বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
২৪ পৌষ ১৪৩২

দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা

রোববার বগুড়া শহরের সাতমাথায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৫ আগস্ট, ২০২৪ ০০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৪ ২২:১৫

শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন

নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।

এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।

দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।

শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।

সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।

প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।

এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।

সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।

এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।

দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।

সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।

নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।

নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।

বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।

একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।


বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

আপডেটেড ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৯
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর সাপাহারে সিটবিহীন টিকিটে বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তর্কের জেরে এক বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে।

গত রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাপাহার সার্কেল অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে গত রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি বাসে ধানসুরা যাওয়ার পথে সহকারী পুলিশ সুপারের স্বামী কলেজশিক্ষক জয়ন্ত বর্মণের সঙ্গে বাসের চালক ও সুপারভাইজারের তর্ক হয়।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জয়ন্ত বর্মণ সিটবিহীন টিকিটে বাসে ওঠেন। দিঘার মোড় স্টপেজে পৌঁছালে সুপারভাইজার সিয়াম তাকে নির্দিষ্ট যাত্রীর সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন।

এ সময় তিনি নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে হুমকি দিতে শুরু করেন। পরে চালক বাদলের সঙ্গেও তার তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। ধানসুরায় নামার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে বাস থেকে নেমে যান তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, জয়ন্ত বর্মণ বাস থেকে নামার পর সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করে চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি দেওয়া হয়। যাত্রাপথে একাধিকবার ফোন আসায় বাসটি রাজশাহীতে পৌঁছাতে দেরি হয়।

রাত ১০টার দিকে বাসটি পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালক বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে সার্কেল অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে শ্যামলী রানী বর্মণ প্রথমে লাথি মারেন বলে অভিযোগ। এরপর তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণ ও দেহরক্ষী আনন্দ বর্মণ পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে বাদল জ্ঞান হারান।

অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন গত সোমবার রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন।

বাসচালক বাদল বলেন, ‘আমাকে অফিসে ডেকে শরীরের সংবেদনশীল জায়গায় মারধর করা হয়েছে। বডিগার্ডকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শ্রমিক বলেই কী আমরা মানুষ নই? আমি এর বিচার চাই।’

বাসযাত্রী ও স্কুলশিক্ষক নাসির বলেন, ‘একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে জয়ন্ত বর্মণের আচরণ ছিল অত্যন্ত অশোভন। সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে যে ভাষায় তিনি হুমকি দিয়েছেন, তা শাস্তিযোগ্য।’

রাজশাহী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সজীব বলেন, ‘স্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি খুব বাজে আচরণ করেছেন। বারবার হুমকি দিচ্ছিলেন।’

রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘আমাদের এক চালককে অফিসে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা দ্রুত তার প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা দাবি করছি। নইলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে ফোনে থাকা অবস্থায় ড্রাইভারের অসৌজন্যমূলক আচরণ আমি নিজে শুনেছি। রাতে ড্রাইভার ও সুপারভাইজারকে ডাকা হয়েছিল। ড্রাইভার এসে দুঃখ প্রকাশ করেছে। মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সার্কেল এসপি কাউকে মারধর করেছেন এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করা হবে।’


দাবি না মানলে কাল থেকে দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ বন্ধের আল্টিমেটাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কমিশন বৃদ্ধি এবং বিইআরসির একতরফা দাম ঘোষণা বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে সরকারকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ রাখা হবে। গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের বর্তমান সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিরসনের লক্ষ্যেই এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান দেশের এলপিজি খাতের নাজুক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে গ্যাসের তীব্র সংকট চললেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পরিবেশকদের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই নতুন মূল্য নির্ধারণ করছে। এর ফলে কোম্পানি, পরিবেশক ও ভোক্তা—সব পক্ষই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এছাড়া তিনি ভোক্তা অধিদপ্তরের অনভিজ্ঞ অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, বাজারে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বিইআরসি মাসে একবার দাম ঘোষণা করলেও কোম্পানিগুলো একাধিকবার দাম পরিবর্তন করে, যার পুরো দায়ভার ও আর্থিক ক্ষতি পরিবেশকদের বহন করতে হয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার থাকলেও রিফিল হচ্ছে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম। এই ঘাটতির কারণে পরিবেশকদের খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা দেউলিয়া হওয়ার পথে রয়েছেন।

