বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ থেকে গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি গতকাল যশোর এলাকায় অবস্থানের পর আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ সময় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-নোয়াখালীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রবণ বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারে গত শুক্রবার সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার শহর এলাকায় দেখা দেওয়া জলাবদ্ধতা গতকাল খানিকটা কমে গেলেও জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছে। এদিকে প্রবল ঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার ও নোয়াখালীর হাতিয়ায় অন্তত ২০টি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ট্রলারে থাকা শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ। গতকাল তাদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সৈকতে ভেসে আসার পর সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর জেলায় লঞ্চ চলাচল। আজ ঢাকাসহ ৫ বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে গত শুক্রবারের তুলনায় গতকাল শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বেড়েছে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা। জানা গেছে, জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলারসহ অন্তত ৭০ জেলে নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছেন মালিকরা। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সাগরের উপকূলে ভেসে এসেছে বলে জানা যায়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২১০ মিলিমিটার। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা কক্সবাজারের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ৪৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।
এদিকে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জেলার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল এলাকার সকল সড়ক, সৈকত-সংলগ্ন এলাকা, মাকের্ট এলাকা থেকে নেমে গেছে পানি। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী এলাকা থেকেও পানি নেমে গেছে বলে জানা যায়।
তবে শহরের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়াসহ ৮টি নিম্নাঞ্চল এখনও পানিবন্দি রয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় হোটেল মোটেল জোনে এখন পানি নেমে গেছে। তবে বৃষ্টি হলেই এখন আতংক তৈরি হচ্ছে। মুহুর্তের মধ্যেই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নালা উন্নত করা না হলে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
উখিয়া উপজেলা ৪০টির বেশি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উখিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নে।
এই দুই ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ গত দুই দিন ধরে পানির নিচে বসবাস করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না হচ্ছে না অধিকাংশ ঘরে।
জালিয়া পালং ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া, ঘাটঘর পাড়া পাইন্যাশিয়া, সোনাইছড়ি, সোনারপাড়া ডেইপাড়া মনখালি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, মনির মার্কেট, রুমখা পালং, বড়বিল, পাতাবাড়ি, নলবুনিয়া, খেওয়া ছড়ি, বৌ বাজার, কুলাল পাড়া, পাগলির বিল, রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং, মাছকারিয়া, লম্বাশিয়া তুতুরবিল, পিনজির কুল, রত্নাপালং ইউনিয়নের সাদৃ কাটা, পশ্চিম রত্না, খোন্দকার পাড়া, গয়াল মারা ও পালংখালী ইউনিয়নে থাইংখালী, রহমতের বিল, বালুখালী তৈল খোলা, আঞ্জুমান পাড়া ফারিবিল সহ অন্তত ৪০টি গ্রামে পানি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উখিয়া উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী জানান, বন্যায় জালিয়া পালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন এর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির হোসেন জানান, বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষের জন্য জেলা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টিতে চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা যায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্খা রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, তিনদিনের টানা বৃষ্টির কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু বসতঘর ও দোকান-পাটে পানি ঢুকেছে।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলার নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ থাকা এসব ট্রলার ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু জেলে সাঁতার কেটে উপকুলে ফিরেছে। উদ্ধার হয়েছে ৫ জনের মরদেহও। ফলে এসব ট্রলারের আরও অন্তত ৬৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
শনিবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের নাজিরারটেক, পেঁচারদ্বীপ, ইনানী ও কলাতলী উপকুলে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার শেখেরকিল এলাকার নুরুল আমিন (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার চরমবা এলাকার মোহাম্মদ জালাল (৩৭) ও আব্দুল করিম (৩৫) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুই জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ৫টি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবল বর্ষণে নদীভাঙন, চকরিয়ায় শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া
দৈনিক বাংলার চকরিয়া- পেকুয়া প্রতিনিধি জানায়, টানা তিনদিনের বারিবর্ষণে কক্সবাজার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে ১৫ টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে আতঙ্কে ঘরছাড়া হয় শতাধিক পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বদরখালী পওর শাখার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. জামাল মুর্শিদ জানান, শনিবার বেলা বারোটায় মাতামুহুরি নদীর পানি ৫ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরি নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার।
জানা গেছে, তিনদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
হাতিয়ার মেঘনায় ১০ ট্রলারডুবি, ৮ মাঝিসহ ৫ ট্রলার নিখোঁজ
বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঝড়ের কবলে পড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে দশটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৮ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৫টি ট্রলারসহ ৮ মাঝি এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।
গত শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মেঘনা নদীর কয়েকটি এলাকায় এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলোর মালিকরা হলেন বাবর মাঝি, জান মিয়া, দেলোয়ার মাঝি, হেলাল উদ্দিন, শহীদ মাঝি, মেহরাজ মাঝি ও ইউনুছ মাঝি।
হাতিয়ার ট্রলার মালিক সমিতির সদস্য লুৎফুল্লাহিল নিশান দাবি করেন, ঝোড়ো বাতাস ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে হাতিয়ার মোট ১৯টি ট্রলার ডুবে গেছে। অনেকে ট্রলারডুবির সময় পার্শ্ববর্তী ট্রলারগুলোর সহযোগিতায় কূলে উঠেছেন। এখনো অনেকে নিখোঁজ আছেন।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, আমাদের নামার বাজার এলাকার চারটি ট্রলার ডুবে গেছে। কেউ কেউ পাড়ে উঠে আসতে পারলেও অনেকেই এখনও উঠতে পারেননি। কে এসেছেন বা কে আসেননি তার হিসাব নেওয়া কঠিন।
কোস্টগার্ড হাতিয়ার স্টেশন অফিসার সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন বলেন, যারা খবর দিতে পেরেছেন আমরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু ট্রলার গিয়ে উদ্ধারকাজ করছে। এখনো অনেক ট্রলারের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সেসব ট্রলারগুলোর বিষয়ে আমরা খবর নিচ্ছি।
ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ভোলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুরসহ স্থানীয় সব নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ ভোলার সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, সমুদ্র এলাকাভুক্ত হওয়ায় চরফ্যাশনের বেতুয়া টু ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে ভোলা-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল করবে।
এদিকে, শনিবার বিকালে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সুপারভাইজার শরীফুল ইসলাম ও ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জাহেদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নৌপথে চলাচলের জন্য ফেরি কুসুমকলি, কাবেরী, কলমিলতা, কিষানি ও কনকচাঁপা রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই সেগুলো চলাচল শুরু হবে।
ঢাকাসহ ৫ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
এদিকে, আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি সারাদেশে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের সব বিভাগেই ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ৯টায় আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃষ্টির এই ধারা ১৩ মার্চ শুক্রবারও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৪ মার্চ থেকে সিলেটে বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ৩৪ দশমিক ৩, আর ঢাকায় ছিল ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে বুধবার (১১ মার্চ) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটিতে ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের মধ্যে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে রংপুর জেলায়।
পাবনা শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার পশ্চিমে, প্রমত্তা পদ্মার কোলঘেঁষে অবস্থিত নিভৃত পল্লী হিমায়েতপুর। সবুজে ঘেরা শান্ত-স্নিগ্ধ এই জনপদেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক পুণ্যভূমি—শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রম। কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছেই নয়, বরং এর নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী আর আধ্যাত্মিক আবহের কারণে এই আশ্রম এখন পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
যুগপুরুষোত্তম ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ছিলেন একাধারে প্রখ্যাত চিকিৎসক, দূরদর্শী দার্শনিক এবং মানবধর্মের প্রচারক। তার স্মৃতিবিজড়িত এই আশ্রমে পা রাখলেই চোখে পড়ে আধুনিক ও ধ্রুপদী স্থাপত্যের এক অপূর্ব সমন্বয়। বিশেষ করে রাতের আলোয় যখন প্রধান মন্দিরটি বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়, তখন সেখানে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। মন্দিরের গম্বুজ আর নিপুণ কারুকাজ করা দেওয়ালগুলো আধুনিক আলোকসজ্জার ছোঁয়ায় পর্যটকদের বিমোহিত করে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি মুছে ফেলতে ছুটে আসেন এই আশ্রমে। আশ্রমের বিশাল খোলা প্রাঙ্গণ আর সারি সারি গাছপালায় ঘেরা পরিবেশ দর্শনার্থীদের মনে অনাবিল শান্তি এনে দেয়। স্থানীয়দের মতে, গোধূলি লগ্নে যখন আকাশের নীলিমায় মন্দিরের চূড়াগুলো ফুটে ওঠে, তখন এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়। দর্শনার্থীরা জানান, এটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
পাবনা জেলার অন্যতম প্রধান এই দর্শনীয় স্থানটি এখন স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আশ্রম এলাকাটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন। এই উন্নত ব্যবস্থাপনাই পর্যটকদের বারবার এখানে আসার প্রেরণা জোগায়।
ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই আশ্রমটি পাবনার গৌরবে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। আপনি যদি যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা সময় বিরতি নিয়ে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি আর নান্দনিকতার খোঁজে বের হতে চান, তবে হিমায়েতপুরের এই সৎসঙ্গ আশ্রম হতে পারে আপনার পরবর্তী সেরা গন্তব্য।
রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বাখরাবাদ ও কুচাইতলী এলাকায় মসলার মিল ও রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে নষ্ট ও পোকায় খাওয়া মরিচ ভালো মরিচের সঙ্গে মিশিয়ে গুঁড়া করার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, ভালো মরিচের সঙ্গে অধিক পরিমাণ নষ্ট ও পোকায় খাওয়া মরিচ মিশিয়ে মসলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ সময় হাতেনাতে ধরা পড়লে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী ‘আল-আমিন ফুড গ্রেইন মসলার’ মিলকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নোংরা ফ্লোরে মরিচ ও হলুদের গুঁড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়টিও ধরা পড়ে।
এ ছাড়া বাসি খামি সংরক্ষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের দায়ে ‘বাখরাবাদ মাটির হাড়ি’ নামের একটি রেস্টুরেন্টকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া, স্যাম্পল কালেক্টর মো. নাজমুস সাকিব এবং অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর বাঁধ সংস্কার ও শোভাবর্ধন প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার, বাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে ভরাট, শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন এবং নির্ধারিত প্রস্থ কমিয়ে দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ৫ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ‘গঙ্গাচড়া তিস্তা বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী ও গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ শোনেন।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যান আশরাফ আলী, খতিবর আলী, ওহেদ আলী ও আজহারুল ইসলাম-এর নাম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে আসে।
জানা গেছে, চর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার তিস্তা বাঁধে খালাখন্দ মেরামত ও ঘাস লাগানোর কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং।
দরপত্র অনুযায়ী বাঁধ ভরাটের কাজে ৭০ শতাংশ মাটি ও ৩০ শতাংশ বালুর মিশ্রণ ব্যবহারের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে অধিকাংশ স্থানে শুধুই বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরুতেই তিস্তা নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে মাটি উত্তোলন শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি তোলার দায়ে ঠিকাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে বাঁধের পাদদেশ থেকেই মাটি কেটে উপরে ভরাট করা হচ্ছে। এতে বাঁধের নিচে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া দরপত্রে বাঁধের প্রস্থ ১৪ ফুট রাখার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা ১০ ফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। কাজের স্থানে কোনো প্রকল্পের সাইনবোর্ড না থাকায় ব্যয়, সময়সীমা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁধের নিচ থেকেই মাটি কেটে উপরে দেওয়া হচ্ছে। এতে নিচে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। শুধু বালু দিয়ে কাজ করলে বাঁধ কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’ আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘দরপত্রে ১৪ ফুট রাস্তার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় ১০ ফুট করা হয়েছে। এতে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে এবং কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’
স্থানীয় গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, ‘বর্ষায় পানি বাড়লে যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে আমাদের ঘরবাড়ি ডুবে যাবে। এখনই যদি ঠিকভাবে কাজ না হয়, পরে বড় বিপদ হবে।’
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম (৬৫) অভিযোগ করে বলেন, ‘আশরাফ চেয়ারম্যান, খতিবর আলী, ওহেদ আলী ও আজহারুল ইসলাম এরা সবাই এই কাজের সঙ্গে জড়িত। আশরাফ চেয়ারম্যান ও খতিবর আলীর নেতৃত্বেই বালু উত্তোলন করে বাঁধের কাজ করা হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় চেয়ারম্যান আশরাফ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাঁধের কাজে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই।’ এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘চর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার তিস্তা বাঁধে খালাখন্দ মেরামত ও ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘তিস্তা বাঁধ তীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাজ যেন মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে তিস্তা তীরবর্তী বেশ কয়েকটি জনপদ বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যশোরের কেশবপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস–২০২৬ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, কেশবপুর।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫ মার্চ ও ২৬ মার্চ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ২৫ মার্চের কালরাতে শহীদদের স্মরণ এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। এ জন্য সকল দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেশবপুর থানার তদন্ত ইনস্পেক্টর মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই দিবস দুটি পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কর্মসূচি পালনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফিরোজ হোসেন, উপজেলা মৎস্য অফিসার সজীব সাহা, কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু তালেব, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদ বিশ্বাস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর উপজেলা শাখার আমির মাওলানা রিজাউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাষ্টার রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম শহিদ, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. আব্দুল হান্নানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
সভায় দিবস দুটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রিপন মিয়া (২৯) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি হত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চকসালন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিপন মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের হানু মিয়ার ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা। তিনি জানান, গত সোমবার (৯ মার্চ) রাত থেকে রিপন নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে চকসালন এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, রিপনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দিনে-দুপুরে এক গৃহবধূকে অপহরণ চেষ্টার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আন্তজেলা অপরাধচক্রের তিন সদস্যকে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অপহরণ চেষ্টায় ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪) উদ্ধার করা হয়।
গত ৮ মার্চ ভোরে কমলগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পি এরিকের মেয়ে ও মো. মাসুদ পারভেজের স্ত্রী ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গল কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বটতলা বাজারে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় একটি সাদা প্রাইভেটকার তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অপহরণের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী নারী ধস্তাধস্তি করে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় (মামলা নং–০৭, জিআর–১৯/২৬) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু সরাসরি তদন্ত তদারকি করেন, তাদের নির্দেশনায় কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল এর নেতৃত্বে একটি টিম মাঠে নামে।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অন্যতম পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করি। গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর (নাছিরাবাদ) গ্রামের মতছির আলীর ছেলে মো. জাকির মিয়া (২৬), মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সৈয়ারপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো. কাওছার আহমদ (৩৪) এবং সদর উপজেলার গুলবাগ (বেরিরচর) এলাকার নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৬)।
অভিযান সফল করার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা জানান, ‘এটি একটি অত্যন্ত দুঃসাহসিক অপরাধ ছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে রমজানের ভোরে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে তারা ওই নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণের পরিকল্পনা করেছিল। তারা এই প্রাইভেটকারটি ব্যবহার করে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন সস্তা হোটেলে অবস্থান করত এবং সুযোগ বুঝে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।’
শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘আমাদের টিম অত্যন্ত পেশাদারত্বের সাথে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে আগেরও অনেক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।’
সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত জাকির, কাওছার ও জসিমের বিরুদ্ধে চুরি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তাদের পলাতক সহযোগী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার এসআই এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়, এসআই আমির উদ্দিন, এসআই রনি তালুকদার এবং এএসআই হামিদুর রহমানসহ পুলিশের একাধিক সদস্য এই সফল অভিযানে অংশ নেন। পলাতক আসামি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নীলফামারীতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ‘ট্যালেন্টপুল বৃত্তি’ অর্জনকারী ২৬৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা পরিষদ। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের পথ দেখাবে। তাদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাইম হাসান খান ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান,জেলার বিভিন্ন উপজেলার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে উত্তীর্ণ ২৬৪ শিক্ষার্থীকে উৎসাহ ও প্রেরণা দিতে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে জেলা পরিষদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের ফলে সমাজ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক তায়বুল হক। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংগঠনের প্রচেষ্টায় মানুষ পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বক্তৃতাকালে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভিক্ষার হাতকে কর্মের হাতে রুপান্তর করছে ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী শহরের ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী সরকারি কলেজের সাবেক এই অধ্যক্ষ।
এদিনের আয়োজনে সাতাশটি অভাবী পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, সেলাই মেশিন, হুইল চেয়ার ও নগদ অর্থসহ সর্বমোট দুই লাখ টাকার বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিশেষ এক মুহূর্তে প্রধান অতিথি এই সংগঠনের পক্ষ থেকে পঁচিশতম সেলাই মেশিনটি একজন সুবিধাভোগীর হাতে তুলে দেন।
সংগঠনের সভাপতি ফয়জুল হক বাপ্পীর সভাপতিত্বে ও সদস্য আসাদুজ্জামান দারার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নাসিম আনোয়ার জাকি। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সোহরাব আল হোসাইন তানভীর, ফেনী পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ওমর ফারুক ভূঁইয়া বেলাল ও সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান জালাল উদ্দিন বাবলু।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী ডেভলপমেন্ট কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শান্তি চৌধুরী এবং স্থানীয় ফেনীর সময় এর সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন লায়ন হাজী দ্বীন মোহাম্মদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক ওসমান গনি রাসেল, দৈনিক ফেনীর সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী এবং ডেফোডিল স্কুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে আরও বিপুল পরিমাণের অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ২২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নগরের খুলশীতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় যৌথ বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান, পিস্তলের ৩০টি ম্যাগাজিন, দেশীয় অস্ত্র তৈরির ৫৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের ১ হাজার ১১৩টি গুলি, ১১টি ককটেল (বিস্ফোরক), পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া অভিযানে ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত এলাকাটিতে নজরদারি রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো বলে জানিয়ে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব আলামত অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
ডিআইজি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গমনাগমন পর্যবেক্ষণ করত। বিশেষ করে জঙ্গল সলিমপুরে আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারগুলো রয়েছে। অভিযানে সেসব ওয়াচ টাওয়ারগুলোর কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এলাকাটিতে অপরাধীরা যাতে পুনরায় সংগঠিত হতে না পারে, সে জন্য দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের কথা জানান ডিআইজি।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে জেলা পুলিশ ও এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) মিলে মোট ১৩০ জন সদস্য নিয়ে একটি ক্যাম্প, অন্য আরেকটি ক্যাম্প আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যাম্পটিতে র্যাব, আরআরএফ (রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স) ও এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ২৩০ জন সদস্য রয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন, আরআরএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ বিজিবির কর্মকর্তারা।
সাবেক সচিব মো. আমিনুল ইসলামকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, আমিনুল ইসলাম চুক্তিতে এক বছরের জন্য ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে ঢাকা ওয়াসার এমডি আব্দুস সালাম গত রোববার (৮ মার্চ) পদত্যাগ করেন। এরপর সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঢাকা ওয়াসার এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার পরদিনই সেখানে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হল।
বিসিএস-৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এক সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ছিলেন। তবে মূলত তিনি কাজ করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে। তার আগে এক সময় কক্সবাজারের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুগ্মসচিব থাকা অবস্থায় তিনি অবসরে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়া আমিনুল ইসলামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলায়। ২০০৫ সালে তাকে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা’ হিসেবে সম্মাননা দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে এসে একটি অজগর সাপ দিনমজুর পরিবারের একটি ছাগল গিলে খেয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বন-সংলগ্ন ভোলা নদীর চরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী যুবক ফোরকান হাওলাদার জানান, ওই গ্রামের দিনমজুর সোহরাব ফরাজীর একটি ছাগল প্রতিদিনের মতো ভোলা নদীর চরে ঘাস খেতে যায়। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও ছাগলটি বাড়িতে ফিরে না আসায় সোহরাব সেটি খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে পাশের একটি ঝোপের মধ্যে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ দেখতে পান। এরই মধ্যে সাপটি ছাগলটি আস্ত গিলে ফেলে।
খবর পেয়ে কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাপটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় অজগরের পেটে ছাগল থাকার দৃশ্য দেখতে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সোহরাব ফরাজী জানান, সুন্দরবন থেকে আসা অজগরটি তার সখের ছাগলটি আস্ত গিলে খেয়েছে। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সিপিজি সদস্য সগির সওদাগর জানান, ছাগল গিলে ফেলার পর সাপটি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বন বিভাগের মাধ্যমে সাপটিকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাপটি সুস্থ হলে দ্রুতই তাকে বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার করার লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে একটি সচেনতা সভা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর অলটারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট আফাদ এর আয়োজনে তাদের নিজস্ব মিলনায়তনে এই সভা হয়।
কার্তিক চন্দ্র সেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রাণী, ফুলবাড়ি উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ, বেলগাছা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, শিফট্টার সোচ্চার ফোকাল রেশমা সুলতানা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, সামাজিক, স্বাস্থ্যগত ও শিক্ষাগত নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন। তারা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নজরদারি জোরদার করার ওপরও জোর দেন।
সচেতনতা সভায় ইমাম, পুরোহিত, কাজি, ঘটক, ইউনিয়নের নারী-পুরুষ জনপ্রতিনিধি, কিশোরী, যুবক, অভিভাবক, শিক্ষকসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।