বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ থেকে গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি গতকাল যশোর এলাকায় অবস্থানের পর আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ সময় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-নোয়াখালীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রবণ বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারে গত শুক্রবার সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার শহর এলাকায় দেখা দেওয়া জলাবদ্ধতা গতকাল খানিকটা কমে গেলেও জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছে। এদিকে প্রবল ঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার ও নোয়াখালীর হাতিয়ায় অন্তত ২০টি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ট্রলারে থাকা শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ। গতকাল তাদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সৈকতে ভেসে আসার পর সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর জেলায় লঞ্চ চলাচল। আজ ঢাকাসহ ৫ বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে গত শুক্রবারের তুলনায় গতকাল শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বেড়েছে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা। জানা গেছে, জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলারসহ অন্তত ৭০ জেলে নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছেন মালিকরা। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সাগরের উপকূলে ভেসে এসেছে বলে জানা যায়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২১০ মিলিমিটার। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা কক্সবাজারের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ৪৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।
এদিকে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জেলার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল এলাকার সকল সড়ক, সৈকত-সংলগ্ন এলাকা, মাকের্ট এলাকা থেকে নেমে গেছে পানি। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী এলাকা থেকেও পানি নেমে গেছে বলে জানা যায়।
তবে শহরের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়াসহ ৮টি নিম্নাঞ্চল এখনও পানিবন্দি রয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় হোটেল মোটেল জোনে এখন পানি নেমে গেছে। তবে বৃষ্টি হলেই এখন আতংক তৈরি হচ্ছে। মুহুর্তের মধ্যেই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নালা উন্নত করা না হলে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
উখিয়া উপজেলা ৪০টির বেশি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উখিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নে।
এই দুই ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ গত দুই দিন ধরে পানির নিচে বসবাস করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না হচ্ছে না অধিকাংশ ঘরে।
জালিয়া পালং ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া, ঘাটঘর পাড়া পাইন্যাশিয়া, সোনাইছড়ি, সোনারপাড়া ডেইপাড়া মনখালি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, মনির মার্কেট, রুমখা পালং, বড়বিল, পাতাবাড়ি, নলবুনিয়া, খেওয়া ছড়ি, বৌ বাজার, কুলাল পাড়া, পাগলির বিল, রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং, মাছকারিয়া, লম্বাশিয়া তুতুরবিল, পিনজির কুল, রত্নাপালং ইউনিয়নের সাদৃ কাটা, পশ্চিম রত্না, খোন্দকার পাড়া, গয়াল মারা ও পালংখালী ইউনিয়নে থাইংখালী, রহমতের বিল, বালুখালী তৈল খোলা, আঞ্জুমান পাড়া ফারিবিল সহ অন্তত ৪০টি গ্রামে পানি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উখিয়া উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী জানান, বন্যায় জালিয়া পালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন এর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির হোসেন জানান, বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষের জন্য জেলা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টিতে চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা যায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্খা রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, তিনদিনের টানা বৃষ্টির কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু বসতঘর ও দোকান-পাটে পানি ঢুকেছে।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলার নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ থাকা এসব ট্রলার ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু জেলে সাঁতার কেটে উপকুলে ফিরেছে। উদ্ধার হয়েছে ৫ জনের মরদেহও। ফলে এসব ট্রলারের আরও অন্তত ৬৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
শনিবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের নাজিরারটেক, পেঁচারদ্বীপ, ইনানী ও কলাতলী উপকুলে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার শেখেরকিল এলাকার নুরুল আমিন (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার চরমবা এলাকার মোহাম্মদ জালাল (৩৭) ও আব্দুল করিম (৩৫) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুই জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ৫টি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবল বর্ষণে নদীভাঙন, চকরিয়ায় শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া
দৈনিক বাংলার চকরিয়া- পেকুয়া প্রতিনিধি জানায়, টানা তিনদিনের বারিবর্ষণে কক্সবাজার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে ১৫ টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে আতঙ্কে ঘরছাড়া হয় শতাধিক পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বদরখালী পওর শাখার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. জামাল মুর্শিদ জানান, শনিবার বেলা বারোটায় মাতামুহুরি নদীর পানি ৫ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরি নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার।
জানা গেছে, তিনদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
হাতিয়ার মেঘনায় ১০ ট্রলারডুবি, ৮ মাঝিসহ ৫ ট্রলার নিখোঁজ
বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঝড়ের কবলে পড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে দশটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৮ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৫টি ট্রলারসহ ৮ মাঝি এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।
গত শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মেঘনা নদীর কয়েকটি এলাকায় এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলোর মালিকরা হলেন বাবর মাঝি, জান মিয়া, দেলোয়ার মাঝি, হেলাল উদ্দিন, শহীদ মাঝি, মেহরাজ মাঝি ও ইউনুছ মাঝি।
হাতিয়ার ট্রলার মালিক সমিতির সদস্য লুৎফুল্লাহিল নিশান দাবি করেন, ঝোড়ো বাতাস ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে হাতিয়ার মোট ১৯টি ট্রলার ডুবে গেছে। অনেকে ট্রলারডুবির সময় পার্শ্ববর্তী ট্রলারগুলোর সহযোগিতায় কূলে উঠেছেন। এখনো অনেকে নিখোঁজ আছেন।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, আমাদের নামার বাজার এলাকার চারটি ট্রলার ডুবে গেছে। কেউ কেউ পাড়ে উঠে আসতে পারলেও অনেকেই এখনও উঠতে পারেননি। কে এসেছেন বা কে আসেননি তার হিসাব নেওয়া কঠিন।
কোস্টগার্ড হাতিয়ার স্টেশন অফিসার সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন বলেন, যারা খবর দিতে পেরেছেন আমরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু ট্রলার গিয়ে উদ্ধারকাজ করছে। এখনো অনেক ট্রলারের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সেসব ট্রলারগুলোর বিষয়ে আমরা খবর নিচ্ছি।
ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ভোলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুরসহ স্থানীয় সব নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ ভোলার সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, সমুদ্র এলাকাভুক্ত হওয়ায় চরফ্যাশনের বেতুয়া টু ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে ভোলা-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল করবে।
এদিকে, শনিবার বিকালে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সুপারভাইজার শরীফুল ইসলাম ও ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জাহেদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নৌপথে চলাচলের জন্য ফেরি কুসুমকলি, কাবেরী, কলমিলতা, কিষানি ও কনকচাঁপা রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই সেগুলো চলাচল শুরু হবে।
ঢাকাসহ ৫ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
এদিকে, আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
জীবননগরে দুই পিস ইয়াবাসহ মো. আশিক (২১) নামে এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম রাসেল জীবননগর মকসেদ সুপার মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। মো. আশিক জীবননগর পৌরসভার তেঁতুলিয়ার গ্রামের আরিফ উদ্দীনের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে আশিককে দুই পিস ইয়াবাসহ আটক করে জীবননগর থানা-পুলিশ। পরে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম রাসেলকে খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আশিককে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, ‘মাদকসহ আটকের পর ইউএনও স্যারকে খবর দেওয়া হয়। পরে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চলবে।’
দীর্ঘদিন প্রেম, গোপনে দুজনে দেখা-শোনা। দুজনের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে বিবাহ। মাত্র ২৯ দিনের মাথায় স্বামীর বাড়িতে মিলল ফাতেমা খাতুন নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ। টের পেয়ে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের উত্তর মেন্দা গ্রামে গত সোমবার (২ মার্চ) বিকালে তার শয়নকক্ষে এ ঘটনা প্রেমের পর বিয়ে হঠাৎ করেই গৃহবধূর আত্মহত্যাকে ঘিরে রয়েছে রহস্য। তিনি ওই এলাকার ইমন হোসেনের স্ত্রী। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অষ্টমনিষা ইউনিয়নের উত্তর কলকতি গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কন্যা ফাতেমা খাতুন ভাঙ্গুড়া একটি বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সুবাদে ইমনের সাথে পরিচয় ঘটে। এর পরে পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে ইমন ও ফাতেমার মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় দুজনেই দুজনের সাথে বিবাহ না দিলে তারা আত্মহত্যা করবে বলে উভয়েরই বাড়িতে হুমকি দিতে থাকে। দুজনের পরিবার বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে সম্মতিতে এ বছরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পরিবারিকভাবে বিবাহ দেন। এরপর থেকে ফাতেমা তার স্বামী ইমনের উত্তর মেন্দার বাড়িতে অবস্থান করত। ইমন পেশায় ভ্যানযোগে দুধ পরিবহন করেন এবং তার পিতামাতার সাথে উত্তর মেন্দায় বসবাস করেন।
ঘটনার দিন ইমনের মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। ইমন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বাড়িতেই অবস্থান করছিল। বিকালের রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। এরই ফাঁকে ফাতেমা খাতুন নিজ শয়ন ঘরের আড়ার সাথে গোলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে পড়ে। ইমনের ছোট ভাই জানালা দিয়ে বিষয়টি দেখে ডাকচিৎকার শুরু করে। তার ডাকচিৎকার শুনে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢালতে থাকে। এরপরও তিনি সুস্থ না হওয়ায় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাতেমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলে-মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করার এক মাসের মাথায় এক আত্মহত্যার মতো ঘটনা এলাবাসিকে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে কী কারণে ফাতেমা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো এমন প্রশ্নের কেউ উত্তর দিতে পারেনি। ফলে নববধূর হঠাৎ করে আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে রহস্যের জট উন্মোচন হচ্ছে না।
ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া এসআই রেজাউল করিম বলেন, হাসপাতাল মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাবনায় সোনালী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ৩ লাখ টাকা কৌশলে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পটুয়াখালী থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো- মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রবি হাওলাদার (৫১), মো. ঝন্টু শেখ ওরফে ঝন্টু (৪৯) এবং মো. দেলোয়ার হোসেন (৬১)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পাবনা অগ্রণী ব্যাংক রোডের সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে এক ভুক্তভোগী ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকাগুলো চুরি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পাবনা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে পটুয়াখালী থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
এই বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন জানান, ‘গ্রেপ্তাররা আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য। আমরা পরবর্তীতে আদালতের অনুমতিক্রমে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করব। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও লুন্ঠিত টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তারা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পটুয়াখালী পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দোকান ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী ফোরামের (টিবিএফ) উদ্যোগে মাহে রমজানের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) উপজেলা পরিষদস্থ জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ ইফতার মাহফিল হয়।
টিবিএফ’র চেয়ারম্যান আলহাজ মইনুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারি মইনুল হক বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি সাবেক আহ্বায়ক রেদোয়ান খান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জাকির হোসেন, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক খালেদ পারভেজ বখশ, বিএনপি নেতা এস এম জামান মতিন ও আবু সুফিয়ান, সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম প্রমুখ। মাহফিলে বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন দক্ষিণবাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. আশরাফ হোসেন এবং দোয়া পরিচালনা করেন উত্তরবাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. মাহমুদুর রহমান ইমরান। এ ছাড়া টিবিএফের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জমি ক্রয়-বিক্রয় একেবারে নেই বললেই চলে।ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে এ অফিসে প্রতি সপ্তাহে ১৫০/২০০ দলিল রেজিস্ট্রি হত। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত যোগদান করার পর দলিল রেজিস্ট্রি কমেছে। তিনি প্রতিটি নামজারি নথি কারণে-অকারণে বাতিল করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। হেবা ঘোষণা,ওসিয়ত নামা ও দানপত্র দলিল সম্পাদন হয়। আর নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় সাব কবলা দলিল প্রতি সপ্তাহে ১৫/২০ টি হয়ে থাকে।এতে জমির মালিকরা ক্রয় বিক্রয় করতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহারাব হোসেন স্বপন বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনের পরই এ সমস্যা নিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের এসিল্যান্ডের কাছে তারা যান। তহসিল অফিসে খাজনা পরিশোধ করতে ভোগান্তি ও সরকারি রিসিটের চেয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। নামজারি খতিয়ান করতে তহসিল অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে পূর্বের চেয়ে তিনগুন টাকা ঘুষ দিতে হয়সহ জমির মালিকদের ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ধরেন। অযথা নামজারি খতিয়ানের নথি বাতিল করে দেয়ার তথ্য তুলে ধরলেও তিনি কোন কর্ণপাত করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জমির মালিক জানান,নামজারি খতিয়ানের জন্য অনলাইনে আবেদন করলেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন তহশিলদারকে নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ দিতে হয়। এরপর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রতিটি টেবিলে টাকা দিতে হয়। আর না হয় ফাইল নড়েনা। নথি এসি ল্যান্ডের টেবিলে গেলে তিনি কাগজপত্রের ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে বাতিল করে দেন।এতে পড়তে হয় মহা বিপাকে।
সোনাইমুড়ী নকল নবিশ সমিতির সভাপতি আমানুল্লাহ বলেন, নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি তেমন না হওয়ায় দলিলের নকল সরবরাহ কমেছে। পূর্বে প্রতি সপ্তাহের ৫০০ থেকে ৭০০ দলিলের নকল সরবরাহ করা হতো। এখন সপ্তাহে ১০০ থেকে ১৫০ দলিল সরবরাহ করা হয়। এতে সরকার বিপুল অংকের অর্থ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলার জগজীবনপুর গ্রামের জমির মালিক স্বপন জানান,তার ওয়ারিশ সনদ জ্বাল করে অন্যেরা নামজারি করে নিয়েছে। তিনি আপত্তি দেয়ার ৬ মাসেও তা কোন নিষ্পত্তি হয়নি। উল্টো উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির রেজাউল তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে।
সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার সিরাজুল হক বলেন, পূর্বের তুলনায় এখন দলিল রেজিস্ট্রি কম হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নওগাঁয় ইটভাটার ট্রাক্টরের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী রিমন হোসেন (৩০) নামে এক কোচিং সেন্টারের শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের কাদিমপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিমন হোসেন সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে শিক্ষক রিমন হোসেন প্রাইভেট পড়ানোর উদ্দেশে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে আড়চা গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ সময় কাদিমপুর নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা বিবিসি ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়কের কীর্ত্তিপুর গ্রামের শশীর মোড়ে অবস্থিত বিবিসি ইটভাটায় গিয়ে চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে আঞ্চলিক মহাসড়কে তারা অবস্থান নিয়ে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানায়। পরে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার আশ্বস্ত করলে অবরোধ তুলে নেয় উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিস ও ইটভাটার কর্মীরা পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন- ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন- ট্রাক্টরের চাপায় শিক্ষক রিমন হোসেন মারা যান। ঘটনার পর ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে তালিমুল কোরআন নূরানি মহিলা মাদ্রাসা পুড়ে ছাই হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির পাঠদান চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে।
কোটালীপাড়া ফায়ারসার্ভিস স্টেশন অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং সেখানে গিয়ে একঘন্টার চেস্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। ততক্ষণে উনশিয়া তালিমুল কোরআন নুরানি মহিলা মাদ্রাটির একটি টিনের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসাটি যেহেতু অনাবাসিক সেক্ষেত্রে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রাথমিক পর্যায় বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নীলফামারীতে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা ও তাৎপর্য শীর্ষক সেমিনার হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর উপ-পরিচালক মোছাদ্দিকুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ড. হাফেজ মাওলানা রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ।
এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা। সঠিকভাবে যাকাত আদায় ও বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। তারা যাকাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিত্তবানদের যথাযথ হিসাব করে যাকাত প্রদান এবং প্রকৃত হকদারদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সেমাইয়ের বাড়তি চাহিদাকে ঘিরে ভেজাল ও অনিয়ম রোধে অভিযান জোরদার করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন সেমাই কারখানায় পরিচালিত এ অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে রংপুর বিভাগ ও নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সহযোগিতা করে র্যাব-১৩ এবং আনসার সদস্যরা।অভিযানে অনুমোদনহীন রং ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার, খাদ্যপণ্যে ব্যবহার অনুপযোগী আয়োডিনযুক্ত লবণ মজুদ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এছাড়া পণ্যের মোড়কে ঘোষিত উপাদানের সঙ্গে বাস্তব উপাদানের অসামঞ্জস্য এবং নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে সৈয়দপুরের নিয়ামতপুর এলাকার রসনি সেমাই কারখানাকে ৩০ হাজার টাকা, তাজ ফুড প্রোডাক্টস সেমাই কারখানাকে ৬০ হাজার টাকা এবং নাজ ফুড প্রোডাক্টস সেমাই কারখানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে ভেজাল বা নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে আইন মেনে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মোড়কের তথ্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ঈদকে ঘিরে যেন ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হয়, সেই লক্ষ্যেই চলছে এই নজরদারি। সচেতনতা আর কঠোর তদারকিই পারে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষিত রাখতে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি (কাঁঠালতলা) এলাকায় বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা মরদেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পানির ভেতরে থাকায় মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল।
শিশুটির নাম আশরাফুল ইসলাম। তার বাবা মো. শাহীন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে এসে জানায়, দোলনায় ছোট ভাই নেই। পরিবারের সদস্যরা ঘর ও আশপাশে খোঁজ করেও শিশুটির সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের পর এক প্রতিবেশী দাবি করেছিলেন, বোরকা পরা তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের হাতে একটি শিশু ছিল। ওই বক্তব্যের পর এলাকায় শিশু চুরির আশঙ্কা জোরালো হয়।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ জানান, নিখোঁজের পর থেকেই তদন্ত চলছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে শিশুটির দাদী অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
বরগুনার পাথরঘাটায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে হরিনঘাটা বন কেন্দ্রের বিট কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে হরিনঘাটা বন এলাকায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি ও মানবন্ধন করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএসের ফিসনেট প্রকল্পের উদ্যোগে আলোচনা সভায় হরিনঘাটা বিটের বিট কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্রের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মো. সগির আলম, ইউপি সদস্য শাহ আলম, দুলল মিয়া, রেজাউল ইসলাম, ফিসনেট প্রকল্পের আরাফাত রহমান, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করতে হলে আগে মানুষকে সচেতনতার বিকল্প নেই। আগে আমাদের সচেতন হতে হবে , বনের ও বন্যপ্রাণীর বিষয়ে গুরুত্ব বুঝতে হবে। মানুষের জন্য, মানুষের জীবিকার জন্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় আমাদের বন্যপ্রাণী হত্যা, নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মুদির দোকান মালিককে জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার নন্দীগ্রাম হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রয় না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন।
সেসময় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে নিউ ফকির স্টোরের মালিক শফিকুল ইসলাম (৪৯) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন খাদ্য পরিদর্শক আবু মুসা সরকার। সহযোগিতায় ছিলেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। দন্ডপ্রাপ্ত মুদির দোকানদার শফিকুল ইসলাম নন্দীগ্রাম পূর্বপাড়ার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, প্রত্যেক দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। আর কোনোভাবেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম ক্রেতাদের নিকট থেকে নেওয়া যাবে না। এজন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিধবা ভাতার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অনেক অসহায় নারী দীর্ঘ ৪ বছর আগে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও আজ অবধি তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি এই সুবিধা। ভুক্তভোগীরা বারবার সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘বরাদ্দ নেই’ বলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে সরকারের এই মানবিক কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দুস্থরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। চার বছর আগে ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু প্রতিবার গেলে অফিস থেকে বলা হয় বরাদ্দ আসেনি। আমাদের মতো গরিবের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।’ এছাড়া বয়স্কভাতার জন্য আরও এক ভোক্তভোগী জানান, গত বছরের ২০২৫সালে আবেদন করেছি। এখনো কোনো খবর হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবা খাতের বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বরাদ্দ সংকটের দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘুরানো হচ্ছে। এই অচলাবস্থা কবে নিরসন হবে এবং কবে থেকে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ এই সেক্টরের অনিয়ম ও গাফিলতি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যোগ্য ও প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভাতার আওতায় আনা হোক।
কমলগঞ্জ সমাজ সেবার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া জানান, বরাদ্দ না থাকার কারণে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে এই বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগকারীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।