শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন
নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।
এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।
দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।
শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।
সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।
প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।
এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।
মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।
এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।
দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।
সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।
একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
বাংলাদেশের নাম যদি বাংলাদেশই থাকে, তবে জামায়াত কখনোই দেশের ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
শুক্রবার বিকেলে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তৃতায় তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিভিন্নভাবে অপমান-অবমাননা করা হয়েছে। “কালকেও আমাকে প্রচণ্ড বকা দেওয়া হয়েছে। কেন এসব বলা হচ্ছে, আমি বুঝি না,” যোগ করেন তিনি।
ফজলুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের নাম যদি বাংলাদেশ থাকে, তবে জামায়াত কোনোদিন ক্ষমতায় যেতে পারবে না। কারণ আল্লাহ মোনাফেকদের ফেভার করেন না। এই কথাগুলো বললেই তারা আমার বক্তব্য কাটছাঁট করে দেখায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাকে নিয়ে অপপ্রচার করছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত। তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকছে। যারা এ ধরনের কথা বলে তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি।”
তিনি বলেন, জামায়াত ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে। “তারা বলে ৪৭ সালে নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, ২৪ সালে শেষ যুদ্ধটা হয়েছে আর ৭১ সালে শুধু একটা গণ্ডগোল হয়েছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “তিন দিন অপেক্ষা করেছি। দেখি কেউ প্রতিবাদ করে না। দলও চুপ। তাই জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বলেছি, রাজাকার-আলবদরের বংশধরেরা, এখনো বেঁচে আছি রে। মুক্তিযুদ্ধ আছে, থাকবে। মুক্তিযুদ্ধকে শেষ করতে চাইলে আরেকটা রাজনৈতিক লড়াই হবে।”
ফজলুর রহমান বলেন, আপনাদের জন্য আমি সম্মান বয়ে আনতে পারি নাই, আপনাদের জন্য একটা টাইটেল এনেছি৷ সেই টাইটেলটা হলো, আমি হইলাম ফজা পাগলা। যে হারামজাদারা আমাকে এই টাইটেলটা দিয়েছে তাদের নামটা হলো, স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি জামায়াত। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই নানা অপবাদ দিতে শুরু করে। তাদেরকে যদি ভোট দেন, তাহলে আপনারা আমার মৃতদেহই পাবেন। তাদেরকে কি ভোট দেবেন? দেবেন?’
নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাপ-দাদার নাম নাই এমন লোকজন আমার নাম বিকৃত করে।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে কয়েকটি অস্ত্র চুরি করেছে, এসব দিয়ে ফজলু রহমানকে হত্যা করলেও মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবে না।’ যতদিন চন্দ্র-সূর্য থাকবে, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা থাকবে ততদিন মুক্তিযুদ্ধকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। আমি সেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। আমি মুক্তিযুদ্ধ বেইচ্ছা ভাত খাইনা'।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ৫৪ বছরের বঞ্চনা ঘুচে যাবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এ নীতি অর্থাৎ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাদের জান-মালের নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনার বেতাগী পৌরসভার জেলে পাড়ায় স্থানীয় বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি যতবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে, ততবার দেশে উন্নয়ন হয়েছে। বরগুনা-০২ আসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো সংষ্কারের ৩১ দফাকে সমর্থন জানিয়ে বরগুনার বেতাগী উপজেলার সাত শতাধিক হিন্দু ধর্মাবালম্বী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। যোগদান অনুষ্ঠানে তারা এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনা এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রত্যায় ব্যক্ত করেছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণির হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।
বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ হুমায়ুন কবির মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র মোঃ শাহজাহান কবির, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শফিকুজ্জামান মাহফুজ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল ইসলাম জুয়েল, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফয়জুল মালেক সজীব, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সানাউল্লাহ সানি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ফেনী শহরের শাহীন একাডেমিসংলগ্ন র্যাব ক্যাম্পের পিছনের এলাকার হাশেম ম্যানশন নামে একটি তিনতলা ভবনের ৬টি ফ্ল্যাট ২৭ জনের কাছে বন্ধক দিয়ে দেড় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে ভবন মালিক আবুল হাসেমের স্ত্রী বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে আবু ছাইদ মুন্না ও মেহেদী হাছান।
শুক্রবার বিকেলে হাশেম ম্যানশনের সামনে প্রতারণার শিকার ১৭ জন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার প্রতারকদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মো. আলমগীর বলেন, হাশেম ম্যানশনের মালিক একই পরিবারের বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে প্রতারণার মাধ্যমে ৬টি ফ্ল্যাট মোট ২৭ জনের কাছে বন্ধক দিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। তারা তাদের বাড়িটি কুটকৌশলে ধাপে ধাপে গোপনীয়ভাবে বিভিন্ন জনের কাছে বন্ধক দেয়। বন্ধকদারদের ভাড়ার টাকা নিয়মিত পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে গত ২০ অক্টোবর তারা পালিয়ে যায়। পরে খরব নিয়ে জানতে পারি তারা এভাবে করে ২৭ জনের কাছে ৬টি ফ্লাট বন্ধক দেয়। বর্তমানে তারা আমাদেরকে পাওনা টাকা দেব দিচ্ছি বলে তালবাহানা করছে। এই ব্যাপারে আমরা ফেনী মডেল থানায় ও র্যাবের কাছে বিষয়টি অবগত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ৮ জন বন্ধকদার মামলা করেছি। যাহার মধ্যে বর্তমানে ৪টি ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী লিপি আক্তার বলেন, আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে তার সারাজীবনের জমানো টাকা দিয়েছে, অনেকে তার চাকরির পেনশনের টাকা দিয়েছেন পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তিনি বলেন, যদি কেউ প্রতারকদের যে ধরিয়ে দিতে পারেন তাকে উপযুক্ত আর্থিক সম্মানী দেওয়া হবে এবং তার পরিচয় গোপন রাখা হবে। দয়া করে অসংখ্য ভুক্তভোগীদের সহায়তা করুন।
তারা এই পলাতক প্রতারকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় দাবী জানান, যাতে তারা ন্যায়বিচার এবং কষ্টার্জিত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা চান।
এ ব্যাপারে বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে আবু ছাইদ মুন্না ও মেহেদী হাছাসের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলেও তাদের ব্যবহত নাম্বার বদ্ধ পাওয়া যায়।
ফরিদপুরে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন ফরিদপুর-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তার মায়ের নামে ‘শায়লা কামাল মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ এর মাধ্যমে বিনামূল্যে নারীদের সেলাই, এম্ব্রোডারি, বাটিক সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে শহরতলীর বায়তুল আমান এলাকায় এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। এসময় জিয়া মঞ্চ ফরিদপুর শাখার পক্ষ থেকে ৫টি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। এদিন পাঁচজন নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা ও প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে উদ্বোধনকালে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ উল্লেখ করেন। তার বাবা মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বিএনপি সরকারের একাধিকবার মন্ত্রী ছিলেন।
উদ্বোধনকালে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন- ফরিদপুর সদরের নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধণ করা হয়েছে। এখানে সেলাই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাটিক, হাতের কাজ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কারণ, বিএনপি নারীদের ক্ষমতয়ান, স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা করেছে। তারই অংশ এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পর্যায় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
এ অনুষ্ঠানে জিয়া মঞ্চ ফরিদপুর জেলা কমিটির আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব এ বি সিদ্দিক অপু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চলতি দায়িত্ব দপ্তর মোঃ মাশরাফি আহমেদ, মহানগর জিয়া মঞ্চ এর আহবায়ক মো. কাইয়ুম মিয়া, সদস্য সচিব এনামুল করিম প্রমুখ।
ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের সময় বারবার একই দৃশ্য দেখে ভীষণ কষ্ট হতো নার্স সিজানের। ডায়রিয়া ও লুজ মোশনে আক্রান্ত হয়ে ছোট ছোট শিশু ও কিশোররা বেশি আসত হাসপাতালে। প্রতিনিয়ত বাচ্চাদের এই কষ্ট দেখে তার ভীষণ খারাপ লাগতো। অসুস্থতার কারণ হিসেবে সিজান জানতে পারেন, খুব সাধারণ কিছু ভেজালযুক্ত খাবারই এর জন্য দায়ী। এখন শীতের সময় রাস্তার পাশে তৈরি হচ্ছে ভেজালযুক্ত গুড় দিয়ে পিঠা। আর বাচ্চারা বায়না ধরলে বাবা-মা বাধ্য হয়ে এগুলো কিনে খাওয়ান। আর রাসায়নিক যুক্ত এসব খাবার খেয়ে বাচ্চারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই এর থেকে পরিত্রাণ পেতে অন্তত একটি খাবারকে ভেজাল মুক্ত করতে তিনি ছুটে আসেন নিজ জেলা মাগুরাতে।
যেখানে খাঁটি খেজুরের গুড়ের সুনাম বহুদিনের। তখনই তার মাথায় আসে এই মানবিক উদ্যোগের চিন্তা। বাংলাদেশের মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে হবে খাঁটি রাসায়নিকমুক্ত বিশুদ্ধ খেজুর গুড়।
প্রকৃতির ছোঁয়ায় বিশুদ্ধ জীবনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাগুরা সদর উপজেলার ছয় চার গ্রামের মো. খায়রুজ্জামান সবুজের ছেলে মো. শাহরিয়ার সিজান সদর উপজেলার পাটকেলবাড়ি বাল্য বাজারের পেছনে গড়ে তুলেছেন ‘অর্গানিক ফুড ভ্যালি’ নামে ভেজালমুক্ত পাটালি ও গুড় তৈরির প্রজেক্ট।
২০২৪ সালে সিজান তার বন্ধু রিজু বিশ্বাস, ডেন্টাল ডাক্তার শেখ সালাউদ্দিনসহ আরো দুইজন রেজিস্টার নার্সকে সাথে নিয়ে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে মাগুরায় তিন লক্ষ টাকা দিয়ে একটি খেজুর বাগান ক্রয় করেন। রাজশাহী থেকে অভিজ্ঞ গাছি এনে শুরু করেন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খাঁটি খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় প্রস্তুত। গাছ থেকে রসের হাড়ি নামিয়ে বাগানেই জ্বাল করে তৈরি করা হয় এসব গুড় ও পাটালি। কোন পাতার জ্বাল দেয়া হয় না কারণ এতে ধোয়ার গন্ধ হয়ে যায়। কাঠের খড়ি ও প্রাকৃতিক উপায়ে সংগ্রহ করা খড়ি দিয়ে জ্বাল করে তৈরি করা হয়। এতে গুড় এবং পাটালির স্বাদ ভালো থাকে। প্রথম বছরেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন তিনি। ভেজালমুক্ত খাবারের সন্ধানে থাকা অসংখ্য পরিবার সিজানের এই গুড়কে বেছে নেন নিশ্চিন্তে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার ক্রেতাদের বড় একটি অংশই সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্স। যারা প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দেন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি জানেন। তাদের আস্থা অর্জন করতে পেরে সিজানের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়। মাগুরার বিভিন্ন মিষ্টির দোকানগুলোতে বিক্রি করাসহ আশেপাশের জেলাগুলোতেও এই পাটালি বিক্রি করেন।
এ বছরও অভিজ্ঞ গাছি এনে খেজুর গাছ কেটে নতুন মৌসুমের কাজ শুরু করেছেন সিজান। তার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ আজ হাজারো পরিবারকে ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। মাগুরার এই তরুণ নার্স প্রমাণ করেছেন, সামান্য ইচ্ছাশক্তি ও সৎ উদ্যোগও সমাজে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।
এ ব্যাপারে সিজান বলেন, নার্সিং পেশার পাশাপাশি আমি এই কাজটিকে বেছে নিয়েছি শুধুমাত্র দেশের মানুষের কাছে অন্তত একটি ভেজালমুক্ত খাবার তুলে দেয়ার জন্য। এতে আমার কিছু আয় হবে আবার দেশে ছড়িয়ে দিতে পারব বিষমুক্ত একটি খাবার। গত বছর অল্প পরিসরে শুরু করেছিলাম। মাত্র তিন লক্ষ টাকার গাছ কিনেছিলাম তাতে সব খরচ বাদ দিয়ে দুই লাখ টাকা লাভ করেছি। তবে আশা করছি এ বছর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভ করতে পারব। প্রথম প্রথম অনেকেই আমার এই উদ্যোগ দেখে নানা রকম কটু কথা বলতো। এখন আমার সফলতা দেখে সবাই প্রশংসা করে। দুই বছর এই কাজ করে বেশ সাড়া পাচ্ছি।
তার বন্ধু রিজু বিশ্বাস বলেন, খাদ্যে ভেজাল যখন নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা তখন নার্স শাহরিয়ার সিজান হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার নাম। নিজের চোখে দেখা সমস্যার সমাধান নিজের হাতেই তৈরি করেছেন তিনি। রুগ্ন সমাজকে সুস্থ পথে ফেরাতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
এলাকাবাসীরা জানান, বাজারে এখন ভেজালযুক্ত খাবারে পরিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ বিশেষ করে বাচ্চারা এসব ভেজাল যুক্ত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই আমরা চাই নার্স শাহরিয়ার সিজানের মতো আমাদের সমাজের সব তরুণরা যেন ভেজালমুক্ত অন্তত একটি খাবার উপহার দিতে পারে।
জেলা নিরাপদ খাদ্যের সহকারী পরিচালক সুমন অধিকারী জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের জন্য সাধারণত বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগে না। তবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য বিএসটিআইয়ের যশোর অফিসে আবেদন করলে অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ঘাগড়াপাড়া গ্রামের যুবক আনারুল ইসলাম (২৮) প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার তার শশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা এলাকা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না।
পরিবার জানায়, নিখোঁজের সময় আনারুলের পরনে ছিল নেভি রঙের ফুলহাতা শার্ট ও লুঙ্গি। মানসিকভাবে তিনি কিছুটা অস্থির প্রকৃতির ছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর আনারুলের ছোট ভাই মো. নাজমুল ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবার ও স্বজনরা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও কোথাও আনারুলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার জানায়, আনারুল ২২ অক্টোবর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার রাজধরপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান। গত বুধবার তার স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের জানান যে তারা মোহনগঞ্জ স্টেশন থেকে ট্রেনে করে আনারুলকে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সন্দেহ দেখা দেয়। পরে যোগাযোগ করা হলে স্ত্রী জানান, তারা নাকি আনারুলকে নেত্রকোনা রেলস্টেশনে নামিয়ে দিয়ে গেছেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় শুক্রবার দুপুর ১২টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আনারুল ইসলামের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রভাবশালী মহল, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম কর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি আনারুল ইসলামের সন্ধান পান বা তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানেন, তাহলে অনুগ্রহ করে ০১৮৬৭-২২৮৩১৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে। নিখোঁজ যুবকের নিরাপদ ও দ্রুত ফিরে আসার জন্য পরিবার সকলের দোয়া ও আন্তরিক সহায়তা কামনা করেছে।
রাঙামাটি জেলার স্থানীয় সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল মিডিয়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এবারের প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মোট ৩৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং), মোবাইল জার্নালিজম, এআই ব্যবহারের কৌশল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরানুল হক ভূইয়া, পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মোর্শেদ, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সিনিয়র সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস, সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে সহ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সমপনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতাকে আরও গতিশীল ও দায়িত্বশীল করতে এ ধরণের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল টুল ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে সংবাদ হবে আরও নির্ভুল, সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।’
অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা, কনটেন্ট তৈরি ও মোবাইল রিপোর্টিংয়ের হাতে–কলমে অনুশীলন তাদের পেশাগত কাজে নতুন মাত্রা যোগ করবে। শেষে অতিথিরা অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রশিক্ষণের সনদপত্র তুলে দেন।
কুষ্টিয়ায় গত ১ বছরে (অক্টোবর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫) পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ১০৮ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ৬টি ভারতীয় অটোমেটিক পিস্তল উদ্ধারসহ ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় ৭৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫৫ হাজার ২২ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য এবং ৩৪ কোটি ৩৯ লাখ ৮ হাজার ৯১ টাকার চোরাচালানী পণ্যসহ মোট ১০৮ কোটি ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ১১৪ টাকার অবৈধ দ্রব্য জব্দ করা হয়।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট–অক্টোবর তিন মাসে ২১ কোটি ৭৩ লাখ ৮ হাজার ৭৫০ টাকার মাদকদ্রব্য ও ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫০৫ টাকার চোরাচালানী পণ্যসহ মোট ২৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৫ টাকার সিজার সম্পন্ন করে ২৩ জন আসামিকে আটক করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, চলতি বছরের একই সময় (আগস্ট–অক্টোবর ২০২৫) ১২ কোটি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৩০ টাকার মাদক এবং ১৫ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯২ টাকার চোরাচালানী পণ্যসহ মোট ২৭ কোটি ৮৫ লাখ ৩৮ হাজার ৩২২ টাকার সিজার সম্পন্ন করে ৩৯ জন আসামিকে আটক করেছে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি।
চলতি বছরে পরিচালিত যৌথ টাস্কফোর্স অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানী দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে, ফেন্সিডিল: ৭৯৯ বোতল, ইয়াবা: ২২,৭২৮ পিস, এলএসডি: ৪৫ বোতল, নকল বিড়ি/ সিগারেট: ১,৭৭,৫১৪ প্যাকেট, বেহুন্দী ও চায়না দোয়ারী জাল: ১,৮৪,৯৬২ কেজি। উদ্ধারকৃত এসব দ্রব্যের বাজারমূল্য প্রায় ৬২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এ সময় ৬টি ভারতীয় অটোমেটিক পিস্তল উদ্ধারসহ ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, কোটা আন্দোলনে নিহত ও আহত ১০টি পরিবারকে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। একজন দৃষ্টিহীন বৃদ্ধকে উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান। ৪২টি হতদরিদ্র্য পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী এবং একজন এতিম কিশোরকে গবাদি পশু প্রদান।
এই মানবিক উদ্যোগগুলো বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক।
তিনি ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার করে বলেন, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) তাদের এই অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ শুধু দেশের সীমান্তই নয়, মানুষের হৃদয়ের সীমান্তও রক্ষা করে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক কল্যাণে নিজেদের নিবেদিত রাখবে ৪৭ বিজিবি।
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনাময় একটি ফসল রোজেল যা বাংলায় চুকোর বা টক গাছ নামে পরিচিত। বীজ বপনের ২২০ দিন পর গাছ প্রতি গড়ে ৫শ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত কাঁচা ফল এবং ১৫০ থেকে ৪শ গ্রাম বৃতির ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া হেক্টর প্রতি তিন থেকে সাত টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এই ফল এবং মাংসল বৃতি থেকে জ্যাম, জেলী, চা, আচার, চাটনী, জুসসহ বিভিন্ন পানীয় উৎপাদন করা যায় ও রান্নাতেও ব্যবহার করা যায়। শুক্রবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে আয়োজিত রোজেল নিয়ে এক প্রদর্শনীতে এসব তথ্য জানান বিভাগটির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ‘রোজেল উদ্ভিদের পাতা ও বৃতি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের কলা-কৌশল’ প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির।
এসময় তিনি রোজেলের উৎপাদন, চাষ পদ্ধতি, খাদ্যে ব্যবহার, ঔষধি ব্যবহার, পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার সম্পর্কে জানান।
অধ্যাপক বলেন, এই উদ্ভিদটি পতিত জমিতে চাষাবাদ করা যায়। এটি আমাদের দেশে অপ্রচলিত একটি উদ্ভিদ। আমার লক্ষ্য কোনো জমি যাতে পতিত না থাকে। এ কারণেই আমি পতিত জমিতে চাষাবাদ উপযোগী অপ্রচলিত কিন্তু ব্যাপক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা পরিচালনা করে আসছি।
তিনি বলেন, রোজেল খাদ্য হিসাবে স্বাদে ও ভেষজ গুনে অনন্য। বাড়ীর আশে-পাশে রৌদ্রময় বা আংশিক ছায়াযুক্ত উঁচু জায়গাতে চার থেকে পাঁচটি রোজেল উদ্ভিদ থাকলে একটি পরিবারের জন্য চা, জ্যাম, জুস, আচার ইত্যাদির পারিবারিক চাহিদা মেটানো সম্ভব। শুধু তাই নয় রোজেল ভিত্তিক খাদ্য ও পানীয় ছোট-মাঝারি আকারের শিল্পের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
রোজেলের পুষ্টিগুণ নিয়ে তিনি বলেন, জাত অনুসারে লাল ও সবুজ রোজেল পাওয়া যায়। তবে লাল রোজেলে এ্যান্থোসায়ানিন, ফ্লাভনয়েড, ক্যারোটিনসহ অন্যান্য অ্যান্টিএক্সিডেন্ট ও আমিষ, চর্বি বিদ্যমান যা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ উপসম করে বলে গবেষণায় জানা গিয়েছে। মৌলিক পুষ্টি উপাদান বিশ্লেষণে দেখা যায় পাতায় ও বৃতিতে প্রোটিন, চর্বি, ফাইবার ও মিনারেলস থাকে। রোজেল বৃতিতে ৩-৪ গ্রাম প্রতি লিটার টোটাল অরগ্যানিক এসিড থাকে। এই অর্গানিক এসিডের উপস্থিতিতে বৃতি ও পাতা টক স্বাদ হয়। এই উদ্ভিদের শুকনা পাতা ও বৃতিতে সহজে ছত্রাক বা জীবাণু আক্রমণ করে না ফলে এটা ছত্রাক-ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী। রোজেল সেবনের নির্দিষ্ট কোনো মাত্রা নেই কারণ এর পুরোটাই প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান সম্পন্ন। তাই এর তেমন কোনো প্বার্শ প্রতিক্রিয়া নেই।
এছাড়া রোজেলের অন্যান্য ব্যবহারের মধ্যে আশ উৎপাদন, পশুখাদ্য ও বায়োমাস হিসেবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রোজেলের কান্ড ও শাখা থেকে পাটের মত আঁশ উৎপাদন ও ব্যবহার করা যায়। এ গোত্রীয় মেস্তা পাট আঁশের জন্য উৎপাদন ও ব্যবহার হয়ে আসছে। পরিপক্ক রোজেল বীজে প্রায় ২০ শতাংশ আমিষ ও ২০ শতাংশ চর্বি আছে যা প্রক্রিয়াকরণের পর পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহারের প্রচলন আফ্রিকা মহাদেশ থেকে জানা যায়। ফসল ক্ষেতের বেড়া-উদ্ভিদ হিসাবে রোজেল খুবই কার্যকর। ফসল কর্তনের পর উদ্ভিজ্জ বায়োমাস খড়ি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। সুদৃশ্য সবুজ বা লালচে উদ্ভিদ শোভা বর্ধনকারী হিসাবে সুপরিচিত।
রোজেলের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাল রোজেলের বৃতির রঙ জৈব খাদ্য রঙ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। বিদেশে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করলে জৈব খাদ্য রঙ বিদেশে রপ্তানি করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
অধ্যাপক আরও বলেন, রোজেল ক্যাফেইনমুক্ত। ১:৪, ১:৩ ও ১:২ বিভিন্ন অনুপাতে চায়ের সাথে রোজেল মিশানো হয়েছে। তবে সার্ভেতে অংশ নেয়া প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ চা দিয়ে মেশানো ছাড়া শুধু রোজেল পছন্দ করেছে।
তিনি আরো বলেন, আমার এই গবেষণায় আমার স্ত্রী রাকেয়া তৌফিকা নাজনীন রেসিপি প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সাহায্য করেছে। এছাড়া বিভাগটির অধ্যাপক ড. নেছার উদ্দীন, অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন, অধ্যাপক ড. সবিবুল হক এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার হোসেন যুক্ত ছিলেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর পশ্চিম পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে চলছে ৪নং নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম। বহু পুরোনো আধাপাকা এই টিনশেড ভবনে ইউপির কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়েছে সার্বিক কর্মকাণ্ড। ফলে ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ নিয়মিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর ত্রাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেটে যাওয়া ইটের দেয়াল, মরিচা ধরা টিনের চালা ও পলেস্তরা খসে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ এই ঘরেই চলছে ইউনিয়ন পরিষদের নানা কার্যক্রম। বৃষ্টির সময় ছাদ ও চালার অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ভিজে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ভবনের ভেতরে ১০-১৫ জনের বেশি বসার জায়গা না থাকায় অনেককে রোদ-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে সেবা নিতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল ইসলাম বলেন, “জোরে বাতাস উঠলেই আতঙ্কে থাকি। কখন টিন উড়ে যায় আর দেয়াল ভেঙে পড়ে, বলা মুশকিল। এমন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কিভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয় বুঝি না।”
এমন দুরাবস্থার মধ্যেই চলছে গ্রাম আদালত, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বৈঠক, ইউপি সচিবের দাপ্তরিক কাজ এবং ডিজিটাল সেন্টারের সেবা। একটি কাজ করতে গিয়ে অন্যটি বন্ধ রাখতে হয়, ফলে গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেবা প্রদান। ভবনের অভাবে সরকারি ত্রাণ, কম্পিউটার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি যত্রতত্র রাখা হচ্ছে—যা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চুরির ঝুঁকিতেও রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শরীফ আল ফায়েদ জানান, “বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি ঢুকে কোনো কাগজপত্রই নিরাপদ থাকে না। একটি ইউনিয়নের সব কাজ এক ছাদের নিচে করতে গিয়ে আমরা বিপাকে পড়ছি।”
ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ—সবকিছুই এই জরাজীর্ণ ভবনে অত্যন্ত কষ্টে করতে হয়। বৈঠক বা গ্রাম আদালত পরিচালনার মতো পরিবেশও নেই।”
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি জানান, নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভবনের অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সারাদেশে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ শুরু হলে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদও নতুন কমপ্লেক্স পাবে।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের আগেই নির্মিত এই ভবনটিতে ১৯৮৩ সাল থেকে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর আগে রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়াপাড়া ইউনিয়ন ও নয়াবিল ইউনিয়ন যৌথ পরিষদ হিসেবেও এখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, শীতলক্ষ্যা বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও স্লোগানে সকাল সকাল মুখরিত রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীর।
শীতলক্ষ্যা নদী বাঁচাতে ছয় দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জ- ১ (রূপগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে ‘সেভ দ্যা শীতলক্ষ্যা’ নামে র্যালী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার মুড়াপাড়া কলেজ থেকে রান উইথ আনোয়ার হোসেন মোল্লা টু সেভ দ্যা শীতলক্ষ্যা ব্যানারে র্যালীটি শুরু হয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দিয়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাটাব বাজারে গিয়ে শেষ হয়।
নারায়ণগঞ্জ -১ (রূপগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত র্যালীতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান হাফিজ।
