তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প-৪ এর আওতায় ঝালকাঠির রাজাপুরে জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চলছে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ। ভর্তি-নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি ব্যাচে পৃথক পাঁচটি ট্রেডে ৫০ জন করে মোট ২৫০ প্রশিক্ষণার্থী থাকার কথা এখানে। তাদের প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১২ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের এই টাকা লোপাটের জন্যই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভর্তি ফরম ও হাজিরা খাতায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২৫০ জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণার্থীদের ২৫০ জনের তালিকা পূরণের প্রমাণ মিলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক প্রশিক্ষণার্থী দৈনিক বাংলার কাছে এমন তথ্যের সত্যতাও স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে নামে-বেনামে প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার সরকারি বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।
নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের আওতায় বর্তমান ব্যাচে চার মাস মেয়াদি বিউটিফিকেশন কোর্স, কেটারিং কোর্স, ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোর্স ও ফ্যাশন ডিজাইনার কোর্স ট্রেডে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সও রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের যাবতীয় কাগজ ও হাজিরা খাতায় প্রতিটি ট্রেডেই ৫০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ভুয়া নামগুলোর মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা যাবে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তার পেটে। ওই টাকার একটি অংশ সেখানকার ছয়জন প্রশিক্ষক ও নৈশপ্রহরীও পাবেন। এই কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীদের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে না দিয়ে নগদ দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মহিলা সংস্থা ঝালকাঠির জেলা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন হাওলাদার।
গত ২৮ অক্টোবর বেলা ১১টায় রাজাপুর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারটি ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা চলছিল। এই কেন্দ্রে ছয়জন প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ওই সময় মাত্র দুইজন প্রশিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এমনকি সেখানকার দায়িত্বরত প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার নিজেও অনুপস্থিত ছিলেন। আর ভেতরে তিনটি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন মাত্র ৪৬ জন নারী।
প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কেন উপস্থিত নেই- তা জানতে চাইলে সেখানে থাকা বিউটিফিকেশন ট্রেডের প্রশিক্ষক শাহানারা খাতুন বলেন, ‘ম্যাডাম ছুটিতে আছেন।’ তাৎক্ষণিক খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দুই-তিন দিনে তার কোনো ছুটি মঞ্জুর করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খোঁজখবর করতে করতেই সেখানে উপস্থিত হন প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার। পাঁচটি ট্রেডের জায়গায় চারটি ট্রেডে পরীক্ষা এবং সেই চারটি ট্রেডে ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতির কথা থাকলেও পরীক্ষায় কেন ৪৬ জন উপস্থিত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই মাস ক্লাস চালানোর পর কেন্দ্রের নির্দেশে ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সটি বন্ধ আছে। তাই ভর্তি ও হাজিরা খাতায় তাদের ৫০ জনের নাম থাকলেও তারা উপস্থিত নেই। বাকি চারটি ট্রেডে ৫০ জন করে ২০০ জন ভর্তি থাকলেও কেন্দ্রের নির্দেশে বিকেলের ক্লাসও বন্ধ রয়েছে। সে কারণে বর্তমানে সকালে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ক্লাস চলমান রয়েছে। সেই ১০০ জন নারীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে আজ পরীক্ষা দিতে আসতে পারেননি অনেকে।’
এদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাজিরা খাতার কিছু অংশ সংগ্রহ করেছে দৈনিক বাংলা। তাতে দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতির ঘরে বল পেন দিয়ে সই করানো হয় এবং অনুপস্থিতের ঘরে কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হয়। কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের অনুপস্থিতির দিনগুলোতে ১৫০ টাকা করে কেটে রাখা হবে। অভিযোগ রয়েছে, কাঠ পেনসিলের ক্রস চিহ্ন রাবার দিয়ে মুছে সই বসিয়ে সে টাকাও তুলে নেয়া হবে। হাজিরা খাতায় কেন কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হলো- সামিরা আক্তার এ প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন।
রাজাপুরের কেন্দ্রে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও পরীক্ষা দিচ্ছেন বিউটিফিকেশন ট্রেডে। তবে তাদের কাউকেই কিছু লিখতে দেখা যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী জানেন না তারা কী পরীক্ষা দিতে এসেছেন। তাদের যা লিখতে বলা হয়, তারা কেবল সেটিই লিখে থাকেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই বা তিন হাজার টাকার বিনিময়ে গ্রামের অনেক গৃহিণীকে এনে পরীক্ষা দেয়ানো হয়। অথচ তাদের নামেও বরাদ্দ হবে ১২ হাজার টাকা।
পরীক্ষা কেন্দ্রের একটি কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও ফ্যাশন ডিজাইনার ট্রেডে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। এক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কোন ট্রেডে পরীক্ষা দিয়েছেন? তিনি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে কোনো উত্তর না দিতে পেরে কেন্দ্র থেকে চলে যান।
ষাটোর্ধ্ব নারীদের পরীক্ষায় উপস্থিত দেখা গেলেও প্রকল্পের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সহকারী প্রোগ্রামার মো. সাদাত হোসেন জানান, সব ট্রেডে ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস থাকতে হবে। তাদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন) কাইয়ুম মিয়া মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমাদের প্রকল্পের বাজেট মন্ত্রণালয় থেকে অর্ধেক করে দিয়েছে। তাই প্রকল্পে ব্যয় সংকোচন করতে সব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিকেলের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। শুধু সকালের ক্লাসে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। তবে রাজাপুর কেন্দ্রে সকালেও ১০০ জন কেন নেই, সে বিষয়ে সেখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন- সজিব, সামিয়া ও শিশু সামিন। তবে তাদের বাবা হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌপুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যারবাজার এলাকায় আল-মোস্তফা কোম্পানির সামনে মেঘনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী গ্রামের বাসিন্দারা সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে রওনা হন। ট্রলারটিতে গরু-ছাগলসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। বৈদ্যারবাজারের কাছাকাছি মেঘনা নদীর মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে সেটি উল্টে নদীতে ডুবে যায়।
ট্রলারডুবির পর স্থানীয়দের সহায়তায় আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একই ঘটনায় রাশিদা নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন নিখোঁজ ছিলেন।
দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর গতকাল শনিবার সকালে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও সংশ্লিষ্টরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পুলিশ পদক দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের হাতে এসব পদক তুলে দেন। ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত এবং অন্য উদ্ভাবনীমূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৪টি ক্যাটাগরিতে এসব পদক দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ পেয়েছেন ১২ জন এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পেয়েছেন ১৮ জন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন ১৮ জন এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা ক্যাটাগরিতে পদক পেয়েছেন ৪৪ জন পুলিশ সদস্য।
গেজেটে প্রকাশিত তালিকায় পদকপ্রাপ্তদের নাম, পরিচিতি নম্বর, পদবি এবং বর্তমান কর্মস্থলের উল্লেখ রয়েছে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে ২০২৫ সালের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর প্রধান মো. মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত আইজিপি ও নৌ-পুলিশ প্রধান মো. রেজাউল করিম, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক এবং তৎকালীন র্যাব (বর্তমানে এসআরবি)-এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী ২০২৫ সালের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পদক পেয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পদক প্রদান করা হয়েছে।
গতকালের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ১৯৭৬ সালে পুলিশ পদকের প্রবর্তন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনে সাহসিকতা, বীরত্ব ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক দেওয়া হয়ে আসছে।
পুরো কক্সবাজার নিয়ে বিপদের মধ্যে আছি জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এখানে একটি সংস্থা আছে। কক্সবাজার পর্যটন নগরীকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য সরকার যতবার চেষ্টা করে ততবার তারা অন্যায়ভাবে উচ্চ আদালতে গিয়ে রিট করে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে। তাহলে এই সুন্দর নগরীর ডেভোলপমেন্ট আমরা করবো কীভাবে?
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়ার ৪ নম্বর বর্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শনের কারণ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি এই প্রকল্পটি দেখতে এসেছি। একটি বৈঠকে আমরা প্রকল্পটির কথা জানিয়েছিলাম। তিনি সরেজমিনে দেখে আসতে বলেছেন। এখন পর্যন্ত আমার কাছে প্রকল্পটি কার্যকর ও যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে। তবে কিছু বিষয় হয়তো সংযোজন-বিয়োজন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কক্সবাজার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার পৌরসভার একটি প্রকল্প আমি গতকাল পরিদর্শন করেছি। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজটি এখনো স্বয়ংক্রিয় নয়, ম্যানুয়ালি করা হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আমাদের যে পদ্ধতি, সেখানে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে। বাকি কিছু কাজ বাইরে থেকে ম্যানুয়ালি করতে হতে পারে।’
কক্সবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চীনের সিএমইসি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সেখানে প্রতিদিন ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও চীনের উইমীম নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ করবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ফিনল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা শাখা-২ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। পরে ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী সারা দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়।
ডিএমপির চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোর কমিটির সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী- সারা দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৪৩২ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে পাঁচজন খুলনায় এবং বাকি তিনজন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২১৯ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে প্রাণ গেল ১২৩ জনের, যা মাসের হিসাবে চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় এইডিস মশাবাহিত এ রোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০৬ জন ভর্তি হয়েছেন, দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হন ১৭৬ জন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হন ২৮০ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২০৪ জন, চট্টগ্রামে ২০৯ জন, খুলনায় ২৪১ জন, ময়মনসিংহে ১১২, রাজশাহীতে ৫৭ ও রংপুরে ৫৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
বুলেটিনের তথ্য অনুসারে, গেল ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪২৯ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
চলতি বছর ৭১ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৬ হাজার ২৫৬ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে তার উদ্দেশে লাল কার্ড দেখিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল থেকে নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এদিকে সদ্য সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ক্লাস, পরীক্ষা বয়কট করার পাশাপাশি শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া রাত থেকেই চুয়েটের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে পাহারা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সকালে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও একাডেমিক ভবনের দেওয়ালে প্রতিবাদী ও ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি আঁকেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এসব গ্রাফিতিতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন, তা একদম অসামঞ্জস্য। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এদিকে একই দাবিতে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এই শাটডাউন কর্মসূচির কারণে পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে চুয়েটের কার্যক্রম।
কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের ট্যাক্স কালেকশন খুব কম হয়। বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল। কিউআর কোড সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ ও ‘বাংলা কিউআর’ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির কক্ষে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাকৃবিতে প্রথম এমন আয়োজন।
কিউআর ব্যবহারে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনার খরচও কমবে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, বর্তমানে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোড সিস্টেম দেশব্যাপী ইমপ্লিমেন্ট করতে পারলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।
আমাদের ট্যাক্স জিডিপি আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা দিলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের দখলের কবলে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাতের বড় একটি অংশ হকার, ভ্রাম্যমাণ দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যসামগ্রী ও অস্থায়ী স্থাপনার দখলে চলে যাওয়ায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও বর্তমানে অনেক জায়গায় তা পথচারীদের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও ফুটপাতের ওপর দোকানের মালামাল রাখা হয়েছে, কোথাও বসেছে অস্থায়ী দোকান। আবার কোথাও হকাররা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করায় পথচারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে অল্প জায়গার মধ্যে পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে নগরীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পথচারীদের চাপ থাকে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রতিদিন এসব পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু ফুটপাত দখল থাকায় তাদের অনেক সময় ব্যস্ত সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়। দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলের মধ্যে দিয়ে পথচারীদের চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
নগরবাসীর অনেকের ভাষ্য, শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও তা নিয়মিতভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় এর সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। একটি অংশ দখলমুক্ত করা হলে কিছুদিন পর আবার সেখানে দোকানপাট বা হকার বসে যাচ্ছে। এতে দখলমুক্ত করার কার্যক্রম অনেক সময় স্থায়ী ফল দিচ্ছে না।
সচেতন নাগরিকেরা মনে করেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি দখলদারিত্ব ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। শুধু অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত খালি করে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর যাতে আবার কেউ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে।
নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেশি :
ফুটপাত দখলের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে হাঁটার সুযোগ না থাকায় অনেককে যানবাহনের পাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরও স্কুল-কলেজে যাতায়াতের সময় ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নগরবাসীর দাবি, পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ফুটপাতের ওপর স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ দখল সরিয়ে দিয়ে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
নগরবাসীর মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলে শুধু পথচারীদের ভোগান্তিই কমবে না, নগরীর যান চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে অনেক পথচারী সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটেন। এতে যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয় এবং ব্যস্ত সময়ে যানজট আরও বাড়ে।
তাই পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত উন্মুক্ত রাখা গেলে মানুষ ফুটপাত ব্যবহার করতে পারবেন এবং সড়কের ওপর পথচারীদের চাপও কমবে। ফলে নগরীর যান চলাচল আরও শৃঙ্খলিত করার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
চলমান রয়েছে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম: সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকোনুজ্জামান রোকন বলেন, নগরীর ফুটপাত হকারদের দখলমুক্ত করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নগরের হকার দখলমুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যেখানে হকার বসবে, সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে।’
সিটি করপোরেশন প্রশাসকের এ বক্তব্যের পর নগরবাসী আশা করছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় ফুটপাত দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থায়ী সমাধান চান নগরবাসী: নগরবাসীর প্রত্যাশা, ময়মনসিংহ নগরীর সব ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফুটপাতের ওপর দোকানের পণ্য রাখা, অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ কিংবা হকার বসানোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা থাকা। তাই নগর উন্নয়নের পাশাপাশি পথচারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির আওতায় আনতে হবে।
নগরবাসীর একটাই প্রত্যাশা—ফুটপাত হবে পথচারীদের জন্য, দখলদারদের জন্য নয়। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগের মাধ্যমে ময়মনসিংহ নগরীর ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্কসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশই এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকার রাজশাহীর জুটমিলে দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। তাই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সূচনা করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি শনিবার জেলার ৯টি উপজেলায় ৭৮টি স্পটে একযোগে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া জেলার সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যনীতির মূল শক্তি হলো প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা চাই, রোগ হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা হোক। এ জন্য ডেঙ্গুসহ সব মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’
কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাটাখালী পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. আরিফ হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুম মুনীরাসহ কাটাখালী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আলোকসজ্জা সীমিত পরিসরে রাখার আহ্বান জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। অতীতে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হতো, এবার তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশেষ করে রাতের শেষভাগে বিচ্ছিন্ন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য মণ্ডপ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।’
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, মাদক, অস্ত্র কিংবা পটকাবাজির অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন বিশেষ তল্লাশির নির্দেশের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংঙ্কর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
‘দখল-দূষণমুক্ত, প্রবহমান ও জীবন্ত নদী চাই’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে এবং বাপা পঞ্চগড় জেলা শাখার সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা বাপার সাধারণ সম্পাদক নাজমুস শাকিব মুনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুসা মিঞা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি এ. কে. এম. আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হরিশ চন্দ্র রায়, দেবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কবির রাজু, সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শহীদসহ বাপার সদস্য ও স্থানীয় নেতারা।
দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার বাপার সভাপতি বলেন, ‘পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ৫০-৫৩ টি নদী ছিল বর্তমানে ৩০ -৩২ নদী থাকলেও নদীতে তেমন পানি নাই।’
আয়োজকরা জানান, নদী দখল ও দূষণ রোধ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
আলোচনা সভায় স্থানীয় নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা, দখল-দূষণের কারণ, নদী রক্ষায় প্রশাসন ও জনগণের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎকরণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা-বাগান এলাকার নারী ও কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখায় ১১ জন স্থানীয় নারী প্রশিক্ষককে (ট্রেইনার) সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শহরের ভানুগাছ সড়কের মহসিন অডিটোরিয়ামের চতুর্থ তলার হলরুমে গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ‘উঠান পেরিয়ে দুই পা ২.০’ কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান এলাকায় ১০৫টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ১ হাজার ৫৮০ জন নারী ও কিশোরীর কাছে মাসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং এ-সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল ধারণা নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ১৭ জন পুরুষ কমিউনিটি সদস্য এবং কালিঘাট চা-বাগান উচ্চবিদ্যালয়ের ৫৮ জন ছাত্রীও অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিনথিয়া তাসনিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর নাহার পারভিন, আলোর দিশারীর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি পরিতোষ তাঁতি এবং গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ ফাউমি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শারিফা সাম্মি ঐশি।
আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির শুরুতে পরিচালিত জরিপে অংশ নেওয়া নারী চা-শ্রমিকদের ৯৩ শতাংশ মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। মাসিকজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের কর্মদিবস হারানোর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও মুখোমুখি হতে হতো।
গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বর্ষা আহমেদ বলেন, ‘কালিঘাট চা-বাগানের নারীদের নিয়ে আমাদের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান কার্যক্রমের একটি অংশ।’
প্রধান অতিথি সিনথিয়া তাসনিম বলেন, ‘তারুণ্যনির্ভর গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কাজটি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে একটি সুস্থ ও সচেতন নারী জনগোষ্ঠী গড়ে উঠবে।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর নাহার পারভিন বলেন, ‘মাসিকসংক্রান্ত সমস্যার কারণে নারী চা-শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। তাই এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সব বিদ্যালয় ও চা-বাগানে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে রিজিক রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মাইনুল ইসলাম সানি, সরকারি কর্মকর্তা ও চা-বাগানের স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটির আর্থিক অংশীদার ছিল শ্রীমঙ্গলের রিজিক রেস্টুরেন্ট।
কৃষিনির্ভর মেহেরপুরের বাণিজ্যিক এলাকা খ্রেত গাংনী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কিছু স্থানের গর্তের গভিরতা এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা হলেও সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সড়ক বিভাগকে। ফলে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সড়কটি যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বলছে, বরাদ্দ না থাকায় সংস্কারকাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি গাংনী উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই সড়কটি দুটি জেলার মানুষের সংযোগ সড়ক হিসেবেও পরিচিত। এ পথে বাস, ট্রাক, নসিমন, অটোরিকশা, পাখিভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসড়কটি একটি দুর্ঘটনার ফাঁদে রূপ নিয়েছে।
পথচারী গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন, ‘এ সড়কটি দিয়ে আমাদের জেলা ও উপজেলা শহরে যাওয়া লাগে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কটি, অথচ এই সড়কে চলাচল করা যায় না। কেন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেটাও বুঝতে পারছি না। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন কখন গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এক চাচাতো বোনের বাচ্চা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি উল্টে তার হাত ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে সড়কটিতে পানিতে ডুবে যায়।’
পাখিভ্যানচালক টিটু হোসেন বলেন, ‘আমি ভ্যানে করে ইটসহ আড়তের মালামাল নিয়ে ভাড়ায় যায়। বর্তমানে এই রাস্তায় ভাড়া ধরতেও মন চায় না। পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় যা আয় হয়, গাড়ি নষ্ট হলে তার চেয়ে বেশি খরচ হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার। আর কোনোমতে আটকে গেলে পাঁচজন মিলে ধাক্কা দেওয়া লাগে।’
নসিমনচালক আক্কাস আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন চাউল লোড করে গাংনী যায়। গাংনী উপজেলায় এর চেয়ে খারাপ রাস্তা চোখে পড়ে না। আমাদের গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়। মেরামত করতে বাড়তি খরচ গুণতে হয়। অনেক দুর্ঘটনাও দেখেছি। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
স্কুলশিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। অথচ বতর্মান সময়ে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করা একদম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কাদা-পানি লেগে পোশাক নষ্টের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এটি দ্রুত সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
বামন্দী পশুহাট ইজারাদার আব্দুল আওয়াল বিশ্বাস বলেন, ‘জেলার সবচেয়ে বড় পশুহাট বামন্দী। যেখান থেকে জেলার সবচেয়ে বেশি অর্থ সরকারি কোষাগারে যায়। অথচ সেই বাজারের সড়কটির এমন বেহাল দশা। ভাবতেই খারাপ লাগে। আমাদের দাবি সড়কটি যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বামন্দী-কাজীপুর সড়ক মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
মেহেরপুর-৭৪/২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই সড়কসহ উপজেলার অন্যান্য সড়কের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।’