চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদিরা বিদ্রোহ করেছেন। আজ শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে কারাগারের ভেতর শুরু হওয়া সংঘর্ষ প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারারক্ষীরা রাবার বুলেটে ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়েন। এতে কয়েকজন কয়েদি আহত হন বলে জানা গেছে। উত্তেজনা কমাতে বর্তমানে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কারাগারের গেটের দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, দুপুরে নামাজের পর হঠাৎ কারাগারের একাধিক ভবনে কয়েদিরা বিদ্রোহ শুরু করেন। আমাদের পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলি করা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আমাদের অনেক কারারক্ষীও আহত হয়েছেন।
লালদিঘীর পার এলাকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, দুপুর থেকে কারাগারে ভেতর থেকে ব্যাপক গুলির শব্দ শোনা যায়। বাইরে থেকেও কিছু মানুষ কারাগারের প্রধান ফটক ভাঙার চেষ্টা করেন। নামাজের পর হঠাৎ কারাগারের ভেতর থেকে বিকট আওয়াজ আসে। এ সময় লালদীঘির চারপাশে রাস্তা-ঘাটে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কারারক্ষী বলছেন, নামাজের পর হঠাৎ কারাগারের একাধিক ভবনের কয়েদিরা বিদ্রোহ শুরু করেন। ভেতরে কারারক্ষীদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করতে পারিনি। বিদ্রোহ দমনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেল সুপার মঞ্জুর হোসেন বলেন, বিদ্রোহ শুরু হলে কারাগারে পাগলা ঘণ্টা বাজানো হয়। এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কতজন আহত হয়েছেন তা এখনো বলা যাচ্ছে না। কারাগারের ভেতরে সেনাবাহিনী রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবসময় কারাগারে সেনাবাহিনী রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইব্রাহিম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কারাগারে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পৌঁছেছে। একজন বন্দিও পালাতে পারেনি। এ ঘটনা কেন ঘটেছে সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।
এর আগে গত ৫ আগস্ট বিকেলে কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ ও কারারক্ষীরা হামলা প্রতিরোধ করেন। বর্তমানে কারাগারে প্রায় ৪ হাজারের বেশি বন্দী রয়েছে। কারাবন্দিদের রাখার জন্য পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ভবনের প্রতিটিতে বন্দি রাখার ধারণক্ষমতা ৩০০ জন। সাংগু, কর্ণফুলী ও হালদা ভবনের প্রতিটিতে বন্দি রাখার ধারণক্ষমতা ২৪০ জন।
আগামী ২০-২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ‘টেক্সওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক-২০২৬’ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের শিল্প সক্ষমতা তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।
নিউইয়র্কের জাভিতস কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনটি বিশ্বের একটি প্রভাবশালী ও বৃহৎ টেক্সটাইল সোর্সিং ইভেন্ট হিসেবে স্বীকৃত। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানটিতে কৌশলগত নেতৃত্ব দিচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), যা দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রচারে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।
ইপিবির ব্যানারে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে এম অ্যান্ড এ কম্পোজিট লিমিটেড, গোল্ডেন টেক্স, ব্লু অ্যাপারেল, হেরা সোয়েটারস, পিএম সোর্সিং, এক্সকম ফ্যাশন, এবি অ্যাপারেলস এবং ডিজাইন সোর্সিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন।
সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত এই দলের বাইরে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস স্বতন্ত্র প্রদর্শক হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও টেক্সওয়ার্ল্ড এন ওয়াই সি যৌথভাবে আয়োজিত এই ইভেন্ট একই ছাদের নিচে জড়ো করছে শত শত আন্তর্জাতিক ফেব্রিক্স সরবরাহকারী, অ্যাপারেল উৎপাদক কারখানা। এখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাজুয়াল কটন ও নিট থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, লেস এবং আধুনিক টেকসই উপকরণসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন করবে।
বাংলাদেশের উদীয়মান টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল শিল্প, যা তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তার শক্তি ও চাহিদার জন্য বিশ্বময় জনপ্রিয়। টেক্সওয়ার্ল্ড ইউ এস এ সৃজনশীল ও নতুনত্ব, টেকসই সোর্সিং ট্রেন্ড তৈরি ও অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় একটি উপর্যুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃত।
দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি। এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে এবং শৈত্যপ্রবাহের আওতায় থাকা জেলার সংখ্যাও কমেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এদিন সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ও সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তিনি বলেন, “এটি আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগের দিন বুধবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুই দিন ধরে শ্রীমঙ্গলে চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে।”
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী কয়েক দিন শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করতে পারে। তবে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে, ফলে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ থেকে জানান : কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। উত্তর ও পূর্বাঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া এবং ঘন কুয়াশায় ভোরের সূর্য আড়াল হয়ে থাকছে। হাড়কাঁপানো এই শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মৌসুমে এ এলাকার দ্বিতীয় তাপমাত্রা গত ১ লা জানুয়ারি রেকর্ড ছিল ৯.১ সেলসিয়াস সর্বনিম্ন।
ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। ভোর থেকে চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলাতেও মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে যানবাহন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। মাঝে মাঝে দুপুরের দিকে সূর্য উঁকি দিলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ।
রিকশাচালক কবির হোসেন বলেন, “গত ১৫ দিন ধরে ঠিকভাবে সূর্য দেখা যায় না। আজ শীত আরও বেশি। সকালে রাস্তায় যাত্রী পাওয়া যায় না। কুয়াশার কারণে ১০–১৫ হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না।”
কুমিল্লা সদর উপজেলার বানাসুয়া মৌজার কোড়েরপাড় এলাকায় গোমতী নদীর দুপাড়ের বেরিবাঁধ সংলগ্ন সড়ক এলাকায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, সোহেল মিয়া ও শরিফুল ইসলাম জানান, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে শীত কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
এদিকে তীব্র শীতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি শীতজনিত উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শীতবস্ত্র বিতরণ নিয়েও দেখা দিয়েছে সংকট।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লা জেলায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৫ হাজার কম্বল। অন্য বছর এই সংখ্যা থাকত প্রায় এক লাখ। প্রাপ্ত কম্বলগুলো বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে গ্রামীণ ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ শীতবস্ত্রের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন।
একসময় নাফ নদীর ঢেউয়ের তালে তালে ঘুরত কক্সবাজারের টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা। দিনে দিনে ট্রাকের সারি, কার্গোবোটের ভিড়, শ্রমিকদের কোলাহল আর ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততায় মুখর থাকত শাহপরীর দ্বীপ গবাদিপশু করিডোর ও টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা। আজ সেখানে শুধুই নীরবতা। ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের নাফ নদী এখন সীমান্ত বাণিজ্যের নয়, বরং মাদকপাচার আর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ, সীমান্তজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে টেকনাফ স্থলবন্দর। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার টানা তিন বছর ধরে বন্ধ রেখেছে শাহপরীর দ্বীপ গবাদিপশু করিডোর। টেকনাফের এই দুটি প্রধান সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র অচল হয়ে পড়ায় এর সরাসরি প্রভাবে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি প্রতি বছর সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন বছর ধরে বন্ধ থাকা গবাদিপশু করিডোরটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত। একসময় যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ট্রাক দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকত, সেখানে এখন ভাঙাচোরা অবকাঠামো, মরিচা ধরা যন্ত্রাংশ আর ঝোঁপঝাড়ে ঢাকা ফাঁকা মাঠ। করিডোরের একটি অংশ বর্তমানে সেন্টমার্টিনগামী স্পিডবোট জেটি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও মূল বাণিজ্য কাঠামো সম্পূর্ণ অচল।
