বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ থেকে গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি গতকাল যশোর এলাকায় অবস্থানের পর আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ সময় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-নোয়াখালীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রবণ বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারে গত শুক্রবার সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার শহর এলাকায় দেখা দেওয়া জলাবদ্ধতা গতকাল খানিকটা কমে গেলেও জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছে। এদিকে প্রবল ঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার ও নোয়াখালীর হাতিয়ায় অন্তত ২০টি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ট্রলারে থাকা শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ। গতকাল তাদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সৈকতে ভেসে আসার পর সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর জেলায় লঞ্চ চলাচল। আজ ঢাকাসহ ৫ বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে গত শুক্রবারের তুলনায় গতকাল শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বেড়েছে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা। জানা গেছে, জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলারসহ অন্তত ৭০ জেলে নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছেন মালিকরা। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সাগরের উপকূলে ভেসে এসেছে বলে জানা যায়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২১০ মিলিমিটার। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা কক্সবাজারের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ৪৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।
এদিকে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জেলার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল এলাকার সকল সড়ক, সৈকত-সংলগ্ন এলাকা, মাকের্ট এলাকা থেকে নেমে গেছে পানি। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী এলাকা থেকেও পানি নেমে গেছে বলে জানা যায়।
তবে শহরের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়াসহ ৮টি নিম্নাঞ্চল এখনও পানিবন্দি রয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় হোটেল মোটেল জোনে এখন পানি নেমে গেছে। তবে বৃষ্টি হলেই এখন আতংক তৈরি হচ্ছে। মুহুর্তের মধ্যেই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নালা উন্নত করা না হলে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
উখিয়া উপজেলা ৪০টির বেশি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উখিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নে।
এই দুই ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ গত দুই দিন ধরে পানির নিচে বসবাস করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না হচ্ছে না অধিকাংশ ঘরে।
জালিয়া পালং ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া, ঘাটঘর পাড়া পাইন্যাশিয়া, সোনাইছড়ি, সোনারপাড়া ডেইপাড়া মনখালি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, মনির মার্কেট, রুমখা পালং, বড়বিল, পাতাবাড়ি, নলবুনিয়া, খেওয়া ছড়ি, বৌ বাজার, কুলাল পাড়া, পাগলির বিল, রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং, মাছকারিয়া, লম্বাশিয়া তুতুরবিল, পিনজির কুল, রত্নাপালং ইউনিয়নের সাদৃ কাটা, পশ্চিম রত্না, খোন্দকার পাড়া, গয়াল মারা ও পালংখালী ইউনিয়নে থাইংখালী, রহমতের বিল, বালুখালী তৈল খোলা, আঞ্জুমান পাড়া ফারিবিল সহ অন্তত ৪০টি গ্রামে পানি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উখিয়া উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী জানান, বন্যায় জালিয়া পালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন এর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির হোসেন জানান, বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষের জন্য জেলা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টিতে চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা যায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্খা রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, তিনদিনের টানা বৃষ্টির কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু বসতঘর ও দোকান-পাটে পানি ঢুকেছে।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলার নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ থাকা এসব ট্রলার ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু জেলে সাঁতার কেটে উপকুলে ফিরেছে। উদ্ধার হয়েছে ৫ জনের মরদেহও। ফলে এসব ট্রলারের আরও অন্তত ৬৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
শনিবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের নাজিরারটেক, পেঁচারদ্বীপ, ইনানী ও কলাতলী উপকুলে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার শেখেরকিল এলাকার নুরুল আমিন (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার চরমবা এলাকার মোহাম্মদ জালাল (৩৭) ও আব্দুল করিম (৩৫) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুই জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ৫টি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবল বর্ষণে নদীভাঙন, চকরিয়ায় শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া
দৈনিক বাংলার চকরিয়া- পেকুয়া প্রতিনিধি জানায়, টানা তিনদিনের বারিবর্ষণে কক্সবাজার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে ১৫ টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে আতঙ্কে ঘরছাড়া হয় শতাধিক পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বদরখালী পওর শাখার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. জামাল মুর্শিদ জানান, শনিবার বেলা বারোটায় মাতামুহুরি নদীর পানি ৫ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরি নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার।
জানা গেছে, তিনদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
হাতিয়ার মেঘনায় ১০ ট্রলারডুবি, ৮ মাঝিসহ ৫ ট্রলার নিখোঁজ
বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঝড়ের কবলে পড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে দশটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৮ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৫টি ট্রলারসহ ৮ মাঝি এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।
গত শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মেঘনা নদীর কয়েকটি এলাকায় এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলোর মালিকরা হলেন বাবর মাঝি, জান মিয়া, দেলোয়ার মাঝি, হেলাল উদ্দিন, শহীদ মাঝি, মেহরাজ মাঝি ও ইউনুছ মাঝি।
হাতিয়ার ট্রলার মালিক সমিতির সদস্য লুৎফুল্লাহিল নিশান দাবি করেন, ঝোড়ো বাতাস ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে হাতিয়ার মোট ১৯টি ট্রলার ডুবে গেছে। অনেকে ট্রলারডুবির সময় পার্শ্ববর্তী ট্রলারগুলোর সহযোগিতায় কূলে উঠেছেন। এখনো অনেকে নিখোঁজ আছেন।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, আমাদের নামার বাজার এলাকার চারটি ট্রলার ডুবে গেছে। কেউ কেউ পাড়ে উঠে আসতে পারলেও অনেকেই এখনও উঠতে পারেননি। কে এসেছেন বা কে আসেননি তার হিসাব নেওয়া কঠিন।
কোস্টগার্ড হাতিয়ার স্টেশন অফিসার সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন বলেন, যারা খবর দিতে পেরেছেন আমরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু ট্রলার গিয়ে উদ্ধারকাজ করছে। এখনো অনেক ট্রলারের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সেসব ট্রলারগুলোর বিষয়ে আমরা খবর নিচ্ছি।
ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ভোলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুরসহ স্থানীয় সব নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ ভোলার সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, সমুদ্র এলাকাভুক্ত হওয়ায় চরফ্যাশনের বেতুয়া টু ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে ভোলা-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল করবে।
এদিকে, শনিবার বিকালে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সুপারভাইজার শরীফুল ইসলাম ও ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জাহেদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নৌপথে চলাচলের জন্য ফেরি কুসুমকলি, কাবেরী, কলমিলতা, কিষানি ও কনকচাঁপা রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই সেগুলো চলাচল শুরু হবে।
ঢাকাসহ ৫ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
এদিকে, আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
গাজীপুরে পৃথক দুই স্থান থেকে আগুনে পোড়ানো দুই অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের হত্যার পর বনের ভেতর নিয়ে মরদেহগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের এমসি বাজার- বরমি সড়কের বিন্দাবন এলাকার গজারি বনের ভেতর অজ্ঞাত এক যুবকের (২০) মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
অন্যদিকে গাজীপুর সদরের ভবানীপুর এলাকায় দুদিন আগে নিখোঁজ হওয়া মাহবুব নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর আগুনে পোড়ানো মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানান, শনিবার দুপুরে ভবানীপুর এলাকায় বনের ভেতর আগুনে পোড়া মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, শ্রীপুর ও ভবানীপুর এলাকা থেকে দুইজনের আগুনে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলা ও দাউদকান্দি উপজেলা এলাকায় পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শামসুল আলম শাহ।
পুলিশ জানায়, তিতাস উপজেলার উজিরাকান্দি এলাকায় মোছা. নাছরিন আক্তারের বাড়ির গেটের তালা ভেঙে একদল ডাকাত প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে মারধর করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। এ ঘটনায় তিতাস থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা (নং-১৪) দায়ের করা হয়।
এদিকে কাকিয়াখালী এলাকায় মঞ্জুরা বেগমের বাড়িতেও একই কায়দায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। এ ঘটনায় তিতাস থানায় আরেকটি মামলা (নং-১৫) রুজু হয়।
মামলা দুটির তদন্তে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিতাস ও দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে জীবন মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, নাসির, আবু তাহের, জামাল কুদ্দুস, ওবাইদুল, হানিফ, সৌরভ হোসেন, জহির, মকবুল হোসেন ও কামাল রয়েছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে একটি স্বর্ণের চেইন, তিনটি স্বর্ণের কানের দুল, রূপার নূপুর ও চেইন, সিটিগোল্ডের গহনা, ৩৭ হাজার ২৪৭ টাকা নগদ অর্থ, ১৩টি মোবাইল ফোন, দুটি সিএনজি, দেশীয় অস্ত্র (ছুরি, কাটার, শাবল, লোহার রড), বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুধের প্যাকেট ও কৌটা, ডিজিটাল ক্যামেরা, রাউটার, টর্চলাইট, ব্লেন্ডার মেশিন, মুখোশ ও ট্রাভেল ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার আলোচিত মিলন হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করেছে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা উপশহর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আব্দুর রাজ্জাক নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের বীরপলি গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বশত্রুতার জেরে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের বুড়ইল গ্রামের দিলবর হোসেনের ছেলে মিলন হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় পরদিন রাতে নিহতের পিতা বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে নন্দীগ্রাম থানায় হত্যা মামলা করেন।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত শুক্রবার মধ্যরাতে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা উপশহর এলাকা থেকে মিলন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গতকাল শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
ডায়াবেটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতি পরিচালিত মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতাল চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক মোশফিকুর রহমান টরলিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ‘আন্দোলনের বাজার’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আনিসুজ্জামান ডাবলু এবং কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের রিপন। সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের সহসভাপতি হাফিজুর রহমান কাল্টু।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
স্বাগত বক্তব্যে মোশফিকুর রহমান টরলিন বলেন, ‘ডায়াবেটিস একটি নীরব ঘাতক। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।’
এ সময় রোগীদের উদ্দেশ্যে খাদ্যনিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওষুধ সেবন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা শেষে উপস্থিত রোগী ও স্বজনদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়।
নওগাঁর পত্নীতলায় প্রতিমা রাণী (২৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের উজিরপুর চৌধুরীপাড়া এলাকায় ওই গৃহবধূর নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতের কোনো এক সময়ে ওই গৃহবধূ দাম্পত্য কলহের জেরে তার স্বামীর হাতে খুন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহটি উদ্ধারের পর পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি শ্মশান ঘাট থেকে ওই গৃহবধূর স্বামী প্রদীপ চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে স্ত্রীর কপালে আঘাত করে প্রদীপ। সেই আঘাতে অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে যায় গৃহবধূ প্রতিমা রাণী। এ অবস্থাতেই স্ত্রীকে নিয়ে রাত্রীযাপনের পর সকালে প্রদীপ লক্ষ্য করেন প্রতিমা রাণী মারা গেছেন। তাৎক্ষণিক সে বাড়ি থেকে শ্মশান ঘাটে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর প্রতিমার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়।
পত্নীতলা থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের একটি টিম পাঠিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহটি উদ্ধারের পর নিহতের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদীপ চৌধুরীকে আটক করা হয়েছিল। প্রতিমা রানির বাবা নরেশ চৌধুরী বাদী হয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেছেন।’
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জীবননগরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পরিদর্শন করেছেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান, স্থানীয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ইউএনও জানিয়েছেন, জীবননগর উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ও উপযোগী খালের নাম প্রস্তাবের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকাবাসীর মতামত আহ্বান করা হয়েছিল। এলাকাবাসীর প্রস্তাবিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পরিদর্শন করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় জীবননগর উপজেলায়ও খাল খনন কার্যক্রম শুরু হবে।
খাল খনন কার্যক্রমের বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ প্রদানের জন্য জীবননগর বাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইউএনও।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বগুড়ার সারিয়াকান্দির জোড়গাছার এক শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে চাঁদের আলো শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী হিসেবে ছোলা, খেজুর ও চিনি এবং লাচ্ছার সমন্বয়ে বিশেষ প্যাকেট প্রস্তুত করে ১ শতাধিক পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা হয়েছে। রমজানের তাৎপর্য ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে এই উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় জোড়গাছা মধ্যপাড়া নিজস্ব কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইফতার সামগ্রী বিতরণের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মহিদুল হাসান।
ইফতার সামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে কষ্ট হচ্ছিল। এই সহায়তা তাদের রমজানে স্বস্তি এনে দিয়েছে।’
সংগঠনের নেতারা জানান, রমজান আত্মসংযম ও সহমর্মিতার মাস। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে এসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন মহিদুল মেম্বার।
পটুয়াখালী বাউফল বগা ইউনিয়নের রাজনগর ৪নং ওয়ার্ডের আকন পাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় আকন পাড়ায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আকন পাড়ার পুরোনো আয়রন ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০-২৫০ জন মানুষ এই ব্রিজ ব্যবহার করে বগা বাজার ও স্থানীয় মসজিদে যাতায়াত করেন। ব্রিজটির অবস্থা নাজুক হওয়ায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, তাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণে একটি ব্রিজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি সাইড সিলেকশন জটিলতার কথা উল্লেখ করে ব্রিজটি কৌখালী এলাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে চারটি বাড়ি এবং প্রায় ২০০-২৫০ জন মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এই ব্রিজ। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। ব্রিজ বরাদ্দ পাওয়ার পরও এখন তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।’
আরেক বাসিন্দা রবিউল আকন বলেন, ‘মসজিদ খালের ওই পাড়ে হওয়ায় প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আমাদের এই ব্রিজ পার হতে হয়। ভাঙা ব্রিজ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করা সম্ভব হয় না। আমরা চাই, আমাদের এখানেই ব্রিজটি নির্মাণ করা হোক।’
এ বিষয়ে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ‘জায়গা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে। প্রায় দুই বছর আমরা অপেক্ষা করেছি। নির্ধারিত স্থানের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে জমির মালিক দাবি করে সেখানে কাজ করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন। এ অবস্থায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি উন্নয়ন কাজ অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখা যায় না। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্রিজটি অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা স্থানীয়দের বলেছি, জমির বিরোধ মিটমাট হলে এবং নতুন করে বরাদ্দ এলে সেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। বিষয়টি আমরা তাদের বুঝিয়েছি। ঠিকাদার কাজ শুরু করার জন্য মালপত্র নিয়ে গিয়েছিল; কিন্তু জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আগামীতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ওই স্থানেই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
মেহেরপুরে বাজারগুলোতে সিন্ডিকেটের দৈরাত্ম্যে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে তরমুজের দাম। বাড়তি দামে তরমুজ বিক্রি করে হাসছে ব্যাবসায়ীরা, তবে অধিক দামে তরমুজ কেনাই ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং না থাকার অভিযোগের তীর এখন প্রশাসনের দিকে।
রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সুযোগ বুঝে কিছু ব্যবসায়ী তরমুজের দাম বাড়াচ্ছেন বলে এমনটিই অভিযোগ ক্রেতাদের।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে নিম্ন ও মধ্য আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীতকাল এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাতে চলছে রমজান মাস। এর মধ্যেই তরমুজের দাম অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়ালেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তেমন তৎপরতা চোখে পড়ে না। নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এই তরমুজ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়।
তরমুজ কিনতে আসা গৃহবধূ আসান্নুর খাতুন বলেন, ‘সারাদিন রোজা থাকার পর কেনা তরমুজ খেতে ভালো বাসে। তবে বাজারে তরমুজের যে দাম তাতে তরমুজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে।’
তরমুজ কিনতে আসা সাবেক সেনা সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, প্রশাসন করেটা কী! বাজারগুলো বেশি করে মনিটরিং করা দরকার, যাতে সিন্ডিকেট তৈরি না হয়। অনেকের সাধ থাকলেও সাধ্য হচ্ছে না বাড়তি দামে তরমুজ কিনে খাওয়ার।
তরমুজ কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক সেলিম বলেন,বাজারে আমদানি করা বিদেশী ফল এমনিতেই নাগালের বাইরে চলে গেছে। এখন যেনো দেশি ফল তরমুজও সেই পথে হাটছে। তরমুজ ৯০ টাকা কেজি।এত দাম হবে ভাবতেও পারিনি। তারপরও কপাল ভালো যে তরমুজ কেটে বিক্রি করছে। ইফতারের সময় তরমুজটা খেতে ভালো লাগে, তাই বেশি দাম হওয়ায় অর্ধেকটা কিনলাম।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান বলেন,বর্তমানে বাজারে যে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে তা আগাম জাতের, তাই বাজারে দাম একটু বেশি। কিছুদিন পর এই মৌসুমের যে তরমুজ রয়েছে, তা বাজারে এলে দাম আশা করি কমে যাবে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশ আমরা প্রতিনিয়তই বাজার মনিটরিং করছি। বাজার মনিটরিংআরও বৃদ্ধি করা হবো। আর অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সিন্ডিকেট ভাঙার।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চুড়ান্ত দ্বারপ্রান্তে বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণার বিষয়টি। যেহেতু বগুড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জেলা, তাই সিটি করপোরেশনের বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বগুড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জননন্দিত নেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া বগুড়ার বৌমা। বর্তমান বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে জনপ্রিয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বগুড়ার সন্তান। এই বগুড়া থেকে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। পরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে তিনি বগুড়া সদর আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। বগুড়ার মানুষ সবকটি আসনে বিপুল ভোটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করেছেন। বগুড়ার মানুষের প্রচুর আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আমাদের বঞ্চনা রয়েছে। বঞ্চিত দায়ভার রয়েছে। সবকিছু মিলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সুন্দর বগুড়া গড়ার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা সব এমপি মিলে কাজ করব। দীর্ঘ ১৭ বছর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বগুড়া। বঞ্চিত বগুড়ায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে কাজ করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মলেন কক্ষে পৌঁছালে স্থানীয় সব সরকারি র্কমর্কতা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান তাকে ফুলেল শুভচ্ছো জানান।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
এ সময় জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ র্কমর্কতা ও তাদের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেট-সংলগ্ন একটি বইয়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে মাদকসেবনের অপরাধে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ত্রিশাল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত সিদ্দিকী এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেটের কাছের একটি বইয়ের দোকানের পেছনের গোপন কক্ষ থেকে মাদকসেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেন ওই ঘরটিতে নিয়মিত মাদকের আসর বসত। উপস্থিত স্থানীয় জনগণের সামনেই তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করে। আটককৃতদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দণ্ড প্রদান কর হয়েছে। মো. মোশারফ হোসেন (৩৫) তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মানিক মিয়াকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী জানান, মাদকনির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান জিরো টলারেন্স নীতিতে অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকার আশেপাশে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে প্রভাবশালী মাটির ব্যবসায়ীরা। নোয়াখালী-১ আসনের এমপি মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেও তা কার্যকর করতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন।
গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা হল রুমে সরকারি কর্মচারী- কর্মচারীদের সাথে আলোচনা সভায় এই সব হুঁশিয়ারি দেন নোয়াখালী- ১ (সোনাইমুড়ী- চাটখিল) আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলায় জোরপূর্বক ভয়-ভীতি দেখিয়ে এই চক্র সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করে রেখেছে। প্রশাসনের চোখের সামনে এ অনিয়ম হলেও তারা অজানা কারণে নির্বিকার বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ফসলি জমির মাটি কাটা প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আকতার। তিনি জয়াগ ইউনিয়নের আনন্দীপুর গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম টিপুর ১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মাটি কাটার ১টা ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।অপরদিকে,উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলার ওয়াসেকপুর গ্রামে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।এ সময় মাটি ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসন নীরব থাকায় ভূমি আইন অমান্য করে ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসবে মেতেছে এই চক্র। প্রতিদিন তারা উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটাতে বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যেসব পরিবহনে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাতে গ্রামের সড়কগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একদিকে ফসলের ক্ষেত উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামের রাস্তায় ভারী পরিবহন চলাচলের কারণে রাস্তা ভেঙে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। ধুলাবালিতে বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের এক কর্মচারী জানান,স্থানীয় এমপি নির্দেশ দেয়ার পর গত ৪ দিনে উপজেলা প্রশাসন নামমাত্র দুইটি মোবাইল কোট করেছে। উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় অর্ধ শতাধিক স্পটে রাতের বেলায় ফসলী জমি থেকে মাটি কাটা হয়। অদৃশ্য কারণে প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে। এতে পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।
কৃষক বাকের মিয়া বলেন, প্রায় ১০ ফুট গভীর করে জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার ফলে আশপাশের জমির মালিকরা শঙ্কায় আছেন। কারণ যেকোনো সময় জমি ধসে যেতে পারে।
কৃষক সবুজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি বন্ধের জন্য ভূমি অফিস, ইউএনও অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আমরা গরীব মানুষ। আমাদের জমিজমা ধসে গেলে কার কী!
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের বক্তব্য নিতে তার ফোনে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
কুড়িগ্রামে ফেলে দেওয়া মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশে ভাগ্যবদল হয়েছে অনেক দরিদ্র পরিবারের। পাশাপাশি এই আ্ঁশ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ রোধ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে বেকাদের।
জানা গেছে, মাছের আঁশ কয়েক বছর ধরে কুড়িগ্রামে মূল্যবান পণ্য মাছের আঁশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর কয়েকশ মণ মাছের আঁশ রপ্তানি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এই মাছের আঁশ সংগ্রহ করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান। রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্পু, ইলিশসহ হরেক রকম মাছের আঁশ চাহিদা বেশি। শুধু আঁশ নয় মাছের পেটে ফুলকা,কানসহ ফেলে দেয়া অনেক উচ্ছিষ্ট অংশেরও চাহিদা রয়েছে। বড় মাছের আঁশ সংগ্রহ করার পর সেগুলো পানিতে অথবা গরম পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে ঝরঝরে করে বিক্রির উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। পরে সেগুলো বছরে দুই থেকে তিনবার এই আঁশ বিক্রি করা হয় পাইকারের নিকট। প্রতি মণ আঁশ বিক্রি করা হয় দুই হতে চার হাজার টাকায়। শুধু আঁশ নয় মাছের নাড়িভুঁড়িও বিক্রি হয়। নাড়িভুঁড়ি ব্যবহার করা হয় মাছের খাদ্য হিসেবে। মাছের জাত অনুযায়ী আঁশের দাম ভিন্ন হয়। মাছের আঁশে প্রচুর পরিমাণে 'কোলাজেন' থাকে। যা খাদ্য,ওষুধ,ফুড সাপ্লিমেন্ট,কসমেটিকস,ওষুধ,ক্যাপসুলের খোসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ব্যাটারি,কৃত্রিম কর্নিয়া,বায়ো পাইজোইলেকট্রিক ন্যানো জেনারেটর, রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চার্জ দেয়া,ব্যাটারি তৈরি, বৈদ্যুতিক পণ্যসহ পোলট্রি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাপান, চীনসহ ইউরোপে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার সুবাদে দিন দিন এটি লাভজনক খাতে পরিণত হচ্ছে। মাছের আঁশ সংগ্রহের সাথে অনেক মানুষ জড়িযে পড়ছে। তারা বাজার থেকে আঁশ সংগ্রহ করে বিক্রি উপযোগি করে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। ফেলা দেয়া মাছের আঁশ এখন স্থানীয় পর্যায়ে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে মাছ কাটার শ্রমিকরা বাড়তি আয় করছেন। ঢাকা,রংপুর,কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারের নিকট শুকনা আঁশ কেজি প্রতি ৬০ হতে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
রাজারহাট উপজেলার সুনীল চন্দ্র এবং দীলিপ কুমার বলেন, মাছের ব্যবসা করি দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু মাছের আঁশের ব্যবসা গত বছর থেকে শুরু করেছি। এরআগে এই আঁশ ফেলে দেওয়া হতো। কিন্তু আরডিআরএস বাংলাদেশের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে এখন আর মাছের আঁশ ফেলে দেই না। প্রতিদিন মাছ ছিলানোর পরে আঁশ সংগ্রহ করে সেগুলো শুকিয়ে বছরে দুই /তিনবার বিক্রি করে থাকি। একমণ মাছের আঁশ কিনতে খরচ যায় ২০ থেকে ২৫টাকা। একমণ মাছের আঁশ শুকিয়ে এক কেজি পাওয়া যায়। সেগুলো ৬০হতে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে থাকি। এতে করে আমাদের বাড়তি আয় হচ্ছে মাছের ফেলে দেয়া আঁশ থেকে।
খলিলগঞ্জ বাজার পূর্ণ চন্দ্র দাস বলেন,বর্তমানে বড় মাছের আঁশ সংগ্রহ করে থাকি। একমাসে ২০ হতে ৩০ কেজি পর্যন্ত মাছের আঁশ হয়। এগুলো ধোঁয়া মুছা ও শুকিয়ে বছরে তিনবার বিক্রি করি ঢাকা,রংপুর,কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারের কাছে। শুধু মাছের আঁশ নয়,মাছের নারিভূরি, পাকনা,মাছের পেটে থাকা বেলুন,মাছের মাথা হরমোন থাকে সেগুলোর বিক্রি করে থাকি।
মাছ কাটা শ্রমিক সজিব বলেন, দিনে বাজারে ২/৪মণ পর্যন্ত মাছ কাটা হয়। সেই মাছের আঁশ আগে আমরা শ্রমিকরা ফেলায় দিতাম। এখন আর দেই না। বিভিন্ন মহাজনের কাছে সেই আঁশ গুলো বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় হচ্ছে।
আরডিআরএস বাংলাদেশের এগ্রিকালচার বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মশিউর রহমান বলেন, আরডিআরএস বাংলাদেশের সহায়তায় প্রায় দ্ইু বছর ধরে জেলার দুটি উপজেলায় ৬জন মৎস্যজীবিকে পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। উচ্ছিষ্ট এসব মাছের আঁশ সদস্যদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে পাইকারের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। জেলার অন্যত্র ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ চলছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন,মাছের আঁশ মানুষের রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও সারা বিশ্বে কাঁচামাল হিসেবে মাছের আঁশ জনস্বাস্থ্যের এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাচ্ছে। সম্ভাবনাময় এই খাত ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি শিল্প পরিণত হতে যাচ্ছে। এজন্য মৎস্য বিভাগ মাছের আঁশের গুণগত মান ঠিক রাখতে কাজ করেছে।