বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
জাটকা সংরক্ষণে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কয়েকজন মেম্বারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো. নূরে আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পৌঁছেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জুনিয়াদহ ইউনিয়নে নিবন্ধিত ১০০ জন জেলের জন্য সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৪ অক্টোবর ২০২৫। কিন্তু মাঠপর্যায়ের তদন্তে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন জেলে তাদের প্রাপ্য চাল পাননি। বিতরণ শীটে সংশ্লিষ্ট জেলেদের স্বাক্ষর বা টিপসইও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দকৃত চালের একটি অংশ চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল প্রায় ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামঘর থেকে চাল বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
যেসব জেলে চাল পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—
আব্দুর রশিদ (পিতা: আব্দুস সামাদ, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০২৯), আব্দুস সামাদ (পিতা: কলিমদ্দিন মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩১), রাকিব (পিতা: আব্দুস সামাদ, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩২), মো. রাজা (পিতা: মৃত আব্দুল মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩৪), কালু মণ্ডল (পিতা: নকিম উদ্দিন মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩৭), আব্দুল মালিথা (পিতা: রহিম মালিথা, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩৯), হাইদার (পিতা: ইউনুস মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৬৫), মিনারুল (পিতা: ফয়েজ মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৮৮), জাহাঙ্গীর আলম (পিতা: হেলাল সদ্দার, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১১২), নুর ইসলাম (পিতা: আজের প্রামাণিক, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১১৫), সাইদুর রহমান (পিতা: অজিত মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১৩২), কুদ্দুস মোল্লা (পিতা: রহমত মোল্লা, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১৩৯), সাজদার সরদার (পিতা: রুকচাঁদ সদ্দার, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১৪১) এবং মিলন হোসেন (পিতা: নিজাম মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ২৭০৯৬৩৬)। প্রত্যেক জেলের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ কেজি চাল।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অন্যদিকে জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান আলী বলেন, ‘১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মেম্বাররা গুদাম থেকে চাল বের করেছে বলে শুনেছি। তবে তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।’
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলেরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দির টেক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
অভিযানকালে আলাউদ্দির টেক এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন শেখ (৪৩), পিতা কুতুব উদ্দিন, সাং কলাপাটুয়া, কালীগঞ্জকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারা মোতাবেক একটি মামলায় ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্যানুযায়ী, অভিযানে মোট ১টি মামলা দায়ের করা হয় এবং কোনো কারাদণ্ড প্রদান করা হয়নি।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথিতে আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান, এএসআই আছির উদ্দিন ফোর্সসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে নিহত আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যায়। কিন্তু ইমরান হোসেনকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।
নিহত আব্দুল হামিদের নাতি রিপন জানান, ‘তারা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে পাঁচজন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যায়। সেখানেই তিনি মারা যায়।’
নিহত আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।
ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম বক্স জানান, ‘রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢোকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন। এ সময় আইডি কার্ডের সাথে তার নামের বানানের মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিনের পরামর্শ দেয়।’
