৫ দিন পর সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। গতকাল সকালে রোদের দেখা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসি মানুষ। বৃষ্টি না হওয়ায় এবং উজানের ঢল না নামায় গতকাল সিলেট অঞ্চলে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। তবে নদীগুলো এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কমছে ধীরে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যদিও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। গতকাল শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের তথ্য নিশ্চিত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানায়, দ্বিতীয় দফার বন্যায় সিলেটে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন মানুষ পানিবন্দি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে বন্যাদুর্গত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। ৭১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৫ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যে আরও জানা যায়, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগে থেকে অনেকটা কমেছে পানি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও কোনো বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও শেওলা পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০৩ ও শেরপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।
তবে অনেকে অভিযোগ করছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ সহায়তা মিলছে না। পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ৬০০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতাও চলমান।
হবিগঞ্জে রাস্তা ভেঙে ঢুকছে পানি, ভেসেছে ১০ সড়ক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে নবীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের বেশ কিছু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করায় হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। অন্যদিকে নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অনেকেই ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক। নতুন করে দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুত গতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা জানায়, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। কুশিয়ারার পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১, বানিয়াচংয়ের মার্কুলি পয়েন্টে ৩৩ ও আজমিরীগঞ্জে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনগর, উমরপুর, মোস্তফাপুর, দক্ষিণগ্রাম, পাঠানহাটি, মনসুরপুর, দরবেশপুর, দিঘীরপাড়, নোয়াগাঁও, চন্ডিপুর, প্রজাতপুর, লামলীপাড়, দীঘলবাক ইউনিয়নের রাধাপুর, ফাদুল্লাহ, দুর্গাপুর, মথুরাপুর, হোসেনপুর, মাধবপুর, পশ্চিম মাধবপুর, গালিমপুর, আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, উমরপুর, দীঘর ব্রাহ্মণগ্রাম, বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের সোনাপুর, চরগাঁও, বড় ভাকৈর (পূর্ব), করগাঁও, কালিয়াভাঙ্গা, দেবপাড়া ও কুর্শি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ১০টি পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। ফলে মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিতে প্রায় ৩০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দীঘলবাক ইউনিয়নের দক্ষিণ কসবা গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। এতে মানুষ আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় জীবনযাপন করছে।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ইনাতগঞ্জে অবস্থিত শেভরন পরিচালিত এশিয়া মহাদেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও পারকুলে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা বিবিয়ানা ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিবিয়ানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৪-৫ ফুট নিচে বর্তমানে পানি রয়েছে। তবে দ্রুতহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসক্ষেত্রে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
যমুনার পানিতে তলাচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙছে ঘরবাড়ি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব কটি নদীতে পানি বাড়ছে। ফলে শুরু হয়েছে নদীপাড়ে ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল সেটিও হারানোর আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙনকবলিত মানুষ।
ইতোমধ্যে চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুতগতিতে পানি বাড়ার কারণে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার পাশাপাশি বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।
গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৭ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৯ মিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শাহজাদপুরের জালালপুর, খুকনী ও কৈজুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি-জমি হারিয়েছেন। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সরকার এ অঞ্চলে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার ও পাউবোর গাফিলতিতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। ফলে আবার ভাঙনের কবলেই পড়েছে এসব অঞ্চল। চলতি মৌসুমে জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নদীতে সব কিছু হারিয়ে বাস্তুহারা ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।
একই উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পাঁচিল গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারা বছর চলতে হয়। প্রত্যেক বছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছি। এখন দেখি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলিয়ে যাবে।’
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এই মুহূর্তে চরের জমিতে তিল ও পাট চাষ করা রয়েছে। কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনার ডান তীর সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। কাজের মেয়াদ যদিও চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রার সময় আরও কমিয়ে আনা এবং কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। বর্তমানে এই রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শন শেষে শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম স্টেশনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে থেকে চার জোড়া ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করছে। যাত্রীর চাহিদা বিবেচনায় এই সংখ্যা পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ট্রেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, নাকি ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল করবে, তা এখনো জানা যায়নি।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ রেলওয়ে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এসব পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনা। এ বিষয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমে আসবে।
রেলের জমিতে নতুন করে কোনো ইজারা দেওয়া হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান ইজারাগুলোরও পর্যালোচনা করা হবে। যেসব ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নেই, সেসব ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে রেলের নিজস্ব জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, রেলপথে সময়নিষ্ঠ সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। রেলের বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যাত্রীসেবা উন্নত করা হবে। ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা দেরিতে চলাচল কেন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সুফল যাত্রীরা দেখতে পাবেন।
আইকনিক রেলস্টেশন নিয়ে যা বললেন
এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার পৌঁছে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় তিনি বলেন, আইকনিক রেলস্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়া যায় কি না, ভাবছে সরকার। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
দুপুরে চকরিয়া স্টেশন পরিদর্শনের সময়ও প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বেসরকারি খাতে পরিচালনার জন্য দেওয়া হলে সেটি কতটা কার্যকর ও জনবান্ধব হবে, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি কক্সবাজারমুখী রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনের সার্বিক অবস্থা, পরিচালনব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মানও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বন উজাড়ের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে যেসব গাছ লাগানো হয়েছিল, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথাও ঘাটতি থাকলে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে তা পূরণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে, স্থানীয় সংসদ সদস্য, রেল, বন বিভাগ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নতুন করে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেললাইন নির্মাণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দরপত্রে দলীয়করণ বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশব্যাপী পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে, গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদরদপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল থেকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বার্তায় বলা হয়েছে, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় এবং ডিউটি শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ আনঅ্যাটেন্ডেড (Unattended) অবস্থায় কোনো পুলিশি যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইন্স, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বিভিন্ন স্থাপনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রেক্ষাপটে পুলিশের নিজস্ব লজিস্টিক ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর সম্ভাব্য হুমকির উৎস বা নির্দিষ্ট কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের নাম প্রকাশ করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও জানানো হয়নি। তবে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এশিয়া পোস্টকে বলেন, পুলিশের যানবাহন ও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়। এটা তারই একটা নির্দেশ। এসব নির্দেশনায় আতংকিত হওয়ার মতো কিছু নেই।
গোপালগঞ্জে এক দিনেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদপদবী ও রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেছেন ১৮ আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা।
এর মধ্যে অনেকেই বলছেন, ব্যক্তিগত কারণে, আবার অনেকেই বলছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় মআওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখতে চান না।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে মুকসুদপুর পশারগাতি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রহমান মীরের কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের বাড়িতে
সংবাদ সম্মেলন করে ১৬ নেতা ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে আরও ২ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে ১৬জন আওয়ামী লীগ ও দুই জন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের পদপদবী ও রাজনীতি থেকে পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- মুকসুদপুর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম, পশারগাতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাজী সামসুদ্দোহা, আব্দুর রহমান মীর, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল মাসুদ, পশারগাতি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কমিটির সম্পাদক জাকির মীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মোল্যা, সহসভাপতি মো. আলী জিন্নাহ, সদস্য জামাল শেখ, ১ নং ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি আলীম খান, পশারগাতি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি নাসিরুদ্দিন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ শরীফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজল চক্রবর্তী, পশারগাতি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষ, পশারগাতি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামালুদ্দিন মিলু ও সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্যা।
অপর দুই নেতা হলেন- গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. ইকরামুজ্জামান মীনা এবং উলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মোল্লা।
মুকসুদপুরে পদত্যাগী নেতাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পশারগতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মীর। লিখিত বক্তব্যে তিনি বললেন, আওয়ামী লীগ এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল। তাই আমরা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সব পদ থেকে একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ থেকে ওই দলের সাথে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতেও থাকবে না। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ভবিষ্যতে আমরা জনকল্যাণে কাজ করে যাব বলে অঙ্গীকার করছি।
তিনি বলেন, কারো চাপে বা অত্যাচারে নয়, আমরা স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে কারণে সংবাদ সম্মেলন করে আমরা পদত্যাগের ঘোষণা দিলাম।
অপরদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. ইকরামুজ্জামান মীনা এবং উলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মোল্লা পদত্যাগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ব্যক্তিগত কারণে বর্তমানে সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী নই। তাই স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে দলের সঙ্গে সব ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। এই মুহূর্ত থেকে আমরা আর দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকব না এবং দলের কোনো কার্যক্রমে সহযোগিতা করব না।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। অপরাধীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের মধ্যে ভয়ভীতি কমে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন অনেকে। তারা পুলিশি টহল আরো জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
রাজেন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমরা এখন পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। সন্ধ্যার পর ঝিলমিল এলাকার রাস্তার দিয়ে যেতে ভয় লাগে। নির্জন স্থানে লাশ উদ্ধারের খবর শুনলেই আতঙ্ক কাজ করে। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।’
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জামিলুল হক বলেন, আলোচিত সব কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য ইতোমধ্যে উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
খোলামোড়ার মমতাজ হত্যা, কালিন্দীর তানজিলা হত্যা এবং অটোরিকশাচালক লিয়াকত আলী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাসিনা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি ও টহলও বাড়ানো হয়েছে। কোনো অপরাধীই অপরাধ করে পার পাবে না।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথাকে রাজনৈতিক ভাওতাবাজি বলে অভিহিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শুধু দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতেই ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (১ আগস্ট) এফডিসিতে জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে এক ছায়া সংসদে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানান, জুলাই গণহত্যায় আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক পরাজয় হয়েছে। গণতন্ত্রের পরিবর্তে তারা ফ্যাসিজমের দিকে ধাবিত হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল ভুল ছিল উল্লেখ করে ইশরাক জানান, তারা মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করে ও এক ব্যক্তির পূজার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে ছিল। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তারা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পরে আওয়ামী গোষ্ঠী সামাজিকভাবে লুকিয়ে থাকলেও তাদের দোসররা প্রশাসন, ব্যবসা—বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। আওয়ামী লীগের কোন রাজনৈতিক ভবিষ্যত নেই। জুলাই গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের আর সুযোগ নেই। জুলাই অভ্যুত্থানের আগেই আওয়ামী পরিবারের সদস্যরা দেশ ত্যাগ করে কাপুরুষের পরিচয় দিয়েছে। আমাদের মাঝে যতোই বিভেদ থাকুক না কেন, গণঅভ্যুত্থানের সকল পক্ষ ঐক্যবদ্ধ না থাকলে আওয়ামী লীগ ফিরে আসার শঙ্কা রয়েছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্যই জুলাই চেতনাকে সুরক্ষিত করবে।
‘জুলাই হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল ও সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
সাভারের আমিন বাজার এলাকায় মশাল মিছিল করার সময় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ডিজিটাল ব্যানার, পাঁচটি মশাল ও তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আমিন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. জাকির আল আহাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে আমিন বাজারের সালেহপুর ব্রিজ সংলগ্ন টিমটেক্স গার্মেন্টসের সামনে মশাল মিছিল চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ওয়ালিউর রহমান শিবলীসহ মোট ৯ জন। তারা ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ভোলা, বরিশাল, শরীয়তপুর, দিনাজপুর ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, জব্দ করা ডিজিটাল ব্যানারে আগস্ট মাস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বার্তা লেখা ছিল। সেখানে ঢাকা ১৩ আসনের আদাবর থানা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নামও উল্লেখ ছিল।
এসআই মো. জাকির আল আহাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মশাল মিছিলরত ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি ডিজিটাল ব্যানার, পাঁচটি মশাল ও তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার জন্য একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বর্তমানে এই প্রকল্পের আধুনিক ডিজাইন ও ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন এবং তাদের প্রাথমিক ভরসা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। আগে জেলা পর্যায়ে যে সেবাগুলো মিলত, তার সিংহভাগই এখন এই ১০১ শয্যার উপজেলা কমপ্লেক্সগুলোতে নিয়ে আসা হবে।
ড. মুহিত আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট জিডিপির ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শিশুদের বিশেষায়িত সেবার জন্য দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে ৫টি নতুন শিশু হাসপাতাল এবং নারী স্বাস্থ্যের জন্য পৃথক ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগর স্বাস্থ্যসেবাকে এখন সিটি কর্পোরেশন থেকে সরিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর অধীনে এনে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
বিগত সময়ের অনিয়ম তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, যা বহু জায়গায় অব্যবহৃত পড়ে আছে। সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অপচয় বন্ধ করা হবে।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্যবসার স্থান যেন এডিস মশার জন্মস্থান না হয় সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য নার্সারি মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল।
তিনি গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠিতে নার্সারি মালিক ও শ্রমিকদের সাথে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে কমিউনিটি সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। ইউনিসেফ বরিশালের সহযোগিতায় জেলা তথ্য অফিস পিরোজপুর এই সংলাপের আয়োজন করে।
জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডালিয়া ইয়াসমিন, পরিচালক (প্রশাসন) এম এ মোমেন উপস্থিত ছিলেন।
মহাপরিচালক বলেন, নার্সারি একটি পবিত্র ব্যবসা। এই ব্যবসায় মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নার্সারির অভ্যন্তরে অজ্ঞানতাবশত পানি জমিয়ে রেখে ডেঙ্গুরোগের বাহক মশার জন্মস্থান যেন না বানিয়ে ফেলা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দেশে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের নানাবিধ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হলেও সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে রোগী বৃদ্ধির হার কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচাইতে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। নিজের বাড়ি, পেশাগত প্রতিষ্ঠানসহ আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব প্রথমে নিজেদেরকেই নিতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় জেলা তথ্য অফিস সড়ক প্রচার, লিফলেট বিতরণ, কমিউনিটি সংলাপ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনসহ নিয়মিত নানামূখী সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এবার তথ্যও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলো ইউনিসেফের সহায়তায় ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলোতে যুবক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে।
এসময় মহাপরিচালক ডেঙ্গুরোগের মূল কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
পরে তিনি নার্সারি এলাকা ও আশেপাশে বিডি ক্লিনকে সাথে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। শেষে অলংকারকাঠির মহাসড়কে পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে এক র্যালিতে তিনি নেতৃত্ব দেন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন করতে চাই। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ২৪ ঘণ্টা কানেক্টেড থাকতে পারবে। প্রান্তিক বিশ্ববিদ্যালয় বলতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় এই দেশে থাকবে না। চার অথবা পাঁচ বছর পর শিক্ষার্থীরা এ দেশের সবচাইতে দক্ষ, কম্পিটেন্ট গ্র্যাজুয়েট হিসেবে পাশ করে বের হবে।’
শনিবার (১ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) নবীন শিক্ষার্থীদের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রত্যেকের ডিজিটাল লিটারেসি থাকতে হবে, কমিউনিকেশন স্কিল থাকতে হবে- যাতে শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায় নিজ দেশে এবং দেশের বাইরে মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। নিজের মতো করে সমস্যার সমাধানের জন্য ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের যোগ্যতা অর্জন করে।'
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। তোমাদের শিক্ষা জীবনের একটা নির্দিষ্ট অংশ ইন্ডাস্ট্রিতে কাটাবে, হাতে কলমে শিখবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সরকার সবসময় সমতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘অসমতা বা বৈষম্যর বিষয়টি তরুণদের মধ্যে আরেকবার জাগ্রত না হয়, আরেকবার যাতে তাদেরকে সমান সুবিধার জন্য কখনো রক্ত ঝরাতে না হয়, আমরা সে বিষয়ে সচেতন আছি।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইবি উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়শনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ। ওরিয়েন্টেশন বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল।
পটুয়াখালীর আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ২৬ কেজি ওজনের একটি সামুদ্রিক ভোল মাছ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিশাল আকৃতির মাছটি দেখতে শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকেই অবতরণ কেন্দ্রে জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে।
জানা গেছে, এমবি সিফাত নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলে রহিম মাঝি বঙ্গোপসাগরের সোনারচর এলাকায় জাল ফেললে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সিফাত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি আড়তে তোলা হলে নিলামের মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
জেলে রহিম মাঝি বলেন, ‘জাল তোলার সময় বড় একটি মাছ উঠে আসে। পরে বুঝতে পারি এটি বড় আকারের ভোল মাছ। এমন মাছ খুব কমই ধরা পড়ে। ভালো দাম পাওয়ায় আমরা আনন্দিত।’
মাছটির ক্রেতা আড়তদার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাছটির ওজন ২৬ কেজি। আকার বড় এবং মান ভালো হওয়ায় ৩৫ হাজার টাকায় কিনেছি। এটি ঢাকার একটি পাইকারি বাজারে পাঠানো হবে। বড় আকারের ভোল মাছের চাহিদা সবসময়ই বেশি।’
মৎস্যবিজ্ঞানীদের মতে, ভোল মাছ (সিয়েনিডি) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে এটি সাধারণভাবে সামুদ্রিক ভোল নামে পরিচিত। বঙ্গোপসাগরের মোহনা, উপকূলীয় অগভীর সমুদ্র এবং কাদামাটিযুক্ত তলদেশে এ মাছ বেশি বিচরণ করে। বর্ষাকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘ভোল মাছ বঙ্গোপসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সামুদ্রিক মাছ। সাধারণত বড় আকারের ভোল মাছ খুব বেশি ধরা পড়ে না। ২৬ কেজি ওজনের একটি ভোল মাছ ধরা পড়া নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ ধরনের মাছের বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি হয়। ভোল মাছ উচ্চমানের প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ হওয়ায় এর পুষ্টিগুণ অনেক এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’
নির্মাণের সাত বছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে রংপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, হাসপাতালের প্রবেশ দ্বার ও অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।
আরিফ আহমদ বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়, জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অচিরেই রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেটির টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ মাসের মধ্যে সকল হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পদ সৃজনের বিষয়টি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এটির কাজও প্রায় শেষ হয়েছে।’
আরিফ আহমদ বলেন, ‘হাসপাতালে আসবাবপত্রের জন্য এরই মধ্যে টেন্ডার হয়েছে। এখন স্যাম্পল যাচাই-বাছাই চলছে। আশা করছি এ মাসের মধ্যে অগ্রগতি দেখতে পারব। প্রধানমন্ত্রী দু’এক মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এর আগেই হাসপাতালের সকল কাজ শেষ হবে। এরপর অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।’
এ সময় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত সাত বছর আগে রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির মধ্যে নির্মাণ করা হয় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। এটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকার সেই কাজটি করেছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং করপোরেশন। ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ করা হয়। এ নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল জনবল সংকট-অর্থ বরাদ্দে আটকা রংপুরের শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শিরোনামে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
নবনির্মিত এই হাসপাতাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনকে ২০২০ সালের ৮ মার্চ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ওই বছর করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ভবনটিকে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৭ বর্গফুট। এ ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে চারতলাভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার। সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন দেড় হাজার বর্গফুট। ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, দ্বিতীয় তলা থেকে ডাবল ইউনিট। আছে ছয়তলা বিশিষ্ট স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। দুইতলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়ার্টার। নিচে দুটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও নির্মাণ করা হয়েছে একটি ভবন।
শিশু হাসপাতালের মূল ভবনের প্রথম তলায় ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার এবং ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড এবং কেবিন।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম)-এর উদ্যোগে ‘নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও মানবিক পেশাজীবী গড়ে তুলতে এ ধরনের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জন করলেই হবে না, বরং বাস্তবমুখী জ্ঞান, গবেষণা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রফেশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন এবং মাস্টার্স প্রোগ্রামের জুলাই ২০২৬ সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রফেশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রোগ্রামের জানুয়ারি ২০২৬ সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী। এ সময় আইডিএম-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. আনজুম তাসনুভা, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সঞ্চালনা ও উপস্থাপনা করেন আইডিএম-এর সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে জানুয়ারি ২০২৬ সেমিস্টারের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীরা আইডিএম-এ তাদের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষক-সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে আইডিএম-এর শিক্ষক, কর্মকর্তা, নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর পলাশবাড়ী ডিগ্রি কলেজ চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রথমতলা নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। এক কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় এই ভবন নির্মাণ হচ্ছে।
এরপর কলেজ প্রাঙ্গণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সোহায়েল পারভেজের সভাপতিত্বে ও পলাশবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জগদীশ চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. গোলাম মাজেদ এবং তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পলাশবাড়ী ডিগ্রি কলেজের এই নতুন ভবন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত করবে। ভবিষ্যতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এলাকার মানুষের কল্যাণে আমরা কাজ করে যেতে চাই।’
এসময় জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মোহাম্মদ সোয়েম, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আখতারুজ্জামান জুয়েল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, জেলা আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আসাদুজ্জামান খান রিনো, মহিলা দলের সহ-সভাপতি রাকু ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।