মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় নিজের গড়ে তোলা একাধিক অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রেখেই কনকসার-নাগেরহাট খাল খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে সাব-ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কনকসার ইউনিয়নের নাগেরহাট খালের পশ্চিম পাশের সরকারি সড়ক কেটে খাল খননকাজ করা হচ্ছে। কিন্তু পূর্ব পাশে খালের জমিতে একাধিক অবৈধ স্থাপনা থাকলেও তা উচ্ছেদ করা হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, পূর্ব পাশের খাল খননকাজের সাব-ঠিকাদার শামীম মোড়লের একাধিক অবৈধ স্থাপনা থাকায় তিনি ইচ্ছে করেই সেগুলো উচ্ছেদ করেননি। এর পরিবর্তে পশ্চিম পাশের সরকারি সড়ক কেটে বেকায়দায় ফেলেছেন চলাচলকারীদের।
স্থানীয় আব্দুস সালাম মৃধা (৫৫) বলেন, ‘পূর্ব পাশে শামীম মোড়লের একাধিক অবৈধ স্থাপনার মধ্যে একটি প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের দোকানঘর রয়েছে। সেটি রক্ষা করতে তিনি পশ্চিম পাশে আমার রেকর্ডীয় জমি কেটে ফেলেছেন। আমি এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেও তারা ভ্রুক্ষেপ করেনি।’
স্থানীয় আতাউর রহমান (৬৩) বলেন, ‘১৯৭০-৭২ সালে এই খালে ভরা পানি ছিল। কনকসার ব্রিজের মুখ থেকে ঢাকার সদরঘাট অভিমুখে প্রতিদিন লঞ্চ চলাচল করত। ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। অনেকে এখনো খালের জমি দখলে নিতে মরিয়া। এদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসনের উচিত অবৈধ দখলদারদের দ্রুত উচ্ছেদ করে খালের জমি পুনরুদ্ধার করা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কনকসার-নাগেরহাট খালের সাড়ে ৩ কিলোমিটার অংশের খনন ও সংস্কারকাজ পান লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা। বর্তমানে প্রকল্পটি শেষের পথে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘খালের দুই পাড়েই সরকারি জমি রয়েছে। পশ্চিমপাড়ে যে সরকারি রাস্তার কথা বলা হচ্ছে সেখানেও খালের জমি রয়েছে। আর পূর্ব পাশে যে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনের কাজ। যার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে সেই শামীম মোড়ল আমার কাজের অংশীদার। তার অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে আমিও বলেছি। অবশ্যই সেগুলো সরাতে হবে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান মিঠু বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের টাকায় সিংহেরহাটি মাঠ থেকে কনকসার বাজার পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিছুদিন আগে সড়কটি সংস্কারে জেলা পরিষদ থেকে ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দও আসে। কিন্তু এর মধ্যেই খাল খননের কাজে ব্যবহৃত ভেকু চলাচলের সুবিধার্থে সড়কটি কেটে ফেলা হয়েছে। অথচ পূর্ব পাশে খালের জায়গায় একাধিক অবৈধ স্থাপনা থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি। আমি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা বুধবার সার্ভেয়ার পাঠিয়ে পূর্ব পাশের খালের জমিতে লাল নিশানা টানিয়েছে।’
এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাব-ঠিকাদার শামীম মোড়লের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, পূর্ব পাশে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোকে ইতোমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডোমরা বিল থেকে কোনোভাবেই মিলছে না পানি নিষ্কাশনের পথ। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। পানি না সরায় মারাত্মক চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডোমরা বিলের পানি আটকে থাকার কারণে খর্নিয়া ইউনিয়নের—
টিপনা, আংগাদহ, পাঁচপোতা, পাঁচুড়িয়া, ভদ্রদিয়া, বাহাদুরপুর,গোনালী ও বামুন্দিয়াসহ আশপাশের প্রায় সবকটি গ্রামের হাজার হাজার বিঘা রোপা আমন, সবজি ক্ষেত এবং শত শত মাছের ঘের এখন পানির নিচে। ঘের ভেসে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ বের হয়ে গেছে, যা স্থানীয় চাষিদের লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসন ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, ‘পানি নামার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। কালভার্ট ও নর্দমাগুলো পলি পড়ে এবং জায়গায় জায়গায় অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলের পানি সরছে না। কৃষকদের চোখের সামনে সব স্বপ্ন পানিতে ভেসে যাচ্ছে। দ্রুত টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না করলে পুরো এলাকার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।’
ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেম বলেন, ‘এটি কোনো স্বাভাবিক দুর্যোগ নয়, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও অনিয়ন্ত্রিত বাঁধের কারণে আজ এ কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে, তা না হলে হাজার হাজার কৃষক নিঃস্ব হয়ে যাবে।’
খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক (চেয়ারম্যান) মোসলেম আলী বলেন, ‘ডোমরা বিলের পানি নিষ্কাশনের আকস্মিক এ জটিলতা নিয়ে আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পানি বের করার রুটগুলো পরিদর্শনের কাজ চলছে। দ্রুত সাময়িক নালা কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন, ‘ডুমুরিয়া খর্নিয়ার ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতার খবর আমরা পেয়েছি এবং স্থানীয়দের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম কোনো বাধা থাকলে তা উচ্ছেদ করে দ্রুত পানি অপসারণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি বিশাল এ বিলের পানি না সরলে শুধু বর্তমান মেয়াদের ফসল ও মাছই নষ্ট হবে না, সামনে শীতকালীন সবজি চাষেও দেখা দেবে চরম বিপর্যয়। ফলে অনতিবিলম্বে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে নিষ্কাশন নালা পুনঃখনন এবং টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং এবং ‘অস্বাভাবিক’ ভূতুড়ে বিলে চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় এই অসহনীয় গরমে যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এর ওপর আবার ব্যবহারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিল আসায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপজেলায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডাররা সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি না গিয়ে অফিসে বসে মনগড়া রিডিং বসিয়ে বিল প্রস্তুত করছেন। নিয়মিত রিডিং না দেওয়ায় হঠাৎ একসাথে কয়েক মাসের বিল জমলে ইউনিটের ধাপ (স্ল্যাব) পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বিলের ডিজিটাল বোঝা চাপছে। এসব ভূতুড়ে বিল সংশোধনের জন্য জোনাল অফিসে দিনের পর দিন ধরণা দিয়েও প্রতিকার মিলছে না, উল্টো ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
উপজেলার ভানুগাছ, মুন্সিবাজার, পতনঊষার, আলীনগর ও মাধবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ী জোসেফ আলী জানান, তার দোকানে সাধারণত ৫০০-৬০০ টাকা বিল এলেও জুন মাসে তা লাফিয়ে ৪,৮০০ টাকায় পৌঁছায়। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে তা কমিয়ে ১,৮০০ টাকা করা হয়। একইভাবে ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম স্বাভাবিক ২,৫০০ টাকার বিল এবার এসেছে ৫,০০০ টাকা। জাহিদুর রহমান ও সাহেল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে এক ঘণ্টা থাকে না। কাজের ব্যাঘাত ঘটলেও শ্রমিকদের নিয়মিত হাজিরা দিতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন লোকসান গুণতে হচ্ছে।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন ৩টি সাব-স্টেশনের অধীনে বর্তমানে ৭৫ হাজার ২০৪ জন গ্রাহক রয়েছেন, যার মধ্যে ২২টি চা-বাগান ও বেশ কিছু ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।
ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় আমরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। আমাদের দিনের বেলায় ১৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১১ মেগাওয়াট এবং রাতে ২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৩ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। সার্বিকভাবে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’ তবে ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, গরমে বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হওয়ায় বিল কিছুটা বেড়েছে।
চাকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বেড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে। গ্রন্থাগারের অবকাঠামোগত সংস্কার ও পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করায় হঠাৎ করেই বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।
লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের তথ্য ও সরেজমিনে দেখা গেছে, চাকসু নির্বাচনের আগের তুলনায় বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন পাঠাগারে যাতায়াত করছেন।
লাইব্রেরির রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে সবমিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬-৭শ শিক্ষার্থীর যাতায়াত হচ্ছে লাইব্রেরিতে। এর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী নাম এন্ট্রি না করে উন্মুক্ত স্থানে বই নিয়ে পড়াশোনা করতে আসে। চাকসু নির্বাচনের আগে আগত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক ছিল।
চাকসু নির্বাচনের পর লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে যেটি আগে ছিল না। শিক্ষার্থীরা বই নিয়ে প্রবেশ করতে না পারার কারণে লাইব্রেরিতে যেতে চাইত না। এখন সেটি শিথিল করা হয়েছে। এ ছাড়া লাইব্রেরিতে আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, "চাকসু নির্বাচনের পর আমরা লাইব্রেরি নিয়ে কাজ করেছি, শিক্ষার্থীরা আগে বই নিয়ে প্রবেশ করতে পারত না, আমরা বই নিয়ে প্রবেশ করার ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আমরা কাজ করেছি।
তিনি আরো বলেন, "লাইব্রেরিতে উন্মুক্তভাবে পড়াশোনার জন্য আমরা দুটি যায়গার স্থান তৈরি করে দিয়েছি। এ ছাড়া দ্বিতীয় তলায় প্রায় ৬০ টি আসন বৃদ্ধি করেছি।"
১৯৬৬ সালে সামান্য পরিসরে মাত্র ৩০০ বই নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি এখন ৫৬ হাজার ৭০০ বর্গফুটের সুবিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা দিতে এখানে যুক্ত রয়েছে আধুনিক সাইবার সেন্টার, ১২টি কম্পিউটার ও কেন্দ্রীয় সার্ভার।
দেশি-বিদেশি ৪ লক্ষাধিক বই ও জার্নালের পাশাপাশি গ্রন্থাগারটির ‘দুষ্প্রাপ্য ও পান্ডুলিপি শাখা’ রয়েছে।
সেখানে তানপত্র, তুনট কাগজ ও বাঁশের ওপর বাংলা, সংস্কৃত, পালি, আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় লেখা ৫৬৫টি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি এবং ১৮৭২ থেকে ১৯৫৩ সালের সাড়ে তিন হাজার পুরোনো সাময়িকী রয়েছে, যার অনেকটাই অন্য কোনো গ্রন্থাগারে মেলানো দায়।
লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য শাখার কর্মকর্তা বাবর আলী সরকার বলেন, "লাইব্রেরিতে আগের তুলনায় শিক্ষার্থীদের যাতায়ত বেড়েছে, পর্যাপ্ত বই এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থাকলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরো বাড়বে।"
কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন-২০২৬ শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশের কৃষি ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার।
এ সময় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার মোঃ রেজাউল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিআই মোটরস, লাল তীর ও বায়ার ক্রপ সায়েন্সের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার কৃষিবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিভিন্ন অনুষদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দুইজন নবীন শিক্ষার্থী এবং ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষির বহুমাত্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তিনি জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন, কৃষি কার্ড, খাল খনন, শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আলোকপাত করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সময়কে হেলাফেলা নয়, কাজে লাগাতে হবে:
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম নবীন শিক্ষার্থীদের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও ল্যাব সুবিধার উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রফেসর ড. রেজাউল করিম বলেন, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সময়। সময়কে কোনোভাবেই হেলাফেলা করে নষ্ট করা যাবে না। সময়ের যথাযথ ব্যবহার করে জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তিনি কৃষির গুরুত্ব এবং টেকসই উন্নয়নে কৃষিবিদদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদ হতে হবে:
প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক স্বাগতম ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আত্মদানকারী সকল শহীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও টেকসই করতে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগতি ও সৃজনশীলতাকে ধারণ করে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তোমরা হবে মানবিক, দক্ষ, সৎ, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদ। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তোমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতায় তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক: অনুষ্ঠানে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এসিআই মোটরস, লাল তীর এবং বায়ার ক্রপ সায়েন্সের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
“শব্দ যেখানে থেমে যায়, নৃত্য সেখানে কথা বলে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নৃত্যাঙ্গন মাগুরার সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নৃত্যাঙ্গন মাগুরার প্রধান উপদেষ্টা ও মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাববীর আহমেদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতীম দাস এবং জেলা জাসাসের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ ন ম কাজী সিরাজ উদ্দিন মিহির।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পী হুমায়ুন ইবনে বাবর ও নৃত্যাঙ্গন মাগুরার স্বত্বাধিকারী অপরাজিতা ইয়াসমিন মৌসুমি।
আলোচনা সভা শেষে নৃত্যাঙ্গন মাগুরার প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা বিভিন্ন গানের সঙ্গে সৃজনশীল নৃত্য পরিবেশন করেন। মনোমুগ্ধকর এই আয়োজন উপভোগ করতে মাগুরার নানা শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন ।
মানিকগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়ির পাশে আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) পুতে রেখে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টায় মো.দিনা ওরফে দিদার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাত পৌনে ৫টার দিকে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বরাই এলাকার থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ (পাইপগান) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মোহাম্মদ স্বাধীন নামের আরেক যুবক পালিয়ে গেছে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. দিনা ওরফে দিদার (৩২) সদর উপজেলার বরাই এলাকার মৃত গেদা মিয়ার ছেলে এবং একই এলাকার মোহাম্মদ স্বাধীন (৩৮)।
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানান, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বরাই এলাকার রামপ্রসাদ ঘোষের বাড়িতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) আছে, মো. দিনা ওরফে দিদারের এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে রামপ্রসাদ ঘোষের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। কিন্তু রামপ্রসাদ ঘোষের বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে কোন অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
এরপর শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাত পৌনে ৫টার দিকে সংবাদদাতা মো.দিনা ওরফে দিদারকে সঙ্গে নিয়ে রামপ্রসাদ ঘোষের বাড়ির পাশের সেপটি ট্যাংকের কাছে মাটিতে পুতে রাখা প্লাস্টিকের একটি বাজারের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এরপর ওই ব্যাগের ভেতর থেকে কাপড়ে মোড়ানো দুটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়।
কিন্তু দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) উদ্ধারের পর মো. দিনা ওরফে দিদারের আচারণ সন্দেহজনক হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মো.দিনা ওরফে দিদার ও স্থানীয় মোহাম্মদ স্বাধীন নামের এক যুবক মিলে সেখানে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) পুতে রেখেছিলেন বলে স্বীকার করেন। এরপর দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) উদ্ধারসহ মো. দিনা ওরফে দিদারকে আটক করা হয়। তবে মো. দিনা ওরফে দিদারের আটক খবর পেয়ে মোহাম্মদ স্বাধীন নামের আরেক যুবক এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
জেলা গোয়েন্দা ডিবির ওসি মানবেন্দ্র মানব জানান, গ্রেপ্তারকৃত মো. দিনা ওরফে দিদার ও মোহাম্মদ স্বাধীনের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। আর পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছেন।
মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শক্তিশালী হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে কালকিনি পৌরসভার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে আবিদা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিক্ষার্থীরা যখন মাদ্রাসায় প্রবেশ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে মাদ্রাসার চত্বরে অবস্থিত ইমন সরদার নামক এক ব্যক্তির বসতঘরের সামনে থাকা হাতবোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তেই মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত ছাত্রীদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশের বিশেষ দল এবং গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানিয়েছেন যে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও সিআইডির বিশেষ ইউনিট কাজ শুরু করেছে। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কীভাবে এবং কার মাধ্যমে এই নাশকতামূলক বস্তু এল, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরবেলা এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহত কামরুন নাহার ওই গ্রামের স্বনামধন্য রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী। এই হামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম এবং তাঁর মেয়ে সানজিদা আক্তার মিমও গুরুতর জখম হয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, রাত ৩টার দিকে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল মঞ্জুরুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও পাহারাদার বসিয়ে বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকেই দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কামরুন নাহার প্রাণ হারান এবং আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, হামলার ধরন দেখে এটি পরিকল্পিত ডাকাতি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশের ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহ করেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নিহত কামরুন নাহারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সাতটি অঞ্চলে আজ মাঝারি থেকে তীব্র ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সেই সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে যে, দিনের তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং আগামীকাল রবিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩৪ মিনিটে। বর্ষা মৌসুমের এই খামখেয়ালি আবহাওয়ায় যাতায়াতকারী ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৭ সহকারী পুলিশ কমিশনার ও ৪৯ পুলিশ পরিদর্শকসহ ৫৬ জনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এসব কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, অবসরে পাঠানো ৪৯ পুলিশ পরিদর্শক পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন জেলা পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), বিশেষ শাখা (এসবি) এবং রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত কর্মকর্তাও রয়েছেন।
অন্যদিকে সহকারী পুলিশ সুপার পদপর্যায়ের সাত কর্মকর্তাকেও একই আইনের আওতায় জনস্বার্থে অবসরে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- নুরে আলম সিদ্দিকী, মো. নূরুল মোতাকিন, কাজী ওয়ায়েজ আলী, মো. সৈয়দুজ্জামান, মো. গোলাম কিবরিয়া, মো. রবিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত করে যা পাওয়া যাবে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কারও পক্ষে-বিপক্ষে কিছু নেই। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করে সঠিক তথ্যটা বের করে নিয়ে আসা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া।’
দুর্ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গ্রিন ইয়ার্ডের কমপ্লায়েন্সের বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন ইয়ার্ডের গ্রেডিং সরকার করে না। এটি হংকং কনভেনশনের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী করা হয়। ওই নীতিমালা পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে গ্রিন ইয়ার্ডের সনদ দেওয়া হয়।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রিন ইয়ার্ডের যে হংকং কনভেনশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব-তাদের কোনো কমপ্লায়েন্সের অভাব ছিল কি না, সেটি দেখা।’
এর আগে সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতর থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। জাহাজের ভেতরে গ্যাসের উপস্থিতি থাকায় উদ্ধারকাজও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
চমেক হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনা তদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
টানা সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট)সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকাল থেকে সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের জোগান নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। সামিট চালু হওয়ার পর এখন গ্যাসের মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২০১ কোটি ঘনফুট।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে সংকট তীব্র হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
ছুটির দিন হলেও শুক্রবার (১৪ আগস্ট)বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতি আরও বেড়েছে। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় ১ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট। ভোর ৫টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। সকাল ৬টায় ৬০৯ মেগাওয়াট এবং সকাল ৭টায় ৩০৪ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। সকাল ৮টায় ঘাটতি ১৮৫ মেগাওয়াট এবং ৯টায় ১৬৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাহিদা ও সরবরাহ প্রায় সমান ছিল। দুপুর ১টায় ১৪ হাজার ৪৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট; অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ৫২ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল মাত্র ২২ মেগাওয়াট।
অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার (১৪ আগস্ট)ভোরে উল্লেখযোগ্য লোডশেডিং থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সামিটের গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের জোগান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিংয়ের চাপও কমতে পারে।
সংকটের শুরু যেভাবে
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট। সামিটের টার্মিনালের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট হলেও শুক্রবার (১৪ আগস্ট)প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির সরবরাহ সক্ষমতা কমে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের ওপর সামিটের নির্ভরতা বেড়ে যায়।
একপর্যায়ে সামিট থেকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে সরবরাহ প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে রাখা হয়। কিন্তু গত সপ্তাহের শুরুতে এলএনজি নিয়ে একটি কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কার্গো থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি।
টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে তখন সরবরাহ চালিয়ে যায় সামিট। মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো হয়। গত মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নামানো হয়। গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছিল ১০ কোটি ঘনফুট করে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে। অথচ গত বুধবারও সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশে ২৬০-২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
বিদ্যুতে গ্যাস বাড়লেও শিল্পে কমেছে
গ্যাসের মোট সরবরাহ কমে যাওয়ার পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের জোগান বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দিনে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত, এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে যাচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে মিলছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট।
তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে ১৬০-১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩৫-৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
সামনে স্বস্তি কতটা
শুক্রবার (১৪ আগস্ট)সন্ধ্যায় সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুরুতে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট দেওয়া হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে আজ শনিবার রাত ২টার মধ্যে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে সামিটের সরবরাহ বাড়লেই গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ওই সময়ে টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে—প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে গত ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কবে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ফলে সামিট থেকে সরবরাহ বাড়ায় আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুটি এলএনজি টার্মিনালই পূর্ণ সক্ষমতায় না ফেরা পর্যন্ত সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ কম।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ সফরে আসছেন তারেক রহমান। তার সফর ঘিরে জেলাজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেনের সই করা সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে কিশোরগঞ্জে যাবেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করবেন তিনি। একই স্থানে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে তার।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদীর কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
দুপুর আড়াইটায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং জেলা ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকাল ৪টায় জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে সড়কপথে কিশোরগঞ্জ ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাত ৮টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই তারেক রহমান কিশোরগঞ্জে আসছেন, এটি তাদের জন্য আনন্দের।’ তার সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়নবঞ্চিত এলাকাগুলোতে উন্নয়ন হবে বলে আশা করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত।’ তার নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও নাগরিক সমস্যার সমাধানে নতুন পথ খুলবে বলে তারা আশা করছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন জেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’ তার নেতৃত্বে জেলার উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা সমাধান ও মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনে নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, এটি তাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তারা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন।’
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, ‘তার সংসদীয় আসনের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী এই দুই উপজেলাতেই প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি রয়েছে। পাকুন্দিয়ার মির্জাপুরে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। এরপর কটিয়াদীর কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।’
জালাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।’ তার সংসদীয় এলাকা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরের কর্মসূচি শুরু হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কিশোরগঞ্জে আনন্দের ঢেউ উঠেছে। শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সফরটি উন্নয়ন ও সবুজ ভবিষ্যতের বার্তা দেবে।’ শরীফুল আলম জানান, ১৯৯৮ সালে প্রথম কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তার সঙ্গে ভৈরব ও কুলিয়ারচরে ২৩টি পথসভা ও জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে জেলা শহরে এবারই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি কর্মসূচিতে তারেক রহমানের আগমন ঘটছে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত শনিবার কিশোরগঞ্জ সফরে এসে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছিলেন, সরকারের নেওয়া বেশির ভাগ জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম কিশোরগঞ্জ থেকে শুরু হবে। মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ, বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ, মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচির জন্য কিশোরগঞ্জকে বেছে নিয়েছেন।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অস্থায়ী হেলিপ্যাডও তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নির্বাচনী জনসভায় এসেছিলেন তারেক রহমান। এর আগে ১৯৯৮ সালে প্রথমবার কিশোরগঞ্জে আসেন তিনি। তবে জেলা শহরে এবারই প্রথম কোনো কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী।