ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে ফেনীতে সৃষ্ট বন্যায় এপর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার ফেনী জেলা প্রশাসন এ তথ্য জানিয়েছে। মৃত ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ, ৫জন নারী, ৪টি শিশু ও একজন জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্য ১৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে এবং বাকিদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলাটিতে বন্যা পানি কমে আসায় বিভিন্ন জায়গায় ভেসে আসা গলিত মরদেহ পওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, মরদেহগুলোর মধ্যে পরশুরামে ২ জন, ফুলগাজীতে ৭ জন, সোনাগাজীতে ৬ জন, দাগনভূঞায় ২ জন, ছাগলনাইয়ায় ৩ জন ও সদর উপজেলায় ৩ জন পাওয়া গেছে।
নিহত যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন- পরশুরাম উপজেলার উত্তর ধনীকুন্ডা এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৭০), একই উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মধুগ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৪০), ফুলগাজী উপজেলার নোয়াপুর গ্রামের শাকিলা আক্তার (২২), উত্তর করইয়া গ্রামের বেলালের ছেলে কিরণ (২০), দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে রাজু (২০), কিসমত বাসুড়া গ্রামের আবুল খায়ের (৫০), লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ তারেক (৩২), শনিরহাট গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে রজবের নেছা (২৫), পূর্ব দরবারপুর গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে ইউসুফ (৬০)।
সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের মাবুল হকের ছেলে নাঈম উদ্দিন (২৮), ছাড়াইতকান্দি গ্রামের শেখ ফরিদের ছেলে আবির (৩), অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৩৮), অজ্ঞাতনামা মহিলা (হিন্দু) (৩৮), অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৪০) ও অজ্ঞাতনামা মরদেহ (মরদেহ নষ্ট হয় যাওয়ায় পুরুষ মহিলা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি) মৃতদেহ। দাগনভূঞা উপজেলার উত্তর করিমপুর গ্রামের নুর নবীর ছেলে নুর মোহাম্মদ মিরাজ (৮ মাস) এবং জয়লস্কর এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে জাফর ইসলাম (৭)। ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর মন্দিয়া গ্রামের কুরফুলেন নেসা (৭৫), মধ্যম নিশ্চিন্তা গ্রামের মিরান কাজী বাড়ির মৃত এবাদুল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আইয়ুব খান (৬০) ও অজ্ঞাত মহিলা (৬০)। ফেনী সদর উপজেলার তেরবাড়ীয়া গ্রামের আজিজুল হক ভূঁইয়া বাড়ির সালেহ আহাম্মদ ভূঁইয়ার মেয়ে উম্মে সাইমা (৯), অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৪২) ও অজ্ঞাতনামা পুরুষ (৫০)।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারে বন্যায় ফেনীতে ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেড় লাখ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ও বাকিরা বিভিন্ন উঁচু ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, মারা যাওয়ার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের তথ্য আমরা পেয়েছি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে গ্রেপ্তার হওয়া ‘ঢাকা বাঁচাও’ সংগঠনের সভাপতি সোহানী শিফাকে প্রায় ২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ভাত বিক্রি শুরু করার কিছুক্ষণ পর শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে ভাত বিক্রির ভ্যানসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণে ওই নারীকে পুলিশ আটক করেছিল। মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনের সামনের সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার দাবিতে কয়েকদিন ধরে সরব ছিলেন সোহানী শিফা। এরই অংশ হিসেবে রোববার (৫ জুলাই) সচিবালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী ভাতের হোটেল চালু করেন তিনি।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেছিলেন, ‘মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলের প্রতিবাদে রোববার (৫ জুলাই) থেকে সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল চালু করবেন। সেখানে ১০ টাকায় ভাত, ডাল ও আলুভর্তা দেওয়া হবে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ, মংলা পাইলট হাউস, ড্রেজার বেইজ, রূপসা ফেরিঘাট, খুলনা শিপইয়ার্ড লি. তদুপরি খুলনা ও নওয়াপাড়া নদী বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) ও শনিবার (৪ জুলাই) এলাকার যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুবিধাদি দেখতে এ পরিদর্শন করেছেন তিনি।
পরিদর্শনকালে তিনি কর্তৃপক্ষের ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ (১ম পর্ব) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪টি ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং ইয়ার্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন।
প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর কোড’ চালু করেছে সরকার।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি কার্যক্রমের গুণগত মান, নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এতে উপস্থিত ছিলেন সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন), অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর), এবং বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কুমিল্লার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) রোজী আক্তারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, কুমিল্লা জেলা কমিটি।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসককে অভিনন্দন জানিয়ে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার সফল কর্মজীবন এবং কুমিল্লা জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সফল নেতৃত্ব কামনা করা হয়।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নেতাদের শুভেচ্ছা ও সম্মাননার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’ তিনি জেলার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সেবার মানোন্নয়নে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি ও দৈনিক বাংলা পত্রিকার কুমিল্লা দ. জেলা প্রতিনিধি মো. তরিকুল ইসলাম তরুণ, সহসভাপতি বাবর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা মজুমদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মারুফসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা।
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ কুমিল্লা জেলার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জনস্বার্থে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুরন্দপুর গ্রামের শিক্ষার্থীরা একটি সেতুর অভাবে নিজেদের গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বি এল বাড়ি আলহাজ আবুল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও গুমানি নদীর কারণে বিদ্যালয়টিতে সহজে যাতায়াত করতে পারছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়টি পুরন্দপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুমানি নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত। নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ছোট খেয়া নৌকা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এই যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টিতে ভর্তি হতে পারে না। এর পরিবর্তে তারা পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা ফরিদপুর উপজেলা সদরের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হচ্ছে।
স্থানীয়দের জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অধ্যুষিত এ অঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে খেয়া নৌকায় পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দমকা হাওয়া কিংবা বৈরী আবহাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু একটি সেতুর অভাবে নিজ গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরেজমিনে পুরন্দপুর ঘাটে দেখা যায়, ছোট খেয়া নৌকায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও নদী পারাপার করছে। সামান্য বাতাসেই নৌকাটি দুলে উঠলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।
পুরন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন সরদার বলেন, ‘এই খেয়া পার হয়ে পুরন্দপুরসহ আশপাশের গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ফরিদপুর উপজেলা সদর ও পাবনা জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের কারণে অনেককে বিকল্প পথে অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘নদীর এক পাশে অবস্থিত এরশাদনগর হাট এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। নদীর অপর পাড়ের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এখানে আসেন। আধুনিক যুগে একটি সেতুর অভাবে আমাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুরন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা লতিফুল হাসান চঞ্চল বলেন, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। শুধু বিদ্যালয় নয়, ইউনিয়নের সরকারি হাসপাতালটিও বিদ্যালয়সংলগ্ন পাড়ে অবস্থিত। যাতায়াতের সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে গুমানি নদীর ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিনকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চেক ডিজ অনার মামলায় খুলনার একটি আদালত নসরুল জামান নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামি রূপসা উপজেলার চর রূপসার বাসিন্দা রশিদ মোড়লের ছেলে। তিনি একজন জমি ব্যবসায়ি।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে খুলনার যুগ্ম মহানগর ২য় আদালতের বিচারক মো: বেল্লাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী মো: কামরুজ্জামান পলাশ। রায় ঘোষণার সময় আসামি নসরুল জামান আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক রয়েছেন।
আইনজীবী পলাশ জানান, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর জমি ক্রয় করে দেওয়ার কথা বলে কাজী মাইনুর ইসলামের কাছ থেকে ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয় জমি ব্যবসায়ী নসরুল জামান। জমি কিনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জমি ব্যবসায়ী গত ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আল আরফা ইসলামী ব্যাংক গল্লামারী শাখার একটি চেক প্রদান করেন, যার নং ১২৭৯২১১। চেকটি ব্যাংকে দিলে সেটি ডিজ অনার হয়। একই বছরের ১ মার্চ আইনজীবীদের মাধ্যমে আসামিকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সেটি তিনি ৪ মার্চ গ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খালিশপুর আদালতে বাদী একটি মামলা দায়ের করেন, যার নং ছিল সিআর ১২১/২৪। একই বছরের ১৪ নভেম্বর একই আদালতে আসামি নসরুল জামানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়্। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে যুক্তিতর্ক হয়।
তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা এখনো অনিশ্চিত। দ্রুতগতির নৌযানের অভাবে গর্ভবতী নারী, গুরুতর অসুস্থ রোগী ও দুর্ঘটনায় আহতদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। সম্প্রতি এমন পরিস্থিতিতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হওয়ার ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে চরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ।
এ প্রেক্ষাপটে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চলে জরুরি রোগী পরিবহন ও জনসেবার সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি স্পিডবোট এবং বেতনভুক্ত চালক নিয়োগের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
রোববার (৫ জুলাই) গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আল আমিন স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া সরদারপাড়াসহ তিস্তা নদীর মাঝখানে অবস্থিত বিভিন্ন চরে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারের বসবাস। চারদিকে নদী থাকায় উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌযান। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো স্পিডবোট বা জরুরি রোগী পরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায় সংকটময় মুহূর্তে রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, গত ২৬ জুন দ্রুত নৌযান না পাওয়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে দুটি স্পিডবোট সরবরাহ এবং সেগুলো পরিচালনার জন্য বেতনভুক্ত দক্ষ চালক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন চরবাসী।
এলাকাবাসীর প্রতিনিধি মো. আল আমিন বলেন, নদীই আমাদের একমাত্র চলাচলের পথ। কিন্তু জরুরি সময়ে দ্রুতগতির নৌযান না থাকায় অসহায় হয়ে পড়তে হয়। অনেক রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে জীবন হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন। তাই মানবিক বিবেচনায় দ্রুত দুটি সরকারি স্পিডবোটের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চরবাসীর দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে তিস্তা চরাঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও পরিষদ মিলনায়তনের উদ্বোধন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
রোববার (৫ জুলাই) বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট নব নির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করে মুনাজাতে অংশ নেন তিনি। পরে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও মিলনায়তন পরিদর্শন করেন।
এসময় ফুলবাড়িয়া আসনের এমপি অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি এমপি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার, ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ মামুন , যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একেএম শমসের আলীসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। এসময় দলটির নেতাকর্মীরা বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও স্লোগানের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
এদিন পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা পরিলক্ষিত হলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
এলজিইডি অফিস সূত্র জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হল রুম নির্মাণকাজ শুরু করে এমএসই-এমআরই(জেভি) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৮ কোটি ৬ লাখ ৮২ হাজার ৮৮৬ টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করা হয়।
নতুন এ অবকাঠামো উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার পাশাপাশি জনসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ কার্যক্রম কে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিমন্ত্রীর ফুলবাড়িয়ায় এটি প্রথম সফর ছিল।
সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক সহিংসতা, জমিজমা নিয়ে বিরোধ, দেনা-পাওনার দ্বন্দ্ব, মাদক, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো নানা কারনে নওগাঁ জেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হত্যাকাণ্ড। একের পর এক খুনের ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পরিবার হারাচ্ছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে, আর অনেক পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে চরম সংকটে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। ভিনদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার চর্চার অভাব, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, মাদকের বিস্তার, বেকারত্ব, হতাশা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার তরুণদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অন্তত ২৫টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার অধিকাংশই হত্যা, পারিবারিক সহিংসতা কিংবা রহস্যজনক মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
গত ২৯ জুন মহাদেবপুর উপজেলার ছোট মহেশপুর গ্রামে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে ভাতিজা চপলের হাতে চাচা আব্দুল জব্বার (৬৫) নিহত হন। ২৮ জুন সদর উপজেলার নামাজগড় গাউসুল আজম কামিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ আল নিরবের (১৪) লাশ মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিরব পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা গ্রামের রুবেল হোসেনের ছেলে। ১৭ জুন আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেললাইনের পাশ থেকে শিক্ষক নেয়ামুল বাশিরের (৫৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। ৮ জুন মান্দা উপজেলার হাটোর গ্রামে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ীদের মারধরে তৈয়বুর রহমান মোল্লা (৬৫) মারা যান। ৭ জুন একই উপজেলার ছুটিপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে লাঠির আঘাতে নিহত হন আব্দুল হামিদ (৬৫)। ৩ জুন সাপাহার উপজেলার পুনর্ভবা নদীর বলদিয়াঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজের একদিন পর মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোর সিফাতের লাশ উদ্ধার করা হয়।
৭ মে নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি-নওগাঁ এলাকায় বিয়ের দেড় মাসের মাথায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ ফাল্গুনিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী মোরশেদের বিরুদ্ধে। ২০ এপ্রিল নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চার সদস্য হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ রহমান (৯) ও মেয়ে সাদিয়া আক্তারকে (৩)গলা কেটে হত্যা করা হয়। ২ এপ্রিল সদর উপজেলার গোয়ালি উত্তরপাড়া (কালুর মোড়) এলাকা থেকে মিনতি (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১ এপ্রিল পোরশা উপজেলার শীতলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে স্বামীর মারধরে মরজিনা খাতুন রুপসির (২৬) মৃত্যু হয়।
৩১ মার্চ নওগাঁ শহরের বাইপাস বরুণকান্দি এলাকায় একটি গ্যারেজে রাখা বাস থেকে বাসের হেলপার জাহিদ ইসলাম (২২)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৬ মার্চ পত্নীতলা উপজেলার আত্রাই নদীর কাঞ্চন গ্রাম এলাকা থেকে অঞ্জনা কর্মকার (৪৫) নামে এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৬ মার্চ আত্রাই উপজেলার বলরামচক গ্রামে মাদকাসক্ত জয় সরকার (২৫) স্ত্রী বৃষ্টি রানী (২০) ও আড়াই বছরের কন্যা জিনি সরকারকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করেন। ৫ মার্চ মান্দা উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চোর সন্দেহে রফিকুল ইসলামকে (৪৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
২৮ ফেব্রুয়ারি পত্নীতলা উপজেলার উজিরপুর চৌধুরীপাড়া এলাকা থেকে প্রতিমা রাণী (২৪)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি বদলগাছী উপজেলার ভান্ডারপুর বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে তুন্নাহার বেগমের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি একই উপজেলার বওলাপাড়া গ্রামে পেয়ারা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় নুপুর (২৬) এর মরদেহ পাওয়া যায়।
২৫ জানুয়ারি সদর উপজেলার বিল ভবানীপুর গ্রামে একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে মিতু বানু নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৯ জানুয়ারি রানীনগর উপজেলার হরিপুর গ্রামে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় বাসন্তী রানীর (২৫) মরদেহ উদ্ধার হয়। ১৮ জানুয়ারি ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ গ্রামে সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদের হামলায় গুরুতর আহত কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পোরশা উপজেলার নীতপুর গ্রামের দরিদ্র বৃদ্ধ মশিউর রহমান বলেন, একটি ডিম ভাজাকে কেন্দ্র করে জামাই আব্দুল মকিম তার মেয়ে মরজিনা খাতুন রুপসিকে হত্যা করে। ঘটনার পর জামাই কারাগারে রয়েছে। তাদের এক থেকে ১১ বছর বয়সি ছয় সন্তান এখন তার কাছেই রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। এতগুলো নাতি-নাতনিকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।
নিহত শিক্ষক নেয়ামুল বাশিরের স্বজনরা জানান, তিনি আত্রাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নওগাঁ শহরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন শাহাগোলা রেলস্টেশনের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন বলেও জানান।
নওগাঁ জজ আদালতের আইনজীবী মো. মাহ্ফুজুর রহমান বলেন, সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির কারণে খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বাড়ছে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পারলে এসব অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলার অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড পারিবারিক বিরোধ বা সহিংসতার জেরেই ঘটছে। ভাই ভাইকে, স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করছে। এমনকি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কারিগরী দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বান্দরবান জেলার লামা পৌর শহরের টি.টি এন্ড ডি.সি এলাকায় যাত্রা শুরু করেছে‘ লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’।
রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনাবাহিনীর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক এ ইনস্টিটিউট’র উদ্ভোধন করেন। এ উপলক্ষ্যে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ক্যাপ্টেন তাওহীদ, ইনস্টিটিউট পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম. রহুল আমিন, জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্ট্রের পরিচালক উ: নন্দমালা মহাথেরো ও পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের লামা উপজেলা শাখার সভাপতি জয় বংশ বিশেষ অতিথি ছিলেন।
উ. নন্দ মালা জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্ট্রের অধীনে পরিচালিত ইনস্টিটিউট’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে লামা প্রেসক্লাব’র সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, দাতা সদস্য থোয়াইপ্রু মং মার্মা, সমাজ সেবিকা মায়েছা মার্মা, আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইয়াহিয়া আহমেদ, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্ব নাথ দে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা লাভলু, জীনামেজু অনাথ আশ্রমের জমি দাতা মাহাবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ইনস্টিটিউটে আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে প্রাথমিকভাবে ‘কম্পিউটার ও সেলাই’ কোর্সে চালু হবে বলে জানান পরিচালক এম. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার যুবক যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক উ. নন্দমালা মহাথেরো ইনস্টিটিউট’র জন্য একসেট কম্পিউটার ও একটি সেলাই মেশিন প্রদান করেন। পরে ইনস্টিটিউট চত্বরে ফলজ গাছের চারা লাগিয়ে উ. নন্দমালা জীনামেজু কল্যাণ ট্রুাস্ট্রের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনায় প্রধান অতিথি লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, বর্তমানে সমাজ দেশ জাতি গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই, যে জাতি যত বেশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত সেই জাতী তত বেশি উন্নত। তাই চাকরির পেছনে না ঘুরে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, দাদন ব্যবসা, দুর্নীতি এই ৬টি সামাজিক অপরাধ রোধে আলোকিত লালমনিরহাট এর কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে লালমনিরহাট রেলওয়ে এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি।
এ সময় তিনি একথা বলেন,আমরা ১৫-১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। লড়াই করেছি। অনেক মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে। অনেক প্রাণ গিয়েছে, মাথা নোয়াইনি। মাথা নিচু করিনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সেই বিজয় ছিনিয়ে এনেছি।
তিনি আরো বলেন, আজকে আমরা একটা পরিবেশ পেয়েছি যে পরিবেশে আবার নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবার জন্য একটি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেই আন্দোলন শুরু করেছি। সমাজ থেকে নানা রকম সামাজিক অপরাধ মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সবাইকে আন্দোলনে নামতে হবে। তাহলেই স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে। আমরা জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। তিনি আরো বলেন অবিলম্বে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
আলোকিত লালমনিরহাট আন্দোলনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুহ: রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে সূচনা বক্তব্য রাখেন আলোকিত লালমনিরহাটের প্রধান উপদেষ্টা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। আরো বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পরে একটি বর্ণাঢ্য রেলি শহর প্রদক্ষিণ করে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। একই সাথে শাকসবজির আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে সবজির বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব মো. আয়নুল হক। তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষকদের বীজ ও সারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এই প্রণোদনা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের আরও বেশি ফসল উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কম©কর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স ম আফসার আলী, সাধারণ সম্পাদক এটি এম আমিনুর রহমান টুটুল, তাড়াশ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আব্দুল বারিক খন্দকার, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এফ এম শাহ্ আলম ফকির, ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহাদাত হোসেন, সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রণোদনার ফলে এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা লাভবান হবেন এবং রোপা আমন ও শাকসবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক তার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক এবং বিভিন্ন মসজিদের সংস্কারের জন্য অনুদানপত্র বিতরণ করেছেন।
রোববার (৫ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন (ডিজিটাল কর্নার) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত- এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
পরে সদর উপজেলার ১০টি মসজিদের সভাপতি ও প্রতিনিধিদের হাতে প্রতিটি মসজিদের সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকার অনুদানপত্র তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা পৌর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা আব্দুস সামাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুদান পেয়ে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসিন্দা অলকা বলেন, ‘আগে কখনো এ ধরনের সহায়তা পাইনি। অনুদান পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অসহায় মানুষের কল্যাণে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে এ ধরনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি গ্রামে ধান ও পাকা কাঁঠালের সন্ধানে প্রায় প্রতিরাতেই হানা দিচ্ছে বন্যহাতির পাল। এতে নির্ঘুম রাত কাটছে স্থানীয়দের। হাতির তাণ্ডবে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা, ধোরলা ও করলডেঙ্গা গ্রামে প্রায় প্রতি রাতেই লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যহাতির পাল। গত শনিবার (৪ জুলাই) রাত ২টার দিকে জ্যৈষ্ঠপুরার ফতেয়ারখীল এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে দুটি হাতি। এ সময় সবজিক্ষেত ও গাছপালাও নষ্ট হয়। এতে প্রায় অর্ধ লাক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে একই এলাকার আবু সুফিয়ানের বাড়ির আঙিনায় ঢুকে গাছের পাকা কাঁঠাল খেয়ে যায় বন্যহাতির একটি দল।
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই হাতির পাল লোকালয়ে নেমে এসে ক্ষয়ক্ষতি করছে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাতি তাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখন মশাল দেখিয়েও হাতিকে ভয় দেখানো যায় না। ফলে প্রচলিত উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সম্ভব হচ্ছে না।
ইলিফ্যান্ট রেসকিউ টিমের সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, পাহাড়ে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। তারা মূলত গোলায় রাখা ধান ও গাছের পাকা কাঁঠালের সন্ধানে গ্রামে ঢুকছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, হাতির পাল লোকালয়ে আসার খবর পেলে ফায়ার সার্ভিসের টিম পাঠানো হয়। তারা সাইরেন বাজিয়ে হাতির পালকে বনে ফিরে দেওয়া যায় চেষ্টা করে। ইতোমধ্যে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে বনবিভাগ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।