টানা সাড়ে তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে নড়াইল জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১০টা থেকে আনুমানিক রাত দেড়টা পর্যন্ত নড়াইলের বিভিন্ন শহরে টানা বৃষ্টি হয়। যার ফলে পানি ওঠে বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বাসা-বাড়িতেও।
আজ সোমবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টিতে পৌরসভার কুড়িগ্রাম,মাসিমদিয়া দক্ষিণ নড়াইল, ভাদুলিডাঙ্গা, বউবাজার, গোহাটখোলা, ভওয়াখালী, দুর্গাপুর, আলাদাতপুর, মহিষখোলাসহ পৌর এলাকার অনেক স্থানে ঘরবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও রাস্তায় পানি জমেছে। জলাবদ্ধতায় অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘরের সামনে পানি জমায় অনেকে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন। কারও কারও রান্নাঘর-টিউবওয়েলের কিছু অংশ ডুবে গেছে পানির নিচে। বেশিরভাগ রাস্তায় গোড়ালি বা আবার কোথাও হাঁটুপানি জমেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। তাদের অভিযোগ, ‘পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা না থাকা; বিদ্যমান ড্রেনেজব্যবস্থা অচলাবস্থা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।’
শহরের আলাদাতপুর এলাকায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িতে পানি উঠেছে। এ এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘আমাদের বাড়ির নিচতলায় হাঁটুপানি জমেছে। টিউবওয়েলের কিছু অংশ পানিতে ডুবেছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছি আমরা। এদিকে রান্নাঘরেও পানি প্রবেশ করায় আজ সকালের রান্নাও বন্ধ।’
হাঁটুপানি জমেছে ভাদুলিডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আসিস বিশ্বাসের বাড়ির চারপাশে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি নেমেছে, এরপর গতকাল রাতভর ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমাদের ঘরে পানি উঠে গেছে। বাড়ির চারপাশে হাঁটুপানি জমে আছে।’
জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ওহাবুল আলম বলেন, প্রতিবছর পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হয়। এ বছরও বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পানি সরাতে কাজ করা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫৫ কিলোমিটার নালা নির্মাণ। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পৌরসভাটির হাতে নেই।
নড়াইল পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে ২৮ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হয় পৌরসভাটি। ১৯৯৯ সালে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। শহরটির জন্য ৫৫ কিলোমিটার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হলেও আছে মাত্র ৩ কিলোমিটার; যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।
একের পর এক ব্যতিক্রমী কৃতিত্বের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন বরিশালের মেয়ে নুসরাত জাহান নিপা। কয়েন দিয়ে টাওয়ার নির্মাণ, চপস্টিক দিয়ে দ্রুততম সময়ে ভাত খাওয়া এবং সর্বশেষ কাগজ দিয়ে দ্রুততম সময়ে স্নো-ফ্লেক (তুষারকণা) তৈরি করে তৃতীয়বারের মতো নিজের নাম লিখিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান নিপা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রথম নারী, যার নাম তিনবার স্থান পেয়েছে গিনেস বিশ্বরেকর্ডের খাতায়। তার এ অর্জন শুধু বরিশাল নয়, পুরো দেশের জন্যই এক অনন্য গৌরব।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সর্বশেষ বিশ্বরেকর্ডটি গড়েন। ‘দ্রুততম সময়ে কাগজ দিয়ে স্নো-ফ্লেক তৈরি’ বিভাগে পূর্ববর্তী রেকর্ড ছিল চীনের এক প্রতিযোগীর দখলে। তিনি ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরি করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে স্নো-ফ্লেক তৈরি করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন নিপা। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ তার এই অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সনদপত্র প্রদান করেছে।
কাগজকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভাঁজ ও কেটে তুষারকণার আকৃতি তৈরি করেই এই বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিখুঁতভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে তাকে দীর্ঘদিন অনুশীলন করতে হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় ঘরে বসেই এক হাতে এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে প্রথমবারের মতো গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়েন নিপা। সে সময় তিনি ইতালির সিলভিও সাব্বার গড়া আগের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বরেকর্ডের মালিক হন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে চপস্টিক ব্যবহার করে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে দ্বিতীয়বারের মতো গিনেস বিশ্বরেকর্ড অর্জন করেন। এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেন।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী নুসরাত জাহান নিপা বর্তমানে বরিশালের একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে নুসরাত জাহান নিপা বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস থাকলে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রম কিছু করার ইচ্ছা ছিল। আমার খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও বরিশালে মেয়েদের জন্য সুযোগ তুলনামূলক কম। তাই ঘরে বসেই এমন কিছু করার চেষ্টা করেছি, যা দেশ ও আমার শহর বরিশালকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি রেকর্ডের পেছনে অসংখ্য ঘণ্টার অনুশীলন ও পরিশ্রম রয়েছে। অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি, আবার নতুন করে চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশের পতাকা যখন বিশ্বমঞ্চে উঠে আসে, তখন সব কষ্ট সার্থক মনে হয়। ভবিষ্যতেও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
নিপার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিপা শুধু নিজের নয়, পুরো বরিশালের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের শহরের নাম পৌঁছে দেওয়ায় আমরা গর্বিত।’
স্থানীয় গৃহিণী রুবিনা আক্তার বলেন, ‘মেয়েরা চাইলে যে বিশ্বজয় করতে পারে, নিপা তার বড় উদাহরণ। তার সাফল্য আমাদের সন্তানদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
