সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপার সাপ যেন এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই বিষধর সাপটি নিয়ে ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে নেতিবাচক খবর দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এই সাপের কারণে মানুষ মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। যে সাপ চরাঞ্চলসহ জনমানবহীন এলাকায় থাকার কথা, সেই সাপ লোকালয়ে বেশি দেখা যাওয়ার খবরে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে বলে অনেকেই উল্লেখ করেছেন। কয়েক দিন আগে ভোলার এক বাড়িতে রাসেলস ভাইপারের বসবাস করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
গতকাল শুক্রবার ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেলের দুর্গম চরে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে একজন কৃষকের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে। ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া কৃষকের নাম হোসেন বেপারী (৫১)। তিনি সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশউল্লা ব্যাপারীর ছেলে।
এদিকে জেলার পার্শ্ববর্তী ডিক্রিরচর ইউনিয়নে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনে দুটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে সেগুলো পিটিয়ে মেরেছে গ্রামবাসী।
শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের আইজউদ্দীন মাতুব্বরের ডাঙ্গি গ্রামে ক্ষেতে কাজ করার সময় একটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পান ওই গ্রামের তোতা মোল্লার ছেলে মুরাদ মোল্লা (৪৫)। মুরাদ মোল্লা বলেন, সকালে বাদামের জমিতে কাজ করার সময় সাপটি নজরে পড়ে। এরপর লাঠি এনে তিন-চারটি বাড়ি মেরে সাপটি মেরে ফেলি।
এর আগের দিন (বৃহস্পতিবার) ওই গ্রামের হারুন শেখের ছেলে ইউসুফ আরও একটি রাসেলস ভাইপার সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলেন বলে জানান।
সম্প্রতি বিষাক্ত সাপ রাসেলস ভাইপারকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, এসব নাকি গুজব। কেউ আবার এই সাপ মারতে পারলে পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন। সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ফরিদপুরে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ মারতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেলে শহরের রাসেল স্কয়ারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. ইশতিয়াক আরিফ তার বক্তব্যের একপর্যায়ে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ নিয়ে বলেন, ফরিদপুর কোতোয়ালি এলাকায় কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারেন তাহলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া জানান, যেকোনো বন্যপ্রাণী নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রাসেলস ভাইপার এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার পরে ২০১৪ সাল থেকে আবার সাপটির দেখা যাচ্ছে। এ সাপের বংশবৃদ্ধির হার বেশি। একবারে একটি মা সাপ ৬০-৭০টি বাচ্চা দেয় এবং প্রায় সবকটি বাচ্চা বেঁচে যায়। এ সাপ সাধারণত চর এলাকায় থাকে। এদের খাবার ব্যাঙ ও ইঁদুর।
তিনি আরও বলেন, ‘পুরস্কারের এ ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ ধরতে অথবা মারতে গিয়ে সাপের কামড়ে মারা যান, তাহলে এর দায় কে নেবে?’
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়ে যাওয়া মারাত্মক বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপারের উপদ্রবে ও দংশনে বাড়ছে মৃত্যুও। বিশেষ করে ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহীসহ পদ্মা নদী-তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
পদ্মা-তীরবর্তী মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা। এই এলাকার মূল ভূখণ্ড থেকে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে যেতে হয় নৌকায়, সময় লাগে ১ ঘণ্টা। এই চরেই জেঁকে বসেছে রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক। কেননা গত ৩ মাসে এই সাপের কামড়ে মারা গেছেন ৫ জন। স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরেছেন অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি সাপ।
ভুক্তভোগীর একজন স্বজন জানান, তার বোনজামাই ভুট্টা আনতে গিয়ে সাপের কামড় খান। সেই সাপটি রাসেলস ভাইপার ছিল। পরে তার বোন জামাইকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ১০টি ভ্যাকসিন দিলে বিষ নামেনি। পরে ঢাকায় আনার পথে তার বোন জামাইয়ের মৃত্যু হয়।
শুধু মানিকগঞ্জ নয়, ফরিদপুর জেলার পদ্মা তীরবর্তী চরাঞ্চলেও দেখা মিলছে রাসেলস ভাইপারের। ফলে আতঙ্কে চরে কৃষি কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কৃষকরা জানান, এই সাপের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ কৃষকরা আতঙ্কে জমিতে কাজ করতে পারছেন না। সব সময় তাদের ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ। যাকে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও পদ্মা-তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আবারও দেখা মিলছে বিষধর এই সাপের। গবেষকরা বলছে, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে স্বভাব পরিবর্তন করছে রাসেলস ভাইপার।
