বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেটে নেমে যাচ্ছে বন্যার পানি, তীব্র ভাঙন যমুনার দুই পাড়ে

বন্যায় প্লাবিত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২২ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৯

৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।

হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।

বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।

ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।

গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।

একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, অক্টোবর-নভেম্বরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ ঝুঁকির আভাস

মশার ওষুধ বা কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ছবি।
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় জনমনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শয্যা না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন অসংখ্য রোগী। এই পরিস্থিতির মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেবল মশার ওষুধ বা কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা প্রজননস্থল ধ্বংস, হটস্পটভিত্তিক লার্ভিসাইডিং এবং দেশব্যাপী একযোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করার ওপর তাগিদ দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মশার ঘনত্ব বিবেচনায় অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অতি-ঝুঁকিপূর্ণ রূপ নিতে পারে। অন্যান্য বছর নভেম্বরে রোগী কমলেও এবার সেই সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোর কাজের তাগিদ থাকলেও এডিস মশার মূল প্রজননস্থল লক্ষ্য করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। তাই এডিস ইজিপ্টাই ও অ্যালবোপিকটাস মশার ডিম পাড়ার জায়গা ধ্বংস করে এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ওষুধ ছিটানো না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন তাদের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রতি শনিবার 'ক্লিনিং ডে' পালন, চিরুনি অভিযান এবং এডিস মশার ১২ দিনব্যাপী লার্ভা জরিপ ২০২৬ পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন জানান, প্রতি শনিবার বিশেষ মশক নিধন অভিযানের পাশাপাশি বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখার বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, পূর্ববর্তী আশঙ্কা ও বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সবার সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বরের বাড়তি ঝুঁকি এড়াতে মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

বদরখালীতে তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা, তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে আক্তার মাঝি, তানভীর ও রুকন উদ্দিন নামে তিন নিরীহ মানুষকে রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলে বুধবার সকালে চকরিয়া আদালত চত্বর ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে ওই তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তিনজনের মধ্যে রুকন উদ্দিন একজন ভ্যানচালক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, আক্তার আহমদও প্রতিবন্ধী এবং তানভীর বদরখালী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে রুকন উদ্দিনের তিন শিশুকন্যাও উপস্থিত ছিল। তারা তাদের বাবাকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির দাবি জানায়।

বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির পরিচালক অধ্যাপক বিএম কায়সার বলেন, ‘এ ধরনের লোকজনকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হলে পুরো বদরখালীবাসী লজ্জিত হয়।’ তিনি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সমিতির পরিচালক জিয়া উদ্দিন এবং এমইউপি এছাম উদ্দিন বলেন, ‘একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রুকন উদ্দিন, প্রতিবন্ধী আক্তার আহমদ ও কলেজছাত্র তানভীরকে জড়িয়ে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’

এদিকে বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়া লটারি ঘোনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজেম উদ্দিন ও সম্পাদক মনজুর আলম তাদের সদস্যদের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করা ‘কালু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা বুলবুল সিকদার এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহেশখালী কোস্ট গার্ডের একটি ইউনিট বদরখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আটক তিনজনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

শ্রীমঙ্গলে ১৭৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নজর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এবার ১৭৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং বিসর্জনস্থলে নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গল থানার উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। থানার হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কমিটির নেতারা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন। সভা সঞ্চালনা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) বাবলু কুমার পাল।


সভায় পূজামণ্ডপগুলোর প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে পূজা উদযাপনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’ কোনো মণ্ডপে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি মন্দির কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।


সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ, পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি অজয় কুমার দেব, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দাস রিংকু, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক বিশ্বনাথ দাস চৌধুরী ছোটন, শিক্ষক কল্যাণ দেব ও উপজেলা পূজা ফ্রন্টের সদস্য সচিব বসন্ত গোয়ালাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাউজানে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দেওয়ালে ফাটল, ভাঙা পিলার, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ এই ভবনেই প্রতিদিন চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। চট্টগ্রামের রাউজানের ৪১নং সুলতানপুর প্রসন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।

১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯২ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৬ বছর। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভবনের দেওয়াল ও পিলারের এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটজন নারী শিক্ষকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভবনেই পাঠদান করছে।

বিদ্যালয়ে নেই মানসম্মত ওয়াশব্লক। পুরোনো ওয়াশব্লক ব্যবহার করেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন সারতে হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বিদ্যালয়ের পরিবেশগত সমস্যাও রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হয় স্বাভাবিক পাঠদান।

শিক্ষার্থী জয়ন্তী বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবন অনেক পুরোনো। দেওয়ালে ফাটল ও পিলারের ক্ষতি দেখে মাঝেমধ্যে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে যায়। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবনে ক্লাস করতে চাই। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’

