সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২

দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা

রোববার বগুড়া শহরের সাতমাথায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৫ আগস্ট, ২০২৪ ০০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৪ ২২:১৫

শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন

নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।

এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।

দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।

শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।

সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।

প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।

এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।

সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।

এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।

দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।

সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।

নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।

নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।

বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।

একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।


মেডিকেল কলেজে শহীদ মনিরের নামে হলের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে শহীদ মনির হোসেনের নামে একটি হলের নামকরণসহ তার পরিবারের পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম, রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. হারুন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ চালুর প্রাক্কালে জেএসএসের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের হামলায় মনির হোসেন নির্মমভাবে নিহত হন। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি এবং মনিরের পরিবার সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি।

সমাবেশে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা বিস্তার, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন সময় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়ও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

পিসিসিপি নেতারা অবিলম্বে শহীদ মনির হোসেনের নামে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের একটি হলের নামকরণ, তার পরিবারকে পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরি প্রদান, একই ঘটনায় আহত জামাল হোসেনকে ক্ষতিপূরণ এবং মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।


ডিএনসিসি নাগরিক পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি, ৫ প্রতিষ্ঠান

রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত গতকাল ডিএনসিসি নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজসেবা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বছর আটটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমাজের তিন ব্যক্তি এবং পাঁচটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে এই সম্মানজনক পদকে ভূষিত করা হয়।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আব্দুর রশিদ সোহাগ, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে শ্রুতি রানী দে এবং অ্যাডভোকেসিতে নাগরিক নেতা হাওয়া বেগম।

এছাড়া পদকপ্রাপ্ত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- স্যোশাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণে আপলিফট বাংলাদেশ, পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাষানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সামাজিক সংগঠন হিসেবে উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি, প্রাণী সুরক্ষায় ফাউন্ডেশন এবং সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ডিএসসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্টজন।

নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের মাধ্যমে যারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে।


জামালপুরে শিক্ষার্থী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয়রা। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার নারিকেলী এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থী ও গহেরপাড়া এলাকার স্থানীয়রা। অবরোধ চলাকালে নিহত জিহাদের মা তাহমিনা আক্তার শোভা, বড় ভাই অনন্ত, চাচাতো ভাই সাকিসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বক্তারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পূর্ব পরিকল্পিভাবে গহেরপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মুন্না, আবুল কাশেম, সাঈদসহ ৪ থেকে ৫ জন জিহাদকে মারধর ও ধারালো চাকু দিয়ে হত্যা করে।

এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা অবিলম্বে সকল আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অবরোধের কারণে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধের খবর পেয়ে সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, মামলার প্রধান আসামিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে স্বাভাবিক হয় যানবাহন চলাচল।

উল্লেখ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গহেরপাড়া এলাকায় স্থানীয় ফিরোজ মিয়ার ছেলে জিহাদকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত জিহাদের বাবা ফিরোজ মিয়া ৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


মধুপুরে দুস্থ অসহায় শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে অসহায় দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ। ছবি দৈনিক বাংলা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মধুপুর ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে দুস্থ অসহায় শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনী শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে মধুপুরে স্থাপিত বিএডিসি ক্যাম্পের মাঠে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পাহাড়িয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতের মধ্যে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র পেয়ে সুবিধাভোগীরা খুশি বলে জানিয়েছে।

বিতরণকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনায় ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার ও এরিয়া কমান্ডার ঘাটাইল এরিয়া মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ দরিদ্র অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্বোধন করেন।

সেনাবাহিনীর প্রেস বিজ্ঞাপিতে জানিয়েছে, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শীত মৌসুমে অসহায় ও দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও ঘাটাইল অঞ্চলের সেনাসদস্যরা।

ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ১৯ পদাতিক এ ধরনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে বলে আশাব্যক্ত করেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং। এ সময় সদর দপ্তর ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমাদ উদ্দিন আহমেদ, এসপিপি, পিএসসিসহ ঘাটাইল অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মধুপুরের কাকরাইদ সেনাক্যাম্পে শীতবস্ত্র নিতে আসা গাছাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রাবেয়া (৪০) জানান, তাদের এলাকায় কিছু দিন যাবত প্রচণ্ড শীত। এ সময়ে সেনাবাহিনীর এ শীতবস্ত্র পেয়ে সে খুব খুশি। শীত নিবারণে তার কাজে লাগবে।

