তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প-৪ এর আওতায় ঝালকাঠির রাজাপুরে জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চলছে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ। ভর্তি-নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি ব্যাচে পৃথক পাঁচটি ট্রেডে ৫০ জন করে মোট ২৫০ প্রশিক্ষণার্থী থাকার কথা এখানে। তাদের প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১২ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের এই টাকা লোপাটের জন্যই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভর্তি ফরম ও হাজিরা খাতায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২৫০ জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণার্থীদের ২৫০ জনের তালিকা পূরণের প্রমাণ মিলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক প্রশিক্ষণার্থী দৈনিক বাংলার কাছে এমন তথ্যের সত্যতাও স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে নামে-বেনামে প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার সরকারি বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।
নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের আওতায় বর্তমান ব্যাচে চার মাস মেয়াদি বিউটিফিকেশন কোর্স, কেটারিং কোর্স, ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোর্স ও ফ্যাশন ডিজাইনার কোর্স ট্রেডে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সও রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের যাবতীয় কাগজ ও হাজিরা খাতায় প্রতিটি ট্রেডেই ৫০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ভুয়া নামগুলোর মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা যাবে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তার পেটে। ওই টাকার একটি অংশ সেখানকার ছয়জন প্রশিক্ষক ও নৈশপ্রহরীও পাবেন। এই কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীদের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে না দিয়ে নগদ দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মহিলা সংস্থা ঝালকাঠির জেলা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন হাওলাদার।
গত ২৮ অক্টোবর বেলা ১১টায় রাজাপুর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারটি ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা চলছিল। এই কেন্দ্রে ছয়জন প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ওই সময় মাত্র দুইজন প্রশিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এমনকি সেখানকার দায়িত্বরত প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার নিজেও অনুপস্থিত ছিলেন। আর ভেতরে তিনটি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন মাত্র ৪৬ জন নারী।
প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কেন উপস্থিত নেই- তা জানতে চাইলে সেখানে থাকা বিউটিফিকেশন ট্রেডের প্রশিক্ষক শাহানারা খাতুন বলেন, ‘ম্যাডাম ছুটিতে আছেন।’ তাৎক্ষণিক খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দুই-তিন দিনে তার কোনো ছুটি মঞ্জুর করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খোঁজখবর করতে করতেই সেখানে উপস্থিত হন প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার। পাঁচটি ট্রেডের জায়গায় চারটি ট্রেডে পরীক্ষা এবং সেই চারটি ট্রেডে ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতির কথা থাকলেও পরীক্ষায় কেন ৪৬ জন উপস্থিত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই মাস ক্লাস চালানোর পর কেন্দ্রের নির্দেশে ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সটি বন্ধ আছে। তাই ভর্তি ও হাজিরা খাতায় তাদের ৫০ জনের নাম থাকলেও তারা উপস্থিত নেই। বাকি চারটি ট্রেডে ৫০ জন করে ২০০ জন ভর্তি থাকলেও কেন্দ্রের নির্দেশে বিকেলের ক্লাসও বন্ধ রয়েছে। সে কারণে বর্তমানে সকালে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ক্লাস চলমান রয়েছে। সেই ১০০ জন নারীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে আজ পরীক্ষা দিতে আসতে পারেননি অনেকে।’
এদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাজিরা খাতার কিছু অংশ সংগ্রহ করেছে দৈনিক বাংলা। তাতে দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতির ঘরে বল পেন দিয়ে সই করানো হয় এবং অনুপস্থিতের ঘরে কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হয়। কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের অনুপস্থিতির দিনগুলোতে ১৫০ টাকা করে কেটে রাখা হবে। অভিযোগ রয়েছে, কাঠ পেনসিলের ক্রস চিহ্ন রাবার দিয়ে মুছে সই বসিয়ে সে টাকাও তুলে নেয়া হবে। হাজিরা খাতায় কেন কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হলো- সামিরা আক্তার এ প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন।
রাজাপুরের কেন্দ্রে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও পরীক্ষা দিচ্ছেন বিউটিফিকেশন ট্রেডে। তবে তাদের কাউকেই কিছু লিখতে দেখা যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী জানেন না তারা কী পরীক্ষা দিতে এসেছেন। তাদের যা লিখতে বলা হয়, তারা কেবল সেটিই লিখে থাকেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই বা তিন হাজার টাকার বিনিময়ে গ্রামের অনেক গৃহিণীকে এনে পরীক্ষা দেয়ানো হয়। অথচ তাদের নামেও বরাদ্দ হবে ১২ হাজার টাকা।
পরীক্ষা কেন্দ্রের একটি কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও ফ্যাশন ডিজাইনার ট্রেডে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। এক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কোন ট্রেডে পরীক্ষা দিয়েছেন? তিনি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে কোনো উত্তর না দিতে পেরে কেন্দ্র থেকে চলে যান।
ষাটোর্ধ্ব নারীদের পরীক্ষায় উপস্থিত দেখা গেলেও প্রকল্পের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সহকারী প্রোগ্রামার মো. সাদাত হোসেন জানান, সব ট্রেডে ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস থাকতে হবে। তাদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন) কাইয়ুম মিয়া মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমাদের প্রকল্পের বাজেট মন্ত্রণালয় থেকে অর্ধেক করে দিয়েছে। তাই প্রকল্পে ব্যয় সংকোচন করতে সব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিকেলের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। শুধু সকালের ক্লাসে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। তবে রাজাপুর কেন্দ্রে সকালেও ১০০ জন কেন নেই, সে বিষয়ে সেখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় মুহাম্মদ শাহাদাত (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাহাদাত উপজেলার উত্তর ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মৃত মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের ছেলে। সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে সাতকানিয়া মডেল মসজিদের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন শাহাদাত। এ সময় হঠাৎ দুই থেকে চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী সেখানে এসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সন্ত্রাসীদের ধরার চেষ্টা করলে তারা অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাদাতকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই রাস্তার মাথায় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিল। হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে তার ওপর হামলা চালায়। তারা আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’
সাতকানিয়া থানার ওসি মঞ্জুরুল হক আরও বলেন, ‘রাস্তার মাথায় এক যুবককে কয়েকজন মুখোশধারী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। আমরা এখনো এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিথীকা সাধু (৫০) সাতক্ষীরা শহরের বউবাজার এলাকার মৃত. বিশ্বনাথ সাধুর স্ত্রী। তিনি বউবাজারের একজন মুদি দোকানী।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, বিথীকা সাধুর সাতক্ষীরা শহরের বউবাজারে একটি মুদি দোকান রয়েছে। প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরে আসলেও কিন্তু গতকাল রাতে বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে একশো গজ দূরে পুকুরের ভেতর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছে, এলাকায় মাদকসেবীদের উৎপাত রয়েছে। বিথীকা সাধুর গলায় স্বর্ণের চেইন ও কানে দুল ছিল, সেটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে মাদকসেবীরা ছিনতাইকালে তাদের চিনে ফেলায় বিথীকা সাধুকে হত্যা করা হয়েছে। ভারী বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখ থেতলে দিয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা থানা পুলিশের একটি টিম। অপরাধী শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ চলছে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীর বাড়িতে শ্বশুর কর্তৃক পুত্রবধূ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বশুর রুস্তম গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জি আর মামলা নম্বর ৪২/২৬।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে পুত্রবধূ মোসা. শারমিন বেগমকে তার শ্বশুর রুস্তম গাজী জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতেও তিনি একাধিকবার পুত্রবধূকে ধর্ষণ করেন। এতে শারমিন বেগম গর্ভবতী হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গলাচিপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ লাইফ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সন্তান জন্মের পরদিন সকালে ৫ নম্বর আসামি লিপি বেগমসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজন নবজাতক শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান জানান, আমরা ভিকটিমের বক্তব্য ও এজাহার অনুযায়ী মূল ধর্ষককে গ্রেপ্তার করি এবং ভিকটিমের বাচ্চা অপহরণের সাথে জড়িত মূল হোতা এবং এর সাথে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করি। তার দেওয়া তথ্যমতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চা উদ্ধার করি। তাদের আমরা এখন জেলহাজতে প্রেরণ করতেছি। মামলাটি তদন্তাধীন আছে, তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যশোরের কেশবপুরে প্রতারণার মাধ্যমে শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের জমি বিক্রির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাদের সৎ ভাই আমিনুর রহমান মুকুল এবং চাচতো ভাই ইকবাল হোসেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) কেশবপুর নিউজক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, তার পিতা মৃত. গোলাম আজিজের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তার সৎ ভাই মো. আরিফুর রহমান সবুজ ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জমি বিক্রি করেছেন।
তিনি বলেন, বগা মৌজার ২০১ নম্বর খতিয়ানের ২৫৭ নম্বর দাগের ৩৮ শতক জমির মধ্যে ১০ শতক জমি গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কেশবপুর রেজিস্ট্রি অফিসে এনে তার শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ভাই কুদ্দুসুর রহমান ও বোন নারগিস নাহারকে ভুল বুঝিয়ে সোহাগ মোড়লের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বিক্রিত জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি সম্পূর্ণ টাকা আরিফুর রহমান তার স্ত্রী হাসিনা বেগম আত্মসাৎ করে ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এর আগেও আরিফুর রহমান সবুজ একই কৌশলে বগা, রেজাকাটি ও পাটকেলঘাটা মৌজার প্রায় ১ বিঘা ৩৪ শতক পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এছাড়া, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী ভাই-বোনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। যার মধ্যে রয়েছে ২টি আংটি, ১টি ব্রেসলেট ও ১ জোড়া কানের দুল—মোট ওজন প্রায় ১ ভরি ১১ আনা, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এসব স্বর্ণালঙ্কার ১ লাখ টাকার বিনিময়ে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার একটি জুয়েলার্সে বন্ধক রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আমিনুর রহমান মুকুল অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তার সৎ ভাই আরিফুর রহমান সবুজ প্রতিবন্ধী ভাই-বোনকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলে তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি যশোর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কেশবপুর থানা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভুক্তভোগীদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে আরিফুর রহমান সবুজের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে আরিফুর রহমান বলেন ঘটনা সত্য ঘটনাগুলো আমার মা ঘটিয়েছে।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রাম বাজারে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত টোল রেটের চাট লিস্ট টাঙিয়ে দেওয়া হয়নি কৌশলে সরকার নির্ধারিত মূল্যর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করায় বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে গিয়ে ইজারাদার ও তার লোকজন জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করার পরও পণ্য বিক্রির সময় বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে তালিকা প্রকাশ না করাই নির্ধারিত রেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইজারাদারের লোকজনের হাতে বিভিন্ন লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারি অনুমোদিত টোল চার্ট (ছবিতে প্রদর্শিত) অনুযায়ী খাট প্রতি ৩০ টাকা, আলনা বা চেয়ার প্রতি ৫ টাকা এবং সোফা সেট প্রতি ৩০ টাকা টোল নির্ধারিত।
কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি, এই তালিকার তোয়াক্কা না করে ক্ষেত্রবিশেষে ৫ থেকে ২০ গুণ বেশি খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
এই জুলুমের প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তারা ইজারাদারের লোকজনের অসদাচরণ এবং বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইজারাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য প্রদান করেননি।
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ‘ব্যবসায়ীদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি টোল চার্টের বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গৌরব ও ঐতিহ্যের ৬৬ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংবাদকর্মী সংগঠন পাবনা প্রেস ক্লাব। এই দীর্ঘ পথচলার স্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণকে উদযাপন করতে আগামী ১ মে থেকে ৩ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।
পাবনা প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় কেক কাটা ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হবে। প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই উদ্বোধনী পর্বে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুধীজনরা উপস্থিত থাকবেন।
আয়োজনকে ঘিরে সাজানো হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ২ মে শনিবার সকাল ১০টায় পাবনা প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে বের করা হবে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রীতি সম্মেলন। একই দিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সাদিয়া সুলতানা লিজা ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী মুহিন খানসহ বিশিষ্ট শিল্পীবৃন্দ। সমাপনী দিন ৩ মে রবিবার সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সদস্যদের পরিবারের মিলনমেলা, র্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার।
আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় আরও রয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান) মো. সায়েদ বিন আবদুল্লাহ, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম বিশু, জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ।
পাবনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, ১৯৬১ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা এই ক্লাবটি আজ জেলার সাংবাদিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে এই আনন্দ উৎসবে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি ও মুন্সিবাজার এলাকায় অসমে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এতে করে নির্ঘুম রাত ও আতঙ্কে পদ্মা পাড়ের মানুষের দিন কাটছে। অসময়ে নদী ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।
স্থানীয়রা বলেন, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলা হলেও ততক্ষণে নদীগর্ভে হারিয়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি। এভাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকা মানচিত্র থেকেই মুছে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখনই নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে আমরা যারা এখানে বসবাস করি আমাদেরও চলে যেতে হবে যেভাবে অসময়ে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এদিকে বহু আলোচিত দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীতীর রক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও প্রায় সাত বছরেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে দেবগ্রাম ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের ভাঙন সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সাম্প্রতিক ভাঙনে প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ঘর, কবরস্থান, বাজার, ঈদগাহসহ কয়েকশ বসত বাড়ি ঘর। এ সময় ভাঙন দেখতে নদীর তীরে ভিড় করছেন স্থানীয়রা, তবে তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার ছাপ দেখা গেছে। তাদের একটাই দাবি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পদ্মার ভাঙন রোধ করে বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুলহাস সরদার ও কুদ্দুস সরদার জানান, আমার বাপের ১শত বিঘা জমি ছিলো। যা ছিলো নদীতে বিলীন হতে হতে এখন মাত্র আমাদের ছয় ভাইয়ের ছয় বিঘা আবাদি জমি আছে। এই এক বিঘা জমি দিয়েই সংসার চলে। ছেলে ও মেয়ে কে ভরণ পোষণ করি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খবির সরদার, লোকমান সরদার জানান , গত কয়েকদিনে নদী ভাঙ্গনে কাউয়াল জানি ও মুন্সিবাজার এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ ফুট এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় তিন কাঠা ধানের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলি জমিও হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় নদীগর্ভে চলে যাবে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, “অসময়ের এই ভাঙনে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি আরো বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে কাজ করা হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ক্যাম্পাস জুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ছবিকে ‘বন্ধুদের সঙ্গে অভিনয়’ বলে দাবি করেন সেই নেতা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩৬ দিনে খু'নি হাসিনা ভারতে পালিয়েছিল, ৩৬ ঘন্টাও লাগবেনা লন্ডনে পালাতে” ক্যাপশনে মুবাশ্বির আমিনের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উক্ত ভিডিয়োর কমেন্টে ওই ছবি শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ। এতে ইবির বৈবিছাআ'র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের মুখে একটি মাদক সেবনের দ্রব্য, হাতে লাইটার ও কাগজ দেখা যায়।
ছবির ক্যাপশনে হাফিজ লেখেন,‘খাওয়া শেষে বেচে থাকিস, বহুত হিসাব দেওয়া লাগবে। তুই আর তোর বাপের পালানোর সুযোগ নাই এইটুকু মাথায় ঢুকায়ে রাখ, কত হুমকি দেওয়া লোক তুই বুঝতে পারবিনি’
এনিয়ে ইবি থানায় জিডি করেছেন ওই ছাত্র নেতা। জিডির সূত্রে, বিবাদীগণ অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল ২৬ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার শাহ আজিজুর রহমান হলে অবস্থানকালে লক্ষ করি যে ১নং বিবাদী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি Md Mehedi Hasan Hafiz, যাহার লিংক-https://www.facebook.com/mdmehedihasan.hafiz/about থেকে আমার নামে বিভিন্ন ধরনের কুটুক্তিমূলক কথাবার্তা সহ প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি যে, ৩নং বিবাদী শাহিন আলম তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি, Shahin Alam, যাহার লিংক-https://www.facebook.com/shahun.alam-375745/about থেকে আমার নানা রকম অপ্রচার সহ হুমকী প্রদান করে পোস্ট করেছে। ২নং বিবাদী সাব্বির খান তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি Md Sabbir Khan, যাহার লিংক- https://www.facebook.com/Khansabbiro1/about থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে কমেন্ট করেছে। বর্তমানে আমি বিবাদীদের ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুবাশ্বির আমিন বলেন, “২০২৩ সালের শেষের দিকে সেকেন্ড ইয়ারে পড়াকালীন শহীদ জিয়া হলে একটি অভিনয়ের দৃশ্য থেকে তোলা ছবিকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এটি কোনো মাদকসংক্রান্ত বিষয় নয় বরং র্যাগিং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে করা একটি অভিনয় ছিল। অতীতে এ ছবি দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দিব। থানায় একটা জিডি করেছি। বাকিটা তারা দেখবেন।”
জিডি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, “ওই শিক্ষার্থী জিডি করে গেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্মকতার অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে দেখব। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
কিশোরগঞ্জে দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বসতঘরে ঢুকে এক রঙমিস্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ভাতিজার বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত নিহতের নিজ বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম মিয়া (৪০) কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রঙমিস্ত্রী ছিলেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিংকন হোসাইন (৩৫) একই এলাকার সুলতানের ছেলে এবং নিহতের সম্পর্কে ভাতিজা। ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার সামনে একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শামীম ও লিংকনের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার সকালে শামীম ওই দোকানের ভাড়াটিয়া মো. রাকিব চৌধুরীর কাছে মালিকানা দাবি করে ভাড়া চান। পরে ভাড়াটিয়া বিষয়টি লিংকনকে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি নিয়ে শামীমের ঘরে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা শামীমকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নারায়নগঞ্জে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। একই দিন দুপুরের দিকে ৩০০ ফিটের জলসিঁড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-কলেজছাত্র রিফাত হাসান (১৯) ও সাব্বির আহমেদ (১৮)।
নিহত রিফাত হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শেকেরকান্দী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে এবং সাব্বির আহমেদ একই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। তারা স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কের জলসিঁড়ি চত্বরে ঢাকাগামী বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো ল ৬৮-৩৭৩৬) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর ঢাকাগামী প্রাইভেটকারকে (ঢাকা মেট্রো গ ১৬-০৬৩৬) পেছন থেকে ধাক্কা দিলে দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু রিফাত হাসান ও সাব্বির আহমেদ ছিটকে সড়কের উপর পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সর্বশেষ সন্ধ্যার দিকে রিফাত হাসান এবং রাত সোয়া ৭টার দিকে সাব্বির আহমেদ মারা যায়। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কাঞ্চন হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, এদিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের শৈবাল মৎস্য প্রকল্পে বিদ্যুতের খুটি থেকে তার ছিড়ে পড়ে শর্ট সার্কিটে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকার মাছ মরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জানা যায়, উপজেলার রায়পুরে অবস্থিত শৈবাল মৎস্য প্রকল্প। এই প্রকল্পের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইনের একটি খুটি থেকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার ছিড়ে পানিতে পড়ে। এতে ২০-২৫ মন মাছ মরে যায়। মার্চ মাসের ১৯ তারিখে একই ঘটনায় প্রায় ২০০ মন মাছ মরে যায়। সবশেষ সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে তার ছিড়ে পড়লে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০মন মাছ মারা যায়। এসকল মাছের বাজার মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও প্রজেক্টের বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা গেছে। পঁচা মাছে দুগন্ধ ছড়িয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রজেক্টের বিভিন্নস্থানে রুই, কারফু, কাতল, গ্লাসকাপ, মৃগেল, সিলভার ও বিগেট প্রজাতির মাছ মরে ভেসে আছে। কিছু মাছ মরে পঁচে গেছে। কিছু আবার অর্ধমৃত অবস্থায় পরে আছে। আশেপাশে মরা মাছে দুগন্ধ ছড়াচ্ছে। আর তার উপর দিয়ে চলেগেছে বিদ্যুতের লাইন। রয়েছে পুরাতন খুটি।
শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের ম্যানেজার মহিউদ্দীন আলম বলেন, গভীররাতে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়লে পুরো প্রজেক্টের মাছ লাফালাফি শুরু করে। পরে বিদ্যু অফিসকে জানালে লাইন অফ করে। এই ১৫-২০ মিনিট সময়ের মধ্যেই অনেক মাছ মরে গেছে। প্রজেক্টের চারিপাশে মাছ মরে ভেসে উঠছে ।
শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, এই নিয়ে তিনবার বিদ্যুতের খুটি থেকে তার ছিড়ে আমার মাছের প্রজেক্টের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাছ মরে গেছে। বিদ্যুৎ অফিসকে জানালে তার লাগিয়ে যায়। কিন্তু ২৫/৩০ বছরের পুরাতন তার ও জরাজীর্ণ খুটিগুলো পরিবর্তন করা হয়না। যার কারনে বার বার তার ছিড়ে পড়ে আর প্রজেক্টের মাছ মরে যায়। আমার এত বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। আমার এই ক্ষতি পূরণ এখন কে দিবে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর ডিজিএম মো. জিহাদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে লোক পাঠিয়েছি। এবং মেরামত করি। পুরাতন খুটি স্থানে নতুন খুটি বসানোর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, প্রজেক্টের উপর দিয়ে যাওয়া খুটির উপরে চিল, ঈগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি মাছ শিকার করার জন্য বসে। তখন দুটি তারের শর্ট সার্কিট ঘটে এবং একটি তার নিচে পড়ে যায়। তখনই মাছ মরে যায়। আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের টেকনিকেল টিম ঘটনাস্থলে আছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মেহেরপুরের গাংনীতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে৷ ভাঙচুর করা হয়েছে সখের ব্যাবহৃত মোটরসাইকেল ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে৷
জানা গেছে, গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত ফজলু শাহ-র ছেলে জীবনের কাছে টাকা পায় ওই গ্রামের রবি৷
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে রবি তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে জীবনের সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়৷
এসময় জীবন ও শীলন দুই ভাই রবির উপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে৷ এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রবির পক্ষের লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়ে জীবনের মোটরসাইকেল ও ঘরের আসবাব পত্র ভাঙচুর করে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে পুলিশ৷
এতে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে৷ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়৷
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে৷ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মারামারির ঘটনায় আলোচিত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে দুর্গাপুরে উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিদর্শন শেষে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় মোহা. আছাদুজ্জামান বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাকে সামায়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার, কলেজ শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে পড়ে। সেটি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।