হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে কাছে নিয়েছেন, মায়া করেছেন; বেশির ভাগই প্রতারণা ও বেঈমানি করেছে। আজ সোমবার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী থেকে শুরু করে কোন পদে নাই, এরা কিছুদিন ক্ষমতা পেলেই গণভবনে ঢুকে। শেখ হাসিনা একটু আদর করলেই মনে করে তারা ব্ল্যাঙ্ক চেক পেয়ে গেছে। এখন কিছু টাকা কামানো যায় কিনা, সবাই কিন্তু না। এটা কিন্তু নেত্রীকে বেশিদূর আগাতে দেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। তবে কালকে যেভাবে শক্ত করে বলেছেন এটা আমার কাছে বড় পাওয়া। এই যুদ্ধটাই করতে করতে আমি সংসদ সদস্য হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পাওয়ার আশা করে এমপি সুমন বলেন, নেত্রী পাশে থাকলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স না, টলারেন্স কমালেই হবে। উনি শক্ত হলেই দুর্নীতিবিরোধী পর্যায়ে যেতে বেশিদিন লাগবে না। আমরা যদি ভালো করে কিছু লোককে ধরতে পারি তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার অনেক কাছে চলে যেতাম।
ঝিনাইদহে জেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে শহরের জোহান ড্রীম ভ্যালী পার্কে এ সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি সামছুল আলমের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মোঃ আব্দুল মজিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মমিনুর রহমান ও চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন।
সভায় জেলার বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসময় উন্নয়ন কার্যক্রম, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এনজিওগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুটি আবাসিক হলে পৃথক চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিকন্যা হল এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে চুরির ঘটনাগুলো ঘটে।
শনিবার (১৬ মে) রাতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ডি ব্লকের চার তলার ৪৪১ ও ৪৪০ নম্বর কক্ষেও চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, চোর জানালার দুটি স্টিলের শিক কেটে কক্ষে প্রবেশ করে মূল্যবান মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে কৃষিকন্যা হলের খ ব্লকের ১৩ নম্বর কক্ষে সিলিং ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চোর সিলিংয়ের পথ দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে নগদ প্রায় ৪ হাজার টাকা, আইডি কার্ডসহ দুটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
এক শিক্ষার্থী জানান, রিডিং রুম থেকে ফিরে দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পেয়ে জানালা দিয়ে চোরকে দেখতে পান। পরে চিৎকার করলে চোর দ্রুত সিলিংয়ের পথ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় হলের নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ ছাত্রী বাড়িতে চলে যাওয়ায় হল তুলনামূলক ফাঁকা ছিল এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে চোর।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল থাকা সত্ত্বেও চোর কীভাবে চার তলায় উঠে জানালার শিক কেটে কক্ষে প্রবেশ করলো, তা নিয়ে প্রশাসনের জবাবদিহি প্রয়োজন। তারা বলেন, সম্প্রতি একের পর এক চুরির ঘটনায় আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উচ্চ রেজুলেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত এবং হল এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থী মেজবাউল হক মিজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে চারতলার মতো জায়গায় উঠে জানালার শিক কেটে চুরি করা সম্ভব হয়, সেখানে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।”
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কৃষি কন্যা হলেও সিলিং কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসময় অনেক সিনিয়র শিক্ষার্থী চাকরির পরীক্ষার জন্য ঢাকায় অবস্থান করায় হলের কিছু কক্ষ ফাঁকা ছিল। চোরেরা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উচ্চ রেজুলেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রভোস্টের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
কৃষিকন্যা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, হলের নির্মাণ কাজ চলমান। সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী সংখ্যা অনেক কম। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু আজকের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা হতে পারে অথবা কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি সুযোগ বুঝে এই কাজ করেছে বলে অনুমান করছি।
অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, সোহরাওয়ার্দী হলের আজকের চুরির ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। উক্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রক্রিয়া উদঘাটনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, শিক্ষার্থীরা রুমে থাকা অবস্থাতেই জানালা কেটে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা কিছুটা অস্বাভাবিক এবং বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের কোনো প্রকার অবহেলা ছিল কি না, তাও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা শাখাকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাকৃবির নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা স্বাধীন রক্ষী থাকলেও, সার্বিক নজরদারির স্বার্থে সেন্ট্রাল সিকিউরিটি সেকশন থেকে আমরা সর্বদা তৎপর আছি। কৃষিকন্যা হলের চুরির ঘটনার পর পরই চিফ সিকিউরিটি অফিসারকে পাঠিয়ে একটি সম্ভাব্য প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং কারণসমূহ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশাল এই ক্যাম্পাসে জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা, যার সুযোগ নিয়ে চোরেরা অন্ধকার ও আড়ালে থাকা সীমানাগুলোকে টার্গেট করে।
এ বিষয়ে বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, আমরা হলগুলোর প্রভোস্টদের সাথে কথা বলেছি। হলের নিরাপত্তার দায়িত্ব মূলত প্রভোস্টের। হলের ভেতরের নিরাপত্তার বিষয়টাতেও ঘাটতি আছে, যেটা প্রভোস্টের এখতিয়ারে পড়ে। সেখানে সিসি ক্যামেরারও বোধহয় কভারেজ নাই। তো সেই দিকগুলোতে আসলে আমাদের একটু জোরদার করতে হবে। আমাদের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী হলের শান্তিশৃঙ্খলার দায়িত্বে প্রক্টোরিয়াল বডি আছে, নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা সেকশন আছে, ফ্যাকাল্টিগুলোতে ডিন মহোদয় এবং হলগুলোতে প্রভোস্টের দায়িত্ব আছে। এদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আসলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে কাজ করা দরকার।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। তবে এই সময়ে গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু সংক্রামক রোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা এবং ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ বা খুরা রোগের মতো জুনোটিক রোগ (প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ায় এমন রোগ) নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
কোরবানির হাটের মাধ্যমে এসব রোগ মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকি, রোগ প্রতিরোধ এবং করণীয় বিষয় নিয়ে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিমুল এহসান।
তিনি বলেন, ‘দেশে কিছুদিন আগে রংপুর ও গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ সময় মানুষের মধ্যে চামড়ায় ক্ষত, চোখ ফোলা এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা গেছে। অ্যানথ্রাক্স একটি ভয়াবহ জুনোটিক রোগ, যা আক্রান্ত প্রাণীর রক্ত, মাংস এবং দেহের বিভিন্ন অংশের সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। হাটে যদি কোনো আক্রান্ত পশু থাকে, তাহলে সেখান থেকে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে নিয়মিত টিকাদান এবং হাটে প্রাণীর প্রবেশপথে বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গেলে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’
আক্রান্ত পশু শনাক্তকরণ সম্পর্কে অধ্যাপক জানান, ‘অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত পশু অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই মারা যায়। তবে লক্ষণ দেখা দিলে পশুর শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীটি মারা যায়। মারা যাওয়ার পর নাক, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে আলকাতরার মতো কালো রক্ত বের হয়। এই রক্ত বাতাসের সংস্পর্শে এলে জীবাণুটি “স্পোর” তৈরি করে, যা দীর্ঘ সময় সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। এ ছাড়া পশুর জিহ্বা, নাক বা গলায় কালচে কিংবা সাদা দাগ ও ফোসকা দেখা দিতে পারে। আচরণগত পরিবর্তন হিসেবে অস্বাভাবিক উত্তেজনা বা অতিরিক্ত শান্তভাবও লক্ষ করা যেতে পারে।’
কোরবানির পশুদের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের পর আরও একটি ভয়াবহ রোগ হলো ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ, যা খুরা রোগ নামে বেশি পরিচিত।
অধ্যাপক বলেন, ‘খুরা রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং বাতাসের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোরবানির সময় এ রোগ মহামারি আকারে দেখা দেয়। দিনাজপুর বা চট্টগ্রামের কোনো আক্রান্ত গরু যখন ঢাকায় বিক্রির জন্য আনা হয়, তখন পুরো পথজুড়ে এবং আশপাশের সব গরুর মধ্যে এ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই খামারিদের প্রতি অনুরোধ, অসুস্থ পশু কোনোভাবেই হাটে বা ট্রাকে তোলা উচিত নয়। আগে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পশুকে সুস্থ করে তারপর কোরবানির জন্য বাছাই করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত কোরবানির পরও অনেক গরু অবিক্রিত থেকে যায়। এসব পশু হাটে এসে আক্রান্ত হয়ে নিজ এলাকায় গিয়ে অন্যান্য সুস্থ পশুকেও সংক্রমিত করতে পারে। তবে ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ মানুষে সংক্রমিত হলেও অ্যানথ্রাক্সের মতো জটিল পর্যায়ে যায় না।’
হাটে যাওয়ার সময় ক্রেতাদের উদ্দেশে অধ্যাপক বলেন, ‘অসুস্থ মনে হওয়া প্রাণী স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে শরীরে কোনো ক্ষত বা কাটা থাকলে তা ঢেকে হাটে যাওয়া উচিত, কারণ ক্ষতস্থান দিয়ে অ্যানথ্রাক্স বা টিটেনাসের মতো জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পশুর সংস্পর্শে আসার পর দ্রুত হাত ও পা সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।’
