মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২

সিলেটের বন্যা: লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। গতকাল কোম্পানিগঞ্জ সদর থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ০০:৪৯

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে যখন আনন্দমুখর পরিবেশ তখন বিপরীত চিত্র সিলেট বিভাগের চার জেলায়। এখানে ঈদে কোরবানি পালন হয়েছে ঠিকই কিন্তু, ঈদের দুই তিন দিন থেকে পাহাড়ি ঢল আর অতিবর্ষণে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়ে পড়ে নিম্নাঞ্চল। সেই পানি বাড়তে বাড়তে এখন টইটম্বুর হয়ে বিপৎসীমার ওপরে চলে গেছে শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী সুরমা নদী। পুরো জেলায় শুকনো মাঠ খুঁজে পাওয়া এখন দায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর ঈদের দিন থেকেই সিলেট শহরে ঢুকে গেছে বন্যার পানি। গত ২০ দিনের মধ্যে সিলেটে এটি দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হওয়ার ঘটনা।

সিলেট ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু জানান, এদিকে সৃষ্ট বন্যায় ঝুঁকিতে পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার বিদ্যুতের সাবস্টেশন। সুরমা নদী ছাপিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এটি প্লাবিত হলে দক্ষিণ সুরমার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়তে পারেন।

গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তাদের সহায়তা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে তারা।

এদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পর্যটন কেন্দ্রে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে সেনাবাহিনীর এক টিম নিয়ে সাব-স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন- এই সাব-স্টেশনে কোনো সমস্যা হলে চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া যাতে পানি না উঠে সে জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি উপ-কেন্দ্রটি সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ এর অধীনস্থ। এই উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো উঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীও সাহায্য করছে।

এর আগে ২০২২ সালের বন্যায়ও তলিয়ে গিয়েছিলো এ বিদ্যুৎকেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ২০ দিনের মাথায় দ্বিতীয় দফা পানিতে ভাসছে সিলেট। সোমবার ঈদের দিন সকাল থেকে সিলেটের অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।

সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ

সিলেটের বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ উপজেলায় উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় জননিরাপত্তা বিবেচনায় জাফলং, জলারবন রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও পান্থুমাই পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্পটে পর্যটকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম।

এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিসিকের ছুটি বাতিল

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দক্ষিণ সুরমায় সিটি করপোরেশনের ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে যান সিসিক মেয়র। এ সময় তিনি বন্যা দুর্গতদের জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর দক্ষিণ সুরমায় সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল কলেজ রোডসহ কয়েকটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট জেলায় আক্রান্ত প্রায় চার লাখ

সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। বন্যার্তদের জন্য জেলায় ৬১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান।

মৌলভীবাজারে ডুবল ৩৩২ গ্রাম, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি:

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারের ছয় উপজেলার ৩৭ ইউনিয়নের ৩৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিমপুর ইউনিয়নের টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয় ও হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বড়লেখার ১০টি, জুড়ীর ছয়টি, কুলাউড়ার ছয়টি, সদরের চারটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, শ্রীমঙ্গল পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বুধবার (১৯ জুন) সকালে জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম (স্কাউট, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, যুব রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পওর বিভাগ, বাপাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ধলাই নদী (রেলওয়ে ব্রিজ) এলাকায় পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর মনু নদী (চাঁদনীঘাট) এলাকায় পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর (শেরপুর) পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঈদের দিন ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণ এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌর শহরের মাগুরা, সাদেকপুর, বিহালা, সোনাপুর, কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন, মৈন্তাম, ভাগমতপুর, গুপ্তগ্রাম, তিলকপুর, ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর, কোরবানপুর, মুক্তাজিপুর, জাবদা, কালেশার, কাইরচক, চিলারকান্দি, কানেহাত, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া, মিরবক্সপুর, কামারকান্দি, কুটাগাঁও, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দেখিয়ারপুর, কুলাউড়া গ্রাম, বনগাঁও, গাজীপুর আংশিকসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত কুলাউড়ার ৬০টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত। এসব গ্রাম ও এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এ ছাড়া ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ১৯৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জেলার সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জ শহরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাবারের কষ্টে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষিদে সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। বুধবার বেলা আড়াইটায় শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি জানালেন, ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য তার গাড়ী চালক স্বামীর কোন রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও তারা কোন সহায়তা পান নি। রান্না-বান্না করার সুযোগও নেই। কোন রকম দিন কাটছে তাদের। তিনি জানান, আজ সকালে একজন এসে পাউরুটি ও কলা দিয়েছে।

