বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ থেকে গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি গতকাল যশোর এলাকায় অবস্থানের পর আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ সময় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-নোয়াখালীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রবণ বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারে গত শুক্রবার সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার শহর এলাকায় দেখা দেওয়া জলাবদ্ধতা গতকাল খানিকটা কমে গেলেও জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছে। এদিকে প্রবল ঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার ও নোয়াখালীর হাতিয়ায় অন্তত ২০টি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ট্রলারে থাকা শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ। গতকাল তাদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সৈকতে ভেসে আসার পর সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর জেলায় লঞ্চ চলাচল। আজ ঢাকাসহ ৫ বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে গত শুক্রবারের তুলনায় গতকাল শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বেড়েছে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা। জানা গেছে, জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলারসহ অন্তত ৭০ জেলে নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছেন মালিকরা। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সাগরের উপকূলে ভেসে এসেছে বলে জানা যায়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২১০ মিলিমিটার। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা কক্সবাজারের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ৪৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।
এদিকে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জেলার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল এলাকার সকল সড়ক, সৈকত-সংলগ্ন এলাকা, মাকের্ট এলাকা থেকে নেমে গেছে পানি। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী এলাকা থেকেও পানি নেমে গেছে বলে জানা যায়।
তবে শহরের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়াসহ ৮টি নিম্নাঞ্চল এখনও পানিবন্দি রয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় হোটেল মোটেল জোনে এখন পানি নেমে গেছে। তবে বৃষ্টি হলেই এখন আতংক তৈরি হচ্ছে। মুহুর্তের মধ্যেই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নালা উন্নত করা না হলে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
উখিয়া উপজেলা ৪০টির বেশি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উখিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নে।
এই দুই ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ গত দুই দিন ধরে পানির নিচে বসবাস করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না হচ্ছে না অধিকাংশ ঘরে।
জালিয়া পালং ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া, ঘাটঘর পাড়া পাইন্যাশিয়া, সোনাইছড়ি, সোনারপাড়া ডেইপাড়া মনখালি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, মনির মার্কেট, রুমখা পালং, বড়বিল, পাতাবাড়ি, নলবুনিয়া, খেওয়া ছড়ি, বৌ বাজার, কুলাল পাড়া, পাগলির বিল, রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং, মাছকারিয়া, লম্বাশিয়া তুতুরবিল, পিনজির কুল, রত্নাপালং ইউনিয়নের সাদৃ কাটা, পশ্চিম রত্না, খোন্দকার পাড়া, গয়াল মারা ও পালংখালী ইউনিয়নে থাইংখালী, রহমতের বিল, বালুখালী তৈল খোলা, আঞ্জুমান পাড়া ফারিবিল সহ অন্তত ৪০টি গ্রামে পানি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উখিয়া উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী জানান, বন্যায় জালিয়া পালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন এর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির হোসেন জানান, বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষের জন্য জেলা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টিতে চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা যায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্খা রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, তিনদিনের টানা বৃষ্টির কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু বসতঘর ও দোকান-পাটে পানি ঢুকেছে।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলার নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ থাকা এসব ট্রলার ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু জেলে সাঁতার কেটে উপকুলে ফিরেছে। উদ্ধার হয়েছে ৫ জনের মরদেহও। ফলে এসব ট্রলারের আরও অন্তত ৬৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
শনিবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের নাজিরারটেক, পেঁচারদ্বীপ, ইনানী ও কলাতলী উপকুলে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার শেখেরকিল এলাকার নুরুল আমিন (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার চরমবা এলাকার মোহাম্মদ জালাল (৩৭) ও আব্দুল করিম (৩৫) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুই জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ৫টি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবল বর্ষণে নদীভাঙন, চকরিয়ায় শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া
দৈনিক বাংলার চকরিয়া- পেকুয়া প্রতিনিধি জানায়, টানা তিনদিনের বারিবর্ষণে কক্সবাজার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে ১৫ টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে আতঙ্কে ঘরছাড়া হয় শতাধিক পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বদরখালী পওর শাখার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. জামাল মুর্শিদ জানান, শনিবার বেলা বারোটায় মাতামুহুরি নদীর পানি ৫ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরি নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার।
জানা গেছে, তিনদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
হাতিয়ার মেঘনায় ১০ ট্রলারডুবি, ৮ মাঝিসহ ৫ ট্রলার নিখোঁজ
বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঝড়ের কবলে পড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে দশটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৮ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৫টি ট্রলারসহ ৮ মাঝি এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।
গত শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মেঘনা নদীর কয়েকটি এলাকায় এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলোর মালিকরা হলেন বাবর মাঝি, জান মিয়া, দেলোয়ার মাঝি, হেলাল উদ্দিন, শহীদ মাঝি, মেহরাজ মাঝি ও ইউনুছ মাঝি।
হাতিয়ার ট্রলার মালিক সমিতির সদস্য লুৎফুল্লাহিল নিশান দাবি করেন, ঝোড়ো বাতাস ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে হাতিয়ার মোট ১৯টি ট্রলার ডুবে গেছে। অনেকে ট্রলারডুবির সময় পার্শ্ববর্তী ট্রলারগুলোর সহযোগিতায় কূলে উঠেছেন। এখনো অনেকে নিখোঁজ আছেন।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, আমাদের নামার বাজার এলাকার চারটি ট্রলার ডুবে গেছে। কেউ কেউ পাড়ে উঠে আসতে পারলেও অনেকেই এখনও উঠতে পারেননি। কে এসেছেন বা কে আসেননি তার হিসাব নেওয়া কঠিন।
কোস্টগার্ড হাতিয়ার স্টেশন অফিসার সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন বলেন, যারা খবর দিতে পেরেছেন আমরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু ট্রলার গিয়ে উদ্ধারকাজ করছে। এখনো অনেক ট্রলারের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সেসব ট্রলারগুলোর বিষয়ে আমরা খবর নিচ্ছি।
ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ভোলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুরসহ স্থানীয় সব নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ ভোলার সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, সমুদ্র এলাকাভুক্ত হওয়ায় চরফ্যাশনের বেতুয়া টু ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে ভোলা-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল করবে।
এদিকে, শনিবার বিকালে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সুপারভাইজার শরীফুল ইসলাম ও ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জাহেদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নৌপথে চলাচলের জন্য ফেরি কুসুমকলি, কাবেরী, কলমিলতা, কিষানি ও কনকচাঁপা রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই সেগুলো চলাচল শুরু হবে।
ঢাকাসহ ৫ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
এদিকে, আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
কক্সবাজারের টেকনাফে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় দুর্বৃত্তের ছোড়া বুলেটে সুমাইয়া আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সুমাইয়া ওই এলাকার মো. ছিদ্দিকের মেয়ে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিহত তরুণীর বাবা মো. ছিদ্দিক বলেন, ‘সন্ধ্যার আগে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির উঠানে খোশগল্পে মেতেছিলেন। ওই সময় সশস্ত্র দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলি সুমাইয়ার বুকে লাগলে তাৎক্ষণিক সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।’ রক্তাক্ত অবস্থায় সুমাইয়াকে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ প্রসঙ্গে চিকিৎসক নওশাদ আলম কানন জানান, ‘গুলিবিদ্ধ তরুণীর বুকে দুইটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে আনার আগে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির সূত্রপাত হয়। বিকেলের সেই সংঘাতের সময় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণে সাধারণ এই তরুণী অকালে প্রাণ হারান।