বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
৭ সহকারী পুলিশ কমিশনার ও ৪৯ পুলিশ পরিদর্শকসহ ৫৬ জনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এসব কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, অবসরে পাঠানো ৪৯ পুলিশ পরিদর্শক পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন জেলা পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), বিশেষ শাখা (এসবি) এবং রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত কর্মকর্তাও রয়েছেন।
অন্যদিকে সহকারী পুলিশ সুপার পদপর্যায়ের সাত কর্মকর্তাকেও একই আইনের আওতায় জনস্বার্থে অবসরে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- নুরে আলম সিদ্দিকী, মো. নূরুল মোতাকিন, কাজী ওয়ায়েজ আলী, মো. সৈয়দুজ্জামান, মো. গোলাম কিবরিয়া, মো. রবিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত করে যা পাওয়া যাবে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কারও পক্ষে-বিপক্ষে কিছু নেই। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করে সঠিক তথ্যটা বের করে নিয়ে আসা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া।’
দুর্ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গ্রিন ইয়ার্ডের কমপ্লায়েন্সের বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন ইয়ার্ডের গ্রেডিং সরকার করে না। এটি হংকং কনভেনশনের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী করা হয়। ওই নীতিমালা পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে গ্রিন ইয়ার্ডের সনদ দেওয়া হয়।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রিন ইয়ার্ডের যে হংকং কনভেনশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব-তাদের কোনো কমপ্লায়েন্সের অভাব ছিল কি না, সেটি দেখা।’
এর আগে সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতর থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। জাহাজের ভেতরে গ্যাসের উপস্থিতি থাকায় উদ্ধারকাজও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
চমেক হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনা তদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
টানা সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট)সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকাল থেকে সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের জোগান নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। সামিট চালু হওয়ার পর এখন গ্যাসের মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২০১ কোটি ঘনফুট।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে সংকট তীব্র হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
ছুটির দিন হলেও শুক্রবার (১৪ আগস্ট)বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতি আরও বেড়েছে। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় ১ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট। ভোর ৫টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। সকাল ৬টায় ৬০৯ মেগাওয়াট এবং সকাল ৭টায় ৩০৪ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। সকাল ৮টায় ঘাটতি ১৮৫ মেগাওয়াট এবং ৯টায় ১৬৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাহিদা ও সরবরাহ প্রায় সমান ছিল। দুপুর ১টায় ১৪ হাজার ৪৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট; অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ৫২ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল মাত্র ২২ মেগাওয়াট।
অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার (১৪ আগস্ট)ভোরে উল্লেখযোগ্য লোডশেডিং থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সামিটের গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের জোগান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিংয়ের চাপও কমতে পারে।
সংকটের শুরু যেভাবে
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট। সামিটের টার্মিনালের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট হলেও শুক্রবার (১৪ আগস্ট)প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির সরবরাহ সক্ষমতা কমে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের ওপর সামিটের নির্ভরতা বেড়ে যায়।
একপর্যায়ে সামিট থেকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে সরবরাহ প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে রাখা হয়। কিন্তু গত সপ্তাহের শুরুতে এলএনজি নিয়ে একটি কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কার্গো থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি।
টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে তখন সরবরাহ চালিয়ে যায় সামিট। মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো হয়। গত মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নামানো হয়। গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছিল ১০ কোটি ঘনফুট করে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে। অথচ গত বুধবারও সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশে ২৬০-২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
বিদ্যুতে গ্যাস বাড়লেও শিল্পে কমেছে
গ্যাসের মোট সরবরাহ কমে যাওয়ার পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের জোগান বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দিনে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত, এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে যাচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে মিলছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট।
তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে ১৬০-১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩৫-৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
সামনে স্বস্তি কতটা
শুক্রবার (১৪ আগস্ট)সন্ধ্যায় সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুরুতে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট দেওয়া হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে আজ শনিবার রাত ২টার মধ্যে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে সামিটের সরবরাহ বাড়লেই গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ওই সময়ে টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে—প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে গত ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কবে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ফলে সামিট থেকে সরবরাহ বাড়ায় আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুটি এলএনজি টার্মিনালই পূর্ণ সক্ষমতায় না ফেরা পর্যন্ত সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ কম।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ সফরে আসছেন তারেক রহমান। তার সফর ঘিরে জেলাজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেনের সই করা সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে কিশোরগঞ্জে যাবেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করবেন তিনি। একই স্থানে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে তার।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদীর কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
দুপুর আড়াইটায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং জেলা ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকাল ৪টায় জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে সড়কপথে কিশোরগঞ্জ ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাত ৮টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই তারেক রহমান কিশোরগঞ্জে আসছেন, এটি তাদের জন্য আনন্দের।’ তার সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়নবঞ্চিত এলাকাগুলোতে উন্নয়ন হবে বলে আশা করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত।’ তার নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও নাগরিক সমস্যার সমাধানে নতুন পথ খুলবে বলে তারা আশা করছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন জেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’ তার নেতৃত্বে জেলার উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা সমাধান ও মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনে নতুন গতি আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, এটি তাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তারা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন।’
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, ‘তার সংসদীয় আসনের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী এই দুই উপজেলাতেই প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি রয়েছে। পাকুন্দিয়ার মির্জাপুরে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। এরপর কটিয়াদীর কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।’
জালাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।’ তার সংসদীয় এলাকা থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরের কর্মসূচি শুরু হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কিশোরগঞ্জে আনন্দের ঢেউ উঠেছে। শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সফরটি উন্নয়ন ও সবুজ ভবিষ্যতের বার্তা দেবে।’ শরীফুল আলম জানান, ১৯৯৮ সালে প্রথম কিশোরগঞ্জে এসেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তার সঙ্গে ভৈরব ও কুলিয়ারচরে ২৩টি পথসভা ও জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে জেলা শহরে এবারই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি কর্মসূচিতে তারেক রহমানের আগমন ঘটছে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত শনিবার কিশোরগঞ্জ সফরে এসে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছিলেন, সরকারের নেওয়া বেশির ভাগ জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম কিশোরগঞ্জ থেকে শুরু হবে। মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ, বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ, মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচির জন্য কিশোরগঞ্জকে বেছে নিয়েছেন।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অস্থায়ী হেলিপ্যাডও তৈরি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নির্বাচনী জনসভায় এসেছিলেন তারেক রহমান। এর আগে ১৯৯৮ সালে প্রথমবার কিশোরগঞ্জে আসেন তিনি। তবে জেলা শহরে এবারই প্রথম কোনো কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক।
তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টা ১২ মিনিটে পাম্প বন্ধ হয়ে গেলে ১ নম্বর ইউনিটটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, ত্রুটি মেরামতের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। ত্রুটি সারিয়ে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
বর্তমানে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তিন নম্বর ইউনিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই কর্মকর্তা।
এর আগে গত ৩১ জুলাই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১ নম্বর ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে মেরামতের পর গত ২ আগস্ট এটি পুনরায় চালু করা হয়।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে এক ও দুই নম্বর ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং তিন নম্বর ইউনিট ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন।
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। খাল-বিল ও জলাশয়ে প্রাকৃতিক উৎসের ঘাটতিতে দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় আকাশচুম্বী দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে মাছের খাবার ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে বাড়ানো হয়েছে চাষের মাছের দামও। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দৈনন্দিন খাবারের তালিকা থেকে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ কেজিতে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে দেশি পাবদা, শিং ও মাগুর বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৯০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া টেংরা ও গুলশা ৬০০-৮০০ টাকা, শোল ৮০০-১ হাজার টাকা, চিতল ৮০০-১ হাজার টাকা এবং বোয়াল ৯০০-১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আকারভেদে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, কম আয়ের মানুষের ভরসা চাষের মাছের দামও এখন ঊর্ধ্বমুখী। চাষের রুই প্রতি কেজি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০-৫০০ টাকা, চাষের কৈ ৩৫০-৪৫০ টাকা এবং চাষের শিং ও মাগুর ৪৫০-৪৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের পাঙাশ ২০০-২৮০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০-৩০০ টাকা কেজিতে পৌঁছানোয় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, দেশি মাছ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এমনকি আগের মতো অল্প খরচে চাষের মাছ কিনে সংসার চালানোও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
খুচরা ও আড়তদার বিক্রেতারা বলছেন, প্রাকৃতিক উৎসে দেশি মাছের ঘাটতি এবং আড়তেই বেশি দামে বিক্রির কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া পশুখাদ্য ও পরিবহন খরচ বাড়ায় খামারিরা চাষের মাছের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
মাছের পাশাপাশি রাজধানীর কাঁচাবাজারে আমদানির পর কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমে ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি হলেও অন্যান্য পণ্যে স্বস্তি নেই। বর্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আলু ও পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে। বরবটি ১২০, করলা ১৩০, বেগুন ১২০-১৪০, টমেটো ১২০ এবং লাউ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একইভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২১০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা এবং ডিমের ডজন ১৫০ টাকায় ঠেকেছে। যদিও চাল, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল, তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও উৎপাদন ক্ষতি: কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের মূল সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে খেতের সবজি নষ্ট হয়েছে। গাছের গোড়ায় পানি জমে ফলন ব্যাহত হওয়ায় মোকামগুলোতে সবজির সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে।
পরিবহন ব্যবস্থার স্থবিরতা ও ব্যয়বৃদ্ধি: টানা বর্ষণে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক রাস্তার কন্ডিশন খারাপ হওয়ায় রাজধানীর পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত ট্রাক পৌঁছাতে পারছে না। যানবাহন কম থাকায় ট্রাকভাড়া ট্রিপপ্রতি ৮–১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা সরাসরি প্রতি কেজি সবজির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হাতবদল ও আড়ত-খুচরা ব্যবধান: কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বড় পাইকারি আড়ত থেকে পণ্য নামার পর ট্রাকে থাকা অবস্থাতেই ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে ২–৩ বার হাতবদল হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত লাভ ও বর্জ্য লোকসান হিসাবের যুক্তিতে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশাল ফারাক তৈরি হচ্ছে।
প্রাকৃতিক উৎসের বিলুপ্তি ও উপাদান সংকট: জলাশয় সংকুচিত হওয়ায় নদী-নালার দেশি মাছের সরবরাহ স্থায়ীভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে চাষের মাছ ও মুরগির ফিশফিড/পোল্ট্রি ফিডের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ এবং খামার পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকটে উৎপাদন কমে গেছে।
মূল্যস্ফীতি তথ্যের সাথে বাস্তবের অসংগতি: সরকারি সংস্থা (বিবিএস) মূল্যস্ফীতি হ্রাসের পরিসংখ্যান দিলেও বাজারে তার কোনো বাস্তব সুফল ভোক্তা পাচ্ছে না। কারণ সরবরাহ ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা ও নজরদারির অভাব বাজারে স্থায়ী উচ্চমূল্য ধরে রেখেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের প্রধান সবজি হাবগুলো থেকে সরাসরি রাজধানীতে পণ্য আনার সরকারি বা নিবন্ধিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে আড়তের হাতবদল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে। খামার উপকরণ, বীজ, সার ও ফিডের ওপর শুল্ক ছাড় দিয়ে কৃষক ও খামারিদের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাজার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে পাইকারি থেকে খুচরা—সব ধাপে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ সন্ত্রাস করবে, তা কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ বা ছাত্রদলের ব্যানারে থেকে কেউ এমন ধৃষ্টতা দেখালে তা সহ্য করা হবে না। অতীতে ছাত্রলীগ শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করত, এখন ছাত্রদল সেটি করতে পারবে না।’
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, ‘অতীতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। সেই সময়ের জনপ্রতিনিধিরা ভাগ পেয়েছেন। কিন্তু আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, যতদিন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী আছেন, আর যতদিন আমি আপনাদের সংসদ সদস্য হিসেবে আছি, ততদিন কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক টাকারও লেনদেন হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শের বহিঃপ্রকাশের সুযোগ নেই।
অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী থেমে থাকবে না, তার দায়িত্ব নেওয়া হবে।’
পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। আগামীতে আন্তঃকলেজ ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ রয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, সরকারি এম এম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ, জাতীয় দৈনিকে প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত এবং নতুনহাট পাবলিক কলেজের সভাপতি এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু।
মৌলভীবাজারের পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। শহরের বাইরে নিরাপদ স্থানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করে বর্জ্য থেকে জৈব সার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচটি স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।
পরিদর্শনকালে তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবন এবং শহরের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘদিন ধরে থাকা পৌরসভার ময়লার ভাগাড় সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড় দ্রুত স্থানান্তরের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের ময়লা ফেলার জন্য শহরের বাইরে খাস বা সরকারি জমি খোঁজা হচ্ছে। সেখানে একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের একজন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ শ্রীমঙ্গলে আসবেন। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।’
তিনি জানান, এসব নির্বাচন আয়োজনে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে এবং এই অর্থ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলে নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ যৌথ বৈঠকে বসে নির্বাচনের সময়সূচি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঢাকার শোয়ারি ঘাট ও পোস্তগোলা ব্রিজে কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার শোয়ারি ঘাটসংলগ্ন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ২টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ করা হয়। এ সময় প্রকৃত মালিক না পাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে ঢাকার পোস্তগোলা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৬০০ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ করা হয়। এ সময় কাভার্ড ভ্যানচালক ও হেল্পারের মুচলেকা নিয়ে কাভার্ড ভ্যানসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘জব্দকৃত পলিথিনের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
রাজধানী ঢাকা শহরের যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ানো ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম সম্প্রতি নগর ভবনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘রিকশার সমস্যাটা কোথা থেকে আসল, কীভাবে আসল- সেটা বের করে সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাটাও আমাদেরই, আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিটি করপোরেশনকেই সমাধান করতে হবে।’
আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা শহরের রাস্তায় বর্তমানে এদিক-সেদিক, উল্টো দিকসহ বিভিন্নভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশাচালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন ও চলাচলের শৃঙ্খলা মানছে না। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অযাচিত যানজট আরও বাড়ছে।’ রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে ফুটপাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিচ্ছে। কেউ রিকশা চালাচ্ছে, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছে। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের ঢাকামুখী প্রবেশ নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।’
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এসব রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। এ জন্য ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে রিকশা চালাতে পারবে না। কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে চলাচল করা কিংবা ডেমরা থেকে নদী পার হয়ে রিকশা নিয়ে অন্য এলাকায় চলে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না। একইভাবে উত্তর সিটির রিকশাও নির্বিচারে এই এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আইন প্রণয়ন করে সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠানোর পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।’
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ধুপুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের মেয়ে রাজিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বাড়িতে ফিরে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। তাদের আর কোনো সারা শব্দ না পেয়ে পরে দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা এবং একই কক্ষের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যা করে কনিকা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শ্বশুড়ের সাথে অভিমান করে তার ছেলের বউ কন্যাশিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং পরে নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে সুরতহালে তাই মিলেছে। তবুও আরও কোনো কারণ থাকতে পারে কি না সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
ঝিনাইদহে বৃক্ষমেলায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে গত ৩১ জুলাই শুরু হওয়া এ মেলায় প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই ভিড় করছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। কেউ গাছের চারা দেখছেন, কেউ পছন্দের গাছ কিনছেন, আবার কেউ ঘুরে দেখছেন মেলায় থাকা নানা পণ্য।
জেলা বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বৃক্ষমেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি মেলায় স্থান পেয়েছে ফুলের গাছসহ নানা ধরনের গাছ ও কৃষি সংশ্লিষ্ট পণ্য। গাছের বৈচিত্র্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে চারা পাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশ দেখা গেছে।
মেলায় ঘুরতে আসা এক আশরাফ আলী নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘প্রতি বছরই বৃক্ষমেলায় আসি। এখানে অনেক ধরনের গাছ একসঙ্গে পাওয়া যায়। নিজের বাড়ির জন্য কয়েকটি ফল ও ফুলের গাছ কিনেছি। গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিবারের অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করছি।’
ফারুক হোসেন নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘মেলায় এসে অনেক নতুন জাতের গাছ দেখলাম। পরিবেশের জন্য গাছ লাগানো খুবই জরুরি। তাই পছন্দের কয়েকটি চারা কিনে নিয়েছি। মেলার মাধ্যমে মানুষ গাছ লাগানোর প্রতি আরও আগ্রহী হবে বলে মনে করি।’
সামাজিক বন বিভাগ ঝিনাইদহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃক্ষমেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরি করা। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির চারা রাখা হয়েছে। মানুষ যাতে সহজে ভালো মানের চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে ও খালি জায়গায় গাছ লাগাতে পারেন, সে বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।’
গত ৩১ জুলাই শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, সামাজিক বন বিভাগ যশোর অঞ্চলের বিভাগীয় কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. এম এ মজিদ।
বর্তমান সরকার ১৮ কোটি জনগণের উন্নয়নে কাজ করছে। বিগত দিনগুলোতে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে গিয়েছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার। এই জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান সরকার দিন-রাত কাজ করছে। একটি দেশের মেরুদণ্ড ধ্বংস করতে এবং পরনির্ভরশীল করতে যা যা করা দরকার, তার সব করে গিয়েছে বিগত সরকার। বিএনপি সরকার বিদ্যুৎ, গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে দেশকে পরনির্ভরশীলতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত বেসরকারি ১৪টি এতিমখানা ও ৭টি সমাজকল্যাণ সংস্থার সরকারি অনুদানের ৩০ লাখ টাকার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এসব কথা বলেন।
এ সময় পুতুল আরও বলেন, ‘দেশে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। যোগ্য ব্যক্তিরাই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ১৮০ দিনে অর্জন- বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে। সরকার পরিবর্তন হলেও পথে পথে আতঙ্ক আর নাম বদল শুরু হতো। প্রতিষ্ঠান দখল হতো। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে বিএনপি দেশে পাহারা দিয়েছে, যেন আর কোনো লাশ না পড়ে। বর্তমান সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর মোহাম্মদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান চৌধুরী, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার ইউসুফ আলী, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক শারফুল ইসলাম, সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, শহর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন, সাবেক ভিপি শামীম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম বুলেট, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন মিন্টুসহ অন্যান্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।