শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
২৭ চৈত্র ১৪৩২

ময়মনসিংহে বন্যার অবনতি, নতুন  করে প্লাবিত আরও ৫০ গ্রাম

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৫৪

বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।

খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।

সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।

কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।

জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।

এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ

দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।

এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।

সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।

জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি

রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।

আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’

সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

বিষয়:

মাদারীপুরে চড়া দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি, বিপাকে ভোক্তা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি 

মাদারীপুর সদরসহ শিবচর, রাজৈর, কালকিনি ও ডাসার এই পাঁচ উপজেলায় ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা নয়ছয় করে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন। ডিলার পর্যায়ে ওই গ্যাসের কোনো সংকট না থাকলেও খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে অসাধু ব্যবসায়ীরা চড়া দামে তা বিক্রি করছেন।

সরেজমিনে মাদারীপুর সদরসহ জেলার উল্লিখিত উপজেলাগুলোতে খোঁজ করে এই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন খুচরা দোকানে ১২ কেজির এলপিজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২,১০০ থেকে ২,২০০ টাকা পর্যন্ত। অসাধু ব্যবসায়ী বিক্রেতারা সাংবাদিক ও তাদের ক্যামেরা দেখলেই দোকান বন্ধ করে মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে যান। আবার অনেকে সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যের সাথে পরিবহন ও লেবার খরচ যোগ করে যৌক্তিক মূল্যেও এই গ্যাস বিক্রি করছেন। সিলিন্ডার গ্যাস চড়া দামে বিক্রির কারসাজিতে ক্রেতা- সাধারণের অনেকেরই এখন নাভিশ্বাস অবস্থা। বাধ্য হয়ে কোনো-কোনো পরিবার লাকড়ি-কাঠ পুড়িয়ে রান্নার কাজ সারছেন। তাতে গাছ উজার হওয়ার উপক্রম।

শিবচর উপজেলার কোথায়ও এই গ্যাস ২,১০০-২,২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি সরকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এই গ্যাস ১,৭২৮ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও সেই নির্ধারিত মূল্যে কোথাও মিলছে না এই গ্যাস।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মাদারীপুর সদরের আইগ্যাস ডিস্ট্রিবিউটার মেসার্স হাওলাদার ট্রেডাসের্র স্বত্বাধিকারী মিজান, মেসার্স প্রমি এন্টারপ্রাইজের ডিলার হুমায়ুন তালকদার, মেসার্স সৈয়দ ট্রেডার্সের মালিক মনিরুল হক ১,৮৫০ ও ১,৯০০ টাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করছেন। সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মের চাইতে বেশি দামে এ গ্যাস বিক্রির কারণ সম্পর্কে তারা বলেন, ‘পরিবহন খরচ ও লেবার কষ্ট যুক্ত হওয়ায় তারা ওই দামে তা বিক্রি করছেন।’

এ প্রসঙ্গে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াদিয়া শাবাব জানান, আমাদের কাছে চড়া দামে ওই গ্যাস বিক্রির অভিযোগ এসেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


গাইবান্ধায় দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ল দোকান

টেংড়াকান্দি বাজারে আগুনে পুড়ে গেছে ওষুধ ও মনিহারি দোকান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার টেংড়াকান্দি বাজারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দুটি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার চরাঞ্চলের ফুলছড়ি ইউনিয়নের টেংড়াকান্দি বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজারের ওবায়দুল ডাক্তারে ওষুধের দোকানে কে বা কারা আগুন দিলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পাশের কাশেমের মনিহারি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে যাওয়া আগেই মালামালসহ দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ওবায়দুল ডাক্তার জানান, তার দোকানে ১৫ লাখ টাকার ওষুধ ছিল, যা আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে দোকানে আগুন দেওয়া হয়েছে।

ফুলছড়ি থানার ওসি দুরুল হোদা বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নওগাঁর লেখকদের বই নিয়ে দিনব্যাপী বইমেলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর লেখক, নওগাঁর বই প্রতিপাদ্যে নওগাঁ জেলার স্থানীয় লেখকদের বই নিয়ে দিনব্যাপী পথ বইমেলা বসল। স্থানীয় সংগঠন নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় শহরের মুক্তির মোড় জেলা পরিষদ পার্কগেটে বই মেলার উদ্বোধন করেন বরেণ্য কবি আতাউল হক সিদ্দিকী।

নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ড. আইয়ুব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল নয়ন। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নওশাদ হাসান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুশফিকুর রহমান, জেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মকর্তা তাইফুর রহমান, আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি কায়েস উদ্দীন, কথাসাহিত্যিক বরেন্দ্র ফরিদ, সাংস্কৃতিক ঐকের সভাপতি কথাসাহিত্যিক মনোয়ার লিটন, জহির রায়হান চলচিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক রহমান রায়হান, অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান প্রমুখ।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গল্পকার হারিব রতন, কবি রোকয়া শাকিলা, রবিউল মাহমুদ, রিমন মোরশেদ, আসলাম হোসেন, গুলজার রহমান সোহাগ হোসেন প্রমুখ।

মেলার আয়োজকরা জানান- বইমেলায় জেলার ৭০ জন লেখকের অন্তত দুই শতটি বই স্থান পেয়েছে। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশুদের বই রয়েছে। এসব বইয়ের মূল্য ১০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

নওগাঁ সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল নয়ন বলেন, বইমেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্ম ও নওগাঁবাসীর কাছে নওগাঁর লেখকদের তুলেধরা এবং পরিচিত বাড়ানো। সেই সাথে তরুণ প্রজন্ম যে মোবাইল ও সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে যেভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে তা থেকে বেরিয়ে এসে লেখালেখি ও শিল্প সাহিত্যে প্রতি উদ্বৃদ্ধ করণের লক্ষ্যই এ মেলার মূল লক্ষ্য।

সভাপতি ড. আইয়ুব আলী বলেন, বাংলা সাহিত্যের সূত্রপাত হয়েছিল নওগাঁর সোমপুর বিহার হতে চর্য়াপদের মাধ্যমে। তা নওগাঁর মানুষ অনেকেরই অজানা। এবং বর্তমান সময়েও এ জেলার অনেক লেখক আছে যাদের বই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহায়ক বই হিসেবে পড়ানো হয়। নওগাঁয় শতাধীক কবি-সাহিত্যক প্রাবন্ধিক ও গবেষক রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য তাদের দেশব্যাপী পরিচিত করা।

বই মেলায় নওগাঁ জেলার ১১ টি উপজেলা থেকে আগত লেখকদের আগমনে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মেলা চলে সন্ধ ৬ টা পর্যন্ত।


কেশবপুরে বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

উদ্ভাবননির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে যশোরের কেশবপুরে হয়ে গেলো ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড-২০২৬। দুই দিনের বিজ্ঞান মেলা বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের তত্ত্বাবধান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ মেলায় শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে এ ধরনের বিজ্ঞান মেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার ওপর আরও জোর দিতে হবে।

বিশেষ অতিথি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ হোসেন বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষা কেবল বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তব ধারণা থাকতে হবে। বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও অনুসন্ধিৎসা বৃদ্ধি করে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নানা উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প প্রদর্শন করে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। বিশেষভাবে আকর্ষণ করে স্মার্ট সিটি, সোলার পাওয়ার ভিলেজ, স্মার্ট হাইওয়ে লাইটিং, অ্যাকুয়া ভোল্ট এবং বাতাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি।

প্রতিযোগিতার ফলাফলে সিনিয়র গ্রুপে কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আনিকা জামান প্রাপ্তি প্রথম, বুশরা ইবনাত দ্বিতীয় এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের তমাল মল্লিক তৃতীয় স্থান অর্জন করে। একই কলেজের আরিয়ান জাহিন আরাফ ও অর্থী ঘোষ যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান লাভ করে।

জুনিয়র গ্রুপে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জুবায়ের রহমান সায়িব প্রথম, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামিয়া নেওয়াজ দ্বিতীয় এবং মোহসিনা ইসলাম তৃতীয় স্থান অর্জন করে। একই বিদ্যালয়ের সাওদা নেওয়াজ ও নন্দিতা দাশ চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করে।

এ ছাড়া বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতায় সাগরদাঁড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রথম, মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় এবং কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় তৃতীয় স্থান লাভ করে।


ত্রিশালে এমপি লিটনের ৩ প্রকল্প, গুরুত্ব পাচ্ছে সেতু ও জননিরাপত্তা

আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৪
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

একটি আধুনিক নিরাপদ ও উন্নত জনপদ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ত্রিশালের টেকসই উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। বিশেষ করে অবহেলিত জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ডা. লিটন জানান, একটি উন্নত জনপদ গড়ার পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ যোগাযোগ এবং সুশৃঙ্খল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করতেই তিনি প্রতিটি ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ৩টি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের অবহেলিত জনপদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে ‘বালিপাড়া-চর মাদাখালী ব্রিজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ব্রিজটি নির্মিত হলে যোগাযোগ বিড়ম্বনা দূর হওয়ার পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র আমূল বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি হবে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় মাইলফলক। এছাড়াও ধানীখোলা ও বৈলর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের বর্তমান জীর্ণ দশা দূর করতে একটি আধুনিক ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই সেতুটি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতে নতুন গতির সঞ্চার করবে এবং শিল্পায়নের পথ সুগম করবে। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় বালিপাড়ায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। জনমালের নিরাপত্তা ও দ্রুত আইনি সেবা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পটি ডা. লিটনের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

এমপি লিটন বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমার বড় সফলতা। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে আমরা একটি আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত ত্রিশাল গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ত্রিশাল মডেল উপজেলা হিসেবে সারাদেশে সমাদৃত হবে।


দখল, দূষণ আর খননের অভাবে ঝিনাইদহে মরা ১২ খাল-নদী

* কোথাও উৎসমুখে বাঁধ, কোথাও তীর দখল * ক্রমাগত কমছে নদীর প্রশস্ততা ও গভীরতা * বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ * কমছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

দখল, দূষণ এবং খননের অভাবে মরা খালে পরিণ হয়ে গেছে ঝিনাইদহের নদ-নদীগুলো। জেলার নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, ইছামতি, ডাকুয়া, কপোতাক্ষসহ বেশিরভাগ নদী এখন মৃতপ্রায়। এতে শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্যই নয়, হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতি। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় নদীর এই অবস্থা।

জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একসময়ের খরস্রোতা নবগঙ্গা নদী দিয়ে একসময় চলাচল করত বড় বড় নৌকা। সেই নদীতে এখন গরু চড়ে। নদীর তলদেশজুড়ে জমেছে ময়লা-আবর্জনা, বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠেছে চর। এসব চর দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাষাবাদ ও অন্য কাজে ব্যবহার করছেন।

একই চিত্র-চিত্রা, কুমার, গড়াই, ইছামতি, ও কপোতাক্ষহর ১২টি নদ-নদীর। কোথাও উৎসমুখে দেওয়া হয়েছে বাঁধ, কোথাও করা হয়েছে নদীর তীর দখল। এসব কারণে ক্রমাগত কমছে নদীর প্রশস্ততা ও গভীরতা। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির প্রবাহ, কমে যাচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল।

ঝিনাইদহ খাজুরা এলাকার বাসিন্দা বীরেন হালদার বলেন, ‘একসময় এই নদীতে মাছ ধরে আমাদের জীবিকা চলত। এখন নদী ভরাট হয়ে গেছে, পানি নেই বললেই চলে। দ্রুত খনন না করলে নদী পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।’

আরাপপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, ‘আগে আমাদের এই নদীতে অনেক পানি থাকত। গা-গোসল, ধোয়া-কাচার কাজ করতাম, এখন একটুও পানি থাকে না।’

ঝিনাইদহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘নদী পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রথমেই উৎসমুখে নির্মিত বাঁধ অপসারণ জরুরি। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হলে উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু খনন করলেই হবে না, দখলমুক্ত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণও নিশ্চিত করতে হবে।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, ‘নদী দখলমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।’

প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১২টি নদ-নদীর মোট আয়তন ১ হাজার ৬৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর। তবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এসব নদীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বোরহানউদ্দিনে স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা

মামলার প্রধান অভিযুক্ত হৃদয়। ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৪১
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

‎মামলার বাদী ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা মোঃ হোসেন (৪০), যিনি পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জানান, তার মেয়ে লামিয়া আক্তার স্থানীয় কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্রী। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে— মোঃ হৃদয় (২০), মোঃ রিপন (৩৫), মোঃ রাকিব (৩৬) এবং মনি বেগম (৫৫)-কে। তাদের সবার বাড়ি বোরহানউদ্দিন পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত হৃদয় দীর্ঘদিন ধরে লামিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি মেয়েটি তার পরিবারকে জানালে প্রথমে সামাজিক কারণে পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে। পরে অভিযুক্তের পরিবারকে জানানো হলে তারা কোনো কার্যকর সমাধান না দিয়ে উল্টো মেয়েটির সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, যা ভুক্তভোগীর পরিবার প্রত্যাখ্যান করে।

‎এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লামিয়া প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। সে যখন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খেয়াঘাট সড়কে পৌঁছায়, তখন পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

‎বাদী তার এজাহারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা তার মেয়েকে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

‎ঘটনার পর অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিপনের স্ত্রী জানান, তার স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি বাড়িতে নেই এবং তারা কোথায় অবস্থান করছেন সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

‎এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্কুলে যাওয়া একটি মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

‎একজন শিক্ষক বলেন, “বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

‎এলাকার সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।


সীতাকুণ্ডে শাহেদ নামে এক কিশোর নিখোঁজ, এগারো দিনেও মেলেনি সন্ধান 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সীতাকুণ্ডে এক কিশোর এগারো দিন ধরে নিখোঁজ। উপজেলার বাড়বকুণ্ড নতুনপাড়া হাসেম নগরের বাসিন্দা কিশোর সায়েম শাহেদ ভূঁইয়া (১৫) গত ১১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তান নিখোঁজ হওয়ায় হতবাক হয়ে পড়েছেন তার বাবা আনোয়ার শাহদাত ভূঁইয়া ও মা শাহিনা আক্তার লিপি ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে শাহেদ বাড়ীর পাশেই মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু সেই গিয়ে আর ফিরেনি শাহেদ । রাত গভীর হলেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি—আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিত সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরদিন শাহেদের মা সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৬১, তারিখ: ০১-০৪-২০২৬) করেন। কিন্তু ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা।

নিখোঁজ শাহেদের মা শাহিনা আক্তার লিপি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা কোথায় আছে জানি না… বেঁচে আছে কিনা তাও জানি না। প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি—এই বুঝি ফিরে আসবে। কেউ যদি আমার ছেলেকে দেখে থাকেন, দয়া করে জানাবেন।

এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত শাহেদের সন্ধান পেতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহায়তা কামনা করছেন তারা। নিখোঁজ শাহেদের পরিবারের হাসি আজ কান্নায় পরিণত হয়েছে সবাই এখন শুধু অপেক্ষায় রয়েছে “শাহেদ কখন ফিরবে ।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো মাহেনুল ইসলাম জানিয়েছেন , তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে । পুলিশ চেষ্টা করে যাচ্ছে নিখোঁজ শাহেদের সন্ধানে ।


ঘোড়ার মাংস কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত রাজিব আটক, পুলিশের জালে এই চক্রের ৫ সদস্য 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাই করা কয়েকটি ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধারের ঘটনায় অবৈধ মাংস বিক্রেতা চক্রের প্রধান অভিযুক্ত রাজিব শিকদারকে আটক করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এই চক্রের আরও চার সদস্যকে আটক করা হয়েছিল।

​শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটায় উপজেলার গজারিয়া আনারপুরা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত রাজিব শিকদার (৩৬) উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা গ্রামের মৃত বাবুল শিকদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৮ এপ্রিল ভোরে আনারপুরা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে জবাই করা কয়েকটি ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সে সময় প্রধান অভিযুক্ত রাজিব ও তিতাসসহ কয়েকজন পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে থাকলেও রাজিব এলাকায় ফিরে এসে আত্মগোপন করে। শুক্রবার বিকেলে আনারপুরা বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজিব মাদকাসক্ত এবং মূলত বন্ধুদের সাথে নেশা করার উদ্দেশ্যেই সে এলাকায় ফিরে এসেছিল।

​এর আগে বৃহস্পতিবার গজারিয়া ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরও চার সদস্যকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, আটককৃতরা হলো, মাদারীপুর জেলার কালকিনির রুবেল (৩৯), নওগাঁর সৌরভ (২১), গাজীপুরের টঙ্গীর সোহেল গাজী (২১) ও একই এলাকার ইয়াসিন আরাফাত (২১)। অপরাধীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে মোট দশটি ঘোড়া ছিল যার মধ্যে নয়টি জবাই করা হয়েছিল এবং একটি অসুস্থ ঘোড়া জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

​প্রধান অভিযুক্ত রাজিবের আটকের বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, "এই চক্রটি রাজিব ও তিতাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। রাজিব আটক হয়েছে এখন তিতাসকে আটকের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। রাজিবসহ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন আটক হলো।"


গোয়ালন্দে নেশার টাকার জন্য মা―কে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম, ছেলে আটক 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ী গোয়ালন্দ পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ড ক্ষুদিরাম সরদার পাড়া এলাকার সুজিত মন্ডলের স্ত্রী স্বামী পরিত্যক্তা শিখা রানী (৪০) কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে ছেলে গোবিন্দ ঘোষ (১৯)।

স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে ছেলে গোবিন্দ ঘোষ (১৯) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার ঘুমন্ত মায়ের উপর দা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। শিখা রানীর ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় ভিকটিমের বাড়ির অন্যান্য লোকজন গোবিন্দ ঘোষ (১৯) কে ঘরের মধ্যে আটক রেখে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় খবর দিলে থানায় কর্মরত এস‌ আই মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১টি রক্ত মাখা দা, বিছানায় পড়ে থাকা মাথার চুল, রক্তমাখা বিছানার চাদর জব্দ করে আসামি গোবিন্দ ঘোষ (১৯) কে হেফাজতে নেন। আসামি গোবিন্দ এর আগেও নেশা করার টাকার জন্য মায়ের সাথে ঝগড়া করেতেন।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


বরিশালে হামে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল  প্রতিনিধি

বরিশালে সংক্রামক রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

মৃতরা হলো,বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ৯ মাস বয়সী ছেলে রাকিব এবং মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিবের মেয়ে সাদিয়া। তারা ৮ এপ্রিল দুপুরে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং শুক্রবার ভোরে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে ৯২ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮ জন। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত মোট ৩৪১ জন শিশু এই রোগে চিকিৎসা নিয়েছে।

অন্যদিকে, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৭২ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৬১ জন। একই সময়ে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে দ্রুত হারে হাম ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এ অবস্থায় শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


রামেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৫০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, একই সময়ে নতুন করে ২৭ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন, অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে ২৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। চলমান প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ৪৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সাম্প্রতিক এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার চার শিশু মৃত্যুর আগে বুধবার তিনজন, মঙ্গলবার একজন, সোমবার দুইজন, রোববার দুইজন, শনিবার তিনজন এবং শুক্রবার একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা বেশি। জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কারণ দেরি হলে জটিলতা বাড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান জোরদার, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের সতর্কবার্তা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর রূপ নিতে পারে।


এক বছরে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সোনালি মুরগির দাম ঈদের পর গত ২০ দিনে কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে খামারিদের দাবি, করপোরেট হাউসগুলোর কারসাজির পাশাপাশি বাচ্চা ও ফিডের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে সিন্ডিকেট ও বাজার তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ক্রেতারা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ৫২ শতাংশ। আর গত এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ।

খামারিদের দাবি, বড় করপোরেট হাউসগুলোর কারসাজিতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়। এতেই বাড়ছে দাম।

একজন খামারি বলেন, ‘ফিডের দাম তিন মাস, ছয় মাস পরপর দেখা যায় যে দুইশ–আড়াইশ টাকা করে বেড়ে যায়।’

বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, বড় বড় করপোরেট গ্রুপ যারা আছেন, তাদের কারসাজিতে আমাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। এর বিপরীতে আমরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছি।

গত কয়েক দিনে খামারিদের কাছ থেকে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে সোনালি মুরগি কিনছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না পাওয়ায় ৪০০ টাকার বেশিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারে সোনালি মুরগির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে সিন্ডিকেট এবং বাজার তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন ক্রেতারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং দুর্বল নজরদারির কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে।


banner close