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে নিহত তরুণীর সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ পুলিশ বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এলাকায় এক ঝটিকা অভিযানে ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার অন্যতম আসামি রিয়াজ হোসাইনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের (সিআইআইটিসি) প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এলাকা থেকে খুলশী থানায় করা ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাহাড়তলী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আবছার এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের একটি বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের মামলায় রিয়াজ হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ নজরদারি চালিয়ে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করছেন এমন গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ হোসাইনের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় তার বাবা ডা. রবিউল হোসেনসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় রিয়াজ হোসাইনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর রিয়াজ হোসাইনকে পাহাড়তলী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং আত্মসাৎকৃত অর্থের উৎস ও অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রিয়াজ হোসাইনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্তরালে থাকা আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে পুলিশ আশা করছে। গতকাল শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর পাড়ে ধুলাবালিতে মাখামাখি অবস্থায় প্যাকেট করা হচ্ছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা বিএডিসির পটাশ সার। বিএডিসি বলছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে এমনটা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর পাড়ে লাইটার ভেসেল থেকে পটাশ সার নামিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্যাকেট করছেন কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই গোবর ও ময়লার স্তূপ থাকলেও তা আমলে নিচ্ছেন না তারা। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, আজ তারা প্রায় এক হাজার বস্তা সার প্যাকেট করেছেন। সারগুলোর আমদানিকারক নোয়াপাড়া গ্রুপ। প্যাকেট করার পর এই সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী শরিফ হোসেন বলেন, ‘পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসে দেখি নদীর পাড়ে এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে ধুলাবালিতে সার প্যাকেট করা হচ্ছে। এতে সারের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আমার ধারণা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া উচিত।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফারুক শেখ নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘সারগুলো রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে লাইটার জাহাজে করে আমরা এখানে নিয়ে এসেছি। এখান থেকে প্রতি ব্যাগে ৫০ কেজি করে ভরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। তবে এতে গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে কি না, তা আমি বলতে পারব না।’
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুমন ইসলাম বলেন, ‘আমরা সাধারণত নিয়ম মেনেই কাজ করি, তবে আজ কিছু সমস্যার কারণে হয়তো যথাযথ নিয়ম মানা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (পরিবহন) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, "বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে সার প্যাকেটজাত করার কোনো সুযোগ নেই। এতে সারের মান নষ্ট হয়। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিষয়টি সম্পর্কে বিএডিসির ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ খসরু নোমান বলেন, ‘ধুলাবালিতে সার প্যাকেট করার খবর পেয়ে আমি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। যথাযথ নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল চরে দুই শতাধিক অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। আরও উপস্থিত ছিলেন চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক, উলিপুর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, চিলমারী উপজেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, নদীঘেরা চরে শীতের তীব্রতা শহরের তুলনায় অনেক বেশি। কাজের সুযোগ সীমিত ও আয় কম হওয়ায় শীতবস্ত্র কেনা অনেক পরিবারের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে একটি কম্বল তাদের জন্য বড় সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, চরের মানুষ বছরের পর বছর ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। শীত, বন্যা কিংবা খাদ্যসংকট, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে চরাঞ্চলের মানুষ। আজ আমরা কম্বল দিচ্ছি, কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়। চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যেভাবে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে, ঠিক সেভাবেই দেশের চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে একটি ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা প্রয়োজন। এটি কেবল একটি দাবি নয়, বরং এটি মানবিক অধিকার।
শীতের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়া ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সাতক্ষীরায় খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। একসময় শীত এলেই গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হতো খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির মৌসুম। তবে বর্তমানে সেই চিরচেনা দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ২৩০ হেক্টর জমিতে এক লাখ ৮ হাজারের বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টন গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টনে। অর্থাৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে কমে গেছে।
খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ শিল্পকে বাঁচাতে যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শীতের সময়কাল কমে গেছে। এতে গাছিরা সময়মতো গাছ কাটতে পারছেন না, আবার অনেক কৃষকও আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন দিন দিন কমছে।
তিনি বলেন, জেলায় এ বছর এক লাখ ৮ হাজার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন গাছিরা। তবে গাছিদের প্রশিক্ষণ দিতে পারলে খেজুরের রস গুড় উৎপাদন বেড়ে যাবে। বাড়বে কর্মসংস্থানও। এতে গুড়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, সব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও গুড় সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এতে কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটত। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে, তা জেলার চাহিদা মিটিয়ে সীমিত পরিসরে অন্য জেলায় যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা তালা উপজেলার নগরঘাটা এলাকার গাছি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আগে শীত তাড়াতাড়ি আসতো, এখন অনেক দেরিতে আসে। এতে গাছ কাটতেও দেরি হয়। আবহাওয়ার কারণে রসও কম হচ্ছে। আগে ১৫ থেকে ১৬টি গাছে ১০ থেকে ১২টি হাঁড়ি রস পাওয়া যেত, এখন সেখানে মাত্র ৩ থেকে ৪টি হাঁড়ি পাওয়া যায়।
তিনি জানান, আগে খেজুর গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকত না। বর্তমানে প্রায় সব জায়গাতেই পানি জমে থাকে, যা রস উৎপাদনের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রামবাসী ফজলু মিয়া বলেন, ‘আগের মতো এখন আর মায়ের হাতের পিঠা-পায়েস পাওয়া যায় না। খেজুর গাছ কাটার লোকই পাওয়া যাচ্ছে না। ছোটবেলার সেই খেজুরের গুড় এখন খেতে না পারার আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে।’
এদিকে, বর্তমানে খেজুরের রস দেড়শ টাকা ভাড়। আর খেজুরের গুড় ৪০০ টাকা ও পাটালি ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে দিনে দিনে রস উৎপাদন কমে যাচ্ছে
নগরঘাটার বাসিন্দা সাইদুজ্জামান বলেন, একসময় আমাদের এলাকায় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। এখন গাছের সংখ্যা কমে গেছে। অনেক কৃষক আর গাছ কাটেন না, আবার অনেক জায়গায় গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে রসের সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শীতের মৌসুমে পিঠা পুলির উৎসব, খেজুরের রস সবই এখন আগের মতো নেই। আমরা চাই খেজুর গাছ সংরক্ষণ করে এই ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনা হোক।
তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের বাসিন্দা মিলন বিশ্বাস বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম বাবা চাচারা খেজুর ও তাল গাছ কাটতেন। গাছের নিচে গিয়ে পাটকাঠির নল দিয়ে রস খেতাম। এখন আর সেই দৃশ্য দেখা যায় না।
একই গ্রামের গাছি মিজানুর রহমান বলেন, খেজুরের রস পুরোপুরি শীতের ওপর নির্ভরশীল। আগে একটি গাছে এক ভার রস হতো, এখন হয় অর্ধেকেরও কম। রস কম হলে গুড়ও কম হয়। বর্তমানে অনেকেই খেজুর গাছ জ্বালানির কাজে ব্যবহার করছে, যা খেজুর শিল্পের জন্য বড় হুমকি। আগের মতো গাছিও নেই। নতুন করে এই পেশায় কেউ আসতে চাই না।
এদিকে, এ শিল্প রক্ষায় খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ সংরক্ষণ, গাছিদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো গেলে সাতক্ষীরায় আবারও খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং হারিয়ে যেতে বসা এই গ্রামীণ ঐতিহ্য নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজে দিনব্যাপী শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কলেজ প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের উন্মুক্ত মাঠজুড়ে সাজানো হয় বাহারি পিঠা-পুলির স্টল। লোকসঙ্গীতের সুর আর পিঠার ঘ্রাণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পিঠার স্বাদের মধ্য দিয়ে শিকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
কলেজের সভাপতি ও যুগ্ম সচিব নুরুল হকের পক্ষে উৎসবের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিঠা উৎসব কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মো. শহীদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, বাখরাবাদ গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকরা জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই শীতকালীন পিঠা উৎসব আয়োজন করে আসছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বলেন, পিঠা-পুলি শুধু খাবার নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীদের এ আয়োজনে যুক্ত করার মাধ্যমে পিঠাকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা পণ্য হিসেবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য।
উৎসবে ১২টি স্টলে শতাধিক প্রকারের পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কলেজ প্রাঙ্গণ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। একই সাথে ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে আগামী রবিবার (১৮ জানুয়ারি) প্রশাসন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষনা দেন তারা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ও সংলগ্ন মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান এসে ফটকে সমবেত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের, ‘দিন দুপুরে মানুষ মরে, ইন্টেরিম কী করে? তুমি কে, আমি কে — হাদি হাদি; ইনকিলাব জিন্দাবাদ, হাদি হত্যার বিচার চাই; হাদি ভাইয়ের রক্ত বিথা যেতে দেব না; উই ওয়ান্ট জাস্টিস; দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা; আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাব’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক-সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ‘ইতিহাসে হাজারও হাদি শহীদ হয়, কিন্তু তার চেতনা হাদির উত্তরসূরীরা যুগ যুগ ধরে, ধরে রাখে। আমরা এ বাংলায় কোন আধিপত্যবাদী শক্তি মেনে নেব না, কোনো বিদেশি শক্তির তাবেদার হতে দিব না। এখানে কোনো কালচারাল বা গণমাধ্যম ফ্যাসিস্ট বিন্দুমাত্র সহ্য করব না। আমরা হাদি হত্যার বিচার চাই।’
এসময় সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মন্ডল বলেন, ‘খুনি দেশে বা বিদেশে থাকুক, নির্বাচনের আগেই হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা এই আন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের আমরা ঘুমাতে দিব না।’
সাজিদ হত্যার বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, সাজিদ হত্যার ছয় মাস অতিবাহিত হয়েগেছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এখনো আলোর দিশা দেখাতে পারেনি। বর্তমান উপাচার্য থাকা অবস্থায় সাজিদ হত্যার বিচার হতে হবে, এই ভিসি যদি ঢাকা চলে যায়, পরবর্তীতে কোনো ভিসি এই হত্যার দায় নেবে না। এই প্রশাসন থাকা অবস্থায় সাজিদ হত্যার বিচার আদায় করে নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তিনজনই আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কাছে যাবে তাও এই নির্বাচনের আগেই সাজিদ হত্যার বিচারের ফয়সালা তাদের করে আনতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুম্মার নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে যাত্রা করে টিএসসি হয়ে শাহবাগ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা “আমার হত্যার বিচার চাই”, “বইলা গেছে হাদি ভাই”, “ভারত না বাংলাদেশ? বাংলাদেশ বাংলাদেশ”, “আমরা সবাই হাদি হবো”, “যুগে যুগে লড়ে যাবো” এমন নানা স্লোগান দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকার তরুণ প্রজন্মকে অবহেলা করে কখনোই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে পারবে না।
তিনি বলেন, তরুণদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে না। কেউ কেউ মনে করেছিল শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করে স্বাধীনতার প্রশ্ন, সীমান্ত সুরক্ষা কিংবা আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তরুণ প্রজন্ম এখন আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন।
হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের এই লড়াই চলবে বলে জানান তিনি।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি বানিয়াপাড়া নতুন বাজার এলাকা থেকে একটি বিরল প্রজাতির শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত শকুনটি বাংলাদেশি নয়, বরং এটি ইন্ডিয়ান হিমালয়ান শকুন।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে স্থানীয়দের চোখে পড়লে তারা বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করে। পরে বন বিভাগের সদস্যরা শকুনটি উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
দেবীগঞ্জ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনজুরুল করিম জানান, ‘শকুনটির গঠন, বিশাল ডানার বিস্তার ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রাথমিকভাবে এটি হিমালয়ান শকুন বলে মনে হচ্ছে। এ প্রজাতির শকুন সাধারণত ভারতের হিমালয় অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করে। শীত মৌসুমে খাদ্যের সন্ধানে তারা অনেক সময় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।’
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত শকুনটি বর্তমানে নিরাপদে রাখা হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে আগামীকাল সিংড়া বিটে পাঠানো হবে, যেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ান শকুন একটি বিরল ও সংরক্ষিত প্রজাতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শকুনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এবং বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, সেবা প্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত উপাত্ত উদ্যোক্তাদের কাছে আমানত। ব্যক্তিগত উপাত্ত সুসমন্বিতভাবে হস্তান্তর না হলে নাগরিকের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ফয়েজ আহমদ তৈয়ব শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সরকার জনগণের হয়রানি ও শ্রমঘণ্টা লাঘব করার জন্য নাগরিক সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ। নাগরিক সেবার মাধ্যমে জনগণ যেন একই প্লাটফর্মে বিভিন্ন সেবা পেতে পারে সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি নাগরিক সেবার প্রতি জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের মনোবৃত্তি নিয়ে কাজ করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ সহকারী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার নিরপেক্ষ, কিন্তু গণভোটের বিষয়ে হ্যাঁ-এর পক্ষে। জনকল্যাণমূলক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে আমাদেরকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট প্রদান করতে হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআইর প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা।
উদ্যোক্তা সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন এটুআইর হেড অব ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।
সভায় অন্যদের মধ্যে চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট (উপ-সচিব) ফজলুল জাহিদ পাভেল, হেড অব কমিউনিকেশন মোহাম্মদ সফিউল আযম উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার প্রায় পাঁচশত উদ্যোক্তা অংশ নেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বৈলাম গাছ নিয়ে ৬৪ জেলায় প্রতীকী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা ভ্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবেশ সংগঠক মাহবুবুর ইসলাম পলাশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা সরকারি হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাগুরা জেলা তার ভ্রমণের ৫৫ তম জেলা হিসেবে বৈলাম গাছ রোপণ করেন।
মাগুরা জেলায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বৈলাম গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, বৈলাম গাছ আমাদের দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় প্রজাতি হলেও অবহেলা ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে এটি দিন দিন বিলুপ্তির পথে। এই গাছ সংরক্ষণ করা মানেই পাখি, কীট-পতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাগুরা সরকারি হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রফেসর ডা. আলফাজ উদ্দিন, ছাত্র প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম শফিক এবং শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
মাহবুবুর ইসলাম পলাশ বলেন, দেশীয় ও বিপন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি প্রাণহীন বাংলাদেশ পাবে। বৈলাম গাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, এটি আমাদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমি মানুষকে সচেতন করতে চাই।
তিনি আরও জানান, ৬৪ জেলায় ভ্রমণ করে প্রতীকীভাবে বৈলাম বৃক্ষরোপণের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশব্যাপী একটি পরিবেশবান্ধব আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি রক্ষায় সম্পৃক্ত করা।
সরকারি হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ মাগুরা এর প্রফেসর ডা. আলফাজ উদ্দিন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং দেশীয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, ‘পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা’ উদ্যোগের মাধ্যমে মাহবুবুর ইসলাম পলাশ দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ শিক্ষা ও দূষণবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মাগুরায় ৫৫তম জেলা সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি ৬৪ জেলার লক্ষ্য পূরণের আরও কাছাকাছি পৌছেছেন।
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই পরিবেশ আন্দোলনে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
২০১৯ সালে কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর থেকে স্থিতিশীল এবং দামে লাভজনক হওয়ায় রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষকরা কলা চাষ সম্প্রসারণে উৎসাহিত হচ্ছেন।
গত ছয় বছরে কলার দাম একবারও না কমায় শত শত কৃষক কলা চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন এবং বিপুল মুনাফা লাভ করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ ও কৃষকরা পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে মূল ভূখণ্ড ও নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে কলা চাষকে অত্যন্ত লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন ।
ডিএই সূত্র জানায়, গত ছয় বছরে বাম্পার ফলন ও লাভজনক মূল্য পাওয়ার ধারাবাহিকতায় রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় প্রতি বছরই কলা চাষ বাড়ছে।
ডিএই রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, চলতি ২০২৫-২০২৬ রবি মৌসুমে গত সপ্তাহ পর্যন্ত এ অঞ্চলে ২ হাজার ৬২১ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত কলার চারা রোপণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, ২০২৪-২০২৫ রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে ২ হাজার ৬৮৩ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছিল।
ডিএই পরিচালিত ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা নিজেদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থকরী ফসল হিসেবে কলা চাষ সম্প্রসারণ করছেন।
ডিএই কর্মকর্তারা মূল ভূখণ্ড ও চরাঞ্চলে ‘মেহের সাগর’, ‘মালভোগ’, ‘সবরি’সহ বিভিন্ন জাতের কলা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
এদিকে, আগাম জাতের কলা সংগ্রহ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাম্পার ফলন ও লাভজনক বাজারদর পাওয়ায় কৃষকরা বিপুল মুনাফা অর্জন করছেন।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুর রহমান, মখলেসুর রহমান ও বাদল হোসেন জানান, তারা গত ১৫ বছর ধরে কলা চাষ করে আসছেন এবং প্রতি বছরই ভালো লাভ করছেন।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার দোলাপাড়া গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান, আবদুল হাই ও নুরুন্নবী এবং বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তারা এ মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় বেশি জমিতে কলা চাষ করেছেন।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন চর ও গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী, বাবুল আখতার, নুরুল ইসলাম ও মাহবুবুর বলেন, চরাঞ্চলে বসবাসকারীরা গত ১০ বছর ধরে সফলভাবে কলা চাষ করে আসছেন এবং ভালো লাভ করছেন।
ইউসুফ আলী বলেন, চরের এক পাশের কলা বিক্রি করছি, অন্য পাশে খালি জমিতে নতুন করে চাষ করছি। সারা বছরই নতুন মোচা ধরার প্রক্রিয়া চলতে থাকে, ফলে বাগান সব সময়ই সতেজ থাকে।
বাবুল আখতার বলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার অন্যান্য উপজেলার মতো প্রতি বছরই আরো বেশি চরভূমি কলা চাষের আওতায় আসছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা চরাঞ্চলে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে আন্তঃফসল হিসেবে সারা বছর কলা চাষ করছি। কলা চাষ আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।
রংপুর সিটি বাজারের খুচরা ফল ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান ও রংপুরের পীরগাছা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, বর্তমানে ‘মালভোগ’ ও ‘সবরি’ কলা প্রতি হালি ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিএই-এর রংপুরের বুড়িরহাট উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. মো. আবু সায়েম বলেন, সমতল ভূমি ও চরাঞ্চলে কলা চাষ সম্প্রসারণের ফলে কৃষকদের জীবনমান উন্নত হচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকছে।
হাড় কাঁপানো শীতে দুর্ভোগে পড়েছে দক্ষিনাঞ্চলের প্রাণীকূলসহ সাধারণ মানুষ। শীতকাল অনেক প্রাণীদের জন্য খুব একটা ভালো সময় নয়। এ শীত থেকে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ানো কুকুরদের সুরক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ‘অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী’ সংগঠনের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পটুয়াখালী পৌরশহরে ঘুরে ঘুরে কুকুরদের জন্য বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো ভর্তি পাটের বস্তা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রায় শতাধিক কুকুরের জন্য এমন বিছানা তৈরি করেছেন অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী। এ বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী সংগঠনের সদস্যরা জানান, পাটের বস্তার মধ্যে খড়কুটো দিয়ে কুকুরের জন্য এসব বিছানা তৈরি করা হয়েছে। পটুয়াখালী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫০টি বস্তার বিছানা বিতরণ করা হয়েছে। অনেক কুকুর এসব বস্তার বিছানায় আশ্রয় নিয়েছে।
অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী সংগঠনের পরিচালক আবদুল কাইউম বলেন, অতিরিক্ত শীতে কুকুরগুলো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। কিছু কুকুরের বাচ্চা মারাও গেছে। এতে কষ্টে থাকা কুকুরের জন্য একটু উষ্ণতা দিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক মো. জুয়েল রানা বলেন, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। কুকুরের জন্য বস্তা বিতরণ করতে পৌরসভার গাড়ি দেয়া হয়েছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, বিছিয়ে দেয়া বস্তা যেন কেউ ফেলে না দেয় ৷ ভালো কাজে আমাদের সহযোগিতা পাবে সবসময়।