মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২

সিলেটের বন্যা: লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। গতকাল কোম্পানিগঞ্জ সদর থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।

গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।

এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।

এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিসিকের ছুটি বাতিল

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ

সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


এলপিজি সংকটের অজুহাতে মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকা লুট

# আয় না বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যয়ের নতুন খাত # চিড়েচ্যাপ্টা মধ্যবিত্ত, বলছেন— এতটা ক্ষতিগ্রস্ত আগে কখনো হতে হয়নি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের অজুহাতে গ্রাহকের পকেট থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি আড়াই হাজার কোটি টাকা। নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৭০০ টাকার বেশি। ফলে আয় না বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যয়ের নতুন নতুন খাত। এতে চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা মধ্যবিত্তের। তারা বলছেন, যেখানে আগে গ্যাসের দাম ১২০০-১৩০০ টাকা, মাঝে মাঝে ১৫০০ টাকার বেশি হতো, সেখানে এখন এক সিলিন্ডারের দাম ২২০০ টাকা। আবার দোকানগুলোতে টাকা বেশি দিলেই সিলিন্ডার মিলছে, কম দিলে পাওয়া যাচ্ছে না। এতটা ক্ষতিগ্রস্ত আগে কখনো হতে হয়নি।
রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা মাহফিয়া বেগমের বাসায় সংযোগ থাকলেও প্রায়ই থাকে না গ্যাস। এতে মাসে ১০৮০ টাকা গ্যাস বিলের পাশাপাশি কিনতে হয় এলপিজিও। কিন্তু এখন সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক দামের কারণে ব্যয় বাড়ছে চক্রবৃদ্ধি হারে।
তিনি বলেন, লাইনের গ্যাসের জন্য অহেতুক দিতে হচ্ছে ১১০০ টাকা। আর সিলিন্ডার গ্যাসের দাম তো ডাবল হয়ে গেছে। আমরা কোন দিকে যাব? আয়ের তুলনায় তো খরচ বেড়ে গেছে। রাজধানীর কল্যাণপুরের বাসিন্দা শামসুন নাহার ও তার প্রতিবেশীদের একই অভিজ্ঞতা।
সিলিন্ডার নৈরাজ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। রাজধানীর হাতিরপুলের ব্যবসায়ী মো. সেলিমের মাত্র ১০ দিনে এলপি গ্যাসের পেছনে বাড়তি ব্যয় ৯ হাজার টাকা। অন্যদেরও ব্যবসা চালাতে হিমশিম অবস্থা। তিনি বলেন, ছোট তিনটি সিলিন্ডারে ৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে, বড় সিলিন্ডারে ৬ হাজার টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি খাবারের দাম বাড়াতে পারছি না। এতে এক টাকাও আমাদের লাভ হচ্ছে না।
অন্য ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি। তারা জানান, সিলিন্ডারও ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এখন পুরোটাই লস। কারণ গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
সরজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে ১২ কেজি এলপিজি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা বেশি। আর ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের জন্য বাড়তি নেয়া হচ্ছে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, বাজারে থাকা সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের মধ্যে বর্তমানে মাসে দুইবার রিফিল হচ্ছে সোয়া কোটি সিলিন্ডার। সে হিসেবে প্রতি সিলিন্ডারে এক হাজার টাকা বাড়তি নেয়া হলেও মাসে গ্রাহকের পকেট থেকে লুটে নেওয়া হচ্ছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।
সংকটকে অজুহাত করে গ্রাহকের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পেছনে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম. শামসুল আলম বলেন, এখন শুধু এলপিজি বাজার না, এলপিজি ব্যবসায়ীরা সরকারকেই নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও। এটা কি ভয়াবহ পরিস্থিতি না? ভোক্তা অধিদফতর কী করছে? এমন অবস্থায় রাষ্ট্র কোথায়? কোনো সভ্য সমাজ কি এমন কিছু অনুমোদন করতে পারে?
এলপি গ্যাস নিয়ে চলমান নজিরবিহীন নৈরাজ্যের মাঝেও সব পক্ষ নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবুও নিরুপায় গ্রাহকরা ভোগান্তিতে, কারণ দিনশেষে বাড়তি দামের বোঝা তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অতি প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি পণ্যের আমদানি স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কড়া নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।


সাভারে সাত মাসে ৬ খুন, সিরিয়াল কিলার সম্রাট গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি

অনেকটা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করলেও খুব ঠাণ্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জনকে খুন করেছেন মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কমিউনিটি সেন্টার থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানার উপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে মামলা করেন। মামলায় সম্রাটসহ আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এ তথ্য দেন।

আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি পাগল নন। সাইকো টাইপের (মানসিক বিকারগ্রস্ত) এই সম্রাট একে একে ছয়টি খুন করেছেন। তার পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যেককেই শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তিনজনের লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর লাশ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সম্রাট হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সম্রাট। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন।’

সাভার থানার পরিদর্শক অপারেশন হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আরও এক ভবঘুরে নারীকে কমিউনিটি সেন্টারে দেখা যায়। সম্রাট তাকেও ওই রাতে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।’

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। একেক দিন একেক রকম পোশাক পরতেন। তিনি কিছুটা অগোছালো কথাবার্তা বলতেন, এ কারণে সবাই তাকে পাগল মনে করতেন। আসলে তিনি পাগল নন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘রিমান্ড মঞ্জুর হলে থানায় এনে সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছয়টি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আরও কোনো হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।’


সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ্ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন তারা।

এ সময় তাদের হাতে ‘জাস্টিস ফর সাজিদ; হত্যার ১৮৬তম দিন আজ আর কত অপেক্ষা? সাজিদ ভাই কবরে খুনি কেন বাহিরে? প্রশাসনের হেলাফেলা মানিনা মানব না; কার ভয়ে প্রশাসন চুপ?” ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেন।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সাজিদ হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেন।


নেত্রকোনায় গুণীজনের সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংস্কৃতি মঞ্চ, নেত্রকোনার আয়োজনে প্রিয় গুণীজনের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন- নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা সংস্কৃতিজন মোজাম্মেল হক বাচ্চু, নেত্রকোনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিমসহ বিশিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কনক পণ্ডিত ও সঞ্চালনায় ছিলেন- সুলতানা রাজিয়া। আলোচনা শেষে সংস্কৃতি মঞ্চ, নেত্রকোনার পক্ষ থেকে তৃণমূল নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের জন্য-নারী উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী আফরোজা আক্তার লিজাকে ও বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য-কবি ও কথাসাহিত্যিক ইভান অনিরুদ্ধকে-২০২৫ পুরস্কার ও সংবর্ধনায় ভূষিত করা হয়। আলোচনার শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক গান ও নিত্য পরিবেশন করা হয়। এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


বরিশালে প্রতিদিন গড়ে ৯ ডিভোর্স, বিচ্ছেদের পথে এগিয়ে নারীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। গত দুই বছরে নিবন্ধিত বিয়ের তুলনায় তালাকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, নগরীতে প্রতিদিন গড়ে নয়টি করে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এসব বিচ্ছেদের আবেদনে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এগিয়ে রয়েছেন।

সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসার জীবনে আস্থা ও সহনশীলতার অভাব, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়ার প্রতি ঝোঁক এবং পরকীয়ার মতো বিষয়গুলো সংসার ভাঙনের বড় কারণ হয়ে উঠছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়েও মনোমালিন্য তৈরি হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত তালাকের পথে গড়াচ্ছে বহু পরিবার।

বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, দাম্পত্য জীবনে আস্থা হারিয়ে তিনি একসময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারে কলহ ও অবিশ্বাস তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। যদিও পরে তিনি বেঁচে ফেরেন, তবে তার অভিজ্ঞতা বর্তমান সামাজিক সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বিয়ে হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। যৌতুকের চাপ, শারীরিক নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধে ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্ক। এক তরুণী জানান, পরিবারের অমতে প্রেমের বিয়ে করেছিলেন তিনি। শুরুতে সব ঠিক থাকলেও পরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু হয়। এক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি।

নারীদের অভিযোগ, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার আসক্তির কারণে সংসারে অশান্তি বাড়ছে। অনেকেই নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত দুই বছরে বরিশালে মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি বিয়ের মধ্যে ভেঙেছে ৩ হাজার ৫টি সংসার। ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৭টি। আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও নারী নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অধিকাংশ অভিযোগের পেছনে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক সহিংসতা।

সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে সরে আসা এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়াই এই সংকটকে তীব্র করছে। তারা বলছেন, পরিবার ও সমাজভিত্তিক সচেতনতা বাড়াতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তালাকের ক্ষেত্রে নারীদের আবেদন তুলনামূলক বেশি। ২০২৫ সালে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

আপডেটেড ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে র‍্যাব-৭-এ কর্মরত ডিএডি মো. মোতালেব নামের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

নিহত মোতালেব মূলত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ছিলেন এবং প্রেষণে র‍্যাবে নিয়োজিত ছিলেন। অভিযানে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে আরও কয়েকজন র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “র‌্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযানে যান। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে কয়েকজন র‌্যাব সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”

দীর্ঘ চার দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি স্থাপন ও দুর্ধর্ষ সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে একটি শক্তিশালী বাহিনী গড়ে উঠেছে, যারা নিজস্ব পরিচয়পত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও সেখানে প্রায়ই সংঘবদ্ধ সশস্ত্র বাধার সৃষ্টি করা হয়। এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’ ও ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’ নামক দুটি প্রভাবশালী সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। ইয়াসিন মিয়া, কাজী মশিউর ও গাজী সাদেকের মতো ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিশাল বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে আসছে। বর্তমানে ঘাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ওই এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক তল্লাশি ও যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আর কোনো গুম, খুন করতে না পারার জন্যই ‘হ্যাঁ-না’ ভোট: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

যাতে আগের মতো আর কোনো স্বৈরাচার মানুষকে গুম, খুন যেন না করতে পারে এ জন্যই ‘হ্যাঁ-না’ ভোট। আর সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটটা এ সরকারের জন্য অপরিহার্য হয়েছে। সংস্কারের জন্য এ সরকার এসেছে। সংস্কার এ সরকারের একটা ম্যান্ডেট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদারে অংশ হিসেবে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলায় কর্মরত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক এ কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জয়পুরহাট সিভিল সার্জন মো. আল মামুন, তথ্য কর্মকর্তা ইব্রাহিম মোল্লা, জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

মতবিনিময় সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সাধারণ মানুষের মাঝে গণভোটের সচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার করতে নানা দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়।

এদিকে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দোগাছিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোট ২০২৬ ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিবিষয়ক এক উঠান বৈঠক আয়োজন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক।


চরে কোটি টাকার ব্রিজ, নেই সংযোগ সড়ক: ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সংযোগ সড়ক ছাড়াই চরে নির্মাণ করা হয়েছে ৪ কোটি টাকার ব্রিজ। সড়ক না থাকায় ব্রিজটি কাজে আসছে না চরাঞ্চলের মানুষের।

উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ঘুইষ্ণার চরে নির্মিত এ গার্ডার ব্রিজটি এখন পরিত্যক্ত। গাফিলতির অভিযোগে ১ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পরে আছে নির্মাণসামগ্রী, মরিচা ধরছে রডগুলোতে। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ শুরু হলেও বাস্তব অগ্রগতির ঘাটতি, সংযোগ সড়ক না থাকা এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাতায়াতের কোনো সড়ক না থাকায় এই চরাঞ্চলের কুলপাল, কাজল গ্রাম, কুমারপাড়া, বারিকান্দি পার্শ্ববর্তী কাজীপুর উপজেলার পানিবাড়ী, ৬নং চর ও লক্ষীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষদের চলাচলে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষকে নৌকাযোগে চলাচল করতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/ কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আওনা ইউনিয়নের আওনা-ঘুইষ্ণার চর এলাকার যমুনা নদীর শাখা অংশের জন্য ২ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ১১৪ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুইটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এবিএম ফয়সাল কনস্ট্রাকশন’। বর্তমানে একটি ব্রিজের কাজ শেষ হলেও অন্যটির নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় বন্ধ পড়ে আছে। এ চরাঞ্চলে যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকলেও সেখানে কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইটি গার্ডার ব্রিজ, যা কোনো কাজেই আসছে না এই এলাকার জনসাধারণের। এভাবে সরকারি অর্থ অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকল্পের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান এলাকাবাসী।

চরাঞ্চলের বাসিন্দা বৃদ্ধ খবির উদ্দিন, আমেনা বেওয়া, শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম, মনা, আখিসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বর্ষার সময় এই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে থাকে, তখন নৌকা ছাড়া কোথাও চলাচল করা যায় না, ব্রিজের আগে এই চরাঞ্চলে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা জরুরি। যেখানে রাস্তাই নাই সেখানে ব্রিজ দিয়ে কী হবে? আমাদের এই ব্রিজ পর্যন্ত আসতে আরও দুইটি নদী নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। যেখানে আগে ব্রিজ প্রয়োজন ছিল, সেখানে না করে জনমানবহীন স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।

অপরদিকে ঘুইষ্ণাচর গুচ্ছ গ্রাম (আশ্রয়ন প্রকল্প) জন্য নির্মাণাধীন অন্য গার্ডার ব্রিজটির ছাদে রড বাঁধা অবস্থায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে রয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ে নেই কোনো অগ্রগতি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী। রডে মরিচা ধরছে, যা নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে মেসার্স এবিএম ফয়সাল কন্সট্রাকশন এর ঠিকাদার মো. মকবুল হোসেন বলেন, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে খুবই কষ্টকর ও ব্যায়বহুল। তবে ব্রিজের কাজ অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল বলেন, এটা ২০২২-২৩ অর্থ বছরের কাজ। তৎকালিন কর্মকর্তা পরিদর্শনপূর্বক স্থান নির্ধারণ করেন। বর্তমানে সেই কাজটিই চলমান রয়েছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে একটি ব্রিজের দুপাশে সংযোগ সড়ক নিমাণ করার কাজ শুরু হয়েছে। অন্যটিতেও সড়কের কাজ শুরু করা হবে।


রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হলো কৃষকের স্বপ্ন, নিধন ৩ শত কলাগাছ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় গভীর রাতে এক অসহায় কৃষকের স্বপ্ন ও জীবিকার ওপর নির্মম আঘাত হানা হয়েছে। ফলন্ত অবস্থায় থাকা ৩ শতাধিক কলাগাছ কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গালঘাট গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হাকিম এ ঘটনায় বদলগাছী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের আব্দুল হাকিম ও টিটুর মধ্যে জমি ও কলা বাগানকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গভীর রাতে টিটু পক্ষের লোকজন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হাকিমের কলা বাগানে অনুপ্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩ শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলে।

সকালে বাগানে গিয়ে কাটা গাছগুলো দেখতে পান হাকিম ও তার পরিবারের সদস্যরা। মুহূর্তেই বাগানজুড়ে নেমে আসে কান্না আর হতাশার ছায়া। চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যায় তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর ভবিষ্যৎ জীবিকার শেষ আশাটুকু।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হাকিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই কলা বাগানটাই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। গাছগুলো আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি করার কথা ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। প্রতিপক্ষ ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে আমাদের সর্বনাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা শুধু গাছ কাটার ঘটনা নয়, এটি একজন কৃষকের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।

এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, কৃষকের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


হাটহাজারীতে ৪০ কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে হাটহাজারী উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া প্রযুক্তি গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত ৪০ জন কৃষক–কৃষাণির মাঝে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় ওই প্রযুক্তি গ্রামের মোট ৪০ একর কৃষিজমিতে পরিচালিত প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উপকরণ সরবরাহ করা হয়।

বিতরণকৃত কৃষি উপকরণের মধ্যে ছিল- ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সালফেটসহ বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড় দমনে ব্যবহৃত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক। পাশাপাশি পরীক্ষণ প্লট চিহ্নিত করার জন্য সাইনবোর্ডও প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এলএসটিডি প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা. আমিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘বোরো মৌসুমে সঠিক বয়সের চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, আগাছা দমন এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক ও উচ্চফলনশীল ধানের সর্বোচ্চ ফলন অর্জন সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক ধান চাষাবাদ প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ধান উৎপাদনকে টেকসই করা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এ সময় হাটহাজারী উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, মো. জহিরুল ইসলাম ও নুরুল আবসার উপস্থিত ছিলেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম এলাকার কৃষকদের আধুনিক ধান চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করবে। উল্লেখ্য, এর আগে এই পরীক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছিল।’


রাঙামাটিতে এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর যোগদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। বিকেল চারটায় রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সুকুমার দেওয়ানের নেতৃত্বে এই যোগদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

এনসিপির রাঙামাটি সদর ও জুরাছড়ি উপজেলার এই বিশাল সংখ্যক নেতা-কর্মীর দলবদল প্রসঙ্গে সুকুমার দেওয়ান জানান, ‘রাঙামাটি সদর উপজেলা ও জুরাছড়ি দুই উপজেলা থেকে আমাদের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।’ তবে বিষয়টি সম্পর্কে এনসিপির রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘যোগদানের বিষয়টি শুনেছি। কারা যোগদান করেছেন, তা সঠিকভাবে জানি না, তবে সুকুমার দেওয়ানের নাম শুনেছি।’

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবাগতদের স্বাগত জানান রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। তিনি দলটির প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের বিকল্প নেই। বিষয়টি বুঝতে পেরে এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তাঁরা সর্বাত্মক সহায়তা করবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুনসহ স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। এনসিপি ছেড়ে আসা এই নেতা-কর্মীরা আগামী দিনে বিএনপির পতাকাতলে থেকে দেশ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।


ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নদী পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে শহরের নবগঙ্গা নদীর ক্যাসেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ৩ দিনব্যাপী এই পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। সেসময় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মহসিন উদ্দিন, ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজন এ অভিযান চলবে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। শহরের ক্যাসেল ব্রিজ ত্রিমোহনা থেকে চাকলাপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত নদীর দুই পাড় পরিস্কার, কচুরিপানা অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।


মাগুরায় নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনকালীন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ মাগুরায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর উদ্যোগে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে হচ্ছে।

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে সকাল ৯টায় নিবন্ধন ও পরিচয় পর্বের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শুভসূচনা হয়। পরে ‘গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: সরকার, প্রশাসন ও সাংবাদিকতা’—বিষয়ক আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, জনগণের ভোটাধিকার, নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন প্রশিক্ষক হিসাবে শারমীন রিনভী নির্বাচন রিপোর্টিং বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সভাপতি ইআরএফ।

প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বিশেষত নির্বাচন কাভারেজে নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন পিআইবির প্রশিক্ষক শাহ আলম সৈকত, তথ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সজীব, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আব্দুল কুদ্দুস বাবু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরন।

প্রশিক্ষণে মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার ৫০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেয়।


banner close