সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

সিলেটে নেমে যাচ্ছে বন্যার পানি, তীব্র ভাঙন যমুনার দুই পাড়ে

বন্যায় প্লাবিত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২২ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৯

৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।

হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।

বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।

ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।

গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।

একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’

বিষয়:

বাংলাদেশি ট্রলারসহ ৫ রোহিঙ্গা জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি বাংলাদেশি ট্রলারসহ পাঁচ রোহিঙ্গা জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গত রোববার (২৮ জুন) সকালে ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অপহৃত জেলেরা হলেন মোহাম্মদ আইয়ুব (২৪), মোহাম্মদ আজিমুল্লাহ (৩০), সালাম নুর(৩১), আয়ুব আলী (৩৭) এবং ছৈয়দ হোসেন (২৫)। তারা সবাই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী।

স্থানীয় জেলেরা জানান, রোববার (২৮ জুন) দুপুরে প্রতিদিনের মতো টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন একটি ট্রলার মাছ ধরার উদ্দেশে সাগরে যান জেলেরা। পরে ট্রলারটি ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে সেটি আটক করে।

এরপর ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে নিয়ে যান তারা। এসময় আশপাশে থাকা আরো কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিরাপদে ফিরে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জলসীমার ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় আরাকান আর্মি একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সবাই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। আটক জেলেদের বিষয়ে বিজিবির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।


বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের চিত্রকলা, পাপেট শিল্প, নাটক ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ, শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীলতা চর্চায় তার অনন্য অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

এদিকে, শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি তার অবদানকে সর্বদা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একইসঙ্গে তার কাজ ও আদর্শ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মরহুমের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মুস্তাফা মনোয়ার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইনি ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০।


শেরপুর সীমান্তে ২ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের খারামোরা সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে দুইজনকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (২৯ জুন) সকালে ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচা বিজিবি ক্যাম্পের আওতাধীন সীমান্ত দিয়ে মানবপাচারকারীরা ওই দুইজন বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তাওয়াকুচা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সীমান্ত পিলার ১০৯৭-এর পাশ দিয়ে তাদের আবার ভারতের দিকে ফেরত পাঠায়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের যশোরের বাসিন্দা বলে দাবি করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।

তাওয়াকুচা বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার (২৯ জুন) সকালে সীমান্ত এলাকায় দুইজনকে পাওয়া যায়। আমরা তাদের ভারতের সীমানায় রেখে এসেছি। বর্তমানে তারা ১০৯৭ নম্বর পিলারের পাশে অবস্থান করছে। সীমান্তে মানবপাচারসহ সব ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আমিন বায়েজীদ জানান, বিজিবির টহল দলের তাৎক্ষণিক সতর্ক অবস্থান গ্রহণ এবং সীমান্তবর্তী স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ফলে তাদের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।


শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ করতেই শেষ ৪৩০ কোটি টাকা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরীয়তপুর প্রতিনিধি 

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর টাকা হরিলুটের অভিযোগে থমকে গেছে গুরুত্বপূর্ণ শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজ।

কাগজে-কলমে অবকাঠামো দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট, ৫ ইঞ্চির গাছের দাম ৫৬ হাজার টাকা ধরা এবং ক্ষতিপূরণের চেক তুলতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে এই প্রকল্পের পেছনে।

টাকার ঘাটতিতে থমকে আছে প্রকল্প: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মহাসড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। এর মধ্যে ৪ ফেনের জন্য জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৪৩০ কোটি এবং ২ লেনের সড়ক নির্মাণে বাকি ৪৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি জটিলতায় প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে বরাদ্দের সব টাকা শেষ হয়ে গেলেও জমি অধিগ্রহণ হয়েছে মাত্র ৫১ শতাংশ (৯৫.৮৫ হেক্টরের মধ্যে ৪৯ হেক্টর)। এখন কাজ চালু করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আরও ৪১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়ে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিনব কৌশল: সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইন ২০১৭-এর তোয়াক্কা না করে অভিনব সব উপায়ে টাকা লুটের উৎসব চলেছে এই প্রকল্পে।

