তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প-৪ এর আওতায় ঝালকাঠির রাজাপুরে জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চলছে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ। ভর্তি-নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি ব্যাচে পৃথক পাঁচটি ট্রেডে ৫০ জন করে মোট ২৫০ প্রশিক্ষণার্থী থাকার কথা এখানে। তাদের প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১২ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের এই টাকা লোপাটের জন্যই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভর্তি ফরম ও হাজিরা খাতায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২৫০ জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণার্থীদের ২৫০ জনের তালিকা পূরণের প্রমাণ মিলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক প্রশিক্ষণার্থী দৈনিক বাংলার কাছে এমন তথ্যের সত্যতাও স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে নামে-বেনামে প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার সরকারি বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।
নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের আওতায় বর্তমান ব্যাচে চার মাস মেয়াদি বিউটিফিকেশন কোর্স, কেটারিং কোর্স, ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোর্স ও ফ্যাশন ডিজাইনার কোর্স ট্রেডে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সও রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের যাবতীয় কাগজ ও হাজিরা খাতায় প্রতিটি ট্রেডেই ৫০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ভুয়া নামগুলোর মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা যাবে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তার পেটে। ওই টাকার একটি অংশ সেখানকার ছয়জন প্রশিক্ষক ও নৈশপ্রহরীও পাবেন। এই কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীদের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে না দিয়ে নগদ দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মহিলা সংস্থা ঝালকাঠির জেলা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন হাওলাদার।
গত ২৮ অক্টোবর বেলা ১১টায় রাজাপুর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারটি ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা চলছিল। এই কেন্দ্রে ছয়জন প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ওই সময় মাত্র দুইজন প্রশিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এমনকি সেখানকার দায়িত্বরত প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার নিজেও অনুপস্থিত ছিলেন। আর ভেতরে তিনটি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন মাত্র ৪৬ জন নারী।
প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কেন উপস্থিত নেই- তা জানতে চাইলে সেখানে থাকা বিউটিফিকেশন ট্রেডের প্রশিক্ষক শাহানারা খাতুন বলেন, ‘ম্যাডাম ছুটিতে আছেন।’ তাৎক্ষণিক খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দুই-তিন দিনে তার কোনো ছুটি মঞ্জুর করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খোঁজখবর করতে করতেই সেখানে উপস্থিত হন প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার। পাঁচটি ট্রেডের জায়গায় চারটি ট্রেডে পরীক্ষা এবং সেই চারটি ট্রেডে ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতির কথা থাকলেও পরীক্ষায় কেন ৪৬ জন উপস্থিত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই মাস ক্লাস চালানোর পর কেন্দ্রের নির্দেশে ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সটি বন্ধ আছে। তাই ভর্তি ও হাজিরা খাতায় তাদের ৫০ জনের নাম থাকলেও তারা উপস্থিত নেই। বাকি চারটি ট্রেডে ৫০ জন করে ২০০ জন ভর্তি থাকলেও কেন্দ্রের নির্দেশে বিকেলের ক্লাসও বন্ধ রয়েছে। সে কারণে বর্তমানে সকালে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ক্লাস চলমান রয়েছে। সেই ১০০ জন নারীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে আজ পরীক্ষা দিতে আসতে পারেননি অনেকে।’
এদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাজিরা খাতার কিছু অংশ সংগ্রহ করেছে দৈনিক বাংলা। তাতে দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতির ঘরে বল পেন দিয়ে সই করানো হয় এবং অনুপস্থিতের ঘরে কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হয়। কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের অনুপস্থিতির দিনগুলোতে ১৫০ টাকা করে কেটে রাখা হবে। অভিযোগ রয়েছে, কাঠ পেনসিলের ক্রস চিহ্ন রাবার দিয়ে মুছে সই বসিয়ে সে টাকাও তুলে নেয়া হবে। হাজিরা খাতায় কেন কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হলো- সামিরা আক্তার এ প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন।
রাজাপুরের কেন্দ্রে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও পরীক্ষা দিচ্ছেন বিউটিফিকেশন ট্রেডে। তবে তাদের কাউকেই কিছু লিখতে দেখা যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী জানেন না তারা কী পরীক্ষা দিতে এসেছেন। তাদের যা লিখতে বলা হয়, তারা কেবল সেটিই লিখে থাকেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই বা তিন হাজার টাকার বিনিময়ে গ্রামের অনেক গৃহিণীকে এনে পরীক্ষা দেয়ানো হয়। অথচ তাদের নামেও বরাদ্দ হবে ১২ হাজার টাকা।
