কক্সবাজারে গতকাল শুক্রবারের তুলনায় আজ শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বেড়েছে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা। এখনও জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি থাকার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলারসহ অন্তত ৭০ জেলে নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছেন মালিকরা। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সাগরের উপকূলে ভেসে এসেছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমান ২১০ মিলিমিটার। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টা থেকে শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা কক্সবাজারের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ৪৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।
বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল এলাকার সকল সড়ক, সৈকত সংলগ্ন এলাকা, মাকের্ট এলাকা থেকে নেমে গেছে পানি। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী এলাকা থেকেও পানি নেমে গেছে বলে জানা যায়।
তবে শহরের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়াসহ ৮টি নিম্নাঞ্চল এখনও পানিবন্দি রয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় হোটেল মোটেল জোনে এখন পানি নেমে গেছে। তবে বৃষ্টি হলেই এখন আতংক তৈরি হচ্ছে। মুহুর্তের মধ্যেই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নালা উন্নত করা না হলে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
উখিয়া উপজেলা ৪০টির বেশি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উখিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নে।
এই দুই ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ গত দুই দিন ধরে পানির নিচে বসবাস করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না হচ্ছে না অধিকাংশ ঘরে।
জালিয়া পালং ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া, ঘাটঘর পাড়া পাইন্যাশিয়া, সোনাইছড়ি, সোনারপাড়া ডেইপাড়া মনখালি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, মনির মার্কেট, রুমখা পালং, বড়বিল, পাতাবাড়ি, নলবুনিয়া, খেওয়া ছড়ি, বৌ বাজার, কুলাল পাড়া, পাগলির বিল, রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং, মাছকারিয়া, লম্বাশিয়া তুতুরবিল, পিনজির কুল, রত্নাপালং ইউনিয়নের সাদৃ কাটা, পশ্চিম রত্না, খোন্দকার পাড়া, গয়াল মারা ও পালংখালী ইউনিয়নে থাইংখালী, রহমতের বিল, বালুখালী তৈল খোলা, আঞ্জুমান পাড়া ফারিবিল সহ অন্তত ৪০টি গ্রামে পানি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উখিয়া উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী জানান, বন্যায় উপজের ৫ ইউনিয়নে অনেক এলাকার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। জালিয়া পালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন এর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, দুই মাসের ব্যবধানে ৪ দফা বন্যায় তার ইউনিয়নের ২০টির বেশি গ্রামের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির হোসেন জানান, বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষের জন্য জেলা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টিতে চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা যায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্খা রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
মানকিপুর-সুরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক বলেন, মানিকপুর এলাকায় বৃষ্টিতে নিচু এলাকার অন্তত ২শতাধিক ঘরবাড়ি বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ী এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছালেকুজ্জামান বলেন, আমার ইউনিয়নের পহরচাঁদা, গোবিন্দপুর ও ডেইঙ্গাকাটা এলাকায় অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাদের নিরাপত্তা ও শুস্ক খাবার বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
পেকুয়ার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা, রাজাখালী, উজানটিয়া ও মগনামা ইউনিয়নের ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এলাকার খোঁজখবর রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ও নদীর তীরবর্তী অবস্থানরত লোকজন নিরাপদে সরিয়ে যেতে উপজেলার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সহায়তা করতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, তিনদিনের টানা বৃষ্টির কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু বসতঘর ও দোকান-পাটে পানি ঢুকেছে।
এদিকে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলার নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ থাকা এসব ট্রলার ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু জেলে সাঁতার কেটে উপকুলে ফিরেছে। উদ্ধার হয়েছে ৫ জনের মরদেহও। ফলে এসব ট্রলারের আরও অন্তত ৬৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
শনিবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের নাজিরারটেক, পেঁচারদ্বীপ, ইনানী ও কলাতলী উপকুলে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।
এর মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার শেখেরকিল এলাকার নুরুল আমিন (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার চরমবা এলাকার মোহাম্মদ জালাল (৩৭) ও আব্দুল করিম (৩৫) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুই জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ৫টি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।
