সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৪ ২২:০০

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)। কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে গত তিন সপ্তায় কক্সবাজারে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এক দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সিকদার বাজার এলাকায় বসবাসকারি সাইফুল ইসলামের বাড়ির উপর আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মাটির দেয়াল ভেঙে সাইফুলের ঘুমন্ত শিশু চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে মাটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে ভোরে শহরের এবিসি ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় জমিলা আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ওসি।

জমিলার পরিবারকে উদ্ধৃত করে রকিবুজ্জামান বলেন, ভোরে জমিলা আক্তার রান্না ঘরের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার স্বামী আরেক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়লে জমিলা মাটি চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ নিজেদের বাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় লায়লা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান রকিবুজ্জামান।

নিহত লায়লা বেগমের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় লায়লা বেগম ছেলে জোনায়েদকে কোলে নিয়ে পাহাড়ের মাটি ভাঙছে কি না দেখতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল। এ সময় আকস্মিক পাহাড় ধসে বসতবাড়ির ওপর মাটিচাপা পড়ে। এতে তার স্বামী ও অপর ২ মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও লায়লা বেগম ও এক শিশুসন্তান মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও তার মা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দুদিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।

শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, আরও পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি

এদিকে, আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারি (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।

ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে।

উত্তরে নদীর পানি বাড়ছে

এদিকে, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীর পানি বাড়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর ফলে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ‘সামান্য অবনতি’ হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দেশের ৯টি নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল।

ওই সময় বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১১০টি স্টেশনের মধ্যে ৪৭টি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ৬১ পয়েন্টে বাড়ছিল আর অপরিবর্তিত ছিল দুই পয়েন্টে।

বুলেটিনে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীর পানি ‘সময় বিশেষে’ বাড়তে পারে।

তাতে ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা ও দুধকুমার নদী-সংলগ্ন কুড়িগ্রাম জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।

এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের মহানন্দা, যমুনাশ্বরী, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুর্নভবা, টাঙ্গন এবং ইছামতি- যমুনা নদীর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এদিকে গঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে, এ পরিস্থিতি আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

ব্রহ্মপুত্রের পানিও বাড়ছে, অন্যদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে; আগামী ২৪ ঘণ্টায় দুই নদীর পানিই স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে বুলেটিনে।

সেখানে বলা হয়, পদ্মা নদীর পানি এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে; তবে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এ সময় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আত্রাই নদীর পানি বাঘাবাড়ী পয়েন্টে কমে নদী সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।


পীরগাছায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানা থেকে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন—পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার। শনিবার রাতে তাদের রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক।

তিনি জানান, গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের কিশোরী মিমি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর সূত্র ধরে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিমির অবস্থান শনাক্ত করে এবং বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে পুলিশ ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিল। এ সময় ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর বকশীর ছেলে মনোয়ারুল ইসলাম বকশীকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর মৃত্যু হয়।

তবে নিহতের স্বজনরা মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং এই সময়ে মারা গেছে আরও ৫ শিশু।

সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৯৯২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৬৩ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জনে। আর এই দীর্ঘ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩১২ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ৩২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছিলেন, যার মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ১৩৯ জন শিশু সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৮০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


সরকারের আরও এক নতুন দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে জানানো হয়েছে যে, কমিটির মূল কাজ হবে পে কমিশনের প্রতিবেদনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরা।

গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

এছাড়া ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, এমপি এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজের সুবিধার্থে বা প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য কমিটি চাইলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ যেকোনো ব্যক্তিকে পরবর্তীতে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।


‘আমার দুই ধনকে বুকে এনে দে’ সৌদির আগুনে দুই সন্তান হারিয়ে মায়ের আহাজারি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রিফাত হোসাইন সবুজ, নওগাঁ প্রতিনিধি

‘বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হলো, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিন ছুটিতে বাড়ি আসতে পারেনি। ছাওয়ালটা কইতো—মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি। বাড়ির কাজ শুরু করছি, দেশে আইসা বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করমু। কিন্তু আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কী সর্বনাশ হয়ে গেল বাবা আমার!

কথাগুলো বলতে বলতে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন ময়না খাতুন। সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই সন্তান সুমন ও মোহনকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আকুতি আর বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের পরিবেশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে গন্ডগোহালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মোহন ও সুমনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখেমুখেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সেখানে কর্মরত দুই ভাই মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিকসহ আত্রাই উপজেলার অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।

ময়না খাতুন বলেন, কাল সকালে মেজো ব্যাটার সঙ্গে কথা কইছি। কইল- মা, ভালো আছি। তুমি ভাত খাও, তুমি সুস্থ থাকো। ভাই মাল দিতে গেছে, মাল দিয়া আসবে।

এরপরই বদলে যায় সবকিছু। আগুন লাগার পর ছেলের পাঠানো ভয়েস মেসেজের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ময়না খাতুন বলেন, ‘ছাওয়াল ভয়েস মেসেজ দিয়া কইল,মা, দুইডা কথা কমু, আমি আর কথা কমু না। আগুন লাগছে মা, পুড়ে যাচ্ছি, মরে যাচ্ছি মা।’

এই কথাগুলোই এখন মায়ের কাছে সন্তানের শেষ স্মৃতি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘হামার দুই বাবারে হামার বুকে এনে দাও বাবা। আমার বাবাদের একবার দেখে কলিজাটা ঠান্ডা করমু। আমার দুই ধনকে আমার বুকে এনে দে বাবা।’

মোহনের বিয়ের স্বপ্নের কথাও বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। তিনি বলেন, ‘মোহন কইতো—মা, দেশে আইসা বিয়া করমু। মেয়া-টিয়ে দেখো না। দশটা দেখে একটা পছন্দ কইরা বিয়া করমু মা। বাড়ির কাজটাও শেষ করমু।’

মায়ের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সংসার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া মোহনকে এখন ফিরতে হবে নিথর দেহ হয়ে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন,আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫), একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গাফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) এবং ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)।

সৌদি আরবের কর্মস্থলে আগুনে একসঙ্গে এতজন স্বজন হারানোর ঘটনায় আত্রাইয়ের বিভিন্ন গ্রামে এখন শোকের ছায়া। স্বজনদের একটাই আকুতি—প্রিয় মানুষগুলোর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো মায়ের কোলে ও স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হোক।


কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিতেই মেয়েরা এগিয়ে

ছবিগুলো কুমিল্লা নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ বছর এ বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩৭ হাজার ২০৩ জন ছেলে এবং ৫৮ হাজার ১৯৬ জন মেয়ে।

ফলাফলে দেখা যায়, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। একইভাবে জিপিএ-৫ অর্জনেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮৪৮ জন মেয়ে এবং ৩ হাজার ৯৬৬ জন ছেলে।

অর্থাৎ, মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

এদিকে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে। তবে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর বোর্ডে মোট পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।


সৌদি আরবে আগুনে মৃত্যু: পরিচয় মিলেছে নওগাঁর ১৩ জনের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫০
মো. সবুজ হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি

সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকান্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। নিহতদের মধ্যে ১২ জন আত্রাই ও একজন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

নিহতরা হলেন, আত্রাই উপজেলার সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রােতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহন প্রামাণিক (২২) ও তাঁর ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০), কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন (৩৮)।


নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় নওগাঁর আত্রাই, সদর, নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বেশ কিছু শ্রমিক কাজ করতেন। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। অগ্নিকা-ের ঘটনায় ওই কারখানার মধ্যে আটকে পড়া ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই ও সদর উপজেলায়। বাকি দুইজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।


সৌদির রিয়াদে থাকা অন্য বাংলাদেশি প্রবাসীদের বরাত দিয়ে ফরিদ শেখের চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকা-ের সময় ওই কারখানায় থাকা শ্রমিকেরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। ঘুমন্ত অবস্থায় কারখানায় আগুন লাগায় ফরিদ শেখসহ সেখানে থাকা সব শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ওই কারখানার শ্রমিকেরা দিনের বেলায় ঘুমিয়ে থাকে এবং রাতে কারখানায় কাজ করতেন।


নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যাপারে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের অব্যাহত রয়েছে।


কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারে শীর্ষে ফেনী জেলা

ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে ফেনী। বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ হলেও ফেনী জেলা ৭২.৬২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। বোর্ডের দেওয়া আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ফেনীর ১৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ১৪ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮২১ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৪ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ১৩৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

কুমিল্লা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত ছয়টি জেলার জেলাওয়ারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেনী জেলা ৭২.৬২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকার প্রথমে রয়েছে। এর পরেই ৭১.৫০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় পাসের হার ৬৪.৭৮ শতাংশ, লক্ষ্মীপুরে ৬৩.৯১ শতাংশ এবং চাঁদপুরে ৬৩.৬৩ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বোর্ডের অধীনে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী জেলায় পাসের হার সবচেয়ে কম, যা ৫৯.৯৮ শতাংশ।

সাফল্যের এই ধারায় ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের কৃতিত্ব বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসের ধারা বজায় রেখেছে এবং তাদের মধ্যে ৫৫ জনই জিপিএ-৫ লাভ করেছে। বরাবরের মতো এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা বোর্ডের সেরা তালিকার শীর্ষ কাতারে নিজের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।


নীলফামারীতে শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী প্রতিনিধি

পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা, পোশাকের সঠিক ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রোববার সকাল ৯টায় নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে অনুষ্ঠিত এ কিট প্যারেডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্স সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

কিট প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ ও পুলিশ সদস্যদের কিটসামগ্রী পরিদর্শন করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত কিটসামগ্রীর মান, যথাযথ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জিএস মার্ক প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া যেসব পুলিশ সদস্যের কিটসামগ্রী পাওনা রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কিটসামগ্রী সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

কিট পরিদর্শন শেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।’ ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মেনে পোশাক পরিধান, নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে জনগণের সেবায় আরও আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন।

কিট প্যারেডে সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি.) জ্যোতির্ময় ঘোষ, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি.) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান, আরআই, পুলিশ লাইন্স নীলফামারীসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হলো আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।

দিবসটি পালন উপলক্ষে গতকাল রোববার দুপুরে ইএসডিও থ্রাইভ প্রকল্প, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে ও হেকস্/ইপারের সহযোগিতায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

‘আদিবাসী ধাত্রীদের সন্মান-জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূর্বের স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

আদিবাসী পরিষদের সভাপতি যাকোব খালকোর সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরীফ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা, ইমরান হোসেন চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা আদিবাসীদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তাদের জীবন-জীবিকার সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।


‘চা-শ্রমিক’ পরিচয়ের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

চা-বাগানে বসবাসকারী মানুষকে সাধারণত একটি পরিচয়েই দেখা হয় ‘চা-শ্রমিক’। কিন্তু এই পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে রয়েছে বহু জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও শ্রমের চক্রে এসব স্বতন্ত্র পরিচয় ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের চানপুরসহ বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই নিজেদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-বাগানে কাজ করলেও জীবনমানের বড় পরিবর্তন আসেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংস্কৃতিক পরিচয় হারানোর আশঙ্কা।

প্রচণ্ড রোদ কিংবা ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও চা-বাগানের শ্রমিকদের কচি পাতা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের পর দিন একই শ্রম, সামান্য মজুরি আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে জীবন কাটে তাদের। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের মতো বিষয়ও অনেকের কাছে অপরিচিত। তাদের কাছে প্রতিটি দিনই জীবিকা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম।

শ্রীমঙ্গলের হরিণছড়া চা-বাগানের শ্রমিক কৈশলা ঘাটোয়াল ১৪ বছর বয়সে চা-বাগানে কাজ শুরু করেন। তখন দৈনিক মজুরি ছিল ২০ টাকা। এখন মজুরি ১৮৭ টাকা হলেও তার মতে, এই আয় দিয়ে সংসারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাই কঠিন।

তিনি বলেন, ‘দুই বেলা ঠিকমতো খেতে পারি না। নিজের একটা ভালো ঘর করার স্বপ্ন দেখি; কিন্তু এই আয়ে সেটা কীভাবে সম্ভব? জমিটাও তো আমাদের নয়।’

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস সম্পর্কে জানতে চাইলে কৈশলার উত্তর, ‘রাস্তায় মিছিল হয়, এটুকুই জানি।’

শুধু কৈশলা বা গৈারা নন, চা-বাগানের আরও অনেক শ্রমিকের অভিজ্ঞতাও একই। সপ্তাহজুড়ে কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা পান সামান্য মজুরি ও সীমিত রেশন। ছুটির আগের দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ছুটির দিনের মজুরিও কেটে নেওয়া হয়। অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার এখনো বাগানের লেবার লাইনে বসবাস করে। সেখানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও সীমিত।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-শিল্পে কাজ করেও শ্রমিকদের জীবনমানের বড় পরিবর্তন আসেনি।

তিনি বলেন, ‘মুখে হাসি লেগে থাকলেও তাদের দুঃখের শেষ নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শিল্পে কাজ করেও তারা জমির মালিক হতে পারেননি। চা-শিল্প এগিয়েছে; কিন্তু শ্রমিকদের জীবনমানের পরিবর্তন খুব একটা হয়নি।’

তবে সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়। চা-বাগানে বসবাসকারী স্বল্পপরিচিত অনেক জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিও হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

পাত্রকলা চা-বাগানের অধিকারকর্মী লিটন গঞ্জু জানান, চা-বাগানে ৩০-৩৫টি স্বল্পপরিচিত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। মণিপুরি, খাসিয়া বা গারোদের তুলনায় এসব জনগোষ্ঠী সম্পর্কে মানুষের জানাশোনা কম। ফলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সাংস্কৃতিক সহায়তা থেকেও তারা পিছিয়ে আছেন।

লিটন গঞ্জুর মতে, সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে মণিপুরি, খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেলেও চা-বাগানের স্বল্পপরিচিত জনগোষ্ঠীগুলো অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এমনকি অনেক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সরকারের কাছেও পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

মৌলভীবাজারের দুর্বার উন্নয়ন সহায়ক সংস্থার (ডিইউএসএস) নির্বাহী পরিচালক তাপস ঘোষ জানান, বিভিন্ন উপজেলায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি অনুদান বিতরণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাসিয়া, গারো ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের সদস্যরা এসব সুবিধা পান। চা-বাগানের পিছিয়ে থাকা অনেক জনগোষ্ঠী এসব অনুদানের খবরই জানেন না।

তার সংস্থার পক্ষ থেকে কয়েকটি উপজেলায় চা-বাগানের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি সহায়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সমতলে বসবাসকারী সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডা, গারো ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর তুলনায় অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর চা-বাগানবাসী মানুষ অনেক ক্ষেত্রে বেশি বঞ্চিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক অংশগ্রহণ, প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাদের পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা যায়।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সিলেট বিভাগের সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র বলেন, ‘চা-বাগানের অনেক মানুষ বাগানের সীমানার বাইরে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে তেমনভাবে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। নিজেদের অধিকার ও জাতিগত পরিচয় সম্পর্কেও অনেকের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে।’

তার দাবি, উত্তরবঙ্গে বসবাসের কারণে চা-বাগানের কিছু জনগোষ্ঠী আদিবাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও বাগানে বসবাসকারী অধিকাংশ জনগোষ্ঠী এখনো সেই স্বীকৃতি পায়নি। ফলে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চা-বাগানের মানুষের সংকটকে শুধু মজুরি ও কর্মপরিবেশের প্রশ্ন হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূমির নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক অধিকার এবং নিজস্ব পরিচয় টিকিয়ে রাখার লড়াই।

তারা আরও জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মাতৃভাষা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতিগত পরিচয় রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ না নেওয়া হলে বহু ভাষা ও ঐতিহ্য হয়তো আগামী প্রজন্মের কাছে আর পৌঁছাবে না।


দুর্ভোগের বাসে এবার স্বস্তির যাত্রা শিক্ষার্থীদের পাশে কুমিল্লার প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা শোনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের ব্যবহৃত বাসটি সংস্কার করে দিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।

বাসটির প্রায় ৭০টি আসন সংস্কার করে পুরোনো প্লাস্টিকের সিটের পরিবর্তে লাগানো হয়েছে আরামদায়ক ফোমের সিট। সমাধান করা হয়েছে বাসের বিভিন্ন সমস্যা। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে ফ্রি Wi-Fi জোন। পাশাপাশি যাত্রাপথে তাদের জন্য সকালের নাশতা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘কুমিল্লা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জেনেছি। তাদের প্রায় ৭০ আসনের বাসটি সংস্কার করা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে সিটের সমস্যা ছিল। তাই নতুন করে সিট লাগানোর পাশাপাশি বাসে Wi-Fi জোনও তৈরি করে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। আমরাও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাব।’


২০১৯ সাল থেকে এগিয়ে চলছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এসো আমরা গড়ি’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে ২০১৯ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এসো আমরা গড়ি’। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

‘এসো আমরা গড়ি’ বিশ্বাস করে, সমাজ পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হয় না। একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো, একজন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া কিংবা একটি গাছ লাগানোর মতো ছোট ছোট উদ্যোগও একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি হতে পারে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটির উদ্যোগে বিনামূল্যে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, ফলদ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ, খাদ্য বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের মতো কার্যক্রমেও সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।

সংগঠনটির লক্ষ্য শুধু একটি কার্যক্রম আয়োজন করে তা শেষ করা নয়; বরং মানুষের মধ্যে মানবিক দায়িত্ববোধ ও স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা তৈরি করা। বিশেষ করে তরুণদের সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করে একটি সক্রিয় ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবী শক্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে ‘এসো আমরা গড়ি’।

সম্প্রতি সংগঠনটি ‘Active Volunteer Team’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারী নয়, বরং বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী তরুণদের নিয়ে একটি সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী দল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংগঠনটির প্রত্যাশা—প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবী অন্তত মাসে একটি দিন সমাজের জন্য কাজ করবেন।

সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ‘এসো আমরা গড়ি’র ফেসবুক পেজে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। সংগঠনটি মনে করে, এই সমর্থন শুধু একটি সংখ্যাগত অর্জন নয়; বরং মানুষের মধ্যে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহেরও একটি প্রতিফলন।


‘এসো আমরা গড়ি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তমাল বলেন,

«“আমি বিশ্বাস করি, পরিবর্তনের জন্য আমাদের কারও অপেক্ষা করে বসে থাকার প্রয়োজন নেই। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজের জায়গা থেকে একজন মানুষের জন্যও কিছু করি, তাহলে সেই ছোট ছোট উদ্যোগ একদিন বড় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।

‘এসো আমরা গড়ি’ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; এটি মানুষের জন্য কিছু করার একটি আহ্বান। আমরা চাই, আমাদের সঙ্গে যারা যুক্ত হবেন তারা শুধু একটি পরিচয় বহন করবেন না—তারা বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।

আমাদের লক্ষ্য হাজার হাজার মানুষকে শুধু অনুসারী বানানো নয়; বরং এমন কিছু মানুষ তৈরি করা, যারা প্রয়োজনের সময়ে মানুষের জন্য এগিয়ে আসবেন। আজ আমরা একটি গাছ লাগালে হয়তো তার ছায়া আমরা পাব না, কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই ছায়ায় দাঁড়াবে—আমাদের কাজের প্রকৃত সার্থকতা সেখানেই।

আমরা চাই, দেশের প্রতিটি প্রান্তে মানুষের মধ্যে একটি বিশ্বাস তৈরি হোক—‘আমি একা নই, আমার পাশে মানুষ আছে।’ আর সেই মানুষগুলোর একজন হতে পারে আমি, আপনি কিংবা আমরা সবাই।”»

আগামী দিনে শিক্ষা, পরিবেশ, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আরও বিস্তৃত পরিসরে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে ‘এসো আমরা গড়ি’র। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

‘এসো আমরা গড়ি’ মনে করে—একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকারের নয়; সমাজের প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে।

সেই দায়িত্ববোধ থেকেই সংগঠনটির আহ্বান—

“এসো, আমরা গড়ি—মানুষের জন্য, মানবতার জন্য।”


প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া হাতে বাবার জানাজায় আ. লীগ নেতা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

বাবা আর নেই, এই খবরটি পেয়েছিলেন কারাগারে বসেই। শেষবার বাবার মুখটি দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে কোটালীপাড়ায় আসেন সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তবে বাবার সঙ্গে এ ছিল একেবারেই অন্যরকম সাক্ষাৎ। পিতা-পুত্রের কোনো কথা হয়নি, হয়নি চোখে চোখ রাখার সুযোগ। কারণ, বাবা তখন নিথর।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কাশিমপুর কারাগার থেকে আট ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় কামাল হোসেনকে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে রাত ১১টার দিকে তাকে কোটালীপাড়া পৌর ভবন মাঠে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে বাবার মরদেহ দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কামাল হোসেন। জীবিত বাবার সঙ্গে শেষবার কথা বলার সুযোগ আর হয়নি তার। নিথর বাবাকে একবার দেখে জানাজায় অংশ নেন তিনি। জানাজা শেষে আবারও পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

শেখ লুৎফর রহমান (৯৫) শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কোটালীপাড়া পৌরসভার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তিনি চার ছেলে ও চার মেয়ের জনক ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তিনি কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। কোটালীপাড়া পাবলিক ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (মডেল) ও কোটালীপাড়া শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

বাবার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও গোপালগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। বাবার মৃত্যুর কারণে তাকে আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি কোটালীপাড়ায় এসে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার পর তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার বাদ আসর কোটালীপাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর ভবন মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চপল্লী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দুই জানাজায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বাবার জানাজায় অংশ নিতে কামাল হোসেনের কয়েক ঘণ্টার এই প্যারোলের দৃশ্য ছিল আবেগঘন।


banner close