সিরাজগঞ্জ জেলায় বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন বাসযাত্রী। আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৩ নং পিলারের উপর এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ধানবান্ধি এলাকার রহিজ উদ্দিন ও তার ছেলে শাহরিয়ার রিপু ও সদর উপজেলার বনবাড়িয়া এলাকার বাবু শাহার ছেলে চন্দ্র শেখর।
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ঢাকা এক্সপ্র্রেস পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সেতুর ১৩নং পিলারের কাছে এসে পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি পাথর বোঝাই ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনযাত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের উদ্ধার করে। আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিকে রেকার দিয়ে সরিয়ে সেতুর উপর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে।
গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পরিত্যক্ত নালা থেকে আকাশ সরদার (২১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল দশটার দিকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়। আকাশ সরদার ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার রহমত বেপারীপাড়া গ্রামের করিম সরদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট চাকরি দেওয়ার কথা বলে আকাশকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা নিয়ে আসে তার দুই বন্ধু মাজহারুল ইসলাম মিঠু ও অপু মিয়া। পরে আসামিদের যোগসাজশে ওই দিন সন্ধ্যায় আকাশের পরিবারের কাছে অপহরণের বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হলে র্যাবের সহযোগিতায় আসামি মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আসামি মিঠুর দেওয়া তথ্য মতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যাক্ত নালা থেকে ভুক্তভোগী আকাশের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এবিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানোয় হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে গত রোববার (২৩ আগস্ট) থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বিকেলে মামলার প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে আক্কেলপুর উপজেলার কৃষ্ণকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা দোকানের মালামাল ও বাড়ি থেকে নগদ টাকা লুট চারটি ট্র্যাক্টর, শ্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আল-আমিন ও আজাদের বাবা কাশেম আলী। মামলার এজাহারে নগদ ৭ লাখ টাকা লুট ও ছয় লাখ ৯০ হাজার টাকা মালামাল নষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার বুড়াপুকুর- বিষ্ণপুর গ্রামের সাগর হোসেন কয়েক মাস আগে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন। গত ৯ আগস্ট রাতে তার বাড়ির তালা কেটে ইজিবাইকটি চুরি হয়। ইজিবাইকটি এখনো উদ্ধার হয়নি।
গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বুড়াপুকুর এলাকায় কয়েকজন লোক চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। পরে তাদের ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়। একজন পালিয়ে যান। এসময় চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু সেখানে গিয়ে আটক তিনজনকে রাতে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন শনিবার বুড়াপুকুর গ্রামের মসজিদের পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় প্রকাশ্যে সালিস বসায় রাজু। এতে আটক তিন সন্দেহভাজনসহ প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর রাজুর নেতৃত্বে আটক তিন ব্যক্তিকে কৃষ্ণকোলা গ্রামের ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও মেশিনারিজের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বুড়াপুকুর-বিষ্ণপুর ও চাঁরদীঘি গ্রামে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে রাজু নেতৃত্বে লোকজন উত্তেজিত হয়ে দোকান ও পাশের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ওয়ার্কশপে ভাঙচুর লুটপাট ও পিছনেই তাদের বাড়িতে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিন চোর সন্দেহভাজনকে থানায় নিয়ে যায়। তাদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে ওই দিনই তারা জামিনে বের হয়ে আসেন।
ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, প্রায় এক যুগ আগে তিনি ও তার ভাই আজাদ গ্রামে ওয়ার্কশপের ব্যবসা শুরু করেন। তারা সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। কয়েক দিন আগে তিলেকপুর ইউনিয়নের চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু তার লোকজন নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন আল আমিন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আজাদ হোসেন বলেন, চোরাই ইজিবাইকের কেনার অভিযোগ তুলে ও গুজব ছড়িয়া আমাদের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দোকানের যন্ত্রাংশ মালামাল সহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি ও আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা যেকোনো সময় আমার ও আমার পরিবারে ক্ষতি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন দীর্ঘদিন থেকে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি, কয়েকদিন আগে রাজু ও তার দলবল আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায়। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু সহ তার দলবল এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। আমি আর সুষ্ঠু বিচার চাই।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চোরাই ইজিবাইকের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ মিথ্যা গুজব ছরিয়ে প্রধান আসামি রাজু সহ তার লোকজন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে ১৮ জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। এরমধ্যে প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলডাকাতিয়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। সঠিক তদারকি ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কাজের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এটি প্রশাসনের সুশাসন ও জনস্বার্থ সুরক্ষার একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃখনন এবং সংলগ্ন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সরেজমিন তদারকিতে কাজের বাস্তব চিত্র অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয়ের সম্পূর্ণ অর্থ না তুলে, কেবল সম্পন্ন কাজের প্রকৃত বিল পরিশোধ করা হয়। ফলে বেঁচে যাওয়া বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।
সাহস ডোলডাঙ্গা থেকে ভদ্রা নদী প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা থাকলেও, কাজের সঠিক মূল্যায়ন করে ব্যয় হয় ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ টাকা। ফলে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৭৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে রংপুর সাড়াতলা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে প্রকৃত কাজের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং অবশিষ্ট ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা নিরাপদে ফেরত দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, প্রকল্প দুটির অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জনস্বার্থে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে স্থানীয় প্রশাসন সবসময় এমন সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বদ্ধপরিকর।
নওগাঁ সরকারি কলেজের এক ছাত্রীকে ‘ব্যাড টাচ’ করার অভিযোগে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ সুপারের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের পর নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তার কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শান্তাহার জনকলোনি এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট নওগাঁ সরকারি কলেজের মাস্টার্সের এক ছাত্রী টিউশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মেস থেকে বের হন। পথে এটিম মাঠের গলি দিয়ে জনৈক ইমরুল কায়েসের বাসার সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের অজ্ঞাতনামা আরোহী তাকে যৌন হয়রানি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার কয়েকদিন পর ভুক্তভোগী ছাত্রী নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান। পুলিশ সুপার তার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ দেন।
এরপর ডিবি পুলিশের একটি দল টানা পাঁচ দিন তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত যুবক ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। পরে নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্তাহার থেকে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে কিংবা যেকোনো স্থানে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানি জেলা পুলিশ কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী দমন করবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি’র নির্দেশনায় মহামারী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নগরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে খুলনায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে।
গত রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে খুলনা নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের বিহারী কলোনী মোড় থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিরাজুর রহমান মিরাজের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইসতিয়াক আহমেদ ইস্তির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পাহাড়ের পর্যটন শিল্প বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি বলেন, পাহাড়ের প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই অঞ্চলে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে পর্যটন শিল্প বিকাশের পাশাপাশি এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে আরো বেগবান করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
গতকাল রোববার বিকেলে জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশসহ কাপ্তাই লেকের নৈসর্গিক অপরুপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে শহরের রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ভিতরে দৃষ্টিনন্দন ওয়ার্চ টাওয়ারের উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবাল, রাঙ্গামাটি নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা বাসস’কে জানান, রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটিতে দৃষ্টি নন্দন এই ওয়ার্চ টাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
দৃষ্টি নন্দন এই ওয়ার্চ টাওয়ার উদ্বোধনের পর পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা নবনির্মিত ওয়ার্চ টাওয়ারটি ঘুরে দেখেন।
দৃষ্টি নন্দন এই ওয়ার্চ টাওয়ার রাঙ্গামাটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের মাঝে বিনোদনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সূত্র: বাসস
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের টিন বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন আল আমিন সৈকত (৪৩)। তিনি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। গত রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত সৈকত স্থানীয় আড়াই ব্যাপারি বাড়ির মৃত জসিম উদ্দিনের পুত্র ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টার দিকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন সৈকত। পথিমধ্যে তিন থেকে চারজন দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে অতর্কিতভাবে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিষয়ে নিহতের চাচাতো ভাই আরাফাত হোসেন বড় মিয়া বলেন, ‘আল আমিনের পারিবারিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক শত্রুতাও থাকতে পারে। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’ উল্লেখ্য, সৈকত ভৈরব বাজারের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত সার ও ধান ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।
ভৈরব শহর ফাঁড়ির এসআই নুরুল হুদা জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সৈকতকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মৃত্যুর খবর জানা গেছে। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ভৈরবে আনা হবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আসামিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ইয়াবা সেবনে বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন একই পরিবারের চারজন। রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় ঘটল এই নৃশংস ঘটনা। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী। বাড়ির ছাদে চেনা দুই তরুণকে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলে বাধা দেওয়াই ছিল এই খুনের মূল কারণ। পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে ঘাতকরা পুরো পরিবারটিকে একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা ওই বাড়িতেই পুরো রাত অবস্থান করে, গোসল করে, খাবার খায় এবং পুনরায় ইয়াবা সেবন করে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
রোববার (২৩ আগস্ট) এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ ।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে মাছুয়াপাড়ার নবনির্মিত দোতলা বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০) ও তার পরিবারের সদস্যরা। পাশের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে আসে দুই তরুণ—মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।
তারা দুজনেই স্থানীয়—একজন মাছের দোকানের কর্মী, অন্যজন স্বর্ণের কারিগর। তারা দুজনই ইয়াবা সেবনকারী। ছাদের কোণে বসে তারা যখন ইয়াবা সেবন করছিল, তখন শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় গণপতি চক্রবর্তীর।
ছাদে উঠে তিনি দেখতে পান চেনা দুই তরুণকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায়। তিনি এতে বাধা দেন। আর এই বাধাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে ছাদেই নিঃশব্দে হত্যা করা হয় গণপতি চক্রবর্তীকে।
গণপতি চক্রবর্তীর গোঙানির শব্দ পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০)। ঘাতকরা তাকেও মুহূর্তের মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে সিঁড়িতে ফেলে রাখে। মায়ের আকুতি শুনে ছুটে আসেন সরকারি কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষ করা মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫)।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, আগামীকে হত্যা করতে ঘাতকদের সবচেয়ে বেশি সময় (৪-৫ মিনিট) লেগেছে। রশি ও কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে তার মুখ ও বুকে চাপ দেওয়া হয়, এতে তার চোয়াল ভেঙে যায়।
সবশেষে ঘরের খাটে শুয়ে ছিল ১২ বছরের শিশু আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম। প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের বন্ধু ছিল। ঘাতকদের চিনে ফেলায় শিশুটিকেও খাটের ওপর বালিশচাপা ও কাপড় পেঁচিয়ে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পুরো পরিবারটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়।
সাধারণত অপরাধ করার পর অপরাধী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ সেই বাসাতেই রাত কাটায়। তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাথরুমে গিয়ে ধীরেসুস্থে গোসল করে। ডাইনিং টেবিলে রাখা শসা ও খেজুর খায়। চার লাশের মধ্যেই তারা পুনরায় ইয়াবা সেবন করে।
তদন্ত ভিন্ন খাতে ঘোরাতে ঘরের আলমারি চাবি দিয়ে খুলে ড্রয়ারের কাপড়-চোপড় তছনছ করে ছিটানো হয়, যাতে ঘটনাটিকে ডাকাতি মনে হয়। আঙুলের ছাপ (Fingerprint) ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে দুটি স্মার্টফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে চুবিয়ে রাখা হয়। লুটে নেওয়া স্বর্ণালংকার আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে ঘরের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় রাস্তা ফাঁকা হলে তারা শান্তভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে শনিবার রাতে স্বজনরা পুলিশ নিয়ে গিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখান থেকে পচা ও ঝলসানো অবস্থায় চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভগ্নিপতি খুব ভালো ও শান্ত মানুষ ছিলেন। অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটা বানিয়েছিলেন। তাদের সবাইকে এভাবে মেরে ফেলল! একটা পুরো পরিবারকে এভাবে শেষ করে দিল? আমরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইব?
গণপতি চক্রবর্তীর অসুস্থ বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী আক্ষেপ করে বলেন, আমার ভাইয়ের পুরো পরিবারটাই শেষ। এই বংশে আর কেউ বেঁচে রইল না।
পাশের ভবনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা জানান, গণপতি চক্রবর্তী অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ ছিল না। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে মানববন্ধনে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশের তৎপরতা ও আইনগত পদক্ষেপ: ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিআইডি যৌথ অভিযান চালিয়ে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই ইয়াবা সেবনের কথা এবং তার জের ধরে চারজনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকার। কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
পুলিশ আরও জানায়, এই দুই তরুণকে ইয়াবা সরবরাহকারী খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে অপর এক মাদক কারবারির নাম পাওয়া গেছে, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রংপুরের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে মারাত্মক কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার: আবাসিক এলাকার ভেতরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে গিয়ে ইয়াবা সেবনের মতো পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রমাণ করে এলাকায় মাদকের বিস্তার কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
মানসিক বিকৃতি ও চরম সহিংসতা: ইয়াবা সেবনের ফলে সেবনকারীর মধ্যে স্বাভাবিক বিবেক-বিবেচনা বা ভয় কাজ করে না। সামান্য পরিচয় গোপন করার ভয়ে একটি অবোধ শিশুসহ চারজনকে হত্যা করা এবং খুনের পর একই বাড়িতে অবস্থান করা চরম মানসিক বিকৃতির পরিচয় দেয়।
নিরাপত্তাহীনতা: নিজ গৃহের অভ্যন্তরেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অভাব ফুটে উঠেছে এই ঘটনায়।
একসময়ের শান্ত ও নিরপরাধ শিক্ষক পরিবারের এই পরিণতি কেবল একটি অপরাধের খবর নয়, এটি ইয়াবার ছোবলে সমাজ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে—তারই এক স্পষ্ট প্রমাণ।
এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদরদপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নৌবাহিনী প্রধানকে এডমিরাল র্যাংক পরিয়ে দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। র্যাংক ব্যাজ পরিধানকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১লা জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী হতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌপ্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ১ জুলাই ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। তিনি তার ব্যাচে (৮৭-এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।
এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও, তিনি এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ ও বিদেশ হতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণিসহ তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বৃত্তিপ্রাপ্ত ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে এবতেদায়ি ৫ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই হবে না; শিক্ষার্থীরা যাতে প্রকৃত অর্থে মানসম্মত শিক্ষা পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’
শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে পাঠদান করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাকের আহমেদ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে এবতেদায়ি ৫ম শ্রেণি ও ৮ম শ্রেণি সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মোট ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সংবর্ধনা দেয়া হয়।
এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন ৫ ধাপে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ড. মঈন খান বলেন, বিগত সরকার ঠিকমতো নির্বাচন দেয়নি। বিএনপি সরকার প্রতিটি স্তরে সঠিকভাবে নির্বাচন দেবে। আওয়ামী লীগ সরকার ধনিকশ্রেণির সেবা করেছে, কিন্তু বিএনপি সরকার বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলবে।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের আভাস দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং আইনের নীতি ও সুশাসনে বিশ্বাসী। দেশে সত্যিকার অর্থে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
বিগত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় দেশের দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে প্রতিমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিয়ে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে এ কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
এর আগে সকালে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় অংশ নেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী। সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় থাকা প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে সাচনা বাজার এলাকায় সব ধরনের গাছ কাটা স্থগিত ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
জেলা প্রশাসক বলেন, এই সড়কে গাছ কাটার বিষয়ে এ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকর্মীদের এই বিষয়ে অবহিত করেন। এ ছাড়া গাছ কাটার বিষয়টি কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে, কী ধরনের গাছ কাটা হয়েছে এসব বিষয় যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীলকে আহ্বায়ক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সুনামগঞ্জ- সাচনা বাজার সড়কে গাছ কর্তন নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হলে বন বিভাগ, সওজ এবং পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের নিয়ে রোববার (২৩ আগস্ট) বৈঠক ও ভিডিও কনফারেন্স করা হয়। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এ সময় স্পষ্ট করেছেন, যে সেখানে সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো প্রকল্প বা নির্দেশনা তাদের নেই। ফলে গাছ কাটার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে এবং কেন অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ- সাচনা বাজার সড়কে গাছ কাটা নিয়ে যে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, সে বিষয়ে জানার পর আমরা অবিলম্বে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করি এবং তাদের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসার আহ্বান জানাই।
সকালে আমার কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ), পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি এবং বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনা করি এবং সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাই যে সাচনা বাজারের ওই গাছগুলো কর্তনের সাথে সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।
উত্তরে তিনি সকলের সামনে স্পষ্টভাবে জানান, ওই এলাকায় সওজের এই ধরনের কোনো সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বা পরিকল্পনা নেই। যেহেতু সওজের কোনো প্রকল্প নেই, তাই সেখানে সড়ক প্রশস্ত করার অজুহাতে গাছ কাটার কোনো অবকাশই থাকতে পারে না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অবিলম্বে বন কর্মকর্তাকে সাচনা বাজারে সব ধরনের গাছ কাটা স্থগিত ও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, জেলা কমিটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি সভা করেছিল এবং সেই সভার কার্যবিবরণীর সূত্র ধরেই গাছ কাটার বিষয়টি সূচিত হয়েছিল। তবে সাচনা বাজারের অংশটি কাটার ব্যাপারে জেলা কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, যা আমরা কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করেই নিশ্চিত হয়েছি। এমনকি সওজ কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো সুপারিশের কথা অস্বীকার করেছে এবং বন বিভাগও কোনো বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
তাই এই অসংগতিপূর্ণ ও অননুমোদিত গাছ কাটার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখার পাশাপাশি-কারা, কোন উদ্দেশে এবং কেন জেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গাছ কাটতে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটি খুব দ্রুত ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করে জেলা প্রশাসনের কাছে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে।
বিকেলে জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদায় মৌখিক বা লিখিত কোনো আদেশ দিলে আমরা সেটি মানতে হবে। তিনি গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা সেটিই প্রতিপালন করব।
২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় এই সড়কে প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়। পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ছায়াবৃক্ষগুলো পরিবেশ ও মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরি। গত শনিবার ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর ব্যানারে বৃক্ষ হত্যা বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালনকালে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় যৌথ টাস্কফোর্সের এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ শাড়ি ও প্রসাধন সামগ্রী (কসমেটিকস) জব্দ করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি), হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্সের একটি দল শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ৪৬ বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর মাহবুবুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম।
অভিযান চলাকালে রেলস্টেশন চত্বরে অবৈধভাবে পরিবহন ও পাচারের উদ্দেশে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব চোরাই পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত মালামালসংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের অর্থনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষায় চোরাচালানবিরোধী এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা ও সচেতনতা কামনা করা হয়েছে।