শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন
নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।
এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।
দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।
শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।
সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।
প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।
এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।
মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।
এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।
দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।
সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।
একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াকে একটি আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, বগুড়াকে দেশের অন্যতম ‘শিক্ষা হাব’ হিসেবে রূপান্তর করার লক্ষ্যেই বর্তমানে সরকারের উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন সঠিকভাবে পাঠদান নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
বিগত সময়ে উত্তরবঙ্গের শিক্ষা বিস্তারে সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মহাস্থানের অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী উথলী উচ্চ বিদ্যালয়, মোকামতলা মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন।
এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম। মূলত বগুড়ার সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো বৃদ্ধিতে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের কথা এই সফরের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘোরাঘুরি ও জনসম্মুখে মাতলামির দায়ে তিনজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সৈয়দপুর থানা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সৈয়দপুর উপজেলার হাতাখানা এলাকার মৃত তোফাজ্জলের ছেলে মো. সুমন (৩৬), মাককুর ছেলে মো. জুম্মন (৩০) এবং আব্দুল মতিনের ছেলে মো. মুন্না (২৪)। এর মধ্যে মো. সুমনকে চার মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মো. জুম্মন ও মো. মুন্নাকে এক মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা করে জরিমানা প্রদান করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে এলাকায় নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ আসছিল। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন,“রেলওয়ে স্টেশনসহ জনবহুল এলাকায় মাদকসেবীদের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধপ্রবণতা কমাতে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।”
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) আওতাধীন সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯০ মিটার ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে কামারখন্দ উপজেলায় ভদ্রঘাট ইউনিয়নে চরনূরনগর গ্রামে ফুলজোড় নদীর উপরে ব্রীজটি ভিক্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।
জানা যায়, পল্লী সড়ক গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প -২ আওতায় ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। কাজটি ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজটি পটুয়াখালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একেএ এবং এসভিএমসি জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সিরাজগঞ্জ থেকে নূরনগর গ্রামে ২৯০.৩০ মিটার ব্রীজ ও উভয় পাশে সংযোগ সড়ক ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপাশা হায়াত, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক রেজাত রাব্বী উথান, কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর বর্ষবরণের আয়োজন। বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় পুরো উপজেলা যেন রঙিন হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) (পহেলা বৈশাখ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষ উপজেলা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। নানা বয়সী মানুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন এ আনন্দ আয়োজনে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারীরা, পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত পুরুষরা আর শিশুদের রঙিন সাজে চারপাশে তৈরি হয় এক বর্ণিল পরিবেশ।
দিনের শুরুতেই বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয় উপজেলা চত্বর থেকে। শোভাযাত্রায় ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন প্রতীক শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও নববর্ষের তাৎপর্য। বিশেষ করে “এসো হে বৈশাখ” গানের সঙ্গে সমবেত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন বছরকে সামনে রেখে সবাইকে মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানানো হয়।
উৎসব উপলক্ষে উপজেলা চত্বরে বসে বৈশাখী মেলা। সেখানে ছিল হস্তশিল্প, মাটির তৈরি পণ্যের দোকানসহ নানা আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যায়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিনে এবারের বর্ষবরণ ছিল আনন্দঘন, বর্ণিল ও শান্তিপূর্ণ। নতুন বছরের শুরুতে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো. আফজাল হোসেন নামে এক চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকার এবাদুল্লাহ মসজিদ-মাদ্রাসা সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি ওয়ান শটারগান এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং তার সহযোগীদের ফেলে যাওয়া ডাকাতির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত ধারালো ছোরা ও কুড়াল সদৃশ অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আফজাল হোসেন স্থানীয় মধ্য গাজীরচট এলাকারই বাসিন্দা। ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম আজ দুপুরে এক বার্তায় জানান, আফজাল দীর্ঘকাল ধরে তার সহযোগীদের নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফজাল নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট নয়টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য ও দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব। স্থানীয় জনসাধারণ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা আনন্দঘন পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনটির সূচনা হয় সকাল ৯টায় এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে। উপজেলার কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। রঙিন ব্যানার, বৈশাখী পোশাক এবং ঢাক-ঢোলের তালে শোভাযাত্রাটি তুলে ধরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির রূপ।
