বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলনের সময় ১টি পন্টুন, ১টি বাল্কহেড ও ২টি এস্কেভেটরসহ হাতেনাতে ধরল উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের মেঘনা নদীতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযান শেষে বাল্কহেডচালক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার বৈশ্বর গ্রামের জিন্নত আলীর ছেলে সুমন মিয়াকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আগানগর এলাকার মেঘনা নদীর তীরবর্তী নবাব ব্রিকফিল্ডের পাশে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে রাজধানী শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় বাল্কহেড ভর্তি করে মাটি পাচার করে আসছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে নদী থেকে মাটি উত্তোলনের সময়ে হাতেনাতে ১টি পন্টুন, ১টি বাল্কহেড ও ২টি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়। পরে অনুমতিবিহীন অবৈধভাবে নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলনের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় বাল্কহেডচালককে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় জব্দকৃত মালামাল নৌপুলিশের জিম্মায় রয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক জানান, আমাদের কাছে তথ্য ছিল একটি চক্র মেঘনা নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে। তারই সূত্রে ধরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার সময়ে হাতেনাতে এস্কেভেটর যন্ত্র ও বাল্কহেড জব্দ করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’
আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কিশোর গ্যাং উচ্ছেদ হবে জানিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক আন্দোলনের যৌথ সমন্বয় প্রয়োজন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলন অধিক কার্যকর’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কিশোররা স্কুলে যাবে, পড়ালেখা করবে, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা শিখবে, দক্ষ মানুষ হবে, তারা অস্ত্র চাপাতি নিয়ে ঘুরবে না। তিনি বলেন, আজকের কিশোর তরুণরাই আগামী দিনের কাণ্ডারী।
তিনি বলেন, সরকার যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। সরকার ব্যর্থ হলে সেই দায় আমাদের। দায় চাপানোর রাজনীতি আমরা করি না। বিভিন্নভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কুচক্রী মহল সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অপশক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিরোধী দল হিসেবে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
যুদ্ধে পরাজিত হয়ে রাজা-বাদশাহদের পালানোর ইতিহাস থাকলেও জনগণের তোপের মুখে রাজপ্রাসাদ ও বিশাল জমিদারি রেখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল। বর্তমান টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগরের জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর বংশধরদের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল এমনই ঘটনা।
হেমচন্দ্র চৌধুরী ছিলেন প্রভাবশালী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসক, সাহিত্যিক ও বিদ্যানুরাগী। তবে তার শাসন ছিল কঠোর। কথিত আছে, মুসলমানদের গরু জবাই নিষিদ্ধ, তার বাড়ির সামনে প্রজাদের জুতা খুলে উল্টো করে হেঁটে যেতে বাধ্য করা ও ছাতা মাথায় দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন কঠোর নিয়ম এবং অধীনস্থ বিভিন্ন জমিদারের জোরপূর্বক খাজনা আদায়ে প্রজাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
হেমচন্দ্রের পিতামহ পদ্মলোচন রায় ১৮৪৮ সালে পুথুরিয়া পরগনার জমিদার ভৈরবচন্দ্রের কাছ থেকে দুই আনার তালুক কেনেন। পরে তার পিতা কালীচন্দ্র রায় ১৮৫৫ সালে নিলামে পরগনার আরও চার আনা তালুক কিনে নেন। পিতার মৃত্যুর পর হেমচন্দ্র রায় মুক্তাগাছার মহারাজা সূর্যকান্ত রায়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়েনশাহী পরগনার পাঁচ আনা আড়াই গন্ডা তালুক নিলামে কেনেন। এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৫ হাজার একর। পরে তিনি ‘রায়’ থেকে ‘চৌধুরী’ উপাধি লাভ করেন। তার জমিদারি আমবাড়িয়া থেকে উত্তর টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ একরে বিস্তৃত হয়।
১৮৮০ সালে মধুপুরের আমবাড়িয়া রাজবাড়ি পরিত্যাগ করে হেমচন্দ্র গোপালপুরের ঝাওয়াইল ইউনিয়নের সুবর্ণখালি গ্রামে নতুন রাজবাড়ি নির্মাণ করেন। উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে যমুনার গতিপথ পরিবর্তন ও ভাঙনে সুবর্ণখালি বন্দর বিলীন হয়ে যায় এবং রাজবাড়িটিও নদীগর্ভে চলে যায়। বর্তমানে ওই এলাকার ঐতিহ্য সোনামুই গ্রাম নামে টিকে আছে।
সুবর্ণখালি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে শিমলাপাড়া মৌজায় ১৮৯০ সালে হেমচন্দ্র নির্মাণ করেন দ্বিতল রাজপ্রাসাদ ‘পরীর দালান’। প্রায় ৬০ একর জমির ওপর শতাধিক কক্ষের এ প্রাসাদটি দিল্লি ও কলকাতার কারিগরদের হাতে ইট-সুরকিতে নির্মিত। অগ্রভাগে ছিল দুটি পরীর ভাস্কর্য, আর চারপাশে লতাপাতার নকশা ও কারুকার্য। বিশাল প্রাঙ্গণে ছিল কূপ, চিড়িয়াখানা, পূজামণ্ডপ, হাতিশালা, ফুলের বাগান, পুকুর ও পাকা ঘাট। সামনে ছিল দ্বিতল নাটঘর। স্বজনদের জন্য আশপাশে দিঘী ও পাকা বাড়িঘরও নির্মাণ করা হয়। রাজবাড়ির দক্ষিণে গড়ে ওঠে বিশাল বাজার। হেমচন্দ্রের নামানুসারে এলাকাটির নাম হয় হেমনগর। ১৯০০ সালে সৎ মায়ের নামে ২০ একর জমির ওপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন হেমনগর শশীমুখী উচ্চ ইংলিশ মিডিয়াম বিদ্যালয়। গোপালপুরের সুতী ভিএম পাইলট হাই স্কুল ও পিংনা হাইস্কুল প্রতিষ্ঠাতেও তিনি জমি ও অর্থ দান করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল স্কুল, ময়মনসিংহ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, পিংনা দাতব্য চিকিৎসালয়, গোপালপুর বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ সহায়তা দেন। আনন্দমোহন কলেজ প্রতিষ্ঠার শিলালিপিতেও দাতা হিসেবে তার নাম রয়েছে।১৯২৫ সালে ভারতের কাশীতে হেমচন্দ্র চৌধুরীর মৃত্যু হয়।
এরপর তার বংশধরদের বিরুদ্ধে ১৯৪০ সালের পর কৃষক নেতা হাতেম আলী খাঁনের নেতৃত্বে শুরু হয় প্রজা বিদ্রোহ। কথিত আছে একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনগণ জমিদারবাড়ির সামনে গরু জবাই করে। দেশভাগের আগে জমিদার পরিবারের সদস্যরা বিশাল প্রাসাদ ও ভূসম্পত্তি রেখে রাতের আঁধারে কলকাতায় চলে যান।
উত্থান-পতনের বহু ইতিহাসের সাক্ষী হেমনগরের পরীর দালান আজও দাঁড়িয়ে আছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণ করা হোক এবং এর পাশে একটি শিশু পার্ক গড়ে তোলা হোক।
জামায়াতের কাছে ক্ষমতা বড় হয়ে উঠেছে, আর বিএনপি জনমতের মর্যাদা দিয়ে নিজেদের সংসদ সদস্যের পদ শূন্য করেছে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘জামায়াতের কাছে ক্ষমতা বড়। তারা তাদের নৈতিক স্খলনজনিত দোষে দোষী সংসদ সদস্যের পদ শূন্য করেনি। অথচ বিএনপি পাবলিক পারসেপশনের মর্যাদা দিয়ে নিজেদের সংসদ সদস্যের পদ শূন্য করেছে। কারণ বিএনপি জানে, আইন সবার ঊর্ধ্বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি ও ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’ এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
খুলনা জেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ শুভেচ্ছা সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে জেলা যুবদলের সভাপতি নাদিমুজ্জামান জনির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টুসহ অন্যান্য নেতারা।
এর আগে নগরীর রেলস্টেশন এলাকা থেকে কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয় পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় বাদ্যযন্ত্রের তালে নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। এ সময় চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলারও আয়োজন করা হয়।
ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ৪টি ড্রেজার ও ১টি বাল্কহেডসহ ৮ জন বালু উত্তোলনকারী আটক। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ভোলার সদর থানাধীন পশ্চিম ইলিশা মেঘনা নদীতে ২ অক্টোবর মধ্যরাত সাড়ে ১২টায় কোস্ট গার্ড বেইস ভোলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ৪টি ড্রেজার ও ১টি বাল্কহেডসহ ৮ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করা হয়।’
পরবর্তীতে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট, ভোলা কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ড্রেজার ও বাল্কহেড মালিকদের ২ লাখ টাকা জরিমানা করে ৭ জন বালু উত্তোলনকারীকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। জরিমানাকৃত নগদ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদান করা হয় এবং ড্রেজার ও বাল্কহেডের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বালুখেকোদের হাত থেকে নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি এবং বসতভিটে রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’
ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী পথেও এবার জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে আন্তনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে ট্রেনটির আপ ও ডাউন দুই পথেই আক্কেলপুরে যাত্রাবিরতি কার্যকর হবে। এতে ঢাকা থেকে ফেরার পথে আক্কেলপুরের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় দপ্তরের বৃহস্পতিবারের (১ অক্টোবর) এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, মহাপরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ৮০৫ নম্বর চিলাহাটি এক্সপ্রেসের আক্কেলপুর স্টেশনে দুই মিনিট যাত্রাবিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৫ অক্টোবর থেকে নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
রেলওয়ের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটি এক্সপ্রেস রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে আক্কেলপুরে পৌঁছাবে। এরপর চিলাহাটির উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। জামালগঞ্জ থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত ট্রেনটির আগের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে।
চিঠিতে আক্কেলপুর স্টেশনের বিপরীতে আসন বরাদ্দ এবং টিকিট বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে চিলাহাটি থেকে ঢাকাগামী পথে আক্কেলপুরে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু হয়। তবে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী পথে আক্কেলপুরে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি ছিল না। ফলে ঢাকা থেকে ফেরার পথে আক্কেলপুরের যাত্রীদের সান্তাহার অথবা জয়পুরহাটে নেমে বাড়ি ফিরতে হতো। এতে তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো।
আক্কেলপুর পৌর শহরের বাসিন্দা শামীম হোসেন বলেন, ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস শুধু ঢাকা যাওয়ার পথে আক্কেলপুরে থামত। ঢাকা থেকে ফেরার পথে থামত না। এ কারণে ফিরতি পথের যাত্রীদের সান্তাহার অথবা জয়পুরহাটে নেমে আক্কেলপুরে আসতে হতো। এখন ঢাকা থেকে ফেরার পথেও ট্রেনটি থামায় সেই দুর্ভোগ কমবে।’
আক্কেলপুর রেলস্টেশনের কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ যাত্রাবিরতির চিঠি আজ পেয়েছি। এখন আপ-ডাউন দুটিই যাত্রাবিরতি করবে।’
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দিঘলআটা গ্রামে ৮০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধ মো. আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় অনশনে বসেছেন ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একই গ্রামের মৃত সমসের আলীর ছেলে মো. আরশেদ আলী ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে ওই বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বাইরে নেন। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পেছনের একটি নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ সময় বৃদ্ধার চিৎকার শুনে তার এক নাতি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অভিযুক্ত আরশেদ আলীকে আটক করেন বলে জানান স্থানীয়রা।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিবারের ১৫ থেকে ২০ জন লোক লাঠিসোটা নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে ও নাতিদের মারধর করে এবং অভিযুক্তকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।
পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজপতিরা ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে দফায় দফায় চেষ্টা করেও অভিযুক্তের পরিবারের অসহযোগিতার কারণে কোনো সমাধান হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সামর্থ্যও তাদের নেই। বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় অনশনে বসেছেন ওই বৃদ্ধা।
বৃদ্ধা জানান, বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তিনি এই বাড়ি থেকে যাবেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আরশেদ আলীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে মো. আসলাম ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তার বাবা ওই বৃদ্ধার বাড়িতে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। পরে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ ব্যাচের রজতজয়ন্তী (পঁচিশ বছর পূর্তি) উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) কেইউ—০১ অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের আয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ উপলক্ষে বেলা ১১টায় প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এর আগে তিনি সমাবেত সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
এরপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, ‘আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দ এবং গর্বের দিন। এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাম্পাস হাজারো তরুণের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করে। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে জ্ঞান অর্জন করে দেশ ও দেশের বাইরে নিজেদের মেধার সাক্ষর রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালমনাইদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। এখানকার গ্র্যাজুয়েটরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধ করছেন যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ তিনি এ অনুষ্ঠানকে সুন্দর ও সফল করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান এবং উপস্থিত সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান এবং ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, কেইউ—০১ অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের সভাপতি মো. মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত গুহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দ্য অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ও ০১ ব্যাচের সাবেক প্রফেসর ড. মো. আশিকুর রহমান এবং সাবরিনা আফতাব। এর আগে কেইউ—০১ অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে উপাচার্যের নিকট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জন্য উপহার প্রদান করা হয়। এবং একটি কেক কাটা হয়। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে আরও রয়েছে ১ ব্যাচের যে সকল শিক্ষার্থী গত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বাদ জুম্মা মিলাদ মাহফিল এবং বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যায় সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা।
কৃষক কার্ডের আনন্দে যোগ হলো সরাসরি আর্থিক সহায়তা। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের তারাকান্দো গ্রামের সুমা বাড়ৈর মোবাইলে বিকাশ অ্যাকাউন্টে এলো আড়াই হাজার টাকা। সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যে হঠাৎ পাওয়া এই অর্থে স্বস্তি ফিরেছে তার মুখে।
শুধু সুমা নন, একই সময়ে কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ২৫৫ কৃষকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পৌঁছেছে এই অর্থ।
‘কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রম শুরু হয়। ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন কোটালীপাড়ার কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুম থেকে কর্মকর্তারা, কৃষক প্রতিনিধি, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর কোটালীপাড়ার কান্দি ইউনিয়নের নির্ধারিত কৃষকদের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাঠানো হয়।
কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর কান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ২৫৫ জন কৃষক, কৃষক কার্ডের আর্থিক সুবিধা হিসেবে প্রত্যেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন।
কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকউজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায়, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আজম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া ও কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. রিয়াদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক প্রতিনিধি, সাংবাদিক নেতারা বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় তিন বছর ধরে পানিতে ডুবে থাকা যশোরের কেশবপুরের হাড়িয়াঘোপ বিলের প্রায় ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমি অবশেষে চাষাবাদের উপযোগী হচ্ছে। অবৈধভাবে পানি আটকে মাছ চাষের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযানে ভেড়িবাঁধ কেটে বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর জমিতে ধান, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার হাড়িয়াঘোপ বিলে অভিযান চালান উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস ও পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন। এ সময় অবৈধভাবে নির্মিত ভেড়িবাঁধ কেটে দেওয়া হয় এবং বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শিরাশুনি গ্রামের আবুবকর মলঙ্গীর ছেলে আতিয়ার মলঙ্গীসহ কয়েকজন গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে জোরপূর্বক পানি আটকে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ফলে জমির মালিকরা নিজেদের জমিতে বোরো ধান, আমন, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতে পারছিলেন না। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আবাদ ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে পতিত পড়ে ছিল বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি।
এ অবস্থায় সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা বিষয়টি জানিয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে হাড়িয়াঘোপ বিল এলাকায় যান। সেখানে অবৈধ বাঁধের কারণে পানি আটকে থাকার বিষয়টি পরিদর্শন করে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহমান শেখ বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি কৃষকদের জমিতে জোরপূর্বক পানি আটকে রেখে মাছ চাষ করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে বিষয়টি পরিদর্শন করে অবৈধ বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন কৃষকরা তাদের জমিতে ফসল চাষ করতে পারবেন। কৃষকের স্বার্থে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, মাছ চাষের নামে যাতে কৃষিজমির স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। অবৈধভাবে পানি আটকে রাখার কারণে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে তা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর হাড়িয়াঘোপ বিলের জমিতে আবারও ফসল ফলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, পানি নেমে গেলে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন তারা। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও আবাদ বন্ধ থাকার সমস্যা কাটিয়ে কৃষিকাজে ফিরতে পারবেন স্থানীয় কয়েকশ কৃষক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক বাঁধ দিয়ে কৃষিজমিতে পানি আটকে রাখতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকবে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতা করতে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ধান ব্যবসায়ী। তার দাবি, হোটেল থেকে পাশের চায়ের দোকানে যাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই ব্যাগটি উধাও হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে এস এম হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হোটেলের ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
অভিযোগকারী মো. লিটন হোসেনের বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। তিনি ট্রাকে করে নওগাঁর ধামইরহাটে ধান কিনতে যাচ্ছিলেন। পথে আক্কেলপুর শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে ট্রাক থামিয়ে চালক আলম হোসেনের সঙ্গে হোটেলে নাশতা করতে যান। তার সঙ্গে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল।
লিটন হোসেন বলেন, নাশতার সময় টাকার ব্যাগটি পাশের একটি চেয়ারে রেখে তিনি খাবার খান। নাশতা শেষে হাত ধুয়ে ক্যাশে থাকা নারী ক্যাশিয়ারকে বিল দিয়ে পাশের দোকানে চা খেতে যান। কিছুক্ষণ পর ব্যাগের কথা মনে পড়লে দ্রুত হোটেলে ফিরে আসেন। তখন ক্যাশে নারী ক্যাশিয়ারও ছিলেন না। গিয়ে দেখেন, চেয়ারে রাখা টাকার ব্যাগটি নেই।
লিটনের অভিযোগ, তিনি হোটেল থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানে যাওয়ার পর এক মিনিটের মধ্যেই ব্যাগটি উধাও হয়। ওই সময় বাইরে থেকে কেউ হোটেলে ঢোকেননি। পরে তিনি হোটেল মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের কাছে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তারা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর পুলিশে খবর দেন তিনি।
ট্রাকচালক আলম হোসেন বলেন, লিটন আমাকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে নাশতা করতে ঢোকেন। তার কাছে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল। তিনি পাশের চেয়ারে টাকার ব্যাগ রেখে নাশতা করছিলেন। আমার নাশতা খাওয়া শেষ হওয়ায় হোটেলের পাশের চায়ের দোকানে গিয়ে বসি। কিছুক্ষণ পর লিটনও সেখানে এসে চায়ের অর্ডার করেন। আমি তাকে টাকার ব্যাগের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি দ্রুত হোটেলে গিয়ে দেখেন, ব্যাগটি নেই।
খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানার পুলিশ হোটেলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে হোটেলের ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৪৮), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) থানায় নিয়ে যায়।
হোটেল মালিক সোলাইমান আলীর বাড়ি পাশের কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামে। তিনি ভাড়া নিয়ে হোটেলটি চালান। সোলাইমান আলী বলেন, শুক্রবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় সাধারণত খরিদ্দার কম থাকে। তবে সকালে নাশতার সময় কিছুটা ভিড় হয়। তিনি স্ত্রীকে ক্যাশে রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। পরে হোটেলে এসে পুলিশ দেখতে পান। হোটেলের কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বাসা ও হোটেলের বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও টাকা পাওয়া যায়নি। হোটেলে কোনো সিসি ক্যামেরাও নেই।
আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হোটেলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। হোটেল মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের কথাবার্তায় অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে তারা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বসতবাড়ির সামনে উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে মাচা তৈরি করে হাজারী জাতের উচ্চফলনশীল লাউ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক চাচা-ভাতিজা কবির হোসেন ও ফারুক মিয়া। কম খরচে ভালো ফলন ও লাভ হওয়ায় তাদের দেখে আশপাশের কৃষকরাও লাউ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের কালিকাপুর দক্ষিণপাড়া ও পাশের গ্রাম জঙ্গলবাড়ি পূর্বপাড়ায় তিন খণ্ডে প্রায় এক একর জমিতে চাচা-ভাতিজাসহ কয়েকজন কৃষক এবার হাজারী জাতের লাউ চাষ করেছেন। এর মধ্যে ফারুক মিয়া ২০ শতক এবং কবির হোসেন, দুলাল মিয়া ও সাইফুল ইসলাম মিলে প্রায় ৬০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষক ফারুক মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে সবজি বাগানে মাচা তৈরি করে লাউয়ের গাছ তুলে দেওয়া হয়েছে মাচায় । মাচা থেকে সারি সারি ঝুলছে অসংখ্য লম্বা সবুজ লাউ। পুরো বাগানজুড়ে দেখা মিলছে কচি ও পরিপক্ব লাউয়ের।
কৃষক ফারুক মিয়া জানান, ২০ শতক জমিতে লাউ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮-৯ হাজার টাকা। প্রথম দিনেই প্রায় ১০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। বর্তমানে আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আরও ১২-১৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন তিনি। গাছ ভালো থাকলে পরবর্তীতেও লাউ এবং আগা-ডগা বিক্রি করে আয় করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে কৃষক কবির হোসেন জানান, লাউ চাষে মোট খরচ হয়েছে সবার প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। প্রথম দফায় প্রায় ৬৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন সবাই। প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে লাউ বাজারজাত শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন শুধু চাচা ভাতিজাই । স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এসব লাউ কুমিল্লা শহরেও যাচ্ছে।
কবির হোসেন আরও জানান, গত শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহে হাজারী লাউয়ের বীজ রোপণ করেন। প্রায় দুই মাস পরিচর্যার পর গাছে ব্যাপক ফলন আসে। লাউয়ের পাশাপাশি তিনি বেগুন, করলা, টমেটো ও ধান চাষেও সফলতা পেয়েছেন।
কৃষক ফারুক মিয়া এ বছর লাউয়ের পাশাপাশি লম্বা বেগুন, শসা, চালকুমড়া ও ঝিঙে চাষ করেছেন। ধান ও ঢেঁড়স চাষেও এলাকায় তার সুনাম রয়েছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শরিফুর রহমান বলেন, বাড়ির সামনে প্রায় ২০ শতক জমি বছরের বেশিরভাগ সময় পরিত্যক্ত থাকত। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ফারুক মিয়া ও তার চাচা কবির হোসেন বিভিন্ন সময়ে সেখানে চাষাবাদ করেছেন। এবার নিজ উদ্যোগে হাজারী লাউ চাষ করে তারা ভালো ফলন পেয়েছেন। একই পদ্ধতিতে পাশের গ্রামের সাইফুল ও দুলাল মিয়াও লাউ চাষ করে সফল হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা আফরিন আক্তার বলেন, বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও নিরাপদ ফসল উৎপাদনে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কৃষকদের উঠান বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা আক্তার জানান, হাজারী লাউ একটি উচ্চফলনশীল জাত। রোপণের পর ৫-৭ দিনের মধ্যে চারা হয় এবং ৪২-৪৫ দিনের মধ্যে ফুল ও ফল আসে। প্রায় ৬০-৭০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। দেখতে আকর্ষণীয়, সুস্বাদু এবং বাজারে চাহিদা ও ফলন বেশি হওয়ায় এ জাতের লাউ চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
মাত্র দুই মাসের মধ্যে কম খরচে ভালো ফলন ও আয় পাওয়ায় খুশি কৃষক চাচা-ভাতিজা কবির হোসেন ও ফারুক মিয়া। তাদের এ সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও পরিত্যক্ত জমি কাজে লাগিয়ে সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মাথার ওপর জীর্ণশীর্ণ চাল। মাটির দেওয়ালে অসংখ্য ফাটল। কোথাও দেওয়াল ধসে পড়েছে, কোথাও বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে ঘর। বৃষ্টি নামলেই ভাঙা চাল দিয়ে ঘরের ভেতর টপটপ করে পানি পড়ে। পানি ঠেকাতে ঘরের বিভিন্ন স্থানে পাত্র বসিয়েও রক্ষা হয় না। কখন যে পুরো ঘরটি ভেঙে পড়ে এভাবেই চরম ঝুঁকি ও মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছেন মণিরামপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তাহেরপুর গ্রামের দিনমজুর বাকের গাজী ও তার পরিবার।
পরিবারে স্ত্রী, এক শিশুসন্তান ও অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার বাকের গাজীর। দিন মজুরির সামান্য আয়ে কোনোভাবে সংসার চালালেও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ঘরটি সংস্কার করার সামর্থ্য হয়নি তার। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ওই ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরটির বিভিন্ন অংশ অত্যন্ত জরাজীর্ণ। মাটির দেওয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। দেওয়ালের একাধিক অংশ ভেঙে পড়েছে। ছাদও নড়বড়ে হয়ে গেছে। ঘরটি নিরাপদ রাখতে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব খুঁটিও যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। ঘরের আশপাশেও নেই নিরাপদ পরিবেশ।
বাকের গাজী বলেন, ‘অতি বৃষ্টিতে আমাদের থাকার ঘরটি ভেঙে গেছে। এখন বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে রেখেছি। যেকোনো সময় ঘরটি পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। বৃষ্টি হলে চাল দিয়ে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। আমি দিন মজুরি করে সংসার চালাই। নতুন করে ঘর তৈরি করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। সরকার যদি আমার ঘরটি সংস্কার করে দেয়, তাহলে পরিবার নিয়ে অন্তত নিরাপদে থাকতে পারব।’
প্রতিবেশী মাসুদ পারভেজ রুবেল বলেন, ‘ঘরটির অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
স্থানীয়দের দাবি, অসহায় এই পরিবারটির ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘরটি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঘরটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় দ্রুত সংস্কার বা একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে এই দম্পতিকে সহায়তা করা হবে।’