বিশেষজ্ঞরাও নিপার অর্জনকে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিশ্বরেকর্ড গড়তে যে একাগ্রতা, মনোযোগ, ধৈর্য ও আত্মনিবেদন প্রয়োজন, নিপা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কাজে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে নারীরা যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, নিপা তার জীবন্ত উদাহরণ। এ ধরনের প্রতিভাবানদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আরও অনেক তরুণ-তরুণী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে উৎসাহিত হবে।’
নুসরাত জাহান নিপার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়। তিনি ইতোমধ্যে আরও কয়েকটি নতুন ক্যাটাগরিতে গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তার লক্ষ্য, বিশ্বের বুকে আরও বেশি সংখ্যক রেকর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরা।
পটুয়াখালী সদর থানার রিপন কাজী হত্যা মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার এবং নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নিহতের স্বজন কর্তৃক পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত রিপন কাজীর মেজ ভাই মো. রাব্বি কাজী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৩০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজঘোনা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনের সড়কে মোটরসাইকেল থামিয়ে রিপন কাজীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালান রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী, রাহাত কাজী, আব্দুল আলিম মৃধা, মিজানুর রহমান ভুট্টু কাজী এবং রিয়াজ হাওলাদার। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত ২ জুলাই নিহতের মা আমেনা বেগম পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
রাব্বি কাজী বলেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামি রাসেল কাজী ও সোহাগ কাজীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে মামলার বাকি আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘পলাতক আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।’
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে হত্যা মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করা, নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ সময় নিহতের মা আমেনা বেগম (৫০), ছোট ভাই সাব্বির কাজী এবং ছোট বোন রাহিমা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের সদর উপজেলার কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের মাঝে সার, বীজ, ঢেউটিন, সেলাই মেশিন, বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলা চত্বরে সদর উপজেলা পরিষদের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) আওতায় এই সাহায্য ও সহযোগিতা করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুন, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান চৌধুরী রঞ্জন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা-পিআইও প্রণব পান্ডেসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ অতিথিদের নিয়ে অসহায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল, সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সবজি বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করেন। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘ফরিদপুরের মেহনতি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং কৃষি উৎপাদনকে আরও বেগবান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকেরা উপকৃত হবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষেরা এসব সহযোগিতার মাধ্যমে উপকৃত হবে।
গভীর রাতে প্রসবব্যথায় ছটফট করছেন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। চার দিকে শুধু নদী আর বালুচর। নেই অ্যাম্বুলেন্স, নেই পাকা রাস্তা, নেই দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর কোনো ব্যবস্থা। শেষ ভরসা চারজন মানুষের কাঁধ। বাঁশের সঙ্গে বেঁধে চেয়ারে বসিয়ে নদীর ঘাটের দিকে ছুটছেন স্বজনরা। তারপর নৌকা, আবার দীর্ঘ পথ। কিন্তু অনেক সময় সেই লড়াই জেতা হয় না। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় একটি প্রাণ, কিংবা মায়ের বুক খালি করে পৃথিবী ছাড়ে অনাগত সন্তান। এটাই রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা তিস্তা চর। এখানে হাজার হাজার মানুষের বসবাস হলেও জরুরি চিকিৎসাসেবা আজও রয়ে গেছে অধরা। গুরুতর অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী কিংবা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে আধুনিক কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, রোগীকে নদীর ঘাট পর্যন্ত নেওয়ার মতো সড়কও নেই। ফলে চেয়ার, জলচৌকি কিংবা খাটলিই হয়ে ওঠে চরবাসীর ‘অ্যাম্বুল।
সম্প্রতি তিস্তা চরাঞ্চলে এক অসুস্থ বৃদ্ধকে কাঠের চেয়ারে বসিয়ে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে কাঁধে বহন করে নদীর ঘাটে নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হলেও চরবাসীর কাছে এটি কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয় এটাই তাদের নিত্যদিনের জীবনসংগ্রাম। গত ২৬ জুন দ্রুতগতির নৌযানের অভাবে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর আবারও সামনে আসে চরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার করুণ চিত্র।
এই প্রেক্ষাপটে নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া সরদারপাড়াসহ তিস্তা নদীর মাঝখানে অবস্থিত বিভিন্ন চর এলাকার প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি স্পিডবোট ও বেতনভুক্ত চালক নিয়োগের দাবিতে গত রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আল আমিন স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চারদিকে নদী থাকায় উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌযান। কিন্তু সরকারি স্পিডবোট বা জরুরি রোগী পরিবহনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সংকটময় মুহূর্তে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে জীবনহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নোহালী ইউনিয়নের বাসিন্দা লাল মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অসুখ হইলে আগে চিন্তা করি মানুষটারে বাঁচামু কীভাবে। রাস্তা নাই, গাড়ি নাই। কাঁধে কইরা নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।
