ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি মাইক্রোবাসের চারজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা-নানকরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। তাৎক্ষণিক নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইস উদ্দিন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের চৌদ্দগ্রামের বাতিসা-নানকরা এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান দাঁড়ানো ছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস পিকআপ ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। মাইক্রোবাসের পেছনে ছিল ফেনী থেকে ঢাকাগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। ওই বাসটি ধাক্কা দেয় মাইক্রোবাসটিকে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
ওসি রইস উদ্দিন আরও বলেন, নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মরদেহ এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
ভোরের আলো ফুটতেই গ্রামের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন আর সেই চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য চোখে পড়ে না। লাঙল-জোয়াল কিংবা কাস্তে হাতে ব্যস্ত কৃষক-শ্রমিকের পথচলাও হারিয়ে যাচ্ছে স্মৃতির গহীনে। যে ভোরে কিষাণ-কিষাণীর কলতানে মুখর হওয়ার কথা ছিল মাঠ, প্রান্তর; সেই ভোরেই আজ শ্রমিকের শূন্যতা। গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের গন্তব্য যেন একটাই—ইটের পর ইট সাজানো যান্ত্রিক শহরের দিকে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর পিচঢালা সড়ক-মহাসড়ক পেরিয়ে অলিগলি—সর্বত্রই কেবল মানুষের স্রোত আর যান্ত্রিক কোলাহল। অলিগলিতে রিকশার চাকার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে থমকে আছে নাগরিক গতি। ফুটপাতও পথচারীর নয়, বরং হকারদের পসরা আর দেনা-পাওনার ব্যস্ত বাজারে পরিণত হয়েছে। একদিকে শ্রমিকের অভাবে খাঁ খাঁ করছে গ্রামের উর্বর মাঠ, অন্যদিকে শহরের রাজপথ মানুষের চাপে ছাড়ছে দীর্ঘশ্বাস। এই শেকড় উপড়ে শহরের ফুটপাতে বা রিকশার সিটে থিতু হওয়ার নিরন্তর লড়াই—কি কেবলই জীবিকার তাগিদ, নাকি এক অপরিকল্পিত নগরায়ণের করুণ উপাখ্যান?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অকৃষি খাতে আয় বেশি হওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ জনশক্তির একটি বড় অংশ নির্মাণ শিল্প বা শহরের অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়ায় কৃষি খাতে শ্রমিকের অভাব তীব্র হচ্ছে।
তার মতে, কৃষি শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকা এবং লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য এই সংকটের অন্যতম কারণ। প্রান্তিক কৃষকরা কৃষিকাজে লাভ করতে না পেরে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, দেশের বেশিরভাগ শিল্প-কারখানা (যেমন-পোশাক ও চামড়া শিল্প) ঢাকা ও গাজীপুরকেন্দ্রিক হওয়ায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে এ অঞ্চলগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। তাছাড়া গ্রামের তুলনায় শহরের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উন্নত হওয়ায় মানুষ শহরমুখী হচ্ছে।
কীভাবে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে এই কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, একদিনে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিককে গ্রামমুখী করতে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করতে হবে।
এ বিষয়ে আরেক কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, গ্রামীণ জনশক্তির একটি বড় অংশ নির্মাণ শিল্প বা শহরের অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়ায় কৃষি খাতে শ্রমিকের অভাব তীব্র হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকা এবং লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্যও এই সংকটের অন্যতম কারণ। এই সংকটের সমাধান করতে হলে গ্রামের শ্রমিক যাতে সারা বছর কাজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু মৌসুমের কাজ দিয়ে সারাবছর চলে না বলেই শ্রমিক শহরমুখী হয়।
এদিকে, দৈনিক বাংলার কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এসব জেলার বিস্তৃত জলাভূমি বা হাওরাঞ্চলে ধান কাটা শ্রমিকের হাহাকার চলছে। যে সময়ে বোরো ধানের মৌসুম কৃষকের ঘরে স্বস্তি ও প্রাচুর্যের বার্তা নিয়ে আসার কথা, ঠিক সেই সময়ে মাঠভরা সোনালি ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দিনরাত পরিশ্রমে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে কৃষকের বুকফাটা কান্না কেবল ব্যক্তিগত বেদনা নয়, এটি সামষ্টিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) : টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২১৫ হেক্টর বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া জমি থেকে ধান কাটতে দেড় হাজার টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক।
উপজেলার শ্রীনগর, আগানগর, শিমুলকান্দি, সাদেকপুর ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওর এলাকা ঘুরে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। এতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে পানিতে নেমে নিজেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন। ফলে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের কৃষক ইসলাম মিয়া বলেন, এই বছর জোয়ান শাহী হাওরে ৫ খানি জমিতে ধান চাষ করেছি। এখন ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছি না। যদিও ১৫ শত টাকা রোজে শ্রমিক আসে তারা সকাল ৮টায় ধান কাটতে আসলে আবার দুপুর ২টা বাজলেই চলে যায়। ১ মণ ধান ফলাতে খরচ পড়ে ২ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে বিক্রি হয় ৭/৮ শত টাকায়। এই দুঃখেই জীবন বাঁচে না।
জগমোহনপুর গ্রামের কৃষক আফিল উদ্দিন বলেন, মাত্র দুই খানি জমির ধান কাটতে পারছি। বাকি ধান পানিতে ডুবে গেছে। শ্রমিকের কারণে কাটতে পারছি না। এই ধান দিয়েই সারা বছরের খোরাক হয়। আর বাকী ধান বিক্রি করে সংসার চলে। কিন্তু এবার সব শেষ। শ্রমিকের অভাবে ধান ঘরে তুলতে পারছি না।
আরেক কৃষক জালাল মিয়া বলেন, এই বছর বৃষ্টির পানিতে জমি তলিয়ে ধান পচে গেছে। পচে যাওয়া ধান কাটতে ১৫ শত টাকা দিয়েও কামলা পায়তেছি না। তাই নিজেই কোনো রকমে ধান কেটে নৌকা দিয়ে টেনে আনছি।
কৃষক পাষাণ আলী বলেন, ধান ফলাতে যে খরচ পড়ছে তা বিক্রি করেও উঠবে না। যে ক্ষেতের ধান একদিনে কাটতাম, তা এখন তিন দিনেও শেষ হচ্ছে না।
কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় স্বামীকে সাথে নিয়ে জোয়ানশাহী ১০ খানি জমিতে ধান চাষ করেন জাফরনগর গ্রামের জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, মাত্র ১ খানি জমির ধান কাটছি। বাকি জমি পানির নিচে পড়ে আছে। এখন মানুষ নাই নৌকা নাই কেমনে ধান কাটমু। যদি ধান ক্ষেত না কাটতে পারি তাহলে সারা বছর কি খেয়ে বাঁচব সেই চিন্তায় আছি। হাওরের ধানের ক্ষেতের দিকে তাকালে শুধু কান্দন আসে।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, উপজেলায় এাবর ৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টরে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে ২১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মাধবপুর(হবিগঞ্জ): উপজেলাজুড়ে বোরো ধানের পর্যাপ্ত উৎপাদন হলেও সেই ধান কেটে ঘরে তোলার মতো লোক পাচ্ছেন না কৃষক। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমির ধান কেটে শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ধান কাটার মৌসুমে সহজেই শ্রমিক পাওয়া যেত। বর্তমানে সে সুযোগ কম। গত ৮-১০ বছরে মাধবপুরে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এখানকার তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ এসব কারখানায় কাজ করছে। কৃষিকাজ অত্যন্ত পরিশ্রমের হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই এ পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে সময়মতো ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষক।
তারা বলছেন, এবারের মতো এমন কষ্ট তাদের আগে কখনও হয়নি। আগে স্থানীয় শ্রমিক দিয়েই সহজে ধান কাটা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিক ইটভাটা, শিল্পকারখানা কিংবা শহরমুখী হওয়ায় কৃষিকাজে শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যারা কাজ করছেন তারাও দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দাবি করছেন। এতে ধানের সার্বিক উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক।
বাঘাসুরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, তার মতো অনেক কৃষকের জমির ধান পেকে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় কাটতে পারছেন না। ঝড়-বৃষ্টি হলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। নিচু জমিতে হারভেস্টার মেশিনও যেতে পারে না। গত ১০ দিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে আছে। এখন এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন জগদীশপুর অঞ্চলের কৃষক ছাদেক মিয়া। তিনি বলেন, শ্রমিক পেলেও অতিরিক্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। ধানের বাজারদর অনুযায়ী এত খরচ বহন করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
চৌমুহনী অঞ্চলের কৃষক সমুজ আলী বলেন, ধান নিয়ে কৃষক এখন বড় বিপদে। এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা ধান চাষাবাদ থেকে ধীরে ধীরে সরে যেতে বাধ্য হবে।
সুনামগঞ্জ: হাওরে এখন আর কোনো ধানই ভেসে নেই। সবই পানির নিচে। তলিয়ে থাকতে থাকতে ধানে পচন ধরেছে। তবে উঁচু অংশে এখনো কিছু ধান আছে। তবে শ্রমিক সংকটে সেগুলো কেটে ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
