৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।
হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।
ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।
গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।
একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
আধুনিকতায় ছোঁয়া লেগেছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। হাতে মোবাইল নেই, এমন পরিবার খুব কমই আছে। ঈদ এলে প্রেমিক-প্রেমিকা, প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব সবাই ঈদ কার্ডের শুভেচ্ছা বিনিময় করত। এখন মেসেঞ্জার, ফেসবুকে, টুইটারে, ইন্সটাগ্রামে, টেরিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে।
এখন আর পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে, অলিগলিতে বাহাড়ি ঈদ কার্ডের দোকান চোখে পড়ে না। কার্ড কেনার জন্য ছোট শিশুরাও আর বায় না ধরে না। স্কুল খরচের টাকা বাঁচিয়ে ঈদ কার্ড কেনার আনন্দ এখন স্মৃতির অতল গহীনে হারিয়ে গেছে।
মাইশা ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, ‘আগের মতো এত সময় কই, তা ছাড়া খুঁজে খুঁজে কার্ড বিতরণ করার দিন শেষ।’
ডিজিটাল যুগে কয়েক সেকেন্ডেই হাজারও মানুষের কাছে ‘কপি-পেস্ট’ করা শুভেচ্ছা পৌঁছে যায়।’ এক সময় ঈদ মানেই ছিল প্রিয়জনদের হাতে হাতে ঈদ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার এক অদ্ভুত শিহরণ। আজ তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সবকিছু বদলে গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের উৎসবগুলো হয়ে ওঠেছে যান্ত্রিক।
আমাদের বাবা-মায়েদের কিশোর বা তরুণ বয়সে রোজা শুরুর পর থেকেই শুরু হতো ঈদ কার্ড সংগ্রহের তোড়জোড়। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বসত ছোট ছোট কার্ডের দোকান। কেউ বেছে নিতেন প্রাকৃতিক দৃশ্যের কার্ড, কেউবা নিতেন গ্লিটার মাখানো ঝকঝকে কোনো নকশা। নিজের হাতে কার্ডের ভেতরে দু-এক লাইন শুভেচ্ছা বাণী লেখা আর নিচে নাম লিখে দেওয়া- সে এক অন্যরকম পাওয়া। প্রিয় বন্ধু বা আত্মীয়ের হাতে সরাসরি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে যে আন্তরিকতা ছিল, তা আজকের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার নীল টিকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে সত্য; কিন্তু কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রাণবন্ত ঐতিহ্য। এখন ঈদের শুভেচ্ছা মানেই একটি ফরোয়ার্ড করা মেসেজ, মেসেঞ্জারের ইমোজি কিংবা ফেসবুকে আপলোড করা একটি পোস্ট। ক্লিক করলেই শুভেচ্ছা পৌঁছে যাচ্ছে হাজার মাইল দূরে; কিন্তু সেই বার্তার পেছনে সময় দেওয়ার ধৈর্য কিংবা মনের টান আজ অনেকটা ম্লান। আমরা হয়তো সময় বাঁচাচ্ছি; কিন্তু অজান্তেই হারিয়ে ফেলছি সম্পর্কের সেই ‘ব্যক্তিগত পরশ’।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, আধুনিকতার চাকচিক্যের নিচে চাপা পড়ে গেছে আমাদের পূর্বসূরিদের সেই মায়াভরা ঈদ কার্ডের প্রচলন। আমরা অনেক কিছু উন্নত করতে পারি; কিন্তু শৈশব বা কৈশোরের সেই স্মৃতিগুলোকে তো আর আধুনিক করা যায় না। কার্ডের ভাঁজে লেগে থাকা সেই ভালোবাসা আজ কেবলই অ্যালবামের কোণে ধুলো জমা এক দীর্ঘশ্বাস। মা-বাবার কাছে যখন সেই দিনগুলোর গল্প শুনি, তখন বোঝা যায় আমরা কতটা যান্ত্রিক এক বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছি।
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে আমরা অস্বীকার করছি না, তবে ঐতিহ্যের এই মৃত্যু আমাদের কিছুটা রিক্ত করে দেয়। ডিজিটাল শুভেচ্ছা আসুক; কিন্তু হৃদয়ের মলাটে মোড়ানো সেই পুরোনো ঈদ কার্ডের আবেদন চিরকাল অমলিন থাকুক আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায়। হয়তো একদিন আবার কোনো নতুন প্রজন্ম এই যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে ফিরে তাকাবে সেই ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোর দিকে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত দুইটা। দক্ষিণ থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক ঝড় শুরু হয় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনাঘেঁষা দশটি এলাকার ওপর দিয়ে। এতে ওইসব এলাকার অর্ধশত বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সাথে অসংখ্য গাছপালাও উপড়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
প্রতিদিনের মত ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছেন। সেহেরির সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ থেকে ধেঁয়ে আসা তীব্র গতির বাতাসে তার বসতঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে তিন দিন পরেই ঈদ। ঈদের আগেই আমাদের মাথাগোঁজার ঠাই হারিয়ে ফেলেছি। ঝড় আমাদের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। শুধু আমি না, আমার মত বহু পরিবার বসত ঘর হারিয়ে পথে বসেছে।’
একই ভাবে ঢালচরের কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো.গিয়াস উদ্দিনের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত প্রায় ২ টার দিকে হঠাৎ করেই প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। প্রথমে হালকা বাতাস থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঝড়ের সাথে গুড়ি গুড়ি শিলা বৃষ্টিও হয়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং কাঁচা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করতে থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের বেশিরভাগই কাঁচা ঘরে বসবাস করায় ঝড়ের আঘাত সহ্য করতে পারেনি। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা, নজরুল নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অর্ধশত বাড়িঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী। বাতাসের প্রবল চাপে চর কচ্চপিয়া বাজারের ঘরের চালা উড়ে যায়।’
