বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
জয়পুরহাটে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ স্ত্রীকে ও অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় স্বামীর কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জয়পুরহাট পৌরসভার পূর্ব ধানমন্ডি এলাকার রিনা আক্তার (২১) ও তার স্বামী মো. পাপ্পু (৩৫)। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে পূর্ব ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও অনলাইন জুয়াবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি দল। এ সময় পাপ্পুর বসতবাড়ির সামনে থেকে মাদক বিক্রির অভিযোগে রিনা আক্তারকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১০১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে একই অভিযানে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে রিনা আক্তারের স্বামী পাপ্পুকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে ডিবির এসআই মো. শাখাওয়াত হোসেন, এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, এএসআই মো. সাজেদুর রহমান, এএসআই মো. আসাদুজ্জামান, এএসআই মো. সোহেল রানা ও কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম এবং পারভেজ অংশ নেন।
জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের বিরুদ্ধে পৃথক আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পের আওতায় গ্রীন বিল্ডিং এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদ জিয়া শিশু পার্ক এর সামনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন প্রধান অতিথি হিসেবে গ্রীন বিল্ডিং এর ফলক উন্মেচন করে নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। ৩ হাজার ৭৫.৪২ বর্গফুট আয়তনে এ গ্রীন বিল্ডিংটি নির্মিত হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সোনাদিঘী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ক্বারী মোঃ মামুনুর রশীদ।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়নে এ ভবনটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ ৪৪টাকা। ৫ তলা ফাউন্ডেশনে ২য় তলা বিশিষ্ট গ্রীন বিল্ডিং এর নিচতলায় দোকান ঘর থাকবে। ২য় তলায় হলরুম/কমিউনিটি স্পেস ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার থাকবে।
প্রকৌশল বিভাগ হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, পরিবেশ বান্ধব হলোব্লক দিয়ে এ বিল্ডিংটি নির্মিত হবে। নিজস্ব সোলার প্যানেল ব্যবহৃত উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা হবে। উত্তরাঞ্চলে এটিই প্রথম বিল্ডিং। এ বিল্ডিংটিতে বিশেষায়িত গ্লাস ব্যবহৃত করা হবে যা তাপরোধী। বিল্ডিংটির রুফটফে তাপরোধী রংঙের কোটিং ব্যবহৃত হবে। যা বিল্ডিংটিকে শীতল রাখতে সহায়তা করবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য টয়লেট ও লিফটের ব্যবস্থা রাখা হবে। এই ভবনের সম্মুখ অংশে ভার্টিক্যাল গার্ডেনিং করা হবে। যা বিল্ডিংটিকে পরিবেশ বান্ধব রাখতে সহায়তা করবে।
উদ্বোধনকালে রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মোঃ মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী পরিকল্পনা জসীম উদ্দিন আরজু,
নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইট, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহেদুজ্জামান জীবন, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সদস্য সচিব নাসিম খান, ১৭নং পূর্ব ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহের আলী, ১৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ বাবু, যুবনেতা তৌফিক আব্দুল্লাহ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর জেলা প্রশাসনের সাথে টানা ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পরে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে জামালপুর থেকে সারাদেশের সাথে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাতে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সাথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৪ জনের মৃত্যু হয় এ সময় আহত হয় অন্তত ১৬ জন। এ ছাড়া জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে রাজিব পরিবহনের বেপোরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার প্রশাসনকে অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট বাতিল ও বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঢাকা ও জামালপুরগামী রাজিব পরিবহনের দুটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। পরে নান্দিনা পূর্ববাজার খেলার মাঠে নিয়ে বাস দুটিতে ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর ওই সড়কে রাজিব পরিবহনের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে জামালপুর বাস পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন জামালপুর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এ ব্যাপারে জামালপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও বাস চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে ১১টি দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
কুমিল্লার বরুড়ায় ধর্ষণের পর ৯ বছরের শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুকে হত্যার ঘটনায় আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে (২২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী।
দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ভাউকসার ইউনিয়নের গজারীয়া পূর্ব কলনীপাড়া গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে। শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমু একই গ্রামের মনজুমা বেগমের মেয়ে।
জানা গেছে, ইমু স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। পরীক্ষা শেষে সে পাশের গ্রামের খালার বাড়ি পূর্ব গজারিয়াতে বেড়াতে আসে। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকেল থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশী জসিমকে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে, পাশের বাঁশঝাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী বলেন, শিশু ইমুকে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানের বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় জসিম। এ সময় তাকে ধর্ষণের পর শিশু ইমু এ ঘটনা সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখালে জসিম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখেন। পরে বরুড়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করলে জসিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’
শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুর মা মনজুমা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে জসিম নিষ্ঠুরভাবে দম বন্ধ করিয়ে হত্যা করেছে। ইমু আমার দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছিল। আমার কলিজার ধনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আমরা আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি। সে আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করেছে আমিও তার মৃত্যু চাই। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করব।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম শেখের নিঃশর্ত মুক্তি ও সাজানো মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কদমতলা বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি, সহযোগী সংগঠন ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কদমতলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস শেখের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে স্থানীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য প্রদান করেন।
বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য মো. রিয়াজ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, আবদুল ছালাম শেখ একজন ত্যাগী নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এই সাজানো মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তি দেওয়া না হলে আমরা রাজপথে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।
বিএনপি নেতা মো. ফারুক শেখ বলেন, আমরা বহু ত্যাগ স্বীকার করে আজকের অবস্থানে এসেছি। কিন্তু জামায়াতের কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে আজ আমাদের ত্যাগী নেতা আবদুস ছালাম শেখকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা নাটক বন্ধ করে তাকে মুক্তি দিন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালিকিন তপন, কদমতলা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল শেখ, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহিদ শেখ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মোল্লা, কদমতলা বাজার কমিটির সভাপতি মহসিন মোল্লা এবং নারী প্রতিনিধি সুমি আক্তার।
মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন নিজ বাসা থেকে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান (৫৫) নামে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে থানার উত্তর আগ্রাবাদ রমনা আবাসিক এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি ‘আত্মহত্যা’ করে থাকতে পারেন।
ছায়েদুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক পদে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। তিনি তিন কন্যাসন্তানের জনক। তাদের মধ্যে দুজন ডাক্তার ও একজন প্রকৌশলী। গত বুধবার রাতে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান বাসায় একা ছিলেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী নাতিকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন।
হালিশহর থানার ওসি জয়নাল আবেদিন মণ্ডল জানান, বাসায় উনি একা ছিলেন। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত যতটুকু বুঝা যাচ্ছে, উনি আত্মহত্যা করেছেন। কী কারণে, সেটা এখনো আমরা জানতে পারিনি। জানার চেষ্টা করছি।
নিহতের এক সহকর্মী বলেন, ‘মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান বেশ হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। উনার সাথে সবার সম্পর্ক ভালো। গতকালও সন্ধ্যা পর্যন্ত উনি ব্যাংকে সবার সাথে একটা মিটিংয়ে ছিলেন।’
পুলিশ জানায়, মৃত ছায়েদুর রহমানের দুই মেয়ে ডাক্তার, আরেক মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার। তাদের দুজন ঢাকায় থাকেন। একজন চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস করেন। এ নিয়ে উনি বেশ প্রাউড ফিল করতেন। যতটুকু জেনেছি, রাতে উনি স্ত্রীকে ফোন করে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে বলেছিলেন। এরপর উনার স্ত্রী বাসায় ফিরে উনাকে এ অবস্থায় দেখতে পান।
রমনা আবাসিক এলাকার যে বাড়িটি থেকে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেই বাড়িটি তার নিজের
নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের শ্রীপুর বালী গ্রামে এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রলোভন, তথ্য গোপন ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে বিয়েতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছে তার পরিবার। এতে মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের সুন্দর মিয়া ও আবু তাহেরের যোগসাজশে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বিয়েতে রাজি করানো হয়। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কাজী আ. আউয়ালের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়। সুন্দর মিয়া ও আবু তাহের এতে সাক্ষী ছিলেন বলেও পরিবারের দাবি। কাবিননামায় দেনমোহর ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের সময় পরিচয় ও ঠিকানাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয় এবং তাদের অজ্ঞাতসারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য চাপ এবং মারধরসহ নির্যাতনের শিকার হন ওই শিক্ষার্থী।
স্বজনদের দাবি, তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু বিয়ের ঘটনা ও মানসিক চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
এ ঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। মেয়ের নিরাপত্তা, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তার বাবা। অভিযুক্ত সুন্দর মিয়া ও আবু তাহেরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
তিনি বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে পাহাড়ের সশস্ত্র তৎপরতা ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি, পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিসংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাজনৈতিক নেতারা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যরা, জেলা প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মীর হেলাল বলেন, ‘পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন হোক কিংবা পর্যটন বিকাশ, সবকিছুই পরিবেশ অক্ষত রেখে করতে হবে।’
