শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
সিরাজগঞ্জ

লাম্পি স্কিন রোগে এক মাসে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৯ জুলাই, ২০২৪ ১০:০৫
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত : ৯ জুলাই, ২০২৪ ১০:০৪

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ছড়িয়ে পড়া লাম্পি স্কিন (এলএসডি) রোগে আক্রান্ত হয়ে এক মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক গরু মারা গেছে। পল্লি চিকিৎসকদের চিকিৎসায় বেশি টাকা খরচ করেও গরু বাঁচাতে না পারায় চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা।

খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত চর্মরোগটি গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষার শুরুর দিকে বছরে দুবার ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত মশা, মাছি ও বিশেষ পোকার মাধ্যমে গরুর দেহে ভাইরাস ছড়ায়। এ ছাড়া সংক্রমিত গরুর সঙ্গে খাবার গ্রহণ করলেও এ রোগ ছড়াতে পারে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার তালম পদ্মপাড়ায় করিম সুপারের একটি, তালম গ্রামের সোরহাব হোসেনের দুটি, বকুলের একটি, হাবিব মাস্টারের একটি, রবিউল করিমের একটি, আলামিনের একটি, মোতালেবের একটি, সেলিম সরকারের একটি, কালামের একটি, নামা সিলেট গ্রামের তাহের উদ্দিনের একটি, দিঘী গ্রামের জহুরুল ইসলামের দুটি, সগুনা গ্রামের মাহবুর হোসেনের একটি, চরকুশাবাড়ি গ্রামের লিটন আহমদের একটি, ভাটার পাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের একটি, রহমত আলীর একটি, খালকুলা গ্রামের সবের আলীর একটি, তাড়াশ পৌর এলাকার কৃষক ইউনুস আলীর একটি, সানোয়ার হোসেনের একটি, দিঘুরিয়া গ্রামের আউয়াল হোসেনের একটি, শিবপুর গ্রামের মহন আলীর একটিসহ উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে কৃষক ও খামারিদের কমপক্ষে ৫০টি গরু মারা গেছে।

তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের তালম পদ্মপাড়া গ্রামের মাদ্রাসার সুপার মো. করিম হোসেনের বাড়ির উঠানে গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড দুর্গন্ধ গোয়াল ঘর থেকে বাড়ির চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। যেন সেখানে থাকাই দায়। বাড়ির অনেকে নাকে কাপড় দিয়ে সরে যাচ্ছেন দূরে। এরই মধ্যে গামছায় মুখ বেঁধে গোয়ালে ঢুকলেন দুজন কৃষক। তারপর একটি মরা গরুর চার পা রশিতে বাঁধা হলো। এরপর রশিতে বাঁধা গরুর পায়ের ভিতর দিয়ে লম্বা কাঠ দিয়ে ওই দুজন কৃষক কষ্ট করে কাঁধে নিয়ে রওনা হলেন। লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া গরু মাটিতে পুঁতে রাখার জন্য কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়ি থেকে দূরে ফাঁকা স্থানে।

স্থানীয়রা জানান, গত মাস খানেক ধরে প্রত্যন্ত গ্রামে কৃষক, খামারিদের গরুর লাম্পি স্কিনে আক্রান্তের হার বেড়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাজুড়ে। আর গত এক মাসে এ উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে কৃষক ও খামারিদের কমপক্ষে ৫০টি গবাদিপশু (গরু) মারা গেছে।

তালম গ্রামের কৃষক সোরহাব আলী জানান, প্রথমে তার লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। খাবারের রুচি কমে আসে। এক সময় আক্রান্ত গরুর জ্বর বেশি হয়ে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে। এরপর গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়ায় গুটি গুটি ক্ষত দেখা দেয়। সে ক্ষত কয়েক দিনে পচে গিয়ে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। পাশাপাশি গরুর দুই পায়ের মাঝে বুকের নিচে পানি জমতে ঝুলে পড়ে।

তিনি বলেন, ‘আমার দুটি গরু লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ওই দুই গরুর চিকিৎসা করাতে দুই সপ্তাহে পল্লি প্রাণী চিকিৎসকদের ভিজিট ও দামি দামি ওষুধ কিনতে প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয় করি। তারপরও আমার গরু দুটি বাঁচাতে পারিনি।’

ভুক্তভোগী কৃষক এবং খামারিদের ভাষ্য, উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরেনারি হাসপাতালে গেলে গরুসহ অন্যান্য গবাদিপশুর তেমন চিকিৎসা পান না। আবার পল্লি প্রাণী চিকিৎসকদের কাছে গেলে তারাও দু-একটি ইনজেকশন আর অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়ে প্রথমবারের হাজার ১২০০ টাকা বিল করেন। আর বলেন, চিকিৎসা করেন দেখা যাক কি হয়।

চৌড়া গ্রামের পল্লি প্রাণী চিকিৎসক মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, তালম, কুসুম্বী ও বিনোদপুরসহ অনেক গ্রামে লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চলছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডা. অলিউল ইসলাম গরু মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরেনারি হাসপাতালে থেকে লাম্পি স্কিনসহ নানা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর চিকিৎসায় আমরা আন্তরিক। এ ছাড়া এরই মধ্যে শত শত গরুকে লাম্পি স্কিনের প্রতিষেধক টিকাও দেওয়া হয়েছে। আর লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত গবাদিপশু গরুর মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ প্রতিষেধক টিকা কাজ করলেও ২০-২৫ ভাগ কাজ করবে না। পাশাপাশি পল্লি প্রাণী চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শাস্তি দেওয়া ছাড়া কিছু করার এখতিয়ার নেই।


নির্বাচিত

সরকারি জায়গা দখল করে মিনি ওভারপাস, শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ

কুমিল্লা জজকোর্ট রোডের ফৌজদারী মোড়ের উত্তর পাশে শিল্পী আসিফ আকবরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য লেন ও মিনি ওভারপাস তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোরে হাঁটতে বের হয়ে বিষয়টি দেখতে পান সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম তরুন। পরে তিনি ঘটনাটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। নগরবাসীর মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একটি বাড়ির গেট দিয়ে সরাসরি বড় সড়কে গাড়ি ওঠানামার সুবিধার্থে গোপনে সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও সড়কের অংশ দখল করে প্রায় ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের জায়গাজুড়ে একটি লেন/মিনি ওভারপাস তৈরি করা হয়। এতে সড়কের চলাচলযোগ্য অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নেয়। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নির্দেশে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয় এবং বেকু দিয়ে নির্মিত স্থাপনাটি ভেঙে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “সিটি করপোরেশনের রাস্তা দখল করে কেউ রাখতে পারবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত ড্রেনের জায়গা ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত স্থাপনার পরিধি বাড়ানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে সেই অংশ সড়কের দিকে চলে আসায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে।

জজকোর্ট এলাকার সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন আদালতের বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ফলে সড়কের জায়গা সংকুচিত হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি সড়ক ও ড্রেনের জায়গা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো। তারা ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দখল না হয়, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নির্মাণ করা অংশটি দ্রুত ভেঙে দেওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে সিটি করপোরেশনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

রাউজানে আলোকিত সংঘের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে অটোরিকশা প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের আলোকিত সংঘের উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিবসে প্রায় ২০০ জন কসমেটিক খতনা, নাক, কর্ণছেদন ও, কৃতি শিক্ষার্থীদে সংবর্ধনা এবং ২টি পরিবারে অটোরিকশা প্রদান করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে স্থানীয় দরবারে কামালিয়া মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবু জাহেদ মুনছুর। সংগঠনের সাবেক সাধারাণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বাপ্পার সঞ্চালনায় এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, রাউজানের সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিউল আজম আল কাদেরী।

এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, আলাউদ্দিন, মুবিনুল হক, সি. সদস্য মো. এরশাদ, রাসেল। উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট টিভি চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান আলমগির সবুজ ও স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ এহসানুল কবির।

আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার, শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ ডা. জাহেদ কামাল, উরকিরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আরমান হোসাইন, জাহেদুল ইসলাম, রবিউল হোসেন খোকন সেকান্দর সুমন, আলি আজম, আলিম উদ্দিন আশিক, সাংবাদিক মোহাম্মদ জাহেদুল আলম, এম রমজান আলী, তৈয়ব চৌধুরী, সাংবাদিক আনিসুর রহমান।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহসভাপতি নুরউদ্দিন রকি, সহসভাপতি সাকিবুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মারুফ, ও সদস্যদের মধ্যে মো. মহসিন হাসান হৃদয়, রবিন, ইরফান, মো. আবু সাঈদ, ওসমান, তনিম, ফাহিম, ইফতি, রাফি, নেছার, তারেক, মুহিব, সাঈম, আরাফ, মাহিম, জিসান প্রমুখ।


নির্বাচিত

ফেনীতে তীব্র গ্যাস সংকটে বাসাবাড়িতে ভোগান্তি, অচল ফিলিং স্টেশন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

ফেনীতে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফেনী শহর ও উপজেলাগুলোতে প্রতিদিন ভোর ৬টায় গ্যাস চলে যায়, গভীর রাতে আসে। এতে রান্না-বান্না ও সিএনজিচালিত গাড়িগুলো গ্যাস না পাওয়ায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। গ্রাহকরা বাসাবাড়িতে বিকল্প হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার, মাটির চুলা ও ইলেকট্রিক চুলা দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় নামমাত্র গ্যাস রয়েছে তা দিয়ে রান্না করতে পারছে না তারা।

গ্যাস না থাকায় ফেনী শহরের লালপুল এলাকার স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ রকম সমস্যা ফেনীর সকল সিএনজি স্টেশনে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

পিকাপচালক মোহাম্মদ মানিক বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ১৪০০ টাকার গ্যাস নিয়ে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হই। পথে গ্যাস শেষ হয়ে যায়। স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না পেয়ে নোয়াখালীর একটি পাম্পে রাত ২টা থেকে অপেক্ষা করে সকাল ৮টায় ৫০০ টাকার গ্যাস পাই। ওই গ্যাস নিয়ে ফেনী স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত এসে অপেক্ষা করছি গ্যাস পেলে চট্টগ্রাম রওনা দেব।’

ফেনী স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার মোরশেদ আলম বলেন, ‘গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।’ বাহাত্তর ঘণ্টা পর গ্যাস চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো গ্যাসের জন্য এসে ঘুরে যাচ্ছে। আমরা স্টাফরা বসে রয়েছি।

পশ্চিম সোনাপুর এলাকার গৃহবধূ জান্নাতুল নাঈম জান্নাত জানান, ভোর ৬টায় গ্যাস চলে গেলে আসে রাত ১টায়। আমরা অনেক ভোগান্তিতে আছি। মাটির চুলায় রান্না করতে হয়। সিলিন্ডারও ব্যবহার করতে হয়। গ্যাসের সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।

একই এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী মো. নাঈম জানান, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। তারও দাম বেশির কারণে বিকল্প হিসেবে মাটির চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকার যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ফেনীর শিল্প উদ্যোক্তা ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার লোক কর্মরত আছেন। জনজীবনে প্রতিনিয়ত এটার প্রভাব বিস্তার হচ্ছে এবং একটা অস্থিরতা কাজ করছে। অতি দ্রুত সংকট নিরসনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় গ্যাসের চাহিদা রয়েছে আটাশ থেকে ত্রিশ মিলিয়ন ঘনফুট। তার বিপরীতে সরবরাহ পাচ্ছি চৌদ্দ থেকে পনের মিলিয়ন ঘনফুট। এ গ্যাস গ্রাহকদের সরবরাহ করছি, তাই গ্রাহকরা চাপ কম পাচ্ছেন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি। আশা করছি শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

গ্যাসের সংকট সমাধানে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটি আশা সকলের।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান চলাকালে কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান চলাকালে যশোরের কেশবপুরে প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণে জুয়েল (৩৫) নামে এক মোটর শ্রমিক আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেশবপুর পৌর শহরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধ্যকুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত জুয়েল মধ্যকুল গ্রামের ব্যবসায়ী খানের ছেলে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই সময়ে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স চলছিল।

অনুষ্ঠান চলাকালে পৌর শহরের একটি ফিলিং স্টেশনের উত্তর পাশে জেলেপাড়া সড়কের মুখে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

এতে পথচারী জুয়েলের পায়ে স্প্লিন্টার লেগে গুরুতর জখম হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আরও দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতার উদ্দেশে শুক্রবার রাতে মধ্যকুল এলাকায় মজিবুর রহমান মুজিবের একটি মৎস্য খামারে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গোপন বৈঠক করেন।

তাদের দাবি, কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক মোড়ল এবং সাবেক কাউন্সিলর কামাল খানের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন এতে অংশ নেন।

বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, ‘গত রাতে মধ্যকুল গ্রামের একটি মৎস্য ঘেরে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠকের বিষয়টি এলাকাবাসী পুলিশকে জানিয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম জানান, জুয়েলের পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, ‘বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আহত জুয়েলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

ঘটনাস্থল থেকে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’


নির্বাচিত

ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতায় ডুবেছে হাজারো বিঘা জমি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ডোমরা বিল থেকে কোনোভাবেই মিলছে না পানি নিষ্কাশনের পথ। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। পানি না সরায় মারাত্মক চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষিরা।

​​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডোমরা বিলের পানি আটকে থাকার কারণে খর্নিয়া ইউনিয়নের—

​টিপনা,​ আংগাদহ, ​পাঁচপোতা, ​পাঁচুড়িয়া, ​ভদ্রদিয়া, বাহাদুরপুর,​গোনালী ও ​বামুন্দিয়াসহ আশপাশের প্রায় সবকটি গ্রামের হাজার হাজার বিঘা রোপা আমন, সবজি ক্ষেত এবং শত শত মাছের ঘের এখন পানির নিচে। ঘের ভেসে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ বের হয়ে গেছে, যা স্থানীয় চাষিদের লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

​স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসন‌ ​ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, ‘পানি নামার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। কালভার্ট ও নর্দমাগুলো পলি পড়ে এবং জায়গায় জায়গায় অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলের পানি সরছে না। কৃষকদের চোখের সামনে সব স্বপ্ন পানিতে ভেসে যাচ্ছে। দ্রুত টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না করলে পুরো এলাকার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে।’

​ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেম বলেন, ‘এটি কোনো স্বাভাবিক দুর্যোগ নয়, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও অনিয়ন্ত্রিত বাঁধের কারণে আজ এ কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে, তা না হলে হাজার হাজার কৃষক নিঃস্ব হয়ে যাবে।’

​খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক (চেয়ারম্যান) মোসলেম আলী বলেন, ‘ডোমরা বিলের পানি নিষ্কাশনের আকস্মিক এ জটিলতা নিয়ে আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে পানি বের করার রুটগুলো পরিদর্শনের কাজ চলছে। দ্রুত সাময়িক নালা কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

​ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন, ‘ডুমুরিয়া খর্নিয়ার ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতার খবর আমরা পেয়েছি এবং স্থানীয়দের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম কোনো বাধা থাকলে তা উচ্ছেদ করে দ্রুত পানি অপসারণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

​দ্রুত পদক্ষেপের দাবি ​বিশাল এ বিলের পানি না সরলে শুধু বর্তমান মেয়াদের ফসল ও মাছই নষ্ট হবে না, সামনে শীতকালীন সবজি চাষেও দেখা দেবে চরম বিপর্যয়। ফলে অনতিবিলম্বে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে নিষ্কাশন নালা পুনঃখনন এবং টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