জলছত্র গ্রামের বৃদ্ধ সুমতি দাস (৬০) বলেন, ‘এ শীতের মধ্যে কম্বলসহ প্যাকেজ উপহার পেয়ে সহায়তা পেয়ে সে আনন্দিত। সে ভাবতেই পারেনি, সেনাবাহিনীর কম্বল পাবে। তার বাড়ির পাশের মেম্বার একটি টিকেট দিছে, সেটা নিয়ে কাকারাইদ সেনাক্যাম্পে আসতে বলছে, এসে সে কম্বলসহ অন্যান্য শীতের বস্ত্র পেয়েছে।’

রামকৃষ্ণবাড়ি গ্রামের আজাহার আলী (৬০) জানান, তার বাড়ি কাকরাইদের পাশের গ্রামে। সে একটি স্লিপ পেয়ে এসেছে। এসে শীতের মধ্যে শীতবস্ত্র পেয়েছে। এ জন্য তিনি অনেক খুশি বৃদ্ধকালে এ সহায়তা পেয়ে আনন্দিত বলে জানালেন তিনি।

শুধু রাবেয়া, সুমতি আর আজাহারই নয় এমন প্রায় দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা সেনাবাহিনীর দেওয়া শীতবস্ত্র পেয়েছে বলে জানা গেছে। অরণখোলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, ‘তার এলাকাসহ আশপাশের এলাকা গ্রামের মানুষদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অংশ নিতে পেরে সে খুশি। শীতের সময় দরিদ্র অসহায় মানুষরা শীতবস্ত্র পেয়ে খুশি তেমনি সে নিজেও খুশি হয়ে।


দেবীগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন      

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি       

চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। সরিষার হলুদ ফুলে ভরে ওঠেছে একরের পর একর জমি। কোথাও খেতের পরিচর্যা করছেন কৃষকরা। আবার কোথাও দল বেঁধে সবাই দেখতে আসছেন সরিষার খেত। বিস্তীর্ণ উপজেলায়জুড়ে হলুদ ফুলের সমাহার। মৌমাছির আনাগোনায় ভরে উঠেছে সব খেত।

বোরো লাগানোর আগে কম খরচে এই অর্থকারী ফসল আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তারা। এই কৃষকদের দেখে আশপাশের অন্যান্য কৃষকরাও সরিষার আবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। সরিষা আবাদে খরচ কম এবং একই জমিতে বোরো চাষে খরচ কম লাগে। আমন ও ইরি বোরোর মাঝের উৎপাদনকারী ফসল সরিষা। তাই কৃষক এটি চাষে বেশি ঝুঁকছেন।

উপজেলার লক্ষীর হাট এলাকার কৃষক জানান, আমরা এবার সরকারিভাবে সরিষার বীজ পেয়েছি। আবাদ ভালোই হবে মনে হয়।

এবারে উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২০২৫-২৬ অর্থবছর এ সরিষার আবাদ- ৩,৮১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে।

এদিকে রোগবালাই ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যার ফলে দেবীগঞ্জ উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাঈম মোর্শদ জানান, তিনটি জাত সরিষার রোপণ করা হয় এ বছরে বারি সরিষা, বিনা সরিষা, স্থানীয় সরিষা টরি, আবহাওয়া ভালো রয়েছে, মাঠপর্যায়ে রোগবালাইয়ের আক্রমণ না থাকায় ফলন বাম্পার হবে বলে আশাবাদী ৪,০০০ কৃষককে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এখানকার সরিষা থেকে তেলের পাশাপাশি মধু উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ভোজ্যতেল ও মধুর চাহিদা পূরণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


নোয়াখালীতে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় স্ত্রীসহ চোরচক্রের প্রধান গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালী সুপার মার্কেটে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় কুমিল্লা থেকে স্ত্রীসহ আন্তজেলা চোর চক্রের প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। একই ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে তাদের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তারসহ চোরাই সোয়া নয় ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আন্তজেলা স্বর্ণচোরচক্রের মূলহোতা মো. মোর্শেদ ওরফে মোশারফ, তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার ও মো. আলাউদ্দিন ওরফে পিচ্চি আলাউদ্দিন (২৬)। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই চোরদের শনাক্ত ও চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধারে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপনে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে পুলিশ। সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত শনিবার সকালে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর ভাঙা সড়কে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে আন্তজেলা চোরচক্রের মূলহোতা মোর্শেদ ও তার স্ত্রী শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে পিচ্চি আলাউদ্দিনকে তার বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বসতঘর থেকে তিন ভরি ৫ আনা ২ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে চট্রগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানা এলাকার বড় দিঘীর পাড় এলাকায় শিল্পীর বাসা তল্লাশি করে ৫ ভরি ১৫ আনা ৭ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।’

পুলিশ সুপার আরও জানান, অনুসন্ধানে আসামি মোর্শেদ মহসিন ওরফে মোশারফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আগের আটটি মামলা এবং পিচ্চি আলাউদ্দিনের নামে সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের সঠিক কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সুপার এ.টি.এম মোশারফ হোসেন আরও বলেন, ‘আটকদের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মীর মোশাররফ হোসেনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো করা হয়েছে। মোরশেদ ও পিচ্চি আলাউদ্দিন আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


মাগুরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, মাগুরার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির, মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওযার্দী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আলফাজ উদ্দিন, মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কাজী শামছুজ্জামান ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল কাদের, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা এস এম শান্তনু চৌধুরী, জেলা নির্বাচন অফিসার ফারাজী বেনজির আহম্মদ, মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মদ, জেলা জামায়াতের আমীর এমবি বাকের মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, মাগুরার পিপি সাখাওয়াত হোসেন, জিপি এড মঞ্জুরুল হাসান, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

বক্তারা সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে কোন প্রতিবন্ধকতা বা যড়যন্ত্র কোন অবস্থাতেই হতে দেওয়া হবে না বলেন, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান সতর্ক করেন সকলকে। সভায় বিশেষ করে আগামী নির্বাচনকে গুরুত্ব এনে জেলার কোথাও কোন সন্ত্রাস, নাশকতা না হয় তার জন্য মাগুরা পুলিশ ব্যাপকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়। এ সময় যানজট, আত্মহত্যা, ইভটিজিং, শিশুধর্ষণ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাগুরা পুলিশ মাগুরার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মাগুরার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিকভাবে দ্বায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।


ঝিনাইদহে নারী খেলোয়াড় ও সংগঠকদের সংবর্ধনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ঝিনাইদহে নারী খেলোয়াড় ও সংগঠকদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিজম কুমার সরকার সিভিল সার্জন, ডা. কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, ক্রীড়া অফিসার আমানুল্লাহ আহমেদসহ ক্রীড়া সংস্থার নেতরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নারী ক্রিকেট দলে ডাক পাওয়া জোয়ারিয়া ফেরদৌস জয়িতা, হকি দলে ডাক পাওয়া রিয়া আক্তার, জাতীয় কাবাডি যশোর যোনের চ্যাম্পিয়ন, আন্তজেলা বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ ও অনূর্ধ্ব -২৩ ভলিবলে কৃতিত্ব রাখায় মোটর ৪০ জন নারী খেলোয়াড় ও সংগঠককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সেসময় বক্তারা বলেন, নারীদের খেলাধুলায় আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারবে। নারী ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধিত খেলোয়াড় ও সংগঠকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।


সিংড়ায় ৮৩ বছরের পুরনো মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে ইসলামি জালসা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৮৩ বছর ধরে চলে আসা এই উৎসবটি রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকেই শালমারা গ্রামের কয়েকটি পুকুর ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাছ ধরা উৎসবে অংশ নিতে গ্রামের শত শত মানুষ পুকুরে নেমে পড়েন। নৌকা, কলাগাছের ভেলা ও জাল ব্যবহার করে সৌখিন শিকারিরা সকাল থেকে মাছ ধরতে থাকেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি পুকুরে মাছ ধরার আনন্দে মেতে উঠেছেন অংশগ্রহণকারীরা। উৎসবকে ঘিরে শুধু গ্রামবাসীই নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীরা পুকুরপাড়ে ভিড় জমান।

উৎসবে অংশ নেওয়া শিকারিদের অনেকেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করেন। পানিতে জাল টানার সময় হইহুল্লোড়, হাসি-আনন্দ আর উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বড় মাছ শিকার করতে পারা শিকারিদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের স্পষ্ট ছাপ।

মাছ শিকারিরা জানান, মাছ পাওয়া এখানে মুখ্য বিষয় নয়। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবে অংশ নেওয়া এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

গ্রামবাসীদের মতে, এই মাছ ধরা উৎসব শালমারা গ্রামের ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মাছ ধরা উৎসবে আসা সাকিব নামে একজন বলেন, ‘প্রতি বছর এই আয়োজন করা হয় । আমরা দেখতে আসি। মাছ ধরা দেখতে খুব ভালো লাগে। দেখে মনে হয় বাঙালির চিরচেনা সেই ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। শিকারিদের অনেকেই রুই, কাতলা, চিতল, ফলি, তেলাপিয়া, বিভিন্ন জাতের কার্প মাছসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছ ধরেন। উৎসবে কেউ অনেক মাছ ধরতে পারলেও কিছু মাছ শিকারি তেমন একটা মাছ পায়নি। তবে যারা বড় আকারের মাছ শিকার করেছেন তাদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের ছাপ।

সৌখিন মাছ শিকারি কাহার আলী বলেন, ‘মাছ ধরতে আমার ভালো লাগে। আজ অনেক মাছ পেয়েছি। তাই খুশি একটু বেশিই। তবে মাছ শিকারিরা বলেন, মাছ পাওয়া বড় বিষয় নয়; এখানে অংশ নিয়েছি এটাই আনন্দের ছিল।’

শালমারা গ্রামের মোতালেব জানায়, এবছর ৮৩তম শালমারা দাখিল মাদ্রাসার ইসলামী জালসা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জালসার একদিন আগে গ্রামবাসী এ মাছ ধরার আয়োজন করে থাকে। সে দিক দিয়ে প্রায় ৮৩ বছর ধরে মাছ ধরার এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে গ্রামবাসী।

মাছ শিকারী জয়নাল আবেদীন জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে থেকে কলাগাছ কেটে ভেলা তৈরী করে রেখেছিলাম মাছ ধরার জন্য। জালসার আগের দিন মাছ ধরার এই উৎসবে আমরা বাড়তি আনন্দ উপভোগ করি।

চলনবিল পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি এস.এম রাজু আহমেদ বলেন, এই মাছ ধরা উৎসব আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে একই সঙ্গে পরিবেশ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধবভাবে এ ধরনের উৎসব আয়োজন করা হলে ঐতিহ্য রক্ষা যেমন হবে, তেমনি চলনবিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে মানববন্ধন

সড়ক-রেলপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহরের কাউতলি মোড় এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষজন অংশ নেন।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির আহমেদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এ. বি. এম. মুছা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ হাফিজ উল্লাহ, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখপাত্র আরিফ বিল্লাহ, মো: সাবের হোসেন, তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভূঁইয়া প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও বৈধ গ্রাহকরা পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলছে। শীত মৌসুম শুরুর পর থেকে সংকট আরও বেড়েছে। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস সরবরাহ হচ্ছের দেশের বিভিন্ন স্থানে। অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কার্যালয়, সড়ক-রেলপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন দে ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।


নবীনগরে প্রবাস ফেরত সাজিদের সাফল্য, কৃষিতে সফল উদ্যোক্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ এখন কৃষিতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত মুখ। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে অল্প সময়েই তিনি ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। তার এই সাফল্য স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, কয়েক বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে নিজ গ্রামের আহমেদ সিটি গার্ডেন এলাকার অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষিকাজ শুরু করেন সাজিদ। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি।

কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা পান সাজিদ। পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে মালচিং, ড্রিপ ইরিগেশন এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এতে উৎপাদন খরচ কমে আসে এবং ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আহমেদ সিটি গার্ডেনের পতিত জমি পরিষ্কারের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আবাদকৃত ৪০ শতাংশ জমিতে বর্তমানে করলা উত্তোলন চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কেজি করলা উত্তোলন করা হয়েছে। বাজারে করলার পাইকারি মূল্য কেজি প্রতি ৬০ টাকা হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার টাকার করলা বিক্রি হয়েছে।

সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আনুমানিক দেড় থেকে ২ টন করলা বিক্রি করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রবাস থেকে দেশে ফিরে স্থায়ী ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে কৃষিকেই সবচেয়ে নিরাপদ মনে হয়েছে।” চলতি মৌসুমে তিনি আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনার কথাও জানান।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান বলেন, সাজিদের খামার থেকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহ হচ্ছে। এতে তার আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সাফল্য প্রমাণ করে—যথাযথ উদ্যোগ, পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কৃষিই হতে পারে লাভজনক ও টেকসই পেশা।” তিনি আরও বলেন, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য সাজিদের এই অর্জন একটি বাস্তব উদাহরণ।

প্রবাস ফেরত সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজকে কৃষিমুখী হওয়ার একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।


মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা মেঘনায় ট্রলারডুবি, চার জেলে নিখোঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার মধ্যবর্তী মেঘনা নদীতে একটি জেলে ট্রলার ডুবে চার জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ট্রলারে থাকা পাঁচজনের মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারলেও বাকি চারজনের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন,মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পালপাড়া গ্রামের শাহীন মীর (১৭), আরিফ হোসেন (১৯), শাহীন (১৭) ও নয়ন (১৯)।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলে শামিম হোসেন দিদার (২৫) জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৪টার দিকে হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের বাথুয়ারচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সাজাহান দিদারের ছেলে।

দিদার বলেন,পাঁচজন মিলে একটি ছোট ট্রলারে করে রাতে মাছ ধরতে যাই। জাল পেতে ট্রলার নোঙর করে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ভোররাতে হঠাৎ বিকট শব্দ ও ধাক্কায় ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রলার উল্টে আমরা সবাই নদীতে ছিটকে পড়ি। সবাই তীরে ওঠার চেষ্টা করি। অন্য জেলেদের সহায়তায় আমি উঠতে পারলেও বাকিরা আর উঠতে পারেনি।

তিনি ধারণা করেন, কোনো লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যেতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা বলতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ মৃধা জানান, রাতেই একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চার জেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

নৌ-পুলিশের কালীগঞ্জ স্টেশনের ইনচার্জ মো. এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন এলাকায় পড়েছে।

বরিশাল হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার জানান, ঘটনার পরদিন দুপুরে তিনি বিষয়টি অবগত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নৌ-পুলিশকে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা জোরদার, অস্ত্র–মাদক উদ্ধারসহ এক মাসে গ্রেপ্তার ১,৩৮২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপরতা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। গত এক মাসে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে দেশি ও বিদেশি পিস্তল, এলজি, পাইপগান, শটগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রামদা, কিরিচ, ছুরি ও চাপাতির মতো দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, দেশি ও বিদেশি মদ, মাদকজাত ইনজেকশন, ফ্রাফ সিরাপ এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

পুলিশের তথ্যমতে, এক মাসে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮৫ জন, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানে আটক ৪২৬ জন, নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ৭৫০ জন এবং ডাকাতি মামলায় আটক ২১ জন। সব মিলিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জনে।

ডাকাতি প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে ৪টি পিকআপ ও ১টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে ডাকাতির মাধ্যমে লুণ্ঠিত ৫ দশমিক ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ফেনী জেলা থেকে ডাকাতি হওয়া ৮টি গরু উদ্ধার করা হয়।

নগরীতে চুরি ও ছিনতাই রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ হিসেবে কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে দিন-রাত তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি ও চুরি-ছিনতাই দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে চেকপোস্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।


banner close