বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

পেট্রাপোলে সন্ধ্যার পর বাণিজ্য বন্ধ করল ভারত, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৫ জুলাই, ২০২৪ ০০:০৪
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৪ ০০:০৪

বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে দুই দেশের সিদ্ধান্ত ছাড়াই সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টার বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ করল ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র ১০ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। এতে পেট্রাপোল বন্দরে পণ্যজটের কবলে পড়তে যাচ্ছেন আমদানিকারকরা।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে এই নিয়ম শুরু করেছে ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। অথচ এর আগের দিন ও রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলেছে দুই দেশের বন্দরের মধ্যে।

এ সিদ্ধান্তের কারণ পেট্রাপোল পোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার পর্যন্ত পর্যন্ত কোনো খবর জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্র জানায়, বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১ আগস্ট দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বেনাপোল ও পেট্রাপোলের মধ্যে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার বাণিজ্য পরিষেবা। এর আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ২৪ ঘণ্টা পণ্য পরিবহনের সুযোগে রাত-দিন, এমনকি জরুরি মুহূর্তে শুক্রবারও আমদানি- রপ্তানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম চলত। এতে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ৩০০ ট্রাক থেকে বেড়ে ৫০০ ট্রাক পর্যন্ত হয়। বছরে রাজস্ব আয় ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ এমন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পণ্য, শিল্পকলকারখানার কাঁচামালসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ছে দুই পারের বন্দরে।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক মিঠু জানান, তিনি রপ্তানি পণ্য নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বেনাপোল বন্দরে আসেন। সন্ধ্যার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পণ্যবাহী ট্রাকের গেটপাস না দেওয়ায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ঢুকতে পারেননি।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, এ নিয়ম চলতে থাকলে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য নিয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। হয়তো এ জাতীয় পণ্য আমদানি অনেকাংশে কমে যাবে। সরকার হারাবে রাজস্ব। বাড়বে বাণিজ্য ঘাটতি।

বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারক ইদ্রিস আলী বলেন, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্য থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুবিধা উঠে গেলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তারা স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেননি। বর্তমানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। আমরা পুনরায় ২৪ ঘণ্টার বাণিজ্য সেবা বন্ধের কারণ জানতে চেয়ে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসার চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত জানানো হবে।’


নির্বাচিত

নিজের টাকায় তিন লাখ গাছ রোপন নীরব সবুজযোদ্ধা সত্যজিৎ রায়

বজ্রনিরোধক তালগাছ থেকে সবুজ বাংলাদেশ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

কিছু মানুষ আছেন, যাদের জীবন যেন প্রদীপের শিখার মতো—নিজে জ্বলে অন্যকে আলো দেন। নিজেদের প্রচারের আলোক মালায় সাজান না। বরং নিভৃতচারী থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাদের যেন অর্জন বা প্রাপ্তি কোনো লক্ষ্য নয় । লক্ষ্য কেবল মানুষের কল্যাণ। এমন এক মানুষ হলেন প্রকৌশলী সত্যজিৎ রায়।

নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা এলাকার রামনগরচর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মানুষটির শ্লোগান হলো ”কথা না লাগিয়ে,গাছ লাগাও”।

এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তিনি বগুড়াসহ খুলনা বিভাগের ৩টি জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের দুইপাশে ও বাড়ীর আঙ্গিনায় লাগিয়েছেন ৩ লাখ গাছ। এখনও লাগিয়ে চলেছেন।

বয়স এখন ৭৫ বছর। শরীর আগের মতো বলিষ্ঠ নেই। তবুও চোখেমুখে এখনো সেই দীপ্তি। এই বয়সে সত্যজিৎ রায় আজও প্রমাণ করে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন,দেশ গড়ে ওঠে শুধু বক্তৃতায় নয়। গড়ে ওঠে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, নিষ্ঠা আর কর্মের সেতু বন্ধনে। এই মানুষটি নিঃশব্দে যে আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে চলেছেন, তা একদিন আরও দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।

জীর্ণ ঘর থেকে এই ইঞ্জিনিয়ার – মায়ের আর্শীবাদ,এ যেন এক অলৌকিক জয়। টিনের ঘর, ভাঙা দরজা, উঠানে ছাগল-মুরগির খেলা—এই ছিল তার শৈশবের রাজ্য। বাবা শরৎ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর মা ললিতা রায় একাই লড়ে গেছেন জীবনের সাথে। কখনও কষ্ট লুকিয়ে, কখনো ক্ষুধা সহ্য করে। শুধু একটাই স্বপ্ন বুকে বেঁধে রেখেছিলেন ছেলেকে বড় মানুষ বানাবেন। কিন্তু মাও আর বেচে নেই। আজ মা-বাবা হারা সেই ছেলে সত্যজিৎ রায় একজন ইঞ্জিনিয়ার।