টেকনাফ স্থলবন্দরও একই চিত্র। মিয়ানমারে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর গত ৯ মাস ধরে বন্দর কার্যত অচল। কার্যালয় খোলা থাকলেও নেই কোনো পণ্যবাহী ট্রলার, নেই শ্রমিক বা ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। বন্দরের মূল ফটকে কেবল দুজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা পরিণত হয় জনশূন্য প্রান্তরে। গুদামগুলোর সামনে ঘুরে বেড়ায় ছাগল, চারদিকে ছড়িয়ে আছে পচে যাওয়া পণ্যের গন্ধ।
একসময় এই দুই সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্রকে ঘিরে শ্রমিক, ট্রাকচালক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী ও সহায়ক কর্মী মিলিয়ে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের জীবিকা নির্ভর করত। করিডোর ও বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা।
অনেকে পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন, কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ ছোট দোকান দিয়েছেন, কেউ আবার বেকার হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভাবের তাড়নায় কেউ কেউ মাদক বহনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
জেটি ঘাটে বসে থাকা মোহাম্মদ কাশেম বলেন, ‘দশ বছর ধরে মিয়ানমার থেকে পশুবাহী ট্রলার খালাসের কাজ করতাম। দিনে ৫০০-৭০০ টাকা আয় হতো। তিন বছর ধরে কাজ নেই। আমাদের সঙ্গে প্রায় আড়াইশ দিনমজুরের সংসার এখন অনাহারে।’ পেটে ভাত দেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন সময় মাদকপাচারের জড়িত হচ্ছে।
চোরাই পথে গবাদিপশু আমদানি ঠেকাতে সরকার ২০০৩ সালের ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপ গবাদিপশু করিডোর চালু করে। এর মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গরু, মহিষ ও ছাগল আমদানি করে নিয়মিত শুল্ক ও ভ্যাট আদায় হতো। শুল্ক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০০২-০৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ১৮ বছরে এই করিডোর থেকে সরকার রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ৩৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। গড়ে বছরে রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। কিন্তু গত তিন বছর ধরে করিডোর বন্ধ থাকায় এই রাজস্ব প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ।
২০২৩ সালের ৯ জুলাই দেশের খামারিদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ কক্সবাজারে রোহিঙ্গাসহ প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের বসবাস, যেখানে গবাদিপশুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
শুল্ক কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, করিডোর বন্ধ থাকায় সরকার তিন বছর পাঁচ মাসে আনুমানিক ৭ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। গড়ে বছরে ২ কোটি ৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সরকারি কোষাগারে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোর আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘তিন বছর ধরে শত শত দিনমজুর পরিবার এখন দুর্দিনে। অনেক ব্যবসায়ী মিয়ানমারে পশু কিনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা আটকে রেখেছেন। যদি করিডোর চালু না হলে তারা পথে বসবেন।’
কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি: ১,৯৯,২২৫ টন, রাজস্ব: ৪০৪ কোটি টাকা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি: ৭৮,৫২৭ টন, রাজস্ব: ৬৪০ কোটি টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি: ১৫,৭৫৭ টন, রাজস্ব: ১০৮ কোটি টাকা বর্তমানে ৯ মাস ধরে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সরকার ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
বন্দরের গুদামগুলো তালাবদ্ধ। রপ্তানিকৃত পণ্যে পচন ধরেছে। এতে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের টেকনাফের মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘৯ মাসে আমাদের সরাসরি লোকসান প্রায় ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রায় ১৫ কোটি টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, ‘স্থলবন্দর খোলা থাকলেও বর্তমানে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বিজিবির সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পণ্য আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’
কক্সবাজার বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বৈধ আমদানি-রপ্তানিতে বিজিবির কোনো বাধা নেই। তবে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য পণ্যবাহী ট্রলার যাচাই করা হবে, কারণ অতীতে আরাকান আর্মির জন্য অবৈধভাবে সিমেন্ট পাচারের ঘটনা ঘটেছে।’
টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে এবং সব আমদানি-রপ্তানি বৈধভাবে হয়। মিয়ানমার সরকারকে শুল্ক দিয়েই পণ্য আনা হয়। কিন্তু নাফ নদী দিয়ে আসার সময় যদি আরাকান আর্মিকে কর দিতে হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা কে দেবে? তাই নাফ নদীপথে পণ্যবাহী ট্রলার চলাচলে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল প্রয়োজন।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে মিয়ানমার থেকে আমদানি-রপ্তানি কখন ও কীভাবে নিরাপদে শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি শাহপরীর দ্বীপ গবাদিপশুর করিডোর চালুর বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের আগামীকাল ১০ জানুয়ারি পুনর্মিলনী উপলক্ষে এক বিশাল আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) কলেজ ক্যাম্পাস থেকে আনন্দ র্যালি শুরু হয়ে কুলাউড়া শহর প্রদক্ষিণ করে শহরের ডাকবাংলো মাঠে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে নানা বয়সী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
র্যালি শেষে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সাবেক শিক্ষার্থী সুফিয়ান আহমদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী শওকতুল ইসলাম শকু, খন্দকার আব্দুস সোবহান, সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, কৃপাময় চন্দ্র শীল, জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, ফজলুল হক ফজলু, মো. জাকির হোসেন, সিপার উদ্দিন আহমদ, বদরুজ্জামান সজল, খালেদ পারভেজ বখ্শ, রেদওয়ান খান, মইনুল ইসলাম শামীম, একেএম শাহজালাল, মো. আব্দুল বাকী, লুৎফুর রহমান, মশিউর রহমান, জিল্লুর রহমান রওশন, হেমন্ত চন্দ পাল, নির্মাল্য মিত্র সুমন, শামীম আহমদ, ফেরদৌস খান, রেহান উদ্দিন আহমদ, নাসির জামান খান জাকি, নুরুল ইসলাম বাবলা, আব্দুল কাইয়ুম মিন্টু, রানা মজুমদার, আব্দুল মুনিম হাসান, এনাম উদ্দিন, ময়নুল হক পবন, রাহাত তাজুল, আব্দুস সামাদ আজাদ চঞ্চল, কামরুল হাসান, নুরুল ইসলাম ইমন, সোমা দেব, মৌসুমী রায়, তাহমিনা আক্তার শিউলী, একেএম জাবের, নাজমুল বারী সোহেল, সিরাজুল আলম জুবেল, মাহফুজ শাকিল, খালেদ খান, সাজুল ইসলাম, সাইফুর রহমান, মৌসুম সরকার, আব্দুল্লাহ সালেহ চৌধুরী আলিফ, আশরাফুল ইসলাম জুয়েল, ইব্রাহিম মাহমুদ, শেখ বদরুল ইসলাম রানা, আফজাল হোসেন প্রমুখ।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কুলাউড়া সরকারি কলেজ ৫৬ বছর পূর্ণ করেছে। কলেজের ৫৬ বছর পূর্তিতে পুনর্মিলনীর বর্ণাঢ্য উৎসব আগামী ১০ জানুয়ারি কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।
ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ইরি বোরো ধান রোপণে। মাঠজুড়ে সবুজ চারার সমারোহ দেখা গেলেও সেচ সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কৃষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই নিশ্চিত নন সফলভাবে মৌসুম পার করতে পারবেন কি না।
সকাল থেকেই উপজেলার সাগরদাঁড়ি, ত্রিমোহিনী, মজিদপুর, বিদ্যানন্দকাটি ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নের মাঠগুলোতে কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, কেউ বা সেচযন্ত্র সচল রাখতে বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রতাপপুর এলাকায় দেখা গেছে প্রতিদিন সকালে অনেক সময় লোডশেডিংয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে নতুন রোপণ করা চারাগাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শীতের প্রকোপে সকাল বেলা জমিতে নামা দুষ্কর হলেও সময়মতো রোপণ শেষ করার তাগিদে তারা বাধ্য হচ্ছেন মাঠে নামতে। কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, এই শীতে কাজ করা খুব কষ্টের। তারপরও জমিতে নামতে হচ্ছে। রোপণ তো শেষ করলাম, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে সেচ হবে কীভাবে, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।
একই কথা বলেন কৃষক রমজান আলী। তিনি জানান, এবার ডিজেল, সার, শ্রমিক—সব কিছুর দাম বেড়েছে। ধারদেনা করে চাষ শুরু করেছি। যদি আবহাওয়া ভালো না থাকে বা সময়মতো পানি না পাই, তাহলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কেশবপুর উপজেলায় ৬৫৭ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির পর পুরোদমে ইরি বোরো রোপণ কার্যক্রম চলছে। গত বছর উপজেলায় ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো আবাদ হয়েছিল। এবছর ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তীব্র শীত ও সেচ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেশবপুর উপজেলায় বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকরা এখন রোপণে ব্যস্ত। শীতের কারণে মাঠে কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও আমরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষকরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উৎপাদন উপকরণ সহজলভ্য না হলে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই উপজেলার হাজারো কৃষক পরিবার নতুন করে ক্ষতির মুখে না পড়ে।
