মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস: ঝুঁকিতে ৪০ হাজার মানুষের জীবন

ছবি: দৈনিক বাংলা
রহমত উল্লাহ (টেকনাফ) কক্সবাজার
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ (টেকনাফ) কক্সবাজার
প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:১৯

বর্ষা মানেই পাহাড় ধসের শঙ্কা। শুধু আশঙ্কাই নয়- প্রতি বছরই পাহাড় ধসে বহু প্রাণহানিও ঘটে। তারপরও বন্ধ করা যায়নি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের বসবাস। যদিও বর্ষা এলেই এখানে বসবাসরত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যায়, তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ এখানে বসবাস করছেন। ২০১৭ সাল থেকে কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফে ভয়াবহ পাহাড় ধসের পরও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসতি বেড়েছে কয়েকগুণ।

টেকনাফে উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি আরও বেড়েছে। জেলায় সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ৩২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৩৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৫৩১টি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৩০৪টি।

২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টেকনাফে পাহাড়ধসে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান ২০২০ সালে।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, টেকনাফে বিভিন্ন পাহাড়ে প্রশস্ত সড়কের পাশাপাশি লোকালয়ে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। এতে স্থানীয়দের মাঝে বসতি স্থাপনে আগ্রহ বাড়ছে। সব মিলিয়ে অবৈধ বসতিতে যেন বৈধ সুবিধা মিলছে! এসব কাজে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়ত সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বাড়ছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে রয়েছে ৪০ হাজার মানুষ। ঝুঁকি সত্ত্বেও জায়গা ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না বাসিন্দারা।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, একশ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ও বনবিভাগের কর্মকর্তার সহায়তায় কিছু প্রভাবশালী লোক পাহাড়ে কিংবা পাহাড়ের নিচে খুপরি ঘর তৈরি করে রোহিঙ্গাদের ও কিছু স্থানীয় হতদরিদ্রের মানুষকে ভাড়া দেয়। প্রশাসন দীর্ঘদিনেও এই অবৈধ প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে পারেনি। বিভিন্ন কমিটির অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে, পাহাড়ধসে করুণ মৃত্যুর জন্য মূলত দায়ী এই অবৈধ বসতি স্থাপন। আমরা চাই, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক।

টেকনাফ কেরুনতলির বাসিন্দা নুর হোসেন বলেন, ‘এসব এলাকায় থাকতে তো ভয় লাগেই। আমরা জানি, ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ধস হতে পারে। কিন্তু আমরা নিরুপায়। আমাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। তাই ঝুঁকি জেনেও বাধ্য হয়ে থাকতে হয়।’

স্থানীয় একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একজনকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে কেরুনতলি এলাকার পাহাড়ে বসবাস শুরু করি। প্রশাসন একবার উচ্ছেদও করে। পরে আবার এখানে ঘর তৈরি করে থাকা শুরু করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, তাই বাধ্য হয়ে এখানে থাকতে হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের পুনর্বাসন করে, তাহলে সেখানে চলে যাব।’

অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করলেও প্রশাসনের এ বিষয়ে তেমন নজর নেই। বিশেষ করে কেরুনতলি এলাকায় পাহাড় কেটে স্থাপনা তৈরি করে বসবাস করছেন বহু মানুষ। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী তৈয়বা খাতুন বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে এখানে বসবাস করছি। আমাদের এখানে কোনো পাহাড়ধসের ঘটনা নেই। স্বল্প বেতনে চাকরি করি। এখানে বাসা ভাড়া কম, তাই থাকি।’

টেকনাফ শীলখালির বাসিন্দা রশিদ উল্লাহ বলেন, ‘দুই দিন ধরে হয়েছে বেশি বৃষ্টি, তাই ভয়ে থাকি। যাওয়ার জায়গা নেই। কেউ পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করে না। এ কারণে এখানে থাকা। নুরুল আমিন নামের একজন পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে থাকেন আলীখালী পাহাড়ের ঢালে। তিনি বলেন, মাসে যা আয় করি, এখানে থাকা ছাড়া তো উপায় নেই। ধস হলে বিপদ হবে জেনেও এখানে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। সরকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে চলে যাব।’

যেসব পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

টানা বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কায় উপজেলার হ্নীলা, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং ও টেকনাফ পৌরসভার ৩২ পাহাড়ি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় প্রায় সাত হাজার পরিবারের অর্ধলাখের কাছাকাছি মানুষ বসবাস করে আসছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো হলো ফকিরামুড়া, বৈদ্যের ঘোনা, কুয়েত মসজিদ, পুরান পল্লানপাড়া, নাইট্যংপাড়া, বরইতলী, ঘুমতলী (বিজিবি ক্যাম্পের পেছনে), মরিচ্যগুনা, পশ্চিম সিকদারপাড়া, মুরাপাড়া, লেচুয়াপ্রাং, ভিলেজারপাড়া, পশ্চিম রঙ্গিখালী, গাজীপাড়া, আলীখালী, লম্বাবিল, করাচিপাড়া, আমতলী, হাতিয়ার গোনা, হাবিরছড়া, কেরুনতি, মহেশখালীপাড়া, শিয়াইল্যামুরা, সাতঘরিয়াপাড়া, হাছইন্নাটেক, শামলাপুর পুরানপাড়া, বড় ডেইল, মাথাভাঙ্গা জাহাজপুরা, মারিষবুনিয়া ও বাইন্যাপাড়া।

৫ আশ্রয়শিবিরের ৫৫০০ ঘর ঝুঁকিতে

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত অন্তত ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এসব ক্যাম্পের মধ্যে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৭ থেকে ১১ নম্বর ক্যাম্পে ৫ হাজার ৫০০টি বসতঘর পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারে পাহাড় কাটা ও দখল বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটির কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন পাহাড় নিধনের ভয়ানক পরিস্থিতি সবাই অবগত। কিন্তু কোনো সংস্থা কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।

কক্সবাজারের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘সরকারি সংস্থাগুলো নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না বলে এ পাহাড়ে বসবাসকারীর সংখ্যা বাড়ছেই। প্রশাসন কখনো পাহাড়ে বসতি স্থাপনের মূলহোতাদের চিহ্নিত করেনি। যারা বসতি স্থাপন করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। বর্ষা এলে প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে যায়। সারা বছর নিষ্ক্রিয় থাকে উপজেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সরোয়ার আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, পাহাড়ে অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। বেদখল হওয়া বনভূমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। যারা ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে, তাদের সরানোর জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে নিরাপদ জায়গা চলে যাওয়ার জন্য।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিভীষণ কান্তি দাশ দৈনিক বাংলাকে বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সতর্ক করতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল শুক্রবার ৪টা পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং, সদর ও পৌরসভা ও কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই হাজার ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। আমরা তাদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ত্রাণ বুঝিয়ে দিচ্ছি। পাশাপাশি অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়েছে।’ খুব দ্রুত পাহাড়ে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানান তিনি।


নারায়ণগঞ্জে ইয়াবাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৬ ০২:০৬
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আব্দুল্লাহ হীল বাকি (২৩) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। রোববার (২৫ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য বলে র‍্যাব কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত করেছেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, আটক আব্দুল্লাহ হীল বাকি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সেপাহিজালা জেলার বৈশকালা এলাকার আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি বৈধ ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ভ্রমণের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে বিশেষ কৌশলে এসব মাদক নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ও বিক্রি করতেন তিনি। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ৭৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যা তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে এসেছিলেন।

র‍্যাব-১১ এর অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে একজন আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে চিটাগাং রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভ্রমণ ভিসার অপব্যবহার করে যারা এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে স্থানীয় আর কারা জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ধরনের আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান রুখতে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।


চাঁদপুরে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে ১০ যাত্রী আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দ্রুত ভিড়তে গিয়ে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে আসা ‘ঈগল-৭’ ও ‘ময়ূর-২’ নামের লঞ্চ দুটির মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চ দুটি নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যার ফলে লঞ্চ দুটির একাংশ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় ঈগল-৭ লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার পর যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তীব্র বাতাসের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ময়ূর-২ লঞ্চটি সজোরে সেটিকে ধাক্কা দেয়। আকস্মিক এই ধাক্কায় লঞ্চের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঝড়ের সময় লঞ্চঘাট এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রবল বাতাস ও ঢেউয়ের কারণে যাত্রীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ঘাটে আটকা পড়ে থাকেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আতঙ্কিত যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন। লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঝড়ের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তারা অতীতে এমন পরিস্থিতি খুব কমই দেখেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চ দুটির সংঘর্ষে ঘাটের চারটি পন্টুনের মধ্যে তিনটিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিকেলের পর থেকে লঞ্চ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পন্টুনগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবি: ২৩ গরুসহ এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির এক মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩টি কোরবানির গরুসহ আইয়ুব আলী (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার দুপুরে পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের সামনে ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের সালিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মিস্ত্রির ছেলে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রলারে থাকা অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে ২০ জন ব্যবসায়ী মোট ২৮টি কোরবানির গরু নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রলারটি যখন পদ্মা সেতুর নিচে পৌঁছায়, তখন হঠাৎ তীব্র ঝড় শুরু হয়। বৈরী আবহাওয়ার তোড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যায়। ট্রলারে থাকা ২০ জনের মধ্যে ১৯ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী নদীর স্রোতে নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারে থাকা ২৮টি গরুর মধ্যে মাত্র পাঁচটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২৩টি গরু তীব্র স্রোতে নদীতে ভেসে গেছে। মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানিয়েছেন, ঝড়ের তীব্রতা এবং নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ থাকায় ট্রলারটি দ্রুত ডুবে যায়। নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিরও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই লৌহজং থেকে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পদ্মা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল। প্রচণ্ড বাতাস এবং উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ডুবুরি দল তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। নদীর স্রোত ও আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে এবং ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শনাক্ত করতে পুনরায় অভিযান শুরু করা হবে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশে নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। কোরবানির ঈদের আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর পরিবার এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


বরিশালে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল জেলা প্রতিনিধি

বরিশালের হিজলায় মেঘনার শাখা নদীতে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজরা ব্যক্তিরা হলেন, হিজলা উপজেলার ধূলখোলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নুর ইসলাম (৪৫), তার ছেলে মো. ইব্রাহিম (১২) এবং মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হিজলা নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্য পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, জেলে কার্ডের চাল নিয়ে আলিগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওনা দেয়। মাঝ নদীতে যাওয়ার পর আকস্মিক ঝড় শুরু হলে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।

নৌকায় থাকা ৮ জনের মধ্যে ৫ জন যাত্রী পাশ দিয়ে যাওয়া অপর একটি ট্রলারে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। তবে ৩ জন নিখোঁজ হয়ে যান।

তিনি আরো জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয়রা নদীতে জাল ফেলে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। এছাড়াও উদ্ধার অভিযানে নৌ-পুলিশের সাথে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন।

নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল।


ঈদের আগে বঞ্চনা, ৪ চা বাগানে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম অর্থ সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেড। এর জের ধরে কোম্পানিটির অধীনে থাকা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মিরতিংগা এবং হবিগঞ্জের লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও দেউন্দিসহ মোট চারটি চা-বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি (তলব) প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে এবং বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে ৪টি বাগানে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগ মুহূর্তে মজুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর হতাশায় দিন কাটছে বাগানগুলোর শতাধিক মুসলিম শ্রমিক পরিবারের।
মিরতিংগা চা-বাগানের ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারের সই করা এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কৃষি ব্যাংক লোন না দেওয়ায় ২১ মে থেকে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক তলব বন্ধ থাকবে। পরবর্তী তলব ব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে, যতদিন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তলব দিতে পারবে না, ততদিন শ্রমিকদের কোনো প্রকার স্ববেতন বা মজুরি বহন করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে (বৃহস্পতিার) শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি ও স্টাফদের বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লোন না পাওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে তা বন্ধ করে দেয়। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দৈনিক মাত্র ১৮৭.৪৩ টাকা মজুরিতে চা-শ্রমিকদের এমনিতেই ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা। তার ওপর সারা সপ্তাহ হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ঈদের মুখে এসে মজুরি না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শ্রমিকরা। পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকে মিরতিংগা চা-বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে জড়ো হয়ে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।
মিরতিংগা চা-বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিকের সভাপতিত্বে এই কর্মবিরতি ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ধনা বাউরি, চা-ছাত্র যুব পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক প্রসাদ পাল, সিরাজুল ইসলাম জব্বার, রামনারাইন কৈরী, ইমরান নাজির এবং মহিলা দফার সর্দার নিয়তি রাজগৌড় প্রমুখ।
শ্রমিক নেতা ধনা বাউরী বলেন,"ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে পূর্ণ মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করেছেন। মিরতিংগা বাগানেই শতাধিক মুসলিম শ্রমিক পরিবার রয়েছে, যারা এই মজুরির ওপরই নির্ভরশীল। এখন তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।"
এদিকে চা-বাগানের এই অচলাবস্থায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা। এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, শ্রমিকদের কেবল এই সপ্তাহের মজুরিই আটকে নেই, ২০২২ সালের এরিয়ার বকেয়া ৪ হাজার টাকাও এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়াও প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) চাঁদা নিয়মিত জমা না করা এবং ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা না মেলার অভিযোগও তোলেন তারা। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধ করে দ্রুত বাগান চালুর বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মিরতিংগা চা-বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) বলেন, "বাগানে শ্রমিকদের কোনো বকেয়া নেই। ব্যাংক থেকে গত বৃহস্পতিবার টাকা উত্তোলন করা যায়নি বলে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। আমরা শ্রমিকদের ‘হাফ পেমেন্ট’ (অর্ধেক মজুরি) দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করে আন্দোলন শুরু করেছে।"

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে হবিগঞ্জের নয়াপাড়া চা-বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কমেট নায়েক জানিয়েছেন, বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক চলছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সুরাহা এখনো হয়নি। বকেয়া মজুরি ও ঈদের বোনাস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা।


নাটোরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২৫ মে) সকালে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চায়পাড়া আবাসন এলাকার ওই গৃহবধূ গত ২৪ মে সকালে বাড়ির পাশের একটি আমবাগানে খড়ি সংগ্রহ করতে যান। এ সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


কিশোরগঞ্জে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আপডেটেড ২৫ মে, ২০২৬ ২২:১১
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি 
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে অলওয়েদার সড়কে চালবোঝাই পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় অলওয়েদার সড়কের ভাতশালা সেতুর মিঠামইন পার্শ্বে এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন মিঠামইন উপজেলা সদরের মহিষারকান্দি গ্রামের মনির হোসেন (৩৭), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও তাদের ছেলে সন্তান মুহাম্মদ আয়ান (১০)। মনির হোসেন কিশোরগঞ্জ শহরে দুটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন।
মিঠামইন সদর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রোকন উদ্দিন জানান, আজ সন্ধ্যায় অষ্টগ্রামের দিক থেকে একই মোটরসাইকেলে মিঠামইনে যাচ্ছিলেন মনির হোসেন তার স্ত্রী ও সন্তান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে চালবোঝাই পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় পরে পিকআপটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সেটিকে আটকিয়ে চালককে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপটি জব্দ করে ও চালককে থানায় নিয়ে আসে।
অষ্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা পিকআপটি আটক করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপ চালককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


চুয়াডাঙ্গায় ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ৭১ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তরিকুল ইসলাম (২০) নামের এক যুবককে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ। রবিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের স্কুল মোড় সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত তরিকুল ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র।

পুলিশ ও মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ মে দুপুরে ওই বৃদ্ধা দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামে অবস্থিত তার মেয়ের বাড়ি থেকে নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন। ফেরার পথে তার সাথে মেয়ের দেওয়া মাছ ও তরকারির ব্যাগ ছিল। পথিমধ্যে ইব্রাহিমপুর পার্কের পেছনের এলাকায় পৌঁছালে তরিকুল ইসলাম সাহায্য করার অছিলায় ব্যাগটি বহন করে তার সঙ্গী হয়। পরবর্তীতে ইব্রাহিমপুর মেন্দের মাঠ নামক নির্জন স্থানে পৌঁছালে তরিকুল ওই বৃদ্ধাকে বলপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা নিজেই বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ‘মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ সোমবার (২৫ মে) দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


সিংগাইরে মোটরসাইকেল-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

হেমায়েতপুর-সিংগাইর আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর এক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার (২৫ মে) বিকেলে মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর-সিংগাইর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায়।
নিহত মোটরসাইকেল চালক মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮)। নিহতের বাড়ী উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামে। সে ওই এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম মোমেনের
ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেমায়েতপুর থেকে সিংগাইরগামী একটি নাম্বারবিহীন কাটা সিএনজির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা হেমায়েতপুরগামী নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহত কাউসার আহম্মেদ উপজেলার আঠালিয়া এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম মোমেনের ছেলে।
এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী মো. আরাফাত (১৮) গুরুতর আহত হন। তিনি একই এলাকার মো. কোহিনুর বিশ্বাসের ছেলে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


ঝিনাইদহে নাসির পাটওয়ারীর বিষয়ে যা ঘটেছে তা শোভনীয় নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে এনসিপির সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা এনসিপি যেমন রাজনৈতিকভাবে দেখছে বিএনপিও একইভাবেই দেখছে। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যে আচরণ করা হয়েছে সেটা কেউ কামনা করে না এবং শোভনীও নয়।

চুয়াডাঙ্গায় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে এ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতায় যেসব বিচারিক আদালত রয়েছে সেই আদালতগুলো ছুটির বাইরে রাখার জন্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই আদালতগুলো খোলা থাকবে। আপনারা দেখবেন ১ জুন থেকে রামিসার বিচার শুরু হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর প্রথম যে দিন অফিস আদালত খুলবে ওদিনই রামিসার ঘটনার বিচার শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামী জবানবন্দী দিয়েছে, আমরা বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশীট হয়েছে। আমরা বিচারের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে গেছি।

জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শরীফুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, সেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শরীফুল আলম বিলাস, সাধারণ সম্পাদক এম.এ তালহা, কৃষকদলের সভাপতি মোকাররম হোসেনসহ সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে মতবিনিময় সভায় জুলাই সনদ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদকে সবচেয়ে বেশি ধারন করছে বিএনপি। সনদ বাস্তবায়নে দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ এগিয়ে যাচ্ছি।

পরে দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় মিশনারী মাঠ প্রাঙ্গনে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপি সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।


সীতাকুণ্ডে বৈধ গরুর হাটকে অবৈধ বলে বন্ধের অপচেষ্টার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে স্থাপিত একটি অস্থায়ী গরুর হাটকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে । সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আদালতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে বৈধ এই হাট বন্ধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্থানীয় চাহিদার প্রেক্ষিতে ড্রিম স্টিল রি-রোলিং মিলস মাঠে অস্থায়ী গরুর হাটটি স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে হাট ও বাজার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিধিমালার ১৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী জেলা প্রশাসক অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সেই ক্ষমতাবলেই উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উন্মুক্ত ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সর্বোচ্চ দরদাতাকে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি সিটি করপোরেশন এলাকার একটি বাজারের ইজারাদার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটে হাটটিকে অবৈধ ও অনুমোদনবিহীন দাবি করা হয়। পাশাপাশি এটি সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে অবস্থিত এবং মহাসড়কের ওপর বসানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র বলছে, এসব অভিযোগ সঠিক নয় এবং অনেক তথ্য আদালতে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হাটটি সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়; বরং সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন এলাকায় পড়েছে । ফলে সিটি করপোরেশনের কোনো বাজারের সঙ্গে এর প্রশাসনিক বা আইনগত সম্পর্ক নেই। এছাড়া এটি সলিমপুর ইউনিয়নের একমাত্র গরুর হাট এবং প্রথমবারের মতো অস্থায়ী ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই হাটটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো ইউনিয়নের মানুষকে কোরবানির পশু কিনতে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হবে, এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সোমবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হাট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বাজারটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে ইজারা দেওয়া হয়েছে।”

আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে বলেছেন, যদি হাটটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপন করা হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত হাটটির জেলা প্রশাসনের অনুমোদন রয়েছে এবং উপজেলা পরিষদ বিধি মোতাবেক ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। তাই হাট এর কার্যক্রম চলতে আইনগত বাধা নেই।

হাটটি মহাসড়কের ওপর স্থাপন করা হয়েছে এবং এতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে—এমন অভিযোগও করা হচ্ছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটটি মহাসড়কের ওপর নয়; বরং সড়কের পাশের একটি মাঠের ভেতরে পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে যান চলাচলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে না বলে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার সময় সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবী জানান স্হানীয়রা ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি পক্ষ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় আবেদন করছে এবং প্রতিযোগিতামূলক কারণে বৈধ এই হাটটি বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁদের মতে, আদালতে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হলে হাটটির বৈধতা আরও স্পষ্ট হবে।


মাগুরায় চাঞ্চল্যকর ট্রাক ড্রাইভার হত্যার ৪ আসামি গ্রেফতার, তেল ও টাকা উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি 

মাগুরার চাঞ্চল্যকর ছিনতাই হওয়া ৬০ ব্যারেল ভোজ্য তেলবাহী ট্রাকের ড্রাইভার আব্দুর রহমান হত্যার প্রধান আসামি হিটলারসহ ৪ জন গ্রেফতার। ছিনতাই হওয়া ট্রাক, তেল ও টাকা উদ্ধার।

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে মাগুরা এসপি অফিসে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিং এ মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, একটি কুলুলেস হত্যাকাণ্ড অভিযোগের মাত্র একদিনের ব্যবধানে ২৪ মে মাগুরা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার কৃতরা হলো মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার পুত্র আজাদ হোসেন হিটলার (২৭), জাগলা গ্রামের হাজারী লাল সাহার পুত্র বিকাশ সাহা (৩০), রাজিবের পাড়া গ্রামের ইমারত মোল্লার পুত্র আব্দুল কুদ্দুস (৫০) ও বুধইর পাড়ার লোকমান মোল্লার পুত্র হারুন অর রশিদ (৪৮)।

আসামিদের স্বীকারোক্তি মতে ছিনতাইকৃত ট্রাক, ভোজ্য তেল ৬০ ব্যারেলের মধ্যে ৪৫ ব্যারেল তেল, তিন লক্ষ ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ড্রাইভার আব্দুর রহমান হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গত ১৮ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে রাতে মাগুরা আড়পাড়া বাজারের মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্স এ ৬০ ব্যারেল ভোজ্য তেল নিয়ে ট্রাকটি রওনা হয়ে পথিমধ্যে ছিনতাই এর কবলে পড়ে। ছিনতাইকারীরা ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ড্রাইভার আব্দুর রহমানকে হত্যা করে বিভিন্ন স্থানে তেল নামিয়ে খালি ট্রাক এবং তার মৃতদেহ ঝিনাইদহের কোলা বাজারের অদূরে ফেলে রাখা যায়। ঝিনাইদহ পুলিশ ২০ মে অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা করেন।

গত ২৩ তারিখে মাগুরা পুলিশ সুপারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি মহামায়া ট্রেডার্স এর মালিক গোপাল সাহা অভিযোগ করেন।


সড়ক দূর্ঘটনায় মাদারীপুরের একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৫ জন নিহতের ঘটনায় প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা প্রদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ্য আত্মীয়কে দেখতে যাওয়ার পথিমধ্যে ফরিদপুরের শংকরপাশায় একই পরিবারের ৪ জন ও এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার সহ মোট ৫ জনের বিআরটিসি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় সোমবার (২৫ শে মে) মাদারীপুর জেলা প্রশাসন থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের নিহত ৪ জনের বাড়ি যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব। এসময় তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে গভীর সমবেদনা জানিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষে নিহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেন আর্থিক সহায়তা।

পরে সৈদারবালি গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে অ্যাম্বুলেন্স চালক কাওছার মাতুব্বরের পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, “একই পরিবারের চারজন সদস্যকে হারানো অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। উল্লেখ্য যে, রোববার সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় বিআরটিসি যাত্রীবাহী বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ নিহত হন মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬০), তার স্ত্রী বেলী আক্তার, ভাই আলমগীর মোল্লা (৫৮) ও ভাবি খুশি বেগম।

জাহাঙ্গীর মোল্লা ও আলমগীর মোল্লা বালিগ্রামের আব্দুল হাজি ওয়াহিদ মোল্লার ছেলে।


banner close