রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬
২১ আষাঢ় ১৪৩৩

ফেনীতে ভয়াবহ বন্যায় এপর্যন্ত ২৩ জনের প্রাণহানি

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বিরলী এলাকা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৭:৩৩

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে ফেনীতে সৃষ্ট বন্যায় এপর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার ফেনী জেলা প্রশাসন এ তথ্য জানিয়েছে। মৃত ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ, ৫জন নারী, ৪টি শিশু ও একজন জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্য ১৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে এবং বাকিদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলাটিতে বন্যা পানি কমে আসায় বিভিন্ন জায়গায় ভেসে আসা গলিত মরদেহ পওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, মরদেহগুলোর মধ্যে পরশুরামে ২ জন, ফুলগাজীতে ৭ জন, সোনাগাজীতে ৬ জন, দাগনভূঞায় ২ জন, ছাগলনাইয়ায় ৩ জন ও সদর উপজেলায় ৩ জন পাওয়া গেছে।

নিহত যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন- পরশুরাম উপজেলার উত্তর ধনীকুন্ডা এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৭০), একই উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মধুগ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৪০), ফুলগাজী উপজেলার নোয়াপুর গ্রামের শাকিলা আক্তার (২২), উত্তর করইয়া গ্রামের বেলালের ছেলে কিরণ (২০), দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে রাজু (২০), কিসমত বাসুড়া গ্রামের আবুল খায়ের (৫০), লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ তারেক (৩২), শনিরহাট গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে রজবের নেছা (২৫), পূর্ব দরবারপুর গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে ইউসুফ (৬০)।

সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের মাবুল হকের ছেলে নাঈম উদ্দিন (২৮), ছাড়াইতকান্দি গ্রামের শেখ ফরিদের ছেলে আবির (৩), অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৩৮), অজ্ঞাতনামা মহিলা (হিন্দু) (৩৮), অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৪০) ও অজ্ঞাতনামা মরদেহ (মরদেহ নষ্ট হয় যাওয়ায় পুরুষ মহিলা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি) মৃতদেহ। দাগনভূঞা উপজেলার উত্তর করিমপুর গ্রামের নুর নবীর ছেলে নুর মোহাম্মদ মিরাজ (৮ মাস) এবং জয়লস্কর এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে জাফর ইসলাম (৭)। ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর মন্দিয়া গ্রামের কুরফুলেন নেসা (৭৫), মধ্যম নিশ্চিন্তা গ্রামের মিরান কাজী বাড়ির মৃত এবাদুল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আইয়ুব খান (৬০) ও অজ্ঞাত মহিলা (৬০)। ফেনী সদর উপজেলার তেরবাড়ীয়া গ্রামের আজিজুল হক ভূঁইয়া বাড়ির সালেহ আহাম্মদ ভূঁইয়ার মেয়ে উম্মে সাইমা (৯), অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৪২) ও অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৫০)।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারে বন্যায় ফেনীতে ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেড় লাখ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ও বাকিরা বিভিন্ন উঁচু ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, মারা যাওয়ার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের তথ্য আমরা পেয়েছি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।


সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট আন্দোলন’ এর উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, দাদন ব্যবসা, দুর্নীতি এই ৬টি সামাজিক অপরাধ রোধে আলোকিত লালমনিরহাট এর কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে লালমনিরহাট রেলওয়ে এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি।

এ সময় তিনি একথা বলেন,আমরা ১৫-১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। লড়াই করেছি। অনেক মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে। অনেক প্রাণ গিয়েছে, মাথা নোয়াইনি। মাথা নিচু করিনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সেই বিজয় ছিনিয়ে এনেছি।

তিনি আরো বলেন, আজকে আমরা একটা পরিবেশ পেয়েছি যে পরিবেশে আবার নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবার জন্য একটি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেই আন্দোলন শুরু করেছি। সমাজ থেকে নানা রকম সামাজিক অপরাধ মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সবাইকে আন্দোলনে নামতে হবে। তাহলেই স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে। আমরা জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। তিনি আরো বলেন অবিলম্বে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

আলোকিত লালমনিরহাট আন্দোলনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুহ: রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে সূচনা বক্তব্য রাখেন আলোকিত লালমনিরহাটের প্রধান উপদেষ্টা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। আরো বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পরে একটি বর্ণাঢ্য রেলি শহর প্রদক্ষিণ করে।


তাড়াশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাব্বির মির্জা, ​তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। একই সাথে শাকসবজির আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে সবজির বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব মো. আয়নুল হক। তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষকদের বীজ ও সারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এই প্রণোদনা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের আরও বেশি ফসল উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে।

​তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কম©কর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স ম আফসার আলী, সাধারণ সম্পাদক এটি এম আমিনুর রহমান টুটুল, তাড়াশ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আব্দুল বারিক খন্দকার, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এফ এম শাহ্ আলম ফকির, ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহাদাত হোসেন, সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজগঞ্জ-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রণোদনার ফলে এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা লাভবান হবেন এবং রোপা আমন ও শাকসবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সাতক্ষীরায় ঐচ্ছিক তহবিলের চেক বিতরণ করলেন এমপি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু সাইদ, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক তার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক এবং বিভিন্ন মসজিদের সংস্কারের জন্য অনুদানপত্র বিতরণ করেছেন।

রোববার (৫ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন (ডিজিটাল কর্নার) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত- এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

পরে সদর উপজেলার ১০টি মসজিদের সভাপতি ও প্রতিনিধিদের হাতে প্রতিটি মসজিদের সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকার অনুদানপত্র তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা পৌর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা আব্দুস সামাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুদান পেয়ে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসিন্দা অলকা বলেন, ‘আগে কখনো এ ধরনের সহায়তা পাইনি। অনুদান পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অসহায় মানুষের কল্যাণে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে এ ধরনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


বোয়ালখালীতে প্রতি রাতেই লোকালয়ে বন্যহাতি, আতঙ্কে পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি গ্রামে ধান ও পাকা কাঁঠালের সন্ধানে প্রায় প্রতিরাতেই হানা দিচ্ছে বন্যহাতির পাল। এতে নির্ঘুম রাত কাটছে স্থানীয়দের। হাতির তাণ্ডবে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা, ধোরলা ও করলডেঙ্গা গ্রামে প্রায় প্রতি রাতেই লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যহাতির পাল। গত শনিবার (৪ জুলাই) রাত ২টার দিকে জ্যৈষ্ঠপুরার ফতেয়ারখীল এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে দুটি হাতি। এ সময় সবজিক্ষেত ও গাছপালাও নষ্ট হয়। এতে প্রায় অর্ধ লাক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে একই এলাকার আবু সুফিয়ানের বাড়ির আঙিনায় ঢুকে গাছের পাকা কাঁঠাল খেয়ে যায় বন্যহাতির একটি দল।

শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই হাতির পাল লোকালয়ে নেমে এসে ক্ষয়ক্ষতি করছে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাতি তাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখন মশাল দেখিয়েও হাতিকে ভয় দেখানো যায় না। ফলে প্রচলিত উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সম্ভব হচ্ছে না।

ইলিফ্যান্ট রেসকিউ টিমের সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, পাহাড়ে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। তারা মূলত গোলায় রাখা ধান ও গাছের পাকা কাঁঠালের সন্ধানে গ্রামে ঢুকছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, হাতির পাল লোকালয়ে আসার খবর পেলে ফায়ার সার্ভিসের টিম পাঠানো হয়। তারা সাইরেন বাজিয়ে হাতির পালকে বনে ফিরে দেওয়া যায় চেষ্টা করে। ইতোমধ্যে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে বনবিভাগ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।


কেশবপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মানের দাবি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রতিদিন সকাল হলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে পাঠ্যবই হাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেও তাদের মাথার ওপর ঝুলে থাকে এক অজানা শঙ্কা। কারণ, যে ভবনে তারা পড়াশোনা করছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেই ভবনেই প্রতিদিন চলছে পাঠদান।

১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসার কেন্দ্র। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ভবনের নাজুক অবস্থা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে নির্মিত একাডেমিক ভবনটিই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় তিন দশকের ব্যবহারে ভবনের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবনে মোট তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর একটি অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাঝখানের সিঁড়িঘরটিকেও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারি ক্ষুদ্র মেরামত খাতের অর্থ দিয়ে একটি ছোট টিনশেড নির্মাণ করা হলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং স্থায়ী সমাধান নয়।

বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সীমিত জায়গায় একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের ভাষ্য, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর সময় প্রতিদিনই দুশ্চিন্তা কাজ করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বহুদিন ধরেই নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, বর্তমান ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার নতুন ভবনের আবেদন করেছি। দ্রুত নতুন ভবনের অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ (এসএমসি) সভাপতি মো. আব্দুর জলিল বলেন, এই বিদ্যালয়টি এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার একমাত্র ভরসা। অথচ তারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ অবকাঠামোর অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। তারা চান, দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হবে দায়িত্বশীল প্রশাসনের পরিচয়।

শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হলে শুধু পাঠ্যক্রম নয়, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।


তুরাগ নদে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়ে শামীম (১১) ও আফনান (১৩) নামে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) টঙ্গীর মিরাশ পাড়া এলাকায় তুরাগ নদে এই ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল।

নিহতরা হলেন, টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর বউ বাজার এলাকার আনিসুর রহমানের ছেলে শামীম মিয়া ও একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে আফনান। তারা উভয়ই টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বেলা ১১টার দিকে খেলাধুলা করে নদীতে গোসল করতে নামেন তিন বন্ধু শামীম, আফনান ও শীপন। এ সময় সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই বন্ধু তলীয়ে গেলে অপর বন্ধু শীপন দ্রুত নদী থেকে উঠে স্থানীয়দের খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পোঁছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তুরাগ নদ থেকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে।’

এ বিষয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’


বাহারি ফলের স্বাদে, গল্পে আড্ডায় চবিসাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

ভেপসা গরমের মধ্যে হঠাৎই আকাশের রঙ বদলে যায়, শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, পাশাপাশি চলছিল আমাদের গল্প আড্ডা। এদিকে থরে থরে সাজানো হয়েছে বাহারি রকমের মৌসুমি ফল। বলছিলাম চবিসাসের গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা ও ফল উৎসবের কথা।

সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততা, ক্যামেরার ফ্রেম, নোটবুকের পাতায় ছুটে চলাই একজন ক্যাম্পাস সাংবাদিকের প্রতিদিনের গল্প। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও যদি কিছু সময় থেমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা যায়, প্রবীণদের কাছ থেকে শেখা যায় আর সঙ্গে থাকে মৌসুমি ফলের মিষ্টি আয়োজন তবে সেটি কেবল একটি অনুষ্ঠান থাকে না, হয়ে ওঠে শিক্ষা ও সম্প্রীতির মিলনমেলা।

এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস), ‘গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা ও ফল উৎসব–২০২৬’। এ আয়োজন ছিল একই সঙ্গে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আসর এবং সৌহার্দ্যের এক প্রাণবন্ত উৎসব।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মুহূর্তটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল ‘গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা’। সেখানে বক্তা হিসেবে ছিলেন চবিসাসের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক এবং চবিসাসের সাবেক সদস্য ও চবির প্রভাষক মীর হোসেন মজুমদার।

তাদের আলোচনায় উঠে আসে সংবাদ সংগ্রহের অজানা গল্প, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং ডিজিটাল যুগে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ।

আলোচনায় অংশ নেওয়া তরুণ সাংবাদিকদের মতামত এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। মনে হচ্ছিল, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সেমিনার নয়; বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে অভিজ্ঞতা তুলে দেওয়ার আন্তরিক আয়োজন।

আলোচনা শেষে অতিথি ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ফল উৎসব। দেশীয় বাহারি রকমের মৌসুমি ফল ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এক উষ্ণ, আন্তরিক, সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ। অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় যেন দূরত্বের দেয়াল ভেঙে যায়, গড়ে ওঠে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের নতুন সেতুবন্ধন।

চবিসাসের সভাপতি রেফায়েত উল্যাহ রুপক সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ক্যাম্পাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

দিনশেষে আয়োজনটি প্রমাণ করেছে, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ সংগ্রহের পেশা নয়; এটি শেখার, ভাবনার, সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার এক নিরন্তর যাত্রা। সেই যাত্রার নবীন প্রবীণের মধ্যকার সম্পর্ক যেন গড়ে ওঠে নতুনভাবে, নতুন আঙ্গিকে।


নীলফামারী জেলা পুলিশের বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের বার্তা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে নীলফামারী পুলিশ লাইন্স মাঠে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।

প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। পরে তিনি কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন আর.আই. (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল মতিন মোল্লা। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) এ.কে.এম. ওহিদুন্নবীসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্যারেড শেষে পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের মোটরযান শাখা ও অস্ত্রাগার পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা : রোববার (৫ জুলাই) নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন এবং সেগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এ সময় পুলিশ সুপার কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা এবং জনসেবার মানসিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় নীলফামারী জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


পদ্মা-যমুনার পানি বৃদ্ধিতে দৌলতপুরে তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

* ভাঙনের মুখে চারতলা মাদ্রাসা, আশ্রয়ের খোঁজে শত শত পরিবার * জিও ব্যাগ ফেলেও থামছে না যমুনার ভাঙন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জালাল উদ্দিন ভিকু, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ)

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, বাচামারা, জিয়নপুর, চরকাটারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চরকালিকাপুর মুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা চার তলা ভবনটি যে কোন সময় নদী গভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

দৌলতপুর যমুনা নদীর ভাঙনের তীব্রতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরাতন বাজার ও অসংখ্য বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতীরবর্তী জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নদী ভাঙ্গনে শিকার কয়েক শত পরিবার নৌকা যোগে ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র আশ্রয়ের খোজে ছুটে বেড়াচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতপুর উপজেলার চরপারুরিয়া-কালিয়াপুর এলাকার শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাঘুটিয়া পুরাতন বাজার। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

আজ সরেজমিনে বাঘুটিয়া এলাকার গোলাম আজম বলেন, গত কয়েকদিনে নদীর পানি দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। নদীর তীরের বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে। চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি আজ দিনের মধ্যে চার তলা ভবনটি নদী গভে বিলীন হতে পারে । এছাড়া বাঘুটিয়া ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘুটিয়া পুরাতন বাজারসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদ রক্ষা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তীরবর্তী শত শত পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

নদীভাঙন রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার প্রায় ৭৭০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানিকগজ্ঞ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের নিদেশে জরুরী ভিত্তিতে পাটুরিয়া ৫ নং ফেরিঘাট এলাকায়, বাঘুটিয়া, বাচামারা, চরকাটারী, ঘিওর কুস্তা,

পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধে কাজ করছে । পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন বরুরিয়া এলাকায় ৩৫০ মিটার, স্যোশাল প্যান্ড এলাকায় ৩০০ মিটার, দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ৩০০ এবং ঘিওর কুস্তা এলাকায় ১২০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানও চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৭ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান, নদীভাঙন রোধে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের নদীভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ দিকে উপেজলা নিবাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন জানান, সরকারি ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যমুনা নদীর স্রোত এতো বেশি জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চেস্টা করে যাচ্ছে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা রক্ষা করার।

রবিবার (৫ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান, উপেজলা নিবাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন পরিরদশন করেছেন ।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হবে নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষকে।


হালুয়াঘাটে ৩ দিন ব্যাপি নজরুল বর্ষের সমাপ্তি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

জাতীয় পর্যায়ে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকালে উপজেলা ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪৬ ময়মনসিংহ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সুলতানা রোজী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, ব্যাবসায়ী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি নাদিম আহমদ। এছাড়াও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির প্রতীক। উনার সাধারণ জীবন যাবন প্রমাণ করে উনি অসাধারণ এর সাধারণ। উনার জীবনী থেকে আমাদের অনেক শিক্ষার আছে। বিদ্রোহী কবি নজরুলকে বিশ্বব্যাপী আরও সুপরিচিত করতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন দারুণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বই ও গাছ উপহার দেওয়া হয়।


নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম সাধারণ সভা

ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এমপি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভা শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এমপি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন, নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো: কলিমুল্লাহ, নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা: মো: বুলবুল কবির, নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুল আমিন, সহ-সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী, চৌধুরী মো: ইয়াহিয়া, বাবু পরেশ সূত্রধর, যুগ্ন সম্পাদক মো: নাজমুল হক ভ‚ইয়া, বাবু মলয় কুমার বর্মন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: হারুন অর-রশিদ, কোষাধ্যক্ষ মো: আজহার ইসহাক মোল্লা, নির্বাহী সদস্য এম.এ বাশার বাচ্চু, মো: কাজিম উদ্দীন, বাবু স্বপন কুমার সাহা, মো: আব্দুল বাছেদ মিয়া, মো: রাসেল বিন হাসানাত, সলিমুল্লাহ ভূইয়া, মো: আজহার উদ্দিন, মো: মাসুদুর রহমান মাসুদ ও বাবু শংকর লাল সাহা প্রমুখ।

বক্তারা আগামী দিনে সমিতির উন্নয়ন অব্যাহত রাখার উপর জোর দেন। ডায়াবেটিক হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত করার প্রস্তাবনাকে উপস্থিত সকলে স্বাগত জানান।


কোটালীপাড়ায় ৯৯ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামো

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে চলছে ৯৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর বরাদ্দে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে এসব প্রকল্প। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও পুনর্নির্মাণ, ছোট সেতু ও কালভার্ট সংস্কার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং জনসাধারণের চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আনসার আলী জানান, ৯৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৪১ টন চাল এবং ৫০ টন গম। ইতোমধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোর কাজও দ্রুত শেষ হবে। তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

৯৯টি প্রকল্পের মধ্যে হিরণ ইউনিয়নের একটি সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্প ইতোমধ্যে স্থানীয়দের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার হিরণ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইদ মেকারের বাড়ি থেকে চান মিয়া মুন্সীর বাড়ি পর্যন্ত সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরু ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে চলাচলে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন করে সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় প্রায় ৫০টি পরিবারের মানুষ এখন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন।

হিরণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল মুন্সী বলেন, রাস্তাটি অনেক সরু ছিল। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হতো। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এস এম জিলানী ভাইয়ের উদ্যোগে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে।

কাজী মন্টু কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী অমিত মাহমুদ বলেন, এ ধরনের ছোট ছোট উন্নয়ন প্রকল্প গ্রামীণ জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। সড়ক, কাঠের সেতু, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হলে এলাকার সার্বিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এস এম জিলানী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে অত্যন্ত তৎপর। তিনি প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছেন এবং নিয়মিত কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে আমরা চাই, প্রতিটি প্রকল্পের কাজ যেন মানসম্মত হয় এবং সাধারণ মানুষের বাস্তব উপকারে আসে।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এসব প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করছি, প্রকল্পগুলোর কাজ যেন মানসম্মতভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। যেসব এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের বরাদ্দ যেন সঠিকভাবে জনগণের কাজে লাগে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এমপির বরাদ্দে বাস্তবায়নাধীন এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে কোটালীপাড়ার গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে এবং উন্নয়নের সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। এতে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


কেশবপুরে ২৭ বছর পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫১
হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রতিদিন সকাল হলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে পাঠ্যবই হাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেও তাদের মাথার ওপর ঝুলে থাকে এক অজানা শঙ্কা। কারণ, যে ভবনে তারা পড়াশোনা করছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেই ভবনেই প্রতিদিন চলছে পাঠদান।

১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসার কেন্দ্র। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ভবনের নাজুক অবস্থা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে নির্মিত একাডেমিক ভবনটিই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় তিন দশকের ব্যবহারে ভবনের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবনে মোট তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর একটি অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাঝখানের সিঁড়িঘরটিকেও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারি ক্ষুদ্র মেরামত খাতের অর্থ দিয়ে একটি ছোট টিনশেড নির্মাণ করা হলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং স্থায়ী সমাধান নয়।

বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সীমিত জায়গায় একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের ভাষ্য, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর সময় প্রতিদিনই দুশ্চিন্তা কাজ করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বহুদিন ধরেই নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, বর্তমান ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার নতুন ভবনের আবেদন করেছি। দ্রুত নতুন ভবনের অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ (এসএমসি) সভাপতি মো. আব্দুর জলিল বলেন, এই বিদ্যালয়টি এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার একমাত্র ভরসা। অথচ তারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ অবকাঠামোর অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি—আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। তারা চান, দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হবে দায়িত্বশীল প্রশাসনের পরিচয়।

শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হলে শুধু পাঠ্যক্রম নয়, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।


banner close