মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

পাহাড় ধসে বান্দরবানের সঙ্গে থানচির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ছবি: সংগৃহীত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১ আগস্ট, ২০২৪ ১৬:৪৯

টানা বর্ষণের কারণে রাস্তার ওপর পাহাড় ধসে পড়ে বান্দরবানের সঙ্গে থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে থানচি সড়কের জীবননগর এলাকায় পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ সড়কের ওপর ধসে পড়ে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে থানচির যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক থেকে ধসে পড়া মাটি অপসারণের কাজ করছেন বলে জানা যায়।

এদিকে জরুরি প্রয়োজনে উভয় দিক থেকে ছেড়ে আসা পরিবহন আটকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীসহ স্থানীয়রা। এ বিষয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দি বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে সেনাবাহিনীর সহায়তায় মাটি অপসারণের কাজ করছি।

দ্রুত মাটি অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে লামায় মাতামুহুরি নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ওপরে। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পৌর এলাকার ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়ে তিন আশ্র‍য়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় একশ পরিবার।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পৌর এলাকার ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১০০ পরিবার পৌর এলাকার তিন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

বান্দরবান আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যা আরও কয়েকদিন হতে পারে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বিষয়:

সকল নাগরিকের জন্য গর্বের বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, দেশের সকল নাগরিকের জন্য গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এজন্য তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর আফতাবনগরে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (পিএসটিসি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিওবিষয়ক ব্যুরো’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। ওই সময়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে, রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মপ্রণালী বা পদ্ধতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ধ্বংস করা হয়েছে। বিএনপি সরকার ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মপ্রণালী বা পদ্ধতিকে পুনরায় স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছে।’

ফারজানা শারমীন বলেন, ‘অতীতে স্বেচ্ছাচারিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছে। এই সংসদে সরকারের পাশাপাশি প্রকৃতই বিরোধীদল আছে। যেখানে জনগণের কল্যাণে কথা হয়।’

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। যাতে পুরো পরিবারকে সেবা দেওয়া এই নারীকে যেন তার গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রয়োজনে কারও মুখাপেক্ষী না হতে হয়। অর্থনৈতিক এবং মানসিকভাবে তিনি যেন স্বস্তিতে থাকেন। পরিবার থেকে শুরু করে দেশের সকল মানুষের মনে আমরা স্বস্তি নিয়ে আসতে চাই।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত ৭২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছিল। সক্রিয় না থাকার কারণে এই সংখ্যা কমে ৫৬ হাজার হয়েছে। প্রকৃত কল্যাণমুখী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাবে।’ এক্ষেত্রে বিগত ৪৮ বছর ধরে দেশের জনস্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা, কিশোর-কিশোরীদের উন্নয়ন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া পিএসটিসির প্রশংসিত কার্যক্রম আগামীতে আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে তামাকমুক্ত ঘোষণা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণাবিষয়ক মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন অধিদপ্তরের পরিচালক (হর্টিকালচার উইং) ড. মো. হজরত আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর নয়, অধূমপায়ীর জন্যও সমান ঝুঁকিপূর্ণ। একইভাবে, ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যও মুখগহ্বরের ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ এবং সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই আজ থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সকল কার্যালয় প্রাঙ্গণে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, সাদাপাতাসহ সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রয় ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত সেবাগ্রহীতাদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সভায় স্বাগত বক্তব্যে ডরপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সর্বোচ্চ, যা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ভারতে এ হার ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

মূল প্রবন্ধে ডরপ তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা বলেন, ‘গ্যাটস ২০১৭-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২.৭ শতাংশ আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। এ ছাড়া ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু (১৫ বছরের নিচে) পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ভুগছে। জন হপকিংস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাক ব্যবহারের কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্যহানি ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। এ ছাড়া তামাক চাষে বিপুল পরিমাণ আবাদযোগ্য জমি ব্যবহৃত হয়, যা খাদ্য ও অন্যান্য লাভজনক ফসল উৎপাদনের সুযোগ কমিয়ে দেয়। তামাক চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার মাটির উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অথচ একই জমিতে বিকল্প লাভজনক ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষক অধিক আয় করতে পারেন এবং একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।’

তিনি যোগ করেন, ‘তামাকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ।’

