সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

বুড়িচংয়ে ফকির আব্দুস সালামের (রহ:) ৪৮তম বার্ষিক ওরুছ-মাহফিল

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২৪ ১৯:০৩

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আনন্দপুরে অবস্থিত হজরত শাহসূফী ফকির আব্দুস সালামের (রহ:) ৪৮তম বার্ষিক ওরুছ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুনবার (২২ জুন) দিবাগত রাতে মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে ওরুছ-মাহফিলটি সম্পন্ন হয়।

মাজার ও খানকা শরীফ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওরুছ মাহফিলে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন, কুমিল্লা শাহপুর দরবার শরীফের পীর হজরত শেখ শাহজাদা গোলাম মো. আব্দুল কাদের কাওকাব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বুড়িচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আখলাক হায়দার, আব্দুল করিম চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী নজির আহমদ,হাজী জালাল উদ্দিন, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মো. আমজাদ হোসেন।

মো. গোলাম হাসান আল কাদরী ও মো. শাহজাহান এর উপস্থাপনায় উক্ত ওরুছ মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন, বুড়িচং নজরুলিয়া দরবার শরীফের বড় সাহেবজাদা মাও. মো. শেখ সাদী আবদুল্লাহ সাদকপুরী।

বিশেষ বক্তা ছিলেন, মাও. মো. আবু সাঈদ নঈমী আত্ম তাহেরী,বরুড়া। তাকরির পেশ করেন, আলহাজ্ব মাওলানা মো. মিজানুর রহমান, মাও. কাজী মো. আল ইমরান, মাও. মো. মুমিনুল ইসলাম, মাও. মো. এমদাদুল হক ফারুকী, মাও. মুফতি এম ফাহাদ হোসাইন, হাফেজ শওকত আহমদ, মাও. কাজী মো. নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

উক্ত ওরুছ মাহফিলটি ২২জুন, শনিবার বাদ আছর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে। পরে মিলাদ কিয়াম, মোনাজাত ও তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় ।


নওগাঁয় পেশাদার ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মো. আব্দুল আহাদ (২০) নামে এক পেশাদার ছিনতাইকারীকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আহাদ নওগাঁ শহরের চকদেব (মাস্টারপাড়া) এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া গ্রুপে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টার পর ভুক্তভোগী নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম ও তার বন্ধু তানভীর জেলা পরিষদ পার্কে ঘুরতে যান। এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মানিব্যাগ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের আব্দুল করিম এর ছেলে। তিনি এবং তার বন্ধু তানভীর নওগাঁ শহরের ডিগ্রি মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকেন।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশের পাঠানো ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়- ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ভুক্তভোগীরা প্রথমে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। পরে পুলিশ সুপার তাদের মামলা করার পরামর্শ দেন এবং ডিবিকে আসামি শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেন।

ডিবি পুলিশ পার্ক এলাকার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. আব্দুল আহাদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের আরও তিনটি মামলা রয়েছে। ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত আহাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।


রুমার দুর্গম পাহাড়ে স্বাস্থ্যসেবা, আলো ছড়ালো মেডিকেল ক্যাম্প

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

বান্দরবানের রুমা উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন সংক্রামক ও ঋতুভিত্তিক রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় দিনব্যাপী একটি বিশেষ মেডিকেল আউটরিচ ক্যাম্প হয়েছে। এতে পাহাড়ের গহিন এলাকার মোট ৪৬৫ জন নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ নানা ধরনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসান তার কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উন্নয়ন সংস্থা ‘গ্রিন হিল’-এর যৌথ উদ্যোগে এবং Momentum Integrated Health Resilience (MIHR) প্রজেক্টের সামগ্রিক সহায়তায় এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত শুক্রবার গ্যালেংগ্যা ইউনিয়নের কুরাং বাজার এলাকায় দিনব্যাপী এ ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল।

ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসান আরও তথ্য দেন যে, গত রোববার সকাল থেকে রেমাক্রী প্রাংসা ৩নং ওয়ার্ডের চরম দুর্গম বাশিরাম পাড়া ও হাস্তরাং পাড়ায় একটি পৃথক মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। তারা সেখানে হামের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

তাদের একটি টিম এখনো রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের দুর্গম এলাকাগুলোতে অবস্থান করছে। পাহাড়ি পথ ধরে এই মেডিকেল টিমটি লোকালয়ে ফিরে এলে সেখানে মোট কতজনকে হামসহ অন্যান্য টিকা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় দুর্গম জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, টিকাদান ও রোগ নির্ণয় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বর্ষা মৌসুমে ঘরের কাছেই এমন প্রয়োজনীয় সেবা পেয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং পাহাড়ের এই বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে ভবিষ্যতেও যেন নিয়মিত এমন আউটরিচ ক্যাম্প আয়োজন করা হয় তার জোর দাবি জানিয়েছেন।


মাগুরায় গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় বাসার ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে কামরুল হাসান শিবলু (৪৫) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। গতকাল

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মাগুরা শহরের ভায়না টিটিসি পাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

মৃত কামরুল হাসান শিবলু একই এলাকার মৃত আকবর মুন্সির ছেলে। সে বাসের টিকিট বিক্রি করতো ভায়না মোড়ে।

মৃতের ছেলে পাভেল মুন্সি জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে সকালে নিজ ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগিয়ে আমার বাবা এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।

মাগুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রুহুল আমিন জানান, সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাগুরা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নারায়ণগঞ্জে জেলের জালে মিলল লুট হওয়া পুলিশের শর্টগান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে উঠে এসেছে পুলিশের একটি শর্টগান। সোমবার (আগস্ট) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সিংগারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রেজাউল নামের এক ব্যক্তির পুকুরে জেলেরা জাল ফেলে মাছ ধরার সময় হঠাৎ একটি শর্টগান জালে আটকা পড়ে। বিষয়টি জানানো হলে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

আড়াইহাজার থানার অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এসআই শফিউল ইসলাম অস্ত্রের রেজিস্টার যাচাই করে নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া শর্টগানটি আড়াইহাজার থানা-পুলিশের এবং এর বাট নম্বর ৬৫১।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে এটি একটি। অস্ত্রটি কীভাবে পুকুরে পৌঁছেছে এবং এতদিন সেখানে পড়ে ছিলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’


ক্ষেতলালে ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ডায়াবেটিক সমিতির নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় ক্ষেতলাল পৌরসভার কাচারী বাজার ও থানাসংলগ্ন এলাকায় সামসুল হোদা তালুকদারের দান করা ২০ শতাংশ জমির ওপর এ সমিতির নতুন ভবনের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদ রানাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হিন্দা শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুস সালাম। মোনাজাত শেষে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ উচ্চারণের মাধ্যমে ভবন নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

জানা যায়, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও ব্যক্তিগত অনুদান এবং জয়পুরহাট জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ফলক উন্মোচনের পর জেলা পরিষদের প্রশাসক সমিতির পুরোনো ভবন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে নিজে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার জন্য রক্তের নমুনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সরকার মোহাম্মদ রায়হান ও সহকারী প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান। ক্ষেতলাল সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রউফ এবং ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মঞ্জুর-এ-মওলা পলাশ, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সদস্য ও ক্ষেতলাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আলী হাসান মুক্তার, ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক নাফেউল হাদি মিঠু প্রমুখ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতালটি চালু হলে ক্ষেতলালের স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি বাস্তবে রূপ নেবে।


কুমিল্লায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

বর্ষার বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা। গত জুলাই মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯৪ জন। আর আগস্ট মাসের প্রথম দুই দিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১৫ জন। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার দাউদকান্দি উপজেলাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে শুধু দাউদকান্দি উপজেলাতেই ১৮২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি মাসের প্রথম দুই দিনেই সেখানে আরও ২১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। উপজেলার সবজিকান্দি, নাগেরকান্দি ও সাহাপাড়া গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

