মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্ত রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। রাখাইন এলাকা থেকে বিতাড়িত শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার। দালালদের মতে প্রতিদিন এ সংখ্যা হাজারের ওপরে। সে হিসাবে নতুন করে ৫০ হাজার থেকে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দালালদের সহযোগিতায় গোপনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।
মিয়ানমারে জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা এখনো থামেনি। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ২০-৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে গোপনে অনুপ্রবেশের ব্যবস্থা করেই যাচ্ছে এসব দালালচক্র।
এদিকে, অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় আটক করে রোহিঙ্গাদের দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের শতাধিক নৌকাকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন কোস্টগার্ড ও বর্ডারগার্ড বিজিবি।
সীমান্তে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নজরদারি কম এমন পয়েন্ট দিয়েই রাতের আঁধারে দালালরা রোহিঙ্গাদের এ দেশে আনছেন। বিনিময়ে নিচ্ছেন জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তাই সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, প্রাণের ভয়ে তারা গ্রাম ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ওপারে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তাদের মতো আরও অনেকে এপারে চলে আসার পথ খুঁজছে। মংডুর নলবাইন্যা ও মেরোংলা এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে আরাকান আর্মি ২০০টি ঘরে আগুন দিয়েছে। এ সময় তাদের গুলিতে ২০ জন রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হয়েছে। অনেকে মারাও গেছে। প্রাণে বাঁচতে তারা নাফ নদ পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জান্তা বাহিনী আগে এসব এলাকায় তাণ্ডব করেনি। এখন মিয়ানমার সরকারের পাশাপাশি বেশি নির্যাতন করছে আরাকান আর্মি। তাদের দলে যোগ না দিলে হত্যার হুমকি দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের। নইলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধের সুযোগকে ব্যবহার করে সীমান্তের দালালরা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। আমরা সেসব দালালদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে যাতে নতুন করে রোহিঙ্গা দেশে অনুপ্রবেশ না করে।
টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আটকের পর মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড; কিন্তু ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গারা কৌশলে আবারও টেকনাফ সীমান্তে ভিড় করছে নানান কৌশলে। ফের ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। তারা কিছুতেই ফিরে যেতে চাইছে না মিয়ানমারে। রাতের আঁধারে কারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে তাও বোঝা যাচ্ছে না বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর পক্ষ থেকে। তারপরও তারা রোহিঙ্গা প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে সে-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য কোনো কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।
মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তের বিশাল একটি অংশজুড়ে রয়েছে জলপথ। এ জলপথই মূলত অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের প্রবেশের মূল জায়গা। রোহিঙ্গারা এ ক্ষেত্রে নাফ নদী ব্যবহার করছে। তারা দুই পারের দালালদের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে খুব সহজেই এ দেশে ঢুকে পড়ছে।
শাহপরী দ্বীপের স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কিছু দালাল প্রতিদিন তাদের নিজস্ব ট্রলারে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যাদের ট্রলার নেই তারা ওপার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দায়িত্বে টাকার বিনিময়ে প্রবেশ করাচ্ছেন।
রোববার রাতে গোপনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন মনির হোসেন ও হোসনে আরা নামের দুই রোহিঙ্গা। তারা জানান, রাখাইন রাজ্যে সুএজাতে তাদের গ্রাম। আরাকান আর্মি ও সরকার বাহিনী বিমান হামলা করে তাদের গ্রাম ধ্বংস করে ফেলছে। তাদের গ্রামের অনেক মানুষ মর্টার শেলের আঘাতে মারা গেছেন। রোহিঙ্গাদের সব গ্রামে আরাকান আর্মি ঢুকেছে। তারা এক মাস আগে গ্রাম খালি করে দিয়েছে। তাদের অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর অনেক নির্যাতন করছে আরকান আর্মি।
অনুপ্রবেশকারী মনির হোসেন জানান, ‘আরকান আর্মি রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করছে বলে ফেসবুকে প্রচার করে যাচ্ছে; কিন্তু তারাই চায় আমরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাই। তাই তারা বেশি নির্যাতন করছে আমাদের ওপর। তাই প্রাণে বাঁচতে গ্রাম ছেড়ে চলে যাই অন্য জায়গায়। সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে চলে আসি। তারপর জোবাইর নামক এক দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ লাখ মিয়ানমারের টাকা দিয়ে কথাবার্তা ক্লিয়ার করি। আসার জন্য এক দিন অপেক্ষা করি চরে। পরদিন নৌকা করে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে চুরি করে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার পাড়ায় উঠি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দালালরা ২০-৩০ হাজার টাকার বিনিময় টেকনাফের অরক্ষিত জায়গা দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৭ জন দালালের নাম পাওয়া গেছে যারা টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছে সাবরাংয়ের মুন্ডার ডেইলের দানু মেম্বার, আব্দুল আমিন, শহিদুল ইসলাম, নবী হোসেন, মনজুর, মৌলভী রফিক, শামসু তেলের দোকানদার, বড়ইতলীর রোবেল, শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ার শামসুল আলম প্রকাশ শামিম হাসু, শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া মামুন, নাইথ্যংপাড়ার শামসুল আলম, মো. জাকের, কবির আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইউনুছ ওরফে আঙ্গুলী, মো. ইউনুছ ওরফে ইনাইয়া, বড়ইতলী গ্রামের আমীর হোসেন, ফরিদ উল্লাহ, সাবরাং মগপাড়ার আবদুল্লাহ, মো. ইসমাইল ওরফে লেজা, রাসেল, মো. ইব্রাহীম, জিনাপাড়ার আরাফাত, শাহপরীর দ্বীপের করিম উল্লাহ, সানা উল্লাহ, শামশুল আলম, নুর মোহাম্মদ, জোবাইর সাইফুল ইসলাম, মো. শফিক, মুহাম্মদ মান্নান, করিম উল্লাহ, নজির আহমেদ, মো. শফিক, মো. ফারুক, মো. জয়নাল, নুর হোসেন ও মো. সাদ্দাম প্রমুখ। পুলিশের মানব পাচার তালিকায়ও এদের নাম রয়েছে। আছে অনেকের নামে মানব পাচার আইনে মামলাও।
এসব দালাল ২১টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে। পয়েন্টগুলো হলো- টেকনাফ নাইট্যংপাড়া, জাদিমুড়া, কেরুনতরী, বরইতলী, চৌধুরীপাড়া, তুলাতলী ঘাট, মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং মগপাড়া, লেজিরপাড়া, আচার বনিয়া, জিনাপাড়া, মুন্ডার ডেইল, কচুবনিয়া, খুরের মুখ, মহেষখালীয়াপাড়া, বাহারছড়া ঘাট ও শাহপরীর জালিয়াপাড়া, দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া ও গোলারচর। এসব পয়েন্ট একাধিক মানব পাচার মামলার দালালরা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
তবে দালালদের বিষয়ে বিজিবি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয়। অবশ্য সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।
প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা। তিনি জানান, ‘সীমান্তে কড়া পাহারা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রোধ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দালালদের বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখব।
দালালের বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি তদন্ত আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা শুনেছি তবে আমাদের নজরে আজও আসে নাই। এর আগেও দালালদের আটক করে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠিয়েছি। যদি কোনো দালাল রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওয়ার সিমেট্রি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তিনি ওয়ার সিমেট্রি পরিদর্শনে যান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
ক্রিস্টেনসেনের ওয়ার সিমেট্রি পরিদর্শনের কথা জানিয়ে ফেইসবুকে একটি বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
মেয়রের পোস্টে বলা হয়, পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
এসময় শাহাদাত হোসেন রাষ্ট্রদূতকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরিদর্শনের সময় ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয় দুজনের মধ্যে। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও বলেন বলে মেয়র তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম নগরীর বাদশা মিঞা সড়কে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের জন্য এই ওয়ার সিমেট্রি প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এ ওয়ার সিমেট্রি প্রতিষ্ঠা করে। যুদ্ধ চলাকালীন চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্র বাহিনী চতুর্দশ সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সেখানে স্থাপিত হাসপাতালটি ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চালু ছিল। এসময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় যারা মারা গিয়েছিল, তাদের সম্মানার্থে সমাধিসৌধ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এই সমাধিতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৪০০ মৃতদেহ সমাহিত করা হয়।
মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২ ঘটিকা হতে ৪.৪৫ ঘটিকা পর্যন্ত হালদা নদীর মগদাই স্লুইচ গেট এলাকা হতে কালুরঘাট ব্রিজ (হালদা মোহনা) পর্যন্ত চলমান অভিযানে ৩ জন অবৈধ মৎস্য শিকারীকে হাতেনাতে আটক করে ৫০০ টাকা করে মোট ১৫০০ টাকা সতর্কতামূলক জরিমানা করা হয়।
এ সময় প্রায় ৩৫০০ মিটার ভাসাজাল ও ২০ টি বড়শি জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. রাহাতুল ইসলাম। অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিমসহ নৌ পুলিশের রামদাশহাট ফাঁড়ির এএসআই মোহাম্মদ রমজান আলীর নেতৃত্বে নৌ পুলিশের টিম ও হালদার পাহারাদাররা সহযোগিতা করেন।
পরে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযান সম্পর্কে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেন, হালদার মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে।
নওগাঁয় একটি বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বিলভবানীপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মনতাসুর রহমানের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, অজ্ঞাত ওই নারীকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহটি গোপন করার উদ্দেশ্যে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বাড়ির মালিক মনতাসুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় তার বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকির ভেতরে একটি নারীর মরদেহ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে দেরি হওয়ায় তিনি রাতে নওগাঁ সদর মডেল থানায় বিষয়টি অবহিত করেন। পরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিয়ামুল হক বলেন, মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে স্বাভাবিক হয়েছে ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন চলাচল। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও লাইন মেরামতের কাজ শেষ হলে এই রুটে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে ভৈরব বাজার জংশনের কাছে একটি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হলে সারাদেশের সঙ্গে এই অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘ঢাকা মেইল-২’ ট্রেনটি ভৈরব বাজার জংশন ছেড়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্টেশনের কেবিন মাস্টারের সংকেত পেয়ে ট্রেনটি জংশন থেকে প্রায় ১৫০ মিটার অগ্রসর হতেই ইঞ্জিনের পরের চতুর্থ বগিটি লাইনচ্যুত হয়। এতে স্টেশনের আপ ও ডাউন উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারও যাত্রী। লাইন বন্ধ থাকায় এই রুটের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে একাধিক ট্রেন, ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হন যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পরপরই রাতে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব না হলেও, মঙ্গলবার সকালে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বগিটি লাইন থেকে সরিয়ে নিলে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশনে যাত্রীবাহী ট্রেন ‘ঢাকা মেইল-২ (ডাউন)’ এর একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাত (মঙ্গলবার ভোর) ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ভৈরব স্টেশন থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে জয়েন্ট লাইনের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ফলে ভৈরব জংশন দিয়ে আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে ভৈরব স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে বিরতি শেষে রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। স্টেশন ছেড়ে মাত্র ১৫০ মিটার এগোতেই হঠাৎ বিকট শব্দে ইঞ্জিনের পেছনের চার নম্বর বগিটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। তবে ট্রেনের গতি কম থাকায় এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করার উদ্যোগ নেয়।
স্টেশন মাস্টার আরও নিশ্চিত করেছেন যে, লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার এবং রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন তলব করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় রিলিফ ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ করে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। আপাতত বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের স্টেশনেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উব্ধুদ্ধকরণে ঝিনাইদহে জেলা ইমাম সম্মেলন হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের একটি পার্কে এ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক রিয়াজুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
বক্তারা, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে বলেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে গণভোট সম্পন্ন করতে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা খুৎবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভোটারদের সচেতন হয়ে দায়িত্বশীলভাবে ভোট প্রদানের পরামর্শ দেন। সম্মেলনে জেলার ৬ উপজেলার ৭০০ জন ইমাম অংশ নেয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম জলি বেগম (৪০)। সোমবার সকালে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুপুরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনার পর নিহতের স্বামী রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জানা যায়, উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর এলাকায় আব্দুল আজিজের ভাড়াটিয়া রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ইসলাম কয়েকদিন ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে তার স্ত্রী জলি বেগমের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় মানসিক ভারসাম্যহীন রবিউল ইসলামকে আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা জেলার আতাইকুলা থানায় বনগ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে জলি আক্তার ও একই এলাকার আবির হকের ছেলে রবিউল ইসলাম উত্তর সোনাপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ মিয়ার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। হঠাৎ রবিউল ইসলাম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সোমবার বাড়ি ফাঁকা পেয়ে তার স্ত্রীকে গলা চেপে ধরে হত্যা করে।
সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
‘অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস’ এ প্রতিবাদ্য নিয়ে সোমবার সকালে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সদস্য জিএম আবুল কালাম কায়কোবাদ, বিশেষ অতিথি যশোর অঞ্চলের কর কমিশনার মাসুদ রানা, যশোর ভ্যাট কমিশনার মো. আব্দুল হাকিম, বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি শামছুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে রাজস্ব আহরণের কোনো বিকল্প নেই। সে কারণে সামর্থ্যবান প্রতিটি সেক্টর এবং ব্যক্তিকে করের আওতায় আনতে হবে। রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা আনতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে।
কাতারে কর্মরত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার এক প্রবাসী নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার কাতারের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে একটি বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত চারতলা ভবন থেকে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত প্রবাসীর নাম লিটন দাস (২৩)। তিনি কুলাউড়া উপজেলার ছকাপন এলাকার বাসিন্দা নান্টু দাসের ছেলে।
লিটন দাসের বন্ধু জামিল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কাজের সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে চারতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে যান লিটন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান। লিটনের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, সহকর্মী ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ চট্টগ্রামের উদ্যোগে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে শীতার্ত মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। নবম তম শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি ২০২৬ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বৌদ্ধ পরিষদ নোয়াখালী শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
সোমবার দুপুরে সোনাইমুড়ী পৌরসভার কৌশল্যারবাগ শহীদ জীবন কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার চত্বরে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের হাতে কম্বল তুলে দেন আগত অতিথিরা।
নোয়াখালী বৌদ্ধ পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, শহীদ জীবন-কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক সৌরভ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী বৌদ্ধ পরিষদের সভাপতি, শহীদ জীবন-কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার কমিটির সভাপতি সংঘ সেবক বড়ুয়া।
নোয়াখালী বৌদ্ধ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কমিটি সোনাইমুড়ী উপজেলার সদস্য, মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত প্রবীর বড়ুয়া।
সংগঠক বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ, শহীদ জীবন-কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রিপন বড়ুয়া।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও শহীদ জীবন-কুসুম সর্বজনীন বৌদ্ধ বিহার কমিটির সদস্যরা।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসব, নিরাপত্তা আর শৃঙ্খলার বার্তা থাকলেও নবীনবরণ আয়োজনের অর্থায়ন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন। কারণ, এই আয়োজনের স্পন্সর তালিকায় রয়েছে একটি তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী সিগারেট কোম্পানি।
গত রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করলেও, মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির সঙ্গে তামাক কোম্পানির স্পন্সরশিপ কতটা সাংঘর্ষিক তা নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা।
নবীনবরণ উপলক্ষে ক্যাম্পাস এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং প্রক্টোরিয়াল বডির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর থাকবে। অথচ মূল স্টেজের পাশেই ওপেনে মেয়েদেরকে দিয়ে বিক্রি হচ্ছে সিগারেট সাথেই ফ্রি দিচ্ছে গ্যাস লাইট।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় সোনার বাংলা সার্কাস, লালন ও সাব-কনশাস। কিন্তু এসব আয়োজনের পেছনে অর্থায়ন নিয়ে সামনে আসে বিতর্কিত তথ্য। জানা যায়, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের অন্যতম স্পন্সর হিসেবে যুক্ত রয়েছে রিয়াল ডায়মন্ড নামের একটি সিগারেট কোম্পানি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির উপস্থিতি মাদকবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।
ক্যাম্পাসের বাংলা বিভাগের একটা ছাত্র নাইম উদ্দিন জানান, একদিকে শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে তামাক কোম্পানির স্পন্সর গ্রহণ এটি দ্বিচারিতার উদাহরণ। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এমন বার্তা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর। তামাকও এক ধরনের নেশাজাত পণ্য। সেটিকে পরোক্ষভাবে প্রমোট করার সুযোগ দেওয়া হলে জিরো টলারেন্স নীতির নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইলিয়াস হোসেন বলেন, স্পন্সর হিসেবে যাদের রাখা হয়েছে, সে বিষয়টি ওরিয়েন্টেশন কমিটি ভালোভাবে জানে। তবে ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে।
অন্যদিকে ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সানজিয়া সুলতানা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। এগুলো আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক স্যার দেখেছেন। স্পন্সর সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। স্পন্সরশিপের অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেনের প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দাপ্তরিক টেবিলে বসেই একজন ঠিকাদারের সঙ্গে ঘুষের টাকা নিয়ে দর কষাকষি করছেন তিনি। গত রোববার রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ঠিকাদার প্রকৌশলী ইমরান হোসেনকে ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডিল (৫০ হাজার টাকা) দিচ্ছেন। কিন্তু দাবিকৃত টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বান্ডিলটি বারবার ঠিকাদারের দিকে ছুড়ে দেন। পরবর্তীতে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার পর তিনি তা গ্রহণ করেন এবং প্যান্টের পকেটে রাখেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘উত্তর বিশিউড়া এলাকার একটি রাস্তার কাজের বিল সংক্রান্ত বিষয়ে ওই ঠিকাদার টাকা দিচ্ছিলেন। কেউ বিষয়টি ভিডিও করছে তা আমি বুঝতে পারিনি। তবে অফিসে বসে এভাবে টাকা নেওয়া আমার ভুল হয়েছে।’ নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ: অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও ইমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা সদরেই কর্মরত। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে এক আদেশে তাকে জেলা পরিষদে বদলি করা হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি সদর উপজেলা কার্যালয়েই রয়ে গেছেন। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরান জানান, ভিডিওটির বিষয়ে তিনি অবগত এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনমনে প্রতিক্রিয়া: সরকারি অফিসে বসে প্রকাশ্যে এমন ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সমাজে ‘কাজ মানেই টাকা’ এমন এক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা এসব অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নেত্রকোনাবাসী।
ঝালকাঠিতে নিলুফা ইয়াসমিন নামের পঞ্চাশোর্ধ এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে সজল খান নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক সজল নিহত নিলুফার ছেলের বন্ধু। নিলুফার নাক ও কানে ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার লুফে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সজল পুলিশের কাছে শিকার করেছে।
গত রোববার রাতে সজলকে আটকের পরে তার কাছ থেকে নিহত নিলুফার নাক ও কানের স্বর্ণালংকার এবং নিলুফার ব্যাবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিলুফা ইয়াসমিন খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক সজলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত রোববার মধ্যরাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন নিহতের পরিবার ও এলাকার নারী-পুরুষ।
উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি সকাল ৬ টায় ঝালকাঠি পৌর খেয়াঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নিলুফা ইয়াসমিন নামের ঐ নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের নাকে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। কানের দুল ও নাক ফুল নেওয়ার জন্যই ওই নারীকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ধারণা করে।