ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি মাইক্রোবাসের চারজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা-নানকরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। তাৎক্ষণিক নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইস উদ্দিন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের চৌদ্দগ্রামের বাতিসা-নানকরা এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান দাঁড়ানো ছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস পিকআপ ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। মাইক্রোবাসের পেছনে ছিল ফেনী থেকে ঢাকাগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। ওই বাসটি ধাক্কা দেয় মাইক্রোবাসটিকে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
ওসি রইস উদ্দিন আরও বলেন, নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মরদেহ এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সজল মিয়া (৫০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। পরে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামের একটি জঙ্গলে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন বলে সজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এ সময় কিশোরীর এক স্বজন ঘটনাটি দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সজলকে আটক করেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আধা ঘণ্টা পর সজলের মেয়ের জামাই ঘটনাস্থলে এসে তাকে নিয়ে যান। পরে এলাকার মুরুব্বি ও বাসিন্দাদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সজলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। তবে জরিমানার টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা প্রায় ১০ বছর আগে এবং মা প্রায় তিন বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে তিনি বড় বোনের সঙ্গে বসবাস করেন।
জাফরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুনায়েদ তুর্য বলেন, তিনি সালিশে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসীকে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না, তাকে কেউ বিষয়টি জানাননি। ফেসবুকে ভিডিও দেখে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। বর্তমান ইউপি সদস্য ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে সালিশ করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. সোহেব খান জানান, অভিযুক্ত সজলকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ছুপুয়া গ্রামের গৃহবধূ মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মরিয়মের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম। মামলার অপর আসামি এবং মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন। ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছুপুয়া গ্রামে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রোববার (২৩ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নাধীন কাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিএমডিএ রাজশাহী প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএর চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন (সচিব পদমর্যাদা)। সভায় সংস্থার বিভিন্ন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে কী ধরনের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, কৃষকদের সেবা দিতে গিয়ে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং এসব সমস্যা কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমডিএর চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি, কৃষক ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিএমডিএও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকই এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। তাই কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএমডিএর প্রতিটি প্রকল্প ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান এবং কৃষকের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি সমৃদ্ধ হলে দেশ এগিয়ে যাবে। তাই বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিকে টেকসই ও সমৃদ্ধ করতে বিএমডিএ তার দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করবে।
সভায় বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পাশাপাশি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএমডিএর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। তাই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কৃষকবান্ধব করতে হবে।’ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, সেচ অবকাঠামো, কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রম ও সমস্যাগুলো তুলে ধরেন এবং সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মতামত দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান, বিএমডিএর পরিচালনা বোর্ড সদস্য শফিকুল আলম সমাপ্ত, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম মাহফুজুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিবির আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সমসের আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সচিব এনামুল কাদির, নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ জিল্লুল বারী, নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিএমডিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার না পেয়ে কৃষকরা জোট বেধে একটি ডিলার পয়েন্টের গুদামের দরজা ভেঙে প্রায় ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মুকুল হাজীর মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের দিতে গড়িমসি করেন। তার বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুত ছিল ৩৪০ বস্তা সার।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে তার ডিলার পয়েন্টে ২ শতাধিক কৃষক সারের জন্য একত্রিত হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ডিলার পয়েন্ট না খোলায় কৃষকরা গুদামের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭টি বস্তার ৯ হাজার ৮৫০ কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাকি সার রক্ষা করে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কায় গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে থামিয়েছে। এরমধ্যে ১৯৭ বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে গেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন ৩৩ বস্তা ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় চলতি আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সেটি আমরা পেয়েছি এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। কৃষক আতঙ্কে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। লুট হওয়া বাকি সারগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘শিংখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গার একটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ সার লুট করে নিয়ে গেছে।’
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় নাতিকে টাকা ধার না দিতে এলাকাবাসীকে মাইকিং করে সতর্ক করেছেন দাদা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান ব্যাপারীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। দাদা করম আলী ব্যাপারী ওই এলাকার বাসিন্দা। তার নাতির নাম মো. মাহাবুব মিয়া।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাইকিংয়ে বলা হয়, দাদা করম আলী ব্যাপারীর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে, এলাকাবাসী লক্ষ্য করে শুনুন- নাতি মো. মাহাবুব মিয়ার সঙ্গে কোনো দোকান বাকি, লেনদেন বা টাকা ধার দেবেন না। নিষেধ করার পরও কেউ লেনদেন করলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাহাবুব বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে পরে সেই টাকা পরিশোধের দায় দাদা করম আলী ব্যাপারীর ওপর দিতেন। এ কারণে অতিষ্ঠ হয়ে দাদা মাইকিং করে নাতির সঙ্গে লেনদেন না করার সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
স্থানীয় বড়চাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন জানান, মাহবুবের মাদকাসক্তির বিষয়ে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য তার জানা নেই।
জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর গ্রেড-২ অনুযায়ী পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— ঢাকার রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) মো. সায়েদুর রহমান; ঢাকার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মো. মাইনুল হাসান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. ইসরাইল হাওলাদার; বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি ও বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন এবং পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশের ভিত্তিতে এসব কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ কর্মকর্তাদের যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
জামালপুরে একটি আবাসিক ভবন থেকে ইসরাত জাহান (৩৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে জামালপুর পৌর শহরের পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের পাঁচতলার এক ফ্ল্যাট থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ইসরাত জাহান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গাড়িয়াডাঙ্গা এলাকার কাওসার আহমেদ শাওনের স্ত্রী। তাদের ৬ বছর বয়সি একটি ছেলে ও ১০ বছর বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। নিহত ইসরাত জাহানের বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকায়।
জানা গেছে, ইসরাত জাহান ও কাওসার আহমেদ শাওন দম্পতি প্রায় এক মাস ধরে পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকায় বাবুল মিয়ার ছয়তলা বাসার পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। কাওসার আহমেদ শাওন শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকায় মুদি দোকান করেন। ইসরাত জাহান ও কাওসার আহমেদ শাওন দম্পতির মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহ ছিল।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কাওসার আহমেদ শাওন বাসায় আসার পর ইসরাত জাহানের সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে কাওসার তার দুই সন্তানকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে ইসরাতকে মারধর করে।
পরে রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে কাওসার তার দুই সন্তানকে আটকে রাখা কক্ষের দরজা খুলে দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বের হওয়ায় সময় ফ্ল্যাটের সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায় কাওসার আহমেদ শাওন। পরে ওই দুই শিশু সন্তান তার মাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ফ্ল্যাটের পাঁচতলার জানালা দিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজার তালা ভেঙে দুই শিশুকে উদ্ধার করে। এ সময় পাশের কক্ষ থেকে তাদের মা ইসরাত জাহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাওসার আহমেদ শাওন পলাতক রয়েছে।
জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হতে পারে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
বাগেরহাট জেলা পরিষদের উদ্যোগে ১৩ জন অসহায় ও অসচ্ছল রোগীকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন সুবিধাভোগীদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
এসময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো. আবু রিয়াদ, সহকারী প্রকৌশলী (চঃদাঃ) মো. শহীদুল আলম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ মো. আবু সাঈদ শুনু, সহসভাপতি এসএম রাজ, নির্বাহী সদস্য সোহেল রানা বাবুসহ বাগেরহাটে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে আয়োজিত আর্থিক সহায়তা বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জেলা পরিষদের এই আর্থিক সহায়তার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রকৃতপক্ষে যারা এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য এবং সঠিক সুবিধাভোগীরা যাতে এই সহায়তা পায় তা লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরে জেলা পরিষদ প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানান তিনি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জিতেন মণ্ডল (৫৮)-কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে নিহতের দুই চাচাতো ভাই।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) ভোরে ভারতের বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার আমুদিয়া ক্যাম্পের বিএসএফের টহলদল তাদের আটক করে বলে সীমান্তের একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটকৃতরা হলেন, গড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের পাঁচু মণ্ডলের ছেলে তপন মণ্ডল (৩০) ও ভগেন মণ্ডল (৩৫)। জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জিতেন মণ্ডলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জিতেন মণ্ডলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে তার চাচাতো দুই ভাই তপন ও ভগেন। ওই সময় গুরতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, নিজেদের মধ্যে জমিজমাসংক্রান্ত সহিংসতায় কৃষক জিতেন মণ্ডল চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তার হত্যাকারী তপন ও ভগেন ভারতে পালানোর সময় বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, বিএসএফের হাতে আটক হত্যা মামলার দুই আসামিকে ফেরত দেওয়ার জন্য বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আটকৃতদের ফেরত পাঠানো হলে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।
হারিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন প্রিয় মোবাইল ফোনটি আর হয়তো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কারও মোবাইলে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও স্মৃতি, কারও ছিল প্রয়োজনীয় তথ্য, আবার কারও কাছে ফোনটিই ছিল প্রতিদিনের কাজের অন্যতম ভরসা। সেই হতাশার মাঝেই সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের তৎপরতায় ফিরে এলো ৫৩টি হারানো মোবাইল ফোন। স্বজন হারানোর মতো কষ্টের পর প্রিয় ফোন ফিরে পেয়ে মালিকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উদ্ধার হওয়া ৫৩টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে মালিকদের অনেকেই পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষায়, হারানো মোবাইল ফিরে পাওয়া শুধু একটি মূল্যবান জিনিস ফিরে পাওয়া নয়, এর সঙ্গে ফিরে এসেছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এবং অনেক স্মৃতি।
মোবাইল হাতে পেয়ে হানিফ বাবু বলেন, ‘হারানোর পর মোবাইলটি ফিরে পাবেন এমনটা ভাবেননি।’ পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেটি ফিরে পাওয়ায় তিনি জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. নাজরান রউফ জানান, পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের সাইবার ইউনিট ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়।
পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও মালিকানা নিশ্চিত করে ৫৩টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হারানো মোবাইল উদ্ধারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে জেলা পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তির সহায়তায় হারানো সম্পদ উদ্ধারে পুলিশের এমন তৎপরতা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমান, শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানান, একটি হারানো ফোন যখন ফিরে আসে, তখন শুধু একটি ডিভাইস নয়—ফিরে আসে মানুষের আস্থা। ৫৩টি ফোন উদ্ধারের এই উদ্যোগে সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। এটি সমাধানে আন্তর্জাতিক আইন ও সংবিধান মেনে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু, সেজন্য এটির সমাধানের দায়িত্ব তাদেরই।
রোববার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার পক্ষে নয়। বলতে চাই, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়, তারা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী নয়। রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিকভাবে যেভাবে দেখা হচ্ছে, আমরাও ঠিক একইভাবে দেখছি যে, এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তখন বিষয়টি আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার আইন মেনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিকভাবে যে পদক্ষেপ নিতে চায়, সেই পদক্ষেপের পক্ষে দেশের সাধারণ মানুষের সমর্থন আছে—এমন জনমত তৈরি করতে হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জানিয়েছেন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার নিয়মকানুন মেনে বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করবে। রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমাদের এই মন্ত্রণালয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী মন্ত্রণালয়। জনগণকে সরাসরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অগ্রগণ্য। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করলে পুরো দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। কারণ, এ মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। মন্ত্রণালয় সফল হলে সরকারও সফল হবে।
তিনি বলেন, সরকার সব মানুষের সেবা করবে। তবে দরিদ্র মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিগত ১৭ বছরে ধনিক শ্রেণিকে সেবা দিতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছেন। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। দেশের জনগণই তার অগ্রাধিকার।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, এক বছর দীর্ঘ সময়। সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।
ড. আবদুল মঈন খান আরও বলেন, শুধু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তারা আইনের শাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সরকার সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ঘিরে লুটপাট ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে তারা কাজ করছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্রত্যেকটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমরা ৫০ এবং জেলা সদর হাসপাতালের জন্য ১০ শয্যা করে ডায়ালাইসিস প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছি। যাতে করে টারশিয়ারি লেভেলে রোগীদের ঢাকায় যেতে না হয়। ডিস্ট্রিক্ট লেভেলে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকবে। আমরা আশা করি ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন ডেইলি যদি ৩ রাউন্ডও করে, ১৮০টা রোগীকে ডায়ালাইসিস করতে পারবে। এটি স্থাপন করতে আমাদের আর ৩ মাসও সময় লাগবে না ইনশাল্লাহ, আমাদের মেশিন টেন্ডার হয়ে গেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২ টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রী হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা লেভেলে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করবো। বিল্ডিংয়ের কাজ অলরেডি ডিপিপি হয়ে গেছে, টেন্ডারে চলে যাবে, বিল্ডিং হবে। শুধু ডায়ালাইসিস না, দোয়া করবেন আমাদের জন্য, আমরা ৫০ থেকে প্রথম ১০১ শয্যা ঘোষণা করেছি। গত সপ্তাহে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের সামনে আরও ভিশনকে বৃদ্ধি করতে হবে, ৫০ বছরের চিন্তা করে করব। ১০১ থেকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট করে করতেছি আমরা এখন। নতুনভাবে আবার ডিপিপি করে এটা একেবারেই টেন্ডার হয়ে যাবে। ১৫১ শয্যার ভেতরে ২৫টা সিট থাকবে মহিলাদের জন্য, মায়ের সেবার জন্য, যাতে আমাদের মেয়েদের কষ্ট না হয়। ২০টা সিট আমাদের শিশুদের জন্য আলাদা থাকবে। ফিজিওথেরাপির জন্য একটা মহিলা ওয়ার্ড থাকবে, একটা পুরুষ ওয়ার্ড থাকবে। দুইজন ডাক্তার থাকবে, মহিলাদের মহিলারা ফিজিওথেরাপি দেবে, পুরুষদের পুরুষরা ফিজিওথেরাপি দেবে।
মন্ত্রী বলেন, অত্যাধুনিক প্যাথলজি ল্যাব তৈরি করা হবে, অত্যাধুনিক প্যাথলজি সেবা দেওয়া হবে। আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন থেকে সকল মেশিন দিয়ে এগুলিকরা হবে, ৯ তলা বিল্ডিং হবে যেটা খালি জায়গায় হবে। আর যেটা আগে থেকে আছে যদি ফাউন্ডেশন থাকে ভার্টিক্যালি উপরে উঠবে। এভাবে আমরা স্বাস্থ্যসেবাটাকে উপজেলা লেভেলে নিয়ে যাচ্ছি।
সারাদেশের হাসপাতালগুলোর জনবল সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে কোনো নতুন ডাক্তার নিয়োগ হয়নি, যেই পরিমাণ আমাদের দরকার। ২০ কোটি মানুষ! ডাক্তার আছে আমাদের কয়জন? কয়জন ডাক্তার নেওয়া হয়েছে? এখন আমরা ৫ হাজার ডাক্তার নিতে যাচ্ছি, সকল ফরমালিটিজ শেষ হয়ে গেছে। আড়াইহাজার নার্স এবং আড়াইহাজার ফার্মাসিস্ট নিতে যাচ্ছি। পিএসসিতে আরও ডাক্তারদের ইন্টারভিউ চলছে। আমরা আশা করি আগামী এক বছরের ভেতরে উই উইল হ্যাভ আ ভেরি গুড বাঞ্চ অফ ডক্টরস। আমরা অনেক ডাক্তার পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ। তখন ডাক্তারের অসুবিধাটা থাকবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ব্যাঙের ছাতার মতন প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতাল উঠেছে। গত ১৭ বছর এদের কোনো অ্যাকাউন্টেবিলিটি সৃষ্টি করা হয়নি, তারা কারও কাছে জবাবদিহি না। আমি যতখানি যাচ্ছি, দুই-একটা করে দেখতেছি, বন্ধ করতেছি, লাইসেন্স না থাকলে বন্ধ করতেছি। আমাদের ডিসি সাহেবরা সিভিল সার্জনদের নিয়ে মোবাইল কোর্ট করতেছে, জরিমানা করতেছে, চেষ্টা করতেছে। এখন অবশ্য তারা অনেকে হুঁশিয়ার। আমাদের তো মাত্র ৬টা মাস হলো, আরেকটু সময় দেন। কারণ ১৮-২০টা বছর তো এ দেশে কোনো অ্যাকাউন্টেবিলিটি ছিল না। আপনারাও কথা বলতে পারতেন না। আজকে যেভাবে আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আগে কিন্তু পারতেন না। আগে এমপি সাহেবরা আইসা এইভাবে বইসা দেখত না, মন্ত্রী সাহেবরা আসত না। এমন একটা সিচুয়েশন গেছে যেখানে কারও কাছে জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা শুরু করেছি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত সিরিয়াস। দোয়া করবেন, আশা করি আমরা এই স্বাস্থ্য খাতকে অনেক উন্নত করব।
এ সময় নওগাঁ -৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।