৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।
হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।
ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।
গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।
একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত মূলহোতা আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শামছুল আলম শাহ্। পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন জেলায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ জুলাই) ভোররাতে অভিযুক্ত আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা নগরীর জগন্নাথপুর এলাকা থেকে সংঘর্ষে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অপু সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রটির নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৫টি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি অস্ত্র মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে, ইথান গুলিবিদ্ধের ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রাম, সাফল্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বহুমাত্রিক অবদানকে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাহিনীর নতুন মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মিডিয়া সেলটির উদ্বোধন করেন। তিনি ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-কে সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং মাটি ও মানুষের কল্যাণে বাহিনীর কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশাল সদস্যশক্তিকে প্রচলিত কর্মকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, প্রযুক্তিনির্ভর ও গতিশীল কর্মধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা, সক্ষমতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকরভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি আরও আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে। এ লক্ষ্য অর্জনে ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মানুষের অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, আজকের আয়োজন কেবল একটি মিডিয়া সেলের উদ্বোধন নয়; বরং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য ও জনসংযোগ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও কার্যকর করার নতুন সূচনা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে এবং সরকারের আস্থাশীল অংশীদার হিসেবে বাহিনীর কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা প্রদান করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ সত্য, নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বাহিনীর সাফল্য, উদ্ভাবন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, আনসার ও ভিডিপির বিশাল জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকারের আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও সুসংগঠিত ও গতিশীলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সমাজ বিনির্মাণে বাহিনীর সদস্যদের অবদান, প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, সাফল্যের গল্প এবং বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বাস্তব চিত্র রয়েছে, যা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে সবসময় স্থান পায় না। ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ সেইসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ জোরদার এবং জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও এ প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, উপমহাপরিচালকবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত হয়। ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর যাত্রা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যপ্রবাহকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তোলার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরকে জাতীয় পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পদত্যাগের প্রায় এক মাস পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙামাটিতে এসে দলীয় নেতাকর্মীদের সংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাঙামাটিতে পৌঁছালে জেলার প্রবেশদ্বার বেতবুনিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল, স্লোগান ও ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে গাড়িবহরসহ তিনি শহরের কাঠালতলীস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে আবেগঘন পরিবেশে নেতাকর্মীদের সংবর্ধনার জবাবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
দীপেন দেওয়ান বলেন, "বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি সেই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই।"
মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের ঘটনায় হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি এখনো সংসদ সদস্য আছি। আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে আগের মতোই কাজ করে যাব।"
তিনি আরও বলেন, "বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। দলের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।" এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এরপর তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নেন।
সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় তিন মাসের মাথায় তাঁর পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাহার করে পুনর্বহালের দাবিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও আন্দোলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
সব দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য। এক দেশের সাথে ভাল সম্পর্ক হলে তা অন্য দেশের সাথে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না-বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সব দেশের সাথে সু সম্পর্ক রেখে আমাদের দেশের স্বার্থ হাসিল করা। বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামিনীর জানাযায় অংশ নিতে স্পিকারের ইরান গমনের বিষয়টি ঢাকা ও তেহরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। বিরোধী দলের কেউ ইরানে ব্যক্তিগতভাবে গেলে এটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বিগত ১৭ বছরে যে দেশগুলোতে টাকা পাচার হয়েছে সে নামগুলো আপনারাও জানেন। সে সকল দেশের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও জোরদার আছে।
তিনি আরও বলেন, দশটি দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে বাংলাদেশের সাথে যে চুক্তি এটি আমাদের জন্য বড় অগ্রগতি। টাকা ফেরতের বিষয়ে একটি প্রপার মেকানিজম আছে। এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোন বিষয় না। টাকা ফেরতের কাজ চলমান আছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, চীন আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শক্তিশালী অংশীদার। তাদের সাথে আমাদের দেশের সম্পর্ক বরাবরই ভাল ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে তা আরো জোরদার হয়েছে। আমরা আমাদের দেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ার আশা করছি।
চীনের প্রস্তাবিত টু প্লাস টু বৈঠক ও করিডোরের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থ রক্ষা হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দ্রুত ভাইরাল করা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বাহিনীর কার্যক্রম, জনসেবা ও পেশাদারিত্ব জোরদার করার এই কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, অপপ্রচারকারী চক্রটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে একযোগে মিথ্যা ও গুজব সম্বলিত পোস্ট তৈরি করে তা দ্রুত ভাইরাল করছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে বৈষম্যের শিকার যেসব দক্ষ, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা বর্তমানে দুর্নীতি, অপরাধ ও অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তারাই বেশি এই অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য হলো পুলিশ সদস্যরা নতুন উদ্যমে যেন কাজ করতে না পারেন এবং বাহিনীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কেবল ব্যক্তিগত সুনামহানির চেষ্টা নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যেই কঠোর নজরদারি শুরু করেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করেছে, এই ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রুখে দিয়ে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা একটি দেশের জন্ম দিয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। বুধবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
অনুষ্ঠানের উপস্থিত অতিথিরা বলেন, দেশ বিনির্মাণে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদেশেও গৌরবজ্জ্বল অবদান রাখছেন তারা।
এ সময় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় অর্জন হল, ক্যাম্পাসে এখন সব সংগঠন সমানভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে, শূন্যে নেমে এসেছে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসবাদ।
ঢাকা-১৫ আসনের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যা সমাধানে এক মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন সরকারি দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। বুধবার (১ জুলাই) সকালে মিরপুর ও শেওড়াপাড়ার চারটি স্থানে পৃথক মতবিনিময় সভায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা যায়। সভায় এলাকার তীব্র পানি ও গ্যাস সংকট নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং দমনে জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টায় পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৩ নম্বর গলিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শুরু হয়। পরে নেতারা পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ এলাকা, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় (৪ নম্বর ওয়ার্ড) এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে পানি সংকট, গ্যাস সমস্যা, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পশ্চিম শেওড়াপাড়া খালের অবৈধ দখল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আমার কথা শুনেছেন এবং রেখেছেন। এরই আলোকে আজ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি দল ও বিরোধী দল আমরা একত্রে এলাকার সমস্যা সমাধানে মিলিত হয়েছি এবং জনগণের সহায়তায় আমরা সকল সমস্যার সমাধান করব ইনশাল্লাহ।
এলাকার সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াতের আমির আরও বলেন, এলাকায় তীব্র পানির সংকট রয়েছে, গ্যাসের সমস্যা ও কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তবে এই সমস্যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব না। এই সমস্যা সমাধানে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে জনগণের সহায়তায় সমাধান করা হবে। জনগণ যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে কোনোদিনও এই সমস্যা সমাধান করা যাবে না।
এলাকার প্রতিটি নাগরিককে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি। একই সাথে, এই জনকল্যাণমুখী মতবিনিময় সভা আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই তারা ডিএনসিসির পুরো টিমকে নিয়ে জনগণের অভাব ও অভিযোগ শুনতে এসেছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ঢাকা-১৫ আসনের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে এবং সরকারি ও বিরোধী দল মিলে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন নিয়মিত কাজ করছে। ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি ডেঙ্গু ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এ সময় পশ্চিম শেওড়াপাড়া ও মনিপুরী পাড়ার দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি পানির পাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাম্পগুলোর জন্য দ্রুত স্থান নির্ধারণ করতে স্থানীয় জনগণকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান নেতারা।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরোধীদলীয় নেতা, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং ডিএনসিসি প্রশাসক প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।
মতবিনিময় সভায় ওয়াসার এমডি, তিতাসের এমডি, উত্তর সিটি করপোরেশনের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র ও দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি ডিসি অফিস, ৪১টি পুলিশ বক্স এবং স্বতন্ত্র ডিএমপি বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। বুধবার (১ জুলাই) সকালে পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন তিনি।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র এবং দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপনের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও তিনটি ডিসি অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসবের পাশাপাশি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
আইজিপি আরও জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ডিএমপির অধীনে এনে এখানে ডিএমপির অন্যান্য বিভাগের মতো একটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনানের তত্ত্বাবধানে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, ‘পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য পুলিশের প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে।’
তিনি জানান, ইতোমধ্যে পুলিশের অনুকূলে ২৯.২১ একর জমি বরাদ্দের মধ্যে ১৮.৬৩ একরের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ডিএমপির আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক বিভাগ গঠন এবং প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটি এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি অনলাইনভিত্তিক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP)’-এর আওতায় আয়োজিত ‘Workshop on Insights Dissemination of IUPHPS Project’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বক্তারা জানান, Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP) বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ (LGD) কর্তৃক পরিচালিত একটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শহরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নগর এলাকায় প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রকল্পটি কাজ করছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই কমিটির ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি আশা করি, Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project এক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি অনলাইন প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ গড়ে ওঠে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তিনি একটি পরিচ্ছন্ন শহর ও সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। তাঁর নেতৃত্বে আমরা সম্মিলিতভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাব।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান, এনডিসি, Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP)-এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই পিরোজপুরের রাস্তায় কর্মরত প্রান্তিক ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
বুধবার (১ জুলাই) রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেশব্যাপী ‘হিটওয়েভ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পিরোজপুর জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এক বিশেষ ছাতা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ করা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিন পিরোজপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থানরত ট্রাফিক পুলিশ, রিকশাচালক, মুচি এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের হাতে এই ছাতাগুলো তুলে দেওয়া হয়।
ছাতা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পিরোজপুর ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘তীব্র গরমে রাস্তায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে তাদের সুরক্ষায় আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। মানবসেবায় রেড ক্রিসেন্ট সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
উক্ত কর্মসূচিতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পিরোজপুর ইউনিটের কর্মকর্তা, আজীবন সদস্য এবং যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত থেকে ছাতা বিতরণে সহায়তা করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য স্থানেও এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের হাসান আলী নামের এক সফল মৎস্য ব্যবসায়ী এবার শখের বশে বিলুপ্তপ্রায় ও দৃষ্টিনন্দন ‘কালিম পাখি’ পালন করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সাধারণত হাওর-বিল বা জলাভূমির এই বুনো পাখিকে খাঁচায় বন্দি না রেখে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও পোষ মানিয়ে পালন করায় প্রতিদিন তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় উৎসুক জনতা।
জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের ওই মৎস্য ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মাছ ব্যবসার পাশাপাশি দেশীয় ও সৌখিন পাখি পালনে আগ্রহী ছিলেন। প্রায় বছর খানেক আগে তিনি সৌখিনভাবে এক জোড়া কালিম পাখির ছানা সংগ্রহ করেন। প্রথম দিকে পাখি দুটি বুনো স্বভাবের হলেও নিবিড় পরিচর্যা, সঠিক পুষ্টি এবং ভালোবাসার কারণে অল্প দিনেই তারা গৃহপালিত হাঁস-মুরগির মতো পোষ মেনে যায়। বর্তমানে পাখি দুটি চুকনগর বাজারের পাশে তার নিজস্ব খামার ও মৎস্য ঘেরের আশেপাশে উন্মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায় এবং মালিকের ডাক শুনলেই কাছে ছুটে আসে।
খামারি জানান, নীল ও বেগুনি রঙের মিশ্রণে চোখ ধাঁধানো রূপের এই কালিম পাখিটির পা ও ঠোঁট টকটকে লাল। এই পাখি লালন-পালন করা বেশ সহজ। এরা মূলত জলজ উদ্ভিদ, কচি ঘাস, ধানের শীষের পাশাপাশি বাজারে কিনতে পাওয়া ব্রয়লার ফিড, গম এবং ছোট চিংড়ি বা মাছ খেয়ে জীবন ধারণ করে। গৃহপালিত হাঁসের মতোই এদের রোগবালাই অত্যন্ত কম এবং দেশীয় আবহাওয়াতে এরা দারুণভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।
চুকনগর বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এক সময় খুলনার বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলসহ বিভিন্ন বিলে প্রচুর কালিম পাখি দেখা যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও শিকারিদের দৌরাত্ম্যে এই পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। চুকনগরের বুকে উন্মুক্ত অবস্থায় এমন সুন্দর পাখি ঘুরে বেড়াতে দেখে অনেকেই মুগ্ধ হচ্ছেন। অনেকে আবার এই মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও কালিম পাখি পালনের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
উদ্যোক্তা মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান আলী জানান, কেবল শখের বশে শুরু করলেও এখন তিনি এটিকে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘কালিম পাখি খুবই বুদ্ধিমান। এদের ঠিকমতো যত্ন নিলে এরা চমৎকার পোষ মানে। আমার এখানে পাখি দুটি সম্পূর্ণ মুক্ত পরিবেশে বড় হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এরা ডিম দেবে এবং বাচ্চা ফুটিয়ে এদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।’
ডুমুরিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড, আশরাফুল কবির বলেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ নিয়ম মেনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ক্ষুণ্ণ না করে যদি এই ধরনের বিরল প্রজাতির পাখির কৃত্রিম প্রজনন ও খামার তৈরি করা যায়, তবে তা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি সৌখিন পাখিপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আয়ের উৎস হতে পারে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শাখা, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার উদ্যোগে গত এক মাসে (জুন) হারিয়ে যাওয়া ১০১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যলায়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন।
এ সময় হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অনেকেই সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইসিটি, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে পরিনত হয়েছে। হারানো মোবাইল মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দিতে পেরে আনন্দিত। নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো সকল মোবাইল উদ্ধারের জন্য সর্বদাই তৎপর রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মোহাম্মদ জিন্নাহ আল মামুনসহ কিসের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচয়হীন ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো এক নেপালী যুবকের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। তিনি নেপালের নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতিমধ্যে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারত সীমান্তের জলঙ্গী এলাকা হয়ে ওই যুবক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। বর্তমানে তিনি ইসলামপুর এলাকার ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি পলাশ আহমেদের (মুক্তার সরকার)এর হেফাজতে রয়েছেন। মানবিক কারণে পলাশ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আশ্রয়, চিকিৎসাসহ ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই যুবকের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি ইমো নম্বর দেন। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পর জানা যায়, যুবকের নাম রিয়ান আনসারী। তিনি নেপালের বারা জেলার কালাইয়া থানার বাসিন্দা এবং বাদল আনসারীর ছেলে।
রিয়ানের পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন কয়েকবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন, যা তার মানসিক অবস্থার উন্নতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রিয়ানের দেখাশোনাকারী পলাশ আহমেদ বলেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে রিয়ান আমার কাছেই আছে। পরিবারের একজন সদস্যের মতো করেই তাকে দেখাশোনা করছি। সে ভাত খেতে চায় না, গোশতের ঝোল দিয়ে মুড়ি মাখা ও ডিম ভাজি খেতে বেশি পছন্দ করে। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করে না।
এ বিষয়ে উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অনিন্দ্য গুহর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।