অভিযোগের বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে অভিযান দিয়েছিল। এ সময় অভিযানে একজন আসামিকে আটক করা হয়। পরে আরেকটি বাড়িতে অভিযান দিলে সেই বাড়ি থেকে কোনো আসামি পাওয়া যায়নি। পরে ওই বাড়ির অভিভাবকের কাছ থেকে পাশের একটি বাড়ি দেখে নেওয়ার জন্য হেল্প চায়। হেল্প চাইলে নামের গরমিল থাকায় পুলিশ ওখান থেকে আরেক জায়গায় অভিযান দেয়। পরে ওখান থেকে আসার পথে স্থানীয় লোকজন বলছিল যে লোকটি সহযোগিতা করতে বাইরে গিয়েছিল ওই লোকটা স্টকে মারা যায়। পুলিশের আঘাতে মৃত্যুর ঘটনা সঠিক নয়।’
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই জেলে বহরের মধ্যে সংঘর্ষে চার জেলে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই জেলে সাগরে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সমুদ্রের আঠারবাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জেলেদের বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন- পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হিরু বয়াতি (৪০) ও জসিম গাজী (৩২)। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আমির হোসেন (৪০), কবির (৩৮), ইব্রাহিম (৪০) ও বাবু (২৩)।
জেলে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মনির আকনের মালিকানাধীন এফবি ‘মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিলেন। এ সময় অপর একটি ট্রলার তাদের পাতা জালের ওপর দিয়ে ওঠে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ট্রলার মালিক মনির আকনের অভিযোগ, জালের ওপর দিয়ে ট্রলার ওঠায় প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষের জেলেরা লোহার পাইপ, শিকল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পরে আরও কয়েকটি ট্রলার এসে তাদের ট্রলার ঘিরে ফেলে জেলেদের ওপর মারধর শুরু করে। এ সময় লোহার টুকরা ও পাথর নিক্ষেপ করা হয়। হামলার একপর্যায়ে হিরু বয়াতি ও জসিম গাজী সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন।
ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ট্রলার থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট জাল কেটে নিয়ে গেছে।
ফিরে আসা জেলেদের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া ট্রলারগুলোর মধ্যে এফবি মুন্না, এফবি মক্কা মদিনা ও এফবি জায়েন খান নামে তিনটি ট্রলার ছিল। এসব ট্রলারের মালিকদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রায়েন্দা এলাকায়।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে সাগরে থাকা অন্য ট্রলার দিয়ে খোঁজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।’
প্রকৃতি মানেই বৈচিত্র্য আর বিস্ময়। আর সেই বিস্ময়ের ডালি নিয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে ডানা মেলেছে এক বিরল ‘হলুদ শিমুল’। লাল শিমুলের চেনা আবহে এই হলদে আভা প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে যেমন দোলা দিচ্ছে, তেমনি কৌতূহলী করে তুলছে সাধারণ মানুষকে। মৌলভীবাজারের বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ এলাকায় গেলেই এখন চোখে পড়বে ১০ ফুট উচ্চতার এই পাতাঝরা গাছটি। ডালজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য উজ্জ্বল হলুদ ফুল। শীতের বিদায় আর ফাল্গুন-চৈত্রের আগমনে এই হলুদ শিমুল যেন পুরো এলাকাকে এক নতুন রূপ দিয়েছে।
সাধারণত শিমুল বলতেই আমাদের চোখের সামনে লাল রঙের ছবি ভেসে ওঠে। তাই হলুদ রঙের শিমুল দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। দর্শনার্থী পায়েল আহমেদ বলেন, ‘সব সময় লাল শিমুলই দেখে আসছি। হলুদ শিমুল নিজের চোখে দেখব কখনো ভাবিনি। এটি সত্যিই এক ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য।’ একই মুগ্ধতা প্রকাশ করেন কলেজ শিক্ষার্থী সাম্মী আক্তারও।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় দুই বছর আগে সাদা, লাল ও হলুদ—এই তিন রঙের শিমুলের চারারোপণ করা হয়েছিল। পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা জাহেদ আহমেদ চৌধুরী জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার এই গাছে ফুল ফোটে। ভবিষ্যতে এমন আরও দুর্লভ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এ বিষয়ে গবেষক ও লেখকদের মতে, গড়ন ও আকৃতিতে লাল শিমুলের মতো হলেও এই হলুদ রং অত্যন্ত বিরল। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘এটি প্রকৃতির বৈচিত্র্যের অনন্য উদাহরণ। এই ধরনের বিরল প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে যথাযথ সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন।’
শিমুল তলায় এখন শুধু ঝরা পাতার মর্মর ধ্বনি নয়, বরং হলুদ শিমুলের স্নিগ্ধতা প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে অন্যরকম এক প্রশান্তি বিলিয়ে দিচ্ছে।
বছরজুড়ে ঈদ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাই রোজার ঈদকে সামনে রেখে এবারো জমে ওঠেছে সিরাজগঞ্জের তাঁতে তৈরি কাপড়ের হাটগুলো। সারা বছরের চেয়ে ঈদের এই সময়ের জন্য অপেক্ষায় থাকেন সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাঁতের বাজারে বেড়ে গেছে দেশের পাইকারদের আনাগোনা। তবে আগে দেশের পাইকারদের পাশাপাশি বিদেশি পাইকারদের আনাগোনাও ছিল চোখে পরার মতো। কিন্ত চলতি বছরে সিরাজগঞ্জের কাপরের হাটে দেখা নেই বিদেশি পাইকারদের। যে কারণে চাহিদা মতো তাঁতের তৈরি কাপড় বিক্রি করতে পারছেন না তাঁত মালিকরা। যদিও তারা ক্রেতাদের চাহিদার বিবেচনা করে শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিচে এনেছে নতুনত্য ডিজাইন। তাঁতিরা বলছেন দেশে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় বিদেশি পাইকাররা আসতে পারছে না। যে কারণে দেশের তৈরি তাঁতের কাপড় বিদেশে রপ্তানি করতে পারছেন না তারা। তাই এবারের ঈদে তাতের বাজারে বড় ধরনের লোকশান আসতে পারে বলে দাবি তাঁত মালিকদের। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন দেশীয় তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে ট্রানজিটের নামে আগ্রাসনকে রুখতে না পারলে দেশীয় এ শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে ।
বেলকুচি তামাই গ্রামের তাঁত মালিক মোহাম্মাদ আলী বলেন, ‘রোজার ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রচুর পরিমাণ শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করেছি। বিভিন্ন হাটে সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছি। ক্রেতা ও পাইকারদের আনোগোনা খুবই কম দেখতে পাচ্ছি। আগে দেশের বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারিভাবে শাড়ি-লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেত এ বছর তেমন সাড়া পাচ্ছি না।’
উপজেলার চালা গ্রামের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ী উসমান আলী বলেন, ‘সারা বছর ব্যবসা তেমন ভালো যায় না। প্রতি বছর রোজার ঈদে প্রচুর বেচাকেনা হয়ে থাকে; কিন্তু এ বছর কাপড় বেচাকেনার চাহিদা কম কারণ পাইকার কম। বিদেশি পাইকার ব্যবসায়ী হাটে আসছে না।’
বেলকুচি সোহাগপুর হাটের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী আলী আকবার বলেন, ‘প্রতি বছর রোজার এক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরিকৃত তাঁতের সকল কাপড় বিক্রি হয়ে যায়; কিন্তু এ বছর ব্যবসা তেমন ভালো যাচ্ছে না। এ বছর হাটে দেশীয় পাইকার থাকলে বিদেশি পাইকার নাই বললেই চলে। তাই কাপড় বেচাকেনাও কম হচ্ছে। ট্রানজিট সুবিধা না থাকার কারণে বাইরের পাইকাররা আসতে পারছে না।’
সোহাগপুর হাটে কাপড় কিনতে আসা পাইকার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, ‘কোনো ঝামেলা ছাড়াই চাহিদামতো কাপড় কিনেছি। এর আগে হাটে দেশি বিদেশি পাইকারদের ব্যাপক আনাগোনা; ছিল কিন্তু এ বছর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। তাই হাটে আসা দেশীর পাইকাররা কাপড় কিনতে পেরে অনেক খুশি।’
বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর হাটের ইজারদার হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছে সোহাপুর কাপড়ে হাটে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে তাঁতের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিচে আনা হয়েছে নতুনত্য ডিজাইন। তবে বর্তমানে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে পাইকার আসলেও বিদেশি পাইকার না থাকায় তেমন একটা বেচাকেনা নেই।’ এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘তাঁত-কাপড়ের হাটে যেন কেউ হয়রানির যেন শিকার না হয় এ জন্য নজরদারি থাকবে। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী এই তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সেই সাথে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেগবান ও সচল রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ট্রানজিটের বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।’
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, ‘হাটে কিছু অব্যবস্থাপনা আছে এটা অনেক আগে থেকে চলে আসছে। আমরা চেষ্টা করছি সকল অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে ওঠে ব্যবসায়ীদের জন্য সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারব। ট্রানজিটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করা হবে।’
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর চর থেকে ট্রাক্টরের মাধ্যমে প্রতিদিন বালু তুলে পাশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ার পর নদীর বুকে জেগে ওঠা চর এলাকায় বালু উত্তোলনের তৎপরতা বেড়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে। পরে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চর বাগডহড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় চার মাস ধরে নদীর চর থেকে বালু তোলা হচ্ছে। ভোর থেকেই কয়েকটি ট্রাক্টর এসে বালু তোলে এবং একের পর এক ট্রিপ দিয়ে বালু নিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রায় প্রতিদিনই ট্রাক্টরে করে বালু নিয়ে যেতে দেখি। যারা বালু তোলে তাদের অনেকেই পাশের কালীগঞ্জ উপজেলার লোক।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বাবু বলেন, ‘এই জায়গাটি গঙ্গাচড়া উপজেলার মধ্যে হলেও বাইরের লোক এসে এখান থেকে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি আমরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফারুক ও বেলাল নামের দুই ব্যক্তি এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাদের নেতৃত্বে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে নিয়মিতভাবে নদীর চর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকার কৃষক মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন নদীর চরে ট্রাক্টর চলাচল ও বালু উত্তোলনের কারণে চর এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে যদি বালু তোলা চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে নদীর চর ও আশপাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোশরেকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তিনি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা কর্মসূচির আওতায় অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে দর্জি প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার ১ নং হাজীপুর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড শ্রীরামপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রীরামপুর গ্রামের ১১ জন অসহায় দুস্থ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মাগুরা জেলা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মাছুদ হাসান খান কিজিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১ নং হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম টিটব, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মাগুরা জেলা শাখার আমানত হোসেন ও ১ নং হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন। পরিচালনায় ছিলেন ১ নং হাজিপুর ইউনিয়নের বিএনপির সদস্য সচিব আবু তালেব বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সালমা খাতুন।
মো. মাছুদ হাসান কিজিল বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় নারীদের মধ্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই প্রশিক্ষণ ও মেশিনের মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে অবদান রাখতে পারবে। একই সঙ্গে তাদের মাধ্যমে অন্যরাও উপকৃত হবে।
কালিপদ দাস ও অনুপ দাস আপন দুইভাই। কালিপদ বড়, অনুপ ছোট। পাশাপাশি দুটি ছোট দোকান। নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামতের মাল-সামানায় দোকান ভর্তি। দুই ভাই নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ মুচিপোলের বাসিন্দা। ৫৫ বছর ধরে ডুগি-তবলা, ঢাক-ঢোল-খোল জয়ঢাক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং মেরামতের কাজ করছেন। বাবা কিরণ দাসের হাত ধরে এ পথে আসা। বেশ আগেই বাবা মারা গেছেন। এখন তাদের দুই ভাইয়ের হাতেই নতুন বাদ্যযন্ত্রের প্রথম বোল (তাল) ওঠে। নতুনের পাশাপাশি পুরোনো বাদ্যযন্ত্র মেরামতে নতুন করে তাল তুলে দেওয়ার কাজও দুই ভাই করে যাচ্ছেন।
কালিপদ দাস বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর থেকে ঢাক-ঢোল, ডুগি-তবলা-খোল-জয়ঢাক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র নতুন তৈরি এবং পুরোনোগুলো মেরামত করে বেচাকেনা করছি। ২০২০ সালের পর থেকেই বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির আগে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০টি নতুন বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হতো। এরপর সেটা কমে ৫ থেকে ৬টায় দাড়িয়েছিল। এখন ২ থেকে ৩টা নতুন তৈরির কাজ হয়। ৫-৬টি পুরোনো বাদ্যযন্ত্র মেরামতের কাজ হচ্ছে। মাঝে মধ্যে জয় ঢাকের মেরামত কাজ বাড়তি হয়।’
তিনি বলেন, ‘৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মানের বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে বিক্রি করেন। দাম কম বেশির সঙ্গে বোলের (তালের) কোনো হেরফের হয় না। শুধু আকারে ছোট-বড় অনুযায়ী দাম কমবেশি হয়।’
কালি দাসের দুই ছেলে এক মেয়ে। মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। ছেলেরা লেখাপড়া করছে। ছোট ভাই অনুপ দাসের দুই ছেলে। তারা সকলে লেখাপড়া করে। লেখাপড়ার পাশাপাশি দুই ভায়ের ছেলেরা বাবার কাজে সহযোগিতা করে থাকে।
কার কাছ থেকে এ কাজ শেখেছেন জানতে চাইলে কালিপদ দাস বলেন, ‘বাবা কিরণ দাস ছিলেন এ অঞ্চলের বাদ্যযন্ত্র তৈরির বড় মাপের কারিগর। নড়াইলের তৎকালীণ জমিদার রতন রায় চৌধুরী বাড়ির কর্মচারী ছিলেন আমার ঠাকুরদা (বাবার বাবা)। জমিদার বাড়ির জলসাঘর (গান-বাজনা) অনুষ্ঠানে যত রকমের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হতো সেগুলো মেরামত এবং নতুন তৈরির কারিগর ছিলেন আমার ঠাকুরদা। ঠাকুরদার কাছ থেকেই বাবা কাজ শিখেছিলেন। জীবদ্দশায় বাবার কাছ থেকে আমরা কাজ শিখেছি। বাবা মারা যাওয়ার পর এখন আমরা করছি।’ তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম বংশ পরম্পরায় এ কাজ ধরে রাখতে পারব। কিন্তু এ প্রজন্মের সন্তানরা তা ধরে রাখতে পারবে কি না বুঝতে পারছি না। বর্তমান সময়ের সন্তানরা অন্য ধরনের।’ তিনি বলেন, ‘মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। ছেলে দুটো লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে কাজের সহযোগিতা করে থাকে।’
কবে-কখন-কোথা থেকে নড়াইলে এসেছিলেন দুইভাইয়ের কেউ বলতে পারেন না। শুধু এটুকুই বলেন, এখানেই আমাদের জন্ম। জন্মের পর থেকে এখানকার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা। এই মাটিতেই তারা মরতে চান।’
তিনি বলেন, ‘বাবার সান্নিধ্যে থেকে বেড়ে ওঠা। তার কাছেই কাজ শেখা। কাজ করার পাশাপাশি বিয়ে করেন। সংসার হয়। ছেলেরা লেখাপড়ার পাশাপাশি হাতের কাজও শিখছে। তারা এই পেশায় থাকতে চাইছে না। দুই ছেলেই ইলেকট্রিক কাজ করছে। তবে মাঝে মধ্যে কাজের সহযোগিতা করে থাকে।’
অনুপ দাস বলেন, ‘আমার এখন আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। ৮ বছর বয়স থেকে বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজের সঙ্গে আছি। এখন বয়স ৪৪ বছর। প্রথমে বাবার কাছ থেকে, বাবা মারা গেলে দাদার কাছ থেকে ডুগি-তবলা, ঢোল-খোল, ঢাক-জয়ঢাক, কাঠিঢোল-ঢোলক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং মেরামত কাজ শিখেছি। সংসার জীবনে প্রবেশের পর দুইভাইয়ের সংসার আলাদা হয়েছে। তবে ভাইয়ে ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কের কোনো ঘাটতি হয়নি। পাশাপাশি দুই ভাইয়ের দোকান। তিনি বলেন, ‘মাটির তৈরি নতুন ডুগি-তবলা ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। খোল নতুন ৫-৬ হাজার টাকা। মেরামত দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। জয়ঢাক নতুন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। মেরামত ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। কাঠিঢোল নতুন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত দুই থেকে আড়াইশত টাকা। ঢোলক নতুন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। মেরামত আট থেকে এক হাজার টাকা। নাল নতুন ৬ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। কঙ্গো নতুন ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্য রকমন-ফের দাম হয়ে থাকে।’
নওগাঁর মান্দায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের মারপিটে চোর সন্দেহ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। চোর সন্দেহে নিহত ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম (৪৫) উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক সাব্বিরসহ অন্য শিক্ষকের মারপিটে চোর সন্দেহ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামীয়া কাওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।
এ মৃত্যুকে নিয়ে চলছে এলাকায় ধোঁয়াশা। কিভাবে মাদ্রাসা শিক্ষকের মারপিটে চোর সন্দেহে ব্যক্তি মারা গেছে, স্থানীয়রা কেউ জানেন না। তবে শিক্ষকেরা বলছে স্থানীয়রা মেরে ফেলেছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন আছে, ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরাই গভীর রাতে ওই ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে মেরে ফেলেছেন। মেরে ফেলার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে পরে পুলিশকে খবর দিয়েছে। কৌশলগতভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে বলে অনেকের ধারণা।
জানা গেছে, চোর সন্দেহ ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম পানি খাওয়ার জন্য মাদ্রাসায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তাকে চোর সন্দেহে আমগাছের সাথে বেঁধে উপর্যুপরি মারপিট ও আঘাত করা হয়। মারপিটের ঘটনায় সে মারা যায়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান বিভিন্ন মহলের জোর তদবির করেন। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এবিষয়ে প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামীয়া কাওমী মাদরাসা ও এতিমখানার পরিচালক মাওলানা মাসুদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চোর সন্দেহ ব্যক্তিকে মারপিটের পর ভোররাতে তিনি মারা যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এব্যাপারে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মাসুদ রানা বলেন, এটি কমপ্লিট মার্ডার। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভুল তথ্যের অভিযোগে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আটক কলেজ শিক্ষার্থীর নাম জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ও স্ত্রী।
জানা যায়, ভুক্তভোগী জুবাইদার পৈতৃক বসতভিটা নিয়ে চকরিয়া আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এই মামলাটি পেকুয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লবের তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার বাদি জুবাইদাকে তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় অভিযুক্ত এসআই পল্লব। এতে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান এবং এসআই পল্লবকে দেওয়া টাকা ফেরত চান। এতেই বাধেঁ হট্টগোল। জুবাইদার ও তার মাকে বেধড়ক মারধর করতে করতে থানার গেটে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দিলে তিনি নিজেই থানায় এসে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা ও তার মাকে একমাসের সাজা শুনিয়ে দেন।
এ ঘটনায় থানায় আসা সেবাপ্রার্থী ও আশপাশের সচেতন লোকজন ব্যপক সমালোচনা করে বলেন, থানায় আসা সেবাপ্রার্থীদের নিকট থেকে ঘুষ নিয়ে একজন পুলিশ হয়ে মহিলার গায়ে হাত দিল। আর ইউএনও এসে ভুক্তভোগীর কোনো কথা না শুনে সাজা দিয়ে দিলো এটি সত্যিই অমানবিক।
প্রত্যাক্ষদর্শী মনজিলা বেগম (৬০) বলেন, আমি জুবাইদা ও তার মায়ের সাথে পেকুয়া থানায় মামলার তদন্তের বিষয়ে যাই। থানায় গিয়ে এসআই পল্লবের সাথে তারা মা মেয়ে মামলার বিষয়ে কথা বলতে শুনতে পাওয়া যায়। এতে আরও শুনতে পাই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে এসআই পল্লব বিশ হাজার টাকা নেন বাদী জুবাইদার কাছ থেকে। কিন্তু মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে না দিয়ে উল্টো বিপক্ষে দেন এসআই পল্লব। যার কারণে টাকা ফেরত চান ভুক্তভোগী বাদি জুবাইদা। এতে হঠাৎ চড়াও হন এসআই পল্লব। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চড় থাপ্পর মারতে থাকেন তারা মা মেয়েকে। পরে মহিলা পুলিশ এসে তাদের মারতে মারতে থানার গেটে নিয়ে আসে। থানায় থাকা সকল সেবাপ্রার্থীদের বের করে দেওয়া হয়। তারা মা মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে ওসি এসে ইউএনওকে খবর দিলে ভুক্তভোগীর কোনো কথা না শুনেই এক মাস করে মা মেয়েকে সাজা দিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার এঘটনার খবর পেয়ে পেকুয়া থানায় গেলে তারা জুবাইদা ও তার মায়ের খবর না দিয়ে গড়িমসি করেন। ভুক্তভোগী জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল ও তার খালা আমেনা মুন্নী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন বিরুদ্ধে দিয়ে আবার টাকা ফেরত চাইলে অমানবিক নির্যাতন করবে ইউএনও কে ডেকে এনে এক মাসের সাজা দিবে এটা কোন ধরনের আইন আমরা জানতে চাই। আমি ও আমার পরিবার এই অমানবিকতার সঠিক বিচার চাই।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও ) মাহবুব আলম বলেন, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং একজন পুলিশ অফিসারের সাথেও হাতাহাতির ঘটনায় তদন্ত করে সাজা দিয়েছি।
এসআই পল্লবের সাথে ঘুষ লেনদেনের জেরে এঘটনা ঘটেছে এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, এটি পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আমি খারাপ আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাজা দিয়েছি।
পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলমের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলা করছে। পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের সাথে একটি ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে এঘটনার সুত্রপাত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন ,আমি এই বিষয়ে জানিনা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এসআই পল্লবকে একাধিকবার কল করা হলে রিসিভ করেননি তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউপির মনোহরপুর সীমান্তে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) রাবার বুলেট ও স্পিড বোটের ধাক্কায় মো. মোরশেদ নামে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় নৌকা থেকে পড়ে আরও এক বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহা. আজম আলী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বিজিবি স্পিড বোটের ধাক্কায় বাংলাদেশি আহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও রাবার বুলেট ছোঁড়ার অভিযোগ নিশ্চিত করেনি বিজিবি।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, আহত মো. মোরশেদ (৩২) মনোহরপুরের মনিমুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে একই বয়সি নিখোঁজ ব্যক্তি হলেন-মনোহরপুরের চান মণ্ডলের ছেলে মো. ফকির।
তিনি জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় মনোহরপুর সীমান্ত-সংলগ্ন পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন মোরশেদ, ফকির ও আরও কয়েকজন। এ সময় বিএসএফের সদস্যরা দূর থেকে তাদের ওপর রাবার বুলেট ছোঁড়ে। একপর্যায়ে বিএসএফের টহলের জন্য ব্যবহৃত স্পিড বোট উঠিয়ে দেওয়া হয় মোরশেদ ও ফকিরের নৌকার ওপরে। এতে তাদের নৌকাটি উল্টে যায়। পরে অন্য জেলেরা আহত অবস্থায় মোরশেদকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মো. ফকির।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আর এম ও) আব্দুস সামাদ জানান, আহত ব্যক্তির সোল্ডারে (ডানায়) ছড়রা গুলির চিহ্ন ছিল। তাকে গত বুধবার রাত ৭টার পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আহত ও নিখোঁজ বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের ২০০ গজ অভ্যন্তরে চলে যায়। এ সময় বিএসএফের টহল দল তাদের ধাওয়া করে এবং স্পিড বোটের ধাক্কায় একজন আহত ও অপর একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সেখানে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি বলে আমাদের জানিয়েছে বিএসএফ। আমরা ঘটনার খোঁজ নিচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মারামারিতে রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবুকে (৩৮)কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে পঞ্চবটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবু ফতুল্লার শান্তিনগর বাজার এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। আহত তার বন্ধু মো. লিটন (৩৮) ফতুল্লার লালপুর এলাকার কাদের মিস্ত্রির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার পঞ্চবটিতে রাস্তার পাশের কিছু দোকান দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিলার বাবু ও নাঈম গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে ভোরে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হলে বাবু ও লিটনকে শহরের নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদের অন্য সহযোগীরা। সেখানে চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করে এবং লিটনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ‘ন্যাড়া বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন এবং ‘কিলার বাবু’ নামে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, খাস জায়গায় দোকান বসিয়ে ভাড়া উঠানো নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।