বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্দারমানিক নদীর পানির প্রবল স্রেতে সদরপুর স্লুইস বেরিবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্লুইসটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় প্রায় সাতশ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাত গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার।
সরেজমিনে জানা যায়, এই এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগর মোহনা ঘেঁষা জনপদের মানুষকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধ। ওই বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় সদরপুর তিন ভেন্টের স্লুইস । দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এবার পানির তীব্র চাপে স্লুইসটি বেরিবাঁধসহ ভেঙে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সোনাতলা নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গত বছর থেকেই স্লুইসে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় মেরামত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সষ্টি হতো না। কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকলেও স্লুইস দিয়ে পানি নামানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
সদরপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গত বছর থেকেই স্লুইসটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন সংস্কার করলে আজ আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতো না।
এবিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানাজায়, উপজেলার অনেক স্লুইস ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের জন্য প্রস্তবনা পাঠানো হয়েছে।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ভেঙে যাওয়া স্লুইস ও জলকপাটগুলো পুননি©মা©ণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নওগাঁর পত্নীতলায় হানিট্রাপ এর ফাঁদে ফেলে এবং ওয়েব পেজ ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই তরুণীসহ ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে পত্নীতলার উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার পত্নীতলা উপজেলার পুঁইয়া এলকার মৃত আল হেলালের ছেলে মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), একই উপজেলার শিবপুর সরদার পাড়ার মৃত কামরুজ্জামানের ছেলে মমিনুর ইসলাম (২২), পোরশা উপজেলার সুতরইল এলাকার মারুফ হাসান মুন্নার স্ত্রী মোছা. সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯) এবং পাশের জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার হালাট্টী এলাকার মো. শান্তর স্ত্রী রুমা খাতুন (২০)।
জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সংঘবদ্ধ চক্রটি সর্দারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে এ অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। ফেসবুক পেজ ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে তারা ভিকটিমদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত এবং তাদের বাসায় নিয়ে এসে মারধর করে মোবাইলে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করত। এ সকল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত।
এ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ও-ই বাসায় অভিযান চালিয়ে এ অপরাধের সাথে জড়িত দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া করে এ ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছেন। চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চলমান আছে।
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এ চক্রের আরো সদস্য যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তিনি এ ধরনের হানিট্রাপের ফাঁদ থেকে তরুণদেরকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্ব সাপ দিবসের দিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় লোকালয় থেকে একটি অজগর সাপ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাপটিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর পুল উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার বাসিন্দা যোবায়ের আহমেদের বাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে যোবায়ের আহমেদের বাড়ির বেশ কয়েকটি হাঁস ও মুরগির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির দেয়ালের ওপর একটি বড় অজগর সাপকে পাশের গাছের দিকে যেতে দেখেন। এতেই তাদের দীর্ঘদিনের রহস্য কাটতি শুরু হয় এবং তারা বুঝতে পারেন যে, নিখোঁজ হওয়া হাঁস-মুরগির বাচ্চাগুলো এই অজগরটিই খেয়ে আসছিল।
বাড়িতে অজগর দেখার পর আতঙ্কিত না হয়ে বাড়ির মালিক বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং রিদন গৌড় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অজগর সাপটিকে কোনো ধরনের আঘাত না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উদ্ধার অভিযান শেষে সাপটিকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, উদ্ধারকৃত অজগর সাপটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করার পর আমরা সেটিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক আবাসস্থল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করেছি।
তিনি আরও বলেন, অজগর সাপ বিষধর নয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লোকালয়ে কখনো সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে, বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়ার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ব সাপ দিবসের দিন এই ধরনের উদ্ধার অভিযান ও সচেতনতা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের ভূমিকা ও সচেতনতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দেবে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে তার নিজ বাড়ি মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার বাগানবাড়ির সামনে।
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আব্দুল আওয়াল জানান, মিঠামইন বাজার থেকে ফেরার পথে জাহাঙ্গীরকে নিজ বাড়ির সামনে অজ্ঞাত ৩/৪ জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকে কোপায় তারা।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসা অনন্ত বসাক বলেন, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
ছয় মাসে দেশে ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৩৮ শিশু ও কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে।
বুধবার (১৫ জুলাই) হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রকাশ করা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে (জানুয়ারি-জুন) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ছয় মাসে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যা আগের সালের একইসময়ে ছিল ১ হাজার ৪২ জন। অর্থাৎ, এক বছরে নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ছয় মাসে ৮৮ নারী ও শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। ৪৭৬ নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে।
এছাড়া, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় ১৯ নারী নিহত হয়েছেন, ৮ জন আহত হয়েছেন এবং ৩ নারী আত্মহত্যা করেছেন।
পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩২০ নারী, আহত হয়েছেন ২১১ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৪৭ জন। এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৪ জন নারী।
এইচআরএসএস জানায়, ছয় মাসে ১ হাজার ৭৭ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০৫ জন মারা গেছে। ৭৭২ শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৭৩। এর মধ্যে নিহত হয় ১৩২ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মূলধারার ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ছয় মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতনের বিষয়গুলো সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা ও উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। সরকারের এই অবস্থানের পক্ষে বিরোধী দল পুরোপুরি সহযোগিতা করবে বলেও বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাপনী বক্তব্যে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে স্বৈরাচারের সময়ে প্রতিবছর এ দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। সব সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই দুর্নীতি। হাত বেঁধে হোক, টুঁটি চেপেই হোক, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদার বাহিনীতে পরিণত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মতভিন্নতা থাকবে, তবে অবশ্যই শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা। এই বাংলাদেশ যাতে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচারের কবলে না পড়ে, এই প্রশ্নে সংসদের বিরোধী দল এবং সরকারি দল...আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই... আমাদের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য, সেই ঐক্য বজায় থাকবে।’
দেশে গত ১৫ বছরে এক হাজার ৩৩৪টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূর্বাঞ্চলে ঘটেছে এক হাজার ৫১টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ঘটেছে ২৮৩টি। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কুমিল্লা-৯ আসনের এমপি আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান রেলমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রধানত রেললাইন, পয়েন্টস অ্যান্ড ক্রসিংয়ের ত্রুটির কারণে হয়। এছাড়া চাকার শার্পফ্রেঞ্জ, গেজের অসামঞ্জস্যতা, প্রাকৃতিক কারণে রেললাইন বেঁকে বা ডেবে গিয়ে বগি লাইনচ্যুত হতে পারে।’
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মেট্রোরেল প্রকল্প নির্মাণে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল এমআরটি-৬ (উত্তর উত্তর-কমলাপুর) প্রকল্পে ডিপিপি তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। প্রথমে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি সাত লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ তৃতীয় সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।’
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে (২০১১-২৬) বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ৬৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ৪১টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ, ৩২০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ, ৪৮২টি মিটারগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। যাতে ব্যয় হয়েছে ছয় হাজার ৭৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।’
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত দেড় দশকে ছোট-বড় মিলিয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ১৩৩৪টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ১০৫১ ও পশ্চিমাঞ্চলে ২৮৩টি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ করাসহ নতুন রেললাইন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি বা বিভাগের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।’
কুমিল্লা-১০ আসনের এমপির প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, ‘মহাসড়কে সেচ ইঞ্জিন দিয়ে পরিচালিত অবৈধ যান আটক করে ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
গাজীপুর-৫ আসনের এমপি ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সারাদেশে ২০২৪ সালে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এক হাজার ৪১৭টি, ২০২৫ সালে এক হাজার ১২৩টি এবং ২০২৬ সালে ৩৬৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।’
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা দেওয়ার জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, কিউআরটি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান ১৪টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম জোরদারকরণসহ ২৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ওসিসি সেন্টার স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া ৬৪ জেলায় ওসিসি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের ছয়টি প্রধান শহরে সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) দূষণের কারণে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জনের অকালমৃত্যু হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন মানুষ বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে এ দূষণের কারণে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা) অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ (C2AHR) ইউনিট পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Pollution সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ড. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল—এই ছয়টি প্রধান শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণজনিত মোট মৃত্যুর মধ্যে বছরে ৩৭ হাজার ৫১৯ জন হৃদ্রোগে, ৮ হাজার ৩৪৪ জন দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে এবং ৮১১ জন ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা গেছেন।
শহরভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি অকালমৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। সেখানে PM2.5 দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭), খুলনা (২ হাজার ৬২৫), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫)।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু PM2.5 দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি নগরাঞ্চলে বায়ুদূষণের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা প্রায়ই বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আমাদের গবেষণা বলছে, এর ফলে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু এবং জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ুর গুণগত মানসংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, PM2.5 নির্গমন কমানো, নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
গোপালগঞ্জে ১৬ জুলাইকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করতে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যৌথ টহলে রয়েছে পুলিশ ও র্যাব।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। লাইভ মিছিল থেকে কাশিয়ানীতে ১৫ জন এবং গোপালগঞ্জ সদরের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের নিয়মিত টহলের সঙ্গে বিজিবি টহল দিবে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গোপালগঞ্জকে অন্য জেলার থেকে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে না। গোপালগঞ্জের মানুষ শান্তিপ্রিয়, তাই ১৬ জুলাইকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই এনসিপির পথযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বছরও সম্ভাব্য নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কোনোভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবে না। বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ে সভাকক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমওএ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
ইটভাটা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব, বায়ুমান ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘ইটের বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই ইটভাটা বন্ধ না করে, কীভাবে ইটভাটা থেকে সৃষ্ট দূষণ কমানো যায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণ কমাতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইট বানাতে জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা হলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। এর ফলে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। এর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। উচ্চ মাত্রার সালফার সমৃদ্ধ কয়লা ইটভাটায় ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত করে।’ তাই কয়লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর গুণগত মানের নীতিমালা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান এবং মহাসচিব মমিন উল্লা খানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন জেলার উপদেষ্টা ও সহসভাপতিসহ একটি প্রতিনিধিদল সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে ইট উৎপাদন এবং পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তাদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দেশের উদ্যোক্তাদের সমন্বিত তালিকা প্রণয়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণরা বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে এলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।’
বুধবার (১৫ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ পরিচালকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল (জুম) সভায় অংশগ্রহণ করে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভাগীয় পরিচালক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সারাদেশের খামারি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে।’
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘শিক্ষিত উদ্যোক্তা পরিকল্পিতভাবে খামার পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার, খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং লাভজনকতা বাড়ে। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তালিকা প্রণয়নের পর বিভাগভিত্তিক খামারিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা হবে। এসব সভায় তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাস্তবসম্মত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।’
সরকার এই খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।’
খামারিদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ধারণ ও উদযাপনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় এই আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আর্টক্যাম্পে দেশের ৫৫ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, গণমানুষের সংগ্রাম এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ক্যানভাসে রূপায়িত করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বিগত সময়ে যে অনিয়ম-অবিচার হয়েছে, তা যেন আর না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এরই প্রেক্ষাপটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে উপজীব্য করে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এই আর্টক্যাম্পে যেসব শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন, তাদের তুলির ছোঁয়ায় ভেসে উঠবে সেই জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে জুলাই স্পিরিট জাগিয়ে রাখার একটা অংশ হচ্ছে এই আর্টক্যাম্প। যেখানে শিল্পীরা ছবি আঁকবেন এই জুলাইকে কেন্দ্র করে। জুলাইয়ের নানা দিক আছে, ঘটনা আছে, স্পিরিট আছে—নানাভাবে আমরা এটাকে তুলে ধরতে চাই। যত রকম আর্ট ফর্ম আছে সেগুলোর মাধ্যমে আমরা জুলাইকে ধারণ করতে চাই, জুলাইকে ছড়িয়ে দিতে চাই ও জুলাইকে জাগিয়ে রাখতে চাই।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ, শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পী ও অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীর একই স্থানে সভাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতাপের চর এলাকায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে রফিকুল ইসলামের সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ খবরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন বিশাল প্যান্ডেল করে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দু’পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানা প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। এ নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুপক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তর্কবির্তক, হাতাহাতি ও উত্তেজনা চলছে। গতকাল বুধবার বিকেলে রফিকুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নির্বাচনী সভা উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ বিষয়টি জানতে পেরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন গতকাল বুধবার দুপুরে তড়িঘড়ি করে সভা ডেকে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সভা বন্ধ করে দেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের সভা পন্ড করার জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমি তাদের সভা অন্যত্র করার জন্য অনুরোধ করার পরও তারা ভূড়িভোজের আয়োজন করে আমাদের ওপর হামলা করার পাঁয়তারা করে। তারা বড় বড় পাতিল এনে রান্না-বান্নার আয়োজন করছিল। তিনি দাবি করেন, মাসুম রানা সমর্থক ইকবাল হোসেন একজন মাদকের ডিলার। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা জানান, আমরা ১৫ দিন আগেই এ নির্বাচনী সভার আহ্বান করেছি। মা, বোন, কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন ছিল। হঠাৎ রফিকুল ইসলাম একই জায়গায় সভা ডেকেছেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ এসে দু’জনের সভাই বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে আমার সমর্থক ইকবাল হোসেনকে নিয়ে মাদকের সম্পৃক্তার বিষয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা সত্য নয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী একই স্থানে সভা করার বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভা করার বিষয়ে জানেন না। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছেন।’