শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৪ ২২:০০

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)। কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে গত তিন সপ্তায় কক্সবাজারে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এক দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সিকদার বাজার এলাকায় বসবাসকারি সাইফুল ইসলামের বাড়ির উপর আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মাটির দেয়াল ভেঙে সাইফুলের ঘুমন্ত শিশু চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে মাটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে ভোরে শহরের এবিসি ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় জমিলা আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ওসি।

জমিলার পরিবারকে উদ্ধৃত করে রকিবুজ্জামান বলেন, ভোরে জমিলা আক্তার রান্না ঘরের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার স্বামী আরেক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়লে জমিলা মাটি চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ নিজেদের বাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় লায়লা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান রকিবুজ্জামান।

নিহত লায়লা বেগমের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় লায়লা বেগম ছেলে জোনায়েদকে কোলে নিয়ে পাহাড়ের মাটি ভাঙছে কি না দেখতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল। এ সময় আকস্মিক পাহাড় ধসে বসতবাড়ির ওপর মাটিচাপা পড়ে। এতে তার স্বামী ও অপর ২ মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও লায়লা বেগম ও এক শিশুসন্তান মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও তার মা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দুদিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।

শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, আরও পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি

এদিকে, আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারি (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।

ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে।

উত্তরে নদীর পানি বাড়ছে

এদিকে, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীর পানি বাড়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর ফলে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ‘সামান্য অবনতি’ হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দেশের ৯টি নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল।

ওই সময় বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১১০টি স্টেশনের মধ্যে ৪৭টি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ৬১ পয়েন্টে বাড়ছিল আর অপরিবর্তিত ছিল দুই পয়েন্টে।

বুলেটিনে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীর পানি ‘সময় বিশেষে’ বাড়তে পারে।

তাতে ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা ও দুধকুমার নদী-সংলগ্ন কুড়িগ্রাম জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।

এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের মহানন্দা, যমুনাশ্বরী, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুর্নভবা, টাঙ্গন এবং ইছামতি- যমুনা নদীর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এদিকে গঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে, এ পরিস্থিতি আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

ব্রহ্মপুত্রের পানিও বাড়ছে, অন্যদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে; আগামী ২৪ ঘণ্টায় দুই নদীর পানিই স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে বুলেটিনে।

সেখানে বলা হয়, পদ্মা নদীর পানি এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে; তবে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এ সময় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আত্রাই নদীর পানি বাঘাবাড়ী পয়েন্টে কমে নদী সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।


কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:১৭
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে। কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও এডহক কমিটি, উপজেলা কমান্ডের উদ্যোগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা ভবনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মেরাজুল ইসলাম।

এ সময় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন তালুকদার (সদস্য, এডহক কমিটি), গ্রুপ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নরেন্দ্রনাথ বাড়ৈ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোদাচ্ছের হোসেন ঠাকুর এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌরাঙ্গ লাল চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মোট ৩৪৮ জন জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।

শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মেরাজুল ইসলাম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

শীতবস্ত্র বিতরণে পূর্বে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটির তালিকা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন কমান্ডারদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।


ঝালকাঠিতে অসহায় শীতার্থদের মাঝে স্কাউটের কম্বল বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠিতে অসহায় ও দুস্থ শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে সাউথ বেঙ্গল ওপেন স্কাউট গ্রুপ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ঝালকাঠি কলেজ রোডস্থ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কার্যালয়ে এ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অসহায় ৫০ জন শীতার্থদের হাতে কম্বল তুলে দেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী জামান।

ঝালকাঠি জেলা রোভার স্কাউটের যুগ্ম সম্পাদক ও সাউথ বেঙ্গল ওপেন স্কাউট গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এস এম রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বিষেশ অতিথি ছিলেন জেলা রোভার সম্পাদক মো. মাসুম, জেলা রোভার ঝালকাঠির ইয়ং লিডার মো. আল আমিন এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ঝালকাঠি শাখার সভাপতি এমদাদুল হক স্বপন।

এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, স্কাউট সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অতিথিদের বক্তৃতায় তারা বলেন, শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ও সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।


কাপাসিয়ায় যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে ১১টি ঘোড়া ও ৮টি জবাই করা ঘোড়ার মাংস জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাসক গ্ৰামের যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে ১১টি জীবিত ঘোরা ও ৮টি জবাই করা ঘোড়া মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে এই ঘোড়ার মাংসের ব্যবসা করতেন বলে জানায় এলাকাবাসী।

জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মৃত. আলাউদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দশটার দিকে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে একজোট হয়ে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আসতে থাকে। ঘোড়াগুলি জবাই করা ব্যক্তিরা পরিস্থিতি টেরপেয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা একটি পিকআপ ঢাকা মেট্রো-ন-১১-৩৬৬৫ ভাঙচুর করে এবং আরেকটি কাবারব্যান্ড ঢাকা মেট্রো- ন-১৭-১৭৬৫ আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

স্থানীয়রা জানান, জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ আমলে অনেক অপকর্ম করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সে দীর্ঘদিন এলাকায় আত্ম গোপনে ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় ফিরে আসে। এসে সে এই ব্যবসার দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে। সে গরুর খামারের নামের আড়ালে ঘোড়ার মাংসের ব্যবসা শুরু করে। নির্জন এলাকাতে বাড়ি হওয়াতে তার বাড়িতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কম থাকায় সেই সুযোগ নিয়ে ঘোড়ার মাংসের ব্যবসা শুরু করে।

গাজীপুরের সহকারী কমিশনার স্থানীয় সরকার শাখা ও ট্রেজারি শাখা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধির দায়িত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফয়সাল জানান, অভিযান পরিচালনা সময় জবাই করা ৮টি ঘোড়ার মাংস মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। জীবিত ১১টি ঘোড়া উদ্ধার করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। একটি কাবার ব্যান্ড ও একটি পিকআপ পুলিশের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ একেএম আতিকুর রহমান, ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ আবদুল্লাহ আল মামুন, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ ওহাব খান খোকা। কাপাসিয়া থানার উপ-পরিদর্শক জিহাদুল হক প্রমুখ।


রাতের আঁধারে ৮ ঘোড়া জবাই, পুলিশের অভিযানে মাংস ও  জীবিত উদ্ধার ১১টি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাশক এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে গভীর রাতে ঘোড়া জবাইয়ের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি পরিত্যক্ত গরুর খামারে অভিযান চালিয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ৮টি জবাই করা ঘোড়ার মাংস এবং ১১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধী চক্রের মূল হোতারা আগেভাগেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এক ঘোড়া ব্যবসায়ী ও তার কয়েকজন সহযোগী মাংস বিক্রির অসৎ উদ্দেশ্যে ঘোড়াগুলোকে ওই খামারে জড়ো করেছিল। এলাকার সচেতন নাগরিকদের সন্দেহ ও পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে এই অবৈধ চক্রের আরও বড় কোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, লোভের বশবর্তী হয়ে একটি সুসংগঠিত চক্র রাতের আঁধারে অত্যন্ত গোপনে এ ধরনের অবৈধ কাজ করে থাকে। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিনুর আলম নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, অবৈধভাবে প্রাণী জবাই ও বিক্রির সাথে জড়িত অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। উদ্ধারকৃত জীবিত ১১টি ঘোড়াকে বর্তমানে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে চরম সতর্কতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গাজীপুরে প্রাণী সংরক্ষণ ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সচেতন মহলের মতে, ভবিষ্যতেও এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। পুলিশের দ্রুত অভিযানের প্রশংসা করার পাশাপাশি স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে, শীঘ্রই এই অপরাধচক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।


ভাঙ্গায় বাস ও ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৭

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে যেখানে ফরিদপুরগামী ‘সপ্তবর্ণা পরিবহন’ বাসের সঙ্গে একটি ইটবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন ফরিদপুর সদরের কোতয়ালী থানার ধলার মোড় এলাকার বাসিন্দা ও ট্রাকচালক নবীন শেখ (২২) এবং ট্রাকের হেলপার রাশেদ (৩০)। হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ফলে ট্রাকটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঘটনাস্থলেই রাশেদ প্রাণ হারান এবং ট্রাকচালক নবীনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন এবং তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায় এবং কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত দুজনই ট্রাকে ছিলেন।”


ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় যৌথ অভিযান: অস্ত্রসহ আটক ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন গ্রামে একটি অবৈধ অস্ত্র কারখানার সন্ধান পাওয়ার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের এক সফল যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পরিচালিত এই অভিযানে বাদল সরকার (৫২) নামে এক কারিগরকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, একটি ১২ গেজের কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, দুটি হ্যামার, একটি ড্রিল মেশিন, প্লায়ার্স, ব্লোয়ার ও হ্যাকসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, বাদল সরকার ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব কারখানায় নিয়মিতভাবে অস্ত্র তৈরি করে ফরিদপুরের বিভিন্ন দুষ্কৃতকারীদের কাছে সরবরাহ করে আসছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অস্ত্র মামলা রয়েছে। অভিযানের পর তাঁকে উদ্ধারকৃত সরঞ্জামসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মধুখালী থানায় একটি মামলা করেছে। মামলায় বাদল সরকারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।”


ট্রাকচাপায় ইসলামী আন্দোলন নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর ফুলতলা এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাদশা। তিনি উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের হাচেন আলীর ছেলে এবং কুমারখালী গোলচত্বর এলাকার আল মদিনা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

জানা গেছে, সহকর্মী মুফতি খাইরুল বাশারকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে কুষ্টিয়া-৪ আসনের দলীয় প্রার্থী আনোয়ার খাঁনের বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে একটি আলুবোঝাই ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে তারা সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় ঘাতক ট্রাকটি বাদশাকে পিষ্ট করে দ্রুত পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং তার সহযোগী আহত হলেও বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আনোয়ার খাঁন জানান যে দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই বাদশার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল এবং তিনি জরুরি প্রয়োজনে দেখা করতে আসছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবে।”


নরসিংদীর পাঁচ যুবক নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি   

অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার পাঁচ তরুণ। ভারত হয়ে গ্রিসে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে দালালরা আদায় করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই তরুণদের সন্ধান পাচ্ছে না পরিবার। দালালরা বিদেশে থাকায় তাদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।

রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী গ্রামে প্রবাসী মারুফের ঘরের চালে রেখে যাওয়া কবুতর, গোয়ালে গাভী এখন দেখাশোনা করছেন তার বাবা আবদুল মালেক। গোয়ালের কয়েকটি গাভী বিক্রি ও ঋণ করা টাকায় স্বপ্নযাত্রা ছিল মারুফের। ৭২ হাজার টাকার ডলার সঙ্গে ছিল তার। ধাপে ধাপে দালালকে পরিশোধ করতে হয় আরও ১০ লাখ টাকা। প্রায় পাঁচ মাস লিবিয়া থাকার পর নিখোঁজ হয় সে। ক্ষণে ক্ষণে ছেলের কথা মনে করে কাঁদেন মা আনোয়ারা বেগম।

তিনি বলেন, ‘আমি বলছিলাম যে, যাস না তুই। বলে, না আমি যামু। মানুষ যাইতেছে না? কয়েকজনের নাম বলে বলল, হেরা গেছে, আমিও যামু। অনেক খোঁজাখুঁজি হচ্ছে, কোনো খবর পাই না। দালাল ও দিতে পারে না, আমরাও পাই না।’

ঘুড়ি নিয়ে মাঠে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানো দুরন্ত জোবায়েরের নাটাই-সুতা এখানো তার শোয়ার ঘরে শোভা পায়। পলাশতলীর এ তরুণের বয়স জাতীয় পরিচয় পত্রে ২১ হলেও মা ফেরদৌসী বেগমের দাবি ছেলের বয়স ১৭ কিংবা ১৮। নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে আসায় বুক বেঁধে আছেন তিনি।

ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আমরা আশায় আছি আমার ছেলে ফিরে আসবে। আমরা মা-বাবা তো আশা ছাড়তে পারি না। আমাদের সন্তান আল্লাহ আমাদের বুকে ফিরিয়ে দিক।’

চালের কারখানায় কাজ করতেন উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের তারেক মিয়া। তার নিজের ঘর নেই। মা জামিনা খাতুন জরাজীর্ণ টিনের বেড়ায় কোনোরকম রাত যাপন করেন। স্বজনদের থেকে ঋণ করে ছেলের ইউরোপ যাত্রায় ব্যবস্থা করে দেন প্রায় ১১ লাখ টাকা। ছেলের শোকে কাতর এ মায়ের এখন ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়ছে দিন দিন।

তারেক মিয়ার মা জামিনা খাতুন বলেন, ‘একটা গোডাউনের ভেতর রেখে আসছে। আমি দেখে বলছি, আমার ছেলে এর মধ্যে কীভাবে বাঁচবে? আমার ছেলে নেই।’

অবৈধ পন্থায় সমুদ্র পথে ইউরোপের দেশে প্রবেশের গল্প পুরোনো। যে কারণে মৃত্যু বা হারিয়ে যাওয়ার সংখ্যাও প্রতি বছর দীর্ঘ হয়। তবুও অনিশ্চিত এ গন্তব্যের যাত্রা থেমে নেই।

এমন এক যাত্রাপথে গিয়ে নিখোঁজ হন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাঁচ তরুণ। উপজেলার পলাশতলীর মারুফ ও জোবায়ের, মরজালের কাউসার, উত্তর বাখরনগরের তারেক ও শিপনের যাত্রা ছিল লিবিয়া থেকে গ্রিসে।

এ পাঁচ তরুণকে পৃথক সময়ে প্রথম নেওয়া হয় ভারতে। সেখানে থেকে কয়েকটি দেশ ঘুরে যায় লিবিয়ায়। চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চুক্তিতে বিনিময় হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। রুবেল, মামুন ও আল আমিন নামের তিন দালালের মাধ্যমে হয় টাকার হাত বদল। তারা লিবিয়া, গ্রিস ও ইতালি থেকে পৃথকভাবে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত।

স্বজনদের দাবি, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর সমুদ্র পথে সবশেষ গ্রিসে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল দালালের। আগের রাতে কেউ ক্ষুদে বার্তায়, কেউ ভিডিও কলে পরিবারকে এ তথ্য জানায়। কিন্তু এরপর থেকে গত ১৪ মাস নিখোঁজ রয়েছেন তারা।

গেম দিতে মিসর, সুদান ও বাংলাদেশের মোট ৩৪ জন ছিলেন একসঙ্গে। রায়পুরার পাঁচ তরুণসহ ওই নৌকায় ছিলেন ১২ বাংলাদেশি। তবে কখনো গেম ছাড়ার কথা, কখনো জেলে আটক থাকার কথা বলে স্বজনদের আশ্বস্ত করলেও দালালরা দিচ্ছে না নিখোঁজদের সঠিক কোনো তথ্য।

লিবিয়ার বেনগাজি থেকে দালাল আল আমিন ফোনে বলেন, ‘কোনো নিউজ আমরাও পাচ্ছি না, লিবিয়াও পাচ্ছে না। এই বোটের কোনো সন্ধানই পাচ্ছি না।’

স্বজনরা জানান, বিদেশে থাকায় দালালদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না তারা। অন্যদিকে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, দেশটিতে আটক থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে তাজুরা জেলে খোঁজ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অন্য জেলগুলোতে পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ থাকে না।


অস্ত্র-গুলিসহ ১৩ মামলার আসামি ‘চামাইরা বাবু’ গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাফরুলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৩ মামলার আসামি মো. বিল্লাল হোসেন ওরফে আলী হোসেন ওরফে চামাইরা বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। গতকাল শুক্রবার ভোরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কাফরুল থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বিল্লাল কাফরুল এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। চামাইরা বাবুসহ একাধিক নামে তিনি পরিচিত। গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে জানা যায়, উত্তর কাফরুলের আইসক্রিম ফ্যাক্টরি গলি এলাকায় চামাইরা বাবু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি গোয়েন্দা দল সেখানে গিয়ে নজরদারি চালায় এবং তথ্যের সত্যতা পায়। পরে গতকাল শুক্রবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে পুলিশের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর একটি দল যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চামাইরা বাবু উত্তর কাফরুল এলাকায় তার ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। তার তথ্যনুযায়ী অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ধারালো অস্ত্রসহ অন্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চামাইরা বাবুর বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় ১২টি এবং খিলগাঁও থানায় একটি মামলা থাকার তথ্য রয়েছে।


কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঢালিকান্দি এলাকায় হাসান মোল্লা নামে এক বিএনপি নেতা দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢালিকান্দি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশেই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুলিবিদ্ধ হাসান মোল্লার ছোট ভাই রাকিব হোসেন জানান, তার ভাই হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

তিনি জানান, রাতে জগন্নাথপুরে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় থেকে নির্বাচনী কাজ শেষে একই এলাকায় ওয়াজ মাহফিলে যান হাসান মোল্লা। সেখান থেকে নিজ বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছামাত্র দুজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে দ্রুতগতিতে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে দ্রুত উদ্ধার করে এবং হাসপাতালে নিয়ে যান।

রাকিব বলেন, ‘কে বা কারা গুলি করেছে সেটা আমরা বুঝতে পারিনি।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার পরে হাসান মোল্লা নামে এক গুলিবিদ্ধ বিএনপি নেতাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার পেটের ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।’

ঢাকা জেলার এসপি মিজানুর রহমান বলেন, ‘হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। একটি গুলির খোসা ঘটনাস্থল থেকে আমরা উদ্ধার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কে বা কারা গুলি করেছে এবং কেন গুলি করেছে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে আমরা সবকিছু মাথায় রেখেই তদন্ত শুরু করেছি।’


রাজধানীর স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ব্যবস্থাপক কারাগারে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’র প্লে-গ্রুপের এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার স্কুল ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এই আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ইসলাম রিমান্ড আবেদন করেও আদালতে উপস্থিত হননি। এ অবস্থায় পবিত্র কুমারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে রিমান্ড বিষয়ে শুনানির দিন আগামী ২৭ জানুয়ারি ধার্য করেন আদালত।

ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মতিঝিল জোন) হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী। তবে মামলার প্রধান আসামি ও ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান এখনও পলাতক।

রাজধানীর নয়াপল্টনে মসজিদ রোডে শারমিন একাডেমি নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থী নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এ নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটির মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা করেন।

ভাইরাল সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটিকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় শিশুটির গালে চড় মারতে দেখা যায় তাকে। সোফায় বসিয়ে আবারও আঘাত করেন তিনি। পরে এক পুরুষকে দেখা যায় শিশুটির মুখের সামনে স্ট্যাপলার দিয়ে ভয় দেখাতে। শিশুটিকে একের পর এক ধমক দিতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটির গলা চেপে ধরতেও দেখা যায়।

ভিডিও ফুটেজে থাকা নারীটি শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটি হলেন স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার।

নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। শিশুটির মা বলেন, ‘ও একটু ট্রমাতে রয়েছে। ওর শরীরটাও ভালো না। ও এখন আমার মায়ের কাছে রয়েছে।’ শিশুটির বাবা জানান, স্কুলে প্রি প্লে-শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার মাত্র ১ সপ্তাহের মধ্যে তার ছেলে এমন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলো।


সবজির বাজার ফের চড়া, ভোজ্যতেলেও নেই স্বস্তি

* রোজার মৌসুম ঘনিয়ে এলেও সব পণ্যের আমদানি সমানতালে বাড়েনি * ভোজ্যতেল ও মটর ডালের আমদানি তুলনামূলক কম * খেজুরও এসেছে রোজার চাহিদার প্রায় এক–তৃতীয়াংশ  
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শীত মৌসুমের আমেজ শেষ না হতেই রাজধানীর বাজারে সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা নাগালে থাকলেও মৌসুম শেষের দিকে আসায় দর এখন উর্ধ্বমুখী। ভোগাচ্ছে ভোজ্যতেলের দামও। আমদানি কমে যাওয়ায় দামও এখানো নাগালে আসেনি সবার। এদিকে, রোজার পণ্যের বেচাকেনার মৌসুম ঘনিয়ে এলেও বাজারে সব পণ্যের আমদানি সমানতালে বাড়েনি। ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির আমদানি রোজার চাহিদার তুলনায় ভালো থাকলেও ভোজ্যতেল ও মটর ডালের আমদানি তুলনামূলক কম এখনো। এ পর্যন্ত খেজুরও এসেছে রোজার চাহিদার প্রায় এক–তৃতীয়াংশ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এছাড়া শালগম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫ থেকে ২০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং গাজর প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোলা, মসুর ডাল ও চিনি আমদানিকারকরা বলছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনে রোজার পণ্যের আমদানি আরও বাড়বে। এতে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা অনেকটা কেটে যেতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে বেশি আমদানি হলে পণ্য কারখানায় নেওয়া, প্রক্রিয়াজাত করা এবং বাজারে সরবরাহে চাপ বাড়বে। কারণ, রোজার আগে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হবে। ওই দিন যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তার আগে নির্বাচনী প্রচারণাও চলবে। এ সময়ে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরির শঙ্কা রয়েছে।

ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, রোজায় ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে প্রায় ৩ লাখ টন। গত আড়াই মাসে প্রধান দুই ভোজ্যেতেল সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন। গত রোজার আগের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে ৫৬ হাজার টন।

জানতে চাইলে শীর্ষ পর্যায়ের ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, রোজার পণ্যের ঘাটতি হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। তবে আমদানি করা পণ্য কারখানায় নেওয়া এবং কারখানা থেকে প্রক্রিয়াজাত পণ্য বাজারজাতের কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। এটি নিশ্চিত করা গেলে বাজারে রোজার পণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকবে।

এদিকে, রোজায় ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে প্রায় ৩ লাখ টন। গত আড়াই মাসে প্রধান দুই ভোজ্যেতেল সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন। গত রোজার আগের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে ৫৬ হাজার টন। তবে অপরিশোধিত তেল আমদানির পাশাপাশি সয়াবিন বীজ আমদানি করেও দেশে তেল উৎপাদন করে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের আমদানি গত বছরের রোজার সময়ের চেয়ে কিছুটা কমলেও সয়াবিন বীজের আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার টন। এতে বাড়তি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন সয়াবিন তেল পাওয়া যাবে।

ভোজ্যতেলের শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টি কে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফা হায়দার বলেন, এখনো ভোজ্যতেলের চাহিদা তুলনামূলক কম। আমদানি কিছুটা কম হলেও রোজায় বড় কোনো সংকট হবে না। কারণ, রোজার আগে তেল নিয়ে আরও জাহাজ বন্দরে ভিড়বে।

অন্যদিকে রোজায় ছোলার চাহিদা থাকে প্রায় ১ লাখ টন। গত নভেম্বর থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রোজা সামনে রেখে দেশে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টন। গত রোজার আগের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে প্রায় ১ লাখ টন। স্বাভাবিক চাহিদা বাদ দিলেও ছোলার সরবরাহ বেশ স্বস্তিদায়ক।

মসুর ডালের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। গত আড়াই মাসে ১ লাখ ৪৬ হাজার টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ লাখ টন বেশি।

চিনির চাহিদা রোজায় প্রায় ৩ লাখ টন বলে ধারণা করা হয়। রোজা সামনে রেখে গত প্রায় ৩ মাসে চিনি আমদানি হয়েছে ৫ লাখ টন। গত বছরের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার টন।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গেল কিছুদিন যাবৎ তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনলাম, তবে আজ দেখছি সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিটা সবজির দামই আজ দেখছি ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তি। পিক মৌসুম শুরুর আগে অস্বাভাবিক বেশি দাম ছিল সব ধরনের সবজির, সে তুলনায় বলতে গেলে পুরো শীত মৌসুমেই সবজির দাম তুলনামূলক কম ছিল। এখন শীত চলে যাচ্ছে, এই সময়ে এসে আজ দেখছি সবজির দাম আবার বাড়তে শুরু করছে।’ এ সময় তিনি বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানান।

মালিবাগ বাজারের আরেক ক্রেতা সাইদুর রহমানও সবজির বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই ফুলকপি কিনলাম ২০-৩০ টাকা পিস, আজ সেই ফুলকপির দাম চাচ্ছে ৫০ টাকা। দরদাম করে শেষ পর্যন্ত ৪০ টাকায় কিনলাম। এভাবে প্রতিটি সবজির দামই আজ দেখছি ১০ থেকে ২০ টাকা করে বেশি।’

সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রামপুরা বাজারের বিক্রেতা জুয়েল রানা বলেন, ‘আসলে শীত মৌসুমে সবজির দাম তুলনামূলক অনেক কম থাকে। কারণ এই সময় সবজির পুরো মৌসুম। এখন শীত চলে যাচ্ছে, সে কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কমতে শুরু করেছে। আগে যে সবজি পাইকারি বাজারে কম দামে কিনেছি, সেই সবজি এখন ১০ থেকে ২০ টাকা বেশিতে কিনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।’

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোজার আগে নির্বাচন ও প্রচারণা থাকায় নিত্যপণ্যের সরবরাহশৃঙ্খল ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় উৎপাদন, আমদানি ও মজুত বিবেচনায় রেখে চাহিদা ও সরবরাহের সামঞ্জস্য আছে কি না, তা সরকারকে নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজনে এখন থেকেই নজরদারি ও তদারকি জোরদার করা দরকার, যাতে বাজারে পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি না হয়।


এক সপ্তাহে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭৮, অস্ত্র উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক   

ঢাকাসহ সারাদেশে গত এক সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল অস্ত্র, গুলি, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনের ইউনিটগুলো অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

এসব যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত, ডাকাত সদস্য, কিশোর গ্যাং সদস্য, চোরাকারবারিসহ ২৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৮২২টি গুলি, সাতটি ককটেল, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে তা নিকটস্থ সেনাক্যাম্পে অবহিত করার জন্যও সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।


banner close