বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

ঠেকানো যাচ্ছে না রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড
১৬ জুলাই, ২০২৪ ০০:১৪
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৪ ০০:১৪

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্ত রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। রাখাইন এলাকা থেকে বিতাড়িত শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার। দালালদের মতে প্রতিদিন এ সংখ্যা হাজারের ওপরে। সে হিসাবে নতুন করে ৫০ হাজার থেকে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দালালদের সহযোগিতায় গোপনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা এখনো থামেনি। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ২০-৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে গোপনে অনুপ্রবেশের ব্যবস্থা করেই যাচ্ছে এসব দালালচক্র।

এদিকে, অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় আটক করে রোহিঙ্গাদের দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের শতাধিক নৌকাকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন কোস্টগার্ড ও বর্ডারগার্ড বিজিবি।

সীমান্তে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নজরদারি কম এমন পয়েন্ট দিয়েই রাতের আঁধারে দালালরা রোহিঙ্গাদের এ দেশে আনছেন। বিনিময়ে নিচ্ছেন জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তাই সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, প্রাণের ভয়ে তারা গ্রাম ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ওপারে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তাদের মতো আরও অনেকে এপারে চলে আসার পথ খুঁজছে। মংডুর নলবাইন্যা ও মেরোংলা এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে আরাকান আর্মি ২০০টি ঘরে আগুন দিয়েছে। এ সময় তাদের গুলিতে ২০ জন রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হয়েছে। অনেকে মারাও গেছে। প্রাণে বাঁচতে তারা নাফ নদ পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জান্তা বাহিনী আগে এসব এলাকায় তাণ্ডব করেনি। এখন মিয়ানমার সরকারের পাশাপাশি বেশি নির্যাতন করছে আরাকান আর্মি। তাদের দলে যোগ না দিলে হত্যার হুমকি দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের। নইলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধের সুযোগকে ব্যবহার করে সীমান্তের দালালরা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। আমরা সেসব দালালদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে যাতে নতুন করে রোহিঙ্গা দেশে অনুপ্রবেশ না করে।

টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আটকের পর মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড; কিন্তু ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গারা কৌশলে আবারও টেকনাফ সীমান্তে ভিড় করছে নানান কৌশলে। ফের ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। তারা কিছুতেই ফিরে যেতে চাইছে না মিয়ানমারে। রাতের আঁধারে কারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে তাও বোঝা যাচ্ছে না বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর পক্ষ থেকে। তারপরও তারা রোহিঙ্গা প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে সে-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য কোনো কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তের বিশাল একটি অংশজুড়ে রয়েছে জলপথ। এ জলপথই মূলত অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের প্রবেশের মূল জায়গা। রোহিঙ্গারা এ ক্ষেত্রে নাফ নদী ব্যবহার করছে। তারা দুই পারের দালালদের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে খুব সহজেই এ দেশে ঢুকে পড়ছে।

শাহপরী দ্বীপের স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কিছু দালাল প্রতিদিন তাদের নিজস্ব ট্রলারে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যাদের ট্রলার নেই তারা ওপার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দায়িত্বে টাকার বিনিময়ে প্রবেশ করাচ্ছেন।

রোববার রাতে গোপনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন মনির হোসেন ও হোসনে আরা নামের দুই রোহিঙ্গা। তারা জানান, রাখাইন রাজ্যে সুএজাতে তাদের গ্রাম। আরাকান আর্মি ও সরকার বাহিনী বিমান হামলা করে তাদের গ্রাম ধ্বংস করে ফেলছে। তাদের গ্রামের অনেক মানুষ মর্টার শেলের আঘাতে মারা গেছেন। রোহিঙ্গাদের সব গ্রামে আরাকান আর্মি ঢুকেছে। তারা এক মাস আগে গ্রাম খালি করে দিয়েছে। তাদের অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর অনেক নির্যাতন করছে আরকান আর্মি।

অনুপ্রবেশকারী মনির হোসেন জানান, ‘আরকান আর্মি রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করছে বলে ফেসবুকে প্রচার করে যাচ্ছে; কিন্তু তারাই চায় আমরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাই। তাই তারা বেশি নির্যাতন করছে আমাদের ওপর। তাই প্রাণে বাঁচতে গ্রাম ছেড়ে চলে যাই অন্য জায়গায়। সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে চলে আসি। তারপর জোবাইর নামক এক দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ লাখ মিয়ানমারের টাকা দিয়ে কথাবার্তা ক্লিয়ার করি। আসার জন্য এক দিন অপেক্ষা করি চরে। পরদিন নৌকা করে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে চুরি করে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার পাড়ায় উঠি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দালালরা ২০-৩০ হাজার টাকার বিনিময় টেকনাফের অরক্ষিত জায়গা দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৭ জন দালালের নাম পাওয়া গেছে যারা টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছে সাবরাংয়ের মুন্ডার ডেইলের দানু মেম্বার, আব্দুল আমিন, শহিদুল ইসলাম, নবী হোসেন, মনজুর, মৌলভী রফিক, শামসু তেলের দোকানদার, বড়ইতলীর রোবেল, শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ার শামসুল আলম প্রকাশ শামিম হাসু, শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া মামুন, নাইথ্যংপাড়ার শামসুল আলম, মো. জাকের, কবির আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইউনুছ ওরফে আঙ্গুলী, মো. ইউনুছ ওরফে ইনাইয়া, বড়ইতলী গ্রামের আমীর হোসেন, ফরিদ উল্লাহ, সাবরাং মগপাড়ার আবদুল্লাহ, মো. ইসমাইল ওরফে লেজা, রাসেল, মো. ইব্রাহীম, জিনাপাড়ার আরাফাত, শাহপরীর দ্বীপের করিম উল্লাহ, সানা উল্লাহ, শামশুল আলম, নুর মোহাম্মদ, জোবাইর সাইফুল ইসলাম, মো. শফিক, মুহাম্মদ মান্নান, করিম উল্লাহ, নজির আহমেদ, মো. শফিক, মো. ফারুক, মো. জয়নাল, নুর হোসেন ও মো. সাদ্দাম প্রমুখ। পুলিশের মানব পাচার তালিকায়ও এদের নাম রয়েছে। আছে অনেকের নামে মানব পাচার আইনে মামলাও।

এসব দালাল ২১টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে। পয়েন্টগুলো হলো- টেকনাফ নাইট্যংপাড়া, জাদিমুড়া, কেরুনতরী, বরইতলী, চৌধুরীপাড়া, তুলাতলী ঘাট, মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং মগপাড়া, লেজিরপাড়া, আচার বনিয়া, জিনাপাড়া, মুন্ডার ডেইল, কচুবনিয়া, খুরের মুখ, মহেষখালীয়াপাড়া, বাহারছড়া ঘাট ও শাহপরীর জালিয়াপাড়া, দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া ও গোলারচর। এসব পয়েন্ট একাধিক মানব পাচার মামলার দালালরা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

তবে দালালদের বিষয়ে বিজিবি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয়। অবশ্য সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।

প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা। তিনি জানান, ‘সীমান্তে কড়া পাহারা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রোধ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দালালদের বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখব।

দালালের বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি তদন্ত আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা শুনেছি তবে আমাদের নজরে আজও আসে নাই। এর আগেও দালালদের আটক করে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠিয়েছি। যদি কোনো দালাল রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিষয়:

ভোক্তা অধিকার বিরোধী অপরাধে প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক সদর উপজেলার জামরুলতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে পরিচালিত অভিযানে তেল শিশুখাদ্যের দোকান বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়।

এসময় পূর্বে সতর্ক করা স্বত্তেও নিম্নমানের অননুমোদিত শিশুখাদ্য বিক্রয়, মোড়কীকরণ বিধি বহির্ভূত শিশু খাদ্য বিক্রয়, নিম্নমানের শিশুখাদ্যে বিভিন্ন খেলনা দিয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় ইত্যাদি অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৭ ও ৫১ ধারায় জামরুলতলার মেসার্স মেসার্স সুভাষ স্টোরকে ১,০০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় ভবিষ্যতে এধরণের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে পুনরায় সতর্ক করা হয়।

পরবর্তীতে অন্যান্য পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এসময় সবাইকে নকল ভেজাল পণ্য বিক্রয় না করা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, মুল্যতালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন করা, পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার যথাযথভাবে প্রদান ও সংরক্ষণ করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ড্যামেজ পণ্য বিক্রয় না করা, পণ্যের মোড়কীকরণ বিধি বহির্ভূত পণ্য বিক্রয় না করা, অতিরিক্ত মুনাফা না করা ইত্যাদি ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।

সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মো: ফয়েজুল কবীর, ডি এস আই, মাগুরা ও মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।


হালুয়াঘাটে গারো পাহাড়ের ঢলে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: পানিবন্দি হাজারো মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর গত দুই দিনের অঝোর ধারায় বৃষ্টিতে ভাসছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট। ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে আসা আকস্মিক এই ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও কৃষি ভূমি তলিয়ে গিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, আর চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকের বোরো ধানের স্বপ্ন এখন দুশ্চিন্তার কালো মেঘে ঢাকা।

মুহূর্তেই বদলে গেল দৃশ্যপট: দু’দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে উপজেলার ভুবনকুড়া, গাজিরভিটা, হালুয়াঘাট সদর, কালিয়ানি কান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানির তোড় সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরাঘাট নদীসহ আশপাশের খালগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন পানির নিচে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে থাকা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ এখন চরমে।

কৃষকের হাহাকার: চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হালুয়াঘাটের প্রান্তিক কৃষকেরা বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন। মাঠজুড়ে ছিল সোনালি বোরো ধানের সমারোহ। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে আকস্মিক এই বন্যায়। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন পানির নিচে। স্থানীয় একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘সারা বছরের খোরাকি এই ধানটুকু নিয়ে স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন ধান কাটা তো দূরের কথা, জান বাঁচানোই দায়।’ ধান কাটার আগেই ফসল তলিয়ে যাওয়ায় শত শত কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও জনদুর্ভোগ: পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় অনেক কাঁচা রাস্তা ধসে পড়েছে। নদী ও খালের পাড় ঘেঁষে থাকা বাড়িগুলোতে পানি প্রবেশ করায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনমনে ভীতি আরও বেড়েছে।

প্রশাসনের আশ্বাস: সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকার দুটি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের সংবাদ পাওয়া গেছে। ঢলের পানির চাপে দুটি কাঁচা রাস্তা ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’

হালুয়াঘাটের এই সংকটময় মুহূর্তে বোরো ধান রক্ষায় পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত খাদ্য সহায়তা প্রদান এখন সময়ের দাবি। প্রকৃতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই উৎকণ্ঠা কাটছে না সীমান্তবর্তী এই জনপদের মানুষের।


সবুজের ছোঁয়ায় শৈল্পিক অবসর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

শহুরে যান্ত্রিকতার মাঝে এক চিলতে প্রশান্তি। যেখানে কংক্রিটের ছাদে ডানা মেলেছে শত প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাঝদক্ষিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা লায়লা খলিল তার সৃজনশীল ছোঁয়ায় গড়ে তুলেছেন এক দৃষ্টিনন্দন স্বর্গরাজ্য।

সবুজের গালিচায় হরেক আয়োজন: বাগানে পা রাখলেই চোখে পড়ে থরে থরে সাজানো গোলাপ, টগর, কামিনী আর জবার মেলা। শুধু দেশি ফুলই নয়, নজর কাড়ছে বিদেশি অর্কিড আর বাহারি বাগানবিলাসও। দিনের আলোয় যেমন রঙের ছটা চোখ জুড়ায়, রাতের স্নিগ্ধতায় চারপাশ মৌ মৌ গন্ধে হয়ে ওঠে মায়াবী।

সন্তানসম যত্নে গড়ে তোলা স্বপ্ন: শিক্ষকতা জীবনে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে সুনাম কুড়ানো এই বিদ্যাসূর্য অবসরের একঘেয়েমিকে জয় করেছেন প্রকৃতির সেবায়। লায়লা খলিল বলেন, ‘এই গাছগুলো আমার সন্তানের মতো। প্রতিদিন সকালে যখন নতুন ফুল ফোটে, তখন মনের সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়।’

অনুপ্রেরণার এক অনন্য বাতিঘর: বর্তমান সময়ে যখন সবুজ কমছে, তখন তার এই বাগান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এলাকাবাসী জানান, এই বাগানটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং অবসর জীবনকে কীভাবে সৃষ্টিশীল ও আনন্দময় করে তোলা যায়, তার এক অনন্য শিক্ষা। অনেক প্রতিবেশীই এখন তার বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদে সবুজের ছোঁয়া লাগানোর স্বপ্ন দেখছেন।


সাগর না নদীর, দাপ্তরিক দ্বন্দ্বে ‘বিলীন’ কোটি টাকার ইলিশ!

আপডেটেড ১৪ মে, ২০২৬ ১৭:৩১
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১০টা। ভোলা সদর উপজেলার পানপট্টি বাজারসংলগ্ন এলাকায় তিনটি ট্রাক ঘিরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছিল। একপক্ষে কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, অন্যপক্ষে ট্রাকের চালক ও মাছ ব্যবসায়ীরা। যৌথ বাহিনীর দাবি—ট্রাকগুলোতে থাকা ১০ হাজার ১৪০ কেজি ইলিশ নিষিদ্ধ সময়ে সাগর থেকে ধরা। আর ব্যবসায়ীদের দাবি—এগুলো নদীর বৈধ মাছ, যার সরকারি কাগজপত্র তাদের হাতেই রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দাবি টেকেনি। ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এই বিশাল মাছের চালান জব্দ করে পরদিন সকালেই বিলিয়ে দেওয়া হয় স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে। কিন্তু মাছ বিতরণের পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, জব্দ হওয়া মাছ কি আসলেই সাগরের ছিল, নাকি নদীর বৈধ মাছকে সাগরের তকমা দিয়ে বলির পাঁঠা বানানো হলো?

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও নদ-নদীতে ইলিশ আহরণে কোনো বাধা নেই। ব্যবসায়ীরা মৎস্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট ‘অনুমতিপত্র’ দেখিয়ে দাবি করেন, এই ইলিশগুলো মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন স্লুইস মৎস্যঘাটের একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কাছে মৎস্য অফিসের দেওয়া ক্লিয়ারেন্স আছে। নদী থেকে মাছ ধরে আমরা দেশের অন্য প্রান্তে পাঠাচ্ছিলাম। কিন্তু কোস্ট গার্ড কোনো কথা না শুনেই আমাদের মাছগুলো ‘সাগরের’ বলে নিয়ে গেল। মৎস্য অফিসের সরকারি কাগজের কি তবে কোনো দাম নেই?”

এই ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হলো মৎস্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ স্ববিরোধিতা। ভোলা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে মাছ জব্দ ও বিতরণ করা হলেও, চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু দিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।

জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘মাছগুলো যে নদী থেকে আহরিত, তার সত্যতা যাচাই করেই আমি অনুমতিপত্র দিয়েছি। তবে ভোলা সদরে অভিযানটি যখন চলে, তখন আমি সেখানে ছিলাম না। আমার দেওয়া সরকারি কাগজের কেন মূল্যায়ন হলো না, সেটা বড় প্রশ্ন।’

একই দপ্তরের এক কর্মকর্তার দেওয়া বৈধ কাগজ অন্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ‘অবৈধ’ গণ্য হওয়া নিয়ে খোদ মৎস্য বিভাগের ভেতরেই সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে।
পুরো ঘটনার পরতে পরতে এখন হাজারো প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। প্রথমত, সাগরের ইলিশ আর নদীর ইলিশের পার্থক্য করার কোনো স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তাৎক্ষণিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়নি। কেবল অভিজ্ঞতালব্ধ অনুমান বা ‘সন্দেহের’ ওপর ভিত্তি করে কোটি টাকার সম্পদ এভাবে বিতরণ করে দেওয়া আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

দ্বিতীয়ত, যদি ব্যবসায়ীরা জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজ সংগ্রহ করে থাকেন, তবে সেই উৎস শনাক্ত না করে তড়িঘড়ি মাছ বিতরণ কেন শেষ সমাধান হবে? এই অস্পষ্টতা অভিযানকে কেবল একটি সংখ্যাগত সাফল্য হিসেবে দেখাচ্ছে, কিন্তু আইনি ও পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এগুলো সাগরের মাছ। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকার যে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। জব্দকৃত মাছ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই বিতরণ করা হয়েছে।

সাগর ও নদীর মাছের এই ‘আইনি চোর-পুলিশ খেলা’য় ভোলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযান চলাকালীন মাছের উৎস নিশ্চিত করার জন্য বিশেষজ্ঞ দল এবং ল্যাবরেটরি টেস্টের সুযোগ থাকা প্রয়োজন, অন্যথায় এমন বিতর্ক সরকারি পদক্ষেপের নৈতিক উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

জব্দ হওয়া মাছ পেটে গেছে দুস্থদের, কিন্তু কোটি টাকার লোকসানে পড়া ব্যবসায়ীদের দাবি আর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পাহাড়—এই দুইয়ের মাঝে চাপা পড়ে গেছে প্রকৃত সত্য।


সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টার দিকে নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে মিরসরাইয়ে নেওয়া হয়।

সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণকে জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়।

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।


বাউবির ওপেন স্কুল পরিচালিত এসএসসি প্রোগ্রামে সনদবিহীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর ওপেন স্কুল পরিচালিত এসএসসি প্রোগ্রামে ২০২৬ ব্যাচে ভর্তিচ্ছু সনদবিহীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান-এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। এ সময় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মাননীয় উপাচার্যের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ ভর্তি পরীক্ষায় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ওপেন স্কুলের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর আহাম্মদ।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৬৮২৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৫২১৭ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৫০৯৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পরীক্ষায় পাশের হার ৯৭.৬৭ শতাংশ।

ওপেন স্কুল সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার সকল কার্যক্রম অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতায় ফলাফল প্রণয়ন ও প্রকাশ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুল দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, সুবিধাবঞ্চিত ও বিকল্প শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আগামী ১৫ মে ২০২৬ থেকে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


বর্তমান সরকারের নির্বাচনে ইশতেহার বাস্তবায়নে নরসিংদীতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষে গতকাল দুপুরে নরসিংদী জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান এর সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা তথ্য অফিসার ওবায়দুল কবির মোল্লা, নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ আউয়াল, সি, সহ সভাপতি সফিকুল ইসলাম মতি, সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আশিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান মিঠুন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিদয় এস সরকার, কোষাধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন সরকার, ফাহিমা খানম, কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম আজরাফ টিপু,খাদেমুল ইসলাম আল আমিন, ফরিদুজ্জামান সহ প্রমুখ। সভায় জেলা তথ্য অফিসার ওবায়দুল কবির মোল্লা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রচার কার্যক্রমে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ইতিমধ্যে সরকার ফ্যামেলী কার্ড, কৃষক কার্ড, নারী সমাবেশ, ওঠান বৈঠক সংগীতের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম ইতিমধ্যে জনগণের কাছে তোলে ধরতে সক্ষম হয়েছি।এছাড়াও চলচ্চিত্র প্রদশর্নী, পোষ্টার বিতরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমান সরকার গত তিন মাসে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে অনেকাংশেই সফলতার সহিত পরিচালনা করে যাচ্ছে।


নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে আরও সচেতন হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সচেতন হতে হবে।’ বুধবার (১৩ মে) নিজ নির্বাচনী এলাকা দুর্গাপুরের বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি পরিদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ এবং মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনাচার আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি শুধু সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের প্রতীক।’

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘নেত্রকোনার দুর্গাপুর অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এলাকা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সচেতন হতে হবে।’

এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ-সদস্য মাছুম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।


লিবিয়ায় নির্যাতন: ৪৮ লাখ টাকা দিয়েও বাঁচল না যুবক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের নির্যাতনে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার তছির ফকির (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) এই মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের স্বজনরা।

এদিকে কয়েক দফায় ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা দালাল চক্রের সদস্যরা। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। নিহতের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনাসহ দালাল চক্রের শাস্তি দাবি করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। নিহত তছির রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে।

পরিবার ও এলাকাবাসীরা জানায়, টেকেরহাট বন্দরের বাস কাউন্টার এলাকায় চায়ের দোকান করে ৩ মেয়ে, স্ত্রী ও বাবা-মাসহ ৭ সদস্যের সংসার চালাতেন তছির। পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আসায় ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। মাত্র এক মাসের মধ্যে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখায় পার্শ্ববর্তী পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের মানবপাচারকারী দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘা। চুক্তি অনুযায়ী সুদে ও জমি বিক্রি করে আনা ২৫ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দেয় তছিরের পরিবার। গত ৮ মাস আগে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি। পরে তছিরকে পাঠানো হয় লিবিয়া। সেখানে মাফিয়াদের বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে আরও ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল রফিকুল।

নির্মম নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তছিরকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়। এরপর চিকিৎসার কথা বলে আরও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় দালালচক্র। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে লাশ গুম করার জন্য গেম ঘরে (বন্দিশালায়) নিয়ে যায় মানবপাচারকারীরা। পরে আবারও গত রোববার ইঞ্জিন-চালিত নৌকায় ভূমধ্যসাগর পথে ইতালি পাঠানোর জন্য গেম দেওয়ার কথা বলে আরও ১৪ লাখ টাকা দাবি করে লিবিয়ায় অবস্থানরত দালালরা। তবে গত মঙ্গলবার রাতে লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি সহচররা তছিরের মৃত্যুর খবরটি তার বাড়িতে জানায়। এতে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। এদিকে খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান মানবপাচারকারী দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘা ও তার পরিবার।

নিহত তছিরের স্ত্রী ইসমোতারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শেষ সম্বল জায়গা-জমি বিক্রি করে দিয়েছি। এ ছাড়া আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ধার করে দালালের হাতে দিয়েছি। ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়া নিয়ে আটকে রেখে কয়েক ধাপে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা নিয়েছে দালাল রফিক। কিন্তু মারধর করে মেরে ফেলল। এখন আমার সব শেষ। কীভাবে দেনা পরিশোধ করব, আর কীভাবে মেয়েদের নিয়ে বাঁচব? এইসব দালালদের কঠোর বিচার চাই। সরকারের কাছে দাবি, আমার স্বামীর লাশটি যেন দেশে ফিরিয়ে এনে দেন।’

নিহতের ছোট ভাই শাহীন ফকির বলেন, ‘মৃত্যুর খবর পেয়ে দালাল রফিকুলের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাইনি। তারা আগেই পালিয়ে গেছে। আমার ভাইকে শেষবারের মতো একবার দেখতে চাই। তার লাশটি যেন সরকার দেশে আনার ব্যবস্থা করেন সেই দাবি জানাই এবং দালালদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।’

বাবা কালু ফকির কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘যে বয়সে ছেলেরা আমার কবরে মাটি দেওয়ার কথা, সেই বয়সে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনতে হয়। আমার ছেলেটাকে দেশে ফিরিয়ে দেন। একবার ওর মুখটা দেখতে চাই। অন্তত কবরে যেন মাটি দিতে পারি সরকারের কাছে আমার দাবি এটাই। আর কিছু চাওয়ার নাই।’

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক বলেন, ‘লিবিয়ায় নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। তবে এখনো নিহতের পরিবার থেকে কোনো লিখিত আবেদন পাইনি। আবেদন পেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করে লাশটি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া দালালদের বিরুদ্ধে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সময় তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালি যাওয়ার বিষয়ে সকলকে সতর্ক হতে হবে। এ পথ থেকে সকলকে সরে আসতে হবে।’ একই সাথে প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


ঝিনাইদহে হোটেলকর্মীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে খুশি খাতুন (১৯) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ মে) সকালে সাদাতিয়া সড়কের ওই বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত খুশি খাতুন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা। তিনি শহরের পাগলাকানাই মোড়ের আন্তরিক হোটেলে (সাবুর হোটেল) কাজ করতেন।

বাসার মালিক বেবি খাতুন জানান, এক সপ্তাহ আগে খুশি খাতুন বাসাটি ভাড়া নেন। সে সময় সোহাগ হোসেন নামে এক রিকশাচালককে নিজের স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হোটেল থেকে কাজ শেষে সোহাগের সঙ্গেই বাসায় ফেরেন খুশি। বুধবার (১৩ মে) সকালে দীর্ঘক্ষণ তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা খোঁজ নিতে যান।

এ সময় তারা দেখেন, ঘরের সামনের দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো এবং পেছনের দরজা খোলা। ভেতরে বিছানায় খুশির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন।

স্থানীয়দের ধারণা, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতের কোনো এক সময় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুশিকে হত্যা করে কথিত স্বামী সোহাগ পালিয়ে গেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


অটিজম অভিশাপ নয়, প্রতিবন্ধিতার বিশেষ রূপ: নীলফামারী জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

‘অটিজম কোনো অভিশাপ নয়, বরং এটি প্রতিবন্ধিতার একটি বিশেষ রূপ। তাই অটিজম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হতাশ না হয়ে তাদের প্রতি পরিবার ও সমাজকে আরও যত্নশীল হতে হবে।’ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

এদিন ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়—প্রতিটি জীবন মূল্যবান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীতে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও হুইলচেয়ার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নীলফামারী জেলা শহরে অটিজম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি আধুনিক বিশেষায়িত বিদ্যালয় এবং কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুসরাত ফামেতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। হাসপাতাল সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর নাহার নূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা হৃদয় হোসেন। এ ছাড়াও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আতিউর রহমান শেখ অটিজম বিষয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদান করেন।

আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, সাংবাদিক নুর আলম, হাজীগঞ্জ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদা আক্তার মিনি এবং অভিভাবক প্রতিনিধি রেখা ইয়াসমিন।

আলোচনা সভার আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে ১০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে উন্নতমানের হুইলচেয়ার তুলে দেন।


বগুড়ায় ৩০ কেজি ওজনের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে প্রায় ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১২) রাত ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার গড়মহাস্থান দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মূর্তিপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রফিকুল ইসলাম (৫৪), পিতা: মৃত আব্দুল হামিদ, গ্রাম: গড়মহাস্থান দক্ষিণপাড়া, শিবগঞ্জ। নাহিদুর রহমান (৩২), গ্রাম: নিশিন্দারা পশ্চিমপাড়া, বগুড়া সদর।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি ইকবাল বাহার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। তল্লাশিকালে বাড়ি থেকে মূল্যবান কষ্টি পাথরের একটি মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার বিষ্ণুমূর্তির দৈর্ঘ্য ৩০ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১৪ ইঞ্চি। এর মোট ওজন ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করে আসছিল। উদ্ধারকৃত মূর্তিটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় চোরাচালানবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধার মূর্তিটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


বিদেশে পালানো হলো না: গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল করা সেই ‘খাদেম’ এখন পুলিশের খাঁচায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ এবং গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে শাহ আজম প্রান্ত (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন।

গ্রেপ্তার শাহ আজম প্রান্ত উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষবের গ্রামের ‘বিশ্ব রাহে রাজ ভাণ্ডার দরবার শরিফের’ খাদেম। সম্পর্কে তিনি ভুক্তভোগী গৃহবধূর চাচাতো দেবর।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। এই সুযোগে দেবর প্রান্ত তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ উপলক্ষে বারবিকিউ পার্টির কথা বলে ওই গৃহবধূকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় প্রান্ত। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং অত্যন্ত সুকৌশলে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।

ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি: ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে বলে ও গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় প্রান্ত। এমনকি ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়।

আইনিব্যবস্থা: অবশেষে নিরুপায় হয়ে গত মার্চ মাসে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই প্রান্ত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত প্রান্ত বিদেশে পালানোর পরিকল্পনা করছেন। গত মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


banner close