মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কক্সবাজারের ৮ ফিশিং ট্রলারসহ ৭০ জেলে নিখোঁজ, ৫ মরদেহ উদ্ধার

২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৭:৩৫
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৭:২৪

কক্সবাজারে গতকাল শুক্রবারের তুলনায় আজ শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বেড়েছে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা। এখনও জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি থাকার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলারসহ অন্তত ৭০ জেলে নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছেন মালিকরা। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সাগরের উপকূলে ভেসে এসেছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমান ২১০ মিলিমিটার। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টা থেকে শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা কক্সবাজারের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ৪৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।

বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল এলাকার সকল সড়ক, সৈকত সংলগ্ন এলাকা, মাকের্ট এলাকা থেকে নেমে গেছে পানি। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী এলাকা থেকেও পানি নেমে গেছে বলে জানা যায়।

তবে শহরের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়াসহ ৮টি নিম্নাঞ্চল এখনও পানিবন্দি রয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় হোটেল মোটেল জোনে এখন পানি নেমে গেছে। তবে বৃষ্টি হলেই এখন আতংক তৈরি হচ্ছে। মুহুর্তের মধ্যেই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নালা উন্নত করা না হলে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

উখিয়া উপজেলা ৪০টির বেশি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উখিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নে।

এই দুই ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ গত দুই দিন ধরে পানির নিচে বসবাস করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না হচ্ছে না অধিকাংশ ঘরে।

জালিয়া পালং ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া, ঘাটঘর পাড়া পাইন্যাশিয়া, সোনাইছড়ি, সোনারপাড়া ডেইপাড়া মনখালি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, মনির মার্কেট, রুমখা পালং, বড়বিল, পাতাবাড়ি, নলবুনিয়া, খেওয়া ছড়ি, বৌ বাজার, কুলাল পাড়া, পাগলির বিল, রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং, মাছকারিয়া, লম্বাশিয়া তুতুরবিল, পিনজির কুল, রত্নাপালং ইউনিয়নের সাদৃ কাটা, পশ্চিম রত্না, খোন্দকার পাড়া, গয়াল মারা ও পালংখালী ইউনিয়নে থাইংখালী, রহমতের বিল, বালুখালী তৈল খোলা, আঞ্জুমান পাড়া ফারিবিল সহ অন্তত ৪০টি গ্রামে পানি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী জানান, বন্যায় উপজের ৫ ইউনিয়নে অনেক এলাকার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। জালিয়া পালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন এর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, দুই মাসের ব্যবধানে ৪ দফা বন্যায় তার ইউনিয়নের ২০টির বেশি গ্রামের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির হোসেন জানান, বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষের জন্য জেলা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টিতে চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা যায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্খা রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।

মানকিপুর-সুরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক বলেন, মানিকপুর এলাকায় বৃষ্টিতে নিচু এলাকার অন্তত ২শতাধিক ঘরবাড়ি বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ী এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছালেকুজ্জামান বলেন, আমার ইউনিয়নের পহরচাঁদা, গোবিন্দপুর ও ডেইঙ্গাকাটা এলাকায় অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাদের নিরাপত্তা ও শুস্ক খাবার বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পেকুয়ার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা, রাজাখালী, উজানটিয়া ও মগনামা ইউনিয়নের ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এলাকার খোঁজখবর রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ও নদীর তীরবর্তী অবস্থানরত লোকজন নিরাপদে সরিয়ে যেতে উপজেলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সহায়তা করতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, তিনদিনের টানা বৃষ্টির কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু বসতঘর ও দোকান-পাটে পানি ঢুকেছে।

এদিকে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলার নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ থাকা এসব ট্রলার ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু জেলে সাঁতার কেটে উপকুলে ফিরেছে। উদ্ধার হয়েছে ৫ জনের মরদেহও। ফলে এসব ট্রলারের আরও অন্তত ৬৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

শনিবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের নাজিরারটেক, পেঁচারদ্বীপ, ইনানী ও কলাতলী উপকুলে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

এর মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার শেখেরকিল এলাকার নুরুল আমিন (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার চরমবা এলাকার মোহাম্মদ জালাল (৩৭) ও আব্দুল করিম (৩৫) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুই জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ৫টি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার

খুকৃবির নতুন ভিসি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সরকার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ যেটি আগে হবে, সে সময় পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে পৃথক প্রজ্ঞাপনে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. মো. নাজমুল আহসানকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের (ঙ) নম্বর শর্তানুসারে এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উক্ত পদ হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একইসঙ্গে তাকে তার মূল পদ—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক হিসেবে পুনরায় যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সমন্বয়ে পিরোজপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০১
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎​সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি’ সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

‎​সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।

‎​সভায় জেলার সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ব্যবহারোপযোগিতা নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত ও সুষম বণ্টন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত ও মসৃণ করতে সকল দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।

‎​সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আওতাধীন সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

‎​সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।

‎​সভায় উপস্থিত সকল সদস্য জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা সচল রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দপ্তরকে সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন


নির্বাচিত

সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ ও বাসযোগ্য খুলনা নগরী গড়ে তোলা হবে: কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি ও হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনার মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রধান অতিথি বলেন, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য খুলনা মহানগরী গড়ে তোলা হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রতিদিন দুই দফায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা, যাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ কম থাকে।

জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, এ সমস্যা সমাধানে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগামীকাল থেকে নতুন উদ্যমে এবং দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার আহবায়ক প্রফেসর ডা. পরিতোশ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. গোলাম মাসুদ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আমানুল ইসলাম ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার সদস্য সচিব ও সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন।

ডেঙ্গু বিষয়ক কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. মো: নজরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো: নাজমুল কবির ও ডা. মোহাম্মদ কবীর উল ইসলাম। ধন্যবাদ জানান অপসোনিন ফার্মা লি. এর ডেপুটি সেলস ম্যানেজার অসিম কুমার ভৌমিক।


নির্বাচিত

নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী: আদালত চত্বরে আইভী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এম এস ডালিম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা পুলিশের গাড়ি বহরে হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে তিনি হাজিরা দেন।

আদালতে হাজিরা শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। নারায়ণগঞ্জে আমি সব সময় প্রতিবাদ করেছি হত্যা, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে- আর আজকে আমি-ই কী অপরাধী? এটার বিচারে আমার আল্লাহ আছেন, নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন- তারা দেখবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, সদর থানার একটি মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাজিরার নির্ধারিত তারিখ ছিল। সেই মামলায় তিনি আজ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এই মামলায় তিনি ইতোমধ্যে জামিনে রয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, পুলিশের গাড়ি বহরে করা হামলার মামলায় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যে জামিন পেলে তা চেম্বার কোর্টে যায়। সেখানে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের আপিল বিভাগে জামিনের রুল নিষ্পত্তি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে ওনার হাজিরা ছিল। যেহেতু উনি দীর্ঘদিন কারাবাসী ছিলেন, শারীরিক অসুস্থ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামির পরিবর্তে আইনজীবী হাজিরা প্রদান করবে এই মর্মে গত তারিখে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করা হয়। আজ শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ফলে আগামীতে আসামির পরিবর্তে তার আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করবে। যতদিন পর্যন্ত মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে না নেওয়া হয় ততদিন পর্যন্ত আসামির পরিবর্তে আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করতে পারবে।

এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি বহরে হামলা হয়। সেই ঘটনায় মামলা হলে আইভীকে আসামি করা হয়।

পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে দফায় দফায় মোট ১২টি মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আর এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর গত ৩ জুন তিনি জামিনে কারামুক্ত হন।


নির্বাচিত

দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের নির্দেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎​এস এম আবু সালেহ্, পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎​সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি’ সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

‎​সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।

‎​সভায় জেলার সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ব্যবহারোপযোগিতা নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত ও সুষম বণ্টন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত ও মসৃণ করতে সকল দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।

‎​সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আওতাধীন সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

‎​সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।

‎​সভায় উপস্থিত সকল সদস্য জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা সচল রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দপ্তরকে সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

বনভূমি উদ্ধারে ভুয়া তথ্য ও ষড়যন্ত্রের জাল, নেপথ্যে ভূমি দখলকারী চক্র

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় বন বিভাগের আইনানুগ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এক জটিল ও বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল সরকারি বনভূমি জবরদখল মুক্ত করতে প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে একের পর এক অভিযান চালালেও, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমি দখলকারী চক্র ও অসৎ স্বার্থান্বেষী মহল অভিযানকে থামিয়ে দিতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে অসত্য, বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের পর ঢালাওভাবে গাছ কাটার সংখ্যা বাড়িয়ে বলা এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদা দাবির নাটক সাজানো হলেও, গভীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযোগের চরম অসংগতি ও দখলদারদের আসল চক্রান্ত।

গাছের সংখ্যা ও চাঁদার দাবিতে অসংগতির পাহাড়

উচ্ছেদ অভিযানের পরপরই একটি সুনির্দিষ্ট পক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে সোরগোল তোলে যে অভিযানে ১,২০০টি ফলন্ত মালটা ও কমলা গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। তবে ঘটনার তীব্রতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন ও মোথা গণনায় দেখতে পায়, কেটে ফেলা গাছের প্রকৃত সংখ্যা ৬২৫টি। অর্থাৎ জনমত নিজেদের পক্ষে টানতে তথ্যের চরম অতিরঞ্জন করা হয়েছে।

একইভাবে চাঁদা না দেওয়ার কারণে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে—এমন মনগড়া অভিযোগ তোলে দখলদার আলীম উল্ল্যা ও তার পরিবার। কিন্তু অনুসন্ধানে তাদের নিজ নিজ বক্তব্যের মধ্যেই একাধিক হাস্যকর বৈপরীত্য ধরা পড়ে।

আলীম উল্ল্যার নিজের দাবি, চাঁদার অঙ্ক ছিল ৫ লাখ টাকা।

আলীম উল্ল্যার স্ত্রী সালমা বেগম দাবি করেন, বন বিভাগ তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল।

আলীম উল্ল্যার পিতা মহেব উল্লা সম্পূর্ণ নতুন গল্প ফাঁদে দাবি করেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ৩ দফায় ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে তাজ্জব বিষয় হলো, পরিবারটি দাবি করে তারা গত ৩ বছর ধরে রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া ও বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের কাছে নিপীড়িত হচ্ছে এবং নিয়মিত টাকা দিয়ে আসছে। অথচ দাপ্তরিক রেকর্ড বলছে—প্রীতম বড়ুয়া কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন মাত্র ৭ মাস এবং অর্জুন কান্তি দস্তিদার ১৭ মাস আগে। পরবর্তীতে জেরা করা হলে মহেব উল্লা নিজেই স্বীকার করেন, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে তারা কখনোই কোনো টাকা দেননি। এমনকি যার মাধ্যমে টাকা হস্তান্তরের দাবি করা হয়েছিল, সেই ভাগিনা আব্দুস সালাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, টাকা লেনদেনের পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা।

মূলত উচ্ছেদ অভিযানটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এর পেছনে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার গুরুতর অপরাধ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আলীম উল্ল্যা সরকারি খাসিয়া ও বাঙালি ভিলেজারদের জন্য বরাদ্দকৃত ভূমির বাইরে গিয়ে কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করেন। সেখানে তিনি টিলা কেটে পুকুর নির্মাণ ও ফিসারি বানান।

সম্প্রতি তারা বনের ভেতর মাটি কেটে আরও একটি বিশাল গর্ত খনন শুরু করলে বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের নেতৃত্বে টহল দল বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দখলদারেরা বনকর্মীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এতে বনকর্মী শাহিনুর আলম গুরুতর আহত হন এবং আসামিরা বনকর্মী শাহ আলমের সাথে থাকা সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলার এই গুরুতর লঙ্ঘনের পর বন আইনে মামলা হয় এবং যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর, কামারছড়া ও কুরমা বিটের প্রায় ৬ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পানের বরজ, রিসোর্ট ও অন্য বাণিজ্যিক কাজে জবরদখল হয়ে আছে। বিশাল এই বনাঞ্চল পাহারায় জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল—যেমন আদমপুর বিটের ১৩ হাজার ৮০ হেক্টর বনভূমি রক্ষায় আছেন মাত্র একজন বিট কর্মকর্তা ও চারজন বনপ্রহরী।

এমন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অদম্য সাহসিকতার সাথে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়েই কামারছড়া, আদমপুর ও কুরমা বিট থেকে কয়েক একর সংরক্ষিত জমি উদ্ধার, অবৈধ টিনের ঘর ও পানের বরজ ধ্বংস এবং চা বাগানের ক্ষতি বাবদ ৯ লাখ ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

ঘটনার সুরাহায় গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্মসচিব) আশরাফুর রহমান জানান, সরেজমিনে ভুক্তভোগী, বন বিভাগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দ্রুত সরকারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এদিকে এলাকার সচেতন মহলের মতে, রাষ্ট্রীয় বন সম্পদ রক্ষা করা কোনো একক বিভাগের বিষয় নয়, এটি সার্বজনীন জাতীয় দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসত্য ও বানানো চাঁদার নাটক সাজিয়ে তাদের মানসিকভাবে কোণঠাসা করার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখাই এখন সময়ের দাবি।


নির্বাচিত

বগুড়া সিটি করপোরেশনে বাজেট ঘোষণা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

আধুনিক মহানগর গড়ে তুলতে ২৮টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনাসহ নগর উন্নয়নে ১ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৭ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। এটি দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেটে বাড়তি কর আরোপ না করে পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন মহানগর বাস্তবায়নে গত রোববার বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে এই বাজেট পেশ করা হয়।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী, সচিব মোছা. পপি খাতুন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সচেতন নাগরিকসহ প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বাজেট ঘোষণায় বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন বলেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য কাটিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম আধুনিক মহানগরে রূপান্তর করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। বাজেটে সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রথমবারের মতো মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ, সুবিল খাল ও করতোয়া নদী পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত পুনর্নিমাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বগুড়া ওয়াসা গঠন, বহুতল সপ্তপদী শপিং মল নির্মাণ, সাতমাথাসহ চারটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং নগরজুড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।


নির্বাচিত

হাওর অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

হাওর ও দুর্গম অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাসেবা আরও কার্যকর করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক সভা করে সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

গত রোববার সকালে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরের ক্যাচমেন্ট (অববাহিকা) এলাকায় নিয়োগ দেওয়ার মতো শিক্ষক খুব কম পাওয়া যায়। এজন্য আমাদের অন্য এলাকা থেকে শিক্ষক দিতে হয়। তবে অন্যান্য এলাকাতেও ক্যাচমেন্ট এলাকাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের বিধান রয়েছে। ফলে কিছু দুর্গম এলাকায় শিক্ষক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যার মধ্যে সুনামগঞ্জ অন্যতম। আমরা এই সংকটের টেকসই সমাধানে কাজ করছি, তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।’

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, শুরুর দিকে কিছু ভুলত্রুটি ধরা পড়ায় নিয়মকানুন আরও কঠোর করা হয়েছে। খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুড টেকনিশিয়ান নিয়োগ করতে হবে। তাদের অনুমোদনের পরেই খাবার স্কুলে যাবে। শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা কারখানাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন (সারপ্রাইজ ভিজিট) করবেন এবং খাবারের মান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। স্কুলে খাবার পৌঁছানোর পর তা পরীক্ষার জন্য মায়েদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। খাবার ডেলিভারির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ যাবতীয় তথ্য বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিয়ম মেনে চলা এলাকাগুলোতে বর্তমানে ‘জিরো ত্রুটি’ নিশ্চিত করা গেছে। এরপরেও কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা হয়। এতে সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস প্রমুখ।


নির্বাচিত

সীমান্তে বিজিবির মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

সীমান্ত এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা এবং চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)।

সোমবার দুপুরে জেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ৫৯ বিজিবির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘সীমান্ত ডিজিটাল স্কিল সেন্টার’-এর অধীনে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কেরামত আলী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কেরামত আলী বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হলে তাদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে তারা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একরামুল হক এবং শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজামুল হক। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও প্রশিক্ষণার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমান্তবর্তী এলাকার ২৫ জন বেকার যুবককে এক মাসব্যাপী মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা মোবাইল সার্ভিসিং পেশায় আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকার যুবসমাজকে চোরাচালান, মাদক পাচার ও অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।


নির্বাচিত

ছিল বিছানায়, লাশ মিলল সেফটিক ট্যাংকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
    ১১ মাসের অবোধ হামজাকে হারিয়ে স্তব্ধ সুনামগঞ্জ

যে বয়সে শিশুর কান্না থামে মায়ের আদরে, আর হাসি ফুটে ওঠে বাবার কোলজুড়ে—সে বয়সে খেলাধুলার আনন্দ নয়, ছোট্ট আমির হামজার কপালে জুটল নিথর স্তব্ধতা। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গুচ্ছগ্রামে ১১ মাসের অবোধ শিশু আমির হামজার এই করুণ পরিণতি কেবল একটি পরিবারকেই ধ্বংস করে দেয়নি, কাঁদিয়েছে পুরো এলাকাকে।

সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতোই আদরের সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবার পাশে রেখে গিয়েছিলেন মা সাবিকুন নাহার। ভেবেছিলেন, একটু পর সন্তান জেগে উঠে তার কাছেই কোল বাড়াবে। কিন্তু মা যখন ফিরলেন, দেখতে পেলেন বিছানা খালি। কোলে নেওয়ার মতো সেই অবোধ শিশুটি আর নেই। শুরু হয় চারদিকে মাতম আর আকুল খোঁজ।

কয়েক ঘণ্টার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর যখন শিশুটির সন্ধান মিলল, ততক্ষণে সব শেষ। বাড়ি থেকে প্রায় ১১০ ফুট দূরে ঢাকনাবিহীন এক সেপটিক ট্যাংকির জমাট অন্ধকারে ভেসে উঠল ১১ মাসের ফুটফুটে শিশুটির নিথর দেহ।

‘আমার সোনা তো হাঁটতেও শেখেনি সঠিকভাবে, সে কীভাবে এতদূরে যাবে? কে আমার কোল খালি করল?’— বুকচাপা কান্নায় এ প্রশ্নই বারবার করছিলেন শোকস্তব্ধ মা সাবিকুন নাহার।

মাত্র ১১ মাসের একটি অবোধ শিশু একা একা এতটা পথ পাড়ি দিয়ে সেপটিক ট্যাংকিতে পড়তে পারে না—এ সত্য বুঝে নিতে কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের আকুল দাবি, এটি স্রেফ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং কোনো হিংস্রতার নির্মম বলি হয়েছে এই শিশুটি। শিশুর বাবা সাব্বির হোসেন জানান, অতীতে তাদের পরিবারে আগুন দেওয়া এবং হুমকির মতো নানা ঘটনা ঘটেছে। সেপটিক ট্যাংকির খোলা ঢাকনা কি তবে শুধু অসাবধানতা, নাকি কোনো অপরাধ ঢাকবার নির্মম সুযোগ?

ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্তের জন্য চারজনকে হেফাজতে নিয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিচার হয়তো আইনের নিয়মে হবে, আসামিরাও হয়তো সাজা পাবে, কিন্তু লালপুর গুচ্ছগ্রামের সেই কুঁড়েঘরে যে ফুটফুটে হাসিটি চিরতরে মুছে গেল—তা কি আর কখনো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? অবোধ শিশু আমির হামজার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সমাজের নিরাপদে বেঁচে থাকার আকুতির ওপর এক বিষণ্ণ প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়ে গেল।


নির্বাচিত

কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরও ১০ দিন বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও নিরাপদ বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মাছ আহরণের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধ থাকবে। ১১ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে পুনরায় মাছ আহরণ শুরু হবে। সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রের কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং মৎস্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

সভায় জানানো হয়, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হ্রদের পানি আশানুরূপ বৃদ্ধি না পাওয়া এবং মাছের প্রজনন কার্যক্রম সন্তোষজনক পর্যায়ে না পৌঁছানোয় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মৎস্য ব্যবসায়ীদের নেতারা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির বর্তমান পরিস্থিতি এবং মাছের বংশবৃদ্ধির স্বার্থ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে হ্রদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকার, জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।


নির্বাচিত

মাগুরায় ৩ ক্লিনিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

লাইসেন্স নবায়নসহ স্বাস্থ্য সেবায় নানা অনিয়মের কারণে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মাগুরায় ৩টি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মাগুরা শহরের হাসপাতাল পাড়া ও পিটিআই পাড়ায় অবস্থিত ইবনে সিনা ক্লিনিক, পলি ক্লিনিক এবং সাইন্স ল্যাব ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মাগুরা সিভিল সার্জন শামীম কবির সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাগুরায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।


নির্বাচিত

বাগেরহাটে আইনজীবী খুনে জড়িত চারজন আটক 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের চাঞ্চল্যকর সাবেক ছাত্রদল নেতা ও এপিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যাকাণ্ডের ৫০ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি সহ চারজনকে আটক করেছে বাগেরহাট জেলা পুলিশ। সোমবার বিকাল তিনটায় বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

‎বাগেরহাট জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এদের সনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতদের একজন হত্যাকাণ্ডের আগের থেকেই নিহত শান্তর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলো। আটককৃতদের বাড়ী বাগেরহাট সদরের মির্জাপুর এলাকায়।

‎উল্লেখ্য, গত শনিবার গভীর রাতে অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত চেম্বার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে ছুরি দিয়ে উপর্যুপুরি কুপিয়ে ফেলে রাখে, পরবর্তীতে পুলিশ এসে উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত রোববার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।


নির্বাচিত

banner close