৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।
হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।
ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।
গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।
একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
ফরিদপুর জেলা পরিষদের দুটি স্থাপনার ছাদে ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। নেট মিটারিং পদ্ধতিতে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে জেলা পরিষদের স্থাপনায় এ ধরনের উদ্যোগ একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা পরিষদ ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) ফরিদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। মোট ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এ প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী ২০ বছর প্ল্যান্টগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ।জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শেখ শহীদুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন পিয়াল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রবীর কান্তি বালা সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নেট মিটারিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের এ উদ্যোগ সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সরকারি ভবনের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গানে গানে মানবতার জয়গান, সাধুসঙ্গে আত্মার সন্ধান। বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস ঘিরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। সাজসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ আর দোকানিদের আনাগোনায় বাড়ছে উৎসবের আমেজ। তবে এ আয়োজন শুধু স্মরণোৎসব নয়; এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সাধুসঙ্গের ঐতিহ্য, আত্মসাধনা আর মানবতার দর্শন।
‘নিগূঢ় প্রেম কথাটি তাই আমি শুধাই কার কাছে, যদি তরিতে বাসনা থাকে, ধর রে মন সাধুর সঙ্গ।’
লালন সাঁইজির গানের এই আহ্বান যেন আজও মানুষকে টানে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায়। সাধুসঙ্গের টানে এখানে ছুটে আসেন সাধু-বাউল ও ভক্তরা। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণোৎসব।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন মাঠে বসতে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন সাধু-বাউল ও লালনভক্তরা। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা।
মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য আলমাস হোসেন বলেন, ‘মেলার প্যান্ডেল নির্মাণ ও মাঠের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ প্রায় শেষের পথে।’ এবারই প্রথম মেলার জন্য আলাদা একটি রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলাকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের একটি সুন্দর মেলা উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফকির লালন শাহের ঘরের রেজা ফকির বলেন, ‘লালন শাহের ঘর, পাঞ্জু শাহের ঘর, দেলবার শাহের ঘর, চৌধুরীর ঘর ও সতীমার ঘর এই পাঁচ ঘরের গুরুপাঠ আলাদা হলেও তাদের মতাদর্শ ছিল প্রায় একই। সেই অভিন্ন দর্শন, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের টানে পাঁচ ঘরের অনুসারীরা একত্রিত হয়ে সাধুসঙ্গে মিলিত হতেন।
ফকির লালন শাহ জীবিত থাকাকালে দোল পূর্ণিমার উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধুসঙ্গের যে ঐতিহ্য প্রচলিত ছিল, তা শুধু একটি উৎসব নয়; বরং গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক, আধ্যাত্মিক সাধনা, সম্প্রীতি ও ভাববিনিময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিকতা। আমরা সেই ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে আজও সাধুসঙ্গের আয়োজন করে আসছি।’
লালন অনুসারীদের ভাষ্য, লালন সাঁইজি জীবিত থাকাকালে দোল পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে সাধুসঙ্গের আয়োজন করতেন। সেই ঐতিহ্যে সাধুসঙ্গ ছিল শুধু গান বা আচার-অনুষ্ঠান নয়; বরং আত্মসাধনা, দর্শনচর্চা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্র।
লালনের গানে মানুষই ছিল মুখ্য। তার দর্শনে ‘মনের মানুষ’ আর ‘অচিন পাখি’ হয়ে উঠেছে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার রহস্য অনুসন্ধানের প্রতীক। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ গানে দেহ ও অন্তরের সেই রহস্য তুলে ধরেছেন সাধক লালন। জাতপাত, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখার আহ্বান ছিল তার গানে।
মানবপ্রেম, সাম্য ও আত্মসাধনার এই দর্শন আজও আকৃষ্ট করে সাধু-বাউল, গবেষক ও ভক্তদের। তাই ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি কেবল স্মরণোৎসবের স্থান নয়; এটি মানুষকে নতুন করে চেনার, নিজের ভেতরে খোঁজার এবং মানবতার বাণী উপলব্ধির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র।
লালন অনুসারী মামুন সাধু বলেন, ‘জয় হোক দরবেশ সিরাজ সাঁইয়ের, জয় হোক ফকির লালন সাঁইয়ের! সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর লালন মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মেলার প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’
তিন দিনের স্মরণোৎসবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সারওয়ার বলেন, ‘মেলার নিরাপত্তার জন্য কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা তৈরি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।’
