চুয়াডাঙ্গায় গরুবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন। আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের আলুকদিয়া বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রাকটিতে থাকা ৭টি গরুও মারা যায়।
নিহত দুইজন হলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে গরু ব্যবসায়ী আশরাফুল হক (৫০) ও মেহেরপুর পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড পাড়ার হারুন উর রশিদের ছেলে মনির হোসেন (৪৫)।
আহতরা হলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের নিজাম শেখের ছেলে কালাম হোসেন (৪০) ও মেহেরপুর পৌর এলাকার খন্দকারপাড়ার জহির উদ্দীনের ছেলে মিনারুল ইসলাম (৪১)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা গরুবোঝাই একটি ট্রাক মেহেরপুরে যাচ্ছিল। আলুকদিয়ার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি গাছে ধাক্কা লাগে। এতে ট্রাকের উপরে থাকা গরু ব্যবসায়ী আশরাফুল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ছাড়া ট্রাকে থাকা ১৯টি গরুর মধ্যে ৭টি গরু মারা যায় এবং বাকি গরুগুলো গুরুতর আহত হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ট্রাকের মধ্যে গাছ ঢুকে পড়ায় আটকা পড়েন চালক ও হেলপার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকের ইঞ্জিনের আংশিক অংশ কেটে জীবিত অবস্থায় চালক ও হেলপারসহ তিনজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ লিওন জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই আশরাফুলের মৃত্যু হয়। আর আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনির হোসেন নামে আরও একজন। বাকি দুজনের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান বলেন, ট্রাকটি হেলপার চালাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সে ঘুমিয়ে পড়ায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ওই ঘটনায় আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, এম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছেন, আহত হয়েছেন পাঁচ জন।
রোববার (২২ মার্চ) ভোর চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনের কাজ চলছিল। এসময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এমতবস্থায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এঘটনায় বাস অ্যাম্বুলেন্স কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে বাসা, এম্বুলেন্স মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার, ও একজন যাত্রী নিহত হয়। ৫ জন আহত হয়। নিহতদের মরদেহ ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কারো নাম পরিচয় জানা যায়নি।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাসটি উঠে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ অবস্থায় বাসটিকে হিঁচড়ে আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিয়ে যায় ট্রেনটি।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই বাসের যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্স জানান, হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ জন আহত রোগী ভর্তি আছেন এবং আরো প্রায় ১৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রেললাইনে উঠে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিটে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাত ২টা থেকে ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরেছে বলে কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৫ সালের ১৪ জুন এই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে শুক্রবার রাত থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরেই গ্যাস সংকটের কারণে একাধিক ইউনিট বন্ধ ছিল। ২০২৫ সালের ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিট, ১৩ জুন ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪ নম্বর ইউনিট এবং ১৪ জুন ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৭ নম্বর ইউনিট উৎপাদন থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ২০১০ সালের জুনে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ নম্বর ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে টারবাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট উৎপাদনে আসে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিট চালু হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুটি ইউনিটও দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ঈদের আনন্দ ভ্রমণে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সেতুতে অতিরিক্ত মানুষের চাপে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনের এলাকায় সেতুর ওপর মানুষের ভারে সেটি হঠাৎ উল্টে যায়।
এতে নদে ডুবে ভাইবোনসহ মোট চার জন মারা গেছেন। নিহতরা হলেন—উপজেলার ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ১২ বছরের মেয়ে খাদিজা ও ৬ বছরের ছেলে আব্দুল মোতালেব, ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল মিয়ার ১০ বছরের মেয়ে মায়ামনি এবং গামারিয়া এলাকার ১৬ বছরের কিশোর আবির।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রবিউল ইসলাম সন্ধ্যায় চার জনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এতে কয়েকজন আহতও হয়েছেন, যাদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঈদের দিন এমন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে ভাসমান এই সেতুটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ উঠে পড়ায় ভারসাম্য হারিয়ে সেটি নদে উল্টে যায়।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এ সকালে তালামুক্ত হওয়ার পর থেকে বন্দীদের উৎসবমূখর পরিবেশে দেখা যায়, সকালের নাস্তা শুরু হয় সুস্বাদু পায়েস ও মুড়ি দিয়ে, সকাল ৯.৩০ মিনিটে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদের নামাজ পরেন বন্দীরা, নামাজ শেষে কারা বিভাগ এবং দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়, তারপর বন্দীদের উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মো: মোতাহের হোসেন এর বিশেষ বাণী পড়ে শোনান অত্র কারাগারের জেলার মো: আখেরুল ইসলাম।
বেলা ১২.০০ টায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/ডিসি কারাগারে আসলে তাকে রিসিভ করেন জেলার ও কারাগারের অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ।
দুপুরে বন্দীদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়, অত্র কারাগারের জেলারের উপস্থিতিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে কিছুক্ষণ বন্দীদের খাবার পরিবেশন করেন।
পোলাও, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর রোস্ট, ডাল, সালাদ, মিস্টি ও পান সুপারী খাবারের ম্যেনুতে ছিলো। রাতে মাছ, আলুর দম আর সাদা ভাত রাখা হয়েছে বলে জেলার জানান। সবমিলিয়ে চমৎকার পরিবেশে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বন্দীদের ঈদ-উল-ফিতর। সার্বিক ম্যানেজমেন্টে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলারকে ধন্যবাদ জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আকস্মিক ভাবে ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক সেবার মান পরিদর্শনে আসেন। তিনি সরাসরি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রন্ধনশালায় যান এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি করা রোগীদের খাবার নিজেই খেয়ে মান যাচাই করেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সাথে খোলামেলা কথা বলে খোঁজখবর নেন।
তিনি খুবই আন্তরিকতার সাথে কারো কোনো সমস্যা বা অসুবিধা আছে কি না, এব্যাপারে প্রত্যেকের সাথে কথা বলেন।পরিদর্শন কালে এক অসচ্ছল গ্যাস্ট্রো নারী রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাকে তাৎক্ষণিক ভাবে রাজধানীর বিশেষায়িত গ্যাস্ট্রো হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সার্বিক বিবেচনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ভালো আছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান সন্তোষ জনক রয়েছে। জনবল কাঠামো সংকটের সমাধানে দীর্ঘদিন ডেপুটেশনে থাকা দশজন চিকিৎসকের অর্ডার আগামী এক মাসের মধ্যে বাতিল করবেন বলে তিনি জানান। কুকুর এবং বিড়ালের কামড়ের ভ্যাক্সিন এবং এক্স-রে ফিল্ম সংকটে দেয় বরাদ্দের খোঁজখবর নেন।
এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এলাকাবাসী, কাপাসিয়া প্রেসক্লাব ও স্থানীয় বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানান। পাশ্ববর্তী মনোহরদীর কৃতিসন্তান হিসাবে কাপাসিয়াকে বিশেষ বিবেচনায় রাখার জন্য মন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান। ডিউটি চলাকালীন সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের রোগী দেখার ব্যাপারে সতর্ক করে দেন এবং এসব বিষয়ে স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও আধুনিক ও উন্নত সেবাকেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা বদ্ধ। আগামী এক মাসের মধ্যে দেশব্যাপী স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডাঃ তামান্না তাসনীম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীনুর আলম, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, গাজীপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, তরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বদরুজ্জামান বেপারী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব জুনায়েদ হোসেন লিয়নসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের আব্দুর রবের কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও ভাগনির ছবি এবং ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে ফিরোজ মিয়া পক্ষের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনার জেরে পূর্ব থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা ঈদের নামাজ শেষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
খবর পেয়ে গোপলার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নারীর সম্মানহানি এবং দাঙ্গার এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাবনা সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) পিতৃ-মাতৃহীন নিবাসীদের ঈদ এবার কাটল অন্যরকম এক আমেজে। উৎসবের দিনে বাবা-মায়ের অভাব ভুলিয়ে দিতে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. শাহেদ মোস্তফা। পরম মমতায় তিনি ভাগ করে নিলেন ঈদের আনন্দ, মেতে উঠলেন উৎসবের উচ্ছ্বাসে।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে পাবনা শহরের সরকারি শিশু পরিবার চত্বরে নিবাসীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন ও কুশল বিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তার সহধর্মিণী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাল-নীল রঙের নতুন পোশাকে সেজেছিল শিশু পরিবারের নিবাসীরা। ড. শাহেদ মোস্তফা প্রতিটি শিশুর কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা হাসিমুখের খুদে নিবাসীদের মাঝে জেলা প্রশাসক ও তার পরিবারের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ ঈদ উপহার ও মিষ্টান্ন।
এ সময় ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, "এই শিশুরা আমাদেরই সন্তান। ঈদের আনন্দ যেন তাদের জীবন থেকে হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা আজ তাদের মাঝে এসেছি। পরিবারহীন এই শিশুদের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে পারাই আমাদের ঈদের আসল সার্থকতা। তারা যেন সমাজ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে না করে, সরকার ও প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে আছে।"
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিশু পরিবারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। উপহার বিতরণ শেষে নিবাসীদের সঙ্গে দুপুরের বিশেষ ভোজে অংশ নেন অতিথিরা। জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক ও আন্তরিক উদ্যোগে শিশু পরিবারের নিবাসীদের মাঝে এক আবেগঘন ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ফরিদপুরের সদরপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উৎসবের মধ্যে পাগলা কুকুরের অতর্কিত আক্রমণে শিশুসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদর এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিরা যখন একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক সেই সময় একটি পাগলা কুকুর পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুকুরটি সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়ে রক্তাক্ত করলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
