নওগাঁর ধামইরহাট সীমান্তে চোরাকারবারিদের হামলায় বিজিবির এক সদস্যসহ দুইজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বস্তাবর শাখাহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত দুজন হলেন, বিজিবির বস্তাপুর ক্যাম্প ইনচার্জ নায়েক সুবেদার মজিবর হোসেন ও বিজিবির সোর্স তারেক রহমান। এদের মধ্যে মজিবর হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারেককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে।
বিজিবি-১৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদিম আরেফিন জানান, চোরাকারবারিরা ভারত থেকে অবৈধ মালামাল নিয়ে আসছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে নায়েক সুবেদার মজিবর হোসেন ভোরে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শাখাহাটি বাজার এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় চোরাকারবারিদের আটকের চেষ্টা করলে তারা মজিবর ও তারেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির অন্য সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। এরপর মজিবর হোসেনকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছি। তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আফতাব উদ্দিন জানান, দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে কমিশন দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে হিসাব সহকারী মো. হাসিবুল হাসানের নাম। অভিযোগ, কমিশন ছাড়া ফাইলের কাজ এগোয় না। এ অভিযোগের মধ্যে হাসিবুলের টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম।
জানা যায়, রেললাইন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে এলএ শাখায় দিনের পর দিন ঘুরতে হয় জমির মালিকদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফাইলের কাজ এগিয়ে নিতে বিভিন্ন হারে কমিশন দাবি করা হয়। কমিশন না দিলে ফাইল মাসের পর মাস পড়ে থাকে।
ভুক্তভোগী মো. নিহাল হোসেন ও জামেলা খাতুনের অভিযোগ, হিসাব সহকারী হাসিবুল হাসানকে টাকা ছাড়া কোনো কাজ করানো যায় না। তাদের দাবি, কমিশন না দিলে ফাইল পড়ে থাকে এবং ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে হয়রানির শিকার হতে হয়। তারা হাসিবুলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে হাসিবুল হাসানের টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়। ভিডিওতে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় হাসিবুল হাসানের টাকা গ্রহণের একটি দৃশ্য দেখা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি হাসিবুল হাসান। ভিডিওতে টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো সৎ উত্তর দিতে পারেননি।
এর আগে একই ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো ও সার্ভেয়ারদের বিরুদ্ধেও কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এবার হিসাব সহকারী হাসিবুল হাসানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এলএ শাখার কার্যক্রম নিয়ে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নূর নাহার বেগম জানান, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জমির মালিকদের দাবি, ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে কমিশন নয়, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এখন হাসিবুল হাসানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
কিশোরগঞ্জে সদরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের করে অন্য সিলিন্ডারে স্থানান্তরের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার মহিনন্দ বাজারে অভিযান চালিয়ে রাজিব মিয়া নামের ওই ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত রাজিব মিয়ার বাড়ি পাকুন্দিয়া উপজেলায়। তিনি মহিনন্দ এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থেকে এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজিব একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ১২ কেজির ভর্তি সিলিন্ডার থেকে ৩ থেকে ৪ কেজি গ্যাস বের করে খালি সিলিন্ডারে ভরে রাখতেন।
পরে কম ওজনের সিলিন্ডারগুলো ১২ কেজি হিসেবে বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে একইভাবে গ্যাস স্থানান্তরের সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দেন।
পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মারুফ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল ঘোষ পলাশ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
আদালত রাজিব মিয়াকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মারুফ বলেন, ‘রাজিব মিয়া স্বীকার করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এক সিলিন্ডার থেকে গ্যাস অন্য সিলিন্ডারে স্থানান্তর করে কেনাবেচা করছিলেন।’ জনস্বার্থে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
গাজীপুরের টঙ্গীর কুখ্যাত ছিনতাইকারী শাওন উরফে কাইল্লা শাওনকে সহযোগীসহ আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাকে ধরতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের হামলায় এস আই হানিফ মাহমুদ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে ৯টার দিকে খরতৈল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ খরতৈল এলাকার কামরুজ্জামান শাওন খন্দকার ওরফে কাইল্লা শাওন (২৬) ও তার সহযোগী ছিনতাইকারী সাগর (২৫)। তাদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে ৯টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক হানিফ মাহমুদের নেতৃত্বে খরতৈল এলাকা ছিনতাইবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় কুখ্যাত ছিনতাইকারী শাওন ও তার সহযোগী সাগরকে হাতেনাতে আটক করতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তারা।
একপর্যায়ে শাওনের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এসআই হানিফের পায়ের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েও শাওনকে আটক করেন এসআই হানিফ। পরে সঙ্গীয় পুলিশের সহযোগিতায় শাওন ও সাগরকে থানা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হামলায় গুরুতর আহত এসআই হানিফকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আহত পুলিশ অফিসারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।’