জেলার দেখার হাওরে পানির নিচে এখনো কৃষক আবদুল মতিনের (৬০) দেড় বিঘা জমির ধান। ধানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর আবদুল মতিন গত সোমবার দুপুরে কলেজপড়ুয়া ছেলে জুনায়েদ আহমদকে সঙ্গে নিয়ে সেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন। এ জন্য এক হাজার টাকায় এক দিনের জন্য একটি ছোট নৌকা ভাড়া নিয়েছেন। শ্রমিক না পেয়ে বাবা-ছেলে মিলে হাওর থেকে ধান কেটে এনে রাখছিলেন হাওরপাড়ে। মাথার ওপর কড়া রোদ।
কৃষক আবদুল মতিন জানান, পানির নিচের ধান শ্রমিকেরা ভাগিতে কাটেন না। এ জন্য এক হাজার টাকা এক দিনের জন্য মজুরি লাগে। হাতে টাকা নেই, লোকও পাওয়া যায় না। তাই ছেলেকে নিয়েই যা পারেন কাটার চেষ্টা করছেন।
পাশেই কৃষক সালাম মিয়া (৬০) স্ত্রী সায়েরা বেগমকে নিয়ে স্তূপ থেকে ভেজা জটবাঁধা ধান ঝেড়ে ময়লা ছাড়াছিলেন। সায়েরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আর কয়দিনরে বাবা, হাওর ত ঠাণ্ডা অইজিব। তোমরাও আইতায় না, আমরার কথাও কেউ আর মাত ত না। আমরার কষ্ট আমরাই পাইমু।’
মৌলভীবাজার: হাওরে তীব্র শ্রমিক সংকটে হাওরে ধান কাটতে পারেননি কৃষকেরা। এক বিঘা আধপচা ধান কাটতে শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে ধান কাটলেও বিক্রি করতে হয় এর চেয়ে কম টাকায়। তাই বেশিরভাগ কৃষক ধান না কেটে হাওরেই রেখে দিয়েছেন।
কাউয়াদিঘী হাওরের কৃষক তনু মিয়া, কয়ছর মিয়া বলেন, হাওরের বেশিরভাগ ধান কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে কাটা হয়। যেখানে মেশিনে ধান কাটে এসব এলাকায় পানি বেশি থাকায় শ্রমিকেরা ধান কাটতে অনিচ্ছুক। আর যারা ধান কেটে পাড়ে নিয়ে এসেছেন, এসব কৃষক শ্রমিক সংকটে মাড়াই করতে পারছেন না। হাওরে এক বিঘা ধান কাটতে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলায় প্রায় ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত ছিল। এরমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ধান পচে নষ্ট হয়েছে। এতে অন্তত ২০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারেননি। শ্রমিক সংকট না হলে আরও কিছু ধান কাটতে পারতেন।
ধামইরহাট (নওগাঁ) : বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাকা ধান বাতাসে দুলছে। সামান্য শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় এই ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু ধান কাটতে শ্রমিক পাচ্ছেন না কৃষকেরা। তাই নিজেরা চেষ্টা করছেন ধান কেটে ঘরে তোলার।
কৃষকেরা বলছেন, শ্রমিকের খুবই সংকট। যদিওবা কাউকে পান, তারা মজুরি অনেক বেশি দাবি করেন। কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত ধান কাটতে না পারলে মাঠের ধান মাঠেই ঝরে পড়বে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ধামইরহাট পৌরসভাসহ উপজেলার আট ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেতের ধান পেকে গেছে। বাকি ১০ শতাংশ হালকা কাঁচাপাকা রয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে কাটার উপযোগী হবে। এগুলোর মধ্য থেকে স্থানীয় শ্রমিকদের সহযোগিতায় কিছু ধান কাটা হচ্ছে। তবে শ্রমিকের সংখ্যা খুবই কম।
কৃষকেরা জানান, প্রতি বছর মৌসুমের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধানকাটা শ্রমিকেরা এসে ভিড় জমাতেন। মূলত তারাই এই এলাকার ধান কেটে দিতেন; অথচ এ বছর তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে মাঠের ধান মাঠেই পেকে ঝরে পড়ছে।
আড়ানগর ইউনিয়নের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত এক সপ্তাহের মধ্যে যে পরিমাণ ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তোলার কথা ছিল, রিপার হারভেস্টার ও কম্বাইন মেশিনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৪২) হত্যায় জড়িত আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১২ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুল ইসলাম।
গত ২৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে টিটন নিহত হন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
টিটন হত্যায় জড়িতরা দেশ ছেড়েছেন কি না জানতে চাইলে শফিকুল বলেন, আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। এই অবস্থায় বলা যাবে না আসামি দেশে, নাকি বিদেশে। তবে আমরা কাজ করছি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হত্যায় জড়িত আসামিদের একটি ছকে এনেছি। তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। আপনারা জানেন এই হত্যার পরে গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। সবগুলো দিকই আমরা আমলে নিয়েছি। সব কিছু মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি।
প্রসঙ্গত, ২৮ এপ্রিল রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। খুব কাছ থেকে করা গুলিতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।
নিহত টিটনের নামে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, টিটন তাদের মধ্যে অন্যতম।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত) থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং ৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৮৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ৩৬ হাজার ৮৮১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অপরদিকে ৩২ হাজার ৮৭৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৬৮ জন মারা গেছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫৬ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৪২৪ জনের।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর নওজোর মাটাগরি গ্রামের মাঠে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে মাঠের ক্ষেত থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর নওজোর মাটাগরি গ্রামের মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে একটি ক্ষেতে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির হাত দেখতে পান স্থানীয় এক ব্যক্তি।
এ সময় তিনি চিৎকার করে বিষয়টি অন্য কৃষকদের জানালে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা জানান, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ অনেকটা পচে গেছে। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্নের মতো বোঝা যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
খুলনায় কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি কালো রঙের চাইনিজ কুড়াল, সিলভার রঙের একটি ধাতব পাঞ্চ, একটি কালো রঙের স্কুলব্যাগ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আকাশ আহম্মেদ জনি (১৯), শাহরিয়ার ইমন (১৯) ও নাফিজুল ইসলাম (১৯)।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ মে) সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গার বানিয়াখামার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ফারুক আলম জানান, গত সোমবার রাতে ডিউটি পালন করার সময় বসুপাড়া মেইন রোড়ের বসুপাড়া নার্সারির ভেতরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা তিন্দু। যেখানে প্রকৃতির রুক্ষতাকে জয় করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। তবে তার গল্পটি অন্য দশজন শিক্ষকের চেয়ে আলাদা। সহকর্মীদের বেতন জোগাতে কলম ছেড়ে তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন নৌকার হাল।
শিক্ষার জন্য এক অনন্য ত্যাগ: ২০২০ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের প্রচেষ্টায় তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। কক্সবাজার সিটি কলেজ থেকে এমবিএ এবং টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড শেষ করে এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মিংলেন। কিন্তু শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় চরম অর্থসংকট। শিক্ষার্থীদের বড় অংশই হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় নিয়মিত বেতন পাওয়া সম্ভব হয় না।
বেতন জোগাতে ইঞ্জিন বোট চালক: সহকর্মী শিক্ষকদের কথা ভেবে এবং বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে তিনি এক অভিনব উপায় বেছে নেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া একটি ইঞ্জিন চালিত বোট নিয়ে প্রতি শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে তিনি বেরিয়ে পড়েন। সাঙ্গু নদীর বুকে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী রুটে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করেন তিনি।
কেন তিনি নিজেই বোট চালান: প্রধান শিক্ষকের ভাষায়— ‘অন্য চালক রাখলে মজুরি দিতে হয়, আবার অনেক সময় সঠিক আয়ের হিসাব পাওয়া যায় না। আমি নিজে চালালে সেই টাকাটা বেঁচে যায়, যা দিয়ে সহকর্মীদের সামান্য হলেও বেতন দেওয়া সম্ভব হয়।’
সংগ্রামের ফল: গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে বোট চালিয়ে তিনি ৪৯,১০০ টাকা আয় করেছেন। এর মধ্যে ৩০,০০০ টাকা সরাসরি শিক্ষকদের বেতন হিসেবে দেওয়া হয়েছে। শুধু বেতনই নয়, শিক্ষার্থীদের নদী পার করে স্কুলে নিয়ে আসার দায়িত্বও তিনি নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন: বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ৫৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে সংকট এখনো কাটেনি, আর্থিক অভাবে ২ জন শিক্ষককে এখনো অবৈতনিক (নন-পেমেন্ট) হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে।
