৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।
হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।
ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।
গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।
একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
মাগুরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, মাগুরার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির, মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওযার্দী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আলফাজ উদ্দিন, মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কাজী শামছুজ্জামান ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল কাদের, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা এস এম শান্তনু চৌধুরী, জেলা নির্বাচন অফিসার ফারাজী বেনজির আহম্মদ, মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মদ, জেলা জামায়াতের আমীর এমবি বাকের মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, মাগুরার পিপি সাখাওয়াত হোসেন, জিপি এড মঞ্জুরুল হাসান, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
বক্তারা সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে কোন প্রতিবন্ধকতা বা যড়যন্ত্র কোন অবস্থাতেই হতে দেওয়া হবে না বলেন, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান সতর্ক করেন সকলকে। সভায় বিশেষ করে আগামী নির্বাচনকে গুরুত্ব এনে জেলার কোথাও কোন সন্ত্রাস, নাশকতা না হয় তার জন্য মাগুরা পুলিশ ব্যাপকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়। এ সময় যানজট, আত্মহত্যা, ইভটিজিং, শিশুধর্ষণ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাগুরা পুলিশ মাগুরার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মাগুরার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিকভাবে দ্বায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ঝিনাইদহে নারী খেলোয়াড় ও সংগঠকদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিজম কুমার সরকার সিভিল সার্জন, ডা. কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, ক্রীড়া অফিসার আমানুল্লাহ আহমেদসহ ক্রীড়া সংস্থার নেতরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নারী ক্রিকেট দলে ডাক পাওয়া জোয়ারিয়া ফেরদৌস জয়িতা, হকি দলে ডাক পাওয়া রিয়া আক্তার, জাতীয় কাবাডি যশোর যোনের চ্যাম্পিয়ন, আন্তজেলা বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ ও অনূর্ধ্ব -২৩ ভলিবলে কৃতিত্ব রাখায় মোটর ৪০ জন নারী খেলোয়াড় ও সংগঠককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সেসময় বক্তারা বলেন, নারীদের খেলাধুলায় আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারবে। নারী ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধিত খেলোয়াড় ও সংগঠকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে ইসলামি জালসা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৮৩ বছর ধরে চলে আসা এই উৎসবটি রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়।
সকাল থেকেই শালমারা গ্রামের কয়েকটি পুকুর ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাছ ধরা উৎসবে অংশ নিতে গ্রামের শত শত মানুষ পুকুরে নেমে পড়েন। নৌকা, কলাগাছের ভেলা ও জাল ব্যবহার করে সৌখিন শিকারিরা সকাল থেকে মাছ ধরতে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি পুকুরে মাছ ধরার আনন্দে মেতে উঠেছেন অংশগ্রহণকারীরা। উৎসবকে ঘিরে শুধু গ্রামবাসীই নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীরা পুকুরপাড়ে ভিড় জমান।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিকারিদের অনেকেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করেন। পানিতে জাল টানার সময় হইহুল্লোড়, হাসি-আনন্দ আর উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বড় মাছ শিকার করতে পারা শিকারিদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের স্পষ্ট ছাপ।
মাছ শিকারিরা জানান, মাছ পাওয়া এখানে মুখ্য বিষয় নয়। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবে অংশ নেওয়া এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
গ্রামবাসীদের মতে, এই মাছ ধরা উৎসব শালমারা গ্রামের ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মাছ ধরা উৎসবে আসা সাকিব নামে একজন বলেন, ‘প্রতি বছর এই আয়োজন করা হয় । আমরা দেখতে আসি। মাছ ধরা দেখতে খুব ভালো লাগে। দেখে মনে হয় বাঙালির চিরচেনা সেই ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। শিকারিদের অনেকেই রুই, কাতলা, চিতল, ফলি, তেলাপিয়া, বিভিন্ন জাতের কার্প মাছসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছ ধরেন। উৎসবে কেউ অনেক মাছ ধরতে পারলেও কিছু মাছ শিকারি তেমন একটা মাছ পায়নি। তবে যারা বড় আকারের মাছ শিকার করেছেন তাদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের ছাপ।
সৌখিন মাছ শিকারি কাহার আলী বলেন, ‘মাছ ধরতে আমার ভালো লাগে। আজ অনেক মাছ পেয়েছি। তাই খুশি একটু বেশিই। তবে মাছ শিকারিরা বলেন, মাছ পাওয়া বড় বিষয় নয়; এখানে অংশ নিয়েছি এটাই আনন্দের ছিল।’
শালমারা গ্রামের মোতালেব জানায়, এবছর ৮৩তম শালমারা দাখিল মাদ্রাসার ইসলামী জালসা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জালসার একদিন আগে গ্রামবাসী এ মাছ ধরার আয়োজন করে থাকে। সে দিক দিয়ে প্রায় ৮৩ বছর ধরে মাছ ধরার এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে গ্রামবাসী।
মাছ শিকারী জয়নাল আবেদীন জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে থেকে কলাগাছ কেটে ভেলা তৈরী করে রেখেছিলাম মাছ ধরার জন্য। জালসার আগের দিন মাছ ধরার এই উৎসবে আমরা বাড়তি আনন্দ উপভোগ করি।
