রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২

দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা

রোববার বগুড়া শহরের সাতমাথায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৫ আগস্ট, ২০২৪ ০০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৪ ২২:১৫

শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন

নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।

এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।

দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।

শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।

সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।

প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।

এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।

সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।

এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।

দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।

সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।

নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।

নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।

বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।

একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।


নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা জোরদার, অস্ত্র–মাদক উদ্ধারসহ এক মাসে গ্রেপ্তার ১,৩৮২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপরতা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। গত এক মাসে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে দেশি ও বিদেশি পিস্তল, এলজি, পাইপগান, শটগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রামদা, কিরিচ, ছুরি ও চাপাতির মতো দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, দেশি ও বিদেশি মদ, মাদকজাত ইনজেকশন, ফ্রাফ সিরাপ এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

পুলিশের তথ্যমতে, এক মাসে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮৫ জন, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানে আটক ৪২৬ জন, নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ৭৫০ জন এবং ডাকাতি মামলায় আটক ২১ জন। সব মিলিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জনে।

ডাকাতি প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে ৪টি পিকআপ ও ১টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে ডাকাতির মাধ্যমে লুণ্ঠিত ৫ দশমিক ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ফেনী জেলা থেকে ডাকাতি হওয়া ৮টি গরু উদ্ধার করা হয়।

নগরীতে চুরি ও ছিনতাই রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ হিসেবে কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে দিন-রাত তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি ও চুরি-ছিনতাই দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে চেকপোস্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।


টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে বিদেশি পিস্তলসহ আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে রতন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।

রবিবার (১১ জানুয়ারী) মধ্য রাতে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ।

গ্রেপ্তারকৃত মামুন লালমনিরহাট জেলা সদরের খোটামারা গ্রামের মৃত-আবেদ আলীর ছেলে। তিনি মরকুন পশ্চিমপাড়া জনৈক মিরার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক তুহিন মিয়া ও সহকারী উপ পরিদর্শক রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আসামি মামুন ওরফে রতনকে গ্রেফতার করার পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব আরিচপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলম রিপনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া সুজনের কক্ষে থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


ফরিদপুরে শক্তিশালী বোমাটি নিস্ক্রিয় করেছে বোমা ডিস্পোজাল টিম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের আলীপুর ব্রিজের উপর থেকে বোমা সদৃশ্য ব্যাগটি উদ্ধারের ২৪ ঘন্টা পর শক্তিশালী বোমাটি বিস্ফোরনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে বিকট শব্দ ও কম্পনের সৃষ্টি হয়। এটি রিমোট কন্টোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি প্রাণঘাতী আইইডি বোমা বলে নিশ্চিত করেন বোমা ডিস্পোজাল টিম।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে ঢাকা থেকে আসা এন্টি ট্রেরিজম ইউনিট (এটিইউ) এর সদস্যরা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এটি সুইচ ও রিমোট নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী আইইডি ছিল বলে জানিয়েছে এটিইউ এর সদস্য ও পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ।

শহরের গোয়ালচামট বিসর্জন ঘাটে কুমার নদের পাড়ে বালুর বস্তায় ঘেরা ও উপরে বুলেট প্রুভ চাদর এবং রিং বেস্টনি দেয়া। এছাড়াও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ১শ গজ দুর থেকে তারের সংযোগে বোমাটির বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়।

এটিইউ এর সদস্য ও পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ বলেন, এটি সাধারন বোমার চেয়ে কিছুটা শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরক। যা সুইচ যুক্ত রিমোট কন্টোল দ্বারা পরিচালিত একটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরক ছিল।

এসময় একশ গজ দুরে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মী নাইম শেখ জানান, বোমাটি নিস্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয় ও মাটি কেপে উঠে। বিস্ফোরিত অংশ ১৫ ফিট উচ্চতায় উঠে যায় ও আগুনসহ কালো ধোয়ার সৃষ্টি হয়।