পরীক্ষা কেন্দ্রের একটি কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও ফ্যাশন ডিজাইনার ট্রেডে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। এক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কোন ট্রেডে পরীক্ষা দিয়েছেন? তিনি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে কোনো উত্তর না দিতে পেরে কেন্দ্র থেকে চলে যান।
ষাটোর্ধ্ব নারীদের পরীক্ষায় উপস্থিত দেখা গেলেও প্রকল্পের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সহকারী প্রোগ্রামার মো. সাদাত হোসেন জানান, সব ট্রেডে ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস থাকতে হবে। তাদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন) কাইয়ুম মিয়া মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমাদের প্রকল্পের বাজেট মন্ত্রণালয় থেকে অর্ধেক করে দিয়েছে। তাই প্রকল্পে ব্যয় সংকোচন করতে সব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিকেলের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। শুধু সকালের ক্লাসে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। তবে রাজাপুর কেন্দ্রে সকালেও ১০০ জন কেন নেই, সে বিষয়ে সেখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।
বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)-এর উদ্যোগে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বিইআইর প্রেসিডেন্ট এম হূমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জামায়াতে ইসলামের মনোনীত এমপি প্রার্থী প্রফেসর মো. আবদুত তাওয়াব, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ফরিদপুর সদর ৩ আসনের এমপি প্রার্থী রফিকুজ্জামান লায়েক সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ ও সহনশীলতা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মত প্রকাশ করেন এবং অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ণ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মাগুরায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে বাল্যবাজার মাঠে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
শোকসভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার ত্যাগ ও নেতৃত্ব বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে। আলোচনা শেষে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মদ, মাগুরা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ মনোয়ার হোসেন খান, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক খান ইমাম সুজা, পিকুল খান ও আলমগীর হোসেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য কুতুব উদ্দিন, নাজমুল হাসান লিটন, মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল, জেলা কৃষকদলের সভাপতি রুবাইয়াত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শোকসভা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতির তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ জানায় যে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও নির্দেশনার পেছনে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মামলার তদন্ত ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। পুলিশ এই মামলার চার্জশিট প্রদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে।
হত্যাকাণ্ড পরবর্তী অভিযানে পুলিশ এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া এবং তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার। এ ছাড়া ফয়সালের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী এবং মোটরসাইকেল মালিক মো. কবিরকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছেন আমিনুল, সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল নামে আরও চার অভিযুক্ত। পুলিশ জানায়, এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছিল এবং এর সাথে জড়িত বাকিদেরও দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে মৎস্য আইন বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ কেজি জাটকা জব্দ করা হয় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার চুনকুটিয়া, হাসনাবাদ, জিনজিরা, আগানগর, আব্দুল্লাপুর ও হিজলতলা খুচরা মাছের বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি।
জব্দকৃত জাটকা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রম, ৯টি এতিমখানা ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি বলেন, সরকার কর্তৃক প্রতিবছর ১লা নভেম্বর হতে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেঃমিঃ সাইজের নিচের ইলিশ (জাটকা) আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছে ‘সুপার ক্যারাভান’। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) কোটালীপাড়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সম্মুখে অবস্থান করে ক্যারাভানটি। এ সময় জনসাধারণের মাঝে ভোটাধিকার, গণভোটের প্রয়োজনীয়তা এবং নাগরিক দায়িত্ব বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
প্রচারণা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক। এতে উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিরাজ হোসেন, কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা পুলিশের সদস্য ও সাধারণ জনগণ। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটাধিকার ও গণভোটের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। এতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য, প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
এ সময় তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোটের গাড়ির পাশে ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ শীর্ষক একটি উন্মুক্ত লেখনী বোর্ড ও জনমত বাক্স স্থাপন করা হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব মতামত ও প্রত্যাশা লিখে তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধির এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কুড়িগ্রামে দিন দিন শীতের তীব্রতা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় শীতার্ত প্রতিবন্ধী ও দুস্থ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন-২২ বিজিবি। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ব্যাটালিয়নের উপশাখা সীপকসের ব্যবস্থাপনায় ৫ শতাধিক শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অভ্যন্তরে উপশাখা সীপকস চত্বরে শীতার্ত হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে এসব শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন- উপশাখা সীপকসের সাধারণ সম্পাদক ফারহানা আফরোজ মৌসুমী।
শীতবস্ত্র পেয়ে কাশেম আলী নামের এক ভিক্ষুক বলেন, ‘কুড়িগ্রামে সেই ঠাণ্ডা পড়ছে বাহে। বাড়ি থেকে বাহির হওয়া যায় না। কম্বলের অভাবে রাতে ঘুমও হয় না। আজ কম্বলটা পেয়ে উপকার হইল।’
বিজলী বেগম বলেন, ‘গরিব মানুষ খাবার জোটপার পাই না আর কম্বল কিনি কতথাকি। আজকে বিজিবি থেকে একটা মোটা কম্বল পায়া উপকার হইল। বাচ্চা নিয়ে রাতে গায়ত দিবার পামো।’
সীপকসের সাধারণ সম্পাদক ফারহানা আফরোজ মৌসুমী বলেন, ‘মানবতার সেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শীতসহ যেকোনো দুর্যোগে বিজিবি সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।
পঞ্চগড়ে সবুজ চা পাতার মূল্য বৃদ্ধি করে প্রতি কেজি ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার চা শিল্প সংশ্লিষ্ট চাষি, কারখানা মালিক ও অন্যান্য অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি সবুজ চা পাতার সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ টাকা, সর্বোচ্চ চা ২৮ টাকা করা হয়। পাশাপাশি চা চাষিদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারের মাধ্যমে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সব চা চাষিদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, কোনো চা চাষি নিবন্ধন না করলে তিনি সরকারি সার সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত চাষিদের উৎপাদিত সবুজ চা পাতা কোনো কারখানা কিনতে পারবে না এবং তারা সরকারি প্রশিক্ষণ থেকেও বঞ্চিত হবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সবুজ চা পাতার কর্তন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো কারখানা সবুজ চা পাতা কিনতে পারবে না। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ নেওয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়াও পঞ্চগড়ের সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী কমিটিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। নীতিমালায় উল্লিখিত প্রেসক্রাইবড কমিটি গঠন করে তা বাংলাদেশ চা বোর্ডে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পঞ্চগড়ের চা শিল্প রক্ষায় জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। চা চাষি, কারখানা মালিক ও শ্রমিক-সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই শিল্প রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
তবে মাঠপর্যায়ে এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সবুজ চা পাতা কেনাবেচা গত ৩১ ডিসেম্বর হলেও কিছু কিছু কারখানা পাতা কিনছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানী চাষিদের দাবি, আমাদের উৎপাদিত পাতা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মুনাফা লোভীদের কাছে মজুত থাকা পাতা চুক্তি ভিত্তিকভাবে কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত।
চা চাষিরা বলছেন, এই অনিয়ম বন্ধ না হলে ন্যায্যমূল্য ও নীতিমালার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছাবে না। দ্রুত কার্যকর তদারকি ও সিদ্ধান্তের কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নর্থ বেঙ্গল চা ফ্যাক্টরীর ম্যানেজার মোঃ সোহাগ জানান ৩১ তারিখে চা পাতা কেনার শেষ সময় ছিল কিন্তু কিছু কৃষক শ্রমিক না পেয়ে চাপাতা কাটতে পারেনি। শ্রমিক সংগ্রহ করে তারা বর্তমানে চা পাতা কেটে নিয়ে আসতেছে। আমরা যদি চা পাতা গুলো না নিয়ে থাকি তাহলে কৃষকদের চা পাতা গুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সেইদিক বিবেচনা করে চাপাতা ক্রয় করতেছি।
পঞ্চগড়ের বাংলাদেশ চা বোর্ডের উন্নয়ন কর্মকর্তা হলেন মোঃ আমির হোসেন জানান, আনঅফিশিয়াল ভাবে ক্রয় করতে পারে সেটা আমার জানা নেই, তবে অফিসিয়াল ভাবে চা পাতা ক্রয় বন্ধ করা হয়েছে।
গত ২০২৫ সালে হঠাৎ করেই চায়ের পাতার দাম উর্ধমুখি হয়ে ওঠে। শুরুর দিকে ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে কারখানায় চা পাতা বিক্রি হতে থাকে। এখন সেই চায়ের পাতা ৪০ টাকায় ওঠে। হতাশার চক্র থেকে প্রাণ ফিরে পায় চা চাষীরা।
