শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কক্সবাজার ও হাতিয়ায় ২০ ট্রলার ডুবি, ৫ মরদেহ উদ্ধার

* শতাধিক জেলে নিখোঁজ * কক্সবাজারে বেড়েছে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা * ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চলাচল বন্ধ * নদীভাঙনে চকরিয়ায় শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া * ৫ বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা
বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ে প্লাবিত হয়েছে কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:০২

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ থেকে গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি গতকাল যশোর এলাকায় অবস্থানের পর আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ সময় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-নোয়াখালীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রবণ বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারে গত শুক্রবার সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার শহর এলাকায় দেখা দেওয়া জলাবদ্ধতা গতকাল খানিকটা কমে গেলেও জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছে। এদিকে প্রবল ঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার ও নোয়াখালীর হাতিয়ায় অন্তত ২০টি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ট্রলারে থাকা শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ। গতকাল তাদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সৈকতে ভেসে আসার পর সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর জেলায় লঞ্চ চলাচল। আজ ঢাকাসহ ৫ বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে গত শুক্রবারের তুলনায় গতকাল শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বেড়েছে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা। জানা গেছে, জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছেন।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলারসহ অন্তত ৭০ জেলে নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছেন মালিকরা। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সাগরের উপকূলে ভেসে এসেছে বলে জানা যায়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২১০ মিলিমিটার। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা কক্সবাজারের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ৪৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।

এদিকে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জেলার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

অন্যদিকে, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল এলাকার সকল সড়ক, সৈকত-সংলগ্ন এলাকা, মাকের্ট এলাকা থেকে নেমে গেছে পানি। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী এলাকা থেকেও পানি নেমে গেছে বলে জানা যায়।

তবে শহরের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়াসহ ৮টি নিম্নাঞ্চল এখনও পানিবন্দি রয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় হোটেল মোটেল জোনে এখন পানি নেমে গেছে। তবে বৃষ্টি হলেই এখন আতংক তৈরি হচ্ছে। মুহুর্তের মধ্যেই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নালা উন্নত করা না হলে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

উখিয়া উপজেলা ৪০টির বেশি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উখিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নে।

এই দুই ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ গত দুই দিন ধরে পানির নিচে বসবাস করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না হচ্ছে না অধিকাংশ ঘরে।

জালিয়া পালং ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া, ঘাটঘর পাড়া পাইন্যাশিয়া, সোনাইছড়ি, সোনারপাড়া ডেইপাড়া মনখালি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, মনির মার্কেট, রুমখা পালং, বড়বিল, পাতাবাড়ি, নলবুনিয়া, খেওয়া ছড়ি, বৌ বাজার, কুলাল পাড়া, পাগলির বিল, রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং, মাছকারিয়া, লম্বাশিয়া তুতুরবিল, পিনজির কুল, রত্নাপালং ইউনিয়নের সাদৃ কাটা, পশ্চিম রত্না, খোন্দকার পাড়া, গয়াল মারা ও পালংখালী ইউনিয়নে থাইংখালী, রহমতের বিল, বালুখালী তৈল খোলা, আঞ্জুমান পাড়া ফারিবিল সহ অন্তত ৪০টি গ্রামে পানি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী জানান, বন্যায় জালিয়া পালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন এর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির হোসেন জানান, বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষের জন্য জেলা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টিতে চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা যায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্খা রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।

পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, তিনদিনের টানা বৃষ্টির কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু বসতঘর ও দোকান-পাটে পানি ঢুকেছে।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলার নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ থাকা এসব ট্রলার ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু জেলে সাঁতার কেটে উপকুলে ফিরেছে। উদ্ধার হয়েছে ৫ জনের মরদেহও। ফলে এসব ট্রলারের আরও অন্তত ৬৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

শনিবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের নাজিরারটেক, পেঁচারদ্বীপ, ইনানী ও কলাতলী উপকুলে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার শেখেরকিল এলাকার নুরুল আমিন (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার চরমবা এলাকার মোহাম্মদ জালাল (৩৭) ও আব্দুল করিম (৩৫) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুই জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ৫টি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রবল বর্ষণে নদীভাঙন, চকরিয়ায় শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া