এর আগে শনিবার সকালে ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র আলীপুর আলীমুজ্জামান ব্রীজের পশ্চিম অংশে একটি ব্যাগের মধ্যে রাখা বোমাটি উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী । উদ্ধারের পর বোমাটি কুমার নদের পাড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার পর থেকে শহরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কারা বোমাটি রেখেছিল সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।


চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার পলাতক আসামি গণেশ গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম গণেশ (১৯), যিনি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানাধীন সেবক কলোনির বাসিন্দা শরিফ দাশের ছেলে। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরের লালদীঘি এলাকার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব-৭-এর একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদ ও দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সময় একদল উত্তেজিত জনতা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে অত্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এই পৈশাচিক ঘটনার পর নিহত আলিফের পিতা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে শুরুতে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দেয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি ওঠে।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুন তৎকালীন কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট গ্রহণ করেন। তদন্তকালে এজাহারভুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চট্টগ্রাম র‍্যাবের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি গণেশ দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলার অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


মিয়ানমারের ওপার থেকে আসা গুলিতে টেকনাফে প্রাণ গেল ১২ বছরের শিশুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব আবারও দেখা দিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। রবিবার সকালে ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফ সীমান্তে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত আফনান আরা (১২) ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের কন্যা। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করেই মিয়ানমার থেকে একটি গুলি এসে সীমান্ত অতিক্রম করে শিশুটির গায়ে লাগে এবং সে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নিরপরাধ এই শিশুর এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় জনতা ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় জড়ো হয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন, যার ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সকল ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, সীমান্তের ওপারে নিয়মিত সংঘাতের কারণে এপারের বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাঁরা এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান এবং সীমান্ত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান প্রবল সংঘাতের জেরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি আরও জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন। বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত দুই-তিন দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সেনাবাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। প্রায়ই ভারী অস্ত্রের গগনবিদারী শব্দে সীমান্ত অঞ্চল কেঁপে উঠছে, যা এপার বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীর আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। আজকের এই ঘটনা সেই আতঙ্ককে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল।


হাদি হত্যার পরিকল্পনায় বাপ্পির সঙ্গে আছে আ. লীগের আরও নেতা: ডিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটে নির্দেশদাতা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পি বর্তমানে ভারতের কলকাতায় পুলিশ পরিচয়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বাপ্পি এখন কলকাতায় আছে। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অবৈধপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মাদারীপুরের শিবচরের এক মেয়েকে বিয়ে করে তাকে নিয়ে আবারও অবৈধপথে ভারতে চলে যায়। সেখান থেকেই হাদি হত্যার পুরো মিশন পরিচালনা করে।’

ডিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বাপ্পি ভারতে পালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে রয়েছে। কলকাতার রাজারহাটের ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়া এলাকার ঝনঝন গলির একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় তিনি আত্মগোপনে আছেন। গত ৬ জানুয়ারি রাতেও তিনি সেখানেই ছিলেন বলে ডিবি সূত্রে জানা যায়।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাপ্পি ছাড়াও শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনসহ ৫ জন পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই এ হত্যাকাণ্ড।

ডিবি কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তরা অবৈধ পথে ভারতে গেছে। তাদের অবস্থানের অফিসিয়াল তথ্য-প্রমাণ নেই। ফলে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের কাছে সহায়তা চাওয়া যাচ্ছে না। আদালতের অনুমতি পেলে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদির মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত হাদিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এরপর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের করা মামলায় তদন্ত চালিয়ে ডিবি এ চার্জশিট দাখিল করে।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, হামলার পর শুটার ফয়সাল ও আলমগীরকে নির্বিঘ্নে ভারতে পালানোর ব্যবস্থা করে বাপ্পি।


হাতিয়ায় মাটি পরীক্ষার সময় গ্যাসের সন্ধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ব্রিজ নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষায় গ্যাস বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গ্যাস নির্গমন আপাতত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ভৈরব বাজার-সংলগ্ন এলাকার একটি খালের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হেলফ প্রকল্পের আওতায় ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ পেয়েছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম শেখ। কাজটি তদারকি করছে হাতিয়া উপজেলা এলজিইডি। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে ওই স্থানে প্রায় ১১২ ফুট গভীর সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করেন ঠিকাদারের শ্রমিকরা। সয়েল টেস্ট শেষে তারা স্থান ত্যাগ করেন। পরদিন শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ ওই স্থান থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। ওই সময় স্থানীয়রা আগুন ধরালে গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক-জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।

স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আসলে এটা কীভাবে হচ্ছে বা এটি সত্যিকারের গ্যাস কি না আমরা বুঝি না। নিজের চোখে আগুন জ্বলতে দেখেছি। লোকজন আগুন ধরিয়ে দেখান। যদি এটা সত্যিই প্রাকৃতিক গ্যাস হয়, তাই বিষয়টি পরীক্ষা করা জরুরি।’

হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হক গ্যাস বের হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্যাস বের হওয়ার পর তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বিষয়টি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্সকে জানানো হবে।’

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আলাউদ্দিন বলেন, ‘একটি জায়গা থেকে বোরিং করার পরে সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না অনেক বেশি গ্যাস জমা আছে। তবে নিচে অবশ্যই কিছু শক্তি জমা আছে, এটা তারই প্রতিফলন। এখন এটা এক্সপার্ট ছাড়া অন্য কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’


সবাই সচেতন হলে আর স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিতে পারবে না: ড. সায়মা ফেরদৌস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, সবাই যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হলে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হলে এ দেশে আর কোনো স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বঞ্চনা ও নির্যাতনের ফল।’ গতকাল শনিবার দুপুরে রক্তদান সংগঠন সন্ধানী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ইউনিটের পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘দেশের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ বিরল দৃষ্টান্ত। রাজপথে তার দৃঢ় কণ্ঠস্বর এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার অবস্থানের কারণেই আজ আমরা স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়ার পথে এগোতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবু সাঈদের বিশ্বাসে ভরা বুক, মুগ্ধের তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি খাওয়াতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ এবং ওয়াসিমের আত্মত্যাগ—এসবের যথাযথ মূল্যায়ন আমাদের করতেই হবে। জুলাইকে হেরে যেতে দেওয়া যাবে না।’

ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘এ দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় বারবার রক্ত দিয়েছে। আমরা পরিবর্তনের কথা বলি, কিন্তু সেই পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। যার যার অবস্থান থেকে সৎভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করলেই পরিবর্তন সম্ভব।’

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটের অধিকার মানে—আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকেই দেব। এটি প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার, যা দীর্ঘদিন ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’ তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ভোটের গুরুত্ব বোঝতে হবে। যারা স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করবে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবে, পাহাড় ও সমতলের মানুষকে একই বাংলাদেশি প্ল্যাটফর্মে আনবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে—বিবেচনা ও বিবেকের আলোকে তাদেরই ভোট দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশপ্রেম তখনই জাগ্রত হয়, যখন রাষ্ট্র দেশপ্রেমকে মূল্যায়ন করে।’

কুমিল্লার প্রতি আবেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি গর্ববোধ করি আমি কুমিল্লার মেয়ে। কুমিল্লায় যতবারই আসি, ততবারই মনে হয় নিজের ঘরে ফিরে এসেছি।’

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মিজানুর রহমান তাইবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সন্ধানী কুমেক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আসিফ মোস্তফা। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ডা. সাঈদ মো. সারোয়ার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া এবং মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজুদ্দিন রিয়াজ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. সজীবুর রশিদ, ড্যাব কুমেক শাখার সভাপতি ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক, সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিকুর রহমানসহ চিকিৎসক ও সাবেক সন্ধানিয়ান নেতারা।


শেরপুরে পিআইবির সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুর ও জামালপুরের সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) উদ্যোগে দুদিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে শেরপুর জেলা প্রশাসনের তুলশীমালা ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকালীন সময়ে কোনোভাবে সাংবাদিকদের দ্বারা যাতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে, সেটি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষিত করা বা আইন-কানুনে আরও দক্ষ করতে পিআইবি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। সেটি সঠিকভাবে পালনে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ করেছেন তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। এই লড়াইয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে, এ সাহসিকতা ধারণ করেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’

প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে ছিলেন- পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, এটিএন বাংলার চিফ রিপোর্টার একরামুল হক সায়েম ও জাতীয় দৈনিকের সিনিয়র রিপোর্টার বাহারাম খান। ওই সময় আরও বক্তব্য রাখেন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল প্রমুখ। এ সময় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, কার্যকরী সভাপতি আব্দুর রফিক মজিদ, সিনিয়র সহসভাপতি মুগনিউর রহমান মনি, সহসভাপতি শাহরিয়ার মিল্টন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণে নির্বাচনকালীন রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজনীয়তা ও সমাজে এর প্রভাব, নির্বাচনকালীন সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের করণীয় ও বর্জনীয়, সাংবাদিকতার নীতিমালা, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা ও প্রাসঙ্গিক আইন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণে শেরপুর ও জামালপুর জেলায় কর্মরত ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।


ক্লিনিক নেই, চিকিৎসক নেই, চরম দুর্ভোগে চরফ্যাশনের দ্বীপবাসী

* ৬ হাজার ৪৩৭ একর আয়তনে ২০ হাজার মানুষের বসতি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

৬ হাজার ৪৩৭ একর আয়তন বেষ্টিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপচর মুজিবনগর। এই চরটি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আওতাধীন। পুরো চরঘেরা তেঁতুলিয়া নদী। নদীপথে খেয়া পারাপারেই এখানকার বাসিন্দাদের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম। চরের বাসিন্দারা জেলে পেশা ও কৃষিকাজে জড়িত। এই দ্বীপে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসতি হলেও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য একটি ক্লিনিকও নেই। তারা দীর্ঘবছর ধরে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্য খাতে চরম অবহেলার কারণে দ্বীপবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

জানা যায়, মুজিবনগর দ্বীপে একটি ক্লিনিকও নেই। কোনো ধরনের ওষুধ সরবরাহ নেই। ফলে সাধারণ রোগেও মানুষকে নির্ভর করতে হয় স্থানীয় ঝাড়ফুঁক বা অনভিজ্ঞ চিকিৎসার ওপর। দ্বীপটির মূল ভূখণ্ড থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নৌকাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া, নদীর স্রোত ও নৌযানের স্বল্পতার কারণে অনেক সময় রোগী পরিবহন সম্ভব হয় না। যদি রাতে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে একেবারেই নদী পার হওয়া যায় না। এতে করে জরুরি রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্সও নেই।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। গর্ভকালীন পরীক্ষা, নিরাপদ প্রসব কিংবা নবজাতকের চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা নেই। অনেক নারী ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘরেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি, ডায়রিয়া ও জ্বরের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বারবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও দ্বীপবাসী তা থেকে বঞ্চিত। একজন বাসিন্দা বলেন, ‘অসুস্থ হলে আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া আর কোনো উপায় পাই না।’

স্থানীয় ফজল মাঝি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর আগ থেকে মুজিনবগর ইউনিয়নে বসবাস করে আসছি। প্রথম থেকে এখনো অব্দি একটি ক্লিনিকও সরকার স্থাপন করেনি। মূল ভূখণ্ডে যেতে আমাদের নদী পার হতে হয়। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুণছি। কারণ কোনো একজন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ্য হলে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।’

বিবি কলছুম বলেন, ‘২০২৪ সালে হঠাৎ আমার প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায় কিন্তু সেদিন গভীর রাত হওয়াতে আমার পরিবারের লোকজন মূল ভূখণ্ডে আমাকে নিতে পারেনি। কারণ চরফ্যাশন সদর হাসপাতালে যেতে নদী পার হতে হয়। তবে সেইদিন রাতেই একজন ধাত্রী মহিলা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চা ডেলিভারি করাই।’

দ্বীপবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং মুজিবনগরের মানুষও অন্য এলাকার মতো মৌলিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। তা না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ইউপি সদস্য মনির হাওলাদার বলেন, ‘দ্বীপটিতে দ্রুত একজন স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানাই।’

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে মুজিবনগর দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি অবগত করব।’


জয়পুরহাটের পাটালি ও লালি গুড় যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

* জেলায় ২৬ হাজার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছে গাছিরা এ মৌসুমে ২৭২ টন খেজুরের গুড় উৎপাদনের আশা
তাওয়ায় জ্বাল দিয়ে খেজুরের রস থেকে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গুড়। জয়পুরহাট সদর উপজেলার কুঠিবাড়ি ব্রিজ এলাকা থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়পুরহাটে গাছিদের খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরির ধুম পড়ে গেছে। মধ্যরাত থেকে তারা খেজুরের রস সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এরপর শুরু হয় গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ। এ ছাড়া এ অঞ্চলের খেজুরের রস মিষ্টি হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে তা পান করতে আসেন। ফেরার পথে খাঁটি গুড় সঙ্গে নিয়ে যান। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে কাঁচা রস খেতে নিষেধ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলা থেকে ২৭২ টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে জানা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত ৬০০ গাছি এ জেলায় খেজুরের রস সংগ্রহ করতে এসেছেন। তারা তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোর রাতে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এরপর টিনের বড় তাওয়ায় রেখে জ্বাল দেওয়া হয় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। আরও কয়েকটি প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তুত হয় সুস্বাদু পাটালি ও লালি গুড়, যা বিক্রি হচ্ছে জয়পুরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায়। অনেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন শীতের পিঠাপুলি খাওয়ার জন্য। প্রকারভেদে প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। খেজুরের রস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

জয়পুরহাট সদরের কুঠিবাড়ী ব্রিজ এলাকার গাছি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে আমরা গাছে উঠে রস সংগ্রহ করি। এরপর ভোরের দিকে সেই রস নিয়ে এসে বড় তাওয়ায় ঢালা হয়। তারপর ৪ ঘণ্টার মতো জ্বাল দিতে হয়। একপর্যায়ে ঘন হলে সেই রস নামিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। এরপর এই গুড় বাজারে বিক্রি করি। অনেকে এখান থেকে কিনে নিয়ে যায়।’

একই এলাকার গুড় বিক্রেতা আনছের আলী বলেন, ‘পাটালি গুড় ভালোটা ৪০০ টাকা আর নরমালটা ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। লালি গুড় ভালোটা ৪০০ টাকা ও নরমালটা ২০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া রস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। আমাদের এই গুড় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী গুড় সরবরাহ করতে পারছি না।’

কালাই উপজেলার পুনট থেকে খেজুরের গুড় কিনতে এসেছেন আবু রায়হান। তিনি বলেন, বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসবে। এ জন্য খেজুরের গুড় কিনতে এসেছি। গুড় দিয়ে পিঠাপুলি করা হবে। এ জন্য ভালো পাটালি গুড় তিন কেজি ও লালি গুড় এক কেজি কিনেছি।’

সদর উপজেলার গতন শহর এলাকা থেকে গুড় কিনতে এসেছেন আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখানে খেজুরের রস থেকে খাঁটি গুড় পাওয়া যাচ্ছে শোনে কিনতে এসেছি। বাজারে অনেক সময় ভেজাল পাওয়া যায়। এ জন্য বাড়িতে পিঠা বানানোর জন্য এখান থেকে চার কেজি গুড় কিনলাম।’

নওগাঁ জেলার ধামুরহাট থেকে এসেছেন হাবিব হাসান বলেন, ‘এখানে খেজুরের রস খাওয়ার জন্য এসেছিলাম। রস খেয়ে অনেক ভালো লাগল। এখানে রস থেকে খাঁটি গুড় তৈরি করা হচ্ছে। তাই বাড়িতে পিঠা বানানোর জন্য দুই কেজি কিনলাম।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘জয়পুরহাট জেলায় প্রায় ২৬ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে গাছিরা রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় ২৭২ টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি গাছে হাঁড়ি বসানোর সময় যেন নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। বাদুড় বা অন্য কোনো প্রাণীর সংস্পর্শে না আসে এবং হাঁড়ির মধ্যে যেন চুনের প্রলেপ দেয়। এতে কাঁচা রস কোনো জীবাণুর মাধ্যমে সংক্রমিত হবে না। এতে আমরা নিরাপদ রস পাব।’

জয়পুরহাট জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমাইয়া আফরিন জিনিয়া বলেন, জেলায় যেসব জায়গায় গুড় উৎপাদন হয়ে থাকে সেসব জায়গা নিয়মিত তদারকি করা হয়ে থাকে। আমরা কীটের মাধ্যমে ভেজাল গুড় শনাক্ত করে থাকি। যারা ভেজাল গুড় তৈরি ও বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যদি কেউ ভেজাল গুড় তৈরি করে বা বিক্রি করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন বলেন, ‘বাদুড়ের সংস্পর্শের কারণে খেজুরের রস খেলে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি থাকে। এতে মানুষের জীবনের ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগের মাসিক সভায় আমি সকল কর্মকর্তাকে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তারা মানুষকে সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের আমার পরামর্শ কেউ যেন কাঁচা রস না খায়। খেলেও ১০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অন্তত ১৫ মিনিট ফুটিয়ে খেতে হবে।’


নীলফামারীতে শীতার্তদের মাঝে পুনাকের শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:১৬
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) কেন্দ্রীয় সভানেত্রী আফরোজা হেলেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা শহরের পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

এতে নীলফামারী পুনাকের সভানেত্রী শাহরিন হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে পুনাক রংপুর রেঞ্জের উপদেষ্টা শাহানা আক্তার, কেন্দ্রীয় পুনাকের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা ওয়াহিদা ওয়াহাব, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সভানেত্রী মাহমুদা হোসেন, কেন্দ্রীয় পুনাকের যোগাযোগ সম্পাদিকা মাসরফা তাসনিম, কার্যনির্বাহী সদস্য কাজী বন্যা আহম্মেদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ফাহমিদা আক্তার বক্তব্য দেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে পুনাক সব সময় মানবিক ভূমিকা রেখে আসছে। প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো সমাজের প্রত্যেকের দায়িত্ব। তারা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতার চর্চা বাড়াবে এবং সামর্থ্যবানদেরও এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।’

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ.বি.এম ফয়জুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (ডোমার সার্কেল) নিয়াজ মেহেদীসহ পুনাকের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


শিবু মার্কেট মডার্ন ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব নাসিমুল গনি । শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১১-০০ ঘটিকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেটে নবনির্মিত এই মডার্ন ফায়ার স্টেশনটির শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, পরিচালকগণ, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আনসারের উপপরিচালকসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণ, গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় ভলান্টিয়ারগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ফায়ার স্টেশন প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছালে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রধান অতিথিকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন এবং তাঁকে নিয়ে অভিবাদন মঞ্চ আরোহন করেন। এ সময় ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল চৌকস অগ্নিসেনা প্রধান অতিথিকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। অভিবাদন গ্রহণ করার পর সিনিয়র সচিব শিবু মার্কেট মডার্ন ফায়ার স্টেশনের শুভ উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া পরিচালনা করা হয়। এরপর তিনি স্টেশন প্রাঙ্গণে একটি আম্রপালির বৃক্ষ রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণের পর প্রধান অতিথি অনুষ্ঠান মঞ্চে আরোহন করেন।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কাজের প্রশংসা করেন। এরপর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

উপস্থিত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে কিশোর বয়সে ফায়ার সার্ভিস হতে প্রশিক্ষণ নেয়ার স্মৃতিচারণা করে নিজেকে ফায়ার সার্ভিসের তৎকালীন ভলান্টিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও ভূমিকম্প মোকাবিলায় ভলান্টিয়ারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। জনগণকে সচেতন করার জন্য প্রচারণা কর্যক্রম বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি মিডিয়া উইংকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জনগণের সেবায় সবসময় নিজেদের অবস্থান সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। এরপর প্রধান অতিথি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এরপর প্রধান অতিথি ফায়ার স্টেশনের ব্যারাক ভবন, গাড়ি-পাম্প ও অন্যান্য স্থাপনা পরিদর্শন করেন, পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন এবং মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন। খবর : ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মিডিয়া সেল।


banner close