পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।
সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।
এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।
এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।
সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ
সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সিসিকের ছুটি বাতিল
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ
সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।
মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।
আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।
আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।
শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।
এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
মাদারীপুরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) টি,এম শহীদুল্লাহ রাজার জানাযার নামাজে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অফ অনার' প্রদানের মাধ্যমে তাকে চিরবিদায় জানালো মাদারীপুরের সর্বস্তরের মানুষ।
শুক্রবার (২৯ মে) জুমা'র নামাজ শেষে মাদারীপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে তার জানাযার নামাজ সম্পন্নের পরে তাকে শহরের ডাঃ তোতা সড়কের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে তিনি বিগত ২১শে মে/'২৬ ইং তারিখে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
পরবর্তীতে তার লাশ বিমানযোগে বাংলাদশে আসে। তার মৃত্যুতে মাদারীপুরে সকল মুক্তিযোদ্ধাসহ সবার মাঝে শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। ব্যক্তি জীবনে বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম রাজা তালুকদার একজন হাস্যোজ্বল ও সদালাপি মানুষ ছিলেন।
দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবীত পরপোকারী এই মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানসহ আমেরিকায়ও বসবাস করতেন। তার জানাযার নামাজে অংশগ্রহন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাতের আঁধারে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৯মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কোদালিয়া-হোসেনপুর পাঁকা সড়কে শৈলজানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. জোবায়েদ (২৫) উপজেলার চরপলাশ গ্রামের মো. আলতাব উদ্দীনের ছেলে। তিনি পোল্ট্রি খামারি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, জোবায়েদ রাত ৭টার দিকে কোদালিয়া বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে কোদালিয়া-হোসেনপুর পাকা সড়কের শৈলজানি এলাকায় পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন রাস্তার ওপরে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তাকে কে বা কারা কী কারণে কুপিয়ে হত্যা করেছে তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ কিশোরগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার দীর্ঘ প্রায় ৫ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গৌড়প্রসাদ দাশ পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকারী দল লাইনচ্যুত ওয়াগনটি সফলভাবে লাইনে ফিরিয়ে আনার পর রেলযোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট থেকে আখাউড়াগামী একটি তেলবাহী খালি ট্রেনের (ওয়াগন) একটি বগি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের রেললাইনে লাইনচ্যুত হয়। বগিটি লাইনের বাইরে চলে যাওয়ায় সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশের রেলযোগাযোগ তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন (হাইড্রোলিক টুলব্যান) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল থেকে শুরু করে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ৮টার দিকে বগিটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন রেলওয়ের প্রকৌশলী ও কর্মীরা।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইন এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আটকা পড়া ট্রেনগুলো একে একে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাইনুদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটপাতা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মাইনুদ্দিনের বাবা নেছারউল্লাহর সঙ্গে একই এলাকার ফয়জুল্লাহ গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে মাইনুদ্দিনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাইনুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকায় নজরদারি জোরদার করেন।
এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটপাতা গ্রামের বজলুর রহমান (৫৫) নামে একজন কে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আটকের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
নিহতের বাবা নেছারউল্লাহ দাবি করেছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিকল্পনা করেই মাইনুদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ সমান্তরালভাবে শুরু হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। শুক্রবার (২৯ মে) লালমনিরহাট সদর উপজেলার বেগম কামরুননেছা ডিগ্রি কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। তিস্তা প্রকল্প ঘিরে নানা মহলে চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মাসেতুও হবে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজও হবে এবং তা একযোগেই শুরু হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।’
শিক্ষা খাতের সংস্কার ও অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করেনি, শুধু দুর্নীতি করেছে। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছেন।’ নতুন প্রজন্মের জন্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ সময়ের শিক্ষার্থীরা মোবাইলে জুয়া, গেমস আর বিনোদন দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এতে শিক্ষার যেমন ক্ষতি হয় কারো কারো জিবনও ধ্বংস হয়ে যায়। মোবাইল ফোনের প্রয়োজন রয়েছে তবে এটির সঠিক ব্যবহার করতে হবে।’
‘এসো স্মৃতির অঙ্গণে, মিলি প্রীতির বন্ধনে’—এই স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণায় কলেজ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। স্মৃতিচারণা, বিশেষ সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মমিনুল হক এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেনসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।
বাগেরহাটের শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রায়হান উদ্দিন সুমন সরদার (৪২) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া-সিংবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন সরদার ধানসাগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা সদরের পাঁচরাস্তা মোড়ে অবস্থিত জেনারেল গ্রামীণ হাসপাতালের পরিচালক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাবার শেষে ঘরে অবস্থান করছিলেন তিনি। এসময় হঠাৎ চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. অন্তরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির নেতারা।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় একটি তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এর ফলে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে আখাউড়া-সিলেট রেললাইনের লাউয়াছড়া উদ্যান এলাকার ২৯৪/৮ নম্বর পিলারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা খালি তেলবাহী ৯৬২ নম্বর ডাউন ট্রেনটি বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে। এ সময় ট্রেনে ডিউটিরত আরএনবি (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরাগ বকুল দাস হঠাৎ ট্রেনের চাকায় ধোঁয়া দেখতে পান। তিনি কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ট্রেনের লোকোমাস্টারকে (চালক) জানান। লোকোমাস্টার দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। তবে ততক্ষণে ট্রেনের একটি ওয়াগনের (বগি) চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার গৌড়প্রসাদ দাশ পলাশ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "ট্রেনটিতে কোনো তেল ছিল না, এটি খালি ওয়াগন নিয়ে ফিরছিল। আরএনবি সদস্যের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ট্রেনটি থামানো সম্ভব হলেও একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, এই দুর্ঘটনার কারণে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ আপাদত বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পরপরই কুলাউড়া ও আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনকে খবর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। লাইনচ্যুত ওয়াগনটি লাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর রেললাইন মেরামত শেষে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন সচল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী মহানগরীতে কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অপসারণ করে নতুন রেকর্ড গড়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার এ সফলতায় নগরবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরঅনুশাসন এবং পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঈদের দিনেই মাঠে নামেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। রাসিক প্রশাসকের ঘোষণা ছিল—“৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিচ্ছন্ন হবে রাজশাহী।” নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেয় রাসিক।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুরে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রাসিক প্রশাসক। এছাড়া বিকেলে বুলনপুর এসটিএস, রুয়েট সংলগ্ন এসটিএস, রাবি এসটিএসসহ বিভিন্ন স্থানে চলমান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।
রাসিক প্রশাসকের গতিশীল নেতৃত্বে ১,২৭০ জন পরিচ্ছন্নকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে দ্রুততার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। এ কাজে প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরঞ্জাম ও জনবল সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা থেকে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে সিটি কর্পোরেশনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস)-এ স্থানান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে রাজশাহী নগরী পরিচ্ছন্ন হয়েছে। বিকাল ৪ টা থেকে এসটিএস থেকে বর্জ্য ভাগারে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই কাজটি রাত ২ টার মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
এ অর্জনে নগরবাসী, পরিচ্ছন্নকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই নির্ধারিত সময়ের আগেই মহানগরী পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা এভাবেই দিনরাত্রী কাজ করে যাব।
এদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার এ সফলতায় নগরবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তৎপরতা খুব প্রশংসনীয় ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরী পরিষ্কার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
উপশহর এলাকার গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার দেওয়ার উদ্যোগটি খুবই ভালো লেগেছে। এতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হয়েছে।”
লক্ষ্মীপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “ঈদের দিনেই প্রশাসক নিজে মাঠে থেকে কাজ তদারকি করেছেন, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এত দ্রুত বর্জ্য অপসারণ হওয়ায় দুর্গন্ধ বা ভোগান্তি হয়নি।”
উল্লেখ্য, এবার প্রথমবারের মতো রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে নগরীর প্রায় ৮২ হাজার হোল্ডিংয়ের প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য ৩টি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ করা হয়। এছাড়া গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য বড় ২টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ১ কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য ১টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার প্রদান করা হয়। যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিঘী সদগুনা মডার্ণ একাডেমি রুরাল জুনিয়র গার্লস স্কুলের চারপাশের কাঁটাতারের বাউন্ডারি (বেড়া) ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বেষ্টনী এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর পরই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি বালিকা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমরা কষ্ট করে এই কাঁটাতারের বাউন্ডারিটি দিয়েছিলাম। কিন্তু গতকাল রাতে শত্রুতা করে দুর্বৃত্তরা এটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের সম্পত্তির যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি আমাদের ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও হুমকিতে পড়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো হাবিবুর রহমান বলেন,খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে স্কুলের এই ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের টিম কাজ করছে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার নির্দেশ দিয়েছি। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসী জানান, দিঘী সদগুনা মডার্ণ একাডেমি রুরাল জুনিয়র গার্লস স্কুলটি স্থানীয় মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ পরিবেশের এই বালিকা বিদ্যালয়টির নিরাপত্তা বেষ্টনী এভাবে ভেঙে ফেলায় তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সাথে নোটিশে মৃত নবজাতকের পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দেশের সকল হাসপাতালের মা ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালকের উদ্দেশ্যে অনলাইনে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শিশু অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যের বরাতে নোটিশে বলা হয়, গভীর রাতে সদ্য জন্ম নেওয়া একাধিক নবজাতক হঠাৎ একসঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অবিরাম কান্না, বমি ও শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখা দেয় এবং একই সাথে কয়েকজন প্রসূতি মা-ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে যে, এমন চরম সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসা সেবা, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি।
নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীদের উপস্থিতি ও তৎপরতা যেমন পর্যাপ্ত ছিল না, তেমনি সংকটাপন্ন নবজাতকদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত কেন্দ্রে স্থানান্তরেও অবহেলা ও বিলম্ব করা হয়েছে। ফলে একের পর এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে, যা সমগ্র জাতিকে ব্যথিত করেছে। এই ঘটনাটি দেশের হাসপাতালসমূহে মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার গুরুতর দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সুরক্ষায় কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে এই নোটিশে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে এবং সেই দাবিগুলো হল-
১) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২) ক্ষতিগ্রস্ত নবজাতকদের পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ও কার্যকর আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
৩) দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা, রোগীর নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে কার্যকর নির্দেশিকা বা প্রটোকল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
এবং ৪) প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সেবার মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা বা তদারকি কমিটি গঠন করা।
নোটিশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন শত শত মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী। সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করা তো দূরের কথা, বাজারে কোনো বড় পাইকার বা ট্যানারি মালিকের দেখা না মেলায় মাঠপর্যায়ের এই ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে স্তূপ আকারে পড়ে আছে শত শত গরুর চামড়া। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় এবং তীব্র রোদ ও গরমের কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক জায়গায় চামড়ায় সময়মতো লবণ না দেওয়ায় ইতিমধ্যে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলার গোমকোট বাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, তিনি লাভের আশায় গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি পিস গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বাজারে এনে কোনো বড় ক্রেতা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই শিল্পটি এখন ধ্বংসের মুখে এবং লোকসানের কারণে ভবিষ্যতে আর কখনো এই ব্যবসা করবেন না। একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বাবলু ৮২টি চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে এনে এখন দিশেহারা। তিনি জানান, গাড়িভাড়া দিয়ে চামড়া বাজারে আনার পরও কোনো কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না, উল্টো চামড়াগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের বাস্তব প্রয়োগ না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, টেলিভিশনে দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো ক্রেতাই তা মানছেন না, যার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে বিপদে পড়েছেন। আরেক ব্যবসায়ী আবুল কালাম উল্লেখ করেন, দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা না গেলে চামড়াগুলো পচে যাবে, কিন্তু সেই বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য অনেকেরই নেই। আজ শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন বাজারে কয়েক শ ব্যবসায়ী চামড়া নিয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো পাইকার না আসায় চরম হতাশ হয়ে অনেকে চামড়া সড়কেই ফেলে চলে গেছেন বলেও জানা গেছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রাম সংলগ্ন নদী থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও আলামত দেখে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল দশটার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামের পূর্ব পাশের নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সাতটার দিকে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের শত শত উৎসুক জনতা নদীর পাড়ে ভিড় জমায়। পরে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার হোসেন জানান, সকালে লাশটি নদীতে ভেসে থাকতে দেখা যায়। মেয়েটি আমাদের এলাকার নয়। মরদেহের ডান চোখ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরনের সালোয়ার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো আছে। প্রাথমিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জোয়ারের টানে লাশটি এখানে ভেসে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, "খবর পাওয়ার পর সকাল দশটার দিকে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করেছি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহতের পরিচয় শনাক্তকরণসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।"
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় ঈগল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি থ্রি-হুইলার বা লেগুনার প্রলয়ংকরী মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্ণফুলীর ভেল্লাপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন তালতল ক্রসিং এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার অবহিত করেছেন যে, হাসপাতালে আনার পর এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এখনো পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈগল পরিবহনের একটি বাস অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিয়ম ভেঙে উল্টো পথে কর্ণফুলী ক্রসিংয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ওই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লেগুনার সঙ্গে বাসটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনাটি প্রচণ্ড আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে জখম হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কর্ণফুলী থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” পুলিশ ঘাতক বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত লেগুনাটি তাদের হেফাজতে নিয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। স্থানীয়দের মাঝে এই দুর্ঘটনার ফলে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।