শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন
নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।
এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।
দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।
শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।
সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।
প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।
এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।
মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।
এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।
দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।
সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।
একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
নতুন সরকার গঠনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ আটকে গেল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই উদ্যোগের প্রতিবাদ জানান কর্মকর্তারা। তারা পর্ষদ সভা স্থগিতের দাবি করেন। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা হলেও ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন হয়নি। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে দিনভর উত্তেজনা চলে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস আদেশে জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে বা ঘরোয়া বৈঠকে, জনসভায়, সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকসংক্রান্ত বা নীতিমালার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারবেন না।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, পর্ষদের জরুরি সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ আগে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় মাত্র এক দিনের নোটিশে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সভার মূল উদ্দেশ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যাকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, বর্তমান গভর্নর অতীতে সেই গোষ্ঠীর একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। কাউন্সিলের মতে, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতার মৌলিক নীতির পরিপন্থি।
এছাড়া গভর্নরের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্রে যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের পরামর্শক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এমনকি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বহিরাগত ব্যক্তিকে কার্ড ইস্যু ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কাউন্সিল আরও জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হতে পারে না। পাশাপাশি ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। বর্তমান রাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সময়ে এমন বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আইন ও প্রথা—উভয়েরই লঙ্ঘন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে একটি একচেটিয়া বাজার তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ৭৩ জন জেলেকে ফেরত এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মিয়ানমারের সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তাদের টেকনাফের জালিয়াপাড়া ট্রানজিট ঘাট দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের ফেরত আনতে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল আজ দুপুরে একই ঘাট থেকে নাফ নদীর শূন্যরেখার উদ্দেশে রওনা দেয়। নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরাকান আর্মি তাদের হস্তান্তর করে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে জেলেদের দেশে এনে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের আলোচনার ফলেই জেলেদের ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। আরাকান আর্মির দাবি, জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে প্রবেশ করায় তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে এখনো আটক থাকা অন্যান্য জেলেদের ফেরাতে বিজিবির পক্ষ থেকে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ফেরত আসা জেলে নূরুল আলম বলেন, ‘ছয় মাস পর নিজ দেশে ফিরতে পেরে খুব খুশি লাগছে। মিয়ানমারে এখনও শতাধিক জেলে রয়েছে। মাছ শিকার করে ফেরার পথে নাইক্ষ্যংদিয়া ও বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে আমাদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। আমাদের মারধর করা হয়েছে, অনেক সময় না খাইয়ে রাখা হয়েছে। আমার মতো অন্যদেরও নির্যাতন করা হয়েছে।’
বিভিন্ন সময়ে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ২০০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে এই ৭৩ জনকে ফেরত আনা হলো।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার একটি ভুট্টা খেত থেকে স্বাধীন বাবু (১৬) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের ধানঘরা (কাউয়াভাসা) গ্রামের একটি ভুট্টা খেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত স্বাধীন বাবু পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার নরহরিপুর গ্রামের ওবায়দুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা ভুট্টা খেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেককে খবর দেন। পরে তার মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলে বিরামপুর থানা থেকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিরামপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, স্বাধীন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাকার বিভিন্ন কবরস্থান, ভুট্টা খেত, রাস্তা, ঈদগাহ ও উঁচু স্থানে রাত যাপন করতেন এবং তিন-চার দিন পর বাড়ি ফিরতেন। গত রোববার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভুট্টা খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টাঙ্গাইলে ধর্ষণ মামলায় মো. সাঈদ হাসান সেতু (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-১৪ এর ৩নং কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন জানান, অভিযুক্ত সাঈদ হাসান সেতু ধর্ষণের শিকার নারীর পূর্ব পরিচিত ও সম্পর্কে চাচাতো বোনের স্বামী। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে আসা-যাওয়া করত ও কুপ্রস্তাব দিত।
অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে অভিযুক্ত সেতু গত ২৫ মার্চ রাতে ওই নারীর শোয়ার ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন পন্থায় একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করলে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়। এই ঘটনায় ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় অভিযুক্ত দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে অভিযুক্তকে গেপ্তারের পর ফুলপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার কবরস্থানে ওসমানীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ১৭ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন।
এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
অনুষ্ঠান শেষে তার রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে সিলেট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গৌরব ও মর্যাদার সঙ্গে প্রতি বছর এ দিনটি পালন করে থাকে।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মো. শাকিল মৃধা (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন-সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাকিল মৃধা আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুস সোবাহান মৃধার ছেলে। তিনি ঢাকা–বাউফল–দশমিনা রুটে চলাচলকারী পরিবহনের আদাবাড়িয়া কাউন্টারের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় দফাদার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর ফেরেননি শাকিল। সোমবার (১৬ ফেব্রয়ারি) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশের একটি পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও শীতের পোশাক পরিহিত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। স্বজনরা এসে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
নাটোরের গুরুদাসপুরে পূর্ব বিরোধের জেরে হালিমা বেগম নামে এক নারীকে এসিড নিক্ষেপে শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দগ্ধ হালিমা বেগম উপজেলার নাজিরপুরের মৃত শুকুন আলীর স্ত্রী। ভুক্তভোগী নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য চামেলি বেগমের বিরোধ চলছিল।
এ ঘটনার জেরে নজরুল ও তার সহযোগীরা প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শেষরাতে চামেলি বেগমের মা হালিমা বেওয়া (৬০) বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে নজরুল ও তার সহযোগীরা ওই তরুণী মনে করে তাকে লক্ষ্য করে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পরে তার চিৎকার শোনে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভাটিয়ারী স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থান নেন তাদের একটি টিম। একটি কাভার্ড ভ্যান দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় দামি থ্রি-পিচ, শাড়ি ও ১ হাজার ২৯৮ কাটুন ব্র্যান্ড সিগারেট উদ্ধার করেন তারা।
উদ্ধারকৃত মালপত্রের মূল্য অনুমানিক প্রায় ৯ কোটি টাকা বলে কোস্ট গার্ডের দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যানচালককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তবে গাড়ি ও মালপত্র জব্দ করে কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে ডিউটি অফিসার জানিয়েছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে এক ফিসারিতে জেলেরা মাছ ধারার সময় জালে ওঠে এক শিশুর মরদেহ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটা থেকে শিশু আব্দুল্লাহ হেল ফুয়াদ (৯) কে পাওয়া যাচ্ছিল না। দুপুরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে ফিসারিতে মাঝ ধরার সময় জালে উঠে আসে শিশুটির মরদেহ। পরিবারের ধারণা খেলা করার সময় ফিসারির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র ছেলে হারিয়ে শিশুটির পরিবার প্রায় পাগল। হৃদয়বিধারক এ ঘটনায় এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিনের ছোট ভাই হুমায়ন কবিরের ছেলে আব্দুল্লাহ হেল ফুয়াদ। মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সুবাদে ময়মনসিংহ শহরে পরিবারের সাথে বসবাস করে। গত দুই দিন আগে আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আসে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজাখুজি করেন পরিবারের লোকজন। দুপুর প্রায় সাড়ে ১২ টায় বাড়ির পাশে তাদের ফিসারিতে জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধারার সময় জালে উঠে আসে শিশু ফুয়াদের লাশ। দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ন কবিরের তিন মেয়ে এক ছেলে। সবার ছোট ফুয়াদ। অনেকটা চঞ্চল প্রকৃতির ছিল। গত দুই দিন আগে ময়মনসিংহ থেকে বাবা-মায়ের সাথে বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর থেকে গ্রামের শিশুদের সাথে খেলাধুলায় মত্ত ছিল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ফুয়াদসহ পরিবারের সবাই ময়মনসিংহ চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১০ টা থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুজি করেন। না পেয়ে পরিবারের ধারণা ছিল শিশুদের সাথে কোথাও খেলা করছে না হয় বাড়ির পাশে একটি মোড়ের দোকানে গিয়েছে। দুপুরে জেলেরা মাছ ধরার সময় জালে উঠে আসে ফুয়াদের মরদেহ।
নিহত শিশুর চাচা সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রাকিব বলেন, পরিবারের সবাই গত দুদিন আগে ময়মনসিংহ থেকে বাড়িতে আসে, গতকাল সোমবার চলে যাওয়ার কথা ছিল। দুপুরে বাড়ির পাশে ফিসারিতে মাছ ধারার জালে মরদেহ উঠে আসে। ধারনা করা হচ্ছে খেলা করতে করতে কোন এক সময় পানিতে পরে তলিয়ে মৃত্যু হয়।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন বলেন, দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে মৃত অবস্থায় এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারছি, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকলে বিনা ময়না তদন্তে লাশ দিয়ে দেওয়া হবে।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে কুকুর, বিড়াল বা বানরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষাকারী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (এআরভি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে সরকারি সরবরাহের কোনো ভ্যাকসিন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত ভুক্তভোগী। এমনকি হাসপাতালের বাইরে ফার্মেসিগুলোতেও চড়া দাম দিয়ে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। সরকারি সেবা নেই, অজুহাত ‘সাপ্লাই সংকট’ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র উল্টো।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলেই দায়িত্বরতরা সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন যে সরকারি সরবরাহ নেই। ফলে অসহায় রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন অথবা দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বারবার ‘সাপ্লাই নেই’ এমন গতানুগতিক অজুহাত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। বাইরের ফার্মেসিতেও হাহাকার হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা যখন বাইরের ওষুধের দোকানে ছুটছেন, সেখানেও মিলছে না সমাধান। শহরের বড় বড় ফার্মেসিগুলো ঘুরেও মিলছে না ইনজেকশন। অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, কিছু দোকানে গোপনে এই ভ্যাকসিন থাকলেও তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দরিদ্র রোগীদের পক্ষে এই চড়া দাম দিয়ে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষায় থাকা সদর উপজেলার এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘কুকুরে কামড়ানোর পর দৌড়ে হাসপাতালে আসলাম। ডাক্তার বলল সরকারি ভ্যাকসিন নাই। বাইরে কিনতে গেলাম, সেখানেও নাই। এখন বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়লে এর দায় কে নেবে? আমরা গরিব মানুষ বলেই কি আমাদের কোনো মূল্য নেই?’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম এবং সেন্ট্রাল ড্রাগ স্টোর (সিএমএসডি) থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সরবরাহ পাওয়ার সাথে সাথেই সেবা চালু করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেন। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। সময়মতো ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যু নিশ্চিত। নেত্রকোনা জেলায় ইদানীং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বাড়ায় কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনের এই ভয়াবহ সংকট পুরো জেলার জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং বাড়ানো হোক।
বগুড়ায় অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে ৭৮ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাজিয়া জাহান (৪০) নামে গৃহবধূর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা করা হয়েছে। দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান সম্প্রতি এ মামলা করেন। গতকাল সোমবার বিকালে দুদক কর্মকর্তা এ তথ্য দিয়েছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নাজিয়া জাহান যমুনা ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার বরখাস্ত সাবেক ব্যবস্থাপক সাওগাত আরমানের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রধান কার্যালয় নির্দেশ দেয়। নাজিয়া জাহান গত ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী জমা দেন।
সম্পদ বিবরণী যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের নামে ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যমানের স্থাবর সম্পদ এবং ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬১ টাকা মূল্যমানের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে নাজিয়া জাহান দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন।
এভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দিয়ে তিনি দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
অপরদিকে সম্পদ বিবরণী যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের নামে মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ঋণ/দায়ের স্বপক্ষে কোনও রেকর্ডপত্র দেখাতে পারেননি। ঋণ/দায় ব্যাংকিং চ্যানেল কর্তৃক সমর্থিত না হওয়ায় তার নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা।
এ ছাড়া যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ফলে পারিবারিক ব্যয়সহ অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৬১ হাজার ২৬১ টাকা। আয়কর নথি পর্যালোচনায় তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ১২৪ টাকা।
তাই নাজিয়া জাহান জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ১৩৭ টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ-দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান গতকাল সোমবার বিকালে জানান, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর সম্প্রতি তিনি নিজ কার্যালয়ে ওই আসামির বিরদ্ধে মামলা করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করার পর তদন্ত শেষে চার্জশিট ও বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
রোজার আগেই কুড়িগ্রাম ও হিলির বাজারে লাগামহীন হয়ে ওঠেছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। গত দুই দিনে লেবু, রসুন, শসা, গাজর, বেগুন ও আদাসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আলুর দাম রয়েছে নাগালের মধ্যে। জেলা শহরের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে জানা যায়, রোজার আগেই লেবুর দাম বেড়ে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। গত দুই দিনের ব্যবধানে শুকনা মরিচ, রসুন, আদা এবং সয়াবিন তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আলুর স্বল্পমূল্যে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বেড়েছে বেগুন, গাজর ও শসার দাম। পেঁয়াজের দামও কিছুটা বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মোকামে দাম বেশি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে ভোক্তাদের চাপে পড়তে হচ্ছে। রমজানে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোকামগুলোতে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের।
শহরের জিয়া বাজারের পাইকারি আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই দিনে শুকনা মরিচের দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। রসুনের দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলা শহরের জিয়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর জানান, রসুন, শুকনা মরিচ, আদা, বেগুন, গাজরসহ বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। দাম বড়লেও খুচরা ব্যবসায়ীদের লাভ বাড়েনি। তারা বেশি দামে কিনছেন বলে বেশি দামেই বিক্রি করছেন। কিন্তু তাদের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের ব্যবধান আগের মতোই আছে।
পৌর বাজারের ব্যবসায়ী ওলিল বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে যে লেবু প্রতি পিস কিনেছিলাম ৫ টাকা, এখন সেই লেবুর পিস হইছে ১২ টাকা। দুই দিন আগে রসুন ৯০ টাকা কেজি কিনছি। এখন কিনছি ১৬০ টাকা। বেগুন ছিল ২৫ টাকা, এখন ৫০ টাকা কিনতে হচ্ছে। শসার কেজি ছিল ৪০ টাকা, এখন ৫০ টাকা। গাজর ছিল ২০ টাকা, এখন কিনতে হচ্ছে ৩২ টাকা। করলাসহ আরও কয়েকটা শবজির দামও বেড়েছে। রোজার জন্য লেবুসহ সব জিনিসের দাম বাড়ছে। আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি। কয়েক রোজা গেলে হয়তো দাম আবার কমতে পারে।’
এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে লিটার প্রতি পাঁচ টাকা। বোতলজাত তেলের দাম বাড়ারও গুঞ্জন চলছে। সবমিলে এবারের রমজানেও নিত্যপণ্য নিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তির কোনো লক্ষণ মিলছে না।
তবে রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য উপকমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। সভায় বাজারগুলোতে দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের দামের তালিকা টানিয়ে দেওয়াসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিক্রির সময় খাদ্যদ্রব্য নিরাপদ রাখতে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইউএনওরা বাজারগুলোতে মূল্য তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেবেন।’
সরবরাহ কমের অজুহাতে রমজান শুরুর আগেই দিনাজপুরের হিলিতে লেবু ও শসার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। হঠাৎ দাম বাড়াই বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দোকানেই লেবুর দেখা মিলছে না। দু’একটি দোকানে থাকলেও দাম বাড়তি। একইভাবে সব দোকানেই শসার দাম বেশি। দুদিন আগে যে লেবুর হালি ২০-৩০ টাকা বিক্রি হয়েছিল, তা এখন বেড়ে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আকারে বড় লেবুর দাম কেউ কেউ ৭০-৮০ টাকা হালি বিক্রি করছেন। শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন আগের মতোই ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ২০ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ২০ টাকা কেজি, শিম ২০ টাকা কেজি, টমেটো ৪০ টাকা কেজি, আলু ১৫-১৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে আসা নির্মল কুমার বলেন, ‘বাড়িতে অনুষ্ঠান থাকায় লেবু লাগবে। কিন্তু বাজারে এসে দাম শোনে অবাক হয়েছি। এক হালি লেবু চাচ্ছে ১০০ টাকা। এটি কী মেনে নেওয়ার মতো। জীবনে এত দাম দিয়ে লেবু কিনে খাইনি। তারপরও এখন যেহেতু লাগবেই সেহেতু ১২০ টাকায় দুই হালি নিয়েছি।’
আরেক ক্রেতা আসলাম হোসেন বলেন, ‘দুদিন আগেই বাজার থেকে লেবু কিনে নিয়ে গেলাম ২০ টাকা হালি। অথচ সেই লেবু আজ কিনতে এসে দাম শুনি ৬০ টাকা হালি। আরেকটু বড়গুলোর দাম আরও বেশি। রমজান শুরু না হতেই বাজার অস্থির। কমবেশি সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এটা তো চিন্তার বিষয়।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘কেউ যেন কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। বিশেষ করে রমজানকেন্দ্রিক যেসব পণ্যের চাহিদা থাকে সেগুলোর দাম বাড়াতে যাতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখছি। এরপরও কারও বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৫ পাওয়ার জেল এবং ১৭ ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার।
বিজিবি জানায়, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) ও র্যাব-৯ এর সমন্বয়ে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলাধীন কাজলসার ইউনিয়নের রায়গঞ্জ এলাকার আটগ্রাম পেট্রোবাংলা পয়েন্টের রায়গ্রাম যাত্রী ছাউনির পেছনে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫ পাওয়ার জেল এবং ১৭ ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিজিবি ও র্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলো জিডি মূলে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।