কুড়িগ্রামে বন্যা ও বন্যা পরবর্তী সময়ে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো পাচ্ছে না কোনো সরকারি সহায়তা। প্রশাসন থেকে কোনো বরাদ্দ না থাকায় এসব অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
চলতি বছর জেলার উলিপুর উপজেলার হকের চরে ৪৫৮টি পরিবার এবং ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোড়কমণ্ডপে চলতি বন্যায় ৩০টি এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের মেকলীতে ২২টিসহ মোট ৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। চর গোড়কমণ্ডপে এখনো ভাঙনের কবলে রয়েছে ৭টি পরিবার। সরকারিভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশ এ এলাকার মানুষ।
নদীর তীরে অবস্থিত এ এলাকার মৃত ছামাদ মিয়ার স্ত্রী আছিয়া বেওয়া (৫২) আক্ষেপ করে বলেন, ‘সবাই চইলা গ্যাছে। একরাতে ৭ বাড়ি লইয়া গেছে। আমরা নদীর কাচারে পইরা আছি। কোন জায়গায় যাব যাওয়ার কোনো স্থান নাই। সরকার যদি কোনো ব্যবস্থা না করে আমাগো নদীত ডুববাই মরতে হইব।’
এ গ্রামের মৃত সমশের আলীর ছেলে কৃষক আয়েজ উদ্দিন (৪৫) বলেন, ‘ভাঙনে অনেক জমিজমা লইয়া গেছে। ইতোমধ্যে ১৫-২০টা বাড়ি সরাইছে। সরকার যদি বাঁধ না দেয় তাহলে পাশেই ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি মুজিব কেল্লাও ভাইঙ্গা যাইব।’
একই এলাকার কবেজ আলীর ছেলে আব্দুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ করেই তীব্র ভাঙনে লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আমার চোখের সামনে আয়নাল, আমির হোসেন, আফান উদ্দিন, ফয়জাল, বসির, আবু তাহের ও আয়শার বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেল। এরা গরিব মানুষ। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা দেওয়া হয় নাই। আমরা এখন সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এখানে বাঁধ চাই।’
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেল- ভাঙনকবলিতদের দুর্দশা। তাদের অসহায়ত্বের সময় এগিয়ে আসছে না কেউই। অসহায়রা বিভিন্ন মানুষের জমিতে বাড়ি ফেলে রেখেছেন। কোথায় যাবেন, এখনো ঠিক করতে পারছেন না। অন্যদিকে যারা বাড়ি সরিয়েছেন, তাদের ঋণ করে নতুনভাবে জায়গা কিনে তৈরি করতে হয়েছে মাথা গোজার ঠাঁই।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহনুমা তারান্নুম জানান, ‘গত এক বছর ধরে কোনো বরাদ্দ পাইনি। ফলে ভাঙনকবলিতদের জন্য কিছুই করার নেই। আমরা শুধু চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে শুকনো খাবার ও ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছি।’ ভাঙনকবলিতরা সেই ত্রাণ পেয়েছে কি না সে সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান।
জেলা ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে আবেদন পেলে আমরা এক থেকে দুই বান্ডেল করে ঢেউ টিন সরবরাহ করে থাকি। বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো বরাদ্দ নেই। আগস্টে বরাদ্দ পেলে সহযোগিতা করা যাবে।’
অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় কারাগারে আটক বাংলাদেশী যবক শিপন হাওলাদার মারা যাওয়ার পর ওই যুবকের মরদেহ শেরপুর সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে ওই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মৃত ওই যুবক শিপন হাওলাদার (৩৫) দেশের বরগুনা জেলার সদর উপজেলার সবেজ হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও বিজিবি জানায়, প্রায় ১৯ মাস আগে শিপন হাওলাদার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হলে তাকে সেখানকার পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর ভারতীয় আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে কারাদন্ড দিয়ে তুরা কারাগারে পাঠায়। আগামী ২৮ এপ্রিল তার কারাভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শিপন অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। দুই দেশের আইনী প্রক্রিয়া শেষে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে শিপনের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ হস্তান্তরকালে ভারতীয় বিএসএফ এর পক্ষে ঢালু কোম্পানী কমান্ডার ইন্সপেক্টর কিমা রায়, বাংলাদেশের বিজিবি’র পক্ষে হাতিপাগার সবেদার ফুল মিয়া সরকার, নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ওসি আশরাফুজ্জামানসহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনকে (৫০) কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টায় র্যাব সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর লুৎফর রহমান হাদী এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গতকাল জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে উপ-পরিচালককে সন্ত্রাসী হামলায় কুপিয়ে জখম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মেহেদী হাসান জানান, আহত উপ-পরিচালককে বেশ কিছুদিন ধরে বিদেশি নম্বর থেকে টেন্ডার দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল একটি চক্র। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অফিস শেষ করে ক্যানসার হাসপাতাল থেকে তার বাসায় ফেরার পথে পুরাতন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পেছনের গলিতে অজ্ঞাত ২-৩ ব্যক্তি তার ডান হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের ধরে তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৭ মার্চ। কুষ্টিয়ার হরিপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় এমপি আমির হামজা অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক এখানে বদলি হয়ে আসার জন্য প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল এমপি আমির হামজাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, তার এমন বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নোটিশে তাকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসক ঠিক কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই টাকা দিয়েছেন, তার নাম প্রকাশ করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ বা তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আজ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এমন মন্তব্য করা আইনত দণ্ডনীয় এবং এটি সরকারি চাকরিজীবীদের মর্যাদাহানি করে।
মামলার আইনজীবী আব্দুল মজিদ জানান, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন অসংলগ্ন বক্তব্য কাম্য নয়। সরকার যখন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে, তখন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণেই আদালত এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় একটি অগভীর নলকূপের পাহারাদারকে মারধরের পর হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে তিনটি ট্রান্সফরমার থেকে তামার তার চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের নওদুয়ারী ফসলি মাঠে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় পাহারাদার আবদুর রশিদ মিলনকে (৪০) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছাইদুল ইসলাম ওরফে ছানু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য ছাইদুল ইসলামের নওদুয়ারী ফসলি মাঠের আলীগাঁও সেতু নামক স্থানে একটি বৈদ্যুতিক অগভীর নলকূপ স্থাপন করে সেচকাজ চালানো হচ্ছিল। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ৫-৬ জনের একটি দল নলকূপের ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর পাহারাদার আবদুর রশিদকে বেধড়ক মারধর করে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে বৈদ্যুতিক পোল থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার নিচে নামিয়ে ভেতরের তামার তার খুলে নিয়ে যায়। অভিযোগে তিনটি ট্রান্সফরমারের আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক পোলের নিচে তিনটি ট্রান্সফরমারের খালি বোতল পড়ে আছে। নলকূপের ঘরের ভেতরে বিছানাপত্রে রক্তের দাগ দেখা গেছে।
গুরুতর আহত আব্দুর রশিদ হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি অগভীর নলকূপের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩ থেকে সাড়ে তিনটার দিকে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে বেধড়ক মারধরের পর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। তারা বৈদ্যুতিক পোল থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার খুলে নিচে নামিয়ে তামার তার বের করে পালিয়ে যায়।
রুকিন্দীপুর ইউপির সদস্য মো. ছাইদুর ইসলাম বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আবদুর রশিদ সারা রাত অগভীর নলকূপ পাহারা শেষে প্রতিদিন ভোরে বাড়িতে ফিরতেন। অনেক বেলা হলেও বাড়ি আসছিল না। তখন অগভীর নলকূপে গিয়ে দেখি পোলের নিচে তিনটি ট্রান্সফরমারের খালি বোতল পড়ে আছে। ঘরের ভেতর আমার ছোট ভাই হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁর হাত দিয়ে রক্ত ঝরছিল। দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীর রেজা বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫) দুই বন্ধুর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে বসে গল্প করতেন, আবার একসঙ্গেই গ্রামে কবর খোঁড়ার কাজ করতেন। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে একসঙ্গে বসে আড্ডা দেন। গতকাল সোমবার মসজিদে ফজরের নামাজও পড়েন একসঙ্গে। সকালে বাচ্চু পাটওয়ারী বার্ধক্যের কারণে তার নিজ বাড়িতে মারা যান। খবর পেয়ে বন্ধুর দাফনের জন্য আবুল হাশেম কবরস্থানে এসে কবর খুঁড়ছিলেন। এ সময় বন্ধুর জন্য খোঁড়া কবরে নিজেই লুটিয়ে পড়ে মারা যান তিনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আবুল হাশেম ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। বাচ্চু পাটওয়ারী আগে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁরা দুজনই কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা।
আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেন, আবার বাবা ও প্রতিবেশী চাচা বাচ্চু পাটওয়ারী দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা দুজনই বিনা পারিশ্রমিকে মানুষের কবর খুঁড়ে দিতেন। সকালে পাটওয়ারী চাচা মারা যাওয়ার খবর শুনে বাবা কিছুক্ষণ কান্না করেন। পরে বন্ধুর কবর খুঁড়তে কবরস্থানে যান। কবর খোঁড়ার পর সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আমার বাবা ও চাচার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা আবুল হাশেম কাকাকে নিয়ে বাচ্চু চাচার কবর খুঁড়ছিলাম। কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ হাশেম কাকা কবরে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাড়াহুড়া করে ওপরে উঠিয়ে দেখি তিনি আর নেই।’
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে সুপেয় পানির দাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী ম্যারাথন ‘রান ফর ওয়াটার-২.o’ হয়ে গেল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুই শতাধিক তরুণ-তরুণী ও পরিবেশকর্মী উপকূলের মানুষের পানি সংগ্রহের সংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলতে মাটির কলস নিয়ে এই ম্যারাথনে অংশ নেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টায় উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ বাজার থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে গিয়ে শেষ হয় এই ম্যারাথন।
সুপেয় পানি নিশ্চিতের দাবিতে স্থানীয় যুব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিম এই ম্যারাথনের আয়োজন করে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একশনএইড বাংলাদেশ। এছাড়া ৩০টিরও বেশি যুব সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয়।
ম্যারাথনে প্রথম স্থান অধিকার করেন গাবুরার জি.কে সাব্বির হোসেন, দ্বিতীয় হন বুড়িগোয়ালিনীর সাগর হোসেন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন সাতক্ষীরা সদরের ওয়াছিমুল ইসলাম তপু।
ম্যারাথন শেষে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়।
এতে বক্তব্য দেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর ডেপুটি ম্যানাজার (ইয়ুথ অ্যান্ড জাস্ট সোসাইটি) মুসতাহিদ জামি, ডেপুটি ম্যানাজার (পার্টনারশিপ এবং প্রোগ্রাম) আরিফ সিদ্দিকী, সিডোর প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ শাহিন আলম, বাধন সংস্থার প্রতিনিধি শেখ ইমরান ও এসসিএফ এর সহকারী নির্বাহী পরিচালক হাবিবুল্ল্যাহ আল মামুন।
তারা পানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বক্তারা বলেন, এই ম্যারাথন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি উপকূলীয় জনপদের পানির অধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির এক অনন্য প্রচেষ্টা।
আয়োজকেরা জানান, ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে তীব্র পানিসংকটে ভুগছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপকূলীয় এই জনপদের বাসিন্দারা। তাই এই ম্যারাথন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং নিরাপদ পানির দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
শরুব ইয়ুথ টিমের পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈম বলেন, এই দৌড়ের মাধ্যমে আমরা স্থানীয়ভাবে যেমন সচেতনতা বাড়াতে চাই, তেমনি জাতীয় পর্যায়েও সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক নারীকে কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হয়, আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে পানি কিনে ব্যবহার করেন। এই বাস্তবতা তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রাম থেকে একটি চিত্রল হরিণ উদ্ধার করে পুনরায় বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে সুন্দরবন থেকে নদী সাঁতরে হরিণটি গ্রামের জামাল মিরের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে বনবিভাগ, ওয়াইল্ড টিম, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসী যৌথভাবে হরিণটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকারীদের ধারণা, বাঘের তাড়া খেয়ে কিংবা দলছুট হয়ে হরিণটি লোকালয়ে চলে আসে।
ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার জানান, ভেজা শরীরে হরিণটি বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় সেটিকে উদ্ধার করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. খলিলুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া স্ত্রী হরিণটির ওজন আনুমানিক ২৫ কেজি। সকাল ১০টার দিকে রেঞ্জ অফিসসংলগ্ন বনে হরিণটিকে অবমুক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের হরিণ তুলনামূলক ভীতু প্রাণী। অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং কখনো কখনো মৃত্যুঝুঁকিতেও থাকে। তবে প্রশিক্ষিত সদস্যদের উপস্থিতিতে হরিণটিকে নিরাপদে উদ্ধার ও অবমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
‘জ্ঞান বিজ্ঞানে করব জয়, সেরা হব বিশ্বময়’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে আয়োজিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই দিনব্যাপী আয়োজনের ঘোষণা থাকলেও কার্যত একদিনেই মেলার কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে জুড়ী উপজেলা প্রশাসন এই মেলার আয়োজন করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রচারণার ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে জাতীয় পর্যায়ের এই মেলাটির কাঙ্ক্ষিত আমেজ তৈরি হয়নি। উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেলা সম্পর্কে জানতেই পারেনি, ফলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল হতাশাজনক।
মেলায় অংশগ্রহণকারী একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা অনেক আশা ও শ্রম দিয়ে বিজ্ঞান প্রজেক্ট তৈরি করেছিলাম। কিন্তু মেলা একদিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা আমাদের উদ্ভাবনগুলো ঠিকমতো উপস্থাপন করার সুযোগই পেলাম না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়সূচি মেনে মেলা চললে আরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থী তাদের উদ্ভাবনী মেধা প্রদর্শনের সুযোগ পেত। এমন আয়োজনে দায়সারা ভাব কাম্য নয়।’
এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সময় সংকট ও কিছু প্রশাসনিক কারণে মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি আরও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।’
অন্যদিকে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নুর বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রেখে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রদর্শনী প্রথম দিনেই শেষ করতে হয়েছে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমরা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলার একটি বড় ক্ষেত্র। যথাযথ পরিকল্পনা, কার্যকর প্রচারণা এবং সময় ব্যবস্থাপনার অভাবে এবারের মেলা তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পাবনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে তিনটি বিদেশি রিভলভার, একটি ওয়ান শুটার গান এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর এক সহযোগী পালিয়ে যায়। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরে পাবনা সদর থানাধীন আরিফপুর হাজিরহাট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. অলি হোসেন (২৬)। তিনি পাবনা পৌরসভার ০৬ নম্বর ওয়ার্ডের আরিফপুর পূর্বপাড়া এলাকার রব্বেল শেখের ছেলে। পলাতক আসামির নাম মো. শুভ ফকির (২৫)।
পুলিশ জানায়, পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রেজিনুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই বেনু রায় ও এসআই মাহিদুল ইসলামসহ একটি দল ভোর আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে হাজিরহাট এলাকার একটি বাড়িতে হানা দেয়।
অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়: বিদেশি রিভলভার: ৩টি .২২ বোরের সচল রিভলভার (ব্যারেলে ‘Made in Pakistan’ খোদাই করা)। ওয়ান শুটার গান: ১টি দেশীয় তৈরি সচল ওয়ান শুটার গান। গুলি: ২ রাউন্ড তাজা গুলি। সরঞ্জামাদি: হাতুড়ি, প্লাস, স্প্রে পেইন্ট, রড কাটারসহ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম। মোবাইল: ২ টি স্মার্টফোন।
ডিবির ওসি মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি মিনি অস্ত্র কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে অলি হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হলেও শুভ ফকির পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর মধ্যে রিভলভারগুলো বেশ উন্নত মানের।
পুলিশ আরও জানায়, আসামির বিরুদ্ধে মাদক মামলা এবং পলাতক আসামির বিরুদ্ধে চুরির মামলা রয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অস্ত্র তৈরি ও কেনাবেচার সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্রিজ— যা হতে পারত উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রতীক— আজ হয়ে উঠেছে অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার এক নীরব সাক্ষী। নির্মাণের প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটি আজও ব্যবহারহীন, কারণ ব্রিজটির সঙ্গে নেই কোনো সংযোগ সড়ক।
প্রায় ২৯ বছর আগে একটি ছোট ছড়ার ওপর নির্মিত এই ব্রিজটি স্থানীয় মানুষের স্বপ্ন জাগিয়েছিল। আশা ছিল, এটি চালু হলে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কমবে সময় ও দূরত্ব। কিন্তু বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করেছে। ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি আজও কার্যত অচল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজে ওঠতে হলে স্থানীয়দের ভরসা করতে হয় অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার ওপর— কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো উঁচু কোনো কাঠামো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় তাদের। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল হয়ে ওঠেছে দুর্বিষহ।
এই ব্রিজটি ব্যবহারযোগ্য হলে অন্তত চারটি ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হতেন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত সহজ হতো। বর্তমানে বাধ্য হয়ে মানুষকে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সময় ও শ্রম দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে এটি এখন উন্নয়নের প্রতীক না হয়ে অপচয়ের এক বাস্তব উদাহরণে পরিণত হয়েছে।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাঈফুল আজম। তিনি জানান, ব্রিজটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং দুপাশে মাটি না থাকায় এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। না হলে এটি কেবল একটি পরিত্যক্ত স্থাপনা হিসেবেই থেকে যাবে, আর মানুষের ভোগান্তিও চলতেই থাকবে।
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি। সোমবার (২০ এপ্রিল) উৎমুখর পরিবেশে টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ শুরু হয়। খবর দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিদের।
