শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন
নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।
এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।
দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।
শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।
সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।
প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।
এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।
মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।
এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।
দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।
সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।
একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
পরিবেশ রক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের এক অভিনব উদ্যোগ সর্বত্র ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে। কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এবং অষ্টগ্রাম থানার পক্ষ থেকে ‘বৃক্ষ ও বই’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরষ্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (০৮ জুন) দপুরে উপজেলার আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় এ বই বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি। যে সকল ছাত্র-ছাত্রী নিজ উদ্যোগে অন্তত ৫টি করে গাছ রোপণ ও সেগুলোর পরিচর্যা করেছে, তাদের সেই পরিবেশবান্ধব কাজের উপহারস্বরূপ ২টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া বইগুলো ছিল পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জ এর নিজের রচিত। তাঁর এই অনন্য উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত। পুলিশের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গাছ লাগানোর মতো একটি ভালো কাজের জন্য সরাসরি পুলিশ সুপারের লেখা বই উপহার পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও অনুপ্রেরণার।
অভিভাবকরা বলেন, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশ রক্ষা করবে, অন্যদিকে বই পড়ার মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে। তারা বলেন, পুলিশের এই মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়।
এসময় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুকনুজ্জামান, অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ, আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলেই পুলিশ সুপারের এই ‘বৃক্ষ ও বই’ মডেলটি জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
কুমিল্লা-টু-কোম্পানীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যার পূর্বে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংসনগর বাজার সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের হামলায় কয়েকজন যাত্রী আহত হন এবং নগদ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আশু ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের একটি হাইএস (Hiace) মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে এসে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের বাসটির গতিরোধ করে। এ সময় বাসের চালক সুজন ও হেলপার সাওন গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যাত্রীরা চালককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, “কংসনগর বাজারে আয়।”
পরে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বাসটি কংসনগর বাজারে পৌঁছালে হাইএস মাইক্রোবাসে থাকা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাসে উঠে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা যাত্রীদের মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা মোট ৫১ হাজার ৩০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসারের কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার পরনের জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করা হয়। ঘটনার পর ডাকাতরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার সময় আমরা হাইওয়ে ডিউটির কাজে দেবপুর ফাঁড়িতে ছিলাম। অভিযোগ বা মামলা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দলের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং উপজেলার উত্তর ভারেল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম সিং গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সাকিল মিয়ার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকার সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা মামলা করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যাত্রীরা রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের শাসনগাছা কাউন্টারে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন শহরের প্রধান একটি উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় টানা আট দিন পুরো শহরজুড়ে তীব্র লোডশেডিং চলছিল। বর্তমানে নতুন ট্রান্সফরমারটি সচল হওয়ায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকটা কমে এসেছে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সাধারণ গ্রাহক এবং ছুটিতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, কলাতলী বাইপাস সড়কের উপকেন্দ্রে ১০/১৩ এমভিএ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই একই উপকেন্দ্রে ১৬/২০ এমভিএ ক্ষমতার অধিক শক্তিশালী একটি নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এই ইউনিটটি পুরোদমে চালু হওয়ায় শহরের বিদ্যুৎ ঘাটতি এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং বিতরণ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে।
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এমন ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তীব্র গরমের মধ্যে এসি ও লিফট বন্ধ থাকায় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের দাবি অনুযায়ী, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় এবং সেবার মান বিঘ্নিত হওয়ায় অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বর্তমানে লোডশেডিং প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং তা এখন দিনে এক থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এই বিশেষ ট্রান্সফরমারটি স্থাপনের প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং। পর্যটন শহরের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২৯ মে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৪০ মেট্রিক টন ওজনের এই বিশালাকার ট্রান্সফরমারটি আনা হয়। এটি উপকেন্দ্রে নিতে সড়ক বিভাগের সহায়তায় ডিভাইডারের অংশ অপসারণ করতে হয়েছিল। এরপর প্রকৌশলী ও কারিগরি দলের কয়েক দিনের নিরলস পরিশ্রমে ওয়েল সেন্ট্রিফিউজিং, কমিশনিং ও সুরক্ষা পরীক্ষা শেষে গত শুক্রবার বিকেলে এটি চালু করা হয়। ওই সময় প্রচণ্ড তাপদাহ ও পর্যটকের আধিক্যের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী জানিয়েছেন, বর্তমানে শহরে বিদ্যুতের কোনো সুনির্দিষ্ট ঘাটতি নেই। তবে জেলা শহরে মাত্র একটি গ্রিড উপকেন্দ্র থাকায় সঞ্চালন লাইনে কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। পর্যটকদের সুবিধার্থে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, নতুন এই ট্রান্সফরমার স্থাপনের ফলে নিকট ভবিষ্যতে শহরে বড় ধরনের কোনো লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯ লাখ ২ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ৬ ও ৭ জুন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দামুড়হুদার বড়বলদিয়া, সুলতানপুর ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মালামাল আটক করে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটককৃত অবৈধ মালামালের মধ্যে রয়েছে ৯ দশমিক ৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ১৯ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৫ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট, ১ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ১৪ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ১টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সকল ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কেএমপি উত্তর ও দক্ষিণ এবং গোয়েন্দা বিভাগ(ডিবি) পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য চিৎড়ি বাবুর সহযোগি কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩৯ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাজী রাফসান মাহমুদ চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে- খুলনা মহানগর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সার্বিক নির্দেশনায় মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জুন সন্ধ্যা ৬ টা হতে আজ রোববার (৭ জুন) সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩৯ জন কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে খুলনা থানা ৯ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা ৫ জন, লবণচরা থানা ১ জন, হরিণটানা থানা ৬ জন, খালিশপুর থানা ৪ জন, দৌলতপুর থানা ২ জন, আড়ংঘাটা থানা ৭ জন এবং খানজাহান আলী থানা ৫ জন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযানে সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের চিৎড়ি বাবুর সহযোগি এবং খুলনা সদর থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলার আসামি কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থ(৩০), ১০ জন মাদক কারবারি এবং ১ জন চোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কেএমপি।
গ্রেফতাকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ সকল প্রকার অপরাধ দমন এবং শান্তিপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযুদ্ধ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই গ্যালারির পারদ চড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। আর এই ফুটবল উন্মাদনার মধ্যেই মৌলভীবাজারের রাজনগরে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও চটকদার ঘটনা! চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের 'আঁঁতুড়ঘর' ছেড়ে চিরশত্রু আর্জেন্টিনার শিবিরে যোগ দিয়েছেন ইমরান খান নামের এক যুবক। আর এই ঐতিহাসিক দলবদলকে স্মরণীয় করে রাখতে তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা!
শনিবার (৬ জুন) রাজনগর উপজেলায় ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস গ্রুপ অব মৌলভীবাজার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়।
ছোটবেলা থেকেই হলুদ জার্সি আর সাম্বার জাদুতে মজেছিলেন ইমরান খান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেলেসাওদের একের পর এক ভরাডুবি আর নিতে পারছিলেন না তিনি। দল পরিবর্তনের পর আবেগাপ্লুত ইমরান জানান, "কোপা আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ কোথাও ব্রাজিল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে বুকভরা আশা নিয়ে বসি, আর দিনশেষে হতাশ হয়ে ফিরি। আর কত সহ্য করব? তাই এবার সব হতাশা ঝেড়ে ফেলে চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে নাম লেখালাম।"
শনিবার সকাল থেকেই রাজনগরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেক কেটে আর্জেন্টিনা দলের শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি চলে ইমরানকে বরণের প্রস্তুতি। শত শত সমর্থকের উপস্থিতিতে ড্রাম আর বাদ্যযন্ত্রের তালে ইমরানকে দুধ ঢেলে গোসল করানো হয়। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দাবি, "ব্রাজিল সমর্থন করার যে দুঃখ বা কষ্ট ছিল, দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে তা ধুয়ে-মুছে তাকে খাঁটি আর্জেন্টাইন বানানো হলো।"
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে রাজনগরের ফুটবলপ্রেমীদের সাথে শামিল হয়েছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার,
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া, ইউপি চেয়ারম্যান জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম বকুল। আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নাচ-গান, ভুভুজেলা আর রঙ-বেরঙের পতাকায় পুরো রাজনগর যেন রূপ নেয় এক টুকরো বুয়েনস আইরেসে।
‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস গ্রুপ অব মৌলভীবাজার’-এর অ্যাডমিন ফুয়াদ আহমদ মুরাদ বলেন, "বিশ্বকাপের আগে আমাদের উন্মাদনা তো ছিলই, তবে একজন ব্রাজিল সমর্থকের আমাদের শিবিরে চলে আসা এবং তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নেওয়ার ঘটনাটি পুরো আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।"
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ। কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, তা জানা যাবে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে। তবে মাঠের খেলা শুরুর আগেই রাজনগরের এই দুধ-গোসলের গল্প যে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা 'টক অব দ্য কান্ট্রি' হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য!
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের বৈতরণী ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় একটি ব্রীজ কয়েক বছর ধরে হেলে পড়ে থাকলেও নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ব্রীজটি পারাপার করছেন কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে প্রবল বর্ষণে ছড়া থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোতে পাশাপাশি থাকা দুটি ব্রীজ সাঙ্গু নদীর দিকে হেলে পড়ে। এরপর স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে ব্রীজের উপর পশ্চিম পাশে ঢালায় করে অস্থায়ীভাবে ছোট যানবাহন চলাচলের উপযোগী করলেও ব্রীজটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজালিয়া–পুরানগড়–শীলঘাটা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই শতাধিক যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি সহস্রাধিক মানুষ ও শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে। তবে ব্রীজটি হেলে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ছোট আকারের ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, “এলাকার কৃষকেরা সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। আগে ট্রাকে করে সহজেই এসব পণ্য বাজারে পাঠানো যেত। কিন্তু ব্রীজ হেলে পড়ার কারণে ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ছোট যানবাহনে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়েছে। দ্রুত নতুন ব্রীজ নির্মাণ না হলে কৃষকেরা আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন।”
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মুহাম্মদ ফিরোজ আলম বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ধোপাছড়ি ও শীলঘাটার দিকে বেকারির পণ্য পরিবহন করি। হেলে পড়া ব্রীজ পার হওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। মনে হয়, বুঝি ব্রীজসহ গাড়িটি সাঙ্গু নদীতে পড়ে যাবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।”
আরেক অটোরিকশাচালক আবদুল জলিল বলেন, “নিয়মিত এই সড়কে গাড়ি চালাই। ব্রীজের ওপর উঠলেই বুক কেঁপে ওঠে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ব্রীজ পার হতে হয়। এটি আমাদের জন্য চরম দুর্ভোগ। দ্রুত নতুন ব্রীজ নির্মাণ করে চরম ভোগান্তি থেকে স্থানীয়দের মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা হেলে পড়া ব্রীজটি অপসারণ করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, “গত বছর নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারসহ ব্রীজটি পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংকসহ দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২২০ গ্রাম গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গতকাল (৬ জুন) উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন, নওগাঁ গ্রামের সেরাজ প্রামাণিকের ছেলে শরিফুল ইসলাম খবির (৩৭), মৃত আবেদ আলীর ছেলে মামুন সরদার (৩৩), নজরুল প্রামাণিকের ছেলে এসার প্রামাণিক (২৪), রুহুল আমিনের ছেলে তুষার খন্দকার (২৫), ও উল্লাপাড়া উপজেলার আইলের উপর গ্রামের মৃত সাত্তার মোল্লার ছেলে জিয়াউর রহমান (৩৬),
অভিযান সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক কেনাবেচার সময় হাতেনাতে এই ৫ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় সিরাজগঞ্জের "ক" সার্কেলের উপ-পরিদর্শক মো: আছাদুল হক বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা রুজু করেছেন।
তাড়াশ থানা পুলিশ জানায়, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৬ জনের হদিস মিলছে না।
গেল রাতের কোন এক সময় তাদেরকে সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় বিএসএফ না বাংলাদেশের বিজিবি তাদেরকে সরিয়ে নিয়েছে তা নিয়ে তৈরী হয়েছে এক প্রকার ধুয়াশা।
জানা গেছে, শনিভার ভোরে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ৬ জনকে প্রতিরোধ করে বিজিবি। বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইন অপচেষ্ট ব্যর্থ হয়েছে। ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ৬ জন ভারতে ফিরে যেতে না পেরে অবস্থান নেয় কাটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় ভূখণ্ডে।
দুই পরিবারের ৬ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১ জন শিশু ছিল। সীমান্ত মাঠে পাট ক্ষেতের পাশে তারা শনিবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে। বিজিজি ও গ্রামবাসী তাদের জন্য শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করে। কিন্তু ভারতীয় বিএসএফ কাটাতারের বেড়া পেরিয়ে তাদের কোন খোঁজ নেয়নি। এ নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ পতাক বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। নিরুপায় হয়ে তারা মাঠের মধ্যেই রাত যাপনে বাধ্য হয়।
জানা গেছে, সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বিজিবির সাথে পাহারা করে গ্রামের লোকজন। এর পরে রাত তিনটার দিকে ৬ জননে আরও পাওয়া যানি। তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে না ভারতে ফেরত গেছে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়ার সহকারি পরিচালক নুরুল হুদা জানান, রাত ৩টার পর থেকে তাদেরকে আর সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে- বিএসএফ তাদেরকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান ও এজাহারনামীয় পলাতক আসামি জনি গাজী (২৯)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানি।
গতকাল শনিবার (০৬ জুন ) রাত ৮টার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন কাঁঠালতলা বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জনি গাজী ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা মো. আতিয়ার গাজীর ছেলে।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত জনি গাজী ও নিহত বিথি আক্তার সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। গত (০৫ মে ২০২৬ ) পারিবারিক কলহের জেরে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জনি গাজী ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা পেট্রোল বিথি আক্তারের গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিথির চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ডুমুরিয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিথি আক্তার মৃত্যুবরণ করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা অপুর গাজী বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘাতক স্বামী জনি গাজী লোকচক্ষুর অন্তরালে পালিয়ে ছিল। গতকাল শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল কাঁঠালতলা বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেপ্তারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নেতৃত্বে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। গত চার দিনে অভিযানে ১৮৪ জন অপরাধী আটক হলেও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ ওঠেছে, বিশেষ অভিযানের আগাম খবর কোনোভাবে বাইরে চলে যাওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। ফলে তালিকাভুক্ত মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে মূল হোতারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় খুলনার রাজনীতিবিদ ও নাগরিক নেতাদের মনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তালিকাবদ্ধ সন্ত্রাসীদের আত্মগোপন ও জনমনে প্রশ্ন: একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যৌথবাহিনী কখন, কোথায়, কোন সময়ে অভিযান চালাবে তার আগাম তথ্য অপরাধীদের হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু করা এই অভিযানের ফলাফল আশানুরূপ হচ্ছে না। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক বিক্রেতারা বীরদর্পে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
কেএমপির সূত্র অনুযায়ী, গত ৩ জুন থেকে খুলনায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮৪ জন অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে ২৪ ঘণ্টায় খুলনার বিভিন্ন স্থান থেকে ৬২ জন, দ্বিতীয় দিনে ৫৯ জন এবং তৃতীয় দিন শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা থেকে শনিবার (৬ জুন) দুপুর পর্যন্ত ৬৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিযানকালে মদ, গাঁজা, ইয়াবার মতো মাদক কারবারি, ছিঁচকে চোরসহ ছোটখাটো অপরাধীরা ধরা পড়েছে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ‘কসাই লিটন’ ও ‘আজম খান’ ধরা পড়লেও তারা কোনো বড় বাহিনীর প্রধান নন। এদের বাইরে কোনো বড় অপরাধী বা অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বড় অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকঢোল পিটিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করায় অভিযানের আগাম খবর সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে তাদের আত্মগোপনে চলে যাওয়া খুবই সহজ হচ্ছে। নগরীর ময়লাপোতা এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অভিযান চালাচ্ছেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানে বড় ধরনের সন্ত্রাসী আটক হওয়ার খবর আমরা পাইনি। নগরের বিভিন্ন অলিগলিতে প্রতিদিন মাদকের হাট বসে। অভিযান শুরু হলে তাদের দেখা যায় না। কিন্তু অভিযান শেষ করে যৌথ বাহিনী চলে যাওয়ার সাথে সাথে তারা পুনরায় আবারও পয়েন্টগুলোতে এসে মাদক বিক্রি করে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তারা অভিযানের আগাম খবর পায় এবং গ্রেপ্তার হয় না কেন?
একই চিত্র দেখা গেছে শেখপাড়া চামড়া পট্টিতেও। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। ওখানকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তিন পুরিয়া গাঁজাসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে সেখান থেকে। কিন্তু যারা মূল সাপ্লাইয়ার এবং গডফাদার, তারা সবসময় অধরাই থেকে যায়। অভিযানের আগাম খবর পেয়ে মাদক কারবারিরা স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায় এবং রাত সাড়ে ৯টার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা আবারও কার্যক্রম শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন চেম্বার পরিচালক ও ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশেষ অভিযানের মধ্যেও শহরে খুন-খারাবি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। বড় বড় অপরাধীরা অভিযানের আগাম খবর পেয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের আগাম খবর পাওয়া খুবই উদ্বেগের।’
পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য: সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার থেকে পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৮৪ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে সন্ত্রাসী লিটন, রিফাত, আজম খান, রাব্বিসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা এসে খুলনায় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে চলে যাচ্ছে। সেগুলো প্রতিহত করার জন্য শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অনেক সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বের হচ্ছে, তাদের ওপরও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শহরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও থেকে গোলাগুলি, চাঁদাবাজি ও অপহরণের তথ্য আসে। খুলনা শহরটি এখন আতঙ্কের শহরে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের দমনে খুলনায় পুলিশের আরও বেশি তৎপর হওয়া প্রয়োজন।’
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা পুলিশের কাছে আছে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নামে পুলিশ এখন চুনোপুঁটিদের ধরছে, যেটা এক ধরনের আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। রাঘববোয়ালদের ধরা এবং অস্ত্রবাজদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’
খুলনা মহানগর পুলিশের অপরাধ শাখার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ২২ মাসে শুধু নগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় ৮৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরাসরি জড়িত। এই প্রেক্ষাপটে থানাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। মহানগরীর আটটি থানায় তৈরি করা এই নতুন তালিকায় বর্তমানে ১৮১ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় লাগা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রহস্যের আভাস পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, সন্দেহজনক কিছু বিষয় নজরে আসায় শনিবার (৬ জুন) কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএলের কর্মীসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার (৫ জুন) রাতে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় এই আগুন লাগে এবং কুরিয়ার সার্ভিসের বেশ কিছু মালপত্র পুড়ে যায়। যে কনটেইনারে আগুন লেগেছে, সেখানকার পণ্যগুলো রোববার (৭ জুন) নিলামে ওঠার কথা ছিল।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগুনের ঘটনা তদন্তে এভসেক পরিচালককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তারা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তের প্রয়োজনে যখন যাকে প্রয়োজন তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবে। কাল (রোববার) তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর আগেও ডিএইচএলের মালপত্র রাখার স্থানে আগুন লেগেছিল। পরপর দুই বার তাদের মালপত্র পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে ডিএইচএলের একজন কর্মী অবস্থান করছিলেন। তিনি সেখানে মশারি টাঙিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুন লাগার পরও প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিট তিনি শান্তভাবে আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরে ফোন করে বিষয়টি অন্যদের জানান, যা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এর আগে, গত বছরের ১৮ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সময় উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন আনসার বাহিনীর ২৫ সদস্যসহ মোট ৩৫ জন।
ইতালি ও জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। এই চক্রটি এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই কৌশলে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শনিবার (৬ জুন) মিরপুরে র্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. এজাজুল হক রতন (৬৩), মোছা. নার্গিস বেগম (৪০) ও মো. বাদল (৫৫)।
র্যাব জানায়, গাজীপুরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তি র্যাবের কাছে অভিযোগ করেন যে, তিনি মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এ ঘটনায় তিনি ডিএমপির শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৪ এর একটি দল গত শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি বলেন, ‘এই চক্রের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন এমন আরও কয়েকটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।’