৪০ বছর বয়সে হারিয়েছেন বাবাকে, আর ৫৫ বছর বয়সে মারা গেছেন মা। অভাবী কৃষক পরিবারের ছেলে সত্যজিৎ রায়। মায়ের প্রচেষ্ঠা,পরের কৃষি জমিতে কামলা দিয়ে আর স্কুল শিক্ষকদের সহযোগিতায় এস,এস,সি পর্যন্ত নিজের লেখাপড়া চালিয়েছেন । কলেজ জীবনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন মা-বাবার পাশাপাশি বড় ভাই নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রয়াত অধ্যাপক রনজিৎ রায় ।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতায় এস.এস.সিতে ঈর্শ্বণীয় রেজাল্ট করে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। কলেজ জীবনেও তাই। মেধাবী সেই মানুষটি এখন অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বিভাগে(বিএডিসি)চাকরি করেন। ২০০৮ সালে চাকরি থেকে অবসরে যান।

বাবার শেখানো ও বিদেশী এক পরিবেশবিদের বক্তব্য শুনে প্রথমে তালবীজ রোপন শুরু করেন তিনি। বাবা মারা যাবার আগে তাকে বলে ছিলেন, বজ্রনিরোধক তালবীজ রোপন করার পদ্ধতি। সেই শিক্ষা এখন নিজের জেলা নড়াইল থেকে শুরু করে বগুড়া, যশোর, বেনাপোল, খুলনা জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সত্যজিৎ রায় চাকুরি থেকে অবসর নেবার পর গত ১২ বছরে তালগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপন করেছেন ৩ লাখ গাছ। এর মধ্যে ৫০ হাজার তালগাছ ছায়া দিচ্ছে ওই অঞ্চলে। ওই সমস্ত এলাকার মানুষ তাকে চেনেন গাছ প্রেমিক সত্যজিৎ রায় হিসেবে। বর্তমানে পরিবারসহ থাকেন তিনি চট্রগ্রামের পাশলাইশ আবাসিক এলাকায়।

১৯৮৪ সালে নড়াইল সদর উপজেলার মুশুড়িয়া গ্রামের সীতানাথ মল্লিকের কন্যা দেশ বরেণ্য ডাঃ দেবালা মল্লিকের সঙ্গে শুভ পরিণয়ে আবদ্দ হন। দাম্পত্যজীবনে তাদের ঘরে অপারজিতা রায় নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছেন। তিনিও মায়ের মত দেশ বরেণ্য একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

গাছ রোপনের সময় সত্যজিৎ রায় কথনো ব্যাটারিচালিত ইজিভ্যানে চড়ে বন্তাভর্তি তালবীজ দা-শাবল, পানির বালতি ও বোতল, আবার কখনো স্বজনদের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ীর আঙ্গিণা, পুকুরপাড়সহ গ্রামীণ রাস্তার দুইপাশে বজ্রনিরোধক ও অন্যান্য গাছ লাগিয়েছেন। রোপনের পর নিজ হাতে করেন পরিচর্যা । আর পরিবার স্বজনদের কাছে যাবার সময় লাগানো গাছগুলো দেখভালের জন্য ওই সব এলাকায় নির্দ্দিষ্ট লোক নিয়োজিত রাখেন।এ সবই করেন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ।

তিনি বলেন প্রতি বছর ভাদ্র-আশ্বিন দুইমাসে গড়ে প্রায় ২০ হাজার তাল বীজ রোপন করেন। এ হিসেবে ২০০৮ সাল থেকে ১৭ বছরে দুই লাখ ৮০ হাজার তালবীজ ও ২০ হাজার ১৭৫টি অন্যান ফলজ,বনজ, অসুধি,সুগন্ধি ফুলের গাছ রোপন করেছেন। এছাড়া নদী,খাল পাড়ে,বিদ্যালয় আঙ্গিনায় রোপন করলেও তার হিসাব তিনি নিজে রাখতে পারেননি। কিছু গাছ মারা গেছে, সমাজের কিছু দুষ্টু চক্রের মানুষ তার রোপন করা গাছও নষ্ট করেছেন।

যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার বাকড়ী গ্রামের অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সত্যজিৎ রায় চট্রগ্রাম থেকে এই এলাকায় আসার পর নিজের রোপন করা গাছ পরিচর্যা করতে সাইকেল চালিয়ে ছুটে যান বিভিন্ন গ্রামে। কোথাও কোন সমস্যা হলে তা এলাকার মানুষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সমাধান করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের (ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের)অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান চিত্রশিল্পী অধ্যাপক বিমানেশ বিশ্বাস বলেন,সত্যজিৎ রায় নড়াইল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তালবীজসহ বিভিন্ন প্রকারের গাছ লাগিয়ে চলেছেন। ওইসব অঞ্চলে তার লাগানো প্রচুর গাছ মাথা উচু করে দাড়িয়ে সাক্ষী দিচ্ছে। তার এই উদ্যোগ সাড়া দেশে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার।


নির্বাচিত

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক

বিচার দাবিতে নওগাঁয় বিক্ষোভ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ জন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম আব্দুস সালাম। তিনি ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরী হয়েছে। ঘটনার জের ধরে বুধবার (২২ জুলাই) রাতে বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মারপিটের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার (২২ জুলাই) বিদ্যালয় চললেও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোন শিক্ষক ছিলেন না। এ সময় এক শিক্ষার্থী গান পরিবেশন করে। গানের শব্দ শুনতে পেয়ে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেই ক্ষুব্ধ হোন এবং বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বেধরক মারধর করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকা ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আহতদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয় শিক্ষার্থী ছিল।

ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে। এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করে।

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।

নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: ছানাউল হাবিব বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের কাছে লিখতভাবে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

ঝিনাইদহে নারীর প্রতি সহিংসতার ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদন প্রকাশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে নারীর প্রতি সহিংসতা, ˆবৈষম্য ও অধিকারবঞ্চনার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে পরিচালিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং (তথ্য-অনুসন্ধান) প্রতিবেদনের ফলাফল তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে|

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে শহরের ওয়েলফেয়ার এফোর্টস (উই)’র প্রশিক্ষণ কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়| মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন এর সহযোগীতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওয়েলফেয়ার এফোর্টস (উই)| এসময় উপস্থিত ছিলেন উই’র পরিচালক শরিফা খাতুন, উপজেলা জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি ফোরামের সভাপতি ময়না খাতুন, ডিএইচআরএমও কুতুব উদ্দিন, উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর ছাব্দার হোসেন, আলো ফেরদৌসীসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন|

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাঠপর্যায়ে পরিচালিত ১৯ টি নারী নির্যাতনের ঘটনার তথ্য-অনুসন্ধান করা হয়| এর মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা, সামাজিক ˆবষম্য, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা এবং নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে| ঘটনা গুলো স্থানীয়, সামাজিক ও পারিবাকির ভাবে সমাধান করা হয়েছে|
সংবাদ সম্মেরন থেকে বক্তারা বলেন, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, তার কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি|

একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক জবাবদিহিতা এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে|


নির্বাচিত

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক মারা গেছেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ভোর ৬ টা ২২ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মোহাম্মদ সাইফুল মালিকের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের ছেলে। ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া সাইফুল মালিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩৪তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

তিনি কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।


নির্বাচিত

নারীর মানসিক সুস্থতায় সচেতনতা বাড়াতে ফরিদপুরে কর্মশালা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সুস্থতা রক্ষায় সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক মানসিক সহায়তা সম্পর্কে ধারণা দিতে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Women's Mental Health: Awareness, Empathy and Practical Actions’ শীর্ষক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালা।

গত বুধবার (২২ জুলাই) শহরের বেলপিয়াতো চাইনিজ রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে ফাউন্ডেশন ফর উইমেন পসিবিলিটিজের সহযোগিতায় SPACE Project-এর আওতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে নন্দিতা সুরক্ষা।

কর্মশালায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী নারী, তরুণ-তরুণী, যুব অ্যাক্টিভিস্ট, স্বেচ্ছাসেবক, নারী অধিকারকর্মী, সামাজিক উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ব্লাস্টের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সুস্থতাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট মাহাপারা আলম । তিনি নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বর্তমান বাস্তবতা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বার্নআউট ও বিষণ্ণতার কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ এবং এসব পরিস্থিতিতে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ ও প্রাথমিক মানসিক সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

কর্মশালাটি অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এতে বিশেষজ্ঞের উপস্থাপনা, দলীয় আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং ব্যক্তিগত অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বাস্তবধর্মী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি তরুণ ও অ্যাক্টিভিস্টদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটিতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক বার্তা প্রচার এবং সহায়তামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত বলেন, ‘নারীর মানসিক স্বাস্থ্য একটি মৌলিক অধিকার। সুস্থ সমাজ গঠনে নারীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নন্দিতা সুরক্ষা ভবিষ্যতেও নারী ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’

কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেনিফিসিয়ারিজ ফ্রেন্ডশিপ ফোরাম বিএফএফের নির্বাহী পরিচালক আনম ফজলুল হাদী সাব্বির। তিনি বলেন, ‘নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না হলে ব্যক্তি, পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়।’


নির্বাচিত

সরিষাবাড়ীতে সেচপাম্পের মোটর চুরির হিড়িক, আতঙ্কে কৃষক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সেচপাম্পের পানি তোলার যন্ত্র (মটর) চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে সেচপাম্পের মটর চুরি হচ্ছে। এ ছাড়া একই ইউনিয়নের ঢোলভিটি কালীতলা বাজার এলাকা থেকে ১০ কেবি পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে কৃষক ও স্থানীয়রা। কষ্টে কেনা পাম্পের প্রধান অংশগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কৃষকরা। এতে একদিকে যেমন বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি আসন্ন বোরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এলাকায় চুরি বন্ধে নিয়মিত টহল জোরদার করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনাও করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, রামপুর ও মহিষাকান্দি গ্রামের শষ্যক্ষেতে থাকা কৃষকদের সেচপাম্পগুলো রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে। সেচপাম্পের পাশাপাশি একই ইউনিয়নের ঢোলভিটি কালীতলা বাজারের পাশে স্থাপিত ১০ কেবিএ পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারটি চুরি করে নিয়ে যায়। এ ছাড়ার উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ২টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় একাধিক সেচপাম্প বন্ধ রয়েছে এ ছাড়া ওসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত মোটর চুরি হওয়ার কারণে চাষাবাদ বন্ধ করারও ঘোষণা দেন কৃষকরা। এদিকে একই ইউনিয়নে বসতঘরের জানালার গ্রিল কেটে মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা।

রামপুর গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, ‘গত কয়েকদিনে আমার সেচপাম্পের ঘর থেকে দুবার দুটি মোটর চুরি হয়েছে। দুটা মোটর কিনেছি প্রায় ৬০ হাজার টাকা। একবার চুরি হওয়ার পর আবার নতুন মোটর কিনে লাগানোর ৩ দিন পরই চুরি হয়ে যায়। এভাবে মোটর চুরি হতে থাকলে আমি চাষাবাদ বন্ধ করে দেব।’

গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আশরাফুল আরেফিন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল, সেদিন আবার ফুটবল খেলাও ছিল। রাতে খেলা দেখে বাড়ি আসার সময় সেচ ঘরে মোটর দেখে এসে ঘুমিয়েছি। সকালে উঠে সেচপাম্পে মোটর চালাতে গিয়ে দেখি মোটর নাই। এভাবে চুরি হলে কৃষির আবাদে অনিহা বাড়বে।’

মহিষাকান্দি গ্রামের মানিক আহাম্মেদ বলেন, ‘আমার বাড়িতে সেদিন লোকজন না থাকার কারণে বৃষ্টির মধ্যে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে থাকা মোটর চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সকালে এসে জানালার গ্রিল কাটা দেখে ঘরে ঢুকে দেখি মোটর নেই।’

​সরিষাবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘গত কয়েকদিনে ডোয়াইল ইউনিয়নের ঢোলভিটি কালিতলা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানের থাকা ৩টি ট্রান্সফার্মার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। চুরি হওয়া কিছু কিছু এলাকায় ট্রান্সফরমার না থাকায় সংযোগ বন্ধ রাখতে হয়েছে।’

সরিষাবাড়ী থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘চুরি রোধ করতে নিয়মিত আমাদের পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এ ছাড়া কিছু চোরকে ইতোমধ্যে আটকও করা হয়েছে।’


নির্বাচিত

ভাঙ্গুড়ায় ছয় বছরেও চালু হয়নি দেড় কোটি টাকার গ্রামীণ মার্কেট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ মার্কেটটি ছয় বছরেও চালু করা যায়নি। দোকান বরাদ্দ না হওয়ায়, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত এই মার্কেট। ফলে এর অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। আর প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই উপজেলার ময়দানদিঘী বাজারে একটি অত্যাধুনিক দ্বিতল মার্কেটের ভবন নির্মাণকাজ আরম্ভ হয়। ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্মাণকাজ করে। ২০২০ সালে ভবনটির কাজ সম্পন্ন হয়। এর দেড় বছর পর ২০২২ সালে মার্কেট ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

আরো জানা যায়, এই ভবনটিতে ১৪টি দোকান রয়েছে। এর নিচতলায় কাঁচা বাজার, মাছ-মাংস আর দোতলায় হার্ডওয়ার, গার্মেন্টস ও কসমেটিক্স প্রভৃতি দোকান বসার কথা।

এছাড়া মার্কেটটিতে রয়েছে পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও দোকান বরাদ্দ না হওয়ায়, তা জনগণের কোনো কাজেই আসছে না।

ময়দানদিঘী বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে এই মার্কেটটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু দোকান বরাদ্দ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা তালাবদ্ধ রয়েছে। ফলে এর সুযোগ-সুবিধা থেকে স্থানীয়রা বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় মানিক খান বলেন, দেড় কোটি টাকার এই মার্কেট ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এটি শিগগির চালু করা দরকার। এতে স্থানীয় লোকজন উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায় হবে।

খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন মিঠু বলেন, এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সবাই বসে মার্কেটের দোকান বরাদ্দের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, মার্কেটটি চালু করতে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


নির্বাচিত

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণের অভিযোগ, চট্টগ্রামে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রণয়ের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরীর এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত আফতাব মজুমদার এনসিপির মহানগর কমিটির সংগঠক এবং বন্দর থানা যুবশক্তির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া গত মে মাসে দলীয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্যও করা হয়েছিল।

চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে আফতাবের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর পরিচয় হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ওই নারী জানান, শুরুতে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে তিনি অসম্মতি জানালেও গত ১৪ জুলাই অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বন্দর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ডেকে নেন। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হলে আফতাব গড়িমসি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর মধ্যেই ভুক্তভোগী জানতে পারেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই বিবাহিত।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চান্দগাঁও থানার ডিউটি অফিসার রফিকুল ইসলাম বুধবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমকে জানান, ‘ধর্ষণ মামলার এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের নেতা আফতাব মজুমদারকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হাজতে আছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’ তবে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য প্রদান করেননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর হালিশহর বিডিআর মাঠ সংলগ্ন একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে ওই নেতার ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন প্রচলিত থাকলেও এর সপক্ষে কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ মেলেনি। এই গ্রেফতারের বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


নির্বাচিত

দেশজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, কয়েক বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে এ সময়ে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির আধিক্য বজায় থাকবে এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ পর্যায়ে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। পরবর্তী কয়েক দিনের আবহাওয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, শনিবার ও রোববার দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির দাপট বেশি থাকলেও অন্যান্য বিভাগে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময়ে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে না।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ বিভাগে বৃষ্টির ব্যাপকতা আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং দেশের বাকি বিভাগগুলোর অনেক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী পাঁচ দিনও দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন যে পরবর্তী পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে আগামী কয়েক দিন সারাদেশে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রার হেরফের খুব একটা প্রকট হবে না।


নির্বাচিত

২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবীদের কবরে ঠাঁই হলো আহমদ ছফার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৃত্যুর প্রায় ২৫ বছর পর রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রখ্যাত লেখক ও বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার কবর। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ব্যবস্থাপনায় শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের যে অংশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন করা হয়, সেখানে তার দেহাবশেষ স্থানান্তর করা হয়।

একুশে পদকপ্রাপ্ত আহমদ ছফা ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মারা যান। সে সময় তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সাধারণ অংশে দাফন করা হয়েছিল। তার কবর নম্বর ছিল ১০৮০। বুদ্ধিজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তখন তাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের অনুমতি মেলেনি।

আহমদ ছফার ভাতিজা নূরুল আনোয়ার জানালেন, তৎকালীন প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে ছফাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সাধারণ কবরে দাফন করা হয়েছিল। সাধারণ কবর নির্দিষ্ট সময় পর ভেঙে ফেলার নিয়ম রয়েছে। এ কারণে তার স্মৃতি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে কবর স্থানান্তরের আবেদন করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পুরনো কবর থেকে আহমদ ছফার দেহাবশেষ উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ১টার মধ্যে স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত ১১ জানুয়ারি পরিবারের পক্ষে নূরুল আনোয়ার কবরটি শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় আহমদ ছফার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তার কবরটি সাধারণ কবরস্থান থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হয়।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল ডিএনসিসির ১৪তম বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে কবর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার পর বুধবার (২২ জুলাই) দেহাবশেষ স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হয়।


নির্বাচিত

পাহাড়ের ছায়ায় অপহরণের বিভীষিকায় জিম্মি জনপদ

* তিন বছরে ২৯৫ অপহরণ * অপহরণের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাচ্ছে মানুষ * পুলিশকে খবর দিলে ভয়াবহ নির্যাতন করে অপহকারীরা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ 

‘সেদিন ছিল ২৮ জুন, সোমবার রাত ১১টা। হঠাৎ আমাদের বাড়ির উঠানের চারদিকে গোলাগুলির শব্দ শুরু হয়। ভয়ে পুরো শরীর কাঁপছিল। ছোট মেয়েকে নিয়ে প্রথমে আলমারির পেছনে লুকিয়ে থাকি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি চলতে থাকে। একপর্যায়ে আমার বাড়ির সামনের দরজায় তিন রাউন্ড গুলি করে এবং দরজায় লাথি মারে। আমি ভয়ে শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম।

বাইরে অস্ত্রধারীদের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। প্রায় এক ঘণ্টা পর গুলির শব্দ কমে আসে। পরদিন সকাল সাতটায় বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি, আমার কোনো প্রতিবেশী বাড়িতে নেই। সবার বাড়িতে তালা ঝুলছে। ভয়ে সবাই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে গেছে। এরপর আমিও বাচ্চাকে নিয়ে অস্ত্রধারী অপহরণকারীদের ভয়ে টেকনাফের মহেশখালী পাড়ায় আমার বোনের বাড়িতে চলে আসি।’

কথাগুলো টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মাপাড়া এলাকার পাহাড়সংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা খালেদা বেগমের। গত তিন সপ্তাহ ধরে এলাকাজুড়ে এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সর্বশেষ গত ২৮ জুন প্রকাশ্য দিনের বেলায় অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয় পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিনকে। পরে তিনি মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন। এর মধ্যে গত ১৭ জুলাই ফের একটি শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন বিকেলে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নয়াপাড়া এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার আবদুল মাবুদের শিশুপুত্র আরাফাত (১২) মহিষ আনতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। গত সোমবার চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, বাহারছড়া এলাকার অন্তত ২০০ পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এসব পরিবারের অনেক সদস্য এখনো নিজ বাড়িতে ফেরার সাহস পাচ্ছে না।

বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকায় আজ ( ২২ জুলাই ) বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। জুম্মাপাড়ার পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় এগোতে চাইলে স্থানীয় এক ব্যক্তি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভাই, কোথায় যাচ্ছেন? ওদিকে গেলে আপনাকেও ধরে নিয়ে যেতে পারে।’

পরে স্থানীয় পরিচিত দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের পাদদেশের বাড়িগুলো জনশূন্য। চারদিকে সুনসান নীরবতা।

ফেরার পথে দেখা মেলে একজন নারীর। তিনি নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে কিছু মালপত্র নিয়ে আসতে যাচ্ছি।’

কোথা থেকে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। জরুরি কিছু জিনিস নিতে এসেছি।’

কেন নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয়েছে, জানতে চাইলে রুবী আক্তার নামের ওই নারী বলেন, ‘রাতে প্রায় প্রতিদিনই সশস্ত্র লোকজন এসে আমাদের পাড়ায় গুলি চালায়। ঘরের দরজা ভাঙচুর করে, লুটপাট চালিয়ে চলে যায়। এমন আতঙ্ক নিয়ে কিভাবে থাকি? শেষে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।’

এর আগে গত ১৬ জুলাইয়ের কথা। এশার নামাজের আগে অজু করতে ঘরের বাইরে বের হয়েছিলেন জুম্মাপাড়া এলাকার নাজমা আক্তার। পাহাড়সংলগ্ন এলাকা থেকে কিছুটা দূরে তার বাড়ি। স্বামী প্রবাসে। দুই সন্তান নিয়ে তার বসবাস।

নাজমা আক্তার বলেন, ‘অজু করছিলাম। হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বাড়ির উঠানের পাশে গোলাগুলির শব্দ শুরু হয়। আতঙ্কে দৌড়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিই। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে গোলাগুলি। ওরা দেখতে চাচ্ছিল কেউ ঘর থেকে বের হয় কি না। এখন মাঝেমধ্যেই অস্ত্রধারীরা আমাদের এলাকায় আসে। অনেক বাড়িতে মানুষ না থাকায় আমরা আতঙ্কে আছি।’

মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন পল্লী চিকিৎসক : গত ২৮ জুন জুম্মাপাড়া এলাকা থেকে অস্ত্রধারীরা পল্লী চিকিৎসক কামাল মাস্টারকে অপহরণ করে। দুই লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে আট দিন পর গত ৬ জুলাই রাতে তাকে মৌচনী এলাকায় রেখে যাওয়া হয়। তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, অপহরণের পর নির্যাতনের কারণে কামাল মাস্টার এখনো অসুস্থ।

এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিপণ আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে দ্রুতই যৌথ অভিযান চালানো হবে।’

অপহরণ আতঙ্কে জুম্মাপাড়া এলাকার যে বাসিন্দারা এখনো বাড়ি ফেরেনি তাদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ হোসেন, জাহেদ হোসেন, মোহাম্মদ রফিক, মুজিব উল্লাহ, নব্বী হোসেন, লিয়াকত আলী, ফেরদৌস, মোহাম্মদ শফিক, ছৈয়দ আলম, মোহাম্মদ আয়ুব, খালেদা বেগম, মাহফুজ আক্তার, রুবী আক্তার, আবুল হাশিম, মুজিবুল্লাহ প্রমুখ। তারা বলছেন, অপহরণের ভয়ে নিজ বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না তারা।

টেকনাফ উপজেলা সদর থেকে বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়ার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। আর বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। অপহরণ কিংবা সশস্ত্র হামলার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে আধাঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীরা তাদের কাজ সেরে সটকে পড়ে।

অপহরণে জড়িত রেদওয়ান, বুলেট ও আবুল গ্রুপ :

বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ও বাঙালি সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অন্তত তিনটি সশস্ত্র গ্রুপ এ অপহরণকাণ্ডে সক্রিয়। এই গ্রুপগুলো হলো রেদওয়ান গ্রুপ, বুলেট গ্রুপ ও আবুল গ্রুপ। অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের বাহারছড়ার দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। তবে এসব অপহরণের ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল গ্রুপকে সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করেন স্থানীয়রা। এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা অপহরণের অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশকে জানালে নেমে আসে নির্যাতন : জুম্মাপাড়া এলাকার নোয়াখালী কচ্ছপিয়া পাহাড় থেকে ১০০ মিটার দূরে মো. ইমরানের বাড়ি। গত মে মাসে তিনি অস্ত্রধারীদের হাতে অপহরণের শিকার হন। পরিবারের সদস্যরা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাকে মুক্ত করে আনে।

ইমরান বলেন, ‘অপহরণের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যদি উদ্ধারের জন্য পাহাড়ে অভিযান চালায় তখন হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে আমাদের মারধর করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ে যত ধরনের নির্যাতন আছে, সব প্রয়োগ করে সন্ত্রাসীরা।’

অপহরণকারী গ্রুপের নেতা কে এই রেদওয়ান?

বাহারছড়া এলাকার অপহরণচক্রের অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছেন ২৭ বছর বয়সি রেদওয়ান। তার বাবা আব্দুল মালেক, যিনি এলাকায় ‘বেলুম ডাকাত’ নামে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০৬ সালে ডাকাতির একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের গাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর বড় হওয়া রেদওয়ান ছোটবেলা থেকেই বাবার অপরাধজগতের নানা গল্প শুনে বেড়ে ওঠেন। পরে তিনি একই পথে জড়িয়ে পড়েন।

যাদের টার্গেট করে অপহরণ করা হচ্ছে : বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ও জুম্মাপাড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার ও অপহরণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। জানা গেছে, আগে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি চক্র এখন অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব চক্রের একটি তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক রয়েছে। কোন পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো, কার স্বজন প্রবাসে আছে বা কাকে অপহরণ করলে দ্রুত মুক্তিপণ পাওয়া যাবে—এমন তথ্য সংগ্রহ করে তারা পরিকল্পিত অপহরণ করে। এ কারণে প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা।

যা জানা গেছে : স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসা কিছু ব্যক্তি এবং স্থানীয় বেকার যুবকের সমন্বয়ে অন্তত তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী অপহরণকাণ্ডে সক্রিয়। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া, জুম্মাপাড়া পাহাড়, হ্নীলা ইউনিয়নের উনচিপ্রাংয়ের জুম পাহাড়, মিজ্জির পাহাড়সহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে সেখান থেকে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের প্রথমে জুম্মাপাড়া পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে হ্নীলার জুম পাহাড়ে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই জুম পাহাড়ে বসেই ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে কত টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হবে, কিংবা মুক্তিপণ না পেলে কী করা হবে, সেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব কর্মকাণ্ডে তারা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, এসব গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. মুহিন, আব্দুর রহিম, সালাহউদ্দিন, এনামুল হাসান (রোহিঙ্গা), আবুল কালাম, নুরু মুহাম্মদ, শফি উল্লাহ, সিরাজুল মাঝি ওরফে বার্মাইয়া সিরাজ, আবু হুরায়রা, শহিদ উল্লাহ, আয়াতুল মজিদ, ফরিদ আহমদ, মিজানুর রহমান, নুর মোহাম্মদ, মনির আহাম্মদ, আবুল বশর, মকবুল আহমদ, মো. রুবেল (২২), মো. রিয়াজসহ আরও অনেকে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিন বছরে অপহৃত ২৯৫ জন : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল—এই তিন বছরে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় অন্তত ২৯৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছে। আর চলতি বছর এ পর্যন্ত আরো অন্তত ২০টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ওই এলাকায় হত্যা ও সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে।

গত ৩ মে নোয়াখালীপাড়ার ব্রিজ এলাকায় অপহরণের চেষ্টাকালে শহিদ উল্লাহ (১৯) নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে এপ্রিল মাসে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সুমাইয়া নামের এক তরুণী নিহত হন। একই মাসে পাহাড়ি এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহের খণ্ডাংশসহ আরো তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি

গত (৪ জুলাই) টেকনাফে জেলার ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত আসে অপহরণপ্রবণ (হটস্পট) এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ধারাবাহিক অপহরণ, হত্যা ও সহিংসতার পর অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তারা আশা করছেন, ঘোষিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এবং এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়া পরিবারগুলো আবার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মাপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য ইলিয়াস বলেন, ‘আমরা দ্রুত যৌথ অভিযান চাই। অপহরণকারী চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। আমার ওয়ার্ডের দুই শতাধিক পরিবার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তারা আবার নিজ বাড়িতে ফিরে আসবে।’

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, ‘বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় বাহারছড়াবাসীকে অপহরণ থেকে মুক্ত করতে যৌথ অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছি। তারা দ্রুত যৌথ অভিযান এবং একটি চৌকি করার কথা জানিয়েছেন।

উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘টেকনাফকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করতে আমরা কাজ করছি। এ লক্ষ্যে সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করতে একমত হয়েছে। প্রথমে যেসব মানুষ আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে এনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, টেকনাফে মাদক ও অপহরণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় অপহরণের ঘটনা বেশি ঘটছে, সেখানে টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, ‘গত ৪ জুলাই বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় সীদ্ধান্ত হয়েছে। যৌথ অভিযান পরিচালনার কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে এটি সম্ভব হয়নি। এখন দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবার সহযোগিতা না পেলে কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।


নির্বাচিত

প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে সরকার: জোনায়েদ সাকি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কমানো, জবাবদিহিতা জোরদার করা, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, নির্মাণ খরচের রেট শিডিউল সংশোধন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

বুধবার (২২ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ এবং সরকারি বিনিয়োগকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যেখানে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল সমন্বয়, দায়িত্বের ওভারল্যাপ এবং জবাবদিহির অভাবের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে এবং বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে।’

তিনি জানান, আজকের একনেক সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণসহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। একনেকের সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধন করে প্রকল্পটি পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

সাকি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্প বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জনগণের করের অর্থের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এখন থেকে অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্প এই নির্দেশনা অনুসারেই বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা প্রকল্প প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করছেন। কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং জনগণের প্রতিটি টাকা যেন আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগা সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত নিয়মে একনেকের অনুমোদনের পরও কেবল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পেতেই দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় উন্নয়ন কাজের গতি কমে যায় এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘসূত্রতা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পেতে বিলম্ব ঘটায়। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সাকি জানান, সরকার তাই প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করছে। তিনি জানান, চলমান প্রকল্প এবং এডিপির ‘গ্রিন পেজ’-এ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো ‘রি-স্কোপিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদান সংযোজন, বিয়োজন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন করা হবে।


নির্বাচিত

জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না: জবি ভিসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে এই বাংলাদেশের জন্ম হতো না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বলেই আমরা একটি দেশ, একটি মানচিত্র, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড পেয়েছি। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দর্শন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর জবি শাখা।

জবি উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর নির্যাতনে যখন জাতি দিশেহারা, তখন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। শুধু ঘোষণা দিয়েই তিনি থেমে থাকেননি, জেড ফোর্স গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতি যখনই ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছে, তখনই পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি আজ সশরীরে না থাকলেও জাতিকে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যে দর্শন দিয়ে গেছেন, তার নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দর্শন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এই দেশকে যদি ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে হয়, তবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনকে আত্মস্থ করতেই হবে। আমরা এ দর্শন প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাব। তবে আমার আদর্শের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা শিক্ষার্থী যাতে কারও ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করেন—সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে খাটো করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বট আইডির মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা এই ক্যাম্পাসে চলতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল কথা হলো—এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় বাংলাদেশি। ধর্ম, ভাষা, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই দর্শন জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তোলে।

ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close