ঢালচর ইউনিয়নে প্রশাসক ও ঢালচর বন কর্মকর্তা মুইনুল মুঠোফোনে জানান, হঠাৎ ঝড়ে প্রায় ঢালচরে ত্রিশটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম জানান, চর মানিকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
ভোজ্য তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহ সংকটের কথা চিন্তা করে অনেক কৃষক এখন সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক কৃষকের কাছে সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ বছর আগের তুলনায় বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, কৃষকদের মাঝেও সৃষ্টি করছে নতুন আশার আলো। উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের কৃষক সুবাস মাঝি বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম থাকার কারণে আমরা নিজেরাই তেল উৎপাদনের কথা ভাবছি। সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং ফলনও ভালো হয়। তাই এবার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দেবব্রত সরকার জানান, উপকূলীয় এলাকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘা জমিতে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা সূর্যমুখী চাষে আরও আগ্রহী হন।
কৃষি বিভাগের মতে, সূর্যমুখী বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এ কারণে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১২৩৭ (১ হাজার ২ শত সাঁইত্রিশ) জন পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে অনুদানের অর্থ তুলে দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ২ শত ৩৭ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঈদ উপহার পেলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাসিক প্রশাসক। এছাড়া তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর শহীদ আলী রায়হান ও অন্যান্য শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, সেই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ইতঃপূর্বে কোনদিন এভাবে পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ উপহার প্রদান করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের খালি হাতে আসিনি। তার উপহার নিয়েই এসেছি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক আশা করে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজশাহীকে আরো সুন্দর ও উন্নত করতে হবে। আমি সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ। রাসিক প্রশাসক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষষদের জন্য খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। যা সারাদেশের কৃষকদের উপকার হবে।
তিনি আরও বলেন, হাতের আংগুলে ভোটের কালির দাগ শুকানোর পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি মানুষকে ফ্যামিল কার্ড প্রদান করা হবে। তিনি ঈমাম, মোয়াজ্জিম, খাদেমদের সম্মানী ভাতা দিয়েছেন। যা ইতঃপূর্বে কেউ দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তার জন্য সকলে দোয়া করবেন।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সিটি করপোরেশন নাগরিক সেবার প্রতিষ্ঠান। আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার মাধ্যমে নাগরিকদের নাগরিক সেবা প্রদান করব। রাজশাহী মহানগরবাসী যা চায়, আমরা তা করব। নগরীর যেসব উন্নয়ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলো সমাপ্ত করব। আগামীতে রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুন্দর, সুখী, আধুনিক ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একাজে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন। অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে খুঁশি ও উচ্ছ্বসিত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। পরিচ্ছন্ন কর্মী রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে চাকরি করছি। চাকরিজীবনে কোনদিন এভাবে অনুদান পাইনি। অনুদান পেয়ে আমরা অনেক খুঁশি।
পরিচ্ছন্ন কর্মী মরিয়ম ও সুমাইয়া বলেন, ঈদে অনেক খরচ। কীভাবে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করব, এই নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তারপর যখন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেলাম তখন চিন্তা মুক্ত হলো। এবার ভালোভাবে ঈদ করতে পারব। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি যেন এভাবেই আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারেন।
পরিচ্ছন্নকর্মী হারুনুর রশীদ বলেন, ঈদ উপহার পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। এই অনুদান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কাজে আমাদের আরও উৎসাহ যোগাবে।
আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং অঙ্গনে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এর শিক্ষার্থীরা। কৃষি ও বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি ও জৈবব্যবস্থা প্রকৌশলের আন্তর্জাতিক কমিশন’ (সিআইজিআর) আয়োজিত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬-এ চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে জয়লাভ করেছে বাকৃবির চারটি পৃথক দল।
আমেরিকা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ঘানা, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা দুটি গোল্ড (প্রথম স্থান) এবং দুটি ব্রোঞ্জ (তৃতীয় স্থান) পদক লাভের গৌরব অর্জন করেছে।
প্রতিযোগিতার ফলাফলে দেখা যায়, ‘এনার্জি ইন অ্যাগ্রিকালচার’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৪) ক্যাটাগরিতে কৃষিতে জ্বালানি ও শক্তি ব্যবহারের আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করে প্রথম স্থান (গোল্ড) অধিকার করে বাকৃবির একটি দল। দলের সদস্যরা হলেন- মো. আবু হোরায়রা আল রেজন, আমিনা আরিফ রিয়া এবং শোয়াইব আহমেদ সতেজ।
