শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯, ক্ষতিগ্রস্ত ৫৪ লাখেরও বেশি

ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২৪ ১৬:৫০

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা একদিনে আরও ৫ জন বেড়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৭০২ জন। আজ শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন বলা হয়, বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪১, নারী ৬ ও শিশু ১২ জন‌। এদের মধ্যে কুমিল্লায় ১৪, ফেনীতে ২৩, চট্টগ্রামে ৬, খাগড়াছড়িতে ১, নোয়াখালীতে ৯, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, লক্ষ্মীপুরে ১, কক্সবাজারে ৩ ও মৌলভীবাজারে একজন। এছাড়া বর্তমানে মোট ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৯৫টি পরিবার পানিবন্দি।

প্রতিবেদন বলা হয়, মৌলভীবাজারে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, সিলেট, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক। মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এদিকে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

প্রতিবেদন আরও বলা হয়, পানিবন্দি বা ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় দিতে মোট ৩ হাজার ৯২৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৫ জন লোক এবং ৩৬ হাজার ১৩৯টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১১ জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে মোট ৫১৯টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে।

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সংগ্রহ করা মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, কাপড় ও পানি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরছেন। বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

বিষয়:

নির্বাচিত

পোল্ট্রি শিল্পেও উৎপাদনে ধস, অস্তিত্ব সংকটে খামারি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রোটিন বা আমিষ চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে পোল্ট্রি খাত। অথচ সম্ভাবনাময় ও অত্যাবশ্যকীয় এই শিল্পটি এখন এক গভীর ও নজিরবিহীন অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান তীব্র লোডশেডিং এবং অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের জোড়া ধাক্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক খামারি, হ্যাচারি মালিক ও পোল্ট্রি ফিড উৎপাদকেরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে খামারে খামারে মুরগির মৃত্যুমিছিল চলছে, ব্যাহত হচ্ছে ডিম ফোটানো ও খাদ্য উৎপাদনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। সার্বিক উৎপাদনে ধস নামায় এর সরাসরি আঘাত এসে পড়েছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে—একলাফে বেড়ে গেছে ডিম ও মুরগির দাম।

পোল্ট্রি খামারগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও বিদ্যুৎ ছাড়া তা পরিচালন করা একেবারেই অসম্ভব। বিশেষ করে ফার্মের ভেতরে সঠিক আলো-বাতাস ও সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা মুরগির স্বাস্থ্য এবং ডিম উৎপাদনের প্রধান শর্ত।

মৃত্যুহার বৃদ্ধি: দৈনিক গড়ে ৫ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে খামারের ফ্যান, কুলিং মেশিন ও স্প্রেয়ার বন্ধ হয়ে পড়ছে। ফলে শেডের ভেতরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে প্রচণ্ড গরমে প্রতিদিন শত শত বাচ্চা ও বয়স্ক মুরগি মারা যাচ্ছে।

হ্যাচারিতে বিরূপ প্রভাব: ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর (হ্যাচিং) জন্য টানা ২১ দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। বিদ্যুতের চরম ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে টানা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, যা ডিজেলের পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়িয়ে খামারিদের উৎপাদনে চরম লোকসানের মুখে ফেলছে।

শুধু যে সরাসরি মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, পোল্ট্রি খাদ্যের জোগান দেওয়া ফিড মিলগুলোও থমকে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট পুরো সাপ্লাই চেইনকে অচল করে দিচ্ছে।

ফিড মিলের উৎপাদন ধস: উদাহরণের মাধ্যমে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের বৃহৎ একটি পোল্ট্রি ফিড মিলে দিনে গড়ে ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্য তৈরি হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তা ৪৫০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ফিডের দাম বাড়ছে, যা আবার খামারিদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বন্ধ হচ্ছে খামার: বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে আগে প্রায় ২ লাখেরও বেশি খামারি সক্রিয় ছিলেন। তবে একের পর এক প্রতিকূলতা ও বিদ্যুৎ সংকটে টিকে থাকতে না পেরে ইতিমধ্যে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজারে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে ৬০ হাজারের বেশি খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

উৎপাদন কমে যাওয়া এবং প্রতি কেজি ডিম ও মুরগি উৎপাদনে অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার পকেটে।

ডিমের মূল্যবৃদ্ধি: উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতি হালিতে ডিমের দাম ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মুরগির দাম: সরবরাহ কম থাকায় বাজার ও প্রজাতিভেদে মুরগির দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের আমিষের চাহিদায় বড় ধাক্কা দিচ্ছে।

সক্রিয় খামারির সংখ্যা ধস: অতীতে যেখানে ২ লাখের বেশি খামারি সক্রিয়ভাবে উৎপাদন চালাতেন, সেখানে চলমান সংকটে টিকে থাকতে না পেরে তা কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজারে।

পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনে মন্দা: নমুনা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের বড় ফিড মিলের ক্ষেত্রে দৈনিক ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্য তৈরির বিপরীতে উৎপাদন ধস নেমে এসে ঠেকেছে ৪৫০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টনে।

জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা ও খরচ বৃদ্ধি: আপদকালীন ব্যবহারের জেনারেটর এখন টানা চালিয়ে হ্যাচিং ও শেডের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হচ্ছে, যা জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

খুচরা বাজারে সরাসরি প্রভাব: পর্যাপ্ত সরবরাহের ঘাটতি ও অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়ের চাপে বাজারে প্রতি হালি ডিমে ২ থেকে ৪ টাকা এবং প্রজাতিভেদে কেজি প্রতি মুরগির দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুণতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী জানান, হ্যাচিং প্রক্রিয়া পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। জেনারেটর দিয়ে দীর্ঘ সময় উৎপাদন সচল রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যা প্রতি বাচ্চার উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জ্বালানি সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান করা না গেলে এ খাত আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়বে।

অন্যদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুরক্ষায় সমন্বিত রূপরেখা দরকার। সংকট কাটাতে পোল্ট্রি খামার ও খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সরবরাহের আওতায় আনতে হবে। শিল্পকারখানা ও খামারগুলোতে দ্রুত ‘নেট মিটারিং সিস্টেম’ চালু করা এবং বেশি পরিমাণে সোলার বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সোলার-ভিত্তিক ব্যাটারি সিস্টেম যুক্ত করা এবং বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন খরচ ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান দ্রুত করা না গেলে সাধারণ মানুষের কম খরচে আমিষ পাওয়ার শেষ সুযোগটিও বন্ধ হয়ে যাবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও এক বড় হুমকি।


নির্বাচিত

ঢাকার চারদিকে ৮ লেনের রাস্তা করবে সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার চারদিকে আট লেনের সড়ক নির্মাণ এবং রাজধানীর সব নদী সরকার সংস্কার করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে কামরাঙ্গীচরে দিরাই খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে যারা কাজ করেন, তাদের আলোচনা কম এবং সমালোচনা বেশি হয়। তার মতে, যারা ঘরে বসে কাজ করেন না এবং ভালো কাজ সহ্য করতে পারেন না, তারাই বেশি সমালোচনা করেন।

সবকিছুর মধ্যেই দলবাজি এবং দলকে টেনে আনার চেষ্টা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্লিন বাংলাদেশ এবং গ্রিন বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর চারপাশের নদী ও খালগুলো পরিকল্পিতভাবে সংস্কার ও দখলমুক্ত করা গেলে নৌপথের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগেও মানুষের সুবিধা বাড়বে। ঢাকার চারদিকে আট লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নগরীর পরিবেশ রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নদী-খাল রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

দিরাই খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে খাল, নদী ও জলাশয় রক্ষা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


নির্বাচিত

রাজধানীতে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় দোকানের কর্মচারীর মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা ইউনাইডেট হাসপাতালের ১০০ ফিট এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সাজ্জাদ হোসেন রাব্বী (৩২) নামে কাপড়ের দোকানের এক কর্মচারীর চিকিৎসা অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাজ্জাদের বাড়ি মহাখালী মধ্যপাড়া বনানী এলাকায়। তার বাবার নাম শাজাহান গাজী।

হাসপাতালে নিহত সাজ্জাদের বোন শম্পা বলেন, ‘গতকাল সকাল ১০টার দিকে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার উদ্দেশে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়েছিল আমার ভাই। পরে আমরা জানতে পারি বসুন্ধরা ইউনাইটেড হাসপাতালের সামনে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় আমার ভাই গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। পরে আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলেও আমার ভাইকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আল্টিমেটাম, কর্মসূচি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা স্কেলে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা না হলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে গুলশান অভিমুখে পদযাত্রাসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক প্রতিনিধি সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। প্রতিনিধি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। প্রতিনিধি সমাবেশ পরিচালনা করেন অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান উজ্জ্বল ও ১১-২০ ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো. মাহমুদুল হাসান।

সমাবেশে বক্তারা জানান, বিগত ১১ বছর ধরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ১০৮ শতাংশে পৌঁছালেও ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে ২০২৬ সালে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ওয়ারেছ আলী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার কর্মচারীদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও বাজেট বরাদ্দ ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কিংবা কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। এ পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের পক্ষে ৭ দফা দাবি এবং তা বাস্তবায়নে ঘোষিত কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়।

সাত দফা দাবি- ১. ১:৪-এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন-স্কেল ৩৫ হাজার টাকায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিমিত্তে পে-কমিশনের সুপারিশকৃত ‘বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের’ ৩১ আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। ২. ২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল অথবা এ ক্ষেত্রে পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল করতে হবে। ৩. ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে। ৪. সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচ্যুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচ্যুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ৫. উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করতে হবে। ৬. ২০০৮ সালের মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারীকৃত বৈষম্যমূলক আদেশের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলা নম্বর ১৩৭/২০১৫-এর রায় অনুযায়ী উক্ত আদেশ বাতিল করতে হবে। ৭. বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ এবং সামরিক/আধাসামরিক বাহিনীর ন্যায় (১১-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদ বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের ন্যায় সব সরকারি, আধাসরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।

এদিকে প্রতিনিধি সমাবেশে আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো— ১ সেপ্টেম্বর: সকাল ১০টায় নিজ নিজ দপ্তরের মূল ফটকে ৩০ মিনিট অবস্থান কর্মসূচি এবং দপ্তরপ্রধানের নিকট স্মারকলিপি প্রদান। ৬ সেপ্টেম্বর: সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ। ১ সেপ্টেম্বর–২৪ সেপ্টেম্বর: সারা দেশে বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন। ২ অক্টোবর: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সব সরকারি কর্মচারীর মহাসমাবেশ এবং সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর গুলশান কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা।

সমাবেশে ১১-২০ অধিকার ফোরাম, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, বিজি প্রেস, সমাজসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


নির্বাচিত

পদ্মা ইকো সিটিতে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পদ্মা ইকো সিটিতে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পুষ্পধারা প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাই। তাই পদ্মা ইকো সিটিতে এ বছর ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ করতে চাই। আজকে তার উদ্বোধন করা হলো।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুষ্পধারার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আলীনূর ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মঈন উদ্দিন খান, হাসিবুল হক মামুন, এনামুল, আলী রেজা, আতিকুর রহমান মিন্টু, মিলন আহমেদ, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।


নির্বাচিত

বন্দরে যুব আন্দোলন নেতা হত্যা, প্রধান অভিযুক্তসহ আটক ৯

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। ‎শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

আটক সিফাত গ্রুপের প্রধান শেখ সিফাতসহ নয়জন। অপর আটকদের নাম এখনো জানা যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা হত্যার প্রতিবাদে টায়ার ও বাঁশ-কাঠ পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে মহাসড়কের যানজট দেখা দিয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, ‘হত্যার প্রতিবাদে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছি। প্রায় দেড় ঘণ্টা আন্দোলন শেষে পুলিশ এসে আমাদের জানায় তারা ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এতে অবরোধ তুলে নেই।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়। পরে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করা হলে, তারা চলে যায়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, মূলত আন্দোলনকারীরা জানত না এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তারা বিষয়টি জানতে পেরে অবরোধ তুলে নেয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বন্দরের ২১নং ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করে কিশোর গ্যাং।

নিহত বুলবুল আহমেদ শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানার যুগ্ম সম্পাদক পদে ছিলেন।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে সালেহ নগর এলাকায় রাস্তায় একা পেয়ে শেখ সিফাত গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বুলবুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের নতুন সচিব সালাহউদ্দিন নাগরী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ শাখা-১ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সচিব মো. বরমান হোসেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীকে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের জনবিভাগ সচিব (চুক্তিভিত্তিক) পদায়ন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


নির্বাচিত

নওগাঁয় পানি সংকট, কৃষকের ভরসা কম পানির ফসলে

* পানি নামছে পাতালে, কমছে ধানের আবাদ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

একসময় ৯০ ফুট গভীরেই পাওয়া যেত ভূগর্ভস্থ পানি। এখন কোথাও ১২০, কোথাও ৩০০, আবার কোনো কোনো এলাকায় ১ হাজার ৪০০ ফুট গভীরে নলকূপ বসিয়েও পর্যাপ্ত পানি মিলছে না। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ সংকুচিত হচ্ছে, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় এবং কমছে বোরো আবাদ। একই সঙ্গে তীব্র হচ্ছে নিরাপদ খাবার পানির সংকট। সব মিলিয়ে খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির দ্রুত পতন কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি হিসাবে, নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫টি উপজেলার ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে ‘অতি উচ্চ পানিসংকট’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও ৮৮৪টি মৌজা ‘উচ্চ’ এবং ১ হাজার ২৪০টি ‘মাঝারী’পানিসংকটাপন্ন। সব মিলিয়ে এসব এলাকায় প্রায় এক কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

নওগাঁর নিয়ামতপুর, পোরশা, পত্নীতলা, ধামইরহাট ও সাপাহারে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। অনেক স্থানে নলকূপের গভীরতা বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

পোরশার শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের গভীর নলকূপ পরিচালনাকারী সাইফুল ইসলাম জানান, একসময় ৯০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেত। পরে ১১০ ও ১২০ ফুট পর্যন্ত গভীর করতে হয়েছে। এরপরও আগের মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তার আশঙ্কা, এভাবে পানির স্তর নামতে থাকলে ভবিষ্যতে উত্তোলনের মতো পানিই থাকবে না।

সাম্প্রতিক তথ্যেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ২৯ দশমিক ০৯ মিটার। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা নেমে হয়েছে ৩১ দশমিক ০৪ মিটার। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরে পানির স্তর আরও নিচে নেমেছে।

একসময় একটি গভীর নলকূপ দিয়ে ১৫০ থেকে ১৮০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হলেও এখন অনেক এলাকায় তা কমে ৯০ থেকে ১১০ বিঘায় দাঁড়িয়েছে। ফলে সেচের আওতা কমছে, বাড়ছে কৃষকের খরচ। অনেক কৃষক বোরো আবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন কিংবা কম পানি প্রয়োজন এমন ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

নওগাঁয় ধান চাষের জমির পরিমাণও কমেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে জেলায় ধান চাষ হয়েছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে তা কমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

পানির সংকটের সঙ্গে কৃষির ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। এক দশক আগে নওগাঁয় আম চাষের জমি ছিল প্রায় ৬ হাজার হেক্টর। বর্তমানে তা বেড়ে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

গমের আবাদও কমেছে। একসময় প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ধানের তুলনায় কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় আম, গমসহ বিভিন্ন বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ছে। কৃষকেরা পানির ব্যবহার কমাতে ফসলের ধরন পরিবর্তন করছেন।

বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের দাবি

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পানিসংকটাপন্ন এলাকায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাংলাদেশ পানি আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে ১০ বছরের জন্য পানিসংকটাপন্ন অঞ্চল ঘোষণা করে ১১টি বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। পানীয় জল ছাড়া অন্য কাজে নতুন নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, শুধু বিধিনিষেধ জারি করলেই হবে না; মাঠপর্যায়ে এর কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নাইস পারভিন বলেন, পানিসংকট মোকাবিলায় আধুনিক কৃষিপদ্ধতি, পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা এবং বিধিনিষেধের কার্যকর প্রয়োগ প্রয়োজন। বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প দিয়ে এত বড় সংকট সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।

এদিকে, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) জানিয়েছে, প্রায় এক লাখ হেক্টর জমি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে সংস্থাটির দাবি, এখনো বোরো উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েনি।

বিএমডিএর নওগাঁ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে গভীর নলকূপ বন্ধ করে দিতে হবে।

বিকল্প পানি ব্যবস্থার উদ্যোগ

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে উন্নয়ন সংস্থাগুলোও কাজ করছে। কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ডাসকো ফাউন্ডেশনের ‘সওয়াব’ প্রকল্প নিয়ামতপুর ও গোমস্তাপুরের ১৩টি ইউনিয়নে নিরাপদ পানি সরবরাহ, পুকুর পুনঃখনন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণ নিয়ে কাজ করছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৪টি কমিউনিটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, চারটি স্কুল ওয়াশ ব্লক, দুটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পানি সুবিধা, ২০টি পুকুর পুনঃখনন ও ১০টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩৮ হাজার ৯৭০ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণের জন্য জলবায়ু সহনশীল বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জেলায় ২ হাজার ১০৭টি পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে, প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৩ হাজার লিটার।

এ ছাড়া নওগাঁয় ইতোমধ্যে ১৬টি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। আরও পাঁচটি খালের খননকাজ শিগগিরই শুরু হবে। এসব খালে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা গেলে স্থানীয় জলাধার সচল হওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণও বাড়বে।


নির্বাচিত

হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাথরুম থেকে শিক্ষার্থী উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাথরুম থেকে নন্দিনী রায় নামের এক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে স্কুলের পার্শ্ববর্তী ভবনের কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক উদ্ধার করেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী খুলনার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই শিক্ষার্থী দিঘলিয়া উপজেলার ডোমরা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তি বিশ্বাসের মেয়ে। সে উপজেলা গাজীরহাট নঈম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ে পাঠদান শেষে বিদ্যালয়ের বাথরুমে যায় সে। কিন্তু পেছন থেকে কে বা কারা তাকে মারধর করে চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে তার ওপর।

চেতনা ফিরে এলে সে দেখে তার হাত-পা বাঁধা। এ সময়ে সে বাথরুমের ভেতর থেকে চিৎকার করতে থাকে। বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। পরে তারা এগিয়ে এসে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে।

এরপর স্থানীয়ভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে খুলনার বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কি কারণে তার সাথে কারা এ ধরনের কাজ করেছে তা তারা বলতে পারেনি।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ‘ক্লিনিকে চিকিৎসা অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সাথে সে কথা বলেছে। হামলাকারীদের সে দেখতে পায়নি। বিস্তারিত কোনো কিছু সে জানাতে পারেনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।’


নির্বাচিত

হারানো ঐতিহ্যে নতুন প্রাণ, বাড়ছে তালপাখার চাহিদা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০৬
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

‘ভ্যাপসা গরম আর তীব্র লোডশেডিংয়ে গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বস্তি দিতে হাতপাখাই একমাত্র ভরসা। আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প তালপাতার পাখা। তবে বর্তমান সময়ে অসহনীয় গরমে স্বস্তিদানকারী তালপাখার দাম ও কদর দুটোই বেড়েছে।

চাঁচকৈড় বাজারে তালপাখা বিক্রেতা রায়হান আলী জানান, তালপাতা, বাঁশের কঞ্চি ও সুঁই-সুতা হলো পাখার উপকরণ। প্রথমে তালপাতা গাছ থেকে সংগ্রহ করে পাতা তিন-চার ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। পানি থেকে তুলে রোদে শুকাতে হয়। এরপর ধারালো দেশীয় অস্ত্রে কেটে পাতাকে পাখার মতো আকার দেওয়া হয়। পরে তা সুতার সাহায্যে বাঁধাই করা হয়। এরপর হাতল ও পাখার বাড়তি অংশ কেটে ফেলে রং করলেই তা বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে।

তিনি আরও জানান, শ্রমিক মজুরি, তালপাতা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাধাই ও রংকরণ মিলে একটি পাখা তৈরিতে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা। একজন কারিগর সারাদিনে ২০ থেকে ৩০টি পাখা তৈরি করতে পারেন। আকার ও মানভেদে প্রতিটি পাখা বিক্রি হয় ২০ থেকে ৫০ টাকা। পাখা বিক্রির আয়ে চলে সংসার।

গুরুদাসপুর রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মাজেম আলী বলেন, ‘আজকাল প্লাস্টিক ও বৈদ্যুতিক পাখা, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি আধুনিক সামগ্রীর বাজারে তালপাখা হারিয়ে যাচ্ছিল। তবে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ এখন নতুন করে পরিবেশবান্ধব তালপাখাকে ঠাণ্ডার পরশ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। সুদিন ফিরেছে তালপাখার। তবে কাঁচামালের সংকট ও মুনাফা কম হওয়ায় পেশা বদলে ফেলছেন তালপাখার কারিগররা। যারা এখনো এ পেশায় আছেন তাদের অবস্থা ভালো নয়। এ কারু শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।’

লোকসংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কারিগরদের প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ সুবিধা এবং বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তালপাতার হাতপাখা আবারও দেশীয় হস্তশিল্প হিসেবে নতুন পরিচয় পেতে পারে। অন্যথায় বাংলার হাজার বছরের এই ঐতিহ্য অচিরেই শুধু বইয়ের পাতায় আর স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেগম রোকেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শাহনাজ বেগম বলেন, ‘বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এ পাখার একটা বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ পাখাকে ঘিরে অসংখ্য শ্লোক, কবিতা ও গান রচিত হয়েছে। গ্রামবাংলার অতি পরিচিত প্রবাদ-‘‘তালের পাখা প্রাণের সখা, শীতকালে হয় না দেখা, গরমকালে হয় যে দেখা।’’ এ ছাড়া রোমান্টিক গান- ‘‘তোমার হাতপাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে, আরও কিছু সময় তুমি থাকো আমার পাশে।’’ গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারক এ তালপাখাশিল্পকে বাঁচিতে রাখতে হবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।

ইতিহাস বলছে, ভারতীয় উপমহাদেশে তালপাতা ও প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি হাতপাখার ব্যবহার দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যময় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এই তালের পাখা। তালপাতার পাখা শুধু গরম নিবারণের উপকরণ নয়, ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। ঘামে ভেজা কপালে মায়ের হাতের এই পাখার বাতাস ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দামি এবং শান্তির স্পর্শ। বাংলার লোকশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন এই পাখা।


নির্বাচিত

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিশিষ্ট কবি সুফী মোতাহার হোসেনের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আত্মসমালোচনা ও একক নাটক পরিবেশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি কবি সুফী মোতাহার হোসেনের সাহিত্যকর্ম ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি প্রফেসর আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক এম.এ সামাদ, সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, সিনিয়র সাংবাদিক পান্না বালা, কবি শামিম আরা বেগম, নাঠ্যকার ম.আহমেদ নিজাম, বিনোদন নাট্যদলের সভাপতি তন্ময় সরকার অনচল, কবি আলিম আল রাজি,কবি আব্দুর রাজ্জাক রাজাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিনোদন নাট্যদলের একক নাটক ‘নটনন্দন” পরিবেশনা। একজন নাট্যকর্মী জীবন নিয়ে করা এই নাটকে একক চরিত্রে অভিনয় করবেন তন্ময় সরকার অঞ্চল।

আয়োজকরা জানান, ফরিদপুরের সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।


নির্বাচিত

বিপুল সম্পদের উৎস জানতে তদন্ত চায় বিএনপি-যুবদল

* সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় মনিরুল ইসলাম কবির মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতারা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।

‎‎সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বোরহানউদ্দিন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান কবির, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. শিহাব উদ্দিন হাওলাদার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুর রব হাওলাদার এবং পৌর যুবদলের সভাপতি মো. হেলাল মুন্সি।

‎‎লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ‘উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম কবির প্রায় সাত বছর আগেও ট্রাকচালকের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।’ একই সঙ্গে বড়মানিকা ইউনিয়নে তিনি একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতারা।

‎‎তাদের প্রশ্ন, ‘মাত্র সাত বছরে একজন ট্রাকচালক কীভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক হলেন?’ এ বিষয়ে কবিরের আয়ের উৎস অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্তের আহ্বান জানান তারা।

‎‎তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনিরুল ইসলাম কবির। তিনি বলেন, ‘বড়মানিকা ইউনিয়নে ৩০ শতাংশ জমির ওপর আমি বাড়ি নির্মাণ করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

‎‎নিজের সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব প্রশ্নের উত্তর আপনাকে নয়, প্রয়োজনে আমি দুদককে দেব।’


নির্বাচিত

শিবচরে ‘ক্লুলেস’ হত্যার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি, ঘাতক গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামে ঝোপের পাশ থেকে সম্প্রতি মরদেহ উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৯ আগস্ট শিবচর থানার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি খান বাড়ী দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার পাশে বিল্লাল শিকদারর জমির ঝোপের পাশে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ পরে থাকার খবর পেয়ে তা উদ্ধার করেছিল শিবচর থানা পুলিশ। পরে তারা মৃত ওই নারীর নাম শম্পা খাতুন (২৮) বলেও পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। শনাক্তের পরে তারা তার পরিবারের লোকজনকে খবর দিলে নিহত শম্পা খাতুনের পিতা নাটোর জেলার লালপুর থানার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলাম শিবচর থানায় উপস্থিত হন।

তিনি জানান, তার বড় মেয়ে শম্পা খাতুনের তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড়মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সি একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তানও রয়েছে। গত ১৯ আগস্ট গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি তার মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শিবচর থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশকে জানান, তার এক বছরের নাতি আবিরও নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট নিহতের পিতা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র‌্যাব-৮ মাদারীপুরের একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিবচর ও রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন আসামি ফারুক, পিতা রতন মোল্লা, স্থায়ী ঠিকানা জয়সোমা, থানা ও উপজেলা তেরখাদা, জেলা খুলনা বর্তমান ঠিকানা বাখরেরকান্দি, মাদবরচর, শিবচর, মাদারীপুরের বাসা তল্লাশি করে তাকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক ভিকটিমের শিশুপুত্র আবিরকে (১) আড়িয়ালখাঁ নদীর উপরের ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। নদীতে নিখোঁজ শিশুটির লাশ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাদারীপুর শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা ছিল। স্ত্রী ও নিখোঁজ শিশুকে হত্যার বিষয়টি স্বীকারোক্তি দেওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা হবে।


নির্বাচিত

banner close