শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বন্যার অবনতি, নতুন  করে প্লাবিত আরও ৫০ গ্রাম

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৫৪

বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।

খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।

সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।

কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।

জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।

এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ

দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।

এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।

সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।

জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি

রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।

আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’

সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

বিষয়:

নির্বাচিত

আলোকচিত্র ইতিহাসের সাক্ষী, সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার : কাদের গনি চৌধুরী

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন । ছবি: বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, আলোকচিত্র শুধু সময়ের দর্পণ নয়, এটি ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী এবং সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার।

তিনি বলেন, একটি ছবি কোনো কথা না বলেও মানুষের আবেগ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও মানবিকতার গভীর বার্তা তুলে ধরতে পারে। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, শোষণ ও মানুষের সংগ্রামের বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে ফটোসাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সারাদেশের ফটোসাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাসস প্রধান এসব কথা বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ফটোগ্রাফি এমন একটি বড় উদ্ভাবন, যা বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। একটি আলোকচিত্র ঘটনার পেছনের গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের মনে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। কখনো একটি ছবি মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে, আবার কখনো তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা তিন বছরের সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির নিথর দেহের ছবি বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল। শরণার্থী সংকট ও যুদ্ধের নির্মমতা তুলে ধরা ওই ছবি বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। একইভাবে ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ সুদানে দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি শিশুর পেছনে শকুনের অপেক্ষারত থাকার ছবি তুলে ধরে ক্ষুধা ও মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা। ছবিটি তুলে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন কানাডীয় আলোকচিত্রী কেভিন কার্টার।

বাংলাদেশের ইতিহাসেও আলোকচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় বাসন্তী ও দুর্গা নামের দুই নারীর শরীরে মাছ ধরার জাল জড়ানো ছবি, ক্ষুধার্ত মানুষের দুর্দশা এবং খাদ্যের জন্য মানুষের হাহাকারের দৃশ্য দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর মরদেহের ছবিও সীমান্তে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ফটোসাংবাদিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় ফটোসাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরার ফ্রেমে ধারণ করে ফটোসাংবাদিকরা ইতিহাসের জীবন্ত দলিল তৈরি করেছেন।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে আলোকচিত্রের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আড়াল করতে চেয়েছিল। কিন্তু আলোকচিত্রী আমানুল হকের ধারণ করা ছবি সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

বাংলাদেশের আলোকচিত্রীদের আন্তর্জাতিক অর্জনের প্রশংসা করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারে বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিকরা সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০১৮ সালে রয়টার্সের ফটোসাংবাদিক মোহাম্মদ পনির হোসেন পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশের আলোকচিত্রীরা ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। তাঁদের অর্জনের তালিকায় রয়েছে ইউজিন স্মিথ ফান্ড, মাদার জোনস, ন্যাশনাল জিওগ্রাফির অল রোডস, পাইওনিয়ার ফটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড, এইচআইপিএ এবং টাইম ম্যাগাজিনের পারসন অব দ্য ইয়ার-সংক্রান্ত স্বীকৃতি।

দেশের আলোকচিত্রীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো আলোকচিত্রী স্বাধীনতা পদক পাননি। তবে একুশে পদক পেয়েছেন মো. কামরুজ্জামান, আফতাব আহমেদ, মনজুর আলম বেগ, মোহাম্মদ আলম, আমানুল হক, গোলাম মুস্তাফা, সাইদা খানম ও পাভেল রহমান। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা পদক পেয়েছেন গোলাম মুস্তাফা, নাসির আলী মামুন, এমএ তাহের ও শফিকুল ইসলাম স্বপন।

বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন বাবুল তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রফিকুর রহমান ও বুলবুল আহমেদ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিনিয়র ফটোজার্নালিস্ট ও সাবেক সভাপতি রফিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি নূর আহমেদ নুরু, বুলবুল আহমেদ ও শফিউদ্দিন আহমেদ বিটু, বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মমিনুর রশীদ শাইন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহসভাপতি মশিউর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সালেকুজ্জামান চৌধুরী।