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিবসহ জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মনোয়ার হোসেন নামের এক ইউপি সদস্যকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে শরিফুল ইসলাম সুমন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পৌর এলাকার বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত মনোয়ার হোসেন উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি জয়পুরহাট থেকে বেগুন বিক্রি করে ক্ষেতলালের দিকে ফিরছিলেন। বটতলী বাজারে পৌঁছালে তাকে পথরোধ করে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে তার অভিযোগ। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ হামলায় তার ডান পাশের কাঁধ, গলা ও হাতে জখম হয়েছে। এর মধ্যে কাঁধের ক্ষতস্থানে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে।
মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তার দাবি, এর আগেও তাকে দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে সেসব মামলায় জামিনে রয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চান।
অভিযোগের বিষয়ে শরিফুল ইসলাম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ক্ষেতলাল থানার ওসি মুক্তারুল আলম বলেন, ‘ইউপি সদস্যকে ছুরিকাঘাতের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকাসহ ১৩ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের মাহার বাজারসংলগ্ন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলারত অবস্থায় তাস ও নগদ অর্থসহ তাদেরকে আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের শিবরাপুর গ্রামের ইমান আলী মণ্ডলের ছেলে মো. শহীদুল্লাহ (৬০), বিষ্ণরামপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে সুলতান আলী, একই গ্রামের মো. বাবুল হোসেন (৪৫) মো. সিরাজুল ইসলাম (৪৮) মো. জাকির হোসেন (২৮) মো. রুহুল আমীন (৩৭) মো. ইউনুছ আলী (৬৫ তোতা মিয়া (৪৫) মো. তালেব আলী (৪৮) হাবিবুর রহমান (৪০) মজনু (৫৫) শহীদুল্লাহ (৪৬) ও সুরুজ আলী (৫৬)।
অপরদিকে পৃথক অভিযানে এস আই লিটন এদিন পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে জনৈক এনামুলের মুদি দোকানের সামনে থেকে কুখ্যাত মাদক সম্রাট ও একাধিক মাদক মামলার আসামি মনিরুজ্জামান ওরফে চশমা মনিরকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন।
এছাড়াও থানা পুলিশ মেহেদী হাসান নামে আরেক তরুণকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় এনে এক মাসের সাজাপূর্বক তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, বিশেষ অভিযানে নগদ অর্থসহ ১৩ জুয়াড়ি ও ৬টি মাদক মামলার আসামীকে ইয়াবাসহ আরেকজনকে মাদকসেবনরত অবস্থায় এবং পরোয়ানাভুক্ত ৩ জনসহ মোট ১৮জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদেরকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাবনার সাঁথিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সাঁথিয়া উপজেলা ও পৌর যুবদলের আয়োজনে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, কেককাটা, মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহম্মেদ বিপ্লবের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বাবুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদ।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান খোকন, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মাহবুব এ হাসান টিটো, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য কণ্ঠশিল্পী মুহিন খান, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান জাহিদুজ্জামান রিপন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হোসেন রাসেল, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আবু সাঈদ, ধোপাদহ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আশিফ আল আলীম রাজিব, নন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রাতুল ইসলাম রানা, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুজ্জামান সজল, আতাইকুলা থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব লোকমান হোসেন, ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম রানা মৃধা, গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্রদল নেতা রাফুল ও লিমন প্রমুখ। এ সময় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিহতের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ শাহিন।
পুলিশের জানায়, গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে সৌরভ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছাঃ কাকলী বেগম সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত তদন্তে কিছু রহস্যজনক তথ্য পান। পরে ওসি আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তার মা বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা করেন।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাদারীপুরের টেকেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শাহিনকে রাজৈরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সৌরভ ছিলেন রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের একটি দুই বছর বয়সী সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন রবিউল। এর জের ধরে তিনি শাহিনের সঙ্গে পরামর্শ করে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট সৌরভকে কৌশলে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সৌরভকে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং দেশীয় প্রোটিন ও আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে লালমনিরহাটের বিভিন্ন জলাশয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা সদর উপজেলার গোকুণ্ডা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সুকানদিঘি ও রাজপুর ইউনিয়নের হীরা মানিক ৬নং ওয়ার্ড বানিয়ার ঘাট সতী নদীসহ স্থানীয় বিভিন্ন জলাশয়ে এ পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিদুল ইসলাম সাজু পাটোয়ারী, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনীত দাস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জামান, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বুলু, গোকুণ্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলতাবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক রিপন মাস্টার প্রমুখ।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক, এ কে এম মমিনুল হক বলেন, ‘বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের তিন দিনের কর্মসূচি হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশের আমিষের চাহিদা মেটাতে মৎস্যপূর্ণ অবমুক্তকরণ, বৃক্ষরোপণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আমিষের ঘাটতি কিছুটা হলেও দূর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।