শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন
নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।
এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।
দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।
শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।
সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।
প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।
এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।
মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।
এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।
দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।
সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।
একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ‘ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা, আপনারা কোন দল করেন আমি জানতে চাই না। কিন্তু আপনাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন জনগণের উপকারে আসে। আপনাদের পকেট যেন ভারি না হয়। তাহলে কিন্তু জেলে যেতে হবে, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। আপনারা যেন উন্নয়নের নামে লুটপাটে ব্যস্ত না হয়ে যান। ওই দিন শেষ হয়ে গেছে। এটা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। আমাদের নেতা তারেক রহমানের দলে এখানে লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই, দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি কাউকে করতে দেব না। পরিষ্কার কথা বলতে চাই।’
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন আসবে। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন। আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, আর সিলমারার নির্বাচন হবে না। সংসদ নির্বাচনে সেটা প্রমাণ হয়েছে। আমাকে কি সিল মেরে এমপি বানিয়েছেন? না ভোটে? আমাকে ভোটে বানিয়েছেন। অতএব, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভোটে হবে। কোনো সিল হবে না। তাই আপনাদের বলব, ভালো লোকদের নির্বাচিত করবেন। কোনো রকমের হুমকি-ধামকির নির্বাচন হবে না। আপনারা ভালো মানুষকে প্রত্যেকটি জায়গায় নির্বাচিত করবেন।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে দাঁড় করিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে এমন সমৃদ্ধ করেছিলেন যে বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানি শুরু হয়েছিল। তিনি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে এমন সম্মানিত জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে, তাকে চীন বীরোচিত সম্মান দিয়ে চীনে নিয়ে গিয়েছিল। চীন থেকে তিনি একা ফিরে আসেননি, স্বীকৃতি নিয়ে ফিরে এসেছিলেন।’
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল, মানুষ এবং কুকুর একসঙ্গে যখন খাবার খেত, মানুষ মারা গেলে কলাপাতা দিয়ে দাফন করা হতো, কাফনের কাপড় পাওয়া যেত না, সেই দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য তিনি কোরিয়াতে লোক পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ইরির আবাদ এনেছিলেন। এক বিঘা (৫৬ শতাংশ) জমিতে, প্রতি শতাংশ জমিতে এক মণ ধান উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সরকার আজ দেশের শাসক নয়, দেশের সেবক হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। দেশের সেবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিদ্যুতের চরম সংকটের সময় প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে এসি চালাননি, এসি চালাতে দেননি। আমাদের দপ্তরেও এসি চালাইনি, এসি চালাতে দেননি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনী জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৫টায় ফেনী শহরের ট্রাংক রোডস্থ ফেনী বড় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সূচনা করা হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক অবদান নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জিয়াউর রহমান এর জীবন নিয়ে আলোচনা করেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি, ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক, আনোয়ার পাটোয়ারী, ইয়াকুব নবী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, পৌর বিএনপির আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্য সচিব এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূইয়া, ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান পিপুলসহ বিএনপি ও এর অংগসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের ভিটিকান্দি এলাকায় লাশবাহী গাড়ির ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিটিকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চট্টগ্রামগামী লেনে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম আশরাফুল আলম ইমন (২৫)। তিনি ঢাকার মুগদা এলাকার শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে। তাদের পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর গ্রামে হলেও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পরিবার নিয়ে তারা মুগদা এলাকায় থাকতেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিটিকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় চট্টগ্রামগামী লেনে একটি লাশবাহী গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ইমন মারা যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আকন্দ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আমরা ঘাতক গাড়িটিকে আটক করেছি তবে চালক কৌশলে পালিয়ে গেছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একইসঙ্গে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন মোস্তাক মিয়া। তিনি বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। এটি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের অর্থ।” একই বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, “হাসনাত আবদুল্লাহও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “তারা বৈষম্যবিরোধী ও সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডে সেই সমন্বয়ের প্রতিফলন দেখা যায়নি।”
সরকারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মোস্তাক মিয়া বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সারা দেশের ন্যায় ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির কার্যালয়সহ উপজেলার সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। দুপুর দেড় টায় শিকারিটোলাস্থ বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে মডেল থানা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।
এছাড়া উপজেলার হযরতপুর, রোহিতপুর, কলাতিয়া, বাস্তাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও দুস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
এসময় কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আমরা যারা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুগামী- অনুসারী। আমাদের দায়িত্ব অন্য যে কোন দলের লোকের চাইতে বেশী। একটা দল স্বাধীনতা স্বাধীনতা করতেছে, কিন্তু স্বাধীনতার জন্য তেমন কিছুই করেনি। স্বাধীনতার ঘোষণাও দেয়নি। আরেকটা দল সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। অতএব বাংলাদেশে কোন দল যদি উন্নয়ন করতে পারে, তারাই পারবে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, ঘোষণা দিয়েছে। যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেনি। তাই দেশের উন্নয়নে আমাদেরকেই সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।
পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেছেন।
দাগনভূঞা আতাতুর্ক মিজান মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা যুবদলের নেতা নাসির উদ্দীন খোন্দকার সহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
সভা পরিচালনা করেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির বাবু। সভা শেষে প্রায় ৫ হাজার গরীব-দুঃস্থ লোকের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকাসক্ত দুই নাতীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ভৈরব রেলওয়ের থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে
নিহত বৃদ্ধ নারী কুলিয়ারচর উপজেলার খরকমারা এলাকার মৃত জিল্লু মিয়ার স্ত্রী মুর্তুজা বেগম (৬৫)। আজ শনিবার বেলা দুপুরের দিকে কুলিয়ারচরে খরকমারা রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম মিল্লাত হোসেনের বাড়িতে বসবাস করছিলেন মর্তুজা বেগম। তিনি মেয়ে ও তিন নাতীদের নিয়ে থাকেন। মর্তুজা বেগম দীর্ঘদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। নিহতের মেয়ে জাহানারা বেগম (৩৮) ও তার দুই ছেলে রাকিব মিয়া (১৮) ও সাকিব মিয়া (১৫) টাকার জন্য প্রায় সময় তাকে অত্যাচার করত । ২৯ মে রাতেও টাকার জন্য মাদকাসক্ত দুই নাতী তাকে মারধর করেছে। এদিকে নানী নাতীদের ঝগড়া ও হট্টগোলে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী নিহত মর্তুজা বেগম ও তারা নাতীদের বাড়ি ছেড়ে দিতে চাপ দিতে থাকে। এরই জেরে অসহায় নারী মর্তুজা বেগম কোন সুরাহা না পেয়ে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার রেলওয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এবিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক জহুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের নিহতের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে জানতে পারি বৃদ্ধের ভিক্ষার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাদকসেবন করতো দুই নাতী। যদি না দিতো তাহলে তাকে মারধোর করতো। এই ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা জানা যাবে বলে তিনি জানান।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বাধীনতার ঘোষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে শোক যাত্রা কালো ব্যাজ ধারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত সহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার (৩০ মে) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীর নেতৃত্বে একটি শোক যাত্রা বের হয়। শোক যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। যাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক উন্মোচিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তরের সামনে সমবেত হয়।
পরে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রনায়কের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদ ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুন নাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি ও এস্টেট অফিস প্রধান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সিনিয়র অফিসার মাসুদুল হক তালুকদার, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ বাবুল, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক মো. আব্দুল মজিদ, জনসংযোগ দপ্তর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাহেদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
এসময় অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সংকটময় সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।”
অডিয়ো বার্তার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। কর্মকর্তাদের পক্ষে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজুল ইসলাম রিপু ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ইউনিট ইবির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর সুবিধাজনক সময়ে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা-সহ আরও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি ইতিহাস ও একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল অর্থনৈতিক সততা। এ ধরনের সৎ রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্রনায়ক এ দেশে খুব কমই এসেছেন।
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা সদরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফজলুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের দ্বিতীয় বড় গুণ ছিল প্রশাসনিক দক্ষতা এবং তৃতীয় গুণ ছিল তাঁর দূরদর্শিতা। তিনি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারতেন। তবে মানুষের প্রতি অতিরিক্ত আস্থাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। মানুষের ওপর বিশ্বাস রেখেই তিনি স্বল্প নিরাপত্তায় চলাফেরা করতেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসের মূল্য জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সংকটময় সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ওই ঘোষণা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ এবং ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, সামরিক কর্মকর্তা হয়েও জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে রাজনৈতিক দল গঠন ও নির্বাচনী রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এ কারণে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় সততা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন , জিয়াউর রহমানের মতো নেতৃত্ব দেশের জন্য একটি আদর্শ উদাহরণ।
সভায় ফজলুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. মনির উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জুয়েল।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন।
দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তিন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল এবং পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে। এই সময়ে ঢাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার এবং সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং আগামীকাল রোববার সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে।
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একটি অননুমোদিত রুটির কারখানা বা বেকারির সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতাল ভবনের ভেতরে এমন কারখানার উপস্থিতি এবং সেখানকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটিতে কোনো ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াই দুটি বড় ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে ওই বেকারিটি চালানো হতো। কারখানার ভেতরে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা পাওয়া গেছে যা অত্যন্ত অনুচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বেকারিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকে ক্ষতিকারক কোনো গ্যাস নির্গত হয়েছিল কি না, এখন তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত কমিটির সদস্য সংখ্যা আরও তিন জন বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী ৩ জুন এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি হাসপাতালের দুজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের কাছ থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পেয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাতে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ ও চালু করাকে কেন্দ্র করে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ডটিতে ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক ভর্তি ছিল। রাতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লাগায় একজন মা নার্সকে এসি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখার পর পুনরায় তা চালু করা হলে, মুহূর্তের মধ্যেই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি এবং বুধবার সকালে ছয় নবজাতকেরই মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে গত বুধবার (২৭ মে) রাতে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ছয় নবজাতকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী এক নবজাতকের পরিবার।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানের মতো টেবিলে বসে আমাদের স্বাধীনতা আসেনি। সৎ ও সাহসী জাতি বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় অলংকার হলো সততা। আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নিপীড়নে গৃহহীন হয়ে মাসের পর মাস কাটিয়েছেন অনেকে। বহু নেতাকর্মী জেলে ছিলেন। তাই দলের অভ্যন্তরীণ সব ভেদাভেদ ভুলে জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী জেলা বিএনপি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ এমপি, দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন এমপি এবং নজরুল ইসলাম মণ্ডল এমপি