শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৯ ফাল্গুন ১৪৩২

তিস্তায় নৌকা ডুবে শিশু নিহত, নিখোঁজ ৮

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২০ জুন, ২০২৪ ১২:৩৪
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৪ ১২:৩৩

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীতে নৌকাডু‌বির ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের দাওয়াত শেষে ফেরার প‌থে ২৫ থে‌কে ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে নদীতে ডুবে যায় নৌকাটি। এতে আড়াই বছরের এক কন্যা শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় ৭ থেকে ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন উলিপু‌র ফায়ার সার্ভি‌সের স্টেশন ইনচার্জ আব্বাস উদ্দিন।

তি‌নি জানান, এক‌টি নৌকায় ২৫ থে‌কে ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে দাওয়াত খে‌য়ে সুন্দরগঞ্জ উপ‌জেলার বেলকায় যাচ্ছিলেন। প‌থে তিস্তা নদীর তীব্র স্রো‌তে নৌকা‌টি ডু‌বে যায়। এতে অন‌্যরা নদী সাঁত‌রে পা‌র হতে পার‌লেও ৭ থে‌কে ৮ জন নিখোঁজ রয়েছে।

রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময় জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ বলেন, ‘এক শিশু নিহত হয়েছে এটা নিশ্চিত। তবে নিখোঁজ হবার বিষয়ে এখনও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।’


বোরহানউদ্দিনে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৩৭
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা প্রতিনিধি:

ভোলার বোরহানউদ্দিনে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

রাত ১২টা ১মিনিটে প্রথম প্রহরে উপজেলা প্রশাসন চত্বরে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়।

দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

এরপর শ্রদ্ধা জানান, বোরহানউদ্দিন থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুক্তিযোদ্ধা , জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বোরহানউদ্দিন প্রেসক্লাব, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতাষ্ঠান সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো।

এ সময় তারা ১মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় তাঁদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। এরপর উপজেলা প্রশাসন জামে মসজিদের ইমাম ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।


মব কালচার থেকে সরে আসা উচিত: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের অমর লগ্নে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী। আজ শনিবার সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বর্তমানে প্রচলিত ‘মব কালচার’ বা গণ-উন্মাদনার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গড়ার পথে মব কালচার অন্যতম প্রধান বাধা। যারা এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে এই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী মনে করেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রতিটি নাগরিককে নিজস্ব অবস্থান থেকে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

বক্তব্য চলাকালে মন্ত্রী এ্যানি চৌধুরী দেশের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এখন সবার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তবে সেই অপকর্মের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে ঊর্ধ্বে না রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখার প্রধান শর্ত।

সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ফলাফল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার ফলে তা ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের বিষয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অন্যদিকে, যেসব ক্ষেত্রে ‘না’ ভোট এসেছে, সেখানে নিয়ম অনুযায়ী সংসদে আলোচনা হবে এবং নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আইনবিদদের সঠিক ব্যাখ্যার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সাধারণ জনগণকে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে জানার ও বোঝার অনুরোধ করেন।

সবশেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও একটি ঐক্যের ডাক দেন। তিনি বলেন, ভিন্ন মতপথ থাকাটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, তবে সব ইস্যুতে কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশকে স্থিতিশীল রাখা এবং সরকারের গঠনমূলক কাজে সহায়তা করা সকল রাজনৈতিক শক্তির নৈতিক দায়িত্ব। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর ও পৌর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ দল ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়ার শপথ নেওয়ার মাধ্যমেই তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।


চট্টগ্রাম বন্দরে শিগগিরই গতি বাড়বে: অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে নজিরবিহীন গতি সঞ্চার করার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন অংশীজন ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বন্দরের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধান করা গেলে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, যার সরাসরি সুফল পাবে দেশের সাধারণ ভোক্তা সমাজ।

বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, কাস্টমস থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক পর্যন্ত প্রতিটি স্টেকহোল্ডারের সমস্যাগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বন্দরের অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হয়েছে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজন এমন বিষয়গুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের কথা মাথায় রেখে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো দ্রুততম সময়ে খালাস করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রীর মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে বাজারে কোনো পণ্যেরই বাড়তি দাম থাকার যৌক্তিকতা নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সহজীকরণের পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার নিয়েও এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে শেয়ার বাজারের ওপর সাধারণ মানুষ যে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শেয়ার বাজার এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সঙ্গে সরকার আপস করবে না। তিনি জানান, পুঁজিবাজারে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে এই খাতে এক বিশাল বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।

অর্থমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেয়ার বাজারে এই শৃঙ্খলা ফিরে আসলে কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন না, বরং এটি দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে বড় ধরনের পুঁজির জোগান দেবে। এর ফলে একদিকে যেমন কলকারখানার উৎপাদন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখা এই সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন। মেহদীবাগের এই বৈঠকে বন্দর ও কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা অর্থমন্ত্রীর এই ত্বরিত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।


বাউফল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোকসজ্জা নিয়ে তীব্র বিতর্ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোকসজ্জা করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শোকের এই দিনে শহীদ মিনারকে উৎসবের আমেজে রঙিন আলোয় সাজানো শহীদদের আত্মদানকে অবজ্ঞা করার শামিল বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে গত রাত থেকেই ফেসবুকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

অমর একুশের প্রথম প্রহরে বাউফলের পাবলিক মাঠ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে সবার নজর কাড়ে শহীদ মিনারের চারপাশের চাকচিক্যময় আলোকসজ্জা ও ঝাড়বাতি। সাধারণত ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি শোকাবহ দিন হিসেবে পালিত হলেও, বাউফল প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী সজ্জাকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।

স্থানীয় সাংবাদিক শহিদুল হক ওরফে এমরান হাসান সোহেল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন যে, ১৯৫২ সালের এই দিনে মায়ের ভাষার জন্য বাংলার বীর সন্তানরা রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। জাতি যখন তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগে শোকাভিভূত, তখন শহীদ মিনারকে ঝাড়বাতি দিয়ে রঙিন করে তোলা শহীদদের প্রতি এক ধরনের ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন যে, শোকের দিনে এমন আলোকসজ্জা তিনি তাঁর জীবনে কখনো দেখেননি এবং সেখানে উপস্থিত থেকেও স্থানীয় সংসদ সদস্য এর কোনো প্রতিবাদ না করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

বাউফল উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফিরোজও এই আলোকসজ্জা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাজধানীর মূল বেদিতে যেখানে কোনো আলোকসজ্জা নেই এবং ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখা হয়েছে, সেখানে বাউফলে এমন রঙিন লাইটিংয়ের যৌক্তিকতা কোথায়? তাঁর এই স্ট্যাটাসের নিচে অসংখ্য নেটিজেন মন্তব্য করে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অপরিকল্পিত ও অমর্যাদাকর হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সমালোচনার মুখে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ তাঁর দপ্তরের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান যে, আলোকসজ্জা করার উদ্দেশ্য কোনো উৎসব পালন নয়, বরং রাতের অন্ধকারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় দৃশ্যমানতা বাড়ানো বা আলো স্বল্পতা দূর করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, এই লাইটিংয়ে কেবল জাতীয় পতাকার লাল ও সবুজ রং ব্যবহার করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় আলপনা আঁকা হলে যদি দোষ না হয়, তবে জাতীয় পতাকার রঙে আলোকায়ন কোনোভাবেই বিতর্কিত হতে পারে না। তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার পরও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ কাটেনি। অনেকের মতে, আলোকসজ্জার পরিবর্তে কেবল প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা রাখা যেত, যা দিবসের মূল ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করতে সহায়ক হতো। সব মিলিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে এই আলোকসজ্জার বিষয়টি বাউফলের জনমনে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বাধার মুখে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি রুমিন ফারহানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের তীব্র বাধা ও হট্টগোলের কারণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অভিযোগ উঠেছে, উত্তেজিত নেতাকর্মীরা এসময় রুমিন ফারহানার হাত থেকে পুষ্পস্তবক কেড়ে নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে রাত পৌনে ১২টার দিকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি যখন বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে উত্তেজিত বিএনপি কর্মীরা রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি টেনেহিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। তবে উত্তেজনার মুখে শেষ পর্যন্ত আর শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব হয়নি রুমিন ফারহানার পক্ষে। পরে নিজের অনুসারীদের পাহারায় তিনি দ্রুত শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। নিজের নির্বাচনী এলাকায় নিজ দলেরই একটি অংশের কাছ থেকে এমন আচরণের শিকার হওয়ায় রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাত ১২টা ১ মিনিটে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করা হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার শ্রদ্ধা নিবেদনকালে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে সরাইল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


শার্শায় পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

যশোরের শার্শায় আল আমিন হোসেন নামে এক পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন হোসেন একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শার্শা থানার ওসি শাহ-আলম বলেন, হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।


বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মিলন রহমান (১৬) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বুড়ইল গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন একই গ্রামের দিলবরের ছেলে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে মিলন স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় শেষে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ৫ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে ১০ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত এসে তাকে ছরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা মিলনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, কী ঘটনায় মিলনকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনই বলতে পারছি না। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।


জীবননগরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে ট্রেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার উথলী ফার্মগেটের কাছে রেললাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে ছিটকে পড়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উথলী ফার্মগেট অতিক্রম করার সময় লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে দূরে ছিটকে পড়ে।

ওই সময় দায়িত্বরত গেইটম্যান অচিন্ত্য সাহা জানান, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। তারা দ্রুতই এসে মেরামত করবে।

খবর পেয়ে মোবারকগঞ্জ প্রকৌশলী বিভাগ থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি দল দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় ঘটনাস্থলে এসে রেললাইনের মেরামত কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয় গেইটম্যান মনিস কুমার শর্মা বলেন, সকাল পৌনে ১০ টার সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন অতিক্রম করার পর রেল লাইনের কিছু অংশ ভেঙে দূরে চলে যায়। ট্রেন লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়।


ফুলবাড়িয়ায় ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ইজিবাইকের ধাক্কায় তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মুবিন (৯) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের আয়েশার মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই শিশু কালাদহ গ্রামের বড়িল পাড়া এলাকার হায়দার আলীর ছেলে এবং স্থানীয় ক্বওমী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

প্রতিবেশী শিমুল সরকার জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাড়ির পাশেই কেশরগঞ্জ টু পাটিরা সড়কে বাই সাইকেল চালানো শিখছিলেন শিশু মুবিন। হঠাৎ করে কেশরগঞ্জগামী একটি ইজিবাইকের সাথে দুর্ঘটনা শিকার হয়। এ সময় শিশুটির মাথার ওপর দিয়ে ইজিবাইকের চাকা উঠে পড়লে শিশুটি মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় (ইউডি) অপমৃত্যু থানায় মামলা হয়েছে।


২০টি ট্যাবলেট একসঙ্গে খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি মেঘমল্লার বসু

ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু বৃহস্পতিবার রাতেই উদ্বেগনাশক বা দুশ্চিন্তা কমানোর ২০টি ট্যাবলেট একসঙ্গে খেয়ে অসুস্থ হয়ে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। তিনি জানান, মেঘমল্লার বসু আপাতত রিকভার করছেন এবং অবস্থার তুলনায় ক্রিটিক্যাল। এর আগে তার বড় ধরনের একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।

মেঘমল্লার বসুর প্রেসক্রিপশনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রেসক্রিপশনে পুলিশ কেস লেখা রয়েছে। তিনি ব্রোমাজেপাম গ্রুপের উদ্বেগনাশক ২০টি ট্যাবলেট সেবন করেন এবং তার পেট পরিস্কার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।


ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কেউ উচ্ছৃঙ্খলা করলে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ধর্মমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান করা দায়িত্ব উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব পালন করার জন্য একশতভাগ চেষ্টা করব। উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে তাদেরকে সাথে সাথে আইনের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা হবে। তাদের বিরুদ্ধে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মমন্ত্রী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লার মুরাদনগরে তার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবার পর তিনি এই প্রথম কুমিল্লায় তার নিজের সংসদীয় আসনে এসেছেন এবং তার নেতাকর্মীদের এবং ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

রমজানে নিত্য পণ্যের দাম বাড়বে না এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেছেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের রাখার জন্য। আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষ যেন কোন কষ্ট না পড়ে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী খুবই সচেতন। আমার বিশ্বাস দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না।

বিগত সময়গুলোতে হজের ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সকলে কাজ করে যাব যেন মানুষ সকল সুবিধা ভোগ করতে পারে। তারা যেন এটা বলে যে আল্লাহর রহমতে আমরা অতীতের চেয়ে ভালো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। অবশ্যই অবশ্যই করব।


চারণকবি বিজয় সরকারের ৮২তম জন্মদিনে নড়াইলে নানা আয়োজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

ভারত উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত কবিয়াল চারণ কবি বিজয় সরকার শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ছিল এই বিখ্যাত কবির জন্মদিন। বেচে থাকলে তার বয়স হতো ৮২ বছর। ১০০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নবকৃঞ্চ অধিকারী মা হিমালয় দেবী।

বিজয় সরকার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। মতান্তরে মেট্রিক। সংসার জীবনে তার দুই স্ত্রীর ছিলেন। তাদের নাম ছিল বীণাপানি অধিকারী ও প্রমোদা অধিকারী। দুই ছেলে কাজল অধিকারী ও বাদল অধিকারী। তারা ভারতের কেউটিয়ায় বসবাস করেন।

প্রখ্যাত এই চারণকবি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক ছিলেন। আসরের প্রয়োজনে তিনি মঞ্চে বসেই গান রচনাসহ সুর সংযোজন করে গাইতেন। অবিস্মরণীয় প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পীর প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী। নিজের লেখা গানের কথা, সুর এবং অসাধারণ ঢংয়ে গান পরিবেশনের জন্য তাকে সরকার উপাধি দেওয়া হয়। তবে গ্রামবাংলার কৃষকসহ আমজনতার কাছে তিনি পাগল বিজয় বলে সমধিক পরিচিত।

মরমী এই শিল্পী বার্ধাক্যজনিত কারণে ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতে মারা যান। পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়। চারণকবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আকরাম উদ্দীন শাহীদ বলেন, কবির জন্মদিন উপলেক্ষে কবির সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিজয়গীতি পরিবেশন, স্মরণসভাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


কৃষক-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার কৃষক পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। যার মাধ্যমে দেশের সর্বাধিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা অঞ্চলের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য এবং কৃষি মন্তণালয়ের আওতাধীন দপ্তর /সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে বর্তমান সরকার দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, কৃষি উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কারণ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি আরো বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়ন হলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে, আর সেই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিও স্থায়ীভাবে মজবুত হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের মাঝে মাটির স্বাস্থ্য, পিএইচ মাত্রা, সার ব্যবহারের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মাটির সঠিক পিএইচ মাত্রা নিশ্চিত করা গেলে সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত একজন কৃষক। কৃষির বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত পূর্বে পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের সর্বশেষ নীতিগত দিকনির্দেশনার অংশ।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের মেয়াদ নির্দষ্ট সময় পর্যন্ত হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকেন। তাই টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে এবং এর ফলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং গোমতী নদী থেকে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা তার অগ্রাধিকার। গোমতী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে। অবৈধভাবে এক ফোঁটা মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


banner close