সাপ ও সরীসৃপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রমন বলেন, সঠিক সার্ভে না করেই বাংলাদেশ থেকে রাসেলস ভাইপার বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সাপটি টিকে ছিল। পরবর্তীতে গঙ্গা হয়ে পদ্মা দিয়ে ২০০৯-১০ সালে ভেসে এসে পদ্মার চরাঞ্চলে অবস্থান নেয়। তারা বংশ বিস্তার করে এবং বন্যায় এগুলো বিভিন্ন জেলায় ভেসে যায়। বর্তমানে এই সাপ দেশের ২৮টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য সাপ যেমন পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে সেখানে এই সাপগুলো এটা করে না। এ ধরনের সাপগুলোর কাছাকাছি যখন মানুষ চলে আসে তারা শব্দ করতে থাকে আবার যখন তার রেঞ্জে মানুষ চলে যায় তখনই আতঙ্কিত হয়ে কামড় দিয়ে বসে।
চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা মিলছে যেসব এলাকায়, সেখানকার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানালেন, সংকট আছে অ্যান্টি ভেনমের। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অ্যান্টি ভেনেমের কোনো সংকট নেই।
স্বাস্থ্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সাপগুলোর প্রভাব আগে ছিল না। ভারত থেকে এসেছে বলেই এটি বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে রাসেলস ভাইপারের যে ন্যাচারাল ক্যারেক্টার আছে এখন এই ক্যারেক্টার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ফলে যে অ্যান্টি ভেনম আমরা পুশ করি, সেটি এখন কার্যকর হচ্ছে না।
ছোবল দিলে কী করতে হবে
প্রায় ৪০০০-এর বেশি সর্প দংশনের রোগীর চিকিৎসা দেওয়া ডা. ফরহাদ উদ্দীন হাসান চৌধুরী। এই সাপে ছোবল দিলে কী করতে হবে তা তিনি তার এক পোস্টে লেখেন-
বাংলাদেশের প্রধান ৩টি বিষাক্ত সাপ হলো গোখরা (কোবরা), কেউটে (ক্রেইট) এবং রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া। রাসেলস ভাইপার অপেক্ষাকৃত বেশি বিষধর। অতিসম্প্রতি এই সাপটির প্রকোপ বেড়ে গেছে। তবে এই সাপটি নিজ থেকে তাঁড়া করে কাউকে দংশন করে না। মূলত অসাবধানতাবশত কেউ এই সাপের গায়ে পাড়া দিলে এই সাপটি ছোবল দেয়।
তিনি বলেন, এই সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে মূলত শরীরের রক্ত পাতলা হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে, কিডনি বিকল হতে পারে, স্নায়ু অবশ হয়ে ফুসফুসের কার্যকারিতা হারিয়ে যেতে পারে এমনকি হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। বাংলাদেশে সর্প দংশন প্রতিরোধী যে অ্যান্টিভেনম রয়েছে সেগুলো কোবরা এবং ক্রেইটের বিপরীতে ভালোভাবে কাজ করলেও রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে ভালোমতো কাজ করে না। এই এন্টিভেনমটিতে ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে উপাদান রয়েছে। ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিষ এবং বাংলাদেশের রাসেলস ভাইপারের বিষের ভেতরে উপাদানগত বৈসাদৃশ্য বেশি হওয়ায় এটি পুরাপুরি কাজ করে না।
ডা. ফরহাদ বলেন, আমাদের দেশের এই সাপটির বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী অ্যান্টিভেনম তৈরি করার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা বিজ্ঞানী অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষের নেতৃত্বে একদল গবেষক বিগত প্রায় ৪-৫ বছর নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আশা করি আমরা অদূর ভবিষ্যতে রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে কার্যকরী দেশীয় একটি অ্যান্টিভেনম পেতে পারি। বিষাক্ত আর অবিষাক্ত মিলিয়ে আমি জীবনে ৩০০০-৪০০০ এর বেশি সর্প দংশনের রোগী নিজেই চিকিৎসা করেছি। কোবরা, ক্রেইট, রাসেলস ভাইপার সব ধরনের সাপের কামড়ের চিকিৎসা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাসেলস ভাইপারের ক্ষেত্রে ৫০%-এর বেশি রোগীকে বাঁচাতে পারিনি। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে এলে অতিদ্রুত অ্যান্টিভেনম শুরু করলে ও সাপোর্টিভ চিকিৎসা যেমন ডায়ালাইসি, ভেন্টিলেশন ইত্যাদি দিলে রোগী বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করি।
কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তলসহ এক মানবপাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। আটক মো. ইয়াসিন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
সুজন জানান, মহেশখালিয়া পাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইয়াসিনকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ইয়াসিন দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মানবপাচারের মামলা রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, জব্দকৃত অস্ত্র ও আটককৃত ব্যক্তির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং মানবপাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলার সংযোগ স্থল দিয়ে বয়ে যাওয়া চাড়ালকাটা নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের কয়েকশত একর আবাদি জমি। বালুবাহী ট্রলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট। তবে এসব দেখেও উপজেলা প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাড়ালকাটা নদীর তীর কেটে চলছে বালু বিক্রির মহোৎসব। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ট্রলি গাড়িতে বালু বিক্রি। সেখানে সাংবাদিক প্রবেশ ঠেকাতে প্রভাবশালী মহলের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় পাহারায় থাকেন। নদীর তীরে ভেকু বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু কেটে বিক্রি করছেন। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আশপাশে অসংখ্য আবাদি জমি, রাস্তাঘাট ও ভিটেবাড়ি। স্থানীয়রা এ নিয়ে দিন-রাত আতঙ্কিত থাকলেও প্রভাবশালী মহলের বালু বিক্রি থামছেই না।
