শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
২২ ফাল্গুন ১৪৩২

দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা

রোববার বগুড়া শহরের সাতমাথায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৫ আগস্ট, ২০২৪ ০০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৪ ২২:১৫

শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন

নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।

এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।

দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।

শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।

সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।

প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।

এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।

সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।

এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।

দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।

সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।

নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।

নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।

বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।

একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।


টঙ্গী বাজার ফোম মার্কেটে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি ফোম মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে এগারোটা দিকে টঙ্গী বাজার আনারকলি রোডের মা সফুরন্নেছা সুপার মার্কেটে এই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গী, উত্তরা ও কুর্মিটোলার মোট ৬টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মার্কেটের ভিতরে একটি দোকানে হঠাৎ করে আগুনের কুন্ডলী দেখতে পান তারা। মুহূর্তেই বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পরে। এতে ১০ থেকে ১৫টি দোকানের সব মালামাল পুরে ছাই হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের দাবি মার্কেটটিতে বিপুল পরিমাণ ধায্য কেমিক্যাল, ফোম ও প্লাস্টিক সামগ্রী ছিল। তাছাড়া জনবহুল এলাকা হওয়ার মানুষের উপচে পড়া ভীড় ও পানি সংকটে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।

ফায়ার সার্ভিসের (ঢাকা জোন ৩) এর উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট তাৎক্ষণিক ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আগুনের ভয়াবহতা দেখে উত্তরা ও কুর্মিটোলা থেকে আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়। মোট ৬টি ইউনিটের দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে প্রচুর ধায্য পদার্থ থাকায় ও পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে।


১৮শ বছরের ইতিহাস: তিন সভ্যতার নীরব সাক্ষী ‘দমদম পীরস্থান ঢিবি'

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মণিরাম (যশোর) প্রতিনিধি

প্রাচীন বাংলার জনপদ যশোরের মণিরামপুর। এই জনপদের ধুলোবালি আর মাটির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের বিস্ময়। মণিরামপুর বাজার থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ভোজগাতি ইউনিয়নের দোনার গ্রামে নিভৃতে দাঁড়িয়ে আছে এক ঢিবি, যা স্থানীয়দের কাছে ‘দমদম পীরস্থান’ নামে পরিচিত। এক সময় লোকমুখে এটি সুলতানি আমলের স্থাপনা বলে পরিচিত থাকলেও, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন দেখিয়েছে এক অবিশ্বাস্য সত্য। এটি কেবল কয়েকশ বছরের নয়, বরং ১৮শ বছরেরও বেশি প্রাচীন এক জনপদের ধ্বংসাবশেষ যা আমাদের নিয়ে যায় যিশুখ্রিস্টের জন্মের সমসাময়িক এক সুপ্রাচীন অতীতে।

​১৯৮৬ সালের এক বিকেলে স্থানীয়রা যখন ঢিবি সংলগ্ন মাদ্রাসার জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন, তখন হঠাৎ কোদালের মুখে বেরিয়ে আসে প্রাচীন ইটের সুনিপুণ গাঁথুনি। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। দীর্ঘকাল মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা রহস্যময় এক স্থাপত্যের হাতছানি হাজার হাজার মানুষকে সেই অজপাড়াগাঁয়ে টেনে আনে। জনমানুষের এই কৌতূহলকে গুরুত্ব দিয়ে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম খনন কাজ শুরু করে। খননকালে প্রথমদিকে ছাদ বিহীন ৮টি পূর্ণাঙ্গ কক্ষ আবিস্কৃত হয়। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় উন্মোচিত হয় এক বিশাল মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। ২০০৬-০৭ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্য মোট কক্ষ পাওয়া যায় ১৮টি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফার খননকালে দেখা যায়, এই মন্দিরটি মূলত দুটি পৃথক যুগে নির্মিত হয়েছিল। প্রথম যুগে এটি ছিল একটি বর্গাকার স্থাপনা, যা পরবর্তীকালে মন্দিরের পবিত্রতা ও কর্মপরিধি বাড়াতে পূর্বদিকে সম্প্রসারিত করে আয়তাকার রূপ দেওয়া হয়। গর্ভগৃহের ভেতরে পাওয়া যায় ছোট-বড় ২৪টি কক্ষ, যা আজও দর্শকদের ভাবিয়ে তোলে সেই সময়ের উন্নত স্থাপত্যশৈলী নিয়ে।

​প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই ঢিবিটি আসলে এক বিরল প্রত্নস্থল। এখানে তিনটি ভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতার ছাপ একই সুতোয় গাঁথা। খননকালে পাওয়া ছোট পাথরের বুদ্ধমূর্তি আর পোড়ামাটির ফলক সাক্ষ্য দেয় এটি এক সময় বৌদ্ধদের উপাসনালয় ছিল। আবার মন্দিরের নকশায় পদ্মপাপড়ি খচিত ইট, সাপের ফণাযুক্ত পাত্র এবং ১৩তম জৈন তীর্থঙ্কর মল্লিনাথের বিগ্রহের উপস্থিতি ইঙ্গিত করে যে, এটি ছিল একটি প্রাচীন জৈন মন্দির। সেখানে সম্ভবত পঞ্চনাগ বা সপ্তনাগের উপাসনা হতো। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতকের ‘এন্টিমনির কাজল শলাকা’ এবং ‘রুলেটেড’ মৃৎপাত্রের মতো দুর্লভ প্রত্নবস্তুর আবিষ্কার একে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মন্দিরের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। সময়ের বিবর্তনে মন্দিরটি পরিত্যক্ত হলে এলাকাটি জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং কালক্রমে এটি একটি উঁচু ঢিবি বা সমাধিতে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে কোনো এক সুফি সাধক এখানে আস্তানা গাড়লে এটি ‘পীরস্থান’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

​​এই প্রত্নস্থলের নামকরণের গল্পটিও বেশ রোমাঞ্চকর। প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, অতীতে এই উঁচু ঢিবির ওপর দিয়ে হেঁটে চলার সময় মাটির নিচ থেকে এক ধরনের গুম গুম বা ‘দমদম’ আওয়াজ পাওয়া যেত। সেই রহস্যময় শব্দ থেকেই এর নাম হয়ে যায় ‘দমদম টিবি’। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দমদম পীরস্থান ঢিবি থেকে কিছুটা দক্ষিণে মঙ্গল শাহ নামে এক পীরের আস্তানা ছিল। একসময় এলাকার মানুষ বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় এখানে টাকা, মুরগি ও ছাগল মানত করতেন। রোগমুক্তির পর তারা সেই স্থানে মানত করা পশু-পাখি জবাই করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করতেন। বর্তমানে এ প্রথা এখনো কিছুটা চালু থাকলেও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। তবে এই প্রথা ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য স্থানীয়দের জানা নেই। এছাড়াও এই ঢিবির পাশেই রয়েছে বিশাল এক জলাধার, যার নাম ‘কুমারী দিঘি’। এই দিঘিকে ঘিরে স্থানীয়দের অন্তহীন লোককথা আজও মুখে মুখে ঘোরে। এক সময় বিশ্বাস করা হতো, এলাকায় কোনো অনুষ্ঠান হলে কুমারী মেয়েরা দিঘির পাড়ের কুয়ায় গিয়ে প্রার্থনা করলে মুহূর্তের মধ্যেই সোনার থালা-বাসন আর গামলা ভেসে উঠত। ব্যবহার শেষে আবার ফেরত দিলে সেগুলো অদৃশ্য হয়ে যেত। সেই অলৌকিক কুয়া আজ ভরাট হয়ে গেলেও তাকে ঘিরে মানুষের আবেগ কমেনি। তবে পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি টানে দিঘির পাড়ে থাকা রহস্যময় ‘অচিন বৃক্ষ’। এই দুর্লভ প্রজাতির গাছগুলো যেন প্রকৃতির এক রহস্যময় খেলা। কথিত আছে, সেই ১৮শ বছর আগে মন্দির প্রতিষ্ঠার সময়ই এগুলো লাগানো হয়েছিল। সাতটি গাছের মধ্যে এখন মাত্র তিনটি টিকে আছে। এদের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো, বছরের ছয় মাস এই গাছগুলো একদম শুকনো কাঠের মতো প্রাণহীন হয়ে থাকে, আর বাকি ছয় মাস অলৌকিক প্রাণ ফিরে পেয়ে নতুন পাতায় ও সুগন্ধি ফুলে ভরে ওঠে। এমন অদ্ভুত গাছ এদেশের আর কোথাও দেখা যায় না। অনেকে বিশ্বাস করেন এই ফুল সব রোগের মহৌষধ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক চেষ্টা করেও এই গাছ অন্য কোথাও লাগানো সম্ভব হয়নি; নিজের মাটি ছেড়ে গেলেই চারাগুলো মারা যায়।