র্যালী শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজুর রহমান বলেন, এই শীতলক্ষা হচ্ছে রূপগঞ্জের প্রাণ। শীতলক্ষ্যা কে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে শিল্প কারখানার প্রসার ঘটেছিল। এই শীতলক্ষ্যার স্বচ্ছ পানি ছিল নাব্যতা ছিল। এই শীতলক্ষ্যা ধ্বংস হয়েছে অসৎ দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজ নেতৃত্ব আর সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীদের কারণে। আসুন আগামীতে শুধু শীতলক্ষ্যা নয় গোটা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য আমরা শপথ গ্রহণ করি। সৎ নেতৃত্বের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। সমাবেশে র্যালির মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরে বক্তব্য, রাখেন আনোয়ার হোসেন মোল্লা।
তার দেওয়া অঙ্গীকার গুলো হচ্ছে: ১। নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, ২। নদীর দুই পাড়ে সবুজ বেষ্টনী, ৩। নদীর পানি পরিষ্কার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ৪। আধুনিক ওয়াকওয়ে, লাইটিং, বিনোদন ক্ষেত্র, ৫। পরিবেশবান্ধব নদী পরিবহন ব্যবস্থা ও ৬। নদীভিত্তিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী খাঁন, জেলা আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইসরাফিল, জেলা শিবির সভাপতি আকরাম হোসেন, রূপগঞ্জ উত্তর ও পশ্চিম আমীর আবদুল মজিদ, ও মাওলানা ফারুক আহমাদ, দক্ষিণ, উত্তর ও পশ্চিম সেক্রেটারি, আনিসুর রহমান, খাইরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হানিফ ভূঁঞা প্রমুখ।
‘নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত আহার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাগুরার শরীরচর্চাবিষয়ক সংগঠন সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর একযুগ পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ব্যায়ামপ্রেমী এই সংগঠনের শতাধিক সদস্য অংশ নেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা। সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, গত ১২ বছরের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুস্থ শরীর ও মানসিক সতেজতা ধরে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, হাঁটাচলা ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই। সমাজব্যাপী স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে সুপ্রভাত বাংলাদেশ, মাগুরার একযুগ পূর্তি অনুষ্ঠান শেষ হয়।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ হাত্তরজুড়ে ফুটে থাকা লাল শাপলার অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন দেশের নানা প্রান্তের পর্যটকরা। ভোরের প্রথম আলোয় যখন হাজারো লাল শাপলা একসঙ্গে ফুটে ওঠে, তখন পুরো বিলজুড়ে সৃষ্টি হয় রঙিন ও মনোমুগ্ধকর এক আবহ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে শ্রীমঙ্গলের এই নব-পর্যটনকেন্দ্র ‘লাল শাপলা বিল’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল শাপলার মনোরম দৃশ্য ভাইরাল হওয়ায় দর্শনার্থীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শাপলা মূলত ভোরে ফোটে এবং সকালে সূর্যের আলোয় পুরোপুরি বিকশিত হয়—যা দেখতে সত্যিই মনোমুগ্ধকর। দুপুরে কিছুটা নিস্তেজ মনে হলেও বিকেলে আবারও সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয় চারদিকে।
ঘুরতে আসা কলেজছাত্রী দিবান্বিতা দাশগুপ্তা বলেন, ‘এত লাল শাপলা আমি আগে কখনও দেখিনি। বান্ধবীদের সঙ্গে এসেছি। হাজার হাজার শাপলা যেন পুরো প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়েছে দেখতে সত্যিই দারুণ লাগছে।
দর্শনার্থী ফাহিম আহমদ বলেন, ‘আগে এখানে তেমন কেউ আসত না। এখন মানুষ দূরদূরান্ত থেকে শুধু লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখতে আসছে। বিনোদনের জন্য সুন্দর একটি জায়গা তৈরি হয়েছে। এখানে এসে আমরা বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও দেখেছি।
আরেক দর্শনার্থী আরোফিন হোসেন জানান, ‘বউকে নিয়ে এসেছি লাল শাপলা দেখতে। অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল আজ সেই ইচ্ছে পূরণ হলো। ভোরের আলোয় শাপলার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সত্যিই মনকে প্রফুল্ল করে। পাখির কিচিরমিচির ডাকও অত্যন্ত ভালো লেগেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মির্জাপুরের লাল শাপলা এখন দেশ-বিদেশের মানুষের আকর্ষণ। প্রতিদিন এখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। শ্রীমঙ্গলের মতো মির্জাপুরও ধীরে ধীরে পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।