রংপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শকসহ (এএসআই) ২ পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তারা ‘অপেশাদারি আচরণস্বরূপ’ শটগান থেকে ফায়ার করেছেন।
বরখাস্ত দুজন হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই আমির হোসেন ও তাজহাট থানার কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। এর মধ্যে আমির হোসেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে এবং সুজন তাজহাট থানায় কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৮ জুলাই পুলিশের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটি ১ আগস্ট আংশিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্তে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় এ দুই পুলিশ সদস্যের ‘অপেশাদারি আচরণ’ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ওই দিনই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পুলিশের ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলছে, ঘটনার দিন দায়িত্ব পালনের সময় এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় অপেশাদার আচরণ করেন, যা সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা পরিপন্থি। তারা কর্তব্যে অবহেলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেছেন। তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গত ১৬ জুলাই দুপুরে রংপুরে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টার দিকে জেলা স্কুল মোড় থেকে মিছিল নিয়ে বের হলে লালবাগ খামার মোড়ে শিক্ষার্থীদের আরেকটি মিছিল তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে মিছিলটি রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করে।
এ সময় সেখানে থাকা ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলাকালে পুলিশের সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে আবু সাঈদসহ বেশ কয়েক শিক্ষার্থী আহত হন। কয়েকজন পুলিশও শিক্ষার্থীদের হামলায় আহত হন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলে হাসপাতালে আনার আগেই গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
নিহত আবু সাঈদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছোট ছেলে। সাঈদ কোটা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক ছিলেন বলে জানান সহপাঠীরা।
ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। আর আবু সাঈদ এক হাতে ক্রিকেট খেলার একটি স্ট্যাম্প নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান আরও জানান, এর আগে আবু সাঈদের মৃত্যু বিক্ষোভকারীদের ছোড়া গুলি ও ইটপাটকেলের আঘাতে হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ। মামলার এজাহারে এ তথ্য দিয়েছে তারা। তবে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাতে কোনো পুলিশ সদস্যের দায় পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এ জন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে বলছে তারা।
তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইন মোতাবেক আবু সাঈদের মৃত্যুর সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। এটা পেলে হয়তো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। তদন্ত চলছে, তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ হলেই পুরা বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
গত ১৬ জুলাই পুলিশ ও কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রাবার বুলেটের আঘাতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এর পর থেকেই নতুন মাত্রা পায় কোটাবিরোধী আন্দোলন। সন্ধ্যার পরপরই দুঃখ ও শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER) প্রকল্পের আওতায় কৃষক-কৃষাণীদের অংশগ্রহণে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদের লাল শাপলা হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দোলন চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মামুনুর রহমান এবং ফরিদপুর ডিএই পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ মো. হাফিজ হাসান।
কোটালীপাড়া উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মুক্তা মন্ডলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, রনি আহমেদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষিকে আরও আধুনিক, পুষ্টি-সংবেদনশীল ও জলবায়ু সহনশীল খাতে পরিণত করতে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টিকর ফসল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সফল কৃষক ও কৃষাণীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন, যা উপস্থিত অন্যান্য কৃষকদের অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে পূর্বপাড়া পার্টনার ফিল্ড স্কুলের সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করেন। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুল সংখ্যক কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
মধুমাস উপলক্ষে নীলফামারী জেলা কারাগারে প্রায় ৫০০ বন্দী, কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের মাঝে আম, লিচু ও কাঁঠাল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জেলা কারাগারে উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মধুমাসের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যে জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জাবেদ মেহেদীর উদ্যোগে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। এতে বন্দীদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারাগারে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও মৌসুমি ফল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেল সুপার মো. জাবেদ মেহেদী বলেন, “মধুমাস আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারাগারে অবস্থানরত বন্দীরাও যেন এই মৌসুমের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই চিন্তা থেকেই এ আয়োজন করা হয়েছে। মানবিক ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
ফল বিতরণ কার্যক্রমে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন। এ সময় বন্দীদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক বন্দী কারা কর্তৃপক্ষের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
আম, লিচু ও কাঁঠালের স্বাদ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে নীলফামারী জেলা কারাগারে দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি এবার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) মোতায়েন করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তবর্তী সাধারণ জনগণ এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়োজিদ সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুশ-ইন রোধে ইতোমধ্যে সীমান্তের কিছু এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন এবং দ্রুতই আরও সদস্য মোতায়েন করা হবে। একই সাথে সীমান্তের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, বিজিবির পাঁচজন ক্যাম্প প্রতিনিধি এবং বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশাল সীমান্ত এলাকা পাহারায় কেবল বিজিবির একার পক্ষে অনুপ্রবেশ ঠেকানো কঠিন। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে বিজিবির পাশে দাঁড়াতে হবে।
স্থানীয় থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সীমান্ত পাহারায় ভিডিপি মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩৯।
বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯২। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে।
এ ছাড়া নতুন করে ৯৪ নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর ৯৪৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে করে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।
জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।
খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।
এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়িবাধ ভেঙে বর্ষা ও অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবাসনের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি।
উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসনসংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনে বসবাসকারীদের মাঝে দুর্দশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি স্থানে বেড়িবাধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি বছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে নদীর সাথে মিশে যায়।
করতোয়া আবাসনের বাসিন্দা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ার হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকে আবাসন এলাকায় পানি টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।
ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।’
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের কামড়ে মো. খোরশেদ বালা (৫০) নামের এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নের বালাকান্দি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত খোরশেদ বালা সখিপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি এবং ওই গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম বালার ছেলে। বুধবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. নাসির উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে খোরশেদ বালা চরসেনসাস বাজারে নিজের দোকানের কাজ শেষ করে পাশের অন্য একটি দোকানে যাচ্ছিলেন। পথে রাস্তার পাশে থাকা একটি খড়ের স্তূপ থেকে হঠাৎ বিষধর সাপটি বের হয়ে তাকে কামড় দেয়। প্রথমে স্থানীয়রা তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, পরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে রাতেই স্বজনরা তাকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. নাসির উদ্দিন জানান, সাপে কাটা রোগীকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে তাকে রাসেল ভাইপার সাপে কামড় দিয়েছিল।
সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মাসুম বালা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খোরশেদ বাজারে দোকান বন্ধ করে যাওয়ার পথে সাপের কামড়ের শিকার হন।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইনও সাপের কামড়ে যুবদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী সেচ প্রকল্পসংলগ্ন ৬৫ একর জমিতে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী আমের রাজ্য। এখানে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে প্রায় ১০২ জাতের আম। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে দেশি-বিদেশি নানা স্বাদের আম। এই বিশাল বাগানটি পরিচিত সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স নামে।
এক বাগানে শতাধিক আমের এক বিশাল রাজ্য গড়ার উদ্যোক্তা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান। ১৯৮৬ সালে অবসরের পর তিনি বিদেশমুখী না হয়ে বেছে নেন কৃষিকে। ১৯৯২ সালে মাত্র ৬ একর জমি ও তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন যাত্রা। ধীরে ধীরে সেই খামারই এখন ৬৫ একরের সমন্বিত কৃষি প্রকল্প। খামারে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার আমগাছ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত আমের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান ও চীনের আম জাতও রয়েছে এখানে।
উদ্যোক্তা মেজর (অব.) সোলায়মানের দাবি, ‘শুধু মৌসুমে নয়, ১২ মাসই কোনো না কোনো জাতের আম পাওয়া যায় এই বাগানে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০-১০০ টন আম উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।
এই বাগানে সাধারণ জাতের আম কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকা এবং বিশেষ কিছু জাত ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয়, বাগানের আম বাজারে নিতে হয় না, ক্রেতারাই খামারে এসে কিনে নিয়ে যান। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুরিয়ার সার্ভিস ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আম পাঠানো হচ্ছে।
মেজর (অব.) সোলেমানের দাবি, খামারে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। বছরে মাত্র একবার মুকুল আসার আগে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, বাকি সময় ব্যবহার করা হয় জৈব সার। ব্যাগিং পদ্ধতিতেও আম উৎপাদন হচ্ছে। বাগানে স্থায়ী কর্মচারী আছেন ২৫ জন, আর দৈনিকভিত্তিতে আরও ১০ জন কাজ করেন।
খামার ম্যানেজার ও সাবেক সেনা সদস্য হেলাল হোসেন জানান, সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফরমালিনমুক্ত আমের চাহিদা ব্যাপক। প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ কেজি আম বিক্রি হচ্ছে খামার থেকেই।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আসা ক্রেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এখানকার আম সুস্বাদু, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ। সন্তানদের জন্য নিশ্চিন্তে কিনতে পারি। তাই আমি প্রায়ই এই বাগানের আম কেনার জন্য আসি।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় খামারে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে।
উপপরিচালক মো. আতিক উল্যাহ জানান, এ মৌসুমে ১০০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আম বাগানটির মালিক মেজর (অব.) সোলায়মান জানান, বিদেশে না গিয়ে আম চাষ করেও যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারে। নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন বলেই তিনি এখনো সুস্থ ও কর্মক্ষম। তার বিশ্বাস কৃষিকে সময় ও যত্ন দিলে কৃষিও সাফল্য ফিরিয়ে দেয়।
১০২ জাতের আমের এই বাগান শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয় এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক- যেখানে স্বপ্ন, পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনায় কৃষিই হতে পারে সমৃদ্ধির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড; অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। আটককৃত ডাকাত আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬) সকলেই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন কালিঞ্চি সুইচগেইট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর ওই তিন জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতদের তথ্যের ভিত্তিতে, উক্ত দিন রাত ১১ টায় শ্যামনগর থানাধীন হরিণটানা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ডাকাত দল দীর্ঘদিন যাবৎ জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের চলমান এ সকল কার্যকর অভিযানের ফলে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপপ্রচার সত্ত্বেও কোস্ট গার্ডের দস্যু দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে কৌশলে ডেকে নিয়ে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে। আহত ওই সাংবাদিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কিসামত রণচণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আহত সাংবাদিক সাহেব আলী (৩৫) দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ-এ কর্মরত। গত ৮ জুন তিনি “কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।
পরদিন মঙ্গলবার সাংবাদিক সাহেব আলী ও ডিআরবির সাংবাদিক লিওন (২৬) মোটরসাইকেলে বড়ভিটা থেকে বেড়গাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম (৪৮) কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাদের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় সাহেব আলীকে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আলমগীর তাকে চেপে ধরেন এবং প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। অপর সাংবাদিক লিওন ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়।
পরে সাহেব আলীকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিক সাহেব আলী বলেন, “প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, “নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, “সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে চোখ ধাঁধানো টর্চের আলো ফেলে ও মুখে মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গগন সেন বাড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী গৌতম চৌধুরী (৪৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গৌতম চৌধুরীর উপজেলার শাকপুরা চৌমুহনী বাজারে ‘লোকনাথ ক্লথ স্টোর’ নামে একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। ওই দোকানে তিনি মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট হিসেবেও লেনদেন করেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
গৌতম চৌধুরী জানান, গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে সারোয়াতলী ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুই যুবক তার গতিরোধ করে। এসময় তারা টর্চের আলো চোখে ফেলে বিভ্রান্ত করে এবং মুখে মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে দেয়। পরে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তার সঙ্গে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারীদের বয়স আনুমানিক ২৮ থেকে ৩০ বছর হবে। তারা রাস্তার পাশের ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে ছিল।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।