শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সিলেটে নেমে যাচ্ছে বন্যার পানি, তীব্র ভাঙন যমুনার দুই পাড়ে

বন্যায় প্লাবিত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২২ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৯

৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।

হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।

বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।

ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।

গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।

একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’

বিষয়:

পদ্মা সেতু ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা একযোগে শুরু হবে: ত্রাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ মে, ২০২৬ ২০:৩৪
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

পদ্মা সেতু নির্মাণ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ সমান্তরালভাবে শুরু হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। শুক্রবার (২৯ মে) লালমনিরহাট সদর উপজেলার বেগম কামরুননেছা ডিগ্রি কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। তিস্তা প্রকল্প ঘিরে নানা মহলে চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মাসেতুও হবে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজও হবে এবং তা একযোগেই শুরু হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।’

শিক্ষা খাতের সংস্কার ও অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করেনি, শুধু দুর্নীতি করেছে। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছেন।’ নতুন প্রজন্মের জন্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ সময়ের শিক্ষার্থীরা মোবাইলে জুয়া, গেমস আর বিনোদন দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এতে শিক্ষার যেমন ক্ষতি হয় কারো কারো জিবনও ধ্বংস হয়ে যায়। মোবাইল ফোনের প্রয়োজন রয়েছে তবে এটির সঠিক ব্যবহার করতে হবে।’

‘এসো স্মৃতির অঙ্গণে, মিলি প্রীতির বন্ধনে’—এই স্লোগানকে ধারণ করে আয়োজিত দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণায় কলেজ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। স্মৃতিচারণা, বিশেষ সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মমিনুল হক এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেনসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।


শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিএনপি নেতার মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রায়হান উদ্দিন সুমন সরদার (৪২) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া-সিংবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন সরদার ধানসাগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা সদরের পাঁচরাস্তা মোড়ে অবস্থিত জেনারেল গ্রামীণ হাসপাতালের পরিচালক ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাবার শেষে ঘরে অবস্থান করছিলেন তিনি। এসময় হঠাৎ চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. অন্তরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির নেতারা।


লাউয়াছড়ায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জায়েদ আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় একটি তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এর ফলে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে আখাউড়া-সিলেট রেললাইনের লাউয়াছড়া উদ্যান এলাকার ২৯৪/৮ নম্বর পিলারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা খালি তেলবাহী ৯৬২ নম্বর ডাউন ট্রেনটি বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে। এ সময় ট্রেনে ডিউটিরত আরএনবি (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরাগ বকুল দাস হঠাৎ ট্রেনের চাকায় ধোঁয়া দেখতে পান। তিনি কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ট্রেনের লোকোমাস্টারকে (চালক) জানান। লোকোমাস্টার দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। তবে ততক্ষণে ট্রেনের একটি ওয়াগনের (বগি) চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।

ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার গৌড়প্রসাদ দাশ পলাশ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "ট্রেনটিতে কোনো তেল ছিল না, এটি খালি ওয়াগন নিয়ে ফিরছিল। আরএনবি সদস্যের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ট্রেনটি থামানো সম্ভব হলেও একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, এই দুর্ঘটনার কারণে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ আপাদত বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পরপরই কুলাউড়া ও আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনকে খবর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। লাইনচ্যুত ওয়াগনটি লাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর রেললাইন মেরামত শেষে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন সচল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


দ্রুততম সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে রেকর্ড গড়লো রাসিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী মহানগরীতে কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অপসারণ করে নতুন রেকর্ড গড়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার এ সফলতায় নগরবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরঅনুশাসন এবং পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঈদের দিনেই মাঠে নামেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। রাসিক প্রশাসকের ঘোষণা ছিল—“৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিচ্ছন্ন হবে রাজশাহী।” নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেয় রাসিক।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুরে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রাসিক প্রশাসক। এছাড়া বিকেলে বুলনপুর এসটিএস, রুয়েট সংলগ্ন এসটিএস, রাবি এসটিএসসহ বিভিন্ন স্থানে চলমান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।

রাসিক প্রশাসকের গতিশীল নেতৃত্বে ১,২৭০ জন পরিচ্ছন্নকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে দ্রুততার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। এ কাজে প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরঞ্জাম ও জনবল সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা থেকে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে সিটি কর্পোরেশনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস)-এ স্থানান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে রাজশাহী নগরী পরিচ্ছন্ন হয়েছে। বিকাল ৪ টা থেকে এসটিএস থেকে বর্জ্য ভাগারে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই কাজটি রাত ২ টার মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

এ অর্জনে নগরবাসী, পরিচ্ছন্নকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই নির্ধারিত সময়ের আগেই মহানগরী পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা এভাবেই দিনরাত্রী কাজ করে যাব।

এদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার এ সফলতায় নগরবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।

নগরীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তৎপরতা খুব প্রশংসনীয় ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরী পরিষ্কার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”

উপশহর এলাকার গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার দেওয়ার উদ্যোগটি খুবই ভালো লেগেছে। এতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হয়েছে।”

লক্ষ্মীপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “ঈদের দিনেই প্রশাসক নিজে মাঠে থেকে কাজ তদারকি করেছেন, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এত দ্রুত বর্জ্য অপসারণ হওয়ায় দুর্গন্ধ বা ভোগান্তি হয়নি।”

উল্লেখ্য, এবার প্রথমবারের মতো রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে নগরীর প্রায় ৮২ হাজার হোল্ডিংয়ের প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য ৩টি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ করা হয়। এছাড়া গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য বড় ২টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ১ কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য ১টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার প্রদান করা হয়। যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।


তাড়াশে গভীর রাতে বিদ্যালয়ের কাঁটাতারের বেড়া ভাঙল দুর্বৃত্তরা, তদন্তে পুলিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিঘী সদগুনা মডার্ণ একাডেমি রুরাল জুনিয়র গার্লস স্কুলের চারপাশের কাঁটাতারের বাউন্ডারি (বেড়া) ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বেষ্টনী এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার পর পরই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

​বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি বালিকা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমরা কষ্ট করে এই কাঁটাতারের বাউন্ডারিটি দিয়েছিলাম। কিন্তু গতকাল রাতে শত্রুতা করে দুর্বৃত্তরা এটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের সম্পত্তির যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি আমাদের ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও হুমকিতে পড়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো হাবিবুর রহমান বলেন,খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে স্কুলের এই ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের টিম কাজ করছে।

​বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার নির্দেশ দিয়েছি। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​এলাকাবাসী জানান, দিঘী সদগুনা মডার্ণ একাডেমি রুরাল জুনিয়র গার্লস স্কুলটি স্থানীয় মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ পরিবেশের এই বালিকা বিদ্যালয়টির নিরাপত্তা বেষ্টনী এভাবে ভেঙে ফেলায় তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।


আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আইনি নোটিশ

আপডেটেড ২৯ মে, ২০২৬ ১৪:২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সাথে নোটিশে মৃত নবজাতকের পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দেশের সকল হাসপাতালের মা ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালকের উদ্দেশ্যে অনলাইনে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শিশু অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যের বরাতে নোটিশে বলা হয়, গভীর রাতে সদ্য জন্ম নেওয়া একাধিক নবজাতক হঠাৎ একসঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অবিরাম কান্না, বমি ও শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখা দেয় এবং একই সাথে কয়েকজন প্রসূতি মা-ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে যে, এমন চরম সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসা সেবা, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি।

নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীদের উপস্থিতি ও তৎপরতা যেমন পর্যাপ্ত ছিল না, তেমনি সংকটাপন্ন নবজাতকদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত কেন্দ্রে স্থানান্তরেও অবহেলা ও বিলম্ব করা হয়েছে। ফলে একের পর এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে, যা সমগ্র জাতিকে ব্যথিত করেছে। এই ঘটনাটি দেশের হাসপাতালসমূহে মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার গুরুতর দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সুরক্ষায় কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে এই নোটিশে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে এবং সেই দাবিগুলো হল-
১) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২) ক্ষতিগ্রস্ত নবজাতকদের পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ও কার্যকর আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
৩) দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা, রোগীর নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে কার্যকর নির্দেশিকা বা প্রটোকল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
এবং ৪) প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সেবার মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা বা তদারকি কমিটি গঠন করা।

নোটিশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


কুমিল্লায় কোরবানির চামড়া কিনে বড় লোকসানের মুখে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন শত শত মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী। সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করা তো দূরের কথা, বাজারে কোনো বড় পাইকার বা ট্যানারি মালিকের দেখা না মেলায় মাঠপর্যায়ের এই ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে স্তূপ আকারে পড়ে আছে শত শত গরুর চামড়া। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় এবং তীব্র রোদ ও গরমের কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক জায়গায় চামড়ায় সময়মতো লবণ না দেওয়ায় ইতিমধ্যে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলার গোমকোট বাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, তিনি লাভের আশায় গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি পিস গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বাজারে এনে কোনো বড় ক্রেতা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই শিল্পটি এখন ধ্বংসের মুখে এবং লোকসানের কারণে ভবিষ্যতে আর কখনো এই ব্যবসা করবেন না। একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বাবলু ৮২টি চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে এনে এখন দিশেহারা। তিনি জানান, গাড়িভাড়া দিয়ে চামড়া বাজারে আনার পরও কোনো কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না, উল্টো চামড়াগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের বাস্তব প্রয়োগ না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, টেলিভিশনে দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো ক্রেতাই তা মানছেন না, যার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে বিপদে পড়েছেন। আরেক ব্যবসায়ী আবুল কালাম উল্লেখ করেন, দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা না গেলে চামড়াগুলো পচে যাবে, কিন্তু সেই বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য অনেকেরই নেই। আজ শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন বাজারে কয়েক শ ব্যবসায়ী চামড়া নিয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো পাইকার না আসায় চরম হতাশ হয়ে অনেকে চামড়া সড়কেই ফেলে চলে গেছেন বলেও জানা গেছে।


গজারিয়ায় নদী থেকে অজ্ঞাতনামা তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রাম সংলগ্ন নদী থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও আলামত দেখে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।

​শুক্রবার (২৯ মে) সকাল দশটার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামের পূর্ব পাশের নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সাতটার দিকে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের শত শত উৎসুক জনতা নদীর পাড়ে ভিড় জমায়। পরে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।

​স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার হোসেন জানান, সকালে লাশটি নদীতে ভেসে থাকতে দেখা যায়। মেয়েটি আমাদের এলাকার নয়। মরদেহের ডান চোখ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরনের সালোয়ার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো আছে। প্রাথমিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জোয়ারের টানে লাশটি এখানে ভেসে এসেছে।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, "খবর পাওয়ার পর সকাল দশটার দিকে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করেছি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহতের পরিচয় শনাক্তকরণসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।"


চট্টগ্রামে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে ৩ প্রাণহানি ও ব্যাপক হতাহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় ঈগল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি থ্রি-হুইলার বা লেগুনার প্রলয়ংকরী মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্ণফুলীর ভেল্লাপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন তালতল ক্রসিং এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার অবহিত করেছেন যে, হাসপাতালে আনার পর এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এখনো পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈগল পরিবহনের একটি বাস অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিয়ম ভেঙে উল্টো পথে কর্ণফুলী ক্রসিংয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ওই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লেগুনার সঙ্গে বাসটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনাটি প্রচণ্ড আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে জখম হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কর্ণফুলী থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” পুলিশ ঘাতক বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত লেগুনাটি তাদের হেফাজতে নিয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। স্থানীয়দের মাঝে এই দুর্ঘটনার ফলে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


চট্টগ্রামে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে দুজন নিহত, আহত ১৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ক্রসিং এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, একটি দ্রুতগামী বাস ও মাহিন্দ্রার মধ্যে এই সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই প্রবল ছিল যে মাহিন্দ্রাটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজন প্রাণ হারান। খবর পাওয়ার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বেল্লাপাড়া ক্রসিংয়ের তালতল এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ঈগল পরিবহনের একটি বাসের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ক্রসিং পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা পরিতোষ জানিয়েছেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।’

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তের আগেই দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ক্রসিং পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘বেল্লাপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’ দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন দুটি জব্দ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


সখীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

ঈদের দিন আর বাড়ি ফেরা হলো না টাঙ্গাইলের সখীপুরের কলেজ শিক্ষার্থী কানন আহমেদের (১৭)। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কচুয়া পুকুরপাড় মোড়ে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

নিহত কানন উপজেলার জিতাশ্বরী গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে এবং টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দ্রুতগতির দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে সড়কে ছিটকে পড়েন আরোহীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাননকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কাননের ফুফাতো ভাই আশিকুর রহমান (১৬) এবং অপর মোটরসাইকেল চালক শফিকুল ইসলাম (৩৫)। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বজনরা জানান, ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দে সময় কাটাচ্ছিল কানন। কেউ ভাবতেও পারেনি, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ পরিণত হবে শোকে। সন্তানের মরদেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা, নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা। বাড়ির আঙিনাজুড়ে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি।
একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণের এমন আকস্মিক বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বন্ধু, সহপাঠী ও প্রতিবেশীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কাননের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের পাশে এমপি হাফিজ ইব্রাহিম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানের ১১টি শহীদ পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কুরবানির গোশত পৌঁছে দিয়েছেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ হাফিজ ইব্রাহিম। ঈদের দিন এমপি পুত্র দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনের তরুণ সমাজের পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার মোঃ মারুফ ইব্রাহিম আকাশের তত্ত্বাবধানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে এই উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন।

‎জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ঈদের আনন্দ যাতে শহীদ পরিবারগুলোও ভাগাভাগি করে নিতে পারে, সে লক্ষ্যেই কুরবানির গোশতসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

‎এ সময় সংসদ সদস্য মোঃ হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও ভালোবাসা সবসময় থাকবে। ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।”

‎ব্যারিস্টার মোঃ মারুফ ইব্রাহিম আকাশ বলেন, “শহীদ পরিবারের সদস্যরা যেন কখনো নিজেদের একা মনে না করেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”

‎কুরবানির গোশত পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শহীদ নয়নের বাবা বলেন, “আমার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। আজ ঈদের দিনে আমাদের খোঁজ নেওয়ায় খুব ভালো লাগছে। এমপি হাফিজ ইব্রাহিম ও ব্যারিস্টার আকাশ আমাদের যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা আমরা কখনো ভুলবো না।”

‎এ সময় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্বের অংশ। স্থানীয় এলাকাবাসীও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।


পটুয়াখালীর গলাচিপায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​ এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদের দিন পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উৎসবের আনন্দের দিনে এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন সড়কে একটি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​দুর্ঘটনায় নিহতদের একজন হলেন গলাচিপা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ এলাকার মো. ঝিলাম মিয়ার ছেলে তামিম ইকবাল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী ও চালকরা গুরুতর আহত হন।

​স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামিম ইকবালকে মৃত ঘোষণা করেন। এ দুর্ঘটনায় অপর একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ জনে।

দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন— রতনদী হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা ইমরান হোসেন এবং শ্যামলীবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. ফয়সাল।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেমেকহ) স্থানান্তর করা হয়েছে।

​ঈদের দিনে তরুণ যুবকের এমন অকাল মৃত্যু এবং মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


banner close