শেরপুরের নকলায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় শাপলা বেগম (২৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।আজ বৃস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কের গনপদ্দি ইউনিয়নের পূর্ব চিথলিয়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহত মোছা. শাপলা বেগম নকলা উপজেলার গনপদ্দি ইউনিয়নের পূর্ব চিথলিয়া এলাকার মো. আলম মিয়ার স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নকলা উপজেলার গনপদ্দি ইউনিয়নের পূর্ব চিথলিয়া এলাকায় শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কে দ্রুতগামী একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারায়। আর মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাপলা বেগম, তার ৩ বছরের শিশু সন্তান তাওহিদ, ৬৫ বছরের বৃদ্ধ সমেজ মিয়াকে পিকআপ ভ্যানটি চাপা দিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।
এসময় ঘটনাস্থলেই মারা যায় শাপলা। স্থানীয়রা আহত শিশু ও বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি এবং পিকআপ ভ্যানটি আটক করেছি। তবে পিকআপ ভ্যানের চালক পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মসজিদ উন্নয়নে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় খেলার মাঠ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয়রা। এ সময় (ওসি) জাফর ইমামের অপসারণ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন তারা। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বেশিরভাগ সময় মাটি পড়ে থাকে। এ কারণে মাঠের জায়গা নিয়ে কোন চাঁদাবাদজী কেউ করতে না পারে এ জন্য মসজিদ উন্নয়নে মাঠটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে যদি কেউ বিক্ষোভ করে আমাদের কোন কিছু করার নেই।
এরআগে, গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিছিলটি সলঙ্গা বাজার প্রদক্ষিণ শেষে থানার প্রধান ফটকে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন স্থানীয়রা।
বিক্ষোভকারী ঘুড়কা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, থানার সামনের মাঠটি দুই গ্রামের ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার একমাত্র ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত মাঠটি ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় ক্রিড়াপ্রেমীদের খেলা ধুলোয় ব্যাহত হচ্ছে। তারা দাবি করেন, প্রশাসনের নীরব সমর্থনেই এ কার্যক্রম চলছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, খেলার মাঠ আমাদের অধিকার। এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে ইচ্ছেমতো ভাড়া দেওয়া হবে। আমরা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোড়দাবি জানাই।
সলঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এম দুলাল উদ্দিন বলেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠটি ভাড়া দিতো। বর্তমান থানার মসজিদ উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের নিকট ভাড়া দেওয়ায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছে।
সলঙ্গা থানার ওসি ইমাম জাফর বলেন, মাঠটি থানার দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি। সরিষা শুকানোর বিনিময়ে অনেক আগেই ব্যবসায়ীরা থানার মসজিদ উন্নয়ন ফান্ডে কিছু টাকা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি কিছু লোক মাঠ ভাড়া বাবদ অবৈধভাবে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা দাবি করেছিল, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দেয়নি।
পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে ঘিরে কেউ যাতে অপপ্রচার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
ঝালকাঠির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সাথে জেলা প্রশাসন ও সকল সরকারি দপ্তর প্রধানদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন সভায় সভাপতিত্ব করেছেন।
ঝালকাঠি জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্থবিরতা কাটানো এবং জনসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও ঝালকাঠির অবহেলিত জনপদের রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারি প্রতিটি দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। তারা এ জেলার অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমার চার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা জেলা পর্যায়ের সকল সরকারি দপ্তর প্রধান বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যম কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল তার বক্তব্যে বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। দল-মতনির্বিশেষে ঝালকাঠিকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
আরেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন আশ্বস্ত করে বলেন, ‘নতুন সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনায় জেলা প্রশাসন ঝালকাঠির সকল উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো দলীয় রাষ্ট্র বা দলীয় সরকার নয়, বরং জনগণের সত্যিকারের সরকার গঠন করতে বদ্ধপরিকর। আজ রবিবার বিকেলে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কান্ডাপাশা এলাকায় ‘কাপলাতলি খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনবান্ধব করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও শক্তিশালী করবে যাতে তা একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এর মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন কেবল জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সুনিশ্চিত হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হবে।