এদিকে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।

চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা সালমা আক্তার ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা জানান, প্রথমে সালমা আক্তারের জ্বর আসে। কয়েকদিন পর তার মেয়েও জ্বরে আক্রান্ত হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, মা-মেয়ে দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

অপরদিকে, কুমিল্লা নগরীর একটি প্রতিষ্ঠানে নাইট শিফটে কর্মরত আলী নেওয়াজ ভূঁইয়া গত শুক্রবার থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাসার পাশের ড্রেন ও কর্মস্থলে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকতে হয়। এরপরই জ্বরে আক্রান্ত হই।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, দিন দিন ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর জেরে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় এক পর্যটকের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় এই রোমাঞ্চকর বিনোদনমূলক কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৈকতের কোনো পয়েন্টেই আর প্যারাসেইলিং করা যাবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার দুপুরে দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় ‘ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে প্যারাসেইলিংয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ৫-৬টি স্পিডবোটের ইঞ্জিন, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, গত শনিবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে প্যারাসেইলিং করার সময় ছিটকে পড়ে শৌভিক রয় নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই সৈকতে এ ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকদের অভিযোগ, যথাযথ আবহাওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়াই এসকল ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

নিহত পর্যটকের বোন এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রবিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। শৌভিক রয়ের মৃত্যুর পর থেকে সাধারণ পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন যে, মেরিন ড্রাইভের পার্শ্ববর্তী এসকল প্যারাসেইলিং পয়েন্টের কোনো বৈধ প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল না। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইতোমধ্যে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সকল প্যারাসেইলিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।


অনিয়মের অভিযোগে কাশিমপুর ভূমি অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নানাবিধ প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। রবিবার (২ আগস্ট) সকালে উক্ত কার্যালয়ে এক আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক সরাসরি ভূমি কর্মকর্তা এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী খান এবং অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল, সফিকুল ইসলাম খান ও আব্দুল হালিম।

অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক সফিপুর এলাকার অন্য একটি ভূমি অফিসও পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল করিম ভূঁইয়া স্বয়ং এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, জনসেবা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি রোধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির আভাস, বন্যার শঙ্কা উত্তরাঞ্চলে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিতে নতুন পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ৩ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে একটি আংশিক বৃষ্টি বলয় সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, এটি আংশিক বৃষ্টি বলয় হওয়ার কারণে দেশের সব স্থানে সমানভাবে বৃষ্টি না হয়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

বিভাগওয়ারী বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বৃষ্টি বলয় চলাকালীন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে। খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে পরবর্তী দিন রাজশাহীতে বিস্তৃত হবে। ৫ ও ৬ আগস্ট দেশের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টির প্রকোপ ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে এবং এই দুই দিন সারা দেশেই বর্ষণের তীব্রতা সর্বোচ্চ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রবল বর্ষণের ফলে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ৫ ও ৬ আগস্ট সারা দেশে আকাশ মেঘলা থাকবে এবং রোদের দেখা মেলা ভার হবে, তবে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যে রোদ উঠতে পারে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হিসেবে রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ২২০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার এবং সিলেট ও ময়মনসিংহে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগে ১৭০ থেকে ২২০ মিলিমিটার, খুলনায় ১৪০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালের বিভিন্ন স্থানে ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টিপাত মূলত তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রের ক্ষেত্রে বড় কোনো দুর্যোগের সংকেত না থাকলেও গভীর মেঘমালার প্রভাবে হঠাৎ দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে চলাচলের ক্ষেত্রে তাই বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের ফলে এই বৃষ্টি বলয়ের সময়সূচি ও শক্তির কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।