ড. আমিমুল আরও বলেন, ‘হাটের বর্জ্য ও রক্ত যাতে যত্রতত্র না পড়ে, সে বিষয়ে হাট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। কোরবানির পর পশুর বর্জ্য নিরাপদ স্থানে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং মাংস সঠিকভাবে রান্না করা নিশ্চিত করতে হবে।’ সন্দেহজনক কোনো পশু হাটে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অসুস্থ শিশুসন্তানকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের চাপায় বীথি আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে তার তিন বছরের ছেলে আব্দুর রহমান। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে দেবীগঞ্জ-ডোমার মহাসড়কের ফার্মগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বীথি আক্তার দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের একতা মোড় এলাকার অটোভ্যান চালক জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুসন্তানের কানের সমস্যার চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পাশ্ববর্তী নীলফামারীর ডোমারে গিয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। রাতে চিকিৎসা শেষে অটোভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। ফার্মগেট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাকের তীব্র আলোয় অটোভ্যানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুর স্তূপে ধাক্কা লাগে। এতে অটোভ্যানটি উল্টে গেলে বীথি আক্তার ও তার শিশুসন্তান সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় দ্রুতগতির ট্রাকটি বীথি আক্তারকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় শিশুটি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে যান। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক ট্রাকটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি বসতবাড়ির শয়নকক্ষ থেকে জেলেদের বরাদ্ধকৃত সরকারী ৭৮০ কেজি চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের ইতালি বাড়ী নামে পরিচিত ইমরান হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। চালগুলো সরকারী সিলযুক্ত ২৬টি বস্তায় মজুদ করা ছিলো। এছাড়া এসময় আরও ২৪ টি খালি বস্তা উদ্ধার করা হয়।
কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক মো কামরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।তবে এই ঘটবার সাথে জড়িতদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চালগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়িটিতে শুধুমাত্র নারী সদস্য থাকায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ধারনা করা হচ্ছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট যে কেউ চালগুলো ওই বাড়িতে মজুদ করেছিলো।
জীবননগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ২৫ গ্রাম গাঁজাসহ একজন আটক হয়েছে। শুক্রবার দিনগত রাতে জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নতুন চাকলা ও বাঁকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন- নতুন চাকলা গ্রামের শহিদুল মুন্সির ছেলে সাজেদুল ইসলাম (৩৪) এবং গাঁজাসহ আটক হয়েছে বাঁকা গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে ইসরাফুল হক (২১)।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, শুক্রবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। একই সাথে গাঁজাসহ আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। আসামীদেরকে শনিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে “আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় দাবা প্রতিযোগিতা ২০২৫-২০২৬”। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, “দাবা এমন একটি বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা, যা মানুষের চিন্তাশক্তি, ধৈর্য, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও দূরদর্শিতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল হতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, পাশাপাশি সৃজনশীল চিন্তা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। দাবা সেই দক্ষতা বিকাশের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। তিনি আরও বলেন, “আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় দাবা প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, নেতৃত্বের গুণাবলি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একত্রিত করার মাধ্যমে এ ধরনের আয়োজন জ্ঞান, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। কুয়েট সবসময় একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমি বিশ্বাস করি, এ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় সাফল্য অর্জনে তাদের অনুপ্রাণিত করবে।”
সভাপতির বক্তব্যে পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় দাবা প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে।” তিনি সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ও ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মাহমুদুল আলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের উপ-পরিচালক ও আয়োজক কমিটির সদস্য-সচিব রাজন কুমার রাহা, প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আক্তার, প্রোভোস্ট, খানজাহান আলী হল এবং বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য-সচিব মোঃ মাহবুবুল আলম।
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হলো— খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মধু মাস জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনেই রাজশাহীতে শুরু হয়েছে রসালো আম নামানোর উৎসব। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজশাহী জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী গাছ থেকে ‘গুটি’ জাতের আম পাড়ার মধ্য দিয়ে বাজারে আম আসতে শুরু করেছে।
নির্ধারিত ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী আম নামাতে পেরে বেশ খুশি স্থানীয় আমচাষীরা। তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এখন বাজারে কাঙ্ক্ষিত ও ন্যায্যমূল্য পেলেই তাদের মুখে হাসি ফুটবে।
চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে এখন অল্প পরিমাণে আম নামানো হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই বাগানগুলোতে পুরোদমে আম সংগ্রহ শুরু হবে। বাজারে পরিপক্ব ও নিরাপদ আম সরবরাহ নিশ্চিত করতে তদারকি করছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, চলতি বছর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসবে। জাতভেদে আম সংগ্রহের নির্ধারিত সময়সীমা হিসেবে গুটি আম আজ শুক্রবার ১৫ মে নামানো শুরু হয়েছে।গোপালভোগ: নামানো হবে ২২ মে।
লক্ষ্মণভোগ (লখনা) ও রাণী পছন্দ ২৫ মে।হিমসাগর বা খিরসাপাত ৩০ মে।
ল্যাংড়া ১০ জুন। আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন। আশ্বিনা ও বারি-৪ ৫ জুলাই। গৌড়মতি ১৫ জুলাই এবং ইলামতি ২০ আগস্ট নামানো হবে।
এছাড়া, ‘কাঠিমন’ ও ‘বারি-১১’ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন। বাজারে এই বিপুল পরিমাণ আমের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৭৮০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রশাসনের নজরদারির কারণে এবারও ভোক্তারা রাসায়নিকমুক্ত ও পরিপক্ব আম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বরগুনার বেতাগী সদর ইউনিয়নের বেইলিব্রিজ এলাকায় এক দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওই এলাকার খলিল পুলিশের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গভীর রাতে প্রায় ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করলে খলিল পুলিশের পুত্র মো. রিফাত বিন রিমন (২৫) একাই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১০ জন ডাকাতের সাথে রিমন বীরত্বপূর্ণ লড়াই ও ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ডাকাত দলের সাথে একা লড়াই করতে গিয়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন রিমন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থা গুরুতর হলে তাকে বরিশাল পাঠানো হয়।
এদিকে ধস্তাধস্তির পর ডাকাত দল ঘর থেকে মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন-অর-রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত এবং মালামাল উদ্ধারসহ ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।
"আল্লাহ তায়ালা মানুষের উপার্জনের অনেক পথ করে দিয়েছেন। কিন্তু গরীবের খাবার নিয়ে চালবাজি করা, তাদের ঠকানো অত্যন্ত জঘন্য এবং নিকৃষ্টতম কাজ। এ ধরনের অন্যায় কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এ কথা বলেছেন। ত্রিশাল উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ-২০২৬ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন শেষে ধানীখোলা এলএসডি গোডাউন পরিদর্শনকালে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সংগ্রহ কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না ঘটে, সেজন্য তিনি তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য গুদামের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেন।
সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন আরও বলেন, সরকারি এই সংগ্রহ অভিযানে প্রকৃত কৃষকরা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো সিন্ডিকেট যেন গরীবের হক নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গুদামের ভেতরের প্রতিটি কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী, উপজেলা খাদ্য অফিসার শ্যামল চন্দ্র সরকার প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় উলাদ (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাত সারে ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত উলাদ প্রতাপপুর স্কুলপাড়া গ্রামের বাদল মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে উলাদের বাবা জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাচ্ছিলেন। এ সময় উলাদও বাবার সঙ্গে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে। পরে তার মা তাকে রাস্তা পার করে বাবার কাছে পৌছে দেন। পরে বাবা রাস্তার পাশের একটি দোকান থেকে তাকে সিঙ্গারা কিনে দিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে বলেন। বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত মোটরসাইকেল উলাদকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতেই তার মৃত্যু হয়।
দর্শনা থানার ওসি তদন্ত হিমেল রানা জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেলটি শনাক্তে চেস্টা করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া বাজার থেকে কুশাবাড়িয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। অবশেষে স্থানীয় এক প্রবাসীর মানবিক উদ্যোগে শুরু হয়েছে সড়ক সংস্কার কাজ। এতে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবাই অংশ নিয়েছেন সড়ক সংস্কারের কাজে। কেউ মাথায় করে ইট বহন করছেন, কেউ হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙছেন, আবার কেউ গর্ত ভরাট করছেন। স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ভাঙা অংশগুলো মেরামত করা হচ্ছে। পুরো এলাকায় যেন তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিকতার চিত্র।
স্থানীয়রা জানান,দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সেগুলো পানিতে ডুবে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হতো। ফলে ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও হয়ে উঠেছিল ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে কৃষকদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। মাঠ থেকে ধান, পাট,শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হতো তাদের।
কুশাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন,'এই রাস্তাটার কারণে আমরা বছরের পর বছর কষ্ট করেছি। বৃষ্টির দিনে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে যেত। এখন রাস্তা সংস্কার হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।'
স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন,'নারিকেলবাড়িয়া ও কুশাবাড়িয়া বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এই সড়ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার কারণে ক্রেতা ও যানবাহন আসতে চাইত না। এখন অন্তত চলাচলের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।'
অটোরিকশা চালক সোহেল রানা বলেন'আগে এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে গেলে প্রায়ই গাড়ির স্প্রিং ও চাকা নষ্ট হতো। যাত্রীরাও ভয় পেত। এখন রাস্তা ঠিক হওয়ায় আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।'
স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন,'আমাদের ফসল বাজারে নিতে খুব সমস্যা হতো। গাড়ি ঢুকতে চাইত না। এখন রাস্তা কিছুটা ভালো হওয়ায় কৃষকরাও উপকৃত হবে।'
জানা গেছে, মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন মালয়েশিয়া প্রবাসী সমাজসেবক আজিম হোসাইন। তিনি কুয়ালালামপুর শাখা যুবদলের নেতা এবং কুশাবাড়িয়া গ্রামের গোলাম নবী বিশ্বাসের ছেলে। নিজ অর্থায়নে রাস্তার জন্য ইট ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শুরু হয় সংস্কার কাজ।
মুঠোফোনে প্রবাসী আজিম হোসাইন বলেন,'বিদেশে থাকলেও গ্রামের মানুষের কষ্টের কথা শুনে খুব খারাপ লেগেছে। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। গ্রামের মানুষের উপকার হলেই আমি আনন্দ পাই।'
এলাকাবাসী জানান,দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সেখানে একজন প্রবাসীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়ক সংস্কার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি,সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণ করা হোক। কারণ এই সড়ক দিয়েই কুশাবাড়িয়া, মিয়াকুন্ডু, মাড়ুন্দী, মুক্তারামপুর, ধনঞ্জয়পুর, টিকারি ও দহকোলাসহ আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
দীর্ঘ ২২ বছর পর এবং সরকার গঠনের পর প্রথম চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার (১৬ মে) উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশ। প্রিয় নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখতে এবং স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই মহাসড়কের দুই পাশে ঢল নামে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের।
সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গজারিয়ার তেতৈতলা হাস পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। এ সময় বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন ও ভালোবাসার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সাতটা থেকেই গজারিয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তেতৈতলা হাস পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল অভিনব ও ব্যতিক্রমী উচ্ছ্বাস। কাউকে দেখা গেছে মাথায় মাথাল দিয়ে এবং হাতে ধানের শীষ নিয়ে কৃষকের বেশে আবার কেউ এসেছেন আবহমান বাংলার চিরায়িত ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে জেলের বেশ ধরে। সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই রাস্তার দু-পাশে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সকাল নয়টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত হন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর মহাসড়কের গজারিয়া অংশে এসে পৌঁছালে অপেক্ষমাণ জনতা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখে প্রধানমন্ত্রী গাড়ির ভেতর থেকেই হাত নেড়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে নির্বিঘ্ন করতে গজারিয়া অংশে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা চালানো হয়। এর আগে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যাতায়াতের রুট পরিদর্শন করেন। এ উপলক্ষে মহাসড়কের গজারিয়া অংশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।