দৈনিক বাংলার চকরিয়া- পেকুয়া প্রতিনিধি জানায়, টানা তিনদিনের বারিবর্ষণে কক্সবাজার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে ১৫ টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে আতঙ্কে ঘরছাড়া হয় শতাধিক পরিবার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বদরখালী পওর শাখার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. জামাল মুর্শিদ জানান, শনিবার বেলা বারোটায় মাতামুহুরি নদীর পানি ৫ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরি নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার।

জানা গেছে, তিনদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।

হাতিয়ার মেঘনায় ১০ ট্রলারডুবি, ৮ মাঝিসহ ৫ ট্রলার নিখোঁজ

বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঝড়ের কবলে পড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে দশটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৮ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৫টি ট্রলারসহ ৮ মাঝি এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

গত শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মেঘনা নদীর কয়েকটি এলাকায় এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।

ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলোর মালিকরা হলেন বাবর মাঝি, জান মিয়া, দেলোয়ার মাঝি, হেলাল উদ্দিন, শহীদ মাঝি, মেহরাজ মাঝি ও ইউনুছ মাঝি।

হাতিয়ার ট্রলার মালিক সমিতির সদস্য লুৎফুল্লাহিল নিশান দাবি করেন, ঝোড়ো বাতাস ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে হাতিয়ার মোট ১৯টি ট্রলার ডুবে গেছে। অনেকে ট্রলারডুবির সময় পার্শ্ববর্তী ট্রলারগুলোর সহযোগিতায় কূলে উঠেছেন। এখনো অনেকে নিখোঁজ আছেন।

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, আমাদের নামার বাজার এলাকার চারটি ট্রলার ডুবে গেছে। কেউ কেউ পাড়ে উঠে আসতে পারলেও অনেকেই এখনও উঠতে পারেননি। কে এসেছেন বা কে আসেননি তার হিসাব নেওয়া কঠিন।

কোস্টগার্ড হাতিয়ার স্টেশন অফিসার সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন বলেন, যারা খবর দিতে পেরেছেন আমরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু ট্রলার গিয়ে উদ্ধারকাজ করছে। এখনো অনেক ট্রলারের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সেসব ট্রলারগুলোর বিষয়ে আমরা খবর নিচ্ছি।

ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চলাচল বন্ধ

ভোলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুরসহ স্থানীয় সব নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ ভোলার সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও জানান, সমুদ্র এলাকাভুক্ত হওয়ায় চরফ্যাশনের বেতুয়া টু ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে ভোলা-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল করবে।

এদিকে, শনিবার বিকালে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সুপারভাইজার শরীফুল ইসলাম ও ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জাহেদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নৌপথে চলাচলের জন্য ফেরি কুসুমকলি, কাবেরী, কলমিলতা, কিষানি ও কনকচাঁপা রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই সেগুলো চলাচল শুরু হবে।

ঢাকাসহ ৫ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

এদিকে, আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।


শিক্ষকদের পদোন্নতির জাঁতাকলে হাজারো শিক্ষার্থী

* তালা ভাঙলেন উপাচার্য, * বন্ধ ক্লাস, বাতিল ৪৬ পরীক্ষা * সেশনজটে শিক্ষার্থীরা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি

শিক্ষকদের পদোন্নতির আন্দোলন বনাম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন—এই দুইয়ের টানাপড়েনে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। একদিকে পদোন্নতির দাবিতে অনড় শিক্ষকরা, অন্যদিকে সেশনজটের আগুনে পুড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় টানা চারদিন অচলাবস্থার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের নির্দেশে এবং রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবনের তালা কেটে ফেলা হয়।

এদিকে, তালা ভাঙার পর দাপ্তরিক কাজ শুরু হলেও ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর কোনো লক্ষণ নেই। শিক্ষকদের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিতে ক্যাম্পাসজুড়ে এখন সুনসান নীরবতা।

আলোচনার টেবিল এড়ালেন শিক্ষকরা, চলল হাতুড়ি: ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (১১ মে)। পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে রেজিস্ট্রার ও অর্থ দপ্তরসহ সব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন।

