কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশের অংশে নাফ নদীতে কড়া নজরদারি ও পাহারা থাকার পরেও মিয়ানমারে জান্তাবাহিনী এবং সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতে রোহিঙ্গাদের ঢল আবার অনুপ্রবেশ করছে বাংলাদেশে।
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড কার্যত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারছে না।
বিজিবি ও কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের দাবি, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা সামান্যই। রোহিঙ্গা বোঝাই অনেক নৌকাকে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেক রোহিঙ্গাকে পুশব্যাক করা হয়েছে।
প্রাণে বাঁচতে গতকাল রাতে ২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। আরও হাজার হাজার বেশি রোহিঙ্গা সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে পালিয়ে আসার পথে দুদেশের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণকারী নাফ নদীতে কয়েকটি নৌকা ডুবির ঘটনায় ১০-১৫ প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এ পর্যন্ত নাফ নদী থেকে ১৯ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ওসি ওসমান গণি।
শাহপরীরদ্বীপ বিওপির কোম্পানি কমান্ডার আব্দুর রহমান বাহার বলেন, গতকাল রাতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে, কিন্তু তাদের আটক করা হয়েছে। এ সংখ্যা বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এদিকে সোমবার রাতে দুটি নৌকা নিয়ে ২০০ শতাধিক জনের ওপরে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের অনেকের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা এখন উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে।
টেকনাফ সাবরাং খুরের মুখ বিজিবি অস্থায়ী ক্যাম্পের কর্মকর্তা বলেন, আমরা ২১ জন রোহিঙ্গা আটক করেছি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তাদের পুশব্যাক করা হবে।
সাবরাং নয়া বিওপির বিজিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, গভীর রাতে ২০০ শতাধিকের ওপরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে টেকনাফে।
আজ রাতে অনুপ্রবেশকারী হাছান মাহমুদ বলেন, আরকান আর্মি ৩০টি গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা বেশি রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য এখন রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করতে নতুন নতুন এলাকা বেছে নিচ্ছে। আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের এলাকায় এসে যুদ্ধ করলে তখন আমাদের গ্রামকে লক্ষ্য করে মিয়ানমার বাহিনী গুলি বর্ষণ করে। গত কয়েক দিন ধরে ৩ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এতেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। নারী, শিশু, বৃদ্ধ নিহত হচ্ছে।
মরিয়ম আক্তার নামের এক নারী জানান, মংডু সুএজাতে আমাদের গ্রামে মগবাগি ঢুকে আছে। আমরা বেশি কষ্টে ছিলাম। আমাদের নির্যাতন করেছে। আমরা ঘরবাড়ি পেলে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। আমাদের এলাকার দুজন মানুষ তার ঘর দেখতে গেছে দেখে আরকান আর্মি তাকে জবাই করে হত্যা করেছে। আমরা আসার আগেও হত্যা করেছে তিনজনকে। তাই ছেলেমেয়েকে নিয়ে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে চুরি করে চলে আসি। পথে তার স্বামীকে গুলি করে আরকান বাহিনী। টাকা ও গয়না যা ছিল সব লুট করে নিয়েছে তারা।
চট্টগ্রাম কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, আমাদের সব সময় চেষ্টা অব্যাহত আছে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে। অনেক রোহিঙ্গা পুশব্যাক করা হয়েছে ইতোমধ্যে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারিতে আছে। এবং ফাঁকফোকর দিয়ে দালালের মাধ্যমে কিছু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। সেসব দালালদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা ও নির্যাতন চালায়। সে সময় বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নামে। তখন সীমান্ত অতিক্রম করে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। আগে আসা রোহিঙ্গাসহ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ঠাঁই হয় উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে।
ধানমণ্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হলে তাকে আটক করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এ সময় কুমিল্লা থেকে আসা আরো এক নারীকেও আটক করা হয়। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে আজ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঢাবির এই অধ্যাপক। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।
পরে এদিন বিকেলে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যান আ ক ম জামাল উদ্দীন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দীন ওই এলাকায় গেলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে যান।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ফসল উৎপাদনের উৎকৃষ্ট চরাঞ্চল চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্ণেশন এলাকা। কৃষি পণ্য বহনে এ অঞ্চলের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি।
উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্ণেশন এলাকা। এই চরটি কৃষি নির্ভর এলাকা। কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে বেশিরভাগ মানুষ। এ অঞ্চলকে ফসলের স্বর্গরাজ্য বললেও কম বলা হবে। দিগন্ত ফসলের মাঠ জুড়ে নানান রকমের ফসলের সমারোহ। যেদিকেই তাকানো যায় সেদিকেই শুধু ফসল আর ফসল। বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন রকমের ফসলের চাষ হয় চর মহিদাপুর, মজলিশপুর ও চর কর্ণেশন এলাকায়। পিঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন চাষ প্রায় শেষের দিকে। এখন অবশ্য বেশ কিছু জমিতে পেঁয়াজ-রসুনের আবাদ রয়েছে। পেঁয়াজ-রসুন উঠে গেলেই শুরু হবে ইরি ধান চাষের ধুম পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষ হবে সেসব এলাকা জুড়ে। তবে কৃষি পন্য বহনে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হয় অনেক। এই চরাঞ্চলে রাস্তার বেহাল দশা। কৃষি পন্য বহনে এ অঞ্চলের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি। পন্য বহনে কৃষকের খরচ পরে যায় বেশি। ফলে কৃষকরা লাভবান হন কম। ভাঙা রাস্তার কারণে ক্ষেত থেকে তুলে তা বাজারজাত করতে প্রথমে ঘোড়ার গাড়ি এবং পরে অন্য যানবাহনে নিয়ে শহরে বিক্রি করতে হয়।
এ চরাঞ্চলের বেশ কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, সারাবছর কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে ভালো রাস্তা না থাকায় ফসল আনা-নেয়ায় খরচ পরে যায় বেশি। তারা দাবি করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন আমাদের এই চরের রাস্তাগুলো মেরামত করে দিলে আমরা চরবাসী উপকৃত হতাম।
এলাকাটি পদ্মা নদীর কোল ঘেষে গড়ে উঠায় বছরের প্রায় ৪ মাস বেশিরভাগ কৃষি জমি পানিতে থাকায় অনেকেই কৃষি কাজের পাশাপাশি মৎস্য শিকারে নিয়োজিত থাকে।
উজানচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ রাসেল শেখ বলেন, চরবাসীর চলাচল ও ফসল আনা-নেয়ার জন্য মজলিশপুর ব্রিজ করা হয়েছে। রাস্তার কাজ চলমান থাকায় চলাচল থাকায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। রাস্তার কাজ শেষ হলেই ভোগান্তি অনেকটা কমে যাবে।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার করে থানায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নজরুল ইসলাম (৫০) নামে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পদোরগাতি এলাকায় পুলিশের বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কনস্টেবল নজরুল ইসলামসহ ছয়জন আহত হন।
আশংকাজনক অবস্থায় কনস্টেবল নজরুল ইসলামকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মারা যান তিনি।
হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে সিএনজি অটোরিকশায় থাকা কনস্টেবল নজরুল গুরুতর আহত হন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশার চালক, গ্রেপ্তার আসামি এবং আরো তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লার লালমাইতে রেললাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মহি উদ্দিন (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লালমাই উপজেলার বাগমারা দুধবাজার বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মহি উদ্দিন পাশ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেঙ্গাহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, অটোরিকশা নিয়ে বাগমারা বাজারে যান মহি উদ্দিন।
তিনি রেললাইনে দাঁড়িয়ে একটি সেলফি তোলেন এবং সেটি ‘ইসলামি শান্তি’ নামের নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, শুভ সকাল।’ এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকাগামী একটি ট্রেন চলে এলে সরে যাওয়ার আগেই তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল ট্রেন। সম্ভবত সেই ট্রেনে কাটা পড়ে বাগমারা বাজারে মহি উদ্দিন নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই নিহতের স্বজনরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে গেছেন।
“মহা শীব রাত্রী” উপলক্ষে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শীব চতুর্দশী তিথিতে শীব স্নান করাবেন । দেশের তথা বিদেশ থেকেও প্রতি বছর এই শীব চতুর্দশী তিথিতে লক্ষ লক্ষ সনাতনী পুণ্যার্থীরা অংশ নিতে আসেন।
