মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৪ ১৫:৫৫

কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজার শহর ও আশেপাশের এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসে এ যাবত চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পাহাড় ধসে তিন জনের মৃত্যু হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে শহরের সৈকত পাড়ায় মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারে এক শিশু নিহত এবং তিন জন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হল, শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫), সৈকত পাড়ার মো. সেলিমের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মীম (১৩) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ভারী বর্ষণের সময় কক্সবাজার শহরের সৈকত পাড়ায় পাহাড় ধসে স্থানীয় বাসিন্দা সেলিমের ঘরের উপর মাটি চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আশেপাশের তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুরো মাটি সরিয়ে মীম নামের এক শিশুকে মৃত উদ্ধার করে।

এছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দু’দিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।

বিষয়:

নতুন নিকাহ্ রেজিস্টার নিয়োগ না দিতে ঝিনাইদহে কাজীদের স্মারকলিপি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে নতুন করে একাধিক নিকাহ্ রেজিস্টার নিয়োগ না দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছে ঝিনাইদহের কাজীরা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন তারা।

সেসময় বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্টার ও নিকাহ্ রেজিস্টার কল্যাণ ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সুবহান, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, সেক্রেটারী মোস্তাফিজুর, কালীগঞ্জ থানার সভাপতি ইসরাইল হোসেন, সদস্য সাইদুর রহমান, উমর ফারুকহসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি প্রদাণ শেষে তারা বলেন, বর্তমানে একটি নিকাহ্ রেজিস্টার মাসে গড়ে ৫ থেকে ৭টি বিবাহ রেজিস্টি করেন। এই সীমিত উপার্জনে দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধগতির সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসারের খরচ মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এর মাঝে যদি আবারো প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে একাধিক নিকাহ্ রেজিস্টার নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে বর্তমান নিকাহ রেজিস্টাররা আর্থিক অনটনে পড়বেন। তাই সরকারের এই সিন্ধান্ত না নেওয়ার দাবি জানান তারা।


জামালপুরে প্রাথমিকে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জনের আমরণ অনশন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫১ জন নিয়োগ বঞ্চিতরা নিয়োগ পত্রের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ভবনের দ্বিতীয় তলায় মেঝেতে বসে পড়ে অনশন করেন তারা।

নিয়োগ প্রত্যাশিরা জানায়, জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। ১ম ধাপে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮৪ জন ও ২য় ধাপে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ১জনসহ মোট ৮৫ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। কিন্তু কোন আইনগত জটিলতা না থাকার পরও বাকি ৫১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও অজানা কারণে তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হচ্ছে না। আজকের মধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান করা না হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ভবনে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নিয়োগ প্রত্যাশিরা।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলার কোয়ালিকান্দি গ্রামের মুনতাজিল বিল্লাহ জানান, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাষ্টার্স শেষ করে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। দীর্ঘ আট মাস যাবত আমাদের নিয়োগ আটকে আছে। জেলায় ১৩৬ জনের মধ্যে মাত্র ৫১ জন নিয়োগপত্র হাতে পায়নি। এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানতে পারিনি। নিয়োগ পত্র না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এই স্থান ত্যাগ করব না।

অপর দিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শরিফপাড়া গ্রামের নিয়োগ বঞ্চিত শামীমা ইয়াসমীন সুমি বলেন, আমার পরিবারে কোনো কর্মক্ষম মানুষ নেই। আমার বাবার বয়স্ক হয়েছে তাই ইনকাম নাই। আমার ছোট ভাইটাও বেকার। আমার ছোট বোন মেডিকেলে পড়ে। আমার একটা ছোট বাচ্চা আছে। আমার মা আমার বাচ্চাকে সামলায়, আমি লেখাপড়া করি। আমার একটা চাকরি হবে, সংসারের দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু আমি বঞ্চিত হয়েছি। কেন বঞ্চিত হয়েছি তাও জানা নাই। আমাকে যদি এখন নিয়োগপত্র না দেয় তাহলে আমার মরা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।


নওগাঁয় ভুয়া ডিবির ভয়, ৯৯৯-এ শেষ ফাঁদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা আটকের পর ৯৯৯ নম্বরে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার কীর্তিপুর ইউনিয়নে কাদিমপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, জেলার বদলগাছী উপজেলার বাসিন্দা মো. সারোয়ার হোসেন অপু (৩২) ও মো. শামীম হোসেন (৩১)।