​​দমদম পীরস্থান ঢিবির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে। খনন কাজের তদারকিতে থাকা একজন গবেষক জানান, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় দফার খননে আমরা লক্ষ্য করি মাটির প্রতিটি স্তর ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কথা বলছে। বিশেষ করে খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের ‘রুলেটেড’ মৃৎপাত্রের টুকরো পাওয়া যাওয়াটা আমাদের জন্য বড় আবিষ্কার। এটি প্রমাণ করে যে, প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই অঞ্চলে একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং শিল্পমনা জনপদ ছিল। অন্যদিকে, ঢিবির পাশেই বসবাসরত আশিোর্ধ্ব আব্দুল কুদ্দুস শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলায় এই ঢিবিকে খুব ভয় পেতাম। ঘন জঙ্গলে ঘেরা জায়গাটার নিচে সোনার শহর আছে বলে বড়দের কাছে শুনতাম। আজ যখন প্রাচীন ঘরগুলো চোখের সামনে দেখি, তখন অবাক হয়ে ভাবি আমরা আসলে কত প্রাচীন এক ইতিহাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। বর্তমানে এলাকাটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ঢাকা থেকে আসা একজন গবেষক মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে বৌদ্ধ, জৈন এবং মুসলিম ঐতিহ্যের এমন সহাবস্থান বিরল। বিশেষ করে ‘অচিন বৃক্ষ’ উদ্ভিদবিজ্ঞানের কাছেও একটি রহস্য হতে পারে। সরকারিভাবে একে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এটি দেশের অন্যতম সেরা হেরিটেজ সাইট হতে পারে।


বাকৃবির তিন অ্যালামনাই পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তিন অ্যালামনাই। তারা হলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী ও বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. এম এ রহিম। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, চিকিৎসা, জনপ্রশাসন এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) এবং ঢাকাস্থ পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের বিজ্ঞানী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর মহাপরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে তিনি জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার শীর্ষ সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি হিসেবে কর্মরত আছেন।

ড. মোহাম্মদ আবদুল বাকী বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবের অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সাবেক মহাপরিচালক এবং ফার্ম মেশিনারী এন্ড পোষ্ট হারভেস্ট টেকনোলজি (এফএমপিএইচটি) বিভাগের প্রাক্তন মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বাকৃবির কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।


ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল কম, ভোগান্ততে মোটরসাইকেল আরোহীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফিলিং স্টেশনগুলিতে চাহিদা মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক, মোটরসাইকেল আরোহীরা ভোগান্ততে পড়েছেন। ফিলিং স্টেশন থেকে তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ পাচ্ছেন না। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করতে না পারায়ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন পাম্প মালিকরা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে থেকে শহরের ফিলিং স্টেশনে ঘুরে গেলে দেখা যায়, বাস,পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা জ্বালানি তেল নিতে স্টেশনে ভিড় করছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ তারা চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছে না।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা ও ইসরায়েলে যুদ্ধের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানিয়েছেন।

যাত্রী নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে যাবেন প্রাইভেটকার চালক মো.রাজু। তিনি বলেন, পাম্পে জ্বালানির জন্য এসেছি আমার গাড়ির জন্য প্রয়োজন ২০ লিটার কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে দিচ্ছে ৪ লিটার। এখন বাকি পথ কিভাবে যাবো সেই চিন্তায় আছি। আমাদের দাবি সরকার যেন দ্রুত দেশের জ্বালানি সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

মোটরসাইকেল আরোহী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বাইকের জন্য তেল নিতে এসে দেখি পাম্প থেকে একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে ২শত টাকার বেশি জ্বালানি তৈল দিচ্ছে না। আমার চাহিদা মত তেল পায়নি। তৈল তো খাবার জিনিস না বেশি নিয়ে কি করবো।

আরেক মোটরসাইকেল আরোহী রায়হান মিয়া বলেন, আমি বাইকের জন্য ফুল ট্যাংকি করতে আসছি কিন্তু পাম্প থেকে ফুল ট্যাংকি করতে দেয়নি। আমাকে মাত্র ৫ শত টাকার তৈল দিয়েছে৷

ঔষধ কোম্পানি বিক্রয় কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের তো সবসময় মার্কেটে দৌঁড়াদৌড়ি করতে হয়। তাই গাড়িতে বেশি জ্বালানি রাখতে হয়। কিন্ত আমরা সেই পরিমাণ তেল পাচ্ছি না।

মোটরসাইকেল আরোহী মো. রিয়াদ বলেন, তিনশ টাকার তৈল চেয়েছি তারা ১শত টাকার তেল দিয়েছে। আমি গ্রাম থেকে এসেছি যে পরিমাণ তেল নিতে কিন্ত যে পরিমাণ তেল দিয়েছে তা যেতেই শেষ হয়ে যাবে।

মোটরসাইকেল সাইকেল আরোহী সাইফুল আলম বলেন, আমি ঢাকায় যাবো দরকার ১ হাজার টাকার তেল। কিস্তু পাম্প থেকে আমাকে দিয়েছে ২শত টাকার তেল। এখন কিভাবে ঢাকায় যাবো সেই ভাবনায় আছি।

এবিষয়ে মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার আহমেদ জিসান বলেন, আমাদের দেশের জ্বালানি চাহিদা মতো

সরবরাহ ঠিক রাখতে। সরকার যেন যে কোন পরিস্থিতিতে দেশে ১/২ মাসের জন্য জ্বালানি তেল মজুত রাখেন। দেশে যেকোন সংকটকালে মজুতকৃত জ্বালানি তেল দিয়ে সংকট দূর করতে পারেন।

ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন মালিক আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, আমাদের পাম্পে যা চাহিদা রয়েছে সেই অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছি না। এই সপ্তাহে পেয়েছি কিন্তু সামনের সপ্তাহে কি পরিমাণ জ্বালানি পাবো সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। স্বল্প জ্বালানি দিয়েই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী না দিয়ে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে।


মাগুরায় পাট দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি 

‘সোনালী আশের সোনার দেশ পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসন ও জেলা পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে মাগুরায় জাতীয় পাট দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালি শেষে মাগুরা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে হয় আলোচনা সভা।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল দীপঙ্কর ঘোষ, জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ মাহবুবুল ইসলাম, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক আব্দুল আউয়াল, পাট চাষি রাজু আহমেদ, মো. মিলন মিয়া ও মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে পাটের বিকল্প নেই। প্রতি বছর বাংলাদেশ বিদেশে পাট রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তাই পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ গড়তে পাটের চাষ বাড়াতে হবে। জেলার পাট চাষিদের প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন, উদ্বুদ্ধকরণ, বিনামূল্যে সার প্রদান করতে হবে। পাট ও পাট জাত পণ্যের বাজার বাড়াতে পাটের চাষ বাংলাদেশের বাড়াতে হবে।


নওগাঁয় পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল মান্নান (৩২) নামে এক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীর ওপর মারধর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সারতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান সারতা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গ্রামের মোড়ে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের নবীর উদ্দিনের ছেলে মনিরুজ্জামানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে জানান, প্রায় দুই বছর আগে মনিরুজ্জামান তার দোকান থেকে সার ও কীটনাশক বাকি নেন। ওই সময় কীটনাশক বাবদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পাওনা হয়। পরে একাধিকবার টাকা চাইতে গেলে মনিরুজ্জামান বিভিন্নভাবে তালবাহানা করেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে মনিরুজ্জামান আবারও কীটনাশক বাকি চাইতে দোকানে আসেন। কিন্তু আগের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় আব্দুল মান্নান তাকে আর বাকি দিতে অস্বীকার করেন। এতে মনিরুজ্জামান দোকান থেকে সরে যান। পরে কিছুক্ষণ পর তিনি দলবল নিয়ে এসে আব্দুল মান্নানের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। এ সময় মারধরে গুরুতর আহত হয়ে আব্দুল মান্নান জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে দোকানের ক্যাশবাক্সে থাকা টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় মনিরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান বলেন, আব্দুল মান্নানের সঙ্গে কোনো মারামারি হয়নি। তবে টাকা পাওনা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সরিষাবাড়ীতে শতাধিক দরিদ্র পরিবার পেলো ঈদ উপহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে শতাধিক দরিদ্র অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবার পেল জাস ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে জাস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের শতাধিক পরিবারের মাঝে এ ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের জাস ফাউন্ডেশন প্রতি বছর দরিদ্র অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, ঈদ উপহার, নতুন কাপড় ও মাংস বিতরণ করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার, চর পোগলদিঘা, পাশ্ববর্তী কাজিপুর উপজেলার পশ্চিম ছালাল, ফুরকুনির মোড়ে একাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপলক্ষে উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিরতণ করা হয়। এ সময় উপহার হিসেবে নতুন শাড়ি, থ্রী-পিস ও খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেল, লবন, আলু, পেয়াজ, চিনি বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাস ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানজিলা সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, সদস্য নুরুল ইসলাম, শাহাদত হোসেন মিলন, আবু তাহের, কামরুল হাসান প্রমুখ।


ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফজলুর রহমান গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মামুন বলেন, ‘মামলার ১নং আসামি ফজলুর রহমান হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আহত থাকায় তাকে সদর হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

অন্যান্য আসামিদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের ব্যাপারেও কাজ চলমান। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক থাকায় আরও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ইবি থানায় ফজলুর রহমানসহ ৪ জনের নামে এজহার দায়ের করেন আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। পরে বিকেলে ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ফজলুরকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- বিভাগটির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।

এদিকে গত বুধবার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টায় তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পুলিশ তার থেকে দুই পাতায় লিখিত স্টেটমেন্ট নেয়। লিখিত স্টেটমেন্টে ফজলুর রহমান হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে মামলা হওয়া পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তিনি আহত থাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়া রুনার নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান চিৎকার শুনে উদ্ধার করতে যাওয়া আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসাপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গতকাল ওই শিক্ষিকার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিকেলে তার স্বামী চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


পঁচা পানিতে দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রবে নাজেহাল আমতলী পৌরবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ডোবা ও নালা দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। এসব ডোবার পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছির বংশবিস্তার ঘটছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাসিন্দারা মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত ডোবা-নালা পরিষ্কার করে মশা নিধনের দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে আমতলী পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পৌর শহরের বিভিন্ন ডোবা ও নালা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ডোবা-নালা পরিষ্কার বা সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে বছরের পর বছর ধরে এসব স্থানে পচা পানি ও আবর্জনা জমে পরিবেশের অবনতি ঘটছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চারপাশের লেক, এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের লেক, সবুজবাগ লেক, চাওড়া লেক, খোন্তাকাটা লেক, বকুলনেছা মহিলা কলেজের লেক এবং আমতলী সরকারি কলেজের লেকসহ বিভিন্ন স্থানের ডোবা-নালায় ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। অনেক জায়গায় ডোবার পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

মিঠাবাজার এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়া বলেন, ডোবা-নালা ময়লায় ভরে গেলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তা অপসারণে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এসব স্থানে বড় বড় মশা জন্ম নিচ্ছে। মশার তাড়নায় ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।

সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গোপাল মাঝি বলেন, ডোবার পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশা ও মাছির উপদ্রব বাড়ায় পরিবেশও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একই এলাকার বাসিন্দা অসীম মৃধা বলেন, ময়লায় প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে। রাতে এসব মশা বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, মশার যন্ত্রণায় ঘরে টেকা মুশকিল হয়ে গেছে। কিন্তু মশা নিধনে পৌরসভা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিত্যক্ত ডোবা-নালাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মশা নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌর শহরের ডোবা-নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সিংড়ায় গ্রামবাসীর হামলায় তিন পুলিশ সদস্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের থেলকুড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম (কালিগঞ্জ ফাঁড়ি), এসআই বিপ্লব কুমার রায় (কালিগঞ্জ ফাঁড়ি) এবং এসআই নেজাম ইসলাম (সিংড়া থানা)। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল আশরাফুল ইসলামকে নন্দীগ্রাম উপজেলার একটি হাসপাতালে ও দুইজন পুলিশকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থেলকুড় গ্রামের সিয়াম আলী (১৯) সরিষা মারাই করার একটি গাড়ি নিয়ে রাস্তা থেকে মাঠে নামার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় গাড়িটি উল্টে গেলে সিয়াম গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নন্দীগ্রামের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পুলিশ জানায়, হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা মৃত্যুর কাগজপত্র থানায় জমা দিয়ে দাফন সম্পন্ন করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হন। পরে সিংড়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আ.ব.ম আব্দুন নূর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে একটি মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ থেলকুড় গ্রামে যায়। সেখানে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে। এ ঘটনার মূল উস্কানিদাতাকে শনাক্তের কাজ চলমান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


সারিয়াকান্দির ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ নারীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ‘কর্ণেলস্ ফাউন্ডেশন’। এরই ধারবাহিকতায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন হওয়ায় গ্রামীণ নারীদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সেলাই কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় এলাকার বেকার নারীরা ঘরে বসে না থেকে কাজের সুযোগ পাবেন, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখবে।

গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার নারচী ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামে প্রতিষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন ‘কর্ণেল ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জগলুল আহসান। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জগলুল আহসান বলেন, গ্রামীণ জনপদের নারীরা আজ আর পিছিয়ে নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে। ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ বাঁশগাড়িসহ সারিয়াকান্দি-সোনাতলা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নারীদের দর্জি বিজ্ঞানে দক্ষ করে তুলবে এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করবে।

তিনি আরও বলেন, এই সেলাই কেন্দ্রে নারীরা শুধু শ্রমের বিনিময়ে অধিক ভাবে সাবলম্বী হতে পারবেন। কেননা, সেলাই কেন্দ্র থেকেই সেলাই মেশিন, কাপড় সহ যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হবে এবং নারীদের প্রস্তুতকৃত পোশাক বিভিন্ন শপিংমলে বিক্রয়মূল্যের অর্ধেক টাকা পোশাক প্রস্তুতকারীদের প্রদান করা হবে। এছাড়াও আধুনিক পোশাক তৈরীতে নারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে এই সেলাই কেন্দ্র থেকেই। অনুষ্ঠানে নারচী ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্রের প্রশিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি সেলাই কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষনার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন।


শরনখোলার খালে কচুরিপানা, ব্যাহত পানি প্রবাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় অধিকাংশ খাল কচুরিপানা ও বিভিন্ন আগাছায় ভরে গেছে। ফলে খালগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় এ পানি ব্যবহারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আগে এসব খালের পানি রান্না, গোসল, থালাবাসন ধোয়া এবং গবাদিপশুর পানীয় জলের কাজে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা খালসহ নলবুনিয়া খাল, শরণখোলার বড় খাল এবং বিভিন্ন ছোট খাল বর্তমানে আগাছা ও কচুরিপানায় প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন খালগুলো পরিষ্কার না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চালরায়েন্দা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুল জমাদ্দার বলেন, ‘একসময় খালগুলো পরিষ্কার ছিল, তখন এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন আগাছা ও কচুরিপানায় ভরে গেছে। নৌকা চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

আরেক বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, ‘খালের পানি এখন নষ্ট হয়ে গেছে। কচুরিপানার কারণে এই পানি ঘরের কাজেও ব্যবহার করা যায় না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের মাঝখানে চায়না দুয়ারী জাল ও বুচনা জাল পেতে মাছ ধরার কারণে কচুরিপানা ও আগাছা আটকে থাকে। এতে খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘নতুন কর্মরত হওয়ায় বিষয়টি জেনেছি। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আগামী ঈদের পরপর স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততায় খালগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত খালগুলো পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে শরণখোলার খালগুলো আবারও আগের মতো স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাবে।


রৌমারিতে রেলপথ সম্প্রসারণে সম্ভাব্যতা যাছাই কার্যক্রম শুরু

সৃস্টি হবে কর্মসংস্থান, বাড়বে আর্থসামাজিক উন্নয়ন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম জেলার মূল ভূখণ্ড হতে ব্রহ্মপুত্র নদবিচ্ছিন্ন রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা। প্রতিদিন দুই উপজেলা থেকে মামলা মোকদ্দমা, স্কুল-কলেজ, অফিসিয়াল ও চিকিৎসাজনিত নানা কাজে মানুষজনকে জেলা সদর কুড়িগ্রামে যাতায়াত করতে হয়। জেলা সদরে যাতায়াতে দীর্ঘ নৌ-পথ পাড়ি দেওয়ার অধিকাংশ সময় কেটে যায় নৌকায়। একদিনে প্রয়োজনীয় কাজ সমাধান করে বাড়িতে ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। রাত যাপন করলে হোটেলে থাকা খাওয়াসহ খরচ হয় অতিরিক্ত টাকা। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য যা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই কষ্টের হাত থেকে রেহাই পেতে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো পাকিস্তান আমল থেকেই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ব্রিজ, সরকারি কলেজ, চৌকি-আদালত, রৌমারীকে মুক্তাঞ্চল ও জেলা ঘোষণা, রৌমারী পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণাসহ প্রায় ২১ দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন। অবশেষে জামালপুর থেকে শেরপুর, শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জ ও রৌমারী রেলপথ সম্প্রসারণে সম্ভাব্যতা যাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেলপথ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের শাখা-২ এর উপসচিব শেখ শামছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, জামালপুর থেকে শেরপুর হয়ে নাকুগাও স্থলবন্দর পর্যন্ত নতুন সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়। পরে গত ১ জানুয়ারি প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে শেরপুর-রৌমারী রেলওয়ে কানেকটিভিটির জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হিসেবে প্রকল্পটির নাম করণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিষয়টি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে আরএডিপিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়। আরএডিপি প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।

নির্দেশনাপত্রে স্বাক্ষর করেন রেণপথ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের শাখা-২ এর উপসচিব শেখ শামছুর রহমান। গত ১ জানুয়ারি এক স্মারকের একটি পত্র মারফত তিনি নতুন নির্দেশনা জারি করেন। উপসচিব শেখ শামছুর রহমান ওই স্মারকপত্রে স্বাক্ষর করেন ৪ জানুয়ারি-২০২৬। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শেরপুর জেলার ৩টি উপজেলা, জামালপুর জেলার ২টি উপজেলা ও কুড়িগ্রাম জেলার ২টি উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। রেলপথ প্রতিষ্ঠা হলে নাকুগাও স্থলবন্দর, বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর স্থল বন্দর ও রৌমারি স্থলবন্দর এবং রৌমারী-চিলমারী ফেরি সার্ভিন এর মাধ্যমে সোনাহাট স্থলবন্দরের সাথে সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে রৌমারী-চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদেও সেতু নির্মাণ হলে সরকার রেলখাত থেকে রাস্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়বে। উন্নত হবে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের দারিদ্র্যতম মঙ্গাপিড়িত বৃহত্তর কুড়িগ্রাম-রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবনের অর্থনীতির মানচিত্র।

রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি সাধারণ সম্পাদক শাহ আবদুল মোমেন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার শেরপুর, জামালপুর- রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভ্যবতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনের এ দাবি বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।


banner close