খুলনা: খুলনা সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে ২২নং ওয়ার্ডে কাস্টমঘাট আমিরাবানু বেগম নগর মাতৃসদন এ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা উপপুলিশ কমিশনার (অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, খুলনা স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক আরিফুল ইসলাম, খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খানম, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তাত্ত্ববধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম ও ইউনিসেফের ন্যাশনাল ইপিআই স্পেশালিষ্টের প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি ৯৩ হাজার ৭৮৮জন শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে স্কুল শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৩৮৮ এবং কমিউনিটি শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ৮০ হাজার ৪০৪ জন। খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে ২৫৬টি টিকা কেন্দ্রে ১৪৪ জন টিকাদানকর্মী, ২০৬ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং ৬২জন প্রথম সারির সুপারভাইজারসহ মোট ৮২টা টিম দায়িত্ব পালন করবে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে।
জামালপুর: জামালপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রাঙ্গনে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেনের উদ্বোধন করেন জামালপুর সদর ৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো.ওয়ারেছ আলী মামুন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জেলার ৭টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়নে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৯০ জন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত শিশুকে টিকাদানের মাধ্যমে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকা প্রদান করা হবে। ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে ২০ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে।
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম): বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সন্দ্বীপ পাড়া গোমদণ্ডী তাজেদিয়া জয়তুন নেছা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসায় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাফরিন জাহেদ জিতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী দিনে ১০৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সি প্রায় ২৪ হাজার ৪৫৫ জন শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলায় ২৪০টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে আগামী ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলবে।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান। আগামী ১০ মে পর্যন্ত এই উপজেলায় ১৬ হাজার ৪৬৬ শিশুর মাঝে হামের টিকা প্রদান করা হবে। প্রথম দিনে উপজেলার ৮টি ও হাসপাতালের ১টি সহ মোট ৯টি কেন্দ্রে ৭০৩ জন শিশুর মাঝে হামের টিকা দেয়া হয়।
তালা(সাতক্ষীরা): তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাহাত খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন,তালা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জ্যোতির্ময় সরকার,সাতক্ষীরা জেলা নায়েবে আমির ডা. মাহমুদুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সবুজ বিশ্বাস,তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার। এছাড়াও স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবিকারা উপস্থিত ছিলেন।
এ উপজেলায় ১০ মে পর্যন্ত ১১ কর্মদিবসে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি প্রায় ২৭ হাজার শিশুকে টিকা দেয়া হবে। কমিউনিটি পর্যায়ে ২৮৮টি কেন্দ্রে ৮ দিন এবং ২৪৪টি স্কুলে ৩ দিন টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ৮ দিন টিকা দেয়া হবে।
ফরিদপুর: ফরিদপুর সদর হাসপাতালে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা। ক্যাম্পেইনের আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি সব শিশুকে ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে।
সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা, কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশিদ খান,সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী গোলাম কিবরিয়া, সদর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, সেবিকা ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালী: সকাল সাড়ে দশটায় শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ১১ দিন ব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। এসময় পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়াসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিন একযোগে জেলার অস্থায়ী ১০৯ টি সাব ব্লক কেন্দ্রে ও জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ১১ হাজার শিশুকে টিকা দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ১ মে পর্যন্ত জেলার প্রায় ২ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হবে। দুই ডোজ হামের টিকা সম্পন্ন হওয়া শিশুদের অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য ফের টিকা নিতে হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
শিবচর (মাদারীপুর): উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই ভবনে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম ইবনে মিজান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতিমা মাহ্জাবীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইব্রাহিম হোসেন, এমওডিসি ডা. তরিকুল ইসলাম, ইপিআই কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানসহ উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ ক্যাম্পেইনের আওতায় মোট ৩১ হাজার ৪৯৬ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ৫০০ ভায়াল ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। পুরো উপজেলায় ৪৩২টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রথম দিনে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এদিনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৮৯ জন শিশুকে টিকা প্রদান।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলার জঙল ছলিমপুর ছিন্নমূলস্হ এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বী, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, টিএইচও ডাক্তার মো. আলতাফ হোসেন, ইউনিসেফ প্রতিনিধি চিফ অফ ফিল্ড মাধুরী ব্যানার্জি প্রমুখ। জঙ্গল ছলিমপুর এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় টিকাদান কেন্দ্রে ৫৭০ জন শূন্য থেকে সাতান্ন মাস পর্যন্ত শিশুদের হাম রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে।
বরগুনা: বেলা ১১টার দিকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মিস তাছলিমা আক্তার, পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা এবং সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ।
নন্দীগ্রাম (বগুড়া): উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিতা কেটে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন, ডা. আরিফুল ইসলাম, ডা. আবু নাঈম, ডা. মুমতাহিনা তাসনিম, ডা. নিশাত রিমা, ডা. মাহবুবা জান্নাত মুন্নী, ডা. ফারিহা খান চৈতী, ডা. মারইয়াম-মা-আরিজ, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিট ওয়াইফ, ইপিআই ইনচার্জসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নেত্রকোনা: সকালে শহরের স্থানীয় ‘ক্রিয়েশন স্কুল’ প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান। সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মওলা নইম কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (এসএমও) ডা. আবুল বাসার। উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. দাউদ শরীফ, ডা. মো. রাব্বী আলম, ডা. দেবাশীষ সাহা এবং ডা. আহসান কবির রিয়াদসহ স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
দেবিদ্বার (কুমিল্লা): ৭০ হাজার ২০০ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে এ তথ্য জানানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিবুস সালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. শুভ্রা দত্ত, ডা. জি.আর.এম জিহাদুল ইসলাম, ডা. রবিউল ইসলাম, ডা. সাদাত ইবতিশিয়াম এবং ইপিআই টেকনোলজিস্ট মো. জসীম উদ্দিন সরকারসহ অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
ক্যাম্পেইনে বক্তারা জানান, ১০ মে পর্যন্ত উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিভিন্ন কমিউনিটি পর্যায়ে এ টিকাদান কর্মসূচি চলবে।
হবিগঞ্জ জেলা এর মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ৮ হাজার ৫০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উফশী আউশ ধানের বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) উপজেলা হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা কৃষকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ ধরনের সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়। বিতরণকৃত উপকরণের মোট মূল্য ধরা হয়েছে ৬৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহজাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার, বিএনপি সভাপতি সামছুল ইসলাম কামাল, চৌমহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, পৌর বিএনপি সভাপতি গোলাপ খান এবং সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি। বক্তারা বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং আউশ মৌসুমে ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় একদিনে ৭ জন নারী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক ঘটনায় এসব নারী নিজেদের সংসার ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, তারা প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন।
জানা যায়, এ বিষয়ে দিনভর সখীপুর থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ওসি জানান, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সচেতন মহলের মতে, পরিবারে যোগাযোগের ঘাটতি, মানসিক দূরত্ব এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এ ধরনের ঘটনার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের মানসিক অবস্থা বোঝা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ বা কাউন্সেলিং প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।