সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপার সাপ যেন এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই বিষধর সাপটি নিয়ে ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে নেতিবাচক খবর দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এই সাপের কারণে মানুষ মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। যে সাপ চরাঞ্চলসহ জনমানবহীন এলাকায় থাকার কথা, সেই সাপ লোকালয়ে বেশি দেখা যাওয়ার খবরে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে বলে অনেকেই উল্লেখ করেছেন। কয়েক দিন আগে ভোলার এক বাড়িতে রাসেলস ভাইপারের বসবাস করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
গতকাল শুক্রবার ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেলের দুর্গম চরে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে একজন কৃষকের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে। ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া কৃষকের নাম হোসেন বেপারী (৫১)। তিনি সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশউল্লা ব্যাপারীর ছেলে।
এদিকে জেলার পার্শ্ববর্তী ডিক্রিরচর ইউনিয়নে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনে দুটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে সেগুলো পিটিয়ে মেরেছে গ্রামবাসী।
শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের আইজউদ্দীন মাতুব্বরের ডাঙ্গি গ্রামে ক্ষেতে কাজ করার সময় একটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পান ওই গ্রামের তোতা মোল্লার ছেলে মুরাদ মোল্লা (৪৫)। মুরাদ মোল্লা বলেন, সকালে বাদামের জমিতে কাজ করার সময় সাপটি নজরে পড়ে। এরপর লাঠি এনে তিন-চারটি বাড়ি মেরে সাপটি মেরে ফেলি।
এর আগের দিন (বৃহস্পতিবার) ওই গ্রামের হারুন শেখের ছেলে ইউসুফ আরও একটি রাসেলস ভাইপার সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলেন বলে জানান।
সম্প্রতি বিষাক্ত সাপ রাসেলস ভাইপারকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, এসব নাকি গুজব। কেউ আবার এই সাপ মারতে পারলে পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন। সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ফরিদপুরে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ মারতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেলে শহরের রাসেল স্কয়ারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. ইশতিয়াক আরিফ তার বক্তব্যের একপর্যায়ে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ নিয়ে বলেন, ফরিদপুর কোতোয়ালি এলাকায় কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারেন তাহলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া জানান, যেকোনো বন্যপ্রাণী নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রাসেলস ভাইপার এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার পরে ২০১৪ সাল থেকে আবার সাপটির দেখা যাচ্ছে। এ সাপের বংশবৃদ্ধির হার বেশি। একবারে একটি মা সাপ ৬০-৭০টি বাচ্চা দেয় এবং প্রায় সবকটি বাচ্চা বেঁচে যায়। এ সাপ সাধারণত চর এলাকায় থাকে। এদের খাবার ব্যাঙ ও ইঁদুর।
তিনি আরও বলেন, ‘পুরস্কারের এ ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ ধরতে অথবা মারতে গিয়ে সাপের কামড়ে মারা যান, তাহলে এর দায় কে নেবে?’
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়ে যাওয়া মারাত্মক বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপারের উপদ্রবে ও দংশনে বাড়ছে মৃত্যুও। বিশেষ করে ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহীসহ পদ্মা নদী-তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
পদ্মা-তীরবর্তী মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা। এই এলাকার মূল ভূখণ্ড থেকে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে যেতে হয় নৌকায়, সময় লাগে ১ ঘণ্টা। এই চরেই জেঁকে বসেছে রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক। কেননা গত ৩ মাসে এই সাপের কামড়ে মারা গেছেন ৫ জন। স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরেছেন অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি সাপ।
ভুক্তভোগীর একজন স্বজন জানান, তার বোনজামাই ভুট্টা আনতে গিয়ে সাপের কামড় খান। সেই সাপটি রাসেলস ভাইপার ছিল। পরে তার বোন জামাইকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ১০টি ভ্যাকসিন দিলে বিষ নামেনি। পরে ঢাকায় আনার পথে তার বোন জামাইয়ের মৃত্যু হয়।
শুধু মানিকগঞ্জ নয়, ফরিদপুর জেলার পদ্মা তীরবর্তী চরাঞ্চলেও দেখা মিলছে রাসেলস ভাইপারের। ফলে আতঙ্কে চরে কৃষি কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কৃষকরা জানান, এই সাপের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ কৃষকরা আতঙ্কে জমিতে কাজ করতে পারছেন না। সব সময় তাদের ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ। যাকে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও পদ্মা-তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আবারও দেখা মিলছে বিষধর এই সাপের। গবেষকরা বলছে, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে স্বভাব পরিবর্তন করছে রাসেলস ভাইপার।
সাপ ও সরীসৃপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রমন বলেন, সঠিক সার্ভে না করেই বাংলাদেশ থেকে রাসেলস ভাইপার বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সাপটি টিকে ছিল। পরবর্তীতে গঙ্গা হয়ে পদ্মা দিয়ে ২০০৯-১০ সালে ভেসে এসে পদ্মার চরাঞ্চলে অবস্থান নেয়। তারা বংশ বিস্তার করে এবং বন্যায় এগুলো বিভিন্ন জেলায় ভেসে যায়। বর্তমানে এই সাপ দেশের ২৮টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য সাপ যেমন পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে সেখানে এই সাপগুলো এটা করে না। এ ধরনের সাপগুলোর কাছাকাছি যখন মানুষ চলে আসে তারা শব্দ করতে থাকে আবার যখন তার রেঞ্জে মানুষ চলে যায় তখনই আতঙ্কিত হয়ে কামড় দিয়ে বসে।
চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা মিলছে যেসব এলাকায়, সেখানকার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানালেন, সংকট আছে অ্যান্টি ভেনমের। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অ্যান্টি ভেনেমের কোনো সংকট নেই।
স্বাস্থ্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সাপগুলোর প্রভাব আগে ছিল না। ভারত থেকে এসেছে বলেই এটি বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে রাসেলস ভাইপারের যে ন্যাচারাল ক্যারেক্টার আছে এখন এই ক্যারেক্টার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ফলে যে অ্যান্টি ভেনম আমরা পুশ করি, সেটি এখন কার্যকর হচ্ছে না।
ছোবল দিলে কী করতে হবে
প্রায় ৪০০০-এর বেশি সর্প দংশনের রোগীর চিকিৎসা দেওয়া ডা. ফরহাদ উদ্দীন হাসান চৌধুরী। এই সাপে ছোবল দিলে কী করতে হবে তা তিনি তার এক পোস্টে লেখেন-
বাংলাদেশের প্রধান ৩টি বিষাক্ত সাপ হলো গোখরা (কোবরা), কেউটে (ক্রেইট) এবং রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া। রাসেলস ভাইপার অপেক্ষাকৃত বেশি বিষধর। অতিসম্প্রতি এই সাপটির প্রকোপ বেড়ে গেছে। তবে এই সাপটি নিজ থেকে তাঁড়া করে কাউকে দংশন করে না। মূলত অসাবধানতাবশত কেউ এই সাপের গায়ে পাড়া দিলে এই সাপটি ছোবল দেয়।
তিনি বলেন, এই সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে মূলত শরীরের রক্ত পাতলা হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে, কিডনি বিকল হতে পারে, স্নায়ু অবশ হয়ে ফুসফুসের কার্যকারিতা হারিয়ে যেতে পারে এমনকি হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। বাংলাদেশে সর্প দংশন প্রতিরোধী যে অ্যান্টিভেনম রয়েছে সেগুলো কোবরা এবং ক্রেইটের বিপরীতে ভালোভাবে কাজ করলেও রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে ভালোমতো কাজ করে না। এই এন্টিভেনমটিতে ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে উপাদান রয়েছে। ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিষ এবং বাংলাদেশের রাসেলস ভাইপারের বিষের ভেতরে উপাদানগত বৈসাদৃশ্য বেশি হওয়ায় এটি পুরাপুরি কাজ করে না।
ডা. ফরহাদ বলেন, আমাদের দেশের এই সাপটির বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী অ্যান্টিভেনম তৈরি করার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা বিজ্ঞানী অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষের নেতৃত্বে একদল গবেষক বিগত প্রায় ৪-৫ বছর নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আশা করি আমরা অদূর ভবিষ্যতে রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে কার্যকরী দেশীয় একটি অ্যান্টিভেনম পেতে পারি। বিষাক্ত আর অবিষাক্ত মিলিয়ে আমি জীবনে ৩০০০-৪০০০ এর বেশি সর্প দংশনের রোগী নিজেই চিকিৎসা করেছি। কোবরা, ক্রেইট, রাসেলস ভাইপার সব ধরনের সাপের কামড়ের চিকিৎসা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাসেলস ভাইপারের ক্ষেত্রে ৫০%-এর বেশি রোগীকে বাঁচাতে পারিনি। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে এলে অতিদ্রুত অ্যান্টিভেনম শুরু করলে ও সাপোর্টিভ চিকিৎসা যেমন ডায়ালাইসি, ভেন্টিলেশন ইত্যাদি দিলে রোগী বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করি।
জীবননগরে দুই পিস ইয়াবাসহ মো. আশিক (২১) নামে এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম রাসেল জীবননগর মকসেদ সুপার মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। মো. আশিক জীবননগর পৌরসভার তেঁতুলিয়ার গ্রামের আরিফ উদ্দীনের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে আশিককে দুই পিস ইয়াবাসহ আটক করে জীবননগর থানা-পুলিশ। পরে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম রাসেলকে খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আশিককে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, ‘মাদকসহ আটকের পর ইউএনও স্যারকে খবর দেওয়া হয়। পরে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চলবে।’
দীর্ঘদিন প্রেম, গোপনে দুজনে দেখা-শোনা। দুজনের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে বিবাহ। মাত্র ২৯ দিনের মাথায় স্বামীর বাড়িতে মিলল ফাতেমা খাতুন নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ। টের পেয়ে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের উত্তর মেন্দা গ্রামে গত সোমবার (২ মার্চ) বিকালে তার শয়নকক্ষে এ ঘটনা প্রেমের পর বিয়ে হঠাৎ করেই গৃহবধূর আত্মহত্যাকে ঘিরে রয়েছে রহস্য। তিনি ওই এলাকার ইমন হোসেনের স্ত্রী। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অষ্টমনিষা ইউনিয়নের উত্তর কলকতি গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কন্যা ফাতেমা খাতুন ভাঙ্গুড়া একটি বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সুবাদে ইমনের সাথে পরিচয় ঘটে। এর পরে পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে ইমন ও ফাতেমার মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় দুজনেই দুজনের সাথে বিবাহ না দিলে তারা আত্মহত্যা করবে বলে উভয়েরই বাড়িতে হুমকি দিতে থাকে। দুজনের পরিবার বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে সম্মতিতে এ বছরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পরিবারিকভাবে বিবাহ দেন। এরপর থেকে ফাতেমা তার স্বামী ইমনের উত্তর মেন্দার বাড়িতে অবস্থান করত। ইমন পেশায় ভ্যানযোগে দুধ পরিবহন করেন এবং তার পিতামাতার সাথে উত্তর মেন্দায় বসবাস করেন।
ঘটনার দিন ইমনের মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। ইমন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বাড়িতেই অবস্থান করছিল। বিকালের রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। এরই ফাঁকে ফাতেমা খাতুন নিজ শয়ন ঘরের আড়ার সাথে গোলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে পড়ে। ইমনের ছোট ভাই জানালা দিয়ে বিষয়টি দেখে ডাকচিৎকার শুরু করে। তার ডাকচিৎকার শুনে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢালতে থাকে। এরপরও তিনি সুস্থ না হওয়ায় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাতেমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলে-মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করার এক মাসের মাথায় এক আত্মহত্যার মতো ঘটনা এলাবাসিকে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে কী কারণে ফাতেমা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো এমন প্রশ্নের কেউ উত্তর দিতে পারেনি। ফলে নববধূর হঠাৎ করে আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে রহস্যের জট উন্মোচন হচ্ছে না।
ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া এসআই রেজাউল করিম বলেন, হাসপাতাল মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাবনায় সোনালী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ৩ লাখ টাকা কৌশলে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পটুয়াখালী থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো- মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রবি হাওলাদার (৫১), মো. ঝন্টু শেখ ওরফে ঝন্টু (৪৯) এবং মো. দেলোয়ার হোসেন (৬১)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পাবনা অগ্রণী ব্যাংক রোডের সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে এক ভুক্তভোগী ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকাগুলো চুরি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পাবনা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে পটুয়াখালী থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
এই বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন জানান, ‘গ্রেপ্তাররা আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য। আমরা পরবর্তীতে আদালতের অনুমতিক্রমে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করব। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও লুন্ঠিত টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তারা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পটুয়াখালী পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দোকান ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী ফোরামের (টিবিএফ) উদ্যোগে মাহে রমজানের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) উপজেলা পরিষদস্থ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ ইফতার মাহফিল হয়।
টিবিএফ’র চেয়ারম্যান আলহাজ মইনুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারি মইনুল হক বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি সাবেক আহ্বায়ক রেদোয়ান খান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জাকির হোসেন, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক খালেদ পারভেজ বখশ, বিএনপি নেতা এস এম জামান মতিন ও আবু সুফিয়ান, সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম প্রমুখ। মাহফিলে বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন দক্ষিণবাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. আশরাফ হোসেন এবং দোয়া পরিচালনা করেন উত্তরবাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. মাহমুদুর রহমান ইমরান। এ ছাড়া টিবিএফের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জমি ক্রয়-বিক্রয় একেবারে নেই বললেই চলে।ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে এ অফিসে প্রতি সপ্তাহে ১৫০/২০০ দলিল রেজিস্ট্রি হত। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত যোগদান করার পর দলিল রেজিস্ট্রি কমেছে। তিনি প্রতিটি নামজারি নথি কারণে-অকারণে বাতিল করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। হেবা ঘোষণা,ওসিয়ত নামা ও দানপত্র দলিল সম্পাদন হয়। আর নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় সাব কবলা দলিল প্রতি সপ্তাহে ১৫/২০ টি হয়ে থাকে।এতে জমির মালিকরা ক্রয় বিক্রয় করতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহারাব হোসেন স্বপন বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনের পরই এ সমস্যা নিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের এসিল্যান্ডের কাছে তারা যান। তহসিল অফিসে খাজনা পরিশোধ করতে ভোগান্তি ও সরকারি রিসিটের চেয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। নামজারি খতিয়ান করতে তহসিল অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে পূর্বের চেয়ে তিনগুন টাকা ঘুষ দিতে হয়সহ জমির মালিকদের ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ধরেন। অযথা নামজারি খতিয়ানের নথি বাতিল করে দেয়ার তথ্য তুলে ধরলেও তিনি কোন কর্ণপাত করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জমির মালিক জানান,নামজারি খতিয়ানের জন্য অনলাইনে আবেদন করলেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন তহশিলদারকে নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ দিতে হয়। এরপর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রতিটি টেবিলে টাকা দিতে হয়। আর না হয় ফাইল নড়েনা। নথি এসি ল্যান্ডের টেবিলে গেলে তিনি কাগজপত্রের ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে বাতিল করে দেন।এতে পড়তে হয় মহা বিপাকে।
সোনাইমুড়ী নকল নবিশ সমিতির সভাপতি আমানুল্লাহ বলেন, নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি তেমন না হওয়ায় দলিলের নকল সরবরাহ কমেছে। পূর্বে প্রতি সপ্তাহের ৫০০ থেকে ৭০০ দলিলের নকল সরবরাহ করা হতো। এখন সপ্তাহে ১০০ থেকে ১৫০ দলিল সরবরাহ করা হয়। এতে সরকার বিপুল অংকের অর্থ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলার জগজীবনপুর গ্রামের জমির মালিক স্বপন জানান,তার ওয়ারিশ সনদ জ্বাল করে অন্যেরা নামজারি করে নিয়েছে। তিনি আপত্তি দেয়ার ৬ মাসেও তা কোন নিষ্পত্তি হয়নি। উল্টো উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির রেজাউল তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে।
সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার সিরাজুল হক বলেন, পূর্বের তুলনায় এখন দলিল রেজিস্ট্রি কম হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নওগাঁয় ইটভাটার ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী রিমন হোসেন (৩০) নামে এক কোচিং সেন্টারের শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের কাদিমপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিমন হোসেন সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে শিক্ষক রিমন হোসেন প্রাইভেট পড়ানোর উদ্দেশে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে আড়চা গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ সময় কাদিমপুর নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা বিবিসি ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়কের কীর্ত্তিপুর গ্রামের শশীর মোড়ে অবস্থিত বিবিসি ইটভাটায় গিয়ে চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে আঞ্চলিক মহাসড়কে তারা অবস্থান নিয়ে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানায়। পরে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার আশ্বস্ত করলে অবরোধ তুলে নেয় উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিস ও ইটভাটার কর্মীরা পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন- ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন- ট্রাক্টরের চাপায় শিক্ষক রিমন হোসেন মারা যান। ঘটনার পর ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে তালিমুল কোরআন নূরানি মহিলা মাদ্রাসা পুড়ে ছাই হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির পাঠদান চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে।
কোটালীপাড়া ফায়ারসার্ভিস স্টেশন অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং সেখানে গিয়ে একঘন্টার চেস্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। ততক্ষণে উনশিয়া তালিমুল কোরআন নুরানি মহিলা মাদ্রাটির একটি টিনের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসাটি যেহেতু অনাবাসিক সেক্ষেত্রে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রাথমিক পর্যায় বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নীলফামারীতে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা ও তাৎপর্য শীর্ষক সেমিনার হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর উপ-পরিচালক মোছাদ্দিকুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ড. হাফেজ মাওলানা রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ।
এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা। সঠিকভাবে যাকাত আদায় ও বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। তারা যাকাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিত্তবানদের যথাযথ হিসাব করে যাকাত প্রদান এবং প্রকৃত হকদারদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সেমাইয়ের বাড়তি চাহিদাকে ঘিরে ভেজাল ও অনিয়ম রোধে অভিযান জোরদার করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন সেমাই কারখানায় পরিচালিত এ অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে রংপুর বিভাগ ও নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সহযোগিতা করে র্যাব-১৩ এবং আনসার সদস্যরা।অভিযানে অনুমোদনহীন রং ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার, খাদ্যপণ্যে ব্যবহার অনুপযোগী আয়োডিনযুক্ত লবণ মজুদ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এছাড়া পণ্যের মোড়কে ঘোষিত উপাদানের সঙ্গে বাস্তব উপাদানের অসামঞ্জস্য এবং নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে সৈয়দপুরের নিয়ামতপুর এলাকার রসনি সেমাই কারখানাকে ৩০ হাজার টাকা, তাজ ফুড প্রোডাক্টস সেমাই কারখানাকে ৬০ হাজার টাকা এবং নাজ ফুড প্রোডাক্টস সেমাই কারখানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে ভেজাল বা নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে আইন মেনে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মোড়কের তথ্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ঈদকে ঘিরে যেন ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হয়, সেই লক্ষ্যেই চলছে এই নজরদারি। সচেতনতা আর কঠোর তদারকিই পারে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষিত রাখতে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি (কাঁঠালতলা) এলাকায় বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা মরদেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পানির ভেতরে থাকায় মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল।
শিশুটির নাম আশরাফুল ইসলাম। তার বাবা মো. শাহীন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে এসে জানায়, দোলনায় ছোট ভাই নেই। পরিবারের সদস্যরা ঘর ও আশপাশে খোঁজ করেও শিশুটির সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের পর এক প্রতিবেশী দাবি করেছিলেন, বোরকা পরা তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের হাতে একটি শিশু ছিল। ওই বক্তব্যের পর এলাকায় শিশু চুরির আশঙ্কা জোরালো হয়।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ জানান, নিখোঁজের পর থেকেই তদন্ত চলছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে শিশুটির দাদী অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
বরগুনার পাথরঘাটায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে হরিনঘাটা বন কেন্দ্রের বিট কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে হরিনঘাটা বন এলাকায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি ও মানবন্ধন করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএসের ফিসনেট প্রকল্পের উদ্যোগে আলোচনা সভায় হরিনঘাটা বিটের বিট কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্রের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মো. সগির আলম, ইউপি সদস্য শাহ আলম, দুলল মিয়া, রেজাউল ইসলাম, ফিসনেট প্রকল্পের আরাফাত রহমান, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করতে হলে আগে মানুষকে সচেতনতার বিকল্প নেই। আগে আমাদের সচেতন হতে হবে , বনের ও বন্যপ্রাণীর বিষয়ে গুরুত্ব বুঝতে হবে। মানুষের জন্য, মানুষের জীবিকার জন্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় আমাদের বন্যপ্রাণী হত্যা, নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মুদির দোকান মালিককে জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার নন্দীগ্রাম হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রয় না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন।
সেসময় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে নিউ ফকির স্টোরের মালিক শফিকুল ইসলাম (৪৯) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন খাদ্য পরিদর্শক আবু মুসা সরকার। সহযোগিতায় ছিলেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। দন্ডপ্রাপ্ত মুদির দোকানদার শফিকুল ইসলাম নন্দীগ্রাম পূর্বপাড়ার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, প্রত্যেক দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। আর কোনোভাবেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম ক্রেতাদের নিকট থেকে নেওয়া যাবে না। এজন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিধবা ভাতার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অনেক অসহায় নারী দীর্ঘ ৪ বছর আগে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও আজ অবধি তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি এই সুবিধা। ভুক্তভোগীরা বারবার সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘বরাদ্দ নেই’ বলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে সরকারের এই মানবিক কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দুস্থরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। চার বছর আগে ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু প্রতিবার গেলে অফিস থেকে বলা হয় বরাদ্দ আসেনি। আমাদের মতো গরিবের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।’ এছাড়া বয়স্কভাতার জন্য আরও এক ভোক্তভোগী জানান, গত বছরের ২০২৫সালে আবেদন করেছি। এখনো কোনো খবর হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবা খাতের বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বরাদ্দ সংকটের দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘুরানো হচ্ছে। এই অচলাবস্থা কবে নিরসন হবে এবং কবে থেকে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ এই সেক্টরের অনিয়ম ও গাফিলতি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যোগ্য ও প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভাতার আওতায় আনা হোক।
কমলগঞ্জ সমাজ সেবার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া জানান, বরাদ্দ না থাকার কারণে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে এই বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগকারীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।