আক্রান্ত এক শিশুর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি জানান, কুকুরটি হঠাৎ করেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং তার ১৩ বছরের ভাতিজা আরাফাতকেও কামড়ে আহত করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মমিনুর রহমান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের মধ্যে ১১ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত বাকি ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন ঈদের শিক্ষাকে কেবল একদিনের জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর অন্তরে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে বরিশালের গৌরনদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, ঈদ আমাদের ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াতে শেখায় এবং এই ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা বজায় রাখলে সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করা সম্ভব।
একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নৈতিকতার চর্চাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ অত্যন্ত জরুরি। মানুষ হিসেবে বিনয়ী হওয়া এবং অন্যের কষ্ট অনুভব করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, ঈদের শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হলে সমাজে বৈষম্য কমে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আনসার উদ্দিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে তথ্যমন্ত্রী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফেনী জেলা কারাগারে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকাল থেকে বন্দীর আত্নীয় স্বজন যারা কারা ক্যাম্পাসে আসছেন তাদের ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড ও ফুল দিয়ে বরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে আপ্যায়ন । দর্শনার্থীদের ওয়েলকামড্রিংস, বিশুদ্ধ পানি, মিষ্টি, পিঠা, পায়েস, চা/কপি ইত্যাদির মাধ্যমে আপ্যয়ন করা হচ্ছে।
ঈদের দিনে দর্শনার্থী সেবা সহজীকরণে বিশেষ হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। ঈদুল ফিতরে দর্শনার্থী, কারাবন্দী এবং গার্ডিং স্টাফদেরকে নিয়ে একই সাথে একই আঙ্গিনায় সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে কারা কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ফ্রি হেলথ চেক আপ কর্নারের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জরুরী চিকিৎসার পাশাপাশি ডায়বেটিস, প্রেসার, ওজন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।
কারাগারের সামনে ঈদ শুভেচ্ছা কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এখানে শিশুসহ দর্শনার্থীরা বন্দীর জন্য ছোট শুভেচ্ছা বার্তা লিখছেন। পরবর্তীতে তা বন্দীদের কাছে প্রদর্শন করা হবে।
দর্শনার্থী শিশুদের জন্য ড্রয়িং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। শিশুদের আঁকা ছবি তার প্রিয়জন বন্দীর কাছে প্রদর্শন করা হবে। শিশুদের জন্য মেহেদী উৎসব, ওয়েলকাম ড্রিংস, চকলেট, চিপস, বেলুন, স্টীকার, বিভিন্ন ধরনের রং পেন্সিল, ক্লে ইত্যাদি বিতরণ করা হয়।
ঈদের জামাত আদায়ের সুব্যবস্থা, তিন বেলা ১৪ প্রকারের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বন্দীদের জন্য তাদের আত্নীয় স্বজন এর সাথে (ডিউ/আনডিউ) ব্যাতীত একবার বিশেষ সাক্ষাৎ করার অনুমতি প্রদান করা হয়।
ফেনী জেলা কারাগার -২ এর জেলার ফেরদৌস আহমেদ জানান, বন্দীদের কারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিনোদন, খেলাধুলার আয়োজন হয়েছে। বিজয়ী বন্দীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন এবং ঘরোয়াভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিদেশে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টাকা লেনদেনের বিরোধে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে একই এলাকার মাস্টারবাড়ির বাবুল মিয়া খয়েরপুর মুন্সিবাড়ির আজিজুল ইসলামকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। তবে সেখানে আজিজুলকে ভালো কাজ দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া আকামার জন্য টাকা নেওয়া হলেও সেটির ব্যবস্থা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আজিজুল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
একপর্যায়ে মালয়েশিয়ায় থাকতে না পেরে আজিজুল ইসলাম দেশে ফিরে আসেন। সম্প্রতি বাবুল মিয়া দেশে ফিরলে আজিজুল তার কাছে টাকা ফেরত চান এবং বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছেও বিচার দেন।
শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় কদমচাল বাজারে আজিজুলকে পেয়ে বাবুল মিয়া তার বিরুদ্ধে বিচার দেওয়ার বিষয়টি জানতে চান। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের লোকজন এতে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন (৪০)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না। সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত হয়ে ১২ দিন পর কফিনবন্দি অবস্থায় নিজ গ্রাম টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলায় ফিরলেন তিনি— ঠিক ঈদের আগের দিন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার মরদেহ পৌঁছায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুপুরের দিকে গ্রামের বাড়িতে আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন-প্রতিবেশীদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৮ বছর আগে পরিবারের অভাব দূর করতে সৌদি আরবে যান মোশাররফ। আল খারিজ শহরের কাছে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। গত ৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে মিসাইল হামলায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। বাবা সূর্যত আলী ও মা জহুরা বেগম শোকে বাকরুদ্ধ। মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, ঘটনার আগের রাতেও স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি ঈদের আগে টাকা পাঠানোর কথা বলেছিলেন। সেই কথাই এখন তার কাছে অসহ্য স্মৃতি।
দুই ছেলে মাহিম (১৫) ও মিহান (৬) এখনো পুরো ঘটনা বুঝে উঠতে পারেনি। ছোট ছেলে মিহান কখনো বাবার নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে থাকে, আবার কখনো আশপাশের কান্না দেখে বিস্মিত হয়।
উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে আনা হয়। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তিন বছর আগে স্বল্প সময়ের জন্য দেশে এসেছিলেন মোশাররফ। এরপর আবার পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় প্রবাসে ফিরে যান। কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হলো না জীবনের আলো নিয়ে— শেষ হলো এক হৃদয়বিদারক পরিণতিতে।