এমতাবস্থায় নিষ্ক্রিয় সিলিন্ডারে ভর্তুকি প্রদান এবং প্রশাসনের হয়রানি বন্ধ করে একটি স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে নতুন মূল্য নির্ধারণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যথায় আগামীকাল থেকে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তে তারা অনড় থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


২৯ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ঢাকা-করাচি রুটে বিমানের ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-করাচি রুটে পুনরায় সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে এই রুটে বিমানের নিয়মিত চলাচল শুরু হবে বলে বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম। নতুন এই রুট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সহজ এবং যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক হবে বলে আশা প্রকাশ করছে দেশের জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে বিমান বাংলাদেশ এই রুটে সপ্তাহে দুইটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার এই ফ্লাইটগুলো ঢাকা ও করাচির মধ্যে যাতায়াত করবে। সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা থেকে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ছেড়ে গিয়ে করাচিতে পৌঁছাবে স্থানীয় সময় রাত ১১টায়। ফিরতি পথে করাচি থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২টায় রওয়ানা হয়ে ফ্লাইটটি ঢাকায় এসে পৌঁছাবে ভোর ৪টা ২০ মিনিটে।

বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করেই এই রুটটি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের ভ্রমণপিপাসু ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। উদ্বোধনী ফ্লাইটের প্রস্তুতি ও টিকিট বুকিং সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।


পিরোজপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় জেলা যুবদলের দোয়া মাহফিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি

বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় পিরোজপুর জেলা যুবদলের আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বুধবার ৭ জানুয়ারি পিরোজপুর টাউন ক্লাব মাঠে এই দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

‎পিরোজপুর জেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান তুষারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক মো: নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পিরোজপুর ১ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, বিএনপির ১ নং যুগ্ন আহবায়ক এলিজা জামান, পিরোজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শহীদুল্লাহ শহীদ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সালাম বাতেন, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন টিপু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এম এ জলিল, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক বৃন্দ সহ যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

‎বক্তারা তাদের বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার জীবনাদর্শন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং দেশমাতার মৃত্যুতে বিএনপির যে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হবার নয় বলে সকলে মন্তব্য করেন।

‎দোয়া অনুষ্ঠানের আগে মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্ররা টাউনক্লাব চত্বরে কোরআন খতম করেন।

দোয়া অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাইকে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়।


কক্সবাজার বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬ অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার বিমানবন্দরে আজ বুধবার (০৭ জানুয়ারি ২০২৬) এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্দেশিকা এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির (NCASP) বিধি অনুযায়ী প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি দুই বছরে অন্তত একবার এ ধরনের মহড়া আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। মূলত হাইজ্যাক বা বিমান ছিনতাই এবং বোমা হামলার মতো জরুরি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা যাচাই এবং পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বিশেষ মহড়ার আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই মহড়ায় একটি কাল্পনিক চিত্রপটের মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।

মহড়ার পরিকল্পিত দৃশ্যপটে দেখা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ‘ব্লু-ওয়েভ এয়ারওয়েজ’-এর একটি ফ্লাইট ১০ জন আরোহী নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। উড্ডয়নের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি বেনামী টেলিফোন আসে, যেখানে দাবি করা হয় যে বিমানের ভেতরে একটি শক্তিশালী বোমা রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে ‘ফুল এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেন বিমানবন্দর পরিচালক এবং জরুরি অপারেশন সেন্টার (EOC) সক্রিয় করা হয়। এরপর দ্রুততার সাথে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং মেডিকেল ইউনিটসহ সকল সংস্থাকে অবহিত করে একটি সমন্বিত উদ্ধার ও প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে সকল অংশগ্রহণকারী সংস্থাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের মহড়া কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতেই সাহায্য করে না, বরং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই মহড়ার মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। মহড়ার সফল সমাপ্তি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে লাগা আগুনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেদিন সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ সকল সংস্থার সঠিক সমন্বয়ের কারণে খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। আজকের এই মহড়াটি চলতি বছরে অনুষ্ঠব্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের তথ্য দিয়ে জানান যে, বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০,৭০০ ফুটে উন্নীতকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে এখানে বড় বড় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো ওঠানামা করতে পারবে, যা দেশের পর্যটন ও অর্থনৈতিক খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

উক্ত মহড়ায় বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান এবং সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবালসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা মহড়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই বর্ণাঢ্য নিরাপত্তা মহড়াটি প্রত্যক্ষ করতে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। সমাপ্তি ভাষণে বেবিচকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এবং সতর্কতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। মূলত নিরাপদ আকাশপথ এবং বিশ্বমানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল।


১৭ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১২ হাজার ৬৯৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে সংঘটিত দুর্ঘটনায় ১৩ হাজার ৪০৯ জন নিহত হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে শুধু সড়কপথেই প্রাণহানির সংখ্যা ১২ হাজার ৬৯৪ জন।

সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত প্রতিবেদন পাঠ ও সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সড়কে চরম নৈরাজ্য, আইন না মেনে যান চলাচল এবং অপরিকল্পিত পরিবহনব্যবস্থার কারণে ৫৭ হাজার ৭৯৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৫৮ হাজার ৪৯১ জন আহত হয়। এই সময়ে সড়কে নেমেছে প্রায় ২ লাখ মোটরসাইকেল এবং ৫ লাখের বেশি অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মোটরসাইকেল ও অবৈধ যান বড় ঝুঁকি: ঢাকাসহ সারা দেশে ১৩ হাজার ৮২৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৬৩৮ জন, আহত ১৩ হাজার ৮৩২ জন।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, করিমন ও পিকআপসহ উল্টোপথের যানবাহনে ২১ হাজার ৬৩১টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩ হাজার ৬৪৮ জন, আহত ২৩ হাজার ৬০৩ জন।

বাস ও ভারী যানেও প্রাণহানি: প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য, বিশ্রাম ছাড়া টানা ১২ থেকে ২০ ঘণ্টা গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে ১২ হাজার ৭৪৬টি বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৩ হাজার ৭৮৪ জন, আহত ১১ হাজার ৬৯৭ জন। ট্রাক ও লরিসহ ভারী যানবাহনে ৮ হাজার ৯৬৮টি দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৬২৪ জন, আহত ৯ হাজার ৩৫৯ জন। এদের বড় অংশই পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা।

রেল, নৌ ও আকাশপথের চিত্র: ১৭ মাসে, নৌপথে ২ হাজার ৫২টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৮৭ জন, আহত ১ হাজার ৭৫৪ জন, নিখোঁজ ৪৬ জন। রেলপথে ১ হাজার ১০৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ৪৯২ জন, আহত ১ হাজার ৭৬ জন।

আকাশপথে একটি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জন, আহত ১৭২ জন। এ ছাড়া বিমানবন্দরে কর্মরতদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৭ জন।

সেভ দ্য রোড জানায়, সড়কে ৪১১টি ডাকাতির ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫৭ জন, নিহত ২ জন।

এ ছাড়া ১৭ মাসে, নারী শ্লীলতাহানির ঘটনা ৮২৫টি, ধর্ষণের ঘটনা ১৫টি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ১৭ হাজার ৪১২টির বেশি। নৌপথে দায়িত্বে অবহেলার সুযোগে ২১৬টি ডাকাতির ঘটনায় আহত ১৮৮ জন ও নিহত একজন।

সেভ দ্য রোড সংগঠনটি নতুন দাবি না তুলে দীর্ঘদিনের ৭ দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস ঘোষণা, পাঠ্যবইয়ে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে চলাচলের নিয়ম অন্তর্ভুক্ত, তিন কিলোমিটার অন্তর পুলিশ বুথ স্থাপন, দুর্ঘটনায় নিহতদের ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন এবং ফিটনেসবিহীন যান নিষিদ্ধ।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান, প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী এবং মহাসচিব শান্তা ফারজানাসহ গবেষণা সেলের তত্ত্বাবধানে ১৭টি জাতীয় দৈনিক, ২০টি টিভি চ্যানেল ও ২২টি নিউজ পোর্টাল থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়।


গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি যোগসাজশ ও পরিকল্পিত কারসাজির ফল : জ্বালানি উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক সময়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের প্রাপ্যতা নিয়ে সংকটের যে অভিযোগ উঠেছে, তার পেছনে প্রকৃত কোনো সরবরাহ ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সাময়িক সংকট আমদানি বা উৎপাদনে কোনো ব্যর্থতার কারণে নয়; বরং পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের একটি অংশের যোগসাজশ ও পরিকল্পিত কারসাজির ফল। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশে এলপিজি ব্যবসার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। সরকারের সম্পৃক্ততা মাত্র প্রায় ২ শতাংশ, যেখানে প্রোপেন ও বিউটেন আমদানি করে বোতলজাত করা হয়।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)- এর সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়কে কেন্দ্র করে কিছু বেসরকারি অপারেটর ভোক্তাদের সুযোগ নিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।

উপদেষ্টা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছেন যে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এলপিজি বাজারে যে কোনো ধরনের কারসাজি রোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

ফাওজুল কবির খান বলেন, এলপিজির মূল্য নির্ধারণের নিয়ন্ত্রণ মূলত বিইআরসির হাতে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জ্বালানি সচিব ও বিইআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং পরে জ্বালানি সচিবের সঙ্গে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আলোচনা হয়।

উপদেষ্টার মতে, আগের মাসের তুলনায় এলপিজি আমদানি বেড়েছে, যার ফলে সরবরাহের কোনও প্রকৃত ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আমদানির দিক থেকে, সংকটের কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিইআরসির সাম্প্রতিক সমন্বয়ের পর কিছু অপারেটর উচ্চ মূল্যের প্রত্যাশায় সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ টাকার বেশি দামে সাম্প্রতিক বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভোক্তাদের শোষণ করছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি যোগসাজশের মাধ্যমে করা হয়েছে, এটি স্বাভাবিক বাজারচক্র নয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, মজুদদারি, জোরপূর্বক দোকান বন্ধ এবং কৃত্রিম সংকট রোধে জেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব জেলা প্রশাসনগুলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সর্বশেষ বৈঠকেও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর উপস্থিতিতে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের মনিটরিং টিম এলপিজি আমদানি ও বোতলজাতকরণের প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের তদারকি চলছে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি এটি একটি সাময়িক পরিস্থিতি এবং ধীরে ধীরে দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

আন্তর্জাতিক শিপিং নিয়ে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক শিপিংয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলতি মাসে এসব সমস্যার কোনো প্রভাব এলপিজি সরবরাহে পড়েনি। তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব নেই, তবে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি আমরা নজরে রাখছি।

উপদেষ্টা জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালিত মোবাইল কোর্টে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি যে সব আউটলেট ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্রি বন্ধ রেখেছিল, সেগুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিইআরসির ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই কমিশন গঠন করা হয়েছে। এটি একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া, যেখানে ক্রেতা, বিক্রেতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অংশগ্রহণ থাকে। সরকার ইচ্ছামতো হস্তক্ষেপ করতে চায় না, যোগ করেন তিনি।

সামগ্রিক গ্যাস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা পুনরায় জানান, দেশে পর্যাপ্ত দেশীয় গ্যাস উৎপাদন রয়েছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী- আগের চেয়েও বেশি পরিমাণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হচ্ছে।

শীতকালে গ্যাস পাইপলাইনে মৌসুমি চাপকে একটি কারিগরি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সরবরাহ ব্যর্থতার লক্ষণ নয়।


ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক যাত্রী ছাউনি থেকে অস্ত্র-বোমা উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের লালাবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে যাত্রী ছাউনির ভেতরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান ও ৫টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) র‍্যাব-৯ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লালাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে একটি যাত্রী ছাউনি তল্লাশি করে এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পাইপগান ও পেট্রোল বোমাগুলো নাশকতা ও সহিংস কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশে সেখানে মজুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার অস্ত্র ও বিস্ফোরক দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব-৯ জানিয়েছে, সিলেট বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান চলবে।


গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহর নিয়োগের মেয়াদ বাড়ল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপদেষ্টা হিসেবে মো. আহসান উল্লাহর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ থেকে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. আহসান উল্লাহ গত বছরের ৬ জানুয়ারি গভর্নরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনি ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেন এবং জ্যেষ্ঠতম নির্বাহী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

এরপর তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। আহসান উল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন, ঢাবির আইবিএ থেকে এমবিএ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

আহসান উল্লাহ সর্বদা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন; বাংলাদেশ ব্যাংকে অত্যন্ত দক্ষ কর্মকর্তা ছিলেন এবং মেধাভিত্তিক পদোন্নতি পেয়েছিলেন।


হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলন

ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে বিলম্বে উদ্বিগ্ন কৃষক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে মারাত্মক বিলম্বে উদ্বিগ্ন কৃষকদের পক্ষে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার দাস রায়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে হাওরে অনিয়ম ও অবহেলার কারণে কৃষকের ফসলহানির প্রতিবাদ থেকেই ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর জন্ম। জন্মলগ্ন থেকেই কৃষকের অধিকার, হাওরের ফসল ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সংগঠনটি রাজপথে সক্রিয় রয়েছে। কৃষকদের দাবি আদায়ে নিয়মিত আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আমরা কথা বলে আসছি।

তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। লোক দেখানো উদ্বোধনের প্রায় ২০ দিন পার হলেও অধিকাংশ উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি। নিয়ম রক্ষার পিআইসি অনুমোদন দেওয়া হলেও কার্যক্রম নেই।

তিনি জানান, শাল্লা, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই ও শান্তিগঞ্জসহ একাধিক উপজেলায় বহু পিআইসি এখনো কাজ শুরু করেনি। অনেক উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ পিআইসি গঠনও সম্পন্ন হয়নি। হালির, শনির, দেখার, কানলার, ছায়ার, উৎগল, মহালয়া, সোনামড়ল ও বরাম হাওরসহ অধিকাংশ হাওরে বাঁধ মেরামত ও ভাঙা বন্ধের কাজ শুরু হয়নি।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে জনগণের আদালত ও সরকারি আদালতে মামলা, পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একে কুদরতপাশা।

এতে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা কমিটির সহসভাপতি আলীনুর, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আনোয়ারুল হক, সদস্য ইসমাইল হোসেনসহ হাওর বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনে সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


পবিপ্রবির ব্যস্ততম সড়কে নেই গতিরোধক, ৪ শিক্ষার্থী আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পবিপ্রবি প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ব্যস্ততম রাস্তায় গতিরোধক না থাকায় বেপরোয়া মটর সাইকেল ও অটোরিকশা দুর্ঘটনায় চারজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ মুক্ত বাংলার সামনে সড়কে অটোরিকশা ও মটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশা উল্টে চারজন মেয়ে শিক্ষার্থী আহত হন। তারমধ্যে একজন শিক্ষার্থীর অবস্থা খুবই গুরুত্বর।

আহতের চারজনই পবিপ্রবির পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান অনুষদের ২০২৪–২৫ সেশনের শিক্ষার্থী। তারা হলেন- রিফা তাহসিন, মীম, নুজহাত ও দিয়া। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথকেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরবর্তীতে রিফা তাহসিন ও মীমের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে রিফা তাহসিনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। অপর দুই শিক্ষার্থী নুজহাত ও দিয়া পবিপ্রবি হেলথ কেয়ারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসুরক্ষিত ক্যাম্পাস নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায়। তারা দাবি করছেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের গাফলিতর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রাস্তা ৩ মাস আগে সংস্কারের কাজ শেষ হলেও এখনো দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় গতিরোধক।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। দোষী চালককে দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করতে হবে। ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগতদের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনীয় সকল জায়গায় গতিরোধক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবুল বাশার খান বলেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী হাতে পেলেই দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আজকের রাতের মধ্যেই যেসব স্থানে সড়ক মার্কিং প্রয়োজন, সেগুলো সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, মুক্ত বাংলা চত্বর পবিপ্রবি একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলচত্বর (চৌরাস্তা) হওয়ায় এটি খুবই ব্যস্ততম সড়ক। এর আগে দুটি গতিরোধক থাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল পরবর্তীতে সড়ক সংস্কার কাজে সেগুলো অপসারনের পর কয়েকবার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে মুক্ত বাংলা চত্বরের সামনে।


নেত্রকোনায় বাবার বিরুদ্ধে মেয়ের সংবাদ সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় জেলা প্রেসক্লাবে পিতৃপরিচয় ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে ভুক্তভোগী সন্তানের সংবাদ সম্মেলন করেন। ভুক্তভোগী সন্তান বলেন, আজ আমি আলফি শারিন আরিয়ানা, জন্ম ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০০ সাল। আমার বাবা আব্দুল আউয়াল হিমেল এবং মা মনিরা আহমেদ। এক বুক কষ্ট আর বঞ্চনার ইতিহাস নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ভুক্তভোগী সন্তান বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের সাথে আমাকে বলতে হচ্ছে যে, জন্মদাতা পিতা পাশে থাকা তো দূরের কথা, আজ তিনি সমাজের কাছে আমার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করছেন। এক মেয়ের তার বাবার কাছে প্রশ্ন কেন আমি আজ সমাজের কাছে অবহেলিত অবজ্ঞার পাত্র হলাম, আমার পরিচয় ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি বার বার। এ কেমন মনোভাব আমার পিতার এমন প্রশ্ন তুলে ধরেন সাংবাদিকদের কাছে।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে মা-বাবার বিবাহ বিচ্ছেদের পর আদালতের নির্দেশে আমাকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নামমাত্র ১০০০ টাকা করে ভরণপোষণ পাঠাতেন। এর পর আদালতের নির্দেশ ছিল তিনি আমার সকল দায়িত্ব নেবেন এবং আমি তার সাথেই থাকব। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় অনিয়মিতভাবে সামান্য কিছু টাকা পাঠিয়ে তিনি দায় সারার চেষ্টা করেছেন।

২০১৭ সালে আমার চোখে গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে আমি বাবার সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে যাই। কিন্তু সেখানে আমার দাদি মনোয়ারা বেগম এবং বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সারাবান তোহুরা ডালিয়া আমার সাথে অত্যন্ত জঘন্য আচরণ করেন এবং আমাকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন।

২০১৭ সালের ঐ ঘটনার পর থেকে তিনি আমার সাথে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করতে থাকেন যে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে (দ্বিতীয় সংসারের), অর্থাৎ তিনি আমার অস্তিত্ব পুরোপুরি অস্বীকার করতে শুরু করেন। বর্তমানে আমি তার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি আমার নম্বরগুলো ব্লক করে দেন। আমি বাধ্য হয়ে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তিনি তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি বারের জন্যও আদালতে হাজির হননি। উল্টো তিনি নেত্রকোনা আইনজীবী সমিতির সভাপতির ক্ষমতা অপব্যবহার করে মামলার কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছেন এবং আমার আইনজীবীকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি আদালতে মিথ্যাচার করছেন যে, আমার চোখের কোনো সমস্যাই হয়নি এবং আমি মিথ্যা অজুহাতে মামলা করেছি।


ফরিদপুরে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)-এর উদ্যোগে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বিইআইর প্রেসিডেন্ট এম হূমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জামায়াতে ইসলামের মনোনীত এমপি প্রার্থী প্রফেসর মো. আবদুত তাওয়াব, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ফরিদপুর সদর ৩ আসনের এমপি প্রার্থী রফিকুজ্জামান লায়েক সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ ও সহনশীলতা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মত প্রকাশ করেন এবং অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ণ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


banner close