সভাপতির বক্তব্যে অধিদপ্তরের ক্রপস উইংয়ের পরিচালক ড. সালমা লাইজু বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত অধিদপ্তরের প্রায় ৬০০টি কার্যালয়ে কর্মরত প্রায় ৮৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রতিদিন সেবা নিতে আসা অসংখ্য কৃষক ও সেবাগ্রহীতা এই উদ্যোগের মাধ্যমে তামাক ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধিকতর সুরক্ষা পাবেন। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তামাক নিয়ন্ত্রণের এই জাতীয় উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করি।’

সভা শেষে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারবিরোধী গণবিজ্ঞপ্তি, সাইনবোর্ড এবং স্টিকার স্থাপনা করা হয়।


মীরসরাইয়ে ভারি বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মীরসরাইয়ে তিন দিনের টানা ভারি বর্ষণে আবারও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী অনেকে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-মাদরাসায় যাওয়া আসায় কষ্ট করতে হচ্ছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকেছে। তখন থেকে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। বৃষ্টি বন্ধ না হলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় প্যারাগন ফিডমিলের কারণে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি যেতে পারছে না। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মূলত এই ফ্যাক্টরির কারণে শত শত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

টানা বৃষ্টিতে দিনমজুর, কৃষক, শ্রমজীবী, রিকশাচালক ও সিএনজি চালকরা আয় রোজগার না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে। টানা তিন দিন বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ভ্যান-রিকশাচালক, হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। বৃষ্টিতে কাজ না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে দিনমজুর ও শ্রমজীবি মানুষের। দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় পড়ুয়া পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার পোলমোগরা, সৈদালী, ইছাখালী এলাকায় কিছু গ্রামের মানুষ।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে আউশের চারা কিছু ডুবে গেছে। আমরা মাঠে রয়েছে। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে একাধিক এলাকা পরির্দশন করেছি। আশা করছি বৃষ্টি বন্ধ হলে পানি নেমে যাবে। কেউ যদি জলাবদ্ধতায় পানিবন্ধি হয়ে থাকে আমাদের তালিকা পাঠালে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়াও স্থল নিম্নচাপের প্রভাব ও মৌসুমী বায়ু প্রবলভাবে দেশের ওপর সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত বেড়ে হুহু করে বাড়ছে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি। এতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন পূর্বাভাস দিয়েছে।

পাউবো জানিয়েছে, বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে; এবং লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এ ছাড়া আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী, ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

এদিকে, বোয়ালখালী প্রতিনিধি জানান : অবিরাম ভারি বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে বোয়ালখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

গতকাল সকাল থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ল্যাব এবং প্রশাসনিক কক্ষসমূহে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর অভিভাবকেরা ভোগান্তিতে পড়েন।

উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী, পশ্চিম শাকপুরা, ঘোষখীল, কধুরখীলের বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা।

গত সোমবার রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর থেকেই বোয়ালখালী উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস ও দোকানপাটের কার্যক্রমেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।

পৌর সদরের বাসিন্দা মো. আজিজ বলেন, এক দুর্বিষহ অবস্থায় দিনযাপন করছি। দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলে চার্জ না থাকায় কারো সাথে জরুরি যোগাযোগও করতে পারছি না। শুধু বৃষ্টি বলে না, কোনো না কোনো অজুহাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। অথচ মাস শেষে বিশাল অঙ্কের বিলের বোঝা টানতে হয় গ্রাহকদের।

গতকাল সকালে আরাকান সড়কের নয়া রাস্তার মাথায় একটি গাছ উপড়ে পড়লে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। খবর পেয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম গাছ কেটে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ অলক চাকমা বলেন, সকালে একটি গাছ পড়ে আরাকান সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা জানান, পৌর এলাকার কয়েকটি জায়গায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। ওই এলাকাসমূহে পানি নিষ্কাশনে পৌরকর্মীরা কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, উপজেলায় এখন অবধি বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।


ডুমুরিয়ায় আঁশফলের ভালো দামে খুশি চাষি ও ব্যবসায়ী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সুস্বাদু ফল আঁশফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের কম প্রকোপ এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঠিক ও নিয়মিত পরামর্শে এবার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গাছে গাছে ফল ধরেছে রেকর্ড পরিমাণে। বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা এবং ভালো দাম পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ের মুখেই ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

