আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)। কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ নিয়ে গত তিন সপ্তায় কক্সবাজারে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এক দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সিকদার বাজার এলাকায় বসবাসকারি সাইফুল ইসলামের বাড়ির উপর আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মাটির দেয়াল ভেঙে সাইফুলের ঘুমন্ত শিশু চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে মাটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে ভোরে শহরের এবিসি ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় জমিলা আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ওসি।
জমিলার পরিবারকে উদ্ধৃত করে রকিবুজ্জামান বলেন, ভোরে জমিলা আক্তার রান্না ঘরের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার স্বামী আরেক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়লে জমিলা মাটি চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ নিজেদের বাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় লায়লা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান রকিবুজ্জামান।
নিহত লায়লা বেগমের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় লায়লা বেগম ছেলে জোনায়েদকে কোলে নিয়ে পাহাড়ের মাটি ভাঙছে কি না দেখতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল। এ সময় আকস্মিক পাহাড় ধসে বসতবাড়ির ওপর মাটিচাপা পড়ে। এতে তার স্বামী ও অপর ২ মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও লায়লা বেগম ও এক শিশুসন্তান মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও তার মা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দুদিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।
শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, আরও পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি
এদিকে, আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারি (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।
ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে।
উত্তরে নদীর পানি বাড়ছে
এদিকে, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীর পানি বাড়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর ফলে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ‘সামান্য অবনতি’ হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দেশের ৯টি নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল।
ওই সময় বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১১০টি স্টেশনের মধ্যে ৪৭টি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ৬১ পয়েন্টে বাড়ছিল আর অপরিবর্তিত ছিল দুই পয়েন্টে।
বুলেটিনে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীর পানি ‘সময় বিশেষে’ বাড়তে পারে।
তাতে ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা ও দুধকুমার নদী-সংলগ্ন কুড়িগ্রাম জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।
এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের মহানন্দা, যমুনাশ্বরী, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুর্নভবা, টাঙ্গন এবং ইছামতি- যমুনা নদীর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।
এদিকে গঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে, এ পরিস্থিতি আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
ব্রহ্মপুত্রের পানিও বাড়ছে, অন্যদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে; আগামী ২৪ ঘণ্টায় দুই নদীর পানিই স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে বুলেটিনে।
সেখানে বলা হয়, পদ্মা নদীর পানি এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে; তবে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এ সময় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আত্রাই নদীর পানি বাঘাবাড়ী পয়েন্টে কমে নদী সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চিকিৎসা সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ করেন।
নিহত রিয়া বেগম (২২) দেওড়াছড়া চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিক ছাব্বির মিয়ার স্ত্রী। শ্রমিকদের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বাগান ব্যবস্থাপকের কাছে চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ চিকিৎসার পর বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যরাতে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাগানের শ্রমিকরা। তারা দাবি করেন, অর্থের অভাবে ও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় রিয়া বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ দায় এড়াতে পারে না বাগান কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বাগান ব্যবস্থাপকের পদত্যাগ দাবি করেন।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবোধ কুর্মি, নাজির আহমদ, সঞ্জয় কানু, পলাশ কর্মকার, ছালু মিয়া, লক্ষী নারায়ন, ইব্রাহিম মিয়া, সুভাষ ভৌমিজ, বাবুলাল ভৌমিজ, অজয় ভৌমিক, সেলিম মিয়া, জসিম মিয়া, বায়না মিয়া, শুকুর মিয়াসহ অনেকে।
কর্মবিরতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কমলগঞ্জ থানার এসআই আমির হোসেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী এবং রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শ্রমিকরা কাজে ফিরবেন, নাকি আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’
এ বিষয়ে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জহিরুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বান্দরবানের আলীকদমে কাজ না করেই টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১নম্বর আলীকদম সদর ইউনিয়নের কলার ঝিরি পাকা রাস্তা থেকে চৈক্ষ্যং খালমুখী সড়ক সংস্কার নামে একটি প্রকল্পের অনুকুলে ১০.২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানো হয়।যা
অনেক আগেই কাঠ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে নিজেদের টাকায় সংস্কার করা হয়েছিল। অপরদিকে ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউপির ১৫ কিলো এলাকায় বরই গাছ থেকে তুলা পাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পেও পুরাতন রাস্তাকে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখানো হয়েছে। যা বাস্তবে করেননি। বরং এরুপ একাধিক সড়ককে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখিয়ে কাজ না করেই সরকারি টাকা আত্নসাৎ করেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কাজের প্রতিটি বিল উত্তোলনের সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয় তাকে। কমিশন না দিলে বিল হয়রানির শিকার হতে হয়।
এমনকি এক নারী ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে ওই প্রকল্পের কাজ নিজেই করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, অনিয়মের তথ্য পেয়ে এবিষয়ে পিআইও কার্যালয়ে গেলে নোটিশ বোর্ডে প্রকল্পের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ টাঙানো তালিকা দেখা যায়। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে মোট ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন চাল এবং ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ৮৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং কাবিটা খাতে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।
এবিষয়ে জানতে আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কে এম নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, অভিযোগ প্রাপ্ত প্রকল্প গুলোর মধ্যে প্রথম ধাপের ৩টি প্রকল্পের অনুকুলে ৭০ শতাংশ বিল দেয়া হয়েছে।তবে অভিযোগ প্রাপ্ত সকল প্রকল্প গুলো তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী ।
এসময় তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি সবুজ, বাসযোগ্য জেলা গড়তে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা পরিষদ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সভাপতি প্রফেসর ড. সৈয়দ খলিলুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মশগুল ইসলাম এবং যুবদলের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম মুকুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভুয়া ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ (দাখিলা) তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করছে জালিয়াত চক্র। সম্প্রতি দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এমন কাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে ভুক্তভোগী মো. রিয়াদুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কান্দানিয়া মৌজার ৯৯৮ বিআরএস খতিয়ানের ৭৮১০ হাল দাগ এ ৬ জনের যৌথ মালিকানাধীন ৯০ শতক ভূমির উপর গত ২৬ আগস্ট স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভুক্তভোগীরা একটি নালিশী অভিযোগ দেয়। প্রেক্ষিতে দাখিলা না পেয়ে জাল জালিয়াতির আশ্রয়ে জাল দাখিলা সৃজন করে ফুলবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬৯ নং সাফ কবলা দলিল মূলে যৌথ মালিকানাধীন ৯০শতাংশ ভূমির মধ্যে ১৩ শতাংশ ভূমি হস্তান্তর করেন দাতা আসাদুজ্জামান। একই কায়দায় এর আগেও কান্দানিয়া মৌজার হাল দাগের ৩০৩৭ দাগে আরও একটি দলিল সম্পাদনের তথ্য পাওয়া গেছে। যার দলিল নম্বর - ৮৬৮।
অভিযোগকারী মো. রিয়াদুল ইসলাম জানান, খাজনার রসিদের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি উক্ত ভূমির উপর হাল সনের কোন রসিদ দেওয়া হয়নি। এ চক্রের সাথে জড়িতদের তিনি দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দলিলটি সম্পাদনে যুক্ত ফুলবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সোলাইমান জানান, কান্দানিয়া এলাকার জহির মহুরি এসে আমাকে বলেন তার এলাকার দলিল সে করলে বিতর্কিত হবে, তাই আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলার কারণে আমি শুধু স্বাক্ষর করি। দলিলটি আমার নয়। আর ওই দাখিলা সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না।
অপরদিকে জাল ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ তৈরি করার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি )ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ তাকী তাজওয়ার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় দলিল লেখকদের অদৃশ্য কমিশন বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যেই সুবাদে সাব-রেজিস্ট্রার দলিল লেখকদের মাধ্যমে হেবা দলিলে ১% ,বনের মৌজার এন ও সি (অনাপত্তিপত্র) যাচাইয়ের নামে দলিল প্রতি সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা, সেরেস্তার নামে প্রথম লাখে দেড় হাজার ও পরবর্তী প্রতি লাখে ৫০০ টাকা করে নেন। এছাড়াও হিস্যার ১০ হাজার, ভুল সংক্রান্তে ১০ হাজার ও যৌথ দলি প্রতি ৫ হাজার করে টাকা নেয়। যা ঈদের আগমুহূর্তের কর্মদিবস পর্যন্ত বলববৎ ছিল।
শাহজাহান সাজু নামে এক কৃষক বলেন, আমি দীর্ঘদিন ঘুরে একটি দলিল করেছি। সামান্য সমস্যায় নির্ধারিত ফিসের বাহিরে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে।
কুশমাইল পানেভিটা গ্রামের আকবর হোসেন জানান, যে সকল গ্রহীতা উৎকোচ দিতে অনিচ্ছুক তারা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় তিনি নিজেই কয়েক মাস ধরে ঘুরছেন বলেও জানান।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রাফায়েল ফাতেমী ইমন দলিলের নামে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দৈনিক বাংলাকে জানান, ভুয়া দাখিলায় রেজিস্ট্রি করার অভিযোগটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক ও অভিযোগকারীকে আপাতত নোটিশ দেওয়া হবে। যাচাইয়ে দাখিলা ভুয়া প্রমানিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা বলেন, ভুয়া দাখিলা দিয়ে রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আরো যেসব অনিয়ম রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে অভিযোগ দিলো ইনকোয়ারি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি চুয়াডাঙ্গার জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। এক লাফে তাপমাত্রা বেড়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ, যা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে তীব্র গরমে সড়কের পিচ গলে উঠে যেতে দেখা গেছে। শহরে পৌরসভার সামনে এই চিত্র দেখা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে যায়। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এর মধ্যে গরমে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।
আরেক চালক সুমন হোসেন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম— দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।
শুধু চালকরাই নয়, দিনমজুরদের অবস্থাও করুণ হয়ে উঠেছে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, রোদ এত বেশি যে কাজ করতে পারি না ঠিকমতো। তবুও পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে। দুপুরের রোদে শরীর জ্বলতে থাকে।
আরেক দিনমজুর হাবিবুর রহমান বলেন, এই গরমে কাজ করা খুব কষ্ট। একটু পরপরই বিশ্রাম নিতে হয়। কিন্তু বেশি বিশ্রাম নিলে আয় কমে যায়, তাই বাধ্য হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশের দাবিতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক ব্যক্তি। নোটিশদাতা হৃদয় হাসান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সোনাপুর নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
বুধবার (১ এপ্রিল) হৃদয় হাসানের পক্ষে কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবী আব্দুল মজিদ নোটিশটি পাঠান। এতে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।
হৃদয় হাসান বলেন, ‘বুধবার দুপুরের পর লিগ্যাল (আইনি) নোটিশটি এমপি সাহেব বরাবর পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীর পরিচয় অথবা আইনি ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি তা না করেন, তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্যকালে আমির হামজা বলেন, ‘প্রায় সবমিলিয়ে শুধু মেডিকেল কলেজের জন্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে অফার হয়েছে এই তিন দিনে। তা-ও কেউ জানবে না, শুধু আল্লাহ বাদে। আমি বলেছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি, পুরা কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়ব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, পাঁচটা টাকা যেন না বাড়ে, সেই রকমভাবে চলতে চাই।’
পরদিন আমির হামজার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ রাখতে ঘুষ দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশের দাবি জানান।
এর প্রায় এক মাস পর গতকাল বুধবার ছাত্রদলের এই নেতা আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমির হামজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময় জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য তিনি ৩ দিনে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। উপরন্তু বলেছেন, কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তার অবস্থান বদলানো যাবে না।’
নোটিশে আরও বলা হয়, ‘গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ছবিসহ আপনার (সংসদ সদস্য) বক্তব্যের অংশ ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো শরিয়াহ আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। আপনাকে যারা ঘুষ প্রদান করতে চেয়েছেন, তাদের নাম প্রকাশ না করে আপনি শুধু ভালো মানুষ সাজার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেননি বলে প্রচার করেছেন। ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ না করা এবং আইনের হাতে তুলে না দেওয়ার অর্থ হলো আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া।’
এ বিষয়ে হৃদয় হাসান বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় জনগণ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। কারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে, আমরা জানতে চাই। প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা মেডিক্যাল কলেজ চালু নিয়ে বললেন, তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম বলছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেনস। তিনি জনসমক্ষে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ করুক।’
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মারামারির খবর প্রকাশের জেরে চাঁদাবাজির মামলায় এক সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের প্রভাবশালী একটি মহল সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে (৪০) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়িয়েছে। তিনি গত ২৪ দিন ধরে কারাগারে আছেন।
এ ঘটনায় বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর মুক্তি ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরের মা নূরজাহান (৭০), স্ত্রী খোশনাহার আক্তার (৩৩), মেয়ে জান্নাত আক্তার নিপু (১৪), ছেলে নাঈম হাসান দুর্জয় (১০) ও মো. হুমায়ুন (৫) এবং স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের ভাষ্য, খায়রুল ইসলাম ফকির হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নয়া সংবাদ’–এর হোসেনপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান কিরণ, যিনি পোল্যান্ডপ্রবাসী, তাঁর সঙ্গে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির। পরিবারের দাবি, এই সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন আসাদুজ্জামান কিরণ।
পরে গত ২ মার্চ হোসেনপুর থানায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কিরণসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর তিন দিন পর, ৫ মার্চ, কিরণের বোন আনুরা (৫৩) বাদী হয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা করেন। সেই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে।
পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের ঘটনায় খায়রুল ইসলাম ফকিরের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কেবল সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁকে প্রতিহিংসাবশত মামলায় জড়ানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলায় আসামি হওয়ার পর খায়রুল ইসলাম ফকির গত ৯ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, দ্রুত তদন্ত করে সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি ও মুক্তি দেওয়া হোক।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর এলাকায় সাত দিনব্যাপী সোলেমান লেংটার মেলা শুরুর দুই দিন পর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলা বন্ধ ঘোষণা করে মাইকিং করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ১০৭তম লেংটার ওরস ও মেলা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেলায় মাদক কেনাবেচা, সেবন ও অশ্লীল নৃত্যের আসর বসানো হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এ মেলার কারণে যুবক ও কিশোরেরা বিপথগামী হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বদরপুর এলাকায় সোলায়মান লেংটা বাবা বাংলা ১৩২৫ সালের চৈত্র মাসে মারা যান। এর পরই কিছু বখাটে মাদকসেবী প্রতিবছর ওই এলাকায় চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে মেলার আয়োজন করে।
স্থানীয়ভাবে মেলাটি ‘লেংটার মেলা’ নামে পরিচিত। অন্যান্য বছরের হিসেব অনুযায়ী ৭ দিনের এ মেলায় লাখো লোকের সমাগম হতো। এ বছর মেলায় অন্তত ২ সহস্রাধিক গাঁজার দোকান ও অর্ধশতাধিক নারীদের অশ্লীল নৃত্যের জমজমাট আসর বসে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, হাজারো মানুষের ভিড়।
তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে মেলাটির নানা কার্যক্রম। বিভিন্ন জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। ভণ্ড লেংটার মাজার এলাকায় মাদকসেবী আশেকান-ভক্তের উপচে পড়া ভিড়। মাজারটির পশ্চিম দিকে পুকুরের পাড়, বাগান ও বেড়িবাঁধ এলাকায় গাঁজা-মদ সেবন ও বিক্রির জমজমাট আসর চলছে। পুলিশ ও প্রশাসনের চোখের সামনে সেখানে প্রকাশ্যে গাঁজা, ইয়াবা ও আফিমসহ বিভিন্ন মাদকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা।
বিভিন্ন জেলার নেশাখোরেরা সেখানে এসে আড্ডা দিচ্ছেন। এদিন সন্ধ্যায় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও রাতে তাদের কার্যক্রম চলমান ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদরপুর এলাকার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি অভিযোগ করেন, লেংটার মেলার নামে এখানে যেভাবে দিনরাত মাদক ও অশ্লীল নাচগানের আসর বসছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। মেলা এলাকার দুই শতাধিক স্থানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের জমজমাট আড্ডা চলছে। এতে মেলা ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নেশাগ্রস্ত ও বিপথগামী হয়ে পড়ছে কিশোর ও তরুণরা। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ। ওপরে মেলা আর ভেতরে ভেতরে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার মাদক। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এসব অপকর্ম হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
পুলিশ জানায়, মেলায় আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী অর্ধশত পুলিশ সদস্য এবং সিভিল পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য কাজ করছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় বন্ধ করার জন্য মাইকিং করা হয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘মতলবের সোলেমান লেংটার মেলা অনেক বড় মেলা। জেলা প্রশাসন থেকে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাই আগামীকাল থেকে মেলা বন্ধ হবে। আজ সন্ধ্যা এ ঘোষণা করা হয়।’
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ১০৭তম লেংটার ওরস ও মেলার প্রথম দিনে মাজারের প্রধান খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়াকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। মেলায় মাদক সেবন ও জুয়ার অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন জুয়াড়ির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
সিলেট বিভাগের সব পেট্রলপাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে মালিক-শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত রাত সাড়ে ১১টায় ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। রাত পৌনে তিনটার দিকে এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির মুখপাত্র ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান জানান, সিলেট বিভাগে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ধর্মঘট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত হওয়ায় সব পাম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বার্তা পৌঁছায়নি। এজন্য পাম্পগুলো চালু হতে কিছুটা সময় লাগছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব পাম্পে বার্তা পৌঁছে কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
প্রসঙ্গত ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি দিয়েছিলেন পেট্রলপাম্প মালিকরা।
দেশে থাকতে ছিলেন রাজমিস্ত্রি। তার আয়েই চলত পুরো সংসার। একটি সুন্দর ও সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার যুবক মুহিবুর রহমান। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভূমধ্যসাগরের মাঝেই অনাহার ও তৃষ্ণায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
মুহিবুর রহমান ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল আমিনের ছেলে। তিন ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে মহিবুর ছিলেন সবার বড়।
গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার বারবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু দালাল তাঁর ‘ভালো–মন্দ’ খবর নিশ্চিত করেনি।
পরে সোমবার (৩০ মার্চ) একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে নিশ্চিত করে। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ আহমদ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। মারুফ আহমদের ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলো মাঝ সমুদ্রেই ফেলে দিতে বাধ্য হন জীবিতরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবাবারে হাল ধরতে ও ভবিষ্যত সুন্দর করার আশায় দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা গ্রামের দালাল নবীর হোসেনের সঙ্গে চুক্তিতে মুহিবুর সহ কয়েকজন যুবক এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জমান।পরে ঐ চক্র লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে গ্রিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক একই পথে রওনা দেন।
মুহিবুরের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম, পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। ছোট ভাই হাফিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মা মহিমা বেগম শয্যাশায়ী ও বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। বাবা নুরুল আমিন দিশেহারা ছেলের এমন নির্মম পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। তারা দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রা থেকে যুবসমাজকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগেই এই মর্মান্তিক খবরটা শুনলাম। আমি খোঁজ নিচ্ছি এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় একটি তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি ওয়াগনসহ মোট ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ১২ ঘণ্টা পার হলেও এখনো উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা রেল স্টেশনের কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। রেললাইন মেরামত ও ওয়াগন উদ্ধারে বর্তমানে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি রেলওয়ের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।
রেলওয়ে সূত্র ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৬টি বগি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ডিজেলবাহী ট্রেনটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। পথে মনতলা নামক স্থানে পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনের ছয়টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এর মধ্যে পাঁচটি ছিল তেলের ওয়াগন। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, একটি অয়েল ট্যাংকার রেল সেতু থেকে ছিটকে সরাসরি নিচের খালে পড়ে যায়। এই ঘটনায় রেলওয়ের প্রায় ৫০০ মিটার লাইন দুমড়েমুচড়ে গেছে, যা মেরামত করা বেশ সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রাত ১টা থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে লাইনচ্যুত ওয়াগনগুলোর ওজন বেশি হওয়ায় এবং একটি বড় ট্যাংকার খালে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো লাইন স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর পর তেলের ট্যাংকারগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে ডিজেল বের হতে শুরু করলে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আশেপাশের গ্রামের কয়েকশ মানুষ হাড়ি, পাতিল, বালতি ও ড্রাম নিয়ে তেল সংগ্রহ করতে দুর্ঘটনাস্থলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলে জনতাকে সরিয়ে দেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে উদ্ধারকাজ চলছে।
রেলওয়ে ম্যানেজার এ বি এম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতিসীমা লঙ্ঘন নাকি রেললাইনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ওয়াগনে প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল ছিল, যার মধ্যে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি নষ্ট হয়ে গেছে।
রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। রেল কর্তৃপক্ষ আজ বৃহস্পতিবারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ‘উপবন এক্সপ্রেস’, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ এবং চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আজ দুপুরের মধ্যে অন্তত একটি লাইন সচল করা সম্ভব হবে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। যাত্রীদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে রেল বিভাগ।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় খেলার সময় পানিভর্তি গর্তে পড়ে দুই চাচাতো ভাইসহ তিন শিশু মারা গেছে। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়ায় মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সম্পর্কে একে অপরের মামাতো-ফুফাতো বোন। বুধবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, কুলাউড়ায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিগুলি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো ওই গ্রামের আশিক আলীর ছেলে আতাউর রহমান ইমাদ (৮), সাহেব আলীর ছেলে লাবিউর রহমান লাবিব (৭) এবং দিঘলকান্দি গ্রামের শিপার আহমদের ছেলে জিসান আহমেদ (১২)। নিষ্পাপ তিন শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গ্রামবাসী।
কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাহেল আহমদ জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের জমিতে পাঁচ শিশু একসঙ্গে খেলাধুলা করছিল। খেলতে খেলতে ইমাদ, লাবিব ও জিসান অসাবধানতাবশত পাশের একটি ডোবার পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ফটিগুলি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
কুলাউড়া থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নেওয়া হচ্ছে।
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, চকরিয়ার চিরিংগা ইউনিয়নে মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মামাতো বোনের সাথে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সম্পর্কে একে অপরের মামাতো-ফুফাতো বোন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সওদাগর ঘোনা চারা বটতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো, উপজেলার ডুলাহাজরা ইউনিয়নের হেলাল উদ্দিনের মেয়ে বকেয়া মনি (৮) ও চারা বটতলী এলাকার মিরাজ উদ্দিনের মেয়ে হুরিফা জান্নাত (৫)।
স্থানীয়রা জানান , সকালে মামার বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি পুকুরের পার্শ্ববর্তী মাঠে খেলতে যায় দুই শিশু। একপর্যায়ে পুকুরের পাড়ে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যায় দুজন।
স্বজনরা দীর্ঘ সময় তাদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন পুকুরের আশপাশে দুজন খেলতে গিয়েছিলেন। সন্দেহজনকভাবে পুকুরে খুঁজতে গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুদের মুখ দিয়ে রক্তমিশ্রিত ফেনা বের হচ্ছিল। দ্রুত তাদের চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, পুকুরের পানিতে পড়ে দুই বোনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর গাজীপুর ব্যাটালিয়ন (৬৩ বিজিবি)-এর একটি আভিযানিকদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার (১ এপ্রিল ) আনুমানিক ১২.১০ ঘটিকায় একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গাজীপুরের পুবাইলে অবস্থিত 'মেসার্স তুরাগ ফিলিং স্টেশন' এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানে বর্ণিত ফিলিং স্টেশন থেক অবৈধভাবে মজুদকৃত ৮৫১ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।এ সময় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত রাখার অপরাধে উক্ত ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে ৬০,০০০/- (ষাট হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে গাজীপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ মাসুদ আল ফেরদৌস জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ মজুত ও পাচার প্রতিরোধে সর্বদা তৎপর রয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।