আরও দেখা যায়, বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুরাকুটি ময়দানপাড়ার কালুরঘাট ব্রিজ এলাকার চাড়ালকাটা নদী ও বাহাগিলী ব্রিজ এলাকায় চলছে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু বিক্রি। রাস্তা দিয়ে বালুবাহী ট্রলি চলাচল করায় মোটরসাইকেল কিংবা কোনো যানবাহন চলার উপায় নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ম্যানেজ করেই এ কাজ করে আসছে। তারা একটি বালুর লট ইজারার নামে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু বিক্রি করছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগসহ একাধিকবার অবগত করলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। প্রভাবশালী মহলটির বিরুদ্ধে কথা বলতেও ভয় পায় স্থানীয়রা।
নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকার আলতাফ হোসেন বলেন, নীলফামারী সদরের চার নম্বর বালুর লট ইজারা নিয়েছি। তবে স্থানীয়রা রাস্তা দিয়ে বালু নিয়ে যেতে দিচ্ছেন না। এজন্য আমরা নিজের জমির বালু বিক্রি করছি, এটা আমার মালিকানা জমি। নদী খনন করে আমার জমি বন্ধ করে রেখেছিল। আমি এখন সেটা বিক্রি করে আমার জমি বের করছি। এভাবে বালু বিক্রির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
হাসান আলী নামে আরেকজন বলেন, আমরা সদরের বালু ইজারা নিয়েছিলাম। আমাদের বালু কেটে বিক্রি করতে দিচ্ছে না। আমরা এজন্য বিভিন্ন মালিকের নিজস্ব জমির বালু কেটে বিক্রি করছি। আমরা গাড়ি প্রতি চারশো থেকে পাঁচশত টাকা পাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে প্রভাবশালী মহল। আমরা তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারি না। তাদের কিছু বললে বিভিন্নভাবে হুমকি হয়রানি করে। এ বিষয়ে ইউএনওকে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। এলাকাবাসী কয়েকবার গেয়েছিলাম তবুও তিনি কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। যারা বালু বিক্রি করছে, তারা সদরের কিছু বালু ইজারা নিয়েছিল। সেটা স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা রাস্তা না থাকায় বিক্রি করতে পারছে না। তবে এভাবে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে , মাঝেমধ্যে কেউ আটক করলে তাদের ওই ইজারা নেওয়ার বালুর স্লিপ দেখায় কিন্তু ওই বালু এখনও কাটতে পারেনি।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, এখানে রাস্তা ঘাটের খুব বাজে অবস্থা, চলাচল করার মতো না। নদীর তীর কেটে বালু বিক্রির কারণে আমরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ছি। সারারাত ট্রলি গাড়িতে বালু নিয়ে যায়, গাড়ির শব্দে ঘুমানো পর্যন্ত যায় না। নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করায় আমাদের কৃষি জমির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষাকালে নদীর ভাঙন দেখা যায়, এভাবে তীর কাটলে আবাদি জমিসহ নদীতে সব ভেঙে যাবে। এসব ব্যাপারে প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রির বিষয়টি জানলাম, এটি আমি দেখব।
ফরিদপুরে নাব্যতা হারানো কানাইপুর বাজার সংলগ্ন কুমার নদী পুনঃখনন শুরু হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ওই এলাকায় মাটি কেটে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন ফরিদপুর -৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
এ সময় চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, বিএনপি সরকার কাজ করে জনগণের জন্য। আর তাই বিএনপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই জনকল্যানে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। পানি সমস্যার সমাধান করতে পারলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ নারীদের জন্য বরাদ্দ ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে বলেন, আমরা আবেদন দিয়ে রেখেছি আগামী জুন মাসের বাজেটের পর থেকেই এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ,মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিকী মিতুল,ব্যবসায়ী চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ প্রমুখ।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের মোড়ল পাড়ায় মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক চিত্র সামনে এসেছে। ২৪ বছর বয়সী মিতু নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে লোহার শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন মিতু। পরিস্থিতির চাপে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয় সর্ব সময় । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিকলই হয়ে উঠেছে তার জীবনের নির্মম বাস্তবতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজির মতো, যা তার সাভাবিক চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টকর হয়েছে। দীর্ঘদিন শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিবন্ধী
মিতুর মা হাসিনা বেগম জানান, মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায়—এই আশঙ্কা থেকেই বাধ্য হয়ে তাকে লোহার শিকলে বেঁধে তালা লাগিয়ে রাখতে হয়েছে। অভাবের কারণে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।
মিতুর বাবা আবুল মোড়ল প্রায় ৮ বছর পূর্বে মারা গেছেন। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে পুরো পরিবারের খরচ চালানো তার জন্য বড়ই কঠিন হয়ে পড়েছে।
দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের কারণে মিতুর উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমরা তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা বলেছি এবং আমরা আশা করছি অতি শিগগিরই উনাকে এনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্রাথমিক চিকিৎসা দিবো এবং আমাদের যে হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম রয়েছে যে মেডিসিন গুলো দেওয়ার ব্যবস্থা আছে সেগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা নিবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চিকিৎসা ও প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে মিতুকে এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার দৈনিক বাংলা প্রতিবেদককে অবগত করে বলেন আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে নির্দেশ দিয়েছি বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে। দেখার পরে যে ধরনের সহযোগিতা বা কি করলে ভালো হয় সেই বিষয়টি বিবেচনা করবো আমরা।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় ডেমলা ফিলিং স্টেশনে ছেলের মোটরসাইকেলে পেট্রল সংগ্রহ করতে মাকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে তীব্র রোদ উপেক্ষা করে মাকে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালকের নাম সাগর বৈদ্য। আর তার মায়ের নাম বীথিকা বৈদ্য। তারা শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা।
ডেমলা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল হাকিম জানান, বিশৃঙ্খলা থেকে হট্রগোল-এর পর ফিলিং স্টেশনের কর্মচারিদের ওপর হামলার পর বেশ কয়েকদিন বন্ধ ছিল জ্বালানি তেল সরবরাহ। বৃহস্পতিবার থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বীথিকা বৈদ্য ছেলের মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পে আসার পর উৎসুখ জনতার ভীড় লক্ষ্য করা যায়। পরে তিনি পেট্রল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
এ বিষয়ে বীথিকা বৈদ্য জানান, তার ছেলে সাগর বৈদ্য মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে ও কৃষিকাজ নির্বাহ করে সংসার চালান। বেশ কয়েকদিন পেট্রল না থাকার কারণে সে মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালাতে পারছেনা। তাই বৃহস্পতিবার সে কৃষিকাজে শ্রম দিতে গিয়েছে। আর তিনি পেট্রল সংগ্রহ করতে পাম্পে এসেছিলেন।
খুলনায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় সাড়ে ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বিপ্লব শেখকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬, সিপিসি সদর কোম্পানি।
র্যাব জানায়, সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এবং হত্যা-ধর্ষণের মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) র্যাব-৬ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার সোনাডাঙ্গায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অভিযান চালায়। এ সময় পিরোজপুর জেলার চালিতাখালী এলাকার বাসিন্দা এবং তিনটি মাদক মামলায় মোট সাড়ে ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বিপ্লব ওরফে বিক্রম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বিপ্লবের বিরুদ্ধে বাগেরহাট, পিরোজপুর ও খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মাদক, ১টি মারামারি এবং ১টি দস্যুতার মামলা রয়েছে।
বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। বিচারিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় তুলে আনতে চাই"।
বিচার বিভাগের স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান যে, তাঁরা কোনোভাবেই একটি কলুষিত বিচার ব্যবস্থা চান না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে মাসদার হোসেন মামলার উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে। আমরা মাসদার হোসেনদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত বিচার বিভাগ গড়তে চাই না। বরং বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই।" মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার বিচার বিভাগের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ও আইনি বিভিন্ন বিষয়ে তাদের আপত্তির কড়া সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বিএনপির ধমনিতে জুলাই সনদ মিশে আছে। তারা জুলাই সনদ, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগীয় সচিবালয় আইনের বিষয়ে অনেক প্রশ্ন তুলছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, প্রতিটি আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে।" সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সকল আইন পরিমার্জনের আশ্বাস দেন তিনি।
বিতর্কিত 'জুলাই সনদ' প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "অনেকেই বলছেন বিএনপি জুলাই সনদ অস্বীকার করছে। কিন্তু আমরা বলতে চাই, বিএনপি তাদের আদর্শিক জায়গা থেকে জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। তবে জুলাই সনদ আদেশের কোনো সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি নেই। ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই।" আইনমন্ত্রী মনে করেন, এই সনদের কোনো জোরালো আইনি ভিত্তি বর্তমানে বিদ্যমান নেই।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভার আগে মন্ত্রী বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন এবং পরে শহরের পুরাতন জেলা জজ আদালত ভবনটি ঘুরে দেখেন। সামগ্রিকভাবে মন্ত্রীর এই সফর ও বক্তব্য বিচার বিভাগের নীতিগত সংস্কারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশের তিনটি অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য ঝড়ের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছেন সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ অবস্থায় ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে এসব অঞ্চলের নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গোপালপুরে ‘পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রজেক্টরের মাধ্যমে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খাইরুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা এখলাস মিয়া এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