চলনবিল পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি এস.এম রাজু আহমেদ বলেন, এই মাছ ধরা উৎসব আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে একই সঙ্গে পরিবেশ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধবভাবে এ ধরনের উৎসব আয়োজন করা হলে ঐতিহ্য রক্ষা যেমন হবে, তেমনি চলনবিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহরের কাউতলি মোড় এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষজন অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির আহমেদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এ. বি. এম. মুছা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ হাফিজ উল্লাহ, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখপাত্র আরিফ বিল্লাহ, মো: সাবের হোসেন, তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভূঁইয়া প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও বৈধ গ্রাহকরা পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলছে। শীত মৌসুম শুরুর পর থেকে সংকট আরও বেড়েছে। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস সরবরাহ হচ্ছের দেশের বিভিন্ন স্থানে। অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কার্যালয়, সড়ক-রেলপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন দে ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ এখন কৃষিতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত মুখ। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে অল্প সময়েই তিনি ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। তার এই সাফল্য স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, কয়েক বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে নিজ গ্রামের আহমেদ সিটি গার্ডেন এলাকার অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষিকাজ শুরু করেন সাজিদ। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি।
কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা পান সাজিদ। পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে মালচিং, ড্রিপ ইরিগেশন এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এতে উৎপাদন খরচ কমে আসে এবং ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আহমেদ সিটি গার্ডেনের পতিত জমি পরিষ্কারের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আবাদকৃত ৪০ শতাংশ জমিতে বর্তমানে করলা উত্তোলন চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কেজি করলা উত্তোলন করা হয়েছে। বাজারে করলার পাইকারি মূল্য কেজি প্রতি ৬০ টাকা হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার টাকার করলা বিক্রি হয়েছে।
সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আনুমানিক দেড় থেকে ২ টন করলা বিক্রি করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রবাস থেকে দেশে ফিরে স্থায়ী ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে কৃষিকেই সবচেয়ে নিরাপদ মনে হয়েছে।” চলতি মৌসুমে তিনি আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনার কথাও জানান।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান বলেন, সাজিদের খামার থেকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহ হচ্ছে। এতে তার আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সাফল্য প্রমাণ করে—যথাযথ উদ্যোগ, পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কৃষিই হতে পারে লাভজনক ও টেকসই পেশা।” তিনি আরও বলেন, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য সাজিদের এই অর্জন একটি বাস্তব উদাহরণ।
প্রবাস ফেরত সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজকে কৃষিমুখী হওয়ার একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার মধ্যবর্তী মেঘনা নদীতে একটি জেলে ট্রলার ডুবে চার জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ট্রলারে থাকা পাঁচজনের মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারলেও বাকি চারজনের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন,মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পালপাড়া গ্রামের শাহীন মীর (১৭), আরিফ হোসেন (১৯), শাহীন (১৭) ও নয়ন (১৯)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলে শামিম হোসেন দিদার (২৫) জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৪টার দিকে হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের বাথুয়ারচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সাজাহান দিদারের ছেলে।
দিদার বলেন,পাঁচজন মিলে একটি ছোট ট্রলারে করে রাতে মাছ ধরতে যাই। জাল পেতে ট্রলার নোঙর করে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ভোররাতে হঠাৎ বিকট শব্দ ও ধাক্কায় ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রলার উল্টে আমরা সবাই নদীতে ছিটকে পড়ি। সবাই তীরে ওঠার চেষ্টা করি। অন্য জেলেদের সহায়তায় আমি উঠতে পারলেও বাকিরা আর উঠতে পারেনি।
তিনি ধারণা করেন, কোনো লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যেতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা বলতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ মৃধা জানান, রাতেই একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চার জেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
নৌ-পুলিশের কালীগঞ্জ স্টেশনের ইনচার্জ মো. এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন এলাকায় পড়েছে।
বরিশাল হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার জানান, ঘটনার পরদিন দুপুরে তিনি বিষয়টি অবগত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নৌ-পুলিশকে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপরতা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। গত এক মাসে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে দেশি ও বিদেশি পিস্তল, এলজি, পাইপগান, শটগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রামদা, কিরিচ, ছুরি ও চাপাতির মতো দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, দেশি ও বিদেশি মদ, মাদকজাত ইনজেকশন, ফ্রাফ সিরাপ এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
পুলিশের তথ্যমতে, এক মাসে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮৫ জন, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানে আটক ৪২৬ জন, নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ৭৫০ জন এবং ডাকাতি মামলায় আটক ২১ জন। সব মিলিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জনে।
ডাকাতি প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে ৪টি পিকআপ ও ১টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে ডাকাতির মাধ্যমে লুণ্ঠিত ৫ দশমিক ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ফেনী জেলা থেকে ডাকাতি হওয়া ৮টি গরু উদ্ধার করা হয়।
নগরীতে চুরি ও ছিনতাই রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ হিসেবে কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে দিন-রাত তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি ও চুরি-ছিনতাই দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে চেকপোস্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তলসহ আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে রতন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।
রবিবার (১১ জানুয়ারী) মধ্য রাতে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ।
গ্রেপ্তারকৃত মামুন লালমনিরহাট জেলা সদরের খোটামারা গ্রামের মৃত-আবেদ আলীর ছেলে। তিনি মরকুন পশ্চিমপাড়া জনৈক মিরার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক তুহিন মিয়া ও সহকারী উপ পরিদর্শক রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আসামি মামুন ওরফে রতনকে গ্রেফতার করার পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব আরিচপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলম রিপনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া সুজনের কক্ষে থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ফরিদপুরের আলীপুর ব্রিজের উপর থেকে বোমা সদৃশ্য ব্যাগটি উদ্ধারের ২৪ ঘন্টা পর শক্তিশালী বোমাটি বিস্ফোরনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে বিকট শব্দ ও কম্পনের সৃষ্টি হয়। এটি রিমোট কন্টোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি প্রাণঘাতী আইইডি বোমা বলে নিশ্চিত করেন বোমা ডিস্পোজাল টিম।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে ঢাকা থেকে আসা এন্টি ট্রেরিজম ইউনিট (এটিইউ) এর সদস্যরা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এটি সুইচ ও রিমোট নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী আইইডি ছিল বলে জানিয়েছে এটিইউ এর সদস্য ও পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ।
শহরের গোয়ালচামট বিসর্জন ঘাটে কুমার নদের পাড়ে বালুর বস্তায় ঘেরা ও উপরে বুলেট প্রুভ চাদর এবং রিং বেস্টনি দেয়া। এছাড়াও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ১শ গজ দুর থেকে তারের সংযোগে বোমাটির বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়।
এটিইউ এর সদস্য ও পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ বলেন, এটি সাধারন বোমার চেয়ে কিছুটা শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরক। যা সুইচ যুক্ত রিমোট কন্টোল দ্বারা পরিচালিত একটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরক ছিল।
এসময় একশ গজ দুরে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মী নাইম শেখ জানান, বোমাটি নিস্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয় ও মাটি কেপে উঠে। বিস্ফোরিত অংশ ১৫ ফিট উচ্চতায় উঠে যায় ও আগুনসহ কালো ধোয়ার সৃষ্টি হয়।
এর আগে শনিবার সকালে ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র আলীপুর আলীমুজ্জামান ব্রীজের পশ্চিম অংশে একটি ব্যাগের মধ্যে রাখা বোমাটি উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী । উদ্ধারের পর বোমাটি কুমার নদের পাড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার পর থেকে শহরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কারা বোমাটি রেখেছিল সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম গণেশ (১৯), যিনি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানাধীন সেবক কলোনির বাসিন্দা শরিফ দাশের ছেলে। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরের লালদীঘি এলাকার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৭-এর একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদ ও দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সময় একদল উত্তেজিত জনতা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে অত্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এই পৈশাচিক ঘটনার পর নিহত আলিফের পিতা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে শুরুতে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দেয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি ওঠে।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুন তৎকালীন কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট গ্রহণ করেন। তদন্তকালে এজাহারভুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চট্টগ্রাম র্যাবের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি গণেশ দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলার অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব আবারও দেখা দিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। রবিবার সকালে ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফ সীমান্তে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত আফনান আরা (১২) ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের কন্যা। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করেই মিয়ানমার থেকে একটি গুলি এসে সীমান্ত অতিক্রম করে শিশুটির গায়ে লাগে এবং সে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নিরপরাধ এই শিশুর এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় জনতা ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় জড়ো হয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন, যার ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সকল ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, সীমান্তের ওপারে নিয়মিত সংঘাতের কারণে এপারের বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাঁরা এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান এবং সীমান্ত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান প্রবল সংঘাতের জেরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি আরও জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন। বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত দুই-তিন দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সেনাবাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। প্রায়ই ভারী অস্ত্রের গগনবিদারী শব্দে সীমান্ত অঞ্চল কেঁপে উঠছে, যা এপার বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীর আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। আজকের এই ঘটনা সেই আতঙ্ককে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটে নির্দেশদাতা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পি বর্তমানে ভারতের কলকাতায় পুলিশ পরিচয়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
ডিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বাপ্পি এখন কলকাতায় আছে। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অবৈধপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মাদারীপুরের শিবচরের এক মেয়েকে বিয়ে করে তাকে নিয়ে আবারও অবৈধপথে ভারতে চলে যায়। সেখান থেকেই হাদি হত্যার পুরো মিশন পরিচালনা করে।’
ডিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বাপ্পি ভারতে পালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে রয়েছে। কলকাতার রাজারহাটের ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়া এলাকার ঝনঝন গলির একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় তিনি আত্মগোপনে আছেন। গত ৬ জানুয়ারি রাতেও তিনি সেখানেই ছিলেন বলে ডিবি সূত্রে জানা যায়।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাপ্পি ছাড়াও শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনসহ ৫ জন পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই এ হত্যাকাণ্ড।
ডিবি কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তরা অবৈধ পথে ভারতে গেছে। তাদের অবস্থানের অফিসিয়াল তথ্য-প্রমাণ নেই। ফলে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের কাছে সহায়তা চাওয়া যাচ্ছে না। আদালতের অনুমতি পেলে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদির মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত হাদিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এরপর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের করা মামলায় তদন্ত চালিয়ে ডিবি এ চার্জশিট দাখিল করে।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, হামলার পর শুটার ফয়সাল ও আলমগীরকে নির্বিঘ্নে ভারতে পালানোর ব্যবস্থা করে বাপ্পি।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ব্রিজ নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষায় গ্যাস বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গ্যাস নির্গমন আপাতত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ভৈরব বাজার-সংলগ্ন এলাকার একটি খালের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হেলফ প্রকল্পের আওতায় ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ পেয়েছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম শেখ। কাজটি তদারকি করছে হাতিয়া উপজেলা এলজিইডি। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে ওই স্থানে প্রায় ১১২ ফুট গভীর সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করেন ঠিকাদারের শ্রমিকরা। সয়েল টেস্ট শেষে তারা স্থান ত্যাগ করেন। পরদিন শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ ওই স্থান থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। ওই সময় স্থানীয়রা আগুন ধরালে গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক-জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।
স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আসলে এটা কীভাবে হচ্ছে বা এটি সত্যিকারের গ্যাস কি না আমরা বুঝি না। নিজের চোখে আগুন জ্বলতে দেখেছি। লোকজন আগুন ধরিয়ে দেখান। যদি এটা সত্যিই প্রাকৃতিক গ্যাস হয়, তাই বিষয়টি পরীক্ষা করা জরুরি।’
হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হক গ্যাস বের হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্যাস বের হওয়ার পর তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বিষয়টি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্সকে জানানো হবে।’
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আলাউদ্দিন বলেন, ‘একটি জায়গা থেকে বোরিং করার পরে সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না অনেক বেশি গ্যাস জমা আছে। তবে নিচে অবশ্যই কিছু শক্তি জমা আছে, এটা তারই প্রতিফলন। এখন এটা এক্সপার্ট ছাড়া অন্য কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’