নির্বাচিত

কমলগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দিশেহারা পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং এবং ‘অস্বাভাবিক’ ভূতুড়ে বিলে চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় এই অসহনীয় গরমে যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এর ওপর আবার ব্যবহারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিল আসায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা উপজেলায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডাররা সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি না গিয়ে অফিসে বসে মনগড়া রিডিং বসিয়ে বিল প্রস্তুত করছেন। নিয়মিত রিডিং না দেওয়ায় হঠাৎ একসাথে কয়েক মাসের বিল জমলে ইউনিটের ধাপ (স্ল্যাব) পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বিলের ডিজিটাল বোঝা চাপছে। এসব ভূতুড়ে বিল সংশোধনের জন্য জোনাল অফিসে দিনের পর দিন ধরণা দিয়েও প্রতিকার মিলছে না, উল্টো ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

উপজেলার ভানুগাছ, মুন্সিবাজার, পতনঊষার, আলীনগর ও মাধবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ী জোসেফ আলী জানান, তার দোকানে সাধারণত ৫০০-৬০০ টাকা বিল এলেও জুন মাসে তা লাফিয়ে ৪,৮০০ টাকায় পৌঁছায়। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে তা কমিয়ে ১,৮০০ টাকা করা হয়। একইভাবে ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম স্বাভাবিক ২,৫০০ টাকার বিল এবার এসেছে ৫,০০০ টাকা। জাহিদুর রহমান ও সাহেল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে এক ঘণ্টা থাকে না। কাজের ব্যাঘাত ঘটলেও শ্রমিকদের নিয়মিত হাজিরা দিতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন লোকসান গুণতে হচ্ছে।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন ৩টি সাব-স্টেশনের অধীনে বর্তমানে ৭৫ হাজার ২০৪ জন গ্রাহক রয়েছেন, যার মধ্যে ২২টি চা-বাগান ও বেশ কিছু ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।

ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় আমরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। আমাদের দিনের বেলায় ১৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১১ মেগাওয়াট এবং রাতে ২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৩ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। সার্বিকভাবে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।’ তবে ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, গরমে বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হওয়ায় বিল কিছুটা বেড়েছে।


নির্বাচিত

লাইব্রেরিমুখী হচ্ছে চবি শিক্ষার্থীরা

ছীব: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

চাকসু নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বেড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে। গ্রন্থাগারের অবকাঠামোগত সংস্কার ও পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করায় হঠাৎ করেই বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের তথ্য ও সরেজমিনে দেখা গেছে, চাকসু নির্বাচনের আগের তুলনায় বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন পাঠাগারে যাতায়াত করছেন।

লাইব্রেরির রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে সবমিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬-৭শ শিক্ষার্থীর যাতায়াত হচ্ছে লাইব্রেরিতে। এর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী নাম এন্ট্রি না করে উন্মুক্ত স্থানে বই নিয়ে পড়াশোনা করতে আসে। চাকসু নির্বাচনের আগে আগত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক ছিল।

চাকসু নির্বাচনের পর লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে যেটি আগে ছিল না। শিক্ষার্থীরা বই নিয়ে প্রবেশ করতে না পারার কারণে লাইব্রেরিতে যেতে চাইত না। এখন সেটি শিথিল করা হয়েছে। এ ছাড়া লাইব্রেরিতে আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, "চাকসু নির্বাচনের পর আমরা লাইব্রেরি নিয়ে কাজ করেছি, শিক্ষার্থীরা আগে বই নিয়ে প্রবেশ করতে পারত না, আমরা বই নিয়ে প্রবেশ করার ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আমরা কাজ করেছি।

তিনি আরো বলেন, "লাইব্রেরিতে উন্মুক্তভাবে পড়াশোনার জন্য আমরা দুটি যায়গার স্থান তৈরি করে দিয়েছি। এ ছাড়া দ্বিতীয় তলায় প্রায় ৬০ টি আসন বৃদ্ধি করেছি।"

​১৯৬৬ সালে সামান্য পরিসরে মাত্র ৩০০ বই নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি এখন ৫৬ হাজার ৭০০ বর্গফুটের সুবিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা দিতে এখানে যুক্ত রয়েছে আধুনিক সাইবার সেন্টার, ১২টি কম্পিউটার ও কেন্দ্রীয় সার্ভার।

​দেশি-বিদেশি ৪ লক্ষাধিক বই ও জার্নালের পাশাপাশি গ্রন্থাগারটির ‘দুষ্প্রাপ্য ও পান্ডুলিপি শাখা’ রয়েছে।

সেখানে তানপত্র, তুনট কাগজ ও বাঁশের ওপর বাংলা, সংস্কৃত, পালি, আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় লেখা ৫৬৫টি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি এবং ১৮৭২ থেকে ১৯৫৩ সালের সাড়ে তিন হাজার পুরোনো সাময়িকী রয়েছে, যার অনেকটাই অন্য কোনো গ্রন্থাগারে মেলানো দায়।

লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য শাখার কর্মকর্তা বাবর আলী সরকার বলেন, "লাইব্রেরিতে আগের তুলনায় শিক্ষার্থীদের যাতায়ত বেড়েছে, পর্যাপ্ত বই এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থাকলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরো বাড়বে।"


নির্বাচিত

শিক্ষা-গবেষণা-শিল্পের মেলবন্ধনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে খুকৃবি

* তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খুকৃবির সমঝোতা * দক্ষ, মানবিক ও উদ্ভাবনী কৃষিবিদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে : উপাচার্য
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন-২০২৬ শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশের কৃষি ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার।

এ সময় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার মোঃ রেজাউল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিআই মোটরস, লাল তীর ও বায়ার ক্রপ সায়েন্সের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার কৃষিবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ এবং নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিভিন্ন অনুষদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দুইজন নবীন শিক্ষার্থী এবং ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষির বহুমাত্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তিনি জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন, কৃষি কার্ড, খাল খনন, শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আলোকপাত করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সময়কে হেলাফেলা নয়, কাজে লাগাতে হবে:

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম নবীন শিক্ষার্থীদের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও ল্যাব সুবিধার উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রফেসর ড. রেজাউল করিম বলেন, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সময়। সময়কে কোনোভাবেই হেলাফেলা করে নষ্ট করা যাবে না। সময়ের যথাযথ ব্যবহার করে জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তিনি কৃষির গুরুত্ব এবং টেকসই উন্নয়নে কৃষিবিদদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদ হতে হবে:

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক স্বাগতম ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আত্মদানকারী সকল শহীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ও টেকসই করতে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগতি ও সৃজনশীলতাকে ধারণ করে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তোমরা হবে মানবিক, দক্ষ, সৎ, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদ। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তোমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতায় তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক: অনুষ্ঠানে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এসিআই মোটরস, লাল তীর এবং বায়ার ক্রপ সায়েন্সের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

মাগুরায় নৃত্যাঙ্গণের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

“শব্দ যেখানে থেমে যায়, নৃত্য সেখানে কথা বলে”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নৃত্যাঙ্গন মাগুরার সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নৃত্যাঙ্গন মাগুরার প্রধান উপদেষ্টা ও মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাববীর আহমেদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতীম দাস এবং জেলা জাসাসের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ ন ম কাজী সিরাজ উদ্দিন মিহির।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পী হুমায়ুন ইবনে বাবর ও নৃত্যাঙ্গন মাগুরার স্বত্বাধিকারী অপরাজিতা ইয়াসমিন মৌসুমি।

আলোচনা সভা শেষে নৃত্যাঙ্গন মাগুরার প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা বিভিন্ন গানের সঙ্গে সৃজনশীল নৃত্য পরিবেশন করেন। মনোমুগ্ধকর এই আয়োজন উপভোগ করতে মাগুরার নানা শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন ।


নির্বাচিত

আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আজিজুল হাকিম, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়ির পাশে আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) পুতে রেখে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টায় মো.দিনা ওরফে দিদার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাত পৌনে ৫টার দিকে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বরাই এলাকার থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ (পাইপগান) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মোহাম্মদ স্বাধীন নামের আরেক যুবক পালিয়ে গেছে।

গ্রেপ্তারকৃত মো. দিনা ওরফে দিদার (৩২) সদর উপজেলার বরাই এলাকার মৃত গেদা মিয়ার ছেলে এবং একই এলাকার মোহাম্মদ স্বাধীন (৩৮)।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানান, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বরাই এলাকার রামপ্রসাদ ঘোষের বাড়িতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) আছে, মো. দিনা ওরফে দিদারের এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে রামপ্রসাদ ঘোষের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। কিন্তু রামপ্রসাদ ঘোষের বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে কোন অস্ত্র পাওয়া যায়নি।

এরপর শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাত পৌনে ৫টার দিকে সংবাদদাতা মো.দিনা ওরফে দিদারকে সঙ্গে নিয়ে রামপ্রসাদ ঘোষের বাড়ির পাশের সেপটি ট্যাংকের কাছে মাটিতে পুতে রাখা প্লাস্টিকের একটি বাজারের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এরপর ওই ব্যাগের ভেতর থেকে কাপড়ে মোড়ানো দুটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়।

কিন্তু দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) উদ্ধারের পর মো. দিনা ওরফে দিদারের আচারণ সন্দেহজনক হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মো.দিনা ওরফে দিদার ও স্থানীয় মোহাম্মদ স্বাধীন নামের এক যুবক মিলে সেখানে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) পুতে রেখেছিলেন বলে স্বীকার করেন। এরপর দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান) উদ্ধারসহ মো. দিনা ওরফে দিদারকে আটক করা হয়। তবে মো. দিনা ওরফে দিদারের আটক খবর পেয়ে মোহাম্মদ স্বাধীন নামের আরেক যুবক এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

জেলা গোয়েন্দা ডিবির ওসি মানবেন্দ্র মানব জানান, গ্রেপ্তারকৃত মো. দিনা ওরফে দিদার ও মোহাম্মদ স্বাধীনের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। আর পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছেন।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বোমা বিস্ফোরণে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শক্তিশালী হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে কালকিনি পৌরসভার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে আবিদা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিক্ষার্থীরা যখন মাদ্রাসায় প্রবেশ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে মাদ্রাসার চত্বরে অবস্থিত ইমন সরদার নামক এক ব্যক্তির বসতঘরের সামনে থাকা হাতবোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তেই মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত ছাত্রীদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।

বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশের বিশেষ দল এবং গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানিয়েছেন যে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও সিআইডির বিশেষ ইউনিট কাজ শুরু করেছে। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কীভাবে এবং কার মাধ্যমে এই নাশকতামূলক বস্তু এল, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


নির্বাচিত

গাজীপুরে বাড়িতে ঢুকে ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরবেলা এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহত কামরুন নাহার ওই গ্রামের স্বনামধন্য রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী। এই হামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম এবং তাঁর মেয়ে সানজিদা আক্তার মিমও গুরুতর জখম হয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, রাত ৩টার দিকে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল মঞ্জুরুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও পাহারাদার বসিয়ে বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকেই দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ভুক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কামরুন নাহার প্রাণ হারান এবং আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, হামলার ধরন দেখে এটি পরিকল্পিত ডাকাতি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশের ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহ করেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নিহত কামরুন নাহারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

দুপুরের মধ্যে সাত অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সাতটি অঞ্চলে আজ মাঝারি থেকে তীব্র ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সেই সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে যে, দিনের তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং আগামীকাল রবিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩৪ মিনিটে। বর্ষা মৌসুমের এই খামখেয়ালি আবহাওয়ায় যাতায়াতকারী ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close