সিরাজগঞ্জ জেলায় বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন বাসযাত্রী। আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৩ নং পিলারের উপর এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ধানবান্ধি এলাকার রহিজ উদ্দিন ও তার ছেলে শাহরিয়ার রিপু ও সদর উপজেলার বনবাড়িয়া এলাকার বাবু শাহার ছেলে চন্দ্র শেখর।
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ঢাকা এক্সপ্র্রেস পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সেতুর ১৩নং পিলারের কাছে এসে পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি পাথর বোঝাই ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনযাত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের উদ্ধার করে। আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিকে রেকার দিয়ে সরিয়ে সেতুর উপর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে।
দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কাটিয়ে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্তকে জেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে একই সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে।
নদীবেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলা এখনো দেশের একমাত্র জেলা, যার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। জেলার মানুষকে যাতায়াতের জন্য মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। রাত ১০টার পর নৌযান চলাচল সীমিত হয়ে গেলে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো জেলা। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, জরুরি পরিবহনসহ নানা ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে সমন্বিত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দেন।
উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে ভোলার বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন বলছে, এটি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তবে তাদের মতে, ফেরিনির্ভর যাতায়াতের স্থায়ী সমাধান এবং শিল্পায়নের পথ সুগম করতে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ অপরিহার্য।
ভোলার চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খাঁন বলেন, খনিজ সম্পদ গ্যাস, কৃষি, রুপালি ইলিশ ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় জেলা ভোলা। সড়ক পথে ভোলাকে বরিশালের সাথে যুক্ত করতে পারলে এ জেলার ইলিশ মাছ, ক্যাপসিক্যাম ও তরমুজসহ নানা ধরনের তৈরি পণ্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জনপদে খুব সহজে পৌছুতে পারবে। এতে করে জেলার প্রান্তিক কৃষক, খামারিরা তাদের কৃষি পণ্যের কাঙিক্ষত মূল্য পাবে।
ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ আগস্ট সড়ক পথে ভোলাকে যুক্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন তাতে আমরা জেলার মানুষ খুবই খুশি ও আনন্দিত। এ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে আমাদের অর্থনীতিক ব্যবস্থা অনেকটা পরিবর্তন হবে। এর ফলে ভোলার যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল পুরো বাংলাদেশ পাবে। সেই সাথে ভোলার গ্যাস সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাবে। এখানে মিল-ইন্ডাস্ট্রি হবে। এ যোগাযোগ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আমরা মনে করি।
ভোলা-৩ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম গণমাধ্যমকে বলেন, নদীবেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে মূল ভূ-খণ্ডের যোগাযোগ স্থাপন এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ সেখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি। তাই জেলার সাথে মহাসড়ক যুক্ত করার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন দু:সাহসিক সিদ্ধান্তকে তিনি সাধুবাদ জানান।
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রতিশ্রুতি শতভাগ পালন করার সৎ মানসিকতা রাখেন। ভোলাকে জাতীয় মহাসড়কের সাথে যুক্ত করার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। আগামী দিনগুলোতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়নের কাফেলা নিয়ে ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের দৃশ্যপট পাল্টে দেয়া হবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
তিনি বলেন-মহাসড়কে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে এতদাঞ্চলে যেমনি অর্থনীতির প্রসার ঘটবে; তেমনি বিচ্ছিন্নতার গ্লানি হতে মুক্ত হবে ভোলার ২২ লাখ মানুষ।
‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সার কারখানা নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ এবং ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ—এসবই ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। আমরা নতুন মহাসড়ক নির্মাণের বিরোধিতা করছি না, তবে সেতু নির্মাণ ছাড়া যোগাযোগ সমস্যার পূর্ণ সমাধান হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ফেরিনির্ভর ব্যবস্থার কারণে জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত সময় ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। নতুন মহাসড়ক পণ্য পরিবহনে কিছু সুবিধা আনলেও যাত্রীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না বলে তিনি মনে করেন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা সুজন সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ভোলায় উল্লেখযোগ্য গ্যাসসম্পদ রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, বাড়বে কর্মসংস্থান। তাই ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি আমাদের।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ ভোলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে নতুন করে সাড়ে ২১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
সড়ক বিভাগ কনসালট্যান্ট নিয়োগের মাধ্যমে এটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। এ সড়ক নির্মাণ হলে ঢাকার সাথে ভোলার দূরত্ব কমে আসবে। ভোলার অর্থনীতির দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ভুয়া সিআইডি পরিচয় দেওয়া সংঘবদ্ধ চক্রের সাত জন সদস্যকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) গভীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—ঝিনাইদহ জেলার পাগলাখানা গ্রামের মোছা. আছমা খাতুন (৩১), পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান (২৮), পাগলাখানার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান শাহ (২৫), নলডাঙ্গা এলাকার সাকিব (২৩), কুড়িগ্রাম জেলার কালিঘাট এলাকার ছাব্বির হোসেন (২২) এবং মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দেবিলা গ্রামের আল-আমিন হোসেন (২২)।
পুলিশ জানায়, একটি মাইক্রোবাসযোগে শ্রাবনী নামের এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা করছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় হাতেনাতে সাতজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা ৪টি জ্যাকেট, ১টি খেলনা পিস্তল, ১টি মাইক্রোবাস ও ৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসানের পরিচালনায় অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই অপহরণ চেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগী শ্রাবনীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুল। তাকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপুকে বরণ করে নিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে পুরো রাঙামাটি। পথে পথে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান।
সকাল থেকে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের প্রবেশমুখ কাউখালীর বেতবুনিয়া এলাকা থেকে শুরু হয় তাকে স্বাগত জানানোর কর্মসূচি। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, দলীয় পতাকা ও রং-বেরঙের ফুল হাতে সড়কের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তাদের প্রিয় নেতার জন্য।
দীপন তালুকদারের গাড়িবহর রাঙামাটির প্রবেশমুখে পৌঁছালে চারদিকে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। নেতাকর্মীরা ফুল ছিটিয়ে ও ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
এরপর বেতবুনিয়া, ঘাগড়া, মানিকছড়ি, শিমুলতলী, দেবাশীষ নগর, কেকে রায় সড়ক, রাজবাড়ী ও বনরূপাসহ পথের বিভিন্ন পয়েন্টে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
প্রতিটি স্থানেই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা নিয়ে জড়ো হন। ফুলের তোড়া দিয়ে নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান তারা।
নেতাকর্মীরা বলেন, দীপন তালুকদার দিপুর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে দীপন তালুকদার রাঙামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৌঁছালে সেখানে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় তিনি রাঙামাটিবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাঙামাটির উন্নয়ন, শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, “আপনাদের ভালোবাসায় আমি অভিভূত। রাঙামাটির উন্নয়ন, শান্তি ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব।”
দীপন তালুকদার আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে জেলা পরিষদ কাজ করবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দীপন তালুকদার বলেন, আমাকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ,পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরি ও প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মীর মোঃ হেলাল উদ্দিন এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।একই সঙ্গে তিনি বলেন, পার্বত্যমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে রাঙামাটি সফর করে জেলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবেন।
এ সময় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত সদস্য, জেলা বিএনপি এবং যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পথে পথে এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ফুলেল ভালোবাসায় নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সাবেক এক ইউপি সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের নতুন চাঁনপুর গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মো. মোক্তার উদ্দিন (৬২) নতুন চাঁনপুর গ্রামের মৃত আবদুল কাদিরের ছেলে। তিনি গোপদিঘী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
নিহতের ভাতিজা মো. আইকন মিয়া বলেন, প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে তার চাচা সরাসরি বাড়িতে ফিরতেন। কিন্তু এদিন নামাজের সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী মাফুজা আক্তার কলি এনামুল হকের বসতঘরে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় মোক্তার উদ্দিনের মরদেহ দেখতে পান।
আইকন মিয়ার দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তিনি বলেন, মরদেহ নামানোর পর গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থা দেখা গেছে। কিছুদিন আগে মোক্তার উদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসায়ও ভাঙচুর এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। আইকন মিয়ার ধারণা পূর্ব শত্রুতার জেরেই তার চাচাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মাহমুদ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা কোনোটিই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় দুই সাংবাদিককে হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার ঘটনার পর রাত ৩টার দিকের সদর দক্ষিণের বিজয়পুর থেকে পলাতক অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি টিম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ।
তিনি জানান, এ ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় ওই আসামি। থানায় মামলা দায়ের হলে অভিযানে নামে ডিবি। রাত প্রায় ৩টায় তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় আমরা ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করি। তাকে সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করার আমরা জেলা পুলিশ সুপার ও ডিবি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। অপরাধীরা আইনের আওতায় আসলে দ্রুতই অপরাধ কমে আসবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করার ধৃষ্টতাও ভবিষ্যতে কেউ দেখানোর সাহস করবে না।
এর আগে, দুপুরে, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার, সাংবাদিক তানভীর দিপু জানান, আমরা সংবাদ সংগ্রহে লালমাইয়ের দিকে যাওয়ার সময় পদুয়ার বাজার মোড়ে যানজট দেখে উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে উঠতে যাচ্ছিলাম। এ সময় সড়কের সামনে স্থানীয়দের তৈরি করা লোহার বেরিকেডের মধ্যে কয়েকটি গাড়ি আটকে পড়লে সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরে লোহার বেরিকেডটি উপরের দিকে ধরে একটি একটি করে গাড়ি সরে যেতে সহযোগিতা করি। এরই মধ্যে স্থানীয় শাওন নামের এক যুবক এসে কেন যানজট নিরসন করছি ও মানুষকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছি এটি নিয়ে আমার সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে আমাকে সেভ করার জন্য সহকর্মী মারুফ এসে আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।
ওই সময় উগ্র ছেলেটা কোন কারণ ছাড়াই রড হাতে নিয়ে আমাদের দিকে তেঁড়ে আসার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে নিয়ে যায়। আমরাও আমাদের গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছিলাম। এ সময় হুট করে এসে পিছন থেকে এসে শখ করে মানুষের ঘাড়ে আঘাত করায় সেন্সলেস হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমিও এগোতে গেলে সে আমার উপর হামলা করে।
বাগেরহাটের মোংলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এনরুট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কর্মসূচির আওতায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৯ হাজার ৪০০ বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এসব চারা উপকূলীয় এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বন, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় অঞ্চলে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মোংলা ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই সবুজায়নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গাইবান্ধা শহরের কাচারিবাজার এলাকায় অবস্থিত পুলিশ সুপারের (এসপি) বাংলোর ব্যারাক থেকে হাবিবুর রহমান (৪০) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে ব্যারাকের বাথরুম থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী শহরের বাবুপাড়ার মিন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে গাইবান্ধা পুলিশ লাইন্সে যোগ দেওয়ার পর গত ১২ আগস্ট থেকে এসপির বাংলোয় গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিকেলের দিকে হাবিবুর মোবাইলে স্ত্রীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করতে করতে বাথরুমে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও বের না হওয়ায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান তারা।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া হাবিবুরের মোবাইল ফোনটি এমনভাবে রাখা ছিল, যাতে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার সময় কোনো ভিডিও কল চালু থাকতে পারে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে।
ময়নাতদন্ত ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দীন ও সদর থানার ওসি নাজমুল হুদা। ময়নাতদন্ত ও পুলিশ লাইন্সে জানাজা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী (এলজিআরডি) ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নির্বাচনী ওয়াদাগুলো করেছিলেন ৬ মাসের ভেতরেই সেগুলো একটি একটি করে পূরণ করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সঠিক পথে হাঁটছি।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে নরসিংদীর পলাশে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মঈন খান বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে যে কাজগুলো করে যাচ্ছেন সেগুলো কিন্তু ইসলামের আদর্শকেই প্রতিষ্ঠিত করছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করার যে ধ্যানধারণা এবং প্রচলন প্রধানমন্ত্রী করেছেন, সেগুলো কিন্তু রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা থেকেই।’
পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে উপজেলা ও ঘোড়াশাল পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলোর আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার। যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূইয়া মিল্টন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক তোফাজ্জাল হোসেন মাস্টার, মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এর আগে মঈন খান তার বাবা সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মরহুম মোমেন খানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে তার মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে পরিবার ও নিসচার নেতারা। তারা জানান, বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন।
ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাসহ দেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতা-কর্মীরা এই গুজবের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন বলেন, ‘এ ধরনের কোন সংবাদে বিভ্রান্ত হবেন না। আপনাদের ভালোবাসার মানুষ ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। সবাই দোয়া করবেন।’
প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি রিখেছেন, ‘এ ধরনের সংবাদ যারা প্রকাশ করছেন তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।’
ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব কোথা থেকে ছড়িয়েছে, তা শনাক্ত করে তদন্তের দাবিও জানিয়েছে নিসচা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। একই বছরের আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরোটা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্যে সম্প্রতি ১০ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন এই অভিনেতা। এ সময় পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিসচার একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারতও করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর গত সপ্তাহে জামাতার সঙ্গে চিকিৎসার জন্য আবারও লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইলিয়াস কাঞ্চনের কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্যই তিনি লন্ডনে ফিরেছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তাঁর সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করা হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসকেরা পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন খরচ কমানো।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। সরকারের নিকট উৎপাদিত পণ্যের একটি নির্ভুল পরিসংখ্যান থাকবে। এতে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) গজারিয়া উপজেলায় ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দু’দিনব্যাপী সুফলভোগী প্রশিক্ষণ সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, সরকার মিনি কোল্ড স্টোরেজগুলো ঠিক মতো চালু করতে পারলে-কৃষক কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। বর্তমান সরকার কৃষিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হবে; কৃষিপণ্য রপ্তানিী করবো। এর জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে। পতিত জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে পারলে দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণ হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। তাদের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে-প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা বলেন, তা করেন। তিনি বলেন-এ দেশ আমাদের, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব আমাদের। আমরা দায়িত্ব পালন করলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের মাঝে সনদ বিতরণের পর চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চরাঞ্চলের ২৫ জন সুফলভোগীর মাঝে বিনামূল্যে ১ টি করে বকনা বাছুর ও প্রতিটি পরিবারকে ৫০ কেজি করে পশুখাদ্য প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম, প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল প্রমুখ ।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইতালি প্রবাসি স্বামীকে রেখে দেশে ফিরে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে মুন্নি আক্তার জেসমিন নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। স্বামীকে তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করলেন চার সন্তানের এ জননী।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় প্রবাসী জাকির হোসেনের বোন মারুফা বেগম রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানায় মুন্নির বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়েসহ ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী জাকির উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর এলাকার আলী হায়দারের ছেলে। অভিযুক্ত মুন্নি তার স্ত্রী। মুন্নি একই উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের নুর উদ্দিনের মেয়ে।
মারুফার অভিযোগ ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে পারিবারিকভাবে জাকির ও মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের চার ছেলেমেয়ে রয়েছে। ২০০৯ সালে মুন্নিকে ইতালি নিয়ে যান জাকির। সেখানে মোবাইলে মুন্নি বাংলাদেশি একাধিক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই মাস আগে মুন্নি তার বাবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে চলে আসেন। সঙ্গে তার দুই সন্তানকেও নিয়ে আসেন। দেশে আসার পর থেকে তিনি জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।
পরে রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের পূর্ব কাঞ্চনপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ হোসেন চুট্টুকে বিয়ে করেন মুন্নি। তার সঙ্গে সৌরভের পরকীয়া ছিল।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, মুন্নি তার স্বামী জাকিরকে তালাক না দিয়েই পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। এছাড়া ইতালি থেকে আসার সময় জাকিরের দেওয়া ২৫ ভরি স্বর্ণ, নগদ ও ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা মুন্নি নিয়ে গেছেন।
মারুফা আক্তার বলেন, মুন্নি আমার ভাইকে তালাক দেয়নি। তিনি পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। তিনি আমার ভাইয়ের স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় মুন্নির পরিবারের লোকজন জড়িত। তাদের কারণে আমার দুই ভাতিজা ও ভাতিজি অসহায় হয়ে গেছে। আমার ভাই ভেঙে পড়েছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ব্যাপারে মুন্নি আক্তার জেসমিন বলেন, জাকির আমাকে ইতালিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এজন্য অন্য একজনকে বিয়ে করেছি। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। জাকিরকে তালাক দেওয়া ছাড়া বিয়ে করার বিষয় তিনি স্বীকার করেন।
রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মুক্তার মিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপদীঘি ইউনিয়নের নতুন চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত কালা মিঞার ছেলে মোঃ মুক্তার মিয়া গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে তার আত্মীয়ের ঘরে ঘুমাতে যান। কিন্তু ভোররাতে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান স্বজনরা।
আত্মীয়-স্বজনদের ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশটি নামিয়ে ফেলেন।
খবর পেয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মিঠামইন থানার পুলিশের উপ পরিদর্শক রিয়াজ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শক করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
মুক্তার মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। অনেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করছেন না। তাদের দাবি, মুক্তার মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে লাশ দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুর সদর উপজেলার পুলহাট বিসিক এলাকায় একটি রাইস মিলের গুদামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা ২১৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে মেসার্স ফুয়াদ ইন্ডাস্ট্রিজ রাইস মিলে এই অভিযান চালানো হয়।
জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে ১৭০ বস্তা ইউরিয়া ও ৪৭ বস্তা ডিএপি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
অভিযান চলাকালে সারের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে গুদাম মালিক মনোহর আলম (৬৫) অবৈধ সারের বিষয়টি স্বীকার করেন। এর প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে ১ মাস ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে তাঁকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন শরীফ। তিনি জানান, জব্দ করা সার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের স্বার্থে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে তা বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।