বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
ঘি নামে বিক্রি হচ্ছে পাম অলিন ও বনস্পতি, আবার রান্নার মসলায় মিলেছে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ ও অ্যাশ। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চালিয়ে এমন চিত্র পেয়েছে। পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) পূরণে ব্যর্থ হওয়া ১০টি পণ্য বাজার থেকে দুই দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় নিম্নমানের পণ্যের তালিকায় রয়েছে বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পাঁচ ধরনের মসলা এবং পাঁচ ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েল। এর মধ্যে রয়েছে হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা। পরীক্ষায় এসব মসলায় বাংলাদেশ মানের তুলনায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে।
‘ঘি’তে নেই মিল্ক ফ্যাট: সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ঘি নিয়ে পাওয়া পরীক্ষার ফল। বিএসটিআই জানিয়েছে, ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘিতে প্রয়োজনীয় মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। বরং পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে।
এ ছাড়া বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘির পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল পরীক্ষায় নির্ধারিত মান পূরণ করতে পারেনি। এসব পণ্যের রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেনস্কে ভ্যালুসহ বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।
বিএসটিআইয়ের দুই দিনের আলটিমেটাম: বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় অধিকাংশ পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ঘি, বাটার অয়েল ও মসলায় নির্ধারিত মানের ঘাটতি ধরা পড়ে। এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। ভোক্তাদের এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুই দিনের মধ্যে বাজার থেকে পণ্য তুলে নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য প্রত্যাহার না করলে তৃতীয় দিন থেকে বিএসটিআই নিজ উদ্যোগে তা বাজার থেকে তুলে নেবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে। নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাজারে গিয়ে সাধারণ ভোক্তার পক্ষে প্রতিটি পণ্যের মান পরীক্ষা করে কেনা সম্ভব নয়। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও মানচিহ্নের ওপর আস্থা রেখেই তারা পণ্য কেনেন। ফলে পরীক্ষাগারে ধরা পড়ার আগে এসব পণ্য কীভাবে বাজারে পৌঁছাল—এ প্রশ্নও উঠছে।
একাধিক ভোক্তা বলেন, বাজারে পণ্য কেনার সময় তারা বিএসটিআইয়ের সিল দেখেই পণ্য কিনছেন। কিন্তু সেই পণ্য পরবর্তী সময়ে মানহীন প্রমাণিত হলে ভোক্তাদের আস্থার জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নিয়মিত বাজার তদারকি, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পাশাপাশি মানহীন পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যপণ্যে অনিয়ন্ত্রিত উপাদান ও ক্ষতিকর অ্যাডিটিভের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি কনসালটেন্ট আহাদ উর রহমান বলেন, খাবারে ব্যবহৃত কিছু উপাদান ও অ্যাডিটিভ মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এসব উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়মকানুন ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত ১০টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে—বম্বে সুইটসের হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা। অন্য পাঁচটি হলো বাঘাবাড়ি, অরুন বাঘাবাড়ী, নিউ রাঁধুনী ও সিটি ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।
এখন দেখার বিষয়, বিএসটিআইয়ের দেওয়া দুই দিনের সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার থেকে সব পণ্য প্রত্যাহার করে কি না। একই সঙ্গে তৃতীয় দিন থেকে সংস্থাটির ঘোষিত অভিযান কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকেও নজর থাকবে ভোক্তাদের।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও সারসহ ৬ পাচারকারী আটক। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন ১৫ নং ঘাট সংলগ্ন এলাকায় গত বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকাল ৪টা হতে রাত ১১টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ২টি কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ১ হাজার বস্তা সিমেন্ট, ২৮০ বস্তা রাসায়নিক সার এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত ২ টি বোটসহ ৬ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত মালামাল, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছ। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সিপিডির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিপিডিতে যোগ দেওয়ার আগে ড. নাজনীন আহমেদ জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ইউএনডিপি) বাংলাদেশে কান্ট্রি ইকোনমিস্ট হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর নিউইয়র্কে ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যুরোতে তিন বছর কাজ করেন পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে।
অর্থনৈতিক গবেষণা, নীতি বিশ্লেষণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে ড. নাজনীন আহমেদের। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থনীতি ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করেছেন তিনি।
এর আগে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান—বিআইডিএসে (বিআইডিএস) দীর্ঘ ২৫ বছর গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে বিআইডিএসে কর্মজীবন শুরু করেন নাজনীন আহমেদ। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গবেষণা পদে দায়িত্ব পালন করে গবেষণা পরিচালক হন।
ড. নাজনীনের গবেষণা ও নীতি আগ্রহের পরিধি বেশ বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থান, সুশাসন, লিঙ্গসমতা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি।
তার অসংখ্য গবেষণা ও প্রকাশনা রয়েছে। দেশি-বিদেশি পিয়ার-রিভিউড জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থার বইয়ে অধ্যায় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য গবেষণা প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছেন তিনি।
কর্মজীবনে বিশ্বব্যাংক, ডিএফআইডি, ইউএনসিটিএডি, আইএলও, আইএফসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আইএফপিআরআই ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন ড. নাজনীন আহমেদ।
তিনি নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনগেন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন, ছিলেন চেভেনিং স্কলারও।
গবেষণা, জননীতি প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে ড. নাজনীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সিপিডির গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে সিপিডির ভূমিকা আরও এগিয়ে নিতে তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কাটিয়ে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্তকে জেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে একই সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে।
নদীবেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলা এখনো দেশের একমাত্র জেলা, যার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। জেলার মানুষকে যাতায়াতের জন্য মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। রাত ১০টার পর নৌযান চলাচল সীমিত হয়ে গেলে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো জেলা। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, জরুরি পরিবহনসহ নানা ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে সমন্বিত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দেন।
উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে ভোলার বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন বলছে, এটি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তবে তাদের মতে, ফেরিনির্ভর যাতায়াতের স্থায়ী সমাধান এবং শিল্পায়নের পথ সুগম করতে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ অপরিহার্য।
ভোলার চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খাঁন বলেন, খনিজ সম্পদ গ্যাস, কৃষি, রুপালি ইলিশ ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় জেলা ভোলা। সড়ক পথে ভোলাকে বরিশালের সাথে যুক্ত করতে পারলে এ জেলার ইলিশ মাছ, ক্যাপসিক্যাম ও তরমুজসহ নানা ধরনের তৈরি পণ্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জনপদে খুব সহজে পৌছুতে পারবে। এতে করে জেলার প্রান্তিক কৃষক, খামারিরা তাদের কৃষি পণ্যের কাঙিক্ষত মূল্য পাবে।
ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ আগস্ট সড়ক পথে ভোলাকে যুক্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন তাতে আমরা জেলার মানুষ খুবই খুশি ও আনন্দিত। এ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে আমাদের অর্থনীতিক ব্যবস্থা অনেকটা পরিবর্তন হবে। এর ফলে ভোলার যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল পুরো বাংলাদেশ পাবে। সেই সাথে ভোলার গ্যাস সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাবে। এখানে মিল-ইন্ডাস্ট্রি হবে। এ যোগাযোগ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আমরা মনে করি।
ভোলা-৩ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম গণমাধ্যমকে বলেন, নদীবেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলার সঙ্গে মূল ভূ-খণ্ডের যোগাযোগ স্থাপন এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ সেখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি। তাই জেলার সাথে মহাসড়ক যুক্ত করার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন দু:সাহসিক সিদ্ধান্তকে তিনি সাধুবাদ জানান।
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রতিশ্রুতি শতভাগ পালন করার সৎ মানসিকতা রাখেন। ভোলাকে জাতীয় মহাসড়কের সাথে যুক্ত করার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। আগামী দিনগুলোতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়নের কাফেলা নিয়ে ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের দৃশ্যপট পাল্টে দেয়া হবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
তিনি বলেন-মহাসড়কে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে এতদাঞ্চলে যেমনি অর্থনীতির প্রসার ঘটবে; তেমনি বিচ্ছিন্নতার গ্লানি হতে মুক্ত হবে ভোলার ২২ লাখ মানুষ।
‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠনের সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সার কারখানা নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ এবং ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ—এসবই ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। আমরা নতুন মহাসড়ক নির্মাণের বিরোধিতা করছি না, তবে সেতু নির্মাণ ছাড়া যোগাযোগ সমস্যার পূর্ণ সমাধান হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ফেরিনির্ভর ব্যবস্থার কারণে জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত সময় ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। নতুন মহাসড়ক পণ্য পরিবহনে কিছু সুবিধা আনলেও যাত্রীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না বলে তিনি মনে করেন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা সুজন সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ভোলায় উল্লেখযোগ্য গ্যাসসম্পদ রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, বাড়বে কর্মসংস্থান। তাই ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি আমাদের।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ ভোলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে নতুন করে সাড়ে ২১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
সড়ক বিভাগ কনসালট্যান্ট নিয়োগের মাধ্যমে এটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। এ সড়ক নির্মাণ হলে ঢাকার সাথে ভোলার দূরত্ব কমে আসবে। ভোলার অর্থনীতির দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ভুয়া সিআইডি পরিচয় দেওয়া সংঘবদ্ধ চক্রের সাত জন সদস্যকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) গভীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—ঝিনাইদহ জেলার পাগলাখানা গ্রামের মোছা. আছমা খাতুন (৩১), পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান (২৮), পাগলাখানার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান শাহ (২৫), নলডাঙ্গা এলাকার সাকিব (২৩), কুড়িগ্রাম জেলার কালিঘাট এলাকার ছাব্বির হোসেন (২২) এবং মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দেবিলা গ্রামের আল-আমিন হোসেন (২২)।
পুলিশ জানায়, একটি মাইক্রোবাসযোগে শ্রাবনী নামের এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা করছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় হাতেনাতে সাতজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা ৪টি জ্যাকেট, ১টি খেলনা পিস্তল, ১টি মাইক্রোবাস ও ৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসানের পরিচালনায় অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই অপহরণ চেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগী শ্রাবনীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুল। তাকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপুকে বরণ করে নিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে পুরো রাঙামাটি। পথে পথে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান।
সকাল থেকে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের প্রবেশমুখ কাউখালীর বেতবুনিয়া এলাকা থেকে শুরু হয় তাকে স্বাগত জানানোর কর্মসূচি। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, দলীয় পতাকা ও রং-বেরঙের ফুল হাতে সড়কের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তাদের প্রিয় নেতার জন্য।
দীপন তালুকদারের গাড়িবহর রাঙামাটির প্রবেশমুখে পৌঁছালে চারদিকে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। নেতাকর্মীরা ফুল ছিটিয়ে ও ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
এরপর বেতবুনিয়া, ঘাগড়া, মানিকছড়ি, শিমুলতলী, দেবাশীষ নগর, কেকে রায় সড়ক, রাজবাড়ী ও বনরূপাসহ পথের বিভিন্ন পয়েন্টে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
প্রতিটি স্থানেই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা নিয়ে জড়ো হন। ফুলের তোড়া দিয়ে নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান তারা।
নেতাকর্মীরা বলেন, দীপন তালুকদার দিপুর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে দীপন তালুকদার রাঙামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৌঁছালে সেখানে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় তিনি রাঙামাটিবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাঙামাটির উন্নয়ন, শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, “আপনাদের ভালোবাসায় আমি অভিভূত। রাঙামাটির উন্নয়ন, শান্তি ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব।”
দীপন তালুকদার আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে জেলা পরিষদ কাজ করবে বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দীপন তালুকদার বলেন, আমাকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ,পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরি ও প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মীর মোঃ হেলাল উদ্দিন এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।একই সঙ্গে তিনি বলেন, পার্বত্যমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে রাঙামাটি সফর করে জেলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবেন।
এ সময় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত সদস্য, জেলা বিএনপি এবং যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পথে পথে এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ফুলেল ভালোবাসায় নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সাবেক এক ইউপি সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের নতুন চাঁনপুর গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মো. মোক্তার উদ্দিন (৬২) নতুন চাঁনপুর গ্রামের মৃত আবদুল কাদিরের ছেলে। তিনি গোপদিঘী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
নিহতের ভাতিজা মো. আইকন মিয়া বলেন, প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে তার চাচা সরাসরি বাড়িতে ফিরতেন। কিন্তু এদিন নামাজের সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী মাফুজা আক্তার কলি এনামুল হকের বসতঘরে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় মোক্তার উদ্দিনের মরদেহ দেখতে পান।
আইকন মিয়ার দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তিনি বলেন, মরদেহ নামানোর পর গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থা দেখা গেছে। কিছুদিন আগে মোক্তার উদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসায়ও ভাঙচুর এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। আইকন মিয়ার ধারণা পূর্ব শত্রুতার জেরেই তার চাচাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মাহমুদ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা কোনোটিই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় দুই সাংবাদিককে হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার ঘটনার পর রাত ৩টার দিকের সদর দক্ষিণের বিজয়পুর থেকে পলাতক অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি টিম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ।
তিনি জানান, এ ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় ওই আসামি। থানায় মামলা দায়ের হলে অভিযানে নামে ডিবি। রাত প্রায় ৩টায় তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় আমরা ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করি। তাকে সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করার আমরা জেলা পুলিশ সুপার ও ডিবি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। অপরাধীরা আইনের আওতায় আসলে দ্রুতই অপরাধ কমে আসবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করার ধৃষ্টতাও ভবিষ্যতে কেউ দেখানোর সাহস করবে না।
এর আগে, দুপুরে, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার, সাংবাদিক তানভীর দিপু জানান, আমরা সংবাদ সংগ্রহে লালমাইয়ের দিকে যাওয়ার সময় পদুয়ার বাজার মোড়ে যানজট দেখে উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে উঠতে যাচ্ছিলাম। এ সময় সড়কের সামনে স্থানীয়দের তৈরি করা লোহার বেরিকেডের মধ্যে কয়েকটি গাড়ি আটকে পড়লে সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরে লোহার বেরিকেডটি উপরের দিকে ধরে একটি একটি করে গাড়ি সরে যেতে সহযোগিতা করি। এরই মধ্যে স্থানীয় শাওন নামের এক যুবক এসে কেন যানজট নিরসন করছি ও মানুষকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছি এটি নিয়ে আমার সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে আমাকে সেভ করার জন্য সহকর্মী মারুফ এসে আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।
ওই সময় উগ্র ছেলেটা কোন কারণ ছাড়াই রড হাতে নিয়ে আমাদের দিকে তেঁড়ে আসার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে নিয়ে যায়। আমরাও আমাদের গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছিলাম। এ সময় হুট করে এসে পিছন থেকে এসে শখ করে মানুষের ঘাড়ে আঘাত করায় সেন্সলেস হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমিও এগোতে গেলে সে আমার উপর হামলা করে।
বাগেরহাটের মোংলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এনরুট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কর্মসূচির আওতায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৯ হাজার ৪০০ বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এসব চারা উপকূলীয় এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বন, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় অঞ্চলে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মোংলা ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই সবুজায়নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গাইবান্ধা শহরের কাচারিবাজার এলাকায় অবস্থিত পুলিশ সুপারের (এসপি) বাংলোর ব্যারাক থেকে হাবিবুর রহমান (৪০) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে ব্যারাকের বাথরুম থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী শহরের বাবুপাড়ার মিন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে গাইবান্ধা পুলিশ লাইন্সে যোগ দেওয়ার পর গত ১২ আগস্ট থেকে এসপির বাংলোয় গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিকেলের দিকে হাবিবুর মোবাইলে স্ত্রীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করতে করতে বাথরুমে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও বের না হওয়ায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান তারা।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া হাবিবুরের মোবাইল ফোনটি এমনভাবে রাখা ছিল, যাতে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার সময় কোনো ভিডিও কল চালু থাকতে পারে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে।
ময়নাতদন্ত ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দীন ও সদর থানার ওসি নাজমুল হুদা। ময়নাতদন্ত ও পুলিশ লাইন্সে জানাজা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী (এলজিআরডি) ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নির্বাচনী ওয়াদাগুলো করেছিলেন ৬ মাসের ভেতরেই সেগুলো একটি একটি করে পূরণ করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সঠিক পথে হাঁটছি।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকালে নরসিংদীর পলাশে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মঈন খান বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে যে কাজগুলো করে যাচ্ছেন সেগুলো কিন্তু ইসলামের আদর্শকেই প্রতিষ্ঠিত করছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করার যে ধ্যানধারণা এবং প্রচলন প্রধানমন্ত্রী করেছেন, সেগুলো কিন্তু রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা থেকেই।’
পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে উপজেলা ও ঘোড়াশাল পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলোর আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার। যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূইয়া মিল্টন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক তোফাজ্জাল হোসেন মাস্টার, মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এর আগে মঈন খান তার বাবা সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মরহুম মোমেন খানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে তার মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে পরিবার ও নিসচার নেতারা। তারা জানান, বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন।
ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাসহ দেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতা-কর্মীরা এই গুজবের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন বলেন, ‘এ ধরনের কোন সংবাদে বিভ্রান্ত হবেন না। আপনাদের ভালোবাসার মানুষ ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। সবাই দোয়া করবেন।’
প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি রিখেছেন, ‘এ ধরনের সংবাদ যারা প্রকাশ করছেন তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।’
ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব কোথা থেকে ছড়িয়েছে, তা শনাক্ত করে তদন্তের দাবিও জানিয়েছে নিসচা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। একই বছরের আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরোটা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্যে সম্প্রতি ১০ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন এই অভিনেতা। এ সময় পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিসচার একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারতও করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর গত সপ্তাহে জামাতার সঙ্গে চিকিৎসার জন্য আবারও লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইলিয়াস কাঞ্চনের কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্যই তিনি লন্ডনে ফিরেছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তাঁর সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করা হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসকেরা পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন খরচ কমানো।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। সরকারের নিকট উৎপাদিত পণ্যের একটি নির্ভুল পরিসংখ্যান থাকবে। এতে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) গজারিয়া উপজেলায় ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দু’দিনব্যাপী সুফলভোগী প্রশিক্ষণ সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, সরকার মিনি কোল্ড স্টোরেজগুলো ঠিক মতো চালু করতে পারলে-কৃষক কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। বর্তমান সরকার কৃষিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হবে; কৃষিপণ্য রপ্তানিী করবো। এর জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে। পতিত জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে পারলে দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণ হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। তাদের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে-প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা বলেন, তা করেন। তিনি বলেন-এ দেশ আমাদের, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব আমাদের। আমরা দায়িত্ব পালন করলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের মাঝে সনদ বিতরণের পর চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চরাঞ্চলের ২৫ জন সুফলভোগীর মাঝে বিনামূল্যে ১ টি করে বকনা বাছুর ও প্রতিটি পরিবারকে ৫০ কেজি করে পশুখাদ্য প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম, প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল প্রমুখ ।