আলোকচিত্রী হিসেবে বহুল পরিচিতির আড়ালে গল্পকার হিসেবে গোলাম কাসেম ড্যাডির অবদান চাপা পড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষক, কথাসাহিত্যিক, আলোকচিত্রীসহ বক্তারা। তারা বলেছেন, আলোকচিত্রী হিসেবে ড্যাডি যেমন সফল, তেমনি ছোটগল্পকার হিসেবেও তার অবদান রয়েছে। তবে ড্যাডি সমকালীন লেখকদের মাধ্যমেও বঞ্চিত হয়েছেন।
সোমবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাঁটাবনে পাঠক সমাবেশে আয়োজিত ড্যাডিসমগ্রের পাঠ প্রতিক্রিয়ায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কবি ও গবেষক ইমরান মাহফুজ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
কথাসাহিত্যিক মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘গোলাম কাসেম ড্যাডি শুধু আলোকচিত্রী নন, তিনি শব্দচিত্রীও ছিলেন। তিনি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনধারণের ছবি তুলেছিলেন। মুসলিম ছোটগল্পকার হিসেবেও তার সার্থকতা রয়েছে। ড্যাডি বাংলার ইতিহাসের চাক্ষুষ সাক্ষী। শত বছরের জীবনে তিনি ৫০টির মতো ছোটগল্প লিখেছেন। এসব গল্পে বাংলার মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো উঠে এসেছে। তবে লেখকরা তাকে সেভাবে দেখেননি, বরং তিনি লেখকদের দ্বারা বঞ্চিত হয়েছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, বই বের না করার জন্য গল্পকার হিসেবে ড্যাডি প্রতিষ্ঠিত হননি। তবে তিনি বাংলার একজন গুরুত্বপূর্ণ গল্পকার ছিলেন। ১৯৬৪ সালে ‘ক্যামেরা’ ও ১৯৮৬ সালে ‘একনজরে ফটোগ্রাফি’— এই দুটি বই তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়। ড্যাডি তার বইগুলোর মধ্যে দুই-তিন কালের আলোকচিত্রের বিষয় এবং মানুষ যেন সহজভাবে চর্চা করতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলার সংস্কৃতিতে ছবি ধারণকে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সংগ্রাম করেছেন তিনি।
দৃশ্যগল্পকার সুদীপ্ত সালাম বলেন, ‘গোলাম কাসেম ড্যাডি আমাদের আলোকচিত্রীদের অভিভাবক। তার ছবিতে বিন্দুমাত্র প্রতারণার ছোঁয়া ছিল না। ড্যাডির জীবনাচরণ ও ছবিতে সেই সব সত্যতা ফুটে উঠেছে। এমন একজন সাদামাটা আলোকচিত্রী অভিভাবককে ভুলে গেলে আমরা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ব।’
ড্যাডির প্রবন্ধ নিয়ে আলোকচিত্রী ও শিক্ষক জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ‘প্রাবন্ধিক হিসেবে গোলাম কাসেম একজন সার্থক মানুষ ও শিক্ষক ছিলেন। ছবি তোলার জন্য উপকরণ বিষয়ে ৫০ বছর আগেই ড্যাডি তার প্রবন্ধের মাধ্যমে লিখে গেছেন। সে কালের একজন মানুষের লেখা বই পড়ে আধুনিক যুগে এসে আমরা ছবির বিষয়বস্তু শিখছি। তাই তো তিনি আলোকচিত্রীদের সফল শিক্ষক।’
পরে পাঠকদের মধ্য থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন গবেষক ইসরাইল খান, আলোকচিত্রী পল ডেভিড বারিকদার, কাউন্টার ফটোর অধ্যক্ষ সাইফুল হক অমি ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম।
ধর্ষক ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এসব অপরাধীর পক্ষে কেউ সুপারিশ করতে এলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
মাদক ও ধর্ষণের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “ধর্ষক বা মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হতে পারে না।” রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করে তিনি আরও যোগ করেন, “এদের দমনে যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা তদবির করেন, তবে সেই নেতাসহ তাদের একই মামলায় জড়িয়ে হাজতে পাঠানো হবে। আমার নিজের দলের নেতা হলেও রেহাই পাবেন না।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, রাষ্ট্রের শত চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়া এখন অসম্ভব।
প্রশাসনের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সকাল ৯টায় অফিস করলেও অনেক জেলা-উপজেলায় কর্মকর্তারা সময়মতো উপস্থিত হন না, যা অনভিপ্রেত। তিনি স্পষ্ট জানান যে, শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল মেধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং কোনো রাজনৈতিক তদবির সেখানে গ্রাহ্য হবে না। বিগত সময়ের মেগা প্রজেক্টগুলোতে অর্থ লোপাটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে অবিশ্বাস্যভাবে ব্যয় বাড়িয়ে দেখানোর মতো দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় বর্তমান সরকার অনেক প্রকল্প স্থগিত করে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে।
মাদক চোরাচালানে ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে জামিন পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মডেলটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী এই বাজেটের বিরোধিতা কেবল বিরোধিতার খাতিরেই করা হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রী ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় নির্মিত একটি অত্যাধুনিক কসাইখানা এবং শৈলকূপায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মসূচিগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম কার্ড বিতরণের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে একটি আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, ১৯টি জেলায় বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা অঞ্চলেও এর উদ্বোধন করা হবে। ইতিমধ্যে কৃষক কার্ড এবং খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি তথ্য দেন।
বাজেট নিয়ে অতীতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন, আগে বাজেট দেওয়া হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল করতেন যে, ‘এ বাজেট গরিব মারার বাজেট, এ বাজেট মানি না’। তবে এবার বাজেটের বিরুদ্ধে এই মিছিল না হয়ে মিছিল হয়েছে- ‘মদের দাম বাড়ল কেন, বিড়ির দাম বাড়ল কেন?’ তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে করের চাপ কমানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কবরের মধ্যে জীবিত আছেন ভেবে ভোলা সদর উপজেলায় দাফনের ১৮ দিনের মাথায় মরিয়ম (২০) নামে এক তরুণীর কবর খুঁড়েছেন স্বজনরা৷ যা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মরিয়ম ওই একই বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর খলিল লাহারি ও গৃহিনী তাসনুর বেগমের ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ২ মেয়ে ছিলেন।
সরেজমিনে জানা যায়, মরিয়ম বাবার সংসারের অভাব দূর করতে গত কয়েক বছর আগে পাড়ি জমান চট্রগ্রামে এবং সেখানেই তিনি একটি গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৬ জুলাই ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার পরিবার বাড়িতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। এবং চিকিৎসা চলাকালে ২৮ জুন ভোরে অর্থাৎ ঈদের দিন তিনি নিজেদের বসতঘরে মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির সামনের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পুকুর পাড়ের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন স্বজনরা। এছাড়া দাফনের কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর কবরটি থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে,এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে তরুণীর কবরটি। প্রতিদিনই ভীর জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা।
স্থানীয় পাঞ্জেখানা মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম পরিবারের বরাতে জানান, আমি মরিয়মের জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছে এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য আলেমদেরকে পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে,এটি অবাস্তব।
অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেওয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা মাটি দেন।
আরও জানা গেছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে প্রায় ৩-৪০০ মানুষের উপস্থিতিতে কবরটি খুঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে,পরে পুনরায় কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ধারণা করা হচ্ছে,যেহেতু মরিয়ম তার সংসারের উপার্জনক্ষমদের মধ্যে একজন ছিলেন তাই তার স্বজনরা মরিয়মকে নিয়ে মৃত্যুর পর অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার ফলেই ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখতে পারেন তারা।
প্রতিবেশী মো.লোকমান লাহারি বলেন,প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্রগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতো মরিয়ম। কুরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিল। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পাশ্ববর্তী ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি তিনি মারা যাওয়ার দুইদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন,পড়ে তাকে তার বাবা মা ডাক্তার দেখিয়েছিল। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হটাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছে। এর কিছুক্ষন পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়েছে।
পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো.কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে,আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। 'কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন সে মৃত অবস্থায় রয়েছে,কবর খোড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি'।
এদিকে দাফনের ১৮ দিনের মাথায় কবর খোড়ার ঘটনাটি জানাজানির পর কবরটি দেখতে আসা বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম,মো.নাজিম,সোহাগ ও মিদুল ও হান্নান বলেন,আমরা শুনেছি সে নাকি কবরের মধ্যে জীবিত আছেন এবং তার কবর থেকে সুগন্ধির ঘ্রাণ বের হচ্ছে। এটা ভেবে তার স্বজনরা কবর খুড়েছে,বিষয়টি দেখতে কবরের কাছে এসে জানলাম সে কবরের মধ্যে জীবিত না এবং কবর থেকে সুগন্ধিও আসছে না। তবে আমাদের গ্রামে এরকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, 'সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল,এবং সন্দেহ দূর হয়েছে'।
এনিয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন,মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন সে কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদেরকে বলেছি- যদি আপনারা কবর খুড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। আজকে কবর খোড়ার বিষয়টি আমি অবগত নই।
দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ স্মল রিচার্জ ভেসেল। এটি সমুদ্রের গভীরতা নিরূপণ, সমুদ্রতলের মানচিত্রায়ন, বৈজ্ঞানিক জরিপ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
এ ছাড়া তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, মেরিন স্যাম্পল কালেকশন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে, মৎস্য ও পরিবেশ গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড এই সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাহাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘স্মল রিসার্চ ভেসেল সমুদ্রে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রের মধ্যে খনিজসম্পদ, মৎস্যসম্পদ সুনীল অর্থনীতি ভূমিকা পালন করবেন এই জাহাজের গবেষণায়। এমন সব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে এই দেশে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে।’
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এর মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির চুক্তির আওতায় ১টি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, ১টি সেলফ সাসটেইন্ড পন্টুন, ২টি হাইস্পিড কেবিন বোট ও ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জেটি ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী, খুলনা শিপইয়ার্ড ও ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ বুধবার দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওইসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতা সংকেত জারির নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি।
সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবহাওয়া অফিসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।”
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই বিশেষ এলাকাগুলোর নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে নৌযান চলাচল ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকে রেললাইনের পাশে থেকে নেয়ামুল বাশির (৪৮) নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার শাহাগোলা রেলস্টেশনের এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নেয়ামুল বাশির নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ চকরামচন্দ্র মহল্লার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তাকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে বলে তাঁর স্বজনরা অভিযোগ করছেন।
ঘটনার শিকার নেয়ামুল বাশির এর ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার বড় ভাইয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এশার নামাজের পর বাড়ি ফেরার কথা ছিলো। সে মোতাবেক আত্রাই রেলষ্টেশন এলাকা থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে তিনি নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। পথে তাকে হত্যা করে মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে গেছে। খুনিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নেয়ামুল বাশিরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেয়া খবর পেয়ে রেললাইনের পাশ থেকে নেয়ামুল বাশিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় তার মাথায় গুরুত্বর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি সরানো নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্দেশিকা মেনেই তোলা হচ্ছিল মাটি।
সামাজিক মাধ্যমে মাটি তোলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেতুর পিলার।
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মাটি ও বালু অপসারণ করা হচ্ছিল ওই এলাকায়- জানাল পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি জলাশয় পুনরুদ্ধারের জন্য প্রকল্পের অনুমোদিত পরিকল্পনার অংশ। ‘এতে সেতুর কাঠামোগত কোনো ঝুঁকি নেই’- দাবি কর্মকর্তাদের।
প্রকল্পের উপপরিচালক আমিনুল করিম জানান, ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলসেতুর ৭৬ থেকে ৯০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা আগে জলাশয় ছিল। ভায়াডাক্ট নির্মাণের জন্য সেখানে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করেছিল চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। এখন আগের জলাশয় পুনরুদ্ধারে কাজ চলছিল পরিবেশবান্ধব নির্দেশিকার আওতায়।
তার ভাষ্য, ‘এ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। ওই স্থানে জলাশয় রাখার পরিকল্পনা ছিল প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী। কাঠামোগত নিরাপত্তা বিবেচনায় পাইল ও পাইল ক্যাপের ভিত্তির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ভায়াডাক্ট। ফলে মাটি অপসারণে সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না।’
এ নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বললেন, ‘যারা মাটি কাটছিল, তারা দাবি করেছে- এ কাজের ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছে প্রকল্পের নির্মাণকারী চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এটি প্রকল্পেরই অংশ। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আপাতত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাজ বন্ধ রাখার।’
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, সংশ্লিষ্টরা কিছু অনুমতিপত্র দেখালেও তা সন্তোষজনক মনে হয়নি। পরে রেলওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আগের অনুমতিও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা যায়। এখন ওই স্থান থেকে আর মাটি তোলার সুযোগ নেই।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর মাটি অপসারণের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত ছিল রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের। তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর এখন অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমার দপ্তর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।’
পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া মিছিলে দা, ছুরি, কাস্তে, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো যাবে না। এ বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া মিছিলের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এসব নির্দেশনা জানালেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, পবিত্র আশুরার সব কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মিছিলে দা, ছুরি, কাস্তে, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো যাবে না।
তিনি আরও বলেছেন, হোসাইনী দালান ইমামবাড়া পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। যে কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুরো এলাকা ডগ স্কোয়াড ও ম্যানুয়ালি সুইপিং করা হবে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
সমন্বয় সভার শুরুতে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
প্রথম শ্রেণির মাদারীপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ ইরেজী অর্থবছরে ১১০ কোটি ৬৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৬০ টাকার চ্যালেঞ্জিং খসড়া বাজেট প্রণয়ন করে নাগরিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে পৌর প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানুর সভাপতিত্বে ও উপস্থানায় উক্ত খসড়া বাজেট প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে নাগরিক মতবিনিময় সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘উন্নত পৌর নাগরিক সেবা প্রদানই তাদের মূল লক্ষ্য। বাজেটে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন, গুরুত্বপূর্ণ টেকসই অবকাঠামো এবং সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ড প্রকল্প (সিসিটিএফপি), আয়-ব্যয় খাতের হিসাব, মূলধন হিসাব, ২০২৪-২৫, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত ও সংশোধিত বাজেটের পর্যালোচনা, বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার হতে প্রাপ্ত অর্থের বিবরণী, বিভিন্ন দাতা সংস্থা হতে প্রাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পের আয়-ব্যয়, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প, স্যানিটেশন-ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প, রাস্তাঘাট ও খেলাধুলার মাঠের উন্নয়ন, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিশুপার্ক, ঈদগাহ, কবরস্থান, ওয়াকওয়ে, অডিটোরিয়াম, কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়নসহ বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বৃক্ষরোপণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া, হাম-রুবেলা প্রতিরোধ, মশক নিধন, সুপেয় পানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ বাতির উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত সড়ক ব্যবস্থা, পুকুর-জলাশয় সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বাজেটের আয়-ব্যয়ের পর্যালোচনা, লক্ষ্যমাত্রা ও ট্যাক্স আদায়সংক্রান্ত উপস্থাপনা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা মো. আসমত হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আবু আহমদ ফিরোজ ইলিয়াসসহ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদে সদস্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ কাজী হুমায়ুন কবীর, সাবেক সিভিল সার্জন ও নিরাময় হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার মো. সরোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটু, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি)-এর জেলা শাখার সভাপতি খান মো. শহীদ, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি এনায়েত নান্নু, দৈনিক বাংলার সাংবাদিক শরীফ ফায়েজুল কবীর প্রমুখ।
প্রস্তাবিত খসড়া বাজেট উপস্থাপনের পর এর ওপর মতবিনিয়কালে বক্তারা বলেন, ‘বাজেটের আকার বড় হলেও এর বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে সঠিক কর্মপরিকল্পনা, নতুন-নতুন খাত তৈরি, ট্যাক্স হোল্ডার বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।’
তারা আরও বলেন, ‘পৌর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেন অথচ ট্যাক্স প্রদান করেন না এমন নতুন-নতুন খাত চিহ্নিত করে পৌর ট্যাক্সের আওতায় আনা উচিত।’
বরগুনা জেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এক বিশাল অংশজুড়েই রয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। জেলার মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রায় ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশই এখন গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত। এ ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও পারিবারিক ব্যবসার শক্তিশালী উপস্থিতির কারণে জেলায় অর্থনৈতিক পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৭৮৭টিতে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪: ফলাফল, পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই শুমারির আয়োজন করে।
জেলা পরিসংখ্যান উপপরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
সেমিনারে জানানো হয়, অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর আওতায় বরগুনা জেলার অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোর হালনাগাদ তথ্য নিয়ে একটি ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল বিজনেস রেজিস্টার’ তৈরি করা হয়েছে। এই তথ্যভাণ্ডার জেলার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক জরিপ ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
শুমারির চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বরগুনা জেলায় মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৬৭০টি। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় রয়েছে ৫২ হাজার ৯৩৩টি এবং শহরাঞ্চলে রয়েছে ২১ হাজার ৭৩৭টি ইউনিট। অন্যদিকে ধরনভিত্তিক বিন্যাসে দেখা গেছে, জেলায় স্থায়ী অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৩৯ হাজার ২৪০টি এবং অস্থায়ী ইউনিটের সংখ্যা ১ হাজার ৬৪৩টি।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, বরগুনা মূলত কৃষি, মৎস্য, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তানির্ভর অর্থনীতির জেলা। শুমারির তথ্যানুযায়ী গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক ইউনিটের এই আধিক্য জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের এক বিশাল সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, এই শুমারির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বরগুনার অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। এই তথ্যভিত্তিক ডেটা ব্যবহার করে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বরগুনার অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় কৃষির আধুনিকায়ন, মৎস্য চাষের সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে খাল খনন কর্মসূচি। ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে হাজার হাজার একর ফসলি জমি আবাদের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এই প্রকল্পের কাজ এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা/কাবিটা) এবং এডিপিসহ সরকারের বিশেষ উন্নয়ন তহবিলের আওতায় এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ও মৃতপ্রায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিক ধাপে মোট ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রতিটি খালের দৈর্ঘ্য ও পরিমাপ অনুযায়ী স্থানীয় উপকারভোগীদের সমন্বয়ে ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’ (PIC) গঠন করে বরাদ্দ বণ্টন করা হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক মৃতপ্রায় খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রুদ্রঘরা ও খর্ণিয়া ইউনিয়ন: এই অঞ্চলের জলবদ্ধতা দূর করতে প্রধান নিষ্কাশন খালগুলোর একটি বড় অংশের খনন কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
শোভনা ও গুটুদিয়া ইউনিয়ন: কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা দিতে এবং বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের জন্য নকশা অনুযায়ী খালের গভীরতা ও প্রশস্থতা বাড়ানো হচ্ছে। এখানে অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশ।
ডুমুরিয়া সদর ও ধামালিয়া ইউনিয়ন: মৎস্য চাষি ও সাধারণ কৃষকদের সুবিধার্থে খালের তলদেশের পলি অপসারণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
সামগ্রিকভাবে উপজেলার চলতি মৌসুমের খাল খনন প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই কাজ শেষ করতে শ্রমিক ও এস্কেভেটর (ভেকু) দিনরাত কাজ করছে।
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগার লবী বলেন, ‘ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার মানুষের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষি ও মৎস্য। দীর্ঘদিন ধরে পলি পড়ে খালগুলো ভরাট থাকায় কৃষকরা সময় মতো সেচ পেতেন না, আবার বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। এই জনদুর্ভোগ দূর করতেই আমরা সরকারি বিশেষ তহবিল থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমি নিজে কাজের তদারকি করছি। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ধীরগতি সহ্য করা হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেকসইভাবে খাল খনন শেষ করে কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ সঠিক নিয়মে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে খাল খনন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা নিয়মিত বিভিন্ন স্পটে গিয়ে কাজের পরিমাপ ও গভীরতা যাচাই করছি। যেখানেই নকশাবহির্ভূত কাজের অভিযোগ উঠছে, সেখানেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এই খনন কাজ শেষ হলে ডুমুরিয়ার কৃষি ও পরিবেশগত ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডুমুরিয়া উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবদ্ধতা নিরসনে এই খাল খনন প্রকল্পগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা টেকনিক্যাল গাইডলাইন এবং প্রাক্কলন (এস্টিমেট) অনুযায়ী প্রতিটি খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা শতভাগ বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পিআইসি কমিটিকে সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে আমাদের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়মিত তদারকি করছেন। বরাদ্দের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই খালগুলো ছিল আমাদের এলাকার কৃষকদের প্রাণ। দীর্ঘদিন খনন না করায় এগুলো মরা খালে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক বরাদ্দের ফলে আমাদের এলাকার হাজার হাজার কৃষক ও ঘের ব্যবসায়ী সরাসরি উপকৃত হবেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা সার্বক্ষণিক কাজের মান তদারকি করছি, যেন সাধারণ মানুষ এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পায়।’
খাল খনন প্রকল্পের পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি) বলেন, ‘আমরা শতভাগ নিয়ম মেনে শিডিউল ও বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করছি। মাটির গভীরতা এবং খালের দুই পাড়ের বাঁধ টেকসই করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাওয়ায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আশা করছি, সরকারি বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই আমরা সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে দিতে পারব।’
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, সরকারি অর্থায়নে খালগুলো খনন করার ফলে বর্ষা মৌসুমে যেমন অতিবৃষ্টির পানি সহজে নেমে যাবে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজের জন্য পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। এতে ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলাজুড়ে এই মহাপরিকল্পনা সফলভাবে সম্পন্ন হলে ডুমুরিয়ার অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী মো. আবু জোবায়ের নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জোবায়ের তাঁর অপর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাক পেছন থেকে তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে জোবায়ের গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মো. আবু জোবায়ের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেট ক্লাব’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেন। একজন সুপরিচিত সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। মেধা, ভদ্রতা ও আন্তরিকতার জন্য শিক্ষক ও সহপাঠী সবার কাছেই তিনি অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।
জোবায়েরের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইন বিভাগের উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আইন বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ হিল গনির সভাপতিত্বে এই মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার মো. মনিরুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধানগণসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জোবায়েরের পিতা মো. আবুল কালাম আজাদ একজন কৃষক এবং মাতা জহুরা বেগম গৃহিণী।
পরিবারে তাঁর একমাত্র ছোট ভাই রয়েছে, যিনি বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। এর আগে ২০১৪ সালে জোবায়েরের বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর এখন আবার জোবায়েরের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হাসপাতাল থেকে মরদেহ তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ স্মল রিচার্জ ভেসেল। এটি সমুদ্রের গভীরতা নিরূপণ, সমুদ্রতলের মানচিত্রায়ন, বৈজ্ঞানিক জরিপ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
এছাড়া তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, মেরিন স্যাম্পল কালেকশন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে, মৎস্য ও পরিবেশ গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড এই সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাহাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, স্মল রিসার্চ ভেসেল সমুদ্রে খনিজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রের মধ্যে খনিজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ সুনীল অর্থনীতি ভূমিকা পালন করবেন এই জাহাজের গবেষণায়। এমন সব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে এই দেশে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে।
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এর মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির চুক্তির আওতায় ১টি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, ১টি সেলফ সাসটেইন্ড পল্টুন, ২টি হাইস্পিড কেবিন বোট ও ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জেটি ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী, খুলনা শিপইয়ার্ড ও ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।