সংকট কাটাতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটে আসেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। উপাচার্যও শিক্ষক, ডিন ও চেয়ারম্যানদের নিয়ে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষকরা আলোচনার টেবিলে বসতে সাফ রাজি হননি। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও উপাচার্যের কাছে গিয়ে তালা খোলার দাবি জানান। সব মিলিয়ে সমঝোতার সব পথ বন্ধ দেখে বাধ্য হয়েই তালা কাটার নির্দেশ দেন উপাচার্য।

তালা খোলার পর অর্থ দপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, ‘উপাচার্য স্যারের নির্দেশে তালা খোলা হয়েছে। এখন অন্তত দপ্তরের কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে করা যাবে।’

শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন যখন ‘শাটডাউন’: শিক্ষকদের এই মান-অভিমানের লড়াইয়ে বড় খেসারত দিচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন ও শাটডাউনের জেরে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬টি চূড়ান্ত পরীক্ষা বাতিল হয়েছে।

সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তাদের সহপাঠীরা যখন অনার্স শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ববির শিক্ষার্থীরা আটকে আছেন সেশনজটের বেড়াজালে। অনার্স শেষ করতে না পারায় একের পর এক সরকারি চাকরির আবেদন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে তাদের।

ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের ব্যাচের অন্য সব বিভাগের অনার্স শেষ, রেজাল্টও হয়ে গেছে। শুধু আমাদের পরীক্ষাগুলো আটকে আছে শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে। তাদের দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, কিন্তু আমাদের জীবন ধ্বংস করে কেন? দিনশেষে বলির পাঁঠা তো আমরাই!’

‘১২ জনের জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অচল হতে পারে না’: এই আন্দোলনকে কোনোভাবেই যৌক্তিক মনে করছেন না বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘২৪ জন অধ্যাপকের পদের বিপরীতে ১২ জনের পদ খালি আছে, বাকিদের পদ এখনো তৈরিই হয়নি। এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি মিলে সমাধান করবে। কিন্তু মাত্র ১২ জন শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমও নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখেননি। তিনি বলেন, ‘আমি নিজে বসতে চেয়েছি, প্রশাসনের বড় কর্তারাও এসেছেন। কিন্তু শিক্ষকরা সাড়া দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ তো স্তব্ধ করে রাখা যায় না, তাই তালা ভাঙার নির্দেশ দিয়েছি।’

শিক্ষকরা কী বলছেন : আন্দোলনকারী শিক্ষকদের পক্ষে সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরাও তো ক্লাসে ফিরতে চাই। ২০২৩ সাল থেকে আমাদের কোনো পদোন্নতি নেই, এই কষ্টটা তো কেউ বুঝছে না। পরীক্ষাগুলো বাতিল হলে পরে চাপ আমাদের ওপরই আসবে। শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদেরও খারাপ লাগে।’

শিক্ষকদের মুখে এই ‘খারাপ লাগার’ কথা শোনা গেলেও, বাস্তবে পরীক্ষার খাতা কিংবা ক্লাসরুমে ফেরার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। তালা ভাঙার পর দপ্তরের দরজা খুললেও, শিক্ষার্থীদের ভাগ্যের দরজা কবে খুলবে—সেই উত্তর এখনো জানা নেই কারও।

তবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিয়ে বলেন, ২৪ জন অধ্যাপকের মধ্যে ১২ জনের পদ রয়েছে বাকিদের পদ সৃষ্টি হয়নি। সেটা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে সেখানে শিক্ষামন্ত্রালয় থাকবে, ইউজিসি থাকবে সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। কিন্তু ১২ জন শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে তা তো হতে পারে না।

শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়। আমরা আহ্বান করবো শিক্ষকরা যেন ক্লাসে ফিরে আসেন আর বাকি বিষয়গুলো উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে।


পুকুরপাড়ে মা-শিশুর মাটিচাপা লাশ নিয়ে কুকুরের টানাটানি, দুর্গন্ধ পেয়ে উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর সদর উপজেলার একটি পুকুরপাড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক মা ও তার শিশু সন্তানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারের আগে তাদের লাশ টেনে বের করার চেষ্টা করে কয়েকটি কুকুর।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুধুম এলাকা থেকে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন।

নিহতরা হলেন- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) ও তার মেয়ে সামিয়া (০২)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চরাঞ্চলের একটি নির্জন পুকুরপাড়ে কুকুর লাশ টানাটানি করার সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মৃতদেহের অংশ বিশেষ দেখতে পান।

খবর পেয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহগুলো আংশিক গলিত ও বিকৃত অবস্থায় ছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

কয়েকদিন আগে কে বা কারা মা ও শিশুকে হত্যার পর লাশ গোপন করতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।


 ‘টিকটক করার সময়’ ট্রেনে কাটা পড়ে ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর মহানগরীর ধীরাশ্রম রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

নিহতদের একজন মো. নাঈম। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার আমরাইদ এলাকার মো. নোমান উদ্দিনের ছেলে। নাঈম মহানগরীর ধীরাশ্রম এলাকায় খালার বাড়িতে থেকে স্থানীয় গীর্জা কিশোর (জিকে) উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন এবং এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় নিহত অপর তরুণের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ট্রেনের আঘাতে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নাঈমের বন্ধু।

নিহত নাঈমের খালাতো ভাই মো. আব্দুর কাদির বলেন, নাঈম এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। গত বুধবার (১৩ মে) রাত ৯টার দিকে জরুরি কাজের কথা বলে মোবাইল নিয়ে সে বাসা থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ধীরাশ্রম স্টেশনের পাশে নাঈম ও তার বন্ধুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।

জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার (১৩ মে) রাত ১০টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘তিস্তা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ধীরাশ্রম স্টেশন অতিক্রম করছিল। ওই সময় ওই দুই তরুণ ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। অসচেতনভাবে রেললাইনের ওপর টিকটক করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।


সাটুরিয়ায় ধান কাটা উৎসব: বিঘায় ৬০ মণ ফলনের আশা কৃষির ডিজির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

আগামী দিনে বিঘাপ্রতি ৬০ মণ ধান ফলন অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা ১১টায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ বোরো মৌসুমে স্থাপিত প্রদর্শনী প্লটে ব্রি ধান-১০২ জাতের ধান কাটা উৎসব ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডিজি বলেন, ‘আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল জাত ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে। ব্রি ধান-১০২ একটি উন্নত জাত, যা শুধু উচ্চ ফলনশীলই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে জিংক রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিতে এখন গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, যা কৃষকের জীবনমান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। অনেকেই মনে করেন বেশি সার ব্যবহার করলে ফলন বাড়ে, কিন্তু এটি সঠিক ধারণা নয়।’ সঠিক মাত্রায় ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে সার ব্যবস্থাপনা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ভুট্টা চাষ কমানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধান উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কৃষিতে আধুনিকায়নের ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘আগে যেখানে কৃষকরা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কাজ করতেন, এখন প্রযুক্তির ব্যবহার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে অনেক অগ্রসর হয়েছেন তারা।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. হুমায়ুন কবির, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোস্তফা খান, ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ, কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক মো. কাইয়ুম চৌধুরী, সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাসনিমসহ কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও পার্টনার প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষকদের ব্রি ধান-১০২ জাত সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পরে প্রদর্শনী প্লট থেকে ধান কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ দিবসের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শতাধিক কিষাণ-কিষাণি অংশ নেন। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


জমে উঠছে জীবননগরের পশুহাট, চাহিদা বেশি মাঝারি গরুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারি পশুহাট।

হাটে এবারও দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা অনেক বেশি। বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় দুশ্চিন্তায় আছে খামারি ও চাষিরা। ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সাপ্তাহিক এই পশুহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে হাজারেরও বেশি গরু, ছাগল, ভেড়া মহিষের উপস্থিতি ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারিরা কোরবানির পশু ক্রয়ের জন্য হাটে এসেছেন। বেপারিদের সঙ্গে খামারিদের গরু বেচাকেনা করতে দীর্ঘক্ষণ ধরে দর কষাকষি করতে দেখা গেছে। কোরবানির পশু ও ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগমে হাটটি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।

হাটের বিশাল আকৃতির গরুগুলো সবার নজর কাড়লেও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝারি সাইজের গরুতে আগ্রহ বেশি।

কোরবানির গরু কিনতে আসা রাকিবুল ইসলাম জানান, কোরবানি দেওয়ার জন্য হাটে একটি গরু কিনতে এসেছি। বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। একটু বড় সাইজের গরুগুলো দাম বলছে দুই লাখ টাকা। ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে মাঝারি সাইজের একটি গরু খুঁজছি। কিন্তু গরু পছন্দ হলেও দেড় লাখ টাকার নিচে দাম বলছে না।

খামারি জামাল হোসেন বলেন, ‘কোরবানির জন্য ফার্মে ৮টি গরু পালছিলাম। আজকে ৪টি গরু হাটে নিয়ে এসেছি। গরুর দাম শুনে অনেকই বলছে দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এখন গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গরু লালন-পালন করতে অনেক খরচ হয়। সব কিছু হিসেব করে দাম চাওয়া হচ্ছে।’

ফরিদপুর থেকে গরু কিনতে আসা বিল্লাল বেপারি বলেন, ‘এই হাটে অনেক গরু আমদানি হয়। যার কারণে ট্রাক নিয়ে গুরু কিনতে এসেছি। ১০টি গরু কেনা হয়েছে। আর ৫টি গরু কিনে ঢাকায় নিয়ে যাব। মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি থাকার কারণে এই ধরনের গরু বেশি কেনা হয়েছে।’

কোরবানির ছাগল কিনতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আজকের হাটে কোরবানি দেওয়ার উপযুক্ত প্রচুর ছাগল উঠেছে। ছাগলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ২০ হাজার টাকায় পছন্দমতো একটি ছাগল কিনতে পেরেছি।’

হাট মালিক কর্তৃপক্ষ জানান, কোরবানির ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকি রয়েছে। যার কারণে হাটে কেনাবেচা এখনো সেভাবে বাড়েনি। অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সবসময় সতর্ক করা হচ্ছে। মেশিনের মাধ্যমে জাল টাকা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গরুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে।


বিআরটিসির ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু ২৩ মে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। আগামী ১৭ মে থেকে এসব বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর ২৩ মে থেকে বাস সার্ভিস শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিআরটিসির জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী ভাড়ায় যাতায়াত নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

জনসাধারণকে বিআরটিসির এই বাস সেবা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি

আপডেটেড ১৪ মে, ২০২৬ ২১:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুতকরণ, চামড়া সংরক্ষণ এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর মিরপুরে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা যে পদ্ধতি শিখবেন, সেই নিয়ম অনুসরণ করেই সবাইকে কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ লবণ বিনামূল্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।

তিনি আরও বলেন, মৌসুমি শ্রমিকদেরও সঠিক নিয়ম জানাতে হবে, যাতে তারা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কাজ করতে পারেন। কোরবানির সঙ্গে সঙ্গেই রক্ত পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হবে। কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে বাসার সামনে রেখে দিলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা তা দ্রুত অপসারণ করবে।

প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো শহর পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন শুধু আমার নয়, সবার। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে পারবো।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, এবার সারা দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা ১ কোটি ১ লক্ষ ৬ হাজার। কোরবানির ঈদে উৎপন্ন বিপুল পরিমান চামড়া ও মাংসের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। পশু কোরবানির ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নিলে মাংশের মান ঠিক থাকে এবং চামড়ার গুণগত মান বজায় রাখতে কী করতে হবে, তা হাতে-কলমে দেখানো হবে। ঈদের আগে জুমার খুতবায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করতে তিনি ইমামদের অনুরোধ করেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর ইমাম এবং প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থী মুফতি হাবিবুল্লাহ বলেন, হালাল পদ্ধতিতে ও সহিহভাবে পশু কুরবানি করতে হবে। জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে যাতে রক্ত সম্পূর্ণ বের হয়ে যায়। এরপর পানি ঢেলে পরিষ্কার করলে রক্ত জমাট বাঁধবে না।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই প্রশিক্ষণ কোরবানির সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ, চামড়ার গুণগত মান রক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


গ্যাস বিস্ফোরণে বাবার পর একে একে মারা গেল ৩ ভাইবোন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধের ঘটনায় বাবার পর একে একে মারা গেল ছোট ছোট ৩ ভাইবোন। হাসপাতালে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তাদের মা সালমা আক্তার।

সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টার মুন্না (১২) আর দুপুর ১টার দিকে মারা যায় মুন্নি (৭)। এর আগে গত বুধবার (১৩ মে) তাদের বোন কথা (৪) এবং সোমবার মারা যান তাদের বাবা আবুল কালাম (৩৫)।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, মুন্নার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তাদের মা সালমা আক্তার ৬০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় এখনো ভর্তি আছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

গত রোববার (১০ মে) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লা গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন সবজি বিক্রেতা মো. আবুল কালাম, তার স্ত্রী সালমা আক্তার। তাদের ছেলে মুন্না, দুই মেয়ে কথা ও মুন্নি।


হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিন্নাত আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে নিহতের ছেলে আবু হুরায়রা বাদী হয়ে মামলাটির আবেদন দায়ের করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। পরে বিকালে মামলাটি আমলে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত করে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোকছেদুল হাসান মন্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সকালে মামলাটি দায়ের করা হলে বিকালে আদালত আমলে নেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থাকার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস.এম.এফ নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল এবং মশিউর রহমান লাভলু, হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার জুনায়েদ।


মাগুরায় আরইউটিডিপির কর্মশালায় পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী গড়ায় গুরুত্বারোপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা পৌরসভার আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আরইউটিডিপি) আওতায় দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টায় মাগুরা পৌরসভা মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পৌর প্রশাসক ইমতিয়াজ হুসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ পরিকল্পনা, পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখা এবং সিআরএপিবিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান বারী।

প্রকল্পের নগর পরিকল্পনাবিদ সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন, মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ জাহিদুল ইসলাম, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মো. আল আমিন, স্থপতি আজমিরা আক্তার ও ফারহানা ইসলাম।

কর্মশালায় স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রদ্যুত কুমার দাস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

এ ছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন, জামায়াতের পৌর আমীর আশরাফ আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, এনজিও প্রতিনিধি জেসমিন আরা মেরী এবং টিএলসিসির সদস্যরা।

বক্তারা মাগুরা পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


ধোবাউড়ায় মরা মুরগি বিক্রির দায়ে জেল-জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় বাজারে মরা মুরগি জবাই করে বিক্রির দায়ে একজনকে এক মাসের জেল এবং দোকান মালিক সুলতান মিয়াকে ২০ হাজার টাকা ও তার ছেলে নাজমুল হককে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন।

অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ধোবাউড়া থানা পুলিশ।


দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এমপি. অধ্যাপক ডা.আনোয়ারুল হক

ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ারুল হক। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সরকারের মানবিক দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের অংশ। সরকার সবসময় অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং যেকোনো দুর্যোগে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। মানবিক সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


ভোক্তা অধিকার বিরোধী অপরাধে প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক সদর উপজেলার জামরুলতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে পরিচালিত অভিযানে তেল শিশুখাদ্যের দোকান বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়।

এসময় পূর্বে সতর্ক করা স্বত্তেও নিম্নমানের অননুমোদিত শিশুখাদ্য বিক্রয়, মোড়কীকরণ বিধি বহির্ভূত শিশু খাদ্য বিক্রয়, নিম্নমানের শিশুখাদ্যে বিভিন্ন খেলনা দিয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় ইত্যাদি অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৭ ও ৫১ ধারায় জামরুলতলার মেসার্স মেসার্স সুভাষ স্টোরকে ১,০০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় ভবিষ্যতে এধরণের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে পুনরায় সতর্ক করা হয়।

পরবর্তীতে অন্যান্য পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এসময় সবাইকে নকল ভেজাল পণ্য বিক্রয় না করা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, মুল্যতালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন করা, পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার যথাযথভাবে প্রদান ও সংরক্ষণ করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ড্যামেজ পণ্য বিক্রয় না করা, পণ্যের মোড়কীকরণ বিধি বহির্ভূত পণ্য বিক্রয় না করা, অতিরিক্ত মুনাফা না করা ইত্যাদি ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।

সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মো: ফয়েজুল কবীর, ডি এস আই, মাগুরা ও মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।


banner close