বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
১ মাঘ ১৪৩২

গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে চারজন নিহত

সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারা বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১ আগস্ট, ২০২৪ ১৭:৫৬

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বাস ও ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে ইজিবাইকের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার রাঘদি ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, মুকসুদপুর উপজেলার বরইতলা বিশম্ভরদী গ্রামের আবু রায়হান শেখের দুই ছেলে আবুল বশার শেখ (৪০) ও আবুল খায়ের শেখ (৩৫), একই গ্রামের চুন্নু শেখের ছেলে হাসান শেখ (২৯) এবং দিগনগর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ইয়ার ইয়ার আলী (৩৮)।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ মো. খায়রুল আনাম জানান, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাস একই দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে যায়। এ সময় বাস ও ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে একটি ইজিবাইক। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের দুই যাত্রী বশার শেখ ও খায়ের শেখ নিহত হন এবং ইজিবাইক চালক হাসান শেখ ও ইয়ার আলী গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত ইজিবাইক চালকসহ ২১ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে। বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়ার আলী ও হাসান শেখ মারা যান।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও ঘাতক বাস ও ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।


ইরানে নিহত আড়াই হাজার ছাড়াল, গ্রেপ্তার ১৮ হাজার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ঘিরে দেশ জুড়ে শুরু বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তাল ইরান। দমন-প্রতিরোধ এবং সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মৃত্যু আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া ১৮ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর বরাতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ খবর ছেপেছে দুবাই ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাতের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা এখন ইসফাহান ও শিরাজসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

ইরানের সামরিক কমান্ডার আবদুল রহিম মুসাভি অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে আইএসের সদস্য মোতায়েন করে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের দাবি, বহিরাগত এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের বিক্ষোভকে ছিনতাই করে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। এরই মধ্যে সাড়ে তিনশ মসজিদ এবং দুইশ এম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আন্দোলনকারীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে নিরাপত্তা বাহিনী এই বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন তাদের জন্য শিগগিরই সহায়তা আসছে। ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সব বৈঠক বাতিল করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলাকারীদের কঠোর মূল্য দিতে হবে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের তালিকা মনে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ইরানের রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ।

একদিকে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই যেন বাড়ছে ইরানি মার্কিন হামলার আশঙ্কা। এতে, সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পাশাপাশি ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এসময় তিনি জানান, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা জেনে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ইস্যুটি আলোচনার টেবিলে। আমরা নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা অনুসন্ধানে কাজ করছি। সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা।’

শিগগিরই এক বিক্ষোভকারীকে ইরান মৃত্যুদণ্ড দেবে বলে শঙ্কা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে, গ্রেপ্তার হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে শঙ্কা জানায় জাতিসংঘ।

তেহরানের বিক্ষোভকারীদের দেশপ্রেমিক অভিহিত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। ইরানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার জন্য ট্রাম্পকে দোষারোপ করে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধি।

চলমান উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানের নির্বাসিত যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকভ। ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে রেজা পাহলভি, ইরান সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, ধোঁয়াশা কাটছে না সরকারবিরোধী আন্দোলনের মৃতের সংখ্যা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএন—এর দাবি, ইরানের চলমান আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। তবে কানাডাভিত্তিক গণমাধ্যম সিবিসি জানায়, সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ১২ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক হচ্ছে ইরানের ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল পরিষেবা। এতে করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন তেহরানবাসী। তবে বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা। এমন অবস্থায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন ইরানের প্রবাসীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডার নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে অটোয়া। এছাড়া, ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে ফ্রান্সও। পাশাপাশি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তেহরানের আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানির জন্য দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নিন্দা জানিয়েছে।


বান্দরবানে ইট পোড়াতে উজাড় হচ্ছে বন, সাবাড় হচ্ছে পাহাড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা আজিজনগর গজালিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের পাহারায় চলছে অবৈধ ইটভাটা । এই ইটভাটা টিতে পাহাড় কেটে মাটি ও অবাদে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। অভিযোগ উঠেছে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান ও তার দুই পুত্র ফরহাদ ও আলভি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান আজিজ নগর ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। সেসময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপাত্যের বলয় সৃষ্টি করে নানা অনিয়মের মধ্যে গজালিয়া এলাকায় এসবিএম নামে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন তিনি। যেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী মজুদ রেখেছেন ইটভাটাটি পাহাড়া দিতে। ফলে এলাকাবাসীরা এদের ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। আর এসব অবৈধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন তারই পুত্র ফরহাদ হোসেন ও আলভি।

স্থানীয়রা আরও বলেন ৩ পার্বত্য জেলায় অবৈধ সকল ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল হাইকোর্টের।

অন্যান্য ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করলেও এই ভাটা মালিকের প্রভাব ও টাকা বিনিময়ের কারণে এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার অভিযান পরিচালনা করেনি প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একধীক সংবাদকর্মী বলেন, সম্প্রতি অবৈধ ইটভাটার তথ্য সংগ্রহ করতে গজালিয়া এলাকায় আজম খানের এসবিএম ব্রিক ফিল্ডে গেলে, তথ্য সংগ্রহকালে ভাটা মালিক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খানের নির্দেশে তারই ছেলে ফরহাদ ও ম্যানেজার কবিরসহ ভাটা শ্রমীকরা মোবাইল কেড়ে নেয় এবং অধৌত আচরণ করেন। তারা চট্টগ্রামের সাবেক আওয়ামী নেতার ক্যাডার নীতিতে জড়িত থেকে বেশ কয়েকটি হত্যাও করেছিলেন তারা। এখনও কয়েকটি লোক ইটভাটার চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেললে কিছু যায় আসে না বলে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান, ইটভাটাটির অনুমোদন নেই বলে স্বীকার করলেও সাংবাদিকদের সাথে ঘটে যাওয়া লাঞ্চনার ঘটনায় শ্রমীকদের দায়ী করছেন তিনি।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন ফলে ক্রমান্বয়ে উপজেলার সবকটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে গজালিয়ার এই এইসবিএম ভাটাটিতে এখনো পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এ নিয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরকে একাধিক বার অভিযান পরিচালনা করতে আহ্বান জানানো হলেও তারা আসেননি। তবে অতিশিগ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, জেলায় এই মুহূর্তে কয়টি ইটভাটা চালু আছে তার সঠিক তথ্য তার কাছে নেই। তবে লামা উপজেলার আজিজ নগর, ফাইতং ইউনিয়নসহ ৩১টি ইটভাটা চালু রয়েছে। গজালিয়া ইউনিয়নের আজম উল্লাহ খানের এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।


মাগুরায় ২ কেজি চাল দিয়ে শুরু হয় ভাবির হোটেল 

‘অভাবে দিন যাচ্ছে লজ্জায় কারো কাছে কিছু চাইনে’
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

এটি কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের গল্প নয়, এখানে নেই কোনো আলো ঝলমলে ঝাড়বাতি বা রঙিন লাইট। নেই কোনো দামি চেয়ার টেবিল। আছে শুধু অপলকহীন পথের দিকে তাকিয়ে থাকা। কখন একজন কাস্টমার আসবে ভাবির হোটেলে সেই অপেক্ষায়!

প্রায় ১০ বছর আগে মাগুরা সদরের পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনাল এলাকায় বিশ্বরোডসংলগ্ন গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে ফরিদা বেগমের ‘ভাবির হোটেল’ নামে খ্যাত এই হোটেলটি।

টিনের ভাঙাচোরা একটি এক কক্ষবিশিষ্ট মাটির ছাপরা ঘর। চারিপাশে বাঁশের বেড়া। কোনো কোনো পাশের বেড়া আবার ভেঙে পড়ে গেছে। বসার ব্যবস্থা হিসেবে হোটেলে আছে ২/৩টা বেঞ্চ এবং নড়বড়ে টেবিল। সেখানেই পরম মমতায় আপ্যায়ন করা হয় নিজের হাতের রান্না করা দেশিয় চালের ভাত, ডাল, মুরগির গোশ, ভর্তা, ভাজি, মুড়িঘণ্ট ইত্যাদি। প্রতিদিন মাত্র ২ কেজি চাল রান্না করা হয়। কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করার পর যে খাবার বেঁচে যায়, তাই খেয়ে বেঁচে থাকেন ফরিদা বেগমের পরিবার।

২১ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সাতক্ষীরা থেকে স্বামী আবদুল জলিলের (৫৫) হাত ধরে মাগুরায় এসেছিলেন ফরিদা বেগম (৪৭)। কাজ করতে করতে মাগুরার মায়ায় পড়ে যান তারা আর ফিরে যান নি দেশে। তাদের গ্রামের বাড়িতেও নিজস্ব জমি বলতে তেমন কিছু নেই।

আব্দুল জলিল কারেন্ট মিস্ত্রির কাজ করতেন, আর ফরিদা বেগম বাসা বাড়িতে কাজ শুরু করেন। পারনান্দুয়ালী এলাকায় ২ হাজার টাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। একমাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কাছে একদিন হার মানতে হয় তাদের। ২০০৭ সালে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে ফরিদার স্বামী মারাত্মকভাবে অগ্নি দগ্ধ হয়। তারপর থেকে সে আর কোন কাজ করতে পারে না। তার চিকিৎসার পেছনে প্রচুর টাকা নেমে যায়। এখনো প্রতিদিন ৩০০ টাকার ওষুধ লাগে। অভাবের তাড়নায় ছেলেকেও লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। বাসার কাছেই গাড়ি সাড়ার একটি লেদে ছেলেকে কাজে লাগিয়ে দেন।কিন্তু তাতেই বা আর কয় টাকা আসে। সংসার চালাতে আর স্বামীর চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেয়ে যান ফরিদা বেগম। নানা কষ্ট আর চিন্তাই ফরিদা নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধরা পড়ে ডায়াবেটিক এবং হাই প্রেসার। এছাড়া হাতে পায়ে ব্যথা অনুভব করেন সব সময়। আগের মতো শরীরে বল পাননা তিনি, তাই বাধ্য হয়ে বাসা বাড়ির কাজ ছেড়ে দিতে হয় তাকে। কিন্তু সংসার তো চালাতে হবে, সেই চিন্তা করে রাস্তার পাশেই পারনান্দুয়ালী এলাকার বাসিন্দা ইকবালের কাছ থেকে ২৫০০ টাকায় ছাপরা ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন এই ‘ভাবির হোটেল’। বাস টার্মিনালের পাশে হওয়ায় গাড়ির ড্রাইভার এবং শ্রমিক লেভেলের লোকজন বেশি আসে এখানে। ভাঙ্গা হোটেল দেখে ভদ্র ও শিক্ষিত সমাজের লোকজন এখানে আসেন না বললেই চলে। প্রতিদিন ২ কেজি চাল রান্না করা হয়, বিক্রি করার পর যে খাবার বেঁচে যায়, তাই খেয়ে জীবন বাঁচান ফরিদার পরিবার। দিনে মাত্র পাঁচ ছয় জন কাস্টমার আসে এই হোটেলে।

এই সামান্য টাকায় সংসার কিভাবে চলে তা জানতে চাইলে ফরিদা বেগম দৈনিক বাংলাকে জানান, কি করব, খাবার বিক্রি করে যে টাকা পায় কোনরকমে কষ্টে চলে সংসার। এছাড়া তো আর কিছু করারও নেই। ভিক্ষা করতে তো আর পারি না। লজ্জায় কারো কাছে কিছু চাইনে। বাসা বাড়িতে কাজ করার সময় আগে মানুষ একটু গোশ দিত, কাপড় চোপর দিত, বাসার কাজ ছেড়ে দেয়ার পর এখন আর কেউ কিছু দেয় না। আমার শীতের কোনো কাপড় নেই শাড়ি ছিরে চাদর বানিয়ে তাই গায়ে দিই। কেউ এসে একটা শীতের কাপড় বা কম্বলও দেয়নি।

ফরিদার স্বামী আব্দুল জলিল বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর পায়ে খুব বেশি জোর দিতে পারি না তাই ভারি কোনো কাজ করতে পারি না। ওষুধ খরচ আর সংসার চালানোর জন্যি নিজেদের খাবারের চাল দিয়েই এই হোটেল চালায়। কিন্তু ২৫ কেজির চাল ১৫-২০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এখন চালের দোকানে অনেক দেনা। কাঠের খড়ি কিনে রান্না করতে হয়, সেখানেও অনেক দেনা হয়ে গিছি। দুই মাসের ঘর ভাড়া বাকি, কবে এই টাকা শোধ দিতে পারব জানিনে। দেনার দায়ে হোটেলটাই শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হবে মনে হয়।

হোটেলের পাশে লেদ মিস্ত্রি রিপন বলেন, অনেকদিন ধরেই ফরিদা বেগম কষ্ট করে এই হোটেল চালান। তারা খুব ভালো মানুষ। প্রশাসন যদি ওনাদের একটু সাহায্য করত তাহলে একটি পরিবার বেঁচে যেত।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাবির সিনেট ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটছে। অফিস চলাকালীন সময় ও অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বক্তারা আরও বলেন, মব সৃষ্টি করে কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে আঘাত করা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কর্মস্থলকে অনিরাপদ করে তোলা হচ্ছে। এর ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে অফিসার সমিতি তীব্রভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তারিখে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যার অংশ হিসেবেই এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আল-আমিন বিদ্যুৎ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল মানিক এবং সদস্য রোকসানা বেগম টুকটুকি প্রমুখ।


সুনামগঞ্জে নিন্মতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারক লিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট অবিলম্বে বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকরের দাবিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিন্মতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ইলিয়াস মিয়া।

স্মারক লিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ফবলু মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরঞ্জিত দাস, টিটু দাস, সদস্য মতিউর রহমান, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মে ২০২৫ খ্রি. হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিন্মতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয়, সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ ৯ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করা না হলে শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার হতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে। সে মোতাবেক সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। যে কারণে শ্রমিদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজমান।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সরকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জাননো হয়।


ফেনীতে মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, চলাচলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের পাশে দাগনভূঞা পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌর এলাকার সব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় সেখানে। বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি ময়লার স্তূপে বিচরণ ও ঘাটাঘাটি করতে দেখা যায়। পঁচা ময়লা-আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ ও সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন জনসাধারণ।

স্থানটি পার হওয়ার সময় ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারী ও যানবাহন যাত্রীদের। এ সময় হাত দিয়ে নাক-মুখ বন্ধ করে রাখেন তারা। স্থানটি অতিক্রম করার সময় গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন চালকরা। এতে দুর্ঘটনা ঘটেছে কয়েকবার। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।

জানা যায়, গত তিন বছর ধরে দাগনভূঞা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কৃষ্ণরামপুরের এই জায়গাটিতে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া জীবাণুর কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে জনসাধারণ। অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, অনেকেই এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। ময়লার দুর্গন্ধে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, যানবাহনের যাত্রী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী মারাত্মক দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।

আবর্জনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা লোকজন বিভিন্ন সময়ে ততকালীন পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাননি। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে।

পথচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ময়লার স্তূপে সারাদিন মশা-মাছি ভনভন করে। পঁচা-আবর্জনা আর সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ার তীব্র গন্ধে চলাচল করতে কষ্ট হয়। গাড়ি চালকরা স্তূপের পাশ দিয়ে দুর্গন্ধের কারণে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ময়লা-আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে ফেলায় বাতাসের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে। নাকে হাত দিয়ে চলতে হচ্ছে। এছাড়া ময়লার ভাগাড়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার পাশে যে ময়লাটা ফেলা হয় এটা আমরা অনেকটা বাধ্য হয়ে ফেলতে হয়। আমাদের এখানে একটি ডাম্পিং স্টেশন করার পরিকল্পনা আছে। সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা কিছু জায়গা পেয়েছি। সেটা আমরা পরিদর্শন করেছি। অল্প সময়ে যদি আমরা ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শুরু করতে পারি। তাহলে ময়লাগুলো সেখানে ফেলবো।

সড়কের পাশে বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ করে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা ও সমস্যা সমাধানে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটি প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


মৌলভীবাজারে বিজিবির বড় সাফল্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগকালে উদ্ধার কার্যক্রমে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) ব্যবস্থাপনায় উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, সরাইলের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বি এম তৌহিদ হাসান।

তিনি জানান, সরাইল রিজিয়নের অধীন দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় চারটি সেক্টরের আওতায় ১৩টি ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করছে। গত ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে অদ্যাবধি পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৭২ জন আসামিসহ ১৬৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৭২ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ২৯২ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া অভিযানে ২টি বিদেশি পিস্তলসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড গোলাবারুদ ও ২৪টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্নেল তৌহিদ হাসান আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে- যাতে যেকোনো ধরনের অপরাধ ও নাশকতা প্রতিরোধ করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদসহ বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ইলিশ মাছের চালান আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল প্রতিনিধি

বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ মাছের জ্বালা আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পণ্য চালান টিতে সাদা মাছের সাথে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৩ টন ইলিশ মাছ আমদানি করা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্যের চালানের সাথে পরীক্ষণ সুপারেন্টেনডেন্ট এর জোকসাজেস থাকতে পারে বলে অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা পচনশীল পণ্য বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য মাছগুলি খালাসের ব্যবস্থা করা হলেও ইলিশ মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করা হয়। আমদানিকৃত দুটি ভারতীয় ট্রাক (WB25K-3029 ও WB11E-5027) থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে বেনাপোল কাস্টমসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ বোয়াল, ফলিও ও বাঘাইর মাছ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

পণ্য চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক ছিল মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল আমদানিকারক বাংলাদশের সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ। উভয় পক্ষের সমন্বয়েই ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি এই ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকেন, তদন্তে তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।


রাণীনগরের ২ সরকারি ডেইরি খামার প্রকল্প এখন পরিত্যক্ত

* সর্বহারা সদস্যদের পুনর্বাসনের ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্প
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চরমপন্থী (সর্বহারা) সদস্যদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দুটি সরকারি ডেইরি খামার প্রকল্প বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একসময় শতাধিক গরু ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সমৃদ্ধ এই প্রকল্পগুলো এখন কার্যত ‘ভূতের বাড়ি’তে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের রাতোয়াল গ্রামসংলগ্ন খানপুকুর–রাতোয়াল সড়কের পাশে বড়ইতলা নামক স্থানের খাস জমিতে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়।

২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বপ্ন চাষ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি.-এর নামে ৭৫ লাখ টাকা এবং আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নামে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এই প্রকল্পগুলোর সদস্য ছিলেন উপজেলার চিহ্নিত চরমপন্থীরা, যারা খামারের লভ্যাংশের অংশীদার ছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে শতাধিক গরু ক্রয়ের মাধ্যমে খামার দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী সদস্যরা রাতারাতি গরুসহ খামারের প্রায় সব সম্পদ লুট করে নিয়ে যান। এরপর থেকে খামার দুটি সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে সেখানে ভবন ও কিছু অবকাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সমিতির সব সদস্য পলাতক থাকায় খামার দেখভালের দায়িত্বেও কেউ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম, জব্বার আলীসহ অনেকে জানান, খামার স্থাপনের পর প্রথমদিকে প্রকল্প দুটি ভালোভাবেই পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু আন্দোলনের পর সবকিছু লুট হয়ে যাওয়ায় সরকারের কোটি টাকার সম্পদ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। নির্জন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত এসব ভবনে মাদক সেবন ও মাদক কারবারীদের আসর বসছে। পাশাপাশি দুষ্কৃতিকারীরা এই স্থানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আশপাশের এলাকায় নানা অপকর্ম চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে প্রকল্প দুটি পুনরুদ্ধার করে নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহারের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, প্রকল্পটির বিষয়ে অবগত হয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


গাকৃবিতে হাল্ট প্রাইজের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাকৃবি প্রতিনিধি

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের শিক্ষার্থীদের সর্ববৃহৎ সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরির প্রতিযোগিতামূলক সংগঠন এবং বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের নোবেল পুরস্কার নামে পরিচিত ‘হাল্ট প্রাইজ’ অন-ক্যাম্পাস ২০২৫-২৬ এর গ্র্যান্ড ফিনালে। গাকৃবিতে ৬ষ্ঠ বারের মতো অনুষ্ঠিত তরুণদের নেতৃত্বে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান উদ্ভাবনই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আইকিউএসি’র পরিচালনায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গাকৃবির বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি এর পরিচালক প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী। এ সময় হাল্ট প্রাইজ ন্যাশনাল টিম থেকে উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল মন্ডল। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করেন হাল্ট প্রাইজের গাকৃবি ডিরেক্টর সৃজন পণ্ডিত দিব্য, ডেপুটি ডিরেক্টর আমিনুল ইসলাম সিফাত এবং তাদের সংগঠক দল। ফ্রেশ অনন্যার সৌজন্যে মাসব্যাপী প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ছয়টি দল টিম এভেনলো, টিম কার্বোডিট, টিম ইকোফিনস, টিম রেস্কিউহারভেস্ট, টিম কর্নোভা ও টিম সেলুথিয়া তাদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে। বিচারকদের মূল্যায়নে টিম রেস্কিউহারভেস্ট চ্যাম্পিয়ন হয়।

অন্যদিকে টিম এভেনলো প্রথম রানার্সআপ এবং টিম কার্বোডিট দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভাইস-চ্যান্সেলর।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘হাল্ট প্রাইজের এ আয়োজন আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তি ও নেতৃত্বের প্রতিফলন। হাল্ট প্রাইজ তরুণদের সামাজিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার সাহস দেয় যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’


ইলিশ ও ক্রেতা সংকটে বড় স্টেশন মাছঘাট

* বেনাপোলে ভারতীয় ইলিশ মাছের চালান আটক * বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 দৈনিক বাংলা ডেস্ক 

চাঁদপুরে দেশের অন্যতম প্রধান ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র বড় স্টেশন মাছঘাট সংকটের মুখে। গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ইলিশের সরবরাহ ক্রমশ কমতে শুরু করে। এটি এখন প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। এমনকি ইলিশের ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েনি এ অঞ্চলে। এদিকে গত মঙ্গলবার বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশ মাছের চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ওদিকে জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মা-মেঘনায় আগের মতো ইলিশের ঝাঁক দেখা যাচ্ছে না। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বড় স্টেশন মাছঘাটে। একদিকে যেমন ইলিশের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, অন্যদিকে তেমনি কয়েকগুণ বেড়েছে দাম। ফলে ক্রেতা সংকটে পড়েছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।

বিশেষ করে বর্তমানে ইলিশের মৌসুম না থাকলেও বিগত বছরগুলোতে এ সময় বড়স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ মণ ইলিশের সরবরাহ থাকত। কিন্তু এবার সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ ২০ মনেও পৌঁছাচ্ছে না, যা এ মাছঘাটের ইতিহাসে বিরল।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে বর্তমানে ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। মাঝারি ও ছোট আকারের ইলিশও উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা ইলিশ কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

ইলিশ কিনতে আসা সুমন রহমান বলেন, ‘ইলিশ প্রিয় মাছ হলেও দামের কারণে এখন অপ্রিয় হয়ে উঠছে। বড় স্টেশন মাছঘাটে এসে ইলিশের দাম এতটাই বেশি যে পছন্দমতো বা প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আগে যে দামে মাঝারি আকারের ইলিশ কেনা যেত, এখন সেই টাকায় ছোট মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ইলিশ ব্যবসায়ী মনছুর আহমেন মাহিন বলেন, ‘ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কমছে, ফলে আড়তে লোকসান গুণতে হচ্ছে। এ ছাড়া নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না। ঘাটে ইলিশ কম আসায় মূলত দাম বেশি। এখনকার বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর ১ কেজি ওজনের নিচের ইলিশ ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর ছোট সাইজের ইলিশ ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

আরেক ব্যবসায়ী বিজয় সরকার বলেন, ‘আনসিজনে ইলিশের বিক্রি নেই বললেই চলে। মাছঘাটে ইলিশও কম দামও বেশি। যার কারণে ক্রেতারা ঘাটে আসলেও না কিনে চলে যায়। আমরা ব্যবসায়ীরা চাই ইলিশের সরবরাহ বাড়ুক, আর দামও যাতে নাগালের মধ্যে থাকে।’

ভারতে রপ্তানির খবরে দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে ‘সিন্ডিকেটের চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন এ ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে তাতে ভারতে রপ্তানিতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়ার কথা না। এটা কোনো সিন্ডিকেটের চক্রান্ত হতে পারে। এর আগে ভারতে অনেক বেশি ইলিশ গেছে। তারপরও দাম কম ছিল, কিন্তু ইদানীং দাম অনেক বেশি।’

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান: বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলিশের চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

পণ্য চালানটিতে সাদা মাছের সঙ্গে ঘোষণা বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। পচনশীল পণ্য বিবেচনায় নিয়ে অন্য মাছগুলো খালাসের ব্যবস্থা করা হলেও ইলিশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামালের শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দার সদস্যরা।

আমদানি করা দুটি ভারতীয় ট্রাক (WB25K-3029 ও WB11E-5027) থেকে পণ্য খালাসের সময় সন্দেহ দেখা দিলে বেনাপোল কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণাপত্রে ‘সুইট ফিস’ বোয়াল, ফলিও ও বাঘাড় মাছ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজে পাওয়া যায় প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের এই স্পষ্ট অমিলের কারণে পুরো চালানটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

পণ্য চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল। আর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশের সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ। উভয়পক্ষের সমন্বয়েই ঘোষণাপত্রে পণ্যের প্রকৃতি গোপন রেখে উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ‘ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত পণ্যের সঙ্গে কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যের স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে। এটি শুল্ক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সি অ্যান্ড এফ এজেন্টের ভূমিকা তদন্তাধীন রয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সারিয়াকান্দিতে কেশর আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কেশর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ফলনের পাশাপাশি দাম ভালো পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে লাখ টাকার বেশি আয় হচ্ছে তাদের। আলুর পাশাপাশি বীজ বিক্রি করেও বাড়িতে আয় করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে কেশর আলুর আবাদ হয়েছিল। ফলন হয়েছিল হেক্টর প্রতি ২০ থেকে ২২ টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হেক্টর। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পেড়িয়ে ৭ হেক্টর জমিতে কেশর আলুর আবাদ হয়েছে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কেশর আলু জমিতে রোপণ করতে হয়। ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ করা যায়।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছাগলধরা, ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সোনাপুর (জোড়গাছা), বাঁশহাটা গ্রামসহ বাঙালি নদীর কিনারাযুক্ত জমিগুলোতে কেশর আলু চাষ বেশি হয়েছে। গত বছর ভালো লাভ পেয়ে এ বছর তারা অধিক জমিতে কেশর আলু চাষ করেছেন। এটি চাষ করতে সাধারণত খুবই কম খরচ হয় এবং রোপণের পর পরিচর্যাও কম করতে হয়। সাধারণত দু-একটি চাষ দিয়ে জমিতে কেশর আলুর বীজ বপন করতে হয়। তারপর আর কোনো পরিচর্যা না করলেও চলে। শুধু উত্তোলনের সময় জমি থেকে কেশর আলু উত্তোলন করতে হয়।

সব ফসলের চেয়ে কেশর আলুতে লাভ খুবই বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে ৬০ মণের বেশি কেশর আলু পাওয়া যায়। সাধারণত প্রতি বিঘা জমিতে কেশর আলু চাষ করতে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কেশর আলু চাষ করতে জমিতে কোনো পরিচর্যা নেই বললেই চলে। এ বছর প্রথমের দিকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত কেশর আলু বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ৪০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, গত বছর তারা ৪০ হাজার টাকা মণ দরে কেসুর আলুর বীজ বিক্রি করেছেন। এতে তারা খুবই লাভবান হয়েছেন।

ছাগলধরা গ্রামের এক কৃষক জানান, গত বছর তিনি ১ বিঘা জমিতে আগামভাবে কেশর আলু চাষ করে ২ লাখ টাকার বেশি কেশর আলু বিক্রি করেছেন। এ বছর তিনি তা বাড়িয়ে ২ বিঘা জমিতে কেশর আলু আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার জমিতে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

সোনাপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোস্তা প্রামাণিক জানান, তারা দুই ভাইসহ এলাকার অনেকেই কেশর আলু চাষ করে আসছেন। এ বছর কেশর আলুর ফলন ভালো হলেও উঠাতে বিলম্ব হওয়ায় অধিকাংশ আলু ফেটে গেছে। এতে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ভালো আলু প্রতি কেজি ৪০ টাকা বিক্রি করতে পারলেও ফেটে যাওয়া আলু মাত্র ২০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই কৃষকরা কেশর আলু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। কেশর আলু ভিটামিন সি, আঁশ, শর্করা, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, এবং এতে থাকা অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এটি মিষ্টি ও ঠাণ্ডা স্বাদের হওয়ায় কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায় এবং ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও উপকারী।


উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ লাইন উচ্ছেদে বাধা প্রদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১২ জানুয়ারি’২০২৬ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োজিত বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট -এর নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস টি এন্ড ডি পিএলসি’র আওতাধীন ৫নং রোড, পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকায় অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায় যে, দনিয়া টিবিএস হতে ঢাকা শহরের সিটি সেন্ট্রাল ডিআরএস গামী উচ্চচাপ বিশিষ্ট ১৬"X১৫০ পিএসআইজি মেইন লাইন হতে অবৈধভাবে ২" লাইনের মাধ্যমে সংযোগ নিয়ে এলাকাবাসী অবৈধভাবে আবাসিক স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহার করছে। উক্ত অবৈধ লাইনটি উচ্চচাপ বিশিষ্ট বিতরণ লাইন হতে গ্রহণ করায় যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‍্যাব ও তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে এই বিশেষ অভিযানে অবৈধ বিতরণ লাইন উত্তোলনকালে কিছু উশৃঙ্খল লোকজন জড়ো হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং অবৈধ লাইন উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে। এ সময় তারা উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপর হামলা করে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করাসহ তিতাস গ্যাস কোম্পানির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মোবাইল ভাংচুর করাসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিতরণ লাইন হতে অবৈধভাবে ব্যবহৃত লাইন উচ্ছেদ ব্যতিরেকে উক্ত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

এমতাবস্থায়, জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উক্ত উচ্চচাপ বিশিষ্ট ১৬"X ১৫০ পিএসআইজি বিতরণ লাইন হতে সংযোগকৃত ২" অবৈধ লাইন হতে গ্যাস সংযোগ না নেওয়ার জন্য ৫নং রোড, পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকাবাসীকে অনুরোধ করা হলো। উক্ত উচ্চচাপ বিশিষ্ট অবৈধ লাইন হতে গ্যাস সংযোগ গ্রহণের জন্য কোন দূর্ঘটনা/জানমালের ক্ষতি হলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কোন দায় বহন করবে না। উক্ত উচ্চচাপ বিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিতরণ লাইনসহ অপরাপর সকল অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদের ব্যাপারে তিতাস গ্যাস কোম্পানির সংশ্লিষ্ট এলাকার আপামর জনগন এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করা হলো।


banner close