শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন
নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।
এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।
দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।
শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।
সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।
প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।
এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।
মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।
এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।
দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।
সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।
বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।
একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (এ্যাব) এর আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেছেন,'আগে দেশে আওয়ামী লীগ যা বলত সেটাই ছিল আইন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমাণ করছেন দেশের জনগণ যেটা বলবে, যেটা চাইবে সেটাই হবে আইন।'
রবিবার (৩১ মে) দুপুরে নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে পরিষদ চত্বরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বগুড়ার মানুষ, দিনাজপুরের মানুষ যেটা বোঝে সেটা আমরা বৃহত্তর রংপুরের মানুষ বুঝি না। অবুঝ আমরা এখনো আছি। দেখি ভবিষ্যতে পরিবর্তন হয় কি না। সে আশায় থাকবো আমরা।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যদি আমাদের দলের লোকদের আনতে পারি, তাহলে সেখানে আমরা যে কোন মন্ত্রীর কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিতে পারবো। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আমি বলতে পারব এই লোকটি আমাদের এটি দিতে হবে। সেই অধিকারটা নীলফামারীর জনগণকে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী তুহিন জেলা পরিষদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রাজস্ব বরাদ্দের অর্থে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থে বাইসাইকেল, হুইল চেয়ার, সিলিং ফ্যান, টিউবওয়েল সহ নানা খেলার সামগ্রী বিতরণ করেন।
এতে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীমের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে জেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধান অতিথি। এরপর জেলা পরিষদের আধুনিক ডাক বাংলো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে জেলা পরিষদ স্কুল এন্ড কলেজের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন তিনি।
এসময় জেলা বিএনপির আহবায়ক মীর সেলিম ফারুক, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক রেয়াজুল ইসলাম কালু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মো. সোয়েম, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রাহেদুল ইসলাম দোলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আখতারুজ্জামান জুয়েল, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাহবুব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আল মাসুদ চৌধুরী সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে বির্তক বক্তব্যের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেম নামের সেই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) ওসি আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
অডিও রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’
ওই রেকর্ডে ওসিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সাথে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যে–ই অধিকার, সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার, সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’
এ বিষয়ে ওসি মো. আবুল হাশেম দাবি করেছেন, অডিওতে থাকা কণ্ঠ তার নয়। কীভাবে এমন একটি রেকর্ড তার নামে প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানিয়েছেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওসি আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বারাদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (৩১ মে) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি'র উপজেলার বারাদি সীমান্ত ফাড়ির নিয়মিত টহল দল সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তাদের আটক করে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দ করা হবে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের একটি বাড়ির লাকড়ি রাখার ঘর থেকে ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বার্মিজ প্রজাতির অজগর উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স কন্ট্রাক্টরের বাড়ির মো. আজমের ঘরে সাপটির দেখা মেলে। খবর পেয়ে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেস্কিউ টিম ইন বাংলাদেশের সদস্য আমির হোসাইন শাওন ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন।
তিনি জানান, মো. আজমের পরিবারের সদস্যরা রান্নার জন্য লাকড়ি আনতে গিয়ে লাকড়ির ঘরে সাপটি দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়া হয়।
আমির হোসাইন শাওন বলেন, “সম্ভবত খাদ্যের সন্ধানে সাপটি লোকালয়ে চলে এসেছে। উদ্ধার হওয়া বার্মিজ প্রজাতির অজগরটির ওজন প্রায় ১২ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট।”
উদ্ধারের পর অজগরটিকে নিরাপদে পাহাড়ি জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় একই দিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই এলাকা থেকে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন। জোড়া হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহতরা হলেন উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাগর হাওলাদার (৪০) ও আবদুর রশিদ বেপারী (৪৫)। নিখোঁজ ব্যক্তি একই এলাকার ব্যবসায়ী ইউসুফ পেয়াদা (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চালক সাগর হাওলাদার শনিবার (৩০ মে) বিকেলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পেছনে তার মরদেহ দেখতে পান। অন্যদিকে কৃষক আবদুর রশিদ বেপারী রাত ১১টার দিকে একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রোববার (৩১) সকালে নেহালিয়া এলাকার একটি মাদ্রাসা সংলগ্ন মক্তবখানার বারান্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে একই রাতে ব্যবসায়ী ইউসুফ পেয়াদা নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি, বিকেলে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষবার মোবাইলে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী (পিপিএম) বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে এবং জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ক্ষতিগ্রস্থ ৭২৪ জন কৃষককে নগদ অর্থ ও চাল ও বিতরণ করছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের আয়োজনে রবিবার (৩১ মে) বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।
বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ভূইঁয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো.শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান প্রমূখ।
এবার বোরো মৌসুমে উজানের পানি ও অতি বৃষ্টিতে হাওর অঞ্চলের ভৈরবের জোয়ান শাহী হাওরের কৃষকের ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত ৭শ ২৪ জন কৃষককে তিন মাস ১৫ কেজি চাল ও নগদ ৩ হাজার করে টাকা বিতরণ করা হয়। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদেরকে মানবিক সহায়তায় ৭শ২৪ জন কৃষককে ৩ মাস ১৫ কেজি চাল ও নগদ ৩ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদেশে খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
পারিবারিক কলহ ও পূর্বশত্রুতার জেরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও সদর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় মা-ছেলেসহ ডাকাত সর্দারকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল বাঁচামারা ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল বাঁচামারা ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের স্ত্রী আমিনা বেগম (৩০) ও তার দেড় বছরের শিশু পুত্র আসলাম হোসেন এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল কৃষ্ণনগর এলাকায় মুনছের আলীর ছেলে সজিব হোসেন (২৮)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘরে ঢুকে আব্দুস সালামের স্ত্রী আমিনা বেগম ও দেড় বছরের শিশু পুত্র আসলামকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র কুপিয়ে হত্যা করে আব্দুস সালামের ছোট ভাই ইউসুফ আলী। এরপর রাতে ১০টার দিকে আব্দুস সালাম বাড়িতে পৌছানো মাত্রই ছোট ভাই ইউসুফ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশ।
অপরদিকে পূর্ব বিরোধের জেরে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘরের ভিতরে সজিব হোসেন (২৮) নামের ডাকাতি ও মাদক মামলার আসামী কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও একটি ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি নিহত সজিব হোসেনের নেতৃত্বে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াবিল এলাকার কৃষক চাঁন মিয়ার বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে ৪জন ডাকাত সদস্য জনতার হাতে আটক হয়। ওই ঘটনা ও মামলার পর আত্মোগোপনে চলে যায় সজিব হোসেন।
দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার বলেন, খবর পেয়ে রাতেই নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকে পুলিশ কাজ করছে এবং হত্যাকান্ডে ব্যহৃত ধারালো অস্ত্রসহ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো.ইকরাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে নিহতদের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর মো. মেহেদি হাসান (৩১) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার গাওগোয়াইন গ্রামের মো. ফয়েজ উদ্দিন মালিথার ছেলে। শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টার দিকে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে মাওয়া নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটিতে পচন ধরেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদি হাসান ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে গত ২৫ মে তিনি রাজধানী থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। ওই দিন রাতে পরিবারের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, তিনি আরিচা ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর তাঁর মরদেহটি মাওয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান, নিহতের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহে প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে শরীরে পচন ধরায় অন্য কোনো চিহ্ন থাকলেও তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো রহস্যজনক ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করেছে নৌ পুলিশ। প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি যাওয়ার পথে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মেহেদি হাসানের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র ছেলের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায়ে স্বজনদের মাঝে আহাজারি চলছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী বাঁচামারা কাঁচারিপাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে পাষণ্ড দেবর ইউসুফ আলী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বড় ভাইয়ের স্ত্রী আমেনা আক্তার (৩০) ও শিশু ভাতিজা আসলাম (২) কে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বড় ভাই কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই নির্মম ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘাতক ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের কাচারি পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাঁচামারা কাচারীপাড়া গ্রামের সুলতান মোল্লার ছেলে ইউসুফ আলী (৪০)বেকার জীবন যাপন করছে বড় ভাই বাঁচামারা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম তাকে হাত খরচ বাবদ টাকা পয়সা দিয়ে চালাতেন। ইউসুফ আলী বিয়ে করার পর ৪-৫ বছর যাবত ঢাকায় থাকেন। ঈদের মধ্যে ইউসুফ আলী বাড়িতে আসে আসার পর থেকেই বড় ভাই সালামের সাথে আবার পারিবারিক কলহ শুরু হয়।
প্রতিদিনের মতো আব্দুস সালাম দুপুরের খানা খেয়ে বাচামারা বাজারে তার কাপড়ের দোকানে চলে যায়। দোকান থেকে আসতে রাত হওয়ায় এই সুযোগে পাষণ্ড ইউসুফ আলী হাতুড়ি দিয়ে ভাবি আমেনা আক্তার ও ভাতিজা আসলাম কে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। বড় ভাই সালাম দোকান বন্ধ করে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে ডাকাডাকি করার সময় ওত পেতে থাকা ঘাতক ইউসুফ আলী হাতুড়ি দিয়ে বড় ভাই সালামের উপর আক্রমণ করে।
এসময় সালামের চিৎকার কান্নাকাটি শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দুই জনের মৃতদেহ ঘরের খাটে উপর পড়ে থাকতে দেখতে পায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সালাম কে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি স্বপন কুমার সরকার জানান, হত্যার ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করি। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক ইউসুফ আলী কে গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
জলজ প্রাণী, মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ রাখতে আগামীকাল ১ জুন থেকে টানা তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশাধিকার বন্ধ হচ্ছে। এ সময় মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, পর্যটনসহ সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। বনবিভাগের এ সিদ্ধান্তে সুন্দরবননির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল ও বনজীবীর মধ্যে জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এরই মধ্যে নতুন পাস বা অনুমতিপত্র প্রদান বন্ধ করা হয়েছে এবং বন এলাকায় অবস্থানরতদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বননির্ভর মানুষজন জানান, তিন মাস বন বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেক পরিবারকে ঋণ করে সংসার চালাতে হয়। তারা নিষেধাজ্ঞার সময়ে খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও সংরক্ষণের স্বার্থে এ নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে কাউকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বনবিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনার একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার (৩১ মে) নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। এসব এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, "নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।"
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সারা দেশের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগগুলোর দুই-এক স্থানে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বাকি অংশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকলেও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা রয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে শনিবার (৩০ মে) দুপুরে পৌর শহরের দেওয়ান কমপ্লেক্স এই আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
দিনটি উপলক্ষে বাদ জোহর কোরআন খানির আয়োজন করা হয়। কোরআন খানি শেষে তালেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠু।
পরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা নাজমুল হক। দোয়ায় বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত শহীদ জিয়াউর রহমান, সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া, ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনাসহ দেশ ও জাতীর কল্যাণে দোয়া করা হয়।
এসময় জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি মো: মহসিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আওলাদ হোসেন (এজিএস), আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাজেদুল আলম স্বাধীন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইস্তাফুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আওয়াল শরীফ খোকন, প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সায়েদ আলী, জিন্নত আলী, যুগ্ম-সম্পাদক রিপন উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, ইমরান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান আকুল,
উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র সভাপতি বিপ্লব দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, পৌর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাবুল হক, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল হোসেন, জাকির হোসেন বেলায়েত, জামশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক, ধল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, জামির্তা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সায়েস্তা ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক শরীফ হোসেন মৃধা, বায়রা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেওয়ান সোহেল, যুগ্ম-সম্পাদক মোশারফ হোসেন, তালেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়া, বলধারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ লিয়াকত আলী, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক সাইদুর রহমান সাগর, থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিল, পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাসেল ও কলেজ ছাত্রদল নেতা শাহিলসহ উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, কৃষকদল, যুবদল, স্বেচ্চাসেবকদল এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ‘ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা, আপনারা কোন দল করেন আমি জানতে চাই না। কিন্তু আপনাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন জনগণের উপকারে আসে। আপনাদের পকেট যেন ভারি না হয়। তাহলে কিন্তু জেলে যেতে হবে, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। আপনারা যেন উন্নয়নের নামে লুটপাটে ব্যস্ত না হয়ে যান। ওই দিন শেষ হয়ে গেছে। এটা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। আমাদের নেতা তারেক রহমানের দলে এখানে লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই, দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি কাউকে করতে দেব না। পরিষ্কার কথা বলতে চাই।’
শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন আসবে। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন। আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, আর সিলমারার নির্বাচন হবে না। সংসদ নির্বাচনে সেটা প্রমাণ হয়েছে। আমাকে কি সিল মেরে এমপি বানিয়েছেন? না ভোটে? আমাকে ভোটে বানিয়েছেন। অতএব, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভোটে হবে। কোনো সিল হবে না। তাই আপনাদের বলব, ভালো লোকদের নির্বাচিত করবেন। কোনো রকমের হুমকি-ধামকির নির্বাচন হবে না। আপনারা ভালো মানুষকে প্রত্যেকটি জায়গায় নির্বাচিত করবেন।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে দাঁড় করিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে এমন সমৃদ্ধ করেছিলেন যে বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানি শুরু হয়েছিল। তিনি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে এমন সম্মানিত জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে, তাকে চীন বীরোচিত সম্মান দিয়ে চীনে নিয়ে গিয়েছিল। চীন থেকে তিনি একা ফিরে আসেননি, স্বীকৃতি নিয়ে ফিরে এসেছিলেন।’
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল, মানুষ এবং কুকুর একসঙ্গে যখন খাবার খেত, মানুষ মারা গেলে কলাপাতা দিয়ে দাফন করা হতো, কাফনের কাপড় পাওয়া যেত না, সেই দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য তিনি কোরিয়াতে লোক পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ইরির আবাদ এনেছিলেন। এক বিঘা (৫৬ শতাংশ) জমিতে, প্রতি শতাংশ জমিতে এক মণ ধান উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সরকার আজ দেশের শাসক নয়, দেশের সেবক হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। দেশের সেবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিদ্যুতের চরম সংকটের সময় প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে এসি চালাননি, এসি চালাতে দেননি। আমাদের দপ্তরেও এসি চালাইনি, এসি চালাতে দেননি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।