এশিয়া মহাদেশের অন্যতম সনাতনী সম্প্রদায়ের তীর্থ স্হান সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ মন্দির। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় বারশো ফুট উচু পাহাড়ের উপরে চন্দ্রনাথ মন্দির অবস্থিত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সনাতনী পুণ্যার্থীরা উপবাস থেকে পায়ে হেটে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা উচু রাস্তা বেয়ে বারোশ ফুট উপরে উঠে চন্দ্রনাথ মন্দির দর্শন, শীব স্নান ও পূজা দিয়ে আবার পুনরায় নীচে নেমে আসবে। এই উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এই বারও পসরা সাজিয়ে বিভিন্ন পন্যের মেলা বসেছে।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পন্য ব্যবসায়ীরা মেলা পসরা সাজিয়েছে। শীব দর্শন, স্নান ও পূজা তিন দিন কিন্তু শীব চতুর্দশীর এই মেলা পনেরো দিন ধরে চলবে, শেষ হবে আগামী দুল পুর্নিমায়। ব্যাস কুন্ডে পুণ্য স্নান করে পরিবারের পরলোকগতদের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ তর্পণ করছেন পুণ্যার্থীরা। সনাতনী পুরান মতে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে থেকে সীতাকুণ্ডে শীব চতুর্দশী অতিথিতে এই মেলা চলে আসছে। শীব চতুর্দশী তিথি ও মেলা উপলক্ষে স্রাইন কমিটি বিশেষ বিশেষ ব্যবস্হা গ্রহণ করেছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। সিসি ক্যমেরা দ্বারা মনিটরিং করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত দুই দিন আগে দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী কোন সহিংসতা হতে পারে ধারণা ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন গোষ্ঠীর মধ্যে। তাই এবার মেলায় লোক সমাগম একটু কম হয়েছে। অন্যান্যবার দশ থেকে বিশ লক্ষ লোক সমাগম হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত শনিবারের (১৪ ফেব্রুয়ারি) চেয়ে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চন্দ্রনাথ ধামের ব্যাসকুণ্ড, শ্রদ্ধাঙ্গন, ভৈরব মন্দির এলাকায় তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা বেড়েছে। ব্রাহ্মণরা ব্যাসকুণ্ডের শ্রাদ্ধ তর্পণ করছেন মতুয়া সম্প্রদায় ও জেলে সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানগুলো মোহন্ত আস্তান বাড়ির ভেতরে অনুষ্ঠান চলছে।
পুণ্যার্থীরা সীতাকুণ্ডের মঠ মন্দির পরিক্রমা করে স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির ও চন্দ্রনাথ মন্দিরের শিবের মাথায় জল ঢেলে স্নান করাচ্ছেন। তৃতীয় দিন অমাবস্যা তিথিতে মৃত পূর্বপুরুষের আত্মার সন্তুষ্টির জন্য শ্রাদ্ধ করবেন। মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তীর্থধাম এলাকায় পরিদর্শন করেছেন।
সীতাকুণ্ডের স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিরের পূজারী দীপক চক্রবর্তী জানান,শিব চতুর্দশী তিথি রোববার সন্ধ্যা ৬ টা ১৮ মিনিটে শুরু হয়ে থাকবে সোমবার সন্ধ্যা ৬ টা ২ মিনিট পর্যন্ত। এরপর চলবে পিতৃ পুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ-তর্পন। মেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী জানান, মেলায় পুণ্যার্থীর আগমন ঘটছে । শনিবার থেকে শুরু হওয়া শিব চতুর্দশী স্নান শেষ হবে সোমবার।
তিনি আশা করছেন তিন দিনের এ শিবচতুর্দশী মেলায় ১০ লক্ষ সনাতনী পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মেলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। সার্বিক মনিটরিং চলছে আসা করি নির্বিঘ্নে সমাগম সম্পূর্ণ করা যাবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এবারের মেলা নিরাপদ হবে এমন আশা করছেন তিনি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকায় সবজি ক্ষেতে পাখির উপদ্রব ঠেকাতে কৃষকের পেতে রাখা কারেন্ট জালে আটকা পড়ে নির্বিচারে মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। পরিবেশবান্ধব এসব পাখি হত্যা নিয়ে কৃষকদের তেমন মাথাব্যথা নেই।
এতে করে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বিচারে পাখি হত্যার এ অপচেষ্টা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সে ব্যাপারে সংশ্নিষ্টদের কোনো পদক্ষেপ কিংবা কৃষকদের সচেতন করার ব্যবস্থাও নেয়নি কেউ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমিতে নানান ধরনের সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এরমধ্যে বেগুন ও টমেটোর ক্ষেতে নানা প্রজাতির পাখির উপদ্রব থাকায় কৃষকরা ফসল রক্ষা করতে অনেক পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষেতের মধ্যে খুঁটি পুঁতে তাতে বিভিন্ন রঙয়ের ফিতা টানানো, টিনের ঢনঢনি বাজানো, কাকতাড়ুয়া স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব অনেকে পদ্ধতিই। অনেক এলাকায় কারেন্ট জাল দিয়ে ফসলের ক্ষেতকে পুরোপুরি ঢেকে দিতেও দেখা গেছে। এতে করে ওই ক্ষেতে পোকা কিংবা সবজি খেতে আসা বক, শালিক, ঘুঘু, বাঁদুর, চড়ুইসহ বিভিন্ন দেশীয় পাখি জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চরকর্ণেশন এলাকার এলাকার কৃষক মো. ওমর আলি জানান, তিনি প্রায় ২ বিঘা জমিতে বেগুনের আবাদ করেছেন। এ জন্য অনেক ধার-দেনা করতে হয়েছে। এবার ফলনও ভালো হয়েছে। বেগুনের ওজন হয়েছে ২০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত। কিন্তু ক্ষেতে পাখি বসে ঠোকা দিয়ে অনেক বেগুন নষ্ট করে ফেলছে। ঠোকানো বেগুন বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও পাখি ঠেকানো যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে কারেন্ট জাল দিয়েছি। জালে পাখি আটকা পড়লেও তিনি ছেড়ে দেন বলে দাবি করেন।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের আক্কাস আলী হাইস্কুলের পেছনে এলাকার কষক মোবারক খাঁ বলেন, কিছু সবজি ক্ষেতে পাখি ক্ষতি করলেও অনেক ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসলের উপকার করে। তাই পাখি মারা যাওয়ার মতো কারেন্ট জাল পদ্ধতি ব্যবহার করা ঠিক না। বিকল্প হিসেবে ক্ষেতের চারদিক ও মাঝখান দিয়ে ঘনঘন খুঁটি পুঁতে নানা রঙয়ের পাতলা ফিতা টানিয়ে পাখির উপদ্রব থেকে সবজি রক্ষা করা য়ায়। বাতাসে এ সকল ফিতায় সৃষ্ট ভনভন শব্দে পাখি ভয় পেয়ে ক্ষেতে তেমন একটা বসে না।
আরেক কৃষক বলেন, ৩ বিঘা জমিতে টমেটোর আবাদ করেছি। চলতি বছরে টমেটোর দাম ভালো পেয়েছি। তবে পাখির উপদ্রব ঠেকাতে ক্ষেতের উপর জাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছি। জালে অনেক পাখি রাতে আটকা পড়ে মারা গেছে। কি আর করবো পাখির উপদ্রব ঠেকাতে আমাদের এ ব্যবস্থা করতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গোয়ালন্দ নদী এলাকা হওয়ায় কৃষকরা জেলেদের কাছ থেকে সহজেই কম দামে পুরনো কারেন্ট জাল সংগ্রহ করতে পারেন। এতে কৃষকরা এই পদ্ধতিতে সবজি রক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও অনেক পাখিই আছে যেগুলোর বেগুন বা অন্যান্য সবজি খাওয়ার অভ্যাস নেই। অথচ কারেন্ট জালের ফাঁদে পড়ে নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে পরিবেশবান্ধব দোয়েল, শালিক, বুলবুলি, পেঁচা, চড়ুই ও কবুতরসহ নানা প্রজাতির পাখি।
পাখিপ্রেমীরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের নীরবতায় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা অবাধে কারেন্ট জালের মতো পাখির জন্য বিপদজনক পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল রক্ষার নামে পাখি নিধন করছেন। তবে প্রশাসন বলছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা আরও বলেন,
প্রকৃতিকে সুন্দর করে রাখে পাখি। আর এ পাখি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। অনেক পাখি ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে থাকে। ফসলের ওপর থেকে বিরূপ প্রভাব ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রকৃতির বন্ধু পাখি রক্ষায় প্রশাসনের এখনই পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রায়হানুল হায়দার জানান,‘খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ফসল উৎপাদনের যেমন বিকল্প নেই ঠিক তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পরিবেশে থাকা পশুপাখিরও বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অনেক বেশি। পাখি যতটুকু না ফসলের ক্ষতি করে, সবজির ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি উপকার করে। তাই পাখি তাড়াতে কারেন্ট জালের মতো মৃত্যু ফাঁদ পাতা উচিৎ নয়। তবে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে উপজেলার অনেক কৃষকই কারেন্ট জাল ব্যবহার করে থাকেন। এটা না করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ ও সচেতন করতে কৃষি বিভাগ অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বগুড়ার শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহসান হাবিব (৪৬) নামের এক ফায়ার ফাইটারের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে শেরপুর গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আহসান হাবিব গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ধনারুহা গ্রামের আবেদার রহমানের ছেলে। তিনি শেরপুর ষ্টেশনে ফায়ার ফাইটার হিসাবে কর্মরত ছিলেন
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, চান্দাইকোনা এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে বের হওয়ার সময় আহসান হাবিব রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক থামানোর পর পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি বাস ট্রাকটিকে ধাক্কা দিলে ট্রাকটি তার ওপর উঠে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইছ উদ্দিন জানান, বাস ও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে রাত ১টার দিকে পারাপারের সময় খাদিজা খাতুন (৩৯) নামের এক নারী প্রাইভেট কারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। এছাড়া রাত ৯টার দিকে মহাসড়কের দশ মাইল এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে আরো চারজন আহত হয়েছেন।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার উদ্দিন জানান, লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আইন অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামিকুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা ও আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছিল।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে থাকাকালীন সামিকুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। রাত ১২টার দিকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে পৌঁছানো হয় এবং সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন ভোরের দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গাইবান্ধা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ সামিকুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, “সামিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ডাযাবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জনিত রোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি রংপুর মেডিকেলে ভর্তিও ছিলেন।” তিনি আরও জানান যে, সামিকুল ইসলাম অসুস্থ হওয়ার পরপরই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে পুলিশ স্কোয়াডের মাধ্যমে রংপুরে পাঠানো হয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে বিএনপির একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবজেল হোসেন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই কার্যালয়টি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, দুর্বৃত্তরা শেষ রাতে কার্যালয়ের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে, যার ফলে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুসহ উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ছবি ভস্মীভূত হয়েছে এবং এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার সময় নিকটস্থ একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রহরী হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ খলিল জানান, ফজরের নামাজের আগে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁকে বাইরে বের না হওয়ার জন্য মারধরের হুমকি দেয় এবং এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি কার্যালয়টিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। এই নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু বলেন, “রাতের আঁধারে আমাদের কার্যালয়ে হামলা করে বিএনপিকে ভয়ভীতি দেখানোর দুঃসাহস দেখানো হয়েছে। নবনির্বাচিত এমপি দিপু ভুঁইয়ার বিজয়কে যারা মেনে নিতে পারেনি, তারা এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে।” রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। পরাজিতরা ষড়যন্ত্র করলেও আমরা উসকানিতে পা দেব না।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবজেল হোসেন জানিয়েছেন যে, অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, “তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে তালাকপ্রাপ্তা বিবি জহুরার পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জহুরাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং তাঁর তিন সন্তানের পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার তাঁর স্ত্রী জহুরাকে মৌখিকভাবে তালাক প্রদান করেন।
উক্ত মানবিক সহায়তা প্রদানকালে ফেনী-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, মশিউর রহমান বিপ্লব, আবু তালেব, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, ফেনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার, সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, সদস্য আহসান সুমন এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, “ধানের শীষে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই নারীকে তার স্বামী তালাক দিয়েছেন। এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে, তা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা ভুক্তভোগী এ পরিবারের পাশে থাকব। পরবর্তীতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
সহায়তা প্রদান শেষে আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, “তারেক রহমানের নির্দেশে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তার স্বামী আমাদের দলের কেউ নন। তবুও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারটির পাশে থাকা। আগামীতেও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার তাগিদে বিএনপি এই পরিবারের প্রতি ভবিষ্যতে আরও সমর্থন ও সহায়তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে ফাহিম হাসান নামের ১৯ বছর বয়সী এক ছাত্রদল নেতাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ফাহিম বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য এবং স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনি মাটিডালী দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। ফাহিমের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেওয়া হোক।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফাহিম কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে তনয় নামের এক যুবক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তনয় তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে ফাহিম গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, অভিযুক্ত তনয় ফাহিমের বোনকে বিয়ে করতে চেয়েছিল, কিন্তু পরিবার তাতে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল।
নিহতের রাজনৈতিক অবস্থান ও পূর্ববর্তী ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফাহিমের বোনের স্বামী মো. সেতু মিয়া জানান, ‘এর আগে তনয় তাকেও ছুরিকাঘাত করেছিল। ফাহিম ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় হামলাকারীরা ক্ষুব্ধ ছিল।’ ব্যক্তিগত শত্রুতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত তনয় বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে ককটেল তৈরির সময় এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার ভোররাত পাঁচটার দিকে ইউনিয়নের পাঠাপাড়া গ্রামের একটি বসতবাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে সংশ্লিষ্ট বাড়িটির ইটের দেয়াল ধসে পড়েছে এবং চালের টিন কয়েকশ ফুট দূরে ছিটকে গেছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিস্ফোরণে তাদের মুখমণ্ডল ও দেহ মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিতে কাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, পাঠাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. কালামের বাড়িতে গোপনে ককটেল তৈরির কাজ চলছিল। কাজ চলার এক পর্যায়ে সেখানে হঠাৎ করে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুইজনের প্রাণহানি ছাড়াও আরও তিনজন গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। আহতরা হলেন পাঠাপাড়া গ্রামের মিনহাজ (৫২), বজলুর রহমান (২০) এবং রানীহাটি এলাকার মো. শুভ (২০)। বিস্ফোরণের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা দ্রুত তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
বর্তমানে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চরবাগডাঙ্গা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে। সদর থানার ওসি জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া ওই বাড়িতে ককটেল তৈরির পেছনের কারণ এবং এর সাথে কারা জড়িত ছিল তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কর্ণফুলী টানেল সড়কের চৌরাস্তামোড় এলাকায় এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি ঘটে। নির্বাচনী ডিউটি সম্পন্ন করে ২৩ জন সদস্যকে বহনকারী একটি বাস গন্তব্যে ফেরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের রেলিংয়ে উঠে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মো. আব্দুল জব্বার নামের এক আনসার সদস্য, যার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায় এবং তিনি চট্টগ্রামে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনায় বাসে থাকা আরও বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম বিএনএস হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং সাতজন এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কর্তব্যরত অবস্থায় সহকর্মীর এমন অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি নিহত সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য যে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দেশজুড়ে ৫ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি আনসার সদস্য নিয়োজিত ছিলেন, যাদের মধ্য থেকেই একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আব্দুল জব্বার দায়িত্ব পালন করছিলেন। মূলত বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।