একই এলাকার আব্দুস সালাম বলেন, বালুচর পেরিয়ে, নদী পার হয়ে হাসপাতালে নিতে নিতে অনেক রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। কেউ কেউ আর ফিরেও আসে না।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের এক নারী বলেন, গর্ভবতী মায়েদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। প্রসবব্যথা উঠলে নৌকা পাওয়া যায় না। তখন কাঁধে করেই নদীর ঘাটে নিতে হয়। অনেক সময় মা আর সন্তান দুজনকেই হারাতে হয়। এলাকাবাসীর প্রতিনিধি মো. আল আমিন বলেন, একটি স্পিডবোট অনেক সময় একটি প্রাণ বাঁচাতে পারে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি স্পিডবোট চালুর দাবি জানিয়েছি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলেমুল বাসার বলেন, তিস্তা চরাঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। জরুরি রোগী দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমরা স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করার জন্য কাজ করছি। তবে চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ ও দ্রুত রোগী পরিবহনের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পিডবোট বা নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু নোহালী ইউনিয়ন নয়, গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত সাতটি চরাঞ্চলীয় ইউনিয়নের মানুষের জন্যও সরকারি ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত স্পিডবোট বা নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, প্রতিটি চরাঞ্চলেই জরুরি রোগী পরিবহনের একই ধরনের সংকট রয়েছে। তাই একটি ইউনিয়নকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো তিস্তা চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
হিট প্রকল্পের আওতাধীন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আবাসিক আটটি হলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।
সোমবার (৬ জুলাই) শাহ আজিজুর রহমান হলের প্রধান ফটকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
আইসিটি সেল বরাতে জানা যায়, নানা জটিলতার কারণে এ কর্মসূচি আরম্ভ হতে বিলম্বিত হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীরা নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস পেতে পারে বলে আশ্বস্ত করেন। এ কর্মসূচি দুই ধাপে অর্থাৎ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন ও ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন, অধ্যাপক ড. এ টি এম মিজানুর রহমান, আইসিটি সেলের পরিচালক শাহজাহান আলীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাইবার অপটিক্যাল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র সুপারভাইজার নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘ফাইবার স্থাপনের জন্য আমরা যে রোডম্যাপ তৈরি করেছি যেখানে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ নেই। এবং নতুন হল ও একাডেমিক ভবনের জন্যও ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের এই স্থাপনের কাজ শেষ করতে এক মাস লাগতে পারে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি ছাত্র-ছাত্রীর আবাসিক হল রয়েছে এখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেট সার্ভিস নিশ্চিত করার জন্য কাজটি উদ্বোধন ঘোষণা করেছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস নিশ্চিতকরণ ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ আরও বেশি সমৃদ্ধ করবে। এ কার্যক্রমটি খুব দ্রুততার সাথে শেষ হবে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তিগত বিদ্যার ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটসেবা যেন টেকসই হয় এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে উন্নয়ন ঘটে সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে বিস্তর পরামর্শ দেন তিনি।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় টানা অতিবর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে এবং পাহাড় ধসের ঘটনায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ জুলাই) রাত থেকে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে। একই সঙ্গে পাশের পাহাড়ের মাটি ধসে সড়ক ঢেকে যায়। এতে উভয় দিক থেকে সব ধরনের যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সরোয়ার এবং কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব হাসান বাবু জানান, টানা বর্ষণের কারণেই গাছ উপড়ে পড়া ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।
খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছ অপসারণ ও সড়ক পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ, পিডিবি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে সড়ক থেকে গাছ ও ধসে পড়া মাটি সরিয়ে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন।
এদিকে, টানা বর্ষণে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড় ধসে কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টানা অতিভারী বর্ষণে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম এখন কার্যত এক বিচ্ছিন্ন ও স্থবির নগরীতে পরিণত হয়েছে। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে প্রায় ৩৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বর্ষা মৌসুমের সর্বোচ্চ রেকর্ড। আকাশভাঙা এই বৃষ্টিতে নগরের নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে গিয়ে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট এই বর্ষণে নগরের আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, চান্দগাঁও, চকবাজারের তেলেপট্টি গলি এবং কাট্টলীর ঈশান মহাজন সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। অনেক এলাকায় সড়ক ছাপিয়ে পানি মানুষের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় গৃহস্থালির আসবাবপত্র ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ। নগরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পরীক্ষা চললেও যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা হাতেগোনা হওয়ায় মোড়ে মোড়ে মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা আর ভোগান্তির দৃশ্য দেখা গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামসহ দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির এই ধারা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ঢল এবং পাহাড়ধসের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবানে সম্ভাব্য দুর্যোগ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে আগামী চার দিন অর্থাৎ ১০ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টায় জেলা প্রশাসনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিরতিহীন বৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়ায় এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা এড়াতে জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সর্বসাধারণের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় সড়ক যোগাযোগে বাড়তি ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল বাণিজ্যিক কার্যক্রম এই চার দিনের জন্য স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
বান্দরবানের মেঘলা, নীলগিরি, নীলাচলসহ জনপ্রিয় সব পর্যটন স্পট এখন জনশূন্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালন করার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় পর্যটকরা আটকা পড়লে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বিধায় এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে ১০ জুলাইয়ের পর পর্যটনকেন্দ্রগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
কক্সবাজারে ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের পৃথক চারটি ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
রোববার রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে এসব পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনা প্রায় কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে একটি পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা বসতঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে। এতে এক পরিবারের পাঁচ সদস্য মাটির নিচে আটকা পড়েন। স্থানীয়রা দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতরা হলেন—মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং পুত্র মোহাম্মদ আনাস (৪)।
এরপর রাত পৌনে ২টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে ভোররাত ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে আলী আকবর (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ধসে এক পরিবারের তিনজন মাটির নিচে চাপা পড়লে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বাকি দুইজন আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিন থেমে থেমে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অতিভারি বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় গরুবোঝাই পিকআপের সঙ্গে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় পিকআপে থাকা ছয়টি গরুরও মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া বাজারের কাছে কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পিকআপে থাকা নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার কুন্দাই গ্রামের বিল্লাল (৩৫), খুরশেদ (৬০) ও পিকআপের চালক খোকন (৩৯)।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি বাসের সঙ্গে সুখিয়া বাজারের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা গরুবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপে থাকা চালকসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পিকআপে থাকা ছয়টি গরুও মারা যায়। দুর্ঘটনায় পিকআপ ও বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে গেছে।
পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন রকি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর বাড়ির উঠান থেকে এক গৃহবধূর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও তার চাচাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আলমগীর আলীর বাড়ির উঠান খুঁড়ে তার স্ত্রী জায়দা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জায়দা বেগম মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর আলী করিমপুর চা বাগানের মৃত নুর আলীর ছেলে।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, জায়দা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা গত ৩ জুন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই ঘটনার সূত্র ধরে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, গত ১৭ জুন স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানের একপাশে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রাখেন। পরে তার দেখানো স্থানেই মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান জানান, প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে চা শ্রমিক সন্তান আলমগীর আলীকে বিয়ে করেন তার মেয়ে জায়দা। পরে মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে পরিবার বিয়ে মেনে নেয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। আবার মিটমাট হয়ে যেত।
আব্দুল হান্নান আরও জানান, গত ১৮ জুন আলমগীর তাদের বাড়িতে এসে সাত বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দাবি করেন, জায়দা কাজের ভিসায় সৌদি আরব চলে গেছেন। কিন্তু এরপর কয়েক দিন মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সন্দেহ হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে ৩ জুলাই রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আলমগীর আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জালালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জায়দা-আলমগীর দম্পতির সংসারে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এখন দ্রুতই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
সোমবার (০৬ জুলাই) উপজেলা মৎস অফিসের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ৪২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১৫৬০ মিটার এবং বাজার মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন মিঠামইন থানা পুলিশ ও মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্রসহকারী।
পরবর্তীতে জব্দকৃত ক্ষতিকর জালগুলো স্থানীয় জনসাধারণের সম্মুখে পুড়িয়ে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করা হয় এবং উপস্থিত জনগণকে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে সচেতন করা হয়। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়, অবৈধ ইলেকট্রোফিশিং বন্ধকরণ এবং জলাশয়ের অবৈধ বাঁধ ও স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরও জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাশ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।