শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৪ ২২:০০

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)। কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে গত তিন সপ্তায় কক্সবাজারে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এক দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সিকদার বাজার এলাকায় বসবাসকারি সাইফুল ইসলামের বাড়ির উপর আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মাটির দেয়াল ভেঙে সাইফুলের ঘুমন্ত শিশু চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে মাটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে ভোরে শহরের এবিসি ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় জমিলা আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ওসি।

জমিলার পরিবারকে উদ্ধৃত করে রকিবুজ্জামান বলেন, ভোরে জমিলা আক্তার রান্না ঘরের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার স্বামী আরেক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়লে জমিলা মাটি চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ নিজেদের বাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় লায়লা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান রকিবুজ্জামান।

নিহত লায়লা বেগমের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় লায়লা বেগম ছেলে জোনায়েদকে কোলে নিয়ে পাহাড়ের মাটি ভাঙছে কি না দেখতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল। এ সময় আকস্মিক পাহাড় ধসে বসতবাড়ির ওপর মাটিচাপা পড়ে। এতে তার স্বামী ও অপর ২ মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও লায়লা বেগম ও এক শিশুসন্তান মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও তার মা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দুদিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।

শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, আরও পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি

এদিকে, আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারি (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।

ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে।

উত্তরে নদীর পানি বাড়ছে

এদিকে, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীর পানি বাড়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর ফলে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ‘সামান্য অবনতি’ হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দেশের ৯টি নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল।

ওই সময় বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১১০টি স্টেশনের মধ্যে ৪৭টি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ৬১ পয়েন্টে বাড়ছিল আর অপরিবর্তিত ছিল দুই পয়েন্টে।

বুলেটিনে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীর পানি ‘সময় বিশেষে’ বাড়তে পারে।

তাতে ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা ও দুধকুমার নদী-সংলগ্ন কুড়িগ্রাম জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।

এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের মহানন্দা, যমুনাশ্বরী, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুর্নভবা, টাঙ্গন এবং ইছামতি- যমুনা নদীর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এদিকে গঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে, এ পরিস্থিতি আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

ব্রহ্মপুত্রের পানিও বাড়ছে, অন্যদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে; আগামী ২৪ ঘণ্টায় দুই নদীর পানিই স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে বুলেটিনে।

সেখানে বলা হয়, পদ্মা নদীর পানি এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে; তবে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এ সময় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আত্রাই নদীর পানি বাঘাবাড়ী পয়েন্টে কমে নদী সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।


দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।

আলী হোসেন ফকির বলেন, রাজধানীতে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ বসবাস করেন। তাই রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুরো দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থেই অপরিহার্য। মাঠপর্যায়ের কাজ গতিশীল করতে সিনিয়র অফিসারদের সরাসরি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিক তদারকি থাকলে নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে উৎসাহিত হয়।

তিনি বলেন, আপনারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশের স্বার্থে ও জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। তবে ইচ্ছাকৃত ভুল বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। সে ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে পুলিশের পরিচয় একটাই- আমরা আইন ও জনগণের সেবক। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। বর্তমানে ঐতিহ্যগত অপরাধের চেয়ে সাইবার ক্রাইম, গুজব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও ‌‘মিস ইনফরমেশন’ মোকাবিলা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পুলিশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্তি আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলামসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।


১০ লাখের প্রলোভনে কিডনি নিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারণা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আব্দুস সাত্তার (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বগুড়া সদর উপজেলার পৌরপার্ক এলাকা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে। পুলিশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের অন্যতম প্রধান দালাল। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে কিডনি কেনাবেচাসহ কালাই থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।

কালাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা দীপেন্দ্র নাথ সিংহ এসব তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘কিডনি-সংক্রান্ত প্রতারণার মামলাটি থানায় গ্রহণের পর এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল রাতে বগুড়া সদরের পৌরপার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

দীপেন্দ্র নাথ সিংহ আরও বলেন, ‘সকালে আব্দুস সাত্তারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সবশেষ যে মামলায় আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে অভিযোগ করা হয়েছে—আর্থিক সংকটে থাকা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার মন্টু মিয়াকে কিডনি বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয় এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য নেপালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মন্টু মিয়াকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে তাকে নেপালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণের কয়েক দিন পর তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দেশে ফেরার পর চুক্তি অনুযায়ী বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন মন্টু মিয়া। তবে আব্দুস সাত্তারসহ অন্য দালালেরা টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করতে থাকেন।

কিডনি বিক্রির টাকা না পেয়ে গত ১৩ জুন জয়পুরহাট আমলি আদালতে মামলা করেন মন্টু মিয়া। মামলায় বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা গ্রামের আব্দুস সাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে ওই দিনই মামলাটি কালাই থানায় রেকর্ড করা হয়।

মামলার এজাহারে তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকেও কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তিনি ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় অবস্থান করে জয়পুরহাটে দালাল নিয়োগের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করতেন এবং দেশে-বিদেশে কিডনি কেনাবেচা করতেন।

কালাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ক্রয়-বিক্রয়কারী একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে টার্গেট করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে রাজি করানো হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের নজরদারি ও আইনগত তৎপরতার কারণে কিছু সময় এ ধরনের কর্মকাণ্ড কম থাকলেও গত এক বছরে আবারও চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে আগে থেকেই ‘কিডনির হাট’ হিসেবে আলোচিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি, উলিপুর, সাতার, কুসুমসাড়া, অনিহার, ভাউজাপাতার, শিবসমুদ্র, পাইকশ্বর ও ইন্দাহার; উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি, বহুতি, মোহাইল, থল, বাগইল, মাস্তর, জয়পুর বহুতি, নওয়ানা বহুতি, দুর্গাপুর, উত্তর তেলিহার, ভুষা, কাশিপুর, বিনইল ও পূর্ব কৃষ্টপুর; আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর, বোড়াই, হারুঞ্জা, নওপাড়া ও বালাইট গ্রামের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।

এ ছাড়া নতুন করে কালাই পৌরসভার আওড়া, সীতাহার ও দুরুঞ্জ-নয়াপাড়া মহল্লা, জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা, ইমামপুর, বেগুনগ্রাম, করিমপুর ও হাজিপুর-ঘাটুরিয়া এবং পুনট ইউনিয়নের জালাইগাড়ী, পাঁচগ্রাম, জগডুম্বর ও শান্তিনগর এলাকার নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।

মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ নিকটাত্মীয়কে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ডোনেট করার সুযোগ থাকলেও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। আইনের ৯ ধারায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বেচাকেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনের ১০(১) ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এ কাজে সহায়তার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।


দুই দিন ধরে গ্যাসহীন কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ এলাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

টানা দুই দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছে কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ। কোথাও স্বল্পচাপ, আবার কোথাও একেবারেই গ্যাস নেই। এতে রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে খরচ ও ভোগান্তি। একইসঙ্গে চাপ বেড়েছে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতে। কবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে জানেনা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতার চাপ। একটি খাবার হোটেলের ম্যানেজার সোহেল রহমান জানান, এত কাস্টমার সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাত, রুটি থেকে শুরু করে বেকারির বিস্কুট পর্যন্ত বিক্রি করে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

বিজিডিসিএলের আওতাধীন কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেও এর প্রভাব পড়েছে। সাময়িক গ্যাস সংকটের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সরবরাহ ও অভিযোগের বিষয়ে ১৬৫১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তবে স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রান্নার দায়িত্বে থাকা মানুষ। অনেকেই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও বিড়ম্বনায় পড়ছেন। দ্রুত এ সংকটের সমাধান দাবি করেছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর কোথাও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ডিজিএম (সেলস) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মান ভালো বলতে পারবেন।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সোলায়মান জানান, গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এ মুহূর্তে তিনি তা বলতে পারছেন না। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তাও বলা যাচ্ছে না।


মাদারীপুরে নদীভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে মশাল মিছিল

* আড়িয়ালখাঁয় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সোচ্চার মানুষ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

অবৈধ ড্রেজার বন্ধে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর বিভিন্ন সংগঠনের স্মারকলিপি প্রদান, প্রতিবাদ-সমাবেশ, বিক্ষোভ যেনো ক্রমেই ব্যাপকভাবে দানা বাঁধছে। এর মূল কারণ স্মারকলিপি প্রদানের সময় বেঁধে দেয়ার আল্টিমেটামের মেয়াদ শেষ হলেও জেলা প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।

দীর্ঘদিন যাবত মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী আড়িয়ালখাঁ নদীর অববাহিকার হোগলপাতিয়া, চরহোগলপাতিয়া, কালিকাপুর, মহিষেরচর, শ্রীনদী, পখিরা, শিরুয়াইল গ্রাম সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট কর্তৃক নদীর তীরবর্তী তলদেশ থেকে বালু ও মাটি কেটে নেয়ায় নদী ভাঙ্গণে শত-শত পরিবার ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে নিঃস্ব হবার প্রেক্ষিতে দৈনিক বাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জেলা ছাত্রদল, যুবদল সহ বিভিন্ন মহল থেকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে কিন্তু আল্টিমেটামের মেয়াদ শেষ হলেও জেলা প্রশাসন থেকে এখনো কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ফুঁসে উঠেছে এসব সংগঠন।

ছাত্রদলের স্মারকলিপি প্রদাণের সময় মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা যুবদল একই দাবিতে স্মারললিপি প্রদান করে সময় বেঁধে দিয়ে এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেয়ার আল্টিমেটাম দেয় কিন্তু স্মারকলিপি প্রদানের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও জেলা প্রশাসন থেকে জড়িতদের গ্রেফতার কিংবা কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়নি।

এদিকে ছাত্রদল- যুবদলের পাশাপাশি তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ছাত্রশিবির, গণঅধিকার পরিষদ, ছাত্র বৈষম্য আন্দোলন সহ নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সহ সর্বস্তরের সচেতন মহল।

এ প্রেক্ষিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামুরুল হাসান, যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হাসান, সিনিয়র ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসাইন, জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি বেল্লাল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদ ছাত্র নেতা সোহাগ হাসান, জেলা ছাত্রবৈষম্য আন্দোলনের নেতা ইকতিয়ারউদ্দিন সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সম্মিলিত নেতৃত্বে রাতে এক বিরাট মশাল মিছিল বের করে শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাদারীপুর সদর মডেল থানার সামনের মূল ফটকে রাত ৯ টার দিকে সমবেত হয়ে মশাল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুল হাসান বলেন, ছাত্র-জনতা আন্দোলন করে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ সরকারকে স্বদলবলে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে আর আমরা অসহায় মানুষদের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি, ফসলিজমি নিঃস্ব করে দেয়া এসব অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী, তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটদের বিদায় করতে পারবো না? নিশ্চয় তাদের বিদায় করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারী দেন। সিনিয়র ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসাইন বলেন, হয় মাদারীপুরে ছাত্র-জনতা থাকবে- না হয় অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেট ও তাদের গডফাদার বেনিফিসিয়ারীরা থাকবে।

ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুল আলম বলেন, কোন স্বার্থে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে না- তা নদীভাঙ্গনের সহজ-সরল ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ও মাদারীপুরের মানুষ জানতে চায়, সময় থাকতে ব্যবস্থা না নেয়া হলে আরো বড় আন্দোলনের কর্মসূচী দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি বেল্লাল হোসেন অনতিবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করে এসব বালুখেঁকো, ফসলিজমি ও ভিটেমাটি খেঁকো সিন্ডিকেটসহ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী ও তাদের বেনিফিসিয়ারীদের উৎখাতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

গণঅধিকার পরিষদ নেতা সোহাগ হাসান বলেন, মাদারীপুরের ড্রেজার সিন্ডিকেটে কারা-কারা মাসোয়ারা পান তা’ তাদের জানা আছে, তড়িৎ ব্যবস্থা না নিলে তাদের মুখোশ দেশ ও জাতির কাছে খুলে দেয়া হবে।

পরিশেষে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটদের গ্রফতারের দাবীর কথা দ্ব্যর্থহীণ কন্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন। আর তা'না হলে দেশ থেকে স্বৈরাচারী- ফ্যাসিবাদ ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে যেভাবে পালিয়ে গেছে- মাদারীপুর থেকে সেভাবে এর সাথে সম্পৃক্তরা ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে লজ্জাজনক বিদায় নেবে বলে ঘোষণা করেন।


নাটোরে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল হাসান, নাটোর

নাটোরে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লালপুর ও বাগাতিপাড়া থানার ওসিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব ছিল সাংবাদিক এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউএনওকে অবরুদ্ধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

নির্যাতিত সাংবাদিক ফজলুর রহমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আমরা ইউএনও অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম। এ সময় বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন পান্নার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলে এবং আমাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসিম উদ্দিন নাসিম, সাধারণ সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, ইউনিক প্রেসক্লাবের সভাপতি দেবাশীষ কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, এনটিভির সিনিয়র করেসপনডেন্ট হালিম খান, এখন টেলিভিশনের প্রতিনিধি মাহবুব হোসেন, সময় টিভির আল মামুন, দেশ টিভির প্রতিনিধি মামুন খানসহ অন্যান্যরা।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ইউএনওকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন।


ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৯৩

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গত বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল আটটা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার এবং অপরজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৬৯ জন ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ২০ হাজার ৫৬৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২৪৩ জনে।


দৌলতপুরে ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২১
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি নকল সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সিগারেট তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যৌথ অভিযানে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের ফার্মের গোডাউনের ভেতরে গড়ে তোলা অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানাটির সন্ধান পায়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, ‘নেভি, ডার্বি ও রয়েল’ ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেটসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সিগারেটের মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা।

গোডাউনের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, তিনি জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় গোডাউনটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

এর আগে গত ৯ মে র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন এবং প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে কিছুদিনের মধ্যেই কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘আগের অভিযানের পর কারখানাটি সিলগালা করা হলেও পরবর্তীতে মালিকপক্ষ আদালতে মামলা করে সেটি পুনরায় চালু করেছে।’

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।


মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্ছ্বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবরে আনন্দে ভাসছে তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা মিষ্টি বিতরণ করেন এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু একজন দলীয় নেতা নন, তিনি একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন বর্ষীয়ান নেতা। তার মতো অভিজ্ঞ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ।

নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ জানতে চাইলে একমত হয়ে জেলার মানুষ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের গর্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা আনন্দিত এবং বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাই।” রাজনীতির দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের খবরে তাই স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত নিজ জেলার মানুষ।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার এবং জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মনোনয়নকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

মিষ্টি বিতরণ আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


কুড়িগ্রামে ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দুই দিনের প্রশিক্ষণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, বন্যার পূর্বাভাস, আগাম সতর্কবার্তা প্রচার এবং পরিবারভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রাম ইএসডিও ট্রেনিং সেন্টার জলেশ্বরী মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।

অ্যাকসেস প্রকল্প উদ্যোগে ১২ ও ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ হেলভেটাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের বাস্তবায়ন করে। প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি'র বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক সহায়তা করে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় টেকসই সমাধান নিশ্চিতকরণ অ্যাকসেস প্রকল্পের প্রশিক্ষণে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, বন্যার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগের আগে-পরবর্তী সময়ে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা তৈরি করা। প্রশিক্ষণে ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, বন্যার পূর্বাভাস, স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকিসীমা নির্ধারণ এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচারে কমিটির ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারীদের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, মৌলিক ধারণা, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা-দায়িত্ব এবং বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া।

দ্বিতীয় দিনে বন্যার আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, স্থানীয় পর্যায়ে সতর্ক সংকেত ব্যবহারের কৌশল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৭জন সদস্য প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ গ্রহণ করেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রশিক্ষক বিশেষজ্ঞ সাইফুল ইসলাম, প্রজেক্ট অফিসার-ডি আর আর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের জয় প্রকাশ, অফিসার-ডি আর আর এন্ড এনবিএস,টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর মিল্টন কুমার সরকার এবং ইএসডিও- এ্যাকসেস প্রজেক্ট অপারেশন ম্যানেজার গোলাম ফারুক।


স্বাস্থ্যখাতে দলীয়করণের কুফল এখনো পোহাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

গত প্রায় দেড় যুগে স্বাস্থ্যখাতে দলীয়করণের যে কুফল, এখনো তার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে জনবলের স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কত দ্রুত এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সঠিক জনবল সঠিক জায়গায় দেওয়া যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এটি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ফেনীর সিভিল সার্জন ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার বিষয়টি শুধু ফেনীর চিত্র নয়, সারা বাংলাদেশের চিত্র। অনেক জেলাতেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জনবল সংকট রয়েছে। ফেনীর এসব পদ পূরণের বিষয়টি নোট নিয়েছি, ঢাকায় ফিরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।

দেশের স্বাস্থ্যখাতে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, এবারের বাজেটে এ খাতে ৩৭ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে জিডিপির দশমিক ৬ থেকে দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ ছিল, এবার তা বেড়ে জিডিপির ১ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য সরকার কাজ করছে।

দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট কাটিয়ে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছি, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণাও চালু রাখতে হবে, যাতে নরমাল ডেলিভারিকে আরও উৎসাহিত করা যায়।

এদিন ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট, স্ক্যানু, আইসিইউ, ডেঙ্গু বিভাগ, হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. জালাল উদ্দীন, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সোহরাব হোসেন, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন, সহকারী আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দৌলা, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নওগাঁয় লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন, ব্যাহত কৃষিশিল্প

* জেনারেটরে বাড়ছে উৎপাদন খরচ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতির কারণে নওগাঁয় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কোনো কোনো এলাকায় দিনে-রাতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে একদিকে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন, অন্যদিকে বিদ্যুৎনির্ভর শিল্পকারখানায় কমে গেছে উৎপাদন। ব্যাহত হচ্ছে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করলেও এতে বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন ব্যয়। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।

ধান-চাল উৎপাদনের জন্য পরিচিত নওগাঁ জেলায় বর্তমানে ৭০০টির বেশি চালকল রয়েছে। এর পাশাপাশি খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন খাতের ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নেসকোর আওতাধীন নওগাঁ পৌরসভার সুলতানপুর এলাকায় অবস্থিত ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলে গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে মেশিন সচল রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চালকলটির মালিক দ্বিজেন ঘোষ বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ গেছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রায় এক ঘণ্টা পর আসে। জেনারেটর চালাতে ডিজেল লাগছে। এতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ডিজেলের খরচ কমাতে বাধ্য হয়ে কখনো কখনো কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

নওগাঁ বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিলের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পর ফিরছে। এতে কারখানার উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও ডিজেলের বাড়তি খরচের কারণে সারাক্ষণ তা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

শুধু শিল্পকারখানা নয়, লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। নওগাঁ শহরের কাজীর মোড় এলাকার পঞ্চভাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক বলেন, ‘আগস্টের শুরু থেকেই তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। প্রতিদিন ভোরে হোটেল খোলার পর রাত ১১টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। এতে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

এদিকে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ।

নিয়ামতপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপের অপারেটর ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘সারাদিনে ছয়-সাত ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানের জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। লোডশেডিং না থাকলে যে জমিতে সেচ দিতে দুই ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগছে। বিদ্যুতের অবস্থা এভাবে চলতে থাকলে ধান বাঁচানোই কঠিন হয়ে যাবে।’

ধামইরহাট উপজেলা সদর বাজারের থানা মোড় এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের মাধ্যমে বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর মালিকও সব সময় সরবরাহ দিতে পারছেন না। প্রতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা নেওয়ার চুক্তি থাকলেও এখন পরিস্থিতির কারণে ১ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।’

নওগাঁ সদর উপজেলার নওগাঁ পৌর এলাকা, বদলগাছী ও পত্নীতলার কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। জেলার বাকি এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় পিক ও অফ-পিক আওয়ার মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মাহবুব জিয়া বলেন, ‘তাদের সমিতির অধীনে মোট গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার। প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।


কুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ আকবরকে সংবর্ধনা প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ফার্স্ট ক্লাস অর্জন করা ঝিনাইদহের কৃতি শিক্ষার্থী আসিফ আকবরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহ শহরের আহার রেস্টুরেন্টে শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি-৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আসিফ আকবর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলামের ছেলে। কুয়েটে তার এই কৃতিত্বে পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘আসিফ আকবরের এ সাফল্য ঝিনাইদহের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।’ তার এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শাহজাহান আলী, আকুল উদ্দিন, আব্দুর রহমান, জাহিদুজ্জামান সেলিম, নাসির উদ্দিন, আনিছুর রহমান মিলনসহ এসএসসি-৯৩ ব্যাচের অন্যান্য সদস্যরা।

শেষে কৃতি শিক্ষার্থী আসিফ আকবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করেন।


তেরখাদায় বিএনপি নেতা ফরিদ মোল্লার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা মো. ফরিদ মোল্লার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন উপজেলা বিএনপি ও সর্বস্তরের জনগণ। বুধবার (১২ আগস্ট) আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও দ্রুত তার মুক্তির দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও নানা ধরনের হয়রানি করা হয়েছে। ফরিদ মোল্লাও ওই সময় রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও মামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা টিএনটি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পশ্চিম কাটেংগা এলাকার মো. ফরিদ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি কৃষক দলের সাবেক সভাপতি এবং ছাত্রদলের নেতাও ছিলেন।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতি ফরিদ মোল্লার মুক্তির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা পর্যালোচনা করে প্রত্যাহার এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান বক্তারা।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওসার আলী, বিএনপি নেতা মোল্লা মাহাবুবুর রহমান, শরিফ নাইমুল হক, মোল্লা হুমায়ুন কবির ও মো. বিল্লাল হোসেন বক্তব্য দেন।

এ সময় যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, অহিদ শেখ, কৃষক দল নেতা সাবু মোল্লা, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, মহিলা দল নেত্রী রূপালী বেগমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফরিদ মোল্লার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তার মুক্তির দাবি অব্যাহত থাকবে। পরে নেতাকর্মীরা ফরিদ মোল্লার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।


banner close