অস্তিত্বহীন ভবনের লাখ লাখ টাকা বিল: জমি অধিগ্রহণের নকশা বা ভিডিওতে যা নেই, তারও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ভেদরগঞ্জের চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির একতলা ভবনের ওপর কাগজের কলমে ‘দোতলার একাংশ’ দেখিয়ে অন্তত ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে।

গাছের অবিশ্বাস্য মূল্য: ভেদরগঞ্জের পাপরাইল এলাকায় জয়নাল খাঁর বাগানের ৫.৮ ইঞ্চি মোটা একেকটি গাছের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা! অবাস্তব আকৃতির ও অস্তিত্বহীন ২০০টি গাছের জন্য ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ প্রস্তুত করা হয়েছে।

আইন ভেঙে নিজেরাই আপিল নিষ্পত্তি: নিয়ম অনুযায়ী, তালিকায় বাদ পড়া কোনো স্থাপনার আপত্তি থাকলে তা বিভাগীয় কমিশনারের নিষ্পত্তি করার কথা। কিন্তু এলএ শাখা নিজেরাই প্রায় ১২০টি আপত্তি নিষ্পত্তি করে কোটি কোটি টাকা ছাড় করেছে। চরকাশাভোগ এলাকার শাহিদা বেগম নামের এক নারীকে প্রথমে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও পরে জেলা প্রশাসনের শুনানিতে ৪৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অথচ বর্তমানে সেখানে কোনো ঘরের অস্তিত্বই নেই।

চেক তুলতেও দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ: ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার মনোয়ারা বেগম ও আব্দুল মালেক দম্পতি জানান, তাদের একটি টিনের ঘরের ১৬ লাখ টাকার চেক তুলতে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

একই এলাকার নান্নু সরদার ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেও ভ্যাটের কথা বলে তার কাছ থেকে মোট টাকার ৬ শতাংশ (প্রায় ১৬ লাখ টাকা) কেটে নিয়েছেন এলএ শাখার সার্ভেয়াররা।

যা বলছেন দায়িত্বশীলরা: সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনের দাবি, মূল ডিপিপিতে (DPP) জমি অধিগ্রহণের টাকা কম ধরা হয়েছিল। জমি বুঝে না পাওয়ায় ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি। তবে মাঠপর্যায়ের কোনো অনিয়ম এখন প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম দাবি করেন, এসব অনিয়ম আগের কর্মকর্তাদের সময়ে ঘটেছে। বর্তমান জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এলএ শাখা ঢেলে সাজিয়েছি এবং অনেককে বদলি করেছি। আমার জানামতে এখন কেউ পারসেন্টেজ নিচ্ছেন না। সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না।’


নড়াইলে মব সৃষ্টি করে মৎস্য কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত, থানায় মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইলে দলবল নিয়ে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানকে তাঁর অফিস কক্ষের ভেতরে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার (২৮ জুন) বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লাঞ্ছিত মৎস্য কর্মকর্তা নিজেই বাদী হয়ে ওই দিন রাতে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. জিসানুর রহমান ওরফে জিসান। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের মো. টিপু সুলতানের ছেলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক যুবক জানান, জিসান এক সময় ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি ওই দলের সাথে জড়িত কি না, তা জানা নেই।

সদর থানায় মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। অভিযুক্ত জিসান প্রায়শই অফিসে এসে বিভিন্ন গোপনীয় তথ্যাদি দাবি করতেন। অফিসের গোপনীয় তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে তিনি প্রায়ই অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন।

গত রোববার (২৮ জুন) অফিস চলাকালীন বিকেল ৩টার দিকে জিসান ৪/৫ জনকে সাথে নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে চড়াও হন। সেখানে তিনি নড়াইল জেলার সকল সুবিধাভোগী সদস্যদের প্রদর্শনীর তালিকা দাবি করেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে এই তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিসান ও তার সহযোগীরা মৎস্য কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় তারা অফিসের সরকারি ডেস্কটপ ও মনিটর ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করেন।

যোগাযোগ করা হলে মো. জিসানুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আমরা গ্রামের কৃষকদের নিয়ে কাজ করি। তাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার কারণে প্রায়ই উপজেলা পরিষদে যেতে হয়। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি কোনো তথ্য দিতে চান না এবং আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি রাজনৈতিক দলের প্রভাব দেখান, যার প্রমাণ আমার মুঠোফোনে রেকর্ড করা আছে।

জিসান আরও অভিযোগ করেন, আমি ঘটনার সময় ভিডিও করতে গেলে মৎস্য কর্মকর্তা আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এরপর অফিসের কয়েকজন স্টাফসহ তিনি আমাকে মারধর করেন। তিনি কেমন মানুষ, তা অফিসের কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন, জিসান প্রায়ই অফিসে এসে ঝামেলা করেন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনীর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনৈতিক দাবি জানান। যেকোনো বরাদ্দ একটি কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়, এককভাবে কোনো বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এই বিষয়টি একাধিকবার বুঝিয়ে বলার পরও তিনি দলবল নিয়ে অফিসে এসে ভাঙচুর চালিয়েছেন এবং আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন। বাধ্য হয়ে আমি থানায় মামলা করেছি।

নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িতরা ততক্ষণে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মৎস্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ পরিবার পেল আর্থিক সহায়তার চেক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের মাঝে ৫ লক্ষ টাকা করে সর্বমোট ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শোকার্ত পরিবারগুলোর হাতে এই সহায়তার চেক তুলে দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদ।

চেক বিতরণ শেষে উপস্থিতির উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে প্রাপ্ত অর্থের সঠিক ও উৎপাদনশীল সদ্ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পরিবারগুলোকে কেবল অনুদানের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান।

এই অর্থ অপচয় না করে ফলমূল চাষাবাদ, গবাদি পশু পালন, নারীদের সৃজনশীল কারুশিল্প চর্চা এবং লভ্যাংশভিত্তিক নিরাপদ বিনিয়োগে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। সেই সাথে কর্মদক্ষতা ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বিভিন্ন যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণে সকলকে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেন।


স্কুলছাত্র ইথান গুলিবিদ্ধের ঘটনায় বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার ৪

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধের আলোচিত ঘটনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২৪ জুন) রাত থেকে কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ‘অপু গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’-এর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পথচারী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

ঘটনার পরপরই কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি নির্দেশনায় অপরাধীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত জামসেদ হোসেন শ্রাবণ (২২), পিতা- জামাল হোসেনকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— আসিফ (২৬), পিতা- মৃত শাহজাহান মিয়া; আশিক (৩৫), পিতা- মৃত সুলতান; এবং ইমন (১৯), পিতা- ইকবাল। গ্রেফতারকৃতদের সকলের বাড়ি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা এলাকায়।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার বলেন, "সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী এবং মাদক ও অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীকে কুমিল্লার মাটিতে ছাড় দেওয়া হবে না। স্কুলছাত্র ইথানের ওপর যারা গুলি চালিয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে


পিরোজপুরের হুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিরোজপুরের হুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ২:০০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রজেক্টের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই পরিবেশ সচেতন হতে হবে এবং বাড়িতে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "নিজেকে মাদকমুক্ত রাখতে হবে এবং মোবাইল গেমসের আসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে।"

‎​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বিদ্যালয়ের চারপাশের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করে।

‎​আয়োজকরা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সুন্দরবন সংলগ্ন বাজার থেকে অজগর সাপ উদ্ধার

