বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সমন্বয়ের বিষয়ে বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।
এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সম্ভাব্য ভূমিকা ও ডিজিটাল মোতায়েন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাহিনীর মহাপরিচালক দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাহিনীর সার্বিক সংস্কার ও সক্ষমতা অর্জনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সুবৃহৎ এই স্বেচ্ছাসেবী সাংগঠনিক কাঠামোর ব্যাপক সম্ভাবনার বিষয়ে উপস্থাপন ও আলোচনা করেন।
এর প্রেক্ষিতে রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ওয়ার্ড/জোন ও থানা এলাকাভিত্তিক প্রশিক্ষিত টিডিপি স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের প্রস্তুত রাখার এ পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর মহাপরিচালকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ ছাড়াও ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন সক্ষমতার প্রেক্ষিতে আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য ভূমিকার বহুমুখী নিয়ামক ও সার্বিক সমন্বিত মোতায়েন মূল্যায়ন সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। আনসার-ভিডিপি ডিজিটাল ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দুর্যোগকালীন সময়ে ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে দ্রুত সাড়া প্রদান, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং অন্যান্য মানবিক পুনর্বাসন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
প্রস্তাবিত ১ লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবী সদস্যকে বাহিনীর মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের রূপরেখা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের একটি কার্যকর স্থানীয় দুর্যোগ সাড়াদান সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও অগ্নি-নির্বাপণসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই বাহিনীর একযোগে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। মাঠপর্যায়ে পেশাদারত্বের মান বাড়াতে প্রশিক্ষণে সহায়তা ও কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও বিশদ আলোচনা করেন।
ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় সংকট ও মানবিক দুর্যোগে পারস্পরিক সমন্বিত সহযোগিতা আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক।
এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেছেন, সামনে সুযোগ এলে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমানো হবে। মূলত পাচার রোধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যাচ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পাশাপাশি দুটি দেশে যখন জ্বালানি তেলের চাহিদা ব্যাপক থাকে এবং দামের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে, তখন তেল পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়। এটি রোধ করা কঠিন। সে কারণেই বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি যোগাযোগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে। তারাই নিশ্চিত করবে, অতিরিক্ত ভাড়া যেন কেউ আদায় করতে না পারে।
কৃষিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে কৃষকের কৃষিজমিতে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সেচের পাম্পগুলোকে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি বা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রাকৃতিক সৌরশক্তি ব্যবহার করে কৃষক যেন সেচপাম্প চালাতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।
ঝিনাইদহের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় করে জেলার উন্নয়নের গতি কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত বিরোধী দল থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। এর জবাব জনগণই দেবে।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জামায়াত ও শিবির আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
হাওরের জল-হাওয়ায় মুখরিত অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাহাদুরপুর মাঠ। একদিকে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা, অন্যদিকে আসন্ন দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি রক্ষার তাগিদ—এই দুই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে হয়ে গেল কাস্তুল ইউনিয়ন বিএনপির সুবিশাল ‘গণ-সমাবেশ’।
উক্ত সমাবেশে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, “বাহাদুরপুর ঐতিহ্যবাহী একটি মাঠ। এ মাঠে খেলাধুলার সার্বিক মানোন্নয়নে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, সামনে আসছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা; এই দুর্গাপূজা উদযাপনে যে কোনো ধরনের অপপ্রয়াস ও বিশৃঙ্খলা রুখে দিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের বাহাদুরপুর ফুটবল খেলার মাঠে কাস্তুল ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল ‘গণ-সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে অষ্টগ্রামের রাস্তাঘাটের সার্বিক উন্নয়ন, অবহেলিত অবকাঠামোর রূপান্তর এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দেন। রাজনীতিতে হামলা-মামলা, সংঘাত ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে প্রশাসনকে কঠোর থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
কাস্তুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি একরামুল হক সাব্বিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত গণ-সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা।
বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সসৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু, যুগ্ম সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোয়াব প্রধানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এমপি ফজলুর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং হাওরাঞ্চলের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাস্তুল ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
র্যাগিংসহ নানা অপরাধের দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেট সভায় শৃঙ্খলা উপকমিটি র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণসহ উপস্থাপন করেছে। পরে সিন্ডিকেট বিষয়টি উন্মুক্তভাবে পর্যালোচনা করে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে।
শাস্তির মধ্যে রয়েছে এক শিক্ষাবর্ষ (দুই সেমিস্টার) ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল ও ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করা, কঠোরভাবে সতর্ক করা এবং অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি অবহিত করা।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে র্যাগিংয়ের দায়ে ১৪ জন, জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রের ওপর শারীরিক হামলার দায়ে ১ জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই দায়ে দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া র্যাগিংয়ের দায়ে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পেলে অধিকতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে উল্লিখিত শাস্তির বিষয়ে অবহিত করা হবে।
অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির সিল, স্বাক্ষর ও প্যাড জালিয়াতির দায়ে ৩ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। র্যাগিং ও সিল জালিয়াতির অভিযোগে এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া ১৮ জন ও আবাসিকতা বাতিল হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, র্যাগিংয়ের বিষয়টির মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। তাই আমরা এ বিষয়ে খুব কঠোর অবস্থানে আছি। আমরা কাউকে চিরতরে ছাত্রত্ব বাতিল করিনি। সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে। কেউ যদি আবাসিক শিক্ষার্থী হয়ে থাকে, তাঁর আবাসিকতাও বাতিল করা হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, একই সঙ্গে তাঁর বাবা-মাকে বিষয়টি জানানো হবে। যাঁদের সতর্ক করা হয়েছে, তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কোনোভাবে বোঝা যায় যে, তাঁরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার লচনা এলাকায় সাতগাঁও হাইওয়ে থানার অদূরে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারের মাজদিহি এলাকার অমৃত সিংয়ের ছেলে জয় সিং (২৩)। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে মিরপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘আলম এশিয়া পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস লচনা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দিলে দুমড়েমুচড়ে যায় যানটি। ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অটোরিকশার তিন আরোহীর মৃত্যু হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাভীদ রাইয়ান বিন শহিদ জানান, রাত ৯টার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল।
শ্রীমঙ্গল সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ওসি মামুনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত একজনের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
মরদেহগুলো বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ জানায়, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দিনাজপুর শহরে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি একটি ওয়ান শুটার ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের হাসপাতাল মোড়ে নিয়মিত চেকপোস্ট কার্যক্রম চলাকালে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার দপ্তরীপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে হারুন (৫৫) এবং ষষ্ঠীতলা এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. রতন (২০)। হারুন পিকআপচালক এবং রতন একটি পিকআপ গ্যারেজে কর্মরত।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লিলির মোড় থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি বালুবাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। হাসপাতাল মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রুপক কুমার ঝা তাদের থামার সংকেত দিলে তারা মোটরসাইকেলটি থামান। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে দুজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, তল্লাশির একপর্যায়ে হারুনের কাছে থাকা একটি লাল প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে দেশীয় তৈরি একটি পাইপগান (ওয়ান শুটার) ও চারটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র ও গুলির বৈধ কোনো কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি।
অভিযানে ট্রাফিক কনস্টেবল শাহনেওয়াজ ও মেহেদী হাসান অংশ নেন। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) অমৃত সরকারের উপস্থিতিতে তল্লাশি শেষে আটক দুজনকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলিসহ কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ট্রাফিক বিভাগের টিআই (প্রশাসন) রাহিনুর ইসলাম খান বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটি থামিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সময় আরোহীদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক অ্যান্ড এস্টেট) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা পিপিএমের নির্দেশনায় চলমান চেকপোস্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাসপাতাল মোড়ে অভিযান চালানো হয়। আটক দুজনকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, হারুনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ডাকাতির মামলা রয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি আগ্রহ মাশরাফ বিন নেওয়াজের। হাতের কাছে পেলেই যন্ত্রপাতি দিয়ে সেগুলোকে খুলে নিজের মতো করে তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। কৌতুহল থেকেই গুগল ও ইউটিউব দেখে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য বানাতেন। অবশেষে রোবট বানিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক পেয়েছেন মাশরাফ বিন নেওয়াজ ।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে ‘ফিবোনাচ্চি আন্তর্জাতিক রোবট অ্যান্ড স্টেম অলিম্পিয়াড-২০২৬’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রোবোটেক এন্টারপ্রেনিউরশিপ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক পান মাশরাফ বিন নেওয়াজ। এ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বিজয়ীরা ফিবোনাচ্চি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ইতালি যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। চলতি বছর নভেম্বরে তার যাওয়ার কথা রয়েছে।
মাশরাফ বিন নেওয়াজের জন্ম জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার ছাতারিয়া গ্রামে। প্রকৌশলী বাবার কর্মস্থল গাজিপুরের শিমুলতলি হওয়ায় সেখানেই বেড়ে উঠা। ২০২৫ সালে গাজিপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে গাজিপুর ক্যান্টনম্যান্ট কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। স্কুল জীবনে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন এই ক্ষুদে বিজ্ঞানী। এ বছরই তার কলেজে রোবোটিক ক্লাব করা হয়েছে। সেখানে তিনি সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
নেওয়াজের উদ্ভাবিত প্রজেক্ট হলো এ্যাকোয়া পেট্রোল। তিনি জানান, এটি মূলত মাছের খামারে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য। এটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে পানির তাপমাত্রা, অক্সিজেন ও প্রোটেনশিয়াল হাইড্রোজেন (পিএইচ) পরিমাপ করবে এবং অ্যাপসের মাধ্যমে সংকেত দেবে। এতে পানির তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সাহায্য করবে।এই প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক পান মাশরাফ বিন নেওয়াজ।
গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিবুল আকবার মজুমদার জানান, এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য মাশরাফ বিন নেওয়াজের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাবের প্রতিফলন। তিনি তার সফলতা কামনা করেন।
ফিবোনাচ্চি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মো. নাসির বলেন, মাশরাফ বিন নেওয়াজ অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক পেয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বিজয়ীরা ফিবোনাচ্চি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আগামী নভেম্বরে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নেবেন।
মাশরাফ বিন নেওয়াজ জানান, আমার সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আমি এই রোবটটি তৈরি করেছি। সূযোগ পেলে বিদেশের কোন একটি নামকরা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক্স নিয়ে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই।
পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় অবস্থিত নতুন হাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রবেশ গেট ও প্রাচীর দীর্ঘদিন ধরে রং করা হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ ও প্রাচীরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক পরিবেশেও এর প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রবেশ গেট ও প্রাচীরে কোনো ধরনের রং না করায় সেগুলো বিবর্ণ ও পুরোনো দেখাচ্ছে।
বিদ্যালয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন মানুষের যাতায়াত রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশ গেটটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই গেট ও প্রাচীর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও রং করা হলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রবেশ গেট ও প্রাচীর সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় রং করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বোদা উপজেলার নতুন হাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃফজলার রহমান , কোন বরাদ্দ না থাকায় প্রবেশগেট ও প্রাচীর রং করা হচ্ছে না।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় এবার খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুদক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইলের কার্যালয় থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন। এসময় দুদুকের জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী মো. বাসেদ আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ফুটপাত স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখেছি। এখানে রডের পরিমাণটা কম রয়েছে। রড ততটুকু থাকা দরকার, সেটুকু নেই। সরেজমিনে যে রিপোর্টটি তৈরি করেছি, সেটা আমাদের এক্সপার্ট আছে, ওনারা সরেজমিন প্রতিবেদন দেবে। সেটার ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক সত্যতা পেলে আমরা কমিশনকে বিস্তারিতভাবে জানাবো। তারপর কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেবে আমার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবো।’
বাঁশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো আমরা সরেজমিনে দেখতে পাইনি। তবে মিডিয়ার মাধ্যমে সেগুলো দেখেছি। সেখানে সাটারিং-এ বাঁশের ব্যবহার আমরা দেখেছি।’
এদিকে, এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসাইল থানার মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে প্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে শাহ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার শাহ আলম (৪৪) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে।
একই ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি অফিস আদেশ ও চিঠির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও অপর আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলম।
এদিকে, সেতুটি পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।
ঘটনার তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর (বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়ক) ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ববিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যা তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে কাজটির ভিডিও ধারণ করে। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয়। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটি পরিদর্শন ও তদন্তের উদ্যোগ নেয়।
এলজিইডির অফিস আদেশে বলা হয়, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর এবং সহকারী ঠিকাদার শাহ আলম তাদের অনুপস্থিতিতে রাতে কাউকে না জানিয়ে ওয়াকওয়ে ও ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন। বিষয়টিকে ত্রুটিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। ঢাকা অঞ্চল ও টাঙ্গাইল এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কিশোরগঞ্জে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “ডিসেম্বরে নয়, বুকের পাটা থাকলে এখনই আসেন। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।”
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের কালিবাড়ী মোড়ে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রথখলা এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে ইয়াসের খান চৌধুরী অভিযোগ করেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শক্তি বাংলাদেশে গণতন্ত্র নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে এবং কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেবে না।
সম্প্রতি দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাসে আগুন দিয়ে বা ভয়ভীতি সৃষ্টি করে জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন।
বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। যারা অপরাধ করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য দেন। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক শ্রীপুর উপজেলার নাকোল বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সার, কীটনাশক, বীজ ও মুদি দোকান সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করে নানা অনিয়মের দায়ে মেসার্স মা ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পুরাতন বাজারে মেসার্স মা ট্রেডার্স নামক বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার প্রতিষ্ঠানে পুর্বে সতর্ক করা স্বত্তেও বিভিন্ন সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে বিক্রি করছিলেন দোকান মালিক লিটন কুমার সাহা।
সরকারের নির্ধারিত ডিএসপি সারের দাম ১০৫০ টাকা হলেও ১৪৫০ টাকায় বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, অর্থাৎ বস্তা প্রতি ৪০০ টাকা বেশি নেয়া হয়। অধিক দামে সার বিক্রয় করলেও সার বিক্রয়ের কোন ভাউচার প্রদান করা হয়নি। এমনকি বিক্রয় রেজিস্টারেও তা লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ বীজ ও কীটনাশক পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ড্যামেজ পণ্য প্যাকেট খুলে খোলা বাজারে বিক্রয় করছিলেন।
পূর্বে সতর্ক করা সত্ত্বেও পুনরায় কৃষকের সাথে প্রতারণা ও একই অপরাধ করার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক লিটন কুমার সাহাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। আইন মেনে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মাগুরার কৃষি বিপণন অফিসার মো: আলমগীর হোসেন এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।
কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির একটি প্রতিনিধি দল কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে গেলে তিনি আইনজীবীদের কাছে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইনজীবীদের সামনে শোকার্ত মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, "আমার ছেলেকে বিভিন্ন আইডি থেকে ব্লেইম করা হচ্ছে। আমার ছেলে কিছু বোঝে? আমার দুধের শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে আমি এটা কখনোই মেনে নেব না।" নিজের অতীত প্রশাসনিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা আমি মেনে নেব না।"
সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডে ভেঙে পড়ে তিনি আরও বলেন, "আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো? আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।" ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে— সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।"
সাক্ষাৎকালে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক খন্দকার এবং সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনজীবীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের বিষয়ে আশ্বাস দেন। এর আগে একই প্রতিনিধি দল বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও এ বিষয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, তার এলাকায় দুর্গাপূজার কোনো মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন হলে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ইটনা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ফজলুর রহমান বলেন, আমার এলাকায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পুলিশ লাগবে না। আমি এটা উদাহরণ তৈরি করতে চাই। আমি নিজে এলাকায় উপস্থিত থাকব, দেখবেন কোনো পূজামণ্ডপে কোনো সমস্যা হবে না। প্রয়োজন হলে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করে দেব।
তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের নামাজ বা ঈদের জামাতে যদি পুলিশ না লাগে, তাহলে পূজা করতে ঘরে ঘরে পুলিশ দিতে হবে কেন? আমার এলাকার কোনো পূজামণ্ডপে পুলিশ লাগবে না। আমি নিজে এলাকায় থাকব এবং আমাদের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
মতবিনিময় সভায় ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল বৃদ্ধি, চিকিৎসকদের আবাসনের ব্যবস্থা, হাওরের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা, ইটনা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে মহিলা কলেজে উন্নীত করা এবং নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপনের প্রস্তাব তুলে ধরেন কর্মকর্তারা। জবাবে সংসদ সদস্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নকাজে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.এম. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. পলাশ রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।