বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
কোম্পানির নেটওয়ার্ক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিস্তৃত করতে ফাইতোসাইন্স কোম্পানি গত ৮ থেকে ১০ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী কক্সবাজার ভ্রমণের আয়োজন করে।
এই ভ্রমণ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন- ফাইতোসাইন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর আব্দুর রউফ, ভাইস চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন, পরিচালক মীর ফরিদ তালুকদার, জিএম মো. আবু সালেক মজুমদার, চিফ মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ মো. মাহমুদুল আলম, পান্না, ফরিদা, মামুন, খুশী, হান্নান, জেসমিন, জান্নাত, নাসির, হারুন, তৈয়ব, রিতা, যুথি ও অন্যরা।
ফাইতোসাইন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গতি বাড়াতে প্রায়ই কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বিশেষ ভ্রমণের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।’
নিখোঁজের ছয় দিন পর চার কিশোরীকে উদ্ধার করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। নিখোঁজ দুই জোড়া কিশোরী নিজেদের মধ্যে সমকামিতার মাধ্যমে ‘বিয়ে’ করে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী গত ৫ অক্টোবর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। এরপর নিখোঁজ কিশোরীদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার এক কিশোরীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানায় পুলিশ। একইভাবে মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়।
পরে চার কিশোরী একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন কিশোরী বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জের কিশোরীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চার কিশোরী ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে দুই কিশোরী নিজেদের মধ্যে ‘বিয়ে’ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে বলে পুলিশকে জানায়। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। অপর দুই কিশোরীও একই বাসায় অবস্থান করছিল।
এদিকে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাকিলাদহ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন।
পরে গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া চারজনের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে কিশোরীদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নিখোঁজ তিন কিশোরীকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের একজনকেও উদ্ধার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’
শিল্পাঞ্চল খ্যাত খুলনাকে একসময় বলা হতো বন্দর নগরী। এই নগরী ঘিরে গড়ে ওঠে অসংখ্য শিল্প, কল-কারখানা। কালের বিবর্তনে এই শিল্প নগরী এখন মৃত্যু নগরীতে পরিণত হয়েছে। ছোট ছোট যেসব শিল্প কারখানা টিকে রয়েছে সেগুলোও এখন বন্ধ হওয়া হওয়ার পথে।
রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা খুলনার সুপার জুট মিলটি ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। এই প্রতিষ্ঠানটি একসময় প্রতিদিন ২০-৩০ লাখ টাকা লাভ করত। বিশ্বের ২৪টি দেশে রপ্তানি হতো পাটজাত পণ্য। বিদেশি ক্রেতারা পণ্য পাওয়ার আগেই দিতেন অগ্রিম অর্থ। রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনবার রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছে। সেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানই আজ ঋণের ভারে বিপর্যস্ত। একই পরিণতির পথে ওই প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে গড়ে ওঠা সুপারেক্স লেদারও।
উদ্যোক্তার দাবি, ব্যবসায়িক ব্যর্থতায় নয়; বরং প্রয়োজনীয় ব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক বলছে, ঋণ পরিশোধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব এবং কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠান দুটি সংকটে পড়েছে।
খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামে ২০০৬ সালে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত হয় সুপার জুট মিল। স্থানীয় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দেশের পাটপণ্য রপ্তানিতে বেসরকারি খাতে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান তৈরি করে।
গুণগতমানের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে এর পাটজাত পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক লাভ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়েছিল বলে ব্যবস্থাপনা সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যের পর শিল্প খাত সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের অর্থায়নের আশ্বাস পেয়ে ২০১৬ সালে খুলনার উত্তরডিহি গ্রামে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সুপারেক্স লেদার প্রতিষ্ঠা করেন উদ্যোক্তা এম ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া। প্রতিষ্ঠানটি অত্যাধুনিক বিদেশি যন্ত্রপাতি নিয়ে উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
ব্যবস্থাপনা সূত্রের দাবি, সুপারেক্স লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদপ্রাপ্ত এবং পরিবেশগত মান নিশ্চিত করতে ইতালি থেকে প্রায় ১৪ লাখ ডলার ব্যয়ে ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন করে। বাংলাদেশে গ্রিন কোম্পানির স্বীকৃতি পাওয়া তিনটি কারখানার একটি হিসেবেও প্রতিষ্ঠানটিকে উল্লেখ করা হয়। তবে উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন না পাওয়ায় সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যবস্থাপনা সূত্র জানায়, নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার চামড়া কেনা হয়েছিল। কিন্তু চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও অন্যান্য উপকরণ কেনার অর্থ ব্যাংক থেকে চেয়েও পাওয়া যায়নি। এ কারণে সময়মতো চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রতি বর্গফুট ৮০ টাকা দরে কেনা চামড়ার দাম একপর্যায়ে কমে প্রায় ২০ টাকায় নেমে আসে।
জানতে চাইলে সুপার জুট মিল ও সুপারেক্স লেদারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ২০১৭ সালের পর ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন না পাওয়ায় ধীরে ধীরে উৎপাদন ও ব্যবসা সংকুচিত হতে থাকে। তার অভিযোগ, তার দুটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের দিকে তৎকালীন ব্যাংক নিয়ন্ত্রণকারী গ্রুপ কোম্পানির ‘নজর’ পড়েছিল। অর্থায়ন বন্ধ রেখে প্রতিষ্ঠান দুটিকে দুর্বল করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের সম্পদের মূল্য শেষ হয়ে যায়নি; বরং উৎপাদন চালু রাখার মতো অর্থের সংস্থানই এখন প্রধান সমস্যা। তার দাবি, একসময় সুপারেক্স লেদারের মূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। তখন ব্যাংকের পাওনা ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। বর্তমানে সুদাসলসহ ওই দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকায়।
ব্যাংকের সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠান দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন চাওয়া হয়েছে বলেও জানান উদ্যোক্তা।
তবে ইসলামী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখার ব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন বলেন, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ব্যাংকের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সার্কুলারের আওতায় গত ডিসেম্বরে ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপিমুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা নেয়নি। যে কারণে ঋণ প্রদানে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
গোপালগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম’-এর তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহায়তায় গত সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘স্বচ্ছতা’ সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় প্রতি মাসে একজন ফ্যামিলি কার্ডধারী পাবেন ২৫০০ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোকে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এ সেবার আওতায় আনা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. কে এম বাবর।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ড. কে এম বাবর বলেন, সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ভুল তথ্য যাতে অন্তর্ভুক্ত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রেস কনফারেন্সে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফ রফিক উজ্জামান সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মুরাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারেক সুলতান এবং শহর সমাজসেবা অফিসার আলামিন মোল্লা।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সহিদ চৌধুরী ও মোজাম্মেল হোসেন মুন্নার প্রশ্নের জবাব দেন যৌথভাবে জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্য।
জামালপুরের ইসলামপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ আব্দুর রশিদ (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলের দিকে ইসলামপুর পৌর এলাকার গাওকুড়া খালেরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামপুর পৌর এলাকার গাওকুড়া খালেরপাড় এলাকার স্থানীয় অনুশেখের মনোহারি দোকানের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। অভিযান চলাকালে আব্দুর রশিদকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রশিদ ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা উজান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে একই এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, ডিবি-১) মো. শাহীনুর ইসলাম তালুকদার জানান, এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে জামালপুর জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদক আমাদের তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের মাদকবিরোধী এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শিক্ষার্থীদের মনের কথা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের সুযোগ করে দিতে ‘স্বপ্নের চিঠির বক্স’ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বক্সের উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সেলিম রেজা। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষণ প্রসাদ সাহা এবং সার্ভিস অ্যান্ড ভিশন এডিফাই (সেভ)-এর নির্বাহী পরিচালক আয়শা সিদ্দীকাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সেভের ‘এমপাওয়ারিং অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি মেম্বারস টু এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ’ (গার্লপাওয়ার) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
আয়োজকরা জানান, স্বপ্নের চিঠির বক্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের মনের কথা, জীবনের লক্ষ্য, প্রত্যাশা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা চিঠির মাধ্যমে তুলে ধরতে পারবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ, সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
তারা আরও জানান, প্রতি মাসে বক্স থেকে চিঠি সংগ্রহ করা হবে। চিঠিতে শিক্ষার্থীদের তুলে ধরা স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সম্ভাবনা বিকাশে কাজ করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।
পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের সংগ্রহ করা ঢেঁকিশাক বাজারে বিক্রি করছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম। বয়সে ছোট হলেও পরিবারের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের সংগ্রহ করা শাক বিক্রি করে জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে সে।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পঞ্চগড় বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রি করতে দেখা যায় রেজাউল করিমকে। তার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১নং অমরখানা ইউনিয়নের ছোট কামাত এলাকায়। সে শালমারা ভিতরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে তার শ্রেণি রোল ৫৫।
রেজাউল নিজেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢেঁকিশাক সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসে এবং তা বিক্রি করে। একদিকে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, অন্যদিকে নিজের হাতে শাক সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি—তার এই চিত্র গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা ও পরিবারের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, রেজাউলের বাবা মো. আব্দুল মতিন একজন বাক্প্রতিবন্ধী এবং তার মায়ের একটি চোখ নেই। রেজাউলের বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে রেজাউলের বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রির বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
শিক্ষাজীবনের এই বয়সে রেজাউলের প্রধান কাজ পড়াশোনা করে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তবে পারিবারিক বাস্তবতার কারণে তার এমন উদ্যোগ অনেকের মনে সহমর্মিতা জাগাতে পারে। শিশুটির পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সহানুভূতিশীল সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, আমি শিশুটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ এবং সার্বিক বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে উপজেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো।
জানা গেছে, ইউএনও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে সরকারি কাজে বাধা ও জনভোগান্তি সৃষ্টির অভিযোগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলা করেন।
এদিকে, ইউএনও অফিসে তালা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে জড়িত জামায়াত, এনসিপি ও পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে গোদাগাড়ী উপজেলা, বিভিন্ন পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ।
গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে এসে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বিএনপি নেতারা ‘মব কালচার’-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তারা সরকারের যেকোনো উন্নয়নের অংশীদার হয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের কাজে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তারা ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন—কাঁকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউল সরকার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব, সহ-সভাপতি মোস্তফা ও নাসির উদ্দিন বাবু, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অরণ্য কুসুম, জেলা যুবদলের সদস্য ডালিম, গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ ও সদস্য সচিব বাবু, কাঁকনহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মশি ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরসালান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ ও সদস্য সচিব কাওসার, পৌর ছাত্রদলের মোবিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ইউএনও ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবিতে কার্যালয় ঘেরাও করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে কর্মসূচি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। দুই ঘণ্টা তালাবদ্ধ থাকায় প্রশাসনিক ভবনের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। মূলত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মামলা দায়ের ও আজকের প্রতিবাদ সমাবেশের ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে গরু চোরাচালানবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে কথিত চোরাকারবারিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিজিবির গুলিতে রুমান (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে তেলিখালী বিওপির একটি টহল দল ঝলঝলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি গরু জব্দ করে। পরে গরুগুলো নিয়ে ফেরার পথে একদল কথিত চোরাকারবারি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজিবির ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন-৩৯-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সতর্ক করা হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা তিন থেকে চারটি সতর্কতামূলক গুলি ছোড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তি আহত হন। এ ঘটনায় বিজিবির নায়েক রফিকের ডান হাতে আঘাত লাগে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরে গুলিবিদ্ধ রুমানকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রোমান উপজেলার ১ নম্বর ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন।
রোমানের পরিবার থেকে জানানো হয়, রাতে এলাকায় ভারতীয় গরুর অভিযান চালান বিজিবি সদস্যরা। খবর পেয়ে রুমান ঝলঝলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাঁকে গুলি করা হয়। ভোর সাড়ে চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটলেও প্রায় তিন ঘণ্টা রুমানকে ঘটনাস্থলে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন হালুয়াঘাটে সড়ক অবরোধ করেন।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বিজিবির গুলিতে একজন মারা গেছেন। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। সুরতহালে দেখা গেছে ৪ জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং দর্শক ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় হল মালিকদের সমস্যাগুলো জানতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘হল মালিকদের উত্থাপিত কিছু দাবি বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিছু বিষয় আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘মোবাইল ফোন কিংবা হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হয়ে যাবে-এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। কারণ, সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্র উপভোগ করার অভিজ্ঞতা ঘরে বসে বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্স সফলভাবে চলছে। তাই বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারবে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘সিনেমা হলের দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক থাকবে। তবে আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয় এবং জনগণের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা-ও বিবেচনায় নিতে হবে।’
চলচ্চিত্র রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের কতটা বাংলাদেশের জনগণ ও অর্থনীতির উপকারে আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক সিনেমা হলে পর্যাপ্ত দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো সিঙ্গেল স্ক্রিনে বিপুল আসন সংখ্যার বিপরীতে দর্শকের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হল মালিক, প্রযোজক ও পরিচালকদের যৌথভাবে আলোচনা করে দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে প্রযোজক, হল মালিক ও দর্শক-সব পক্ষই উপকৃত হবে।’
চলচ্চিত্রে দক্ষ শিল্পী তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।’
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও প্রতিভাবান শিল্পী উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএফডিসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি হল মালিকদের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসতে পারে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে হল মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিনেমা হলের আধুনিকায়নে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত সিনেমা হলগুলোর ক্ষেত্রেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
তিনি চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদেরকে তাদের দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব দাবি পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের সিনেমা হলগুলোর সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
যমুনা সেতু পার হওয়ার পরই উত্তরবঙ্গের পথে শুরু হয় যানজট ও ধীরগতির চিরচেনা ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয় যাত্রী ও পণ্যবাহী যানকে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ বাড়লে ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী ২২ জেলার মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। গত বছরও ঈদে ঘরমুখো মানুষের এই দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি। যমুনা সেতুর দুই প্রান্তে সৃষ্টি হওয়া যানজটের প্রভাব পড়ে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও হাটিকুমরুল মোড়েও।
আগামী ঈদের আগেই এ দুর্ভোগ কমাতে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারচেঞ্জসহ সাসেক-২ চারলেন সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এর অংশ হিসেবে হাটিকুমরুল মোড়ে নির্মাণাধীন ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের এ অংশের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত দুই শিফটে চলছে নির্মাণকাজ।
ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর সঙ্গে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে নির্ধারিত সময়ে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে। সাসেক-টু প্রকল্পের অধীন রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ কাজ শুরু হয় প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৬ সালে। ২০২২ সালে সিরাজগঞ্জের হাটি- কুমরুল মোড়ে ক্লোভার লিভ ইন্টার চেঞ্জ ফ্লাইওভার প্রকল্পে কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। বর্ধিত মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত প্রধান কাঠামো যান চলাচলের উপযোগী করার চাপ রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের ওপর।
সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন ইন্টারচেঞ্জটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বালু ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, ব্রিজ নির্মাণ ও সার্ভিস এরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের বড় অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ছয়টি সার্ভিস লেনও খুলে দেওয়া হয়েছে।
সাসেক-২-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সরফরাজ হোসাইন বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে ইন্টার চেঞ্জ ফ্লাইওভারের মূল স্ট্রাকচার বা প্রধান কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের উপযোগী করাই লক্ষ্য। এ জন্য শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা দুই শিফটে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।’ প্রকল্পের নির্মাণ ও তদারকিতে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাসেক-২-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, জরিপকাজের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে জিপিএস প্রযুক্তি এবং নির্মাণকাজের নিবিড় তদারকিতে বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (বিআইএম) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ‘যমুনা সেতুর উপরিভাগের’ পুরোনো রেললাইন, যা ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে, সেখানে দুই লেন সম্প্রসারণের কাজও শেষ করতে না পারলে সাসেক প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি ভোগ করা যাবে না। যানজটের স্থায়ী সমাধানও হবে না। ইতোমধ্যেই যমুনা সেতু ও রেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। পাশাপাশি মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আধুনিকিকরণ করা প্রয়োজন।’
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশাও কম নয়। সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার প্রকল্প সহ পুরো চারলেন রাস্তা চালু হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও শিল্পসামগ্রী দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানো যাবে। পরিবহন সময় ও ব্যয় কমলে এর সুফল পাবেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তা উভয়েই।’
এদিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘যমুনা সেতুর উপরিভাগে রেলট্র্যাক অপসারণের পর আন্তর্জাতিকভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর উপরিভাগ সম্প্রসারণের জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত মে মাসে চুক্তি হয়েছে। তবে ১৮ মাসের চুক্তির মধ্যে ঠিকাদারি মালামাল সংগ্রহ ও তাদের এস্টাবলিশমেন্টের জন্য ইতোমধ্যে পাঁচ মাস পার হয়ে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে, আগামী রোজার ঈদের আগে সেতুর সম্প্রসারণ অংশে চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। তা না হলে চলাচলে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হতে পারে।’
যমুনা সেতু দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়কপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন এ পথ ব্যবহার করে। সেতু পার হওয়ার পর বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট ও ধীরগতির কারণে বাড়ে যাত্রার সময়। হাটিকুমরুল ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে সেই চাপ কতটা কমে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালু করা গেলে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি রাজধানীর সঙ্গে উত্তরের বাণিজ্যিক যোগাযোগেও নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
নওগাঁ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত ক্যান্টিন স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কলেজ চত্বরে নওগাঁ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের ব্যানারে এই বিক্ষোভ হয়। পরে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন ছাত্রদলের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ সময় নওগাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রেদোয়ানুর রহমান রওনক, সাধারণ সম্পাদক সজিব হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মারুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ হাসান রাব্বিসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করলেও মানসম্মত ও সুনির্দিষ্ট কোনো ক্যান্টিন নেই। ফলে দুপুরের খাবার, টিফিন ও বিশুদ্ধ পানির জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে কলেজের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন; যা ছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও নিরাপত্তাহীনতারও কারণ।’
তারা আরও জানান, ক্যাম্পাসে সুলভ মূল্যে একটি পরিচ্ছন্ন ক্যান্টিন থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাবারের নিশ্চয়তা মিলবে এবং পড়াশোনায় স্বস্তি ফিরবে। তাই শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত একটি আধুনিক ক্যান্টিন স্থাপনের জোর দাবি জানান বক্তারা।
নওগাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রেদোয়ানুর রহমান রওনক বলেন, ‘ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষরসহ অধ্যক্ষের কাছে আমাদের এই যৌক্তিক দাবি পেশ করেছি। আমরা আশা করি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন দ্রুত ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুলভ মূল্যের মানসম্মত ক্যান্টিন স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
দোকানের বাকি মাত্র ১ হাজার ২৬৩ টাকা চাওয়াই কাল হয়েছিল চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়ার। সেই তুচ্ছ পাওনা টাকার জেরে দিনদুপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়া।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের নারাইনপাশা এলাকায় নিজের চায়ের দোকানে বসে পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা ছাদিক মিয়ার কাছে চান দুরুদ মিয়া। সামান্য টাকা চাওয়ায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাদিক। দোকান থেকে তক্ষুণি চলে গিয়ে কিছুক্ষণ পরই দলবল নিয়ে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফিরে আসেন তিনি। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রকাশ্য দিবালোকে দুরুদ মিয়ার ওপর চালানো হয় অতর্কিত হামলা; ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত দুরুদ মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বর্বরোচিত ঘটনার পর ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে আটজনকে অভিযুক্ত করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, ‘মাত্র ১ হাজার ২৬৩ টাকার জন্য একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হলো।’
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত শেষ করায় মামলাজট কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার পাওয়ার সুফল পাচ্ছেন। বিচার বিভাগের এই গতিশীলতা বজায় থাকলে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাবে।