সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপার সাপ যেন এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই বিষধর সাপটি নিয়ে ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে নেতিবাচক খবর দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এই সাপের কারণে মানুষ মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। যে সাপ চরাঞ্চলসহ জনমানবহীন এলাকায় থাকার কথা, সেই সাপ লোকালয়ে বেশি দেখা যাওয়ার খবরে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে বলে অনেকেই উল্লেখ করেছেন। কয়েক দিন আগে ভোলার এক বাড়িতে রাসেলস ভাইপারের বসবাস করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
গতকাল শুক্রবার ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেলের দুর্গম চরে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে একজন কৃষকের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে। ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া কৃষকের নাম হোসেন বেপারী (৫১)। তিনি সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশউল্লা ব্যাপারীর ছেলে।
এদিকে জেলার পার্শ্ববর্তী ডিক্রিরচর ইউনিয়নে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনে দুটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে সেগুলো পিটিয়ে মেরেছে গ্রামবাসী।
শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের আইজউদ্দীন মাতুব্বরের ডাঙ্গি গ্রামে ক্ষেতে কাজ করার সময় একটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পান ওই গ্রামের তোতা মোল্লার ছেলে মুরাদ মোল্লা (৪৫)। মুরাদ মোল্লা বলেন, সকালে বাদামের জমিতে কাজ করার সময় সাপটি নজরে পড়ে। এরপর লাঠি এনে তিন-চারটি বাড়ি মেরে সাপটি মেরে ফেলি।
এর আগের দিন (বৃহস্পতিবার) ওই গ্রামের হারুন শেখের ছেলে ইউসুফ আরও একটি রাসেলস ভাইপার সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলেন বলে জানান।
সম্প্রতি বিষাক্ত সাপ রাসেলস ভাইপারকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, এসব নাকি গুজব। কেউ আবার এই সাপ মারতে পারলে পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন। সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ফরিদপুরে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ মারতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেলে শহরের রাসেল স্কয়ারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. ইশতিয়াক আরিফ তার বক্তব্যের একপর্যায়ে রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ নিয়ে বলেন, ফরিদপুর কোতোয়ালি এলাকায় কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ মারতে পারেন তাহলে তাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া জানান, যেকোনো বন্যপ্রাণী নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রাসেলস ভাইপার এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার পরে ২০১৪ সাল থেকে আবার সাপটির দেখা যাচ্ছে। এ সাপের বংশবৃদ্ধির হার বেশি। একবারে একটি মা সাপ ৬০-৭০টি বাচ্চা দেয় এবং প্রায় সবকটি বাচ্চা বেঁচে যায়। এ সাপ সাধারণত চর এলাকায় থাকে। এদের খাবার ব্যাঙ ও ইঁদুর।
তিনি আরও বলেন, ‘পুরস্কারের এ ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ যদি রাসেলস ভাইপার সাপ ধরতে অথবা মারতে গিয়ে সাপের কামড়ে মারা যান, তাহলে এর দায় কে নেবে?’
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়ে যাওয়া মারাত্মক বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপারের উপদ্রবে ও দংশনে বাড়ছে মৃত্যুও। বিশেষ করে ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহীসহ পদ্মা নদী-তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
পদ্মা-তীরবর্তী মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা। এই এলাকার মূল ভূখণ্ড থেকে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে যেতে হয় নৌকায়, সময় লাগে ১ ঘণ্টা। এই চরেই জেঁকে বসেছে রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক। কেননা গত ৩ মাসে এই সাপের কামড়ে মারা গেছেন ৫ জন। স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরেছেন অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি সাপ।
ভুক্তভোগীর একজন স্বজন জানান, তার বোনজামাই ভুট্টা আনতে গিয়ে সাপের কামড় খান। সেই সাপটি রাসেলস ভাইপার ছিল। পরে তার বোন জামাইকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ১০টি ভ্যাকসিন দিলে বিষ নামেনি। পরে ঢাকায় আনার পথে তার বোন জামাইয়ের মৃত্যু হয়।
শুধু মানিকগঞ্জ নয়, ফরিদপুর জেলার পদ্মা তীরবর্তী চরাঞ্চলেও দেখা মিলছে রাসেলস ভাইপারের। ফলে আতঙ্কে চরে কৃষি কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কৃষকরা জানান, এই সাপের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ কৃষকরা আতঙ্কে জমিতে কাজ করতে পারছেন না। সব সময় তাদের ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপ। যাকে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও পদ্মা-তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় আবারও দেখা মিলছে বিষধর এই সাপের। গবেষকরা বলছে, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে স্বভাব পরিবর্তন করছে রাসেলস ভাইপার।
সাপ ও সরীসৃপ গবেষক বোরহান বিশ্বাস রমন বলেন, সঠিক সার্ভে না করেই বাংলাদেশ থেকে রাসেলস ভাইপার বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সাপটি টিকে ছিল। পরবর্তীতে গঙ্গা হয়ে পদ্মা দিয়ে ২০০৯-১০ সালে ভেসে এসে পদ্মার চরাঞ্চলে অবস্থান নেয়। তারা বংশ বিস্তার করে এবং বন্যায় এগুলো বিভিন্ন জেলায় ভেসে যায়। বর্তমানে এই সাপ দেশের ২৮টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য সাপ যেমন পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে সেখানে এই সাপগুলো এটা করে না। এ ধরনের সাপগুলোর কাছাকাছি যখন মানুষ চলে আসে তারা শব্দ করতে থাকে আবার যখন তার রেঞ্জে মানুষ চলে যায় তখনই আতঙ্কিত হয়ে কামড় দিয়ে বসে।
চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা মিলছে যেসব এলাকায়, সেখানকার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানালেন, সংকট আছে অ্যান্টি ভেনমের। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অ্যান্টি ভেনেমের কোনো সংকট নেই।
স্বাস্থ্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই সাপগুলোর প্রভাব আগে ছিল না। ভারত থেকে এসেছে বলেই এটি বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে রাসেলস ভাইপারের যে ন্যাচারাল ক্যারেক্টার আছে এখন এই ক্যারেক্টার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ফলে যে অ্যান্টি ভেনম আমরা পুশ করি, সেটি এখন কার্যকর হচ্ছে না।
ছোবল দিলে কী করতে হবে
প্রায় ৪০০০-এর বেশি সর্প দংশনের রোগীর চিকিৎসা দেওয়া ডা. ফরহাদ উদ্দীন হাসান চৌধুরী। এই সাপে ছোবল দিলে কী করতে হবে তা তিনি তার এক পোস্টে লেখেন-
বাংলাদেশের প্রধান ৩টি বিষাক্ত সাপ হলো গোখরা (কোবরা), কেউটে (ক্রেইট) এবং রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া। রাসেলস ভাইপার অপেক্ষাকৃত বেশি বিষধর। অতিসম্প্রতি এই সাপটির প্রকোপ বেড়ে গেছে। তবে এই সাপটি নিজ থেকে তাঁড়া করে কাউকে দংশন করে না। মূলত অসাবধানতাবশত কেউ এই সাপের গায়ে পাড়া দিলে এই সাপটি ছোবল দেয়।
তিনি বলেন, এই সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে মূলত শরীরের রক্ত পাতলা হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে, কিডনি বিকল হতে পারে, স্নায়ু অবশ হয়ে ফুসফুসের কার্যকারিতা হারিয়ে যেতে পারে এমনকি হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। বাংলাদেশে সর্প দংশন প্রতিরোধী যে অ্যান্টিভেনম রয়েছে সেগুলো কোবরা এবং ক্রেইটের বিপরীতে ভালোভাবে কাজ করলেও রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে ভালোমতো কাজ করে না। এই এন্টিভেনমটিতে ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে উপাদান রয়েছে। ভারতীয় রাসেলস ভাইপারের বিষ এবং বাংলাদেশের রাসেলস ভাইপারের বিষের ভেতরে উপাদানগত বৈসাদৃশ্য বেশি হওয়ায় এটি পুরাপুরি কাজ করে না।
ডা. ফরহাদ বলেন, আমাদের দেশের এই সাপটির বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী অ্যান্টিভেনম তৈরি করার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা বিজ্ঞানী অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষের নেতৃত্বে একদল গবেষক বিগত প্রায় ৪-৫ বছর নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আশা করি আমরা অদূর ভবিষ্যতে রাসেলস ভাইপারের বিরুদ্ধে কার্যকরী দেশীয় একটি অ্যান্টিভেনম পেতে পারি। বিষাক্ত আর অবিষাক্ত মিলিয়ে আমি জীবনে ৩০০০-৪০০০ এর বেশি সর্প দংশনের রোগী নিজেই চিকিৎসা করেছি। কোবরা, ক্রেইট, রাসেলস ভাইপার সব ধরনের সাপের কামড়ের চিকিৎসা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাসেলস ভাইপারের ক্ষেত্রে ৫০%-এর বেশি রোগীকে বাঁচাতে পারিনি। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে এলে অতিদ্রুত অ্যান্টিভেনম শুরু করলে ও সাপোর্টিভ চিকিৎসা যেমন ডায়ালাইসি, ভেন্টিলেশন ইত্যাদি দিলে রোগী বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করি।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ঔষধ এবং ঔষধ তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি-এর একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গ্রেপ্তাররা হলো আব্দুল্লা আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬)।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, হাইজিন ওয়াশ, সাবান, পাউডার, ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঔষধ এবং বিভিন্ন ধরণের প্যাকেজিং সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ঔষধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি সিলিন্ডার, একটি ফুয়েল লাগানোর মেশিন, দুইটি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, ১০ কেজি ফুয়েল (পলিথিন), ছয়টি ক্যাপসুল ভরার যন্ত্রাংশ এবং দুইটি লেভেল লাগানোর সাঁচ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি সিরাপ ও লিকুইড পণ্যও রয়েছে।
দেশীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ আজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
দেশীয় সিএমএসএমই শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মানসম্পন্ন পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলা আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের কারিগরদের জন্মগত যে মেধা ও দক্ষতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তারা নজরকাড়া পণ্য তৈরি করছেন। গার্মেন্টস বা অন্যান্য চাকরির চেয়ে কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যাতে আরও ভালো করতে পারেন, সেজন্য বিসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।
তিনি বলেন, শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রচারও প্রয়োজন। প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে কুটির শিল্পের বাজার অনেক সম্প্রসারিত হবে।
দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের আধুনিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের কদর এখনো কমেনি। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ভিড়ে মানুষ আবার প্রকৃতি ও সনাতন পদ্ধতির সুস্থ-সুন্দর জীবনযাত্রার দিকে ফিরছে। এসব পণ্য একদিকে সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে সমাজের অবহেলিত নারীসমাজ ঘরে বসে এসব কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন এবং পরিবার ও সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিসিকের হাত ধরেই দেশের সিএমএসএমই খাত এগিয়ে চলেছে। বিসিক প্রশিক্ষণ প্রদান থেকে শুরু করে উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে নানা ধরনের কাজ করছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে তাদের পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচারের লক্ষ্যে বিসিক প্রতি মাসে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বাজার সম্প্রসারণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিসিক কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি সরকারের ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।
দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে মোট ৬০টি স্টলে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০টি বস্ত্রজাত, ৮টি পাটজাত, ৬টি গহনা, ৫টি খাদ্য ও খাদ্যজাত, ৩টি চামড়াজাত, ৩টি মধু, ৪টি গৃহসজ্জা এবং ২টি বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের স্টল রয়েছে। এ ছাড়া মেলায় ৭টি স্টলে জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও রাজশাহী সিল্কসহ বিভিন্ন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মেলায় বিসিক নকশা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও অংশগ্রহণ করছেন। দর্শনার্থীদের বিসিকের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে বিসিক তথ্যকেন্দ্র ও নকশা কেন্দ্রের পৃথক স্টলও স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সকল শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একইসাথে প্রাথমিক শিক্ষা লেভেলে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবা, এমপির সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আব্দুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী ও মাহফুজা হান্নান অংশগ্রহণ করেন।
কমিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলমান ফিডিং কার্যক্রমে সঠিক কোয়ালিটি ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সুপারিশ করে। একই সাথে কমিটি ফিডিং কার্যক্রমে কোয়ালিটি নিশ্চিত না হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করে।
বৈঠকে কমিটি বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়ে সুপারিশ করে।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সাথে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট-এর ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরে খাতওয়ারী বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা এবং খাতওয়ারী বাজেট ও ব্যয় বিভাজন নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বৈঠকে।
কমিটির সদস্যরা উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে দেশের সকল শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশ করে। এ ছাড়া বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে কমিটির সকল সদস্যকে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরজমিনে পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে দেশের নবীন প্রজন্মের কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কর্মজীবন থেকে অবসরে যাওয়ার অর্থ কোনোভাবেই সমাজে একজন মানুষের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ কথা বলেন।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মানুষের আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে প্রবীণদের বিষয়ে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৯ বছর বয়সে এবং অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আরও কিছুটা বেশি বয়সে অবসরের সুযোগ রয়েছে। একজন কর্মঠ মানুষকে হঠাৎ করে কর্মজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলে এর নেতিবাচক প্রভাব তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়তে পারে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আজ পর্যন্ত যিনি নিয়মিত অফিস করেছেন, আগামীকাল থেকে তাকে বলা হচ্ছে আর অফিসে আসার প্রয়োজন নেই—এই পরিবর্তনটি একজন কর্মক্ষম মানুষের জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে কঠিন। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘প্রবীণদের মধ্যে এমন অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা বর্তমান প্রজন্ম ইচ্ছা করলেও অর্জন করতে পারবে না।’ মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম চাইলেও মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়টিতে ফিরে যেতে পারবে না। যারা সেই সময়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রবীণদের সুস্থতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, পরামর্শ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু রাজধানীর একটি বা কয়েকটি কেন্দ্রে প্রবীণসেবা সীমাবদ্ধ না রেখে তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশের ৬৪টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ন্যূনতম মানসম্পন্ন প্রবীণসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। বিপুলসংখ্যক প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু একটি সংগঠন বা একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
