মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

চাঁদপুরে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁদপুরে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
সারাবাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
সারাবাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩ অক্টোবর, ২০২৪ ১৭:৫৭

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় থাকার কারণে চাঁদপুরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। অতি বৃষ্টিতে এখানকার জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুরে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বেশি। বৃষ্টিতে ভিজেই স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় গেছে শিক্ষার্থীরা।

এ দিকে, বৃষ্টির কারনে সড়কে যানবাহন ও লোকজনের চলাফেরা ছিল কম। এ ছাড়া জেলার আগাম সবজি চাষে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বৈরী আবহাওয়া থাকলেও ঢাকা-চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ রুটে ছোট-বড় সব ধরনের লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ্ মো. শোয়েবুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৯টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত জেলায় ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা (২-৪) ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।


নির্বাচিত

ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯৩ পদ শূন্য, ভোগান্তিতে সাড়ে তিন লাখ মানুষ

* জনবল সংকটে, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা * অবকাঠামো-যন্ত্রপাতি আছে, অস্ত্রোপচারে ছুটতে হয় রংপুরে * ৯৩ পদ শূন্য, ভোগান্তিতে সাড়ে তিন লাখ মানুষ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারীর প্রান্তিক উপজেলা ডিমলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো, রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও। কিন্তু চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ফলে দুর্ঘটনায় আহত রোগী, জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ কিংবা প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ানসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য ছুটতে হচ্ছে জেলা সদর কিংবা রংপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে।

হাসপাতালে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ খরচ করে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক জনবল। শূন্য রয়েছে ৯৩টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৩৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৮টি পদই শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটিও খালি রয়েছে। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) পদ থাকলেও বর্তমানে ওই পদে কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে একজন মেডিকেল অফিসারকে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে অস্ত্রোপচার সেবায়। হাসপাতালের অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার পরও জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন থিয়েটার কার্যত বন্ধ। ফলে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় তাদের অনেককেই বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হওয়া দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকার পরও শুধু জনবল সংকটে সেবা বন্ধ থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত চিকিৎসকসহ শূন্য পদগুলো পূরণ করে অপারেশন থিয়েটার চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুধু বহির্বিভাগে রোগী দেখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা, অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হলে অনুমোদিত পদ অনুযায়ী চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল থাকা জরুরি। বিশেষ করে ডিমলার মতো বড় জনসংখ্যার একটি উপজেলার জন্য জনবল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ শূন্যপদগুলো পূরণ হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি সরকারি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর একটি বড় বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে—ভবন আছে, যন্ত্রপাতি আছে; কিন্তু সেগুলো পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে সরকারি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লাখো মানুষ।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলই না থাকে, তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো ও কেনা আধুনিক যন্ত্রপাতি কতটা কাজে আসছে? ডিমলার মানুষের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ, অপারেশন থিয়েটার চালু এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।


নির্বাচিত

আনসার-ভিডিপির নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন আনসার-ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মো. সাইফুল্লাহ রাসেল।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাহিনীর সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তাঁর র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ রাসেলকে নতুন পদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন যে, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও সাংগঠনিক আস্থার মাধ্যমেই সাইফুল্লাহ রাসেল এই পদোন্নতি অর্জন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৮তম বিসিএসের এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার নেতৃত্ব ও দক্ষতায় আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিক হবে, যা ভবিষ্যতে বাহিনীকে একটি সুবৃহৎ ও পেশাদার প্যারামিলিটারি ফোর্স হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, বিভিন্ন জোনের অধিনায়ক এবং জেলা কমান্ড্যান্টরা উপস্থিত ছিলেন। সাইফুল্লাহ রাসেলের এই নতুন পদায়ন ও র‍্যাংক ব্যাজ পরিধানের ঘটনাটি তাঁর দীর্ঘ পেশাগত ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

ঢাকা ক্লাবের সভাপতিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা ক্লাবের সভাপতি শামীম হোসেনসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা করেছেন চাকরিচ্যুত এক কর্মী।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ক্লাবের সাবেক ‘অ্যাটেন্ডেন্ট’ আশিক মোল্লা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, “আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।”

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—ডাইরেক্টর (ফাইন্যান্স) তুহিন রেজা, সিও ও সচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছাব্বির আহম্মেদ ও চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) ইকবাল হোসেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আশিক মোল্লা ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকা ক্লাবে ‘অ্যাটেন্ডেন্ট’ পদে যোগদান করেন, যা স্থায়ী হয় পরের বছরের ১৯ অগাস্ট। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর গত ২৬ জানুয়ারি ‘চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে’ তাকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়। এর চয় মাস বাদে ২৭ জুলাই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এজাহারে বলা হয়, সার্ভিস বেনিফিট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, নোটিস পে ও বকেয়া বেতন বাবদ ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওনা ছিল আশিক মোল্লার। পাওনা টাকা না পেয়ে বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১২৪(ক)-এর (৫) ধারায় মধ্যস্থতার আবেদন জানান। তবে আসামিরা নোটিস পেয়েও উপস্থিত না হওয়ায় শ্রম পরিদর্শক বাদীকে লিখিত ছাড়পত্র দেন।

ছাড়পত্র পাওয়ার পর ১৫ অগাস্ট বাদী ঢাকা ক্লাবে গেলে আসামিরা তাকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৮১ টাকার একটি চেক দেন। তবে বাকি তিন লাখ ৭৩ হাজার ১৯ টাকা অস্বীকৃতি জানান তারা।

সেই টাকা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আসামিরা আশিককে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জামালপুরে ব্ল্যাকমেইলের জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে ইশরাত জাহান (৩৪) নামে এক গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি কাউওসার আহমেদ খানকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২৩ আগস্ট সকালে জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তা মোড় এলাকার কলাবাগান গলিতে বাবুল মিয়ার বাড়ির পাঁচতলায় ইশরাত জাহান নামের এক গৃহবধূর মরদেহ পাওয়া যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা যায় নিহত ইশরাত জাহান ও কাউসার আহমেদ খান স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং তাদের ঘরে দুটি সন্তান আছে। এরপর নিহতের মা মুক্তা বেগম কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাত দুই জনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই।

তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইশরাত জাহানের সাথে শাওন নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একজন মেয়ে ও একজন ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। ইশরাতের স্বামী শাওন ২০২১ সালে মারা গেলে ইশরাত তার দুই সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করতে থাকে। প্রায় ৩ বছর আগে কাউসার আহমেদ খানের মনোহারি দোকানে কেনাকাটা করার সুবাদে ইশরাতের সাথে পরিচয় হয়। এক সময় ইশরাত দোকানের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য কাউসারকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। কাউসার সেখানে গেলে পরিকল্পিতভাবে ইশরাতের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় কাউসার। তাদের শারীরিক সর্ম্পকের বিষয়টি গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে ইশরাত। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দিয়ে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতে থাকে। এভাবে আসামি কাউসার তার সঞ্চিত অর্থ শেষ করার পর জামালপুর শহরে তার বাড়ির জমি বিক্রিসহ মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থ ইশরাতের হাতে তুলে দেয়। এ ছাড়া ইশরাত ব্ল্যাকমেইল করার জন্য বিভিন্ন লোকজনদের টার্গেট করত এবং কাউসারকে সেসব লোকদের ফাঁদে ফেলে বাসায় নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করত।

আসামি কাউসার একপর্যায়ে এসব কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে ইশরাত ও কাউসারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত আরও জানান, ঘটনার দিন ইশরাত আসামি কাউসারকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যায় এবং কাউসারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইশরাত আসামি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে তাদের অবৈধ সর্ম্পকের কথা জানিয়ে দেয়। কাউসার তার সাথেই আছে এমন কথা বলে কাউসারকে তার স্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দিতে চাইলে কাউসার কথা বলতে না চাওয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার ইশরাতের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এরপর পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কাউসার আহমেদ খানকে গত সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: মৃত জেলেরা হলেন, মো. নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইফুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তাদের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রলার মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা। এর আগে গত সোমবার দুপুরের দিকে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকিরা নিখোঁজ ছিলেন।

মৃত জেলেরা হলেন, মো. নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইফুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাদের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নে। পাঁচ জেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাথরঘাটায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

‘এফবি বরকত’ ট্রলারের মালিক বাদল মোল্লা জানান, গভীর সমুদ্র থেকে ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার করে একটি ট্রলার উপকূলের দিকে ফিরছে। পাথরঘাটায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা জানান, সাগরে তখন প্রচণ্ড ঝড় ও তুফান চলছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির মধ্যে ক্লান্ত হয়ে কয়েকজন জেলে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়েছিলেন।

হঠাৎ ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। ৮ জন জেলে প্রায় দুঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য ট্রলারে উঠে প্রাণ বাঁচান। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে একটি ট্রলার পাঠানো হয়।

অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫ জেলের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। বরগুনা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ঘটনা শোনার পর সোমবারেই (২৪ আগস্ট) মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধানে সাগরে ট্রলার পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সন্ধান পেলে, তার ভেতর থেকেই জেলেদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, মরদেহ নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড এর সহযোগিতায় সাগর থেকে পাথরঘাটায় নিয়ে আসা হচ্ছে।


নির্বাচিত

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ উদ্বোধন 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ জনগোষ্ঠীর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে খাগড়াছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেণিং সেন্টারের সহায়তায় দুইটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি সদরের আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেণিং সেন্টারে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শ্যামল আগষ্টিন রোজারিও। এসময় খাগড়াছড়ি জোনের উপ অধিনায়ক মেজর আশ্রাফুল কবিরসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মূলত দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবক-যুবতী ও আগ্রহী স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৫০ জনের অংশগ্রহণকারীদের বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ শনাক্তকরণ, ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামতের বিষয়ে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।


নির্বাচিত

পুলিশের বয়ান নিয়ে বিতর্ক, তদন্তভার ডিবির হাতে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। তদন্তভার হস্তান্তরের পর সোমবার বিকেলেই মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবির নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র বুঝিয়ে দেন।

পরে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় আগের তদন্ত কর্মকর্তা তাকে মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যে ঘটনা উঠে এসেছে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও আসামিরা একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়ার দোতলা বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এর আগে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, বাড়ির ছাদে মাদক সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

তবে পুলিশের এই বক্তব্যের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অধিকতর তদন্তের দাবি জানান। এ ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মাত্র দুজন ব্যক্তি কীভাবে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করতে পারে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ছাড়া ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, অভিযুক্তদের বাড়ির ছাদে যাওয়ার কারণ, ১২ বছর বয়সী প্রিয়মকে হত্যার উদ্দেশ্য এবং হত্যার পর অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করেছিল কি না, এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নিহত চারজনের শেষকৃত্য গত রোববার রাতে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ডিবি পুলিশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।


নির্বাচিত

ফাঁসি বহাল ২ জনের, ৪ আসামির যাবজ্জীবন

* ১০ জনকে খালাস * রায়ে সন্তুষ্ট মা, চান পরিবারের নিরাপত্তা
ছবি: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলাকে আদালতে হাজির করা হয়।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফেনী প্রতিনিধি 

সাত বছর আগে ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে দুজনের সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া চারজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

খালাস প্রাপ্তরা হলেন—সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহসভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আপিলের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।

রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘আদালতের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, আমরা তাতে সন্তুষ্ট। আদালত হত্যার কথা বলেছে, তাকে হত্যা করা হইছে, তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। আমার পরিবারকে হুমকিধমকি দিচ্ছে। এখন শুধু আমাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন।’

২০১৯ সালে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। এর আগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর সে বছরের ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষাকেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনো তিনি বলছিলেন, ‘তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন।’ প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় গোটা দেশজুড়ে।

প্রথমে সোনাগাজী থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন মামলাটি তদন্ত করলেও পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় পরে তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই বছরের ২৯ মে পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা শাহাদাত হোসেন শামীমের বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ক্ষোভ ছিল শামীমের। নুসরাতকে মেরে ফেলতে কার কী ভূমিকা হবে, সেই পরিকল্পনা সাজান শামীম। কাউন্সিলর মাকসুদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি তার বোরখা ও কেরোসিন কেনার ব্যবস্থা করেন।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় বোরখা পরিহিত শামীম হাত দিয়ে নুসরাতের মুখ চেপে ধরেন। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরখা ও কেরোসিন ঢালতে ব্যবহৃত গ্লাসটি উদ্ধার করে পিবিআই।

হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ আলোচিত এ মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।

২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

১৪ জুন বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়। এ হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। টানা ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হলো।

এদিকে যৌন হয়রানির ঘটনায় নুসরাতকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ করে তা প্রচারের ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার ছায়েদুল হক সুমন আইসিটি আইনে একটি মামলা করেন।

এই মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর আদালত ওসি মোয়াজ্জেমকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে।


নির্বাচিত

দেশের অধিকাংশ গাড়িচালক ‘ফিটনেসবিহীন’: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশের অধিকাংশ চালক ‘ফিটনেসবিহীন’, তারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার অঙ্গীকার হবে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে যেন সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারি। আমার কাছে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান পাঁচটি কারণ মনে হয়েছে। এত গবেষণার প্রয়োজন নেই। এর মধ্যে আছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ফিটনেসবিহীন ড্রাইভার। দেশের অধিকাংশ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন, কারণ তারা হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছেন। আর হচ্ছে সচেতনতার অভাব। এ ছাড়া রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত গতি।’

সোমবার (২৪ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে জরুরি চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর ৫ হাজারের কাছাকাছি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। এ সংখ্যাটি হ্রাস করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে কাজ করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘হাইওয়ের পাশের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট গঠন ও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যাতে অ্যাম্বুলেন্স থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।’ এ সময় ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের কথাও জানান তিনি।

পরে দুর্ঘটনা-পরবর্তী চিকিৎসাসেবায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি পেট্রল মোটরসাইকেল উদ্বোধন করা হয়।


নির্বাচিত

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন অক্টোবরে: বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরটি উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী অক্টোবরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টার্মিনালটি আগামী ডিসেম্বর মাসে চালু করার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। আগামী মাসে (সেপ্টেম্বর) জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।’

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও যাত্রীসেবার মান আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাত আরও এগিয়ে যাবে। এ সময় এটিজেএফবির সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

ছবি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী রোববার (৩০ আগস্ট) দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সফর শেষে পরদিন সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকায় ফিরবেন।

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া প্রশাসনিক, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগের প্রটোকল শাখা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসকের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।

প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।

চিঠিতে রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সফরের বিস্তারিত সূচি ও সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের এ সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হন। পরদিন ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।


নির্বাচিত

ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের কিছু অংশ অমিল: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক

ছবি: হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরে মাদকসেবনে বাধা দেয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও স্ত্রী-সন্তানসহ ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কিছু অংশ মিলছে না।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ময়নাতদন্তকারী ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানিয়েছেন বিভিন্ন তথ্য।

তিনি বলেন, ‘ভিকটিম চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তবে চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। অনেকেই গুজব রটিয়েছে যে এসিড ব্যবহার করে লাশগুলোর চেহারা নষ্ট করা হয়েছে। তবে এর প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। মূলত লাশগুলোর কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকার কারণে চেহারাগুলো ঝলসে যাওয়ার মতো হয়েছে।’

বাবলু কিশোর বিশ্বাস আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তে বিভিন্ন স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হবে।’

এদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে এমনভাবে টানা হয়েছিল যে, আগামীর চোখগুলো বেরিয়ে আসে এবং দাঁতের চোয়াল ভেঙে যায়।

উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে তার স্বজনরা সাড়াশব্দ না পাওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশে খবর দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাড়ির তালা ভেঙ্গে চিলেকোঠায় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং দোতলায় শোবার ঘরে রংপুর জিলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ দেখতে পায় পুলিশ। এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুরসহ দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) সিটি বাজারে মাছে দোকানের কর্মচারী এবং সিদ্ধার্থ দাস (১৯) স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতো। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই।


নির্বাচিত

নরসিংদীতে বিধবার জমি দখলের চেষ্টা, বাড়িতে হামলা

নরসিংদীর একটি রেস্তোরাঁয় ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরায় জোহরা বেগম নামে এক বিধবার বসতবাড়িতে হামলা এবং সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নরসিংদী শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জোহরা বেগমের মেয়ে আরিফা আক্তার মুন্নি লিখিত বক্তব্যে জানান, তাদের নিজ গ্রাম বাঙালীনগরের মৌজা আর.এস ৩২৯ খতিয়ানে এস.এ-৪১৩ ও আর.এস-২১০৫ দাগের ১১ শতাংশ জমি তার মা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগ করা হয়, ওই জমির ওপর নজর পড়ে একই গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে সানজারুল কবির জহির, আশরাফুল ইসলাম আসাদুল, হুমায়ুন কবির, ছাত্তার মিয়ার ছেলে নাজমুল আলম পারভেজ, টুটুল মিয়ার ছেলে সাজেদুল ইসলাম অনন এবং ফজলুর রহমানের মেয়ে পারভীন বেগমের।

মুন্নি জানান, জমিটি কবজা করতে ব্যক্তিরা নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আসামিরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে জোহরা বেগমের বাড়ির লোকজন বাধা দিলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় জমি না ছাড়লে তাদের পরিবারকে জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়। বর্তমানে আসামিদের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে জোহরা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত রোববার (২৩ আগস্ট) জোহরা বেগম বাদী হয়ে সানজারুল কবির জহিরসহ ৬ জনকে আসামি করে নরসিংদী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ।


নির্বাচিত

banner close