সাতক্ষীরা সুন্দরবন সংলগ্ন নীলডুমুর বাজারের হার্ডওয়্যার দোকান থেকে উদ্ধারকৃত বিশাল আকৃতির অজগর সাপ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ জুন, ২০২৬ ১৮:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন একটি ব্যস্ত বাজারের হার্ডওয়্যার দোকানের ভেতর থেকে একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে নয়টায় শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বনবিভাগ ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

নীলডুমুর বাজারের সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী হারুন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে দোকান খোলার পরপরই ভেতরে একটি বড় অজগর সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন। তাঁর চিৎকার শুনে মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে বাজারের লোকজন সাপটিকে ঘিরে রেখে দ্রুত বনবিভাগকে খবর দিলে বনকর্মীরা সিপিজি সদস্য ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অজগরটি খাঁচাবন্দি করতে সক্ষম হন।

বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নীলডুমুরের মতো একটি জনবহুল ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এত বড় অজগর সাপ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। সাপটি ঠিক কীভাবে রাতের আঁধারে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তীব্র তাপদাহ ও সুন্দরবনের আশপাশের বনাঞ্চল বা ঝোপঝাড়ে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ায় খাবারের সন্ধানে এটি লোকালয়ে চলে এসেছিল।

নীলডুমুর বনবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন সাপটির শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা অজগরটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে এটিকে আজই নিরাপদে সুন্দরবনের গভীর ও উপযোগী প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত না হয়ে কিংবা নিজেরা আইন হাতে তুলে নিয়ে প্রাণীর ক্ষতি না করে, দ্রুততম সময়ে বনবিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান।

আকস্মিক এই ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করলেও বনবিভাগের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে।


বাগেরহাটে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাচ্চু মল্লিক, বাগেরহাট

বাগেরহাটের যুবসমাজকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংযুক্ত করে কর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন মেলা ।

সোমবার (২৯জুন) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা হলরুমে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও অ্যাক্টিভিস্টা রামপালের আয়োজনে এ মেলার আয়োজনে করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস আতিয়া খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় দত্ত, বাগেরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শংকর কুমার সরকার, বাগেরহাট মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষ মো. মাজাহারুল হাসান খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান, শহর

‎সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা নাজমুছ সাকিব, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন এবং সহ-সভাপতি এস এম রাজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

‎আয়োজকরা জানান, বাগেরহাট জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুবক-যুবতী তথ্যের অভাব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুর্বল যোগাযোগের কারণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে (TVET) অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেরিন একাডেমি এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর পৃথক বুথ স্থাপন করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স, ভর্তি প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের সময়কাল এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। পাশাপাশি বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নিবন্ধন বুথ থেকে আগ্রহী যুবকদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয় এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়।

বক্তারা বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধি,কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।


ডুমুরিয়ায় মরা ভদ্রা নদীতে মিলছে বড় সাইজের দেশীয় মাছ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন মরা ভদ্রা নদীতে এখন প্রায়শই বড় সাইজের কার্প ও দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষা এবং নিয়মিত পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির সুফল সরাসরি পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও জেলেরা। দীর্ঘদিন পর নদীতে এমন বড় আকারের মাছের দেখা মেলায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মাছটি ধরেছেন গজেন্দ্রপুরের হান্নান গাজী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময়ের প্রমত্তা ভদ্রা নদী কালক্রমে ভরাট হয়ে ‘মরা ভদ্রা’য় পরিণত হলেও বানিয়াখালী এলাকায় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় চিত্র বদলে গেছে। অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকা এবং নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় চারপাশের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে বহুগুণ। রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, চিতলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির বড় বড় মাছ এখন ধরা পড়ছে স্থানীয় জেলেদের জালে। এতে স্থানীয়দের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন: “বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রমটি আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি। নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণ এবং অভয়াশ্রমের সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণেই আজ মরা ভদ্রা নদীতে কার্প ও দেশীয় প্রজাতির মাছের এত চমৎকার প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। মা মাছ রক্ষা ও পোনা নিধন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণ সচেতন হওয়ায় এই উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হয়েছে।”

এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন: “ডুমুরিয়ার বানিয়াখালীর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে মরা বা বদ্ধপ্রায় জলাশয় থেকেও বিপুল পরিমাণ মৎস্য উৎপাদন সম্ভব। আমরা পুরো জেলা জুড়েই প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার এবং অভয়াশ্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি, যাতে দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মান্নান গাজী ও রহিমা বেগম জানান, কয়েক বছর আগেও এই নদীতে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যেত না। কিন্তু অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই মাছের আকার ও সংখ্যা বাড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, বানিয়াখালী অভয়াশ্রমটি শুধু মাছের উৎপাদনই বাড়ায়নি, বরং মরা ভদ্রা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন: “বানিয়াখালী মৎস্য অভয়াশ্রমটি ডুমুরিয়ার মৎস্য সম্পদ রক্ষায় একটি রোল মডেল। নদী ও অভয়াশ্রমের সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় মৎস্য বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সময়ে যেন কেউ অভয়াশ্রমে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই ধারা বজায় রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পেতে পারেন।”


সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এক লাখ ফ্ল্যাট বানাবে সরকার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রকল্পের স্থান নির্বাচনও হয়ে গেছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মন্ত্রী জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে এবং দেশের রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌর এলাকার ৩৭টি বস্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের উন্নত আবাসন নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে চউকের জমিতে ভাড়াভিত্তিক এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংসদের একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা এবং কারাদণ্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে।

এদিকে, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা দিতে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়ম দূর করতে সারাদেশে প্রকৃত দুস্থদের তালিকাভুক্ত করা এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে একটি শুদ্ধি অভিযান ও ডাটাবেজ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য গত ১৯ এপ্রিল একটি পুনঃযাচাই-বাছাই কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, দেশে প্রবীণ জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ৬১ লাখ উপকারভোগী ৬৫০ টাকা হারে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন, যার মোট বরাদ্দ চার হাজার সাতশ ৯১ কোটি ৩১ হাজার টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ভাতা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে উপকারভোগীর সংখ্যা হবে ৬২ লাখ এবং বরাদ্দ থাকবে পাঁচ হাজার দুইশ ৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে ৭০০ টাকা হারে মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য মোট ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় পাইলটিং হিসেবে এরইমধ্যে তিনটি পর্যায়ে ৬৯ হাজার তিনশ ৮৭ জন নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।


এবার জামায়াত এমপির বরাদ্দকৃত প্রকল্পে সভাপতি ভাগনে-ভগ্নিপতি

জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর ব্যুরো

রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াতের এক এমপির (রংপুর-৬) বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটার একাধিক প্রকল্পে ভাগনে-ভগ্নিপতি ও নিকট আত্মীয়কে সভাপতি বানিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ৩০ লক্ষ, কাবিটার ২৫ লক্ষ টাকা ও কাবিখার ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। তার সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় টিআরের (নগদ অর্থ) ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ বিভাজন করে তিনি প্রকল্প দাখিল করেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৯ নং সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাবিখা প্রকল্পে-১০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দে বর্ণিত গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে এমপির চাচাতো বোনের স্বামী ভগ্নিপতি ইয়াকুব আলীকে।

অপর প্রকল্পটি একই গ্রামের উল্লেখিত ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে। এই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা-পুত্র। তারা দুজনই সম্পর্কে এমপির ভাগনে ও ভগ্নিপতি।

এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পে নিকট আত্মীয়, দলীয় বিভিন্ন পদের নেতা-কর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সর্বত্র।

তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া প্রশ্ন করেন, ওয়াক্তিয়া ঘরের জন্য একাধিক প্রকল্পে এমপি তার বোনজামাই, ভাগনেকে প্রকল্প সভাপতি করায় এর সঠিক বাস্তবায়ন কতটুকু হবে।

ওই গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরনো জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে এমপি তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ আছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।’ এ কথা বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


banner close