প্রবীণদের প্রতি তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রবীণদের কাছ থেকে পাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ সরকারের নীতি ও কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে পারে।’ তাদের চিন্তা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের র্যালিতে অংশ নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রবীণ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। প্রতিপাদ্যের আলোকে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়।
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সদ্য যোগদানকৃত সিনিয়র অফিসারদের চলমান বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে বিশেষ ক্লাস নিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের অপস কনফারেন্স রুমে শুরু হয় এ বিশেষ ক্লাস। ৯০ মিনিটব্যাপী এ সেশন দুপুর ১টায় শেষ হয়। এতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সদ্য যোগদানকৃত ২৫ জন সিনিয়র অফিসার অংশ নেন।
বিশেষ ক্লাসে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা, ব্যাংকিংসেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
এ সময় গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে যথাসময়ে ঋণ বিতরণ, দক্ষতার সঙ্গে ঋণ আদায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাংকিংসেবার পরিধি সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ব্যাংকিং সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন।
ক্লাসের শেষ পর্যায়ে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মহাপরিচালক ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের সেবার মানোন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
দক্ষ, সৎ ও জনবান্ধব ব্যাংকার তৈরির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক ব্যাংকিংসেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয় এ বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন।
সীমান্তে নজরদারি ও অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বিজিবির ‘ছোট আগলা’ সীমান্ত চৌকি উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির নতুন এই সীমান্ত চৌকির (টিওবি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন।
রামু ব্যাটালিয়নের (৩০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তবর্তী ছোট আগলা এলাকায় নতুন এই চৌকি নির্মাণ করা হয়। আগে সীমান্ত থেকে বিদ্যমান বিওপিগুলোর দূরত্ব বেশি থাকায় নজরদারি চালনা চ্যালেঞ্জিং ছিল। নতুন টিওবি স্থাপনের ফলে সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে বলে বিজিবি জানায়।
বিজিবির দাবি, এই স্থাপনা থেকে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধসহ সীমান্তে নজরদারি আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। উদ্বোধনকালে রিজিয়ন কমান্ডার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার-উল-আলম, কক্সবাজার রিজিয়নের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া, রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী এবং সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে দিনে দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে অপহরণ করে তুলে নেওয়ার প্রায় আধাঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনা সদর থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই কর্মকর্তা থানায় কোনো অভিযোগ দেননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কেডি ঘোষ রোডস্থ সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময়ে কয়েকজন মুখোশধারী (মুখে কাপড় বাঁধা) সন্ত্রাসী অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। পরে একটি মোটরসাইকেলে পাশের পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোডে নিয়ে একটি রিকশায় উঠিয়ে জেলখানা ঘাট এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় একটি রিকশায় তন্ময় কুমার মন্ডলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই রিকশায় বসা মুখে কাপড় বাঁধা একজন যুবক তার পেটে পিস্তল তাক করে রেখেছেন। ওই রিকশার আগে একটি মোটরসাইকেল এবং রিকশার পেছনে একটি মোটরসাইকেল গার্ড দিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এ ছাড়া মুখোশধারী এক যুবককে রিকশার পেছন পেছন দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। রিকশাটি পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোড দিয়ে জেলখানা ঘাট এলাকার দিকে চলে যায়। তবে কী কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছে তা জানা যায়নি।
এদিকে অপহরণ ঘটনার পরপর জেলা ও সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা, দলিল লেখক ও উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখতে থাকেন। অপহরণ ঘটনার ঠিক আধাঘণ্টা পর অপহরণ হওয়া সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল একাই তার কার্যালয়ে ফিরে আসেন।
এ সময়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কার্যালয় থেকে বাইরে বের হচ্ছিলাম, তখন তারা একটি সমস্যার কথা বলে, তাই কথা বলতে গিয়েছিলাম। তবে তারা কারা জানিনা। তারা আমাকে রিকশায় করে নদীর ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে কিছু কথা বলে চলে আসি। আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।’
তিনি যখন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তখন তার মধ্যে আতঙ্ক ছিল। এলোমেলো কথা বলছিলেন।
জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত খুলনা সদর থানার এস আই জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দুপুর ৩টা ১০ মিনিটের সময় সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। সিসিটিভিতে দেখি তাকে একটি রিকশায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর আমরা থাকতেই তিনি ফিরে আসেন। তিনি কোনো অভিযোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন।’
জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে সাব-রেজিস্ট্রারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে খুলনা নিউমার্কেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অফিসপাড়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযোগ দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এদিকে ঘটনার পর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল বিকাল ৫টা পর্যন্ত তার কার্যালয়ে ছিলেন। এরপর তার পরিবার এসে বাসায় নিয়ে যান।
পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহকে কেন্দ্র করে ১৪ বছর বয়সি কিশোর ওমর আলীকে হত্যার অভিযোগে নজরুল ইসলাম (৪৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, গত ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানাধীন জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি গ্রামের ঘাসের ক্ষেত থেকে কিশোর ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ৫ জানুয়ারি বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার ফরিদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নজরুলকে শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।’ তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, প্রতিবেশী দুই গৃহবধূর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ওমর আলী। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ওমর আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। এ জন্য তাকে হত্যার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ সুপার আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী কিশোর ওমর আলীকে ১ জানুয়ারি রাতে তাকে ধরে নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। এরপর সেখানে তাকে নির্যাতন করে একটি বাথরুমে ফেলে রাখা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ পাশের একটি ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রাখেন তারা। পরে স্থানীয়রা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
পিবিআই পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘মামলাটির তদন্তে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত এবং আসামির জবানবন্দি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।’
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নগরীর নির্ধারিত নিম্নআয়ের পরিবারগুলো টিসিবির বিভিন্ন পণ্য ভর্তুকি মূল্যে কেনার সুযোগ পাবেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের হাতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে সরকার টিসিবির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি মূল্যে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করে আসছে। স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এই সুবিধা আরও সুশৃঙ্খলভাবে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে সংসারের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্য তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীদের নির্ধারিত সুবিধা নিশ্চিত করা হলে সরকারি সহায়তা বিতরণে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরি হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, ‘নিম্নআয়ের মানুষের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। সরকারি সহায়তা যেন কোনোভাবেই প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাইরে চলে না যায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে নগরীর নিম্নআয়ের পরিবারগুলো উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপকারভোগীরা জানান, সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ক্ষেত্রে টিসিবির সুবিধা তাদের জন্য বেশ সহায়ক। সীমিত আয়ের মধ্যে বাজার খরচ সামলাতে সরকারি এ ধরনের সহায়তা তাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ, যাচাই এবং নির্ধারিত সুবিধা প্রদানের কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি টিসিবির পণ্য বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে কমিশন দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে হিসাব সহকারী মো. হাসিবুল হাসানের নাম। অভিযোগ, কমিশন ছাড়া ফাইলের কাজ এগোয় না। এ অভিযোগের মধ্যে হাসিবুলের টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম।
জানা যায়, রেললাইন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে এলএ শাখায় দিনের পর দিন ঘুরতে হয় জমির মালিকদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফাইলের কাজ এগিয়ে নিতে বিভিন্ন হারে কমিশন দাবি করা হয়। কমিশন না দিলে ফাইল মাসের পর মাস পড়ে থাকে।
ভুক্তভোগী মো. নিহাল হোসেন ও জামেলা খাতুনের অভিযোগ, হিসাব সহকারী হাসিবুল হাসানকে টাকা ছাড়া কোনো কাজ করানো যায় না। তাদের দাবি, কমিশন না দিলে ফাইল পড়ে থাকে এবং ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে হয়রানির শিকার হতে হয়। তারা হাসিবুলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে হাসিবুল হাসানের টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়। ভিডিওতে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় হাসিবুল হাসানের টাকা গ্রহণের একটি দৃশ্য দেখা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি হাসিবুল হাসান। ভিডিওতে টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো সৎ উত্তর দিতে পারেননি।
এর আগে একই ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো ও সার্ভেয়ারদের বিরুদ্ধেও কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এবার হিসাব সহকারী হাসিবুল হাসানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এলএ শাখার কার্যক্রম নিয়ে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নূর নাহার বেগম জানান, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জমির মালিকদের দাবি, ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে কমিশন নয়, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এখন হাসিবুল হাসানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
কিশোরগঞ্জে সদরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের করে অন্য সিলিন্ডারে স্থানান্তরের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার মহিনন্দ বাজারে অভিযান চালিয়ে রাজিব মিয়া নামের ওই ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত রাজিব মিয়ার বাড়ি পাকুন্দিয়া উপজেলায়। তিনি মহিনন্দ এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থেকে এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজিব একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ১২ কেজির ভর্তি সিলিন্ডার থেকে ৩ থেকে ৪ কেজি গ্যাস বের করে খালি সিলিন্ডারে ভরে রাখতেন।
পরে কম ওজনের সিলিন্ডারগুলো ১২ কেজি হিসেবে বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে একইভাবে গ্যাস স্থানান্তরের সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দেন।
পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মারুফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল ঘোষ পলাশ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
আদালত রাজিব মিয়াকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মারুফ বলেন, ‘রাজিব মিয়া স্বীকার করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এক সিলিন্ডার থেকে গ্যাস অন্য সিলিন্ডারে স্থানান্তর করে কেনাবেচা করছিলেন।’ জনস্বার্থে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
গাজীপুরের টঙ্গীর কুখ্যাত ছিনতাইকারী শাওন উরফে কাইল্লা শাওনকে সহযোগীসহ আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাকে ধরতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের হামলায় এস আই হানিফ মাহমুদ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে ৯টার দিকে খরতৈল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ খরতৈল এলাকার কামরুজ্জামান শাওন খন্দকার ওরফে কাইল্লা শাওন (২৬) ও তার সহযোগী ছিনতাইকারী সাগর (২৫)। তাদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে ৯টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক হানিফ মাহমুদের নেতৃত্বে খরতৈল এলাকা ছিনতাইবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় কুখ্যাত ছিনতাইকারী শাওন ও তার সহযোগী সাগরকে হাতেনাতে আটক করতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তারা।
একপর্যায়ে শাওনের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এসআই হানিফের পায়ের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েও শাওনকে আটক করেন এসআই হানিফ। পরে সঙ্গীয় পুলিশের সহযোগিতায় শাওন ও সাগরকে থানা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হামলায় গুরুতর আহত এসআই হানিফকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আহত পুলিশ অফিসারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।’
নীলফামারী শহরের আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ সংরক্ষণ, মাঠ সংকুচিত করে দোকানঘর নির্মাণ বন্ধ এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ূন কবিরের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নীলফামারী আলিয়া মাদ্রাসার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে মৃত ব্যক্তিদের জানাজার নামাজ আদায়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিশু-কিশোররা নিয়মিত এ মাঠে খেলাধুলা করে। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাঠের জায়গা সংকুচিত করে দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া মাদ্রাসার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় শিশু-কিশোররা মাঠে প্রবেশ করে খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা মতামত না নিয়েই মাঠে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগও করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা, মাঠে দোকানঘর নির্মাণ বন্ধ এবং প্রধান ফটক সবসময় খোলা রাখার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব উর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সোয়েম, আইনজীবী সানাউল হক তনিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।