শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
২৯ ফাল্গুন ১৪৩২
বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পানিবন্দি এক লাখ মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৯ জুলাই, ২০২৪ ১০:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৯ জুলাই, ২০২৪ ১০:০৪

যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি পানিবন্দি মানুষের। দুই জেলায় এক লাখেরও বেশি মানুষ গত এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি। স্কুলগুলোতে পানি ঢুকে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিস্তারিত সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনে-

সিরাজগঞ্জ

গত ৬ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে ১ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার ৫টি উপজেলার ১৮ হাজার পরিবারের মোট ৮৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি এখনো।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের কৃষক জলিল শেখ বলেন, ‘যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আশপাশের গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে বাড়ির মধ্যে হাঁটুপানিতে বসবাস করছেন। এমনকি চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজার পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে।’

মোহনপুর গ্রামের তাঁতশ্রমিক শহিদুল ইসলাম ও কোরবার আলী বলেন, ‘গত ১ সপ্তাহ ধরে তাঁত কারখানায় পানি উঠেছে। এতে তাঁতের কাজ নেই। ঘরে বসে ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে কাজকর্ম না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপদে রয়েছি। ছেলেমেয়ে কেউ স্কুলে যেতে পারছে না।’

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন-অর-রশিদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও আইসিটি রোজিনা আক্তার বলেন, ‘বন্যার কারণে এ পর্যন্ত জেলার ৫টি উপজেলার ৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মিলে ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, দুই দিন ধরে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী তিন-চার দিন পানি কমবে। এরপর আবারও পানি বাড়তে পারে। তবে ভারী বন্যার আশঙ্কা নেই। এ ছাড়া ভাঙন-কবলিত এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ৬ ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর বলেন, চলতি বন্যায় জেলার ৬ হাজার ৪৯৭ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এসব জমির পাট, তিল, কলা ও মরিচ এখন পানির নিচে। এখনো ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, জেলার ৫টি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ৩৮৫টি পরিবারের ৮৩ হাজার ১৫২ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য ৯৫ মেট্রিক টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মজুত রয়েছে আরও ৪০৫ টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা ও ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলো পানিতে কানায়-কানায় পরিপূর্ণ। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। চরাঞ্চলের অনেকে নৌকায় বা স্বজনদের বাড়ি ও উঁচু জায়গা আশ্রয় নিয়েছেন।

গাবসারার কালীপুর গ্রামের সবুর আলী বলেন, ‘৩-৪ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছি। ১২ জনের পরিবার, শিশু-সন্তান ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছি। চরের সব জায়গায় পানি আর পানি। এ ছাড়া কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে খাবারও নেই, দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি।’

একই গ্রামের আছর উদ্দিন, শফিকুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, ‘বাড়িতে পানি, যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। নৌকাতেই থাকতে হচ্ছে। নতুন পানিতে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বেড়ে গেছে। সবার মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পাইনি।’

এদিকে রোববার বিকেলে উপজেলার অর্জুনা পরিষদ মাঠে বন্যা-কবলিত অসহায়দের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বন্যার্তদের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন বিতরণ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া পানিবন্দিদের তালিকা সম্পন্ন হয়েছে। অতিদ্রুত তাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা এবং ভাঙন-কবলিত রাস্তায় যাতায়াতের জন্য আপাতত বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হবে।’

বিষয়:

মুরাদনগরে ভাড়া বাসা থেকে কলেজ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন (কুমিল্লা দক্ষিণ) প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাইফুল ইসলাম (চাষী সাইফুল) নামে এক কলেজ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত সাইফুল ইসলাম জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে। তিনি গত তিন বছর ধরে রামচন্দ্রপুর অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজে ইংরেজি বিষয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী জানান, গত ৫ তারিখে তিনি কলেজে ক্লাস নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তিনি মাঝেমধ্যে কাউকে কিছু না জানিয়েই কয়েকদিন কলেজে অনুপস্থিত থাকতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৮ মার্চ) শিক্ষার্থীরা তার ভাড়া বাসায় এসে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা ফিরে যান।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজার দুটি তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে পচন ধরেছে, ধারণা করা হচ্ছে চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


