শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সিলেটে নেমে যাচ্ছে বন্যার পানি, তীব্র ভাঙন যমুনার দুই পাড়ে

বন্যায় প্লাবিত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২২ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৯

৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।

হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।

বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।

ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।

গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।

একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

৮ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিল সরকার

আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৬ ২২:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে সাতজনই বিএনপি নেতা।

এসব নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বেতনকাঠামোর গ্রেড-২ পদে তাদের এক বছরের চুক্তিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।

আটজনের মধ্যে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত মোতাহার হোসেন তালুকদার ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

এ ছাড়া রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামুকে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করেছে সরকার।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মোহাম্মদ সালাউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মো. নুরুল করিমের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব এস এম তুহিনুর আলম। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।


নির্বাচিত

মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কুলাউড়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি—নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে।’

শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

বর্তমান বাজেট একটি জনবান্ধব বাজেট: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, এবারের পুরো বাজেট জনবান্ধব দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার। এই বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে যে, বাজেটটি কতটুকু সুসম্পন্ন করা যায় তার ওপর।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সাবমার্সেবল পাম্প, ক্রীড়া সামগ্রী, দুস্থ মানুষের মাঝে হুইলচেয়ার ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় পুতুল আরও বলেন, ‘খুবই বাজে একটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাজেটটি দিতে হয়েছে। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে সরকার। তবে সেগুলো কোনো বড় প্রজেক্টের জন্য নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য। যেমন স্কুল-কলেজে বাচ্চাদের পড়াশোনাতে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ক্যান্সার রোগীদের আগে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হতো, এখন এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এই বাজেটে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের বিরুদ্ধচারণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট নিয়ে জামায়াতের অবজারভেশন থাকতে পারে। বিষয়গুলো তারা সরকারকে জানাতে পারেন। চলতি বাজেট জনকল্যাণমুখী হয়েছে কি না সেটা কাজে গেলে বোঝা যাবে। এই ভঙ্গুর অবস্থায় যেই বাজেটটি দেয়া হয়েছে, এটা বেস্ট বাজেট। বলা যায় কৈ এর তেল দিয়ে কৈ ভাজার মতো করে কাজগুলো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে মূল্যস্ফীতি না ঘটে। প্রত্যেকটি টাকা যাতে মানুষের জীবনের উন্নয়নের জন্য পৌঁছায় সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।’

এরপর প্রতিমন্ত্রী পুতুল নাটোরের লালপুরে একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


নির্বাচিত

পুরুষ শূন্য বাসা-বাড়ির নারীদের টার্গেট করে আঘাত, নওগাঁয় সিরিয়াল কিলার গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পুরুষ না থাকা কোন বাসা-বাড়িতে টার্গেট করা হতো। এরপর গভীর রাতে দেয়াল টপকিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে যে কোন ভারী বস্তু দিয়ে মহিলাদের মাথায় আঘাত করা। এরপর চুরি করা হতো। রক্তপাতের ভয়ে একটিই আঘাত করা হতো। তারপরও হতাহতের ঘটনা ঘটত।

সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদের বরাদ দিয়ে গায়ের লোম শিহরিত হওয়ার মতো অবস্থার বিষয় সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এর আগে বুধবার ভোরে গাজীপুর জেলার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গোলাম মোরশেদ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানার পাতহাট গ্রামে হইবর রহমানের ছেলে।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন- গত ৬ মাসে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর হামলা করে বাড়ির জিনিসপত্র চুরিসহ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

গত ১৮ জানুয়ারি রাতে জেলার ধামইরহাট থানার নানাইচ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকে হাসান আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তার মেয়ে কলেজ ছাত্রী উম্মে হাবিবার ঘরে ঢুকে মাথায় টিউবওয়েল এর হাতল(হ্যান্ডেল) দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আঘাতের ফলে উম্মে হাবিবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

একই দিনে অপরাধী আরো পৃথক দুই বাড়িতে প্রবেশ করে ভিকটিমদের মাথায় মারত্মকভাবে আঘাত করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ আসামি শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় একই থানার জাহানপুর গ্রামে শাহিন ইসলামের ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী সুলতানা বেগমকে মাথায় বাঁশ দিয়ে মেরে গুরুতর আঘাত করে। এরপর এলাকায় একই রাতে আরো তিন বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ভোদোকে টিউবওয়েল এর হ্যান্ডেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। সিরিয়ালভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতি বা আতংক সৃষ্টি হয়।

গত ৭ মে জেলার বদলগাছী থানার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় রাতে দেয়াল টপকিয়ে তিন বাড়িতে প্রবেশ করে শাহানাজ (২২), নাসরিন (১৩) ও বাক প্রতিবন্ধি বৃষ্টি (২০) কে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

সবশেষ গত ৪ জুন জেলার পত্নীতলা থানার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রোজি আক্তার (৩৭) এবং অপর একটি বাড়ির জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে আলতা বানু (৪৫) ও তার মেয়ে আসমা খাতুন (২২)কে লোহার শাবল দিয়ে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুত্বর জখম করে পালিয়ে যায়। এবিষয়ে জেলার বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা হয়েছে।

জেলার ৩টি থানায় অন্তত ১২টি এমন ঘটনা ঘটে। এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন মাঠে নামে। কিন্তু পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোন তথ্য ছিল না।

পুলিশ ‍সুপার আরো বলেন, পরে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করে। গোলাম মোরশেদ পেশাদার সাইকো সিরিয়াল কিলার। সে একাই এসব অপরাধ করে এবং বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ায়। এ কারণে তথ্য উদঘাটন করা কঠিন ছিল। পরে গাজীপুর জেলার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন,সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কম©কতা© আসাদুজ্জামান, ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমানসহ পুলিশের অন কর্মকর্তারা।

মামলাটি তদন্তকালে জানা যায় যে, দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন থানায় অনুরুপ ৫টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং দিনাজপুর নবাবগঞ্জের ঘটনায় একজন নারী মারা গেছে। জয়পুরহাট জেলায় অনুরুপ একটি ঘটনায় দুই জন নারী গুরুত্বরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একজন নারী মারা যায়।


নির্বাচিত

ডুমুরিয়ায় বাড়ছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার, হুমকিতে পরিবেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সর্বত্র নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহারে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী চটের বা পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবে বাজারগুলোতে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এতে উপজেলার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে।

​বাজারে সয়লাব নিষিদ্ধ পলিথিন সরেজমিনে ডুমুরিয়া সদর বাজার, শাহপুর বাজার, চুকনগর বাজার ও থুকড়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, সবজি, মাছ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসই দেদারসে পলিথিন ব্যাগে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৭টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করার কথা। কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে পাটজাত ব্যাগের ব্যবহারে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাটের ব্যাগের চেয়ে পলিথিন অনেক সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় ক্রেতারাও এটি বেশি পছন্দ করছেন।

পরিবেশ ও কৃষিতে মারাত্মক বিপর্যয়। স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, পলিথিন অপচনশীল হওয়ায় তা দীর্ঘ সময় মাটিতে আটকে থাকে। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন নালা, ড্রেন ও জলাশয় এখন পলিথিনের দখলে, যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া কৃষিজমিতে পলিথিন আটকে থাকায় মাটির পুষ্টি উপাদান ও বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা উপজেলার প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষি খাতের (বিশেষ করে ফসলি জমি ও সবজি চাষে) জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

​সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ​‘নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার ও বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। উপজেলার প্রধান প্রধান বাজারগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। আইন অমান্য করে যারা নিষিদ্ধ পলিথিন মজুত ও বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

​উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকারের বক্তব্য ​ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিসস সবিতা সরকার বলেন, ​‘পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা এবং পাটজাত মোড়কের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়া জরুরি। আমরা শিগগিরই বাজার কমিটিগুলোর সাথে বসব এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হবে।’ সম্প্রতি ডুমুরিয়া বাজারে ড্রেন নির্মাণ হলেও অতিসত্বর নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ ট্রেনের মধ্যেই ফেলে দিয়ে ভরাট হয়ে গিয়েছেন।


নির্বাচিত

জলদস্যু বাহিনীকে অস্ত্র ও খাদ্য সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১, ওয়ান শুটার গান উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

সুন্দরবনের জলদস্যু বাহিনীকে অস্ত্র ও খাদ্য সরবরাহের অভিযোগে মো. সবুর শেখ (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব-৬ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে বাগেরহাট জেলার রামপাল থানাধীন শ্রীফলতলা দক্ষিণপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। অভিযানে মৃত আক্তার আলীর ছেলে মো. সবুর শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানকালে তার হেফাজত থেকে কালো প্লাস্টিকের পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৩টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার পাইপগান উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত সবুর শেখ সুন্দরবনের জলদস্যু বাহিনীর অন্যতম সদস্য ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীকে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র ও খাদ্য সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির অতীত রেকর্ড পর্যালোচনায় বাগেরহাটের মোংলা থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাকে বাগেরহাটের রামপাল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


নির্বাচিত

কেশবপুরে দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৬ ২১:১৩
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে কেশবপুরে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী। এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এবং এইচডিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফিরোজ হোসেন খান, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির মো. সাইদুর রহমান সাইদ, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক তবিবুর রহমান এবং পৌর আমির প্রভাষক মো. জাকির হোসেন।

অতিথিবৃন্দ ফিতা কেটে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল প্রকল্প ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা, গবেষণামূলক চিন্তা ও বাস্তবমুখী উদ্ভাবনী উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন অতিথিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে বিজ্ঞান শিক্ষা। আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ যে মেধা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে, তা ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট প্রযুক্তি, কৃষি উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করে। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহারে মুগ্ধ হন উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনীটি কেশবপুরে বিজ্ঞান শিক্ষা ও উদ্ভাবনী সংস্কৃতি বিকাশে নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে প্রধানমন্ত্রী নতুন ভাবনা শুরু করেছেন: কেসিসি প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

থানা পর্যায়ে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুক্রবার (১২ জুন) খুলনা বয়রাস্থ মেট্রো পুলিশ লাইন হাই স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রধান অতিথি বলেন, উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী হলো ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মিলনমেলা। তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন ভাবনা শুরু করেছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে যে রক্তের সিঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা, সেই যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, নতুন পথে হাটবে বাংলাদেশ, বৈষম্যহনী বাংলাদেশে নতুন যাত্রা পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সেই পরিবর্তনের হাওয়ায় আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সন্তানদের আগামী বাংলাদেশ প্রস্তুত করা। গতকাল বাজেটে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। তার মানে হচ্ছে শিক্ষার আলো সবার মাঝে জ¦ালাতে হবে এবং বিজ্ঞান মনোস্ক যারা তাদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে হবে। এই কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা সামনে এগিয়ে যাবে। আগামীর বাংলাদেশে তরুণদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা বন্ধ থাকা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহতের কারণে সমাজে মাদকের প্রসার ঘটেছে। নতুন বাংলাদেশে নতুনভাবে সবকিছু শুরু করতে হবে। সন্তানদের লেখাপড়ায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো: আনিস-আর-রেজা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক (কলেজ) ড. এস এম সাজজাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে খানজাহান আলী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোসা. রুমানাই ইয়াসমিন বক্তৃতা করেন। খানজাহান আলী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় এ্যাডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পরে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

দুপুরে কেসিসির প্রশাসক সোনাডাঙ্গা রেভারেন্ড পলস হাই স্কুলের অডিটোরিয়ামে কোতয়ালী থানা পর্যায়ে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন কর্মসূচির সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন ও বিজয়ীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক (কলেজ) ড. এস এম সাজজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো: আনিস-আর-রেজা, কোতয়ালী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মোমিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সকালে তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর কার্যালয়ে মৌসুমি ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এসময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিটের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, কমিটির সদস্য ও ওয়াকার্স ফোরামের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অধ্যক্ষ-সহকারী অধ্যাপকের মারামারি, ভিডিও ভাইরাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ ও সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের মধ্যে মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে তিন মিনিট পঞ্চান্ন সেকেন্ডের একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। তবে কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল দুপুরে কবিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মিলনায়তনে অধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে আছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ। তার বাম পাশে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন এবং ডান পাশে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বসেছিলেন। এ সময় পিয়ন আব্দুর রহিম তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের আসন থেকে উঠে সহকারী অধ্যাপক মিলনের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর উভয়ের মধ্যে কিল-ঘুষি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং জীববিজ্ঞানের প্রভাষক ওসমান গনি এগিয়ে এসে তাদের নিবৃত করেন।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, গত মার্চের ২ তারিখে কলেজের শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে গত ৯ এপ্রিল ফিল্টারটি মেরামতের বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করলে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

এ সময় মিলন প্রতিবাদ জানালে অধ্যক্ষ নিজ আসন ছেড়ে তার দিকে তেড়ে প্রথমে তার গায়ে হাত তোলেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে।

সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন বলেন, শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় কয়েক দফা বিষয়টি অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ কলেজের মোটরের পানি পান করার পরামর্শ দেন। পরে চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার ওপর হামলা চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মামুনুর রশীদ বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। কলেজের সকল আর্থিক কাজ তিনি একা করতে চান, কাউকেই বিশ্বাস করেননা। কলেজের ১৭-১৮জন মাস্টার রোলের কর্মচারিকে তাদের বেতন নিয়ে হয়রানি করে আসছে। শিক্ষকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। মানুনুর রশীদ তার চেয়ার থেকে উঠে না আসলে কখনো মারামারির এ ঘটনা ঘটতনা। তিনিই প্রথম তার সহকর্মীর গায়ে হাত দেন। অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে গত ১১ মে কলেজের ১১জন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো.মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ বলেন, যে শিক্ষকের সঙ্গে আমার মারামারি হয়েছে, তিনি কি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ না করলে আপনারা এত আগ্রহ দেখাচ্ছেন কেন? এতে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে চাচ্ছে। এছাড়া কলেজের তহবিল সংকটের কারণে মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


নির্বাচিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত দুই শিশু হলো- বাখের আলী গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে কারিমা (৮) এবং একই ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের কাজল আহাদের মেয়ে ইসরাত (৭)।

চরবাগডাঙ্গা ইউপির গ্রাম পুলিশ শ্রী কাজল চন্দ্র শীল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে কারিমা ও ইসরাত নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও তাদের খুঁজে পায়নি।

পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে কারিমার মরদেহ ও পরে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ইসরাতের মরদেহও উদ্ধার করে।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২০, তিনজনের অবস্থা গুরুতর

মাদারীপুরে দুই বাসের সংঘর্ষ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে মাদারীপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি লোকাল বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘ইয়েস পরিবহন’-এর একটি বাসের এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এর মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরবর্তীতে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


নির্বাচিত

অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান কোস্ট গার্ডের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

সুন্দরবনের জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুর; আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম অব্যাহত, অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

বিশেষ করে সুন্দরবনের মোংলা থানাধীন জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

এর ফলে বনদস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা উক্ত এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি চায় না।

আজ বৃহস্পতিবার জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্ট গার্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র নিজেদের অপকর্ম পরিচালনার সুবিধার্থে উক্ত স্থান থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

মূলত সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোস্ট গার্ডের চলমান সফল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব অপতৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, কোনো ধরনের অপপ্রচার, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা কিংবা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র বাহিনীর চলমান দায়িত্ব পালন ও অভিযানিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারবে না।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বনদস্যু দমন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাহিনীর চলমান কার্যক্রম কোনো ধরনের হামলা, ভয়ভীতি, অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বদ্ধপরিকর থাকবে।


নির্বাচিত

এক টুকরো ব্যাগের জন্য কোটি টাকার সম্ভাবনা হুমকিতে

দেশের বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁর আম বাগান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

উত্তরাঞ্চলের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নওগাঁ। দেশের বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী এই জেলায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। রপ্তানিযোগ্য, নিরাপদ ও কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনের জন্য চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছেন। তবে চলতি মৌসুমে ফ্রুট ব্যাগের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজারো আমচাষী। চাহিদা অনুযায়ী ব্যাগ না পাওয়ায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ আমে ব্যাগিং করতে পারেননি। ফলে উন্নতমানের আম উৎপাদন ও অধিক লাভের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এ বছর প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে আমের বাগান, যা জেলার মোট আমচাষের প্রায় ৭০ শতাংশ। এসব এলাকায় আম্রপালি, গোপালভোগ, খিরসাপাত, হিমসাগর, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ প্রায় ১৬টি জাতের আম উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রতিবছর এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়। এই পদ্ধতিতে আমের গায়ে দাগ পড়ে না, পোকার আক্রমণ কমে যায় এবং কীটনাশকের ব্যবহারও হ্রাস পায়। ফলে আমের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশি বাজারেও চাহিদা তৈরি হয়। খোলা অবস্থার আম যেখানে প্রতি মণ সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, সেখানে ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের দাম প্রকারভেদে সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়।

কিন্তু চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি ভিন্ন। গত বছর যেখানে প্রতিটি ফ্রুট ব্যাগ ৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৮০ পয়সায় পাওয়া গেছে, সেখানে এ বছর সেই ব্যাগ কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত দামে। তাও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যায়নি। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক চাষী পরিকল্পিত পরিমাণ আমে ব্যাগিং করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান আলম জানান, তার ২২০ বিঘা জমিতে আম্রপালি, গৌড়মতি ও বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে রপ্তানিযোগ্য ও নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনি ৬০ বিঘা জমির প্রায় ৫ লাখ আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সময়মতো পর্যাপ্ত ব্যাগ না পাওয়ায় আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও বারি-৪ জাতের আমে ব্যাগিং করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি গৌড়মতি জাতের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। এজন্য তাকে প্রতিটি ব্যাগের জন্য আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের বাজারমূল্য অনেক বেশি। কিন্তু ব্যাগের সংকটের কারণে এ বছর সেই অতিরিক্ত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

একই উপজেলার সাদেরডাঙ্গা গ্রামের আমচাষী বাবুল আক্তার বলেন, তার ১৬ বিঘা জমির আমবাগানের অর্ধেকই আম্রপালি জাতের। গত বছর ২০ হাজার আমে ব্যাগিং করে ভালো দাম পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর ৫০ হাজার আমে ব্যাগিং করার পরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যাগের অভাবে মাত্র ১০ হাজার গৌড়মতি আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। তিনি জানান, গত বছর যে ব্যাগ ৩ টাকা ৮০ পয়সায় কিনেছিলেন, এবার সেই একই ব্যাগ কিনতে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা দরে। তার মতে, ব্যাগিং না করতে পারায় পোকার আক্রমণও বেড়েছে, যা ফলের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চাষীদের মতে, গত কয়েক বছরে নতুন করে অনেক আমবাগান গড়ে উঠেছে। তিন থেকে চার বছর আগে রোপণ করা গাছগুলো এবার পূর্ণমাত্রায় ফল দিতে শুরু করায় ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাগের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি।

অন্যদিকে, আমচাষীরা মনে করেন, নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে তারা সরাসরি বিদেশে আম রপ্তানি করতে পারেন না। ফলে বাধ্য হয়ে মধ্যস্বত্বভোগী বা রপ্তানিকারকদের কাছে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়। রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কৃষকবান্ধব করা হলে জেলার অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডল বলেন, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফ্রুট ব্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে নিরাপদ আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ ব্যাগ সরবরাহ করতে পারেনি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close