আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে দিনাজপুরে জিএমডি (রেজিঃ নং-বি-২০৯৫) শ্রমিক-কর্মচারিদের কর্মী সম্মেলন ও সদস্য পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দিনাজপুরের দশমাইলের পূর্ব সাদীপুর পাওয়ার গ্রিডে এই অনুষ্ঠান হয়েছে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিজিসিবি শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি) সভাপতি মো. বাবর আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক মো. এমদাদুল হক। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মো. বাবর আলী বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে আগত নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় আমার প্রাণ প্রিয় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের শুভেচ্ছা জানাই। আজ আমরা একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের পর প্রাণ-মন খুলে একত্রিত হয়েছি। আজকে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শ্রমিক ঐক্যকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছি। যা কদিন আগেও সম্ভব ছিলো না। আমরা এখন মনের ভাব প্রকাশের একটা সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের সকল শ্রমিক ভাই-বোনেরা একটা সময় দুর্বিসহ যন্ত্রণা ও আঘাতগ্রস্ত সময় পার করেছেন। আমরা কঠিন এক নির্যাতনের সময় পার করেছি। আল্লাহপাকের উছিলায় এবং তাঁর লীলায় শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। সে পলায়ন করেছে। সে পালানোর আগে এদেশে শিশু-কিশোর, ছাত্র-জনতাসহ মা-বোনদের উপর গুলি চালিয়ে একটা অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল। ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের বিনিময়ে এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে এদেশ রক্ষা পেয়েছে। আমরা মনের কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।’
অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং সঞ্চলনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা চঞ্চল। মোকসেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেনটেনেন্স অফিসার রিয়াজ উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, পিজিসিবি ডিপ্রকৌস দিনাজপুরের সভাপতি মো. জায়েদুল ইসলাম (উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, জিএমডি, দিনাজপুর), রংপুর- দিনাজপুরের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সহ- সভাপতি জসিম উদ্দিন বাদশা, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল দিনাজপুরের নেতা এবং জাতীয়তাবাদী নেসকো বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা কামরুল হায়দার ও মো. দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিনষ্টের চেষ্টা করছে। তাই শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে পূজাকে উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করবে এই প্রত্যাশার কথা বলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ ফাহমিদা হক।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কয়রা উপজেলা অডিটোরিয়ামে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরগুলোর অনুকূলে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও খুলনা জেলা পরিষদ কর্তৃক সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সংস্কার কাজের প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
কয়রা উপজেলার ৫৯টি শারদীয় দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও ৫৪টি আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. রাশেদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনর রশীদ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অম্বিকা চরণ সানা, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগী, আবু সাঈদ বিশ্বাস, জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আবুল কালাম, জিএম রফিকুল, শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, গোলাম রসুল, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি, জিএম রাসেল ইসলাম, জাহিদুর রহমান শোভন, পীর আলী, মোহতাসিম বিল্লাহ প্রমুখ।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত থেকে আটক দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ফেরত পাওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় ২০৫৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ দুই পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরীফুল ইসলাম এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে আটক হন এএসআই ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদককারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অংশে চলে যান। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এএসআই ইমরান হোসেনও আটক হন। একপর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকরা তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার পর থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছিল।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমে উঠেছে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ঢাকি ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে হাট প্রাঙ্গণ। ঢাক-ঢোল, কাঁশি-সানাই, করতাল ও বাঁশির সম্মিলিত সুরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরছেন শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনা শুনে পছন্দের বাদকদল বেছে নিচ্ছেন পূজা আয়োজকরা। দল ও বাদ্যযন্ত্রের ধরন অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকারও বেশি সম্মানিতে চলছে দরদাম ও চুক্তি।
প্রতি বছরের মতো এবারও কটিয়াদী সদরের পুরান বাজার এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ হাট। গত বুধবার সকাল থেকে জমতে শুরু করা হাট চলে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠীর গভীর রাত পর্যন্ত। বাজার কমিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই শতাধিক বাদকদল হাটে এসেছেন। তবে হাটের সবচেয়ে বেশি জমজমাট অবস্থা দেখা যায় শেষের দিকে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকের গর্জন আর নানা বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখর পুরো এলাকা। একেকটি দল নিজেদের বাদ্যযন্ত্র ও বাজানোর দক্ষতা তুলে ধরছে। পূজা আয়োজকরা বিভিন্ন দলের পরিবেশনা শুনে পছন্দের দল নির্বাচন করছেন। এরপর চলছে দরদাম ও চুক্তি। যে দলের বাজনা আয়োজকদের মন কাড়ছে, নির্দিষ্ট সম্মানির বিনিময়ে সেই দলকেই দুর্গাপূজার মণ্ডপে বাজানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হচ্ছে।
নরসিংদীর শিবপুর থেকে হাটে আসা পূজা আয়োজক সুভাশিস সূত্রধর বলেন, ‘প্রতি বছর দুর্গাপূজার জন্য বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের দল নিতে এই ঐতিহ্যবাহী হাটে আসি। সকাল থেকে অনেকের বাজনা শুনেছি। এর মধ্যে একটি দলকে পছন্দ হয়েছে। তারা ভালো বাজায়। ৯০ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে আসা তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘এবারই প্রথম এই হাটে এসেছি। এসে মুগ্ধ হয়েছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে বাদকদল এসেছে। তাদের মধ্যে বিক্রমপুরের পাঁচ সদস্যের একটি দল পছন্দ করেছি। ৮৫ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’
বিক্রমপুর থেকে ১০ সদস্যের দল নিয়ে হাটে এসেছেন রণজিৎ মণি দাস। তার দলের সঙ্গে রয়েছে ঢাকসহ আধুনিক বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। দলটির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সম্মানি চাইতে দেখা গেছে।
এদিকে, ঢাকের হাট এখন আর শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজন নয়; এটি হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এক সর্বজনীন মিলনমেলা। বাদ্যযন্ত্রের সুর উপভোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। ঢাক-ঢোলের সম্মিলিত বাদ্য আর শিল্পীদের পরিবেশনায় পুরো হাট পরিণত হয় এক উৎসবের প্রাঙ্গণে।
পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্যের পেছনের ইতিহাস: স্থানীয় জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ের সময় কটিয়াদীর ঢাকের হাটের সূচনা হয়। রাজা কটিয়াদীর চারিপাড়ায় তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। পূজায় ঢাক, ঢোল ও বাঁশি বাজানোর জন্য সেরা শিল্পীদের খুঁজতে বিক্রমপুর পরগনায় বার্তা পাঠানো হয়। সেই আহ্বানে বহু বাদ্যযন্ত্রশিল্পী নৌপথে কটিয়াদীতে আসেন। রাজা নিজে তাদের বাজনা শুনে সেরা দল বেছে নেন। সেই থেকেই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কটিয়াদী পুরান বাজারে এই হাট বসার প্রচলন শুরু হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রীমা সংঘ হাটটির তত্ত্বাবধান করে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জীবন কুমার সাহা বলেন, ‘রাজা নবরঙ্গ রায়ের আমল থেকেই এই ঐতিহ্যের যাত্রা। হাটে আসা বাদকদের থাকা-খাওয়া, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে সংগঠনটি। কোনো বাদকদল ভাড়ায় যেতে না পারলে তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করা হয়।’
মোবাইল ফোনে চুক্তি, কমছে ঢাকিদের আগমন: ঐতিহ্যবাহী এ হাটে আগের তুলনায় ঢাকিদের আগমন কমেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা। তাদের মতে, মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সুযোগ বাড়ায় এ পরিবর্তন এসেছে।
হাটে এসে একবার চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর পূজা আয়োজক ও বাদকদলের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় হয়। পরবর্তী সময়ে কোনো দলের পরিবেশনা ভালো লাগলে আয়োজকরা সরাসরি ফোন করে সেই দলের সঙ্গে দরদাম ও চুক্তি করেন। ফলে উভয় পক্ষেরই পরের বছর হাটে আসার প্রয়োজন কমে যায়।
নাম ঢাকের হাট, কেনাবেচা হয় না বাদ্যযন্ত্র: নাম ঢাকের হাট হলেও এখানে ঢাক-ঢোল কিংবা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র কেনাবেচা হয় না। বরং বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা তাদের দক্ষতা ও পরিবেশনা তুলে ধরেন, আর পূজা আয়োজকরা বাজনা শুনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। দলের সদস্যসংখ্যা, বাদ্যযন্ত্রের ধরন ও শিল্পীদের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় সম্মানির পরিমাণ।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘বিক্রমপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাদকদল হাটে এসেছেন। ঢাক-ঢোলের পাশাপাশি বাঁশি, সানাই, করতাল, খঞ্জনি, মন্দিরা, ঝনঝনিসহ বিভিন্ন আধুনিক বাদ্যযন্ত্রও নিয়ে এসেছেন তারা।’
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহ্যবাহী হাট এখন কেবল বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের চুক্তির জায়গা নয়, বরং দুর্গোৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন স্থানে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুই পুলিশ সদস্যকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুত এর সুরাহা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার একজন সহকারী উপপরিদর্শক এবং একজন কনস্টেবল সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে আশাবাড়ি এলাকার নির্দিষ্ট সীমান্ত পিলারসংলগ্ন অঞ্চলে মাদক উদ্ধারের বিশেষ দায়িত্বে গিয়েছিলেন।
দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান তার পেছনে ধাওয়া করেন এবং পথ চেনার ভুলে সীমান্ত পেরিয়ে ফেললে তাকে স্থানীয়রা আটক করে বিএসএফের কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তাকে ছাড়াতে গিয়ে অপর পুলিশ কর্মকর্তাও আটক হন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের দুটি স্থাপনার ছাদে ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। নেট মিটারিং পদ্ধতিতে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে জেলা পরিষদের স্থাপনায় এ ধরনের উদ্যোগ একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা পরিষদ ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) ফরিদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। মোট ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এ প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী ২০ বছর প্ল্যান্টগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ।জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শেখ শহীদুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন পিয়াল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রবীর কান্তি বালা সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নেট মিটারিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের এ উদ্যোগ সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সরকারি ভবনের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গানে গানে মানবতার জয়গান, সাধুসঙ্গে আত্মার সন্ধান। বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস ঘিরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। সাজসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ আর দোকানিদের আনাগোনায় বাড়ছে উৎসবের আমেজ। তবে এ আয়োজন শুধু স্মরণোৎসব নয়; এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সাধুসঙ্গের ঐতিহ্য, আত্মসাধনা আর মানবতার দর্শন।
‘নিগূঢ় প্রেম কথাটি তাই আমি শুধাই কার কাছে, যদি তরিতে বাসনা থাকে, ধর রে মন সাধুর সঙ্গ।’
লালন সাঁইজির গানের এই আহ্বান যেন আজও মানুষকে টানে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায়। সাধুসঙ্গের টানে এখানে ছুটে আসেন সাধু-বাউল ও ভক্তরা। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণোৎসব।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন মাঠে বসতে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন সাধু-বাউল ও লালনভক্তরা। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা।
মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য আলমাস হোসেন বলেন, ‘মেলার প্যান্ডেল নির্মাণ ও মাঠের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ প্রায় শেষের পথে।’ এবারই প্রথম মেলার জন্য আলাদা একটি রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলাকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের একটি সুন্দর মেলা উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফকির লালন শাহের ঘরের রেজা ফকির বলেন, ‘লালন শাহের ঘর, পাঞ্জু শাহের ঘর, দেলবার শাহের ঘর, চৌধুরীর ঘর ও সতীমার ঘর এই পাঁচ ঘরের গুরুপাঠ আলাদা হলেও তাদের মতাদর্শ ছিল প্রায় একই। সেই অভিন্ন দর্শন, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের টানে পাঁচ ঘরের অনুসারীরা একত্রিত হয়ে সাধুসঙ্গে মিলিত হতেন।
ফকির লালন শাহ জীবিত থাকাকালে দোল পূর্ণিমার উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধুসঙ্গের যে ঐতিহ্য প্রচলিত ছিল, তা শুধু একটি উৎসব নয়; বরং গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক, আধ্যাত্মিক সাধনা, সম্প্রীতি ও ভাববিনিময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিকতা। আমরা সেই ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে আজও সাধুসঙ্গের আয়োজন করে আসছি।’
লালন অনুসারীদের ভাষ্য, লালন সাঁইজি জীবিত থাকাকালে দোল পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে সাধুসঙ্গের আয়োজন করতেন। সেই ঐতিহ্যে সাধুসঙ্গ ছিল শুধু গান বা আচার-অনুষ্ঠান নয়; বরং আত্মসাধনা, দর্শনচর্চা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্র।
লালনের গানে মানুষই ছিল মুখ্য। তার দর্শনে ‘মনের মানুষ’ আর ‘অচিন পাখি’ হয়ে উঠেছে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার রহস্য অনুসন্ধানের প্রতীক। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ গানে দেহ ও অন্তরের সেই রহস্য তুলে ধরেছেন সাধক লালন। জাতপাত, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখার আহ্বান ছিল তার গানে।
মানবপ্রেম, সাম্য ও আত্মসাধনার এই দর্শন আজও আকৃষ্ট করে সাধু-বাউল, গবেষক ও ভক্তদের। তাই ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি কেবল স্মরণোৎসবের স্থান নয়; এটি মানুষকে নতুন করে চেনার, নিজের ভেতরে খোঁজার এবং মানবতার বাণী উপলব্ধির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র।
লালন অনুসারী মামুন সাধু বলেন, ‘জয় হোক দরবেশ সিরাজ সাঁইয়ের, জয় হোক ফকির লালন সাঁইয়ের! সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর লালন মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মেলার প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’
তিন দিনের স্মরণোৎসবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সারওয়ার বলেন, ‘মেলার নিরাপত্তার জন্য কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা তৈরি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।’
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মেলা শুরুর আগ পর্যন্ত পুলিশের প্রস্তুতি জোরদার রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মেলার মাঠ ও মাজার এলাকায় টহল দল দায়িত্ব পালন করছে।’
লালন শাহের মাজারের প্রধান খাদেম মোহাম্মদ আলী শাহ লালন সাঁইজির জীবন ও স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা তুলে ধরেন। তার বর্ণনায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে তৎকালীন কালীগঙ্গা নদীতে একটি ভেলায় অসুস্থ এক শিশুকে পাওয়ার ঘটনা লালন সাঁইজির জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ওই শিশুর বয়স নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ ঘটনার ঐতিহাসিক বিবরণে মতভেদ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
‘ধর রে মন সাধুর সঙ্গ’-লালনের গানের এই বাণীকে ধারণ করেই যেন গড়ে ওঠে সাধু-বাউলদের মিলনমেলা। কালীগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে ছেঁউড়িয়ার এই আয়োজন হয়ে ওঠে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনক্ষেত্র। ধর্ম-বর্ণ ও জাতপাতের বিভেদ ভুলে মানুষ মিলিত হন একই আঙিনায়।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘ফুলদী সেতুর প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এই বছরই শেষ হবে। প্রকল্প মানেই এটা বোঝায় না যে আজকে বললাম আর আজকেই কাজ শুরু হয়ে গেল। প্রতিটি প্রকল্পের দুটি ধাপ থাকে। একটি হলো প্রকল্প গ্রহণ, ডিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন; অন্যটি হলো ভৌত কাজ। ফুলদী সেতুর প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এই বছর শুরু হয়েছে, হয়তো ভৌত কাজ আগামী বছর থেকে শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাসীর প্রাণের দাবি ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলাধীন ১৩ কিলোমিটার অংশে অপরিকল্পিত ইউ-টার্ন বন্ধে বর্তমান সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে ভাবা শুরু করেছি। আগে তো এসব নিয়ে কথাই হতো না। আমরা অ্যানালাইসিস করে দেখছি, কী কারণে এবং কেন ইউ-টার্নগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটছে। কিছু ইউ-টার্ন আছে যেগুলো অপরিকল্পিত আর কিছু এমন জায়গায় রয়েছে যেখানকার ইউ-টার্ন বন্ধ করলে গাড়িগুলোকে অনেক দূর ঘুরে আসতে হবে। আমরা বিষয়গুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের চেষ্টা করছি।’
নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতে বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আমরা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চাই। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা নিরাপদ সড়ক আইন পাশ করার ব্যাপারে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। বিশ্বব্যাংক এবং আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো যখন আমরা শেষ করতে পারব তখন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া এবং গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসহাক আলী ও মাসুদ ফারুক, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোতাহের হোসেন জাহাঙ্গীর, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম তারেকসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬ এবং ওয়াশ সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২৬-২০৪০ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব ও করণীয় তুলে ধরা হয়েছে এক অবহিতি সভায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নগরীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে দিনব্যাপী এ সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম মজুমদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালার মূল লক্ষ্য মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যের সমালোচনার পরিবর্তে নিজ নিজ দপ্তরে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এ অবহিতি সভার মাধ্যমে ময়মনসিংহে জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা এবং পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) কার্যক্রমের প্রচার আরও বিস্তৃত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অংশগ্রহণকারীদের আলোচনা ও মতামত সভাকে সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সভা আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিভাগীয় কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ‘ক্লিন সানডে’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সুয়ে মেন জো ও তাঁর সহযোগীরা জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬ এবং ওয়াশ সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২৬-২০৪০ নিয়ে উপস্থাপনা করেন। এতে নীতিমালার উদ্দেশ্য, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল, বিভাগীয় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) উম্মে হাবিবা মীরা।
এতে ময়মনসিংহ বিভাগ ও জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, পরিবেশ, তথ্য, মহিলা বিষয়ক, যুব উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানেরা অংশ নেন।
এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বাজারে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যাচাই এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।
বৃহস্পতিবার বরগুনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় অংশ নেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠায় সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা ও বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরকার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সরবরাহ পরিস্থিতি তদন্ত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যাচাই ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় এলপিজির মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামের চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া ও বাজারে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় সংকট মোকাবিলা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে সড়কপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রথমবারের মতো 'দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিস' চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নির্দেশনায় এ বিশেষ সেবা চালু করা হচ্ছে।
আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হয়ে এ বিশেষ বাস সার্ভিস চলবে ২৪ অক্টোবর (শনিবার) পর্যন্ত। যাত্রা সুগম করতে আগামীকাল ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের ২২টি বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রয় ও বাস রিজার্ভের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, উৎসব ঘিরে রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে আন্তঃজেলা ও জেলাভিত্তিক চলাচলের জন্য ২০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব রুটের মধ্যে রয়েছে— রংপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পাবনা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, নওগাঁ, পঞ্চগড়, ভূরুঙ্গামারী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বরিশাল, খুলনা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম। যাত্রীদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জরুরি যাত্রী সামাল দিতে এবং তাত্ক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর মতিঝিল আন্তর্জাতিক বাস ডিপো, ফুলবাড়িয়া সিবিএস-২, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, গাজীপুর চৌরাস্তা, চন্দ্রা মোড় এবং মহাখালী বাস টার্মিনালে ৬০টি বাস স্ট্যান্ডবাই (প্রস্তুত) হিসেবে রাখা হবে।
'দুর্গাপূজা বিশেষ বাস সার্ভিস'-এর সেবা গ্রহণ বা যেকোনো তথ্যের জন্য বিআরটিসি প্রধান কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পূজা সারা বাংলাদেশের একটি উৎসব। এই দেশে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোনও ভেদাভেদ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে পূজা মণ্ডপে ডিও প্রদান ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় প্রতিমন্ত্রী পুতুল আরও বলেন, দূর্গাৎসব বর্নিল ও আনন্দময় করার জন্য নানা ধরনের উদ্যাগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এছাড়াও পূজার উৎসবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোন ধরনের ছাড় নেই। কেউ কোন ধরনের সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে এবং দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামসুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবুসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনটির সভাপতি আনজারুল হক মিলনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. মমিনুর রহমান, সদর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহানুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সুদেব চন্দ্র, সহসাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও সহসভাপতি রোকসানা আক্তার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে মাইকিংয়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়। বরং স্বাস্থ্য সহকারীদের মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। এ ছাড়া তাঁদের পরিবহন খরচ ও এসিআর বিল দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বক্তারা অবিলম্বে ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ সময় সংগঠনের সদস্য মেহেরুন্নেসা, আফরোজা বিনতে আজিজ গ্লোরী, শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, ফজলুর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন, আব্দুল্লাহ আল মুকিত সৌরভ, বিধান চন্দ্র রায়, নিরব চন্দ্র রায়সহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুরে সদরের মস্তফাপুর ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণী ও বিএসএস (১ম বর্ষ) শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে কলেজটির হলরুমে এ নবীনবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে ডেঙ্গু মশক রোধে পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কলেজ চত্বরে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সরমিন ইসলাম ডেইজি নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনারা দেশ ও জাতির আগামীর প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ, আপনাদের খেলাধূলার পাশাপশি শিক্ষার উপর সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে, সফলতা কখনো মসৃণ পথে আসে না, সফল হতে হলে আপনাদের ভীষণভাবে পরিশ্রম করতে হবে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে ভালো রেজাল্টে অর্জন করে কেউ ডাক্তার হবেন, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা ডিসি-এসপি সহ মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক'।
তিনি আরও বলেন, আপনারা আবার কেউ আমাদের মতো রাজনীতিতেও যুক্ত হয়ে দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবেন। এজন্য আপনাদের সুশিক্ষিত হতে হবে। এসময় কলেজটির অধ্যক্ষ হাসমাতুন নেছার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গভর্নিং বডির সদস্য এনায়েত হোসেন, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবুল বাশার মাতুব্বর সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গনমাধ্যম কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।