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালের পাশে থাকা তাসলিমা। এ সময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্না করায় শাসন করতে দেখা যায় তাসলিমাকে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বললেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। বললেন, আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (একজন নাইট ডিউটি করেন ও অন্যজন দিনমজুর) বললেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের আরেক বাসায় রেখেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নীচে। বললেন, এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা পত্রিকা বিপণন কর্মী নুর হোসেন বললেন, তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ঘর-বাড়িতে গিয়ে ঢুকছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, ৫৪১ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছেন ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ। যারা আশ্রয় কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে উঠেননি তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


নড়াইলে রোটারি চক্ষু হাসপাতাল উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা গ্রাম। গ্রামের কুল ঘেষে বয়ে চলেছে চিত্রা নদী। নদীর তীরে মসজিদ মন্দিরের মাঝে স্থাপিত হলো বাংলাদেশ রোটারি চক্ষু হাসপাতাল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান অতিথি হয়ে হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করেন দেশ বরেণ্য রোটারিয়ান পিজিডি কেএম জয়নুল আবেদীন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে নয়, সেবাই হবে এই হাসপাতালের প্রথম শর্ত। হাসপাতালের এক পাশে মসজিদ অন্য পাশে মন্দির। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য স্থাপন করা এই জেলার হাসপাতাল হবে দেশ সেরা। এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে হবে। নড়াইলকে তুলে ধরতে হবে অন্য এক উচ্চতায়।

তিনি বলেন, ‘দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝে ডায়াবেটিক হাসপাতাল এবার যুক্ত হলো চক্ষু হাসপাতাল। দেশের কোথাও দেখা যায় না এমন দৃশ্য।’ আবেগ ঘণ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘অন্তরে মানবতা না থাকলে, প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। মানুষকে ভালোবাসলে নিজেও ভালো থাকা যায়। এসো বন্ধুর বন্ধনে আবদ্ধ হই।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নড়াইলে এই রোটারি চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রোটারিয়ান পিজিডি প্রকৌশলী এম, এ ওহাব, বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএ মতিন,পটুয়াখালি মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রোটারিয়ান ডা. এসএম আবুল হাসান, অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. রেজাউল আলম, সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান মল্লিক, ডা. আশীষ কুমার সাহা প্রমুখ।


দেবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ক্লিনিক কর্মীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

দেবীগঞ্জে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় শ্রী সমেস চন্দ্র নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেবীগঞ্জ–বোদা মহাসড়কের পাকড়িতলা মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সমেস পামুলী ইউনিয়নের কাটনহারী আরাজী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই

এলাকার হরি কিশোর বর্মনের ছেলে। পেশায় তিনি দেবীগঞ্জের ‘মায়ের হাসি ক্লিনিক’-এ কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতেও কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন শ্রী সমেস। এ সময় পাকড়িতলা মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে পৌঁছালে একটি বালু বোঝাই দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং ট্রাকটি তাকে রাস্তার সঙ্গে পিষে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা জানান, ওই স্থানে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির যানবাহন হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা অবিলম্বে ওই স্থানের স্পিড ব্রেকার অপসারণ বা সঠিকভাবে সংস্কারসহ নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।


আমতলীতে একই রাতে দুই সরকারি কার্যালয়ে চুরি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলায় একই রাতে দুটি সরকারি কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে সংঘটিত এ

ঘটনায় সরকারি দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ফুটেজ অনুযায়ী, চোরেরা অফিস ভবনের দক্ষিণ পাশের গ্রিল ভেঙে আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসে প্রবেশ করে। এরপর তারা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারীর কক্ষসহ মোট তিনটি

কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এ সময় আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে একটি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, গভীর রাতে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। এতে দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। একই রাতে আমতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী

প্রকৌশলীর কার্যালয়েও চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি কক্ষের তালা ভেঙে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এলোপাথাড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে। তবে কার্যালয়ে নগদ অর্থ না থাকায় তারা কিছু চুরি করতে পারেনি বলে জানান উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোহাগ মিয়া।

দুটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আমতলী থানা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সাইদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণসহ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কার্যালয়গুলোর রাতকালীন নিরাপত্তা দুর্বল থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।


পরমাণু শক্তি কমিশনের সদস্য হলেন হাসিনুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমানকে কমিশনের সদস্য (পরিকল্পনা) (চলতি দায়িত্ব) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

এর আগে তিনি কমিশনের পরিচালক (ভৌত বিজ্ঞান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কমিশনের বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে (BAEC) যোগদানের পর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে হাসিনুর রহমান নিউক্লিয়ার ইন্সট্রুমেন্টেশন, এনার্জি অ্যানালাইসিস এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন এবং প্রকল্পটির উপপ্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রূপপুর প্রকল্পের সাইট নির্বাচন, ডিজাইন নির্বাচন, সাইট ও ডিজাইন লাইসেন্স অর্জন, জেনারেল কন্ট্রাক্ট আলোচনা ও চূড়ান্তকরণ, কনস্ট্রাকশন লাইসেন্স গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তিনি অসাধারণ পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। বর্তমানে তিনি Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty Organization (CTBTO)-এর বাংলাদেশের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মজীবনের অংশ হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, অস্ট্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত (আবুধাবি), মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া ও বেলারুশসহ বহু দেশ সফর করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মো. হাসিনুর রহমান। তিনি ১৯৬৭ সালে পাবনা জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।


নির্বাচনে অপসাংবাদিকতা রোধে দিনাজপুরে প্রেস কাউন্সিলের কর্মশালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপসাংবাদিকতা রোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার নিয়ে দিনাজপুরে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জেলা সার্কিট হাউস কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ​তৃণমূল পর্যায়ে সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন এবং নির্বাচনের স্পর্শকাতর সময়ে ভুয়া খবর (ফেইক নিউজ) প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। ​প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে।

অপসাংবাদিকতা শুধু একটি পেশাকে কলঙ্কিত করে না, বরং গোটা গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। ​উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার সাদিয়া আফরিন শেফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের পুলিশ সুপার বজনাব মো. জেদান আল মুসা (পিপিএম) ​কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপসচিব) জনাব মো. আব্দুস সবুর। তিনি অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ও আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে।’

​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সব ধরনের তথ্যগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন এবং সুস্থ সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

​তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে এই কর্মশালায় দিনাজপুরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।


টঙ্গীতে রিভলবারসহ যুবক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি রিভলবারসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর দক্ষিণ (বিভাগ) গোয়েন্দা পুলিশ। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকার থেকে রিভলবারসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম ইজাজুল ইসলাম (৪০)। সে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলা দায়ের শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকার গার্লস স্কুল সড়কে অবৈধ অস্ত্র আদান প্রদানের তথ্য পায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজাজুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে।পরে তার কাছ থেকে একটি রিভলবার জব্দ করা হয়।

রাতেই গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের শেষে আদালতে পাঠানো হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানারে ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘থানায় মামলা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে গেছে।’


 ‘খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ থাকুক জনগণ’

আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৫
ইবি প্রতিনিধি

স্লোগানকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা হয়।

র‌্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, নিরাপদ খাদ্যে তার সমতুল; ভেজালমুক্ত খাদ্য, সুস্থজাতি, নিরাপদ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য; ভেজালকে ‘না’ বলুন, নিরাপদ খাদ্য বেছে নিন; জাঙ্ক ফুড বর্জন করি, স্বাস্থ্যকর জীবন গড়ি; খাদ্য হোক নিরাপদ, সুস্থ থাকুক জনগণ’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. এ. এস. এম আয়নুল হক আকন্দ। এ ছাড়া বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থীও ছিলেন।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন করা হয়। এ বছর ‘নিরাপদ খাদ্য হোক সবার জন্য সুস্থতার নিয়ামক’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জনগণের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘একটি জাতির সুস্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ভেজালমুক্ত, ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত খাদ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগ—এই তিন স্তরের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আজকের এই আয়োজন। নিরাপদ খাদ্য বলতে শুধু ভেজালমুক্ত খাবার নয়, বরং সঠিক স্যানিটেশন ও হাইজেন মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত।’

এ ছাড়া তিনি জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে HACCP, GMP ও ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া জরুরি। তিনি ভেজাল খাদ্যের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


সীতাকুণ্ডে রিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রির লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সীতাকুণ্ডে রিকশার গ্যারেজ থেকে এক মিস্ত্রির লাশ উদ্ধার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে আব্দুর রহমানের রিকশা গ্যারেজ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিকশা মিস্ত্রির নাম সবুজ (২৫)।

নিহত রিকশা মিস্ত্রি সবুজের মাথায় ধাতব পদার্থের আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ । সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মহিনুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহত রিকশা মিস্ত্রি সবুজের মাথায় আঘাতের চিহ্ন থেকে হত্যা হিসেবে বিবেচনা করে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।


কেশবপুরে এনজিও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৫৩
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুরে মাসিক এনজিও সমন্বয় কমিটির সভা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এ সভা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর সহকারী কমিশনার ভূমি কাজী মেশকাতুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, কেশবপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি সকল এনজিওকে নিয়মিত মাসিক সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানান।

দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জরুরি। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শিক্ষার নিশ্চয়তা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষাসেবা পৌছে দিতে এনজিওদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

সভায় মানবসেবা ও সামাজিক সংস্থা-এর পরিচালক জুবায়ের হাসান রাকিব সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। সংস্থাটি ২০২১ সালে কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের পাড়ে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সংস্থার স্লোগান: ‘আমরা মানুষের সেবা করি– আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য’। তারা বন্যার্তদের সহায়তা, অসহায় শিশুদের শিক্ষা, নারী পাচার প্রতিরোধ, বৃক্ষরোপণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং দরিদ্র কৃষকের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাধান এনজিও’র সিনিয়র ম্যানেজার মুনছুর আলী, রিইব এনজিও’র সমন্বয়ক খালিদ হাসান, সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম, এস আর যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচালক গোলাম কিবরিয়া, মায়া পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মিলন হোসেন, ভাব-এর ফিল্ড অফিসার কামরুজ্জামান রাজু, পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির বুলবুল ইসলামসহ বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তারা।


৭ দফা দাবিতে নওগাঁয় সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭ দফা দাবিতে নওগাঁয় বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি করেছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারিরা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

এদিকে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন দপ্তরের ২ ঘণ্টা সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি খাস জমির বন্দোবস্ত কাজ করার জন্য রাজস্ব শাখায় আসেন। আজকে সেই কাজের শেষ তারিখ। কিন্তু তিনি সকালে এসে দেখেন সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন করছেন। কেউ অফিসে নেই।

আদালতে সেবা নিতে আসা রহিদুল সরকার বলেন, ‘দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি ছিল তার। তাই সকল কাগজপত্রাদি ঠিক করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এসে দেখেন কোন কর্মচারী তার অফিসে নেই। আজকে শুনানী না হয় তাহলে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।’

এ সময় আন্দোলকারীরা বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু এ সরকার পে-স্কেল দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারে সরকারি কর্মচারীরা যে বেতন পায় দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার বিভিন্ন দাবি মেনে নিলেও কর্মচারীদের পে-স্কেল দিচ্ছে না। তাই এবার সরকারি কর্মচারীরা দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং বেতন বৈষম্য দূরীকরণ করেই ঘরে ফিরবে। দ্রুত দাবি না মানলে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণার হুশিয়ারি দেন তারা।

আন্দোলকারীরা হাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘নো পে-স্কেল নো ইলেকশন। আমরা কোন নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করব না। আমরা কোন ভোট দেবো না। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।’

আরেক আন্দোলনকারী নাহিদ আল-সালাম বলেন, ‘আমাদেরকে আশ্বাসের নামে মুলা দেখানো হচ্ছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার কমিশন গঠন করেও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এখন বলা হচ্ছে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। তাহলে কেন এ সরকার কমিশন গঠন করলো। ৫ আগস্টের পর বৈষম্য দূর করার জন্য আপনাদেরকে বসানো হয়েছে। আবারো যদি বৈষম্য করেন তাহলে একইভাবে টেনেহেঁচড়ে নামাবে মানুষ।’

আন্দোলকারীদের ৭ দফার মধ্যে আছে, ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি।


বারি―র নতুন মহাপরিচালক ড. আতাউর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

স্বনামধন্য কৃষি বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জারিকৃত আদেশ বলে তিনি বারি’র মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এর আগে ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বারি’র পরিচালক (গবেষণা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি নিয়মিতভাবে

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।

তিনি জাপানের কিউসু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপ যোগদানের উদ্দেশ্যে নেপাল, ভারত, ভূটান, জাপান, থাইল্যান্ড, অস্টেলিয়া ও মালেশিয়া ভ্রমণ করেছেন।

এছাড়াও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সায়েন্টিফিক জার্নালে নিয়মিতভাবে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান ১৯৬৭ সালে দিনাজপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ২ সন্তানের জনক।


নবীনগরে বিতর্ক প্রতিযোগিতা: দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

দুর্নীতি প্রতিরোধে পারিবারিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদের পুরনো হলরুমে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা হয়। এবারের বিতর্কের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য’।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিযোগিতায় লটারির মাধ্যমে পক্ষ ও বিপক্ষ দল নির্ধারণ করা হয়। এতে পক্ষে অংশগ্রহণ করে বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিপক্ষে অংশ নেয় নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এর আগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ক ও খ গ্রুপের বাছাই পর্ব হয়।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক), নবীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি আবু কামাল খন্দকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুপ্রকারের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব মোহাম্মদ হোসেন শান্তি।

শুরুতেই উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন। বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, মোশাররফ হোসেন ও আশিষ কুমার গুহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্বাস উদ্দিন হেলাল।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন।


ভেড়ামারায় কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কৃষি প্রযুক্তি মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃমি সাম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম। এতে আরোও ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডা. গাজী আশিক বাহার, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমদাদুল হক বিশ্বাস প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা বলেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে বুধবার পর্যন্ত। ৩ দিন ব্যাপী এই মেলায় সরকারি দপ্তর ছাড়াও কৃষি উদ্যোক্তাদের স্টল স্থান পেয়েছে। এসব স্টলে কৃষি ও কৃষকের ফসল উৎপাদনের জন্য আধুনিক সব প্রযুক্তি ছাড়াও কৃষকদের উৎপাদিত উন্নত ও হাইব্রীড জাতের নানা ফসল প্রদর্শন করা হয়েছে।


banner close