বগুড়ায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের রথযাত্রার উৎসবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ রোববার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হওয়ার পর ১০০ গজ দূরে বগুড়া শহরের সেউজগাড়ি আমতলা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হাসপাতালে যান এবং সবার চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজ নেন।
নিহতরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল গ্রামের রঞ্জিতা (৬০), আদমদিঘী উপজেলার কুন্ডু গ্রামের নরেশ মহন্ত (৬০), সদর উপজেলার তিনমাথা রেলগেটের লঙ্কেশ্বরের স্ত্রী আতসী রানী (৪০) ও শিবগঞ্জ উপজেলার কুলুপাড়া গ্রামের অলক কুমার (৪২)। তবে এক নারীর (৪০) নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আহতরা হলেন, রীপা (৫০), তুর্ণ (২), কৃষ্ণা (৪৬), প্রীতিলতা (১৮), চুমকী (৪৪), পুজা (২৯), ডলি (৩০), শিউলি (৫৫), নীপা (৩২), রীমা (২৩), রত্না (৫৫), পুতুল (৫০), শান্তি (৪০). স্বরস্বতি (৩), মোহনা (১২), ঝর্ণা (১২), চুমকী (৪০), গীতা (৪৫), ফুলকীসহ (৮) ৪০ জন। আহতরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা
বগুড়া মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনিসুর রহমান জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেউজগাড়ি ইসকন মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হয়। পরে ১০০ গজ আসতেই রাস্তার পাশে ১১ হাজার ভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের সঙ্গে রথযাত্রার গম্বুজের ধাক্কা লাগে। এ সময় লোহার তৈরি পুরো রথ বিদ্যুতায়িত হলে ঘটনাস্থলে দুইজন পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ৪০ জন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. স্নিগ্ধ আখতারও এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে আজ। হিন্দু রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে আনন্দমুখর পরিবেশে ৯ দিনব্যাপী শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই বিকেল ৩টায় উল্টো রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মুদির দোকান মালিককে জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার নন্দীগ্রাম হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রয় না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন।
সেসময় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে নিউ ফকির স্টোরের মালিক শফিকুল ইসলাম (৪৯) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন খাদ্য পরিদর্শক আবু মুসা সরকার। সহযোগিতায় ছিলেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। দন্ডপ্রাপ্ত মুদির দোকানদার শফিকুল ইসলাম নন্দীগ্রাম পূর্বপাড়ার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, প্রত্যেক দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। আর কোনোভাবেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম ক্রেতাদের নিকট থেকে নেওয়া যাবে না। এজন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিধবা ভাতার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অনেক অসহায় নারী দীর্ঘ ৪ বছর আগে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও আজ অবধি তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি এই সুবিধা। ভুক্তভোগীরা বারবার সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘বরাদ্দ নেই’ বলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে সরকারের এই মানবিক কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দুস্থরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। চার বছর আগে ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু প্রতিবার গেলে অফিস থেকে বলা হয় বরাদ্দ আসেনি। আমাদের মতো গরিবের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।’ এছাড়া বয়স্কভাতার জন্য আরও এক ভোক্তভোগী জানান, গত বছরের ২০২৫সালে আবেদন করেছি। এখনো কোনো খবর হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবা খাতের বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বরাদ্দ সংকটের দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘুরানো হচ্ছে। এই অচলাবস্থা কবে নিরসন হবে এবং কবে থেকে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ এই সেক্টরের অনিয়ম ও গাফিলতি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যোগ্য ও প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভাতার আওতায় আনা হোক।
কমলগঞ্জ সমাজ সেবার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া জানান, বরাদ্দ না থাকার কারণে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে এই বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগকারীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বেনাপোল প্রতিনিধি। যশোরের বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাক থেকে মিথ্যা ঘোষনা দিয়ে আমদানি করা রুই মাছের একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস সদস্যরা।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে মাছের চালানটি আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার বিকালে মাছটি নিলামে বিক্রি করা হয়।
পণ্যচালানটির আমদানি কারক ঢাকার সাজ্জাত এন্টার প্রাইজ এবং বন্দর থেকে ছাড় করনের কাজে নিয়োজিত ছিল সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আলেয়া এন্টার প্রাইজ।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারি কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সামুদ্রিক মাছ ঘোষণা দিয়ে রুই মাছ আমদানি করা হয়েছে। পরে মাছবাহী ট্রাকে অভিযান চালিয়ে ১০ প্যাকেজে ৬০০ কেজি রুই মাছ আটক করা হয়েছে। শুল্ক ফাঁকি বাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রেরক: রাশেদ রহমান, বেনাপোল যশোর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ১০ মার্চ বগুড়া সফরের কথা থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান সোমবার (২ মার্চ) রাতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের ১০ মার্চের কর্মসূচি বাতিল হয়েছে। পরে কর্মসূচি দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচন; সে কারণে প্রধানমন্ত্রী ভোটের আগে কর্মসূচি নেননি। পরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি পাব।’
এর আগে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছিল। সুফলভোগী পরিবার বাছাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহও শুরু হয়। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডেও কমিটি করা হয়েছে।
প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবে। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
‘ফ্যামিলি কার্ডের’ জন্য প্রতি পরিবারের একজন নারী নিবন্ধিত হবেন। একটি ওয়ার্ডে যত পরিবার যোগ্য বিবেচিত হবে, তাদের সবাইকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়ার কথা রয়েছে।
পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস ‘পাইলটিং’ কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি প্রতিটি উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিও।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু ইরা আর নেই। সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা যমে-মানুষে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানল দ্বিতীয় শ্রেণির এই ছোট্ট শিক্ষার্থী।
এর আগে গত রবিবার দুপুর ২টার দিকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের গহীন জঙ্গলে এক বীভৎস দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। তাঁরা দেখেন, একটি ছোট শিশু জঙ্গল থেকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় টলমল পায়ে হেঁটে রাস্তার দিকে আসছে। শিশুটির এমন অবস্থা দেখে তৎক্ষণাৎ সেখানে কর্মরত এক্সক্যাভেটর চালক ও স্থানীয় দুই যুবক রবিউল ও আরিফ তাকে উদ্ধার করেন। তাঁরা দ্রুত নিজেদের একটি ট্রাকে করে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠিয়েছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি ক্ষীণ কণ্ঠে নিজের পরিচয় দিয়েছিল। সে জানিয়েছিল, তার নাম ইরা (৭), সে কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং মসজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ইরা আরও জানিয়েছিল, তার নিজের এলাকারই এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে ফুসলিয়ে ইকোপার্কের গহীন জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। ওই ব্যক্তিকে দেখলে সে চিনতে পারবে বলেও ইশারায় নিশ্চিত করেছিল। তবে ঘাতকের নাম বলার আগেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে কুমিরা থেকে অপহরণ করে বা অন্য কোনোভাবে সেখানে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। ঘাতককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের মতো একটি সংরক্ষিত এলাকায় এমন অপরাধের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিস্পাপ এই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশার আক্রমণ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট এমনকি মসজিদেও স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফগার মেশিনের দেখা নেই। নালা-নর্দমা ও ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় মশার বংশবিস্তার বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
এই ওয়ার্ডে অবস্থিত নগরীর ‘ফুসফুস’খ্যাত ধর্মসাগর দীঘি। সন্ধ্যার পর কর্মজীবী মানুষ বিশ্রাম নিতে দীঘির পাড়ে এলেও মশার যন্ত্রনায় বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারছেন না। ব্যাংকার ইনজামামুল হক সৈকত বলেন, “সারা দিনের ধকল শেষে একটু প্রশান্তির জন্য ধর্মসাগরপাড়ে আসি। কিন্তু গত এক মাস ধরে শুধু এখানে নয়, নগরীর কোথাও বসা যায় না। প্রতি মিনিটে অসংখ্য মশা কামড় দেয়।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলম জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রম দেখেননি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল খান বলেন, ‘ড্রেন পরিষ্কারের কাজ নেই, মশা তাড়ানোরও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। মহা যন্ত্রণায় আছি আমরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি কর্পোরেশনের দুই কর্মকর্তা জানান, ফগার মেশিনে মূলত কেরোসিন স্প্রে করা হচ্ছে; কার্যকর কীটনাশক ব্যবহার না করায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। এতে প্রতিদিনই মশা বাড়ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, এভাবে মশার বিস্তার অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়বে। গত বছর যে হারে ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এ বছর মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মামুন বলেন, মশা নিধনে কোনো কার্যক্রম নেই, এটি সঠিক নয়। বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্প্রে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে লোকবলের অভাব রয়েছে, এটাও সত্য।
স্প্রেতে ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নরসিংদীর বিভিন্ন বয়সি দেড়শত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে নরসিংদী জেলা শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এসব ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবের আয়োজনে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন উপজেলার দেড়শত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে বিতরণকৃত উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল তেল, সেমাই, দুধ, চিনি, পোলাও চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯ প্রকারের খাদ্যসামগ্রী। ঈদসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মো. আমিরুল হক, জেলা ড্যাবেরসহ সভাপতি ডা. এ.কিউ.এম. মোবিন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মোহাম্মদ আবু কাউসার সুমন, চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন মোল্লা, জেলা বিএনপির গণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রউফ ফকির রনি, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ এবং নরসিংদী জেলা ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. নূরুল্লাহ আল মাসুদের সঞ্চালনায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ড্যাবের অন্যান্য নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পৌর সদরের বোয়াইলমারী হাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রচলিত দরপত্র বিধিমালা লঙ্ঘন করে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি হাট কমমূল্যে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, চলতি বছর সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ও রসুলপুর (বনগ্রাম) হাট কমমূল্যে নিলাম করা হয়েছে। কাশিনাথপুর হাটে মাত্র দুটি টেন্ডার সিডিউল জমা পড়েছে। রসুলপুর (বনগ্রাম) হাটে তিনটি। টেন্ডার দাতারা সমঝোতা করে এবং দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কম মূল্যে নিলাম বিট করেছে। এতে দুটি হাটে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা।
অপরদিকে সাঁথিয়া সদরের বোয়াইলমারী হাট ইজারার জন্য ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি দরপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। অথচ গত বছর একই হাটের ইজারা মূল্য ছিল ৯০ লাখ টাকা। এবার নিলাম মূল্য উঠেছে ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সিডিউল বিক্রি হয়েছে ৭ টি কিন্তু জমা পড়েছে ৩ টি। অর্থাৎ সমঝোতা হয়েছে।
এখন দেন দরবার শুরু হয়েছে। কম দামে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা একে ‘সাজানো নাটক’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, ইজারা মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, ইজারা প্রক্রিয়ায় মাত্র তিনটি দরপত্র জমা পড়েছে। টেন্ডার বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি দরপত্রের সঙ্গে নির্ধারিত পরিমাণ ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু জমাকৃত তিনটির মধ্যে কেবল একটি দরপত্রের সঙ্গে ব্যাংক ড্রাফট রয়েছে। বাকি দুটি দরপত্রে কোনো ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক ড্রাফটবিহীন দরপত্র বাতিল হওয়ার যোগ্য। ফলে একটি বৈধ দরপত্রকে একক দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করে কম মূল্যে হাট ইজারা দেওয়ার পথ সুগম করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়াতে এবং একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘লোকদেখানো’ দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া কার্যত ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হলে সরকার আরও বেশি রাজস্ব পেতে পারত। ত্রুটিপূর্ণ টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসব অপকর্মের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন জড়িত!
বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, ‘বিগত তিন বছরের টেন্ডার দর গড় করে নিলাম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই মোতাবেক যদি গড় মূল্যের চেয়ে নিলাম মূল্য বেশি হয় তখন সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেয়া হয়ে থাকে।’ এক্ষেত্রে তাই হয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে হাট-বাজার, সায়রাত মহাল, বালু মহাল ইত্যাদি নিলামে ব্যাপক নয়-ছয় হয়েছে। স্বৈরাচারী সরকারের এমপি, স্থানীয় মেয়র এবং চেয়ারম্যানদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সমঝোতা নাটকের মাধ্যমে কম মূল্যে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিগত তিন বছরের গড় মূল্য কমে রাজস্ব হ্রাস পেয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ডক্টর আ.ন.ম বজলুর রশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুসারে হাট-বাজার, সায়রাত মহাল, বালু মহাল ইত্যাদি লিজ প্রদান করা হয়ে থাকে।’
তিনি আরও জানান, সরকারি নীতিমালা সংশোধন করা দরকার। কারণ টেন্ডার সমঝোতা (Negotiation) করে দুষ্ট চক্র রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের পকেটে টাকা উঠাচ্ছে।
অভিজ্ঞজনরা মনে করেন, একটি কিংবা দুটি সিডিউল যখনই জমা পড়ে তখন পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করে দর বাড়ানোর চেষ্টা করা।
দীর্ঘদিন ধরে নড়াইলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি হচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজে জড়িত। সম্প্রতি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি বাসুদেব ব্যানর্জির বাড়ি থেকে লাল রংয়ের একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল চুরি যায়। বিষয়টি জানতে পেরে নড়াইলের পুলিশ সুপার গোয়েন্দা পুলিশকে চোরচক্রের হোতাদের গ্রেপ্তারে নির্ধেশ দেন।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকশ দল মাঠে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তল্লাশি চালিয়ে চুরি যাওয়া একটি মোটরসাইকেল কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের সাজ্জাদ শিকদারের বাড়ি থেকে একটি এবং একই রাতে নড়াইল পৌরসভার জোবায়ের হোসেনের বাড়ির সামনে থেকে আরেকটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। এ সময় চোর চক্রের সদস্য লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামের তবিবর শেখের ছেলে মো.সজীব শেখ, ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার কান্দি গ্রামের ছরোয়ার মাতবরের ছেলে মো. আলামিন, কালিয়া উপজেলার জয়পুর গ্রামের আবের শিকদারের ছেলে মো. সাজ্জাদ শিকদার, নড়াগাতী থানার খামার গ্রামের মো. হাবিবুর মোল্যার ছেলে সাইফুল ইসলামকে আটক করে।
মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের নেতৃত্ব দেন নড়াইল গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের নির্দেশ পেয়ে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি কাজ লাগিয়ে একই রাতে দুইটি মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চার জনকে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বালিধা গ্রামের বৈরাগী মোড় এলাকার একটি মাছের ঘেরপাড় থেকে আরিফ হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ মার্চ) মধ্যরাতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত আরিফ হোসেন বালিধা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে লাশ আনোয়ার ফকিরের মাছের ঘেরে ফেলে যায়। তার মাথায় উপর্যুপরি কুপানোর চিহ্ন এবং ডান হাতের কব্জি কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করেও হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয়রা ঘেরের পানিতে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশ ও নিহতের পরিবারকে খবর দেন। খবর পেয়ে নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত স্থানের পাশে একটি দিয়াশলাই ও কিছু নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় উঠতি বয়সি নেশাগ্রস্ত ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত কিছু কিশোর-যুবকের সঙ্গে আরিফের চলাফেরা ছিল। ওইসব বিষয়কে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে আরিফ একটি দামি মোবাইল ফোন কিনেছিলেন। মোবাইলটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশেও হত্যাকান্ড ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, কী কারণে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় গভীর রাতে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি কাঠের ভূষি (গুঁড়া) তৈরির কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী মিল মালিক। গত রোববার (১ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের ছোট রায়পাড়া গ্রামে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২ মার্চ) সকালে সরজমিনে ছোট রায়পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে থাকা তিনটি ট্রান্সফরমারের মধ্যে একটি গায়েব। খুঁটির নিচের ঝোপঝাড়ে পড়ে আছে ট্রান্সফরমারটির বিচ্ছিন্ন কিছু অংশ। ধারণা করা হচ্ছে চোর চক্র সুকৌশলে খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমারটি নামিয়ে ভেতরের মূল্যবান তামা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মিল মালিক লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, ‘কাঠের গুঁড়া তৈরির কারখানাটি সচল রাখার জন্য আমি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে প্রায় ৫ লাখ টাকা জমা দিয়ে ৩৭.৫ কেভিএ সিঙ্গেল ফেজ পোল মাউন্টেড এই ট্রান্সফরমারটি বসিয়েছিলাম। সকালে এসে দেখি পোলে ট্রান্সফরমার নেই নিচে শুধু খালি ডিব্বাটা পড়ে আছে। একদিকে মিল বন্ধ হওয়ায় বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি, অন্যদিকে শ্রমিকরা অলস বসে আছে। আমি এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর আওতাধীন গজারিয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আশরাফুল আলম জানান, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের ভেড়ামারা গ্রামে ‘বোমা’ সাদৃশ্য একটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে উদ্ধারকৃত বস্তুটি কোনো বোমা নয়, বরং শিশুদের পরিত্যক্ত একটি খেলনা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা পিয়ার আলী ও লোকমান হোসেন তাদের বাড়ির গেটের পাশে একটি সন্দেহজনক জুতার প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন। কৌতূহলবশত প্যাকেটটি পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখতে পান—ভেতরে একটি বডি স্প্রের ক্যান, একটি প্লাস্টিকের বোতল এবং সেগুলোর সঙ্গে পেঁচানো বৈদ্যুতিক তার রয়েছে। পাশেই ছিল বাক্স আকৃতির আরেকটি বস্তু।
প্যাকেটটির অস্বাভাবিক গঠন দেখে মুহূর্তেই এলাকায় ‘বোমা’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকেন এবং অজানা আশঙ্কায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি দ্রুত দৌলতপুর থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে।
পুলিশ জানায়, নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর নিশ্চিত হওয়া যায়—উদ্ধারকৃত বস্তুটি কোনো বিস্ফোরক নয়; বরং শিশুদের ফেলে দেওয়া একটি খেলনা। মূলত বডি স্প্রের ক্যান ও প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি ওই খেলনায় তার জড়িয়ে থাকায় সেটি দেখতে অনেকটা শক্তিশালী বোমার মতো মনে হয়েছিল।
এ বিষয়ে লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। এটি কোথা থেকে এলো বা কে ফেলেছে, তা প্রশাসনই বলতে পারবে। আমরা দেখার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিয়েছি। পরে তারা এসে জানায়, এটি বোমা নয়।’
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে। পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি কোনো বিস্ফোরক নয়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো শিশু খেলার ছলে এটি তৈরি করে বাড়ির পাশে ফেলে রেখেছিল, যা থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।’
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে কৃষি খাতে পানির সংকট বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নাটোরের বড়াইগ্রামে সোমবার (২ মার্চ) পানি ব্যবহারকারী কৃষক গ্রুপের জন্য বিকল্প ভেজানো ও শুকানো (AWD) পদ্ধতি বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আলী ও বিএডিসি বড়াইগ্রাম জোনের সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউল হক। তারা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পানি সাশ্রয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সজীব আল মারুফ জানান, AWD পদ্ধতি অনুসরণ করলে ধান চাষে ২০–৩০ শতাংশ পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব, ফলে খরচ কমে ও লাভ বৃদ্ধি পায়। প্রশিক্ষণে সেচ ব্যবস্থাপনা, জমিতে পানির স্তর নির্ধারণ ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের ব্যবহারিক কৌশল প্রদর্শন করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আয়োজিত এ কর্মসূচি ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থাপনা কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।