এরপর গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা—রশি টানাটানি ও হাড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা। পরে উপজেলা চত্বরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা। এতে স্থানীয় শিল্পী, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তোলে বাংলা গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের প্রদর্শনী—পটচিত্র, আলপনা এবং ঢাকের বাদ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এমপি এরশাদ উল্লাহ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।” সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর আয়োজন করা হয় পান্তা উৎসব ও ব্যতিক্রমধর্মী পিঠা উৎসব। এতে স্থানীয় নারীরা বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও দেশীয় খাবার প্রস্তুত করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নিতে আসেন শত শত মানুষ। বর্ষবরণ উপলক্ষে পুরো উপজেলা চত্বরে বিরাজ করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
রূপগঞ্জে একই এলাকায় ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
সর্বশেষ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নিয়েছে দুর্ধর্ষ ডাকাত দল।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাসান মিয়া জানান, ভোররাতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল রামদা, চাপাতি ও ছুরিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা তাকে, তার স্ত্রী তন্নী আক্তার ও মা খুরশিদা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা ঘরের আলমারি ভেঙে প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললে প্রাণনাশ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকায় গত দুই দিন আগেও লতিফ মিয়ার ছেলে আলমগীরের বাড়িতে একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানেও পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়।
এছাড়া এর আগে একই গ্রামের শিহাবদের বাড়ি থেকে গবাদিপশু লুটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পূর্বাচল ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন উর রশিদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ডাকাতির ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী হিসেবে বর্তমান তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের এই কৃষি ভাবনা আজকের নয়। বরং দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে তিনি আমাদের কাছে তার পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করে আসছেন। তার এই পরিকল্পনাগুলো যে গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি তার বাবা শহীদ জিয়ার পথেই হাঁটছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশ রফতানিতে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। বিগত আওয়ামী শাসনামলে চাল আমদানি করতে হলেও তারেক রহমানের এই আধুনিক কৃষি উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির এ নেতা।
বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেকয়টি অঞ্চল আছে মানবপাচারের, সেখানে আমাদের টেকনাফ উখিয়া ও কক্সবাজারের নাম উঠে এসেছে। মাদক এখন একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা দেশের যুবসমাজকে মারাত্মকভাবে বিপথগামী করছে। এ কারণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, এদেশে মাদক একটা বিশাল সমস্যা। আপনারা সবাই সামাজিক সহযোগিতা শুরু করেন। বাংলাদেশ যাতে মাদকমুক্ত হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত 'কৃষক কার্ড' বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে একটি বাটন টিপলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে টেকনাফসহ সারা দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন প্রান্তিক কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল আড়াই হাজার টাকা করে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে স্মার্ট 'কৃষক কার্ড' তুলে দেন। এর মাধ্যমে দেশে আধুনিক ও ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনার এক নতুন দিগন্ত সূচিত হলো। টেকনাফের ১ হাজার ৬ শত ৯৮ জন কৃষক আজ সরাসরি এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'কৃষক কার্ড' চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান সরকার। এর আগে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড এবং খালখনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, এসব কার্ড চালু আমাদের জাতীয় জীবনের মহতী উদ্যোগ। এ দেশের কৃষককে মূল্যায়ন করার জন্য আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিল। খাল খনন কর্মসূচি, স্বনির্ভর বাংলাদেশ রূপান্তরের জন্য ও কৃষির সমৃদ্ধির জন্য তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারপর আমরা খাদ্য রপ্তানিকারক হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি বিশ্বের দরবারে।
জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুয়া এবং অনলাইন জুয়া সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সেটা বন্ধ করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বের করা যায়।
মানবপাচার রোধে তিনি আরও বলেন, মানবপাচার রোধের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগ থাকবে। আপনারা সহযোগিতা করুন। এ বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আপনারা ইনফরমেশন দিবেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে আগাতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্ণাঢ্য আয়োজন আর উৎসবমুখর পরিবেশে নীলফামারীতে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হওয়া বৈশাখী শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিসি গার্ডেনে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঢাক-ঢোলের তালে, রঙিন মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শোভাযাত্রা শেষে ডিসি গার্ডেনের সামনে লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। মেলায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্য ও হস্তশিল্পের পসরা সাজানো হয়।
এছাড়াও পহেলা বৈশাখে নীলফামারী প্রেসক্লাবে ছিলো দিনভর নানা আয়োজন। বাঙ্গালি সংস্কৃতির নানা ঐতিহ্য তুলে ধরে সাজানো হয় প্রেসক্লাব চত্বর। পরে দই-চিড়া আর মিষ্টি মুখে অংশ নেন প্রেসক্লাবের সদস্য ও পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া কুইজ ও নারীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম সিয়ামের সভাপতিত্বে আগতদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বী প্রধান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, এআর জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ রউফুল প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন। দুপুরের মধ্যাহ্ণ ভোজে পান্তা, পাটশাকের ভাজি, আলু ও মাছের ভর্তা ছাড়া ইলিশ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় সকলকে। আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রেসক্লাব সদস্যদের স্ত্রী ও সন্তানদের দেয়া হয় উপহার।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আগামী দোসরা বৈশাখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩। তবে এবারের নববর্ষ উদযাপন থেকে বিরত থেকে শিক্ষক রুনা'র নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, ১৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আয়োজন থাকলেও, আমাদের বিভাগ এই আনন্দ আয়োজনে অংশগ্রহণ করবে না। কোনো আনন্দ শোভাযাত্রা বা র্যালিতে অংশ নেবে না। কারণ আমাদের জন্য এবারের পহেলা বৈশাখ আনন্দের নয়—এটি ন্যায়ের দাবির দিন, প্রতিবাদের দিন। আমাদের পহেলা বৈশাখ মানেই—ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, আমাদের ম্যামকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, ৪১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।
এ কর্মসূচিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, নির্মাণাধীন হল ম্যামের নামে নামকরণ করা ও
বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এই চারটি দাবি করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সকালে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে পথে বের হওয়া মানুষগুলো, ফিরলেন লাশ হয়ে।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক উল্টে সাত শ্রমিক নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জীবিকার সন্ধানে আসা এসব মানুষ খরচ বাঁচাতে পণ্যবাহী ট্রাকে উঠেছিলেন, আর সেই সিদ্ধান্তই হয়ে দাঁড়ায় তাদের জীবনের শেষ যাত্রা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে গেলে ট্রাকের ওপর থাকা ১৩ জন নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন এবং আহত হন আরও ছয়জন।
দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা হাইওয়ে ক্রসিং থানার লাশঘরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় নিহতদের মরদেহ। সেখানে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নিহত সুমনের ভাই সামিউল ইসলাম বেগুনি রঙের একটি টি-শার্ট হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই জামাটা আমি কিনে দিয়েছি। সুমন আর কোনোদিন এটা পরবে না। প্রতিবছর জীবিকার জন্য সে আমার কাছে কুমিল্লায় আসত, এবার এসে জীবনটাই হারালো।
জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় গ্রাম থেকে সুমনসহ ১৩ জন শ্রমিক সোমবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলে ধান কাটার কাজের জন্য আসছিলেন। বাসভাড়া বেশি হওয়ায় তারা চালবোঝাই ট্রাকে উঠে পড়েন।
একই ঘটনায় নিহত সোহরাব হোসেনের স্বজনরা জানান, সংসারের অভাব ঘোচাতে এবারই প্রথমবারের মতো শ্রমিকের কাজ করতে বের হয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী চম্পা আক্তার তাকে যেতে নিষেধ করলেও দুই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি সেই সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—তিনি আর জীবিত ফিরে যেতে পারলেন না।
নিহতের স্বজন জসিম উদ্দিন বলেন, “ওই এলাকায় এখন কাজকর্ম নেই। তাই ধান কাটার মৌসুমে কাজের আশায় কুমিল্লায় আসছিল। কিন্তু পথেই তার জীবন শেষ হয়ে গেল।”
নিরাপদ সড়ক চাই, দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, “দিনাজপুর থেকে কুমিল্লা আসতে বাসে জনপ্রতি প্রায় দেড় হাজার টাকা লাগে। খরচ বাঁচাতে তারা কয়েকশ টাকায় ট্রাকে ওঠেন। অভাবই তাদের এই ঝুঁকি নিতে বাধ্য করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকত, তাহলে হয়তো এত বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
আহতদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা টোলপ্লাজা পার হওয়ার পর চালকের আসনে হেল্পার বসেন। সেখান থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার যাওয়ার পরই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, সড়কের অবস্থা ভালো ছিল। সেক্ষেত্রে চালকের দক্ষতা, ক্লান্তি বা লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জীবিকার সন্ধানে বের হওয়া এই শ্রমিকদের মৃত্যু আবারও সড়ক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। খরচ বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারানোর এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আর কত প্রাণ ঝরতে হবে?
নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর বর্ষবরণের আয়োজন। বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় পুরো উপজেলা যেন রঙিন হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (পহেলা বৈশাখ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষ উপজেলা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। নানা বয়সী মানুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন এ আনন্দ আয়োজনে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারীরা, পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত পুরুষরা আর শিশুদের রঙিন সাজে চারপাশে তৈরি হয় এক বর্ণিল পরিবেশ।
দিনের শুরুতেই বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয় উপজেলা চত্বর থেকে। শোভাযাত্রায় ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন প্রতীক শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও নববর্ষের তাৎপর্য। বিশেষ করে “এসো হে বৈশাখ” গানের সঙ্গে সমবেত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন বছরকে সামনে রেখে সবাইকে মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানানো হয়।
উৎসব উপলক্ষে উপজেলা চত্বরে বসে বৈশাখী মেলা। সেখানে ছিল হস্তশিল্প, মাটির তৈরি পণ্যের দোকানসহ নানা আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যায়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিনে এবারের বর্ষবরণ ছিল আনন্দঘন, বর্ণিল ও শান্তিপূর্ণ। নতুন বছরের শুরুতে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।