প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবনটি বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি পিলার। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

কৃষি উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

# হুইপ রকিবুল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেছেন, ‘খুলনা অঞ্চলের এবং দেশের উন্নয়নে কৃষি উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সৃজনশীল কৃষি উদ্যোক্তারা মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে অবদান রাখতে পারেন। আগামীতে উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষিপণ্য একটি বৃহৎ খাতে পরিণত হবে।’

তিনি গতাকল বুধবার বিকালে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসন ও সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল, কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিমসহ কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রূপগঞ্জের বিলে কচুরিপানা, ভরাটে ধ্বংস দেশি মাছের ‘আঁতুড়ঘর’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২২
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

কচুরিপানায় ঢাকা রূপগঞ্জের খাল বিল। পুকুরগুলোতে সারা বছর পানি থাকত, সেই পানিতে ঘুরে বেড়াত বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলাসহ দেশি নানা প্রজাতির মাছ। আবাসন কোম্পানি বালি ফেলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র খাল বিল পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলেছে। রূপগঞ্জের মাছের সুখ্যাতি ছিল মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, মাদারটেক, বাসাবো, নন্দীপাড়া, ডেমড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলোতে।

সরেজমিনে উপজেলার নগরপাড়া বিলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বিল কচুরিপানায় ঢাকা। একসময় বিলটি ছিল দেশি মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল। রূপগঞ্জের মাছ ছড়িয়ে পড়ত বিস্তীর্ণ এলাকায়। একই সঙ্গে এটি ছিল জেলেদের জীবিকার অন্যতম উৎস। দখল ও ভরাটে সেই জলাধার হারিয়ে গেছে। নদী শুকালেও এসব বিলে পানি থাকত।

আগরপাড়ার বাসিন্দা ছমিরুন খাতুনের (৬৫) স্মৃতিতেও ভেসে আছে সেসব দিন। তিনি বলেন, ‘আশপাশের মানুষ বিলের পানি ব্যবহার করতেন।’ ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পানিতে এসে পূজা করতেন।

স্থানীয় আবুল হোসেন (৬৫) ও সঞ্জিবন সরকার (৬৬) বলেন, ‘খাল-বিলগুলোতে এখন বালু আর কচুরিপানার বিস্তার। পানির সেই গভীরতা নেই, নেই মাছের ঝাঁক ও জেলেদের ব্যস্ততা।’

বিলের ওপর বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। ফুরিয়েছে মাছ, ফুরিয়েছে আয়। একসময় জেলেরা মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাতেন জানিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান (৫৭) বলেন, ‘ভরাট আর দখলে দেশি প্রজাতির মাছও আর আগের মতো দেখা যায় না।’

মশুরী এলাকায় বসবাস করে কয়েকটি জেলে পরিবার। তাদের একজন মানিক সরকার (৫০)। একসময় মাছ ছিল তাদের আয়-রোজগারের বড় উৎস। তিনি বলেন, ‘নদীর পশ্চিম পাশে বালু ফেলে সব ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানিও নেই, মাছও নেই, জেলেদের সেই আয়ও নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি বিল হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি জলাধার হারিয়ে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে হারিয়েছে দেশি মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল, জেলেদের জীবিকার একটি উৎস এবং এলাকার পুরোনো সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। বিল ও জলাভূমি রক্ষা করা গেলে জীববৈচিত্র্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মৃধার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খাল-বিল ভরাট করে ফেললে তো মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবেই। মাছের উৎপাদন কমে যাবে। জেলেদের আয় রোজগার কমে যাবে। মৎসজীবীরা বেকার হবে। জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একসময় রূপগঞ্জ থেকে দেশি জাতের মাছ হারিয়েই যাবে।’


নির্বাচিত

রাজধানীতে ভেজাল ঔষধ তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ঔষধ এবং ঔষধ তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি-এর একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গ্রেপ্তাররা হলো আব্দুল্লা আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬)।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, হাইজিন ওয়াশ, সাবান, পাউডার, ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঔষধ এবং বিভিন্ন ধরণের প্যাকেজিং সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ঔষধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি সিলিন্ডার, একটি ফুয়েল লাগানোর মেশিন, দুইটি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, ১০ কেজি ফুয়েল (পলিথিন), ছয়টি ক্যাপসুল ভরার যন্ত্রাংশ এবং দুইটি লেভেল লাগানোর সাঁচ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি সিরাপ ও লিকুইড পণ্যও রয়েছে।


নির্বাচিত

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরাই লক্ষ্য

ছবি: তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ আজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

দেশীয় সিএমএসএমই শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মানসম্পন্ন পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলা আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের কারিগরদের জন্মগত যে মেধা ও দক্ষতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তারা নজরকাড়া পণ্য তৈরি করছেন। গার্মেন্টস বা অন্যান্য চাকরির চেয়ে কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যাতে আরও ভালো করতে পারেন, সেজন্য বিসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।

তিনি বলেন, শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রচারও প্রয়োজন। প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে কুটির শিল্পের বাজার অনেক সম্প্রসারিত হবে।

দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের আধুনিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের কদর এখনো কমেনি। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ভিড়ে মানুষ আবার প্রকৃতি ও সনাতন পদ্ধতির সুস্থ-সুন্দর জীবনযাত্রার দিকে ফিরছে। এসব পণ্য একদিকে সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে সমাজের অবহেলিত নারীসমাজ ঘরে বসে এসব কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন এবং পরিবার ও সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিসিকের হাত ধরেই দেশের সিএমএসএমই খাত এগিয়ে চলেছে। বিসিক প্রশিক্ষণ প্রদান থেকে শুরু করে উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে নানা ধরনের কাজ করছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে তাদের পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচারের লক্ষ্যে বিসিক প্রতি মাসে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বাজার সম্প্রসারণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিসিক কাজ করছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি সরকারের ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।

দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে মোট ৬০টি স্টলে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০টি বস্ত্রজাত, ৮টি পাটজাত, ৬টি গহনা, ৫টি খাদ্য ও খাদ্যজাত, ৩টি চামড়াজাত, ৩টি মধু, ৪টি গৃহসজ্জা এবং ২টি বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের স্টল রয়েছে। এ ছাড়া মেলায় ৭টি স্টলে জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও রাজশাহী সিল্কসহ বিভিন্ন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

মেলায় বিসিক নকশা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও অংশগ্রহণ করছেন। দর্শনার্থীদের বিসিকের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে বিসিক তথ্যকেন্দ্র ও নকশা কেন্দ্রের পৃথক স্টলও স্থাপন করা হয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধান শিক্ষকের সব শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য সুপারিশ

জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সকল শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একইসাথে প্রাথমিক শিক্ষা লেভেলে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবা, এমপির সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আব্দুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী ও মাহফুজা হান্নান অংশগ্রহণ করেন।

কমিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলমান ফিডিং কার্যক্রমে সঠিক কোয়ালিটি ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সুপারিশ করে। একই সাথে কমিটি ফিডিং কার্যক্রমে কোয়ালিটি নিশ্চিত না হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করে।

বৈঠকে কমিটি বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়ে সুপারিশ করে।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সাথে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট-এর ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরে খাতওয়ারী বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা এবং খাতওয়ারী বাজেট ও ব্যয় বিভাজন নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বৈঠকে।

কমিটির সদস্যরা উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে দেশের সকল শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশ করে। এ ছাড়া বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে কমিটির সকল সদস্যকে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরজমিনে পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রবীণদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা নবীনদের কাজে লাগাতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে দেশের নবীন প্রজন্মের কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কর্মজীবন থেকে অবসরে যাওয়ার অর্থ কোনোভাবেই সমাজে একজন মানুষের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ কথা বলেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মানুষের আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে প্রবীণদের বিষয়ে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৯ বছর বয়সে এবং অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আরও কিছুটা বেশি বয়সে অবসরের সুযোগ রয়েছে। একজন কর্মঠ মানুষকে হঠাৎ করে কর্মজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলে এর নেতিবাচক প্রভাব তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়তে পারে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজ পর্যন্ত যিনি নিয়মিত অফিস করেছেন, আগামীকাল থেকে তাকে বলা হচ্ছে আর অফিসে আসার প্রয়োজন নেই—এই পরিবর্তনটি একজন কর্মক্ষম মানুষের জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে কঠিন। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘প্রবীণদের মধ্যে এমন অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা বর্তমান প্রজন্ম ইচ্ছা করলেও অর্জন করতে পারবে না।’ মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম চাইলেও মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়টিতে ফিরে যেতে পারবে না। যারা সেই সময়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রবীণদের সুস্থতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, পরামর্শ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু রাজধানীর একটি বা কয়েকটি কেন্দ্রে প্রবীণসেবা সীমাবদ্ধ না রেখে তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশের ৬৪টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ন্যূনতম মানসম্পন্ন প্রবীণসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। বিপুলসংখ্যক প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু একটি সংগঠন বা একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রবীণদের প্রতি তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রবীণদের কাছ থেকে পাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ সরকারের নীতি ও কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে পারে।’ তাদের চিন্তা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন তিনি।

এর আগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের র‌্যালিতে অংশ নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রবীণ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। প্রতিপাদ্যের আলোকে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়।


নির্বাচিত

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে মহাপরিচালকের বিশেষ ক্লাস

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সদ্য যোগদানকৃত ২৫ জন সিনিয়র অফিসার অংশ নেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সদ্য যোগদানকৃত সিনিয়র অফিসারদের চলমান বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে বিশেষ ক্লাস নিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের অপস কনফারেন্স রুমে শুরু হয় এ বিশেষ ক্লাস। ৯০ মিনিটব্যাপী এ সেশন দুপুর ১টায় শেষ হয়। এতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সদ্য যোগদানকৃত ২৫ জন সিনিয়র অফিসার অংশ নেন।

বিশেষ ক্লাসে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা, ব্যাংকিংসেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

এ সময় গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে যথাসময়ে ঋণ বিতরণ, দক্ষতার সঙ্গে ঋণ আদায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাংকিংসেবার পরিধি সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ব্যাংকিং সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন।

ক্লাসের শেষ পর্যায়ে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মহাপরিচালক ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের সেবার মানোন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দক্ষ, সৎ ও জনবান্ধব ব্যাংকার তৈরির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক ব্যাংকিংসেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয় এ বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন।


নির্বাচিত

যাত্রা শুরু করল বিজিবির ‘ছোট আগলা’ সীমান্ত চৌকি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

সীমান্তে নজরদারি ও অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বিজিবির ‘ছোট আগলা’ সীমান্ত চৌকি উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির নতুন এই সীমান্ত চৌকির (টিওবি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন।

রামু ব্যাটালিয়নের (৩০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তবর্তী ছোট আগলা এলাকায় নতুন এই চৌকি নির্মাণ করা হয়। আগে সীমান্ত থেকে বিদ্যমান বিওপিগুলোর দূরত্ব বেশি থাকায় নজরদারি চালনা চ্যালেঞ্জিং ছিল। নতুন টিওবি স্থাপনের ফলে সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে বলে বিজিবি জানায়।

বিজিবির দাবি, এই স্থাপনা থেকে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধসহ সীমান্তে নজরদারি আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। উদ্বোধনকালে রিজিয়ন কমান্ডার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার-উল-আলম, কক্সবাজার রিজিয়নের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া, রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী এবং সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে পুলিশ

* অপহরণের আধাঘণ্টা পর মুক্তি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে দিনে দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে অপহরণ করে তুলে নেওয়ার প্রায় আধাঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনা সদর থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই কর্মকর্তা থানায় কোনো অভিযোগ দেননি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কেডি ঘোষ রোডস্থ সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময়ে কয়েকজন মুখোশধারী (মুখে কাপড় বাঁধা) সন্ত্রাসী অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। পরে একটি মোটরসাইকেলে পাশের পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোডে নিয়ে একটি রিকশায় উঠিয়ে জেলখানা ঘাট এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় একটি রিকশায় তন্ময় কুমার মন্ডলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই রিকশায় বসা মুখে কাপড় বাঁধা একজন যুবক তার পেটে পিস্তল তাক করে রেখেছেন। ওই রিকশার আগে একটি মোটরসাইকেল এবং রিকশার পেছনে একটি মোটরসাইকেল গার্ড দিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এ ছাড়া মুখোশধারী এক যুবককে রিকশার পেছন পেছন দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। রিকশাটি পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোড দিয়ে জেলখানা ঘাট এলাকার দিকে চলে যায়। তবে কী কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছে তা জানা যায়নি।

এদিকে অপহরণ ঘটনার পরপর জেলা ও সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা, দলিল লেখক ও উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখতে থাকেন। অপহরণ ঘটনার ঠিক আধাঘণ্টা পর অপহরণ হওয়া সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল একাই তার কার্যালয়ে ফিরে আসেন।

এ সময়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কার্যালয় থেকে বাইরে বের হচ্ছিলাম, তখন তারা একটি সমস্যার কথা বলে, তাই কথা বলতে গিয়েছিলাম। তবে তারা কারা জানিনা। তারা আমাকে রিকশায় করে নদীর ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে কিছু কথা বলে চলে আসি। আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।’

তিনি যখন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তখন তার মধ্যে আতঙ্ক ছিল। এলোমেলো কথা বলছিলেন।

জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত খুলনা সদর থানার এস আই জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দুপুর ৩টা ১০ মিনিটের সময় সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। সিসিটিভিতে দেখি তাকে একটি রিকশায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর আমরা থাকতেই তিনি ফিরে আসেন। তিনি কোনো অভিযোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন।’

জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে সাব-রেজিস্ট্রারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে খুলনা নিউমার্কেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অফিসপাড়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।’

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযোগ দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এদিকে ঘটনার পর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল বিকাল ৫টা পর্যন্ত তার কার্যালয়ে ছিলেন। এরপর তার পরিবার এসে বাসায় নিয়ে যান।


নির্বাচিত

banner close