বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
কিশোরগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় শত শত একর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও ভাসমান ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা, আবার অনেক জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। যে ধান কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে ডুবে রয়েছে।
নদী ভরাট ও উজানের ঢলের কারণে সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। হাঁটু থেকে কোমর পানিতে নেমে কষ্ট করে ধান কাটলেও অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়েছেন। পানির কারণে বাড়তি শ্রমিক লাগায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধন নিয়েই শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের কলিমপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে কলিমপুর হাওরের বেশিরভাগ জমির ফসল তলিয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় হার্ভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে বাড়তি খরচে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক হযরত আলী বলেন, উজানের পানি নামলেই হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। শিবপুর এলাকার খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি দুটোই বেড়ে যায়।
কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, ফসল ভালো হয়েছিল, কিন্তু সব পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করবো, সেই চিন্তায় আছি। সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যের সঙ্গে এখন বাড়তি কাটার ও পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাজারে ভেজা ধানের চাহিদাও কম।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল ভূইয়ার অভিযোগ, খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই এ ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আগেই প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কৃষক রতন মিয়া বলেন, ঋণ নিয়ে ১০ একর জমিতে চাষ করেছি, কিন্তু ফসল কাটতেই পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
আরেক কৃষক এংরাজ মিয়া বলেন, পুরো ফসল পানির নিচে। পচে যাওয়া ধানও কেটে নিতে হচ্ছে, না হলে একেবারেই কিছু থাকত না।
ইটনা উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের ছিলনী গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ জানান, তাদের পাশ্ববর্তী এলাকার কাকটেংগুর হাওরেও নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক জমির ধান এখনো কাটা হয়নি, ফলে এসব ফসল নিয়ে কৃষকদের আশা প্রায় শেষ।
কাকটেংগুর গ্রামের কৃষক ফেরদৌস মিয়া বলেন, সারাবছরের খোরাকের জন্য এক একর জমিতে চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় সব তলিয়ে গেছে। এখন ঋণের বোঝা আর সংসারের চিন্তায় দিশেহারা তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান কর্তনে ধীরগতি নেমে এসেছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখনো হাওরের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ৯ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে তিন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ছয় শিশুর। এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৭৬টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাম শনাক্ত হয়ে তিন শিশুই ঢাকায় মারা গেছে।
আর হাম উপসর্গে বরিশালে দুটি, ঢাকায় দুটি, রাজশাহীতে একটি ও সিলেটে একটি শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২২৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৪৭ শিশু।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬২ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩ হাজার ৩৪৮ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১৯ হাজার ৯৯১ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৪ হাজার ৮৫৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বৌদ্ধ সন্যাসী রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি এক্স নোয়াহ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই গাড়ির যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্যোগে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতি বা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার সময় মাইক্রোবাসটি অতিরিক্ত গতির কারণে একটি গাড়ি খাদে গিয়ে পড়ে। এতে তিনজন নিহত হয়েছে ও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
পাবনায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পাবনা সদর থানা এলাকায় এক সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রেজিনুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, তিন বছরের ওই নাবালিকা শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযোগটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করে (মামলা নং-৫৪, তারিখ: ২৮/০৪/২০২৬)। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণের কাজ চলমান রয়েছে।
পাবনার পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে জানান, নারীদের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাবনা জেলা পুলিশ অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সর্বদা বদ্ধপরিকর।
ভিকটিম শিশুর পরিবার এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি পরিক্ষার্থী বহনকারী সিএনজির সঙ্গে ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে পাঁচজন এসএসসি পরিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল পৌঁনে ৯টার দিকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, জাহিদ হাসান(১৬), আবির(১৬), সজীব(১৬), আহাদ(১৬) ও পাপ্পু(১৬)। তারা সবাই উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের এমসি বাজার এলাকার হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলমান এসএসসি পরিক্ষার্থী।
হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান সজল বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমার স্কুলের দুজন শিক্ষককে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজন পরিক্ষায় বসেছে।
ধনাই বেপারী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুপুর ১২ টার একটু আগে দুজন আহত পরিক্ষার্থী কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন।
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খুবই মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং দুজন পরীক্ষাতে বসেছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের সার্বিক চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বোরো ধানের সোনালি শীষে মাঠ ভরে উঠলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। প্রতিকূল আবহাওয়া আর শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাজারে ধানের দামের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি আকাশচুম্বী হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে এক জন ধান কাটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি গুনতে হচ্ছে ১১০০ টাকা। অথচ স্থানীয় বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে। অর্থাৎ, এক জন শ্রমিকের মজুরি মেটাতে কৃষককে প্রায় দেড় মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।
পৌর এলাকার কৃষক জুলহাস উদ্দিন জানান, সার, বীজ, সেচ এবং কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার ধান চাষে খরচ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। বিঘা প্রতি ধান কাটতে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, তাতে ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি দেওয়াই দায় হয়ে পড়েছে।
কৃষক আলালউদ্দিন আক্ষেপ করে বলছেন, ‘ঘাম ঝরিয়ে ধান ফলালাম, কিন্তু এখন শ্রমিকের মজুরি দিতে গিয়ে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। এক মণ ধান বেচে এক জন কামলার দামও হচ্ছে না।’ স্থানীয় শ্রমিকের অভাব থাকায় বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এবার শ্রমিকের টান পড়ায় মজুরি ১ হাজার টাকার নিচে নামছে না। অনেক জায়গায় পাকা ধান মাঠে পড়ে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে কাটতে দেরি হচ্ছে, যা শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
খুলনা মহানগরীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ নগর স্বাস্থ্য ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ অয়োজিত সভায় ইমাম পরিষদ-খুলনার নেতৃবৃন্দসহ নগরীর বিভিন্ন মন্দিরের পুরোহিত ও গির্জার প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, দেশব্যাপী হাম-রুবেলায়, বিশেষ করে হামে অনেক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। সরকারও এ বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে দেশের সকল শিশুকে একযোগে টিকার আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করছে। সমাজে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। সে কারণে মসজিদ-মাদরাসায়, মন্দির ও গির্জায় হামের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য, আগামী ২০ মে পর্যন্ত খুলনা মহানগরীতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন চলমান থাকবে। খুলনায় হামের সংক্রমণ হার দেশের অন্যান্য জেলাগুলির চেয়ে কম হলেও মহানগরীতে হাম-রুবেলা টিকাদানের অগ্রগতি সন্তোষজনক। বাকি দিনগুলিতে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে সভায় জানানো হয়। হামের সংক্রমণ যেন বৃদ্ধি না পায় এবং আমাদের শিশু সন্তানদের সুস্থ রাখতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো: আশরাফ আলী, ইমাম পরিষদ-খুলনার সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, বাংলাদেশ প্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ-খালিশপুরের সাধারণ সম্পাদক পল প্রশান্ত বিশ^াস, খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি সুজনা জলি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএম নাজমুর রহমান সজিব সহ মহানগরীর বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও গীর্জার প্রতিনিধি সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।
এর আগে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ৩১নং ওয়ার্ড অফিসে মনোনীত গর্ভকালীন ভাতাভোগীদের মাঝে ফরম বিতরণ করেন। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সমাজসেবা কার্যালয় এ গর্ভকালীন ভাতা প্রদান করবে। কেসিসির ৩১নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার, সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি চুমকি স্যান্নালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর ডিমলায় ট্রাক চাপায় আরোবি আক্তার (১৫) নামের এক নবম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল বেলা ১১টার সময় সদর ইউনিয়নের সরদারহাট চৌপতি নামক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছাত্রী একই ইউনিয়নের কুটির ডাঙ্গা (বগুড়া পাড়া) গ্রামের আমিনুর রহমানের মেয়ে ও ডিমলা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ছাত্রীটি প্রাইভেট পড়া শেষে বাই-সাইকেল করে বাড়ি ফেরার সময় নাউতারা থেকে ডিমলা সদরগামী ঢাকা মেট্রো ট-১২-৬৮২৯ নম্বরের একটি দ্রুতগতির ট্রাক ছাত্রীটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা ছাত্রীটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডিমলা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সামসুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক চাপায় নিহত হন ছাত্রীটি। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী বলেন, ‘ঘটনার সময় ট্রাকটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তা আটক করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দিলে আমরা মামলা নিতে প্রস্তুত।’
এদিকে গোপন সূত্রে জানা জানা গেছে, ঘাতক ট্রাকটির মালিক ঘটনা স্থলের পাশের বাড়ির একজন বিজিবি সদস্যের। আর ঘাতক ট্রাকটির চালকের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলায়।
কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হাতের অস্ত্রোপচারের আগে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগের পর তাসনিয়া (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের ভুলের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
নিহত তাসনিয়া কুমারখালী উপজেলার শানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছোট মেয়ে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।
নিহত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে পড়ে গিয়ে তাসনিয়ার ডান হাত ভেঙে যায়। চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে তাকে কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়া এলকায় অবস্থিত একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে তাকে অস্ত্রোপাচার কক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে অতিমাত্রায় অ্যানেস্থেশিয়া বা চেতনানাশক ওষুধ দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়।
অস্ত্রোপচার করার কথা ছিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের হাড়জোড় বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল হাদীর। আর অ্যানেস্থেশিয়া প্রদান করেন ডা. তাহেরুল আল আমিন (রেজি নং: এ৯১৯৪৩)। এ কাজের জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ২০ হাজার টাকা চুক্তি করেছিল বলে পরিবার জানায়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. তাহেরুল আল আমিন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার (রিঅ্যাকশন) কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার পর রিঅ্যাকশন হওয়ায় শিশুটির অবস্থার অবনতি হয় এবং একপর্যায়ে সে মারা যায়।
রাতেই পুলিশ শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং পরদিন মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে শিশু তাসনিয়ার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক মালিক সাইদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। এদিকে শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজন ও এলাকাবাসী ক্লিনিকে ভিড় করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গত সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে সেনাবাহিনী ও র্যাব-১২-এর একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।
নিহত তাসনিয়ার বাবা তরিকুল ইসলাম আহজারি করে বলেন, ‘সামান্য হাত ভাঙার অপারেশন করাতে এসে আমার বুক খালি হলো। ডাক্তারদের ভুলের কারণেই আমার মেয়েটা মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।’
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে মৌসুমি বৃষ্টি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে আসে স্বস্তির বৃষ্টি।
বৃষ্টি শুরু হতেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক, খেলার মাঠ ও খোলা প্রাঙ্গণে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। অনেক শিক্ষার্থী বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করেন। বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার এলাকা ও প্রশাসনিক ভবনের সামনের সড়কে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরমে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক চলাচল কঠিন হয়ে উঠেছিল। হঠাৎ এই বৃষ্টি পরিবেশকে শীতল করে দিয়েছে এবং ক্যাম্পাসে এনে দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পাসের সবুজ প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে। গাছপালা ধুয়ে গিয়ে চারদিকে সৃষ্টি হয় মনোরম পরিবেশ। চারপাশে জারুল গাছগুলোও ফুলে ফুলে ভরপুর হয়ে ওঠেছে।
অনেক শিক্ষার্থী এই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
হঠাৎ নামা এই বৃষ্টি শুধু আবহাওয়াই নয়, শিক্ষার্থীদের মনেও এনে দিয়েছে প্রশান্তি।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কলসেরকান্দি গ্রাম-সংলগ্ন মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাদাত হোসেন ওই গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় শাহাদাত তার পালিত গরুটি বাড়ির পাশের মাঠে চড়াতে দিয়ে আসেন। সকাল ১০টার পর হঠাৎ আকাশ মেঘলা হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির তীব্রতা না কমায় শাহাদাত মাঠ থেকে তার গরুটি আনতে যান। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বেলা পৌনে ১১টার দিকে আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কুমিল্লায় কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি টানা বর্ষণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী।
স্কুল-কলেজ থেকে বাড়ি ফিরতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ আসফা বেগম বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতেই হাঁটুসমান পানি ভেঙে স্কুল থেকে মেয়েকে নিয়ে আসতে হয়েছে। রিকশা ভাড়াও দ্বিগুণ হয়েছে।’
নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানি ঢোকে পড়েছে।’
কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল হক বলেন, ‘খাল ও ড্রেনে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বোতল ও বর্জ্য জমে থাকায় পানি নামতে পারছে না, ফলে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।’
বুড়িচংয়ের মিথিলমা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, সকালের কালবৈশাখী ঝড়ে বেশ কিছু গাছ উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলার সাইফুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ে ধানসহ অন্যান্য শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ধানের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে এখনো ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে। খাল ও ড্রেনে বর্জ্য জমে থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে তিনি নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিশাল আকৃতির একটি পাঙ্গাশ মাছ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের পদ্মা নদীর মোহনায় মাছটি ধরা পড়ে। ২৫ কেজি ওজনের এই বিশাল মাছটি শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে স্থানীয় মৎস্য আড়ত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় জেলে এরশাদ হালদার জানান, সোমবার রাতে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পদ্মা নদীতে জাল ফেলেন। সারারাত অপেক্ষার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জালে জোরালো টান অনুভূত হয়। জাল টেনে নৌকায় তুলতেই তাঁরা দেখতে পান রূপালি রঙের বিশাল এক পাঙ্গাশ। দীর্ঘদিন পর নদীতে এমন বড় মাছ ধরা পড়ায় জেলেরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত মাছটি বিক্রির জন্য আড়তে নিয়ে যান।
মাছটি বিক্রির উদ্দেশ্যে সকাল ৭টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের রেজাউলের আড়তে নেওয়া হলে সেখানে উৎসুক জনতা ভিড় জমান। মাছটি উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয় ৫ নম্বর ফেরিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা প্রতি কেজি ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে মাছটি কিনে নেন। ২৫ কেজি ওজনের এই পাঙ্গাশটির মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৭০ হাজার টাকা।
মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা জানান, বর্তমান সময়ে পদ্মা নদীতে এত বড় সাইজের দেশি পাঙ্গাশ মাছ পাওয়া বেশ দুষ্কর। আড়ত থেকে কেনার পরপরই তিনি ঢাকার গুলিস্তানের এক মৎস্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সামান্য মুনাফা রেখে মাছটি সেখানে পাঠিয়ে দেন। পদ্মার সুস্বাদু ও বড় পাঙ্গাশের চাহিদা বাজারে ব্যাপক থাকায় এটি চড়া দামে বিক্রি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে দৌলতদিয়া এলাকায় মাঝেমধ্যে বড় কাতল বা বাঘাইড় মাছ ধরা পড়লেও ২৫ কেজির পাঙ্গাশ পাওয়ার ঘটনা এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, নদীর নাব্য সংকটের মাঝেও বড় মাছ পাওয়াটা জেলেদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, অভয়াশ্রম ও প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার সুফল হিসেবে জেলেরা এখন বড় মাছের দেখা পাচ্ছেন।