রোববার, ১০ মে ২০২৬
২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

সিলেটের বন্যা: লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। গতকাল কোম্পানিগঞ্জ সদর থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।

গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।

এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।

এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিসিকের ছুটি বাতিল

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ

সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন, সরকার আপনাদের পাশে আছে: আইনমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সঠিক সিদ্ধান্তের পথ বেছে নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন; সরকার আপনাদের পাশে আছে।’

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে আয়োজিত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের ২০তম ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বিচারকদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ুক। জনগণ আমাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই আপনাদের বলতে চাই, যে বিষয়গুলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়, সেগুলো এড়িয়ে চলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন। এই কাজে সরকারকে সব সময় আপনাদের পাশে পাবেন।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমানের একটা কথা সব সময় অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত। তিনি প্রায়ই বলেন, আমাদের কাজের জায়গাটা দায়িত্ববোধের এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার; জনপ্রিয়তার নয়। তাই সব ধরনের অবস্থায় সব সময় সঠিক পথটিই বেছে নিতে হবে।’

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমি প্রতিমুহূর্তে আমার সীমারেখা সম্পর্কে অবগত থাকি। যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো কারণে কখনোই সঠিক সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে পিছিয়ে আসিনি, আসবও না।’

কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব, বিচারকদেরও সচেতন থাকতে হবে।’

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটি না পারলে এই প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নেওয়া ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দীর্ঘদিনের যে সংগ্রাম এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার—সবই ব্যর্থ হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে সেই দায়ভার আমরা নিতে চাই না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (জেএটিআই) মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক।

আরও উপস্থিত ছিলেন আইন কমিশনের সদস্য, কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থী, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।


নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়: পুলিশের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে; কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

রোববার (১০ মে) ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (৯ মে) দেওয়া এক বাণীতে পুলিশের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্যে চার দিনব্যাপী (১০-১৩ মে) উদযাপিত হচ্ছে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।

বাণীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আর্দশে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের কাছে সেবা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে; ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য আইনি সেবা পেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে; কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে পুলিশ মহাপরিদর্শক তার দেওয়া বাণীতে বলেন, পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমরা পুলিশের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

এবারের পুলিশ সপ্তাহের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা জনগণের পুলিশ হিসেবে তাদের পাশে থেকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দিতে চাই।


১৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরল ডিএপি সার কারখানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

অ্যামোনিয়া সংকট কাটিয়ে ১৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরল ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি (ডিএপিএফসিএল)। কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) চালুর একদিন পর শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত সার কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক জানান, গত ২ মে বিকেল থেকে কাফকোতে উৎপাদন শুরু হওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর কয়েকদিন ধরে প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়া মজুত এবং কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টা থেকে পুনরায় উৎপাদন চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কারখানাটি সচল থাকলে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব।

এর আগে অ্যামোনিয়ার ঘাটতির কারণে গত ১৮ এপ্রিল ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ডিএপি সার উৎপাদন শুরু করে।


সবাই মিলে কাজ করলে ছয় মাসেই ঢাকা শহর বদলে যাবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সবাই মিলে কাজ করলে আগামী ছয় মাসেই বদলে যাবে ঢাকা শহর। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। আজ যেভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কারে এগিয়ে এসেছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঢাকা একটি আধুনিক ও সবুজ নগরীতে পরিণত হবে।’

শনিবার (৯ মে) সকালে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মালিবাগ এলাকায় আধুনিক অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেছেন।

রাজধানীর ১০ অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্লিনিং ডে’ উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তা পালিত হয়েছে।

পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গড়তে প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে ‘ক্লিনিং ডে’ ঘোষণার পর আজ ছিল এর প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা দিবসকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন শুরু হয়েছে।

ডিএসসিসির ১০ অঞ্চলেই একযোগে পরিচালিত এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা (আনিক) সরাসরি মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। এতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। আজকের এই বিশেষ কর্মসূচিতে ডিএসসিসি এলাকার সকল সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত প্লট মালিকরা নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শামিল হন।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রতি মাসের প্রথম শনিবার রাজধানীর প্রতিটি বাড়ি, বাজার, আবাসিক এলাকা, মসজিদ ও মার্কেটসহ সব জায়গায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। এ ছাড়া সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অফিস চলাকালীন যেকোনো একদিন এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে।

তিনি সব রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন, স্কাউট, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের সদস্যদের এই মহৎ কাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। প্রশাসক এডিস মশার প্রজনন রোধে বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব ও আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার অনুরোধ জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, কলাবাগান ও মালিবাগের মতো পর্যায়ক্রমে পুরো শহরের সব সেকেন্ডারি বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ও ডিএসসিসির ‘ক্লিনিং ডে’ নাগরিকদের মধ্যে উত্তম চর্চার প্রসার ঘটাতে এবং পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা গড়তে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ শনিবার ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামমুখী একটি বাসের সঙ্গে কক্সবাজারগামী একই পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহতদের লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও চারজন মারা যান।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন পটিয়া উপজেলার পাচুরিয়া এলাকার রেহেনা বেগম (৬০), ঝিনাইদহ জেলার আবদুল্লাহ জিহাদ, মো. নাঈম এবং ভোলা জেলার মনির আহমদ। অন্য একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কক্সবাজারমুখী বাসে থাকা এক নারী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাস দুটি সড়কের পাশে থাকা গাছের সাথে ধাক্কা দেয়। বাস দুটি দুমড়ে মুচড়ে গেছে।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্মের জরুরি বিভাগের ডা. তাসফিক আহমেদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ৮ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।


জ্বালানি খাতকে সেবা খাত করার আহ্বান ক্যাবের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এ খাতকে মুনাফাভোগী নয়, সেবা খাত হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। শনিবার (৯ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন।

শামসুল আলম বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিশেষ ও বিইআরসি আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের উত্থান ঘটে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে করা গেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে পরিকল্পনা নিলে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

ক্যাব জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ডিআরসিতে আমরা ভোক্তারা মিলিয়ে একটা স্ট্যাটিক ৫ বছরের প্লান তৈরি করে দিয়েছিলাম। এটি কৌশলগত পরিকল্পনা, সেই পরিকল্পনায় যেসব কথা বলা হয়েছিল সেসব কিছু ফেলে দিল। ফেলে দিয়ে আমাদের টাকার ওপর কর্তৃত্ব নিয়ে নিল জ্বালানি বিভাগ। তারা আমরা যেভাবে করতে বললাম তারা করল না, বিআরসিতে তারা কোনো পরিকল্পনাও আনল না। তারা অবৈধ দখল নিল।’

এছাড়া, দেশের ভূগর্ভস্থ তেল অনুসন্ধানে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ সময় তেল অনুসন্ধানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন বক্তারা।


নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে আটক ৩ পরীক্ষার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাধারণ পুলভুক্ত কর্মচারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিআইডব্লিউটিএ-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর পাঁচটি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্থার শুল্ক আদায়কারী এবং নিম্নমান সহকারী/মুদ্রাক্ষরিক পদের শূন্যপদ পূরণের জন্য এ নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষা চলাকালে মগবাজারের সিদ্ধেশ্বরী কলেজ কেন্দ্রে তিন পরীক্ষার্থী নিজেদের পরিচয় গোপন করে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন।

পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া অন্য কেন্দ্রগুলো হলো— সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বুয়েট ক্যাম্পাসের ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুল। এ কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও সিদ্ধেশ্বরী কলেজ কেন্দ্রে প্রক্সি দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুতর অনিয়ম ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব সেখ জুলহাস উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত তিনজন আমাদের পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বরত পরিদর্শকের হাতে ধরা পরে। তারপর নিয়োগ পরীক্ষার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে মামলা করে।

রমনা থানার ওসি রাহাত খান বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, আসামি আটক আছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’


চলনবিলে মৎস প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ও গবেষনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, “তিনটি জেলা নিয়ে গঠিত চলনবিল মাছ ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর| বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে চলনবিল উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলো| এ বিলের ঐতিহ্য ফেরাতে সরকার কাজ করছে| চলনবিলাঞ্চলে মৎস প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ও গবেষনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে| এ অঞ্চলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সব ধরনের উন্নয়ন করবে সরকার|”

নাটোরের গুরুদাসপুরে মৎস্য চাষী সম্মেলন উপলক্ষে উপজেলার বৃ-পাথুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতীতের বক্তব্যকালে প্রতিমন্ত্রী টুকু এসব কথা বলেন|

শনিবার (৯ মে) বিকেলে মৎস্য মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপি| মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ জিয়া হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফ হোসেন,রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ডিন ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন|

মৎস চাষী ও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জাফর ইকবাল নয়ন, জেলা মৎস্য চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ওমর আলী,সম্পাদক হাসান জাহিদ শিহাব,খামারি জাকির হোসেন প্রমুক্ত|

আয়োজকরা জানান,এ অঞ্চলে ২ হাজার পুকুর রয়েছে| যেখানে ১ হাজার ২০০ চাষি চাষ চাষের সাথে সম্পৃক্ত| এ অঞ্চলে উৎপাদিত ১ লাখ ১৫ হাজার টন জিবন্ত মাছ স্থানীয় চাহিদা পুরণ শেষে সারা দেশে রপ্তানী করা হচ্ছে| তারা বিদেশী মাছ আমদানী বন্ধ,এলাকায় অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে জলাবদ্ধতার নিরশনে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন|

সকাল থেকে মৎস্য উপকরণ প্রদর্শন,দেশীয় প্রজাতীর মাছ ও আহরণ সামগ্রী এবং আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়| এছাড়া ওই সম্মেলনে মৎস ও প্রানী সম্পদ সংশ্লিষ্ঠ ২০টি স্টল প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিরা ঘুরে দেখেন|


জন্মের পর ছেলেকে কোলে নিতে পারেনি, ১৬ দিন পর কফিনবন্দীতে এলো মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

আকামা শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল মুরাদের। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রেখে তার স্বামী সৌদি আরব যান। ছেলের জন্মের পর বাবা তাকে কোলেও নিতে পারেননি, আহাজারি করে সেই কথাই বলছিলেন সৌদি আরবের জুবাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মুরাদ হোসেনের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বলতো, তাড়াতাড়ি বাড়ি আসব, আমার বাবাকে কোলে তুলে নিব।’

বড় মেয়ে মাইশা খাতুন বলেন, ‘দুর্ঘটনার দুই ঘণ্টা আগে বাবার সঙ্গে তার ফোনে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ভালোভাবে কথা শোনা যাচ্ছিল না। বাবা বলেছিলেন, পরে ফোনে কথা বলবে। সেই কথা আর বলা হয়নি।’

নিহত মুরাদ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ৬নং ওয়ার্ড দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে।

দীর্ঘ ১৬ দিন পর শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় তার মরদেহ। গতকালই ১১টায় উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ৯টায় মুরাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে বাড়িসহ চারপাশের আকাশ কান্নায় ভারী হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে মুরাদের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুটি শিশু কন্যা ও ১০ মাস বয়সী একজন পুত্র সন্তান রয়েছে। মুরাদের মরদেহ দেশে আনতে পরিবারের অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অ্যাম্বেসীতে যোগাযোগ করে অবশেষে দীর্ঘ ১৬ দিন পর মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।

আরও জানা যায়, সৌদি আরবে বসবাসরত গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া তোরাপ শেখের পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন যোগাযোগ ও অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে মুরাদের মরদেহ দেশে পাঠান। এ ছাড়াও অনেক প্রবাসী মুরাদের মরদেহ দেশে পাঠাতে সহযোগিতা করেছেন। মুরাদের পরিবার তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

মুরাদের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন মুরাদ। তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও তিন সন্তান অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে সকলকে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মুরাদ শেখ (৩৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।


লামায় পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

লামায় পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উদ্যোক্তা-চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে লামায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উদ্যোক্তা-চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ‘এক জেলা, এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার সরই ইউনিয়নের ক্যায়াজুপাড়াস্থ মেরিডিয়ান অ্যাগ্রো সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ প্রধান অতিথি ছিলেন। মেরিডিয়ান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান কোহিনূর কামালের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রানী কর্মকার, পরিচালক কুমকুম সুলতানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবল চাকমা প্রমুখ।

এতে আধুনিক কৃষিপণ্য চাষ পদ্ধতি ও বাগান ব্যবস্থাপনা, ফল সংগ্রহ, গ্রেডিং, হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পরিচালনা ও প্যাকেজিং পদ্ধতির ওপর বিস্তারিত ধারণা দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা।

এ সময় বাংলাদেশ রাবার বাগান মালিক সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন ও মেরিডিয়ান অ্যাগ্রোর সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন রপ্তানি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বাজারজাতকরণ, ক্রেতার উৎস্য ও রপ্তানি বাজার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাগান উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক এবং কৃষকরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।


মধুপুর গড়ে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ফসল আনারস ঘিরে শিল্পকারখানা না থাকায় ন্যায্য দাম পাচ্ছে না কৃষকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

লাল মাটির মধুপুর গড়ের নাম শুনলেই মনে হয় শালবন আর আনারসের কথা। গড় এলাকার মাটি আবহাওয়া ভূপ্রকৃতি কৃষি ফসলের জন্য বিশেষ উপযোগী। সমতল ও উঁচু স্থান হওয়ায় বন্যার পানি ওঠে না। গড়ের পুরো এলাকা বন থেকে বিস্তর এলাকাজুড়ে এঁকে বেঁকে বয়ে গেছে বাইদ ছোট ছোট নালা। যে কারণে জলাবদ্ধতাও তেমন হয় না। যে কারণে আনারস কলাসহ নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় কৃষি ফসল চাষের অপার সম্বাবনা রয়েছে। মাটির গুণের কারণে ফসলও ভালো হয়। দেশের অন্যতম একটি ফলের নাম আনারস।

সারাদেশ ও দেশের বাইরেও রয়েছে এ ফলের সুনাম যশ খ্যাতি। সারাদেশে সমাগম ঘটে থাকে আনারসের। কিন্তু আনারসকেন্দ্রিক কোনো শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠায় চাষিরা তাদের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না বলে জানালেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি মধুপুর আনারসের শিল্পকারখানা হলে জুস জেলিসহ পণ্য দেশ ও বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে বলে মনে করেন তারা। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মধুপুরের ভাবমূর্তি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এমনটাই ধারণা স্থানীয়দের।

ঘাটাইলের আনোয়ার হোসেন জানান, মধুপুরের আনারেসর কারখানা হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আনারস নষ্ট হবে না। কারখানার কাঁচামালের সহজলভ্যতা হবে। পরিবহন খরচ কমে যাবে না। এতে চাষিরা তাদের উৎপাদিত আনারসের ন্যায্য দাম পাবে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মধুপুরে আনারস আবাদের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। গড় (উঁচু) এলাকার আউশনারা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের গারো নারী ভেরেনা সাংমা ষাটের দশকের শেষ দিকে গিয়েছিলেন ভারতের মেঘালয়ে। সেখানে প্রচুর আনারস হয়। তিনি কয়েকটি জায়ান্টকিউ জাতের আনারসের চারা নিয়ে আসেন। বাড়িতে রোপণ করেন। প্রথমবারেই ভালো ফলন হয়। খেতেও সুস্বাদু ছিল। পরে আরও বেশি জমিতে আনারস আবাদ করেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও আনারসের আবাদ করতে থাকে। এভাবে তার মাধ্যমেই আনারস চাষের যাত্রা শুরু। জায়ান্টকিউর পাশাপাশি গত কয়েক বছর জলডুগিও হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের আনারস জলডুগি।

গারো বাজারের কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, আনারস যদি সারা বছর পাওয়া যায় তাহলে ভোক্তারা ক্রয় করতে চায় না। আকর্ষণ কমে যায়। আবার সারা বছর চাষ করতে গেলে কেমিক্যাল প্রয়োগ করতে হবে। তার মতে, দেশের মানুষের খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য তিনি শিল্পকারখানা স্থাপনের গুরুত্ব দেন। যখন আনারস বেশি পেকে যায় তখন যেন প্রক্রিয়াজাত করা যায়, সে জন্য শিল্পকারখানা স্থাপন দরকার বলে তিনি মনে করেন।

কৃষক আরশেদ আলী জানান, আনারসের বাজার ব্যবস্থা, সিন্ডিকেট ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকাসহ নানা কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গ্যাস সংযোগ থাকলে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিক আনারসের ন্যায্য দাম পেত বলে তিনি জানান, এতে করে মধুপুরের ভাবমূর্তি আরও বেড়ে যেত, হতে পারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। সিন্ডিকেট বিপণন ব্যবস্থা ভালো হতো।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন জানান, মধুপুরে আনারস চাষ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। তার মতে, শিল্পকারখানা আরও আগেই হওয়ার দরকার ছিল বলে তিনি মনে করেন। কারখানা হলে জুস, জেলি, বিস্কুট, জেমসহ নানা প্রোডাক্ট তৈরি করা যাবে। শিল্পকারখানা হলে অনেক বেকার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে তিনি মনে করেন। এর পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আনারসের ন্যায্য দাম পেত বলে জানান।

মধুপুর গড়ের মধুপুর ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, ঘাটাইল, সখিপুরসহ আশপাশের উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ হয় রসালো ফল আনারস। খরচের তুলনায় লাভের মুখ দেখা বর্তমান সময়ে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আনারসের ঐতিহ্যসহ চাষিদের লাভ এবং দেশ বিদেশে আনারসের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করতে পারলে কৃষকরা হবে লাভবান। আর দেশ পাবে বৈদেশিক মুদ্রা। তাই স্থানীয় কৃষকরা মধুপুরে আনারসকেন্দ্রিক শিল্পকারখানা স্থাপনের দাবি জানিয়েছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে মধুপুরে ৬ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে আনারস আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৪ হেক্টরে জলডুগি এবং ৬ হাজার ১২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার প্রজাতির আনারস আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে এমডি-টু জাতের আনারস আবাদ শুরু হয়েছে। এ বছর ৫০০ কোটি টাকার আনারসের বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পকারখানা গড়ে ওঠলে জুস, জেলি, চকোলেট নানা পণ্য তৈরি হবে।’ এতে চাহিদা বাড়বে, কৃষকরা আরও বেশি দাম পাবে এমনটাই মনে করেন তিনি।


বগুড়ায় নবজাতককে গলা কেটে হত্যা, মা-বাবা গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া সদরে নবজাতককে গলা কেটে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে মা ও তার বাবার বিরুদ্ধে। শনিবার (৯ মে) উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বগুড়া সদরের নারুলী এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে শুকুর আলীর সঙ্গে গাবতলী উপজেলার উঞ্চুরখী এলাকার নিপার বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে চলতি বছরের মার্চ মাসে বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের নুর আলমের ছেলে দুলালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নিপা।

গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে নিপা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। পরে লোকলজ্জার ভয়ে নবজাতকে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। গতকাল শনিবার দুপুরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নিপা ও তার বর্তমান স্বামী দুলালকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, এমন নির্মম ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামোর ৩৬ কোটি টাকার কাজের টেন্ডারে অনিয়ম, তদন্তের নির্দেশ প্রধান প্রকৌশলীর

আপডেটেড ৯ মে, ২০২৬ ১৯:৩৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগ দোসর আত্মীয়-স্বজনের নামে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এপিএস তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) তদন্ত শুরু হবে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে ২৩ জুন বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশল হিসেবে মো. মেহেদী হাসান খান যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগ দোসরদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পরেছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে তিনি কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের।

জলবায়ু প্রকল্পের খাল খননে অনিয়ম হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো প্রকল্পের টাকা ছাড় করে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি দরপত্র আহ্বান করে। এ দরপত্রে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২০ এপ্রিল পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ওই কাজ পাইয়ে দেয় নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খাঁনসহ তিন প্রকৌশলী এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের। আগামী ১৪ মে এ টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কাজ শুরু হবে বলে জানান এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম। তিনি তদন্ত করতে নোটিশ করেছেন। বরগুনা এলজিইডির রেস্ট হাউসে তদন্ত করবেন তিনি।

এ টেন্ডার কার্যক্রমের অনিয়মের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাজ পাইয়ে দেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সকলেই আওয়ামী লীগের দোসর এবং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন প্রকৌশলীর আত্মীয়-স্বজন।

নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয় বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, শেখ সেলিমের ভাগনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয় নড়াইল জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেলিন-দিপ (জয়েন্ট বেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয় ঝিনাইদহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।

এ ছাড়া আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কারকাজে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা নিয়ে ঠিকাদারদের দিয়ে দায়সারা কাজ করিয়ে তাদের বরাদ্দ টাকা ছাড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন।

তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহের দুর্নীতির চিত্র। গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মসজিদ সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু ঠিকাদার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসানকে জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’ খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি; কিন্তু তিনি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাতো নেননি উল্টো ঠিকাদার যা করেছেন তাই মেনে নেওয়ার নির্দেশ দেন।’ কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, ‘ঢালাই দেওয়ার পরে সড়ক থেকে পিচ ওঠে গেছে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেনেও অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।’

ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, ‘বরগুনা জেলা স্থানীয় সরকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামোর প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার কাজ ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিকটাত্মীয় ও আওয়ামী লীগ দোসরদের দিয়েছেন।’

এ দরপত্রে তারা মোটা অংকের ঘুস নিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। তদন্ত করলেই তাদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেড়িয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে । তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে নোটিশ দিয়েছেন।’ বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, ‘কেন অভিযোগ দিয়েছেন তা যিনি অভিযোগ দিয়েছেন তিনিই বলতে পারবেন? আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ার কোনো অনিয়ম করিনি।’ এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম মুঠোফোন বলেন, ‘তদন্ত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে।’


banner close