জামালপুরে চা-দোকানির স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামালপুর পৌরসভার বেলটিয়া এলাকার বুলবুল আহমেদ, আবুল কালাম ও রুকু।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, গত ২০২৩ সালের ১৬ মে জামালপুর শহরের শাহ জামাল (রা.) মাজারের সামনে চা-দোকান করছিলেন ফরহাদ হোসেন দম্পতি। ঘটনার দিন আসামি বুলবুল আহমেদ, আবুল কালাম ও রুকু তিনজনে ফরহাদের স্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় করে অপহরণ করে বুলবুল আহমেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার বাড়ির ছাদে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে তারা। ভোর রাতে ফরহাদের স্ত্রী বিবস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসে।
এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী মো. ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্ত ও হাসপাতালের রিপোর্ট ও ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত অভিযুক্ত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
আসামি দুজন পলাতক থাকায় অপর একজনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
শিশুদের প্রাণঘাতী রোগ হাম থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেবীগঞ্জে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ৩টায় দেবীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হলরুমে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তারা হাম রোগের ঝুঁকি, প্রতিরোধের উপায় এবং শিশুদের টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেবীগঞ্জ উপজেলার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক। তিনি বলেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা প্রদান ও সচেতনতার মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর। তিনি হাম রোগের লক্ষণ, জটিলতা এবং প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ ছাড়াও দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মালিক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু নোমান মো. ইফতেখারুল তৌহিদ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার শাহ রাশেদুল হক, মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন ও ইফার সকল শিক্ষক শিক্ষিকাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে উপস্থিত অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করা হয় এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে উৎসাহিত করা হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক বেত্রাঘাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া।
অভিযুক্ত শিক্ষক আশিস মল্লিক টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, অভিযোগ যাচাই করে দেখা গেছে, ওই শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করেছেন। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই— সরকার শিক্ষকদের পড়ানোর জন্য বেতন দেয়, শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান আরজু জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ‘শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে ১৫ বার বেত্রাঘাতের অভিযোগ’ শিরোনামে দৈনিক বাংলায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত ১৯ এপ্রিল বাড়ির কাজ না করায় মাহমুদুর রহমান নামের ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বার বেত্রাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীর মা নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত মারধরের কারণে তার ছেলে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, এর আগেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, অভিযোগগুলো আগে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলে এমন ঘটনা ঘটত না।
এ বিষয়ে অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের জন্য দায়ীদের শুধু সাময়িক বরখাস্ত, বদলি বা বেতন স্থগিত রাখলে সমাধান হবে না। কঠোর শাস্তি না দিলে তারা একই আচরণ পুনরাবৃত্তি করতে পারে। শাস্তির মাধ্যমে তাদের আচরণে পরিবর্তন আসবে এবং অন্যরাও এমন নির্যাতন থেকে বিরত থাকবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মাদারীপুরে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট, শপিংমল, বিপণী বিতান ও শোরুম বন্ধ করা না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাদারীপুর বিদ্যুৎ অফিস (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে এসব খবর প্রকাশের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদারীপুরের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র পুরান বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে উল্লিখিত দোকানপাটের মধ্যে শপিংমল ও বিপণী বিতান বন্ধ হতে দেখা গেলেও বেশীরভাগ দোকানপাট ৮টা পর্যন্ত খোলা দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ওই দপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকোশলী মো. ফেরদাউস হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। প্রথম দিনের দু-একটি অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে, যা আমাদের নজরে আসেনি।
এ ব্যাপারে জোরালো মনিটরিং করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।