মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা

রোববার বগুড়া শহরের সাতমাথায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৫ আগস্ট, ২০২৪ ০০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৪ ২২:১৫

শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন

নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।

এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।

দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।

শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।

সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।

প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।

এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।

সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।

এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।

দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।

সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।

নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।

নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।

বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।

একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।


সাতকানিয়ায় মুখোশধারীদের হামলায় যুবক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় মুহাম্মদ শাহাদাত (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সোমবার ভোররাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহাদাত উপজেলার উত্তর ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মৃত মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের ছেলে। সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে সাতকানিয়া মডেল মসজিদের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন শাহাদাত। এ সময় হঠাৎ দুই থেকে চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী সেখানে এসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সন্ত্রাসীদের ধরার চেষ্টা করলে তারা অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাদাতকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই রাস্তার মাথায় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিল। হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে তার ওপর হামলা চালায়। তারা আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

সাতকানিয়া থানার ওসি মঞ্জুরুল হক আরও বলেন, ‘রাস্তার মাথায় এক যুবককে কয়েকজন মুখোশধারী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। আমরা এখনো এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


সাতক্ষীরায় নারীর মুখ ও মাথা থেতলে হত্যা ছিনতাইকারীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত বিথীকা সাধু (৫০) সাতক্ষীরা শহরের বউবাজার এলাকার মৃত. বিশ্বনাথ সাধুর স্ত্রী। তিনি বউবাজারের একজন মুদি দোকানী।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, বিথীকা সাধুর সাতক্ষীরা শহরের বউবাজারে একটি মুদি দোকান রয়েছে। প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরে আসলেও কিন্তু গতকাল রাতে বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে একশো গজ দূরে পুকুরের ভেতর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছে, এলাকায় মাদকসেবীদের উৎপাত রয়েছে। বিথীকা সাধুর গলায় স্বর্ণের চেইন ও কানে দুল ছিল, সেটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে মাদকসেবীরা ছিনতাইকালে তাদের চিনে ফেলায় বিথীকা সাধুকে হত্যা করা হয়েছে। ভারী বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখ থেতলে দিয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা থানা পুলিশের একটি টিম। অপরাধী শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ চলছে জানিয়েছে থানা পুলিশ।


পটুয়াখালীর গলাচিপায় শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুত্রসন্তানের জন্ম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীর বাড়িতে শ্বশুর কর্তৃক পুত্রবধূ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বশুর রুস্তম গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জি আর মামলা নম্বর ৪২/২৬।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে পুত্রবধূ মোসা. শারমিন বেগমকে তার শ্বশুর রুস্তম গাজী জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতেও তিনি একাধিকবার পুত্রবধূকে ধর্ষণ করেন। এতে শারমিন বেগম গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

‎পরবর্তীতে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গলাচিপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ লাইফ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

‎ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সন্তান জন্মের পরদিন সকালে ৫ নম্বর আসামি লিপি বেগমসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজন নবজাতক শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

‎এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান জানান, আমরা ভিকটিমের বক্তব্য ও এজাহার অনুযায়ী মূল ধর্ষককে গ্রেপ্তার করি এবং ভিকটিমের বাচ্চা অপহরণের সাথে জড়িত মূল হোতা এবং এর সাথে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করি। তার দেওয়া তথ্যমতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চা উদ্ধার করি। তাদের আমরা এখন জেলহাজতে প্রেরণ করতেছি। মামলাটি তদন্তাধীন আছে, তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের জমি বিক্রির অভিযোগ, কেশবপুরে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে প্রতারণার মাধ্যমে শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের জমি বিক্রির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাদের সৎ ভাই আমিনুর রহমান মুকুল এবং চাচতো ভাই ইকবাল হোসেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) কেশবপুর নিউজক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, তার পিতা মৃত. গোলাম আজিজের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তার সৎ ভাই মো. আরিফুর রহমান সবুজ ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জমি বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, বগা মৌজার ২০১ নম্বর খতিয়ানের ২৫৭ নম্বর দাগের ৩৮ শতক জমির মধ্যে ১০ শতক জমি গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কেশবপুর রেজিস্ট্রি অফিসে এনে তার শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ভাই কুদ্দুসুর রহমান ও বোন নারগিস নাহারকে ভুল বুঝিয়ে সোহাগ মোড়লের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বিক্রিত জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি সম্পূর্ণ টাকা আরিফুর রহমান তার স্ত্রী হাসিনা বেগম আত্মসাৎ করে ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এর আগেও আরিফুর রহমান সবুজ একই কৌশলে বগা, রেজাকাটি ও পাটকেলঘাটা মৌজার প্রায় ১ বিঘা ৩৪ শতক পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী ভাই-বোনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। যার মধ্যে রয়েছে ২টি আংটি, ১টি ব্রেসলেট ও ১ জোড়া কানের দুল—মোট ওজন প্রায় ১ ভরি ১১ আনা, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এসব স্বর্ণালঙ্কার ১ লাখ টাকার বিনিময়ে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার একটি জুয়েলার্সে বন্ধক রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আমিনুর রহমান মুকুল অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তার সৎ ভাই আরিফুর রহমান সবুজ প্রতিবন্ধী ভাই-বোনকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলে তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি যশোর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কেশবপুর থানা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভুক্তভোগীদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে আরিফুর রহমান সবুজের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে আরিফুর রহমান বলেন ঘটনা সত্য ঘটনাগুলো আমার মা ঘটিয়েছে।


অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ, দিশেহারা আদমদীঘির ব্যবসায়ীরা

আপডেটেড ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:২৮
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রাম বাজারে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত টোল রেটের চাট লিস্ট টাঙিয়ে দেওয়া হয়নি কৌশলে সরকার নির্ধারিত মূল্যর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করায় বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে গিয়ে ইজারাদার ও তার লোকজন জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করার পরও পণ্য বিক্রির সময় বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে তালিকা প্রকাশ না করাই নির্ধারিত রেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইজারাদারের লোকজনের হাতে বিভিন্ন লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারি অনুমোদিত টোল চার্ট (ছবিতে প্রদর্শিত) অনুযায়ী খাট প্রতি ৩০ টাকা, আলনা বা চেয়ার প্রতি ৫ টাকা এবং সোফা সেট প্রতি ৩০ টাকা টোল নির্ধারিত।

কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি, এই তালিকার তোয়াক্কা না করে ক্ষেত্রবিশেষে ৫ থেকে ২০ গুণ বেশি খাজনা আদায় করা হচ্ছে।

এই জুলুমের প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তারা ইজারাদারের লোকজনের অসদাচরণ এবং বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইজারাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য প্রদান করেননি।

আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ‘ব্যবসায়ীদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি টোল চার্টের বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


গৌরবের ৬৬ বছরে পদার্পণ পাবনা প্রেস ক্লাব: তিন দিনের বর্ণাঢ্য উৎসব শুরু ১ মে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 পাবনা প্রতিনিধি 

গৌরব ও ঐতিহ্যের ৬৬ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংবাদকর্মী সংগঠন পাবনা প্রেস ক্লাব। এই দীর্ঘ পথচলার স্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণকে উদযাপন করতে আগামী ১ মে থেকে ৩ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।

পাবনা প্রেস ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় কেক কাটা ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হবে। প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই উদ্বোধনী পর্বে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুধীজনরা উপস্থিত থাকবেন।

আয়োজনকে ঘিরে সাজানো হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ২ মে শনিবার সকাল ১০টায় পাবনা প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে বের করা হবে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রীতি সম্মেলন। একই দিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সাদিয়া সুলতানা লিজা ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী মুহিন খানসহ বিশিষ্ট শিল্পীবৃন্দ। সমাপনী দিন ৩ মে রবিবার সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সদস্যদের পরিবারের মিলনমেলা, র‍্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার।

আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় আরও রয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান) মো. সায়েদ বিন আবদুল্লাহ, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম বিশু, জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ।

পাবনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, ১৯৬১ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা এই ক্লাবটি আজ জেলার সাংবাদিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে এই আনন্দ উৎসবে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।


গোয়ালন্দে অসময়ে পদ্মার ভাঙন, বিলীন হচ্ছে কৃষিজমি-বসতভিটা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি ও মুন্সিবাজার এলাকায় অসমে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এতে করে নির্ঘুম রাত ও আতঙ্কে পদ্মা পাড়ের মানুষের দিন কাটছে। অসময়ে নদী ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।

স্থানীয়রা বলেন, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলা হলেও ততক্ষণে নদীগর্ভে হারিয়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি। এভাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকা মানচিত্র থেকেই মুছে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখনই নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে আমরা যারা এখানে বসবাস করি আমাদেরও চলে যেতে হবে যেভাবে অসময়ে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এদিকে বহু আলোচিত দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীতীর রক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও প্রায় সাত বছরেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে দেবগ্রাম ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের ভাঙন সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সাম্প্রতিক ভাঙনে প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ঘর, কবরস্থান, বাজার, ঈদগাহসহ কয়েকশ বসত বাড়ি ঘর। এ সময় ভাঙন দেখতে নদীর তীরে ভিড় করছেন স্থানীয়রা, তবে তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার ছাপ দেখা গেছে। তাদের একটাই দাবি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পদ্মার ভাঙন রোধ করে বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুলহাস সরদার ও কুদ্দুস সরদার জানান, আমার বাপের ১শত বিঘা জমি ছিলো। যা ছিলো নদীতে বিলীন হতে হতে এখন মাত্র আমাদের ছয় ভাইয়ের ছয় বিঘা আবাদি জমি আছে। এই এক বিঘা জমি দিয়েই সংসার চলে। ছেলে ও মেয়ে কে ভরণ পোষণ করি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খবির সরদার, লোকমান সরদার জানান , গত কয়েকদিনে নদী ভাঙ্গনে কাউয়াল জানি ও মুন্সিবাজার এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ ফুট এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় তিন কাঠা ধানের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলি জমিও হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় নদীগর্ভে চলে যাবে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, “অসময়ের এই ভাঙনে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি আরো বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে কাজ করা হবে।


মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের ছবি ভাইরাল বৈছাআ নেতার, থানায় জিডি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ক্যাম্পাস জুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ছবিকে ‘বন্ধুদের সঙ্গে অভিনয়’ বলে দাবি করেন সেই নেতা।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩৬ দিনে খু'নি হাসিনা ভারতে পালিয়েছিল, ৩৬ ঘন্টাও লাগবেনা লন্ডনে পালাতে” ক্যাপশনে মুবাশ্বির আমিনের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উক্ত ভিডিয়োর কমেন্টে ওই ছবি শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ। এতে ইবির বৈবিছাআ'র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের মুখে একটি মাদক সেবনের দ্রব্য, হাতে লাইটার ও কাগজ দেখা যায়।

ছবির ক্যাপশনে হাফিজ লেখেন,‘খাওয়া শেষে বেচে থাকিস, বহুত হিসাব দেওয়া লাগবে। তুই আর তোর বাপের পালানোর সুযোগ নাই এইটুকু মাথায় ঢুকায়ে রাখ, কত হুমকি দেওয়া লোক তুই বুঝতে পারবিনি’

এনিয়ে ইবি থানায় জিডি করেছেন ওই ছাত্র নেতা। জিডির সূত্রে, বিবাদীগণ অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল ২৬ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার শাহ আজিজুর রহমান হলে অবস্থানকালে লক্ষ করি যে ১নং বিবাদী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি Md Mehedi Hasan Hafiz, যাহার লিংক-https://www.facebook.com/mdmehedihasan.hafiz/about থেকে আমার নামে বিভিন্ন ধরনের কুটুক্তিমূলক কথাবার্তা সহ প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি যে, ৩নং বিবাদী শাহিন আলম তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি, Shahin Alam, যাহার লিংক-https://www.facebook.com/shahun.alam-375745/about থেকে আমার নানা রকম অপ্রচার সহ হুমকী প্রদান করে পোস্ট করেছে। ২নং বিবাদী সাব্বির খান তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি Md Sabbir Khan, যাহার লিংক- https://www.facebook.com/Khansabbiro1/about থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে কমেন্ট করেছে। বর্তমানে আমি বিবাদীদের ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুবাশ্বির আমিন বলেন, “২০২৩ সালের শেষের দিকে সেকেন্ড ইয়ারে পড়াকালীন শহীদ জিয়া হলে একটি অভিনয়ের দৃশ্য থেকে তোলা ছবিকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এটি কোনো মাদকসংক্রান্ত বিষয় নয় বরং র‍্যাগিং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে করা একটি অভিনয় ছিল। অতীতে এ ছবি দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দিব। থানায় একটা জিডি করেছি। বাকিটা তারা দেখবেন।”

জিডি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, “ওই শিক্ষার্থী জিডি করে গেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্মকতার অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে দেখব। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”


কিশোরগঞ্জে দোকান নিয়ে দ্বন্দ্ব: ঘরে ঢুকে রঙমিস্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বসতঘরে ঢুকে এক রঙমিস্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ভাতিজার বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত নিহতের নিজ বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম মিয়া (৪০) কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রঙমিস্ত্রী ছিলেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিংকন হোসাইন (৩৫) একই এলাকার সুলতানের ছেলে এবং নিহতের সম্পর্কে ভাতিজা। ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার সামনে একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শামীম ও লিংকনের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার সকালে শামীম ওই দোকানের ভাড়াটিয়া মো. রাকিব চৌধুরীর কাছে মালিকানা দাবি করে ভাড়া চান। পরে ভাড়াটিয়া বিষয়টি লিংকনকে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি নিয়ে শামীমের ঘরে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা শামীমকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পূর্বাচলে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়নগঞ্জে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। একই দিন দুপুরের দিকে ৩০০ ফিটের জলসিঁড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-কলেজছাত্র রিফাত হাসান (১৯) ও সাব্বির আহমেদ (১৮)।

নিহত রিফাত হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শেকেরকান্দী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে এবং সাব্বির আহমেদ একই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে। তারা স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কের জলসিঁড়ি চত্বরে ঢাকাগামী বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো ল ৬৮-৩৭৩৬) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর ঢাকাগামী প্রাইভেটকারকে (ঢাকা মেট্রো গ ১৬-০৬৩৬) পেছন থেকে ধাক্কা দিলে দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু রিফাত হাসান ও সাব্বির আহমেদ ছিটকে সড়কের উপর পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সর্বশেষ সন্ধ্যার দিকে রিফাত হাসান এবং রাত সোয়া ৭টার দিকে সাব্বির আহমেদ মারা যায়। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

কাঞ্চন হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, এদিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


বিদ্যুতের তার ছিড়ে মরে গেছে অর্ধকোটি টাকার মাছ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি 

কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের শৈবাল মৎস্য প্রকল্পে বিদ্যুতের খুটি থেকে তার ছিড়ে পড়ে শর্ট সার্কিটে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকার মাছ মরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, উপজেলার রায়পুরে অবস্থিত শৈবাল মৎস্য প্রকল্প। এই প্রকল্পের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইনের একটি খুটি থেকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার ছিড়ে পানিতে পড়ে। এতে ২০-২৫ মন মাছ মরে যায়। মার্চ মাসের ১৯ তারিখে একই ঘটনায় প্রায় ২০০ মন মাছ মরে যায়। সবশেষ সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে তার ছিড়ে পড়লে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০মন মাছ মারা যায়। এসকল মাছের বাজার মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও প্রজেক্টের বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা গেছে। পঁচা মাছে দুগন্ধ ছড়িয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রজেক্টের বিভিন্নস্থানে রুই, কারফু, কাতল, গ্লাসকাপ, মৃগেল, সিলভার ও বিগেট প্রজাতির মাছ মরে ভেসে আছে। কিছু মাছ মরে পঁচে গেছে। কিছু আবার অর্ধমৃত অবস্থায় পরে আছে। আশেপাশে মরা মাছে দুগন্ধ ছড়াচ্ছে। আর তার উপর দিয়ে চলেগেছে বিদ্যুতের লাইন। রয়েছে পুরাতন খুটি।

শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের ম্যানেজার মহিউদ্দীন আলম বলেন, গভীররাতে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়লে পুরো প্রজেক্টের মাছ লাফালাফি শুরু করে। পরে বিদ্যু অফিসকে জানালে লাইন অফ করে। এই ১৫-২০ মিনিট সময়ের মধ্যেই অনেক মাছ মরে গেছে। প্রজেক্টের চারিপাশে মাছ মরে ভেসে উঠছে ।

শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, এই নিয়ে তিনবার বিদ্যুতের খুটি থেকে তার ছিড়ে আমার মাছের প্রজেক্টের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাছ মরে গেছে। বিদ্যুৎ অফিসকে জানালে তার লাগিয়ে যায়। কিন্তু ২৫/৩০ বছরের পুরাতন তার ও জরাজীর্ণ খুটিগুলো পরিবর্তন করা হয়না। যার কারনে বার বার তার ছিড়ে পড়ে আর প্রজেক্টের মাছ মরে যায়। আমার এত বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। আমার এই ক্ষতি পূরণ এখন কে দিবে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর ডিজিএম মো. জিহাদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে লোক পাঠিয়েছি। এবং মেরামত করি। পুরাতন খুটি স্থানে নতুন খুটি বসানোর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, প্রজেক্টের উপর দিয়ে যাওয়া খুটির উপরে চিল, ঈগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি মাছ শিকার করার জন্য বসে। তখন দুটি তারের শর্ট সার্কিট ঘটে এবং একটি তার নিচে পড়ে যায়। তখনই মাছ মরে যায়। আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের টেকনিকেল টিম ঘটনাস্থলে আছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


মেহেরপুরে পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩

আপডেটেড ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৮
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনীতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে৷ ভাঙচুর করা হয়েছে সখের ব‍্যাবহৃত মোটরসাইকেল ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে৷

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত ফজলু শাহ-র ছেলে জীবনের কাছে টাকা পায় ওই গ্রামের রবি৷

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে রবি তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে জীবনের সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়৷

এসময় জীবন ও শীলন দুই ভাই রবির উপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে৷ এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রবির পক্ষের লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়ে জীবনের মোটরসাইকেল ও ঘরের আসবাব পত্র ভাঙচুর করে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে পুলিশ৷

এতে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে৷ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়৷

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে৷ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷


বিএনপি নেতার সঙ্গে মারামারি করা সেই শিক্ষিকা সাময়িক বরখাস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মারামারির ঘটনায় আলোচিত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে দুর্গাপুরে উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিদর্শন শেষে রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় মোহা. আছাদুজ্জামান বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাকে সামায়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার, কলেজ শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার সঙ্গে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে পড়ে। সেটি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।


banner close