৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।
হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।
ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।
গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।
একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণ করার জন্য একটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যাতে সবার কাছে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়টিও কমিটিকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
গণমাধ্যমকে একটি বহুপক্ষীয় ক্ষেত্র উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার নীতি অনুসরণ করতে হবে। কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায়।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্ত্রণালয় হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক চিন্তার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্যদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার ওপরই সিদ্ধান্তের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।’
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির নবগঠিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি লবণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রমিকের নাম মাহমুদুল হক (৪০)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মাহমুদুল পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের গোরনখাইন এলাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে।
এর আগে ১৬ জুলাই সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট কোম্পানির কারখানায় আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হন, তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ ৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়। আর তিনজনকে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। চমেকে ভর্তি হওয়া পাঁচজনের সবারই মৃত্যু হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার দিন রাতে গুরুতর দগ্ধ মোহাম্মদ নুরুল আলম (৪৫) ও দিদারুল আলম (৩২) মারা যান। ১৯ জুলাই মারা যান রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার উজ্জ্বল দাশ (৫৩) এবং বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী এলাকার নুর নবী (২৫)। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মারা যান মাহমুদুল হক।
চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার রাশেদ উল ইসলাম বলেন, ‘বিস্ফোরণে মাহমুদুল হকের শরীরের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা থাকার পর তিনি মারা যান।
দেশের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বর্তমানে নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি স্মরণকালের সর্বোচ্চ। বর্তমানে ৬৪ জেলার ২০টিতে নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ৪৯৯ উপজেলার ১৯১টিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি প্রশাসনে নারীর সক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রতিফলন।
আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে নারী ডিসির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে নয়টিতেই নারী ডিসি রয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে চারজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন, রংপুর বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে একজন করে নারী ডিসি দায়িত্ব পালন করছেন।
ডিসিদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদেও নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
দেশের ৪৯৯ উপজেলার মধ্যে ১৯১টিতে প্রশাসন ক্যাডারের নারী কর্মকর্তারা ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ মোট ইউএনও পদের প্রায় ৩৯ শতাংশই নারীদের দখলে।
একইভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দায়িত্বে থাকা ৪৭৮ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের মধ্যে ১১৬ জন নারী। এটি মোট কর্মকর্তার ২৪ শতাংশের বেশি।
মাঠ প্রশাসন তদারককারী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নারীদের এই অগ্রগতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পালিত হলো জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব বলেন, ‘১০ বছর আগেও রাঙামাটির বাঘাইছড়ির মতো উপজেলায় কোনো নারী ইউএনও দায়িত্ব পালন করবেন—এটি কল্পনাও করা যেত না। মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে আমাদের আগে দুবার ভাবতে হতো। অনেক নারী কর্মকর্তাও দুর্গম এলাকায় যেতে অনীহা প্রকাশ করতেন। এখন দুই দিক থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারী কর্মকর্তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। তাই তাদের মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে এখন আর দ্বিধা থাকে না। মাঠপর্যায় থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘মাঠ প্রশাসনে নারী ডিসি ও ইউএনওর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া শুধু সংখ্যাগত পরিবর্তন নয়। এটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে নারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের বাস্তব প্রতিফলন। প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য আসে, সেবার মান উন্নত হয় এবং জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।’
এর একটি উদাহরণ শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা আজাফার আলী জানান, বর্তমান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সহযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক।
তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের নামে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ২০ লাখ টাকা পেয়েছি। শুনেছিলাম, সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক ভোগান্তি হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক আন্তরিকতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন। এতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ১ হাজার ৮৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩৩২ জন নারী। অর্থাৎ মোট কর্মকর্তার ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর বিভাগীয় পর্যায়ে বর্তমানে ১৮ জন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যে পাঁচজন নারী। এটি মোট পদের প্রায় ২৮ শতাংশ।
তবে বিভাগীয় কমিশনারের পদে বর্তমানে কোনো নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন না।
সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ৩০ শতাংশ পদে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮৮টি সচিব বা সচিব-সমমর্যাদার পদের মধ্যে ১৫টিতে নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া প্রশাসনে ৩৬১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ৭৩ জন, ১ হাজার ৫১ জন যুগ্ম সচিবের মধ্যে ২৪৯ জন নারী।
অন্যদিকে ১ হাজার ৬৪৩ জন উপসচিবের মধ্যে ৪০৪ জন এবং ৩ হাজার ৩৫০ জন সহকারী ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের মধ্যে ৯৮৬ জন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
ভোলার চর মানিকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের ব্যবস্থাপনায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলাধীন কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট চর মানিকায় মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইনে ২৬৫ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’
ফরিদপুর সদর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় গভীর রাতে সংঘটিত চুরির চেষ্টা নস্যাৎ করে চুরিকৃত মালামালসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ডিউটিরত সদস্যদের সতর্কতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত অভিযানের ফলে ব্যাংকের সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিসি মো. আবু বক্কর ও এপিসি মো. শহিদ খানের নেতৃত্বে আনসার সদস্য মো. শাহ আলম এবং মো. রাশেদ মিয়া নিয়মিত নিরাপত্তা টহলে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় তারা ব্যাংকের ভবনের এসির বৈদ্যুতিক তার কাটার শব্দ শুনে এবং সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে দ্রুত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পে খবর পাঠানো হয়। সংবাদ পেয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ পিসি মো. আবু বক্কর অতিরিক্ত আনসার সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন। চারদিক ঘিরে ফেলে কৌশলী অভিযানের মাধ্যমে চুরিকৃত মালামালসহ মো. রাকিব মণ্ডল (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটক রাকিব মণ্ডলের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হামদহ গ্রামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, আনসার সদস্যদের সময়োপযোগী পদক্ষেপ না থাকলে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তাদের পেশাদারিত্ব ও দ্রুত অভিযানের কারণেই চুরির ঘটনা সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা, জনসম্পদের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ফরিদপুরের এই ঘটনায় বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও সাহসিকতা আবারও প্রমাণ করেছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আনসার সদস্যরা সবসময়ই নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনের সাথে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিজস্ব তথ্য-উপাত্তের মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই মাসের পরিসংখ্যানে শহরে অপরাধ প্রবণতা কমেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘টিআইবির প্রতিবেদনে রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা পুলিশের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ পুলিশের নিয়মিত অপরাধ পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, নগরের অপরাধপ্রবণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যা। পোশাক ছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশও দায়িত্ব পালন করছেন ২৪ ঘণ্টা। এতে কমেছে চুরি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘অপরাধ দমনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ ও মানসিক সুস্থতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের চাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ পুলিশ সদস্যদের কেউ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে মানসিক চাপে থাকলে তা গোপন না রেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়ে যোগদানপত্র দাখিল করতে এসে ফেস ভেরিফিকেশনে ধরা পড়া চার আসামির মধ্যে তিনজনকে শাহবাগ থানার প্রতারণার মামলায় একদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার দুই নম্বর আসামি মো. আলিমকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে গত সোমবার তাদের ভিন্ন আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রিমান্ডে পাঠানো তিন আসামি হলেন- মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলী হায়দার (২৯) এবং মো. মাসুদ ফকির (৩১)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আবদুল গাফফার (হিমেল) আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
নৌপরিবহন খাতে সেবার মান বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশনা দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি এবং মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জাকারিয়া। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভার শুরুতে সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের আয়-রাজস্ব বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।
উপস্থাপনায় ড্রেজিং কার্যক্রম, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নদী বন্দর ব্যবস্থাপনা, ইজারা কার্যক্রম, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেবার ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ও সম্মানিত সচিব কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে একাধিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— এক. ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যয়-সাশ্রয়ীভাবে পরিচালনা করে অধিক প্রয়োজনীয় নৌপথে অগ্রাধিকারভিত্তিতে খনন নিশ্চিত করা; দুই. নৌপথে চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বয়া, বাতি, বিকন এবং বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত নৌ-চিহ্ন (মার্কার) আরও দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ; তিন. বন্দর বিভাগের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৭ম দফা পর্যন্ত ইজারায় অনিষ্পন্ন ঘাটগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করা; চার. ফোরশোর ও তীরভূমি ব্যবহার ফি যুগোপযোগী করার মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ঘাট পয়েন্টসংক্রান্ত দেওয়ানী মোকদ্দমাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ; পাঁচ. নদী বন্দর এলাকায় মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করা; ছয়. নৌপথে চলাচলকারী বিভিন্ন নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং সাত. বন্দর বিভাগের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিআইডব্লিউটিএকে আরও দক্ষ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।’
সভায় সদস্য (অর্থ) (গ্রেড-২) ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) ও যুগ্ম সচিব মো. সাজেদুর রহমান, সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার এবং প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) সেলিম আহমদসহ বিআইডব্লিউটিএ’র সকল বিভাগীয় প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ও সম্মানিত সচিব প্রদত্ত নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএ’র সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণ, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংবাদ প্রকাশের পর বাগেরহাটের সংগ্রামী এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের পাশে দাঁড়াতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী এগিয়ে এসেছেন। তার লেখাপড়া অব্যাহত রাখা এবং পরিবারের দুর্দিন কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আর্থিক ও মানবিক সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ইকনের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।এ সময় জেলা প্রশাসক ইকনের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউদ্দিন, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন এবং ইকনের বড় মামা।
এর আগে গত ২১ তারিখ মঙ্গলবার পিতার আকষ্মিক মৃত্যুর পর বাবার দাফন সম্পন্ন করে সেদিন রাতেই জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর প্রকাশিত হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এরপর থেকেই দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীরা তার পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ইকনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
খুলনার ডুমুরিয়া বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে সবজি ও ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ডুমুরিয়ার পাইকারি ও কয়েকটি খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে।
জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২০০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, শসা ৫৫-৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০ টাকা, ওল ৮০ টাকা, ঝিঙে ৪০-৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং লেবুর হালি ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও ইজারা খরচের কারণে দাম কিছুটা বেশি পড়ছে।
এদিকে মাংসের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার ৩০০-৩১০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে মাছের বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের বেশ বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুই মাছ কেজিপ্রতি ২৫০-৪০০ টাকা, কাতল ৩৫০-৫৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১২০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৬০ টাকা এবং পাঙাশ ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ১০-১৫ কেজি ওজনের বড় পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে কাঁচামাল কিনে এনে লেবার খরচ, ভ্যান ভাড়া, বাজারের ইজারা ও বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হয়। যে কারণে পাইকারি দরের চেয়ে খুচরা বাজারে দাম একটু বেশি রাখতে হয়। তবুও বর্তমানে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই দাম রয়েছে।’
মুরগির ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মাছ কিনতে গেলে বাজেট পার হয়ে যায়। তাই প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ব্রয়লার মুরগির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে দাম একই জায়গায় স্থির থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কিছুটা সহজ হয়েছে।’
স্বপ্নের পথে কোনো বাধা যে অজেয় নয়, তা প্রমাণ করে দেখালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পালি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন। রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই অদম্য তরুণী যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার গৌরব অর্জন করেছেন।
ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন এবং কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিনি পিএইচডি করার সুযোগ পান। এর মধ্যে ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন—এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সম্পূর্ণ অর্থায়নসহ ফুল ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেয়েছেন তিনি।
নীলাওয়ান রাখাইন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের পালি বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ে জন্ম নেওয়া নিলাওয়ান রাখাইন বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত শিক্ষাবিদ, শিক্ষক প্রশিক্ষক এবং সমাজকর্মী। তিনি বর্তমানে ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে শিক্ষক প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ছাড়া তিনি ‘চালুং একাডেমি’ নামক একটি অ্যাডুকেশনাল প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করেন।
নীলাওয়ান রাখাইনের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। অনার্সে পড়ার সময় অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করতেন। অনেকে বলতেন পালি বিষয়ে পড়ে কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাকে বৈষম্যেরও শিকার হতে হয়েছে। একজন মেয়ে হিসেবেও শুনতে হয়েছে নানা সীমাবদ্ধতার কথা। কিন্তু নীলাওয়ান দমে যাননি। এই সমালোচনা ও বাধাকেই তিনি নিজের এগিয়ে যাওয়ার শক্তিতে রূপান্তর করেছেন।
রাখাইন জাতি থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়াকে নিজের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করেন নীলাওয়ান। রাখাইন জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে খুবই সীমিত। নীলাওয়ান আশা করেন, তার এই সাফল্য অন্যদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নীলাওয়ান বলেন, ‘আজ আমি গর্বিত যে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে। সবচেয়ে বেশি গর্বিত রাখাইন জাতি থেকে উঠে এসে আমি এই সুযোগটি অর্জন করেছি।’ তিনি অন্যদের বিশ্বাস করতে অনুপ্রাণিত করেন, স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। তিনি বলেন, ‘কখনোই অন্য কাউকে আপনার সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে দেবেন না। বড় স্বপ্ন দেখুন, কঠোর পরিশ্রম করুন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।’
নীলাওয়ানের এই সাফল্যের পেছনে তার স্বামীর অটুট সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিটি কঠিন সময়ে তার পাশে ছিলেন এবং তাকে সাহস দিয়েছেন। এ ছাড়া তার বাবার অনুপ্রেরণা তার জন্য সবসময় আশীর্বাদ হিসেবে ছিল।
তার পরিবার, শিক্ষক এবং বন্ধুরা তাকে সবসময় এই দীর্ঘ যাত্রায় সমর্থন করেছেন বলে তিনি জানান।
নীলাওয়ান বিশ্বাস করেন যে তিনি একজন যোদ্ধা। জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ তাকে শক্তিশালী করেছে এবং দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় নিয়ে লড়াই করতে শিখিয়েছে। তিনি মনে করেন যে এটি তার যাত্রার কেবল শুরু। আগামী দিনে তার অভিজ্ঞতা, শেখা এবং পথচলার গল্প অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচাড়িপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের তীব্র ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত বিঘা আবাদি জমিও তিস্তার গর্ভে হারিয়ে গেছে। পানি কমতে শুরু করার পর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে কাচাড়িপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার প্রবল স্রোতে নদীর তীরের বিশাল অংশ মুহূর্তেই ধসে পড়ছে। কোথাও ভাঙন বসতঘরের একেবারে গা ঘেঁষে চলে এসেছে। শেষ সম্বল রক্ষায় কেউ ঘরের টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ ইট, কাঠ ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে গৃহস্থালির মালামাল নিয়ে অসহায়ভাবে বসে আছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগেও তাদের দুশ্চিন্তা ছিল বন্যা নিয়ে। কিন্তু পানি নামতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তীব্র স্রোতের কারণে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে পুরো জনপদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনে আলহাজ মোত্তালিব, সুরুজ মিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটটি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া শত বিঘা আবাদি জমি তিস্তার গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অনেক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।
ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ মোত্তালিব বলেন, ‘চোখের সামনে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে গেল। সারাজীবনের কষ্টের অর্জন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’ সুরুজ মিয়া বলেন, ‘ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা না পেলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হবে।’
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নদী আমার ঘর, জমি সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, সেই চিন্তায় দিন কাটছে।’
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ‘ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙনের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং তিস্তা নদীর স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কাচাড়িপাড়াসহ আশপাশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা, অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তিস্তার ভয়াল গ্রাসে হারিয়ে যাবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার মমিন খাঁর হাটের বিশিষ্ট ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে চরাঞ্চলবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, এবি সিদ্দিকী মিতুল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সেলিম শাহরিয়ার, মো. নাজমুল বেপারী, মির্জা প্রিন্স আলী, রেজাউল করিম বেপারী, মো. রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল মোল্লা, নিহত ইউসুফ ফকিরের স্ত্রী বেদেনা বেগম ও ছেলে শাহাদাত হোসেনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ‘ইউসুফ ফকিরকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন।’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি তোলেন তারা।
মানববন্ধন শেষে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উদ্দেশে যায়। পরে জেলা প্রশাসক -ডিসি ও পুলিশ সুপার -এসপি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে ইউসুফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরকে (৪৫) নিখোঁজের দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।