এ ছাড়া সংগঠনটির বগুড়া শাখার সভাপতি বজলুর রশীদ সুইট ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সিরাজগঞ্জ শাখার সভাপতি নওশাদ, রাজশাহী শাখার সভাপতি আসাদ, নোয়াখালী শাখার সভাপতি নাসিম শুভ, মৌলভীবাজার শাখার সভাপতি সামসাদ, নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক শহীদ, খুলনা শাখার সভাপতি এম এ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জল, রংপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক আফজাল, চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এবং কক্সবাজার শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

অভাবের দেয়াল ভেঙে ১৫৭ মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন পূরণ

* অসহায় মেয়েদের পাশে থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করছেন মামুন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই। নেই আত্মীয়তার বন্ধনও। তবু ১৫৭টি মেয়ের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে তিনি হয়ে উঠেছেন তাদের আপনজন, কখনো বাবা, কখনো বড় ভাই, কখনো বা অভিভাবক।

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে এমন এক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের স্কুলশিক্ষক মাহবুবুল হোসেনের ছেলে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। অর্থের অভাবে যেসব মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন বারবার ভেঙে গেছে, তাদের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন নতুন জীবনের দরজা। কনের বেনারসি, গহনা থেকে শুরু করে বিয়ের মঞ্চ, আলোকসজ্জা, খাবার—সবকিছুর আয়োজন করেছেন মানুষের সহযোগিতায়। তাই স্থানীয় মানুষের কাছে তার পরিচয় এখন একটাই ‘১৫৭ মেয়ের বাবা’।

অসহায় কোনো পরিবারের মেয়ের বিয়ে অর্থের অভাবে আটকে গেছে, এমন খবর পেলেই ছুটে যান মামুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে সহযোগিতার আবেদন জানান। দেশ-বিদেশের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থ পৌঁছে দেন প্রকৃত অসহায় পরিবারের হাতে। তারপর শুরু হয় আরেকটি গল্প—একটি মেয়ের চোখের জল মুছে গিয়ে সেখানে জায়গা নেয় স্বপ্নের আলো।

শুধু মুসলিম পরিবারের মেয়েদের নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের অসহায় পরিবার, বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে কিংবা সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি। যমুনার দুর্গম চর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত বাড়ি—মানুষের অসহায়ত্বের খবর পেলেই যেন সেখানে পৌঁছে যায় মামুনের মানবিকতার হাত।

জানা যায়, জেলার কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আতিয়া খাতুনের গল্পটিও ছিল এমনই এক দীর্ঘ অপেক্ষার। অর্থের অভাবে এর আগে দুইবার বিয়ে ঠিক হয়েও ভেঙে যায় তার। বাবা অসুস্থ, কর্মক্ষম নন। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান। মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করা তাদের কাছে ছিল প্রায় অসম্ভব। আতিয়ার সেই অসহায়তার গল্প পৌঁছে যায় মামুন বিশ্বাসের কাছে। ফেসবুকে সহযোগিতার আবেদন জানান তিনি। মানুষের ভালোবাসায় মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়। সেই অর্থে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হয় আতিয়ার বিয়ে। যে মেয়েটির বিয়ের কার্ড বারবার থেমে গিয়েছিল, সেদিন তার হাতেই উঠেছিল মেহেদি। চোখে ছিল জল, তবে সেই জল ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে পাওয়া আনন্দের।

বিয়ের পর আবেগাপ্লুত আতিয়া বলেন, ‘অর্থের অভাবে তার দুইবার বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। এবার মানুষের সহযোগিতা আর মামুন বিশ্বাসের উদ্যোগে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।’

আতিয়ার বিয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই একই উপজেলার জামতৈল গ্রামের আরেক অসহায় মেয়ের খবর আসে মামুনের কাছে। মেয়েটির নাম সুচিত্রা রানী দাস। পরিবারের কোনো নিজস্ব বাড়ি নেই। ভাড়া বাসায় বসবাস। সংসারে তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই যখন কঠিন, তখন মেয়ের বিয়ের খরচ যেন ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। অর্থের সংকটে সুচিত্রার বিয়েও তিনবার ভেঙে যায়।

মামুন বিশ্বাস জানতে পেরে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান। মাত্র পাঁচ দিনে সংগ্রহ হয় প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। গত ১ অক্টোবর সেই অর্থে সুচিত্রা রানী দাসের সঙ্গে পলাশ কুমার ভৌমিকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। শুধু বিয়ের আয়োজনই নয়, সুচিত্রার মায়ের হাতে নগদ ২১ হাজার টাকা তুলে দেন মামুন। সুচিত্রার মা কামনা রানী দাসের কাছে সেই দিনটি যেন ছিল দীর্ঘ অন্ধকারের শেষে ভোরের আলো।

উল্লাপাড়ার বড়হর ইউনিয়নের ধুনচি গ্রামের নন্দিনীর গল্প আরও কষ্টের। মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা দুই মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। প্রতিবেশীদের দেওয়া পুরোনো পোশাক পরে বড় হয়েছেন দুই বোন। দিনের পর দিন অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে করতে মা-মেয়ে বাঁশ দিয়ে কুলা বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। এর মধ্যে নন্দিনীর বিয়ে ঠিক হয়েছে একবার, দু’বার নয়—ছয়বার। প্রতিবারই অর্থের সংকটে ভেঙে গেছে সেই সম্পর্ক।

নন্দিনীর কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়ান মামুন বিশ্বাস। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার টাকা সহযোগিতা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন তিনি।

মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘১৫৭টি বিয়েসহ সব মানবিক এবং ভালো কাজের কৃতিত্ব ফেসবুক বন্ধুদের। আমি শুধু প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মানবিক কাজে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে আরও ভালো ভালো কাজ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’

জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খান বলেন, ‘ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে অসহায় ও অভিভাবকহীন সন্তানদের জন্য সুন্দরভাবে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব—মামুন বিশ্বাস তা সমাজের সামনে দেখিয়ে দিয়েছেন। তার মানবিক কর্মকাণ্ড প্রশংসনীয়।’

স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও ইতিহাস গবেষক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সিরাজগঞ্জের খুকনী গ্রামে এক চায়ের দোকানে ফেরদৌস নামের এক প্রতিবন্ধী শিশুকে অন্য শিশুদের নির্যাতনের শিকার হতে দেখেন মামুন বিশ্বাস। ঘটনাটি তার হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেদিন রাতেই তিনি ফেসবুকে প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তার আবেদন জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। এভাবেই শুরু হয় তার মানবসেবার পথচলা। যমুনার দুর্গম চর থেকে শহরের অলিগলি কোথাও কোনো অসহায় মানুষের মুখে হতাশা দেখলে থেমে থাকতে চান না মামুন বিশ্বাস।


নির্বাচিত

ঝিনাইদহে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস উদযাপন

ওয়েলফেয়ার এফোর্টস (উই) ও নারীপক্ষের আয়োজনে ঝিনাইদহে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস উদযাপন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

‘মৃত্যুদণ্ড জীবনের অধিকার কেড়ে নেই’ এই প্রতিপাদ্যে ঝিনাইদহে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার এফোর্টস (উই) ও নারীপক্ষের আয়োজনে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে উইর সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে মানবাধিকারকর্মী এন এস শাহজালাল, উইর পরিচালক শরিফা খাতুন, দবির হোসেন, সাংস্কৃতিককর্মী নাজিম উদ্দিন জুলিয়াস, আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সে সময় বক্তারা বলেন, ‘২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের ১০৮টি দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করা হয়েছে। তবে এখনও ৫৬টি দেশে মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রয়েছে। এ ছাড়া ২৮টি দেশে মৃত্যুদণ্ডের আইন থাকলেও তা কার্যকর করা হয় না।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড বিলোপে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।


নির্বাচিত

মাদারীপুরের ঐতিহাসিক ‘শকুনী লেক’ বাঁচাতে সর্বাত্মক মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের কয়েক শতাব্দীর ঐতিহাসিক দৃষ্টিনন্দন বিশাল শকুনী লেক ও এর পরিবেশ বাঁচানোর দাবিতে এক সর্বাত্মক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক শকুনি লেক পার্ক প্রাঙ্গণে "শকুনি বাঁচাও আন্দোলন"-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।​মানববন্ধনে বক্তারা শকুনি লেকের পানি দূষণ বন্ধ করা, লেক ঘিরে এর চারপাশে গড়ে ওঠা ফুটপাত দখল ও হকারমুক্ত করে এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সর্বসম্মতিক্রমে ৪টি মূল দাবি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন যা'র মধ্যে- লেকের চারপাশের সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং লেকে ভরাট বন্ধ রাখা, পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও পরিহার করা, অপচনশীল প্লাষ্টিক দ্রব্য-বর্জ্য পানিতে ফেলা বন্ধ করা ও লেকের পাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করে পুরো এলাকাকে আরও মনোরম ও সবুজ করে তোলার দাবি জানানো হয় ।​

উক্ত কর্মসূচিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, সাধারণ নাগরিক এবং শরীর চর্চার জন্য লেকের চারদিকের সড়কে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ করেন।

আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীদের গমনের সড়কে অবৈধভাবে গড় ওঠা কাঁচাবাজার, মাছবাজার, ফলের দোকান সহ অন্যান্য দোকান ও হকার উচ্ছেদে কার্যকরী স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়ে সবার মুখে একই ধ্বনি উচ্চারিত হয়- শকুনি লেক মাদারীপুরবাসীর আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক, 'শকুনী লেক বাঁচাও, মাদারীপুর বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও'।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ লেক ও পর্যটন স্পটটি রক্ষাবেক্ষণে প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ উদাসীন কেনো- তা জানতে চেয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা এই সমস্যা দ্রত সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন। তা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবেন বলে উলেখ করা হয়।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে জি এস সি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের নগরকান্দার গজারিয়া স্কুল মাঠে শুরু হয়েছে জিএসসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জমকালো অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষ্ণারডাঙ্গী স্কুল মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা আফরিন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর মোহামেডান স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি হানিফ মন্ডল, খেতনামা শিক্ষাবিদ আব্দুস সাত্তার মন্ডল, ফরিদপুর জিলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুন, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন।

উদ্বোধনী খেলায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন গোপালগঞ্জের বামুন্দি সিকদার ফুটবল একাদশ ট্রাইবেকারে ৫-৩ গোলে রংপুর জেলার জয় ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে। নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে সমতা থাকায় খেলাটি ট্রাইবেকারে গড়ায়। দুদলে একাধিক বিদেশী খেলোয়ার অংশ নেয়।

গজারিয়া স্পোটিং এন্ড একাডেমীর আয়োজন নকআউট ভিত্তিক এ ফুটবল টুর্নামেন্টে দেশের বিভিন্ন জেলার ৮টি দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন এ ফুটবল খেলাটি দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো দর্শক উপস্থিত হয় কৃষ্ণারডাঙ্গী স্কুল মাঠে।


নির্বাচিত

যশোরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে শহরের মনিহার পুরাতন খুলনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাততলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মনিহার সিনেমা হল সড়কসংলগ্ন এলাকায় এ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রকল্পের আওতায় সাততলা ভবনটিতে মোট ৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এ ভবন নির্মাণের মাধ্যমে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হলে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার উপকৃত হবেন। নগর উন্নয়নের পাশাপাশি নগরের সেবায় নিয়োজিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রকল্পটির প্যাকেজ নম্বর PD/Pori.Abahan/Jasore.W1.47। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), যশোরের বাস্তবায়নে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মিম ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বনপাড়া, নাটোর।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারিত হবে এবং তাঁদের জন্য উন্নত ও পরিকল্পিত জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।


নির্বাচিত

মিঠামইনে চোখের প্রাথমিক পরিচর্যা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (​কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে স্থানীয় পর্যায়ে চোখের চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছানো এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধের লক্ষ্যে “চোখের প্রাথমিক পরিচর্যা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ​দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থা (ডাস), ঢাকার উদ্যোগে এবং 'Humanity Beyond Barriers (HBB) Inc, USA'-এর আর্থিক সহায়তায় দিনব্যাপী এই নন-রেসিডেনশিয়াল কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবদুল্লাহ-আল-শাফী।

​কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহীন রেজা চৌধুরী।

​অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. শাহীন রেজা চৌধুরী বলেন, দেশের সার্বিক অন্ধত্ব ও চক্ষু চিকিৎসার বর্তমান চিত্র অত্যন্ত সংকটজনক। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা বা অন্ধত্বের শিকার। এর মধ্যে শুধু ছানিজনিত সমস্যায় প্রায় ১০ লাখ রোগী অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং প্রতি বছর এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোগী। এছাড়া দেশের ১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন— অর্থাৎ প্রতি ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ১ জন চিকিৎসক উপলব্ধ আছেন। নারী ও শিশুরা এই অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটির শিকার বেশি হচ্ছে, যেখানে অন্ধ বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের প্রায় ৫৫% নারী ও শিশু। হাওর অঞ্চলের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) SPECS 2030 লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২ কোটি মানুষকে চক্ষু সেবার আওতায় আনতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

​​কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ সনদ, ব্যাগ, ভিশন চার্ট, টর্চ লাইট, নেয়ার চার্টবুকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের লেকচার, লাইভ ডেমো এবং প্র্যাকটিক্যাল সেশনের মাধ্যমে চোখে ছানি, গ্লুকোমা, সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসার নানাবিধ কৌশল আয়ত্ত করেন।


নির্বাচিত

গোপন ভিডিওর ভয় দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব, গ্রেপ্তার ২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এক নারীর পোশাক পরিবর্তনের গোপন ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়ন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বামনপাড়া এলাকার মো. রাসেল হক (২৬) ও ছলিয়াপাড়া এলাকার মো. বাবু হোসেন (২৭)। এ মামলায় আবেশ (২৫) নামের আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে রাসেল হক হোয়াটসঅ্যাপে ওই নারীকে কল ও বার্তা পাঠিয়ে তাঁর পোশাক পরিবর্তনের গোপন ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানির হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরদিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রাসেল ওই নারীকে ফোন করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে গোপনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাবু হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে ওই নারীর গোপন ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। পরে ভিডিওটি আবেশের কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়। তিনজনের যোগসাজশে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে মানসিক চাপে রাখা হচ্ছিল বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ রাসেল হক ও বাবু হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে। পরে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, এ ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


নির্বাচিত

জয়পুরহাট সদরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কালাই উপজেলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর ফাইনাল খেলায় জয়পুরহাট সদর উপজেলা একাদশকে ট্রাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কালাই উপজেলা একাদশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ফাইনালে ইতিহাস সৃষ্টি করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে কালাই উপজেলা। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জয়পুরহাট জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। সরকার মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা বিকাশে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ করা হবে। এছাড়া প্রত্যেক জেলায় স্পোর্টস পল্লী করা হবে। খেলাধুলা শুধু শরীর গঠনে নয়, পেশা হিসেবে বিকসিত হচ্ছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব গোলজার হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওহাব।

‎জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা গৌতম সরকার বলেন, জেলার পাঁচ উপজেলা ও তিন পৌরসভাসহ মোট আটটি দল এতে অংশ করে। নক-আউট পদ্ধতিতে একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। স্টেডিয়ামের চারপাশের বাড়ির ছাদ ও চিলেকোঠাতেও দর্শক। কেউ বাউন্ডারির গ্রিলের ওপর দাঁড়িয়ে খেলা দেখছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জয়পুরহাট স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। মাঠের খেলা দেখতে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। খেলার মাঠে মূল আকর্ষণ ছিল সদর উপজেলার পক্ষে তিন বিদেশি খেলোয়াড়। খেলাটি উপভোগ করতে আসেন হাজার হাজার দর্শক।

​খেলা শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি এবং অন্যান্য পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গৌরবময় এই বিজয়ে কালাই উপজেলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এমপি।


নির্বাচিত

খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঝুঁকি এড়াতে রাতের বেলা একা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে খুলনা জেলা পুলিশ। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুক্রবার রাতে জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটপ্রধানদের এই কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও হামলার ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ অভিযান বা নৈশকালীন যেকোনো দায়িত্ব পালনের সময় কোনো পুলিশ সদস্য যেন একা যাতায়াত না করেন, তা ইউনিটপ্রধানদের নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার এই নির্দেশনাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ, অপরাধ ও অপারেশন, ডিএসবি ও ট্রাফিক), সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ট্রাফিক বিভাগ, রিজার্ভ অফিস ও কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সকল থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রূপসা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান সমাপ্ত করে ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা সে সময় সাদা পোশাকে ছিলেন। সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই রাতে একা চলাচলের ওপর এই প্রাতিষ্ঠানিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নগরীর খানজাহান আলী সড়কে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে হামলার শিকার হন ৪৩ বছর বয়সী পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম। ছিনতাইকারীদের চাপাতির কোপে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।


নির্বাচিত

মোদীর পতন দেখার অপেক্ষায় আছি: আসিফ নজরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক পতন দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ভারতের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এই অভিমত প্রকাশ করেন।

ভারতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিক্ষোভের প্রতি ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. আসিফ নজরুল লেখেন, ‘তেলাপোকাদের কামড়ে মোদী দিশেহারা। মনে হয় না টিকতে পারবে বেশিদিন।’

মোদীর প্রস্থান ঘটলে ভারতের সামগ্রিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—সে বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি লিখেছেন, ‘মোদীর পতন হলে কি তার দেশ বদলে যাবে? কিছুটা তো বদলাবেই। অন্তত: অন্ধ মুসলিমবিদ্বেষী রাজনীতি কিছুটা হলেও হোঁচট খাবে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নি:সঙ্গ নাতা-নিয়াহুর (নেতানিয়াহু) একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র কমবে। ভারতের সমাজে তীব্র বৈষম্য হয়তো কিছুটা কমবে।’

একই সঙ্গে উগ্র ধর্মীয় রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ‘মোদী আর তাঁর রাজনীতির বলি হয়ে এ দেশের মানুষ নানাভাবে ভুক্তভোগী হয়েছিল। তারা ও তাদের পরিবার কিছুটা সান্ত্বনা পাবে।’

পোস্টের সমাপ্তিতে নিজের দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘মোদীর পতন দেখার অপেক্ষায় আছি আরও অনেকের মতো আমিও।’


নির্বাচিত

জামালপুরে বাসচাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি যাত্রীবাহী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শাশুড়ি ও তাঁর পুত্রবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ এবং চালকের সহকারীকে (হেলপার) আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

নিহতরা হলেন নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা উফেজা বেগম এবং তাঁর ছেলের স্ত্রী ফরিদা বেগম। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজ বাড়ির নিকটবর্তী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন উফেজা বেগম ও ফরিদা বেগম। সে সময় খাগড়াছড়ি থেকে বকশীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তাঁদের ওপর উঠে যায়। এতে বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, হাইওয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘাতক বাসটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং চালকের সহকারীকে আটক করেছে। পলাতক চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশা চালক: পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মিয়া। শনিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের আদি বাড়ি যশোর জেলায় হলেও বাবার চাকরির কারণে পরিবারসহ কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর গ্রামের ধানক্ষেতের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অবগত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা এসে তাজমিনের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় লালমাই থানায় মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল প্রযুক্তিগত সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন স্বীকার করেন, ঘটনার দিন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডস্থ তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাঁর অটোরিকশায় ওঠেন তাজমিন। তবে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার নাম করে নূরজাহান হোটেলের সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে চাঁদপুরমুখী সড়কের বিজরা বাজার এলাকার এক অন্ধকার ও ফাঁকা স্থানে নিয়ে যান চালক। গাড়িটি থামানোর পর স্থানটি চেনা নয় বুঝতে পেরে কিশোরীটি নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছাত্রীটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে ধানক্ষেতে উপুড় করে ফেলে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে তাজমিনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন সুমন। হত্যার পর নিহতের ব্যাগ থেকে আইফোনটি হাতিয়ে নিয়ে ব্যাগটি জমিতে ফেলে দেন তিনি। এরপর পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল সেরে অন্য গাড়িতে ঝালমুড়ি বাজারে গিয়ে একটি জঙ্গলে ফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেখানো স্থান থেকেই ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।


নির্বাচিত

banner close