নেত্রকোণায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জেলা তথ্য অফিস, নেত্রকোণার আয়োজনে নেত্রকোণা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দা এলাকায় উন্মুক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উন্মুক্ত বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) ড. আবু শাহীন মোঃ আসাদুজ্জামান। নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা বিনতে রফিক, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক আল ফয়সাল, কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নাজমুল হক, ইউপি সদস্য খোদেজা আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা তথ্য অফিসার নারায়ণ সরকার।সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সকলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান ।
এ সময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় অবস্থিত ভাষা সৈনিক শামছুল হক কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্য, বিধি বহির্ভূত নিয়োগ, স্বেচ্ছাচারের মাধ্যমে মূল ভবন ছেড়ে নিজের বাড়ির পাশে টিনের ঘর তৈরি করে পৃথক ক্যাম্পাস করা, বিধি না মেনে শিক্ষক ও কর্মচারিদের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক অভিযোগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে রয়েছে আদালতে মামলা। এসব অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের (মাউশি) সর্বোচ্চ কর্মকর্তা (অঞ্চলিক পরিচালক) অবগত হলেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারিদের একাংশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ সুস্পষ্ট। তারপরও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। বরং দুর্নীতির দায়ে অভিযোগ থাকার পরও অধ্যক্ষ দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠছেন।
কলেজটির একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালে তারাকান্দার পাথারিয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ভাষা সৈনিক শামছুল হক হক। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে এমপিও ভুক্ত হয়। এনটিআরসিএ এর নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫ সালের পর থেকে এমপিও ভুক্ত কলেজে শিক্ষক পদে কলেজ কতৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তবে কর্মচারি নিয়োগ দিতে পারবে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পরপর কেবল একবারই ভাষা সৈনিক শামছুল হক কলেজ কতৃপক্ষ শিক্ষক দেয়। কলেজটিতে বানিজ্য বিভাগ না থাকায় ওই সময় এ বিভাগের কোন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে ২০২৩ সালে এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর জানা যায়, বানিজ্য বিভাগের কোন শিক্ষার্থী না থাকালেও এ বিভাগের তিনজন প্রভাষক এমপিও ভুক্ত করা হয়। তাদের নিয়োগ দেখানো হয়েছে ২০১৫ সালে। এছাড়া বেসরকারি কলেজে নিয়ম অনুযায়ী দুইজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও নিয়ম ভেঙে অধ্যক্ষ আরও একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এসব নিয়োগের বিনিময়ে অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান টাকা নিয়েছেন বলে একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারি ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা প্রতিবাদ করায় গত মে মাস থেকে তিনি মূল কলেজে না গিয়ে নিজের বাড়ির কাছে একটি টিনের ঘর তৈরি করে কলেজ পরিচালনা করছেন। এতে শিক্ষার্থীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই ক্যাম্পাসে ক্লাস করছে। যে কারনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ অধ্যক্ষের এমন আচরণের কারনে কলেজটি ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা উল্লেখ করে একাধিকবার মাউশির ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক ও তারাকান্দা উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত নভেম্বর মাসে মাউশির ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক এ. কে. এম. আলিফ উল্লাহ আহসান কলেজটি পরিদর্শনে যান। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি এক সভায় কলেজের অধ্যক্ষেকে নিজের তৈরি করা ভবন ছেড়ে কলেজের মুল ভবনে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। কিন্তু এরপরও অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান নিজের বাড়ির পাশে তৈরি করা টিনের ভবনে ক্লাস ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। উল্টো পরিচালকের পরিদর্শনের পর অধ্যক্ষ কোন ধরণের কারন দর্শানো চিঠি না দিয়েই কলেজের পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বেতন বন্ধ করে দেন। এর আগে আর একজন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজের একাধিক শিক্ষক কর্মকর্তার অভিযোগ, মাউশির পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে। কারন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত নিয়োগের স্পষ্ট প্রমান থাকলেও মাউশি কোন ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমন কি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অধ্যক্ষ মূলক ক্যাম্পাস ছেড়ে নিজের বাড়ি পাশে ঘর তৈরি করে পৃথক ক্যাম্পাস তৈরি করেছেন। যেটি কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাউশি পরিচালকের পক্ষপাত মূলক আচরণকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যপারে মাউশির ময়মনসিংহের পরিচালক এ. কে. এম. আলিফ উল্লাহ আহসানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্বীকার করেন যে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত ভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূত ভাবে কলেজের ছয়জন শিক্ষক কর্মকর্তার বেতন বন্ধ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কোন অবস্থাতেই মূলক ক্যাম্পাস ছাড়া অন্য কোন স্থানে কার্যক্রম চালাতে পারেন না।
এসব স্পষ্ট অনিয়মের পরও কেন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থান নেওয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক জানান, এ ব্যপারে অধ্যক্ষকে মৌখিক ভাবে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব।
এ ব্যপারে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি সব কিছুই বিধি মেনে এবং উধ্বর্তন কতৃপক্ষের পরামর্শ মেনেই করছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
ফেনী শহর-সংলগ্ন পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে, রড বেরিয়ে এসেছে, দেওয়াল ও পিলারে ফাটল। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়াসহ সব মিলিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভয় আর শঙ্কা নিয়ে পড়াশোনা করছে।
স্কুলের শিক্ষার্থী আবরার মাহমুদ ইরান, বিবি মরিয়ম মারিয়া, জান্নাতুল ফাতেয়া, জান্নাতুল মাওলা রাদিয়া বলে, ‘স্কুলের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। দীর্ঘদিনেও স্কুল ভবনটি মেরামত করা হয়নি। বিদ্যালয়ে নিরাপদে ভালোভাবে পড়ালেখা করার জন্য সরকারের কাছে একটি নতুন ভবন তৈরি করে দেওয়ার আবেদন করছি।’
স্থানীয় অভিভাবক মোহাম্মদ ফারুক ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় হয়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন জানি কি হয়। দীর্ঘদিনেও স্কুল ভবনটি মেরামত না করার ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এর দায়ভার কে নেবে। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে বিদ্যালয়টি একমাত্র অবলম্বন। এখন এটিও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা আতঙ্কিত এবং শঙ্কিত। সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই সরকার যেন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক অরূপ দত্ত জানান, বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ে। কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে আছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়। দেওয়াল, ছাদ, পিলার ও বীমে দেখা দিয়েছে ফাটল। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থেকে পড়াতে হচ্ছে।
পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংগ্রাম লোধ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিগত বন্যায় বিদ্যালয় ভবনটি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করছেন। অনেক অভিভাবক সরকারি বিদ্যালয় বাদ দিয়ে কিন্ডারগার্ডেন ও মাদ্রাসামুখী হচ্ছেন। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে একাধীকবার চিঠি দিয়েছি, এখনো ফল পাইনি।
ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, ‘৬টি উপজেলায় ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। গত বছরের বন্যায় বেশ কিছু বিদ্যালয়ের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর কিছু বিদ্যালয় ভবন মেরামত করেছি। ইতোমধ্যে জেলার সকল বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) কাজ শুরু হলে সবগুলো বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে আশা করছি।’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দেশে এনে বিচারের দাবিতে বাগেরহাট ছাত্র-জনতার ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাগেরহাটের সর্বস্তরের জনগণ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন, ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি মো. ইবাদত শেখ, আওসাফ সানী, সাজ্জাদ উদ্দিন আল জাবির অন্যরা।
এ সময়ে বক্তারা উপদেষ্টা এবং প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করে ফাঁসি কার্যকর না করলে আবারও ২৪-এর মতো ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। দ্রুত হাদির হত্যাকারীদের আটক, দেশে ফিরিয়ে আনা ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা দাবি আদায়ে তারা প্রয়োজনে আবারও বাগেরহাটের মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করবে।
ফরিদপুর শহরে সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ময়লাস্তূপ থেকে রূপান্তরিত হচ্ছে রঙিন সজ্জায়। পাশাপাশি নিখুত ক্যালিগ্রাফিতে আকর্ষণীয় করে তুলছেন তারা। এ ছাড়া সৌন্দর্য বর্ধিত গাছও রোপণ করছেন। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোসিয়্যাল অর্গানাইজেশনের একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নতুন রূপে সেজে উঠছে যেন ফরিদপুর শহর। তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-সংলগ্ন এলাকায় তাদের এমন কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে। হাসপাতালের পাশে সড়ক বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা অসংখ্য দোকানের বর্জ্য এবং মেডিকেল হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ময়লাস্তূপে পরিণত হয়েছিল সেখানে। দুই সপ্তাহ যাবত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে ময়লাস্তূপ থেকে রূপান্তরিত হয়ে উঠেছে রঙিন সজ্জায়।
সংগঠনটির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিএডিসি সেচ বিভাগ পর্যন্ত প্রায় দেড়কিলোমিটার জায়গাজুড়ে দীর্ঘদিন যাবত ময়লারস্তূপে পরিণত হয়েছিল। ময়লা থেকে সৃষ্ট তীব্র গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে স্থানীয়রাসহ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের। এ ছাড়া সেখানে জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানি থেকে এডিস মশারও জন্ম হচ্ছিল। পরবর্তীতে ফরিদপুর পৌরসভাকে অবগত করার মাধ্যমে ও সহযোগিতায় দুই সপ্তাহ যাবত ময়লা পরিষ্কার করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে খুটি দিয়ে রঙিন জাল টানিয়ে দেওয়া হয় এবং ক্যালিগ্রাফি ও বিভিন্ন সচেতনতা লেখা সংবলিত বার্তা টানিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধিত বিভিন্ন গাছও সেখানে লাগানো হয়েছে।
সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন বলেন, ‘এখানে কিছুদিন আগেও ময়লার স্তূপ ছিল। পরবর্তীতে এই জায়গার ওপর ভিত্তি করে আমরা ফরিদপুর পৌরসভার সাথে যোগাযোগ করি এবং তাদের সহযোগিতায় গত ২১ ডিসেম্বর থেকে আমরা কার্যক্রম শুরু করি। বর্তমানে ময়লা পরিষ্কার করে নেট (জাল) ও খুটি দিয়ে ঘিরে দিয়েছি, যাতে পরবর্তীতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। পাশাপাশি আমরা ক্যালিগ্রাফি ও সতর্কবার্তা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শহরের অন্যান্য জায়গায় সৌন্দর্য ফেরানোর জন্য কাজ করে যাব।’
তাদের এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ সকলকে পরিবেশ দূষণ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পরিবেশকে আমরা প্রতিনিয়ত দূষণ করে যাচ্ছি। আজ আমরা এখানে পরিচ্ছন্ন করেছি, অন্য জায়গা ঠিকই কেউ না কেউ দূষিত করে তুলছে। কোনো প্রযুক্তি দ্বারা পরিবেশকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারব না, যদি না কেউ নিজ থেকে সতর্ক হয়। বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে আমরা আহ্বান জানাই- আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন, আমরা পরিবেশগত উন্নয়নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেব।’
গাজীপুরের কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে শতাধিক অসহায় হতদরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিক ভাবে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ একেএম আতিকুর রহমান উপস্থিত থেকে অসহায় হতদরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
এসময় অন্যান্যের মাঝে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহাম্মদ আলী সরকার, পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য আফজাল হোসেন সৈয়দ, ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য উম্মে কুলসুম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
ঋতুচক্রের পালাবদলে প্রকৃতিতে এখন শীতের রাজত্ব। একটা সময় শীত আসলেই আবহমান বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হতো নানা রকমের পিঠা তৈরির আয়োজন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ তা বিলুপ্ত প্রায়। নরসিংদীর পলাশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন। শীতের ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বাঙালির আবেগকে ধারণ করে নরসিংদীর পলাশে দিনব্যাপী পালিত হয়েছে "পিঠা উৎসব-২০২৬" ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ উৎসবের আয়োজন করে পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।
উৎসবে স্থান পায় গ্রামবাংলার প্রচলিত ছাড়াও বিলুপ্ত প্রায় বাহারি পিঠা। এর মধ্যে ছিল দুধচিতই, দুধপুলি, কমলা পুলি, ইলিশ পিঠা, বউ পিঠা, পুলি পিঠা, নিমপাতা পিঠা, নকশি পিঠা, পানতুয়া পিঠাসহ শতাধিক রকমের পিঠা। পিঠা উৎসবে অংশ নেয় ১০টি স্টল। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসব চলে। বিলুপ্তপ্রায় পিঠাকে নতুন রূপে হাজির করতে পেরে খুশি স্টলে থাকা শিক্ষার্থীরা। পৌষের শীত উপেক্ষা করে পিঠা উৎসবের আনন্দে মেতে ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকার সুধীজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়া এতে অংশ নেয় নানা পেশার মানুষ। কেউ ঘুরে দেখছেন, কেউবা পছন্দের পিঠাগুলো কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন। একসঙ্গে এত পিঠা দেখতে পেয়ে পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আরিফ পাঠানের ভাষ্য, দেশীয় ইতিহাস, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জানা এবং লালন করার মানসেই এ পিঠা উৎসব। বাঙালির শত শত বছরের সমদ্ধ ইতিহাস প্রকাশ করে এ পিঠা উৎসব।
জালজালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও নীতিমালা বহির্ভূত সহকারী শিক্ষক গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান পদে নিয়োগ প্রদান করায় ভোলার লালমোহনে ০৫ মাদ্রাসা প্রধানের ডিসেম্বর মাসের বেতন স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সাথে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকগনের (গ্রন্থাগারিক ও তথ্যবিজ্ঞান) নভেম্বর মাসের বিল আসলেও ডিসেম্বর মাসের বিলের তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে বিল প্রস্তুত করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
বেতন স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানরা হলেন করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রুহুল আমিন, ভেদুরিয়া সেরাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ সফিউল্যাহ, পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃকামাল উদ্দিন, মুসলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ কামাল উদ্দিন জাফরী, পূর্ব ধলীগৌরনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম। অন্যদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আকলিমা বেগম (ইনডেক্স নং-০০৬৬২৪০), ভেদুরিয়া সেরাজিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বিল্লাল (ইনডেক্স নং-০০৬৪৮৪১০, পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোঃ বাহার (ইনডেক্স নং-০০৭৫০৫৯), মুসলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোঃ জামাল (ইনডেক্স নং- ০০৭০৪১১), পূর্ব ধলীগৌরনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোঃ রিয়াজ (ইনডেক্স নং- ০০৭৫৯৪৩)।
অভিযোগ হিসেবে জানা যায়, এসব মাদ্রাসার প্রধানরা নিয়মবহির্ভূত পুরোনো তারিখের নিয়োগবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বা কমিটির স্বাক্ষর জালজালিয়াতি করে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) পদে নিয়োগ প্রদান করেন। এসকল শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রস্তুত হলে অভ্যন্তরীন অন্যান্য শিক্ষকদের মাঝে ঘোর আপত্তি দেখা দেয়। ফলে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের (গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান) ডিসেম্বরের এমপিওসীট থেকে তাদের নাম কর্তন করেন এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন ভাতা স্থগিত করেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
বেতন স্থগিত হওয়া পূর্ব চরছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ কামাউল উদ্দিনের ইতপূর্বে সহকারী শিক্ষক গ্রন্থাগারিক ও তথ্য বিজ্ঞান পদে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের ব্যাপারে একটি অডিও ক্লিপ অনলইন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং সেখানে ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্যকে বলতে শোনা যায় মাদ্রাসা সুপার কমিটির স্বাক্ষর জালজালিয়াতি করে নিয়োগ প্রদান করেন। মাওলানা মোঃ কামাল উদ্দিন বর্তমানে ১১৭ ভোলা-০৩, লালমোহন-তজুমদ্দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে লড়বেন।
তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জানান, কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আমাদের বেতন স্থগিত করেছে। কিন্তু কেন করেছেন তা আমরা কিছুই জানিনা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আবুল খায়ের বলেন, লোক মুখে শুনেছি ৫টি মাদ্রাসা প্রধানদের বেতন স্থগিত হয়েছে। দাপ্তরিকভাবে কোন প্রকার চিঠি পাইনি। যার কারণে কেন তাদের বেতন স্থগিত হয়েছে তা খুঁজে বের করতে পারিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহ আজিজ জানান, এব্যাপারে আমি বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তবে অফিসিয়ালি কোন চিঠি আমার কাছে আসেনি। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।