রোববার, ২৪ মে ২০২৬
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাংবাদিক নজরুল ইসলাম আর নেই

সাংবাদিক নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৯:২৪
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৯:১৮

সময়ের আলো পত্রিকার সৈয়দপুর নীলফামারীর সংবাদদাতা নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। আজ শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সৈয়দপুর পৌর এলাকায় শেরে বাংলা স্কুলের পাশে অবস্থিত নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

সাংবাদিক নজরুল ইসলাম স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী-শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তিনি সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কমিটির কার্যকরী সদস্য ছিলেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার, সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সকল সদস্যসহ অনেকেই নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা নজরুল ইসলামের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্যের সদস্য নজরুল ইসলাম ৮০ দশকে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। সমাজের অনেক উন্নয়নমূলক কাজে তিনি জড়িত ছিলেন। শুক্রবার বাদ এশা শেরেবাংলা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে হাতিখানা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।


মাগুরায় অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মাগুরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) সকালে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বক্তারা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমানে খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কর্মক্ষমতাহীন ও দরিদ্র প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোর জন্য বর্তমান ভাতা একেবারেই অপর্যাপ্ত।’

বক্তারা আরও বলেন, সমাজের এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং কার্যকর পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচি জোরদার করার জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।


কেশবপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ রেকসোনা খাতুন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজেট ঘোষণা করেন।

বাজেট ঘোষণাকালে পৌর এলাকার নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আধুনিক পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ রেকসোনা খাতুন বলেন,

জনগণের প্রত্যাশা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবারের বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য পৌরসভা গঠনে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন,সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের মাধ্যমে পৌর এলাকার রাস্তা, ড্রেনেজ, আলো ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেশবপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেসকাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, উন্নয়ন তখনই টেকসই হয় যখন তা মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সুবিধার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ায় সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফজল মোঃ ইনামুল হক বলেন নাগরিকদের কর প্রদানে সচেতনতা বাড়লে পৌরসভার নিজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোছাঃ রোকসানা খাতুন, বলেন,সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে বাজেট বাস্তবায়নে পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ করবে। নাগরিকদের কর প্রদানে সচেতনতা বাড়লে পৌরসভার নিজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, রাজস্ব আয় থেকে ৯ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়া এডিপি থেকে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, কোভিড-১৯ খাত থেকে ৩ কোটি টাকা এবং আইইউজিনাইপি প্রকল্প থেকে ৩৫ কোটি টাকা প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ১ হাজার টাকা এবং উদ্বৃত্ত থাকবে ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জামায়াতের আমির সাইদুর রহমান সাইদ, পৌর জামায়তের আমির প্রভাষক মোঃ জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু এবং নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ বুলবুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পরিকল্পিতভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে কেশবপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


শেরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

গৃহবধূকে ধর্ষণের পর গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিচ্ছে স্থানীয়রা। ইনসেটে ধর্ষক এনামুল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে এনামুল হক (৩৮) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। ২৩ মে শনিবার রাতে পৌর শহরের খোয়ারপাড় শাপলাচত্বর মোড়ে এ গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। এনামুল শহরের সবজারখিলা মহল্লার মোবারক হোসেনের ছেলে। এর আগে শনিবার দুপুরে এনামুলের বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে শেরপুর শহরের সবজারখিলা মহল্লার অভিযুক্ত এনামুলের বাসায় ভাড়া ওঠেন গৃহবধূ ও তার স্বামী। আসবাবপত্রের দোকানে কাজের সুবাদে ওই গৃহবধূর স্বামী বাইরে থাকার সুযোগে এনামুল গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় মেসেঞ্জারে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে শনিবার দুপুরে এনামুল কৌশলে গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তার মুখ চেপে ধর্ষণ করে। পরে গৃহবধূ তার স্বামী ও পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি জানান। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে সন্ধ্যার দিকে গৃহবধূর পরিবার ও স্থানীয়রা এনামুলকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।

পরে এ ঘটনায় এনামুলের শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। একপর্যায়ে সদর থানার সামনেও গিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, আট মাস আগে আমরা বিয়ে করেছি। কাজের সুবাদে পাঁচ মাস আগে সবজারখিলা এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠি। বাসায় ওঠার পর থেকেই বাড়ির মালিকের ছেলে এনামুল আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দেয়, লোভ দেখায়। পরে আমার ভাইকে এবং আমার স্ত্রীর মামাকে বিষয়টি জানালে সেটার সমাধানও হয়। তবে এরপর আবারও সে কু-প্রস্তাব দেয়। পরে শনিবার দুপুরে অতর্কিতভাবে কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে আমার স্ত্রীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। আমি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। এর বিচার চাই আমি।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, এনামুলকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


রূপগঞ্জে কোরবানির মাংস কাটার খাটিয়া-হোগলা বিক্রির ধুম

আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৬ ১৪:৫৪
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রূপগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানির প্রস্তুতি। পশুর হাটের পাশাপাশি এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কসাই সরঞ্জাম ও মাংস কাটার উপকরণ বিক্রেতারা। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও বাজারের মোড়ে থরে থরে সাজানো দেখা যাচ্ছে হোগলা, প্লাস্টিক ও মাংস কাটার কাঠের খাটিয়া কিংবা গাছের গুঁড়ি।

ঈদকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী দোকানগুলোতে বিভিন্ন আকার ও দামের এসব পণ্যের পসরা বসেছে। বিক্রেতারা জানান, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে তেঁতুল কাঠের তৈরি খাটিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে গাছের গুঁড়ির চাহিদা। রূপগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের পাশে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে বসেছেন গাছের গুঁড়ির দোকান। তেঁতুল, নিম, করইসহ নানা ধরনের গাছের গুঁড়ি পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ তেঁতুল কাঠ। সাধারণত এক ফুট থেকে সোয়া ফুট দৈর্ঘ্যের এসব গুঁড়ি ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ক্রেতা ইসলাম বলেন, “কোরবানির ঈদে খাটিয়া প্রয়োজন হয়। তাই এবার ৪০০ টাকায় একটি তেঁতুল কাঠের খাটিয়া কিনেছি।” আরেক ক্রেতা ছালেক জানান, আগে মূলত কসাইরাই এসব খাটিয়া ব্যবহার করতেন, তবে এখন সাধারণ মানুষও পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার সুবিধার জন্য কিনে নিচ্ছেন।

উপজেলার একাধিক স-মিল মালিক জানান, সব গাছ দিয়ে ভালো গুঁড়ি তৈরি করা যায় না। তেঁতুল কাঠ সবচেয়ে শক্ত ও টেকসই হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। অন্য গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাংস কাটলে কাঠের গুঁড়া উঠে মাংসের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি সহজে নষ্ট হয় না এবং পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করলে বহুদিন ব্যবহার করা যায়।

তারা আরও জানান, আগের মতো এখন আর সহজে তেঁতুল গাছ পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও বেশি দামে কিনতে হয়। পরে স-মিলে এনে খণ্ড করে গুঁড়ি তৈরি করে বাজারজাত করা হয়।

মৌসুমি গুঁড়ি বিক্রেতা ছালামত মোল্লা বলেন, ঈদকে ঘিরে গুঁড়ির কদর বেড়েছে। ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের গুঁড়ি বিক্রি করছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি, যার দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

রূপগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা আওলাদ ভুঁইয়া বলেন, “গরু কেনা শেষ। শুধু গাছের গুঁড়ি কেনা বাকি ছিল। তেঁতুল কাঠ ভালো হওয়ায় ৩৫০ টাকায় একটি কিনলাম।” তিনি জানান, পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটতে গাছের গুঁড়ি অনেক বেশি কার্যকর।

নবগ্রাম থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে তেঁতুল গাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তেঁতুল কাঠের তৈরি গুঁড়ির দাম কিছুটা বেশি। তবে এখন মানুষ পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক সচেতন।

অন্যদিকে মুড়াপাড়া বাজারে হোগলা বিক্রি করছেন আসলাম মিয়া। তিনি জানান, এবার হোগলার দামও বেড়েছে। বিভিন্ন চরাঞ্চলে হোগলপাতা কম জন্মানোর কারণে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে হোগলপাতা সংগ্রহ ও বুননের খরচ বেড়ে গেছে।

তার দোকানে বড় আকারের একটি হোগলা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং মাঝারি আকারের হোগলা প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঈদকে ঘিরে রূপগঞ্জে পশুর পাশাপাশি কোরবানির আনুষঙ্গিক সামগ্রীর এই জমজমাট বাজার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য এনে দিয়েছে।


আমতলীতে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে খালু আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসরিন সিপু, বরগুনা প্রতিনিধি

১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে খালু আলমগীর হোসেনকে আটক করেছে আমতলী থানা পুলিশ। আজ রবিবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার খাকদোন গ্রামে গত সোমবার সকালে।এলাকাবাসী আলমগীর হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবী করেছেন। জানাগেছে, দুই বছর বয়সে ওই কিশোরীর মা মারা যান। এরপর থেকে ওই কিশোরী নানা বাড়ীতে বড় হয়। গত রবিবার রাতে খালু আলমগীর হোসেন শ্বশুর বাড়ীতে বেড়াতে আসে। সোমবার ১৮ মে সকালে ওই কিশোরীকে খালু আলমগীর জোরপুর্বক ধর্ষণ করে। ওই বিষয়টি কিশোরী নানা বাড়ীর লোকজনকে জানায়। ঘটনা জেনে নানী আমতলী থানায় অভিযোগ দেন।
রবিবার রাতে পুলিশ তাকে তার বাড়ী থেকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রবিবার দুপুরে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অন স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। নানী বলেন, বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারিনি তাই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ওর কঠোর শাস্তি দাবী করছি। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী বলেন, নানা বাড়ীতে আমাকে একা পেয়ে খালু আলমগীর হোসেন জোরপুর্বক ধর্ষণ করেছে। আমি তার শাস্তি দাবী করছি। আমতলী থানার ওসি আবু শাহাদাত মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। আইনী প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অন স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।


দৌলতপুরে টুংটাং শব্দে মুখর কামারশালা  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 

বাঁশ, পাটকাঠি আর ছন দিয়ে তৈরি ছোট্ট কুঁড়ে ঘর। বাইরে থেকে সাধারণ চোখে তেমন কিছু মনে না হলেও ভেতর থেকে হাতুড়ি আর গরম লোহা পেটানোর টুংটাং ভেসে আসা শব্দই বলে দিচ্ছে, এটি একটি কামারশালা। সেই শব্দ যেন জানান দিচ্ছে— আর বেশি দেরি নেই, আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

বছরের বেশির ভাগ সময় নিরব পড়ে থাকা দৌলতপুর উপজেলার কামারশালাগুলোতে এখন ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ছুরি, দা, বটি ও চাপাতি তৈরির কাজ। তবে নতুন সরঞ্জাম তৈরির চেয়ে পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত ও শান দেওয়ার কাজই বেশি করছেন কামাররা।

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে কিংবা পুরোনোগুলো ধারালো করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা।

উপজেলার সদর, হোসেনাবাদ, প্রাগপুর, মরিচা, ফিলিপনগর, খলিশাকুন্ডি, আল্লারদর্গা ও তারাগুনিয়া এলাকার বিভিন্ন কামারশালায় গিয়ে দেখা যায়, আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ধারালো সরঞ্জাম। একদিকে নতুন ছুরি-বটি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে আসছেন সাধারণ মানুষ।

কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকার ও মানভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। দা ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, বটি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং চাপাতি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো ছুরি বা দা শান দিতে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের ধরন অনুযায়ী ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

হোসেনাবাদ বাজারের কামার প্রশান্ত বলেন, “বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে। কয়েকদিন ধরে রাত জেগে কাজ করছি। কিন্তু লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। এখন নতুন করে আর কাজ নিচ্ছি না, মানুষের আগের অর্ডার শেষ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

কামার রামপদ কর্মকার বলেন, “ঈদের আগে কাজের অনেক চাপ থাকে। মানুষ নতুন ছুরি-বটি কিনছে, আবার পুরোনোগুলোও শান দিচ্ছে। এই সময়টাতে যা আয় হয়, তা দিয়েই বছরের অনেকটা সময় চলে। আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে এই শিল্প বিলীনের পথে। নতুন প্রজন্মও আর এই কাজ শিখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আমরা অনেকেই এখন কৃষি কাজের সাথে জড়িত।”

কামারশালায় আসা জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি পাঁচটি ছুরি ও দুটি চাপাতি মেরামত ও ধারালো করতে এনেছেন। তিনি বলেন, “কোরবানির দিন আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পশু কোরবানি দেওয়া হবে। সেজন্য এগুলো ঠিকঠাক করে নিচ্ছি। বছরে এই একটা সময়েই এসবের কথা মনে পড়ে। দোকানে এখন এত ভিড় যে ঈদের আগের দিন এসে নিতে বলেছে।”

আরেক ক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, “আমি নতুন করে দুটি ছুরি ও একটি বটি কিনতে এসেছি। বর্তমান বাজারদর ও শ্রমের তুলনায় দাম ঠিকই আছে।”

ক্রেতাদের ভাষ্য, কোরবানির সময় ভালো মানের ধারালো সরঞ্জামের চাহিদা বেশি থাকে। তাই তারা স্থানীয় কামারদের হাতে তৈরি সরঞ্জামের ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন।


মস‌জি‌দের বারান্দা থে‌কে দিনমজু‌রের রক্তাক্ত মর‌দেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার হরিনটানা থানাধীন কৈয়া বাজার জয়খালী ব্রিজ সংলগ্ন মসজিদের বারান্দায় ডালিম গাজি (৪১) নামে একজন দিনমজুরের লাশ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার ভোর সাড়ে ৫ টায় এ ঘটনা ঘটে। হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনার শহর সংলগ্ন কৈয়া বাজার জয়খালী ব্রিজ এলাকায় বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদের বারান্দায় ভোরে নামাজে আসলে মুসল্লিরা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় ফোন দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।

নিহতের মাথায় ইটের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পাশে রক্তাক্ত ইট পাওয়া গেছে। কে বা কারা মেরেছে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

মৃত ডালিম গাজি খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার আবুল হোসেন গাজি ও ভানু বিবির সন্তান। পেশায় দিনমজুর।

ঘটনাস্থলে সিআইডি টিম আলামত সংগ্রহের কাজ শেষ করে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ এর প্রক্রিয়া চলছে। এ হত্যাকাণ্ডের পর পরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয়রা সকালে নামাজে এসে মসজীদের বারান্দায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ইট দিয়ে মাথার ডান পাশে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাতে হত্যা করে মসজিদের বারান্দায় ফেলে যায় হত্যাকারী। আশপাশের সিসি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। সে একজন দিন মজুর। কাজের উদ্দেশ্যে খুলনায় আসে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।


শ্রীমঙ্গলে পাঁচ দিনব্যাপী নৃত্য কর্মশালার সমাপ্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ণাঢ্য নৃত্য উৎসবের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী নৃত্য কর্মশালার সমাপ্তি হয়েছে। শনিবার রাতে শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের আয়োজনে শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন নৃত্যদল অংশ নিয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থাপন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঝাড়ু, শ্রীমঙ্গল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি মশিউর রহমান রিপন, ভারতের কলকাতা থেকে আগত নৃত্যশিল্পী সুমন মন্ডল, দিল্লি থেকে আগত নৃত্যশিল্পী নিপুন দাডু নাবিলা, ঢাকা থেকে আগত নৃত্যশিল্পী ও প্রশিক্ষক আবু নাইম এবং শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের পরিচালক দ্বীপ দত্ত আকাশসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।

শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের পরিচালক দ্বীপ দত্ত আকাশ জানান, গত ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এই নৃত্য প্রশিক্ষণ কর্মশালায় শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়ের ১০৫ জন নৃত্যশিল্পী অংশ নেন। কর্মশালায় ঢাকা থেকে আগত প্রশিক্ষক আবু নাইম অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নৃত্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

তিনি আরও বলেন, কর্মশালার সমাপনী দিনে আয়োজিত নৃত্য উৎসবে শ্রীমঙ্গল নৃত্যালয়সহ বাংলাদেশ ও ভারতের মোট ১৮টি নৃত্যদল অংশ নেয়। উৎসবটি স্থানীয় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।


বাগাতিপাড়ায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

রামিসাসহ সারাদেশে শিশু ও নারী ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার বিহারকোল বাজার এলাকায় দ্রুত ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাগাতিপাড়া কিশোরী-কিশোর ও ভূমিহীন সংগঠন।

মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এসময় অংশগ্রহণকারীরা “ধর্ষণ ও নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ কর”, “ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভূমিহীন সংগঠনের কিশোরী সদস্য বিন্দু আক্তার ও কিশোর সদস্য তুহিন আহমেদ। তারা বলেন, সমাজ থেকে ধর্ষণ ও সহিংসতা বন্ধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

সংগঠন পর্যায় থেকে বক্তব্য দেন ভূমিহীন নেত্রী শিখা বেগম এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি জালাল উদ্দিন। তারা বলেন, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
এছাড়া শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন উত্তম কুমার ভৌমিক ও ইদ্রিস আলী। “নিজেরা করি” পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচি সংগঠক শাহমিস বিউটি এবং অঞ্চল সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম।


কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত ১১ শত কেজি ওজনের ভৈরবের বস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের রামশংকরপুর এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশালাকৃতির এক গরু, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভৈরবের বস’। ফ্রিজিয়ান ফ্ল্যাক বি জাতের এই সাদা-কালো পাহাড়সম গরুটিকে ঘিরে কৌতুহলী মানুষের ভিড় এখন প্রতিদিনের ঘটনা। ১১শ কেজি ওজনের এই গরুটি লালন-পালন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় যুবক সাদ্দাম হোসেন।

​মৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন পেশায় একজন ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী। ২০১৪ সাল থেকে ব্যবসার পাশাপাশি তিনি শখের বসে গত ৩ বছর যাবত কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশু লালন পালন করেন৷ গতবছর কোরবানির ঈদেও তিনি তিনটি গরু বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। তবে এবারের আকর্ষন তার তিন বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তোলা ‘ভৈরবের বস’।

এবিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় একটি হাট থেকে মাত্র ৮০ হাজার টাকায় ফ্রিজিয়ান ফ্ল্যাক বি জাতের বাছুরটি কিনেছিলেন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে পরম যত্নে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে মোটাতাজা করা হয়েছে। গরুকে ক্ষতিকর কোনো স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। নিজের জমিতে আবাদ করা ঘাস, গমের ভুসি ও খৈল ​প্রাকৃতিক দানাদার খাদ্য খাইয়ে লালন পালন করেছি। ভৈরব এলাকায় এর আগে এত বড় গরু আর কেউ তৈরি করতে পারেনি। প্রতিদিনই মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসছে ভৈরবের বসকে দেখতে। কেউ ছবি তুলছে-এটাই আমার বড় তৃপ্তি।​

​তিনি আরো বলেন, এই ৩ বছরে গরুটির পেছনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। বর্তমানে এর ওজন ১,১০০ কেজি (প্রায় ২৭ মণ) ছাড়িয়েছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তার এই আদরের 'ভৈরব বস'-এর দাম হেঁকেছেন ৯ লক্ষ টাকা। গরুটির বিশাল দেহ আর শান্ত স্বভাব দেখে অনেক ক্রেতাই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

​স্থানীয় প্রতিবেশী নাদিম মিয়া বলেন, সাদ্দাম নিজের মেধা আর পরিশ্রমে এই অসাধ্য সাধন করেছে। সে যদি ভালো দাম পায়, তবে এলাকায় আরও অনেক যুবক এমন আধুনিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু পালনে আগ্রহী হবে।

এখন ​সাদ্দাম আশা করছেন, ন্যায্য মূল্যে গরুটি বিক্রি করতে পারলে তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলবেন। 'ভৈরব বস' এখন শুধু সাদ্দামের স্বপ্ন নয়, বরং পুরো রামশংকরপুর গ্রামের গর্বে পরিণত হয়েছে।


ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৫

আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৬ ১২:০৩
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের নগরকান্দায় যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস এবং অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে এক বিধ্বংসী মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের শংকর পাশা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের সবাই দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর অভিমুখে যাচ্ছিল একটি বিআরটিসি বাস। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের সাথে বাসটির প্রচণ্ড বেগে সংঘাত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এর ৫ জন যাত্রী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ এবং নগরকান্দা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে ৫ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


বোরহানউদ্দিনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ দোকান পুড়ে ছাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের গফুরগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান পুড়ে গেছে। রবিবার (২৪ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বাজারের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে হঠাৎ বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর বোরহানউদ্দিন ইউনিটের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

‎অগ্নিকাণ্ডে বেল্লাল ভ্যারাইটিজ স্টোর, নজরুল ফাস্ট ফুড, সোহেল ফার্মেসি, নিজাম খলিফার কাপড়ের দোকান, হাসান মালের হোটেল ও আহসান উল্লাহর মুদি দোকানসহ মোট সাতটি দোকানের মালামাল পুড়ে যায়। এর মধ্যে পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ এবং দুটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

‎ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বেল্লাল জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ২টার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি বাসায় যান। ভোর রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখেন পুরো দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “দোকানে প্রায় ১০ লাখ টাকা নগদ ছিল। এছাড়া সার-কীটনাশক, বিকাশের মোবাইল সিম, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন ধরনের মুদি মালামাল ছিল। আমার প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। কিছুই বের করতে পারিনি।”

‎অন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরাও জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে দোকান থেকে কোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি। অনেকেই দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ব্যবসার মূলধন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের পক্ষে আবার ব্যবসা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।

‎এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ফায়ার ফাইটার মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে।”

‎তিনি আরও জানান, বাজারের দোকানগুলো ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আশপাশের আরও কয়েকটি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

‎ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাজার এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।


নরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী পশুর হাট, নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে এই পশুর হাট পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপনের জন্য জারি করা নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন সড়কে গরুর হাট বসানো যাবে না। এছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায়ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট না বসানোর বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল।

তবে সেই নির্দেশনা অমান্য করেই নরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নির্বিঘ্নে চলছে পশুর হাট। প্রতিদিন শত শত গরু ও ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ নোংরা ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগও বাড়ছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসনের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও সভার সিদ্ধান্ত থাকার পরও কীভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট পরিচালিত হচ্ছে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।


banner close