নীলফামারী শহরের আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ সংরক্ষণ, মাঠ সংকুচিত করে দোকানঘর নির্মাণ বন্ধ এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ূন কবিরের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নীলফামারী আলিয়া মাদ্রাসার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে মৃত ব্যক্তিদের জানাজার নামাজ আদায়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিশু-কিশোররা নিয়মিত এ মাঠে খেলাধুলা করে। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাঠের জায়গা সংকুচিত করে দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া মাদ্রাসার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় শিশু-কিশোররা মাঠে প্রবেশ করে খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা মতামত না নিয়েই মাঠে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগও করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা, মাঠে দোকানঘর নির্মাণ বন্ধ এবং প্রধান ফটক সবসময় খোলা রাখার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলমগীর সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব উর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সোয়েম, আইনজীবী সানাউল হক তনিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাগুরায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ। সভায় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ, উপজেলা প্রশাসন, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, সাংবাদিক ও পূজা উদ্যাপন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, গত বছর মাগুরা জেলায় ৬১১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছর জেলায় ৬৮৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৭৬টি।
সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, বিদ্যুৎ ও সড়ক ব্যবস্থাপনা, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং সার্বিকভাবে উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় আরও ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল কাদের, প্রশাসনের মো. আরিফুল ইসলাম সরদার (উপসচিব), সহকারী পুলিশ সুপার (শালিখা সার্কেল) নিশাত আল নাহিয়ান, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী, শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো. জিল্লুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাগুরার উপসহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আহমেদ, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের মাগুরা জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাস, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, মাগুরার উপপরিচালক আব্দুল আওয়ালসহ সংশ্লিষ্টরা।
সভায় জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানানো হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে চড়ে ঢাকায় গাঁজা পাচারের সময় এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম মো. ইসলাম। তিনি রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১ দারুস সালাম এলাকার রেজাউল মিয়ার ছেলে। তার কাছ থেকে ১ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করেছে।
ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ইসলাম কসবা এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে শরীরের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় ফিটিং করেন। পরে আখাউড়া থেকে মহানগর এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তিনি নিচে নেমে যান। পরে আবার ট্রেনের ছাদে ওঠার সময় সেখানে থাকা কয়েকজন যাত্রী তাকে সহায়তা করতে গিয়ে তার পেটে হাত দেন।
এ সময় তাদের সন্দেহ হলে তারা তাকে তল্লাশি করেন। তখন তার পেটের সঙ্গে গাঁজা ফিটিং করা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন যাত্রীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহআলম মিয়া জানান, এ ঘটনায় ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এর আগেও মাদক-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে একাধিকবার সাজা দেওয়া হয়েছিল। তাকে বুধবার (৭ অক্টোবর) আদালতে সোপর্দ করা হবে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আনোয়ারা হামিদ চক্ষু হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও দরিদ্রসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজ মাঠে এ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। গোয়ালন্দ হ্যাচারিজ লিমিটেড ও গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের আয়োজনে এবং ফরিদপুর আনোয়ারা হামিদ চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মহসিন বেগের তত্ত্বাবধানে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
চক্ষু ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা।
রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদের শেখের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ আহমেদ, সাবেক সদস্য সচিব মো. নাজিরুল ইসলাম তিতাস, গোয়ালন্দ হ্যাচারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু সায়েম খান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. সাইফুল হুদা বলেন, ‘‘দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের ভালো কাজকে সবসময় উৎসাহিত করা উচিত। এতে অন্যরাও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবেন।’’
আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পে রোগীদের চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। যেসব রোগীর বিশেষায়িত চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে, তাদের ফরিদপুর আনোয়ারা হামিদ চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগীকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আমরা প্রায় প্রতি মাসেই এরকম বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প করে থাকি। প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