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মেলা শুরুর আগ পর্যন্ত পুলিশের প্রস্তুতি জোরদার রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মেলার মাঠ ও মাজার এলাকায় টহল দল দায়িত্ব পালন করছে।’
লালন শাহের মাজারের প্রধান খাদেম মোহাম্মদ আলী শাহ লালন সাঁইজির জীবন ও স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা তুলে ধরেন। তার বর্ণনায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে তৎকালীন কালীগঙ্গা নদীতে একটি ভেলায় অসুস্থ এক শিশুকে পাওয়ার ঘটনা লালন সাঁইজির জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ওই শিশুর বয়স নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ ঘটনার ঐতিহাসিক বিবরণে মতভেদ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
‘ধর রে মন সাধুর সঙ্গ’-লালনের গানের এই বাণীকে ধারণ করেই যেন গড়ে ওঠে সাধু-বাউলদের মিলনমেলা। কালীগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে ছেঁউড়িয়ার এই আয়োজন হয়ে ওঠে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনক্ষেত্র। ধর্ম-বর্ণ ও জাতপাতের বিভেদ ভুলে মানুষ মিলিত হন একই আঙিনায়।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘ফুলদী সেতুর প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এই বছরই শেষ হবে। প্রকল্প মানেই এটা বোঝায় না যে আজকে বললাম আর আজকেই কাজ শুরু হয়ে গেল। প্রতিটি প্রকল্পের দুটি ধাপ থাকে। একটি হলো প্রকল্প গ্রহণ, ডিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন; অন্যটি হলো ভৌত কাজ। ফুলদী সেতুর প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এই বছর শুরু হয়েছে, হয়তো ভৌত কাজ আগামী বছর থেকে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাসীর প্রাণের দাবি ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলাধীন ১৩ কিলোমিটার অংশে অপরিকল্পিত ইউ-টার্ন বন্ধে বর্তমান সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে ভাবা শুরু করেছি। আগে তো এসব নিয়ে কথাই হতো না। আমরা অ্যানালাইসিস করে দেখছি, কী কারণে এবং কেন ইউ-টার্নগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটছে। কিছু ইউ-টার্ন আছে যেগুলো অপরিকল্পিত আর কিছু এমন জায়গায় রয়েছে যেখানকার ইউ-টার্ন বন্ধ করলে গাড়িগুলোকে অনেক দূর ঘুরে আসতে হবে। আমরা বিষয়গুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের চেষ্টা করছি।’
নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতে বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আমরা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চাই। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা নিরাপদ সড়ক আইন পাশ করার ব্যাপারে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। বিশ্বব্যাংক এবং আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো যখন আমরা শেষ করতে পারব তখন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া এবং গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসহাক আলী ও মাসুদ ফারুক, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোতাহের হোসেন জাহাঙ্গীর, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম তারেকসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬ এবং ওয়াশ সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২৬-২০৪০ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব ও করণীয় তুলে ধরা হয়েছে এক অবহিতি সভায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নগরীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে দিনব্যাপী এ সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম মজুমদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালার মূল লক্ষ্য মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যের সমালোচনার পরিবর্তে নিজ নিজ দপ্তরে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এ অবহিতি সভার মাধ্যমে ময়মনসিংহে জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা এবং পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) কার্যক্রমের প্রচার আরও বিস্তৃত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অংশগ্রহণকারীদের আলোচনা ও মতামত সভাকে সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সভা আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিভাগীয় কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ‘ক্লিন সানডে’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সুয়ে মেন জো ও তাঁর সহযোগীরা জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬ এবং ওয়াশ সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২৬-২০৪০ নিয়ে উপস্থাপনা করেন। এতে নীতিমালার উদ্দেশ্য, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল, বিভাগীয় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) উম্মে হাবিবা মীরা।
এতে ময়মনসিংহ বিভাগ ও জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, পরিবেশ, তথ্য, মহিলা বিষয়ক, যুব উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানেরা অংশ নেন।
এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বাজারে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যাচাই এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।
বৃহস্পতিবার বরগুনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় অংশ নেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠায় সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা ও বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরকার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সরবরাহ পরিস্থিতি তদন্ত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যাচাই ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় এলপিজির মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামের চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া ও বাজারে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় সংকট মোকাবিলা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে সড়কপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রথমবারের মতো 'দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিস' চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নির্দেশনায় এ বিশেষ সেবা চালু করা হচ্ছে।
আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হয়ে এ বিশেষ বাস সার্ভিস চলবে ২৪ অক্টোবর (শনিবার) পর্যন্ত। যাত্রা সুগম করতে আগামীকাল ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের ২২টি বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রয় ও বাস রিজার্ভের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, উৎসব ঘিরে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে আন্তঃজেলা ও জেলাভিত্তিক চলাচলের জন্য ২০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব রুটের মধ্যে রয়েছে— রংপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পাবনা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, নওগাঁ, পঞ্চগড়, ভূরুঙ্গামারী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বরিশাল, খুলনা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম। যাত্রীদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জরুরি যাত্রী সামাল দিতে এবং তাত্ক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর মতিঝিল আন্তর্জাতিক বাস ডিপো, ফুলবাড়িয়া সিবিএস-২, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, গাজীপুর চৌরাস্তা, চন্দ্রা মোড় এবং মহাখালী বাস টার্মিনালে ৬০টি বাস স্ট্যান্ডবাই (প্রস্তুত) হিসেবে রাখা হবে।
'দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিস'-এর সেবা গ্রহণ বা যেকোনো তথ্যের জন্য বিআরটিসি প্রধান কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পূজা সারা বাংলাদেশের একটি উৎসব। এই দেশে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোনও ভেদাভেদ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে পূজা মণ্ডপে ডিও প্রদান ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় প্রতিমন্ত্রী পুতুল আরও বলেন, দূর্গাৎসব বর্নিল ও আনন্দময় করার জন্য নানা ধরনের উদ্যাগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এছাড়াও পূজার উৎসবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোন ধরনের ছাড় নেই। কেউ কোন ধরনের সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে এবং দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামসুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবুসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনটির সভাপতি আনজারুল হক মিলনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. মমিনুর রহমান, সদর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহানুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সুদেব চন্দ্র, সহসাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও সহসভাপতি রোকসানা আক্তার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে মাইকিংয়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়। বরং স্বাস্থ্য সহকারীদের মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। এ ছাড়া তাঁদের পরিবহন খরচ ও এসিআর বিল দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বক্তারা অবিলম্বে ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ সময় সংগঠনের সদস্য মেহেরুন্নেসা, আফরোজা বিনতে আজিজ গ্লোরী, শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, ফজলুর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন, আব্দুল্লাহ আল মুকিত সৌরভ, বিধান চন্দ্র রায়, নিরব চন্দ্র রায়সহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুরে সদরের মস্তফাপুর ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণী ও বিএসএস (১ম বর্ষ) শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে কলেজটির হলরুমে এ নবীনবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে ডেঙ্গু মশক রোধে পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কলেজ চত্বরে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সরমিন ইসলাম ডেইজি নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনারা দেশ ও জাতির আগামীর প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ, আপনাদের খেলাধূলার পাশাপশি শিক্ষার উপর সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে, সফলতা কখনো মসৃণ পথে আসে না, সফল হতে হলে আপনাদের ভীষণভাবে পরিশ্রম করতে হবে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে ভালো রেজাল্টে অর্জন করে কেউ ডাক্তার হবেন, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা ডিসি-এসপি সহ মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক'।
তিনি আরও বলেন, আপনারা আবার কেউ আমাদের মতো রাজনীতিতেও যুক্ত হয়ে দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবেন। এজন্য আপনাদের সুশিক্ষিত হতে হবে। এসময় কলেজটির অধ্যক্ষ হাসমাতুন নেছার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গভর্নিং বডির সদস্য এনায়েত হোসেন, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবুল বাশার মাতুব্বর সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গনমাধ্যম কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
রাজশাহী ও নাটোর জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বারনই নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনরুজ্জীবিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। নদী খনন ও পুনরুদ্ধারের পর যাতে আবার দখল বা ভরাট করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টাস্কফোর্স। এ বিষয়ে প্রতি মাসে সার্বিক প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ‘রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বারনই নদী দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও দূষণের শিকার। নদীর পানি এতটাই দূষিত যে, তা ব্যবহার করলে কিংবা নদী পারাপারের সময় মানুষের শরীরে ঘা হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং নদীর পানিকে দূষণমুক্ত করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নদীটি খনন ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে।
নদী খননের পর আবার দখল ও ভরাট ঠেকাতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অতীতে অনেক নদী ও খাল খননের পর আবারও দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বারনই নদীর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সদস্যরা প্রতি ১৫ দিন পরপর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবেন। পাশাপাশি নদী ও খালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেহেদী হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মাগুরা পৌরসভার বর্ধিত পৌরকর প্রত্যাহার ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি দিয়েছে গণকমিটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরা পৌরসভার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে মাগুরা গণকমিটি।
গণকমিটি মাগুরা জেলার আহ্বায়ক এটিএম মহব্বত আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু ও মাগুরা জেলা বণিক সমিতির সভাপতি মুন্সী হুমায়ূন কবীর রাজা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাগুরা পৌরসভায় আগের বছরের তুলনায় কয়েকশত গুণ পৌরকর বাড়ানো হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে পৌরবাসীর সঙ্গে কোনো আলোচনা কিংবা আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়র না থাকায় এ সময়ে কোনো নিয়মে কর বাড়ানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বর্ধিত পৌরকর স্থগিত ঘোষণা না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
বক্তারা আরো বলেন, পৌরকর পরিশোধ করেও নাগরিকেরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। শহরে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়কের বেহাল দশা, খানাখন্দ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণের জন্য আলাদা অর্থ দিতে হলেও শহর পরিষ্কারে আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নেই। বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য নদীতে ফেলে দূষণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ছাড়াও শহরে নারী-পুরুষের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগারের অভাব, বিভিন্ন এলাকায় সড়কবাতি না থাকা এবং ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়লেও পৌর এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো না হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন বক্তারা।
তাদের ভাষ্য, নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করে পৌরকর বৃদ্ধি করা জনস্বার্থবিরোধী। এটি পৌরবাসীর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তাই অবিলম্বে বর্ধিত পৌরকর প্রত্যাহার এবং পৌরসভার সব এলাকায় মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে গণকমিটির পক্ষ থেকে স্মারক লিপি তুলে দেয়া হয় পৌরসভার প্রশাসকের অফিসে।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনে মারা গেছে ৮৬ জন।
এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফরিদপুরে একটি অসচ্ছল পরিবারকে নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের গাজিরটেকের চর সর্বান্দিয়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে অসহায় লকাই বিশ্বাসের পরিবারের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
একই অনুষ্ঠানে আরও ১০ অসহায় নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকটি পরিবারকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আর্থিক সহায়তা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা দেয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এসব সহায়তা উপকারভোগীদের দৈনন্দিন জীবনের সংকট মোকাবিলা এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথে ভূমিকা রাখবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-৩ আসনে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোরদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।