শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন
নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।
এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।
দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।
শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।
সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।
প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।
এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।
মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।
এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।
দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।
সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।
একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের জগন্নাথ পাড়া এলাকায় আদালতের আদেশ অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ওঠেছে শুভ চন্দ্র (৩২), শ্যামল চন্দ্র দাস (৬০) ও জ্যোতিকা রানী (৬৫) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রবীর মোহন্ত।
জানা যায়, পৌর শহরের জগন্নাথপাড়া এলাকার মৃত গৌর চন্দ্র দাসের ছেলে প্রবীর মোহন্তের সাথে মৃত শুবল চন্দ্র দাসের ছেলে শুভ চন্দ্র দাস শোভন, মাখন লাল দাসের ছেলে শ্যমল চন্দ্র দাস ও মৃত শুবল চন্দ্র দাসের স্ত্রী জ্যোতিকা রানী দাসের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় এলকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বহুবার শালিশ করেছেন; কিন্তু তারা শালিশ মানেন না। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী গৌর চন্দ্র দাস (বর্তমানে মৃত) বিগত ২০২০ সালে বগুড়ার জেলা যুগ্ম জজ ১ম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (১৫৬/২০২০)। এমনকি ওই মামলায় জমির ওপর স্থিতিবস্থা জারি করেন জেলা জজ আদালত। আদালতের সেই আদেশ অমান্য করে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার জোরপুর্বক বিবাদমান জায়গায় ঘর নির্মাণ শুরু করে প্রতিপক্ষরা। এ সময় পরিবারের লোকেরা কাজে বাধা দিতে গেলে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। তার চিৎকারে আশেপাশের লোক এগিয়ে এসে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। পরে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শুভ দাসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইব্রাহিম হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিরাপদ অভিবাসনের লক্ষ্য নিয়ে মানবপাচার প্রতিরোধে ‘রাইটস যশোর’ এনজিও- মাদারীপুরের আয়োজনে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘পার্টনারশীপ ও নেটওয়ার্কিং মিটিং উইথ রিলেভ্যান্ট স্টেকহোল্ডার’ সংক্রান্ত একটি কর্মশালা তাদের মাদারীপুরস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
ওই এনজিও এর মাদারীপুর জেলার প্রোগ্রাম অফিসার বায়োজিদ মিয়ার পরিচালনা ও সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলার শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর প্রিন্সিপাল স,ম জাহাঙ্গীর আখতার, জাতীয় মহিলা সংস্থার মাদারীপুর সদর উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সুমা খানম, তথ্যসেবা সহকারী ফারজানা রুমকি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) এর মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মশিউর রহমান পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বদরুন নাহার কলি, মানবাধিকার প্রতিনিধি অ্যাড. এমদাদুল হক মিলন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দে, জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো মাদারীপুর এর ডিইএমও মো. লিয়াকত আল স্বরণসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডার ও সদস্যরা।
কর্মশালায় উপস্থিত স্টেকহোল্ডাররা বক্তারা বলেন, ‘মানবপাচার একটি সামাজিক ব্যাধি এবং মাদারীপুর জেলায় এর আধিক্য অন্যান্য জেলার চাইতে অনেক বেশি। মানবপাচার প্রতিরোধে এর স্টেকহোল্ডারদের ব্যাপক ভূমিকা রাখা ও সাধারণ মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি করা দরকার। অবৈধ পন্থায় জীবন হানির ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালিসহ ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রে মাদারীপুরের মানুষেরই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার- টু-পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে বৈধ অভিবাসনে উৎসাহী করে এবং অবৈধ পন্থায় বিদেশ গমনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষতি, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া সহ প্রাণহানি ও মাফিয়াদের কর্তৃক অত্যাচার-নিপিড়নের বিষয়টি তাদের বোঝানোর কোনো বিকল্প নাই বলে একমত পোষণ করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল(এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকনকে আটক করা হয়েছে। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর বন্দর এলাকা থেকে র্যাবের একটি দল তাকে আটক করে বলে জানায় পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ জানান, র্যাবের একটি দল তাকে আটক করে বন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে।
আটক ইব্রাহিম খোকন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক। তিনি বিএনপিপন্থি বন্দর শ্রমিক দলের নেতা।
এদিকে ইব্রাহিম খোকনকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পরিবর্তে শ্রমিক-কর্মচারীদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা পরিকল্পিতভাবে বন্দর পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উসকানি দিচ্ছে।
স্কপভুক্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জেলা টিইউসির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপের জেলা সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন এক যৌথ বিবৃতিতে ইব্রাহিম খোকনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, এনসিটি সংযুক্ত আরব-আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ডাকে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে তিনদিন কর্মবিরতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। সবধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
এর মধ্যে আন্দোলনকারীদের নেতা ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবীরসহ ১৫ কর্মচারীকে বদলির আদেশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। এ অচলাবস্থার মধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন নৌপরিবহণ উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে শ্রমিক-কর্মচারীদের চার দফা দাবি নিয়ে উপদেষ্টার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মবিরতি ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা কাজে যোগ দেন। কিন্তু সেদিনই ১৫ কর্মচারীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য চিঠি দেয়ায় আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হন। ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে আবারও লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এ অবস্থায় এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তি হবে না বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ঘোষণা দেন।
এ ঘোষণার পর ধর্মঘট এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে শ্রমিক-কর্মচারীরা গত সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগ দেন। কিন্তু এর মধ্যে পুলিশ পাঁচ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া বদলি হওয়া ১৫ কর্মচারীর সরকারি বাসার বরাদ্দ বাতিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একই রাতে চারটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জোড়গাছা পূর্বপাড়া এলাকায়। ট্রান্সফরমারগুলো চুরি যাওয়ায় একাধিক সেচ পাম্প অচল হয়ে পড়েছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম।
সরেজমিনে জানা যায়, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে সেচ পাম্পের জন্য স্থাপিত চারটি ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার কয়েল খুলে নিয়ে যায়। ভোরে কৃষকরা মাঠে গিয়ে সেচ পাম্প চালু করতে না পেরে বিষয়টি জানতে পারেন। এতে কয়েকশ বিঘা জমির ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমে নিয়মিত সেচ না পেলে ধানের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রান্সফরমার না থাকায় গভীর নলকূপ বন্ধ রয়েছে, ফলে কৃষকরা চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় মহাসিন আলী প্রামাণিক জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় অফিসের লোকের সম্পৃক্ততার সম্ভবনা রয়েছে। কেননা প্রতি বছরই একই কায়দায় এ ঘটনা ঘটছে। এটি প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া এ কাজ সাধারণ লোকের পক্ষে সম্ভব নয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মুকুল হোসেন, রনক, ফজলুর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত বছর শামীম নামের এক কৃষকের দুটি ট্রান্সফরমারের ভেতরের কোয়েল চুরি হয়েছিল। এ বছরও তাদের সাথে তার একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। তবে একই রাতে একাধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা এই প্রথম। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করে দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন ও চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াসউদ্দিন তাহেরীকে নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা সংক্রান্ত এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাচনী সমর্থন পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনে তার শ্বশুরবাড়ির প্রকৃত ঠিকানা গোপন করে ভিন্ন একটি স্থানের নাম উল্লেখ করেছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, তাহেরীর প্রকৃত শ্বশুরবাড়ি মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কাশিপুর (বেঙ্গাডুবা) সাহেব বাড়িতে অবস্থিত হলেও তিনি তার নির্বাচনী হলফনামায় চুনারুঘাট উপজেলার কাশিপুর গ্রামকে শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা হিসেবে দেখিয়েছেন। এই অসংগতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাধবপুর ও চুনারুঘাট এলাকার ভোটারদের মাঝে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এই বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, “গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর শ্বশুরবাড়ি আমার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর গ্রামে। কেন তিনি তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা চুনারুঘাট লিখেছেন তা আমার বোধগম্য নয়।” একই এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গিয়াসউদ্দিন তাহেরী হুজুরের শ্বশুরবাড়ি আমাদের কাশিপুর (বেঙ্গাডুবা) সাহেব বাড়িতেই। এটা এলাকার সবাই জানে। কিন্তু তিনি কাগজপত্রে চুনারুঘাটের কাশিপুর দেখাইছেন, বিষয়টি দুঃখজনক।” অন্যদিকে চুনারুঘাট উপজেলার কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা সালাম মিয়া বিষয়টির স্বচ্ছতা দাবি করে বলেন, “আমরা শুনেছি উনি নাকি কাগজে আমাদের কাশিপুর গ্রামের ঠিকানা লিখেছেন। কিন্তু উনার শ্বশুরবাড়ি এখানে এমন কোনও পরিচিতি বা প্রমাণ আমরা জানি না। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের এমন তথ্য বিভ্রাট নিয়ে স্থানীয় আলেম ও পীর মাশায়েখদের মধ্যেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সুন্নি নেতা পীর জোবায়ের কামাল এই বিষয়ে মন্তব্য করেন, “একজন আলেম বা পীর সাহেবের কাছ থেকে মানুষ সত্য আশা করে। শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।” রতনপুর এলাকার ইমাম মাওলানা আবদুল আহাদ নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে বলেন, “ইসলামে মিথ্যা বলা ও মিথ্যা তথ্য দেয়া বড় গুনাহ। ভোটের জন্য কেউ যদি পরিচয় বা ঠিকানা নিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তাহলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।” উদ্ভূত এই অভিযোগের বিষয়ে গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজাকে দুটি মামলায় মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির সদস্য এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হাই এই আদেশ দেন। প্রতিটি মামলায় পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে তিন দিন করে মোট ছয় দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আমির হামজার পক্ষে তার আইনজীবী জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার ইবি থানার শান্তিডাঙ্গা গ্রামের রাশেদ আহমেদ গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমির হামজার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার মজমপুর গেট, পাঁচ রাস্তার মোড় ও থানা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় যে, প্রার্থীর প্রচারণামূলক ব্যানারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ নেই, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংক্ষিপ্ত আদালত চলাকালীন প্রার্থীর আইনজীবী তৌহিবুল ইসলাম তুহিন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার বাদী রাশেদ আহমেদ বলেন, “রায়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে রায় এখনো পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়নি। এসব ব্যানার, পোস্টার এখনো আছে। আমরা এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।” আদালতের পক্ষ থেকে প্রার্থীকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এ উল্লিখিত বিধিনিষেধসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলার কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর পাইকান এলাকায় আদালতের স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করে বড়াইবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ ওঠেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সহকারী জজ মোছা. স্বপ্না মুস্তারিন ২২৫/২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলায় ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমির দখল, আকার ও ব্যবহার কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেবল নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে; এর বাইরে কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তনমূলক কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আদালত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিবাদী পক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। বাদীপক্ষের প্রার্থনা ও বিবাদীপক্ষের জবাব পর্যালোচনা শেষে আদালত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থিতিবস্থার আদেশ দেন।
তবে বাদী আবু মো. জুলফিকার অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভবন নির্মাণকাজ চলমান ছিল। পরে বিষয়টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরও কোর্টের অনুমতি ছাড়াই গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে, যা আদালত অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ স্বেচ্ছায় অমান্য করা হয়েছে। আমি আদালতের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী ঠিকাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর জামান বলেন, ‘আমি ঠিকাদারকে বলেছি, যেহেতু কোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে, আপনারা কাজ বন্ধ রাখেন। কিন্তু ঠিকাদার নিজ উদ্যোগে কাজ করছে। কেন ঠিকাদার কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে, সে বিষয়ে জবাব ঠিকাদারই দিতে পারবেন।’
রংপুর শিক্ষা নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে গঙ্গাচড়া উপজেলার উপপ্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কোর্টের কোনো নতুন নির্দেশ পাইনি। এখনো কোর্টের স্থগিতাদেশ আমাদের কাছে পৌঁছেনি।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ বলেন, ‘আমরা এখনো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি দেখছি।’
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৭২ সালের ৪১৯৫১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করা হলেও তল্লাশি শেষে কিশোরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ওই দলিলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন ওঠেছে।
নরসিংদীর রায়পুরায় রফিকুল ইসলাম সরকার (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরমধুয়া গ্রামের গাজিপুরা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
রফিকুল ইসলাম চরমধুয়া গ্রামের হাজী মঙ্গল মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী মমতাজ বেগম স্থানীয় চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি সদস্য)।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন রফিকুল ইসলাম। গাজিপুরা এলাকায় পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই মোস্তাকিম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রিফাত ও নয়নদের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল।’ পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রায়পুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রবাস জীবন শেষে হেলিকপ্টারে করে নিজ গ্রামের মাটিতে পা রাখলেন জোড়গাছা মধ্যপাড়ার মরহুম জহুরুল ইসলাম নান্টু মন্ডলের ছোট ছেলে ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী হাসানুর রহমানের ছোট ভাই সাবেক সেনা সদস্য হাসনাত আলী। ব্যতিক্রমী এই আগমনে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আনন্দ ও কৌতূহল। জোড়গাছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুপুর দেড়টায় হেলিকপ্টার অবতরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত মানুষ ভিড় করেন নির্ধারিত স্থানে।
হাসনাত আলী জানান, মায়ের স্বপ্ন পূরণে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
প্রবাসী ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে অবস্থানের পর ছুটিতে দেশে আসেন। সময় বাঁচানো ও বিশেষ প্রয়োজনে তিনি হেলিকপ্টারে গ্রামে আসেন বলে জানা গেছে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে গ্রামে কখনো হেলিকপ্টার অবতরণ না করায় এমন দৃশ্য দেখতে পেয়ে তারা উচ্ছ্বসিত। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সব বয়সের মানুষই হেলিকপ্টার দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
মুকুল হোসেন মাস্টার, তরুন, মানিক মিয়াসহ অনেকে জানান, এমন ব্যতিক্রমী ঘটনায় গ্রামটি নতুন করে ঐতিহাসিক পরিচিতি পেল। এই আগমন এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের পাশাপাশি অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত স্কুলছাত্র সাইফ হোসেনের (১৪) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল সপ্তম শ্রেণির তিন বন্ধু। গত রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফের মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) একই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় তার দুই সহপাঠী রহমত উল্লাহ ও সাহাবী হোসেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নিজ গ্রামের কবরস্থানে জানাজা শেষে সাইফকে দাফন করা হলে, পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয় তিন বন্ধু।
নিহতরা হলো—দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত উল্লাহর ছেলে রহমত উল্লাহ (১৪), আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবী হোসেন (১৪) এবং জিয়ার আলীর ছেলে সাইফ হোসেন (১৪)। তারা সবাই দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তিন বন্ধু প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে দৌলতখালী মাদ্রাসা মোড়ে যায়। পড়াশোনা শেষে সকাল ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে দৌলতখালী হাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রহমত ও সাহাবীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সাইফকে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
একই গ্রামের, একই স্কুলের ও একই শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত শনিবার বিকেলে রহমত ও সাহাবীর এবং গতকাল সোমবার সকালে সাইফের জানাজা শেষে দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া মাঠ এলাকার কবরস্থানে তিন বন্ধুকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। প্রিয় সন্তানদের হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে হৃদয়বিদারক মাতম।
স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশেই ওই তিন শিক্ষার্থীর বাড়ি। তারা সবাই একই শ্রেণিতে পড়ত। এমন মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী আমাদের গ্রাম আগে কখনো হয়নি। নিহতদের পরিবারের পাশাপাশি পুরো এলাকায় শোকাহত।’
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তৃতীয় ছাত্র সাইফও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহত তিন কিশোরকে তাদের নিজ এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’
এদিকে গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের আয়োজনে নিহত পরিবার গুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
নাটোরের গুরুদাসপুরে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন দুজন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার ঝাউপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া আগুনে পুড়ে গেছে মুদি দোকানসহ পাঁচটি ঘর, আসবাবপত্র এবং ১২টি ছাগল।
গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিকুজ্জামান সরকার জানান, ঝাউপাড়া এলাকায় মোন্তার হোসেনের বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই পুরো বসতভিটা ভস্মিভূত হওয়াসহ আগুনে পুড়ে মারা যান মোন্তার হোসেনের ছেলের রান্টু ইসলামের স্ত্রী আতিয়া এবং তাদের দেড় বছর বয়সি মেয়ে রওজা খাতুন। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন মোন্তার হোসেনসহ তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম। তাদের উদ্ধার করে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে মর্জিনা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা গোয়াল ঘরের মশার কয়েল থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা আফরোজ জানান, মা ও তার শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রাথমিকভাবে নিহতদেন দাফনসহ আনুসঙ্গিক খরচের জন্য ৪০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তা করা হবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন ফোরলেন সেতুর ট্রাভেলার ফার্ম বা লোহার সাটার ভেঙে রাবনাবাদ নদীতে পড়ে রাসেল হাওলাদার (৩২) নামের ১ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ১০ শ্রমিক। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রঞ্জু ও রাকিবুল নামের দুই শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল এগারোটায় সেতুর লালুয়া অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত রাসেল টিয়াখালী ইউনিয়নের অঞ্জুপাড়া গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে।
জানা যায়, সকালে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক সেতুর ওপরে লোহার সাটারের ওপর বসে রড বাঁধাইয়ের কাজ শুরু করে। বেলা সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ চেইন ছিড়ে শ্রমিকদের সহ সাটারটি নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করে।
পায়রা বন্দরের সিক্সলেন সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ১১৮০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটি নির্মাণ করছে চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্টিটিউশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) নামের দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সরঞ্জামে অনেকটা ঘাটতি ছিল বলে জানায় শ্রমিকরা।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের কফিলকে (মালিক) নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে তাহিরপুর উপজেলা বালিজুরি ইউনিয়নের রাজ নগর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন মাকসুদ আখঞ্জি নামে এক প্রবাসী। হেলিকপ্টার দেখতে স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় করে। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাজ নগর গ্রামের একটি প্রবাসীর বাড়ি সংলগ্ন মাঠে হেলিকপ্টারে এসে নামেন তারা। সৌদি আরবের ওই নাগরিকের নাম মিশাল আমি য়ামী। সৌদি প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি রাজ নগর গ্রামের শাহ আলম আখঞ্জির ছেলে। তিনি ৫ বছর আগে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের গিয়েছিল।
প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি জানান, কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে মিশাল আমি য়ামী মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। চাকরির সুবাদে মালিকের (কফিল) সঙ্গে সুসম্পর্ক হয় তার। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিয়াদ থেকে বাংলাদেশ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তারা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে ঢাকা থেকে বালিজুরি আসেন।
এদিকে প্রবাসী মাকসুদের সঙ্গে তার সৌদি কফিলের গ্রামে আসার খবরে সকাল থেকেই উৎসুক মাকসুদের বাড়ির পাশে মাঠে ভিড় করে। সৌদি থেকে আসা নাগরিককে বরণ করতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তার জন্য তাহিরপুর থানা পুলিশের একটি টিম দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। হেলিকপ্টার থেকে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে হই-হুল্লোড় শুরু হয়ে যায়। এ সময় মাকসুদ আখঞ্জির বাবা শাহ আলম সহ স্থানীয় লোকজন ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সৌদি আরবের নাগরিক মিশাল আমি য়ামী কে।
স্থানীয় সমাজসেবক মশিউর রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেন মাকসুদ আখঞ্জি মতো তাদের কপিলের সাথে সুসম্পর্ক রাখেন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।
কপিল মিশাল আমি য়ামী বলেন, মাকসুদ অত্যন্ত ভালো ছেলে। আমি মাকসুদকে পছন্দ করি। মাকসুদ আমার সকল ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করে। আমি মাকসুদের মতো আরও শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে নিতে চাই। প্রথমদিন এখানে এসে অনেক ভালো লেগেছে। আমার পছন্দের একটি দেশ বাংলাদেশ। এ সময় মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ বাংলাদেশ বলে অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।
প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি বলেন, আমার কফিল (মালিক) একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। তিনি বাংলাদেশ খুব পছন্দ করেন। কাজ করার সময় প্রায়ই বলতেন, আমি তোমার দেশে যাব। তাই তাকে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা আগে থেকে চিন্তা করি তাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে গ্রামে যাব। সে জন্য ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে চলে আসি। তিনি এক সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন। পরে একসঙ্গে আবার সৌদিতে চলে যাব।
দীর্ঘ ২০ বছর প্রবাসে কাটিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামে ফিরলেন মাগুরার তিন প্রবাসী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গত শুক্রবার সকালে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখান থেকেই সরাসরি হেলিকপ্টারে করে নিজ জেলা মাগুরায় পৌছান তারা। জেলা সদরের বুজরুক শ্রীকুন্ডী এম.এ. হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করলে পরিবারসহ নামেন আপন দুই ভাই ও আপন ভাতিজা।