বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বন্যার অবনতি, নতুন  করে প্লাবিত আরও ৫০ গ্রাম

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৫৪

বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।

খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।

সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।

কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।

জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।

এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ

দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।

এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।

সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।

জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি

রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।

আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’

সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

বিষয়:

উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

টানা ছয় মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে ইউনিটটি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এ ইউনিট থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে উৎপাদন বেড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।

জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষে এসে তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। এতদিন শুধু ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি চালু ছিল।

২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে ১২৫ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট যুক্ত হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতায় কেন্দ্রটি কখনোই একসঙ্গে তিনটি ইউনিট চালিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘তৃতীয় ইউনিট চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। আশা করছি, কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে এ ইউনিটে ২৫০-২৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।’

তিনি আরও জানান, প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুটি ইউনিট থেকে গড়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা লোডশেডিং কমাতে সহায়ক হবে।

প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘দুটি ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন কয়লা প্রয়োজন হয়। বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিটটি মেরামতের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেটিও দ্রুত চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।’


শুধু পদ্মা ব্যারেজ নয়, তিস্তা প্রকল্পও হাতে নেবে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ পদ্মা ব্যারেজ করা হবে। অনেকে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সরকার আবারও অঙ্গীকার করছে, পদ্মা ব্যারেজ শুধু নয় তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পও হাতে নেবে সরকার।’ বুধবার (২০ মে) বিকালে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে এ অঙ্গীকার করেন তিনি।

ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার বিপজ্জনক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এর সঙ্গে দুর্যোগও জড়িত। ভূগর্ভস্থ পানি শূন্য হচ্ছে, মাটির নিচে পানি থাকছে না, কৃষক পানি পাচ্ছে না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বাসস্থানের জন্য অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে, গাছপালা কাটা যাচ্ছে। ফসলি জমি থাকছে না। যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ হতে যাচ্ছে, সেখানে অনেকে দুর্যোগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গরিব দেশ আমরা, সম্পদ কম। সম্পদকে রক্ষা করতে পারলে উন্নত দেশে উন্নীত করতে পারব। প্রকৃতিকে ঠিক রাখতে হবে।’

এদিকে, গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেছেন, খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, খাল ও নদীর সঙ্গে ভূমিকম্প জড়িত। আমাদের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ যে পরিমাণ পানি নিচে থেকে টেনে ওপরে তুলা হয়েছে, খাল ও নদী খনন করে এবং বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি যদি আমরা ছড়িয়েও দিই, তবু আগামী ২০ বছরে তা রিচার্জ হবে না। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে। সবার জন্য পানি পেতে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি বিএনপি তিস্তা ব্যারেজেও হাত দেবে।’

তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। খাল খনন কৃষি ও খাদ্যের চাহিদা পূরণ করবে। খাল খনন শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইনসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচনের পর পুকুরে মাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়াও গতকাল বুধবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।

এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ভবিষ্যতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক ও সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো দেশেই যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’ মেনে চলা অনিবার্য ও অবশ্য পালনীয় নীতি। এই দুইটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা থাকলে কোনো বাহিনী প্রকৃত অর্থে সুশৃঙ্খল বাহিনী হয়ে উঠতে পারে না। আপনাদের এ বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখতে হবে। কোনো বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে সেই বাহিনী সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়।’

তিনি বলেন, ‘পেশাদারিত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি বহুমাত্রিক ও জনমুখী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি, এই প্রতিটি শক্তি সমন্বিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। আমি মনে করি, এই কাঠামোই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আনসার-ভিডিপি মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সিক্স জি ওয়েল্ডিংসহ বহুমাত্রিক চাহিদাভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতা দেশে-বিদেশে আনসার ও ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফাস্ট রেসপোন্ডার’ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এই বাহিনীর সাহসিকতা, দ্রুততা ও মানবিক দায়বদ্ধতা দৃষ্টান্তমূলক। একই সঙ্গে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার-ভিডিপির সাফল্যও প্রশংসনীয়। ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম বাংলাদেশ গেমসে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০০৪ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করে। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

ক্রীড়াকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টে যেসব খেলোয়াড় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন, একটি বেতন কাঠামোর আওতায় এনে বর্তমান সরকার তাদেরকে স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে। আপনারা নিঃসন্দেহে জেনেছেন, আনসার-ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদকেও বর্তমান সরকার স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে।’

মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং আল্লাহর দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দেন। তিনি শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করে কর্মসূচি শুরু করেন।

এর আগে সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষক্রিয়ায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সরাইলের কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের আলি মিয়ার নির্মাণাধীন একতলা বাড়ির সেপটিক ট্যাংকিতে কাজ করতে নেমে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একে একে মারা যান ওই ৪ নির্মাণশ্রমিক।

তারা হলেন কালিকচ্ছ ও ধর্মতীর্থ গ্রামের আরমান, ইমাম হোসেন, মেহেদী ও হৃদয়।

কালিকচ্ছ ইউপি চেয়ারম্যান মো. সায়ীদ হোসেন জানান, বেলা ১১টার দিকে প্রথম কাজ করতে নামে এক শ্রমিক। এরপর তার সাড়াশব্দ না পাওয়ায় আরেকজন শ্রমিককে নামানো হয়। এভাবে একে একে ৪ শ্রমিক সেপটিক ট্যাংকিতে নেমে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। দুপুর ২টার দিকে ৪ শ্রমিকের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সেখানে গিয়ে সেপটি ট্যাংকির ভেতর থেকে ৪ মরদেহ উদ্ধার করে।

সরাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার রিয়াজ মোহাম্মদ জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে সরাইল দমকল বাহিনীর সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকে গ্যাস জমে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত ছাড়া কিছু এখনই বলা যাচ্ছে না।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুর কাদের ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


কৃবিতে বিনামূল্যে ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বিনামূল্যে ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প হয়েছে। ক্যাম্পিংয়ে ২৫২ গৃহপালিত পশু-পাখি ও পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়। এমন অনুষ্ঠান আয়োজনে খুশি প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষেরা।

বুধবার (২০ মে) দিনব্যাপী চলে এই ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প। দৌলতপুরের দেয়ানায় খুকৃবির অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১ এ এই আয়োজন করা হয়। সেখানে গবাদি পশুর ফ্রি চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ প্রদান এবং কৃমিমুক্তকরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর পাশাপাশি বিনামূল্যে কৃষকদের গবাদি পশুর রুচিবর্ধক ওষুধ, ভিটামিন ট্যাবলেট ও ইনজেকশন স্যালাইন প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্প উদ্বোধন করেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন ও খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল কর্তৃক পরিচালিত এই ক্যাম্পের পরিচালনায় ছিলেন পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক সোলেমা আক্তার শান্তা।


মানিকগঞ্জে বৃত্তি পেল ১৪২ মেধাবী শিক্ষার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে উচ্চশিক্ষার সহযোগিতায় মেধাবী অস্বচ্ছল কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের রাজস্ব তহবিল থেকে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করা ৮৬ জনকে ৮ হাজার এবং এইচএসসি পাস করা ৫৬ জনকে ১০ হাজার মেধাবী অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীকে ১২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে মেডেল বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাছানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ প্রশাসক জামিলুর রশিদ খান, নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন ও অধ্যাপক নাসিমুল ইসলাম মনু উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল এবং থাকবে। যারা অস্বচ্ছল ও দরিদ্র শিক্ষার্থী আছে, তাদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য সাধ্য অনুযায়ী জেলা পরিষদ সহযোগিতা করছে। মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে মেধাবীদের পাশে আমরা আছি।’


গুজব রুখতে ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে কাজ করতে হবে সাংবাদিকদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

‘সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে একটি কুচক্রী মহল প্রতিনিয়ত গুজব ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। এই অপতৎপরতা রুখতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ‘ওয়াচডগ’ বা প্রহরী হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’ পিরোজপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা এই আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (২০ মে) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পিরোজপুরে দ্রুতই একটি শক্তিশালী ‘গুজব প্রতিরোধ সেল’ গঠন করা হচ্ছে। যেকোনো সন্দেহজনক বা বিতর্কিত তথ্য প্রকাশের আগে তা অন্তত দুই-তিনবার সঠিকভাবে যাচাই (Fact Check) করার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলাউদ্দীন ভূঞা জনী। জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনা করেন সহকারী পরিচালক সাইফুদ্দীন আল মাদানী।

ব্রিফিংয়ে পিরোজপুর জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির প্রচারে পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের অভাবনীয় সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়। বিগত তিন মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই দপ্তর তাদের নির্ধারিত শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।

বিগত ৩ মাসের প্রচারণামূলক কার্যক্রম: কমিউনিটি সভা, ১১টি উঠান বৈঠক বা কমিউনিটি সভা এবং ২টি নারী সমাবেশ।

সমাবেশ ও প্রতিযোগিতা: ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ১টি কৃষক সমাবেশ ও ১টি কুইজ প্রতিযোগিতা।

প্রদর্শনী: গ্রামীণ জনপদে ১০টি প্রামাণ্যচিত্র লাইভ প্রচার এবং ৮০টি চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

অনলাইন প্রচার: ৫০টি অনলাইন প্রচার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন।

দরিদ্র নারীদের আর্থিক সহায়তা: এই বিশেষ কর্মসূচি পিরোজপুরে দ্রুতই পাইলট প্রকল্প হিসেবে মাঠপর্যায়ে শুরু হতে যাচ্ছে।

স্মার্ট কৃষি কার্ড: জেলার নেছারাবাদ উপজেলায় ২,১১২ জন কৃষক এই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সুবিধার আওতায় এসেছেন। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে স্থানীয় কৃষি ব্যাংক।

পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: জেলার ভাণ্ডারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২টি খালের পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় ৮৯৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় ১৭ হাজার বৃক্ষের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।


সারিয়াকান্দিতে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারিয়াকান্দিতে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকাল ৩টায় উপজেলা খাদ‍্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

জানা গেছে, এই মৌসুমে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১,৪০৩ মেট্রিক টন। ৩ টন করে ৪৬৮ জন কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। ধানের দাম কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১,৩১২ মেট্রিক টন। চালের দাম কেজিপ্রতি ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী এরফানুর রহমান রেন্টু। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু সম্রাট খান, উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক প্রমুখ।


বগুড়ায় চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সময় গণপিটুনিতে মো. রাফি মণ্ডল (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত আড়াইটার দিকে জেলার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবস্থায় রাফি মণ্ডলের মৃত্যু হয়।

নিহত রাফি মণ্ডল ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের নাটাবাড়ী গ্রামের বুলু মণ্ডলের ছেলে ও জাহাঙ্গীর একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামের রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা ওই পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সঙ্গে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস (অ্যালার্ম) সংযুক্ত করে রেখেছিলেন।

গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমারটি চুরি করতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রমজান আলী ও আব্দুল জলিলের মুঠোফোনে কল চলে যায়। ডিভাইসের সংকেত পেয়ে মালিকপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে এসে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ওই দুই যুবককে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুজনই গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে চিকিৎসা অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাফি মণ্ডল মারা যান। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসা আবস্থায় রয়েছেন।

শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে একজন মারা গেছেন। তার মরদেহ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’


ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ৬ বছর: একমাত্র সাঁকো―ই সাত গ্রামের মানুষের ভরসা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হওয়ার ৬ বছর পার হলেও মেরামত হয়নি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সাত গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান এই সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ভাঙা স্থানে নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রবল জলোচ্ছ্বাসে প্রতাপনগরের গড়ইমহল সড়কের একটি বড় অংশ ধসে যায়। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর স্থানীয়রা নৌকায় যাতায়াত করলেও পরে ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। বর্তমানে কুড়িকাহুনিয়া, সনাতনকাঠি, নাকনা, গোকুলনগর, গোয়ালকাটি ও শ্রীপুরসহ সাত গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে বাঁশ-কাঠের তৈরি সাঁকোটি ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রানুফা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আম্পানে সব হারিয়ে ১১ মাস সাইক্লোন সেন্টারে ছিলাম। সব কষ্ট সহ্য করা যায়, কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। ভালো রাস্তা না থাকায় তারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না।’

আরেক বাসিন্দা খালেক গাজী জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। ছোট শিশুদের মন্তব‍্য করে বলেন, ‘স্কুলে পাঠাতেও টাকা দিয়ে নৌকা বা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার করতে হয়।’

নাকনা গ্রামের ডা. নিহার সরকার বলেন, ‘প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল-কলেজ ও বাজারে যাওয়ার এটিই প্রধান স্থলপথ। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে এই জনপদ মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্নই থেকে যাবে।’

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জানান, কুড়িকাহুনিয়ার কাঁঠালতলা থেকে মকবুল দোকানদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হওয়া জরুরি।

আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি ওয়াশ আউট হয়ে গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় সংস্কার কাজ বেশ ব্যয়বহুল। এলজিইডির বাজেট স্বল্পতার কারণে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জনস্বার্থে সেখানে একটি অস্থায়ী ভাসমান সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে ভবিষ্যতে স্থায়ী সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘ ছয় বছরের এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অর্থ অভাবের কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাতক্ষীরায় অনেক রাস্তার করুণ অবস্থা, এগুলো করার জন্য অনেক অর্থের বরাদ্দ প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের কাছে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার জন্য বেশি বেশি বরাদ্দ খুবই প্রয়োজন তা না হলে নতুন রাস্তা তৈরি এবং পুরোনো রাস্তা পুনরায় সংস্করণ করা সম্ভব না।’


পূর্ব সুন্দরবনে ১২ জেলে অপহৃত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

সুন্দরবনে ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ফুসফুসেরচর এলাকার নদী থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী একটি ট্রলারসহ তাদের অপহরণ করে সুন্দরবনে আটকে রেখেছে।

জেলেদের মহাজন নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরণখোলার রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাতে সুন্দরবনের ফুসফুসেরচরের কাছে সাগর মোহনায় মাছ ধরারত জেলেদের নৌকা ও ট্রলারে হামলা করে জেলেদের একটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী।’ অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন- পাথরঘাটার রুহিতা এলাকার ইয়াসিন (২৫), মাসুম (৫৮), সেলিম (২৫), জাকির (২৮), হোসেন (৩০), তৌহিদ (২৮), ইয়াসিন (২০), মাহবুব (২৪), হানিফ (৩৫), হৃদয় (২৬), ইব্রাহিম (৪০) ও সুমন (২৭)। এ ছাড়া দস্যুদের কবজায় আরও কয়েকজন জেলে আটক রয়েছে। সশস্ত্র দস্যুরা সংখ্যায় ১৫-১৬ জন এবং বিশেষ এক ধরনের পোশাক পড়া ছিল বলে ওই মহাজন জানান।

বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘পাথরঘাটার রহিতা ও নিদ্রাসখিনা এলাকার ১২ জেলেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী সুন্দরবনে অপহরণ করে আটকে রেখেছে বলে তারা খবর পেয়েছেন।’

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মিজানুর রহমান বুধবার (২০ মে) দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ফুসফুসেরচর এলাকায় ট্রলারসহ ১২ জেলে অপহরণের খবর পেয়ে দস্যুদের ধরতে রাতেই বনরক্ষীরা সুন্দরবনে অভিযানে নেমেছেন। এ পর্যন্ত অপহৃত জেলেদের সন্ধান মেলেনি।’

শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, ‘সুন্দরবনে ১৭ জন জেলে অপহরণের খবর শুনেছি। কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


ডুমুরিয়ার চুকনগর গণহত্যা দিবসে স্মরণ‌ সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

বুধবার (২০ মে)‌ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে চুকনগর গণহত্যা একটি অত্যন্ত কলঙ্কজনক ও শোকার্ত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ২০ মে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একক বৃহত্তম ও ভয়াবহতম গণহত্যা।

গণহত্যা দিবসের পটভূমি ও নৃশংসতা শরণার্থীদের সমাগম: ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার থেকে জীবন বাঁচাতে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার সংযোগস্থল চুকনগরকে তারা ট্রানজিট বা নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নেন। ১৮ ও ১৯ মে চুকনগরের পাতখোলা বিল, বাজার, ফুটবল মাঠ এবং কালী মন্দির প্রাঙ্গণে লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হন।

আকস্মিক হামলা: ১৯৭১ সালের ২০ মে (দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল আকস্মিকভাবে চুকনগর বাজারের পশ্চিম পাশে ঝাউতলায় এসে অবস্থান নেয়। তারা লাইট মেশিনগান ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে নিরস্ত্র, সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে ব্রাশফায়ার শুরু করে‌ ।

উল্লেখ্য শহীদদের স্মরণে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা আয়োজন করে এর মধ্যে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোকর‍্যালি, আলোচনা সভা, এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এই দিবসটি উপলক্ষে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকাল ৯টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার, বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অমিত কুমার বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরুল ইসলাম মানিক, চুকনগর ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম, চুকনগর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজ মাহমুদ,

চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন,বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুন নবী খোকা, আবুল কালাম মহিউদ্দিন, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, চুকনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ রুহুল আমি, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার দৌলত হোসেন, কবি ইব্রাহিম রেজা,

শেখ সেলিম আক্তার স্বপন, চুকনগর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন,

চুকনগর স্মৃতিস্তম্ভ: ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজারে শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্থানে হাজার হাজার নিরীহ বাঙালি প্রাণ হারান।

চুকনগর গণহত্যা দিবসটিকে 'জাতীয় শোক দিবস' বা 'জাতীয় গণহত্যা দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভার পূর্বে‌ জাতীয় সংঙ্গিতের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলন করে ১মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়।


ভূমি সেবা অটোমেশনে হয়রানি কমবে, বাড়বে স্বচ্ছতা: নীলফামারী জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ভূমি সেবার মাধ্যমে জনগণ ঘরে বসেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবে, ফলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে ‘ভূমি সেবা সপ্তাহ ও ভূমিমেলা-২০২৬’ উপলক্ষে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে জানানো হয়, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন সিস্টেমস’ চালুর ফলে পেপারলেস কার্যক্রম বাস্তবায়ন, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়, দালাল নির্ভরতা হ্রাস, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, ক্যাশলেস ভূমি সেবা, রেকর্ড হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা, রেকর্ড হোল্ডিং সমন্বয় এবং শতভাগ অনলাইন পেমেন্টের আওতায় ভূমি সেবা নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র এবং নীলফামারী সরকারি কলেজ-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম সিদ্দিকুর রহমান বক্তব্য দেন। সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।


স্কুলের সামনে স্পিড ব্রেকার না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সাইনবোর্ড শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে তাফালবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত চালরায়েন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাশেই তাফালবাড়ি ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা। প্রতিদিন এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েকশ শিক্ষার্থী যাতায়াত করলেও সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো স্পিড ব্রেকার না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারের সময় প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। একই স্থানে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুল জোমাদ্দার বলেন, “এখানে গাড়ির গতি অনেক বেশি থাকে। ছোট ছোট শিশুরা প্রতিদিন রাস্তা পার হয়। আমরা বহুবার স্পিড ব্রেকারের দাবি তুলেছি, কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা হয়নি।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, স্কুল ছুটির সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা প্রয়োজন।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অঞ্জলি রানি বলেন, প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। একটি ছোট উদ্যোগ অনেক বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।


banner close