৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।
হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।
ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।
গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।
একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, বিমানবাহী রণতরিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা এবং ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার ঘটনায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষমতা মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং আরেকটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছেন, সপ্তাহান্তেও হামলা হতে পারে। অন্যদিকে, কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে। তবে সম্ভাব্য হামলার সময় নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তোলা হচ্ছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের বোমা হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মজুত করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, রণতরিতে দূর থেকে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের উপযোগী বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা হচ্ছে।
রণতরিতে বিরল এক সফরের সময় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক শেলবি হলিডে বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদের বাক্স স্তূপ করে রাখতে দেখেছেন। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী অস্ত্র লোড করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই সামরিক বাহিনী নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। এসব অস্ত্র ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানার উপযোগী।
বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা। সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। তবে নতুন করে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ায় পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রচলিত সামরিক স্থাপনাগুলো আগের হামলাতেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে হামলা চালানো হলে তার প্রভাব ক্রমেই বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পড়তে পারে। এতে সংঘাতের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দ্রুতই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব। তবে কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে, নাকি নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি এবং রণতরিতে অস্ত্র মজুতের খবর নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।
নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর (পাওয়ার স্টার্টআপ) লক্ষ্যে ইউনিটটি সি পর্যায়ে প্রবেশ করবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উচ্চপর্যায়ের একটি রুশ প্রতিনিধিদল। এ সময় তারা রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের প্রথম ক্রিটিক্যাল পর্যায় ও সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রুশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রীয় করপোরেশনের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়। এতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন এবং অপারেটিং সংস্থা এনপিসিবিএলের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে এবং অদূর ভবিষ্যতে যৌথভাবে করণীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। ইউনিট-১ এর বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পেলেই আমরা সি স্টেজে প্রবেশ করে পাওয়ার স্টার্টআপের দিকে যাব।
জাহেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রক্রিয়ার সফল অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে ২৫ অক্টোবর রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে পরবর্তী ধাপে উত্তরণের ওপরই বিষয়টি নির্ভর করছে।
নির্ধারিত সময়ের সতের দিন অতিবাহিত হলেও ভোলার লালমোহনের ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলেদের বরাদ্দকৃত মৎস্য ভিজিএফ চাল এখনো পায়নি। ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও বিতরণ করেনি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, তালিকা প্রস্তুত এবং সমন্বয়হীনতার কারণে এখনো চাল বিতরণ করা হয়নি, তবে দ্রুত সমেয়র মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশ প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রতি বছর ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার এই বাইশ দিন সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রিও আইনত দণ্ডনীয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এই উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় মনে করলেও জেলেদের জন্য সময়টি কঠিন মুহূর্ত।
জেলেরা এই বাইশ দিন জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। এ সময় জেলেদের জন্য সরকার ২৫ কেজি চাল দিয়ে থাকেন। তবে এই বরাদ্দ নিয়ে জেলেদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকে। জেলেদের দাবি তালিকাভুক্ত হয়েও প্রকৃত জেলে হিসেবে চাল পান না তারা। লালমোহন উপজেলায় মোট ২৪ হাজারেরও বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও চাল বরাদ্দ হয়েছে ২১০০০ হাজার জেলের জনের জন্য।
উপজেলা মৎস্য অফিসার আলী আহমেদ আখন্দ জানান, চাল বিতরণের জন্য অফিস থেকে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বারবার তাগিদ দেওয়া হয়। তবে দু-একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।
চাল বিতরণেও বরাবরই অসচ্ছতার অভিযোগ থাকে। তবুও নদীতে নিষিদ্ধ সমেয়র আগেই বরাদ্দকৃত চাল পাবেন এমনটাই আশা করেছিলেন জেলেরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ প্রান্তে, তবুও জেলেদের হাতে এখনো চাল পৌঁছেনি। নির্ধারিত সময়ে চাল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন জেলেরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এ সময় ধারদেনা করে তাদের চলতে হয়। এতে করে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তাদের মধ্যে।
উপজেলার মেঘনা পাড়ের জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি, রুবেল মাঝিসহ কয়েকজন মাঝি জানান, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ থাকে। এ সময় সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা আমাদের। সঠিক সময়ে চাল না পাওয়ার কারণে আমাদের ঋণ আরও বাড়ছে এবং অনেক কস্টের মধ্যে দিন কাটছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে পারছে না জেলে পরিবারগুলো। এদিকে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকা ধারদেনা করে শোধ করতে হয়।
সূত্র জানা যায়, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের সমন্বয় এবং তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক ইউনিয়নে জেলেরা এখনো সরকারি সহায়তার চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে দু-একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যানরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, মৎস্য অফিস থেকে তালিকাসম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ইউনিয়নের চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য বলেছি।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম সড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরু সড়ক দিয়ে চলাচলে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নকাজ শেষ হলে এসব ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কমবে।
চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফফর বলেন, ‘১৯৭১ সালের পর প্রথমবার সড়কটি প্রশস্ত হচ্ছে। কাজটি শেষ হলে মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’
সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, ‘সড়কটির নির্মাণকাজে ওয়েট মিক্স ম্যাকাডাম (ডব্লিউএমএম) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট অনুপাতে খোয়া, বালি ও পানি মিশিয়ে সড়কে বিছানো হয় এবং যন্ত্রের সাহায্যে চাপ দিয়ে শক্ত করা হয়। এতে কারিগরি মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হলে সড়কটি টেকসই হবে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, ‘অনুমোদিত নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, ‘সড়কটির উন্নয়ন শেষ হলে মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’
বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন।
ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক জানান, ভূমিমন্ত্রী মহোদয় আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন। রক্তশূন্যতার সমস্যাটা ঠিক হয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে সেগুলো আজ করা হবে। আশা করছি দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠবেন। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছিল, সেটি কেটে গেছে। এখন তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ হয়েছেন ও কথা বলছেন।
এদিকে অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় তারা ভূমিমন্ত্রীর আশু রোগমুক্তি কামনা করছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যান।
দেশের মানুষ শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। মাঝেমধ্যেই এমন হুমকি দেওয়া হয় যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়, সত্যকেও চিরদিন আড়াল করে রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ যতই প্রচেষ্টা চালাক না কেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, এই ঐতিহাসিক সত্য কখনোই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’
পাশাপাশি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি সারা জীবন আপসহীন থেকেছেন।’
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি তুলনা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিন ঢাকায় অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত হয়েছিলেন তাকে স্বাগত জানাতে। অথচ উল্টো চিত্র দেখা গেছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে, যাকে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল।
তার মতে, এই দুটি ঘটনাই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে জনগণের প্রকৃত ভালোবাসা ও সমর্থন কোন দিকে রয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা বেহেশতের নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিতে চাই। আর জামায়াত পারে বেহেশতের লোভ দেখাতে।’
জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলটি বড় বড় বুলি আওড়ালেও মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা কখনো বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই ধর্মীয় কর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২ হাজার মানুষকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন।
কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলগুলোতে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রেমিকের সঙ্গে অবস্থানের জন্য রুম ভাড়া দেওয়ার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, কক্সবাজারে ইদানীং দেখা যায় ছোট ছোট মেয়েরা তাদের প্রেমিকদের হাত ধরে আপনাদের হোটেলে চলে আসে। তারা তো আন্ডার এজ (অপ্রাপ্ত বয়স্ক) তাদের এখনো একা হোটেলে থাকার বয়স হয়নি। আপনারা তাদেরকে এনআইডি ছাড়া অবস্থান করতে দেন, এটা আইনত অনেক বড় অপরাধ। এর ফলে নানা ধরনের অঘটন ঘটছে। কেউ পথে-ঘাটে প্রাণ হারাচ্ছেন, আবার কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।
কক্সবাজারকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি কক্সবাজারে হতে দেওয়া যায় না। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, কেউ মা-বাবার সঙ্গে এলে থাকতে পারবেন। তবে প্রেমিকের সঙ্গে এলে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া হোটেলে থাকার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এরপরও এ ধরনের ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ১৩ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হওয়ার আগে কক্সবাজারে 'তানজু আক্তার' নামে তার কথিত প্রেমিক রাজুর সঙ্গে একটি হোটেলে অবস্থান করেন এবং যেখানকার নিবন্ধন খাতায় বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে মানুষ দুর্বল মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সমাজে মাদককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কাজ করছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।
আইজিপি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে জনগণের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার ক্ষমতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা সুইমিং প্রাঙ্গণে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) মো. আরিফ হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বোরহান উদ্দিন অন্তর এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসে সময়ের গল্প, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভদ্রাবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। তিনটি গম্বুজ, চুন-সুরকির মজবুত গাঁথুনি, পুরু দেয়াল আর দেয়ালজুড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ। সব মিলিয়ে মসজিদটি যেন অতীতের স্থাপত্যশৈলীর এক জীবন্ত নিদর্শন। উপজেলার বারুহাঁস গ্রামের ঐতিহাসিক চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদটি দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বহন করে চলেছে স্থানীয় ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জমিদারি আমলের স্মৃতি। প্রতিদিনই এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন মুসল্লিরা। শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন অনেকে। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭৫ সালে বারুহাঁসের জমিদার দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে জমিদার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যে নির্মাতার নাম দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমিদারবাড়ির সামনে নির্মিত মসজিদটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে পরিবারের পুরোনো বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান। চারপাশে ভদ্রাবতী নদী ও খালের পরিবেশ স্থাপনাটির সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
মসজিদটির বিশেষ আকর্ষণ তিনটি গম্বুজ, আটটি পিলারের ওপর নির্মিত তিনটি বড় মিনার এবং পাঁচটি ছোট মিনার। কাঠের তৈরি তিনটি দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে দেয়ালের নান্দনিক অলংকরণ ও কারুকাজ। চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত পুরু দেয়াল এবং পুরোনো নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
প্রায় চার শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির ভেতরের আয়তন তুলনামূলক ছোট। তিন সারিতে প্রায় ৬০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরে খোলা বারান্দায় রয়েছে আরও দুই সারিতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। ইমামের জন্য আলাদা মেহরাব ও মিম্বার না থাকলেও মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে একটি কাঠের মিম্বার, যার ওপর দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দেন ইমাম। দেড় শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি বলে জানান জমিদার পরিবারের সদস্যরা। তবে স্থাপনাটির সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন মসজিদটিতে ইমামতি করেছেন বারুহাস গ্রামের মো. খলিলুর রহমান। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তার ছেলে আবদুস সবুর ইমামতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এই মসজিদ আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী। এমন মসজিদে ইমামতি করতে পারা সৌভাগ্যের।
মসজিদের মুয়াজ্জিন ৮০ বছর বয়সি আবদুল লতিফ খন্দকার। তার বাবা দৈয়ম আলী খন্দকারও এ মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে মসজিদটি স্থানীয় মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।
মসজিদের বর্তমান ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন বলেন, ৩১ বছর ধরে এই মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছি। জুমার নামাজের দিন মসজিদ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।
জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরীর নাতি মো. শাহনেওয়াজ খান চৌধুরী নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তিনি বলেন, মসজিদের মূল কাঠামো ঠিক রেখে পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিছু কাজ করা হয়েছে। মসজিদটি জমিদার পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতনসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহের জন্য জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী ১০ বিঘা জমি ওয়াক্ফ করে গেছেন।
কর্মসূত্রে পরিবারের অনেক সদস্য এলাকায় থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন কিংবা বার্ষিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা এলাকায় আসেন। তার মতে, মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর বেশ মিল রয়েছে।
জমিদার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য বিশাল খান চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকে মসজিদের ভবন যেভাবে দেখেছি, এখনো সেভাবেই আছে। টুকটাক সংস্কার হলেও দেড়শ বছর পরও মসজিদটির কাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিনই অনেকে মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার অনেক দূরের মানুষও এখানে নামাজ পড়তে আসেন।
গবেষক-লেখক ও খুলনার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিম বলেন, দেড়শ বছরের পুরোনো মসজিদটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর সঙ্গে এর স্থাপত্যশৈলীর বেশ মিল পাওয়া যায়। জমিদারবাড়ি ও মসজিদ ঘিরে প্রবহমান ভদ্রাবতী নদী স্থাপনাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এগুলো পূর্বপুরুষদের শিল্পবোধ, স্থাপত্যশৈলী, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা অতীতের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।
ইউএনও আরও বলেন, বারুহাঁসের ঐতিহাসিক ইমামবাড়ী তথা তিন গম্বুজ মসজিদের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদটির ইতিহাস, নির্মাণশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয় ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করার অভিযোগে আবু হুরায়রা খালেদ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে নাটোর জেলা পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। গ্রেফতারকৃত আবু হুরায়রা খালেদ নাটোরের সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াদুল ইসলের ছেলে।
পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে আবু হুরায়রা খালেদ তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, সরকারি চাকরিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে আসছিল। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সে ও তার সহযোগী চক্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। অভিযানে সিংড়া থানার বালুয়া বাসুয়া গ্রাম থেকে আবু হুরায়রা খালেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর ধারায় মামলা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাশেদ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার রংপুরের টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা রয়েছে। প্রতারনার জন্য আবু হুরায়রা খালেদ একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। প্রতারক চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অংশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ মতবিনিময় সভা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. খায়রুল ইসলাম, বিআরটিএ’র ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মোবারক হোসেন, জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস ও জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক লিটনসহ হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, তিন চাকার গাড়ী ও বাইক দুর্ঘটনার অন্যতমন কারন একারনে তিন চাকার গাড়ীগুলিকে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না। রুট পারমিট ছাড়া কোন গাড়ীকে সড়কে চলতে দেওয়া হবে না। লাইসেন্সবিহীন চালককে গাড়ী দেওয়া যাবে না। হেল্পারগণ যাতে গাড়ী চালাতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সড়কের ত্রুটি মুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাগ্নের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলায় বৃদ্ধ মামা ফজলে আলী হাজারীর (৬০) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে আলী চরকাদিরা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড বটতলী এলাকার বাসিন্দা।
মেঘনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তিনি ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর হামলায় অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রধরে প্রায় দুই বছর আগে ফজলে আলীর ভাগ্নে দেলোয়ার মাহমুদের সঙ্গে বটতলী এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেনের মেয়ে জেরিন আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু কিছু দিন পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি জেরিনের অন্যত্র বিয়ে হলে ফেনীতে কর্মরত সাবেক স্বামী দেলোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে (জেরিনকে) নিয়ে আবেগময় একটি পোস্ট দেয়। এ নিয়ে জেরিনের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জেরিনের স্বজনরা বটতলী বাজারে মামা ফজলে আলীর কাছে দেলোয়ারের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় ফজলে আলী বিষয়টি দেলোয়ার বাড়ি ফিরলে সমাধানের কথা জানান। কিন্তু এরই মধ্যে জেরিনের স্বজনরা ফজলে আলীর ওপর আকস্মিক হামলা করেন। তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা ফজলে আলীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতিতে সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে মো. ফয়সাল জানান, সামান্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেরিনের খালাতো ভাই মো. মাহফুজের নেতৃত্বে স্বজনরা হামলা চালিয়ে তার বাবাকে মেরে ফেলেছেন। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করার অপচেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। এজন্য আইনী পদক্ষেপের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এদিকে অভিযুক্ত মাহফুজসহ অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, শনিবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।