেজ মাঠে জার্মানি দাতা সংস্থা মুসলিম হেলফেনের অর্থায়নে সোশ্যাল এইড এর আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাণীনগর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, উপাধ্যক্ষ চন্দন কুমার মহন্ত, সোশ্যাল এইড এর নির্বাহী পরিচালক বাবুল আকতার, প্রোগ্রাম সাপোর্ট অফিসার নূরে জান্নাত নিতি, সোশ্যাল এইডের জেলা সমন্বয়কারী ফজলুল হক খান, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রায়হান আলমসহ অন্যান্যরা।
খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিলো- ২৫ কেজি চাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি ছোলা, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি মুড়ি ও ৩০ পিচ ডিম।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসেই নগরীর উন্নয়নে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন শওকত হোসেন সরকার। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগর ভবনে দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টায় নগর ভবনে পৌঁছে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নগর ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় সরকার সচিবের সাথে ভার্চুয়াল সভা এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
প্রশাসক জানান-নগরবাসীর যানজটের দুর্ভোগ কমাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর করতে কাশিমপুর এলাকায় দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ঢাকার সাথে সংযোগকারী বিকল্প সড়কগুলোরও উন্নয়ন করা হবে বলে তিনি জানান।
নগরীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক প্রধানত দুটি বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে একটি খাল খনন। মহানগরীর অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত ১৯ খাল জরুরি ভিত্তিতে খনন করা হবে। এর ফলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবে। অপরটি হলো গাজীপুরকে গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ে তোলা। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গাজীপুরকে একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করতে ফুটপাথ অবৈধ দখলমুক্ত করা, নগরীর ব্যর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডিশ লাইন অপসারণ, সড়ক বাতির ব্যবস্থা করার ঘোষণা করেন।
সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান শওকত হোসেন সরকার। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তিনি মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ড একটি করে খেলার মাঠ এবং একটি শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। সুস্থ ধারার শিল্প ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকেও বেগবান করার আশ্বাস দেন তিনি।
সিটি করপোরেশনকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নাগরিক সেবা সহজলভ্য করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গড়তে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রামের হালিশহরের এক বাসায় গ্যাস লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ দগ্ধ ৯ জন দগ্ধের ঘটনায় স্ত্রী-সন্তানের পর মারা গেলেন সাখাওয়াত হোসেন (৪৯)। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে, সাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী, ছেলে শাওন, ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি মারা গেছেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাখাওয়াতের শরীরের শতভাগই পুড়ে গিয়েছিল।
ডা. শাওন আরও জানান, বর্তমানে সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা ৩৮ শতাংশ, ভাইয়ের মেয়ে আয়েশা ৪৫ শতাংশ, ভাইয়ের ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস ৩০ শতাংশ এবং আরেক ভাই শিপন ৮০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের সবার অবস্থাই আশংকাজনক।
এর আগে, গত সোমবার ভোরে হালিশহরের বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে তাদেরকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে স্বজনরা।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।