যানজট কমানোর আশা দেখিয়ে শুরু হয়েছিল বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। চার বছরের কাজ ১০ বছরেও শেষ না হওয়ায় সেই প্রকল্প এখন ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে চলাচলকারীদের ‘গলার কাঁটা’। দুর্ভোগ আর ভোগান্তির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।
প্রকল্পের গার্ডার পড়ে মানুষের মৃত্যু, যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার কারণে সমালোচনার অন্ত নেই। তাই তড়িঘড়ি করে বিআরটি প্রকল্পের একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ভোগান্তি কমবে না।
নির্ধারিত সময়ে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়েও আছে অনিশ্চয়তা। বিআরটি চালু হলে এর সুফল মিলবে কি না তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। ফলে ব্যয় বাড়ছে। গত ১০ বছর ধরে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা বিআরটি প্রকল্পটি ওই সড়কের জন্য উপযুক্ত ছিল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মানুষের সমালোচনার মুখে বিভিন্ন সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিআরটি প্রকল্পকে ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই প্রকল্প নিয়ে গত মাসেই তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে আমাদের একটি প্রকল্প গলার কাঁটা হয়ে গেছে। এটি গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। প্রকল্পটি আমি আসার আগেই নেয়া হয়েছে। এটি নিয়ে খুব চিন্তা-ভাবনা করা উচিত ছিল।’
এদিকে রোববার গাজীপুরের টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস থেকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত ফ্লাইওভারের ঢাকামুখী ২ লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করার জন্য ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করেন সেতুমন্ত্রী।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, এতে মানুষের দুর্ভোগ কমবে কিনা? যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন সেটি টেকসই হবে না। কারণ বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে প্রধান সড়কের ওপর। মূল সড়কের ওপর রাখা আছে নির্মাণসামগ্রী। কোথাও নেই নিরাপত্তার বালাই। এতে সেই যানজট লেগেই থাকবে, আর বৃষ্টি হলে ফ্লাইওভারের নিচের অংশে পানি জমে যানজটের মাত্রা আরও বাড়বে।
তা ছাড়া ফ্লাইওভার দিয়ে ঢাকামুখী যানবাহন কিছুটা দ্রুত আসতে পারবে। তবে ঢাকা থেকে বিমানবন্দর-গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহগামী যানবাহনের ভোগান্তি এখনই দূর হচ্ছে না। কারণ ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে চালু হওয়া ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ময়মনসিংহগামী যানবাহনকেও যানজটে আটকে থাকতে হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিআরটির পুরো অংশ চালু না করে, একাংশ চালু করলে তার সুফল মিলবে না। তবে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এ প্রকল্প থেকে সুফল মিলবে না। কারণ বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর করিডরটি বিআরটি প্রকল্প করার জন্য কোনোভাবেই উপযোগী ছিল না। ফলে বিশেষায়িত বাস ক্রয় এবং তা চালু করার বিষয়টিও অনিশ্চিত। সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। পুরো টাকাই কার্যত জলে যাচ্ছে। জনগণের টাকায় এত বড় ব্যর্থ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নকারীদের ব্যর্থতা চিহ্নিত করা দরকার।’
যানবাহনের চাপ বাড়লে নতুন লেনেও যানজট হবে
টঙ্গী ফ্লাইওভারের ঢাকামুখী দুটি লেন খুলে দেয়ার পর সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকামুখী দুটি লেন খুলে দেয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। উদ্বোধনের পর ফ্লাইওভার ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। অনেককেই দেখা গেছে মুঠোফোনে প্রথমবার ফ্লাইওভার ভ্রমণের ভিডিও ধারণ করতে। তবে যানবাহনের চাপ বাড়লে যানজটে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
এতে যানজট হবে কি না জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মহিরুল ইসলাম খান জানান, ফ্লাইওভার ও সেতুর দুই লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) মতামত নেয়া হয়েছে। যানজট হলে দুই মহানগরের পুলিশ ট্রাফিকব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করবে।
এদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা বলা হলেও। এ সময়ে কাজ শেষ হচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বাড়বে। বাড়বে প্রকল্পের খরচ, ভুগবে মানুষ।
বিআরটির একাংশ খুলে দিয়ে রোববার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা গাজীপুরে মহাসড়কে দুর্ভোগ কমাতে রাজধানীমুখী ফ্লাইওভারের ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার দুটি লেন খুলে দিলাম। এই দুটি লেন চালু হওয়ায় ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ অনেক কমবে। এতে ফ্লাইওভারের বাকি কাজ গতিশীল হবে। প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী মে-জুনের মাঝে পুরো প্রকল্পটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।’
ইলেকট্রিক আর্টিকুলেটেড বাস চলবে না বিআরটিতে
বিআরটি প্রকল্প শুরুর দিকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল এই করিডরে ইলেকট্রিক আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল করবে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সময় এসে বলা হচ্ছে, এখনই ইলেকট্রিক বাস চলার ফ্যাসিলিটি রেডি হবে না। তাই সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে কর্তৃপক্ষ। ইলেকট্রিক বাসের পরিবর্তে ডিজেলচালিত বাস দিয়েই বিআরটি করিডরে বাস সার্ভিস শুরু হবে। প্রথম দফায় ১৩৭টি ডিজেলচালিত বাস দিয়ে শুরু হবে। তবে পরবর্তী সময়ে ইলেকট্রিক বাসের ফ্যাসিলিটি তৈরি করার পরে ইলেকট্রিক বাস নামানো হবে।
কী আছে বিআরটিতে
এ প্রকল্পে সড়ক হবে ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভূমিতে থাকবে ১৬ কিলোমিটার এবং উড়াল সড়ক হবে সাড়ে চার কিলোমিটার। টঙ্গীতে ১০ লেনের ব্রিজ তৈরি হচ্ছে, ৬টি ফ্লাইওভার হচ্ছে, এর মধ্যে বিমানবন্দর ফ্লাইওভার ৮১৫ মিটার, জসীমউদ্দীন ফ্লাইওভার ৫৮০ মিটার, কুনিয়া ফ্লাইওভার ৫৫০ মিটার, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ফ্লাইওভার ৫৫০ মিটার, ভোগড়া ফ্লাইওভার ৫৮০ মিটার ও জয়দেবপুর ফ্লাইওভার ২ হাজার ১৪ মিটার। গাজীপুরে একটি বাস ডিপো থাকছে, যার কাজ শতভাগ সম্পন্ন। বিআরটি রুটে মোট স্টেশন থাকবে ২৫টি।
২০১২ সালের ২০শে নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পায় ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট)’। তখন এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের শেষদিকে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০২১ সালে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয়, প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায়। এরপর ২০২২-এর ডিসেম্বরে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সে মেয়াদও বাড়ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পের ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে সরকার দিচ্ছে ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ২ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মৃত প্রবাসীর পরিবারের আর্থিক অনুদান মঞ্জুরির বিনিময়ে এবং ঋণ দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দুই কর্মচারী ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের একজন পিয়নকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) বোর্ডের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীরা হলেন— ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিরাপত্তা প্রহরী মো. শফি উদ্দিন ও অফিস সহায়ক পলাশ চন্দ্র রায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের সেবা প্রদানে দেশে এবং দূতাবাসে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।’
প্রবাসীদের সহযোগিতায় কোনো ধরনের গাফিলতি ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের এক মেয়েশিশু প্রায় আড়াই মাসেও হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারসহ তিনজন গ্রেপ্তার হলেও আসামিপক্ষ সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে শনিবার (২৩ মে) এক সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা। সাম্প্রতিক দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, হত্যা ও যৌন সহিংসতা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ‘আমরাই পারি’, ‘পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’, ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’সহ নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা ১৫৬টি সংগঠন।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন কুষ্টিয়ার শিশুটির অবস্থা এবং মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তার বাবা। ভেড়ামাড়ার জামিলাতুন্নেসা মহিলা মাদ্রাসায় গত ১৫ মার্চ শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ উঠে। পরে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসার পর ফুসফুসের জটিলতার কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সে ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেন, মামলা হওয়ার পর পুলিশ মাদ্রাসার পরিচালক ও সুপার মাওলানা সাইদুর রহমান, তার স্ত্রী শামীমা খাতুন এবং নারীশিক্ষক রিশা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে। আসামিপক্ষ এখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানা প্রলোভন ও চাপ দিচ্ছে। সরকারদলীয় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ভাই আপস প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন মেয়েটির বাবা।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়ক ও নোয়াগাঁও গ্রামকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের উদ্যোগে মেঘনা নদীতে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের নাজিরপুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহম্মেদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতি বর্ষা মৌসুমে মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে নোয়াগাঁও গ্রাম ও বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়কটি হুমকির মুখে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনকবলিত এলাকার ঠিক বিপরীত পাশে মেঘনা নদীতে নতুন চর জেগে ওঠায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর প্রভাবে গত এক থেকে দেড় বছরে অষ্টগ্রাম-নোয়াগাঁও সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৩৫০ একর বোরো আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলেও তারা জানান।
জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঙালপাড়া থেকে নোয়াগাঁও পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ চলছিল। কিন্তু সংস্কারকাজ চলাকালে নদীভাঙনের তীব্রতায় সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মেঘনা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহম্মেদ বলেন, “ড্রেজিং কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে নোয়াগাঁও গ্রাম, সড়ক ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এতে যোগাযোগব্যবস্থা সচল থাকার পাশাপাশি কৃষি ও জনজীবনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল জানান, “বাঙালপাড়া বাজার, নোয়াগাঁও ও লাউড়া এলাকার ভাঙনের সঙ্গে হাওরাঞ্চলের তিন উপজেলার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে গ্রাম ও সড়ক রক্ষার পাশাপাশি স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।”
সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, “অষ্টগ্রামের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ভাঙনরোধে বালুভর্তি প্রায় ৮ হাজার বস্তা ফেলার কাজও চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের আশা, ড্রেজিং ও প্রতিরোধমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নোয়াগাঁও গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।
ঈদুল আযহা-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যা ও কর্মচারীদের জন্য ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের আয়োজন করেছে। সদস্যদের কল্যাণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে গৃহীত এ উদ্যোগের সমাপনী অনুষ্ঠান শনিবার (২৩ মে) ঢাকার খিলগাঁওস্থ বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
এই উদ্যোগের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যা এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ২৮,৩৬৫ জনের মধ্যে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপহারের প্যাকেটে ছিল পোলাউয়ের চাল, সেমাই, সুজি, গুঁড়া দুধ, নুডলস,চিনি, এবং বিভিন্ন ধরনের রান্নার মসলা। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে সদস্য ও কর্মচারীদের মাঝে আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহ সৃষ্টি করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সংস্কার পরিকল্পনা ২০৩৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের সুসংগঠিত ও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন আমরা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হই। পেছনে ফিরে তাকানোর সময় এখন নয়; বরং সামনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন যে, আমাদের সক্ষমতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রা বহুগুণে ত্বরান্বিত হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল, কর্মনিষ্ঠ ও আত্মনিবেদিত হয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপমহাপরিচালকবৃন্দসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
এ ধরনের কল্যাণমুখী উদ্যোগ বাহিনীর সদস্য ও কর্মচারীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল প্রতিফলন। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এই উপহার বিতরণ কর্মসূচি সদস্যদের মাঝে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, প্রেরণা ও কর্মউদ্দীপনা আরও সুদৃঢ় করবে, যা বাহিনীর সামগ্রিক মনোবল, ঐক্য ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আর মাত্র কয়দিন পরেই ঈদুল আযহা। এরই মধ্যে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে। তবে পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়লেও দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি ছাড়াই সরাসরি ফেরির নাগাল পাচ্ছে পশুবাহী যানবাহনগুলো। এতে খুশি গরুর মালিক ও বেপারীসহ গাড়ির চালকরা। শনিবার (২৩ মে) দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে এমন চিত্র দেখা যায়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, গত একদিনে এই ঘাট ব্যবহার করে নদী পারাপার হয়েছে ২ হাজার ৪১৩টি যানবাহন। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস ৩১৩টি, পণ্যবাহী ট্রাক ৯৯৪টি, ছোট গাড়ি ৯৭৮টি ও ১২৮টি মোটরসাইকেল। এরমধ্যে গরুর গাড়ির সংখ্যা ছিল ৪৬৪টি।
কুষ্টিয়া থেকে ট্রাকে আসা গরুর ব্যবসায়ী মো. শুকুর আলি শেখ বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে ঘাটে কোনো দুর্ভোগ নেই। এ বছরও কোনো সিরিয়ালে আটকে থাকতে হয়নি, সরাসরি ঘাটে এসে ফেরিতে উঠতে পারছি। পদ্মা সেতু চালুর পর এ রুটে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও ঈদ মৌসুমে তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে গরু নিয়ে আমাদের ঘাটে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছেনা।
ঝিনাইদহের আরেক ব্যবসায়ী বাবু সরদার বলেন, বিগত ২-৩ বছর যাবত ঘাটে দুর্ভোগ নেই। পদ্মা সেতু হওয়ার আগে দৌলতদিয়া ঘাটে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে এই তীব্র গরমে অনেক গরু গাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখন পদ্মা সেতু হওয়ায় ফেরিতে চাপ কম পড়ায় কোনো ধরনের দুর্ভোগ ছাড়াই ঝিনাইদহ থেকে সরাসরি দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে পেরেছি এবং সময়মতো গরু ঢাকায় নিতে পারবো বলে আশা করছি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহা মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে আসা গরুবাহী ট্রাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে এসে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা। এছাড়াও গরুর গাড়ি সহ সকল যানবাহনেন নিয়াপত্তার জন্য প্রশাসন সহ আমরা সর্বক্ষণ নজরদারি করছি। বর্তমানে এ নৌপথে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, পদ্মা সেতু হওয়াতে দৌলতদিয়া ঘাটে চাপ কমে গেছে। তারপরও আমরা ঘাট দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
তিনি বলেন, ঘাটে আসা পশুবাহী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেন পার হতে পারে, ঘাটে এসে যেন অপেক্ষা করতে না হয় সে জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের গতিবিধি মনিটরিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। নদীপথে পশুবাহী ট্রলারের চলাচলে গোয়ালন্দ থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সড়কে নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশ কাজ করবে।
খুলনার ডুমুরিয়ায় পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডি এল আর ১.২ এর আওতায় উত্তম কৃষি চর্চা GAP বাস্তবায়নের জন্য কৃষক পর্যায়ে দিন ব্যাপী উত্তম কৃষি চর্চা GAP সার্টিফিকেশন বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ ডুমুরিয়া কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষনে সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা উপ পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি বলেন, "বর্তমান বিশ্বে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়, উৎপাদিত ফসল কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তম কৃষি চর্চা বা GAP (Good Agricultural Practices) অনুসরণের মাধ্যমে আমরা এমন ফসল উৎপাদন করতে চাই যা রাসায়নিক ও জীবাণুমুক্ত এবং মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।"
রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন: তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডুমুরিয়ার উৎপাদিত সবজি ও ফলমূলের সুনাম দেশজুড়ে। যদি কৃষকরা GAP সার্টিফিকেশন লাভ করতে পারেন, তবে এই অঞ্চলের পণ্য খুব সহজেই ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এটি কৃষকদের ফসলের সঠিক মূল্য পেতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাবে।
পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা: প্রধান অতিথি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যত্রতত্র রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। GAP-এর নিয়ম মেনে সুষম সার এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মো: তৌহিদীন ভূইয়া, বলেন
পার্টনার প্রোগ্রামের লক্ষ্য: তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের 'পার্টনার' (PARTNER) প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও লাভজনক করা। ডিএলআর ১.২-এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সরাসরি প্রশিক্ষিত করে তোলার এই উদ্যোগ ডুমুরিয়ার কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। আপনারা শুধু ফসলের উৎপাদক নন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের পাহারাদার। মাঠ থেকে ভোক্তার পাত পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সততা ও সঠিক পদ্ধতি বজায় রাখুন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কেবল খাতায় কলমে না রেখে, আগামীকাল থেকেই নিজের জমিতে প্রয়োগ করুন এবং ডুমুরিয়াকে নিরাপদ কৃষির মডেল হিসেবে গড়ে তুলুন।" তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সকল কৃষককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন প্রধান আলোচক হিসাবে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন
“আপনারা মুখে শোনার চেয়ে নিজের চোখে দেখলে এবং নিজে হাতে করলে বিষয়টি সারাজীবন মনে থাকবে। উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) কোনো কঠিন বিষয় নয়, এটি হলো নিয়ম মেনে সঠিক উপায়ে চাষাবাদ করা।
মাটিতে কখন, কতটুকু সার দেবেন, পোকা দমনে কখন বিষমুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করবেন এবং কীটনাশক দেওয়ার কতদিন পর ফসল তুলবেন, কিভাব কিউআর কোড তৈরি করে ব্যবহার করবেন—এগুলো আপনাদের আজ আমি নিজে হাতে করে দেখালাম। আপনারা যদি এই নিয়মগুলো মাঠে সঠিকভাবে মানেন, তবেই আপনাদের ফসল 'নিরাপদ ফসল' হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আপনারা GAP সার্টিফিকেট পাবেন। এই সার্টিফিকেট থাকলে আপনাদের উৎপাদিত ফসল দেশের বড় বড় সুপারশপসহ বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।"
প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হামিদুল ইসলাম। এক দিনের প্রশিক্ষণে ৩০জন কৃষক ও কৃষাণি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার পূর্ব কালুরঘাটে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা থেকে প্রায় ৫৯ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-৭।
গত শুক্রবার (২২ মে) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসানো র্যাবের অস্থায়ী চেকপোস্টে অটোরিকশাটি (চট্টগ্রাম-থ-১৪-৬৪৩৬) ধরা পড়ে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির যাত্রীদের পেছনে মালামাল রাখার স্থানে একটি সাদা রঙের প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে কালো রঙের স্কচটেপ মোড়ানো ১০টি নীল পলিজিপার প্যাকেটে ১৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় যাত্রী সিটে থাকা নগরীর চান্দগাঁও কে বি আমান আলী রোডের জালাল আহমদ সওদাগর বাড়ির মৃত কালা মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া (৪৭) এবং কক্সবাজার জেলার উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত আব্দুল শুক্করের মেয়ে তাহেরা বেগম শমসিদাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার দুইজন ও জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেট থানায় সোপর্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। তাদের গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
নাড়ির টানে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফেরার শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার রাজধানী থেকে ট্রেন, সড়ক ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ বাড়ার পাশাপাশি দেশের পাঁচটি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর ও গাজীপুরে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ঘরমুখো মানুষের চাপে সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা ও গতি বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়ার খোকসায় যাত্রীবাহী বাস ও ড্রাম ট্রাকের সংঘর্ষে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে একটি বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী রাফিয়া এবং ২৮ বছর বয়সী যুবক নাবিল রয়েছেন; বাকি দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে রানীগঞ্জ বাজারে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন কাইয়ুম মিয়া, সৈকত ও আলামিন। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করার পাশাপাশি ট্রাকের হেলপারকে আটক করেছে।
যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া এলাকায় ইজিবাইক, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক নারীসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। খুলনা থেকে যশোরগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর দুটি যানবাহনকে ধাক্কা দিলে ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহা ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আনোর আলী নামের আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও দুইজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নওয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়ক পার হতে গিয়ে বাসের চাপায় খোকন ব্যাপারী নামের ৪৮ বছর বয়সী এক পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের চুমুরদী এলাকায় দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাইওয়ে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘাতক বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মালবাহী ট্রাকের পেছনে একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নাসির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে বলে নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই সড়ক দুর্ঘটনায় এতগুলো প্রাণ ঝরে যাওয়ায় ঘরমুখো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনাস্থল থেকেই হাইওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘাতক যানবাহনগুলো জব্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং অসতর্কভাবে মহাসড়ক পারাপার হওয়ার কারণে এসব প্রাণহানি ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে এমন অকাল মৃত্যু রোধে চালক ও পথচারী উভয়ের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা ও ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার হাউসদি গরু-ছাগলের হাটবাজারের কালাপাহাড় নজর কেড়েছে সবার । আসন্ন কুরবানীকে কেন্দ্র করে বাজারে বিক্রয়ের জন্য ওঠা উক্ত গরুর মালিক মোঃ কাওছার মিয়ার কাছে গরুটির মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, গরুটির দাম দশ লক্ষ টাকা, আমি এটা রাজশাহী থেকে এখানে নিয়ে এসেছি বিক্রয়ের জন্য এবং এর দামাদামি চলছে। শনিবার (২৩ শে মে) দুপুরে উক্ত হাট-বাজারটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে হৃষ্টপুষ্ট হরেক রকমের শত-শত গরুছাগলের সমাহার। ইতিমধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ও বেঁচাকেনায় সরগরম হয়ে উঠতে শুরু করেছে উক্ত বাজারটি সহ মাদারীপুরের সর্বত্র।
উল্লেখিত হাটের ইজারাদার মোঃ মিজান ফরাজী জানান, বিশৃঙ্খলা এড়াতে মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত হাটবাজারটিতে একটি কমিটি গঠন করে সিসি ক্যামেরা সহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল আলীম ফরাজী বলেন, আঞ্চলিক পাকাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত থাকায় দূর-দূরান্ত থেকেও পাইকার সহ গরু-ছাগলের ক্রেতা-বিক্রেতারা এখানে আসতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ীমূল্যে ছোট-বড়-মাঝারি সকল প্রকার কুরবানীর পশু এখানে পাওয়া যাচ্ছে, তবে সড়ক থেকে অনেকটা দূরে তারা এই হাট বসিয়েছেন যা'তে মানুষের যাতায়াতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে। তারা আরো বলেন, মাদারীপুর প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক আমাদের এই হাট-বাজারটি মনিটরিং করছেন, যা'তে কেউ চাঁদাবাজি, বিশৃঙ্খলা অথবা জাল টাকার ব্যবহার করতে না পারেন। আগামী কুরবানীর আগের দিন পর্যন্ত এই হাটবাজারটি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন বাজার কমিটি কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে মাদারীপুরের গরু-ছাগলের হাটবাজারগুলোর সর্বত্রই এখন বেঁচাকেনার ধূমধাম পড়ে গেছে।
প্রখর ও উত্তপ্ত রোদে যখন মানুষ অস্বস্তিতে দিশেহারা, ঠিক তখনই প্রশান্তির পরশ ছড়িয়ে দিচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিন্ন রূপে সজ্জিত সোনালু ফুল। গরমে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন ডায়না চত্বরে থাকা সোনালু গাছগুলোর নিচে। কেউ মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ ঝরে পড়া সোনালু ফুল কুড়িয়ে কানে গুঁজে মেতে উঠছেন সাজসজ্জায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই সবুজের প্রাচীরজুড়ে এখন উঁকি দিচ্ছে সোনালি আভা। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য উপভোগ করতে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন ছবি তুলতে। প্রকৃতির অপূর্ব এক উপহার যেন এই ‘সোনালু ফুল’।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে এখন সারিবদ্ধ সোনালু গাছ নজর কাড়ছে সবার। পাতাঝরা গাছগুলোর ডালজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে উজ্জ্বল হলুদ ফুল। হালকা বাতাসে ফুলগুলো ঝরে পড়ে সবুজ ঘাসের ওপর তৈরি করছে যেন হলুদের গালিচা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও রক্তকাঞ্চনের পাশাপাশি সোনালু যোগ করেছে প্রকৃতির নতুন মাত্রা।
ক্লাস ও পরীক্ষার ক্লান্তি শেষে সোনালু গাছের শীতল ছায়া আর চোখজুড়ানো দৃশ্য শিক্ষার্থীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি। অবসাদ দূর করতে অনেকে সময় কাটাচ্ছেন এই ছায়াতলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক বলেন, “বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহের মাঝেও প্রতিবছরের মতো এবারও ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সোনালু গাছগুলো। ঝরে পড়া হলুদ পাপড়িতে ডায়না চত্বরজুড়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক এক আবহ, যা শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত ক্যাম্পাস জীবনে এনে দিচ্ছে এক চিলতে প্রশান্তি। তীব্র গরমের মাঝেও সোনালুর এই সোনাঝরা হাসি ইবি ক্যাম্পাসকে করে তুলেছে এক জীবন্ত ক্যানভাস।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, "ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার চাপের ফাঁকে অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাই সোনালুর ছায়াতলে। ইট-পাথরের ব্যস্ত জীবনে ক্যাম্পাসের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানসিক প্রশান্তি এনে দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসাও বাড়িয়ে তোলে।"
সোনালু মূলত গ্রীষ্মকালীন ফুল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Cassia fistula। বাংলায় এটি ‘সোনালু’ বা ‘বানরলাঠি’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ নলাকার ফলের কারণে গ্রামীণ জনপদে একে ‘বানরলাঠি’ বলা হয়। তবে এর ইংরেজি নাম ‘Golden Shower’ যেন ফুলটির সৌন্দর্যকে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে প্রকাশ করে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছ থেকে ঝরে পড়ছে সোনালি রঙের ঝর্ণাধারা।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মাত্র দেড় থেকে দুই মিনিটের আকস্মিক টর্নেডোতে গাছচাপা পড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অর্ধশতাধিক কাঁচা ও টিনশেড ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধার নাম বেগম (৬৫)।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ ঘূর্ণির মতো প্রবল বাতাস কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। আকস্মিক এ টর্নেডোর সময় উপড়ে পড়া একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বেগম।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নন্নী পশ্চিমপাড়া, নন্নী উত্তরবন্দ, যোগানিয়া, ছাইচাকুড়া ও হাতিপাগার এলাকার কয়েকটি গ্রাম। অনেক ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, 'ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'
টাঙ্গাইল শহরের মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেটের দুটি কসমেটিকস প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
তিনি জানান, মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেটের তুলি ও অন্তু বিউটি কনসেপ্ট নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পণ্যের মূল্যতালিকা সংরক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির অভিযোগসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন বিষয় পরিলক্ষিত হলে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়াও শহরের রাবনা বাইপাস এলাকায় অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণপরিবহনের চালক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।