পুলিশ জানায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে গ্রেপ্তার ওই দুই যুবক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। এ সময় তাদের সাথে থাকা একটি সোনালি রঙের মেডেল (পদক) ও হ্যান্ডকাফসদৃশ বস্তু দেখিয়ে স্থানীয়দের গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা দাবি করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় কাদিমপুর গ্রামের জলিল সরদার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, গত এক মাস ধরে ওই দুই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কাদিমপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

একাধিক মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে একাধিক মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আসামি পলায়নের পরে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করেছি। গাড়ির ড্রাইভারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি কাজ করবে।’

এর আগে গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরার জন্য পিচ্চি রাজাকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে। পরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে সুযোগ পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় সে।

চলতি বছরের ১৯ মে মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদককারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিচ্চি রাজা, তার স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফেরার খবরে পুলিশ বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্মাণের একদিন পরই হাতের ঘষায় উঠে সড়কের পিচ

* সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যয় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নির্মাণের এক দিন পরই হাতের ঘষায় উঠে আসছে পিচের আস্তরণ। কোথাও পা দিয়ে চাপ দিলেই আলগা হয়ে যাচ্ছে কার্পেটিং। প্রয়োজনীয় বালি, ইটের খোয়া ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে না দিয়েই মাটির ওপর কার্পেটিং করার অভিযোগ উঠেছে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কে। এমন চিত্র সামনে আসার পর প্রকল্পের কাজের মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নরসিংদীর মনোহরদীতে।

উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীরচর, কালিরচর, ভাওয়ালিয়াপাড়া হয়ে মনতলা বাজার পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মিটার সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রায় এক হাজার মিটার অংশের কার্পেটিং ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে করা হয়। পরদিন সকালে সড়কে গিয়ে তারা দেখতে পান, বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা দিলেই পিচ উঠে আসছে। পা দিয়ে চাপ দিলে কোনো কোনো অংশের কার্পেটিংও আলগা হয়ে যাচ্ছে। পরে স্থানীয়রা নিজেরাই হাত দিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ তুলে ফেলেন।

মাটির ওপরই কার্পেটিং: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের মাটির লেভেল করার পর প্রয়োজনীয় ইটের খোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। এসব উপকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে সরাসরি মাটির ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের ভিত্তির সঙ্গে কার্পেটিংয়ের যথাযথ বন্ধন তৈরি হয়নি। নির্মাণের পরপরই কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় তাদের এ অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিরচর এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের সত্যতাও সরেজমিনে দেখা যায়। সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা দিলে পিচের স্তর উঠে আসতে দেখা যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

তদারকি নিয়ে প্রশ্ন: সড়ক নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ছিল কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সড়কের কাজ যদি নির্মাণের পরদিনই এভাবে নষ্ট হতে শুরু করে, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় মান নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে অনিয়মের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা ও উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকৌশলীদের যথাযথ তদারকি থাকলে নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ তৈরি হতো না।

ঠিকাদারের বক্তব্যেও উঠল প্রকৌশলীদের প্রসঙ্গ: অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স মরিয়ম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসান মিয়া বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলী যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি সেভাবেই কাজ করেছেন। কার্পেটিং উঠে গেলে তার কী করার আছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্মাণাধীন সড়কে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধানের জন্য এলাকাবাসীকে তিনি কথা দিয়েছেন। নিজের ক্ষতি হলেও সমস্যার সমাধান করবেন।

ঠিকাদারের এমন বক্তব্যের পর প্রকল্পের কারিগরি নির্দেশনা কে দিয়েছেন, কী উপকরণ ও কী পদ্ধতিতে কাজ করার কথা ছিল এবং বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি হয়ে উঠেছে।

কর্মকর্তারা জানেন, তদন্তও হয়েছে: মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, সড়কের অনিয়মের বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। সরেজমিনে তদন্তও করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

নরসিংদী স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। দ্রুত এর সমাধান করা হবে।