প্রশাসনিক ও পুলিশি সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের আমলাতন্ত্র ও পুলিশ বাহিনীকে এমন এক উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে যেখানে তারা কোনো দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে কেবল জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। অতীতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি পেশাদার ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মন্ত্রী আরো বলেন, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের একটি বিশাল মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রীয় উদ্বোধন খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে গৌরনদীর এই খাল খনন কাজের সূচনা করা হলো। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কেবল খাল খননই নয়, পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন কর্মসূচির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে খননকৃত খালের পাড়ে এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও জোরদার করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। খাল পুনঃখনন ও বনায়ন কর্মসূচি উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় ব্যবসায়ীদের প্রতি এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিটি দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। তালিকার চেয়ে বেশি দাম নিলে বা তালিকা প্রদর্শন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে পশু ক্রয়ের মূল রশিদ ব্যবসায়ীদের সংগ্রহে রাখতে হবে এবং মনিটরিং টিম চাইলে তা দেখাতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু জবাই নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উপস্থিতি ও সীল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক বাজারে কারসাজির কথা স্বীকার করে বলেন, "আমাদের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে যারা সিন্ডিকেট ও ভেজাল দ্রব্য বিক্রি করছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের মধ্যে থেকে ব্যবসা না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ইফতারে ক্ষতিকারক রং ও রাসায়নিক মেশানো এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
রমজানে পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল মেশিনে ওজন কারচুপি রোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ মাজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান মামুন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
পবিত্র রমজান মাস জুড়ে জনস্বার্থে এই ঝটিকা অভিযান ও বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে সভায় জানানো হয়
দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শনিবার রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর নিজ নির্বাচনি এলাকায় সফরকালে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁর বক্তব্যে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সংবাদমাধ্যম হলো রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন। দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনার মাধ্যমে যেমন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে, তেমনি সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার সাংবাদিকদের সবসময় সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে। অপপ্রচারের পরিবর্তে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাঁদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, মো. সাইফুল ইসলাম, এইচএম মাসুম এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল রিপন। বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেএম আজাদ রহমান, আকাশ মাহামুদ, সাইফুল মৃধা, সবুজ সরদার ও মানিক মোল্লাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আলোচনায় মন্ত্রী স্থানীয় সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং প্রেস ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। একুশের চেতনার আলোকে একটি বৈষম্যহীন ও বাকস্বাধীনতা সম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের মেঘনা তীরবর্তী দুর্গম বয়ারচরে কয়েকটি দস্যুবাহিনীর তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ‘ভোল পাল্টিয়ে’ কয়েকটি ডাকাত বাহিনী ও দস্যু গ্রুপ চরটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। দস্যুবাহিনীর একের পর এক চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় সাধারণ মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সর্বশেষ দস্যুবাহিনীর দাবিকৃত চাঁদা দিতে না পারায় হামলার ভয়ে মাইনউদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী পরিবার-পরিজন নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে এলাকার বাহিরে অবস্থান করেছেন। এমতাবস্থায় ওই এলাকার বাসিন্দারা নিরাপত্তায় দুর্গম এ চরটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন
ভুক্তভোগী চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর (বয়ারচর) এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্রিজঘাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. মাইন উদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয় একটি চা দোকানের সামনে তার ছোট ছেলে মো. ফয়সাল আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় কুখ্যাত দস্যুবাহিনী ‘ফরিদ বাহিনীর’ সেকেন্ড ইন কমান্ডার বাদশা ডাকাত সহযোগী ওয়ারেছ ডাকাতকে নিয়ে ফয়সালকে অপহরণ করে আস্তানায় নিয়ে যায়। পরে তার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করলে তিনি নিজের একটি গরু ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ২ লাখ টাকা বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাতের হাতে দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন। শুধু এতেই তারা থেমে যাননি। গত রোববার সকালে বাদশা, ওয়ারেছ মহিন ও মনিরসহ কয়েকজন সহযাগী নিয়ে তার বাড়িতে হানা দেন। এসময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে চাঁদা হিসেবে একটি গরু দাবি করেন। দাবিকৃত গরু না দিলে তার স্ত্রী ও ঘরে থাকা পুত্রবধূকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, আমরা ফরিদ বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাত, ওয়ারেছ ডাকাত, বাদশা ডাকাত ও তার লোকজনদের গ্রেপ্তারের জন্য সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করছি।
মাইন উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন বলেন, এক সাপ্তাহ ধরে আমরা এলাকা ছাড়া। আমি ব্রিজঘাট এলাকার একজন গোস্ত বিক্রেতা। ওয়ারেছ ও বাদশা ডাকাতের অত্যাচারে ঠিকমত ব্যবসা করতে পারছি না। প্রতিটি গরু থেকে তাদেরকে চাঁদা দিতে হচ্ছে।
এদিকে, সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বয়ারচর এলাকাটি একটি দুর্গম চরাঞ্চল। ওই এলাকাটি বিভিন্ন ডাকাত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালর ৫ আগস্ট থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ব্রিজঘাট, তেগাছিয়া ও টাংকিরঘাট এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটপাট, অগ্নিসংযাগ ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, জমি দখল, বসতবাড়ি ও পুলিশ ফাঁড়ি দখলসহ ডাকাত বাহিনী বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। এর মধ্যে ফরিদ বাহিনীর আধিপত্য সবচেয়ে বেশী। তার বাহিনীতে বাদশাহ, ওয়ারেছ, ভুট্টু, ফজলু, আলমগীর, হোসেন, আওলাদ, আইয়ুব আলী, কবির ও মাকছুদসহ অর্ধশতাধিক সদস্য রয়েছে। এসব ডাকাত সদস্যরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বয়ারচরের ব্রিজঘাট, দক্ষিণ টুমচর, নুরুল্লার সমাজ, তেগাছিয়া ও টাংকিরঘাট এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাত এক সময়ে নোয়াখালীর হাতিয়ার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে ভোল পাল্টিয়ে সে বিএনপির নাম ভাঙিয় আগের চেয়েও বেশি তৎপরতা চালাচ্ছে। তার এসব অপকর্ম নিয়ে জহির উদ্দীন নামে এক বাসিন্দা রামগতি থানা ও সেনা ক্যাম্পে পৃথক দুটি অভিযোগও করেছেন। এসব ডাকাতদের বিরুদ্ধে রামগতি, হাতিয়া ও ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা থাকলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষপ নিচ্ছে না। অন্তত ১৫ টি মামলায় এসব ডাকাতদের বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রেফতারি পরওয়ানা।
এসব বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওয়ারেছ ডাকাত তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এসব কাজের সাথে জড়িত নন। তবে, এসব বিষয়ে লেখালখি না করতে তিনি এ প্রতিবেদককে বিশেষ অপার দেন।
ফরিদ বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাতের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফানে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করননি।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, বয়ারচর এলাকাটি খুবই দুর্গম। যে কারণে, অপরাধীরা সেখান বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। তবে, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে চরটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, চাঁদা দিতে না পারায় ব্যবসায়ীর পরিবার এলাকা ছাড়ার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। ভুক্তভাগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ওসিকে নির্দশ দেওয়া হবে।
কক্সবাজার জেলার প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণ করে চকরিয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে জেলার দশম উপজেলা হিসেবে ‘মাতামুহুরী’ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সংক্রান্ত প্রথম প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিরীক্ষা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নতুন উপজেলার সীমানা নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক বিন্যাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্থানীয় জনমত এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলাটি মূলত চকরিয়ার সাহারবিল, ভেওলা মানিকচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হবে। প্রায় তিন লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই এলাকায় প্রবাহিত ২৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মাতামুহুরী নদীর নামানুসারেই এই উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। নতুন উপজেলা গঠনের পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলার মূল প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে আরও তিনটি নতুন ইউনিয়ন সৃষ্টির প্রস্তুতিও চলছে। হারবাং থেকে উত্তর হারবাং, বরইতলী থেকে পহরচাঁদা এবং ডুলহাজারা থেকে পৃথক করে মালুমঘাট ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রাপ্তি আরও সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উন্নয়ন প্রকল্পের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে তিনি মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বৃহত্তর চকরিয়া থেকে পেকুয়া উপজেলা পৃথক করে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মাতামুহুরী উপজেলার প্রস্তাবটি সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি বা নিকার-এর (NICAR) পরবর্তী সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে পর্যটন শহর কক্সবাজারের দশম উপজেলা। এর ফলে অবহেলিত ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক কষ্ট লাঘব হবে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন। দীর্ঘ ২৫ বছর আগে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যে সাংগঠনিক উপজেলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, আজ তা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনিক এই মহতী উদ্যোগটি সফল হলে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উভয় অঞ্চলের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। সব মিলিয়ে উপকূলীয় এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এখন পূর্ণতার পথে।
সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি দমনে শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে গিয়ে দস্যুদের আক্রমণের শিকার হন। জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে কেউ যেন ঝুঁকিতে না পড়েন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে শিগগিরই একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে দস্যুদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
সুন্দরবনের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে বসে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। দ্রুত অভিযান চালিয়ে দস্যুদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালাম, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন-উর-রশীদ ইয়াছিন জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি ও নিজের টাকায় কেনা জ্বালানি ব্যবহার করছেন এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণ করছেন না।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আমি নিজের গাড়ি এবং নিজের টাকায় কেনা তেল ব্যবহার করছি। সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি না, তেলের খরচও নেই না। যত দিন মন্ত্রী থাকব, তত দিন সরকারি গাড়ি ব্যবহার করব না। এ ছাড়া আমি সরকারি বেতন-ভাতা নেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লায় প্রথম রপ্তানিমুখী কারখানা আমি স্থাপন করেছি। আপনাদের উৎসাহে আজ কুমিল্লায় এক ধরনের শিল্প বিপ্লব হয়েছে। অনেক কারখানা গড়ে উঠেছে। এ অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।’
কৃষিমন্ত্রী বলেন, “সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে কুমিল্লা অঞ্চলে ড. আখতার হামিদ খান সর্বপ্রথম কৃষিকে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছেন। কৃষিতে আখতার হামিদ খান উদ্ভাবিত ‘কুমিল্লা মডেল’ এখনো দেশ-বিদেশে সমাদৃত। আমিও একজন কৃষক। আমি জানি কিভাবে ধান ফলাতে হয়। কুমিল্লাসহ সারা দেশের কৃষি উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব।”
তিনি জানান, কৃষিতে কুমিল্লা বরাবরই পথিকৃৎ। জেলার কৃষকদের ফসল সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে হিমাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কুমিল্লার ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্যাংক ও ব্যাংকের নগরী হিসেবে কুমিল্লার যে সুনাম ছিল, তা সমুন্নত রাখার চেষ্টা করা হবে।
মতবিনিময়সভায় জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চ হয়ে গেছে আজাদি। ইনকিলাব ও আজাদির সঙ্গে বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নাই। বাংলাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ—এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এগুলো বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে, তারপরও আমি বলব। কারণ, আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশরা এ দেশে অনেক ক্ষতি করে গেছে। শোষণের স্বার্থে আমাদের রাষ্ট্রভাষাকে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৯৫২ সালে যারা জীবন দিয়েছেন, তারাই ভাষা রক্ষার বীজ বপন করে গিয়েছিলেন। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা যদি সচেতন না হও, তাহলে আমাদের এক্সট্রিম রাইট চলে যাবে।
তিনি আরও বলেন, নিজের ভাষাকে যথাযথভাবে জানার চেষ্টা না করায় আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ দৃঢ় হয়নি। নিজের ভাষা ও দেশকে নিজেদেরই গড়ে তুলতে হবে, বাইরে থেকে কেউ এসে তা গড়ে দেবে না।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া স্টোর তেল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—খাজানগর এলাকার আশরাফুল (২৮), সিএনজি চালক জাকারিয়া, আমেনা খাতুন ও কমেলা খাতুন। অপর একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরগামী সিএনজিটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক সরাসরি ধাক্কা দিলে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনাস্থলের পাশে থাকা দোকানদার রবিউল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে দেখি সিএনজিটি একেবারে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। যাত্রীদের কেউই নড়াচড়া করছিল না। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী আব্দুল হালিম বলেন, “এই বাইপাস সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল করে। এখানে গতিনিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো না হলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটবে।”
হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো: আবু ওবায়েদ বলেন, “দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নওগাঁ জেলা পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখার উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ১২৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন। হারানো ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইসিটি শাখার একটি বিশেষ দল বিভিন্ন থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত চালায়। প্রযুক্তিগত সহায়তায় মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত করে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যস্ততাসহ বিভিন্ন কারণে হারানো সকল মোবাইল পুলিশের পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তবে নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো সকল মোবাইল উদ্ধারের জন্য সর্বদাই তৎপর রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।”
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাতির ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের নির্দেশে তাঁর ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও বিএনপি নেতাকর্মীরা দুই ডাকাতকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) রাতে মরদাসাদি গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত দুজন হলেন - মোহাম্মদ জাকারিয়া (৬০) ও মো. সোলায়মান (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদ ইউনিয়নের খিরদাসাদি গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রব-এর বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। প্রকাশ্যে দিবালোকে এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদকে অবহিত করে জানান, ডাকাতদের কয়েকজনকে তাঁরা চিনতে পেরেছেন। এরপর সাংসদের নির্দেশে তাঁর ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া, থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন রাতে ডাকাত কবলিত মরদাসাদি গ্রামে অভিযান চালান। ওই রাতে চালানো অভিযানে স্থানীয়রা দুই ডাকাতকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার জানান, ডাকাতির ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং তাঁদের সহযোগীরা কারা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।