মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রশিক্ষণার্থী কাগজে আছে, বাস্তবে নেই

রাজাপুর মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্র। ছবি : দৈনিক বাংলা
হাসনাইন তালুকদার, ঝালকাঠি
প্রকাশিত
হাসনাইন তালুকদার, ঝালকাঠি
প্রকাশিত : ৫ নভেম্বর, ২০২২ ০৯:৫৯
  • রাজাপুর মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্র

তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প-৪ এর আওতায় ঝালকাঠির রাজাপুরে জাতীয় মহিলা সংস্থার প্রশিক্ষণকেন্দ্রে চলছে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ। ভর্তি-নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি ব্যাচে পৃথক পাঁচটি ট্রেডে ৫০ জন করে মোট ২৫০ প্রশিক্ষণার্থী থাকার কথা এখানে। তাদের প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১২ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের এই টাকা লোপাটের জন্যই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভর্তি ফরম ও হাজিরা খাতায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২৫০ জনের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণার্থীদের ২৫০ জনের তালিকা পূরণের প্রমাণ মিলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক প্রশিক্ষণার্থী দৈনিক বাংলার কাছে এমন তথ্যের সত্যতাও স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে নামে-বেনামে প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার সরকারি বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।

নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের আওতায় বর্তমান ব্যাচে চার মাস মেয়াদি বিউটিফিকেশন কোর্স, কেটারিং কোর্স, ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোর্স ও ফ্যাশন ডিজাইনার কোর্স ট্রেডে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সও রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের যাবতীয় কাগজ ও হাজিরা খাতায় প্রতিটি ট্রেডেই ৫০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ভুয়া নামগুলোর মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা যাবে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তার পেটে। ওই টাকার একটি অংশ সেখানকার ছয়জন প্রশিক্ষক ও নৈশপ্রহরীও পাবেন। এই কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীদের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে না দিয়ে নগদ দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মহিলা সংস্থা ঝালকাঠির জেলা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন হাওলাদার।

গত ২৮ অক্টোবর বেলা ১১টায় রাজাপুর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চারটি ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা চলছিল। এই কেন্দ্রে ছয়জন প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ওই সময় মাত্র দুইজন প্রশিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এমনকি সেখানকার দায়িত্বরত প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার নিজেও অনুপস্থিত ছিলেন। আর ভেতরে তিনটি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন মাত্র ৪৬ জন নারী।

প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কেন উপস্থিত নেই- তা জানতে চাইলে সেখানে থাকা বিউটিফিকেশন ট্রেডের প্রশিক্ষক শাহানারা খাতুন বলেন, ‘ম্যাডাম ছুটিতে আছেন।’ তাৎক্ষণিক খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দুই-তিন দিনে তার কোনো ছুটি মঞ্জুর করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খোঁজখবর করতে করতেই সেখানে উপস্থিত হন প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামিরা আক্তার। পাঁচটি ট্রেডের জায়গায় চারটি ট্রেডে পরীক্ষা এবং সেই চারটি ট্রেডে ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতির কথা থাকলেও পরীক্ষায় কেন ৪৬ জন উপস্থিত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই মাস ক্লাস চালানোর পর কেন্দ্রের নির্দেশে ৪০ দিন মেয়াদি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ই-কমার্স কোর্সটি বন্ধ আছে। তাই ভর্তি ও হাজিরা খাতায় তাদের ৫০ জনের নাম থাকলেও তারা উপস্থিত নেই। বাকি চারটি ট্রেডে ৫০ জন করে ২০০ জন ভর্তি থাকলেও কেন্দ্রের নির্দেশে বিকেলের ক্লাসও বন্ধ রয়েছে। সে কারণে বর্তমানে সকালে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ক্লাস চলমান রয়েছে। সেই ১০০ জন নারীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে আজ পরীক্ষা দিতে আসতে পারেননি অনেকে।’

এদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাজিরা খাতার কিছু অংশ সংগ্রহ করেছে দৈনিক বাংলা। তাতে দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতির ঘরে বল পেন দিয়ে সই করানো হয় এবং অনুপস্থিতের ঘরে কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হয়। কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের অনুপস্থিতির দিনগুলোতে ১৫০ টাকা করে কেটে রাখা হবে। অভিযোগ রয়েছে, কাঠ পেনসিলের ক্রস চিহ্ন রাবার দিয়ে মুছে সই বসিয়ে সে টাকাও তুলে নেয়া হবে। হাজিরা খাতায় কেন কাঠ পেনসিল দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়া হলো- সামিরা আক্তার এ প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন।

রাজাপুরের কেন্দ্রে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও পরীক্ষা দিচ্ছেন বিউটিফিকেশন ট্রেডে। তবে তাদের কাউকেই কিছু লিখতে দেখা যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী জানেন না তারা কী পরীক্ষা দিতে এসেছেন। তাদের যা লিখতে বলা হয়, তারা কেবল সেটিই লিখে থাকেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই বা তিন হাজার টাকার বিনিময়ে গ্রামের অনেক গৃহিণীকে এনে পরীক্ষা দেয়ানো হয়। অথচ তাদের নামেও বরাদ্দ হবে ১২ হাজার টাকা।

পরীক্ষা কেন্দ্রের একটি কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব নারীরাও ফ্যাশন ডিজাইনার ট্রেডে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। এক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কোন ট্রেডে পরীক্ষা দিয়েছেন? তিনি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে কোনো উত্তর না দিতে পেরে কেন্দ্র থেকে চলে যান।

ষাটোর্ধ্ব নারীদের পরীক্ষায় উপস্থিত দেখা গেলেও প্রকল্পের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সহকারী প্রোগ্রামার মো. সাদাত হোসেন জানান, সব ট্রেডে ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস থাকতে হবে। তাদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন) কাইয়ুম মিয়া মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমাদের প্রকল্পের বাজেট মন্ত্রণালয় থেকে অর্ধেক করে দিয়েছে। তাই প্রকল্পে ব্যয় সংকোচন করতে সব প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিকেলের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। শুধু সকালের ক্লাসে ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। তবে রাজাপুর কেন্দ্রে সকালেও ১০০ জন কেন নেই, সে বিষয়ে সেখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।


নির্বাচিত

পাওয়ার কারে ত্রুটির কারণে দেরিতে ছাড়ল এগারসিন্ধুর গোধূলি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এগারসিন্ধুর গোধূলি ট্রেনের পাওয়ার কারে ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ট্রেনটি ছেড়েছে। এতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ট্রেনটির কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। তবে পাওয়ার কারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি ছাড়তে পারেনি। পরে ত্রুটি মেরামত শেষে রাত সোয়া ৮টার দিকে ট্রেনটি কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

যাত্রীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেনের বগিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় অনেকটা সময় অন্ধকার ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিক্ষক মুক্তার উদ্দিন ছেলেকে নিয়ে কিশোরগঞ্জে যাওয়ার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কমলাপুর স্টেশনে আসেন। তার ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল ৬টা ৪৫ মিনিটে। তিনি বলেন, ‘১৫ মিনিট আগেই স্টেশনে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি ট্রেনের কোনো বগিতে বিদ্যুৎ নেই। পুরো ট্রেন অন্ধকার। প্রচণ্ড গরমে স্টেশনেই এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

নরসিংদী সদরের হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন ছাড়ার সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেন ছাড়ছিল না। পরে এগিয়ে গিয়ে দেখি কয়েকজন লোক পাওয়ার কারে কাজ করছেন। জানতে চাইলে তারা পাওয়ার কারে সমস্যা হয়েছে বলে জানান। সমস্যা সমাধানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এই সময়টা কতটা বিরক্তিতে কেটেছে, তা যারা এখানে ছিলেন তারাই বুঝতে পারবেন।’

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের এলাকার শ্যামলী নাহার স্বর্ণা দুই সন্তানকে নিয়ে ট্রেনটিতে ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘দুইটা ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে ট্রেনে উঠেছি। সঙ্গে একাধিক ব্যাগও আছে। ট্রেনের ভেতরেও অন্ধকার ছিল। আবার ব্যাগ রেখে নিচেও যেতে পারছিলাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেন ছাড়ার সময় এসে পাওয়ার কার ঠিক করার কথা মনে পড়েছে। অথচ এসব বিষয় নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষা করে নেওয়া যেত। এই ট্রেনে বরাবরই সমস্যা লেগে থাকে।’

নরসিংদীর শিবপুর এলাকার যাত্রী আলমাছ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘ট্রেনে কী সমস্যা হয়েছে, দায়িত্বে থাকা কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারছিলেন না।

সমাধানে কতক্ষণ সময় লাগবে, সেটা জানার জন্য স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেনের কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এর আগেও একদিন একটি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তাকে স্টেশনে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করলেও অপরিচিত নম্বর থেকে কল রিসিভ করেন না।’

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকে বলেন, ‘ট্রেনের পাওয়ার কারে সমস্যা থাকায় নির্ধারিত সময়ে ছাড়া সম্ভব হয়নি। পরে সেটি মেরামত করে গন্তব্যের উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে গেছে।’


নির্বাচিত

বরিশাল আদালত ভবন থেকে পড়ে কলেজ ক্যাশিয়ারের মৃত্যু

নিহত মো. নাজমুল হক (৩৫) । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে মো. নাজমুল হক (৩৫) নামে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের এক ক্যাশিয়ারের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নাজমুল হক নগরীর কাশিপুর এলাকার এনামুল হকের ছেলে। পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পুলিশ তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে তিনি ভবন থেকে পড়ে গেলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

টিউমার সন্দেহে পরীক্ষা, জানা গেল ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিশু; পলাতক নানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হত্যার হুমকি দিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে প্রায় এক বছর ধরে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ নানার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি পেটে ব্যথা হলে স্বজনরা শিশুটিকে স্থানীয় এক গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

অভিযুক্ত রইচ উদ্দিন (৫৫) উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা গ্রামের মৃত নাদের উদ্দিনের ছেলে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।

পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় এক যুগ আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মা মারা যান। পরে তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর শিশুটির সৎ মা তাকে সৎ নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে একা পেয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে রইচ উদ্দিন শিশুটিকে প্রায় এক বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি পেটে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনরা শিশুটিকে স্থানীয় এক গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত রইচ উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে যান।

ঘটনার পর শিশুটি ও তার নানী কুমারখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। শিশুটিকে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিশুটির নানীর অভিযোগ, হত্যার হুমকি দিয়ে তার নাতনিকে প্রায় এক বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন রইচ উদ্দিন। পেটে ব্যথার কথা জানালে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

শিশুটির মামা বলেন, একাধিকবার ধর্ষণের পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এ ঘটনায় সঠিক বিচার ও অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন তিনি।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও শিশুটিকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।


নির্বাচিত

সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যতের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শুধু অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা নয়, এটি মানুষের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা।

তিনি জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একজন নাগরিক কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় নিয়মিত অবদান রাখবেন এবং জীবনের পরবর্তী সময়ে সেই সঞ্চয়ের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এটি একটি সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত সামাজিক বিনিয়োগ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সর্বজনীন পেনশন মেলা-২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় চারটি স্কিম হলো-প্রবাস স্কিম, প্রগতি স্কিম, সুরক্ষা স্কিম ও সমতা স্কিম। যে যেটার জন্য প্রযোজ্য, সে অনুযায়ী স্কিম বাছাই করা সম্ভব। এসব স্কিমের মাধ্যমে শুধু নিজেদের নয়, সন্তানের ভবিষ্যৎও নিরাপদ করার সুযোগ রয়েছে।

এ সময় প্রধান অতিথি সকলের উদ্দেশে তাদের পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদেরও সরকারের পেনশন স্কিমে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পরিবারের নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।’

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে অধিকাংশ চাকরিজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মজীবন শেষে পেনশনসহ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু ক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে অংশগ্রহণ করলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজাদ জাহান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামান।


নির্বাচিত

এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করলেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না, নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুল মোড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।

প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাসের কর্মসূচি আমাদের সফল করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশের যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এডিস মশার আচরণ সম্পর্কে সচেতন করে মেয়র বলেন, এ মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘরের বিভিন্ন অন্ধকার ও আড়ালযুক্ত স্থান এবং আশপাশের জমে থাকা পানি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গু নিয়ে সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলার আগে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান জানতে হবে। ঢালাওভাবে তথ্য প্রচার করলে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। আমাদের প্রয়োজন সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের হাসপাতালে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব ডেঙ্গু রোগীকে সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কোন এলাকায় কতজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, সে তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। কোথাও পানি জমতে দেবেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

কাপ্তাইয়ে প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে মো. মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহ নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে মো. মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহ নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার, আদালত সূত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণে জানা যায়, কাপ্তাই নতুন বাজারে কাজের সুবাদে স্থানীয় হাসিনা বেগম সুমির (২৮) সঙ্গে মাহিবুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুমির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। একপর্যায়ে মাহিবুরের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে সুমি তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এ নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ১১ মার্চ রাতে সুমিকে কাপ্তাই বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যান মাহিবুর। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ইট দিয়ে সুমির মাথায় আঘাত করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হত্যার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে মাহিবুর সিগারেটের আগুন দিয়ে সুমির মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেন এবং সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরদিন ১২ মার্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে সুমির পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।


নির্বাচিত

মৎস্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় বন্ধ করতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের অপচয় বন্ধে যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মৎস্য খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় এ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের অপচয় বন্ধে যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত ‘মৎস্যখাতে বাজেট ও সরকারের উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৎস্য ভবনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন বলেন, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’-এই পরিচয়ের সাথে মৎস্যখাত গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু প্রাকৃতিক জলাশয় সংকুচিত হওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তনসহ নানা কারণে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা কমেছে। তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভয়াশ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থ ব্যয় করলেই হবে না, অভয়াশ্রম বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা মাঠপর্যায়ে যাচাই করতে হবে। তিনি বলেন, মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করাই অভয়াশ্রমের মূল উদ্দেশ্য। কোথায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থে প্রকৃতপক্ষে কী কাজ হয়েছে এবং মাছের উৎপাদনে তার প্রভাব কতটা-এসব বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

মৎস্যজীবীদের তালিকা নিয়েও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভুয়া বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিভিন্ন দেশ বাণিজ্যিকভাবে টুনা আহরণ করছে। বাংলাদেশও এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে। তবে শুধু জরিপ পরিচালনা ও অর্থ ব্যয় না করে জরিপের ফলাফল কীভাবে বাস্তব মৎস্য আহরণে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। গভীর সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে দক্ষ জনবল, উপযুক্ত জাহাজ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মৎস্য খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও কার্যক্রম তদারক করতে হবে। এতে দেশের মৎস্য খাত আরও এগিয়ে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং খাল-বিল, নদী-নালা ও অন্যান্য জলাশয়কে মৎস্য উৎপাদনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দূষণমুক্ত জলাশয় ও নদ-নদী এবং নদীর নাব্যতা রক্ষা জরুরি। পাশাপাশি উৎপাদনের সঙ্গে মৎস্যপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মিঠামইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই দেড় কোটি টাকার মালামাল

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম -মিঠামইন) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

​মঙ্গলবার (৬ই অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মিঠামইন সদর ইউনিয়নের গিরিশপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গিরিশপুর গ্রামের নূর হোসেনের রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নূর হোসেনের প্রায় ১৫টি ঘর ও একটি সারের গুদাম এবং দিলীপ চৌধুরীর টিনশেড দোতলা ঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

​খবর পেয়ে মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩৭ মিনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নির্বাপিত হয়।

​এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রুস্তম আলী জুয়েল ও মিঠামইনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাযহারুল ইসলাম।

​এ বিষয়ে মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রুস্তম আলী জুয়েল বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩৭ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে তা পুরোপুরি নির্বাপন করা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই আগুনে নূর হোসেনের প্রায় ১ কোটি টাকা এবং দিলীপ চৌধুরীর প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ মোট দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।"

​অন্যদিকে, মিঠামইনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, "দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খোঁজখবর নিয়েছি। আগুনে বেশ কিছু বসতঘর ও সারের গুদাম পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি।"


নির্বাচিত

বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খান বশির, বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সড়কের কয়েকটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালের রুপাতলী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক হয়ে দপদপিয়া সেতু এবং বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাঝে মধ্যে সংস্কারকাজ করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ভোগান্তি কমছে না। প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করায় দুর্ভোগ আরও প্রকট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করে টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারকাজ চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল

* অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের কালকিনিতে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল বের করে। পরে খবর পেয়ে কালকিনি থানা-পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম জানান, সোমবার সন্ধ্যার পরে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং পরে কালকিনি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পুলিশের সাথে যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকার মধ্যেরচর গ্রামের ৫ বছরের এক শিশুকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ চেষ্টা চালায় একই গ্রামের হাবুল শিকদার (৫৭)। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে হাবুল শিকদার গা ঢাকা দেয়। পরে হাবুল শিকদার ওই বিষয়টি নিয়ে আপস-মিমাংসা করা এবং থানায় মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে চাপ দেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে ওই গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে সাথে নিয়ে অভিযুক্ত হাবুলের বিচারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল বের করেন এবং সন্ধ্যার পরে একপর্যায়ে এই মিছিল শেষে বিক্ষুদ্ধ জনতা অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মহাসড়কে খোলা ট্রাকে বালু, গোয়ালন্দে ৬ ড্রাম ট্রাক জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মহাসড়কে খোলা ট্রাকে বালু ও ভেজা বালু পরিবহনের দায়ে ৬টি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড মহাসড়ক থেকে ট্রাকগুলো জব্দ করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে বিভিন্ন বালুর চাতাল থেকে ত্রিপল ছাড়া ও ভেজা বালু ড্রাম ট্রাকে বালু লোড করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে পরিবহনের ফলে রাস্তায় বালু পড়ে ধুলাবালির সৃষ্টি হয়। এতে একদিকে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, অন্যদিকে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকেও অনেকে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অপরদিকে বিভিন্ন সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রিনিক মিডিয়া এ সংক্রান্ত নিউজ প্রকাশ করা হয়।

অভিযানকালে মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, “খোলা অবস্থায় মহাসড়কে ভেজা ও ত্রিপল ছাড়া বালু পরিবহন করার ফলে রাস্তায় পড়ে ধুলাবালির সৃষ্টি হয়। এতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে খোলা ট্রাকে বালু-মাটি পরিবহন কোনোভাবেই করা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সড়কে বালু-মাটি পড়ে যাতে পরিবেশ ও জননিরাপত্তার সমস্যা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। খোলা ট্রাকে বালু পরিবহনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিয়ম অমান্য করে কেউ বালু বা মাটি পরিবহন করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আরও বলেন, জব্দকৃত ট্রাকগুলোকে উপজেলা কোর্ট চত্বরে রাখা হয়েছে। মালিকপক্ষ আসলে মোটা অংকের জরিমানা করা হবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়কে বালু-মাটি পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অপরদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে যারা চাতালে বালুর ব্যবসা করেন তাদেরকে বার বার সতর্ক করার পরও তারা কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেনা। এ বিষয়ে সাধারণ জনগণ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


নির্বাচিত

নীলফামারীর নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে নবাগত জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, জনদুর্ভোগ ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জনস্বার্থে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বিভিন্ন বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

সভায় নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম,সহ সভাপতি হেকিম মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ,শীশ রহমান। ,আনোয়ারুল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাহ মিলন,অর্থ সম্পাদক আবুল হোসেন শাহ,রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিনসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজিব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে গণস্বাক্ষর

ছবি: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় একদল যুবকের কাফনের কাপড় পরে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় কাফনের কাপড় পরে সড়কে নেমে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন একদল যুবক। বেপরোয়া গতির অভিযোগে রাজিব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল এবং সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে মুক্তাগাছা পৌরসভা সিএনজি স্টেশন এলাকায় এ কর্মসূচি দেখা যায়। এ সময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যুবকদের হাতে খাতা-কলম নিয়ে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গিয়ে তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

কর্মসূচির আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি চলবে। পরে সংগৃহীত গণস্বাক্ষরসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

মুক্তাগাছা উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব শেখ তুহিন বলেন, ‘বেপরোয়া গতির রাজিব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল এবং সড়কে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবিতে আমাদের এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই কাফনের কাপড় পরে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একদিনেই প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে।’ তার দাবি, রাজিব বাসের বেপরোয়া গতি ও দুর্ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেটিই প্রকাশ পেয়েছে।

শেখ তুহিনের দাবি, রাজিব পরিবহনের রুট পারমিট জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকা মহাসড়কের জন্য থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি জামালপুর-মুক্তাগাছা-ঢাকা রুটে চলাচল করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তাগাছার সড়কে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ ও থানা পুলিশ কাজ করছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির বিষয়টি তিনি দেখেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘নাগরিকরা তাদের দাবি জানাতে পারেন। তবে দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।’

মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, ‘লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস পূর্ব গন্ড্রপা এলাকায় রাজিব পরিবহনের একটি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর রাজিব পরিবহনের চলাচল, বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close