​​স্থানীয়ভাবে ‘কাঠলিচু’ বা ‘লংগান’ নামে পরিচিত এই ফলটি দেখতে অনেকটা লিচুর মতো এবং স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।

​জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, আটলিয়া, মাগুরা ঘোনা, শোভনা, সাহস, গুটুদিয়া এবং রংপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছগুলোতে এবার অভাবনীয় ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম এবং পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ডুমুরিয়ায় প্রতি বছরই বাণিজ্যিকভাবে আঁশফল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে এলাকার শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা এখন এই ফলের বাগান গড়তে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

​​বর্তমানে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর এবং ডুমুরিয়া সদর বাজারে প্রতিদিন ভোরে বসছে আঁশফলের জমজমাট পাইকারি হাট। খুলনা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং রাজধানী ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভোরেই ছুটে আসছেন এই হাটে।

​বাজারে ​ ১টি আঁশফল খুচরা ৩ থেকে ৪ টাকা। ​ফলভর্তি একটি গাছের পাইকারি দাম ১২০০ থেকে ৩২০০ টাকা (আকার ও ফলন ভেদে)।​ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সরাসরি ফল কিনে ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন বড় বড় আড়তে।

​​উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের আঁশফল ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন,​‘ফল পাকার পর দ্রুত সংগ্রহ না করলে তা এমনিতেই ঝরে পড়ে। তার ওপর বাদুড় একবার গাছে বসলে এক রাতেই প্রায় সব ফল নষ্ট করে দিয়ে যায়। তাই খরচ একটু বেশি হলেও এখন বাধ্য হয়ে অধিকাংশ চাষিই পুরো গাছ নেট (জাল) দিয়ে ঢেকে ফল রক্ষার ব্যবস্থা করছেন।’

​​ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু আঁশফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

​ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়ায় আঁশফলের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আঁশফলের চাষ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

​স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দেশি ফলের কদর দিন দিন বাড়ছে। ভালো ফলন ও উপযুক্ত বাজারদরের কারণে চলতি মৌসুমটিকে ডুমুরিয়ার আঁশফল চাষিদের জন্য একটি অত্যন্ত সফল ও লাভজনক বছর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


টানা বৃষ্টিতে বোয়ালখালীর হাসপাতালে হাঁটু পানি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা ও জরুরি বিভাগে হাঁটুসমান পানি জমে চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও চিকিৎসকরা পানির মধ্যেই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর ও বাইরের আঙিনায় হাঁটুসমান পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগের কক্ষেও পানি ঢোকে পড়ায় চিকিৎসকরা পানির মধ্যেই রোগী দেখছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন বিভিন্ন রোগী।

উচ্চ রক্তচাপ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হোসনা আরা (৫৮) নামে এক নারীকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পূজা ভূমিক বলেন, ‘রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক মামুন বলেন, ‘হাসপাতালটি রাস্তার তুলনায় নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার মধ্যেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।’

এদিকে টানা বর্ষণে নদীর তীরবর্তী কধুরখীল, পশ্চিম গোমদণ্ডী, চরখিদিরপুর, শাকপুরা ঘোষখীল, পশ্চিম শাকপুরা ও চরণদ্বীপ এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠোনেও হাঁটুসমান পানি জমে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

চরখিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, ‘চারদিকে পানি থইথই করছে। বাড়ির উঠোনসহ সব জায়গায় হাঁটুসমান পানি ওঠে যাওয়ায় চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, ‘প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত পানি নেমে গিয়ে জনদুর্ভোগ কমে।’


অপরাধ নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে জিএমপি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, ‘মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স ও নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ নির্মূলে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনাও করা হচ্ছে।’

গত সোমবার (৬ জুলাই) সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জিএমপি হেডকোয়ার্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষা, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে জিএমপি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মামলা নিষ্পত্তি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।’

তিনি জানান, শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘গুজব ও অপপ্রচার সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

জিএমপি কমিশনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। সভায় মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রম ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


ময়ূর নদীতে দুটি ব্রিজের নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে: কেসিসি প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৫
খুলনা ব্যুরো

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ১৮নং ওয়ার্ডের মাহাতাব উদ্দিন সড়কের শেষ প্রান্তে ময়ূর নদীর ওপর বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজটির বিষয়ে জনৈক সাংবাদিকের করা একটি প্রতিবেদন দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তিনি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ব্রিজটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনকালে প্রশাসক ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘জনসাধারণের চলাচলের ভোগান্তি দূর করতে বর্ণিত স্থানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।’ উপস্থিত সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘ময়ূর নদীতে একাধিক ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সংস্থাটি দুটি ব্রিজের নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে এই ব্রিজটি নাই। এই ব্রিজটি নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ এলজিইডি অপারগতা প্রকাশ করলে সিটি করপোরেশন উদ্যোগী হবে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া ময়ূর নদীতে বিদ্যমান কচুরিপানা দ্রুত পরিচ্ছন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, ১৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনি, কাজী শফিকুল ইসলাম শফি, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস, হুমায়ুন কবীরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গল্লামারী ব্রিজ সড়কের সম্প্রসারণ কাজসহ বাব এ সালাম আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়ক, ছবেদ আলী লেন, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, মাহতাব উদ্দিন সড়ক, খালিশপুরস্থ বাস্তুহারা কলোনির ড্রেনেজ, বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ পোর্ট কলোনির অভ্যন্তরে স্লুইচগেট নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


মামলাজট কমাতে প্রত্যাহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক মামলা: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি আরও বলেন, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের দীর্ঘদিনের মামলাজট কমাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন বিচারপতি এবং বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে অধস্তন আদালতের শূন্যপদ পূরণে ৫০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে আসে। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর বিষয়ে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে প্রথমে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হতে হবে।

আপিল নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদেও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবে এবং আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করবে। ফলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই; তবে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সাজার মওকুফ বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা লাভের সুযোগ রয়েছে।

সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নান তার প্রশ্নে জানতে চান মামলাজট কমাতে নতুন বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না।

প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

নিম্ন আদালতের বিচারক সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোয় বর্তমানে মোট ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদ রয়েছে। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক।

খালি পদগুলো দ্রুত পূরণে সরকারের চলমান পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯তম ও ২০তম বিজেএস: এ ছাড়া ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এই চাহিদাপত্র অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলেও আইনমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।


শ্রীমঙ্গলে ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল, যুবক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শাহিন আলী (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯।

গত সোমবার (৬ জুলাই) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইসলামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শাহিন আলী শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের জালালিয়া রোডের শুক্কুর আলীর ছেলে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তাকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, অভিযুক্ত শাহিন আলী তার বাসায় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন এবং ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার কাছ থেকে নিয়মিত কেনাকাটা করতেন। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ওই গৃহবধূ শাহিনের কাছ থেকে এক জোড়া জুতা কিনেন। জুতাটি ছোট হওয়ায় তা পরিবর্তন করতে ওই দিনই তিনি শাহিনের বাসায় যান। সে সময় বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে শাহিন জোরপূর্বক গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন এবং গোপনে মোবাইলে তার ভিডিও ধারণ করে রাখেন।

র‌্যাব আরও জানায়, পরবর্তীতে ওই আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি করে রাখেন শাহিন এবং তাকে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ভিডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ করলে শাহিন তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহিনকে ৫০ হাজার টাকা দিলেও, বাকি টাকার জন্য সে পুনরায় চাপ দিতে থাকে। পরবর্তীতে টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিন আপত্তিকর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনায় গৃহবধূ শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহিন আলীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


মাগুরায় নানা অনিয়মে সার বিক্রি, লাখ টাকা জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক সদর উপজেলার শত্রুজিতপুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিসিআইসি সার ডিলারকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মুদি দোকানসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে শত্রুজিতপুর বাজারে মেসার্স সনজিত কুমার সাহা নামক বিসিআইসি সারের দোকানে পরিদর্শনে গেলে নানা অনিয়ম পায়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।

সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম ও মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানান, টিএসপি সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৩৫০ টাকা বস্তা কিন্তু উক্ত প্রতিষ্ঠান বিক্রয় করেছেন ২২০০ টাকা প্রতি বস্তা। এছাড়া ডিএপি সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১০৫০ টাকা হলেও প্রতিষ্ঠানটি বিক্রয় করেছেন ১৭০০ টাকা বস্তা। অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলেও ভাউচার কিংবা রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। দুজন কৃষকের সাথে ফোন করে কথা বলে জানা যায়, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোন ভাউচার প্রদান করা হয়নি। যা দেশের কৃষি ও কৃষকদের সাথে ভয়াবহ প্রতারণা। প্রতি বছর সরকার কৃষকদের নিকট ন্যায্যমূল্যে সার প্রদানের লক্ষ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে কিন্তু এসমস্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য কৃষদের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা চলে যায় সার বাবদ। কৃষি ও কৃষক নিয়ে এমন প্রতারণামূলক অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ও ৪০ ধারায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আইন অমান্যকারী কৃষকদের সাথে প্রতারণামূলক কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়।


সাতক্ষীরায় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি মজনুকে বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরী ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ খুলনা- ৭৬৪) অশান্ত ও মাদক সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করার অপরাধে সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদারকে বহিস্কার করা হয়েছে।

এরই জের ধরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শ্রমিক নেতা মিলন ও মিয়ারাজ ও বহিস্কৃত সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি বহিরাগত বাহিনী নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরী ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নে এসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালায়। ঘটনা সূত্রে জানাযায় গত দুইদিন পূর্বে দুপুরের দিকে সাতক্ষীরার শহরের প্রাণ কেন্দ্র নারকেলতলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নে দুপক্ষের রক্ত ক্ষয়ির আশংকা ছিল দুই পক্ষের শ্রমিকের মধ্যে ।

তাৎক্ষণিক সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউনিয়নে তালা মেরে দেয় এবং ইউনিয়নের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দসহ উভয় পক্ষকে সাতক্ষীরা সদর থানায় হাজির হতে বলে। শ্রমিক ইউনিয়নের সদ্য বহিস্কারকৃত সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদারের বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত ও অনলাইন জুয়ারীর অভিযোগ আছে বলে জানান উক্ত সংগঠনের উপদেষ্টা শেখ শফিউল্লাহ মনি।

বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমাকে জোর পূর্বক ও অন্যয়ভাবে বহিষ্কার করেছে। আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে।

উক্ত শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা শেখ শফিউল্লাহ মনি বলেন মজনু সরদার সংগঠনের নামে বিভিন্ন জায়গা হতে টাকা উঠিয়ে তা তসরুপ, মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত হওয়ার অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদার ও সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মুহা: মাসুদুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, উক্ত ট্রাক শ্রমিকরা তাদের কিছু বিষয় নিয়ে মনোক্ষুষণ্ন হয় এবং তার জের ধরে আইনশৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার আশংকা ছিল কিন্তু পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের সংগঠন তারা যে ভাবে চালাতে চায় চালাক পুলিশের কোনো বাধা নেই তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় সেই বিষয় পুলিশ সজাগ আছে। শ্রমিক ইউনিয়ন এর তালার চাবি উভয় পক্ষ স্বইচ্ছায় আমার কাছে জমা রেখেছে এবং তারা সিনিয়র নেতৃন্দের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।


জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর জলঢাকায় কলেজ শিক্ষার্থী কিবরিয়া ইসলাম পিয়েল হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মীরগঞ্জ বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন নিহতের বাবা কফদ্দি মাহমুদ, বড় বোন কেয়া লাবনী কনা, কুলসুম আক্তার, মামা খালেকুজ্জামান লেবু, মাহবুব আলম ও স্থানীয় সাইদুল ইসলামসহ অনেকে।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিহতের চাচার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ১১ জুন সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কিবরিয়া ইসলাম পিয়েলের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় চারজন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


নিবন্ধনের দাবিতে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে বিএমডিসির স্মারকলিপি প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

সরকার অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) পেশাগত নিবন্ধন না পাওয়ায় ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

মেডিকেল এসিস্টেন্টদের ন্যায় ৪ বছর মেয়াদী ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের কে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ১৫ ধারা ও ৫ম তফশীলে অন্তর্ভুক্ত করে নিবন্ধন প্রদানের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ জেলা শাখার উপদেষ্টা ইউনুস আলী, বদিউজ্জামান ও গোলাম কিবরিয়া রুবেল, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুল হাসান রিমন, অর্থ সম্পাদক আকতার হোসেন এবং সদস্য রবিউল ইসলাম রনি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারা ও পঞ্চম তপশিলে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৫ ধারা অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ এবং বিএমডিসির পেশাগত নিবন্ধন কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত কাজের পরিধি অনুযায়ী সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


banner close