মহাসড়কে বাড়ছে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য

* দিনদুপুরেও লুট লাখ লাখ টাকা * গাছে পেরেক মেরে বা গুঁড়ি ফেলে কৃত্রিম ব্যারিকেড * ধারণা করা হয় পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশ * গোপন তথ্যদাতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট টার্গেট চেনা * আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে গাড়ি অবরুদ্ধ করা
ছবি: প্রতীকী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দৌরাত্ম্য বাড়ছে সশস্ত্র ডাকাত দলের। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে কোটি টাকার লেনদেনকারী ব্যবসায়ী ও বিকাশ এজেন্ট—কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না এই অপরাধীরা। কোথাও পুলিশি পোশাক পরে পথরোধ, কোথাও সড়কে পেরেক লাগানো কাঠ বা গাছের গুঁড়ি ফেলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বাস জিম্মি, আবার কোথাও গোপন সোর্সের খবরের ভিত্তিতে টার্গেট কুপিয়ে লাখ লাখ টাকা ছিনতাই করা হচ্ছে। কক্সবাজার, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় সারাদেশের পরিবহন খাতে মারাত্মক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজার: টেকনাফে বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, বিকাশ এজেন্টের ৫৭ লাখ টাকা লুট। রোববার (২ আগস্ট) বেলা পৌনে দুইটার দিকে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে দিনদুপুরে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ডাকাতির ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে ‘পালকি পরিবহন’-এর একটি বাস কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। বাসটি দমদমিয়া এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল অস্ত্রধারী ডাকাত সড়কে পেরেকযুক্ত কাঠ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয়। বাসের চাকা ফুটো হওয়ার ঝুঁকিতে বাসটি থামতে বাধ্য হলে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

৫-৬ জন মুখোশধারী ডাকাত বাসে উঠে সরাসরি বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধিকে খুঁজতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কর্মী মো. আল আরমানকে (২৬) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয় এবং অপর প্রতিনিধি একরাম হোসেনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে ৫৭ লাখ টাকা ভর্তি দুটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।

টেকনাফের বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, সকালে সীমান্ত ব্যাংক থেকে তোলা ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে কর্মীরা হ্নীলা, লেদা ও হোয়াইক্যং যাচ্ছিলেন। গোপন খবরের ভিত্তিতেই এই ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

গুরুতর আহত আরমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসচালক ফয়েজুল করিম ও তার সহকারীকে থানায় আনা হয়েছে। লুটের টাকা উদ্ধারে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান চলছে।

কুমিল্লা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডাকাত দলের সদস্যরা। দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৩ কিলোমিটার মহাসড়কে যানবাহনের গতিরোধ, রড, পাথর এবং ডিম নিক্ষেপ করে ডাকাতি ছিনতাই করাই সংঘবদ্ধ এ দলের কাজ।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর, ইলিয়টগঞ্জ, গোমতা, চান্দিনার মাধাইয়া, সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন অংশে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং প্রবাস ফেরত লোকজন তাদের প্রধান টার্গেট।

সূত্র জানায়, মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত এসব ডাকাত বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় বাসা ভাড়া করে তারা ঘাপটি মেরে আছে। বিশেষ করে ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ময়নামতি এবং পদুয়ার বাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক ডাকাত সদস্য বাসা ভাড়া করে থাকে।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রাতের আঁধারে বিভিন্ন ভাড়া বাড়িতে তারা একত্রিত হয়ে গোপন বৈঠক করে। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে তারা দেশীয় মোবাইল সিমের পরিবর্তে বিদেশি সিম নম্বর ব্যবহার করে। তাছাড়া বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে ডাকাতির মিশন এবং যোগাযোগ রক্ষা করে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, আমরা ডাকাতি প্রতিরোধে নিয়মিত টহল জোরদার করেছি। ডাকাত দলের সদস্যদের পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।

কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, শীর্ষ ডাকাত জজ এবং তার সঙ্গীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কয়েকজনেক এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ অংশে পুলিশি পোশাকের ছদ্মবেশ ধারণ করে ডাকাতি চালিয়েছে এক সংঘবদ্ধ চক্র। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ব্যবসায়ী মো. সামছুল আলম সরকার পরিবার নিয়ে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা ১০-১২ জনের একটি দল তাদের গাড়ির গতি রোধ করে।

ছিনতাই ও গাড়ি নিয়ে চম্পট: অস্ত্রের মুখে পুরো পরিবারকে জিম্মি ও মারধর করে ৪টি মোবাইল ফোন, নগদ ৯৩ হাজার টাকা কেড়ে নেয় ডাকাতরা। এমনকি মূল গাড়িটি ছিনিয়ে নিয়ে তারা সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুরে অভিযান চালিয়ে ৩ আসামিকে (রাসেল, শিপন ও অহিবুর) গ্রেপ্তার করে মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করেছে।

টাঙ্গাইল: এর আগে ১৪ জুলাই রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকার ঢাকাগামী সার্ভিস লেনে ডাকাতির উদ্দেশে সমবেত হয়েছিল একটি ডাকাত চক্র।

টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ বিশেষ নাইট পেট্রোল পরিচালনাকালে রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে বগুড়ার আরিফ (৩২) ও টাঙ্গাইলের সাজ্জাত (২২) নামের দুই ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেফাজত থেকে ১টি পিকআপ গাড়ি, ১টি হাইড্রোলিক জ্যাক, ১টি হাইড্রোলিক কাটার, ২টি লোহার পাইপ, অ্যাডজাস্টেবল রেঞ্চ ও প্লাস উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানাধীন মোবারকপুর ইউনিয়নের কানসাট-গোমস্তাপুর রোডের মিনু বাজার এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালায়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সিএনজি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ রাসেল (২৭),কানু ডাকাত (৪৭) এবং রুবেল (২২) নামের তিন ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করে। পুলিশ জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে চলাচলকারী গাড়ি ও পথচারীদের জিম্মি করে ডাকাতি করে আসছিল।

পর পর একাধিক মহাসড়কে সশস্ত্র ডাকাতি ও সহিংসতার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অপরাধ পর্যালোচনা সভায় হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ওই সভায় হাইওয়ে পুলিশের সব ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন রিজওনাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ সব থানা/ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ।

পরিবহন চালক ও যাত্রীদের দাবি হাইওয়ে পুলিশের টহল কেবল প্রধান পয়েন্টগুলোতে সীমাবদ্ধ না রেখে ঝুঁকিপূর্ণ লিংক রোড ও নির্জন স্থানগুলোতে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা গোয়েন্দা নজরদারি ও মোবাইল পেট্রোল চালু করতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি দিন দিন আরও বাড়বে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার কক্সবাজার, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।


ভুল ও অপতথ্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একসময় তথ্যের অপ্রতুলতাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এখন ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তথ্যের প্রাচুর্যের এই যুগে জনমতকে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে ভুল ও অপতথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাবির মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় সীমিত তথ্যপ্রবাহের যুগেও তথ্য বিকৃতির সুযোগ ছিল। তবে এখন সেই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। আধুনিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় নির্বাচনের সময় দোদুল্যমান ভোটারদের লক্ষ্য করে এবং জনমত পরিবর্তনের উদ্দেশে পরিকল্পিত ডিসইনফরমেশন প্রচারণা পরিচালিত হয়। ফলে জনমত ব্যবস্থাপনাই এখন বড় এক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ। তবে ভুয়া ও বিকৃত সংবাদের হুমকি এখন অনেক বেশি বিস্তৃত হয়েছে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তি ও আধুনিক পদ্ধতির সহায়তায় এ সমস্যা মোকাবিলায় আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।’

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দিলেও তাদের যথাযথ বেতন-ভাতা দেয় না। ফলে তারা অনিরাপদ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হন।

এ সমস্যা সমাধানে তিনি গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলে সাংবাদিকতা পেশাকে আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার একটি সুসংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বপন বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শেষে ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠনের কাজও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং গণমাধ্যমব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে অতীতের সব গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করা হবে।

তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ১৯৭৩ সালের প্রেস আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ সংশোধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও আইন প্রয়োগসংক্রান্ত ক্ষেত্রে ‘সরকারবিরোধী’ শব্দের পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ শব্দ ব্যবহার করা হবে।

সাংবাদিকদের অধিকার ও গণমাধ্যম আইন সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নীতিগতভাবে এ সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান আইনে অনুমোদন বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘সরকারবিরোধী’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি নীতিগতভাবে এটি পরিবর্তনে সম্মতি দিয়েছেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে ‘সরকারবিরোধী’ নয়, বরং ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন আনা হবে।


ঢাকা ওয়াসার নতুন চেয়ারম্যান সাব্বির মোস্তফা খান

ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সাব্বির মোস্তফা খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সাব্বির মোস্তফা খান। রোববার (২ আগস্ট) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের এই অধ্যাপককে তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান পদে বসানোর কথা বলা হয়েছে।

ড. সাব্বির মোস্তফা খান দুই যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৬ সালে বুয়েটের পুরকৌশল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৯৭ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পানিসম্পদ কৌশল (ডাব্লিউআরই) বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ড্রেনেজ মডেলিং, হাইড্রোলজিক, হাইড্রোডাইনামিক এবং মরফোলজিক্যাল মডেলিংয়ের পাশাপাশি পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ (ইএসআইএ) এবং জলবায়ু সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

​কর্মজীবনে তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে নদী তীর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি কোর্সে ‘রিসোর্স পারসন’ হিসেবে কাজ করেছেন।

চীনের চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (সিএএস) সঙ্গে বুয়েটের একটি যৌথ গবেষণা প্রকল্পে সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের হয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিআইএফএফএলএর পরিবেশগত ও সামাজিক মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক (ইএসএমএফ) হালনাগাদের কাজ করেছেন এই অধ্যাপক। দেশি-বিদেশি সাময়িকী ও কনফারেন্স প্রসিডিংসে তার ৩০টির বেশি প্রকাশনা রয়েছে।


রূপপুরের চুল্লিতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ পেতে বাড়ছে অপেক্ষা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বিলম্বিত হচ্ছে। পারমাণবিক জ্বালানি লোড এবং প্রাথমিক কমিশনিং সংক্রান্ত পরীক্ষা শেষ হলেও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) ‘বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স’ না পাওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে না।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং শুরুর পর আশা করা হয়েছিল আগস্টেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। তবে সেই লক্ষ্য এখনই পূরণ হচ্ছে না। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ক্রিটিকালিটি’ অর্জনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বায়েরার চূড়ান্ত লাইসেন্সের ওপরই এখন সব নির্ভর করছে।

জটিল পরীক্ষা ও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা: গত ১২ মে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ শেষ হয়। এরপর শুরু হয়েছে কমিশনিং ও স্টার্টআপের সবচেয়ে সংবেদনশীল পর্যায়।

প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২,০৪৬টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৯০টি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের শেষ পর্যায়ে আরও ১৮টি পরীক্ষা বাকি। এসব পরীক্ষায় যন্ত্রপাতির সচলতার পাশাপাশি চুল্লির চাপ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কুলিং সিস্টেম এবং নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থার পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই করা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রতিটি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে সন্তুষ্ট হতে হয়। কোনো ফলে অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের পর পুনরায় পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।

বিদ্যুৎ গ্রিডে যাওয়ার প্রক্রিয়া: চলমান পরীক্ষা সফল হলে এবং লাইসেন্স মিললে প্রথমে চুল্লিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ অবস্থায় নেওয়া হবে। পারমাণবিক প্রকৌশলে ক্রিটিক্যালিটি হলো চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) শুরু হওয়া, যা একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান মাইলফলক।

ইউরেনিয়াম পরমাণুর বিভাজনে উৎপাদিত তাপ থেকে বাষ্প তৈরি হবে, যার চাপে ঘুরবে টারবাইন এবং জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে।

উৎপাদন বাড়ানোর ধাপ: শুরুতে কম শক্তিতে রিঅ্যাক্টর চালিয়ে পরীক্ষা করা হবে। এরপর ক্ষমতা ১০-১২শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে ৩৫-৪০শতাংশে নেওয়া হবে।

পরীক্ষামূলক সংযোগ: সব পরীক্ষা সফল হলে আগস্টের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

ডিসেম্বরের লক্ষ্য বনাম বাণিজ্যিক উৎপাদন: সরকারি পরিকল্পনায় প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করা হলেও বিশেষজ্ঞরা একে অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী মনে করছেন।

পরীক্ষামূলক পরিচালনায় চুল্লির ক্ষমতা বারবার বাড়ানো-কমানো এবং প্রয়োজনভেদে বন্ধ রেখে যাচাই করতে হয়। এতে ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে। ফলে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন ২০২৭ সালের প্রথম ভাগে (মার্চ বা এপ্রিলের দিকে) গড়াটাই স্বাভাবিক।

গ্রিডের প্রস্তুতি ও ‘স্পিনিং রিজার্ভ’ ঝুঁকি: বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় সঞ্চালন অবকাঠামো প্রস্তুত বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। তবে ১,২০০ মেগাওয়াটের বিশাল একটি পারমাণবিক ইউনিট আচমকা বন্ধ হয়ে গেলে গ্রিড ট্রিপ করার ঝুঁকি থাকে।

এই ঘাটতি সামলাতে তাৎক্ষণিক ব্যাকআপ সক্ষমতা বা ‘স্পিনিং রিজার্ভ’ প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে স্বয়ংক্রিয় ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সচল রাখা প্রয়োজন, যা দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে পিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

প্রকল্পের আর্থিক চিত্র ও মেয়াদ বৃদ্ধি: ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে ১,২০০ মেগাওয়াটের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর বসানো হচ্ছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক লেনদেন জটিলতা ও ডলার সংকটের কারণে বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রায় চুক্তিমূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও টাকার অবমূল্যায়নের ফলে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়। সময়মতো প্রথম ইউনিট চালু না হওয়ায় বছরে আনুমানিক ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয়ের সুযোগও পিছিয়ে গেছে।

বিদ্যুতের দাম ও জ্বালানি চুক্তি: বিদ্যুতের দাম: প্রথম ইউনিটের বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন, পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি ও ঋণ পরিশোধের হিসাব কষে পিডিবির সঙ্গে এনপিসিবিএলের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (PPA) হবে।

জ্বালানি সরবরাহ: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘টিভিএল’ জ্বালানি সরবরাহ করছে। প্রথম ৩ বছরের জ্বালানি মূল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এক দফা জ্বালানিতে কেন্দ্রটি প্রায় ১৮ মাস চলবে, যার পর এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি বদলাতে সর্বোচ্চ ২ মাস উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান এ বিষয়ে বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর আমরা সফলভাবে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ ৯০টি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। এখন বায়েরা চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষে লাইসেন্স দিলেই আমরা পরবর্তী ধাপে যেতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ক্রিটিকালিটি অর্জনের পরও সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে না। আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষপর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিংয়ের সময়সূচি প্রথম ইউনিটের তুলনায় প্রায় এক বছর পিছিয়ে থাকবে।

তবে বায়েরা এখনো জানায়নি, কবে নাগাদ বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।

বায়েরার চেয়ারম্যান মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘এই পর্যায়ে লাইসেন্স দেওয়া অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সন্তোষজনক ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা লাইসেন্স দেব।’

তিনি বলেন, প্রকল্প আগেই বিলম্বিত হলেও নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কবে নাগাদ লাইসেন্স দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

রূপপুর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. শওকত আকবর বলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সফলভাবে কমিশনিং সম্পন্ন করতে বাস্তবায়নকারী সংস্থা, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ঠিকাদার ও নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক প্রকল্পে প্রতিটি সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হয়। সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকল্প সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’


banner close