শহরের ব্যস্ততম মোড় থেকে অলিগলি। কোথাও কিছু ঘটলেই এখন আর ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা মানুষের বর্ণনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না পুলিশকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ছে সন্দেহজনক গতিবিধি থেকে অপরাধের নানা চিত্র। একই সঙ্গে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে যানজটের স্থান, নজরদারিতে রাখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য।
নওগাঁ শহরকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সারভিলেন্স অ্যান্ড সাইবার ল্যাব’। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টকে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এরই মধ্যে চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের যানজট শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও সহায়তা করছে ক্যামেরাগুলো।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শহরের কোথাও অপরাধ সংঘটিত হলে ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হচ্ছে। অপরাধীরা জানে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এখন প্রযুক্তির নজরদারির মধ্যে। ফলে অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের উদ্যোগে চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ আধুনিক প্রযুক্তির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ‘এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সার্ভিলেন্স অ্যান্ড সাইবার ল্যাব’। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে নওগাঁ শহরকে আনা হয়েছে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায়। ক্যামেরা স্থাপনের আগে নওগাঁ শহরে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির মতো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশকে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। পাশাপাশি অপরাধের ঘটনা তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্ত করতেও লেগে যেত দীর্ঘ সময়।
তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালুর পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ক্যামেরার নজরদারির কারণে অপরাধীরা এখন আগের তুলনায় বেশি সতর্ক। ফলে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা কমার পাশাপাশি ঘটনার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করাও সহজ হচ্ছে।
সম্প্রতি নওগাঁ শহরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র শহরে শরীরে নোংরা পদার্থ ছিটিয়ে মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়া একটি চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতেও ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান পুলিশ সুপার। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সাধারণত ব্যাংক, শপিং মল কিংবা ব্যস্ততম মোড়ের আশপাশে অবস্থান নিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করত। সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগীর শরীরে ছুড়ে দেওয়া হতো নোংরা বা তরল পদার্থ। এতে বিব্রত ও দিশেহারা হয়ে পড়তেন ওই ব্যক্তি। আর সেই সুযোগেই ভিড়ের মধ্যে থেকে পকেট কিংবা ব্যাগে হাত দিয়ে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করত চক্রের সদস্যরা। তবে শহরজুড়ে এআই-নির্ভর ডিজিটাল সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা চালুর পর এমন অপরাধ শনাক্তকরণে এসেছে নতুন গতি। পুলিশের দাবি, এআই ক্যামেরার রিয়েল-টাইম অ্যালার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি একই এলাকায় বারবার অস্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করলে কিংবা কোনো পথচারীর খুব কাছাকাছি গিয়ে সন্দেহজনক আচরণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নজরে আসে কন্ট্রোল রুমের মনিটরিং স্ক্রিনে।
শহরের মুক্তির মোড়ের মুদি দোকানি কালাম হোসেন ও পথচারি রিজিয়া পারভীন এর সাথে কথা হলে তারা জানান, এই আই ক্যামেরা শহরে স্থাপন এর কারনে আমরা আগের চেয়ে বর্তমান অনেক নিরাপদ মনে করছি। চুরি, ছিনতাই অনেক কমে আসবে বলে আশা করছি।
নওগাঁ সরকারি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক মোঃ আবু হাসান বলেন, এই প্রযুক্তিটি মূলত মানুষের মুখমণ্ডলের বিভিন্ন জ্যামিতিক পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে কাজ করে। ফলে তীব্র ভিড়ের মধ্যেও সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির চেহারা পুলিশের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের ছবির সাথে মিলিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার শতভাগ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারে এটি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ শহর ও আশেপাশে যেকান স্থানে কোন ধরনের অপরাধ সংগঠিত হলে আমরা এ আই ক্যামেরার সহায়তা গ্রহণ করছি। এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি নানা ধরনের ক্রাইম আমরা এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। ৬৪টি ক্যামেরার মধ্যে বর্তমানে সবগুলো সচল রয়েছে। নিয়মিত ক্যামেরাগুলো মনিটরিং করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ কারণে প্রচলিত পুলিশিংয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই চিন্তা থেকেই তার নিজস্ব উদ্যোগে শহরকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় উদ্যোগটি বাস্তবে রূপ পেয়েছে। চুরি-ছিনতাই, অপহরণ প্রতিরোধ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং শহরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টে অত্যাধুনিক এআই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শহরের আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির আওতায় আনা হবে।
জমি সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ওই ১০ আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন ভাই হলেন—মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুল। ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এজলাসে ১১ আসামির উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন মিয়া এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসাদুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল উপজেলার চর ভোলামরি এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি স্থানীয় চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধের জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আমানউল্লাহ বাদল।
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে আয়োজিত এক সুন্নতে খতনা কর্মসূচির পর অর্ধশতাধিক শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের মধ্যে ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসুস্থ শিশুদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে টেকনাফ থেকে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে রওনা দেওয়া এই বিশেষ মেডিক্যাল টিমে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নওশাদ আলম কানন, ডা. আশরাফুল ইসলাম ও উপসহকারী শাওখাত হোসেন মিতু রয়েছেন। তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ওষুধপত্রও পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম ওই কর্মসূচিতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ২১০ জন শিশুর খতনা করায়। তবে খতনার পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে পরদিন পর্যন্ত ৫৫ জন শিশু গুরুতর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ নিয়ে সেন্টমার্টিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বীপে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সতর্কতা মানা হয়নি। স্বল্প সময়ে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশুর খতনা করতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। দ্বী
পটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এখানকার অধিকাংশ মানুষ অসচ্ছল হওয়ায় শিশুদের এমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বৈরী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মুমূর্ষু শিশুদের তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানান, মেডিক্যাল টিম দ্বীপে পৌঁছেই শিশুদের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করবে। ঘটনার পেছনে চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্বীপবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে খতনা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কিশোরগঞ্জের ইটনায় মাছ ধরতে গিয়ে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়া অরুণ দাস (২২) নামে এক জেলের মরদেহ তিন দিন পর উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের বাকসাই-শিলুন্দিয়ার মধ্যবর্তী নতুন খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অরুণ দাস ধনপুর ইউনিয়নের ঠাকুরহাটির কানু দাসের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ দাস জানান, সোমবার দুপুরে শিলুন্দিয়া গ্রামের পূর্বদিকে ধনু নদীতে একটি ছোট নৌকায় বসে মাছ ধরছিলেন অরুণ দাস ও তার বড় ভাই সাগর দাস। এ সময় বাজিতপুর থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে যাওয়া একটি বাল্কহেড তাদের নৌকাটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
নৌকায় থাকা সাগর দাস সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অরুণ দাস নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। তিন দিন পর বুধবার সকালে বাকসাই-শিলুন্দিয়ার মধ্যবর্তী নতুন খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ধনপুর নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জামাল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাল্কহেডটি জব্দ করা হয়েছে এবং এতে থাকা পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর দুই বছর দুই মাস দুই দিন পর চাঁদপুরের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের দিন ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁদের দাফন করা হয়েছিল। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বুধবার সকাল ৮টা থেকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ দুটি তোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়াসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসনের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয় এবং অনুমতি মেলার পর কবর থেকে মরদেহ তোলার কাজ পরিচালিত হয়। দীর্ঘ সময় পর মরদেহ উত্তোলন প্রসঙ্গে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নূর আল দীন জানান, অনেক সময় মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়; এ ক্ষেত্রে শরীরে মাংসপেশি অবশিষ্ট না থাকলেও হাড়গোড় ও অন্যান্য ফরেনসিক আলামত পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করা যায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় চাঁদপুর সদর উপজেলার চাপিলা মাদ্রাসা এলাকায় ক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন সেলিম খান ও তাঁর ছেলে। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে কিছুটা এগিয়ে গেলেও পাশের বাগড়া বাজার এলাকায় তাঁদের গাড়িটি স্থানীয়রা আটকে দেয় এবং সেখানেই জনতার পিটুনিতে দুজনেরই মৃত্যু হয়। তৎকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্তের এই আদেশ দেন আদালত।
নিহত সেলিম খান লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা 'শাপলা মিডিয়া'র কর্ণধার ছিলেন এবং তাঁর ছেলে শান্ত খানও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করতেন। বিগত সরকারের আমলে পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কেলেঙ্কারির কারণে তিনি দেশজুড়ে ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকির একাধিক মামলা এবং অতীতে কারাভোগের ইতিহাস রয়েছে।