দেখতে নান্দনিক, মনোরম পরিবেশে, অনেকখানি জায়গাজুড়ে নির্মিত ভবনটিতে আলো, হাওয়ার খেলা সারাক্ষণ। এটি নির্মাণে সরকারের ব্যয়ও হয়েছে প্রচুর। সবে হস্তান্তর করা হয়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেকরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাড শেল্টার। অথচ হস্তান্তরের আগেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিম্নমানের কাজ দেখে শুরুতেই অভিযোগ করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কোনো কর্ণপাত করেননি সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় আছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিস থেকে জানা যায়, বেকরীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফ্লাড শেল্টার নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাহিতি অ্যান্ড জেডএইচডি (জেবি)। কাজটি করেন সুন্দরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পলাশ এন্টারপ্রাইজ। ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বরে কাজ শুরু হয়ে এটি শেষে করার কথা ছিল ২০২৩ সালের ১৯ জুন। সেই কাজ শেষ করা হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। বিল্ডিং হস্তান্তর করা হয় চলতি মাসের ১৪ তারিখে। কাজটির চুক্তিমূল্য ছিল ২ কোটি ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬২ টাকা।
সরেজমিন দেখা গেছে, সুদৃশ্য একটি তিনতলা ভবন। ওঠানামা করার জন্য সিঁড়ি আছে দুটি। একটি র্যাম্প, আরেকটি স্বাভাবিক সিঁড়ি। র্যাম্পটা নিচ থেকে একবারে বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলা পর্যন্ত সংযুক্ত। সেই র্যাম্পে অসংখ্য ফাটল। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে র্যাম্পের মুখে তালা দিয়ে এতে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ২৪৯ জন শিশুর পড়াশোনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ বিল্ডিংয়ের পলেস্তারা ফেটে চৌচির। বিশাল ফাটল দেখা গেছে পানির টাংকিতেও। বিদ্যুতের লাইনগুলো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বোর্ডে সুইচের স্থানগুলো ফাঁকা রয়েছে। অসাবধানতাবশত যে কেউ হাত দিলে বিদ্যুৎ শক খেতে পারে। আর এ ফাটলগুলো বিল্ডিং হস্তান্তরের আগেই দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এটা কেবল বিদ্যালয় নয়। বন্যার সময় এ অঞ্চলের মানুষজন এর নিচ তলায় আশ্রয় নেবে। আশ্রয় নেবে গবাদিপশুও। বানভাসি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ আশ্রয়কেন্দ্রটি। কিন্তু এটাতে যেভাবে ফাটল দেখা দিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকারের টাকাগুলো বানের জলে ভেসে যাবে।
তারা আরও জানান, শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকজনদের এখানে আসতে তেমন একটা দেখেননি। সে কারণে অনিয়মের কথাগুলো ঠিকাদারের লোকজনকে বলেছিলেন। তারা উল্টো স্থানীয়দের ধমক দেন।
রামডাকুয়া গ্রামের মো. আবদুর রশিদ মিয়ার ছেলে মো. রমজান আলী (৪৫) বলেন, ‘এই স্কুলে আমার ছেলে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আমি তারে নিয়া র্যাম্প দিয়া ওপরে ওঠার সময় দেখি ফাটা। তারপরও ভয়ে ভয়ে ওপরে উঠি। এরপরে ওপরে উঠে দেখি তালা দেওয়া। পরে আবার নিচে নামি। পরে অন্য সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠি। পরে স্যারদের বললাম সিঁড়ির মুখ বন্ধ ক্যা। তখন তারা বলেন, সিঁড়িগুলোতে ফাটল দেখা দিছে। সে কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
বিদ্যালয়ের পাশেই বাড়ি মো. খলিলুর রহমান বলেন, বিল্ডিংটা করার এখনো তিন মাস হয় নাই। তাতে যে ফাটল ধরইছে। তাতে মনে হয় আরও দিন গেইলে কী যে হউবে আল্লায় সেটা ভালো জানে। তবে এই স্কুলে ছেলেমেয়েরা যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ জিউ হামার হাতোত থাকে। না জানি কখন কোনো বিপদ হয়। আরও বন্যা আইলে কী যে হইবে সেই টেনশনও মাথায় ঘুরপাক করে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তফসিরা চৌধুরী বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। আর অফিশিয়ালি বিল্ডিং হস্তান্তর করা হয়েছে চলতি মাসের ১৪ তারিখে। তবে এ ভবনে ওঠার আগ থেকেই এ ফাটলগুলো ছিল। বিষয়গুলো নিয়ে আমি একাধিকবার ইঞ্জিনিয়ার অফিসের তপন স্যার, মিলন স্যার এবং ঠিকাদারকে বলেছি। তারা শুধু বলেন আসবেন। কিন্তু আসেন না।
এ বিষয়ে কথা হয় বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিলুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল হয়েছে, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। তবে কাজটা শুরু করার পরে কয়েকবার গিয়েছিলাম। তখন কাজে অনিয়ম দেখে এলজিইডি অফিসে কথাও বলেছিলাম। তারা কেন জানি গুরুত্ব দেননি।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পলাশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রিতমের সঙ্গে দেখা করা হলে তিনি এ নিয়ে নিউজ করতে নিষেধ করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘কেউ আমাকে জানায়নি। আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’
কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘এ ধরনের কাজে হেয়ার ক্রাক হয়ে থাকে অনেক সময়। কিউরিন খারাপ হলে এ ধরনের সমস্যা হয়। তবে এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। তারপরেও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। সে রকম হলে আবারও ঠিক করে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী অফিসে দেখা করতে বলে ফোন কেটে দেন। পরে অফিসে গিয়ে দেখা করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মতামত দিতে রাজি হননি।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ছয়টি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশের পরিচালিত অভিযানে এসব ট্রাক জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্রাকগুলো জব্দ করা হয়। তবে জব্দ করা ট্রাকগুলোতে কোনো বালু পাওয়া যায়নি।
এদিকে কমলগঞ্জের শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে বালুসহ একটি ট্রাক আটক করেছেন। ট্রাকটি উপজেলার সুনছড়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু পরিবহন করছিল বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ট্রাকটি আটক করে বিষয়টি কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তলসহ এক মানবপাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। আটক মো. ইয়াসিন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
সুজন জানান, মহেশখালিয়া পাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইয়াসিনকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ইয়াসিন দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মানবপাচারের মামলা রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, জব্দকৃত অস্ত্র ও আটককৃত ব্যক্তির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং মানবপাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলার সংযোগ স্থল দিয়ে বয়ে যাওয়া চাড়ালকাটা নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের কয়েকশত একর আবাদি জমি। বালুবাহী ট্রলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট। তবে এসব দেখেও উপজেলা প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাড়ালকাটা নদীর তীর কেটে চলছে বালু বিক্রির মহোৎসব। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ট্রলি গাড়িতে বালু বিক্রি। সেখানে সাংবাদিক প্রবেশ ঠেকাতে প্রভাবশালী মহলের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় পাহারায় থাকেন। নদীর তীরে ভেকু বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু কেটে বিক্রি করছেন। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে আশপাশে অসংখ্য আবাদি জমি, রাস্তাঘাট ও ভিটেবাড়ি। স্থানীয়রা এ নিয়ে দিন-রাত আতঙ্কিত থাকলেও প্রভাবশালী মহলের বালু বিক্রি থামছেই না।
আরও দেখা যায়, বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুরাকুটি ময়দানপাড়ার কালুরঘাট ব্রিজ এলাকার চাড়ালকাটা নদী ও বাহাগিলী ব্রিজ এলাকায় চলছে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু বিক্রি। রাস্তা দিয়ে বালুবাহী ট্রলি চলাচল করায় মোটরসাইকেল কিংবা কোনো যানবাহন চলার উপায় নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ম্যানেজ করেই এ কাজ করে আসছে। তারা একটি বালুর লট ইজারার নামে নদীর তীর কেটে অবাধে বালু বিক্রি করছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগসহ একাধিকবার অবগত করলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। প্রভাবশালী মহলটির বিরুদ্ধে কথা বলতেও ভয় পায় স্থানীয়রা।
নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকার আলতাফ হোসেন বলেন, নীলফামারী সদরের চার নম্বর বালুর লট ইজারা নিয়েছি। তবে স্থানীয়রা রাস্তা দিয়ে বালু নিয়ে যেতে দিচ্ছেন না। এজন্য আমরা নিজের জমির বালু বিক্রি করছি, এটা আমার মালিকানা জমি। নদী খনন করে আমার জমি বন্ধ করে রেখেছিল। আমি এখন সেটা বিক্রি করে আমার জমি বের করছি। এভাবে বালু বিক্রির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
হাসান আলী নামে আরেকজন বলেন, আমরা সদরের বালু ইজারা নিয়েছিলাম। আমাদের বালু কেটে বিক্রি করতে দিচ্ছে না। আমরা এজন্য বিভিন্ন মালিকের নিজস্ব জমির বালু কেটে বিক্রি করছি। আমরা গাড়ি প্রতি চারশো থেকে পাঁচশত টাকা পাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে প্রভাবশালী মহল। আমরা তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারি না। তাদের কিছু বললে বিভিন্নভাবে হুমকি হয়রানি করে। এ বিষয়ে ইউএনওকে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। এলাকাবাসী কয়েকবার গেয়েছিলাম তবুও তিনি কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। যারা বালু বিক্রি করছে, তারা সদরের কিছু বালু ইজারা নিয়েছিল। সেটা স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা রাস্তা না থাকায় বিক্রি করতে পারছে না। তবে এভাবে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে , মাঝেমধ্যে কেউ আটক করলে তাদের ওই ইজারা নেওয়ার বালুর স্লিপ দেখায় কিন্তু ওই বালু এখনও কাটতে পারেনি।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, এখানে রাস্তা ঘাটের খুব বাজে অবস্থা, চলাচল করার মতো না। নদীর তীর কেটে বালু বিক্রির কারণে আমরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ছি। সারারাত ট্রলি গাড়িতে বালু নিয়ে যায়, গাড়ির শব্দে ঘুমানো পর্যন্ত যায় না। নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করায় আমাদের কৃষি জমির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষাকালে নদীর ভাঙন দেখা যায়, এভাবে তীর কাটলে আবাদি জমিসহ নদীতে সব ভেঙে যাবে। এসব ব্যাপারে প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রির বিষয়টি জানলাম, এটি আমি দেখব।
ফরিদপুরে নাব্যতা হারানো কানাইপুর বাজার সংলগ্ন কুমার নদী পুনঃখনন শুরু হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ওই এলাকায় মাটি কেটে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন ফরিদপুর -৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
এ সময় চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, বিএনপি সরকার কাজ করে জনগণের জন্য। আর তাই বিএনপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই জনকল্যানে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। পানি সমস্যার সমাধান করতে পারলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ নারীদের জন্য বরাদ্দ ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে বলেন, আমরা আবেদন দিয়ে রেখেছি আগামী জুন মাসের বাজেটের পর থেকেই এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ,মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিকী মিতুল,ব্যবসায়ী চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ প্রমুখ।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের মোড়ল পাড়ায় মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক চিত্র সামনে এসেছে। ২৪ বছর বয়সী মিতু নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে লোহার শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন মিতু। পরিস্থিতির চাপে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয় সর্ব সময় । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিকলই হয়ে উঠেছে তার জীবনের নির্মম বাস্তবতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজির মতো, যা তার সাভাবিক চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টকর হয়েছে। দীর্ঘদিন শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিবন্ধী
মিতুর মা হাসিনা বেগম জানান, মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায়—এই আশঙ্কা থেকেই বাধ্য হয়ে তাকে লোহার শিকলে বেঁধে তালা লাগিয়ে রাখতে হয়েছে। অভাবের কারণে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।
মিতুর বাবা আবুল মোড়ল প্রায় ৮ বছর পূর্বে মারা গেছেন। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে পুরো পরিবারের খরচ চালানো তার জন্য বড়ই কঠিন হয়ে পড়েছে।
দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের কারণে মিতুর উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমরা তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা বলেছি এবং আমরা আশা করছি অতি শিগগিরই উনাকে এনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্রাথমিক চিকিৎসা দিবো এবং আমাদের যে হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম রয়েছে যে মেডিসিন গুলো দেওয়ার ব্যবস্থা আছে সেগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা নিবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চিকিৎসা ও প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে মিতুকে এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার দৈনিক বাংলা প্রতিবেদককে অবগত করে বলেন আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে নির্দেশ দিয়েছি বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে। দেখার পরে যে ধরনের সহযোগিতা বা কি করলে ভালো হয় সেই বিষয়টি বিবেচনা করবো আমরা।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় ডেমলা ফিলিং স্টেশনে ছেলের মোটরসাইকেলে পেট্রল সংগ্রহ করতে মাকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে তীব্র রোদ উপেক্ষা করে মাকে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালকের নাম সাগর বৈদ্য। আর তার মায়ের নাম বীথিকা বৈদ্য। তারা শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা।
ডেমলা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল হাকিম জানান, বিশৃঙ্খলা থেকে হট্রগোল-এর পর ফিলিং স্টেশনের কর্মচারিদের ওপর হামলার পর বেশ কয়েকদিন বন্ধ ছিল জ্বালানি তেল সরবরাহ। বৃহস্পতিবার থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বীথিকা বৈদ্য ছেলের মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পে আসার পর উৎসুখ জনতার ভীড় লক্ষ্য করা যায়। পরে তিনি পেট্রল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
এ বিষয়ে বীথিকা বৈদ্য জানান, তার ছেলে সাগর বৈদ্য মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে ও কৃষিকাজ নির্বাহ করে সংসার চালান। বেশ কয়েকদিন পেট্রল না থাকার কারণে সে মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালাতে পারছেনা। তাই বৃহস্পতিবার সে কৃষিকাজে শ্রম দিতে গিয়েছে। আর তিনি পেট্রল সংগ্রহ করতে পাম্পে এসেছিলেন।
খুলনায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় সাড়ে ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বিপ্লব শেখকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬, সিপিসি সদর কোম্পানি।
র্যাব জানায়, সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এবং হত্যা-ধর্ষণের মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) র্যাব-৬ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার সোনাডাঙ্গায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অভিযান চালায়। এ সময় পিরোজপুর জেলার চালিতাখালী এলাকার বাসিন্দা এবং তিনটি মাদক মামলায় মোট সাড়ে ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বিপ্লব ওরফে বিক্রম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বিপ্লবের বিরুদ্ধে বাগেরহাট, পিরোজপুর ও খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মাদক, ১টি মারামারি এবং ১টি দস্যুতার মামলা রয়েছে।
বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। বিচারিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় তুলে আনতে চাই"।
বিচার বিভাগের স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান যে, তাঁরা কোনোভাবেই একটি কলুষিত বিচার ব্যবস্থা চান না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে মাসদার হোসেন মামলার উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে। আমরা মাসদার হোসেনদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত বিচার বিভাগ গড়তে চাই না। বরং বিচার বিভাগের দুর্নীতির সকল শিকড় উপড়ে ফেলতে চাই।" মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার বিচার বিভাগের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ও আইনি বিভিন্ন বিষয়ে তাদের আপত্তির কড়া সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বিএনপির ধমনিতে জুলাই সনদ মিশে আছে। তারা জুলাই সনদ, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগীয় সচিবালয় আইনের বিষয়ে অনেক প্রশ্ন তুলছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, প্রতিটি আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে।" সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সকল আইন পরিমার্জনের আশ্বাস দেন তিনি।
বিতর্কিত 'জুলাই সনদ' প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "অনেকেই বলছেন বিএনপি জুলাই সনদ অস্বীকার করছে। কিন্তু আমরা বলতে চাই, বিএনপি তাদের আদর্শিক জায়গা থেকে জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। তবে জুলাই সনদ আদেশের কোনো সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি নেই। ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই।" আইনমন্ত্রী মনে করেন, এই সনদের কোনো জোরালো আইনি ভিত্তি বর্তমানে বিদ্যমান নেই।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভার আগে মন্ত্রী বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন এবং পরে শহরের পুরাতন জেলা জজ আদালত ভবনটি ঘুরে দেখেন। সামগ্রিকভাবে মন্ত্রীর এই সফর ও বক্তব্য বিচার বিভাগের নীতিগত সংস্কারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশের তিনটি অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য ঝড়ের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছেন সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ অবস্থায় ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে এসব অঞ্চলের নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গোপালপুরে ‘পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রজেক্টরের মাধ্যমে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খাইরুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা এখলাস মিয়া এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
জামালপুরে চা-দোকানির স্ত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামালপুর পৌরসভার বেলটিয়া এলাকার বুলবুল আহমেদ, আবুল কালাম ও রুকু।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, গত ২০২৩ সালের ১৬ মে জামালপুর শহরের শাহ জামাল (রা.) মাজারের সামনে চা-দোকান করছিলেন ফরহাদ হোসেন দম্পতি। ঘটনার দিন আসামি বুলবুল আহমেদ, আবুল কালাম ও রুকু তিনজনে ফরহাদের স্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় করে অপহরণ করে বুলবুল আহমেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার বাড়ির ছাদে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে তারা। ভোর রাতে ফরহাদের স্ত্রী বিবস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসে।
এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী মো. ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্ত ও হাসপাতালের রিপোর্ট ও ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত অভিযুক্ত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
আসামি দুজন পলাতক থাকায় অপর একজনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
শিশুদের প্রাণঘাতী রোগ হাম থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেবীগঞ্জে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ৩টায় দেবীগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হলরুমে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তারা হাম রোগের ঝুঁকি, প্রতিরোধের উপায় এবং শিশুদের টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেবীগঞ্জ উপজেলার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক। তিনি বলেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা প্রদান ও সচেতনতার মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর। তিনি হাম রোগের লক্ষণ, জটিলতা এবং প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ ছাড়াও দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মালিক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু নোমান মো. ইফতেখারুল তৌহিদ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার শাহ রাশেদুল হক, মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন ও ইফার সকল শিক্ষক শিক্ষিকাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে উপস্থিত অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করা হয় এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে উৎসাহিত করা হয়।