মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্ত রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। রাখাইন এলাকা থেকে বিতাড়িত শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার। দালালদের মতে প্রতিদিন এ সংখ্যা হাজারের ওপরে। সে হিসাবে নতুন করে ৫০ হাজার থেকে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দালালদের সহযোগিতায় গোপনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।
মিয়ানমারে জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা এখনো থামেনি। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ২০-৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে গোপনে অনুপ্রবেশের ব্যবস্থা করেই যাচ্ছে এসব দালালচক্র।
এদিকে, অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় আটক করে রোহিঙ্গাদের দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের শতাধিক নৌকাকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন কোস্টগার্ড ও বর্ডারগার্ড বিজিবি।
সীমান্তে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নজরদারি কম এমন পয়েন্ট দিয়েই রাতের আঁধারে দালালরা রোহিঙ্গাদের এ দেশে আনছেন। বিনিময়ে নিচ্ছেন জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তাই সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, প্রাণের ভয়ে তারা গ্রাম ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ওপারে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তাদের মতো আরও অনেকে এপারে চলে আসার পথ খুঁজছে। মংডুর নলবাইন্যা ও মেরোংলা এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে আরাকান আর্মি ২০০টি ঘরে আগুন দিয়েছে। এ সময় তাদের গুলিতে ২০ জন রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হয়েছে। অনেকে মারাও গেছে। প্রাণে বাঁচতে তারা নাফ নদ পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জান্তা বাহিনী আগে এসব এলাকায় তাণ্ডব করেনি। এখন মিয়ানমার সরকারের পাশাপাশি বেশি নির্যাতন করছে আরাকান আর্মি। তাদের দলে যোগ না দিলে হত্যার হুমকি দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের। নইলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধের সুযোগকে ব্যবহার করে সীমান্তের দালালরা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। আমরা সেসব দালালদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে যাতে নতুন করে রোহিঙ্গা দেশে অনুপ্রবেশ না করে।
টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আটকের পর মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড; কিন্তু ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গারা কৌশলে আবারও টেকনাফ সীমান্তে ভিড় করছে নানান কৌশলে। ফের ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। তারা কিছুতেই ফিরে যেতে চাইছে না মিয়ানমারে। রাতের আঁধারে কারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে তাও বোঝা যাচ্ছে না বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর পক্ষ থেকে। তারপরও তারা রোহিঙ্গা প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে সে-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য কোনো কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।
মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তের বিশাল একটি অংশজুড়ে রয়েছে জলপথ। এ জলপথই মূলত অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের প্রবেশের মূল জায়গা। রোহিঙ্গারা এ ক্ষেত্রে নাফ নদী ব্যবহার করছে। তারা দুই পারের দালালদের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে খুব সহজেই এ দেশে ঢুকে পড়ছে।
শাহপরী দ্বীপের স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কিছু দালাল প্রতিদিন তাদের নিজস্ব ট্রলারে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যাদের ট্রলার নেই তারা ওপার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দায়িত্বে টাকার বিনিময়ে প্রবেশ করাচ্ছেন।
রোববার রাতে গোপনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন মনির হোসেন ও হোসনে আরা নামের দুই রোহিঙ্গা। তারা জানান, রাখাইন রাজ্যে সুএজাতে তাদের গ্রাম। আরাকান আর্মি ও সরকার বাহিনী বিমান হামলা করে তাদের গ্রাম ধ্বংস করে ফেলছে। তাদের গ্রামের অনেক মানুষ মর্টার শেলের আঘাতে মারা গেছেন। রোহিঙ্গাদের সব গ্রামে আরাকান আর্মি ঢুকেছে। তারা এক মাস আগে গ্রাম খালি করে দিয়েছে। তাদের অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর অনেক নির্যাতন করছে আরকান আর্মি।
অনুপ্রবেশকারী মনির হোসেন জানান, ‘আরকান আর্মি রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করছে বলে ফেসবুকে প্রচার করে যাচ্ছে; কিন্তু তারাই চায় আমরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাই। তাই তারা বেশি নির্যাতন করছে আমাদের ওপর। তাই প্রাণে বাঁচতে গ্রাম ছেড়ে চলে যাই অন্য জায়গায়। সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে চলে আসি। তারপর জোবাইর নামক এক দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ লাখ মিয়ানমারের টাকা দিয়ে কথাবার্তা ক্লিয়ার করি। আসার জন্য এক দিন অপেক্ষা করি চরে। পরদিন নৌকা করে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে চুরি করে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার পাড়ায় উঠি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দালালরা ২০-৩০ হাজার টাকার বিনিময় টেকনাফের অরক্ষিত জায়গা দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৭ জন দালালের নাম পাওয়া গেছে যারা টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছে সাবরাংয়ের মুন্ডার ডেইলের দানু মেম্বার, আব্দুল আমিন, শহিদুল ইসলাম, নবী হোসেন, মনজুর, মৌলভী রফিক, শামসু তেলের দোকানদার, বড়ইতলীর রোবেল, শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ার শামসুল আলম প্রকাশ শামিম হাসু, শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া মামুন, নাইথ্যংপাড়ার শামসুল আলম, মো. জাকের, কবির আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইউনুছ ওরফে আঙ্গুলী, মো. ইউনুছ ওরফে ইনাইয়া, বড়ইতলী গ্রামের আমীর হোসেন, ফরিদ উল্লাহ, সাবরাং মগপাড়ার আবদুল্লাহ, মো. ইসমাইল ওরফে লেজা, রাসেল, মো. ইব্রাহীম, জিনাপাড়ার আরাফাত, শাহপরীর দ্বীপের করিম উল্লাহ, সানা উল্লাহ, শামশুল আলম, নুর মোহাম্মদ, জোবাইর সাইফুল ইসলাম, মো. শফিক, মুহাম্মদ মান্নান, করিম উল্লাহ, নজির আহমেদ, মো. শফিক, মো. ফারুক, মো. জয়নাল, নুর হোসেন ও মো. সাদ্দাম প্রমুখ। পুলিশের মানব পাচার তালিকায়ও এদের নাম রয়েছে। আছে অনেকের নামে মানব পাচার আইনে মামলাও।
এসব দালাল ২১টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে। পয়েন্টগুলো হলো- টেকনাফ নাইট্যংপাড়া, জাদিমুড়া, কেরুনতরী, বরইতলী, চৌধুরীপাড়া, তুলাতলী ঘাট, মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং মগপাড়া, লেজিরপাড়া, আচার বনিয়া, জিনাপাড়া, মুন্ডার ডেইল, কচুবনিয়া, খুরের মুখ, মহেষখালীয়াপাড়া, বাহারছড়া ঘাট ও শাহপরীর জালিয়াপাড়া, দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া ও গোলারচর। এসব পয়েন্ট একাধিক মানব পাচার মামলার দালালরা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
তবে দালালদের বিষয়ে বিজিবি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয়। অবশ্য সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।
প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা। তিনি জানান, ‘সীমান্তে কড়া পাহারা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রোধ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দালালদের বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখব।
দালালের বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি তদন্ত আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা শুনেছি তবে আমাদের নজরে আজও আসে নাই। এর আগেও দালালদের আটক করে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠিয়েছি। যদি কোনো দালাল রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাইফুল ইসলাম (চাষী সাইফুল) নামে এক কলেজ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সাইফুল ইসলাম জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে। তিনি গত তিন বছর ধরে রামচন্দ্রপুর অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজে ইংরেজি বিষয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী জানান, গত ৫ তারিখে তিনি কলেজে ক্লাস নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তিনি মাঝেমধ্যে কাউকে কিছু না জানিয়েই কয়েকদিন কলেজে অনুপস্থিত থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৮ মার্চ) শিক্ষার্থীরা তার ভাড়া বাসায় এসে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা ফিরে যান।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজার দুটি তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে পচন ধরেছে, ধারণা করা হচ্ছে চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পাবনার বেড়ায় মরহুম অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম এবং বেগম নূরুন্নাহার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সিএন্ডবি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নূরুন্নাহার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বেড়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ ফজলুর রহমান ফকির এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও বিশিষ্ট চিকিৎসক আলহাজ ডা. আব্দুল বাসেত খান।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর (অব.) এ.টি.এম ফজলুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে ক্রেস্ট ও বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে পবিত্র কোরআনের আদর্শে জীবন গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন।
পুরস্কার বিতরণ শেষে মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এসেছে। ইতোমধ্যে পুরো দেশের দৃশ্যপট তিনি বদলে দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানিসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বগুড়া পৌর ও সদর উপজেলার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন বরাদ্দ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা বলেন, তাই করে দেখান। ভোটের সময় দেয়া হাতের কালি শুকানোর আগেই তার নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশবাসীর কাছে তার সুফল দৃশ্যমান।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তারেক রহমানের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নজিরবিহীন। যা দেখে দেশের মানুষ অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে। সরকার পরিচালনায় বিএনপির অভিজ্ঞতা, গৌরবোজ্জ্বল অতীত ও সুনাম রয়েছে। যা অন্য রাজনৈতিক দলের নেই। সেই জন্যই গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিএনপি দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। যেখানে মানুষ জান-মালের নিরাপত্তা পাবে। শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।
বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেলের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, জজকোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম টুকু, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা বেগম প্রমুখ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পাঁচ দোকানিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত হাটহাজারীর বিভিন্ন ঈদ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ‘ঈদ বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল, কেনা-বেচার সঠিক রশিদ/ ডকুমেন্টস সংরক্ষণ না করে বেশি দামে বিক্রয়, যথাযথ লাইসেন্স না রাখা, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না রাখা ইত্যাদি অপরাধে জুয়েলকে ২০ হাজার, আবু তাহেরকে ১০ হাজার, লোকমানকে ১০ হাজার, মো. রায়হান রাজুকে ১০ হাজার ও মুশফিকুর রহমানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পবিত্র রমজানের ঈদের শপিং যেন মানুষ নির্বিঘ্নে করতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ করেন।
যশোরের কেশবপুরে অনলাইন (ভিডিও কলে) চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ৮ মাস বয়সী শিশু আরিয়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের মালিক বিদেশে অবস্থান করে অনলাইনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানালে হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীরা মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১১ মার্চ) সকালে কেশবপুর শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেক্সোনা খাতুন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হয় এবং সেখানে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন ইউএনও। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিলবোর্ড খুলে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেসময় উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেশবপুরে কিছু অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ীর কারণে প্রায়ই ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটছে। এতে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কেশবপুরবাসী।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৫১টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি সরকারের দেওয়া ২২৪ প্যাকেট খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে এসব খেজুর তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হোসেন খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন, ময়নুল হক পবন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা কামরুল হাসান, শাহিন আহমদ ও ফেরদৌস আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এসব খেজুর প্রদান করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে একটি বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রমে সংযোগ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে এ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জেলা কো-অর্ডিনেটর মুন্সী মো. আবু হাসান, উপদেষ্টা কে এম সালেহ, শাহানুর আলম, কাজী আলী আহম্মেদ লিকু, জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইসমত আরাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসরত ২৪ জন মায়ের হাতে ঈদ উপহার হিসেবে নতুন শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। উপহার পেয়ে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজান মাসজুড়ে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের জন্য প্রতিদিন ইফতারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়াও সমাজে আত্মকর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে হরিণাকুন্ডু উপজেলার দুটি মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে।
আয়োজকরা বলেন, সমাজের অবহেলিত ও বয়স্ক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।
বাড়ির পাশেই রেল লাইন। পোষা ছাগল ছুটে রেলনাইনের ওপর উঠে পড়ে। ছাগল ধরে আনতে গিয়ে রেলে কাটা পড়েন আমিনুর রহমান ওরফে চান মিয়া(৫৫) নামে এক কৃষক।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সারুলিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আমিনুর সারুলিয়া গ্রামের তামজেল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে চান মিয়ার বাড়িসংলগ্ন রেল লাইনের পাশে ছাগল বাধতে যান। ছাগলটি দৌড়ে রেল লাইনের ওপর উঠে পড়ে। দড়ি ধরে টেনে আনতে যান। প্রতিদিনের মতো এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে তিনি কাটা পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী একই গ্রামের হোসেন আলী ও ইদ্রিস মোল্যা বলেন,আমরা রেল লাইনের বিপরীত পাশের জমিতেই কাজ করছিলাম। ট্রেন আসছে চিৎকার করে চান মিয়াকে দুই তিনবার বলেছি। মনে হয় ট্রেনের বিকট শব্দে তিনি তা শুনতে পাননি। ফলে চান মিয়া ট্রেনে কাটা পড়ে। তারা বলেন চান মিয়া কৃষি কাজ করে। আমাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন ঘটনা স্থলে ছুটে আসে। মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ বাড়িতে
আসে।
লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল রেলের জায়গায় হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রভাস চন্দ্র সিংহকে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১১ মার্চ) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে।
একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে প্রভাস চন্দ্র সিংহের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মানী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসমা সুলতানা নাসরীন এই তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের লিখিত জবানবন্দি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রভাস চন্দ্র সিংহকে উপপরিচালক ও ভিডিও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তার নিয়োগের পরপরই একাডেমির নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র, নাট্য ও সংগীত প্রশিক্ষকসহ অফিস সহায়করা একযোগে তার দায়িত্ব প্রাপ্তির বিরোধিতা করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসবের প্রশিক্ষণ বিল নিজ নামে উত্তোলন, শিল্পীদের নামে-বেনামে ভুয়া ভাউচারে টাকা তুলে আত্মসাৎ, শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মানী সঠিকভাবে প্রদান না করাসহ নানা অভিযোগ উল্লেখ করে ১ ডিসেম্বর তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
গত সোমবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিউলী হরি স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে উপপরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই জেলা প্রশাসন নতুন দায়িত্বের বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়।
এ বিষয়ে প্রভাস চন্দ্র সিংহ জানান, বর্তমানে তাকে একাডেমির তার পূর্বের পদ ‘গবেষণা বিষয়ক কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, একাডেমির নবনিযুক্ত পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে এই একাডেমির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য আরও বেড়েছে বিচ জবা ফুলের (স্থানীয় ভাষায় বলই) সৌন্দর্যে। নদীর ধার এবং খালের পাড় ঘেঁষে এই গাছের হলুদ ফুলের মধ্যে গাঢ় মেরুন রঙের কেন্দ্র বিশেষভাবে চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, এই গাছ মূলত উপকূলীয় মাটি ও লবণাক্ত পরিবেশে ভালো জন্মে। এ কারণে সুন্দরবনের আশেপাশের এলাকায় বিচ জবা প্রচুর দেখা যায়। ফুল ফোটার সময় গাছের সৌন্দর্য পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীদের আকর্ষণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মীর বলেন, ‘এই গাছের ছায়া ও পাতা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাখি ও কীটপতঙ্গরা এখানে বাস করে।’ এছাড়া বিচ জবার কাঠ ও ছাল স্থানীয়ভাবে ব্যবহার হয় গৃহস্থালি কাজে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বিচ জবার সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা প্রয়োজন, যাতে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
ফলে বলা যায়, বিচ জবা কেবল ফুল নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার।
রাজশাহী বার সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তারা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। সভাপতি পদে এই প্যানেল থেকেই আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক পদে পারভেজ তৌফিক জাহেদী নির্বাচিত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং আধা ঘণ্টা বিরতির পর বেলা দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ নম্বর বার ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ৬৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ৬২৬ জন ভোট দেন। গণনা শেষে রাতে ফল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন কমিশনার শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম সেলিম জানান, নির্বাচনে বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যানেল। তবে শুধু সহ-সভাপতি পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম মিজানুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মাহাবুবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মজিজুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) ইমতিয়ার মাসরুর আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ) নুর-এ কামরুজ্জামান ইরান, হিসাব সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শামীম, লাইব্রেরি সম্পাদক সেলিম রেজা মাসুম, অডিট সম্পাদক তানভীর আহমেদ জুলেট, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সম্পাদক শাহজামাল, ম্যাগাজিন অ্যান্ড কালচার সম্পাদক জানিজ ফাতেমা কাজল এবং সদস্য ইয়াসিন আলী, শামীম আহমেদ, মাঈনুর রহমান, হাফিজুল ইসলাম, জাকির হোসেন (২), শাহীন আলম মাহমুদ, রেশমা খাতুন, হুমায়ুন কবির শাম্মী এবং রহিমা খাতুন।
নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে পৃথক দুটি প্যানেলে ৪২ জন প্রার্থী এবং স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে একজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
গাংনী উপজেলার পোড়াপাড়া গ্রামে একটি ইটভাটায় মাটি বহনকারি ড্রামট্রাক বিদ্যুতায়িত হয়ে গাড়িতে থাকা জহিরুল ইসলাম (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সহকারী সজীব (৩০) গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জহিরুল ইসলাম গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল গ্রামের মৃত আব্দুল মাজিদের ছেলে। আহত সজীব একই উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের লাল্টু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, পোড়াপাড়া গ্রামের ময়নালের থ্রি-স্টার ইটভাটায় মাটি ফেলে ফেরার সময় ড্রামট্রাকটি অসাবধানতাবশত ইটভাটার বৈদ্যুতিক সংযোগের মেন তারের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এতে মুহূর্তেই ট্রাকটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই চালক জহিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সহকারী সজীবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ড্রামট্রাকের মালিক কাফিরুল ইসলাম জানান, নিহত জহিরুল ইসলাম প্রায় ৫ বছর ধরে তার ড্রামট্রাকটি চালাচ্ছিলেন।
রাতে ইটভাটায় মাটি রেখে ফেরার সময় অসাবধানতাবশত ট্রাকের ড্রাম পুরোপুরি নামানো না থাকায় সেটি বৈদ্যুতিক খুঁটির মেন তারের সাথে স্পর্শ করে বিদ্যুতায়িত হয়।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী পঞ্চগড় বাজার পূর্বে এটি ছিল হাঁট-কালের বিবর্তনে বর্তমানে বাজারে পরিণত হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার এটি। বাজার তৈরি হওয়ার পর থেকে নারীদের জন্য কোন প্রকার ওয়াশ ব্লক ছিল না। ওয়াশ ব্লক না থাকায় নারীদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক নারীরা তাদের আত্মীয়দের বাসায় যান। যাদের কোন নিকটতম আত্মীয় নেই সে সব নারীদের বাধ্য হয়ে কেনাকাটা বাদ দিয়ে বাড়ির পথে হাটতে হয়।
সে সব বিষয় বিবেচনা করে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন। পঞ্চগড় পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার কয়েক বছর পরেই পুরুষদের ওয়াশ ব্লক তৈরি হয় কিন্তু ৩ যুগ পরেই নারীদের ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদ।
একজন ভোক্তভোগী , মোছাঃ ফাতেমা বেগম ৯নং মাগুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি জানান, বাজার করতে এসে ওয়াশ ব্লকের প্রয়োজন হলে তখন আমাদেরকে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে হয়। তিনি আরও জানান যে ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি হয়েছে সেই ওয়াশ ব্লক খোলা হলে আমাদের নারীদের জন্য অনেক উপকার হবে বলে আশা করি।
পঞ্চগড় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এ মহিলাদের জন্য ২টি ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেন জেলা পরিষদ পঞ্চগড় অর্থবছর ২০২৪-২৫খ্রি.।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভা:) জেলা পরিষদ পঞ্চগড়, অঞ্জন কুমার সরকার জানান যে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাবি নেওয়া হয়েছে, পূর্বে থেকে পুরুষের ওয়াশ ব্লক রয়েছে, সেই স্থানেই বর্তমানে নারীদের ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হয়েছে, আগামীকাল খোলার পর পরিষ্কার পরি”ছন্নতার পরে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে, এবং নারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে।