বর্ষা মানেই পাহাড় ধসের শঙ্কা। শুধু আশঙ্কাই নয়- প্রতি বছরই পাহাড় ধসে বহু প্রাণহানিও ঘটে। তারপরও বন্ধ করা যায়নি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের বসবাস। যদিও বর্ষা এলেই এখানে বসবাসরত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যায়, তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ এখানে বসবাস করছেন। ২০১৭ সাল থেকে কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফে ভয়াবহ পাহাড় ধসের পরও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসতি বেড়েছে কয়েকগুণ।
টেকনাফে উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি আরও বেড়েছে। জেলায় সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ৩২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৩৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৫৩১টি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৩০৪টি।
২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টেকনাফে পাহাড়ধসে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান ২০২০ সালে।
রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, টেকনাফে বিভিন্ন পাহাড়ে প্রশস্ত সড়কের পাশাপাশি লোকালয়ে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। এতে স্থানীয়দের মাঝে বসতি স্থাপনে আগ্রহ বাড়ছে। সব মিলিয়ে অবৈধ বসতিতে যেন বৈধ সুবিধা মিলছে! এসব কাজে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়ত সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বাড়ছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে রয়েছে ৪০ হাজার মানুষ। ঝুঁকি সত্ত্বেও জায়গা ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না বাসিন্দারা।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, একশ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ও বনবিভাগের কর্মকর্তার সহায়তায় কিছু প্রভাবশালী লোক পাহাড়ে কিংবা পাহাড়ের নিচে খুপরি ঘর তৈরি করে রোহিঙ্গাদের ও কিছু স্থানীয় হতদরিদ্রের মানুষকে ভাড়া দেয়। প্রশাসন দীর্ঘদিনেও এই অবৈধ প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে পারেনি। বিভিন্ন কমিটির অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে, পাহাড়ধসে করুণ মৃত্যুর জন্য মূলত দায়ী এই অবৈধ বসতি স্থাপন। আমরা চাই, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক।
টেকনাফ কেরুনতলির বাসিন্দা নুর হোসেন বলেন, ‘এসব এলাকায় থাকতে তো ভয় লাগেই। আমরা জানি, ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ধস হতে পারে। কিন্তু আমরা নিরুপায়। আমাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। তাই ঝুঁকি জেনেও বাধ্য হয়ে থাকতে হয়।’
স্থানীয় একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একজনকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে কেরুনতলি এলাকার পাহাড়ে বসবাস শুরু করি। প্রশাসন একবার উচ্ছেদও করে। পরে আবার এখানে ঘর তৈরি করে থাকা শুরু করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, তাই বাধ্য হয়ে এখানে থাকতে হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের পুনর্বাসন করে, তাহলে সেখানে চলে যাব।’
অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করলেও প্রশাসনের এ বিষয়ে তেমন নজর নেই। বিশেষ করে কেরুনতলি এলাকায় পাহাড় কেটে স্থাপনা তৈরি করে বসবাস করছেন বহু মানুষ। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী তৈয়বা খাতুন বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে এখানে বসবাস করছি। আমাদের এখানে কোনো পাহাড়ধসের ঘটনা নেই। স্বল্প বেতনে চাকরি করি। এখানে বাসা ভাড়া কম, তাই থাকি।’
টেকনাফ শীলখালির বাসিন্দা রশিদ উল্লাহ বলেন, ‘দুই দিন ধরে হয়েছে বেশি বৃষ্টি, তাই ভয়ে থাকি। যাওয়ার জায়গা নেই। কেউ পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করে না। এ কারণে এখানে থাকা। নুরুল আমিন নামের একজন পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে থাকেন আলীখালী পাহাড়ের ঢালে। তিনি বলেন, মাসে যা আয় করি, এখানে থাকা ছাড়া তো উপায় নেই। ধস হলে বিপদ হবে জেনেও এখানে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। সরকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে চলে যাব।’
যেসব পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস
টানা বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কায় উপজেলার হ্নীলা, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং ও টেকনাফ পৌরসভার ৩২ পাহাড়ি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় প্রায় সাত হাজার পরিবারের অর্ধলাখের কাছাকাছি মানুষ বসবাস করে আসছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো হলো ফকিরামুড়া, বৈদ্যের ঘোনা, কুয়েত মসজিদ, পুরান পল্লানপাড়া, নাইট্যংপাড়া, বরইতলী, ঘুমতলী (বিজিবি ক্যাম্পের পেছনে), মরিচ্যগুনা, পশ্চিম সিকদারপাড়া, মুরাপাড়া, লেচুয়াপ্রাং, ভিলেজারপাড়া, পশ্চিম রঙ্গিখালী, গাজীপাড়া, আলীখালী, লম্বাবিল, করাচিপাড়া, আমতলী, হাতিয়ার গোনা, হাবিরছড়া, কেরুনতি, মহেশখালীপাড়া, শিয়াইল্যামুরা, সাতঘরিয়াপাড়া, হাছইন্নাটেক, শামলাপুর পুরানপাড়া, বড় ডেইল, মাথাভাঙ্গা জাহাজপুরা, মারিষবুনিয়া ও বাইন্যাপাড়া।
৫ আশ্রয়শিবিরের ৫৫০০ ঘর ঝুঁকিতে
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত অন্তত ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এসব ক্যাম্পের মধ্যে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৭ থেকে ১১ নম্বর ক্যাম্পে ৫ হাজার ৫০০টি বসতঘর পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজারে পাহাড় কাটা ও দখল বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনটির কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন পাহাড় নিধনের ভয়ানক পরিস্থিতি সবাই অবগত। কিন্তু কোনো সংস্থা কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।
কক্সবাজারের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘সরকারি সংস্থাগুলো নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না বলে এ পাহাড়ে বসবাসকারীর সংখ্যা বাড়ছেই। প্রশাসন কখনো পাহাড়ে বসতি স্থাপনের মূলহোতাদের চিহ্নিত করেনি। যারা বসতি স্থাপন করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। বর্ষা এলে প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে যায়। সারা বছর নিষ্ক্রিয় থাকে উপজেলা প্রশাসন।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সরোয়ার আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, পাহাড়ে অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। বেদখল হওয়া বনভূমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। যারা ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে, তাদের সরানোর জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে নিরাপদ জায়গা চলে যাওয়ার জন্য।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিভীষণ কান্তি দাশ দৈনিক বাংলাকে বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সতর্ক করতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে গতকাল শুক্রবার ৪টা পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং, সদর ও পৌরসভা ও কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই হাজার ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। আমরা তাদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ত্রাণ বুঝিয়ে দিচ্ছি। পাশাপাশি অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়েছে।’ খুব দ্রুত পাহাড়ে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানান তিনি।
জনগণের কাছে অবাধ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকসহ সকল অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজে একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ব ব্যবস্থা এবং ইকো সিস্টেমের মধ্যে নতুন গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারিনি এখনও। সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনাটাকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে চাই। আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয় যখন গড়ে উঠেছে যে আমলে তখন তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম ছিল না। আবার এখন যে ধরনের তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যমের যে প্রসার তৈরি হয়েছে, এর সঙ্গে যেভাবে খাপ খাওয়ানো দরকার, তাও এতদিনে হয়ে ওঠেনি।
তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি। সরকারের নীতিনির্ধারণী সবার সঙ্গে আলোচনা করে ধীরে ধীরে জনগণের কাছে অবাধ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করবো
এর আগে তথ্যমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিআরটিএর চেক বিতরণ করেন। এ সময় ৬১ জন ক্ষতিগ্রস্তকে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।
গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষের পর একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত মোটরসাইকেল চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে মহানগরীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার হিরন মিয়া জানান, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী একটি বাস বোর্ডবাজার এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে আটকে গিয়ে সড়কের সঙ্গে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় পুড়ে যাওয়া বাসটি সরিয়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তিনি আরও বলেন, আগুনে বাস ও মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হলেও বাসের অন্য কোনো যাত্রী হতাহত হননি।
ইলিশের পোনা বা জাটকাসহ সব ধরনের মাছ সংরক্ষণে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ ছয়টি নদী অঞ্চলে দুই মাসের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং টানা দুই মাস বলবৎ থাকবে।
এ সময় চাঁদপুরের চরাঞ্চলসমৃদ্ধ মতলব উত্তর উপজেলার ৯ হাজার ১০০ জেলেকে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেরা নৌকা ও জাল মেরামতের কাজ করবেন। তবে আইন অমান্য করে মাছ ধরতে গিয়ে কেউ আটক হলে কমপক্ষে এক থেকে দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
ইলিশ উৎপাদন বাড়ানো ও নদীতে জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে ২০০৬ সাল থেকে মার্চ ও এপ্রিল মাসে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে সরকার। এ সময় মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং হাইমচরের চরভেরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জাল ফেলা, মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
দুই মাসজুড়ে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। জাটকা রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও জেলেদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল টেকসই হবে না।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নির্ধারিত ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু হবে এবং মা-জাটকা রক্ষায় অভিযান কঠোর থাকবে। অসাধু জেলেরা যাতে কোনোভাবেই নদীতে নামতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, মতলব উত্তরের ৩০ কিলোমিটার নৌসীমায় জেলেদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। এরপরও কেউ আইন ভেঙে জাটকা ধরলে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, অভিযানের সময় নদীতে নামলেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মাদারীপুর পৌরসভা এলাকায় মশার উপদ্রবে মানুষ অতীষ্ট হওয়ার কারণে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান’ শিরোনামে দৈনিক বাংলায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি মাদারীপুর পৌরবাসীর নজরে এলে তারা সংবাদ প্রকাশের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে পৌর প্রশাসকসহ সংলিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে এ ব্যাপারে আরও অধিক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের লে. ফারুক সড়কে এ কার্যক্রম চালানো হয়। এ ব্যাপারে পৌর পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবু সায়েম তৌহিদের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, মশার উপদ্রবে জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে সরকারি বন্ধের মধ্যে শুক্রবার-শনিবারও মশক নিধনে স্প্রে-মেশিনে নির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগ করা হবে, শুক্রবার পৌরসভার ডা. তোতা সড়কের হোটেল সুমন-সংলগ্ন এলাকায় এবং শনিবার মহিষেরচর লঞ্চঘাট এলাকায় তা চলবে।
কতদিন এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পৌর প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা হলো যতদিন প্রয়োজন ততদিন এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আমীর হোসেন (৪২) নামে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার এক সাবেক ইউপি সদস্যের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ধরাভাঙ্গা এলাকার এমপি টিলার মেঘনা নদীর পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। নিহত আমীর হোসেন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন। তার বাবার বাড়ি রায়পুরার চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজৌপুর গ্রামে। তবে ছোটবেলা থেকেই তিনি মামার বাড়ি বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের দিগল্যাকান্দি গ্রামে বসবাস করতেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুনীল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘মরদেহের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।’
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাশের জেলা থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করে এমপি টিলা এলাকায় এনে ফেলে গেছে—এমন প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের বন্দিরামচর গ্রামের এক সময়ের কঠোর পরিশ্রমী মানুষ মো. নাজিম উদ্দীন প্রামাণিক। জীবনের দীর্ঘ সময় মেহনত করে নিজ বসতভিটায় সুন্দর একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়েছিলেন তিনি। কাঠ, মাটি আর টিনের সেই ঘরেই সুখের সংসার ছিল তার। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ নাজিম উদ্দীনের শরীর যেমন বার্ধক্য আর রোগে জীর্ণ হয়েছে, তেমনি তার হাতে গড়া সেই ঘরটিও এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পথে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাজিম উদ্দীনের টিনসেড ঘরটি এখন বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। জীর্ণ বেড়া আর ভাঙা টিনের চালের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই দিন কাটছে এই বৃদ্ধের। এক সময়ের কর্মঠ এই মানুষটি এখন শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো কাজ করতে পারছেন না। নিজের পৈতৃক ভিটায় ঘরটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণের তীব্র ইচ্ছা থাকলেও চরম অর্থকষ্টে তা স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে।
ভেজা চোখে নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘এক সময় অনেক খাটুনি করে এই ঘর তুলেছিলাম। এখন শরীর চলে না, হাত খালি। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে, রাতে ভয়ে ঘুম আসে না। ঘরটা ঠিক করার মতো সামর্থ্য আমার নেই।’
এ অবস্থায়, নিজ বসতভিটায় একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানোর জন্য দেশের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের নিকট আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আর্থিক সহায়তার জন্য যোগাযোগ:
বিকাশ নম্বর: ০১৭১২-৮৫২৩৩৪ (মো. নাজিম উদ্দীন)
অসহায় এই প্রবীণ মানুষের বাসযোগ্য একটি ঘর নির্মাণে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবেন—এমনটাই প্রত্যাশা গ্রামবাসীর।
বসন্তের মৃদু হাওয়ায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের পূর্ব আমুচিয়া গ্রামে চোখজুড়ানো এক দৃশ্য তৈরি হয়েছে। সবুজ প্রান্তরজুড়ে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য হলুদ সূর্যমুখী। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফুলগুলোর ঘূর্ণন যেন পথচারীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে।
খেতের মালিক কৃষক মো. এস এম বাবর প্রথমবারের মতো এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি জানান, আগে মনে হতো সূর্যমুখী শুধু সৌন্দর্যের জন্য চাষ করা হয়। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম এর বীজ থেকে তেল উৎপাদন করা যায় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। তখনই চাষের সিদ্ধান্ত নিলাম।
বাবর জানিয়েছেন, জমি প্রস্তুতি ও পরিচর্যার জন্য প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদী, সঠিক পরিচর্যা আবহাওয়ার কারণে এক একর জমি থেকে লাভজনক ফলন পাওয়া সম্ভব।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, প্রতি ৪০ শতক জমি থেকে পাঁচ মণ সূর্যমুখীর বীজ সংগ্রহ হয়। সেই হিসেবে এক একর জমি থেকে প্রাপ্ত বীজের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১২ মণ হবে। বর্তমানে বাজারে সেই বীজ থেকে উৎপাদিত তেলের মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ খরচ বাদ দিলে কৃষক বাবরের এক একর জমি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে ২ হেক্টর জমিতে বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। সূর্যমুখীর তেলের বাজারে চাহিদা অনেক বেশি। প্রতি ১ কানি জমি থেকে প্রাপ্ত বীজের পরিমাণ সাড়ে চার থেকে পাঁচ মণ, যা থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার তেল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করলে কৃষকরা ভালো লাভবান হবেন।’
ভোলায় দিনভর নাটকীয়তা শেষে তিন মাসের নিখোঁজ শিশু জিন্নাতকে ঢাকা সদরঘাট এলাকায় একটি লঞ্চ থেকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে অভিভাবকের জিম্মায় দিয়েছে ভোলা জেলা পুলিশ।
গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিশুটির মা সুমাইয়া বেগম দাবি করেন, ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালেরহাট এলাকায় তার শিশু সন্তানকে নিয়ে টিকা দিতে যান। এরপর দুই নারী তাকে চেতনানাশক দ্রব্য দিয়ে অজ্ঞান করে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার খবর পাওয়ার পর ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভোলা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ, এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে একাধিক টিম তাৎক্ষণিক আশপাশের এলাকাগুলোতে চিরুনি অভিযান ও চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি শুরু করে। এ ছাড়া বরিশাল রেঞ্জের বিভিন্ন লঞ্চঘাটসহ জেলার ঢাকাগামী সকল লঞ্চ ঘাটে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ হেফাজতে শিশু জিন্নাতের মা সুমাইয়া আক্তারকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমাইয়া আক্তার স্বীকার করেন, তার খালাতো বোনের কোনো সন্তান না থাকায় তিনি স্বেচ্ছায় শিশু জিন্নাতকে দত্তক দিতে রাজি হন। লোকচক্ষুর অন্তরালে বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই তিনি এই ‘অপহরণের নাটক’ অবতারণ করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায় যে, সুমাইয়া আক্তারের খালা আমেনা বেগম শিশুটিকে নিয়ে গত বুধবার ঢাকার উদ্দেশে দুপুর ২টায় ‘দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চে রওনা হন। সেই সূত্র ধরে পুলিশ তাৎক্ষণিক লঞ্চ স্টাফদের সাথে কথা বলে লঞ্চকর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমেনা বেগম ও শিশুটিকে আলাদা রাখা হয়। বাহিনীর তৎপরতায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাটে অবস্থানরত ‘এমভি দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিশু জিন্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার ও রহস্য উন্মোচন করায় স্থানীয় সাধারণ জনগণ ভোলা জেলা পুলিশের উপর গভীর আস্থা ও স্বস্তি প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।
সীতাকুণ্ডে নারীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সন্ধ্যা রানী শর্মা (৫৮) নামে এক নারীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি আঘাত করার পাশাপাশি তার ব্যাগে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। দুপুরে উপজেলার বাড়বকুণ্ড বাজার-সংলগ্ন (বৌদ্ধ মহাশ্মশানের সামনে) এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার সন্ধ্যা সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের হাতিলোটা এলাকার মৃত উমেশ শর্মার কন্যা।
ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া আহত সন্ধ্যা রানী শর্মা জানান, তিনি ফেনী শ্বশুরবাড়ি থেকে সীতাকুণ্ডে বাবার বাড়িতে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেড়াতে আসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বাড়বকুণ্ড বাজারে যাওয়ার সময় বৌদ্ধ মহাশ্মশান-সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই ছিনতাকারী তার গতিরোধ করেন। এ সময তারা মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে কানে থাকা স্বর্ণের দুল, নাক ফুল, ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। এই সময় তাদের বাধা দিতে চাইলে ছিনতাইকারীরা তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুই যুবকের নাম সামির ও রাজু। তারা বৌদ্ধ মহাশ্মশান-সংলগ্ন এ স্থানে প্রতিদিনই অবস্থান নিয়ে ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে চলেছে। মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের ঘটনায় এ দুজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, বিষয়টি ভুক্তভোগীর মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁর পোরশায় কবরস্থান থেকে একটি ১৩৭ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের শীতলী গ্রামের কবরস্থান থেকে মূর্তিটিকে উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নিশ্চিত করেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ জানতে পারে শীতলী গ্রামের রহমতের বাড়ির পশ্চিম পাশের পারিবারিক কবরস্থানে একটি মূল্যবান কষ্টিপাথরের মূর্তি পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলী পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে কবরস্থানের মাঝামাঝি স্থানে আম গাছের নিচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মূর্তিটিকে উদ্ধার করা হয়। মূর্তিটির উচ্চতা ৫৬ ইঞ্চি এবং ওজন ১৩৭ কেজি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মূর্তিটি বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কষ্টিপাথরের মূর্তিটি প্রায় হাজার বছরের পুরনো। মূর্তিটি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক তরুণীকে বাবার কাছ থেকে তোলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাধে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরের নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসাও করা হয়।
গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষ মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূরের নেতৃত্বে আরও পাঁচজন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তোলে নিয়ে যায়। পরে পরিরেরর লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সকালে একই এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে নিহতের বাবা মো. আশরাফ জানান, নূরার নেতৃত্বে ৫/৬ জন লোক আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তোলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি আমেনার মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি মেয়েটির সঙ্গে নূরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি মেয়েটির পরিবার মেনে নেয়নি। গত বুধবার তাকে বাবার কাছ থেকে নূর তোলে নিয়ে গেয়েছিল বলে জেনেছি। পরে সকালে মরদেহ পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। আর ধর্ষণের বিষয়টি তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও ছিনতাইকারীদের কোনো দল নেই। সমাজের শান্তি বিনষ্টকারী এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কুলাউড়া পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদারের নির্দেশনাও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি শকু বলেন, কুলাউড়ার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। অচিরেই কুলাউড়ার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শহরের যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কুলাউড়া শহরকে যানজটমুক্ত ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রমজানের পর শহরের ফুটপাত দখল করে বসানো সব ধরনের দোকান উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্লা, কুলাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সুপ্রিয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।
জানুয়ারি ২০২৬ মাসে জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পুরষ্কার পেলেন শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান। জেলা পুলিশ আয়োজিত মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে এ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে মাসিক কল্যাণ সভায় জানুয়ারি মাসের শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান এর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল। জানুয়ারি মাসের কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে তাকে পুরষ্কৃত করা হয়।
জানা যায়, জানুয়ারি মাসজুড়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন ওসি খালেদুর রহমান। তার নেতৃত্বে থানা পুলিশ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে সফলতা অর্জন করে।
ক্রাইম কনফারেন্সে জেলার পুলিশ সুপার তার কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আধুনিক ও মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এসএম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মিথুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (তালা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নূরুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) খালিদ মো. আরাফাত, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মো. ইমরান খান, ডা. আবু হোসেন, পুলিশ হাসপাতাল, সাতক্ষীরা সহ সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, ডিআইও-১, ওসি (ডিবি), টিআই (অ্যাডমিন) এবং জেলা পুলিশের সকল পদমর্যাদার সদস্যরা।
এ সম্মাননা পাওয়ায় ওসি খালেদুর রহমান সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও ফোর্সের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।