তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প-৪ এর আওতায় ঝালকাঠির রাজাপুরে জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চলছে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ। ভর্তি-নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি ব্যাচে পৃথক পাঁচটি ট্রেডে ৫০ জন করে মোট ২৫০ প্রশিক্ষণার্থী থাকার কথা এখানে। তাদের প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১২ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের এই টাকা লোপাটের জন্যই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভর্তি ফরম ও হাজিরা খাতায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২৫০ জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণার্থীদের ২৫০ জনের তালিকা পূরণের প্রমাণ মিলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক প্রশিক্ষণার্থী দৈনিক বাংলার কাছে এমন তথ্যের সত্যতাও স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে নামে-বেনামে প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার সরকারি বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।
নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের আওতায় বর্তমান ব্যাচে চার মাস মেয়াদি বিউটিফিকেশন কোর্স, কেটারিং কোর্স, ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোর্স ও ফ্যাশন ডিজাইনার কোর্স ট্রেডে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সও রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের যাবতীয় কাগজ ও হাজিরা খাতায় প্রতিটি ট্রেডেই ৫০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ভুয়া নামগুলোর মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা যাবে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তার পেটে। ওই টাকার একটি অংশ সেখানকার ছয়জন প্রশিক্ষক ও নৈশপ্রহরীও পাবেন। এই কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীদের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে না দিয়ে নগদ দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মহিলা সংস্থা ঝালকাঠির জেলা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন হাওলাদার।
গত ২৮ অক্টোবর বেলা ১১টায় রাজাপুর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারটি ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা চলছিল। এই কেন্দ্রে ছয়জন প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ওই সময় মাত্র দুইজন প্রশিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এমনকি সেখানকার দায়িত্বরত প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার নিজেও অনুপস্থিত ছিলেন। আর ভেতরে তিনটি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন মাত্র ৪৬ জন নারী।
প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কেন উপস্থিত নেই- তা জানতে চাইলে সেখানে থাকা বিউটিফিকেশন ট্রেডের প্রশিক্ষক শাহানারা খাতুন বলেন, ‘ম্যাডাম ছুটিতে আছেন।’ তাৎক্ষণিক খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দুই-তিন দিনে তার কোনো ছুটি মঞ্জুর করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খোঁজখবর করতে করতেই সেখানে উপস্থিত হন প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার। পাঁচটি ট্রেডের জায়গায় চারটি ট্রেডে পরীক্ষা এবং সেই চারটি ট্রেডে ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতির কথা থাকলেও পরীক্ষায় কেন ৪৬ জন উপস্থিত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই মাস ক্লাস চালানোর পর কেন্দ্রের নির্দেশে ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সটি বন্ধ আছে। তাই ভর্তি ও হাজিরা খাতায় তাদের ৫০ জনের নাম থাকলেও তারা উপস্থিত নেই। বাকি চারটি ট্রেডে ৫০ জন করে ২০০ জন ভর্তি থাকলেও কেন্দ্রের নির্দেশে বিকেলের ক্লাসও বন্ধ রয়েছে। সে কারণে বর্তমানে সকালে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ক্লাস চলমান রয়েছে। সেই ১০০ জন নারীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে আজ পরীক্ষা দিতে আসতে পারেননি অনেকে।’
এদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাজিরা খাতার কিছু অংশ সংগ্রহ করেছে দৈনিক বাংলা। তাতে দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতির ঘরে বল পেন দিয়ে সই করানো হয় এবং অনুপস্থিতের ঘরে কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হয়। কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের অনুপস্থিতির দিনগুলোতে ১৫০ টাকা করে কেটে রাখা হবে। অভিযোগ রয়েছে, কাঠ পেনসিলের ক্রস চিহ্ন রাবার দিয়ে মুছে সই বসিয়ে সে টাকাও তুলে নেয়া হবে। হাজিরা খাতায় কেন কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হলো- সামিরা আক্তার এ প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন।
রাজাপুরের কেন্দ্রে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও পরীক্ষা দিচ্ছেন বিউটিফিকেশন ট্রেডে। তবে তাদের কাউকেই কিছু লিখতে দেখা যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী জানেন না তারা কী পরীক্ষা দিতে এসেছেন। তাদের যা লিখতে বলা হয়, তারা কেবল সেটিই লিখে থাকেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই বা তিন হাজার টাকার বিনিময়ে গ্রামের অনেক গৃহিণীকে এনে পরীক্ষা দেয়ানো হয়। অথচ তাদের নামেও বরাদ্দ হবে ১২ হাজার টাকা।
পরীক্ষা কেন্দ্রের একটি কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও ফ্যাশন ডিজাইনার ট্রেডে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। এক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কোন ট্রেডে পরীক্ষা দিয়েছেন? তিনি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে কোনো উত্তর না দিতে পেরে কেন্দ্র থেকে চলে যান।
ষাটোর্ধ্ব নারীদের পরীক্ষায় উপস্থিত দেখা গেলেও প্রকল্পের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সহকারী প্রোগ্রামার মো. সাদাত হোসেন জানান, সব ট্রেডে ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস থাকতে হবে। তাদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন) কাইয়ুম মিয়া মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমাদের প্রকল্পের বাজেট মন্ত্রণালয় থেকে অর্ধেক করে দিয়েছে। তাই প্রকল্পে ব্যয় সংকোচন করতে সব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিকেলের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। শুধু সকালের ক্লাসে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। তবে রাজাপুর কেন্দ্রে সকালেও ১০০ জন কেন নেই, সে বিষয়ে সেখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় দেশজুড়ে প্রার্থনা। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আপসহীন খেতাব পাওয়া দেশনেত্রী এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ভুগছেন বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধিতে। গত ৬ দিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে তাকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।
এদিকে দেশের জনপ্রিয় এই নেত্রীর অসুস্থতায় দেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু সর্বস্তরের মানুষ দোয়া কামনা করেছেন। মিলাদ-মাহফিলসহ মসজিদ-মাদ্রাসায় চলছে আরোগ্য কামনা। শনিবার উপদেষ্টা পরিষদে খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসির কাছে দোয়া কামনা করা হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে গত শুক্রবার নয়াপল্টনে দোয়া মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের পরপরই দলের নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হাসপাতালে যান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। রাতে একে একে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মির্জা আব্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাডামকে দেখে মনে হয়েছে, উনি স্ট্যাবল নন। ম্যাডামের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি। রাতে হাসপাতালে ছুটে যান বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দলিব রহমান পার্থ। তিনিও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের কাছে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা জানান। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
এদিকে মায়ের অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে আবেগঘন বার্তা দেন জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশবাসীর কাছে মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি লিখেন, এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।
ওদিকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নানা মন্তব্য লিখেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনেকে স্বৈরাচার আমলের খালেদা জিয়ার আপসহীন নানা বক্তব্য ফেসবুক শেয়ার করে তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়ার আহ্বান জানাই।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ফেসবুকে লিখেন, সেরে উঠুন বাংলাদেশ…। একজন অভিভাবক হিসেবে, যার সুস্থতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শক্তি, ভাগ্যাহত মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের মসৃণ যাত্রা। ম্যাডাম জিয়া সুস্থ হোন—হৃদস্পন্দনে ফিরুক বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তার ওপর অপার করুণা বর্ষণ করুন। আমিন।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে একটি দীর্ঘ মন্তব্য ফেসবুকে শেয়ার করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহও।
টকশোর আলোচক ডা. জাহেদ উর রহমান ফেসবুকে লিখেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা। ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম জারা নিজের ফেসবুক পেজে লিখেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে রাজধানীতে দোয়া মাহফিল করেছে জামায়াত নেতারা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য আজ ফজরের নামাজের পর মসজিদে মসজিদে দোয়া করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও শনিবারও দেশেব্যাপী বিভিন্ন জেলা উপজেলার মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। সর্বশেষ গত ১৫ই অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসিনার আমলে ২০১৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই বছর কারাগারে থাকাকালে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। এরপর মুক্তি দিলেও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন ওয়ার্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন। শনিবার মাধবপুর ইউনিয়নের পদ্ধছড়া চা-বাগান মাঠে ইউনিয়ন ওয়ার্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৫ আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি খাঁন মোহাম্মদ হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট ক্রীড়া অনুরাগী ও ক্রীড়া সংগঠক জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. সালাহ্ উদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সম্পাদক মো. সুমেল আহমেদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিবনারায়ণ শীল, ইউপি সদস্য মোতাহের আলি, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ উপজেলা কোয়াব কমিটির সভাপতি মো. মামদ আলী, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য জয়নাল আবেদীন, সমাজসেবক মোসাহিদ আলি, ভানুগাছ সিএনজি গ্রুপ কমিটির সহসভাপতি রাজা মিয়া, যুবদল নেতা সাজমান আহমেদ রিপন প্রমুখ।
অতিথিরা বক্তব্যে বলেন, যুবসমাজকে সঠিক পথে রাখতে ক্রীড়া কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়; এটি ভ্রাতৃত্ব, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমরা চাই, আমাদের তরুণরা মাঠমুখী হোক, সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করুক।
বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় সমাজে সৌহার্দ্য ও ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা একটি সুন্দর সমাজ গঠনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আয়োজক কমিটি জানায়, তরুণ সমাজকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। মাধবপুর ইউনিয়নের মোট আটটি ওয়ার্ডের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে লীগ পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা পরিচালিত হবে।
আলোচনা পর্ব শেষে প্রথম ম্যাচের টসের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শুরুতেই স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে খেলাধুলার প্রতি স্থানীয় তরুণদের আগ্রহ ও উচ্ছ্বাসকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
নেত্রকোনায় স্থানীয় পাবলিক হলে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি ও ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেন। যুব সমাজের মধ্যে ডিজিটাল উদ্বোধনী বক্তব্যে আনোয়ারুল হক বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে যুব সমাজকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তারেক রহমানের নির্দেশেই আমি নেত্রকোনায় ডিজিটাল দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছি। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডাক্তার আনোয়ারুল হকের সহধর্মিণী ডাক্তার লুৎফা হোক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন ফারাস সেন্টু, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রিপন, পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল হক, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেহেরুল আলম রাজুসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। কর্মশালা পরিচালনা করেন, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অঙ্কন পুরকায়স্থ, ট্রেইনার দ্বীপ দে, তৌফিকুল আরাফাত। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রায় ৫ শতাধিক বেকার যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেন। দক্ষতা অর্জন ও আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনাজপুরে সহকারী খাদ্য পরিদর্শক পদে পরীক্ষা চলাকালীন সময় দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদের মধ্যে প্রক্সি দিতে এসে মিফতাহুল জান্নাত নামে এক শিক্ষার্থী ও ডিভাইসসহ শিরিন আক্তার নামে আরেকজনকে আটক করা হয়। শনিবার সকালে দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও সদর উপজেলার পরাজপুর ফাসিলাডাঙ্গা হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।
মিফতাহুল রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট রসুলপুর গ্রামের রেজাউল করীমের ছেলে ও রংপুর কারমাইকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দিনাজপুরের ওমর ফারুক নামের একজনের হয়ে (প্রক্সি) পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন। তাকে মাতা সাগর দিনাজপুর কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র (টিটিসি) থেকে আটক করা হয়।
এদিকে ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন শিরিন আক্তার নামের এক চাকরিপ্রত্যাশী। তিনি দিনাজপুর সদর উপজেলার পরাজপুর ফাসিলাডাঙ্গা হাইস্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তার বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকালে দিনাজপুর কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রে (টিটিসি) সহকারি খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। মিফতাহুলের কক্ষ ছিল ভবনের নিচতলায় অটোমেটিক ট্রেড কক্ষে। কক্ষ পরিদর্শক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করতে গিয়ে ছবির মিল না পাওয়ায় সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সব কথা স্বীকার করেন মিফতাহুল। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিফতাহুল স্বীকার করেন, রংপুর শহরের নজরুল চত্বর এলাকায় মেসে থাকেন। সেখানে বাসা ভাড়া ও খাবার বাবদ বকেয়া পড়েছিল আট হাজার টাকা। দুই মাস ধরে সেটি পরিশোধ করতে পারছিলেন না। দুদিন আগে মেস মালিক শরীফ বাবু তাকে প্রস্তাব দেন খাদ্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিলে মেসের বকেয়া টাকা দিতে হবে না।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, ‘কিছুদিন আগে ডিভাইস নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় একটি চক্রের তিন সদস্যকে আমরা আটক করেছিলাম। এ ধরনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আরও একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে। আজকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র সচিবকে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড়ে নানা আয়োজনে মুক্তদিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
দিবসটি পালনে শনিবার সকালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বধ্যভূমি স্মৃতি ফলক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখান শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা হয়।
এতে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, সিভিলে সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সায়খুল ইসলাম, পিপি অ্যাডভোকেট আদম সুফি, জিপি আব্দুল বারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বক্তব্য দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা এম. আলাউদ্দিন প্রধান জানান, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর পাকবাহিনী সারাদেশে আক্রমণ শুরু করলেও ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পঞ্চগড় মুক্ত থাকে। পাকবাহিনী সড়ক পথে এসে ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় পঞ্চগড় দখল করে নেয়। তবে তেঁতুলিয়া সড়কের অমরখানায় চাওয়াই নদীর ওপর একটি ব্রিজ ভেঙে দেওয়ায় পাকসেনারা তেঁতুলিয়া ঢুকতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়কাল তেঁতুলিয়া ছিল পাক হানাদার মুক্ত। মুক্ত অঞ্চল হিসেবে তেঁতুলিয়া সব কর্মকাণ্ডের তীর্থ ভূমিতে পরিণত হয়। অস্থায়ী সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সভা তেঁতুলিয়াতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় নড়াইলের বিভিন্ন ধর্মীয় উপসানলয়ে দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
শনিবার নড়াইল শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, পুরানো বাসটার্মিনাল, বাজার জামে মসজিদ, বরাশুলা, ডুমুরতলা, সআলাদাতপুর, ভওয়াখালি, কুড়িগ্রাম, মাছিমদিয়া, আউড়িয়া, সীমাখালি, নাকশি মাদরাসা, দত্তপাড়া, লোহাগড়া উপজেলা বাজার মসজিদ, উপজেলা পরিষদ, আলাউদ্দীনের মোড়, কালনা, দিঘলিয়া, বড়দিয়া, নড়াগতি থানা, কালিয়া উপজেলার জামে মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকার মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া নড়াইল কেন্দ্রীয় টাউন কালীবাড়ি, রূপগঞ্জ বাজার, বাধাঘাট, নিশিনাথতলা, হাটবাড়িয়া, গোবরা, তুলারামপুর, কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
নড়াইল অংশে আয়োজিত মসজিদ দোয়া মাহফিলে নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজভী জর্জ, নড়াইল-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক স, ম আলাউদ্দীনসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মন্দিরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেয়।
মসজিদে আলেম মুসল্লি এবং মন্দিরে পুরোহিতসহ ভক্তবৃন্দ দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতাসহ সার্বিক মঙ্গল কামনা করা হয়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দিনাজপুর সেক্টর এবং ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) কর্তৃক বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় শীতার্ত এবং অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার বিরল উপজেলার অন্তর্গত ডুংডুঙ্গি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৮নং ধর্মপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেড়াগাঁও গ্রামের ১১৯ নং দক্ষিণ নেড়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় ৩০০ জন শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে ৩০০ টি শীতবস্ত্র (কম্বল) এবং বাচ্চাদের জন্য ১০০টি বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও স্থানীয় প্রায় ৫০০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।
শীতবস্ত্র বিতরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার উপমহাপরিচালক কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান।
এ সময় তিনি বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক, মানব ও অস্ত্র পাচার রোধ এবং আন্তঃ সীমান্ত অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণে বিজিবি সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হয়েও বিজিবি দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সব সময়ই অসহায় ও বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে। মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মহোদয়ের মূলনীতি ‘বিজিবি সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’ বাস্তবায়নে প্রতিটি বিজিবি সদস্য বদ্ধপরিকর।
এছাড়াও এই কার্যক্রমে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান, চিকিৎসকগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর অন্যান্য সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
৪০০টির বেশি কেমিক্যাল কনটেইনারসহ চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড ও শেডজুড়ে পড়ে রয়েছে ১০ হাজারের বেশি কনটেইনার। কনটেইনারগুলো। বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা এসব কনটেইনার নিলামযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। নিলামে ধীরগতি ও নানা জটিলতায় কনটেইনারগুলো সরানো যায়নি। অন্যদিকে এসব কনটেইনার বন্দর ইয়ার্ডের অন্তত এক ২০ শতাংশ জায়গা দখল করে রেখেছে। এছাড়া কেমিক্যাল কন্টেইনারের অনেকগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে বিস্ফোরণসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক সময়ে নিলাম না হওয়া বা ধীরগতির কারণে কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ইয়ার্ড খালি করা যাচ্ছে না। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অথচ এই ২০ শতাংশ জায়গায় নতুন কনটেইনার রাখা গেলে কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হতো। এছাড়া বিস্ফোরণসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো আছেই।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, নিলামযোগ্য কনটেইনারের সংখ্যা ১০ হাজার ৩৩৪ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) বন্দর ইয়ার্ডে পড়ে আছে। বন্দরের মোট ধারণ ক্ষমতা ৫৯ হাজার টিইইউএস, যার মধ্যে ৪২ হাজার ১৮৪ টিইইউএস কনটেইনার ইয়ার্ডে জমা আছে। এই নিলামযোগ্য কনটেইনারে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। সঠিক সময়ে নিলাম করা হলে সরকার রাজস্ব পেত।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিলামযোগ্য কনটেইনারের কারণে ১৫০ কোটি টাকার বকেয়া ভাড়া আটকে রয়েছে। প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতার নানা কারণে এসব কনটেইনার আটকা পড়ায় আমদানিকারকরা খালাস করেননি। ইতোমধ্যে এসব কনটেইনারে থাকা বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্টও হয়ে গেছে। দ্রুত নিলাম হলে কনটেইনার জট কমে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতো। এছাড়া আমদানি-রপ্তানির কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মোহাম্মদ এনামুল করিম বলেন, ১০ হাজার ৩৩৪ টিইইউএস নিলামযোগ্য কনটেইনার পড়ে আছে। কাস্টম হাউসকে বারবার তাগাদা দিচ্ছি দ্রুত নিলামের জন্য। ধ্বংসযোগ্য কনটেইনার দ্রুত সরানোর জন্যও বলা হয়েছে। কিন্তু কার্যত কোনো কাজ হয়নি। নিলাম ধীরগতির কারণে বন্দর সমস্যার মুখে পড়েছে।’
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, বহু কনটেইনারের বিপরীতে রয়েছে মামলা-মোকাদ্দমাও। এসব কনটেইনার শুধু বন্দরের জায়গাই দখল করে রাখেনি, একইসাথে বন্দরের অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। বন্দরের ধারণক্ষমতার মাঝে এসব কনটেইনারের জঞ্জাল ক্রমাগত সংকট সৃষ্টি করছে। ওই ১০ হাজার কনটেইনার ইয়ার্ডে না থাকলে বন্দরের ইকুইপমেন্ট মুভমেন্টসহ সার্বিক কার্যক্রমে আরও অনেক বেশি গতিশীলতা তৈরি হবে বলেও সূত্রগুলো জানায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে বর্তমানে ৪০০টির বেশি কেমিক্যালবাহী নিলামযোগ্য কনটেইনার রয়েছে। এর অনেকগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ। যা বিস্ফোরণসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বছরের পর বছর ধরে বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনারগুলোতে মেশিনারিজ, ফেব্রিঙ, সুতাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব কনটেইনার নিলামে তোলার জন্য কাস্টমস বরাবরে অসংখ্য চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে নিলাম প্রক্রিয়ায় কোনো গতি নেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনারগুলো বন্দরের সক্ষমতা হ্রাস করছে এবং বিপজ্জনক কেমিক্যালের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। এতে এগুলো সংরক্ষিত মূল্য ছাড়া প্রথম নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রয়, দুই নিলামে বিক্রয় না হলে তৃতীয়বার প্রচারপূর্বক সরাসরি বিক্রয় এবং নিলামে নিষ্পত্তিযোগ্য না হলে ধ্বংস বা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরের কথা বলা হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিডার (নিলামকারী) মোহাম্মদ ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, নিলাম দ্রুত হলে সবার লাভ। সরকার রাজস্ব পাবে, আমরা লাভ পাব। ধীরগতির কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আপেল, কমলা, আদা, পেঁয়াজ, রসুনসহ ভোগ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সঠিক সময়ে নিলাম করলে এই ক্ষতি এড়ানো যেত।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন বলেন, সময়মতো নিলাম না হলে পণ্য নষ্ট হয়, দরদাতার আগ্রহ কমে এবং কাস্টমসও ভালো দাম পায় না। দ্রুত নিলাম সম্পন্ন হলে শিপিং লাইনগুলোও তাদের কনটেইনার দ্রুত ফেরত পাবে এবং পুনরায় ব্যবহার করতে পারবে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া ছয় হাজারের মতো নিলামযোগ্য কনটেইনারের নিলাম প্রক্রিয়া চলমান। সাম্প্রতিক সময়ে তিন দফা নিলামের মাধ্যমে ৫০৩টি কনটেইনার বিক্রি করা হয়েছে। একটি নিলাম সম্পন্ন করতে অন্তত দুই মাস লাগে, তাই প্রতি মাসে একাধিক নিলাম আয়োজন করা হচ্ছে। কনটেইনারগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আন্তরিক বলেও ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, নিলামযোগ্য ১০ হাজার কনটেইনার বছরের পর বছর জায়গা দখল করে আছে। এগুলো ধ্বংস বা খালাসের দায়িত্ব কাস্টমসের। জায়গা দ্রুত খালি করতে আমরা একাধিকবার চিঠি দিয়েছি।
নীলফামারীর স্থানীয় কাঁচাবাজার শীতের সবজিতে ভরপুর হলেও দামে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। এ সময় বছরের অন্য সময়ের চেয়ে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় এসব সবজি। কিন্তু বাজারে শীতকালীন আগাম সবজি এলেও বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো তদারকি না থাকায় ইচ্ছেমতো চড়া দামে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও এখনো সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিক হবে সবজির দাম।
শনিবার নীলফামারী জেলা শহরের কিচেন মার্কেট, উকিলের মোড়, সাহেব বাজার, কালিতলা বাজার, নতুন বাজার, ডালপট্টি বাজার ও বাদিয়ার মোড়সহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বেলালের মোড় ও কিচেন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। লাউ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। এ ছাড়া কাঁচা পেঁপে ২০, গোল বেগুন আকার ভেদে প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা টাকা। দেশি শসা ৪০-৪৫, করলা, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পটল, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এদিকে গাজর ১২০, শিম ৮০, কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ৮০-১০০, ধনেপাতা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কিচেন মার্কেটের পাইকারি বাজারে বেগুন বিক্রি করতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, যখন ফসল বিক্রি করি, তখন আড়তদাররা একচেটিয়া ব্যবসা করে। সারা বছর রোদেপুড়ে উৎপাদন করে বাজারে এসে আড়তদারদের কাছে জিম্মি হতে হয়। আজকে (শিনিবার) ৪০ কেজি (এক মণ) গোল বেগুন ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলাম, আর এই বেগুন খুচরা বাজারে বিক্রি হবে ৮০-৯০ টাকায়। প্রতি কেজিতে আমার লোকসান হলো ৪৫ টাকা। এসব দেখা এবং বলার কেউ নেই।
ওই মার্কেটে সবজি কিনতে আসা ফারাবি আকতার বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। আর কৃষক ও ভোক্তা বরাবরই ঠকছে।
জেলা শহরের খুচরা বাজারের ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ বলেন, সবজির সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক দাম একটু বেশি। তবে কয়েক দিন পর সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
জেলা শহরের সাহেব বাজারে সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, এখন শীতের সবজি মাত্র ওঠা শুরু হয়েছে। সরবরাহ বাড়লে এই দাম থাকবে না। এছাড়া ঘাটতি তো আছেই। ফলে একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। এদিকে লালশাক, কলমিশাক, পুঁইশাক, কুমড়ো শাক, মুলা শাক, পালং শাক, ধনেপাতাসহ সব সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
অপরদিকে বাজারে রুই ও কাতল আকারভেদে ২৬০ থেকে ৩০০, কৈ, তেলাপিয়া মাছ ১৮০-২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশি কৈ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। সরপুঁটি ১০০-১২০, শিং ৩০০-৩৫০ টাকা, টেংরা প্রতি কেজি ৭০০-৭৫০ টাকা, মোয়া মাছ ২৫০-৩০০ টাকা। শোল মাছ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, প্রকারভেদে মাগুর ৩৫০-৪০০ টাকা, গোঁতা মাছ ১,১০০ থেকে ১,২৫০ ও টাকি মাছ ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হামিদ পোলট্রি হাউসের মালিক আব্দুল হামিদ বলেন, পোলট্রির বাজার স্বাভাবিক রয়েছে, সোনালি খুচরা প্রতি কেজি ২৫০, বয়লার ২৬০, রিজেক্ট প্যারেন্ট ২৮০ ও লাল লেয়ার ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
আমতলী-তালতলী উপজেলা মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ ম্যানেজ করে বঙ্গোপসাগর ও উপকুলীয় পায়রা নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে দেদারসে জাটকা ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা।
অভিযোগ রয়েছে মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ীরা তাদের দাদন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস্য ব্যবসায়ী সোনাকাটা ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর, ফরাজীসহ স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীরা তিন দপ্তরকে ম্যানেজ করেই জেলেদের দিয়ে জাটকা ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। জাটকা ইলিশ শিকার করলেও তিন দপ্তর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, গত পহেলা নভেম্বর থেকে সাগর ও নদীতে জাটকা ইলিশ শিকার, পরিবহন, বিপণন নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত থাকবে এ নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীরা মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশ ম্যানেজ করে জেলেদের দিয়ে অবাধে জাটকা ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিন দপ্তরকে ম্যানেজ করায় তারা জাটকা ইলিশ শিকারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। আরও অভিযোগ রয়েছে, দায়সারা অভিযান পরিচালনা করলেও তারা আগেই দাদন ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জেলেদের কাছে অভিযানের খবর পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে জেলেদের আটকানো কঠিন হচ্ছে। আমতলী-তালতলী উপজেলায় ১৩ হাজার ৬৯৯ জন জেলে রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূল তালতলী ও আমতলী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৮ হাজার জেলে ইলিশ শিকার করছেন। ওই জেলেরা অবৈধভাবে ২.৬ ইঞ্চি (৬.৫ সেমি) ফাঁসের জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করছেন। দাদন ব্যবসায়ীদের প্রভাবে জেলেরা সাগরে নির্ভয়ে অবৈধ ফাঁসের জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করছেন। মাঝে মধ্যে ফকিরহাট কোস্ট গার্ড, নিদ্রা নৌ-পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য অফিস নাম মাত্র দু’একটি অভিযান পরিচালনা করলেও সাগর ও নদীতে জেলেদের খুঁজে পায় না তারা। এগুলো তাদের লোক দেখানো অভিযান বলে জানান স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফকিরহাট বাজারের বিএফডিসি ঘাট, আমতলী ও তালতলীর বিভিন্ন আড়ত থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫-৭ টন জাটকা ইলিশ ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি করছেন।
শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, তালতলীর ফকিরহাট, আশারচর, নিশানবাড়িয়া, নিন্দ্রা সকিনাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে জেলেদের শিকার করা জাটকা ইলিশ আড়তদার (দাদন) ব্যবসায়ী পরিবহন করছে।
স্থানীয় ছত্তার ফকির ও ইলিয়াস বলেন, দাদন ব্যবসায়ীরা জাটকা ইলিশ শিকারে জেলেদের বাধ্য করছেন। জেলেরা তাই ইলিশ শিকার করছে।
তালতলী উপজেলার ফকিরহাটের জুয়েল ও শাহীনসহ কয়েকজন জেলে বলেন, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়েছি, তাই তাদের টাকা পরিশোধ করতেই জাটকা ইলিশ শিকার করছি। তারা আরও বলেন, দাদন ব্যবসায়ীরাই প্রশাসনকে ম্যানেজ করছেন।
ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মজিবর ফরাজী বলেন, জেলেরা নিজেরা নিজেরা নিষিদ্ধ জাল দিয়ে জাটকা ইলিশ মাছ শিকার করছে। এখানে আড়ত ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।
তালতলী নিদ্রা নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা সাগর-সংলগ্নৎ নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কিন্তু কতটা জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নে জবাব দিতে পারেননি তিনি।
তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি বেশ কয়েকদিন অনুপস্থিত ছিলাম, ফলে সাগর ও নদীতে অভিযান পরিচালনা করতে পারিনি। তাই জেলেরা নদীতে অবৈধ ফাঁসের জাল দিয়ে জাটকা ইলিশ শিকার করেছে।
আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার তন্ময় কুমার দাশ বলেন, বরাদ্দ না থাকায় পায়রা নদীতে জাটকা ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান পরিচালনার করতে পারছি না। এই ফাঁকে জেলেরা কিছু জাটকা ইলিশ শিকার করছে। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেবক মণ্ডল বলেন, কোনো মতেই জাটকা ইলিশ শিকার, পরিবহন ও বিপণন করতে পারবে না। এর সাথে যারা জড়িত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই যত্রতত্র নিজেদের ইচ্ছেমতো জবাই করা হচ্ছে গরু ও ছাগল। এ বিষয়ে কোনো প্রকার কার্যক্রম ও নেই উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অফিসের। এতে করে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের ঝুঁকিতে কসাই ও ক্রেতারা। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
জানা যায়, এ উপজেলার সব চেয়ে বড় পশুর হাট পিংনা ইউনিয়নের গোপালগঞ্জ পশুর হাট। সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পশু আসে এই হাটে। অনেক অসাধু কসাই (মাংস বিক্রেতা) বেশি লাভের আশায় অসুস্থ গরুগুলো কম দামে কিনে বিভিন্ন স্থানে জবাই করে মাংস বিক্রি করে। এতে করে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
ইতোমধ্যে গবাদিপশুর মাধ্যমে সংক্রমিত মারাত্মক রোগ অ্যানথ্রাক্স পশুর পাশাপাশি মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ঘটিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়পত্রবিহীন অসাধু কসাই যেন কোনো অসুস্থ পশু জবাই করতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মাংস ক্রেতা মনি মিয়া, মেহেদী হাসান বাধন, আমজাদ হোসেনসহ একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাতের আঁধারে বা খুব ভোরে এসব গরু-ছাগল জবাই করা হয়। অন্য জায়গায় জবাই করে ভ্যানের মাধ্যমে মাংস বাজারে আনা হয়। কেমন গরু-ছাগল জবাই হচ্ছে, সেটা অসুস্থ নাকি সুস্থ ছিল সেটাও আমাদের জানার বা দেখার সুযোগ নেই। জবাই করাটাও কী ইসলামিকভাবে হুজুর দিয়ে স্বাস্থ্য সম্মত জায়গা বা স্বাস্থ্য সম্মতভাবে হচ্ছে কিনা। সেটাও জানি না। অনেকে আবার মাংসের সাথে ফ্রিজের মাংস মিশিয়ে বিক্রি করেন। এসব বন্ধে প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। কসাইরা যেন অধিক লাভের আশায় অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই না করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে কাজ করছি। ২৫ জন কসাইকে নিয়ে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছি। তবে সমস্যা হলো পৌরএলাকা বা ইউনিয়নগুলোতে স্বীকৃতিকৃত বা অনুমোদিত কোনো কসাইখানা নেই। এই সুযোগে বিভিন্ন বাজার বা মোড়গুলোতে গরু-ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি হচ্ছে।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (রেডিয়েশন) এলাকায় বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ কৌশল আয়ত্তে আনতে ফায়ার ফাইটারদের জন্য ১৪ দিনব্যাপী একটি উন্নত ও আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার এ তথ্য জানান ট্রেনিং ডিভিশনের উপ-প্রধান মো. মনিরুজ্জামান। গত ১০ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অন-সাইট ফায়ার ফাইটারদের জন্য রেডিও–রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক, বিস্ফোরক ও অগ্নি-বিপজ্জনক এলাকায় অগ্নিনির্বাপন’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ১৪ দিনব্যাপী মোট ৮০ ঘণ্টার গভীরতাপূর্ণ কোর্সে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীরা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের বিশেষ কৌশল, নিরাপত্তা নীতি, বিকিরণমাত্রা পর্যবেক্ষণ, ডোজিমিটার ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহারে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন।
প্রশিক্ষণের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান গোলাম শাহীনুর ইসলাম এবং উপপ্রধান মো. মনিরুজ্জামান। কোর্স সমন্বয়ে সহায়তা করেন ফায়ার সেফটি বিভাগের প্রশিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হোসেন।
ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান মনিরুজ্জামান জানান, কর্মসূচির প্রথম ধাপে মোট ২৩ জন ফায়ার ফাইটার অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ১ জন সিনিয়র স্টেশন অফিসার, ৩ জন লিডার, ১৫ জন ফায়ার ফাইটার এবং ৪ জন ড্রাইভার (ফায়ার ফাইটার)। সবাই তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১২ জন ফায়ার ফাইটারের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াধীন।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিকিরণ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যা বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার উপজেলার কেন্দ্রীয় চত্বরে ‘সচেতন তাহিরপুরবাসী’ ও ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলনের’ যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক মোছায়েল আহমদ। যৌথ সঞ্চালনায় ছিলেন ঐক্যবদ্ধ তাহিরপুরের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান এবং হাওর রক্ষা আন্দোলনের তাহিরপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক নাসরুম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, সুজনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ, সচেতন তাহিরপুরবাসীর আহ্বায়ক সুহেল আলম, সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সফিকুল ইসলাম, তাহিরপুর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল আলিম ইমতিয়াজ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল হাসান রাসেল, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাজন আহমদ আসাদুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
তাহিরপুর উপজেলা ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, হাওরপাড়ে অসংখ্য বেকার যুবক-যুবতী রয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হলে তারা দক্ষ হয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে পারত। আমরা কোনোভাবেই চাই না এই কেন্দ্রটি তাহিরপুর থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, আমাদের হাওরাঞ্চলের মানুষ বহু বছর ধরে অবহেলিত। এখানে ভালো কোনো শিক্ষা কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নেই। অথচ তাহিরপুরে নির্ধারিত কেন্দ্রটি অজানা কারণে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে তাহিরপুরেই টিটিসি স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) আওতায় এই ৫০টি টিটিসি প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক আবাসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, যুবক-যুবতীদের দক্ষ করে তোলা এবং বিশেষ করে বিদেশগামী কর্মীদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য ছিল। তাহিরপুরে এই কেন্দ্র স্থাপন হলে হাওরাঞ্চলের হাজারও তরুণ-তরুণী উপকৃত হতো।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে তাহিরপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পুনর্বহাল এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।