আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)। কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ নিয়ে গত তিন সপ্তায় কক্সবাজারে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এক দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সিকদার বাজার এলাকায় বসবাসকারি সাইফুল ইসলামের বাড়ির উপর আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মাটির দেয়াল ভেঙে সাইফুলের ঘুমন্ত শিশু চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে মাটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে ভোরে শহরের এবিসি ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় জমিলা আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ওসি।
জমিলার পরিবারকে উদ্ধৃত করে রকিবুজ্জামান বলেন, ভোরে জমিলা আক্তার রান্না ঘরের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার স্বামী আরেক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়লে জমিলা মাটি চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ নিজেদের বাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় লায়লা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান রকিবুজ্জামান।
নিহত লায়লা বেগমের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় লায়লা বেগম ছেলে জোনায়েদকে কোলে নিয়ে পাহাড়ের মাটি ভাঙছে কি না দেখতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল। এ সময় আকস্মিক পাহাড় ধসে বসতবাড়ির ওপর মাটিচাপা পড়ে। এতে তার স্বামী ও অপর ২ মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও লায়লা বেগম ও এক শিশুসন্তান মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও তার মা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দুদিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।
শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, আরও পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি
এদিকে, আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারি (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।
ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে।
উত্তরে নদীর পানি বাড়ছে
এদিকে, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীর পানি বাড়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর ফলে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ‘সামান্য অবনতি’ হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দেশের ৯টি নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল।
ওই সময় বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১১০টি স্টেশনের মধ্যে ৪৭টি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ৬১ পয়েন্টে বাড়ছিল আর অপরিবর্তিত ছিল দুই পয়েন্টে।
বুলেটিনে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীর পানি ‘সময় বিশেষে’ বাড়তে পারে।
তাতে ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা ও দুধকুমার নদী-সংলগ্ন কুড়িগ্রাম জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।
এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের মহানন্দা, যমুনাশ্বরী, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুর্নভবা, টাঙ্গন এবং ইছামতি- যমুনা নদীর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।
এদিকে গঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে, এ পরিস্থিতি আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
ব্রহ্মপুত্রের পানিও বাড়ছে, অন্যদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে; আগামী ২৪ ঘণ্টায় দুই নদীর পানিই স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে বুলেটিনে।
সেখানে বলা হয়, পদ্মা নদীর পানি এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে; তবে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এ সময় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আত্রাই নদীর পানি বাঘাবাড়ী পয়েন্টে কমে নদী সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২৫ মে) সকালে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চায়পাড়া আবাসন এলাকার ওই গৃহবধূ গত ২৪ মে সকালে বাড়ির পাশের একটি আমবাগানে খড়ি সংগ্রহ করতে যান। এ সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ৭১ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তরিকুল ইসলাম (২০) নামের এক যুবককে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ। রবিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের স্কুল মোড় সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত তরিকুল ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র।
পুলিশ ও মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ মে দুপুরে ওই বৃদ্ধা দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামে অবস্থিত তার মেয়ের বাড়ি থেকে নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন। ফেরার পথে তার সাথে মেয়ের দেওয়া মাছ ও তরকারির ব্যাগ ছিল। পথিমধ্যে ইব্রাহিমপুর পার্কের পেছনের এলাকায় পৌঁছালে তরিকুল ইসলাম সাহায্য করার অছিলায় ব্যাগটি বহন করে তার সঙ্গী হয়। পরবর্তীতে ইব্রাহিমপুর মেন্দের মাঠ নামক নির্জন স্থানে পৌঁছালে তরিকুল ওই বৃদ্ধাকে বলপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা নিজেই বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ‘মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ সোমবার (২৫ মে) দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হেমায়েতপুর-সিংগাইর আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর এক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার (২৫ মে) বিকেলে মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর-সিংগাইর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায়।
নিহত মোটরসাইকেল চালক মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮)। নিহতের বাড়ী উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামে। সে ওই এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম মোমেনের
ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেমায়েতপুর থেকে সিংগাইরগামী একটি নাম্বারবিহীন কাটা সিএনজির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা হেমায়েতপুরগামী নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহত কাউসার আহম্মেদ উপজেলার আঠালিয়া এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম মোমেনের ছেলে।
এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী মো. আরাফাত (১৮) গুরুতর আহত হন। তিনি একই এলাকার মো. কোহিনুর বিশ্বাসের ছেলে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ঝিনাইদহে এনসিপির সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা এনসিপি যেমন রাজনৈতিকভাবে দেখছে বিএনপিও একইভাবেই দেখছে। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যে আচরণ করা হয়েছে সেটা কেউ কামনা করে না এবং শোভনীও নয়।
চুয়াডাঙ্গায় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে এ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতায় যেসব বিচারিক আদালত রয়েছে সেই আদালতগুলো ছুটির বাইরে রাখার জন্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই আদালতগুলো খোলা থাকবে। আপনারা দেখবেন ১ জুন থেকে রামিসার বিচার শুরু হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর প্রথম যে দিন অফিস আদালত খুলবে ওদিনই রামিসার ঘটনার বিচার শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামী জবানবন্দী দিয়েছে, আমরা বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশীট হয়েছে। আমরা বিচারের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে গেছি।
জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শরীফুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, সেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শরীফুল আলম বিলাস, সাধারণ সম্পাদক এম.এ তালহা, কৃষকদলের সভাপতি মোকাররম হোসেনসহ সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে মতবিনিময় সভায় জুলাই সনদ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদকে সবচেয়ে বেশি ধারন করছে বিএনপি। সনদ বাস্তবায়নে দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ এগিয়ে যাচ্ছি।
পরে দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় মিশনারী মাঠ প্রাঙ্গনে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপি সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে স্থাপিত একটি অস্থায়ী গরুর হাটকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে । সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আদালতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে বৈধ এই হাট বন্ধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্থানীয় চাহিদার প্রেক্ষিতে ড্রিম স্টিল রি-রোলিং মিলস মাঠে অস্থায়ী গরুর হাটটি স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে হাট ও বাজার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিধিমালার ১৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী জেলা প্রশাসক অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সেই ক্ষমতাবলেই উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উন্মুক্ত ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সর্বোচ্চ দরদাতাকে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি সিটি করপোরেশন এলাকার একটি বাজারের ইজারাদার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটে হাটটিকে অবৈধ ও অনুমোদনবিহীন দাবি করা হয়। পাশাপাশি এটি সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে অবস্থিত এবং মহাসড়কের ওপর বসানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র বলছে, এসব অভিযোগ সঠিক নয় এবং অনেক তথ্য আদালতে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হাটটি সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়; বরং সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন এলাকায় পড়েছে । ফলে সিটি করপোরেশনের কোনো বাজারের সঙ্গে এর প্রশাসনিক বা আইনগত সম্পর্ক নেই। এছাড়া এটি সলিমপুর ইউনিয়নের একমাত্র গরুর হাট এবং প্রথমবারের মতো অস্থায়ী ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই হাটটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো ইউনিয়নের মানুষকে কোরবানির পশু কিনতে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হবে, এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সোমবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হাট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বাজারটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে ইজারা দেওয়া হয়েছে।”
আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে বলেছেন, যদি হাটটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপন করা হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত হাটটির জেলা প্রশাসনের অনুমোদন রয়েছে এবং উপজেলা পরিষদ বিধি মোতাবেক ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। তাই হাট এর কার্যক্রম চলতে আইনগত বাধা নেই।
হাটটি মহাসড়কের ওপর স্থাপন করা হয়েছে এবং এতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে—এমন অভিযোগও করা হচ্ছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটটি মহাসড়কের ওপর নয়; বরং সড়কের পাশের একটি মাঠের ভেতরে পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে যান চলাচলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে না বলে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার সময় সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবী জানান স্হানীয়রা ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি পক্ষ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় আবেদন করছে এবং প্রতিযোগিতামূলক কারণে বৈধ এই হাটটি বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁদের মতে, আদালতে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হলে হাটটির বৈধতা আরও স্পষ্ট হবে।