ছাত্রাবাসে খাবারের সঠিক ব্যবস্থা করতে পারলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে কিছু সহযোগিতা পাওয়া গেলেও বিদ্যালয়টি এখনো পুরোপুরি স্বাবলম্বী নয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা সভাপতি মংপ্রু অং মারমা বলেন, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের টোল-টেক্সের অর্থ বিদ্যালয় তহবিলে দিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হতো। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া বোটে আয় থেকেই বিদ্যালয়টি কোনোনমতে চলছে।
থানচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াই হ্লা মং মারমা বলেন, দুর্গম প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উচ্চবিদ্যালয় থাকা উচিত বিবেচনায় বিদ্যালয়টির ভূমিকা রাখা হয়েছিল। এখন তেমন ভুমিকা রাখতে পারছেন না।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দরিদ্র হওয়ায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত আয় নেই। তাই টেকসই সমাধান হিসেবে তিন্দু ও রেমাক্রি এলাকায় দুটি বিদ্যালয়কে দুটি ইঞ্জিন চালিত বোট দেওয়া হয়েছিল, যাতে পর্যটক পরিবহন করে যা আয় হয় তা দিয়ে শিক্ষকদের ন্যূনতম বেতন দেওয়া যায় ।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস সংস্কার করা হয়েছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকেও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে উপজেলা পরিষদ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।
বামং খিয়াং মিংলেন দেখিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষকতা কেবল ক্লাসরুমের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। তিন্দু পাহাড়ের শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তার এই হাড়ভাঙা খাটুনি আর ত্যাগ আমাদের সমাজের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
ফেনীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাফেজিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নুরুল হুদার ছেলে নুর আলম ও তার ছেলে নিরব। নুর আলম পেশায় অ্যাম্বুলেন্স চালক ছিলেন। এ ঘটনায় আহত আফজাল মিঠু নামে নুর আলমের ভাগিনাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ছেলে ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়ি ভাঙার তাকিয়া থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফেনীতে ফিরছিলেন নুর আলম। পথে একটি দ্রুতগতির বাস তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নুর আলমের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত ছেলে ও ভাগিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে নিরবের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর চালক বাসটি থামিয়ে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। বাসচালক পালিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় তাদের স্বজনের উপস্থিতিতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। কারাসূত্র জানায়, বিয়ের কাগজপত্র আদালতে দাখিলের পর জামিন পাবেন মামলার আসামি ও বর তরিকুল ইসলাম (২৬)।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানান, যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন তরিকুল ইসলাম। তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার ভুক্তভোগীর সঙ্গে কারাগারে বিয়ের আদেশ দেন। বিয়ে সম্পাদনের শর্তে তার জামিনও মঞ্জুর করেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর-কনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কাজী ডেকে রেজিস্ট্রি করে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
কারাসূত্র জানায়, তরিকুল দোকানে কাজ করেন। আর কনে (৩৫) স্থানীয় এক দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারের সহকারী। দুজনেরই আলাদা সংসার রয়েছে। তারপরও তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তরিকুল আপত্তি জানান। এ নিয়ে সম্পর্কের অবনতি হলে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ওই নারী। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা মেলে। একপর্যায়ে দুপক্ষ বিয়ে করার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে সম্মত হন। তখন আইনজীবী বিষয়টি আদালতকে অবহিত করলে বিচারক তাদের বিয়ের আদেশ দেন। আর বিয়ে সম্পাদনের কাগজপত্র আদালতে দাখিলের শর্তে তরিকুলের জামিনও মঞ্জুর করেন।
গাউছে পাক বিপণিবিতান পরিচালনায় মতিঝিল হকার্স ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটিকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (১২ মে) ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন মতিঝিল কম্পিউটার সোসাইটি। সভায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, মতিঝিল কম্পিউটার সোসাইটির সভাপতি জনাব মশিউর রহমান খান দিদার, সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, সহসভাপতি মো. সোহেল হাসান ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আবিদ, মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সভাপতি খন্দকার আমিনুল হক লোটন প্রমুখ।
গাউছে পাক বিপণিবিতান পরিচালনায় মতিঝিল হকার্স ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন, সভাপতি এস এম নূরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হক, সিনিয়র সহসভাপতি সাহাব উদ্দিন। সভায় উভয়পক্ষ সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে ৬টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র বা ‘লার্নিং রুটস’ চালু করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। এই উদ্যোগের আওতায় উপজেলার ৪ থেকে ৫ বছর বয়সি প্রায় ১৩৮ জন শিশু প্রাক-শৈশব যত্ন, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশমূলক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ তাহিরপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চালু হওয়া ৬টি কেন্দ্রে বর্তমানে ১৩৮ জন শিশু নিয়মিত ক্লাস করছে। এর মধ্যে ৬৩ জন ছেলে ও ৭৫ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। আরসি পরিবারভুক্ত স্পন্সর শিশু রয়েছে ৪২ জন এবং নন-আরসি পরিবারের ৯৬ জন শিশু এই কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। এ ছাড়া ৩ জন প্রতিবন্ধী শিশুকেও এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিশুদের খেলাধুলা, আনন্দমুখর শিক্ষা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়তা করছে এসব কেন্দ্র। শিশুদের সুন্দর, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে শিশু প্রাক-শৈশব বিকাশ ও শিখন কেন্দ্র। স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃত্ব ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, তাহিরপুর এপির কমিউনিটি লেড লার্নিং রুটস সেন্টার কার্যক্রম শিশুদের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তীয়, ভাষাগত ও মনোসামাজিক বিকাশে অনন্য অবদান রাখছে।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তানহা বেগমের মা বলেন, ‘আগে আমার মেয়ে চুপচাপ থাকত। এখন সে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। তার হাসি দেখলে আমাদের মন ভরে যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে প্রতিদিন আনন্দ নিয়ে কেন্দ্রে আসে। শুরুতে কিছুটা সংকোচ থাকলেও বর্তমানে সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গল্প শোনা, ছবি আঁকা ও খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছে। ধীরে ধীরে তার ভাষাগত ও সামাজিক দক্ষতারও উন্নতি ঘটছে।’
লক্ষ্মীপুর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কমিটির সভাপতি সুরমা আক্তার বলেন, ‘এই কেন্দ্র আমাদের এলাকার শিশুদের জন্য একটি আশীর্বাদ। শিশুরা এখন আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখছে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে।’
জয়নগর গ্রামের শিশুর অভিভাবক রুপা বেগম বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা আগে ঘরে বসে সময় নষ্ট করত। এখন তারা নিয়মিত শিখন কেন্দ্রে যায়। এতে তাদের আচরণ, শেখার আগ্রহ এবং সামাজিকতা অনেক উন্নত হয়েছে।’
প্রোগ্রাম অফিসার মহসিন খান বলেন, ‘জয়নগর, বীরনগর, মধ্য তাহিরপুর, লক্ষ্মীপুর, চিকসা ও ধুতমা গ্রামে পরিচালিত এই ৬টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে শিশুদের আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রতিদিন নিজে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করি, যেন শিশুরা সঠিকভাবে শিক্ষা, যত্ন ও মানসিক বিকাশের সুযোগ পায়। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আনন্দদায়ক ও মানসম্মত শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করা।’
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের তাহিরপুর এপির ম্যানেজার সজল ইগ্নেসিয়াস গমেজ বলেন, ‘শিশুদের জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর তাদের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়টাতে সঠিক যত্ন, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিশুরা আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠতে পারে। তাহিরপুরে চালু হওয়া এই শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলো শুধু শিক্ষা নয়, শিশুদের আনন্দময় ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ‘শিশুদের প্রাক-শৈশব বিকাশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই শিশুরা যদি সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের সুযোগ পায়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা দেশ ও সমাজের জন্য সম্পদ হয়ে গড়ে উঠবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, তাহিরপুর এপির এই কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা স্থানীয়ভাবে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’
কুমিল্লার তিতাসে হত্যা মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার (১১ মে) রাতে উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের কাছ থেকে পুলিশ একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আব্দুল লতিফ ভূইয়া (৪৫) তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামের মৃত ধনু ভুঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার সঙ্গে সাইফুল মেম্বারের লোকজনের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর দুপক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় লতিফ আসামি ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে তিন দিন আগে তিনি এলাকায় ফেরেন।
গত সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৯টায় আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া নিজবাড়ির পাশেই দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে ওসি মো. মমিরুল হক বলেন, ‘ঘটনা জানতে পুলিশের একাধিক সংস্থা মাঠে কাজ করছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় মামলা করা হয়নি।’
'সবাই মিলে দেব কর, সিটি কর্পোরেশন হবে স্বনির্ভর' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১২ মে) মহানগরের আটটি জোনে একযোগে কর মেলা শুরু হয়েছে। নগরবাসীকে কর প্রদানে উৎসাহিত করা, বকেয়া কর আদায় বৃদ্ধি এবং সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর মেলার উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান, অঞ্চল-৪ এর কর নির্ধারণ কর্মকর্তা, মোঃ আতাউর রসূল ভূঁইয়া, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশাই রিছীল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রশিদসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর মেলায় আবাসিক হোল্ডিং মালিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। বকেয়াসহ চলতি বছরের কর একসঙ্গে পরিশোধ করলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কর মওকুফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, জনগণের রাজস্ব আয় নগরের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি, ,'একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও স্বনির্ভর নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের কর প্রদানের বিকল্প নেই।
নগরবাসীর করের অর্থ দিয়েই রাস্তা, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন ও নাগরিক সেবার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই কর প্রদান শুধু দায়িত্ব নয়, এটি নগর উন্নয়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ।'
তিনি আরও বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক ও সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি। কর মেলার মাধ্যমে নাগরিকদের হয়রানিমুক্ত পরিবেশে সহজে কর পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
জনগণের সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে গাজীপুরকে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও স্বনির্ভর নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।'
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মোঃ সোহেল হাসান বলেন, 'কর আদায় বৃদ্ধি পেলে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। নগরবাসীর সুবিধার্থে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ এবং সেবার মানোন্নয়নে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি।'
কর মেলায় আগত নাগরিকরা জানান, একসঙ্গে কর পরিশোধে বড় অঙ্কের মওকুফ সুবিধা পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সহজ ও দ্রুত সেবা পাওয়ায় তারা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর মেলা চলাকালে নগরবাসীকে দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদানের জন্য বিশেষ বুথ, তথ্য সহায়তা কেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োজিত রাখা হয়েছে। আগামী একমাস এই কর মেলা চলবে।
“আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মাগুরায় ইউনিল্যাব নার্সিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আয়োজিত এ র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রতিষ্ঠানে এসে শেষ হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
মানবতার সেবায় নিবেদিত বর্তমান ও আগামীর নার্সদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও উৎসাহ জানানোর উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি পরিচালনা করেন সুবাস চন্দ্র বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে ইউনিল্যাব নার্সিং ইনস্টিটিউটের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস।