৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।
হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।
ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।
গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।
একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের তিনটি উপজেলার ১৬টি গ্রামে বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।
জেলাটির সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার এসব গ্রামের সুরেশ্বরী ও কুতুববাগী তরিকার অনুসারী মুসল্লিরা প্রতি বছরের মতো এবারও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় এবং কোরবানি সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে সকাল ৮টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ইতিমধ্যে শেষ মুহূর্তের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি পরিবারগুলোতে কোরবানির পশু কেনার কাজও শেষ হয়েছে।
বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ আব্দুল করিম জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে শরিয়ত সম্মতভাবে সৌদি আরবের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন এবং এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই আগাম ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মাঝে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে পর্যটকদের ঢল নামে। সবুজ চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত আর বিলাসবহুল রিসোর্টগুলোর চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় এবার ম্লান হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এবং সড়ক ও রেলযোগাযোগের বেহাল দশার কারণে এবার ঈদ মৌসুমে পর্যটক সমাগম আশঙ্কাজনক হারে কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সাধারণত ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এক মাস আগেই এখানকার হোটেল-রিসোর্টগুলোর প্রায় শতভাগ অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু এবার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ঈদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টের কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন, তারা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ভ্রমণ স্থগিত করছেন।
শ্রীমঙ্গলের নভেম ইকো রিসোর্ট, বালিশিরা, চাওমিন এবং কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ও অরণ্য নিবাস রিসোর্টের মতো জনপ্রিয় থাকার জায়গাগুলোতে প্রতি ঈদে বুকিংয়ের জন্য হাহাকার পড়ে যায়। তবে এবার এখনও সিংহভাগ কক্ষই খালি।
রাধানগর পর্যটন কল্যান পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নিসর্গ নিরব ইকো কটেজ এর মালিক কাজী সামছুল হক বলেন, "ঈদ একেবারে সন্নিকটে , অথচ এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। তবে ঈদের ছুটি চলাকালীন শেষ মুহূর্তে আরও কিছু বুকিং হতে পারে বলে আশা করছি।"
পর্যটক কমে যাওয়ার এই ধাক্কা শুধু হোটেল-রিসোর্টেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় ট্যুর গাইডদের ওপরও। শ্রীমঙ্গল রাধানগরের চামুং রেস্টুরেন্টের মালিক তাপস দাস জানান, ঈদে পর্যটকদের কারণে তাদের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবার পর্যটক কমলে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। কারণ এই ঈদ মৌসুমের আয়ের ওপরই বছরের একটি বড় অংশের ব্যবসা নির্ভর করে।
ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন মন্দার পেছনে শুধু হাম আতঙ্কই একমাত্র কারণ নয়, এর সাথে যুক্ত হয়েছে অনুন্নত অবকাঠামো ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজ এবং পর্যটন এলাকার সংযোগ সড়কগুলোর খারাপ অবস্থার কারণে সড়কপথে ভ্রমণ কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। ঢাকা-সিলেট রেলপথে চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা অনেক কম। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় বিদেশী পর্যটকের আগমন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
শ্রীমঙ্গল গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরের ব্যবস্থাপক সেলিম আহমেদ এবং পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর গাইড অপারেটর এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও যানজটের কারণে দেশী-বিদেশী পর্যটকেরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
পর্যটক আগমন কম হওয়ার শঙ্কা থাকলেও, যারা আসবেন তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। পর্যটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল চৌধুরী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে মাঠে থাকবে। এছাড়া দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আশেপাশের সড়কগুলোতে যানজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে পর্যটন পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকরা আবারও চায়ের রাজধানীতে ফিরে আসবেন এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের পর্যটন শিল্প।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কের এই বিশাল অংশে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।
মহাসড়কের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাইপাস পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকা, সাভার ও গাজীপুর থেকে উত্তরাঞ্চলগামী বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপের কারণে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জটলা। এর ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলো ছুটি হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকসহ সাধারণ যাত্রীদের ঢল নামে। এর ওপর দিনের বেলা মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার যাত্রী সড়কে আটকা পড়লে এক পর্যায়ে যানবাহনের তীব্র সংকট দেখা দেয়। সন্ধ্যার পর থেকে যখন বড় বাস ও মালবাহী ট্রাকগুলো একযোগে সড়কে নামতে শুরু করে, তখন থেকেই যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্তও যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে মির্জাপুর থেকে কালিয়াকৈর অংশে যানজটের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করায় মহাসড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে প্রায় ২০ লাখ মানুষ গাজীপুর ছাড়ছেন, যার ফলে যানবাহনের এই বিশাল চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। যানজট নিরসনে এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ না কমা পর্যন্ত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম।
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে মঙ্গলবার (২৬ মে) একটি বালু বোঝাই ড্রাম ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ভোর ৫টার দিকে সংঘটিত এই মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও অলৌকিকভাবে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন চালকসহ ভেতরে থাকা তিন আরোহী। তারা সবাই সামান্য আঘাত পেলেও বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ড্রাম ট্রাকটির চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ৮টার দিকে বাসাইল-ভাতকুড়া আঞ্চলিক সড়কের বিয়ালা পূর্বপাড়া ব্র্যাক অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে বাসাইল-ভাতকুড়া সড়কের বিয়ালা পূর্বপাড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও সিএনজির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে বাহন দুটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং মোটরসাইকেল আরোহী ও সিএনজি যাত্রীসহ মোট ৫ জন গুরুতর আহত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অপর তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে তাদেরকেও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর সড়কটিতে কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ১৫ এপ্রিল ২০২৬ হতে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
উক্ত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) ও মৎস্য অধিদপ্তর সমন্বয়ে আজ ২৬ মে ২০২৬ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় পটুয়াখালী সদর থানাধীন টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১ টি পিকআপ তল্লাশি করে প্রায় ১৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ৭৫০ কেজি বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছ ও ১৩০০ কেজি জাটকাসহ পিকআপ, চালক ও ২ জন হেল্পারকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিষিদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা পরিবহনের অপরাধে চালক এবং হেলপারদ্বয়কে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত মাছ পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পটুয়াখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্থানীয় মাদ্রাসা, গরীব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি গবাদিপশু কোরবানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কুমিল্লা মহানগরের নেউরা পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী জানান যে, কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রান্তিক চাষি ও খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একেবারে প্রান্তিক চাষি থেকে শুরু করে ক্রেতা পর্যন্ত কোরবানির পশুর ক্রয়-বিক্রয় যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়, সে জন্য সরকার সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”
মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আরও উল্লেখ করেন যে, কোরবানির পশু লালন-পালন বর্তমানে দেশের লাখো পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস এবং এটি একটি শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। খামারিদের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করছে। হাটের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন রয়েছে যারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করছে। এছাড়া জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন এবং চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় তদারকি অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শনকালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু), জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়সহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। ঈদের আগমুহূর্ত পর্যন্ত এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারেন।
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে এবং ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র্যাব-৫, রাজশাহী। রাজশাহী মহানগরীসহ দায়িত্বপূর্ণ পাঁচটি জেলায় (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ এবং জয়পুরহাট) বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ মে) বেলা ১১টায় সিটি হাটে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন র্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার মোঃ মাহমুদুর রহমান, পিএসসি।
তিনি বলেন ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষ যেন ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির কবলে না পড়েন, সেজন্য রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়, সিটি হাট মোড়, নওহাটা ব্রিজ এবং বেলপুকুর বাইপাস এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট ও রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে র্যাব।
তিনি আরেও জানান সিটি হাটসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পশুর হাটগুলোতে ছিনতাই, জাল টাকা লেনদেন ও চাঁদাবাজি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়াও বর্তমান গরম আবহাওয়া ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় সিটি হাটে আগতদের জন্য র্যাব-৫ এর উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র্যাব।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাবের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। গুজব শনাক্ত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে র্যাব-৫ এর অধিনায়ক বলেন, “শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আসন্ন ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ঈদকেন্দ্রিক ছুটিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় র্যাব-৫ সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে নিকটস্থ র্যাব ক্যাম্প বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
রংপুরের মাহিগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস দেওয়ার কথা বলে পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বদিয়ার জামান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার রাতে নগরীর মাহিগঞ্জের কলাবাড়ি এলাকায় চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাটখেতে নির্যাতনের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে বদিয়ার জামান দ্রুত পালিয়ে যান। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক রাতেই মাহিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান যে, “মামলার পরপরই মাহিগঞ্জ থানা-পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে একটি দল অভিযানে নামে।” পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছাড়লেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিঠাপুকুর উপজেলার রাধাবল্লভপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তার বদিয়ার জামান পেশায় একজন শ্রমিক এবং তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকলেও মাঝে মাঝে রংপুরে যাতায়াত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ মতে, ওই ব্যক্তি এলাকায় লম্পট হিসেবে পরিচিত এবং তার একাধিক বিবাহের তথ্য পাওয়া গেছে। কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, “গ্রেপ্তার আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।” ভুক্তভোগী পরিবার যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য পুলিশ আদালতে অতি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবে
শেষ মুহুর্তের বেচাকেনায় জমে উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের গরুর হাট। আর মাত্র একদিন পরই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহর তালার সন্তুষ্টির জন্য পছন্দের পশুটি কিনতে ভৈরবের পশুর হাটগুলিতে ভীঁড় করছেন ক্রেতরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে ভৈরব শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু সংলগ্ন বৈশাখী মেলার মাঠে আয়োজিত সবচেয়ে বড় পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভৈরব শহরের বাসিন্দারা কোরবানির জন্য পশু কিনতে বাজারে ভীঁড় করছেন। তারা তাদের সাধ্যের মধ্য পছন্দের পশু কিনতে দরদাম করছেন। কেউ পছন্দের পশু কিনে বাজার থেকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন৷ আবার কেউ পরিবারের স্বজনদের সাথে নিয়ে পশু কিনতে বৃষ্টি ভেজা কাঁদার মধ্যে ছুটছেন তারা।
এসময় কথা হয় স্থানীয় ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মো.শাহেদ আহমেদ বলেন, আমরা যারা শহরে বসবাস করে থাকি তারা তো ঈদের আগের দিনই কোরবানীর পশু কিনতে হয়। কারণ বেশি আগে কিনলে গরু রাখা ও লালন পালন করার মত পর্যাপ্ত জায়গা ও লোকজন না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই আজকে হাটে এসেছি দেখছি দরদাম করছি যদি কথাবার্তায় গরুর দাম ঠিক হয়ে যায় তাহলে কিনে নিয়ে যাবো।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবু সুফিয়ান বলেন, কোরবানীর জন্য পশু কিনতে দামের কথা চিন্তা না করাই ভালো। কারণ আল্লাহতালাকে সন্তুষ্টির জন্য আমরা কোরবানী দিয়ে থাকি। তবে প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানী দিয়ে থাকেন। এবছর বাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ষাড় গরু কিনেছি।
কালীপুর এলাকার খামারী মাহবুব মিয়া বলেন, ভৈরবের গরু বাজারে শেষ মুহুর্তের ভালো বেচাকেনা হয়ে থাকে। আজকে বিকালের পর হাটে ভালো গরু বেচাকেনা হয়েছে। আমার খামারের ১০টি গরু বিক্রি করেছি। এখনো আরো গরু বিক্রির বাকী রয়েছে। আশা করছি কালকের মধ্যে সকল গরু বিক্রি হয়ে যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়া থাকায় হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতারা অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বরিশালের গৌরনদীতে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলো উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ (৩৯) ও তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাঁদের শিশুকন্যা জান্নাত আক্তার।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ির পথে যাচ্ছিলেন ফিরোজ মাহমুদ। বাটাজোর এলাকায় যানজটের কারণে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় তিনজন।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো.
মিজানুর রহমান জানান, পেছন দিক থেকে ধাক্কা লাগায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। ভাঙচুরের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ছদ্দবেশে দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তা মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধারসহ জাকির হোসেন (৩২) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ভৈরব র্যাব ক্যাম্প সদস্যরা। সে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা বদিউর রহমানের ছেলে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
র্যাব ক্যাম্প সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সড়ক পথে মাদকের একটি বড় চালান আসছে। তারই সুত্র ধরে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের বাজেরগাও এলাকার জাকির হোসেন নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারির বসতবাড়িতে ছদ্দবেশে গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। পরে মাদক কারবারির দোকান ঘরের ভিতরে খুঁড়খুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ৫ বস্তা (১১৬ কেজি) মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক কারবারি জাকির হোসেনকে আটক করা হয়।
এবিষয়ে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তপন সরকার জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গরুর হাটসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার সুযোগে সড়কপথে একটি চক্র সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা ছদ্দবেশ ধারণ করে গোয়েন্দা নজরদারিতে কুখ্যাত মাদক কারবারি জাকির হোসেনের দোকান ঘর থেকে ৫ বস্তায় ১১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কারবারিকে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে তিনি জানান।