মাগুরার চাঞ্চল্যকর ছিনতাই হওয়া ৬০ ব্যারেল ভোজ্য তেলবাহী ট্রাকের ড্রাইভার আব্দুর রহমান হত্যার প্রধান আসামি হিটলারসহ ৪ জন গ্রেফতার। ছিনতাই হওয়া ট্রাক, তেল ও টাকা উদ্ধার।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে মাগুরা এসপি অফিসে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিং এ মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, একটি কুলুলেস হত্যাকাণ্ড অভিযোগের মাত্র একদিনের ব্যবধানে ২৪ মে মাগুরা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার কৃতরা হলো মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার পুত্র আজাদ হোসেন হিটলার (২৭), জাগলা গ্রামের হাজারী লাল সাহার পুত্র বিকাশ সাহা (৩০), রাজিবের পাড়া গ্রামের ইমারত মোল্লার পুত্র আব্দুল কুদ্দুস (৫০) ও বুধইর পাড়ার লোকমান মোল্লার পুত্র হারুন অর রশিদ (৪৮)।
আসামিদের স্বীকারোক্তি মতে ছিনতাইকৃত ট্রাক, ভোজ্য তেল ৬০ ব্যারেলের মধ্যে ৪৫ ব্যারেল তেল, তিন লক্ষ ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ড্রাইভার আব্দুর রহমান হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
গত ১৮ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে রাতে মাগুরা আড়পাড়া বাজারের মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্স এ ৬০ ব্যারেল ভোজ্য তেল নিয়ে ট্রাকটি রওনা হয়ে পথিমধ্যে ছিনতাই এর কবলে পড়ে। ছিনতাইকারীরা ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ড্রাইভার আব্দুর রহমানকে হত্যা করে বিভিন্ন স্থানে তেল নামিয়ে খালি ট্রাক এবং তার মৃতদেহ ঝিনাইদহের কোলা বাজারের অদূরে ফেলে রাখা যায়। ঝিনাইদহ পুলিশ ২০ মে অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা করেন।
গত ২৩ তারিখে মাগুরা পুলিশ সুপারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি মহামায়া ট্রেডার্স এর মালিক গোপাল সাহা অভিযোগ করেন।
মাদারীপুর থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ্য আত্মীয়কে দেখতে যাওয়ার পথিমধ্যে ফরিদপুরের শংকরপাশায় একই পরিবারের ৪ জন ও এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার সহ মোট ৫ জনের বিআরটিসি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় সোমবার (২৫ শে মে) মাদারীপুর জেলা প্রশাসন থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের নিহত ৪ জনের বাড়ি যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব। এসময় তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে গভীর সমবেদনা জানিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষে নিহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেন আর্থিক সহায়তা।
পরে সৈদারবালি গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে অ্যাম্বুলেন্স চালক কাওছার মাতুব্বরের পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, “একই পরিবারের চারজন সদস্যকে হারানো অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। উল্লেখ্য যে, রোববার সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় বিআরটিসি যাত্রীবাহী বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ নিহত হন মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬০), তার স্ত্রী বেলী আক্তার, ভাই আলমগীর মোল্লা (৫৮) ও ভাবি খুশি বেগম।
জাহাঙ্গীর মোল্লা ও আলমগীর মোল্লা বালিগ্রামের আব্দুল হাজি ওয়াহিদ মোল্লার ছেলে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে নিয়ে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রবিবার (২৪ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে শিশু মৃত্যুর এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১২৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৪০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৭ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা আট হাজার ৭১৯ জন।
১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ হাজার ৫৮৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৬১৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৪৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চায়ের রাজধানী ও পাহাড়ি সৌন্দর্যে ঘেরা পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পর্যটকের ঢলের অপেক্ষায় রয়েছে। টানা ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-রিসোর্ট ও বিনোদন স্পটগুলোতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে।
তবে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের চিত্র একরকম নয়। গত কয়েক সপ্তাহে পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে এবং পর্যটকদের আগমনে আবারও চাঙা হবে স্থানীয় অর্থনীতি। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশি পর্যটকদের কাছেও শ্রীমঙ্গল দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণগন্তব্য হিসেবে পরিচিত। দিগন্তজোড়া সবুজ চা-বাগান, হাওর, পাহাড়ি টিলা, রাবার ও লেবুবাগানের মনোরম পরিবেশ প্রতি বছরই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত রাধানগরসহ বিভিন্ন স্থানের হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং-রূপসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। চাইনিজ, থাই, বাংলা ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে মেনুতেও আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। অনেক প্রতিষ্ঠান ঈদ উপলক্ষে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণাও দিয়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে মানুষ এখন প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে বেশি আগ্রহী। ফলে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, লেবুবাগান, রাবার বাগান, আনারস বাগান ও হাওরাঞ্চল ঘিরে পর্যটকের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। উপজেলায় রয়েছে অর্ধশতাধিক চা-বাগান এবং অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, ভাড়াউড়া চা-বাগান লেক, টি মিউজিয়াম, আদি নীলকণ্ঠ চা কেবিন, বধ্যভূমি-৭১, মণিপুরী ও খাসিয়া পল্লী, হরিণছড়া, পাইন বন, বিলাসছড়া লেক ও সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা।
পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গত কয়েক মাসে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও চাঁদের গাড়ি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে তারা নতুন আশার আলো দেখছেন।
হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। পাশাপাশি দেড় শতাধিক ইকো কটেজ ও পর্যটন আবাসন সুবিধা গড়ে উঠেছে। পর্যটননির্ভর এই খাতকে ঘিরে হাজারো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিং শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে এবং ঈদের আগেই শতভাগ বুকিং পূর্ণ হবে বলে তারা আশা করছেন।
রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, শহরের হোটেল-রিসোর্টে প্রায় ৬০ শতাংশ এবং রাধানগর এলাকার রিসোর্ট ও কটেজে প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ বুকিং হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমন বলেন, আগাম বুকিংয়ে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পূর্ণ হবে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের জন্য রিসোর্টগুলো বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে।
প্যারাগন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার আরোফিন হোসাইন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রুম ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে। তবে এবার প্রত্যাশিত সাড়া কিছুটা কম পাওয়া গেলেও ঈদের আগে শতভাগ বুকিংয়ের আশা রয়েছে।
লেমন গার্ডেন রিসোর্টের মালিক সেলিম মিয়া বলেন, রাধানগর ও ডলুবাড়ি এলাকার প্রায় সব রিসোর্টেই আগাম বুকিং শুরু হয়েছে এবং পর্যটকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, এবার ট্যুর গাইডদের বুকিং কিছুটা কম। বিদেশি পর্যটক আগমনও কমেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঈদে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, যানজট নিরসন ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহর ও পর্যটন স্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে।
চট্টগ্রামের রাউজানে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাইন্না পুকুরপাড়ের একটি খোলা মাঠ থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গতকাল রোববার গভীর রাতে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে গণপিটুনির কোনো ঘটনার কথা বলতে পারেননি বাইন্না পুকুরপাড় এলাকার লোকজন।
নিহত ব্যক্তির পরিচয়ও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৫ মে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বাইন্না পুকুরপাড় এলাকার একটি মাঠে এক বৃদ্ধের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন গ্রামবাসী।
ওই বৃদ্ধের দেহে অনেক আঘাতের চিহ্ন ছিল। দেহ ছিল রক্তাক্ত। পরে বেলা ১টার দিকে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
রাউজান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, গরু চুরি করতে এসেছেন, এমন সন্দেহে ওই অপরিচিত লোককে কিছু লোক গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে রেখেছিলেন।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে দুপুরে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নওগাঁর মান্দায় চলছে শোকের মাতম। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে দিশেহারা ৯টি পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দে যোগ দিতে কর্মস্থল নোয়াখালী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন একই এলাকার ৯ বন্ধু। বাসভাড়া ১৮০০ টাকা বেশি হওয়ায় উঠেছিলেন ট্রাকে। কিন্তু সেই ১৮০০টাকা বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকে করে তাদের যাত্রা যে জীবনের শেষযাত্রা হবে, তা কে জানতো!
টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে এক ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ, যার মধ্যে রয়েছেন জেলার মান্দার সেই ৯ বন্ধু। উপজেলার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা আর শোকের ছায়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্ব দিকে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই রডবোঝাই ট্রাকটি উল্টে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে মোট ১৫ জন নিহত এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯ জন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা হলেন মোঃ সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মোঃ আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ আব্দুল বারেক, মোঃ আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মোঃ সোহাগ, মোঃ শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াসও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেওয়া চুল বাঁচানো, ভাঙা মোবাইল ও ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করতো। ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই একসাথে বাড়ি আসছিল। বাসে ১৮০০ টাকা ভাড়া বেশি চাচ্ছিল, তাই একটু টাকা বাঁচাতে সবাই মিলে ট্রাকে উঠেছিল। ফেনী থেকে তারা ট্রাকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এই সামান্য টাকার জন্য তাদের সব শেষ হয়ে গেল।
একই ইউনিয়নের ৯ যুবকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভারশোঁ ইউনিয়নসহ পুরো মান্দা উপজেলায় কান্নার রোল পড়েছে। নিহতদের পরিবারে চলছে চরম আহাজারি। উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা ও স্বজনেরা। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১ হাজার ১৩৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে সরকার। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই নগরবাসী একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১১টা থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। নগরবাসী যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঈদের দিন দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাসিক কর্মকর্তা আজগর হোসেন, ইসমাইল চৌধুরী, এ কে এম ফরিদুল মিরাজ, হেমায়েত উদ্দিন, আলমগীর হিরণ, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু ও মো. শামসুজ্জোহা সহ প্রমুখ।