বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ থেকে গভীর স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি গতকাল যশোর এলাকায় অবস্থানের পর আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ সময় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-নোয়াখালীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রবণ বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারে গত শুক্রবার সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার শহর এলাকায় দেখা দেওয়া জলাবদ্ধতা গতকাল খানিকটা কমে গেলেও জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছে। এদিকে প্রবল ঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার ও নোয়াখালীর হাতিয়ায় অন্তত ২০টি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ট্রলারে থাকা শতাধিক জেলে এখনো নিখোঁজ। গতকাল তাদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সৈকতে ভেসে আসার পর সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর জেলায় লঞ্চ চলাচল। আজ ঢাকাসহ ৫ বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে গত শুক্রবারের তুলনায় গতকাল শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও বেড়েছে প্লাবিত এলাকার সংখ্যা। জানা গেছে, জেলা সদরসহ ৬ উপজেলার অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি রয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলারসহ অন্তত ৭০ জেলে নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছেন মালিকরা। এর মধ্যে ৫ জনের মরদেহ সাগরের উপকূলে ভেসে এসেছে বলে জানা যায়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২১০ মিলিমিটার। বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা কক্সবাজারের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ৪৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।
এদিকে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জেলার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। পর্যটন জোন কলাতলীর হোটেল মোটেল এলাকার সকল সড়ক, সৈকত-সংলগ্ন এলাকা, মাকের্ট এলাকা থেকে নেমে গেছে পানি। শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী এলাকা থেকেও পানি নেমে গেছে বলে জানা যায়।
তবে শহরের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়াসহ ৮টি নিম্নাঞ্চল এখনও পানিবন্দি রয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় হোটেল মোটেল জোনে এখন পানি নেমে গেছে। তবে বৃষ্টি হলেই এখন আতংক তৈরি হচ্ছে। মুহুর্তের মধ্যেই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নালা উন্নত করা না হলে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
উখিয়া উপজেলা ৪০টির বেশি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। উখিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ও জালিয়া পালং ইউনিয়নে।
এই দুই ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ গত দুই দিন ধরে পানির নিচে বসবাস করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না হচ্ছে না অধিকাংশ ঘরে।
জালিয়া পালং ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া, ঘাটঘর পাড়া পাইন্যাশিয়া, সোনাইছড়ি, সোনারপাড়া ডেইপাড়া মনখালি, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া, মনির মার্কেট, রুমখা পালং, বড়বিল, পাতাবাড়ি, নলবুনিয়া, খেওয়া ছড়ি, বৌ বাজার, কুলাল পাড়া, পাগলির বিল, রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং, মাছকারিয়া, লম্বাশিয়া তুতুরবিল, পিনজির কুল, রত্নাপালং ইউনিয়নের সাদৃ কাটা, পশ্চিম রত্না, খোন্দকার পাড়া, গয়াল মারা ও পালংখালী ইউনিয়নে থাইংখালী, রহমতের বিল, বালুখালী তৈল খোলা, আঞ্জুমান পাড়া ফারিবিল সহ অন্তত ৪০টি গ্রামে পানি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উখিয়া উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী জানান, বন্যায় জালিয়া পালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন এর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির হোসেন জানান, বন্যায় কবলিত এলাকার মানুষের জন্য জেলা থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টিতে চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা যায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্খা রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, তিনদিনের টানা বৃষ্টির কারনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কিছু বসতঘর ও দোকান-পাটে পানি ঢুকেছে।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ৮টি ফিশিং ট্রলার নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ থাকা এসব ট্রলার ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু জেলে সাঁতার কেটে উপকুলে ফিরেছে। উদ্ধার হয়েছে ৫ জনের মরদেহও। ফলে এসব ট্রলারের আরও অন্তত ৬৮ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।
শনিবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের নাজিরারটেক, পেঁচারদ্বীপ, ইনানী ও কলাতলী উপকুলে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুই জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার শেখেরকিল এলাকার নুরুল আমিন (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার চরমবা এলাকার মোহাম্মদ জালাল (৩৭) ও আব্দুল করিম (৩৫) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর দুই জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ৫টি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রবল বর্ষণে নদীভাঙন, চকরিয়ায় শতাধিক পরিবার ঘরছাড়া
দৈনিক বাংলার চকরিয়া- পেকুয়া প্রতিনিধি জানায়, টানা তিনদিনের বারিবর্ষণে কক্সবাজার চকরিয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি। পৌর শহরের বাঁশঘাট এলাকায় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে ১৫ টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে আতঙ্কে ঘরছাড়া হয় শতাধিক পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বদরখালী পওর শাখার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. জামাল মুর্শিদ জানান, শনিবার বেলা বারোটায় মাতামুহুরি নদীর পানি ৫ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরি নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার।
জানা গেছে, তিনদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, বিএমচর, কোনাখালী ও বদরখালী ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ২০ হাজার লোক পানি বন্দি রয়েছে। এছাড়া আমন ধানের ক্ষেত ও শীতকালিন বিভিন্ন সবজির চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়।
হাতিয়ার মেঘনায় ১০ ট্রলারডুবি, ৮ মাঝিসহ ৫ ট্রলার নিখোঁজ
বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঝড়ের কবলে পড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে দশটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৮ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৫টি ট্রলারসহ ৮ মাঝি এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।
গত শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মেঘনা নদীর কয়েকটি এলাকায় এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলোর মালিকরা হলেন বাবর মাঝি, জান মিয়া, দেলোয়ার মাঝি, হেলাল উদ্দিন, শহীদ মাঝি, মেহরাজ মাঝি ও ইউনুছ মাঝি।
হাতিয়ার ট্রলার মালিক সমিতির সদস্য লুৎফুল্লাহিল নিশান দাবি করেন, ঝোড়ো বাতাস ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে হাতিয়ার মোট ১৯টি ট্রলার ডুবে গেছে। অনেকে ট্রলারডুবির সময় পার্শ্ববর্তী ট্রলারগুলোর সহযোগিতায় কূলে উঠেছেন। এখনো অনেকে নিখোঁজ আছেন।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, আমাদের নামার বাজার এলাকার চারটি ট্রলার ডুবে গেছে। কেউ কেউ পাড়ে উঠে আসতে পারলেও অনেকেই এখনও উঠতে পারেননি। কে এসেছেন বা কে আসেননি তার হিসাব নেওয়া কঠিন।
কোস্টগার্ড হাতিয়ার স্টেশন অফিসার সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন বলেন, যারা খবর দিতে পেরেছেন আমরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু ট্রলার গিয়ে উদ্ধারকাজ করছে। এখনো অনেক ট্রলারের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সেসব ট্রলারগুলোর বিষয়ে আমরা খবর নিচ্ছি।
ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ভোলা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলা-বরিশাল-লক্ষ্মীপুরসহ স্থানীয় সব নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিআইডব্লিউটিএ ভোলার সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, সমুদ্র এলাকাভুক্ত হওয়ায় চরফ্যাশনের বেতুয়া টু ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে ভোলা-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল করবে।
এদিকে, শনিবার বিকালে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সুপারভাইজার শরীফুল ইসলাম ও ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জাহেদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌপথের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নৌপথে চলাচলের জন্য ফেরি কুসুমকলি, কাবেরী, কলমিলতা, কিষানি ও কনকচাঁপা রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই সেগুলো চলাচল শুরু হবে।
ঢাকাসহ ৫ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
এদিকে, আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
নীলফামারী প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(৬ এপ্রিল) প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে রাত ৮টায় ফলাফল ঘোষণা করেন প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশন।
এই নির্বাচনে জেলায় প্রথমবারের মতো সভাপতি পদে সমান ভোট পেয়ে হাসান রাব্বী প্রধান (আরটিভি) ও এ,বি,এম মনঞ্জুরুল আলম সিয়াম (মাছরাঙা টেলিভিশন) নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি পদে সমান ভোটে জয়ী ওই দুই প্রার্থী পর্যায়েক্রমে এক বছর করে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে মিল্লাদুর রহমান মামুন (এটিএন নিউজ) নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন শেষে রাতে প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রবীন সাংবাদিক মো. সামসুল ইসলাম ওই ফলাফল ঘোষণা করেন।
অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন, সহ-সভাপতি চারটি পদে ভুবন রায় নিখিল (বাসস), আনোয়ারুল আলম প্রধান (চ্যানেল আই), শীষ রহমান (ইত্তেফাক), মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ (সাপ্তাহিক নীল চোখ), যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোট পায় নাসির উদ্দিন শাহ মিলন (দিনকাল), আব্দুর রশিদ শাহ (নিউজ ২৪), দপ্তর সম্পাদক পদে রাজীব চৌধুরী (এম আর চৌধুরী) রাজু (ডেইলী সান), অর্থ সম্পাদক পদে এম আবুল হোসেন শাহ (বানিজ্য প্রতিদিন), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মো. নাঈম শাহ (কালের কণ্ঠ), ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোশাররফ হোসেন (খোলা কাগজ) নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাহী সদস্যের সাতটি পদে নির্বাচিতরা হলেন, মীর মাহমুদুল হাসান আস্তাক (প্রথম আলো), কাজী মাহবুবুল হক দোদুল (নীলকথা), বিএম খাজা নেওয়াজ (আমার বার্তা), সাদেকুর রহমান শাহ স্কলার (আজকের বিজনেস বাংলাদেশ), বাপ্পী রহমান (নিউ এইজ), মুসফিকুর রহমান সৈকত (ইনকিলাব), আলী সাদ্দাম (সিএন বাংলা)।
কার্যনির্বাহী পরিষদের ২১টি পদের মধ্যে সোমবার ১৯টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অপর দুটি পদের মধ্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক পদে আব্দুল বারী (বাংলাদেশ প্রতিদিন), তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে আরিফুল ইসলাম (আমাদের পত্রিকা) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. সামসুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রেসক্লাবের ৫২ জন সদস্যের মধ্যে ৪৯ জন সদস্য ভোট প্রদান করেছে। এরমধ্যে ৭টি ভোট বাতিল হয়েছে।
পঞ্চগড় আটোয়ারী উপজেলার ৬নং ধামোর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের গ্রামগুলোতে দীর্ঘ দিন থেকে আয়রন যুক্ত পানি ব্যবহার করছেন এইসব এলাকার বাসিন্দারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আটোয়ারী পঞ্চগড়, সূত্রে জানা যায় পানিতে ০.৩ মিলিগ্রাম/লিটার পর্যন্ত আয়রন গ্রহণ যোগ্য। এর বেশি হলে স্বাস্থ্য ও পানির গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বল্প মাত্রায় আয়রন উপকারী অতিমাত্রায় আয়রন ক্ষতিকর দীর্ঘ মেয়াদে গ্রহণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন আয়রনের মাত্রা বেশি হলে ফিল্টার বা পরিশোধন দরকার।
৬নং ধামোর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শ্রী ময়না রানী জানান যে, ৭, ৮ ও ৯ তিনটি ওয়ার্ডে টিউবওয়েলের পানি আয়রন যুক্ত হওয়ায় অনেকে টিউবওয়েল থাকা স্বত্বেও পুকুর ও নলকূপে গোসল করেন, তিনি আরও জানায় এই তিনটি ওয়ার্ডে আমি দায়িত্বে রয়েছি, তাই নলকূপের বিষয় আমি অবগত আছি।
৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোরবত আলী জানান যে, গিরাগাঁও, পশ্চিম গিরাগাঁও, জামাদার পাড়া সহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা, দীর্ঘ দিন থেকে আয়রন যুক্ত পানি ব্যবহার করে আসতেছে, আমার বাসায় টিউবওয়েল ৬০ লেয়ার তাই বাসায় আয়রন যুক্ত পানি বের হয়, এসব পানি ব্যবহার করে আমার পাঞ্জাবি ডিস কালার হয়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পঞ্চগড়, নির্বাহী প্রকৌশলী, মোঃ মিনহাজুর রহমান তিনি জানান যে, আমাদের যেসব টিউবওয়েল সরকারি ভাবে বিতরণ করা হয়, সেসব টিউবওয়েলের লেয়ার ১২০ এর উর্ধ্বে দেওয়া হয়, সেই সব টিউবওয়েল এর পানি আয়রন মুক্ত থাকে, আমাদের বাইরে যারা বাজার থেকে টিউবওয়েল ক্রয় করে, বাসায় স্হাপন করেন, তারা সাধারণত ৬০-৬৫-৭০ লেয়ার দিয়ে থাকেন, তাই তাদের টিউবওয়েলে আয়রন যুক্ত পানি বের হয়।
স্বপ্নের ইউরোপে বিপজ্জনকভাবে অবৈধ পথে যাত্রায় ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। দালালদের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই লিবিয়া থেকে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় গ্রিস বা ইতালির উদ্দেশে পাড়ি জমিয়ে সাগরেই হারাচ্ছে প্রাণ; ডুবছে তিলে তিলে গড়া স্বপ্নও। সবশেষ লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ৭০ জন অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন। ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে, বাংলাদেশিসহ ৩২ জন উদ্ধার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানায়।
উদ্ধার হওয়া জীবিতদের বরাতে জানা যায়, নৌকাটিতে অন্তত ১০০ জন যাত্রী
ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানায়, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ছোট আকারের ওই নৌকাটি। পথে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।
জার্মানভিত্তিক উদ্ধার সংস্থা সি ওয়াচ জানায়, তাদের একটি বিমান দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্টে যাওয়া নৌকাটি দেখতে পায়। এসময় কয়েকজন যাত্রী নৌকার গায়ে আঁকড়ে ধরে ছিলেন, কেউ পানিতে ভাসছিলেন, আর কিছু মরদেহও দেখা যায়।
উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয় একটি ইতালীয় ও একটি লাইবেরিয়ান বাণিজ্যিক জাহাজ। পরে জীবিতদের ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যা ইউরোপে প্রবেশের একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
উদ্ধার হওয়া ৩২ জনই পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিসরের নাগরিক। তাদের সঙ্গে দুটি মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য নৌকাটি একেবারেই অনুপযুক্ত ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটিতে ১২০ জন পর্যন্ত যাত্রী থাকতে পারে। সংখ্যা নিশ্চিত হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিবাসী ট্র্যাজেডিগুলোর একটি।
এদিকে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৩৩ হাজার ৪৫০ জনের বেশি অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইওএম। শুধু চলতি বছরেই মধ্য ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
অভিবাসী উদ্ধার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপদ ও বৈধ প্রবেশের পথ না থাকায় মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে—যার মাশুল গুনতে হচ্ছে প্রাণ দিয়ে।
এর আগে গত শুক্রবার গ্রিস উপকূলে নৌকা ডুবে প্রাণ গেছে ১৮ থেকে ২০ বাংলাদেশির। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ যুবক রয়েছেন। এরা হলেন- রাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না, আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান, ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া, রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান, বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান ও মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া। জগন্নাথপুরের চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁওয়ের শায়েখ আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুরের মো. নাঈম, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান, ইছগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না।
প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্বজনরা বলেন, দালালরা ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে বড় নৌকা দিয়ে ইতালি কিংবা গ্রিসে পাঠানোর কথা থাকলেও পরে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট প্লাস্টিকের নৌকায় তাদের সাগরপথে ছেড়ে দেয়। ২ দিনের মধ্যে তারা গন্তব্যে পৌঁছে যাবে এমনটি বলা হলেও যাত্রাপথে ভুল রাস্তায় গিয়ে ৬ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানোর কারণে তারা খাবারের অভাব ও পানির পিপাসায় কাতর হয়ে মারা যায়।
বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এভাবেই লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে বছরে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যাচ্ছেন। তবে অনেকের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। যদিও সাগরে প্রাণহানি, লিবিয়ায় নিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণের জন্য আটক করে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দালাল ও মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাও হচ্ছে। গত বছর সারা দেশে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলা ছিল ৪ হাজার ৪৮০টি। কিন্তু এই বিপজ্জনক স্বপ্নযাত্রা থামছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটা অঙ্কের নগদ টাকা আয়ের উৎস হওয়ায় এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় গ্রিস উপকূলে ওই নৌকাডুবিতে ১৮-২০ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পর ২৩ জনের অর্ধগলিত মরদেহ ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি লিবিয়ার পূর্ব উপকূলের সৈকতে ভেসে এসেছিল। পরিচয় শনাক্ত না করতে পারায় তাদের লিবিয়ায় দাফন করা হয়। মৃতদের অবয়ব ও পোশাকের ধরনে তাদের সবাইকে বাংলাদেশি মনে হয়েছে।
এদিকে, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া বলেন, আমরা সুনামঞ্জের ৩টি উপজেলায় মোট ১২ জনের প্রাণহানির তথ্য জানতে পেরেছি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জেলার জগন্নাথপুর ও দিরাই থানায় ৯ জন দালালকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দুইটি মামলা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ সোমবার রাতে দিরাই উপজেলার বাসুরি গ্রামের নিহত সুহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান ৪ দালালের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি মামলা করেন। এছাড়া গত মঙ্গলবার জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে ৫ দালালের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
সূত্রমতে, গত বছরের (২০২৫) প্রথম ছয় মাসে সাগরপথে পাচার হওয়া অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৭৩৫ জন। তালিকায় এরপর ছিল ইরিত্রিয়া, মিসর, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, সিরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, গিনি ও আলজেরিয়ার অবস্থান।
ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী সংস্থা ও মাইগ্রেন্ট ইনফোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগর হয়ে ৩ হাজার ৩৯৫ জন অবৈধ অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এ দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৬৬০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ভূমধ্যসাগর রুট দিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী যান ইতালি ও গ্রিসে। অবৈধ পথে ইউরোপে পাঠাতে সক্রিয় দালাল চক্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। বড় কোনো ঘটনার পর দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তৎপরতা দেখা যায়।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশি নিহত হন। ২০২৩ সালের ১৩ মার্চে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়া ৩০ জনের ভাগ্য এখনো অজানা। একই বছরের ৯ আগস্ট রাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ৯ তরুণ। এর আগে ২৪ জুন ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে স্পিডবোট ডুবে নরসিংদীর এক তরুণ নিহত এবং নিখোঁজ হন ১৩ তরুণ। ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালেও একাধিক নৌকাডুবিতে প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালের জুনে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে বাংলাদেশ, মিসরসহ চারটি দেশের অন্তত ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যান। সাগরপথে এই মৃত্যুঝুঁকি নেওয়ার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নৌকাডুবির ঘটনাও বাড়ছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
আর বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বলেছে, প্রতিবছর লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার এই রুটে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যান।
শুক্রবারের নৌকাডুবির পর আইওএম জানায়, ১০ দিনে কয়েকটি নৌকাডুবি হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকশ অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণহানি হয়ে থাকতে পারে বলে সংস্থাটির আশঙ্কা।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে প্রাণ হারানো ১৮৭ জন বাংলাদেশির মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা হয়েছে। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার চেষ্টাকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের সংখ্যা বেশি। এসব এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্র উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ৪ হাজার ৪৪৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিচারাধীন ৩ হাজার ৩৪টি মামলা এবং তদন্ত চলছে ১ হাজার ৪৪৬টির। এসব মামলায় ১৬ হাজার ৬৭৮ আসামি। ২০২৪ সালে মামলা ছিল ৪ হাজার ২৯১টি এবং আসামি ছিল ১৬ হাজার ৪৩২ জন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, দেশের ৮-১০টি জেলা থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে মানবপাচারের ঘটনাগুলো ঘটছে। ঝুঁকি জেনেও এই এলাকার মানুষ এই পথ বেছে নিয়েছে। এ জন্য তাদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সারা বছর তৎপর থাকতে হবে। কিন্তু যখন কোনো ঘটনা ঘটে, তখনই শুধু তারা তৎপর হয়। এ জন্য ঘটনাগুলো কমছে না।
মানবপাচারের বেশিরভাগ মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এ প্রসঙ্গে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. বদরুল আলম মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সিআইডিতে মানবপাচারের ৯১টি মামলার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে লিবিয়ায় নির্যাতন, হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার মামলাও আছে। সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার টেকনাফ স্থলবন্দর প্রায় এক বছর ধরে অচলাবস্থায় পড়ে আছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ফের এই বন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সোমবার টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদীর তীরবর্তী বন্দরে পৌঁছে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বন্দর এলাকার গুদাম, অবকাঠামো ও সামগ্রিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থলবন্দর পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, সিএন্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের চাহিদা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত বন্দর সচল করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এ কারণে বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পোর্ট অপারেটর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোনো অবস্থাতেই রোহিঙ্গাদের বন্দরসংক্রান্ত কাজে সম্পৃক্ত হতে দেওয়া যাবে না। এখানে কাজ করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক হতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুপ্রবেশে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও এতদিন নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতা ছিল। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আবারও পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্দরটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। গত অর্থবছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ বন্দর থেকে প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে মাত্র ১৩০ কোটিতে।
টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, দ্রুত বন্দর চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এক বছরের লোকসান কাটিয়ে ওঠার আশায় ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় আছেন।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণের কারণে সীমান্ত এলাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনায় বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৩শত শিক্ষার্থী নিয়মিত পাবে পুষ্টিকর বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে ও ঝরেপড়া রোধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) উপজেলার বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় ভৈরব উপজেলার মোট ৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর মাঝে টিফিন হিসেবে নিয়মিত পুষ্টিকর বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা বিতরণ করা হবে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুদের দীর্ঘদিনের পুষ্টির অভাব দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম. মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। অনেক সময় সঠিক পুষ্টির অভাবে শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। সরকারের এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুধু শিক্ষার্থীদের শারীরিক চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া রোধে এটি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। আমরা খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস করব না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সানজিদা বেগম, ভৈরব বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণয় কুমার ও ভৈরব প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব সোহেলুর রহমান।
উপজেলার কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাস্ট এসএস এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে এই ফিডিং কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্ব পায়।
ফাস্ট এস এস এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আরিফুল হক সুজন বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি নির্ধারিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। খাবারের মান তদারকি করতে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে বলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়।
আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। প্রযুক্তি ব্যাবহার করে উন্নয়ণ কর্মকাণ্ডও চলছে, এতে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও নানা প্রযুক্তিতে এগিয়ে চলছে। অফিস আদালতসহ সর্বত্রই প্রযুক্তির ছড়াছড়ি। মাঠপর্যায়ের কাজেও প্রযুক্তির আচড় পড়েছে। এর সুবিধাভোগ করছে একদম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সব রকমের মানুষ। কিন্তু এতসব প্রযুক্তির মধ্যে একটা জিনিস ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে- আর তা হলো কর্মসংস্থান। যেখানে প্রযুক্তি চলে আসে সেখানে অনেকগুলো মানুষের কাজ ওই প্রযুক্তি মানুষের চেয়ে অল্প সময়ে নিখুঁতভাবে করে ফেলতে পারে। এতে অনেকে যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে কাজ হারিয়ে ফেলছে আবার কেউ কেউ অন্য কাজে মনোনিবেশ করছে। তবে যারা কোনোকিছুই পারছে না আর একদম কাজ হারিয়ে ফেলছে।
আওলাদ হোসেন বলেন, আগে রাস্তা-ঘাটের কাজ, বেড়িবাঁধ, মাটিকাটাসহ এসব মানুষ মিলে করত কিন্তু এখন এক্সকেভেটর মেশিন আসার কারণে ওসব কাজ দ্রুততম সময়ে ও নিখুঁতভাবে করে ফেলে। ফলে শ্রমিকরা বেকার হচ্ছে। আক্তার হোসেন বলেন, আগে বোরো মৌসুমে ধান কাটার সময় নানা এলাকা থেকে মানুষ এসে ধান কাটত কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি আসার কারণে মেশিনে ধান কাটা হচ্ছে। ওই মৌসুমে সেসব মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
বিএনপি নেতা শিল্পপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, সহজেই অনুমেয় যে আগামীতে যতবেশি প্রযুক্তি আসবে ততবেশি কর্মসংস্থান হারাবে মানুষ- মানুষের জায়গায় স্থান করে নিবে প্রযুক্তি তথা মেশিন। যারা উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম হবে তারাই প্রযুক্তির যুগে টিকে থাকতে পারবে। অফিসের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বর্তমানের নানা অফিসে এমন সব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যাতে লোকবলের সংখ্যা কম থাকে। একেকটা কম্পিউটারাইজড প্রোগ্রাম অনেক মানুষের কাজ করে ফেলে। ফলস্বরূপ ওসব অফিসে কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
লন্ডনের ইকোনমিস্ট ইউনিটের (ইআইইউ) তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ জন স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৪৭ জনই বেকার। অর্থাৎ প্রতি দুজনে একজন বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ আর আইএলও এর মতে, বেকারের সংখ্যা ৩ কোটি। এখনই যদি আমরা ডিজিটাল দুনিয়ার সাথে তাল মেলাতে না পারে তাহলে মানুষ পিছিয়ে পড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় এ ব্যাপারে বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার না করলে চলে সেখানে মানুষেরই ব্যবহার করা, প্রতিনিয়ত কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা, ভোকেশনাল কোর্স চালু করা, যেসব শ্রমিক যেখানে কাজ করে সেখানে তাদের সংগঠন সৃষ্টি করার পরিবেশ করা যাতে তারা তাদের সুবিধা-অসুবিধা যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে পারে, সর্বত্র লিঙ্গবৈষম্য দূর করে সমান হারে মজুরি, শিশুশ্রম হ্রাস, যারা নির্ধারিত কাজে পারদর্শী তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া ও ভালো কাজ করলে পুরস্কৃত করা এবং একান্তই যারা কাজ বদল করে খাপ-খাওয়াতে পারেনি তাদের সরকার কর্তৃক আর্থিক সহায়তা ইত্যাদি।
রূপগঞ্জের বেকার কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নজরুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, প্রযুক্তিকে এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। একইভাবে সব অফিসে এমনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে যাতে মানুষের কাজের সুযোগ কমে না যায় বা একদিকে কমলে অন্যদিকে বাড়ানো যায়। প্রযুক্তি আসে সব উন্নত দেশের জন্য আর তাদের জনগণও খুব কম। ওসব দেশ কম মানুষ খাটিয়ে বেশি ফল পেতে চায়। কিন্তু আমাদের চিত্র তো উল্টো! আমাদের বিশাল জনসংখ্যা, কাজ কমে গেলে এতসব মানুষ বাঁচবে কীভাবে।
দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলাম তাজুর হারিয়ে যাওয়া ফেসবুক পেজ আবারও ফিরে এসেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ‘তাজু ২.০’ পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রায় ১০ মিনিটের ওই ভিডিওতে তাজু জানান, পেজটি হারানোর পর তিনি বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সেটি পুনরুদ্ধার করে দেয়। এ সময় যারা পাশে ছিলেন এবং সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ভক্তদের উদ্দেশে তাজু বলেন, তিনি যাতে চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। একই সঙ্গে আগের মতো ভালোবাসা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুরের পর হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তার পেজটি উধাও হয়ে যায়। প্রায় ১১ লাখ অনুসারীর এই পেজ খুঁজে না পাওয়ায় অনুসারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসে সরকারি দামে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাজু ব্যাপক পরিচিতি পান। তার সরল উপস্থাপনা, গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র এবং স্বতঃস্ফূর্ত কথাবার্তা দ্রুতই দর্শকদের আকৃষ্ট করে।
ভাইরাল হওয়ার পর কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে অবস্থিত তার বাড়িতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতা। কেউ সাক্ষাৎকার নিতে, কেউ আবার ভিডিও ধারণ করতে সেখানে উপস্থিত হচ্ছেন। এতে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভাইরাল হওয়ার আগে ‘তাজু ২.০’ পেজটির অনুসারী সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার। মাত্র আট দিনের ব্যবধানে তা বেড়ে প্রায় ১১ লাখে পৌঁছে যায়।
নওগাঁর আত্রাইয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে এমরান মিয়া (২৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে আত্রাই রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম জানান, আহত পুলিশের কনস্টেবল বাগেরহাটে কর্মরত। রাতে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে আত্রাইয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসছিলেন। সকালে ট্রেনটি আত্রাই স্টেশনে পৌঁছালে কিছুটা গতি কমায়। এসময় এমরান মিয়া লাফ দিয়ে নামতে গেলে চাকার নিচে পড়ে যান। এতে তার দুটি পা হাঁটু থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ওসি আরও বলেন, স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মাধ্যমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠানো হয়। তবে তার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ১৪৪ ধারার মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শহরের চকবাজার এলাকায় রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটায় বৈষম্যবিরোধী নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় সংঘর্ষে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করেছে।
এর আগে গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ও ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে আজ একই স্থানে দুটি সংগঠন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এতে প্রশাসন সংঘর্ষের আশঙ্কায় বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে চকবাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। লক্ষ্মীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এ নির্দেশনা জারি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজ আহত হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল বলেন, ‘সদর থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ হাতের আঙুলে আঘাত পেয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার আঙুলের এক্স-রে করা হয়েছে।’
এছাড়া এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে সবাই জড়ো হলে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা করে, এতে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।’
ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেন বলেন, ‘প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করার পর বৈষম্যবিরোধীরা তা ভঙ্গ করার চেষ্টা করে। কর্মসূচি পালনে পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে।’
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। বিকেলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এই নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) এইডস আক্রান্ত এক কারবন্দির মৃত্যু হয়েছে। কারবন্দির নাম অনিক হোসাইন (৩০)। তার পিতার নাম রনি হোসাইন। তাৎক্ষণিকভাবে এর চেয়ে বেশি পরিচয় এবং মামলার বিষেয়ে বিস্তারিত জানা জানা যায়নি। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে কারারক্ষীদের পাহারায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, মরদেহটি ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ তাকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ব্রিক ফিল্ডের জন্য মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট গর্তে জমে থাকা পানিতে পড়ে দুই কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের করিম বাপের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো একই এলাকার হাবিবের মেয়ে সাকি মনি (৭) ও জাকির হোসেনের মেয়ে সানজিদা (৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ব্রিক ফিল্ডে থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ায় প্রায় ২০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেখানে পানি জমে ডোবার সৃষ্টি হয়। সকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ওই পানিতে পড়ে যায় দুই শিশু।
অনেকক্ষণ তাদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গভীর গর্ত করে ইটভাটার মাটি কাটার ফলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কোনও অবস্থাতেই মাটি খোকোদের বেপরোয়া গতি থামানো যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
কুড়িগ্রামের সহজ-সরল কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলাম তাজুর ফেসবুক পেজ (তাজু ভাই ২.০) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ‘সরকারি রেটে জিলাপি বিক্রি’ কনটেন্টে ভাইরাল হওয়া ‘তাজু ভাই ২.০’ হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে পেজটি আর পাওয়া যাচ্ছে না।
তাইজুলের সহযোগী শাহ আলম হোসেন জানান, এটি প্রযুক্তিগত সমস্যাও হতে পারে। তিনি আশা করেন, দ্রুতই পেজটি চালু হবে।
জানা যায়, ২৬ মার্চ চরনারায়ণপুরের একটি বাজারে ‘সরকারি রেটে জিলাপি বিক্রি’ ভিডিও প্রকাশের পর দ্রুত ভাইরাল হন তাজুল। তার সরলতা, স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপন এবং গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার ভিন্নধর্মী কনটেন্ট দ্রুত মানুষের মন জয় করে। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে। অল্প সময়েই তার পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
তবে হঠাৎ পেজটি অদৃশ্য হওয়ায় নেটিজেনদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই অতিরিক্ত ট্রলকে দায়ী করছেন।
সব মিলিয়ে, স্বল্প সময়ে অর্জিত এই জনপ্রিয়তা এখন তাজুর জীবনে একদিকে যেমন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। অন্যদিকে তৈরি করেছে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ ও অনিশ্চয়তা। তার ফেসবুক পেজের রহস্যজনক অন্তর্ধান সেই অনিশ্চয়তাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ফলোয়ার বাড়ায় মেটা কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পেজটি সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কনটেন্ট তৈরি শুরু করলেও দীর্ঘদিন তেমন সাড়া পাননি তাজু। নাগেশ্বরীর চরাঞ্চলের বাসিন্দা তাইজুল পেশায় রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে ঢাকায় কাজ করতেন। ঈদে বাড়ি এসে স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে ভিডিও তৈরি করেই আলোচনায় আসেন।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ১৯৪৮ সালে গড়ে তোলা ইসরায়েল নামে দখলদার ইহুদি রাষ্ট্রটির জন্মের পর একাধিকবার মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ-সংঘাতে জড়িয়েছে। জয়-পরাজয় যা-ই হোক না কেন, ভূমি ছাড়ার দৃশ্য বা নিজেদের মধ্যে অনৈক্য কখনও দেখেনি তেলআবিব। কিন্তু, ২০২৩ সালে হামাসের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ইহুদিদের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। ধ্বংস হওয়ার ভয় ঢুকেছে তাদের অন্তরে।
এরপর টানা দু’বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরায়েলি নৃশংস গণহত্যাও ‘ব্যাক ফায়ার’ করেছে। ইরানের হামলায় টিকতে না পেরে অবৈধ এ ভূখণ্ড ছাড়তে ইহুদিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
ঢল নামে সীমান্ত এলাকা ও বিমানবন্দরগুলোতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ইরানে যৌথ আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এতে বেশ ক্ষুব্ধ খোদ ইসরায়েলিরাই। যুদ্ধের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্কিন-ইসরায়েলি ভয়াবহ হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইরানের। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ সরকার ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ অনেক নেতার মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছুঁই ছুঁই। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক হাজার হাজার অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়েছে, কিন্তু হাল ছাড়েনি ইরানিরা। ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে উঠছে সাধারণ নাগরিকরা। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল ইরানে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উপজাতি নারীদেরও বন্দুক হাতে মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে দেখা যায়। এই দৃশ্য ইরানিদের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা ও প্রতিবাদী হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।
অপরদিকে ইসরায়েলের চিত্র পুরোপুরি উল্টো। ইরানের রেজিম চেঞ্জ বা শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য আগ্রাসন শুরু করলেও সরকারবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে ইসরায়েলে।
দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগ, যুদ্ধবন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নামছে ইসরায়েলিরা। সর্বশেষ গত শনিবার যুদ্ধবিরোধী ব্যানার বহন করে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তেল আবিবে শত শত ইসরায়েলি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে গণজমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা একটি কেন্দ্রীয় চত্বরে জড়ো হন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: ‘বোমা নয়—আলোচনা করুন! অন্তহীন যুদ্ধ বন্ধ করুন!’
ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি তৃণমূল গোষ্ঠী ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ এর সহ-পরিচালক অ্যালন-লি গ্রিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এখানে ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে গণহত্যা বা পরিকল্পিত আক্রমণ বন্ধের দাবি জানাতে এসেছি।’
গ্রিন বলেন, ‘ইসরায়েলে সবসময়ই যুদ্ধ লেগে থাকে। তাই যদি আমাদের বিক্ষোভ করতে দেওয়া না হয়, তবে আমাদের কখনোই কথা বলতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, যুদ্ধ অবসানের দাবিতে গত ২৮ মার্চও ইসরায়েলজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেশ করেছে। তেল আবিব, হাইফা ও জেরুজালেমে এ প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি সত্ত্বেও তারা ‘জীবনের জন্য’ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং যুদ্ধকালীন সরকারি নীতির তীব্র বিরোধিতা করছেন।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ইসরায়েলিদের। ক্রমেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। জ্বালানির মূল্য, খাবারের দাম, পরিবহন খরচ-সবই বেড়েছে। সঙ্গে বিঘ্ন ঘটছে বাণিজ্যে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে ইসরায়েলিদের দিন-রাতের অধিকাংশ সময় থাকতে হচ্ছে বাঙ্কারে, যা তাদের উৎপাদন কমিয়ে ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেকোনো একটি শহরে ছোট্ট একটি ড্রোন বা একটি রকেট আঘাত হানলে সর্বোচ্চ ক্ষতি হতে পারে একটি ফ্ল্যাটের বা কোনো একটি দোকানের।
কিন্তু, আকাশে সেই বস্তুর আগমন শনাক্ত হওয়ার পর যে সাইরেন বাজে তাতে একটি শহরের সব বাসিন্দাকে পালাতে হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে এ লুকোচুরি খেলা খেলতে গিয়ে তাদের জীবন নাজেহাল হয়ে পড়েছে।