বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
নওগাঁর বদলগাছীতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে প্রথম দফায় গ্রেপ্তারের সুযোগ পেয়েও আটক করতে না পারার অভিযোগে উপপরিদর্শক (এসআই) অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে শিথিলতা ও অসাবধানতার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রাকিবুল হাসান বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি। একটি সিআর মামলায় (নম্বর ২২২/২৫) তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে আক্কেলপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে বদলগাছী থানা পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই অসিত কুমার। এর আগে উপজেলার ভান্ডারপুর বাজার এলাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়। সেখানে পুলিশ তাঁকে আটক করার চেষ্টা করলেও তিনি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে গভীর রাতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফার অভিযানে রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের সুযোগ পেয়েও তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগ পুলিশ প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। এমনকি তাঁকে ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এসআই অসিত কুমার বলেন, আদালতের পরোয়ানা থাকায় রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হয়। ভান্ডারপুর বাজারে প্রথম দফায় তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রথম দফায় তাঁকে ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অসিত কুমার বলেন, এমন একটি অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। তবে কে বা কারা এ অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানেন না। আসামিকে গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তার হওয়া রাকিবুল হাসানের মা রেহেনা পারভিন বলেন, পুলিশ তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। তবে ছেলেকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো লেনদেন বা পুলিশের অসদাচরণের বিষয়ে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি বলে দাবি করেন।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, প্রথম অভিযানে আসামিকে পেয়েও ছেড়ে দেওয়া বা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার একটি অভিযোগ পুলিশ সুপারের কাছে পৌঁছেছিল। এরপর এসআই অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রথম দফায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে প্রথম অভিযানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কী ধরনের শিথিলতা হয়েছিল, তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কোনো আলোচনা, গুঞ্জন বা অন্য কোনো কারণে এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণেই তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এসপি বলেন, প্রথমবার অভিযানের সময় আসামিকে গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অসাবধানতার কারণে তিনি পালিয়ে যান। কর্তব্য পালনে এমন শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই এসআই অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে ওই এসআইয়ের নেতৃত্বেই রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুলের বিরুদ্ধে থাকা আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী তাঁকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম দফার অভিযানে আসামিকে আটক করতে না পারা এবং তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে কেসিসি কর্তৃক নগরীতে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে সড়কসংলগ্ন বড় বড় ড্রেনগুলোতে মশার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এখন বাড়ি, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করতে পারলে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বাড়ির অভ্যন্তরে বদ্ধ পানি, ডাবের খোসায়, টায়ারে, প্লাস্টিকের ভাঙা পাত্র ইত্যাদি স্থানে পানি জমে আছে কি না সেদিকে লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
কেসিসি প্রশাসক বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ২৭নং ওয়ার্ড অফিসে স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ মশারি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রশাসক ৩০০টি পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ তাদের খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় নগরীতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান, মা ও শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ, প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ বাস্তবায়ন করছে। সংস্থাটি এখন ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে মশারি বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। গতকাল সংস্থাটির উদ্যোগে নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডের খ্রিষ্টান পল্লী ও ঋষি পল্লীতে মশারি বিতরণ করা হয়েছে।
প্রশাসক জনহিতকর কাজে এগিয়ে আসার জন্য ওয়ার্ল্ডভিশনকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি জ্বর অনুভূত হলে অবহেলা না করে মেডিকেল ক্যাম্পে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুরভী বিশ্বাস, সাবেক কাউন্সিলর মো. শমসের আলী মিন্টু ও মাজেদা খাতুন, সমাজসেবক মহিবুল্লাহ শামীম, মেশকাত আহমেদ, শীতলা বাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুজিত সাহা ও সেক্রেটারি বিজয় ঘোষ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কান্তি ঘোষসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে প্রশাসক নগরীর দৌলতপুরস্থ শহিদ জিয়া কলেজ অডিটরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ করেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সুরায় শিশুশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে এ মশারি বিতরণ করা হয়।
মশারি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে কেসিসি কর্তৃক নগরীর ৮টি রেড জোনে ৮টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্মুক্ত জায়গায় বৃহৎ পরিসরে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনসহ ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা টিম গঠনেরও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শহরের প্রতিটি বাড়ি পরিচ্ছন্ন করার সামর্থ কেসিসির নেই উল্লেখ করে তিনি বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ নওসুদুজ্জামান পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. তারিকুল ইসলাম। কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর কবির হোসেন কবু মোল্লা, সমাজসেবক প্রকৌশলী শাহীর হোসেন জাম্বু, সৈয়দ মাইনুল ইসলাম, সৈয়দ এনামুল হাসান ডায়মন্ড, শেখ মোহাম্মদ কবির হোসেন টিটো, দারুল হুদা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম, ২নং ওয়ার্ডের নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক চমন আক্তার, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন হোসেন, সংগঠনের সদস্য বাদল ঢালী, মাহবুবুল হক, ইরাক আলী, তানভীর, লাভলু, মেজবাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্চিতা দে।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক ১০০টি স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ করেন।
ফরিদপুর পৌরসভার মালিকানাধীন জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের গোয়ালচামট হাজরাতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা কবির চৌধুরী পৌরসভার প্রায় ০ দশমিক ২৫ (পয়েন্ট ২৫) শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে এস্কেভেটর দিয়ে ওই অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং জমিটি পুনর্দখলে নেয় পৌরসভা।
উচ্ছেদ অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মো. হাই জকি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সমাজ উন্নয়নবিষয়ক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, বিদ্যুৎ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফুল হাসান, সিভিল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী লাইজিং হোসেন রাজু, হিসাব রক্ষক কৃষ্ণ কুমার সাহা, লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহমেদ, কনজারভেন্সি পরিদর্শক বিকাশ দত্ত, প্রধান সহকারী ফরিদুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী রকিবুল হাসান রবিন, শার্ট লিপিকার অভিজিৎ সাহা অভি, সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক তাওহিদুজ্জামান, কম্পিউটার অপারেটর সালাহউদ্দি আহমেদ সুমন, বাজার পরিদর্শক কাউসার মোল্লাসহ স্থানীয় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযানের পর পৌর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভার জায়গায় যেসব অবৈধ দখলদার রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পৌরসভার সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখা হবে।
জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রধান লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা। রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধে তিনি নিজে মাত্র ১৯ জন সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন চালু করা হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতা উপভোগ করতে কিংবা নিজেদের ভাগ্য বদল করতে আসিনি। এসেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদল করতে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করতে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার হটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং নারীশিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়া অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে তার অধীনে চাকরি করার সুবাদে দেখেছি শহীদ জিয়ার মতো তিনিও ছিলেন এক অনন্য স্বচ্ছ ও সৎ মানুষ। যিনি রাষ্ট্রের এক টাকা অপচয়ও সহ্য করতেন না।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই জন্মভূমি বগুড়াকে একটি মডেল জেলা এবং ইকোনমিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ বিভিন্ন সরকারি সপ্তরের কর্মকর্তারা।
ময়মনসিংহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্সের (লেভেল–N5 ও N4) উদ্বোধন করা হয়েছে। তরুণদের জাপানিজ ভাষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই এ কোর্স চালু করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাপানিজ ভাষাশিক্ষা কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কোর্সটির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌ. মো. মাহতাব উদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে জাপানের শ্রমবাজারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। জাপানিজ ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে প্রশিক্ষণার্থীরা বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিজেদের আরও যোগ্য করে তুলতে পারবেন।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকাও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জাপানিজ ভাষাশিক্ষার এ উদ্যোগ প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জাপানিজ ভাষাশিক্ষা কোর্সের বিভিন্ন পর্যায়, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু, ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের পদ্ধতি এবং (লেভেল–N5 ও N4) সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, জাপানিজ ভাষা শেখার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জাপানে উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এ কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী, প্রশিক্ষক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগের সঙ্গে ভাষাশিক্ষা গ্রহণ এবং অর্জিত দক্ষতাকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় অসুস্থ ঘোড়া জবাই করে মাংস বাজারজাত প্রক্রিয়াকরণের অভিযোগে ৯ জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে মিজানুর রহমানকে এক বছর এবং বাকি আটজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের পাট গবেষণা এলাকায় পরিত্যক্ত হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের একটি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই কারাদণ্ড প্রদান করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন।
দণ্ডিতরা হলেন, মানিকগঞ্জ শহরের পূর্ব দাশড়া এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান, ঢাকার বাড্ডা এলাকার নিয়ামত মিয়ার ছেলে ইমন হাসান, একই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে তুহিন, নেয়ামতুল্লাহর ছেলে মাসুদ জানা, ঢাকার বড় বেরাত এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মারুফ, গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রুবেল, গাজীপুরের দিঘিরচালা এলাকার কালো মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম খলিল, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকার আদম আলীর ছেলে হুমায়ুন কবির এবং জামালপুরের তুলসীপুর এলাকার জিল হাফেজের ছেলে সোহেল রানা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগতে সদর উপজেলার জাগীর এলাকার হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিত্যক্ত কারখানায় অভিযান চালিয়ে অসুস্থ ও মৃত ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় নয়জনকে আটক করে সদর থানা-পুলিশ। এরপর গতকাল বুধবার দুপুরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মিজানুর রহমানকে এক বছর এবং আটজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রিক্তা খাতুন বলেন, ‘সিংগাইরের হিরু নামের এক ব্যক্তি দণ্ডিত নয়জনকে ভাড়া করে এবং ঘোড়া জবাই করে মাংস বাজারজাতের জন্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য চুক্তি করেন। প্রক্রিয়াজাত করা ঘোড়ার মাংস রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন হোটেলে পাঠানোর কথা ছিল। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তাদের এই কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’ অভিযানের সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।
যশোরের কেশবপুরে ভিডিপি দলনেতার দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে চোরাচালান ও অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইব্রাহিম হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেশবপুর উপজেলার ২নং সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের ভিডিপি দলনেতা মো. আলী হোসেন।
জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করেন ভিডিপি দলনেতা মো. আলী হোসেন। বিষয়টি দ্রুত চিংড়া বাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই শামীম হোসাইনকে অবহিত করেন তিনি। পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শামীম হোসাইনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে চোরাচালান ও অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইব্রাহিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি ও চোরাচালানসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।
স্থানীয় পর্যায়ে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। কেশবপুরের এ ঘটনায় ভিডিপি দলনেতার দেওয়া সময়োপযোগী তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে অভিযানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন তিনি।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অপরাধ দমন, অপরাধীদের শনাক্তকরণে তথ্য প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের এ ধরনের দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পিরোজপুরে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও ভৌত অবকাঠামোগত প্রসারে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পিরোজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবনির্মিত পৃথক দুটি বহুতল একাডেমিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভবন দুটির শুভ উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ উপহার দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে নতুন এই সুদৃশ্য অবকাঠামো পিরোজপুরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আরও উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কারিগরি প্রস্তুতি ও সময়মতো ভবন নির্মাণের সাফল্য তুলে ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আমাদের অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত ৬ তলা একাডেমিক ভবনটি জেলার শিক্ষা প্রসারে অনন্য ভূমিকা রাখবে।
২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এখানে যোগদানের পর পুরাতন ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগেই দুটি শিফটে শ্রমিক নিয়োগ করে আমরা নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। নতুন এই আধুনিক ভবনে এখন থেকে চমৎকার ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হবে। এছাড়াও পিরোজপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভবনটি আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইদ্রিস আলী আযিযী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিতা রানী বল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বহুতল একাডেমিক ভবন পাওয়ায় সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, নতুন অবকাঠামোর ফলে শ্রেণিকক্ষের বিদ্যমান সংকট দূর হবে এবং মনোরম পরিবেশে পাঠদান পরিচালনা সম্ভব হবে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। বুধবার প্রেসক্লাবের সামনে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘সোনাইমুড়ীর ফয়েজিয়া এতিমখানায় এতিমদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক গোলজার হানিফ এবং মনিরুজ্জামানের ওপর হামলা চালানো হয়।’ এ সময় তাদের সপরিবারকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ‘হামলার ঘটনায় মামলা করতে গেলে সোনাইমুড়ী থানার ওসি মো. কবির হোসেন মামলা না নিয়ে অভিযোগটি রেখে দিয়েছেন। গত চার দিনেও মামলা গ্রহণ না করে উল্টো আহত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই চাঁদাবাজির অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।’
তারা অভিযোগ করেন, ‘চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টারে’ হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও এখনো পুলিশ সংগ্রহ করেনি। পাশাপাশি এতিমদের সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা।
এ সময় বক্তব্য দেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিষাদ, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বাবু, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন সোহাগ, এ আর আজাদ সোহেল, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন বাদল, এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম জাহান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি, এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি মুজাহিদ ইসলাম সোহেল, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন ভূঞা, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন রাজ প্রমুখ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সমন্বয়ের বিষয়ে বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।
এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সম্ভাব্য ভূমিকা ও ডিজিটাল মোতায়েন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাহিনীর মহাপরিচালক দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাহিনীর সার্বিক সংস্কার ও সক্ষমতা অর্জনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সুবৃহৎ এই স্বেচ্ছাসেবী সাংগঠনিক কাঠামোর ব্যাপক সম্ভাবনার বিষয়ে উপস্থাপন ও আলোচনা করেন।
এর প্রেক্ষিতে রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ওয়ার্ড/জোন ও থানা এলাকাভিত্তিক প্রশিক্ষিত টিডিপি স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের প্রস্তুত রাখার এ পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর মহাপরিচালকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ ছাড়াও ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন সক্ষমতার প্রেক্ষিতে আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য ভূমিকার বহুমুখী নিয়ামক ও সার্বিক সমন্বিত মোতায়েন মূল্যায়ন সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। আনসার-ভিডিপি ডিজিটাল ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দুর্যোগকালীন সময়ে ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে দ্রুত সাড়া প্রদান, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং অন্যান্য মানবিক পুনর্বাসন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
প্রস্তাবিত ১ লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবী সদস্যকে বাহিনীর মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের রূপরেখা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের একটি কার্যকর স্থানীয় দুর্যোগ সাড়াদান সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও অগ্নি-নির্বাপণসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই বাহিনীর একযোগে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। মাঠপর্যায়ে পেশাদারত্বের মান বাড়াতে প্রশিক্ষণে সহায়তা ও কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও বিশদ আলোচনা করেন।
ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় সংকট ও মানবিক দুর্যোগে পারস্পরিক সমন্বিত সহযোগিতা আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক।
এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেছেন, সামনে সুযোগ এলে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমানো হবে। মূলত পাচার রোধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যাচ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পাশাপাশি দুটি দেশে যখন জ্বালানি তেলের চাহিদা ব্যাপক থাকে এবং দামের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে, তখন তেল পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়। এটি রোধ করা কঠিন। সে কারণেই বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি যোগাযোগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে। তারাই নিশ্চিত করবে, অতিরিক্ত ভাড়া যেন কেউ আদায় করতে না পারে।
কৃষিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে কৃষকের কৃষিজমিতে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সেচের পাম্পগুলোকে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি বা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রাকৃতিক সৌরশক্তি ব্যবহার করে কৃষক যেন সেচপাম্প চালাতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।
ঝিনাইদহের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় করে জেলার উন্নয়নের গতি কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত বিরোধী দল থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। এর জবাব জনগণই দেবে।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জামায়াত ও শিবির আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
হাওরের জল-হাওয়ায় মুখরিত অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাহাদুরপুর মাঠ। একদিকে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা, অন্যদিকে আসন্ন দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি রক্ষার তাগিদ—এই দুই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে হয়ে গেল কাস্তুল ইউনিয়ন বিএনপির সুবিশাল ‘গণ-সমাবেশ’।
উক্ত সমাবেশে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, “বাহাদুরপুর ঐতিহ্যবাহী একটি মাঠ। এ মাঠে খেলাধুলার সার্বিক মানোন্নয়নে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, সামনে আসছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা; এই দুর্গাপূজা উদযাপনে যে কোনো ধরনের অপপ্রয়াস ও বিশৃঙ্খলা রুখে দিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের বাহাদুরপুর ফুটবল খেলার মাঠে কাস্তুল ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল ‘গণ-সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে অষ্টগ্রামের রাস্তাঘাটের সার্বিক উন্নয়ন, অবহেলিত অবকাঠামোর রূপান্তর এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দেন। রাজনীতিতে হামলা-মামলা, সংঘাত ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে প্রশাসনকে কঠোর থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
কাস্তুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি একরামুল হক সাব্বিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত গণ-সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা।
বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সসৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু, যুগ্ম সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোয়াব প্রধানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এমপি ফজলুর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং হাওরাঞ্চলের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাস্তুল ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
র্যাগিংসহ নানা অপরাধের দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেট সভায় শৃঙ্খলা উপকমিটি র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণসহ উপস্থাপন করেছে। পরে সিন্ডিকেট বিষয়টি উন্মুক্তভাবে পর্যালোচনা করে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে।
শাস্তির মধ্যে রয়েছে এক শিক্ষাবর্ষ (দুই সেমিস্টার) ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল ও ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করা, কঠোরভাবে সতর্ক করা এবং অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি অবহিত করা।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে র্যাগিংয়ের দায়ে ১৪ জন, জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রের ওপর শারীরিক হামলার দায়ে ১ জনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই দায়ে দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া র্যাগিংয়ের দায়ে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পেলে অধিকতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে উল্লিখিত শাস্তির বিষয়ে অবহিত করা হবে।
অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির সিল, স্বাক্ষর ও প্যাড জালিয়াতির দায়ে ৩ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। র্যাগিং ও সিল জালিয়াতির অভিযোগে এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া ১৮ জন ও আবাসিকতা বাতিল হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, র্যাগিংয়ের বিষয়টির মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। তাই আমরা এ বিষয়ে খুব কঠোর অবস্থানে আছি। আমরা কাউকে চিরতরে ছাত্রত্ব বাতিল করিনি। সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে। কেউ যদি আবাসিক শিক্ষার্থী হয়ে থাকে, তাঁর আবাসিকতাও বাতিল করা হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, একই সঙ্গে তাঁর বাবা-মাকে বিষয়টি জানানো হবে। যাঁদের সতর্ক করা হয়েছে, তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কোনোভাবে বোঝা যায় যে, তাঁরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।