বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বন্যার অবনতি, নতুন  করে প্লাবিত আরও ৫০ গ্রাম

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৫৪

বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।

খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।

সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।

কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।

জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।

এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ

দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।

এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।

সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।

জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি

রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।

আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’

সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

বিষয়:

নির্বাচিত

দেশের ৩ জেলায় নতুন পুলিশ সুপারকে পদায়ন

জসীম উদ্দিন, ওমর ফারুক ও আমিনুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ৩টি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে ৩ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই ৩ জেলার বর্তমান পুলিশ সুপারসহ আরও দুই কর্মকর্তাকে হাইওয়ে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুর জেলার নতুন পুলিশ সুপার করা হয়েছে। পুলিশ স্টাফ কলেজের সরকার ওমর ফারুককে খুলনা জেলার পুলিশ সুপার এবং সিলেট ডিআইজি রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামকে কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গাজীপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকেও হাইওয়ে পুলিশে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মৌলভীবাজারে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে তেলবাহী ট্রাক, চালক নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজেশ ভৌমিক, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ধামাইপার ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী একটি ট্রাক নিচের ছড়ায় পড়ে চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধামাইপার ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তেল নিয়ে ট্রাকটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। সকালে ধামাইপার ব্রিজে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের ছড়ায় পড়ে যায়। এতে ট্রাকের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের রেলিং ভাঙা এবং নিচে ট্রাকটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত হেলপারকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে রাজনগর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আলী হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে মৌলভীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় রেকার ভ্যান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সহায়তায় যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ট্রাক থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাকারিয়া বলেন, ‘ট্রাকটি অনেক নিচে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে রেকার ভ্যানের প্রয়োজন হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ট্রাকে চালক ও হেলপার ছিলেন।’

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ট্রাকে চালক ও হেলপারসহ দুজন ছিলেন। চালক নিহত হয়েছেন এবং হেলপারকে স্থানীয়রা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট মহানগরীর একটি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাসহ তিন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ভবনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ওই বাসার বাসিন্দা হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া এলাকায় মুরুব্বি হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে সত্তার মিয়া ছাড়াও রয়েছেন তার স্ত্রী এবং তাদের একজন গৃহপরিচারিকা। ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

একইভাবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, “স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে এ ধরনের একটি খবর শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।” পুলিশ বর্তমানে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চালাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।


নির্বাচিত

ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে অবরোধ, এক ঘণ্টা পর রেল চলাচল স্বাভাবিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে গফরগাঁও স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মশাখালী এলাকায় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি আটকে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘ সময় ওই রুটে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীদের সরিয়ে নেওয়া হলে পুনরায় চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, “মশাখালী স্টেশনে যমুনা ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে আন্দোলন করছেন। আজ সকাল থেকে তারা ট্রেনটি আটকে রেখেছিলেন। পরে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য মশাখালী স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি সময়ের দাবি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এদিন সকালে রেললাইনে লাল কাপড় টাঙিয়ে তারা ট্রেনটি থামিয়ে দেন। তবে মশাখালী রেলস্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৩০ জুলাই থেকে চলমান এই আন্দোলনের কারণে সাধারণ যাত্রীদের নিয়মিত চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।


নির্বাচিত

খুলনায় ইটভাটায় ঢুকে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার রূপসা উপজেলায় গভীর রাতে একটি ইটভাটার ভেতরে ফখরুল শেখ নামে এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের কিসমত খুলনা গ্রামের ‘মেসার্স রূপসা ব্রিকস’ নামক ইটভাটায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফখরুল শেখ রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং বর্তমানে সক্রিয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক। পারিবারিক মালিকানাধীন ওই ইটভাটায় মাঝেমধ্যে চুরির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার খাতিরে ফখরুল প্রায়ই রাতে সেখানে পাহারার দায়িত্ব পালন করতেন। মঙ্গলবার রাতেও তিনি ভাটায় অবস্থান করছিলেন। এমন সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত সেখানে প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে জানান যে, “পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।” আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে নিহতের মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোসহ উপকূলীয় অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে। “চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।” লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকতে পারে বিধায় এই সতর্কতা জারি করা হয়।

একই সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোর জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সকল নৌযানকে “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে হবে।” লঘুচাপের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে আবহাওয়া সংক্রান্ত আরও তথ্য জানানো হবে।


নির্বাচিত

আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হিজরি বর্ষপঞ্জির সফর মাসের শেষ বুধবার মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ হিসেবে পরিচিত। ফারসি ও আরবি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই পারিভাষিক নামটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘সফর মাসের শেষ বুধবার’।

বুধবার (১২ আগস্ট) আজ আখেরি চাহার সোম্বা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ের দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থেকে সাময়িক আরোগ্য লাভ করেছিলেন। জনশ্রুতি রয়েছে যে, “সফর মাসের শেষ বুধবারে মহানবী (সা.) প্রচণ্ড অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করলে সাহাবিরা খুশি হয়ে দান সদকা করেন ও শুকরিয়া আদায় করেন বলে মত পাওয়া যায়।” সেই পুণ্যস্মৃতি স্মরণে একদল ধর্মপ্রাণ মানুষ নফল ইবাদত ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে দিবসটি উদ্‌যাপন করেন এবং বাংলাদেশেও দিনটি ঐচ্ছিক সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে এই দিবসটির ঐতিহাসিক ভিত্তি ও পালন নিয়ে দেশের আলেম ও ইসলামি গবেষকদের মাঝে প্রবল মতপার্থক্য বিদ্যমান। গবেষকদের একটি বড় অংশ দাবি করেন, মহানবী (সা.) ঠিক কোন দিনে সুস্থ হয়েছিলেন কিংবা তাঁর সেই অসুস্থতার প্রকৃতি কেমন ছিল, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ইতিহাসে অকাট্য কোনো তথ্য নেই। এমনকি মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর সুযোগ্য সাহাবিদের কাউকেও এই দিবসটি পালন করতে দেখা যায়নি। প্রাপ্ত ঐতিহাসিক বর্ণনায় দেখা যায়, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অসুস্থতা সফর মাসের শেষ দিকে শুরু হয়ে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, যার ফলে নির্দিষ্ট কোনো বুধবারকে আরোগ্যের দিন হিসেবে চিহ্নিত করা বৈজ্ঞানিকভাবেই জটিল।

দিবসটির স্বপক্ষে যারা যুক্তি দেন, তারা প্রধানত ‘বারো চান্দের ফজিলত’ ও ‘রাহাতুল কুলুব’ এর মতো গ্রন্থগুলোর সহায়তা নেন। এসব গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, নবীজির সুস্থতার সংবাদে খুশি হয়ে হজরত আবু বকর (রা.) ৭ হাজার দিনার ও হজরত ওমর (রা.) ৫ হাজার দিনারসহ অন্যান্য সাহাবিরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আধুনিক ইসলামি পণ্ডিতগণ এই বর্ণনাগুলোকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার দিনক্ষণ নিয়ে ইতিহাসে যথেষ্ট বিভ্রান্তি রয়েছে; কেউ বলেছেন তা শুরু হয়েছিল শনিবার, কেউ বুধবার আবার কেউবা সোমবারের কথা উল্লেখ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম হিজরিতে এক ইহুদির জাদুর প্রভাবে মহানবী (সা.) অসুস্থ হয়েছিলেন বলে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার সঙ্গে ১১ হিজরির সফর মাসের এই দিবসের কোনো সম্পর্ক থাকা সম্ভব নয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তারা সতর্ক করে বলেন যে, কোনো ইবাদত বা পদ্ধতি যদি শরিয়তের নির্ভরযোগ্য উৎস তথা কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত না হয়, তবে সওয়াবের আশায় তা পালন করা বিদআত বা ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ উদ্ভাবন হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রমাণ ছাড়া ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ বা ‘শেষ বুধবার’ পালন করার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নিয়ে ইসলামি মহলে এখনো বিতর্ক ও সংশয় রয়ে গেছে।


নির্বাচিত

বন্ধ তিন পাটকল চালুতে ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ

* বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত সরকার: প্রধানমন্ত্রী * প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে বিজেএমসির চুক্তি * কর্মসংস্থান হবে সাড়ে ১১ হাজার মানুষের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর মাধ্যমে দেশের পাট শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার হতে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনায় মিল তিনটি চালু করতে প্রাণ-আরএফএল এবং হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। চুক্তি অনুযায়ী, তিনটি পাটকলে মোট ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যা প্রায় ১১ হাজার ৬২৯ জনের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চু্ক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার। অন্যদিকে, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, মোট তিনটি পাটকলের মধ্য থেকে সিরাজগঞ্জ ও খুলনার দুটি মিলের ইজারা নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্য মিলটি নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ। চালুর পর এ তিনটি পাটকল থেকে সম্মিলিতভাবে বছরে সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার বা আয় দাঁড়াবে প্রায় ১,১৭৫ কোটি টাকা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক খাতকে আরও বেগবান করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এদিকে, সচিবালয়ে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম)র একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন।

অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্ধ থাকা সরকারি পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের এই ধারা বজায় থাকলে এবং নতুন বিনিয়োগ এলে দেশীয় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির নতুন নতুন বাজার তৈরি হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত এ পাটকলটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। চুক্তি অনুযায়ী, মিলটি পুনরায় সচল করতে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। কারখানাটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে এখানে প্রায় ৫,২৩৮ জন মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই কারখানা থেকে বছরে সম্ভাব্য ৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার আশা করা হচ্ছে।

স্টার জুট মিলস লিমিটেড (খুলনা): খুলনার দিঘলিয়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী স্টার জুট মিলস ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। এই মিলটি চালুর পেছনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। মিলটি পুনরায় চালু হলে এখানেও প্রায় ৫,২৩৮ জন শ্রমিকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই মিলটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।

প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড (খুলনা): খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসের ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ। এটি চালু করতে হ্যামকো গ্রুপ প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। কারখানাটি সচল হলে অন্তত ১,১৫৩ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হবে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে বিজেএমসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি লিজগ্রহীতাদের কাছে জমি ও অবকাঠামোর দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি হস্তান্তরিত মিলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টি পাটকল তাদের বাণিজ্যিক উৎপাদন সফলভাবে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সুবিধা নেওয়া যাবে না: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

সরকার ব্যবসাকে সরলীকরণে কাজ করছে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই সরকারের আমলে প্রভাব বিস্তার করে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সুবিধা নেওয়া যাবে না। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে কাস্টমস, বন্দর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে প্রভাব বিস্তার করে কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সুবিধা নেওয়া যাবে না। সরকার ব্যবসাকে সরলীকরণে কাজ করছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পুরোনো বাধা-বিপত্তি দূর করে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে বিদেশি বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যারা দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে কাজ করতে রাজি হবে, তাদের সঙ্গে সরকার কাজ করবে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক হাব সৃষ্টিকে ঘিরে এডিবি বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

এছাড়া বন্দর ও কাস্টমের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে বিশেষ সমন্বয় কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে বন্দরের কাজে গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কম সময়ে পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


নির্বাচিত

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে। উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে যথা সময়ে পরিশোধের ভিত্তিতে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ও ৫০০ কোটি টাকা অনুদানের মাধ্যমে অন্তত ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

নতুন উদ্যোগের বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্সিং) ও অনুদান প্যাকেজ নিয়ে কাজ চলছে। যেসব তরুণ ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, কিন্তু প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবে তা করতে পারছেন না, তাদের এই উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এ ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে প্রচলিত ব্যাংকঋণের ১১ থেকে ১৫ শতাংশ কিংবা এনজিও ঋণের তুলনায় উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের খরচ অনেক কম হবে।

মাসুরর আরেফিন বলেন, শুধু ঋণ দেওয়াই নয়, উদ্যোক্তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনুদানের ব্যবস্থাও থাকছে। ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ ও ব্যবসার পারফরম্যান্স বিবেচনায় ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ, কোনো উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা ঋণ পেলে পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে আরও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, এই ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত নেওয়া হবে না। ফলে সম্পদ বা জমি বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকলেও যোগ্য তরুণদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, উদ্যোক্তা নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তা বাছাই করা হবে। এর মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা চিহ্নিত ও যাচাই করবে। উদ্যোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবসার সম্ভাবনা, দক্ষতা ও প্রকৃত উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, এই তহবিলের আওতায় শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসা নয়, উৎপাদন ও বাণিজ্য—দুই ধরনের উদ্যোগই আসতে পারে। এর মধ্যে মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি তৈরি এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।


নির্বাচিত

জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম ও শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের মুখ বন্ধ করে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে।

দেশের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা গেলে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনের নিশ্চয়তা তৈরি হবে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা এমন একটা দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সবাই এখন যে অবস্থায় আছে, তার চেয়ে ভালো থাকবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই আসবে এবং সরকারও সেটি চায়। তবে দেশের নিজস্ব বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করতে হবে। তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু নীতি সহায়তা দরকার, তা দেওয়া হবে।

সরকারের নীতির মূল উদ্দেশ্য সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করা-এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনটি মিলের দায়িত্ব নেওয়া দুই ব্যবসায়ী গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলো সফল হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা।

এ সময় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) এবং লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১০ কর্মকর্তার বদলি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১০ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পাঁচজন সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপণে তাদের বদলি করা হয়।

প্রজ্ঞাপণে, মিশন থেকে ফিরে পুলিশ সদর দপ্তরের রিপোর্ট করা সহকারী পুলিশ সুপার ও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ইশতিয়াক আহমেদকে বরগুনা জেলা পুলিশের সদর সার্কেলে বদলি করা হয়েছে।

অপর এক আদেশে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া রহমানকে শরীয়তপুরে, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. সালাহউদ্দিনকে চাঁদপুরে, চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমানকে কুমিল্লায় এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. শরিফুল আলমকে রংপুরে বদলি করা হয়।

এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাগর সরকারকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই), ময়মনসিংহ এসএএফের সহকারী পুলিশ সুপার তাহমিনা আক্তারকে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর সার্কেলে, ময়মনসিংহ ফুলপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাকিবুর রহমানকে রাজবাড়ী জেলার পাংশা সার্কেলে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার সিরাজ উদ দৌলাকে হাইওয়ে পুলিশে এবং রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নুরুল আমিনকে পুলিশের তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) বদলি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

আধুনিক ও স্মার্ট সেচ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকায় বিএডিসি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আধুনিক ও স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ পর্যায়ক্রমে গ্রহণ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে পাঁচ বছরে ২০,০০০ কি.মি. খালনালা পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কে ২০,০০০ কি.মি. এর মধ্যে ৬০০০ কি.মি পুন:খননের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল ধরনের উদ্যোগ ও কর্মকৌশল চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য সেচ ব্যবস্থাপনায় বিএডিসির রয়েছে এক গৌরবময় ঐতিহ্য। ১৯৬০ এর দশকে মাত্র ১৫৫৫টি শক্তিচালিত পাম্পের সাহায্যে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক ও যান্ত্রিক চাষাবাদ ব্যবস্থাপনার প্রচলন ঘটে।

সেই সময়ের সেচ ব্যবস্থাপনার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ব্যাপক ও বিস্তর তফাৎ। দেশের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদার নিরাপদ যোগান দিতে কৃষি ব্যবস্থাপনায় আবশ্যিকভাবে এসেছে বহুমূখী বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

দেশের আবাদি জমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও অন্তরায় মোকাবেলা করে কৃষি ব্যবস্থাপনাকে সমুন্নত ও টেকসই করতে সেচ ব্যবস্থাপনার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর এই সেচ ব্যবস্থাপনায় বিএডিসির ভূমিকা অনবদ্য ও অতুলনীয়। সময়ের সাথে সাথে কৃষকদের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সংস্থাটি নিরলসভাবে দক্ষ সেচ ব্যবস্থাপনায় অবদান রেখে যাচ্ছে।

বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থার মাধ্যমে গৃহীত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ হলো: খাল নালা পুনঃখনন- ৮২০ কি.মি., ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ-১৪৫০ কি.মি., সেচ অবকাঠামো নির্মাণ- ৬৬২টি, বেড়ী বাঁধ/ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ- ৪৯ কি.মি., সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্প স্থাপন- ১৬১টি, সেনিপা সংগ্রহ এবং বিতরণ- ৪২৭৬৪টি, নিরাপদ ফুল ও সবজি উৎপাদনে পলিশেড নির্মাণ- ৫০টি, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং- ৪৭৮টি, গভীর নলকূপ পুনর্বাসন- ৯৫টি প্রভৃতি। এমনকি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেচ ব্যবস্থাপনায় সেন্টার পিভট ইরিগেশন সিস্টেমও বিএডিসির মাধ্যমে পাবনা জেলায় মুলাডুলি কৃষি খামারে প্রবর্তিত হয়েছে।

সেচ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরো টেকসইপূর্বক বিভিন্ন পরিকল্পনা যেমন: এসডিজি এবং শতবর্ষী ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনমুখী কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টি কার্যকরভাবে চলমান রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেচ দক্ষতা ৩৮শতাংশ-৪০শতাংশ এ উন্নীতকরণ, সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার ৩০শতাংশ এ উন্নীতকরণ এবং একইসঙ্গে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার ৭০শতাংশ এ হ্রাসকরণে বিএডিসি বদ্ধপরিকর।

দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় বিএডিসি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষি আমাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রায় নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। আর কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিএডিসির প্রতি সরকারের আস্থা ও গৌরবময় ঐতিহ্য কার্যকরভাবে ধরে রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিচয় দিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট সকলকে তৎপর হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছেন।


নির্বাচিত

banner close