বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
১২ চৈত্র ১৪৩২

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে রাসেলস ভাইপার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২২ জুন, ২০২৪ ০৮:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৪ ০৮:০৮

সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপার সাপ যেন এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই বিষধর সাপটি নিয়ে ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে নেতিবাচক খবর দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এই সাপের কারণে মানুষ মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। যে সাপ চরাঞ্চলসহ জনমানবহীন এলাকায় থাকার কথা, সেই সাপ লোকালয়ে বেশি দেখা যাওয়ার খবরে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে বলে অনেকেই উল্লেখ করেছেন। কয়েক দিন আগে ভোলার এক বাড়িতে রাসেলস ভাইপারের বসবাস করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

গতকাল শুক্রবার ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেলের দুর্গম চরে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে একজন কৃষকের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে। ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া কৃষকের নাম হোসেন বেপারী (৫১)। তিনি সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশউল্লা ব্যাপারীর ছেলে।

এদিকে জেলার পার্শ্ববর্তী ডিক্রিরচর ইউনিয়নে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনে দুটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে সেগুলো পিটিয়ে মেরেছে গ্রামবাসী।

শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের আইজউদ্দীন মাতুব্বরের ডাঙ্গি গ্রামে ক্ষেতে কাজ করার সময় একটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পান ওই গ্রামের তোতা মোল্লার ছেলে মুরাদ মোল্লা (৪৫)। মুরাদ মোল্লা বলেন, সকালে বাদামের জমিতে কাজ করার সময় সাপটি নজরে পড়ে। এরপর লাঠি এনে তিন-চারটি বাড়ি মেরে সাপটি মেরে ফেলি।

এর আগের দিন (বৃহস্পতিবার) ওই গ্রামের হারুন শেখের ছেলে ইউসুফ আরও একটি রাসেলস ভাইপার সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলেন বলে জানান।

সম্প্রতি বিষাক্ত সাপ রাসেলস ভাইপারকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, এসব নাকি গুজব। কেউ আবার এই সাপ মারতে পারলে পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন। সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ফরিদপুরে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ মারতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেলে শহরের রাসেল স্কয়ারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. ইশতিয়াক আরিফ তার বক্তব্যের একপর্যায়ে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ নিয়ে বলেন, ফরিদপুর কোতোয়ালি এলাকায় কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারেন তাহলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া জানান, যেকোনো বন্যপ্রাণী নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রাসেলস ভাইপার এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার পরে ২০১৪ সাল থেকে আবার সাপটির দেখা যাচ্ছে। এ সাপের বংশবৃদ্ধির হার বেশি। একবারে একটি মা সাপ ৬০-৭০টি বাচ্চা দেয় এবং প্রায় সবকটি বাচ্চা বেঁচে যায়। এ সাপ সাধারণত চর এলাকায় থাকে। এদের খাবার ব্যাঙ ও ইঁদুর।

তিনি আরও বলেন, ‘পুরস্কারের এ ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ ধরতে অথবা মারতে গিয়ে সাপের কামড়ে মারা যান, তাহলে এর দায় কে নেবে?’

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়ে যাওয়া মারাত্মক বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপারের উপদ্রবে ও দংশনে বাড়ছে মৃত্যুও। বিশেষ করে ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহীসহ পদ্মা নদী-তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

পদ্মা-তীরবর্তী মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা। এই এলাকার মূল ভূখণ্ড থেকে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে যেতে হয় নৌকায়, সময় লাগে ১ ঘণ্টা। এই চরেই জেঁকে বসেছে রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক। কেননা গত ৩ মাসে এই সাপের কামড়ে মারা গেছেন ৫ জন। স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরেছেন অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি সাপ।

ভুক্তভোগীর একজন স্বজন জানান, তার বোনজামাই ভুট্টা আনতে গিয়ে সাপের কামড় খান। সেই সাপটি রাসেলস ভাইপার ছিল। পরে তার বোন জামাইকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ১০টি ভ্যাকসিন দিলে বিষ নামেনি। পরে ঢাকায় আনার পথে তার বোন জামাইয়ের মৃত্যু হয়।

শুধু মানিকগঞ্জ নয়, ফরিদপুর জেলার পদ্মা তীরবর্তী চরাঞ্চলেও দেখা মিলছে রাসেলস ভাইপারের। ফলে আতঙ্কে চরে কৃষি কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

কৃষকরা জানান, এই সাপের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ কৃষকরা আতঙ্কে জমিতে কাজ করতে পারছেন না। সব সময় তাদের ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ। যাকে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও পদ্মা-তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আবারও দেখা মিলছে বিষধর এই সাপের। গবেষকরা বলছে, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে স্বভাব পরিবর্তন করছে রাসেলস ভাইপার।

সাপ ও সরীসৃপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রমন বলেন, সঠিক সার্ভে না করেই বাংলাদেশ থেকে রাসেলস ভাইপার বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সাপটি টিকে ছিল। পরবর্তীতে গঙ্গা হয়ে পদ্মা দিয়ে ২০০৯-১০ সালে ভেসে এসে পদ্মার চরাঞ্চলে অবস্থান নেয়। তারা বংশ বিস্তার করে এবং বন্যায় এগুলো বিভিন্ন জেলায় ভেসে যায়। বর্তমানে এই সাপ দেশের ২৮টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য সাপ যেমন পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে সেখানে এই সাপগুলো এটা করে না। এ ধরনের সাপগুলোর কাছাকাছি যখন মানুষ চলে আসে তারা শব্দ করতে থাকে আবার যখন তার রেঞ্জে মানুষ চলে যায় তখনই আতঙ্কিত হয়ে কামড় দিয়ে বসে।

চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা মিলছে যেসব এলাকায়, সেখানকার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানালেন, সংকট আছে অ্যান্টি ভেনমের। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অ্যান্টি ভেনেমের কোনো সংকট নেই।

স্বাস্থ্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সাপগুলোর প্রভাব আগে ছিল না। ভারত থেকে এসেছে বলেই এটি বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে রাসেলস ভাইপারের যে ন্যাচারাল ক্যারেক্টার আছে এখন এই ক্যারেক্টার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ফলে যে অ্যান্টি ভেনম আমরা পুশ করি, সেটি এখন কার্যকর হচ্ছে না।

ছোবল দিলে কী করতে হবে

প্রায় ৪০০০-এর বেশি সর্প দংশনের রোগীর চিকিৎসা দেওয়া ডা. ফরহাদ উদ্দীন হাসান চৌধুরী। এই সাপে ছোবল দিলে কী করতে হবে তা তিনি তার এক পোস্টে লেখেন-

বাংলাদেশের প্রধান ৩টি বিষাক্ত সাপ হলো গোখরা (কোবরা), কেউটে (ক্রেইট) এবং রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া। রাসেলস ভাইপার অপেক্ষাকৃত বেশি বিষধর। অতিসম্প্রতি এই সাপটির প্রকোপ বেড়ে গেছে। তবে এই সাপটি নিজ থেকে তাঁড়া করে কাউকে দংশন করে না। মূলত অসাবধানতাবশত কেউ এই সাপের গায়ে পাড়া দিলে এই সাপটি ছোবল দেয়।

তিনি বলেন, এই সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে মূলত শরীরের রক্ত পাতলা হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে, কিডনি বিকল হতে পারে, স্নায়ু অবশ হয়ে ফুসফুসের কার্যকারিতা হারিয়ে যেতে পারে এমনকি হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। বাংলাদেশে সর্প দংশন প্রতিরোধী যে অ্যান্টিভেনম রয়েছে সেগুলো কোবরা এবং ক্রেইটের বিপরীতে ভালোভাবে কাজ করলেও রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে ভালোমতো কাজ করে না। এই এন্টিভেনমটিতে ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে উপাদান রয়েছে। ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিষ এবং বাংলাদেশের রাসেলস ভাইপারের বিষের ভেতরে উপাদানগত বৈসাদৃশ্য বেশি হওয়ায় এটি পুরাপুরি কাজ করে না।

ডা. ফরহাদ বলেন, আমাদের দেশের এই সাপটির বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী অ্যান্টিভেনম তৈরি করার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা বিজ্ঞানী অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষের নেতৃত্বে একদল গবেষক বিগত প্রায় ৪-৫ বছর নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আশা করি আমরা অদূর ভবিষ্যতে রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে কার্যকরী দেশীয় একটি অ্যান্টিভেনম পেতে পারি। বিষাক্ত আর অবিষাক্ত মিলিয়ে আমি জীবনে ৩০০০-৪০০০ এর বেশি সর্প দংশনের রোগী নিজেই চিকিৎসা করেছি। কোবরা, ক্রেইট, রাসেলস ভাইপার সব ধরনের সাপের কামড়ের চিকিৎসা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাসেলস ভাইপারের ক্ষেত্রে ৫০%-এর বেশি রোগীকে বাঁচাতে পারিনি। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে এলে অতিদ্রুত অ্যান্টিভেনম শুরু করলে ও সাপোর্টিভ চিকিৎসা যেমন ডায়ালাইসি, ভেন্টিলেশন ইত্যাদি দিলে রোগী বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করি।


নির্মানাধীন পাওয়ার গ্রিডে পাহাড়ারদের বেঁধে রেখে ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার খোর্দ কাচুটিয়া এলাকায় নির্মানাধীন পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নিরাপত্তা প্রহরীদের বেঁধে রেখে সেখান থেকে থেকে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকার দল।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৭টা থেকে গভীররাত পর্যন্ত গ্রিডে কর্মরত চারজন পাহাড়ারকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে ওই মালামাল লুট করা হয় । খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেনদ পুলিশ।

পাওয়ার গ্রিডে কর্মরত প্রকৌশলী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ভাষ্যমতে, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মূল ফটকে শব্দ হলে পাহারাদার শফিকুল ইসলাম গেট খুলে দেন। এসময় ওত পেতে থাকা ৩৫-৪০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা সেখানে থাকা চারজন পাহারাদারকেও অস্ত্রের মুখে এক জায়গায় জড়ো করে।

ডাকাত দল পাহারাদারদের হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে রাখে। প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা পর গ্রিড থেকে গাড়ি বের হয়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ আর কোনো শব্দ না পেয়ে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পাহারাদার সোহাগ অনেক চেষ্টার পর তার বাবা শফিকুলের বাঁধন খুলে দিতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে শফিকুল বাকিদের মুক্ত করেন।

দুষ্কৃতকারীরা তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়েছিল। পাহারাদাররা ঘরের পর্দার স্ট্যান্ড ব্যবহার করে কৌশলে ছিটকিনি খুলে রাত সাড়ে ৪টার দিকে বের হতে সক্ষম হন। এরপর তারা অন্যের ফোন ব্যবহার করে ৯৯৯-এ কল করেন এবং ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের বিষয়টি অবহিত করেন।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গ্রিড থেকে ৩৬৮টি ব্যাটারি (মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা) এবং ২ হাজার মিটার তামার তার (মূল্য প্রায় ৫৩ লাখ টাকা) সহ সর্বমোট ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা উদঘাটনে ডিবি টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ৩৫ থেকে ৪০জনকে আসাসী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে পুলিশ।


বিজয় দিবসে বরিশালে উন্মুক্ত যুদ্ধজাহাজ বানৌজা অদম্য, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশালে সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধজাহাজ বানৌজা অদম্য প্রদর্শন করা হয়েছে। এ আয়োজন ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যুদ্ধজাহাজটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্ধারিত চার ঘণ্টার মধ্যে হাজারো মানুষ জাহাজে প্রবেশ করে কাছ থেকে পরিদর্শনের সুযোগ পান।

দুপুরের পর থেকেই যুদ্ধজাহাজটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই জাহাজ পরিদর্শনে আসেন। কাছ থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, যুদ্ধজাহাজ সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না। বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আয়োজন আমাদের জন্য গর্বের।

হাটখোলা এলাকার অভিভাবক নিজাম উদ্দিন বলেন, শিশুদের নৌবাহিনী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছি। জাহাজটি ঘুরে দেখতে পেরে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।

যুদ্ধজাহাজটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, বানৌজা অদম্য সমুদ্রে আন্তঃ ও বহিঃশত্রু মোকাবিলায় সক্ষম একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণকে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই বিজয় দিবসে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

প্রদর্শনী চলাকালে জাহাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌসদস্যরা দর্শনার্থীদের জাহাজের বিভিন্ন অংশ, সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নৌবাহিনী সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

জানা গেছে, বানৌজা অদম্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ২৬ পিসিএস শ্রেণির অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এটি খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত হয়ে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হয়। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৫০.৪০ মিটার এবং প্রস্থ ৭.৫ মিটার। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল।

নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে জাহাজটি দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান এবং জাটকা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


মহান স্বাধীনতা দিবস: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান ধর্মমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লার মুরাদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নবনির্মিত উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.বি.এম. সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাঁদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অসহায় ও নিম্নবিত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।


রাজেশ্বর গ্রামে শতবর্ষ ছুঁইছুঁই সম্প্রীতির গঙ্গাস্নান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজেশ্বর গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাস্নান উৎসব। প্রায় ৯৫ বছর ধরে কুলু বংশের নিজস্ব জমিতে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয়দের কাছে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক।

প্রতিবছরের মতো এবারও সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গঙ্গাস্নান দেখতে ও অংশ নিতে রাজেশ্বর গ্রামে ভিড় জমায়। একসময় এই উৎসবে বহু দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটলেও বর্তমানে সে তুলনায় উপস্থিতি অনেকটা কমেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

উৎসবকে ঘিরে আগে মাটির পুতুলসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সামগ্রীর দোকান বসতো, যা ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্রও অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।

পুষ্প রানী কুলু বলেন, “এই গঙ্গাস্নান আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসছে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই আয়োজন। আগে অনেক বেশি লোকসমাগম হতো, মেলা জমজমাট থাকতো। এখন সেই পরিবেশ কিছুটা কমে গেছে, তবুও আমরা ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।"

পূজারী দুলাল চক্রবর্তী বলেন, “এটি শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির একটি মিলনমেলা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন, একসঙ্গে প্রার্থনা করেন। এই আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"

আয়োজক ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এই গঙ্গাস্নান শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। তারা আশা করছেন, যথাযথ উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো উৎসবের জৌলুস ফিরে আসবে।


পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা: শোষণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে যথাযথ মর্যাদায় ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় বক্তারা একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

‎​বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী,জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীর হোসেন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ শহীদুল হক।

‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ সাঈদী বলেন, "আজ আমরা যে স্বাধীন পরিচয় নিয়ে কথা বলছি, তার সবটুকুই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান। আপনারা লাল-সবুজের পতাকা উপহার দিয়েছিলেন বলেই আমরা আজ আত্মপরিচয় খুঁজে পেয়েছি"। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই একই চেতনা ধারণ করে বর্তমান প্রজন্ম জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।

‎​সভায় বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসন আমলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আজ যে নতুন পরিবেশ ফিরে পেয়েছে তা কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই এখনকার মূল লক্ষ্য।

‎​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত,জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোঃ জহিরুল হক,বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান মল্লিক (বীরপ্রতীক),বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মুনান,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নুরুজ্জামান বাবুল এর গর্বিত সন্তান গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও শেষে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


সাতক্ষীরার তালায় ‘সেচ পানির’ তীব্র সংকট, বিপাকে কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

তীব্র সেচ পানির সংকটে পড়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষক। চলতি মৌসুম বৃষ্টিপাত না হওয়া হুমকির মুখে ইরি-বোরো চাষাবাদ। একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে অন্যদিকে ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক।

ইরি-বোরো চাষী ইবাদুল সরদার বলেন, ‘আমার সেচ পাম্পে পানি ওঠছে না। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাটির ১৫ হাত নিচে পাম্প বসিয়ে সেচের পানি উত্তলোন করছি।

মনজুরুল গোল্দার বলেন,"পানির স্তর কুড়ি হাত নিচে নেমে গেছে। কোন কোন বিলে ৩০ থেকে ৪০ হাত নিচে নেমেছে। ফলে অতিরিক্ত ডিজেল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পানি ওঠছে না।’

জব্বার শেখ বলেন, বৃষ্টি না হওয়া ধানের রোগ বালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ধান খাটো হওয়া,মরা শীষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিঘা প্রতি উৎপাদন কমে আসে। সেই সাথে ছত্রাক জনিত রোগ ব্লাষ্ট লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

মোসলেম খা বলেন, ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ৯ বিঘা জমিতে ধান চাষাবাদ করেছি। ধানের শীষ বের হচ্ছে। মৌসুম শেষ করতে আমার ২০ থেকে ৩০ কেজি ডিজেল লাগবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে তালা সদর অবস্থিত মের্সার মিলিনিয়াম উইরেকা ফিলিং ষ্টেশনের কর্মচারী বলেন,"জেলায় সীমিত পরিসরে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।"

তবে খোলা বাজারে লিটার প্রতি ২০ -৩০ টাকা বেশি দামে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। তালা উপজেলা কৃষি কর্রকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন,"চলতি মৌসুমি ২০ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকের এই সংকট নিরসনে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শয়ন (২৪) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শয়ন ওই ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের মৃত টিপু মণ্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় হাটে ব্যবসা করতেন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মী ছিলেন।

জানাযায়, রাতে শয়ন জোড়গাছা পূর্বপাড়ার টগরের স-মিল এলাকায় যান। সেখানে কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে তাকে শজিমেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা ও ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রুমিন বলেন, আমি বগুড়া শহরে থাকি। ফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখি শয়নকে মর্গে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আমরা এখনও কিছু জানি না। তবে এখানে এসে জানতে পেরেছি, তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। তার সঙ্গে কারো কোনো দ্বন্দ্ব ছিল এমন তথ্যও আমাদের জানা নেই।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই লালন হোসেন জানান, শয়নের বুকের নিচে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

সারিয়াকান্দি থানার তদন্ত পরিদর্শক নুর আলম বলেন, জোড়গাছা এলাকায় ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে।


নান্দাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

আপডেটেড ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৬:২৪
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবেস-তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খাঁন চৌধুরী উপস্থিতিতে ও নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

পরে চন্ডীপাশা সরকারি হাই স্কুল খেলার মাঠে পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করে এবং মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী জনাব ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরিপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

দুপুর ১২টায় নান্দাইল উপজেলা পরিষদ হলরুমে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে নান্দাইলবাসী মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


বন্দী ও স্টাফ  এক চমৎকার সমন্বয়ে পঞ্চগড় জেলা কারাগারে মহান স্বাধীনতা  উদযাপিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ পঞ্চগড় জেলা কারাগারে বন্দী ও স্টাফ সবাই আনন্দঘন ও উৎসবমূখর পরিবেশে উদযাপন করেছে। বন্দীদের বিশেষ খাবারের অংশ হিসেবে সকাল শুরু হয়েছে সুস্বাদু পায়েস ও মুড়ি দিয়ে আর দুপুরে পোলাও, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর রোস্ট, ডাল, সালাদ, মিস্টি ও পান সুপারী ছিলো খাবারের ম্যেনুতে। রাতে মাছ, আলুর দম আর সাদা ভাত রাখা হয়েছে বলে জানান জেলার মো: আখেরুল ইসলাম।

জেলার আরও জানান শুধু বন্দী না স্টাফদেরও বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে কারা অধিদপ্তর, তাই তারাও আজ অনেক খুশি। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্যারেড গ্রাউন্ড এ কুচকাওয়াজ এ অংশগ্রহণ করে জেলা কারাগারের একটি কন্টিনজেন্ট, ভালো প্যারেড করায় ধন্যবাদ দেন জেলা প্রশাসক।

সবমিলিয়ে চমৎকার পরিবেশে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বন্দী ও স্টাফদের নিয়ে পঞ্চগড় জেলা কারাগারে উদযাপিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬। সার্বিক ম্যানেজমেন্টে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলারকে ধন্যবাদ জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শুকরিয়া পারভীন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ইমাম রাজী টুলু।


মেহেরপুরে অজ্ঞাত ব‍্যাক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রাজনগর গ্রামের ঘোড়ামারা পাড়ায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হুমায়ুন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েকদিন আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।


আজীবন ঘৃণিত থাকবে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা : ভূমিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জাতির কাছে আজীবন ঘৃণিত হয়ে থাকবে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরা। মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের প্রতি মানুষের ঘৃণা বিশ্বজুড়ে হিটলারের প্রতি যে ঘৃণা রয়েছে, তার মতোই থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৬টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের প্রতি মানুষের ঘৃণা বিশ্বজুড়ে হিটলারের প্রতি যে ঘৃণা রয়েছে, তার মতোই থাকবে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। এখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ স্বাধীনতাকে আরো উচ্চতায় নেয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদ। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কুচকাওয়াজ শুরু হয়।

কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজিসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সকাল ৮টায় মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়া পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধর, ৮ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পৌর মালিকানাধীন দোকানের তালা খুলে না দেওয়ায় ওসিসহ-এসআইসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছে যুব জামায়াত নেতারা। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বাদী হয়ে পলাশবাড়ি থানায় ৮ জামায়াত নেতাসহ অজ্ঞানামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পলাশবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রশিদুল বারী সাংবাদিকদের জানান, যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় প্রবেশ করেন। তারা থানার ওসি সারোয়ারে আলমকে বিবাদমান একটি দোকান তালাবদ্ধ করতে বলেন। তিনি রাজি না হলে পলাশ ও তার লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হন। পরে মারধর করেন। এতে আহত হন ওসিসহ ও এসআইসহ ৮ পুলিশ সদস্য।

পুলিশ সুপার বলেন, পৌরসভার মালিকানাধীন কালিবাড়ি বাজারে একটি দোকানের তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষুদ্ধ যুব জামায়াত নেতারা পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসি সরোয়ারে আলম, এসআই রুহুল আমীনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন।

খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিষয়টি শুনে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক থানায় এসে পৌঁছান।

আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা মামলা করতে পারেন।

পলাশবাড়ি থানার ওসি সরোয়ার আলম জানান, অভিযুক্ত ৮ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বোরহানউদ্দিনে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা, ভাবগাম্ভীর্য এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।

‎দিনের সূচনা হয় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে। এরপর উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পর্যায়ক্রমে শহিদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

‎সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বোরহানউদ্দিন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এবং স্কাউট, গার্লস গাইড অংশগ্রহণ করে। কুচকাওয়াজ শেষে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

‎এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন তার বক্তব্যে বলেন, “স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতির গৌরবের প্রতীক। এই দিনের চেতনা ধারণ করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

‎পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার তাৎপর্য এবং বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন মিয়া এবং যুদ্ধকালীন ট্রুপস কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আচমত আলী মিঞা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হলে ইতিহাসকে জানতে ও চর্চা করতে হবে।

‎দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া স্থানীয় মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

‎বিকেলে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বোরহানউদ্দিন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীগোষ্ঠী দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের আমেজকে আরও বর্ণিল করে তুলবে। সবমিলিয়ে, বোরহানউদ্দিনে মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন করে সবার মাঝে জাগ্রত করেছে।


banner close