খামার ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিকল্পনা অপ্টিমাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৫) বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাকৃবির আরও একটি দল। স্বর্ণপদক জয়ী এই দলের সদস্যরা হলেন- তানভীর হোসেন, খৈরম অনন্ত অনি এবং নুসরাত জাহান মুমু।
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় ব্রোঞ্জ পদক জয়েও উজ্জ্বল ছিল বাকৃবির নাম। স্থাপত্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকৌশল সমাধানের লক্ষ্যে ‘স্ট্রাকচারস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-২) ক্যাটাগরিতে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন সাবিদুর রহমান শেজান এবং নুসরাত জাহান জুঁই।
এ ছাড়া ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে এম. রাহাত মিয়া এবং খন্দকার জুনায়েদ আহমেদের দল।
আন্তর্জাতিক এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ গোল্ড মেডেল জয়ী বাকৃবির দুটি দলের প্রত্যেকটি ৫০০ মার্কিন ডলার এবং ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী বাকি দুটি দলের প্রত্যেকটি ২০০ মার্কিন ডলার করে অর্থ পুরস্কার ও সনদপত্র লাভ করবে। আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসে ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘সিআইজিআর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাদারীপুরে গরীব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করল বেসরকারি সামিজক সংগঠন ‘তারুণ্য পরিবার’। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে মাদারীপুর বণিক সমিতির কার্যালয়ে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সোহাগ হাসানের পরিচালনায় ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজের সঞ্চালনা এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিত থেকে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার গোলাম সরোয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা শাখার সভাপতি এনায়েত নান্নু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর, সমাজকর্মী রেজাউল ইসলাম রেজা প্রমুখ।
ওই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত এসব গরীব ও অসহায়দের মাঝে এরুপ মহৎ কাজ তথা ঈদ বস্ত্র বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
এ সময় অর্ধশতাধিক শিশুদের মাঝে তাদের মায়েদের উপস্থিতিতে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। পোশাক পেয়ে শিশুদের মুখে অনেক হাসি ফোটে। তারুণ্য পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোহাগ হাসান সহ তাদের কর্মকর্তারা বলেন, সকলের ভালোবাসায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় গরিব, অসহায় ও দুঃস্থ শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক বিগ্রেডের আওতাধীন ৩০ বীর খাগড়াছড়ি সদর জোন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে জোন সদরে থেকে টহলকারী টিম ঈদ সামগ্রী নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা সদরের শাল বাগান, আদর্শপাড়া, দয়ানগর, গরু গাড়ি টিলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকার অসহায়, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও বিধবাসহ শতাধিক মানুষের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
খাগড়াছড়ি সদর জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ খাদেমুল ইসলামের নির্দেশে সদর উপজেলার দারিদ্র্য পরিবারগুলোকে চিহ্নত করে শতাধিক মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
সেনাবাহিনীর পক্ষে থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে। তিনি আরো জানান, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সবাইকে ছাপিয়ে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে জোড় আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপি নেতা মোঃ রুহুল আমিন শরীফ। রবিবার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এতে বরগুনা বাদে বরিশাল বিভাগের পাঁচটি জেলাই নতুন প্রশাসক পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ইতোপূর্বে বরগুনায় যাদের নাম আলোচনায় ছিল, বর্তমানে তাদের সম্ভাবনা কম। যদি তাদের মধ্যে কেউকে প্রশাসক করা হতো, তাহলে প্রথম পর্বের তালিকায় আসতো। যেহেতু সেটা হযনি, তাই নতুন কাউকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে এমনটাই ভবছেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে শিল্পপতি মোঃ রুহুল আমিন শরীফের নাম। গত দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে বিষয়টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোঃ রুহুল আমিন শরীফের বাড়ি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ছিলেন বামনা উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য। বরগুনার বিএনপিতে একজন সৎ ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি বামনায় দলের একজন নির্ভরযোগ্য কান্ডারী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাসহ সবধরনের সহযোগিতা করেছেন তিনি। বিশেষকরে ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আস্থার পাত্র তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি মাইক্রোটেক্স ডিজাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রিটেক্স ফ্যাশন ও ক্রিয়েটি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান, প্লাটিনাম ফ্যাশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বিজিএমইএ'র সদস্য এবং বিজিবিএ'র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতি ও ব্যবসার পাশাপাশি নির্বাচনেও তার রয়েছে ব্যাপক দক্ষতা। তিনি বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম মণির নির্বাচন পরিচলনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময়ে তিনি নূরুল ইসলাম মণির একান্ত সচিব ছিলেন এবং বর্তমানে তার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাকে নিয়েই জোড় গুঞ্জন চলছে। বিশেষভাবে তার সততা ও গ্রহনযোগ্যতা এক্ষেত্রে তাকে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ রুহুল আমিন শরীফ বলেন, আমি সারা জীবন বিএনপির জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছি। দলের কঠিন সময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি। কিন্তু কখনও কিছু চাইনি। তবে দলের প্রয়োজনে যেকোনও দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছি।
উল্লেখ্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক মাস্টার, সদস্য সচিব এসএম হুমায়ূন হাসান শাহিন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এজেডএম সালেহ ফারুক অন্যতম।
ঈদ সামনে রেখে যমুনা সেতুতে গাড়ি পারাপারের চাপ বেড়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) থেকে সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা ।
রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত এ সেতু দিয়ে গাড়ি পারাপার করেছে ৩৫ হাজার ৬৫৮টি।
জানা গেছে, প্রতি ঈদেই যমুনা সেতুতে গাড়ি পারাপারে চাপ বাড়ে এবং টোল আদায় হয়ে থাকে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে।
এতে পূর্ব পাড় থেকে ১ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার ৫৫০ টাকা এবং পশ্চিম পাড় থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। পূর্ব পাড়ে গাড়ি পার হয়েছে ২০ হাজার ৭৫টি এবং পশ্চিম পাড়ে গাড়ি পার হয়েছে ১৫ হাজার ৫৮৩টি।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদ উপলক্ষে গাড়ি পারাপারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। আগামী দুই দিন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভোটারদের আঙুলের কালির দাগ শুকানোর আগেই নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনও এক মাসও হয়নি। ভোটারদের আঙুলের কালির দাগ এখনও শুকায়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনের সময় দেওয়া পাঁচটি প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ইমামদের ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। আজকের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সরকারের আরেকটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলো।
গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল হবে, সরকার তত বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের পরপরই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কৃষি বিপ্লব এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কর্মসূচি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন এবং ভূ-পৃষ্ঠের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের পার্থক্য হলো-তারেক রহমান যা বলেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরিশাল জেলার নবাগত পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান, বিএডিসি বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চঞ্চল কুমার মিস্ত্রী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব এবং বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী সাহেদ আহম্মেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ, গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মো. আনছার উদ্দিন, জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সোমবার সকাল ১১টায় তিনি সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ শাহ আলমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন।
দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সাবেক প্রশাসক শাহ আলম নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি তার দায়িত্ব পালনের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেন নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “আমার প্রথম কাজ হবে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা। পাশাপাশি আগামীকাল থেকেই যানজট নিরসন এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারে মাঠে নামব। আশা করি কুমিল্লাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে এটি তৃতীয়বারের মতো প্রশাসক পরিবর্তন হলো।
দেশব্যাপী ‘খাল খনন কর্মসূচি ২০২৬’-এর উদ্বোধন করতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৈয়দপুর থেকে সড়ক পথে কর্মসূচিস্থল দিনাজপুর যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন।
এ উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়ক পথে কর্মসূচিস্থলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে গতকাল পাঠানো সফরসূচি অনুযায়ী, ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানেই আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসভা শেষে বিকেলে জেলার শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে শায়িত তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পোঁছান। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসযোগে তিনি সৈয়দপুর শহর হয়ে দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলার খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।
সৈয়দপুর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রধানমনন্ত্রীর আগমন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে।