চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে হামলা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মিছিল থেকে এই হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর রাজনৈতিক অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর বাড়িতেও হামলা হয়েছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মহিবুল হাসান চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর ছেলে।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল থেকে এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মোখলেছুর রহমান।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে বন্দর নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে তারা টাইগারপাস, লালখান বাজার হয়ে জিইসি মোড়ের দিকে যান। লালখান বাজার আমিন সেন্টার অতিক্রম করে ওয়াসার মোড়ে যাওয়ার পথে সড়কের বামে পেট্রোল পাম্পের পাশে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর কার্যালয়ে হামলা শুরু করেন মিছিলকারীরা। এ সময় তারা ওই কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ আরও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। আইটি রুমের কম্পিউটার, টেলিফোন সেট ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে।
আবদুর রহিম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় ভেতরে ঢুকে চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করেন। আমরা কয়েকজন ভেতরেই ছিলাম। পরে আমি বের হয়ে আসি। তারাই ভেতরে আগুন দিয়েছে।’
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নিউমার্কেট থেকে বহদ্দারহাট অভিমুখে মিছিল যাওয়ার পথে কয়েকটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়েছে। নিউমার্কেট এলাকায় আমাদের সিসি ক্যামেরাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’
এদিকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর খুলশী থানার ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকা অতিক্রম করছিল আন্দোলনকারীদের মিছিল। সেখান থেকে শতাধিক লোক চশমাহিলে মেয়র গলিতে ঢুকে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে।
মূল ফটক বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এ সময় বাসায় থাকা মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
শিক্ষামন্ত্রীর মা বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বাসায় আক্রমণ হয়েছে। ইট-পাথর মেরে আমাদের বাসার দরজা-জানালা ভাঙচুর করেছে। দুইটা গাড়ি বাসার সামনে রাখা ছিল। সেগুলো ভাঙচুর করেছে।’
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের বাসা লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়েছে। খবর পেয়ে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গেছে।’
অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মিছিল থেকে শনিবার সন্ধ্যায় বন্দর নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাটে মেয়রের বাড়িতে হামলা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাটে চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে বহদ্দারহাটের দিকে এলে পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে মাঠে নামে। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। আবার সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন।
এদিকে সংঘর্ষের সময় বারইপাড়ার মুখে পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আবদুস সাত্তার নামে এক যুবক। তবে কার গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাকে রিকশায় করে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নিয়ে যাওয়া হয়।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আবদুস সাত্তার নামে এক যুবককে নিয়ে আসা হয়েছে। তার পিঠে গুলি লেগেছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।’
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘বহদ্দারহাটে সন্ত্রাসীরা অবস্থান নিয়েছে। সেখানে কোনো ছাত্র নেই। বর্তমানে পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।’
পাবনার সুজানগরে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৩৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গত রোববার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে সুজানগর থানাধীন চিনাখড়া কারিগরপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাবুপাড়া (কাশিনাথপুর) এলাকার মৃত শুকুর শেখের ছেলে মো. শাজাহান শেখ (৫০) এবং একই এলাকার মৃত সোরহাব শেখের ছেলে মো. রুহুল আমিন শেখ (৩৭)। বর্তমানে শাজাহান শেখ সুজানগরের চিনাখড়া কারিগরপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিনাখড়া কারিগরপাড়া এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি টিম। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে শাজাহান শেখের কাছ থেকে ৪০ পিস ও রুহুল আমিনের কাছ থেকে ৪০ পিসসহ মোট ৮০ পিস ইয়াবা এবং নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তারা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সুজানগর থানায় মামলা দায়েরের পর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেক্টরসহ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পদ্ধতি, সুযোগ ও বাজারে প্রবেশ পদ্ধতি, সমন্বিত মূলধন, বাজারে শেয়ার ক্রয় ও বিক্রি পদ্ধতি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে অর্থনীতি বিভাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ক্লাবের যৌথ আয়োজনে এই কর্মশালা সম্পন্ন হয়।
কর্মশালায় অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্করের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে অর্থনীতি ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল পাঠান ও বিআইসিএমের সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং সেক্টর সম্পর্কে ধারণা থাকলেও শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে ধারণা নেই বললেই চলে। সেকেন্ডারি মার্কেটের কীভাবে শেয়ার কিনব বা বিক্রি করব তার বিস্তর ধারণা পেয়েছি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। আমি একজন নতুন সদস্য হিসেবে বিনিয়োগ করতে চাইলে আমাকে কী কী ধাপ অবলম্বন করতে হবে তার বিস্তর ধারণা পেয়েছি।
অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্কর বলেন, ‘আজকে (গতকাল সোমবার) বিনিয়োগ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে ক্যাপিটাল মার্কেট এবং শেয়ার বাজার নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। শেয়ার বাজার দুই ধরনের। প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি মার্কেট। এখানে ইনভেস্ট করার সিস্টেম, কীভাবে মার্কেটে প্রবেশ করতে হবে এসব তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাপিটাল মার্কেটের ইনভেস্টমেন্ট সিস্টেম এবং এখানে কিছু জব অপরচুনিটি আছে সেগুলোতে কীভাবে শিক্ষার্থীদের ইনভলব করা যায় সেই ধারণা দেওয়া হয়।’
অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, ‘এই কর্মশালায় বাংলাদেশ সিকিউরিটি অব একচেঞ্জ কমিশন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হয়েছে। একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে কীভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে এ সম্পর্কে স্পষ্টত ধারণা দেওয়া হয়েছে। সমন্বিত মূলধন, বাজারে শেয়ার ক্রয় বা বিক্রি পদ্ধতি এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ধারণা হয়েছে।’
তাড়াইল উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় এক শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন এবং তাড়াইল সিএনজি স্ট্যান্ডে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হামলার পর তার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
গত রোববার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার বরুহা (রাজঘাট) গ্রামের নিজ বাড়ির সামনের কাঁচা সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সোমবার (৩ আগস্ট) মারা যান তিনি।
নিহত প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক হাবুল মিয়া (৫২) বরুহা গ্রামের মৃত মন্নাছ মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে ঢাকায় থাকেন। তিনি গ্রামে একাই বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত রোববার (২ আগস্ট) গভীর রাতে বাড়ির সামনের সড়কে অবস্থানকালে ২-৩ জন দুর্বৃত্ত গাছের কাঠ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি চিৎকার করে কারও সাহায্য চাইতে পারেননি। পরে তার গোঙানির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় বরুহা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাড়াইল থানার ওসি শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘নিহতের খালাতো ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে গতকাল সোমবার সকালে নাম-পরিচয় জানা ৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।’
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মুক্তিযোদ্ধা ও মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রেয়াছত আলী মাস্টারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় এই বীর সন্তানকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা গত রোববার (২ আগস্ট) রাত ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানাজার পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমার নেতৃত্বে দেবিদ্বার থানা পুলিশের একটি চৌকস দল প্রথানুযায়ী ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। একই সঙ্গে মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজায় দেবিদ্বারের স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসী অংশ নেন। তাকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে আকর্ষণীয় সামুদ্রিক প্রজাতির সার্জেন্ট মেজর মাছ (Sergeant Major Fish)। রঙিন বর্ণ ও ভিন্নধর্মী গঠনের কারণে মাছটি আলীপুর মৎস্য বন্দরে এনে বরফে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) মাছটি বন্দরে নিয়ে আসার পর একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। বাংলাদেশে এটি অঞ্চলভেদে পাথারী মাছ, কালো ডোরা সৈনিক মাছ বা রেহা মাছ নামে পরিচিত।
জানা গেছে, মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি ইদ্রিসের জালে তিন-চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সিফাত ফিসে নিয়ে আসা হয়।
ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছটি জালে উঠে আসে। দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়েছে।’
মেসার্স সিফাত ফিসের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম বলেন, ‘মাছটি দেখতে অনেক সুন্দর। তাই বরফে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি।’
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘সার্জেন্ট মেজর মাছ (Abudefduf spp) Pomacentridae পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ। বাংলাদেশে এটি অঞ্চলভেদে পাথারী মাছ, কালো ডোরা সৈনিক মাছ বা রেহা মাছ নামে পরিচিত। মাছটির দেহ চ্যাপ্টা ও ডিম্বাকার, পিঠে হালকা হলুদাভ আভা এবং শরীরের দুই পাশে ৪–৫টি গাঢ় উল্লম্ব ডোরা থাকে, যা সহজেই এ মাছকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।’
তিনি আরও জানান, এ মাছ মূলত বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় পাথুরে এলাকা, প্রবাল প্রাচীর—বিশেষ করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আশপাশের অগভীর সামুদ্রিক পরিবেশে বাস করে। এটি সর্বভুক (Omnivorous) এবং শৈবাল, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে সামুদ্রিক খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাণিজ্যিক গুরুত্ব তুলনামূলক কম হলেও উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয়ভাবে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া উজ্জ্বল রং ও আকর্ষণীয় ডোরাকাটা নকশার কারণে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবসায় এটি একটি জনপ্রিয় শোভাবর্ধনকারী মাছ।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘এ ধরনের সামুদ্রিক মাছ আমাদের উপকূলীয় জলসীমায় থাকলেও খুব কম ধরা পড়ে। জেলেদের জালে মাঝেমধ্যে এমন ব্যতিক্রমধর্মী প্রজাতির মাছ উঠে আসে। এসব মাছের তথ্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার জন্য এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ।’
সকাল ৮টা। গায়ের পরিপাটি পোশাক পরিয়ে, পিঠে বইয়ের ব্যাগ ঝুলিয়ে মা তার সন্তানকে নিয়ে রওনা দেন স্কুলের পথে। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। হাঁটুপানি আর থকথকে কাদার ভেতর দিয়ে শুরু হয় বেঁচে থাকার নয়, ‘পড়াশোনা করার’ অদম্য এক যুদ্ধ। প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার পথ পেরিয়ে যখন শিশুরা স্কুলে পৌঁছায়, তখন পরনের জামা-প্যান্ট আর জামা চেনার উপায় থাকে না—পুরোটাই কাদায় মাখামাখি!
বিদ্যালয়ের বারান্দায় পৌঁছে ব্যাগ থেকে বের করা হয় আরেক সেট শুকনো জামা-প্যান্ট। কাদার পোশাক বদলে নতুন জামা পরে শ্রেণিকক্ষে ঢোকে শিশুরা। আবার বিকেলে ছুটির পর একই দৃশ্য; শুকনা পোশাক খুলে ব্যাগে পুরে, কাদামাখা আগের জামাটা গায়ে জড়িয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে কাদা ঠেলে তাদের ফিরতে হয় বাড়ি।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন ১৬৫ নম্বর পূর্ব মরাগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিদিনের চিত্র এটি। কাদা-পানির সাথে লড়াই করে স্কুলে আসা এখানকার শিক্ষার্থীদের কাছে কোনো নতুন ঘটনা নয়, বরং এক অলিখিত নিয়ম।
৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশা: উপকূলীয় এই প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়ক বছরের পর বছর ধরে সংস্কারহীন পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই উপকূল রক্ষা বাঁধের মাটি গলে পিচ্ছিল আস্তরণে রূপ নেয়। চলাচলের কোনো বিকল্প পথ না থাকায় এই বিপজ্জনক পথ দিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হয় কোমলমতি শিশুরা।
ধৃতরাজ মণ্ডলের মা নমিতা রানী মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আড়াই কিলোমিটারের বেশি কাদা-পানি পেরিয়ে সন্তানকে স্কুলে আনতে হয়। একা পাঠানোর তো প্রশ্নই ওঠে না, প্রায়ই শিশুরা কাদায় পিছলে পড়ে যায়। কাদা মাড়িয়ে আসার জন্য এক সেট পোশাক আর ক্লাস করার জন্য আরেক সেট পোশাক ব্যাগে পুরে নিয়ে আসতে হয়। প্রতিদিনের এই ধকল আর সহ্য হয় না।’
একই ভোগান্তির কথা শোনালেন প্রিয়াংকা মণ্ডল। তার দুই সন্তান অনামিকা ও মিহিরও এই স্কুলের শিক্ষার্থী। প্রিয়াংকা বলেন, বর্ষা এলেই শিশুরা আর স্কুলে যেতে চায় না। কান্নাকাটি করে। বাধ্য হয়ে সাথে করে নিয়ে আসি। ব্যাগে যদি বাড়তি পোশাক না আনি, তবে কাদামাখা কাপড়ে ক্লাসে বসা সম্ভব হয় না।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসাইন আর খাদিজা আক্তার তাদের কচি কণ্ঠে বলে, আসতে গিয়ে বই-খাতা ভিজে যায়, হাত-পা ছিলে যায়। অনেক কষ্ট হয় স্কুলে আসতে।
কাদার মাঠ ছাপিয়ে জাতীয় ফুটবলে অভাবনীয় সাফল্য: যাতায়াতের রাস্তাটি যেমন তাদের পদে পদে টেনে ধরে, খেলার মাঠে কিন্তু এই শিশুরা কোনো বাধাই মানেনি। প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে স্কুলে আসা এই খুদে ফুটবলাররা ফুটবলের সবুজ মাঠে একের পর এক ইতিহাস গড়েছে।
২০২৪ ও ২০২৬ সাল: জাতীয় পর্যায় বঙ্গমাতা/বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের প্রথম রাউন্ডে সাফল্য।
২০২৫ সাল: বিভাগীয় পর্যায়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে রানার্সআপ হওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব।
সম্প্রতি খুদে ফুটবলারদের এই অভাবনীয় সাফল্যকে সম্মানিত করতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক।
সেদিন খুদে খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও উপহার তুলে দিতে এসে তিনি স্বচক্ষে দেখেন শিশুদের স্কুলে যাতায়াতের করুণ চিত্র।
গা ছমছম করা রাস্তাটি দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, যে শিশুরা ফুটবল মাঠে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করছে, তাদের স্কুলে আসার পথটি এত ভয়াবহ—তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এই কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কারে জরুরি ব্যবস্থা নিতে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।
ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে শত শিশু; বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিমেষ কুমার মৃধা জানান, রাস্তার কারণে শিশুদের উপস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ছোট ছোট শিশুদের প্রতিদিনই চরম সংগ্রাম করতে হচ্ছে। বর্ষার এই কয়েক মাস উপস্থিতি অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। অনেকে বাধ্য হয়ে সন্তানকে স্কুলেই পাঠাতে চান না। এভাবে চলতে থাকলে ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাবে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, সুন্দরবন-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। প্রায়ই শিশুরা আছাড় খেয়ে আহত হয়, বই-খাতা কাদায় নষ্ট হয়। অথচ এটিই এই এলাকার শিক্ষার আলো পৌঁছানোর একমাত্র পথ।
খেলার মাঠে সাফল্য এনে দেওয়া এই শিশুদের প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় লড়াই—কাদামাখা পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় পৌঁছানো। যে ব্যাগে থাকার কথা ছিল শুধুই বই, খাতা আর রঙিন পেনসিল, সেই ব্যাগে এখন জায়গা করে নেয় অতিরিক্ত জামা-প্যান্ট। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা এই প্রত্যন্ত গ্রামের খুদে শিক্ষার্থীদের একটাই আকুতি—তারা একটি টেকসই পাকা রাস্তা চায়, যেন ব্যাগভর্তি বই নিয়ে তারা হেসে-খেলে স্কুলে যেতে পারে। কাদার নিচে যেন তাদের শৈশব ও পড়াশোনার স্বপ্ন ঢাকা না পড়ে।
দেশে দুটি স্থানে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে দুই শিক্ষার্থী। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শেষ বর্ষের এক ছাত্র এবং কুমিল্লার এক দশম শ্রেণির ছাত্র হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে তাদের পরিবার ও সহপাঠীরা। দুটি ঘটনাই ঘটেছে চলতি মাসের শুরুর দিকে। ঘটনা দুটিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ।
কুয়েট ক্যাম্পাস থেকে ছাত্র নিখোঁজ: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল (IEM) বিভাগের ২০২০ ব্যাচের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তাসরীব আহমেদ মাহিন (রোল ১০১১০১৫) গত রোববার (২ আগস্ট) থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, রোববার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় হল থেকে বের হওয়ার পর মাহিন আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় কোনো সন্ধান না পেয়ে সহপাঠীরা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। মাহিনের বাবা মো. মোখলেছুর রহমান ক্যাম্পাসে এসে খোঁজাখুঁজি করছেন। তিনি জানান, মাহিন পারিবারিক কিছু কারণে কিছুদিন ধরে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন।
কুয়েটের পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মো. হাসান আলী জানান, এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকলেও ট্র্যাকিংয়ে বারবার তার অবস্থান বা লোকেশন পরিবর্তন হতে দেখা যাচ্ছে।
তথ্য সহায়তার অনুরোধ: কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মাহিনের (ফোন: ০১৮১০-৫১৯২৩৯) সন্ধান পেলে পরিচালক, ছাত্রকল্যাণ (০১৬৪৩-৭৬৩৩২৫) অথবা তার পিতার (০১৭১২-২৭৬৬৯৮) নম্বরে যোগাযোগের জন্য কুয়েট জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কুমিল্লায় দশম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ: কুমিল্লার সদর উপজেলার বদরপুর এলাকা থেকে গত শনিবার বিকেলে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন মজুমদার (১৬)।
তাহসিনের পরিবার জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মায়ের ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে রাত দেড়টার দিকে আবারও কল করে তাহসিনের সঙ্গে কথা বলতে দিলে সে আকুতি জানিয়ে বলে—তাকে মারধর করা হচ্ছে। এরপরই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় তাহসিনের বাবা মো. শাহাদাত হোসেন মজুমদার কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তাহসিনকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের আশ্বাস ও উদ্ধার তৎপরতা
দুটি ঘটনার পরই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সশরীরে নিরাপদে উদ্ধারে আইনগত পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ববিসাস) আয়োজনে জুলাইয়ের প্রথম স্বাধীন ক্যাম্পাস: গণমাধ্যমের চোখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আলোচিত্র প্রদর্শনী হয়।
প্রদর্শনীতে মোট ৩৬টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ছিল জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্তের আলোকচিত্র এবং বাকি ৬টিতে জুলাই আন্দোলন চলাকালে ববিসাস সদস্যদের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রদর্শন করা হয়। আলোকচিত্রগুলোয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বরিশালের ছাত্র-জনতা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম, প্রতিরোধ ও আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্ত ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীটি দুপুর ১২টায় উদ্বোধনের পর রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।
আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বছির, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আজাদ আলাউদ্দীন, প্রথম আলোর বরিশাল ফটো সাংবাদিক মো. সাইয়ান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আয়োজিত জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও স্মৃতিময়। জুলাইয়ের লুকিয়ে থাকা স্মৃতিগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে এই আয়োজনে। জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ত্যাগ আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করব। এমন চমৎকার আয়োজনের জন্য সমিতির সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে এই প্রত্যাশা রইল।
বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করা এবং তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলা। এই সংগ্রামের স্মৃতি ধরে রাখতে সাংবাদিক সমিতির নেওয়া উদ্যোগ প্রশংসনীয়, এ জন্য তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।’
ববিসাস সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম উদ্বোধন শেষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা সত্যি খুবিহ আনন্দিত এমন একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পেরেছি। আগামীতেও সাংবাদিক সমিতি এমন আয়োজন করবে সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’
এ ছাড়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা, সাংবাদিক সমিতির নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে তিনি মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমলকে সাথে নিয়ে ওই হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান। তাকে অভিনন্দন জানান আরএমও ডা. অখিল সরকারসহ হাসপাতালটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এ সময় তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় কারও কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না।’
তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নারী-পুরুষ রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসা সেবার খোঁজখবর নিয়ে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অধিক তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি সরকারি ওষুধ রোগীদের মাঝে শতভাগ বিতরণ নিশ্চিতের আহ্বানের পাশাপাশি হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে তিনি হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট, এক্স-রে বিভাগ, ডায়রিয়া ইউনিট, শিশু ওয়ার্ড, গাইনি ওয়ার্ড, হাম ও ডেঙ্গু রোগের বিশেষ কর্ণার পরিদর্শন শেষে কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ (আরএমও) কর্মচারীদের পেশাগত দায়িত্বে আরও অধিক তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গড়ে তোলা একটি চুনাপাথর কারখানায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কারখানার তিনটি চুল্লি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং সেখানে মজুত থাকা চুনাপাথর জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে একটি চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলে গ্যাস নির্গমন শুরু হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কারখানাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাওয়া যায়নি।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, অবৈধভাবে একটি চুনাপাথর কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যদিও কারখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সেখানে তিনটি চুল্লি নির্মাণ এবং চুনাপাথর মজুত করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তিতাসের পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে কারখানা চালানো। কিন্তু সংযোগ নেওয়ার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং পাইপলাইন থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি আর চালু করা না যায়, সে জন্য চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। জব্দ করা চুনাপাথর ও চুল্লির ইট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাবনী আক্তার তারানা আরও বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনের লিকেজ বন্ধে কাজ করছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। জমির মালিক অবৈধভাবে কারখানা স্থাপনের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে জমি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে পুরো কার্যক্রমের কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কারখানাটি স্থাপনের আগে তার কাছ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়নি কিংবা তাকে অবহিত করা হয়নি। গ্যাস লিকেজের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন এটি একটি অবৈধ কারখানা। স্থানীয়ভাবে যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহের প্রধান উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে এখনো গ্যাস নির্গত হচ্ছে। প্রথম দিকে পানিতে বুদবুদ দেখে স্থানীয়রা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও পরে বুদবুদের পরিমাণ বেড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্তে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি সামনে আসে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে চুরি করে নদীর পাশের নবনির্মিত চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সময়ই পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। লিকেজ বন্ধে তাদের কাজ চলমান রয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (আঞ্চলিক অপারেশন) প্রকৌ.সুমেধ মনি চাকমা, ব্যবস্থাপক (অপারেশন এন্ড মেইনটেনেন্স)মো. শামীম হোসেন, কিশোরগঞ্জ জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটেলিয়ান সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ ও ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলার সিএনজি স্টেশন এলাকা থেকে ১ হাজার ৯৭৫ পিস ভারতীয় ইয়াবাসহ মো, নাসির নামে একজনকে আটক করে বিজিবি। এ সময় মো, রাসেল ও মো, শাকিল নামে দুজন পালিয়ে যায়। এর আগে রোববার রাতে বালিয়ামারি সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৫৮ বোতল ভারতীয় মদ আটক করে বিজিবি। তবে এ সময় কাউকে আটক করতে পারেনি।
আটক নাসির (৪৫) কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলার খাটিয়ামারি গ্রামের মৃত মো. মনিরুজ্জামানের ছেলে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ ও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাদকসহ আসামিকে রৌমারি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাঞ্ছারামপুরে ঝগড়া থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (২ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ কনস্টেবল ফরহাদ, এমদাদুল হক, সাইফুল আলম ও হোসনে মোবারক। ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামে হযরত শাহ রাহাত আলী (র.) এর বার্ষিক ওরশ শুরু হয়। ওরশে স্থানীয় মনির নামে এক ব্যক্তি তার দোকানের জন্য রাজন মিয়ার কাছ থেকে জেনারেটরের বিদ্যুৎ সংযোগ ভাড়া নেন। গত রোববার রাতে বিল পরিশোধ নিয়ে মনির ও রাজন মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ নিয়ে মনির পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। পরে সে তার লোকজন নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়।
থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, পুলিশের উপর হামলা ও আহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত মনিরসহ জড়িতদের আটক করতে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
নওগাঁ সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মো. আব্দুল আহাদ (২০) নামে এক পেশাদার ছিনতাইকারীকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আহাদ নওগাঁ শহরের চকদেব (মাস্টারপাড়া) এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া গ্রুপে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টার পর ভুক্তভোগী নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম ও তার বন্ধু তানভীর জেলা পরিষদ পার্কে ঘুরতে যান। এ সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মানিব্যাগ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের আব্দুল করিম এর ছেলে। তিনি এবং তার বন্ধু তানভীর নওগাঁ শহরের ডিগ্রি মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
জেলা পুলিশের পাঠানো ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়- ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ভুক্তভোগীরা প্রথমে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। পরে পুলিশ সুপার তাদের মামলা করার পরামর্শ দেন এবং ডিবিকে আসামি শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেন।
ডিবি পুলিশ পার্ক এলাকার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. আব্দুল আহাদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের আরও তিনটি মামলা রয়েছে। ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত আহাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।