পরে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সড়কের কাজ নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা: প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কের কার্পেটিং যদি নির্মাণের পরপরই উঠে যায়, তাহলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের কারণে ভবিষ্যতে পুনরায় সংস্কারের প্রয়োজন হলে সরকারি অর্থের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এ কারণে শুধু উঠে যাওয়া কার্পেটিং পুনরায় করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সড়কের নিচের স্তর থেকে শুরু করে কার্পেটিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের কারিগরি পরীক্ষা করতে হবে। প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, ব্যবহৃত বালু, খোয়া, পাথর ও বিটুমিনের মান কী ছিল—এসবও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তাদের আরও দাবি, তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।


যাত্রীসেবা না বাড়ালে বাস কোম্পানির রুট বাতিল: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বাস কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে সেবার মান উন্নত না হলে নতুন কোম্পানি গঠন এবং প্রয়োজনে রুট বাতিল করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও সড়ক ভবনে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম নিয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বাসের মান, যাত্রীসেবা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোম্পানির। চালক-কর্মচারীরা নিয়ম না মানলে তার দায়ও কোম্পানিকে নিতে হবে।’

বাস মালিকদের ভাড়া বাড়ানোর দাবির বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘আগে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

এ ছাড়া ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চার্জিং অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ চালকদের দ্রুত লাইসেন্স দেওয়া এবং যাত্রীবান্ধব বাসস্টপেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান শেখ রবিউল আলম।


‘দুই কোটি টাকার নিচে নেব না’—ঘুষ দাবি করায় প্রকৌশলী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৭
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

দুই কোটি টাকা ঘুষ দাবির কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তর থেকে জারি করা দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়েছে, নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪১(১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে বিভিন্ন প্রকল্পের মালামাল, ঠিকাদারি বিল, বিল আটকে রাখা, ‘ক্রস আর্ম’ ও অর্থ লেনদেন নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়।

ভিডিওর একটি অংশে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না।’ পরে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ছয় কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।’

আরেক অংশে কথিত প্রকৌশলীর কণ্ঠে শোনা যায়, ‘একটা বিলের জন্য যদি দুই কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।’ পরে একটি কাজের মালামালের হিসাব নিয়ে ‘তিন লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা’—এমন কথোপকথন শোনা যায়।

ভিডিওর আরেক অংশে পাঁচ কোটি টাকার মালামালের প্রসঙ্গ তুলে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘পাঁচ কোটি টাকা থেকে আমাকে দুই কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’ ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্যও রয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিদের মুখ স্পষ্ট নয় এবং তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভিডিওটির বিষয়ে জানার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পিডিবি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।

ভাইরাল ভিডিও ও নুরুল আমিনের সাময়িক বরখাস্তের পর লক্ষ্মীপুর পিডিবির সেবা নিয়ে ২০২৫ সালে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

২০২৫ সালের ৩ জুলাই লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সামনে পিডিবির সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন একদল গ্রাহক। ওই সমাবেশ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে অপসারণের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ গ্রাহকেরা বক্তব্য দেন। বক্তারা পিডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানির দাবি করেন।

তাঁদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২২ জুন হঠাৎ করে দুই শতাধিক প্রিপেইড মিটার লক হয়ে যায়। ঘুষ না দেওয়ার কারণে এসব মিটার লক করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

সমাবেশে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মোট ১৬টি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সরকারি মিটার ও ট্রান্সফরমার ব্যবহারের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এলটি সংযোগের ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া, সরকারি মালামাল বিক্রি, একই ঠিকাদারকে বারবার কাজ দেওয়া, মিটার পরিবর্তন ও সংযোগের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি এবং সরকারি ফ্রি সেবার নামেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল।

গ্রাহক তছলিম মিয়া অভিযোগ করেন, ব্যাটারির সমস্যায় তাঁর মিটার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়েক দিন অফিসে ঘোরাঘুরি করেন। পরে তাঁকে সুমন মজুমদার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তির মাধ্যমে তিনটি মিটারের জন্য দুই হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

আরেক গ্রাহক আমির হোসেন অভিযোগ করেন, মিটারের ব্যাটারিসংক্রান্ত সমস্যার জন্য রিমন নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে এক হাজার ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় ঠিকাদার লোকমান হোসেন বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে ঠিকাদারি করছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর পছন্দের লোক না হওয়ায় বর্তমানে তাঁকে বাদ দিয়ে সবুজ নামের একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

তাঁর ভাষ্য, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি করছি। কিন্তু বর্তমানে আমাকে বাদ দিয়ে অন্যদের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে।’

ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা, কণ্ঠস্বরের পরিচয়, ভিডিও ধারণের সময় ও স্থান এবং কথোপকথনে উল্লেখ করা অর্থের সঙ্গে বাস্তব কোনো লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিডিবির আনুষ্ঠানিক তদন্তে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসার কথা রয়েছে।


কাপাসিয়ায় হান্নান শাহে্‌র মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া 

কাপাসিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহে্‌র দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘাগুটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি আঙিনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহে্‌র দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘাগুটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি আঙিনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া হয়েছে। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর দোয়া মাহফিলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

মিলাদ ও দোয়া পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি, নাট্যকার অধ্যাপক আবু মহম্মদ রইস, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর একেএম মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল করিম বেপারী, জেলা বিএনপি নেতা আফজাল হোসাইন, বিএনপির সিনিয়র নেতা এম এ হাসেম চৌধুরী, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন প্রমুখ।


রংপুরে ভোটার হতে এসে রোহিঙ্গা যুবক আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার হতে এসে শওকত নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শওকত পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা পরিচয়ে ভোটার হওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান। এ সময় তিনি নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাঁর পরিচয় ও কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শওকত জানান, তিনি কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। টেকনাফের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি পীরগঞ্জে আসেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে পীরগঞ্জের নাগরিক বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিলেন। পরে পীরগঞ্জে এসে ওই ব্যক্তি তাঁকে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে চলে যান।

শওকতের ভাষ্য অনুযায়ী, চলে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি তাঁর মোবাইল ফোন থেকে নিজের ব্যবহৃত নম্বরও মুছে দেন। ফলে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় বা ঠিকানা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

এদিকে পাঁচগাছি ইউনিয়নের নামে তৈরি করা কাগজপত্রের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মন্ডল বলেন, শওকত যে কাগজপত্র দেখিয়েছেন, সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি। এসব কাগজে তাঁর স্বাক্ষর ও ইউনিয়নের সিল জাল করা হয়েছে।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজার রহমান বলেন, শওকতকে দেখে প্রথম থেকেই তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল। পরে কথাবার্তায় সন্দেহ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে তাঁকে জাতীয় সংগীত বলতে বলা হলে তিনি তা বলতে পারেননি। এতে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। জিজ্ঞাসাবাদেও তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন অফিস থেকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বের কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে শওকতকে ভোটার বানানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় ও কাগজপত্র জালিয়াতির বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।


অস্ত্র নয়, জনগণই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি: ফয়জুল করীম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি অস্ত্র নয়, জনগণ। তাঁর দাবি, অতীতে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসন এবং শেখ হাসিনার সরকারের ক্ষেত্রেও জনগণের সমর্থনের বিষয়টি ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়াম হলরুমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করীম বলেন, ‘বর্তমানে এ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণ, অস্ত্র নয়।’ তিনি বলেন, ব্রিটিশদের কাছে অস্ত্র থাকলেও জনগণ ছিল না, তাই তারা ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। পাকিস্তানের কাছেও অস্ত্র ছিল, কিন্তু জনগণ ছিল না। একইভাবে শেখ হাসিনার কাছেও অস্ত্র ছিল, কিন্তু জনগণ ছিল না বলে তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান

ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের জনগণের কাছে গিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, জনশক্তি বাড়াতে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীদের প্রত্যেককে জনগণের কাছে যেতে হবে। যারা দ্বীনের কাজ করবেন, তাঁদেরও মানুষের কাছে গিয়ে দাওয়াতি কাজ করতে হবে।

ফয়জুল করীম আরও বলেন, গত নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ‘ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স’ স্লোগান সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যা কিছু করে, সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করে।

শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামোর কথা

ইসলামের নামে যারা অনৈসলামিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, দেশের মানুষ একসময় তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, জনগণের কাছে গিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা সম্ভব।

নতুন কমিটির শপথ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি এস এম মাঈনুদ্দীন জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মী সম্মেলন ও নবগঠিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) প্রভাষক হাফেজ মাওলানা মো. আলমগীর হোসাইন তালুকদার। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি ইয়াকুব সাঈদ।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা শাখার সভাপতি মুফতি গোলাম মাওলা ভূঁইয়া, জামিয়া সাওতুল হেরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি জহিরুল ইসলাম, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম হুজাইফা, দক্ষিণ জেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি আলহাজ্ব হাদিউল ইসলাম এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুল করিম রসুলপুরীসহ দলের নেতারা।

পরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।


শরণখোলায় বলেশ্বর নদীতে গরু নিয়ে কুমির ও মানুষের লড়াই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

শরণখোলায় বলেশ্বর নদীতে গরুকে কুমির টেনে নেওয়ার সময় মানুষের সাথে কুমিরের লড়াই হয়েছে। লড়াইয়ে পরাস্ত কুমির গরুটিকে ছেড়ে পানির নীচে চলে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রাম সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর চরে গতকাল সোমবার দুপুরে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগী গ্রামের পুতুল বেগমের গৃহপালিত একটি গরু বলেশ্বর নদীর চরে ঘাস খেতে যান। নদীতে জোয়ার এলে গরুটি সাতরে ছোট খাল পার হওয়ার সময় আকষ্মিক একটি কুমির গরুটির পিছন দিকে কামড়ে ধরে নদীর দিকে টেনে নিতে থাকে। এ সময় গরুটির আর্তচিৎকারে ঘটনাস্থলের অদুরে নদীতে মাছ ধরারত জেলেরা ঘটনাটি দেখে দ্রুত এগিয়ে আসে। জেলেরা গরুটির গলায় দড়ি পেচিয়ে কিনারের দিকে টানতে থাকে। অনেকক্ষণ মানুষ আর কুমিরের টানাটানিতে অবশেষে কুমির গরুটি ছেড়ে দিয়ে পানির নীচে ডুব দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


গরুর মালিক হতদরিদ্র নারী পুতুল বেগম বলেন, কুমিরের আক্রমণে তার গরু গুরুতর জখম হয়েছে। উঠে দাড়াতে পারছেনা। স্থানীয় পশু চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন কি হয় বলা যাচ্ছেনা। এই গরুটি তার একমাত্র সম্বল বলে জানালেন পুতুল বেগম।


অষ্টগ্রামে ১২ কেজি গাঁজাসহ মাদক চক্রের ৪ সদস্য আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

​কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ আন্তজেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে অষ্টগ্রাম থানা-পুলিশ। গত রোববার বিকেলে উপজেলার ইকুরদিয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

​সোমবার বিকেলে অষ্টগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোবাবর বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অষ্টগ্রাম থানা-পুলিশের একটি দল ইকুরদিয়া ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের চার সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এরা হলেন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার দফত্তর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে মিলন হোসেন (২৮) এবং একই এলাকার আ. করিমের ছেলে মো. শামীম (৩৪); অপর দুই জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার পদুয়োলা গ্রামের মৃত ইলিয়াস মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (৩২) এবং একই থানার লাখাঁড়িপাড়া গ্রামের মো. আমিন মিয়ার ছেলে মো. জাকারিয়া (১৯)। ​এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।


নাটোরে আঙুল বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুর বাড়িতে জেলা প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে আঙুল বিচ্ছিন্ন হওয়া আহত শিশু বায়েজিদ বিন মাহমুদের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার। গতকাল সোমবার সকালে তিনি শহরের বড় হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় শিশুটির বাড়িতে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে নেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।


এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার রাতে বড় হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলনের পরিবার এবং তাদের ভাড়াটিয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল হোসেনের পরিবার পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করে। সেখানে কনস্টেবলের ৪ বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে মিলনের ৭ বছর বয়সি ছেলে বায়েজিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।


পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে কনস্টেবল শাকিল বায়েজিদকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ। সেখানে স্ত্রী নাছরিন সুলতানার সহযোগিতায় খাটের পায়ার ওপর শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল রেখে ধারালো বটি দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শাকিল ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান।


পরে বায়েজিদকে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাছরিন সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, ‘জেলা প্রশাসক তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নেওয়ায় সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও তিনি ও তার স্ত্রী সান্ত্বনা পেয়েছেন।’


জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অসুস্থ শিশুটির খোঁজখবর নিতে তার বাসায় যাওয়া হয়েছে। শিশুটির পাশে দাঁড়ানো, তাকে সাহস ও ভালোবাসা দেওয়া সবার দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন সবসময় বায়েজিদ ও তার পরিবারের পাশে থাকবে।’


banner close