এদিকে, গত ২৭ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার চা শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে চা চাষিদের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তার সহযোগিতায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সব চা চাষির বাধ্যতামূলক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো চা চাষি নিবন্ধন না করলে তিনি সরকারি সার পাবেন না। অনিবন্ধিত চাষিদের কাছ থেকে কোনো কারখানা সবুজ চা পাতা ক্রয় করতে পারবে না। এছাড়া অনিবন্ধিত চা চাষিদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে না। আরো বলা হয়, পঞ্চগড়ের সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী কমিটিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। নীতিমালায় উল্লেখিত প্রেসক্রাইবড কমিটি গঠন করে তা বাংলাদেশ চা বোর্ডে প্রেরণ করতে হবে।
মনোহরনগর গ্রামের অজিত মন্ডলের বাড়িতে দেখা যায়, উঠানে কোমর সমান পানি। এখন বিল সেচ চলছে, পানিও বাড়ছে। বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত সাত মাস তারা পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পরিবেশও নেই বাড়িতে।
আসন্ন বোরো মওসুমে যশোরের কেশবপুরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৩ ইউনিয়নের ২৭ বিলের পানি শতাধিক সেচ পাম্প দিয়ে নিষ্কাশন চালিয়ে যাচ্ছে ঘের মালিক ও কৃষকেরা। কিন্তু শ্রী নদীর নাব না থাকার পাশাপাশি ব্রিজ, কালভাটের মুখ বন্ধ করে অপরিকল্পত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ করায় বিলের পানি নদীতে নিষ্কাশনে বাধা পেয়ে ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। পানির চাপে এরইামধ্যে ১০/১২ গ্রাম তলিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় রূপ নিচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামের মানুষের চলাচলে প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিঙি নৌকা ও বাঁশের সাঁকো।এতে ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো। জানা গেছে, উপজেলার পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নসহ ২৭ বিলের বর্ষার অতিরিক্ত পানি ডায়ের খাল দিয়ে শ্রী নদীতে নিষ্কাশন হয়। ৯০'র দশকে পাউবোর সুইস গেটের পাশাপাশি ২০০০ সালের দিকে এলাকার প্রভাবশালী ঘের মালিকেরা ব্রিজ, কালভাটের মুখ বন্ধ ও অপরিকল্পত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ করায় বর্তমান বিলের পানি শ্রী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে না। ঘের মালিকেরা প্রতি শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে বিলগুলো ভরাট করে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে যেনতেন বৃষ্টিতেই পানি মানুষের বসতবাড়িতে উঠে যায়। এলাকায় দেখা দেয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। প্রায় সারা বছরই বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, নারায়নপুর, কালিচরণপুর, আড়য়া, ময়নাপুর, সানতলাসহ ১০/১২ গ্রামের মানুষের বসতভিটায় পানি থাকে। ঘেরের কারণে জেলেরা বাধ্য হয় পেশা বদল করতে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর ও কালিচরণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের বাড়িতে এখনো পানি থই থই করছে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে মানুষজনের বাড়িতে পানি। মাঝে পানি কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। গরু ছাগল হাঁস মুরগি নিয়ে পড়তে হচ্ছে মহাবিপাকে। জলাবদ্ধতা সমস্যার নিরসণের দাবি করা হলেও তা কেউ আমলে নিচ্ছে না।
মনোহরনগর গ্রামের অজিত মন্ডলের বাড়িতে দেখা যায়, উঠানে। উঠানে কোমর সমান পানি। । এখন বিল সেচ চলছে, পানিও বাড়ছে। বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত সাত মাস তারা পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পরিবেশও নেই বাড়িতে।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, শ্রী নদীসহ তিন নদী ও সংযোগ খালের খনন কাজ চলছে। এতে সাময়িক জলাবদ্ধতার নিরসন হবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হবে না। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে শ্রীনদী, হরিহর, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা নদী খননসহ ভবদহ অঞ্চলের যেকোনো একটি বিলে টিআরএম চালু করা না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদীর খনন কাজ চলছে। তারাই এটা দেখভাল করছে। আমাদের করার কিছুই নেই।
ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর জুলাই অভ্যুত্থানের অজ্ঞাত আট শহীদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ পরিচয় শনাক্তকরন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যূত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।
শনাক্তকৃত শহীদরা হলেন- ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ফুলপুর গ্রামের গাজী মামুদ এবং জোসনা বেগমের ছেলে মো. মাহিন মিয়া (২৫)। তিনি ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে মারা যান।
শেরপুরের শ্রীরবদীর আব্দুল মালেক এবং আয়েশা বেগমের ছেলে আসাদুল্লাহ। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
চাঁদপুরের মতলব থানার বারোহাতিয়া গ্রামের সবুজ বেপারী ও শামসুন্নাহারের ছেলে পারভেজ বেপারী। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
রফিকুল ইসলাম, সাতকাছিমা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার সিকদারের ছেলে, নাজিরপুর থানা, পিরোজপুর। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং-এর মো. লাল মিয়া ও রাশেদা বেগমের ছেলে সোহেল রানা। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মারা যান।
রফিকুল ইসলাম, ফেনী সদর, ফেনীর মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
ফয়সাল সরকার, কাচিমারা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে, দেবিদ্বার থানা, কুমিল্লা। তিনি ২২ জুলাই, ২০২৪ সালে মারা যান।
কাবিল হোসেন (৫৮), ঢাকার মুগদা থানা লেনের বাসিন্দা মৃত বুলু মিয়া এবং শামেনা বেগমের ছেলে। তিনি ২ আগস্ট, ২০২৪ সালে মারা যান।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে এ পর্যন্ত ১১৪ জনের অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন করা হয়।
কবর শনাক্তের পর আটটি পরিবারের কাছে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অনেক অজ্ঞাত মরদেহ দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা এতদিন জানতেন না নিহতদের কবর কোথায়।
১৮ মাস পর নিহতের কবর দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এই কার্যক্রমের আওতায় ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৯টি ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া নমুনার ভিত্তিতে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এর আগে অজ্ঞাত নিহতদের শনাক্ত করার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে মৃতদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
সিআইডির তথ্যমতে, নয়টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার ফলে আটজন শহীদের শনাক্তকরণ সফলভাবে করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মৃতদেহের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে।
সিআইডি জানিয়েছে যে পুরো অভিযানটি আইন, মানবাধিকার নীতি এবং আন্তর্জাতিক মান মেনে পরিচালিত হয়েছে, যা মর্যাদা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
এ উদ্যোগ নিখোঁজ শহীদদের পরিবারের অনিশ্চয়তা দূর করতে সাহায্য এবং ভবিষ্যতের বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত বেশ কয়েকজন পুরুষ ও নারী শহীদের লাশ প্রাথমিকভাবে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। সরকারের সিদ্ধান্তের পর, তাদের পরিচয় নির্ধারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডিকে এই কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবল-বিঞ্জ দুই দিনের কর্মশালার মাধ্যমে সিআইডি ফরেনসিক, ডিএনএ এবং মেডিকেল টিমকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় এবং মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসারে আরেক আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফন্ডেব্রিডারের নেতৃত্বে মৃতদেহ উত্তোলন এবং শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়।
মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি শেষে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর, মোট ১১৪টি মৃতদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রায়েরবাজার কবরস্থানে একটি অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করা হয়। যেখানে ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সকল নিহতের হিসাব না পাওয়া এবং মর্যাদার সাথে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত বাকি শহীদদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের রামুর ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সেই কারখানায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা পুলিশের জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যান তিন থেকে চারজন ব্যক্তি। এতে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। গত রোববার রাতে উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের লছনা এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের পাশের ঝোপঝাড় থেকে এসব এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধানে ও অস্ত্র উদ্ধারে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অবৈধ অস্ত্র কারখানার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। খবর কক্সবাজার ও শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধির।
কক্সবাজারের ঘটনায় অতিরিক্ত পলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, সোমবার সকালে রামুর ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ী এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্রের কতিপয় লোকজন অবৈধ কারখানা স্থাপন করে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশ গহীন পাহাড়ের আবু আহম্মদঘোনা ফাতেমাছড়া এলাকায় গড়ে তোলা সন্দেহজনক একটি ঝুপড়ি ঘর ঘিরে ফেলে। এতে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ৩/৪ জন সন্দেহজনক লোক পালিয়ে যায়। পরে ঝুপড়ি তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় ২টি রাইফেলের গুলি, ৪ টি গুলির খোসা, ২টি বন্দুকের বাট, ৩টি বন্দুকের ট্রিগার বক্স, ৬টি বন্দুকের নল, ২টি বন্দুক তৈরির যোগান, ১টি হাওয়ার মেশিন, ২টি বাটাল, ৫টি আড়িব্লেড, ১টি আড়িব্লেডের ফ্রেম, ১টি করাত, ১টি হাতুড়ী, ১টি প্লাস, ৭টি ছোট-বড় রেথ, ১টি শান দেয়ার মেশিন এবং ১টি বানান নালীসহ বেশ কিছু অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি।
অলক বিশ্বাস জানান, অভিযানে পলাতক দুর্বৃত্তদের পাশাপাশি সন্ধান পাওয়া অস্ত্রের কারখানার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ খোঁজ-খবর নিচ্ছে।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অপরাধ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে অস্ত্র উদ্ধারে গর্জনিয়া ও ঈদগড় এলাকয় অভিযান পরিচালনা করে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখার সংবাদ পাই এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের ঘটনায় র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব-৯-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও ইউনিয়নের লছনা এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের উত্তর পাশে ঝোপঝাড়ে এয়ারগান লুকিয়ে রাখার তথ্য পায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ঝোপের ভেতরে রাখা দুটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার করা এয়ারগানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া এয়ারগানগুলো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।
উদ্ধার এয়ারগানগুলো শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে শায়িত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা।
ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আট শহীদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেক নারী ও পুরুষের মৃতদেহ অজ্ঞাত পরিচয়ে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শহীদদের পরিচয় উদঘাটনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে সিআইডির ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে।
আজ আমরা ঘোষণা করছি যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৯টি পরিবারের সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে আটজন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
এই শনাক্তকরণের ফলে শহীদের পরিবারগুলো অন্ততপক্ষে জানতে পারছে যে, তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে বা তারা ঠিক কোন স্থানে শায়িত আছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘উত্তাল সময়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেক নারী ও পুরুষের মৃতদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়েছিল। তখন তাদের পরিচয় এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাকে রাষ্ট্র তার একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করে। সেই গুরু দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণে একটি পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কঠিন ও সংবেদনশীল কাজটি সম্পন্ন করতে সিআইডি ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল টিমগুলো অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের একটি অংশ। এই শহীদ পরিবারের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার কোনো ভাষা নেই।’
গত ২৩ দিনে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৪ হাজার ৫৬৯ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ করেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর আওতায় এসব লোককে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এসব অভিযানে ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৫৪১ রাউন্ড গুলি, ৫৬৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৬৫টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ১৯ হাজার ২৩৫ জনসহ ৩৩ হাজার ৮০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডেভিল হান্ট ফেইজ-২-এর অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহলের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুষ্কৃতকারীরা যাতে রেহাই না পায়, সে জন্য অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা ও সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৫৮টি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে এবং ১,৬১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামির সংখ্যা ২,৩৭৫ জন। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনাকালে তেতুলিয়া নদীর বাগমারা এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে তিনটি লোড ড্রেজার মেশিন সহ ৫ জনকে আটক করেছে বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রনজিৎ চন্দ্র দাস জানান, রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুলিয়া নদীর বাগমারা এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ৫ জনকে ৩টি লোড ড্রেজার সহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে জব্দ ড্রেজার তিনটি ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালকের (বন্দর ও পরিবহণ) জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটকতরা হলেন, ভোলা সদর উপজেলার মো. মোকছেদ, মো. মনির, দুলারহাট উপজেলার মো. আলমগীর, বরগুনা সদর উপজেলার মো. মিরাজ, বরিশাল সদর উপজেলার মো. হাসান বেপারী।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নিয়মিত মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযানে সহযোগিতা করে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ।