মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২

দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা

রোববার বগুড়া শহরের সাতমাথায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৫ আগস্ট, ২০২৪ ০০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৪ ২২:১৫

শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রোববার ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, নড়াইলসহ সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইদহে ৩০, নড়াইলে ২০, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পোস্ট অফিস, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন

নাটোর: নাটোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় তারা। সকাল থেকে অল্প অল্প করে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক আন্দোলনকারী জমায়েত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে দয়ারামপুর বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা সড়কে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

নওগাঁ: নওগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহরের কাজীর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন আরও অনেকে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এক দফা দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়ক দিয়ে যানচলাচল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের সরিষাহাটির মোড়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে অটোরিকশা চালকদের। অনেক পথচারীকে হেঁটে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। মোটকথা পুরো শহরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ভারী যানবাহন।

এদিকে সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করতে দোকান বন্ধ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিল দোকানদার আকাশসহ অনেক ব্যবসায়ী। তারা জানান, পথচারীরা যেন কোনো বিপদের সম্মুখীন না হয়, তাই তাদের সতর্ক করে বিকল্প পথে যেতে বলছি।

দুপুরের দিকে পার্টি অফিস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে আসতে চাইলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান বলেন, আন্দোলন ও বিক্ষোভের শুরু থেকেই পুলিশ তাদের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করার জন্য বলেছে। তাদের প্রতি পুলিশ সহনশীল আচরণ করছে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মোটকথা শহরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সারা শহরে তাণ্ডব চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।

শিক্ষার্থীরা সকালে শহরের মুজিব চত্বর থেকে এবং বিএনপি হাটের রাস্তা থেকে মিছিল বের করেন। তারা পায়রা চত্বরে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়। মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, থানায় হামলা, পুলিশ বক্স ভাঙচুর, পৌরসভা, ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কাজী আলী আহমেদ লিকুর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপুর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাঁধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। সে সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানি গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায়ে সারা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই শরিফুজ্জামানের মাথা ফেটে গেছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট খোলেনি। পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস-আদালত চলেছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নড়াইল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মিছিলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। মিছিলটি শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতুর ওপর উঠলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। এ সময় ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এত আল নাহিয়ান প্রিন্স নামে এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রিন্স নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামের শেখ আবু বক্করের ছেলে।

সীমাখালী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মোল্লা, মিলি খানম, শিমুল হাসান জানান, সেতুর দক্ষিণ পাশেই আমার বাড়ি। অনেক বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের ছেলেরা রাস্তার ওপর ইট ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারছিল। এদের হাতে হ্যান্ড মাইকও ছিল। পানি খেতে চাইলে আমরা তাদের পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। ওরা পানি পানের সময় বসে পান করছিল। ওদের কাউকে চিনি না।

প্রিন্স জানান, ‘চিত্রা নদীর উত্তর প্রান্তে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। আর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মী অবস্থান নেয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্য প্রান্ত থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। একটি বুলেট আমার পেটে লেগে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকাশ ঘোষ রাহুলসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন।

এদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এমন খবর ভেসে বেড়ালেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার কেরানীগঞ্জে আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে মডেল থানার ঘাটারচর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি, ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী গুরুতর এবং বেশ কিছু আন্দোলনকারী সামান্য আহত হয়। এর আগে (রোববার) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর এলাকায় গত ২১ জুলাই কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আটি ভাওয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে বড় মনোহরিয়া চৌরাস্তা এলাকায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পেছন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে মুহূর্তেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতা-কর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে বিভিন্ন দোকানপাটের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু সিদ্দিক ও তারানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক অবরুদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

এর কিছুক্ষণ পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আবারও ছাত্রদের ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘাটারচর এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং প্রধান ফটকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছাদের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের গণধোলাই দেয়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে ভবনের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ও ভবনের ওপর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে ভবনে আটকে থাকা অন্তত ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আন্দোলনকারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খুলনা: খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১২টার দিকে খুলনার শঙ্খ মার্কেটের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। বর্তমানে ওই মোড়ে প্রায় ৫/৭ হাজারের কাছাকাছি শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিব বাড়ি থেকে মিছিল সহকারে খুলনার আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে রওনা হয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।

সিলেট: সিলেটের বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছে। বেলা ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। জানা যায়, অসহযোগ চলাকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেন। এই এলাকায়ই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ার আগে থেকেই এ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের থামাতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেণেড ছুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেয়ে মূল সড়ক ছেড়ে আশপাশের গলিতে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

মোংলা (বাগেরহাট): মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় (বাগেরহাটের রামপাল) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে আহত হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাংবাদিক সবুর রানা ও সুজন মজুমদার।

এদিকে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ নিয়ে মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ভাগা এলাকায় সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বের হওয়া মিছিল শেষে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া জড়িয়ে পড়েন।

দিনাজপুর: জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বাসা ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা। রাবার বুলেট ও কাঁদলে গ্যাস ছুটছে পুলিশ। সদর হাসপাতাল, জোড়া ব্রীজ, ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, লিলির মোড়, বাহাদুর বাজার, স্টেশন রোড, কাচারী রোড, মডার্ণ মোড়, বুটিবাবুর মোড়, মুন্সীপাড়াসহ সারা শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শত শত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।

সকাল ১০টায় দিনাজপুর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী জমায়েত হতে শুরু করে। তারা মিছিল নিয়ে শহরের হাসপাতাল মোড়স্থ হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হুইপ ও বিচারপতির বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা বাড়ীতে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল বের করে বাসার গেটে এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জানা গেছে, ধাওয়া পাল্টা দেওয়ার সময় এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। ১০ জনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারা শহরজুড়ে থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহরের মোড়ে মোড়ে এখন আগুন জ্বলছে। এসব ঘটনা চলাকালে শহরের কোথাও সেনা সদস্য বা বিজিবির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে শহরের পলিটেকনিক মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অঙ্কন করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয়।

নেত্রকোনা: নেত্রকোনায় রোববার সকাল ১০টা থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারী ও সরকারের পক্ষের সমর্থক সহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শহরের সাতপাই, নাগড়া সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।

নোয়াখালী: নোয়াখালীতে রোববার সকাল থেকেই জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় আগুন দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় এখন কোথাও পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়নি। সকাল ১০ টার দিকে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুড়ে যাওয়া জেলা আওয়ামী লীগ অফিস দেখতে আসেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। একপর্যায়ে এমপি একরাম সহ তার অনুসারীরা ব্যর্থ হয়ে জেলা শহর থেকে চলে যান। শহরেরর সব কটি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা।

বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেনাবাহিনীর গাড়ী টহল দেওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘এ মুহূর্তে দরকার সেনাবাহিনীর সরকার’- স্লোগান দেয়।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল রোববার দিনব্যাপী সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা ৩টি পুলিশ বক্স, আওয়ামী লীগের অফিস, থানার সামনে রাখা গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায় পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের হামলায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের গুলিতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। থমথমে বিরাজ করছে কালিয়াকৈর।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন তারা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ তোলেন। রোববার সকাল থেকে জেলাজুড়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা একদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যান চলাচল বন্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কের দু’পাশে সৃষ্টি হয় যানজট।

একই সাথে শহরের কোর্টমোড় এলাকাতেও বিক্ষোভ করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। শহরের হাসপাতাল সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হলে তাদের ওপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জেলার বদরগঞ্জ, জীবননগর ও আলমডাঙ্গাতেও সড়কে নামে আন্দোলনকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আন্দোলনকারীদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, জগনাথপুর এবং কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এসময় আন্দোলনকারীরা কয়েকটি বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করে। তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির কিশোর যুবকদের আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব থানা আক্রমণ করতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।


অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নির্বাচন

# সীমান্তে নজরদারি, তবু থামছে না চোরাচালান # বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড বাড়াচ্ছে শঙ্কা # লুট হওয়া থানার অস্ত্র বড় উদ্বেগ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। এ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উদ্বেগ বাড়ছে রাজনীতিতেও। প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ড নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। সেই অস্ত্রই নির্বাচনে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির শঙ্কা তৈরি করছেন বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড ও সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধজগতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের চাহিদা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা ঘিরে সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রগুলো অস্ত্র মজুতের দিকে ঝুঁকছে। এই চাহিদার সুযোগ নিয়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গোয়েন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসী চক্রগুলো এখন আর শুধু মাঠপর্যায়ের সহিংসতায় সীমাবদ্ধ নেই। ইন্টারনেটভিত্তিক হুমকি, এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং হাওয়ালাভিত্তিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজির নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। ফলে অপরাধীদের গতিবিধি শনাক্ত করা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে অস্ত্র বেচাকেনার চেষ্টার তথ্যও গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে।
লুট হওয়া অস্ত্র বড় উদ্বেগ: নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে অতীতে থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়া।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় লুট হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি অস্ত্রের মধ্যে অধিকাংশ উদ্ধার হলেও এখনো ১ হাজার ৩২০টি অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। এসব অস্ত্র যদি অপরাধী চক্রের হাতে সক্রিয় থাকে, তাহলে নির্বাচনকালীন সহিংসতার মাত্রা বহুগুণে বাড়তে পারে।
এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীর কাছে থাকা বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রেরও নির্ভরযোগ্য হদিস এখনো মেলেনি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধারণা, পালিয়ে যাওয়া কিছু নেতা-কর্মী এসব অস্ত্র গোপনে সংরক্ষণ করে রেখেছে, যা ভবিষ্যতে নাশকতার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডে বাড়ছে শঙ্কা: সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ ও শরীয়তপুরে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনাকে সম্ভাব্য নাশকতার ‘রিহার্সাল’ হিসেবে দেখছেন অনেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তাদের মতে, এগুলো আসন্ন নির্বাচনে নাশকতার আগাম বার্তা হতে পারে। একইভাবে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং সর্বশেষ বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডও দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শুধু রাজধানী নয়, জেলাপর্যায়েও প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনা বাড়ছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি কমে যেতে পারে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সীমান্তে নজরদারি, তবুও বাড়ছে চোরাচালান: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি বারবার পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযান জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো অবশ্যই উদ্বেগজনক। পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের অধিকাংশ উদ্ধার হয়েছে, তবে এখনো ১ হাজার ৩২০টি অস্ত্র উদ্ধারের কাজ চলমান। অবৈধভাবে যেসব অস্ত্র দেশে ঢুকছে, সেগুলো উদ্ধারে যৌথবাহিনী কাজ করছে।’

গত শনিবার রাতে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে র‌্যাব দুটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর বাইরে পুলিশ ও বিজিবি সাম্প্রতিক সময়ে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী চাহিদা বাড়ায় চোরাচালানকারীরা নতুন রুট ও কৌশল ব্যবহার করছে।
প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের নতুন চ্যালেঞ্জ: তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধজগৎ এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, এনক্রিপশন এবং আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলো এখন আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের কাছে সরাসরি অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধির নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে এবং এগুলো নির্বাচনী সহিংসতার পূর্বাভাস হতে পারে।
যৌথ বাহিনীর অভিযান ও উদ্ধারচিত্র: আইএসপিআর জানায়, যৌথ বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪৯ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১০টি ককটেল, ধারালো অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুধু গত ডিসেম্বরে এক মাসেই উদ্ধার হয়েছে ৯টি পিস্তল, দুটি এয়ারগান, ১৩টি ম্যাগাজিন, একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২০ কেজি গানপাউডার, ১২ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ১৭ কেজি ২০০ গ্রাম পটাশিয়াম নাইট্রেট এবং ৩১৬ রাউন্ড গুলি। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে।


দেশের মালিকানার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে চাইলে গণভোটে অংশ নিন: পিরোজপুরে গণভোটে উদ্বুদ্ধকরণের উন্মুক্ত বৈঠকে বক্তারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি

‎‘জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। জনগণের হাতে দেশের চাবি। গণভোটের মাধ্যমে এই মালিকানার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে অংশ নিয়ে এই চাবির সঠিক ব্যবহার করুন। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এই সুযোগ হাতছাড়া করলে দেশের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।‘

‎সোমবার বিকালে পিরোজপুরের সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের খানাকুনিয়ারি পি ই আর ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয় সুধিজনদের নিয়ে পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক উন্মুক্ত বৈঠকে বক্তারা একথা বলেছেন। আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির আওতায় এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ। জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক সাইফুদ্দিন আল মাদানি, পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শারমিন আফরোজ, মাদ্রসার অধ্যক্ষ মুমিত চৌধূরী।

‎উন্মুক্ত বৈঠকে গণভোটের প্রেক্ষাপট, বিষয় ও বিবেচ্য প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত ব্যখ্যা তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপস্থিত সুধিজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণভোটে অংশ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজের অংশীদারিত্ব প্রমাণ করুন। দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন চাইলে গণভোটকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাবেন। তিনি জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে সরকার সেক্ষেত্রে সদা সতর্ক আছে জানিয়ে বলেন, কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, গুজব রটাতে চায় তৎক্ষনাৎ যেন তা প্রশাসনকে জানানোর ব্যবস্থা নেয়।

‎ভোট জনগণের আমানত, একথা উল্রেখ করে তথ্য অফিসের উপপরিচালক বলেন, দেশের মালিকানায় ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে চাইলে গণভোটে অংশগ্রহণ করতে হবে। আগামীতে দেশ কিভাবে চলবে সেই সিদ্ধান্ত দেয়ার সুযোগ এখন আমাদের হাতে। গণভোটের গোলাপী ব্যালটে সচেতনতার সাথে ‘হাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো। এজন্য সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরীক্ষিৎ চৌধুরী বলেন, এখনো একমাস সময় আমাদের হাতে আছে। গণভোটের বিষয়গুলো নিয়ে আপনাদের জানার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যেসব ডকুমেন্টারি দেখানো হচ্ছে, যেসব কাগজ বিলি হচ্ছে সেগুলোকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে এসম্পর্কে ভাল করে জেনেবুঝে প্রস্তুতি নিবেন। এসময় তিনি পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে গণভোটে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই উপলক্ষ্যে একটি সঙ্গীত দল শীঘ্রই পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থানে গণভোটের গান পরিবেশন করবেন বলে উপপরিচালক এসময় জানান।

‎এই উন্মুক্ত বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ছাড়াও, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

‎পরে কদমতলা বাজারে জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ভোটালাপ ও টেন মিনিটস টক করা হয়।

‎আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিস গত ১২ ডিসেম্বর থেকে দুই মাসব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে ছিল উঠান বা উন্মুক্ত বৈঠকের ১২তম পর্ব। এর আগে বিভিন্ন সময়ে জেলা তথ্য অফিস জেলা সদরের চিলা মতুয়া আশ্রম ও কুমিরমারা আবাসন, পুরাতন ঈদগাহ মাঠ, নাজিরপুরের মাটিভাঙা ইউনিয়নে, কাউখালির নতুন বাজার, নেছারাবাদের অলংকারকাঠি আবাসন, ইন্দুরকানির সদর ইউনিয়ন বাজার, ভান্ডারিয়ার ধাওয়া, ইকরি বাজার ও মাদারশি বাজারে, মঠবাড়িয়ার ধানিশাফা বাজারে মোট ১১টি বৈঠক আয়োজন করে। জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২৮টি স্থানে গণভোটে উদ্বুদ্ধকরণের ওপর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দেড়শত ইউনিটে রিকশাযোগে সড়ক প্রচার করা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে ভ্রাম্যমান দুইটি ‘ভোটের গাড়ি’র প্রচার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার নাজিরপুর ও ইন্দুরকানি উপজেলার ১০টি স্থানে কার্যক্রম চালানো হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আরো পাঁচ উপজেলায় এই ভোটের গাড়ি আবার ভ্রমণ করবে। এছাড়াও গণভোটে আপামর জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারিগণ জেলার বিভিন্ন বাজার, হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে প্রায় ৭৫টিরও বেশি ভোটালাপ ও অর্ধশতাধিক ‘ক্ষুদ্র সংলাপ’-এর মাধ্যমে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান। আন্তর্ব্যক্তিক এসব বৈঠক, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সড়ক প্রচার, ক্ষুদ্র সংলাপ, ভোটালাপের পাশাপাশি গণভোটে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকেও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কনটেন্ট নিয়মিত আপলোড করছে জেলা তথ্য অফিস। ‘জেলা তথ্য অফিস, পিরোজপুর’ তার নিজস্ব ফেইসবুক পেইজে এই পর্যন্ত শতাধিক কনটেন্ট আপলোড করেছে।

‎তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে সারা দেশের ৬৪টি জেলা তথ্য অফিস ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিস আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এই উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।


ঝালকাঠিতে থমকে আছে ১২৩ কোটির খয়রাবাদ সেতুর কাজ

আপডেটেড ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৯
ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের খয়রাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৩০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণকাজ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আড়াই বছর পার হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। ফলে ১২৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এতে স্থানীয় মানুষ ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার লাখো মানুষ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, সেতুর নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল শুরু হয়। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল। তবে বাস্তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। নদীর দুই পাড়ে মাত্র ১৮টি পিলারের আংশিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু স্প্যান বসানো হলেও সেতুর বাকি কাঠামো এখনো অসম্পূর্ণ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার কারাবন্দি থাকায় পুরো প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সাইটে নিয়মিত তদারকি নেই, শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ থমকে আছে।

স্থানীয় কলেজছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি চালু হলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ, নলছিটি ও বরিশাল সদর উপজেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এই রুটে অসংখ্য শিক্ষার্থী বরিশালে লেখাপড়া করতে যান। বর্তমানে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দারা, সোহাগ হাওলাদার, জাকির তালুকদার ও রিয়াজ মৃধা জানিয়েছেন, সেতুটি চালু হলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া, কলসকাঠি ও চরাদি ইউনিয়নের মানুষ উপকৃত হবেন। তবে নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্য এই সেতুর কার্যকর প্রয়োজন নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। এ ছাড়া সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক এখনো চলাচলের অনুপযোগী। আশপাশে উল্লেখযোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা জনবসতি না থাকার কারণে তারা বিপুল ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ পর্যন্ত প্রকল্পের বড় অংশ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা অগ্রিম বিল উত্তোলন করেছে। সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি আরও অবহেলার শিকার হয়েছে। প্রকল্পটি চরম ধীরগতি ও স্থবিরতার মধ্যে পড়ায় স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিনের আশা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


স্বামীকে জিম্মি করে গৃহবধূকে ধর্ষণ, আটক দুই আনসার সদস্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে জেলা সদর হাসপাতালের ভেতরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। গত রোববার মধ্যরাতে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ২য় তলায় (প্রশাসনিক কার্যালয়) এই ঘটনা ঘটে।

আটক আনসার সদস্যরা হলেন, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া এলাকার আবু সাঈদ ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সাহাদাত হোসেন।

গৃহবধূর স্বামী জানান, রোববার বিকেলে স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত হ্যালোবাইক ভাড়া করে মানিকগঞ্জে এক আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে আসছিলেন। কিন্তু মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে রাত গভীর হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জেলা সদর হাসপাতালের সামনে যায়। পরে সেখানে দায়িত্বে থাকা দুজন আনসার সদস্য হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ২য় তলায় (প্রশাসনিক কার্যালয়) যেতে বলেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে চলে যান। রাত ৩টায় তার (স্বামী) অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাসপাতালের (প্রশাসনিক কার্যালয়ের একটি কক্ষ) ভেতরে নিয়ে আমার স্ত্রীকে দুই আনসার সদস্য ধর্ষণ করেন।

তিনি আরও জানান, এরপর বাড়ি ফেরার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে ভোররাতে হাসপাতাল থেকে বের হই এবং থানায় গিয়ে পুলিশকে বিস্তারিত বললে পুলিশ দুই আনসার সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনার সঠিক বিচারও দাবি করেন তিনি।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ্য হলে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের সহকারী প্রাটুন কমান্ডার সাহেব মিয়া জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণের বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।


কুলাউড়ায় ডাকাতি করে পালানোর সময় দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গভীর রাতে সংঘটিত এক ডাকাতির ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশের অভিযানে চার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত মোটরসাইকেলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

গত রোববার রাত ২টার দিকে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকার বাগানবাড়ি পাকা সড়কে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জাকির হোসেন, মো. নাজিম মিয়া, মো. দেলোয়ার হোসেন ও জুবের আহমদ জুবলা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া (৪২) মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে পাঁচজন ডাকাত তাকে পথরোধ করে। দেশীয় অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে ডাকাতরা লালের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, একটি মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। পরে ডাকাত দলটি একটি মাইক্রোবাসযোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

খবর পেয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন ও কুলাউড়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যার নেতৃত্বে পুলিশ তাৎক্ষণিক চুনঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩টার দিকে ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় ডাকাতদের হামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অপর ডাকাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


অবৈধ ইটভাটা গিলছে ‘শস্যভাণ্ডারের’ কয়েকশ হেক্টর জমি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

কৃষিপ্রধান জেলা নওগাঁ। যা উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবেও পরিচিত। এ জেলার উৎপাদিত ধান, চাল ও নানা ফসলেই দেশের একটি বড় অংশের খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়। তবে নানা কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে সেই উর্বর ফসলি জমি। এর অন্যতম প্রধান কারণ অনুমোদনহীন অবৈধ ইটভাটা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ইটভাটায় নিয়ম ভেঙে নির্বিচারে পোড়ানো হচ্ছে খড়ি। ফলে একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে শত শত হেক্টর ফসলি জমি ধ্বংসের পথে। অভিযোগ দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওগাঁর পোরশা উপজেলায় বর্তমানে ১১টি ইটভাটা চালু রয়েছে। এর একটিও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এসব ভাটার মধ্যে অন্তত ৮টিতে খড়ি ব্যবহার করে ইট পোড়ানো হচ্ছে, যা আইন ও পরিবেশ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। অবৈধ এসব ইটভাটা কৃষকদের লোভনীয় অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জমি লিজ নিচ্ছে। আবার অনেক কৃষক বাধ্য হয়েই জমি লিজ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ।

নওগাঁ সদর উপজেলার বরুনকান্দি এলাকার দিঘা গ্রামের ভেতরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এমবিকে নামের একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ইটভাটার মালিক নির্বিঘ্নেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে এমবিকে ইটভাটার স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান দাবি করেন, আমরা আন্দোলন করার পর ডিসি অফিস থেকে এ বছরের জন্য মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যরা যেভাবে চালাচ্ছে, আমিও সেভাবেই শুরু করেছি।

পোরশা উপজেলার এক ইটভাটার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘১১টি ভাটার মধ্যে মাত্র ৩টি কয়লা ব্যবহার করছে, বাকি ৮টি পুরোপুরি খড়ি পোড়াচ্ছে। আমরা ডিসি অফিসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম খড়ি ব্যবহার করব না। আমি নিজেও ভাটার মালিক হয়েও প্রশাসনের কাছে কিছু বলতে পারছি না।’

পোরশা উপজেলায় ঢুকতেই সড়কের পাশে চোখে পড়ে কেএমএস ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা। পুরো ফসলি মাঠজুড়ে ভাটার কার্যক্রম চলছে। ভাটার ম্যানেজার তারেক আজিজ জানান, প্রায় ৮ বছর ধরে এই ভাটার কার্যক্রম চলছে এবং বর্তমানে ৫৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবেশ ছাড়পত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব ধরনের রাজস্ব দেওয়া হয়। আর ইটভাটা চালাতে গেলে একটু খড়ি তো লাগেই।’

এমবিকে ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘গ্রামের মধ্যে ইটভাটা কীভাবে সম্ভব? প্রশাসন একসময় বন্ধ রাখতে বলেছিল। ১৩৭ জন স্বাক্ষর দিয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব নাটকের কোনো মানে হয় না।’

তাদের অভিযোগ, ইটভাটার কারণে রাতের বেলা ভারী যান চলাচলে ঘুম ভেঙে যায়, ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং কৃষিজমি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।’

পোরশা উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আকবর আলী কালু ফোনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মিঠু বলেন, ‘কোনোভাবেই খড়ি পোড়ানো যাবে না। এটি আমাদের প্রথম কমিটমেন্ট ছিল। কেউ করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তবে এম.বি.কে ইটভাটা নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।’ এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকলেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। খড়ি পোড়ানোর বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চাইলে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা দেব।’

নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন জানান, যেসব ইটভাটায় খড়ি পোড়ানো হচ্ছে, সেখানে আগের মতো এবারও অভিযান চালানো হবে। অভিযোগের সময় এম.বি.কে ইটভাটা বন্ধ ছিল। চালু থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশনায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের ঘোষণা আসার পর গত এক মাসে জেলার ইটভাটা মালিকরা একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। তবে সে সময় জেলা প্রশাসন থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।


গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ক্লাব একটি আর্থসামাজিক সংগঠন হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা, সংস্কৃতি উন্নয়ন এবং আর্তমানবতার সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর এবং কমলাপুর এলাকায় এক বিশাল শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের মৌসুমে শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকশ অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বলসহ বিভিন্ন ধরণের শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।

উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর সঙ্গে কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন ক্লাবের সিনিয়র সভাপতি মোতাহার হোসেন এবং সহসভাপতি আনসারুজ্জামান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মিজানুর রহমান। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন যে, গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ক্লাব কেবল দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তাঁরা সবসময় পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধরণের মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা গ্রামীণ ব্যাংক অফিসার্স ক্লাবের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অম্বিকাপুর ও কমলাপুর এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। মূলত তীব্র শীতে কাঁপতে থাকা প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা জানানোই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ক্লাব কর্মকর্তারা দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


হজযাত্রীদের ২৫ জানুয়ারির মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত ১১ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই হজযাত্রীরা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হজযাত্রীদের যেসব পরীক্ষা করাতে হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইউরিন আর/এম/ই, র‌্যান্ডম ব্লাড সুগার (আরবিএস), এক্স-রে চেস্ট (পি/এ ভিউ) রিপোর্টসহ, ইসিজি রিপোর্টসহ, সিরাম ক্রিটেনিন, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি উইথ ইএসআর) এবং ব্লাড গ্রুপিং ও আরএইচ টাইপিং।

এ ছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নির্ণয়ের জন্য অতিরিক্ত কিছু পরীক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, হৃদযন্ত্রের অকৃতকার্যতার সন্দেহ হলে ইকোকার্ডিওগ্রাফি, কিডনি জটিলতায় এস ক্রিয়েটিনিন ও ইউএসজি অব কিইউবি, লিভার সিরোসিসের সন্দেহে ইউএসজি হোল অ্যাবডোমেন ও আপার জিআইটি এন্ডোস্কপি এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ শনাক্তে স্পুটাম ফর এএফবি, সিটি স্ক্যান অব চেস্ট, সিরাম বিলিরুবিন, এসজিপিটি ও অ্যালবুমিন গ্লোবিউলিন রেশিও পরীক্ষা।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ই-হেলথ প্রোফাইলের কপি টিকা কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের কাছে জমা দিয়ে টিকা গ্রহণ করতে হবে। টিকা সম্পন্ন হওয়ার পর হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করা হবে। হজসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ কল সেন্টার ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।


মেডিকেল কলেজে শহীদ মনিরের নামে হলের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে শহীদ মনির হোসেনের নামে একটি হলের নামকরণসহ তার পরিবারের পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম, রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. হারুন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ চালুর প্রাক্কালে জেএসএসের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের হামলায় মনির হোসেন নির্মমভাবে নিহত হন। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি এবং মনিরের পরিবার সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি।

সমাবেশে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা বিস্তার, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন সময় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়ও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

পিসিসিপি নেতারা অবিলম্বে শহীদ মনির হোসেনের নামে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের একটি হলের নামকরণ, তার পরিবারকে পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরি প্রদান, একই ঘটনায় আহত জামাল হোসেনকে ক্ষতিপূরণ এবং মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।


ডিএনসিসি নাগরিক পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি, ৫ প্রতিষ্ঠান

রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত গতকাল ডিএনসিসি নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজসেবা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বছর আটটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমাজের তিন ব্যক্তি এবং পাঁচটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে এই সম্মানজনক পদকে ভূষিত করা হয়।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আব্দুর রশিদ সোহাগ, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে শ্রুতি রানী দে এবং অ্যাডভোকেসিতে নাগরিক নেতা হাওয়া বেগম।

এছাড়া পদকপ্রাপ্ত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- স্যোশাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণে আপলিফট বাংলাদেশ, পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাষানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সামাজিক সংগঠন হিসেবে উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি, প্রাণী সুরক্ষায় ফাউন্ডেশন এবং সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ডিএসসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্টজন।

নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের মাধ্যমে যারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে।


জামালপুরে শিক্ষার্থী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয়রা। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার নারিকেলী এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থী ও গহেরপাড়া এলাকার স্থানীয়রা। অবরোধ চলাকালে নিহত জিহাদের মা তাহমিনা আক্তার শোভা, বড় ভাই অনন্ত, চাচাতো ভাই সাকিসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বক্তারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পূর্ব পরিকল্পিভাবে গহেরপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মুন্না, আবুল কাশেম, সাঈদসহ ৪ থেকে ৫ জন জিহাদকে মারধর ও ধারালো চাকু দিয়ে হত্যা করে।

এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা অবিলম্বে সকল আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অবরোধের কারণে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধের খবর পেয়ে সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, মামলার প্রধান আসামিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে স্বাভাবিক হয় যানবাহন চলাচল।

উল্লেখ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গহেরপাড়া এলাকায় স্থানীয় ফিরোজ মিয়ার ছেলে জিহাদকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত জিহাদের বাবা ফিরোজ মিয়া ৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


মধুপুরে দুস্থ অসহায় শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে অসহায় দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ। ছবি দৈনিক বাংলা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মধুপুর ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে দুস্থ অসহায় শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনী শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে মধুপুরে স্থাপিত বিএডিসি ক্যাম্পের মাঠে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পাহাড়িয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতের মধ্যে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র পেয়ে সুবিধাভোগীরা খুশি বলে জানিয়েছে।

বিতরণকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনায় ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার ও এরিয়া কমান্ডার ঘাটাইল এরিয়া মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ দরিদ্র অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্বোধন করেন।

সেনাবাহিনীর প্রেস বিজ্ঞাপিতে জানিয়েছে, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শীত মৌসুমে অসহায় ও দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও ঘাটাইল অঞ্চলের সেনাসদস্যরা।

ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ১৯ পদাতিক এ ধরনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে বলে আশাব্যক্ত করেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং। এ সময় সদর দপ্তর ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমাদ উদ্দিন আহমেদ, এসপিপি, পিএসসিসহ ঘাটাইল অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মধুপুরের কাকরাইদ সেনাক্যাম্পে শীতবস্ত্র নিতে আসা গাছাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রাবেয়া (৪০) জানান, তাদের এলাকায় কিছু দিন যাবত প্রচণ্ড শীত। এ সময়ে সেনাবাহিনীর এ শীতবস্ত্র পেয়ে সে খুব খুশি। শীত নিবারণে তার কাজে লাগবে।

জলছত্র গ্রামের বৃদ্ধ সুমতি দাস (৬০) বলেন, ‘এ শীতের মধ্যে কম্বলসহ প্যাকেজ উপহার পেয়ে সহায়তা পেয়ে সে আনন্দিত। সে ভাবতেই পারেনি, সেনাবাহিনীর কম্বল পাবে। তার বাড়ির পাশের মেম্বার একটি টিকেট দিছে, সেটা নিয়ে কাকারাইদ সেনাক্যাম্পে আসতে বলছে, এসে সে কম্বলসহ অন্যান্য শীতের বস্ত্র পেয়েছে।’

রামকৃষ্ণবাড়ি গ্রামের আজাহার আলী (৬০) জানান, তার বাড়ি কাকরাইদের পাশের গ্রামে। সে একটি স্লিপ পেয়ে এসেছে। এসে শীতের মধ্যে শীতবস্ত্র পেয়েছে। এ জন্য তিনি অনেক খুশি বৃদ্ধকালে এ সহায়তা পেয়ে আনন্দিত বলে জানালেন তিনি।

শুধু রাবেয়া, সুমতি আর আজাহারই নয় এমন প্রায় দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা সেনাবাহিনীর দেওয়া শীতবস্ত্র পেয়েছে বলে জানা গেছে। অরণখোলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, ‘তার এলাকাসহ আশপাশের এলাকা গ্রামের মানুষদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অংশ নিতে পেরে সে খুশি। শীতের সময় দরিদ্র অসহায় মানুষরা শীতবস্ত্র পেয়ে খুশি তেমনি সে নিজেও খুশি হয়ে।


দেবীগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন      

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি       

চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। সরিষার হলুদ ফুলে ভরে ওঠেছে একরের পর একর জমি। কোথাও খেতের পরিচর্যা করছেন কৃষকরা। আবার কোথাও দল বেঁধে সবাই দেখতে আসছেন সরিষার খেত। বিস্তীর্ণ উপজেলায়জুড়ে হলুদ ফুলের সমাহার। মৌমাছির আনাগোনায় ভরে উঠেছে সব খেত।

বোরো লাগানোর আগে কম খরচে এই অর্থকারী ফসল আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তারা। এই কৃষকদের দেখে আশপাশের অন্যান্য কৃষকরাও সরিষার আবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। সরিষা আবাদে খরচ কম এবং একই জমিতে বোরো চাষে খরচ কম লাগে। আমন ও ইরি বোরোর মাঝের উৎপাদনকারী ফসল সরিষা। তাই কৃষক এটি চাষে বেশি ঝুঁকছেন।

উপজেলার লক্ষীর হাট এলাকার কৃষক জানান, আমরা এবার সরকারিভাবে সরিষার বীজ পেয়েছি। আবাদ ভালোই হবে মনে হয়।

এবারে উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২০২৫-২৬ অর্থবছর এ সরিষার আবাদ- ৩,৮১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে।

এদিকে রোগবালাই ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যার ফলে দেবীগঞ্জ উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাঈম মোর্শদ জানান, তিনটি জাত সরিষার রোপণ করা হয় এ বছরে বারি সরিষা, বিনা সরিষা, স্থানীয় সরিষা টরি, আবহাওয়া ভালো রয়েছে, মাঠপর্যায়ে রোগবালাইয়ের আক্রমণ না থাকায় ফলন বাম্পার হবে বলে আশাবাদী ৪,০০০ কৃষককে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এখানকার সরিষা থেকে তেলের পাশাপাশি মধু উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ভোজ্যতেল ও মধুর চাহিদা পূরণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


banner close