শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন
নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।
এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।
দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।
শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।
সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।
প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।
এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।
মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।
এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।
দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।
সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।
একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
নাটোরে ৫ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। লম্পট ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে শহরের কানাইখালি এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সর্বস্তরের জনগণ।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার মদনহাট গ্রামে ফুচকা বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম ওই শিশুকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণ করে। গত বুধবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী ধর্ষকের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে একটি গাছের সাথে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শরিফুলকে আটক করে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা থাকা শিশুটিকে দেখতে যান সরকার দলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দেন।
চরফ্যাশনে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি (গ্রিড) পুরোপুরি প্রস্তুত হলেও আলোর মুখ দেখছেন না স্থানীয় মানুষ। বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই সংস্থা—ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমন্বয়হীনতার কারণে ২৩০-৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন এই জিআইএস (গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার) উপকেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে তীব্র গরমে চরফ্যাশনজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং আরও প্রকট হয়েছে।
এদিকে উপকেন্দ্র প্রস্তুত থাকার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। উল্টো দ্রুত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য বিতরণ সংস্থা দুটিকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পাওয়ার গ্রিডের বরিশাল অনুবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিত উপকেন্দ্রটি গত ২৩ মে সফলভাবে কমিশনিং সম্পন্ন করেছে। এটি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চিঠিতে বলা হয়েছে, একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলো লোড গ্রহণে গড়িমসি করছে। দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যুৎ গ্রহণ না করলে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংসংক্রান্ত কোনো দায় পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই উপকেন্দ্রটি চালু হলে চরফ্যাশন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের লো-ভোল্টেজ (স্বল্প ভোল্টেজ) ও বিদ্যুৎ ঘাটতির স্থায়ী সমাধান হবে। তবে গ্রিড প্রস্তুতের পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
চরফ্যাশন বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘শুনলাম নতুন গ্রিড প্রস্তুত হয়ে পড়ে আছে, অথচ আমরা দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ছাড়া ভুগছি। বিতরণ সংস্থাগুলোর অবহেলার কারণে যদি আমাদের কষ্ট পেতে হয়, তবে এত টাকা খরচ করে এই প্রকল্প করার মানে কী?’
গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ না করার বিষয়ে জানতে ওজোপাডিকো ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শাহ্ মো. রাজ্জাকুর রহমান বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিডের চিঠি আমরা পেয়েছি। আমাদের কারিগরি দল কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই এই সমস্যা কেটে যাবে।’
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক উপকেন্দ্র এভাবে ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং ভোলার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে দ্রুত সব প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা নিরসন করে নতুন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা আসতে এখনো কিছুদিন বাকি থাকলেও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার প্রকৃতিতে এখনই বইছে বর্ষার আগাম হাওয়া। জ্যৈষ্ঠের শেষভাগের তপ্ত রোদের মাঝে হঠাৎ মেঘের আনাগোনা আর হালকা বৃষ্টির ছোঁয়ায় ডুমুরিয়ার গ্রামগঞ্জে ফোটতে শুরু করেছে ‘বর্ষার দূত’ কদম।
সবুজ পাতার আড়ালে গোলকাকার এই ফুলের সুবাস ও সৌন্দর্য পথচারীদের মুগ্ধ করলেও, কালের বিবর্তনে এই অঞ্চল থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কদম গাছ।
উপজেলার খর্ণিয়া, চন্ডীপুর, শোভনা ও ভদ্রা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনায়, পুকুর পাড়ে কিংবা রাস্তার ধারে দু-একটি গাছে থোকা থোকা কদম ফুল ফুটে রয়েছে। গ্রামীণ শিশুরা কদম ফুল নিয়ে খেলায় মেতে ওঠছে, আর তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে কদম ফুল উপহার দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে আগাম বর্ষাকে।
তবে স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ ও পরিবেশবাদীদের কণ্ঠে আনন্দের চেয়ে আশঙ্কার সুরই বেশি। তারা জানান, এক দশক আগেও ডুমুরিয়ার মোড়ে মোড়ে, ফসলের ক্ষেতের আইলে কিংবা ঝোঁপঝাড়ে প্রচুর কদম গাছ দেখা যেত। বর্ষা এলে চারপাশ কদম ফুলের মিষ্টি সুবাসে মাতোয়ারা হয়ে থাকত। কিন্তু বর্তমানে নির্বিচারে গাছ কাটা এবং নতুন করে চারা রোপণ না করায় কদম গাছ এখন ডুমুরিয়ায় প্রায় বিরল হয়ে পড়েছে।
কদম গাছের বাণিজ্যিক মূল্য (কাঠের দাম) তুলনামূলক কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এই গাছ লাগাতে আগ্রহী হচ্ছে না। অনেক সময় দেখা যায়, ম্যাচ ফ্যাক্টরি বা স্থানীয় ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কদম গাছ সহজেই কেটে ফেলা হচ্ছে। এমনকি সরকারি বা বেসরকারি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতেও কদম গাছের চারা বিতরণের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, ‘কদম গাছ কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি আমাদের দেশীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের এক অপরিহার্য উপাদান। পরাগায়নের জন্য উপকারী বিভিন্ন পতঙ্গ ও দেশীয় পাখিদের চমৎকার আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস এই কদম গাছ। বাণিজ্যিক চিন্তা বাদ দিয়ে প্রকৃতির স্বার্থেই কৃষকদের ফসলি জমির আইলে বা বাড়ির আশপাশের পতিত জায়গায় কদমের মতো ঐতিহ্যবাহী দেশীয় গাছ রোপণ করা উচিত। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা কৃষকদের এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করব।’
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস সবিতা সরকার বলেন, ‘কদম ফুল আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য অংশ। গ্রামীণ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় এই গাছগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। ডুমুরিয়া অঞ্চল থেকে ঐতিহ্যবাহী কদম গাছ হারিয়ে যাওয়া সত্যি উদ্বেগের। পরিবেশ রক্ষা ও আমাদের প্রকৃতিকে চেনা রূপে ফিরিয়ে আনতে সরকারি বনায়ন কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়েও ফলদ ও বনজ গাছের সাথে কদমের মতো দেশীয় গাছের চারা রোপণে আমরা সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করব।’
ডুমুরিয়ার সচেতন মহল মনে করছেন, আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে কদম গাছ টিকিয়ে রাখা জরুরি। তাই উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে এবং বাড়ির পতিত জমিতে ফলদ ও বনজ গাছের পাশাপাশি অন্তত একটি করে কদম গাছের চারা রোপণ করার জন্য তারা বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত ও জোরদার ভূমিকা আশা করছেন।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে চুরি হওয়া তামার তারও উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি করা মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির এই স্পর্শকাতর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।
ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ এই তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রঞ্জন চন্দ্রকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে চুরির কথা স্বীকার করে। রঞ্জন চন্দ্র জানায়, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে ওই তার চুরি করে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের একটি ভাঙারি দোকানে তা বিক্রি করে দেন।
পরবর্তীতে রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর চকবাজার থানার হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তের পর সিটিটিসি ধারণা করছে, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত এবং এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লা নগরীর অশোকতলায় এক অসহায় ভিক্ষুককে কুপিয়ে আহত করে তার সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এক কিশোর গ্যাং লিডারকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
গত ৩১ মে রবিবার সন্ধ্যায় অশোকতলা এলাকায় ওত পেতে থাকা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ওই ভিক্ষুকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তার সারাদিনের ভিক্ষা করা মাত্র ১৬০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই নির্মম ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর তা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অভিযুক্তদের শনাক্ত করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে অশোকতলা জামে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর গ্যাং লিডার ‘টোকাই সামির’কে শনাক্ত ও আটক করা হয়।
গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ারের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত সামিরকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান যে, নগরীতে সন্ত্রাস, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রয়না এলাকায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক প্রকৌশলীর দুই শিশু সন্তান নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকৌশলী, তার স্ত্রী ও মা আহত হয়েছেন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী আকিব পরিবারসহ মাইক্রোবাসে করে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে বড়াইগ্রাম উপজেলার রয়না এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে তাদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আকিবের ৪ মাস বয়সী ছেলে ইজাজ নিহত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আকিব, তার স্ত্রী এ্যানী, ৪ বছর বয়সী ছেলে ইহান এবং আকিবের মা কনাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইহানের মৃত্যু হয়।
বর্তমানে আহত আকিব, তার স্ত্রী এ্যানী ও মা কনা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ও আহতদের সকলের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে দিনদুপুরে এক রিকশাচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে এক দুবৃর্ত্ত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কধুরখীল ইউনিয়নের জলিল আম্বিয়া কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত আবদুল নবী (৫০) পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোমদণ্ডী মুন্সিপাড়ার মৃত আবদুর ছবুরের ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা বলেন, দুপুর পৌনে ২টার দিকে আবদুল নবী নামে এক ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
আহত আবদুল নবী জানান, এক ব্যক্তি উপজেলা সদর থেকে কধুরখীলের লালার দিঘির পাড়ে যাওয়ার কথা বলে তার ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া করেন। খোকার দোকান এলাকা পার হওয়ার পর ওই ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে ধারালো ধামা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে ওই ব্যক্তি তার রিকশা নিয়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয় পথচারীরা জানান, রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তারা আবদুল নবীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে তার রিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আফুলশি গ্রামের বাসিন্দা ইশফাক ইয়াছিনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পর গত সোমবার (১ জুন) থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইশফাক ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এবং আমিশাপাড়া জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে সক্রিয় কর্মী ছিলেন । তিনি নোয়াখালীতে দুটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি অনলাইনে বই বিক্রির একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক লাভের আশ্বাস দিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন।আমি বিশ্বাস করতাম উনি একজন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী এবং বিভিন্ন মিছিল মিটিং এবং দায়িত্বশীল কাজে তাকে দেখতাম.
আমাদের টাকা মেরে দিবে এটা আমার বিশ্বাস ছিল না। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার লেনদেনের পর গত ১ জুন দুপুরে তিনি নোয়াখালী ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের সব মাধ্যম অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে।
এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ইশফাক ইয়াছিন স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হওয়ায় এবং জামাত ইসলামের পরিচয় তার পরিচিত মুখ হওয়ার জামায়াত ইসলামের মতো একজন সকীয় কর্মী যদি এমন কাজ করে অনেকেই তার প্রতি আস্থা রেখেছিলেন তার বিনিময় তিনি আমাদের সাথে প্রতারণা করছে আমরা এটা সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই এবং আমাদের বির । ফলে তার আকস্মিক অন্তর্ধানের ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন,বিশেষ করে উনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পথ থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম এবং বিভিন্ন জায়গায় জামাত ইসলামের সংগঠিত কাজে উনাকে দেখা যাচ্ছে তারপর আমরা উনার উপর আত্মবিশ্বাস জন্ম হয়। এই পরিচয়ের কারণে আমরা তার ওপর আস্থা রেখেছিলাম। এখন টাকা ফেরত পাওয়া তো দূরের কথা, তার অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলেন, আমরা যতটুকু জানি আমার যতটুকু বিশ্বাস জামায়াত ইসলামের লোকে আমাদেরকে টাকা মেরে খাবে এটা আমার বিশ্বাস ছিল না উনি আমাকে বিভিন্নভাবে প্লাবন দেখিয়ে লাভ খাদ্য দেখে আমার সাথে প্রতারণা করছেন এটা আমি অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছি এবং আমার টাকাটা ফেরত চাচ্ছি। কিছুদিন আগেও তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু পাওনা অর্থ চাইতে শুরু করলে নানা অজুহাত দেখান। এরপর হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের কয়েকজন প্রতিনিধি বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। এতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার পাশাপাশি জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তিও দূর হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার আরেকটি অভিযোগে ঢাকার একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশত্যাগের চেষ্টা করতে পারেন। তাই তারা দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইশফাক ইয়াছিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
রাজধানীর মুগদার একটি বাসা থেকে তানভীর হোসাইন শুভ (৪৫) নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অতিরিক্ত পরিচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে উত্তর মুগদার আহমদবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বোরহান উদ্দিন জানান, দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে বাসার ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান তারা।
তিনি আরও জানান, শুভর অফিসের সহকর্মী ও স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
পুলিশ জানায়, তানভীর হোসাইন শুভর বাবার নাম তবারক হোসেন। তাদের পারিবারিক বাসা সেগুনবাগিচায় হলেও তিনি মুগদার ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঈদের দিন সর্বশেষ তাকে দেখেছিলেন বাড়ির মালিক। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তানভীর হোসাইন শুভ বিবাহিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ঢাকাগামী বাসের চাপায় দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো অন্তত ছয় শ্রমিক। বুধবার (৩ জুন) কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকরা হলেন মাহফুজ (৩৫) ও জামাল (৩৬)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় একদল শ্রমিক কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে একটি গাড়িতে বসে এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপেক্ষমাণ শ্রমিকদের চাপা দেয়। বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মাহফুজ ও জামাল নামের দুই শ্রমিক প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত হতাহতদের উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে স্থানান্তরিত করেন।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন চান মিয়া (৪০), সেলিম (৩৫), বরকত (৩২) এবং জসিম (৩৫)। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর আদাবর–শ্যামলী এলাকায় সক্রিয় একটি অপহরণ–ছিনতাই চক্রের ৯ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।
গ্রেপ্তাররা হলেন জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) ও মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।
পুলিশের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে সাদমান সাকিব রাত ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসে। আসার পর তিন থেকে চারজন যুবক দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে একটি সরু গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে থাকা মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারের কাছে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে টহল পুলিশ যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও জাহিদ হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি জানান, চক্রটি মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকায় ভোরের দিকে যখন ব্যবসায়ীরা টাকা-পয়সা নিয়ে বিভিন্ন মালামাল আনতে বাজারে যান ওই সময়টায় তাদের টার্গেট করে অপহরণ করত। বিশেষ করে যারা একা থাকত তাদের টার্গেট করে অপহরণ করত। চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ। তিনিসহ আরও দুই আসামির নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ফজলুল করিম বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তারা আর কোথায় কোথায় একই ধরনের অপরাধ করেছে এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
নারী কারারক্ষীর সঙ্গে অনৈতিক প্রস্তাব ও কুরুচিপূর্ণ কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. দিদারুল আলমকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) কারা অধিদপ্তরের কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে মো. দিদারুল আলমকে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কারা প্রশিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম কারাগারের হসপিটালাইজড প্রিজনার্স সিকিউরিটি ইউনিটের কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ারুল করিমকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-১-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের এক নারী কারারক্ষীর সঙ্গে জেল সুপার দিদারুল আলমের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
অডিওটিতে তিনি ওই নারী সহকর্মীর সঙ্গে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী (বার. এট-ল) পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে এসে কাপাসিয়া প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে কাপাসিয়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিদর্শন করতে আসলে তাঁকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জেলা পরিষদ কর্তৃক কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহ পরিদর্শনে আসেন প্রশাসক মহোদয়। সকাল ১০ টায় কাপাসিয়া সরকারি ডাকবাংলোয় পৌঁছালে তাঁকে প্রথমে অভ্যর্থনা জানান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটন, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম, আকরাম হোসেন রিপন, সফিকুল আলম সবুজ, শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, আনিসুল ইসলাম, তপন বিশ্বাস প্রমুখ।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীর আগমনে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে আসেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতা আফজাল হোসাইন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু,
বিআরডিবি চেয়ারম্যান ও সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন আরজু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খান, দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলায়মান মোল্লা, বিএনপি নেতা মীর মাসুদ করিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মতিউর রহমান মতি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু, মহিবুর রহমান, মোঃ ফরিদ শেখ, আ ন ম সফিকুল ইসলাম জেকি, ছাত্রদল নেতা সোহাগ প্রমুখ। পরে তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের প্রকল্প গুলো পরিদর্শন করেন।