বেড়ায় কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার বেড়ায় মরহুম অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম এবং বেগম নূরুন্নাহার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সিএন্ডবি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নূরুন্নাহার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বেড়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ ফজলুর রহমান ফকির এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও বিশিষ্ট চিকিৎসক আলহাজ ডা. আব্দুল বাসেত খান।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর (অব.) এ.টি.এম ফজলুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে ক্রেস্ট ও বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে পবিত্র কোরআনের আদর্শে জীবন গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন।

পুরস্কার বিতরণ শেষে মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।


তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এসেছে। ইতোমধ্যে পুরো দেশের দৃশ্যপট তিনি বদলে দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানিসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বগুড়া পৌর ও সদর উপজেলার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন বরাদ্দ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা বলেন, তাই করে দেখান। ভোটের সময় দেয়া হাতের কালি শুকানোর আগেই তার নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশবাসীর কাছে তার সুফল দৃশ্যমান।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তারেক রহমানের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নজিরবিহীন। যা দেখে দেশের মানুষ অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে। সরকার পরিচালনায় বিএনপির অভিজ্ঞতা, গৌরবোজ্জ্বল অতীত ও সুনাম রয়েছে। যা অন্য রাজনৈতিক দলের নেই। সেই জন্যই গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিএনপি দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। যেখানে মানুষ জান-মালের নিরাপত্তা পাবে। শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।

বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেলের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, জজকোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম টুকু, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা বেগম প্রমুখ।


হাটহাজারীতে ৫ দোকানিকে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পাঁচ দোকানিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত হাটহাজারীর বিভিন্ন ঈদ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ‘ঈদ বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল, কেনা-বেচার সঠিক রশিদ/ ডকুমেন্টস সংরক্ষণ না করে বেশি দামে বিক্রয়, যথাযথ লাইসেন্স না রাখা, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না রাখা ইত্যাদি অপরাধে জুয়েলকে ২০ হাজার, আবু তাহেরকে ১০ হাজার, লোকমানকে ১০ হাজার, মো. রায়হান রাজুকে ১০ হাজার ও মুশফিকুর রহমানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পবিত্র রমজানের ঈদের শপিং যেন মানুষ নির্বিঘ্নে করতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ করেন।


কেশবপুরে অনলাইন চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে অনলাইন (ভিডিও কলে) চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ৮ মাস বয়সী শিশু আরিয়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের মালিক বিদেশে অবস্থান করে অনলাইনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানালে হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীরা মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১১ মার্চ) সকালে কেশবপুর শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেক্সোনা খাতুন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হয় এবং সেখানে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন ইউএনও। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিলবোর্ড খুলে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেসময় উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেশবপুরে কিছু অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ীর কারণে প্রায়ই ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটছে। এতে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কেশবপুরবাসী।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কুলাউড়ায় ৫১ মাদ্রাসায় খেজুর বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৫১টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি সরকারের দেওয়া ২২৪ প্যাকেট খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে এসব খেজুর তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হোসেন খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন, ময়নুল হক পবন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা কামরুল হাসান, শাহিন আহমদ ও ফেরদৌস আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এসব খেজুর প্রদান করা হয়েছে।


হরিণাকুন্ডুতে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েরা পেলেন ঈদ উপহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে একটি বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রমে সংযোগ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে এ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জেলা কো-অর্ডিনেটর মুন্সী মো. আবু হাসান, উপদেষ্টা কে এম সালেহ, শাহানুর আলম, কাজী আলী আহম্মেদ লিকু, জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইসমত আরাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসরত ২৪ জন মায়ের হাতে ঈদ উপহার হিসেবে নতুন শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। উপহার পেয়ে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজান মাসজুড়ে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের জন্য প্রতিদিন ইফতারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়াও সমাজে আত্মকর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে হরিণাকুন্ডু উপজেলার দুটি মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে।

আয়োজকরা বলেন, সমাজের অবহেলিত ও বয়স্ক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।


নড়াইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কৃষক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

বাড়ির পাশেই রেল লাইন। পোষা ছাগল ছুটে রেলনাইনের ওপর উঠে পড়ে। ছাগল ধরে আনতে গিয়ে রেলে কাটা পড়েন আমিনুর রহমান ওরফে চান মিয়া(৫৫) নামে এক কৃষক।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সারুলিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আমিনুর সারুলিয়া গ্রামের তামজেল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে চান মিয়ার বাড়িসংলগ্ন রেল লাইনের পাশে ছাগল বাধতে যান। ছাগলটি দৌড়ে রেল লাইনের ওপর উঠে পড়ে। দড়ি ধরে টেনে আনতে যান। প্রতিদিনের মতো এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে তিনি কাটা পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী একই গ্রামের হোসেন আলী ও ইদ্রিস মোল্যা বলেন,আমরা রেল লাইনের বিপরীত পাশের জমিতেই কাজ করছিলাম। ট্রেন আসছে চিৎকার করে চান মিয়াকে দুই তিনবার বলেছি। মনে হয় ট্রেনের বিকট শব্দে তিনি তা শুনতে পাননি। ফলে চান মিয়া ট্রেনে কাটা পড়ে। তারা বলেন চান মিয়া কৃষি কাজ করে। আমাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন ঘটনা স্থলে ছুটে আসে। মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ বাড়িতে

আসে।

লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল রেলের জায়গায় হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।


দুর্নীতির দায়ে পদ হারালেন মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রভাস চন্দ্র সিংহকে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১১ মার্চ) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে।

একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে প্রভাস চন্দ্র সিংহের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মানী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসমা সুলতানা নাসরীন এই তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের লিখিত জবানবন্দি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রভাস চন্দ্র সিংহকে উপপরিচালক ও ভিডিও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তার নিয়োগের পরপরই একাডেমির নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র, নাট্য ও সংগীত প্রশিক্ষকসহ অফিস সহায়করা একযোগে তার দায়িত্ব প্রাপ্তির বিরোধিতা করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসবের প্রশিক্ষণ বিল নিজ নামে উত্তোলন, শিল্পীদের নামে-বেনামে ভুয়া ভাউচারে টাকা তুলে আত্মসাৎ, শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মানী সঠিকভাবে প্রদান না করাসহ নানা অভিযোগ উল্লেখ করে ১ ডিসেম্বর তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

গত সোমবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিউলী হরি স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে উপপরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই জেলা প্রশাসন নতুন দায়িত্বের বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়।

এ বিষয়ে প্রভাস চন্দ্র সিংহ জানান, বর্তমানে তাকে একাডেমির তার পূর্বের পদ ‘গবেষণা বিষয়ক কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, একাডেমির নবনিযুক্ত পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে এই একাডেমির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা।


সুন্দরবনে বিচ জবা ফুলের রঙে রঙিন উপকূল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য আরও বেড়েছে বিচ জবা ফুলের (স্থানীয় ভাষায় বলই) সৌন্দর্যে। নদীর ধার এবং খালের পাড় ঘেঁষে এই গাছের হলুদ ফুলের মধ্যে গাঢ় মেরুন রঙের কেন্দ্র বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, এই গাছ মূলত উপকূলীয় মাটি ও লবণাক্ত পরিবেশে ভালো জন্মে। এ কারণে সুন্দরবনের আশেপাশের এলাকায় বিচ জবা প্রচুর দেখা যায়। ফুল ফোটার সময় গাছের সৌন্দর্য পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীদের আকর্ষণ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মীর বলেন, ‘এই গাছের ছায়া ও পাতা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাখি ও কীটপতঙ্গরা এখানে বাস করে।’ এছাড়া বিচ জবার কাঠ ও ছাল স্থানীয়ভাবে ব্যবহার হয় গৃহস্থালি কাজে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বিচ জবার সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা প্রয়োজন, যাতে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

ফলে বলা যায়, বিচ জবা কেবল ফুল নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার।


রাজশাহী বার নির্বাচন: ২১ পদের মধ্যে ২০টিতেই জয়ী বিএনপিপন্থি আইনজীবী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বার সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তারা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। সভাপতি পদে এই প্যানেল থেকেই আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক পদে পারভেজ তৌফিক জাহেদী নির্বাচিত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং আধা ঘণ্টা বিরতির পর বেলা দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ নম্বর বার ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ৬৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ৬২৬ জন ভোট দেন। গণনা শেষে রাতে ফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনার শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম সেলিম জানান, নির্বাচনে বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যানেল। তবে শুধু সহ-সভাপতি পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম মিজানুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মাহাবুবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মজিজুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) ইমতিয়ার মাসরুর আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ) নুর-এ কামরুজ্জামান ইরান, হিসাব সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শামীম, লাইব্রেরি সম্পাদক সেলিম রেজা মাসুম, অডিট সম্পাদক তানভীর আহমেদ জুলেট, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সম্পাদক শাহজামাল, ম্যাগাজিন অ্যান্ড কালচার সম্পাদক জানিজ ফাতেমা কাজল এবং সদস্য ইয়াসিন আলী, শামীম আহমেদ, মাঈনুর রহমান, হাফিজুল ইসলাম, জাকির হোসেন (২), শাহীন আলম মাহমুদ, রেশমা খাতুন, হুমায়ুন কবির শাম্মী এবং রহিমা খাতুন।

নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে পৃথক দুটি প্যানেলে ৪২ জন প্রার্থী এবং স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে একজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


গাংনীতে ড্রামট্রাক বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

আপডেটেড ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৯:১৩
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

গাংনী উপজেলার পোড়াপাড়া গ্রামে একটি ইটভাটায় মাটি বহনকারি ড্রামট্রাক বিদ্যুতায়িত হয়ে গাড়িতে থাকা জহিরুল ইসলাম (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সহকারী সজীব (৩০) গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জহিরুল ইসলাম গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল গ্রামের মৃত আব্দুল মাজিদের ছেলে। আহত সজীব একই উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের লাল্টু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, পোড়াপাড়া গ্রামের ময়নালের থ্রি-স্টার ইটভাটায় মাটি ফেলে ফেরার সময় ড্রামট্রাকটি অসাবধানতাবশত ইটভাটার বৈদ্যুতিক সংযোগের মেন তারের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এতে মুহূর্তেই ট্রাকটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই চালক জহিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সহকারী সজীবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

ড্রামট্রাকের মালিক কাফিরুল ইসলাম জানান, নিহত জহিরুল ইসলাম প্রায় ৫ বছর ধরে তার ড্রামট্রাকটি চালাচ্ছিলেন।

রাতে ইটভাটায় মাটি রেখে ফেরার সময় অসাবধানতাবশত ট্রাকের ড্রাম পুরোপুরি নামানো না থাকায় সেটি বৈদ্যুতিক খুঁটির মেন তারের সাথে স্পর্শ করে বিদ্যুতায়িত হয়।

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


নারীদের জন্য ওয়াশ ব্লক তৈরি করল পঞ্চগড় জেলা পরিষদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ঐতিহ্যবাহী পঞ্চগড় বাজার পূর্বে এটি ছিল হাঁট-কালের বিবর্তনে বর্তমানে বাজারে পরিণত হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার এটি। বাজার তৈরি হওয়ার পর থেকে নারীদের জন্য কোন প্রকার ওয়াশ ব্লক ছিল না। ওয়াশ ব্লক না থাকায় নারীদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক নারীরা তাদের আত্মীয়দের বাসায় যান। যাদের কোন নিকটতম আত্মীয় নেই সে সব নারীদের বাধ্য হয়ে কেনাকাটা বাদ দিয়ে বাড়ির পথে হাটতে হয়।

সে সব বিষয় বিবেচনা করে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন। পঞ্চগড় পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার কয়েক বছর পরেই পুরুষদের ওয়াশ ব্লক তৈরি হয় কিন্তু ৩ যুগ পরেই নারীদের ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদ।

একজন ভোক্তভোগী , মোছাঃ ফাতেমা বেগম ৯নং মাগুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি জানান, বাজার করতে এসে ওয়াশ ব্লকের প্রয়োজন হলে তখন আমাদেরকে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে হয়। তিনি আরও জানান যে ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি হয়েছে সেই ওয়াশ ব্লক খোলা হলে আমাদের নারীদের জন্য অনেক উপকার হবে বলে আশা করি।

পঞ্চগড় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এ মহিলাদের জন্য ২টি ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেন জেলা পরিষদ পঞ্চগড় অর্থবছর ২০২৪-২৫খ্রি.।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভা:) জেলা পরিষদ পঞ্চগড়, অঞ্জন কুমার সরকার জানান যে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাবি নেওয়া হয়েছে, পূর্বে থেকে পুরুষের ওয়াশ ব্লক রয়েছে, সেই স্থানেই বর্তমানে নারীদের ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হয়েছে, আগামীকাল খোলার পর পরিষ্কার পরি”ছন্নতার পরে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে, এবং নারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে।


banner close