বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবাসিক হলের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, আসন বণ্টনে অস্বচ্ছতাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হল সংসদের নেতৃত্বে প্রভোস্টকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে প্রভোস্ট রুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় আলাওল হল সংসদ প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টের রুম এবং হল অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, হল সংসদের সাথে সমন্বয়হীনতা, হল সংসদের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটানো, শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার, উন্নয়নমূলক কাজে দীর্ঘসূত্রতা, দীর্ঘ দিন ধরে হলের সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের সাংবাদিক পরিচয়ে হুমকি এবং জরুরি সংস্কার কাজ থমকে থাকার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই পদক্ষেপ নেন। হল সংসদের নেতাদের অভিযোগ, একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত আবেদন জানানো হলেও হল প্রশাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রভোস্টের দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, কার্ড জমা নিয়ে রাখে, সব সময় নিজ মনমতো কাজ করে, হল সংসদকেও সমন্বয় করেন তিনি। এ ছাড়া প্রশাসনিক কাজে ঢিলেঢালাভাবের কারণে হলের সার্বিক পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হল কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং একপর্যায়ে প্রভোস্টকে ভেতরে থাকা অবস্থায় প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি তাদের কল্যাণেই আমাদের কাজ করতে হয়, হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ রয়েছে এগুলো আপনারাও জানেন, শিক্ষার্থীরা উনার পদত্যাগ চায় তাই আমরা তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ (মঙ্গলবার) হল প্রভোস্টের রুমে তালা দিয়েছি।’
রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন, ‘প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের সাথে স্বৈরাচারী আচরণ করে আসছিল, এ জন্য শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতেছে। তার পদত্যাগ চাই আমরা।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় পদদলিত হয়ে মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনারের দাবি, আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি; দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পল্লিচিকিৎসক শাহজাহান মোল্লা ও সিএনজিচালক রমজান আলী মারা গেছেন। তাদের পরিবারের দাবি, আগুনের ঘটনায় সৃষ্ট আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ির কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
শাহজাহান মোল্লার বাড়ি ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামে। গত সোমবার তার মরদেহ সেখানে নেওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন লাগার পর শাহজাহানকে কাঁধে করে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তারা পড়ে যান। পরে মানুষের চাপের মধ্যে পদদলিত হন শাহজাহান।
শাহজাহানের স্ত্রী হারিছা বেগম বলেন, সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর তিনি ও তার বড় বোন জাহানারা কাঁধে করে শাহজাহানকে সিঁড়ি দিয়ে নামাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তারা সিঁড়িতে পড়ে যান। এরপর মানুষ তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। তিনি নিজেও আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারেন, শাহজাহান মারা গেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সমালোচনা করে হারিছা বেগম বলেন, কর্তৃপক্ষ মিথ্যা বলছে। তারা ঘটনাটি দেখেনি, তিনি সেখানে ছিলেন।
অন্যদিকে রমজান আলী বেশ কিছুদিন ধরে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, আগুন লাগার পর আতঙ্কে রমজান সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান। কয়েকজন তাকে ওপরে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
রমজান আলীর স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠে। হাসপাতালে আগুন লাগার খবরে আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সিঁড়িতেই আমার বুকে মৃত্যু হয় তার।
খাদিজা আক্তারের দাবি, আগুনের ঘটনা না ঘটলে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি না হলে তার স্বামী হয়তো বেঁচে যেতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন তারা সর্বস্বান্ত।
তার মা বিবি হওয়া জানিয়েছেন, সোমবার বিকালে সর্বশেষ তার সাথে কথা হয়েছে ছেলের। দোয়া চেয়েছে, চিন্তা করতে না করেছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। সেই ছেলে রাতে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
এদিকে আগুনের ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে নিহত ফুলবাড়ীয়ার শাহজাহান ও রমজান আলী এবং তারাকান্দার কুলসুম বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি। যে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তারা স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে লিফট ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ ওঠা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুজনকে তদন্ত কমিটিতে রাখায় কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। তিনি নিজেই সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি আছেন।
ডা. মাইন উদ্দিন খান আরও বলেন, এতে তদন্তে কোনো প্রভাব পড়বে না।
মাইনউদ্দিন খান বলেন, লিফটে আগুন লাগার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে। তদন্তে অন্য কোনো বিষয় উঠে এলে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে লিফটে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে আগুনের ঘটনার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আতঙ্কে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া রোগী ও স্বজনরা সকাল থেকে আবার ওয়ার্ডে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আগুনের ভয়াবহতা দেখা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে আহত অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি আগুনের ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করবে।
তবে নাগরিক নেতারা অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে।
রেনু মিয়া উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গত সোমবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর রেনু মিয়ার হাতে হাতকড়া পরানো হলে তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে তাকে ছিনিয়ে নেন। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তারা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পর একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে গত সোমবার রাত ১০টার দিকে মাধবদী এলাকা থেকেই রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। রেনু মিয়াকে আটকের পর তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসিকে ক্লোজড করা হয়েছে।’
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মানিকের বয়স ২৫ বছর। তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের গনিপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম ওরফে দুলালের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সি মো. মেহেদী। তিনি অটোরিকশাচালক ছিলেন।
এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্তে নামে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যা ও তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরপর গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা আরমানকে অপহরণ করে হত্যার তথ্য দেন। পরে মানিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিও আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেই অটোরিকশা ছিনতাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মানিক। ওই হত্যা মামলাটিও বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমের আগে থেকে অতিবৃষ্টির কারণে খুলনায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস খুলনায় ডেঙ্গুর জন্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ। মহানগরীর ১০টি ওয়ার্ড, রূপসা ও পাইকগাছা উপজেলাকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা মন্তব্য করেছেন গত আড়াই দশকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ না করায় ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতি বছর বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ ভাগ পুরুষ এবং ৩৮ ভাগ নারী। মৃত্যুর তালিকায় দেশের মধ্যে খুলনা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে।
এদিকে সরকারি হিসাব মতে খুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি চলে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে মশক নিধনে নতুন ক্রয়কৃত ওষুধে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও না মরায় ওই ওষুধ ফেরত পাঠিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২১৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৭৩ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হন।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং ফলে চলতি বছরে খুলনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৩৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ হাজার ৮১ জন এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৬০ জন রোগী। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২২৫ জনকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।
এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মশক নিধনের জন্য আনা ওষুধ পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মরেনি। কাজেই সেই ওষুধ ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কেসিসি থেকে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার করে কেসিসি। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে মশার লার্ভা নিধনের জন্য নতুন করে ১৫৫ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জনকে করে শ্রমিক প্রতিদিন ড্রেন, বদ্ধ জলাশয়সহ প্রয়োজনীয় স্থানে মশার লার্ভা নিধনে কাজ করছে।
এ ছাড়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রমিকরা ৩১টি ওয়ার্ডে একযোগে ফগার মেশিন দিয়ে উড়ন্ত মশা নিধন এবং ওয়াসার ম্যানহোলে লাইট ডিজেল অয়েল বা কালো তেল ছেটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, আগামী সপ্তাহে এই কার্যক্রম আরও জোরদারের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এ অবস্থায় মশক নিধনের জন্য তিন হাজার লিটার অ্যাডাল্টি সাইট এবং দুই হাজার লিটার লার্ভি সাইট ওষুধ কেনা হয়।
কেসিসির ওই সূত্রটি আরও জানায়, গত শনিবার কীটতত্ত্ববিদ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সামনে মশার ওষুধের মান পরীক্ষা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ওইদিন একটি পাত্রে মশার লার্ভার ওপর ওষুধ প্রয়োগ করে বদ্ধ ঘরে ৪৮ ঘণ্টা রাখা হয়।
একই সঙ্গে নতুন কেনা ওষুধ পরীক্ষার জন্য দেশের খ্যাতনামা তিনটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। গত সোমবার দুপুরে সেই পাত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, ১৫ শতাংশ লার্ভা মারা যায়নি।
ফলে মান যাচাইয়ের প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল করেছে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মশক নিধনের জন্য আনা ওষুধ। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে নতুন ওষুধে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মরেনি।
ফলে তাৎক্ষণিতভাবে ওই ওষুধ ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। পাশাপাশি কীটতত্ত্ববিদদের সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জানতে চাইলে কেসিসি প্রশাসক বলেন, ‘২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ লার্ভা মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পর ১৫ শতাংশ লার্ভা মরেনি। ওই ওষুধের চালান ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
একই সঙ্গে কীটতত্ত্ববিদদেরও সহযোগিতায় জরুরিভিত্তিতে কীভাবে আরও ভালো ওষুধ কেনা যায় এ জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রশাসক মঞ্জু।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাঁচ রাস্তার মোড়ের শহীদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা। সমাবেশে বক্তারা মুফতি আমীর হামজার কথিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
সমাবেশে মহিলা দলের নেত্রীরা বলেন, একজন নারী সংসদ সদস্যকে নিয়ে কটূক্তি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু কোনো নারী জনপ্রতিনিধিকে অসম্মান করে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তারা এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদেরও বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও সংযত হওয়া প্রয়োজন। কোনো বক্তব্যে নারী সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
মিছিল চলাকালে মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। হাতে ঝাড়ু নিয়ে তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে পাঁচ রাস্তার মোড়ের শহীদ চত্বরে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।
ঝাড়ু মিছিলে কুষ্টিয়া শহর মহিলা দলের সভানেত্রী শিল্পীসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
তবে সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজার কথিত বক্তব্যের বিষয়ে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী সরকারি সফরে মঙ্গলবার পুণ্যভূমি সিলেটে পৌঁছেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপ্রধানের এই প্রথম আগমনকে কেন্দ্র করে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও রাজসিক সংবর্ধনা জানাতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সিলেট মহানগর বিএনপি। বিমানবন্দর থেকে সার্কিট হাউস এবং মাজার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশনায় ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা এই অভ্যর্থনা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। গণমাধ্যম-কে দেওয়া বক্তব্যে নাসিম হোসাইন জানান, সিলেটের সাধারণ জনগণের অংশ হিসেবে চৌকিদেখী পয়েন্ট, আম্বরখানা পয়েন্ট, দরগাহ গেইট, চৌহাট্টা পয়েন্ট, জিন্দাবাজার পয়েন্ট, টিলাগড় পয়েন্ট এবং শাহপরান পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানাচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের নির্ধারিত সফরসূচি অনুসারে, সকাল সোয়া ১১টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সার্কিট হাউসে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এবং দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবনের সম্মুখভাগে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। দিনব্যাপী সফরের নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ৮টায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রপতির ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং সম্ভাব্য গাফিলতি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে গঠিত এই কমিটিকে পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান নিশ্চিত করেছেন যে, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে সভাপতি এবং তাঁকে সদস্যসচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন প্রকৌশলী এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি মূলত আগুনের প্রকৃত উৎস, লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটজনিত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো অবহেলা ছিল কি না তা চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ড-পরবর্তী হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বিভ্রান্তি দূর করে জানান, ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদদলিত হয়ে ছয়জন নিহতের যে খবর ছড়িয়েছিল তা সঠিক নয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে মৃতদের তালিকায় থাকা একজনকে জীবিত পাওয়া গেছে এবং অপর দুজন হাসপাতালে আনার পূর্বেই স্বাভাবিক অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গিয়েছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও পদদলিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নাকচ করা হয়েছে। তবে আতঙ্কে হুড়োহুড়ির সময় বেশ কয়েকজন আহত হন, যাঁদের মধ্যে ফুলবাড়িয়ার জাহানারা (৫০) নামের এক নারী বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান (৪০) ও তারাকান্দার কুলসুমা (৩৫) নামের দুজনের পরিবার দাবি করেছে যে হুড়োহুড়ির কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে এবং নিমিষেই ভবনের বিভিন্ন তলায় বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেনু মিয়াকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রেনু মিয়া মাধবদী এলাকার ইল্লাত মিয়ার ছেলে। তিনি ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় রেনু মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
সোমবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় খবর পেয়ে বাড়ির আশপাশে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। তবে কোনো ধরনের হট্টগোল হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে লোকজনের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান রেনু মিয়া। পরে তাকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, “রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
সদর উপজেলার বিএম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নামজারি ও হোল্ডিংয়ের আবেদন পেন্ডিং থাকায় দুই ভূমি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ।
পরিদর্শনকালে অফিসের নথিপত্র ও চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩১টি নামজারি আবেদন ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে পেন্ডিং রয়েছে। একই সঙ্গে ১১টি হোল্ডিং আবেদনেরও নিষ্পত্তি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এসব আবেদন ঝুলে থাকায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিএম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শিপন ভাবুক এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন নিষ্পত্তি না করা জনসাধারণের ভোগান্তির কারণ হচ্ছে এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার বিষয়টি কেন দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হবে না—সেই বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনের এমন আকস্মিক পরিদর্শনের ফলে ভূমি অফিসগুলোতে সেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেছেন, ‘ভূমি সেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও অধিকার জড়িত। কোনো আবেদন অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘদিন পেন্ডিং রাখা হবে না। জনগণকে হয়রানি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি ও হোল্ডিংসহ সব সেবা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা, কর্মবিমুখতা কিংবা জনভোগান্তি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সেবা প্রদান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
জেলার নকলা উপজেলায় গতকাল সোমবার সার ডিলারদের গোডাউন ও সার বিক্রয় কার্যক্রম মনিটরিং করেছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক নকলা উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের গোডাউন এবং বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
মনিটরিংকালে সার ডিলারদের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রয়ের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সার সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান রুপন, নকলা উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কৈশোরের দুরন্তপনা ও কৌতূহল থেকে একসঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া পাঁচ শিশুকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ। পরে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে শিশুদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সি ওই পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো—মাগুরা সদর উপজেলার কাদিরাবাদ এলাকার আনোয়ার ও বিউটি দম্পতির ছেলে মো. হিরোন (১১), সাগর বিশ্বাস ও রোজিনা বেগমের ছেলে জিসান (১৩), নাজমুল ও আঙ্গুরার ছেলে আবুজার (১৩), মো. তরিকুল ইসলাম টিয়া ও মোছা. লতিফা বেগমের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (১৩) এবং আলমগীর বিশ্বাস ও নাজমা বেগমের ছেলে খালিদ বিশ্বাস (১০)।
পুলিশ ও শিশুদের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, পাঁচ শিশু পরস্পরের বন্ধু। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। গতকাল সোমবার সকালে হঠাৎ কৌতূহলবশত কাউকে না জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। পরে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে মাগুরা সদর থানা এলাকার কাদিরাবাদ থেকে রওনা দেয় তারা। ইজিবাইকে করে দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায়।
এদিকে সন্তানদের বাড়িতে না পেয়ে তাদের অভিভাবকরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় সন্তানদের সন্ধান না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে গোয়ালন্দ ঘাট থানার টহল পুলিশের সদস্যরা পাঁচ শিশুর সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের বাড়ি, পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে পারে। শিশুদের কথাবার্তা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
খবর পেয়ে পাঁচ শিশুর বাবা-মা ও অভিভাবকরা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ছুটে আসেন। দীর্ঘ সময় পর সন্তানদের ফিরে পেয়ে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ শিশু একসঙ্গে খেলাধুলা করত। কৌতূহল ও দুরন্তপনার বশে তারা পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে মাগুরা থেকে বেরিয়ে পড়ে। দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় টহল পুলিশের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। পরে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা থানায় এসে শিশুদের নিয়ে যান।’ সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের একা কোথাও যেতে না দেওয়ার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।