মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বন্যার অবনতি, নতুন  করে প্লাবিত আরও ৫০ গ্রাম

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৫৪

বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।

খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।

সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।

কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।

জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।

এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ

দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।

এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।

সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।

জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি

রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।

আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’

সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

বিষয়:

নির্বাচিত

রামপালে দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) ক্ষমতার দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) কর্তৃক প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন ও বিউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট ৩ হাজার ৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বিউবোর নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবে প্রস্তাবিত বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৬.১৮ টাকা।

বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১২ সালে বাগেরহাট জেলার রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিপিডিবি। জমিটি দু’টি ব্লকে বিভক্ত—ব্লক-এ ও ব্লক-বি। এর মধ্যে ব্লক-এ অংশে বাংলাদেশ-ভারত কয়লাভিত্তিক মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। ব্লক-বি অংশটি বর্তমানে বিপিডিবির অধীনে রয়েছে, যেখানে ভূমি উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

বিউবো জানায়, ‘ব্লক-বি’-এর ৯১৮.৫০ একর জমির মধ্যে ৭৬.৬৩ একর গ্রিন বেল্ট উন্নয়নের জন্য, ৩২.৮৭ একর বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণে, ৯৪ একর নিচু জমি এবং উত্তর-পশ্চিম পাশের প্রায় ৩০ একর জমি লেক হিসেবে রয়েছে। ফলে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪৪২ মেগাওয়াট (ডিসি) সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ব্যবহারযোগ্য জমির পরিমাণ ৬৮৫ একর।

প্রাথমিকভাবে যৌথ উদ্যোগে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও, বিদ্যুতের বিশেষ বিধান আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০২১) বাতিল হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়। পরবর্তীতে মে ২০২৫-এ তৃতীয় পক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করে ৬৮৫ একর জমিতে এই গ্রিড-সংযুক্ত কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, জমিতে অতিরিক্ত ভূমি উন্নয়নের প্রয়োজন না থাকায় নির্মাণ ব্যয় কম হবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদ্যুতের ইউনিট খরচে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

এদিকে গত ডিসেম্বরে ফেনীর সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বিপিডিবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রামপাল প্রকল্পের তুলনায় সোনাগাজী প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি দক্ষ হলেও এর নির্মাণ ব্যয় ও ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। সোনাগাজী প্রকল্পের ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ শতাংশ, যা রামপাল প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ।

রামপাল প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াটে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫.৬৬ কোটি টাকা। সোনাগাজী প্রকল্পে এই খরচ ৬.২৭ কোটি টাকা। অবকাঠামো নির্মাণ খাতে সোনাগাজীতে ব্যয় রামপাল প্রকল্পের দ্বিগুণেরও বেশি। এ ছাড়া ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণেও সোনাগাজী প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

ব্যয়বহুল নির্মাণ খরচের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্যের ওপর। রামপাল প্রকল্প থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬.১৮ টাকায় কেনার প্রস্তাব থাকলেও সোনাগাজী প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই ট্যারিফ ধরা হয়েছে ৮.৮৭ টাকা। অর্থাৎ সোনাগাজীর বিদ্যুতের দাম রামপালের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। সোনাগাজী প্রকল্প থেকে বার্ষিক ৩৮১.৫৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রামপালে এ লক্ষ্যমাত্রা ৩৫২.৪১ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী ডিজিটাল শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ, আইসিটি খাতে অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের ফলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান ২০২৩ অনুযায়ী, ২০৩০, ২০৪১ ও ২০৫০ সালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা যথাক্রমে ২৯ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াট, ৫৮ হাজার ৫৯৭ মেগাওয়াট ও ৯৬ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। অথচ এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট (২৩ জুলাই ২০২৫)।

দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এলেও উৎপাদন সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করেছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ মোট উৎপাদনের তুলনায় এখনও খুবই সীমিত। ফলে এই খাতে দ্রুত বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা উইং-এর অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ বলেন, ‘রামপাল এলাকায় প্রস্তাবিত ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’

প্রকল্পটির প্রস্তাব ইতোমধ্যে ডিপিপি আকারে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

নূর আহমেদ বলেন, ‘সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। সেই তুলনায় ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পটি প্রায় দ্বিগুণ বড়, যা দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে। এই প্রকল্পের ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অন্য প্রকল্পের তুলনায় কম, যা এটিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।’


নির্বাচিত

তাঁতিবাজার থেকে পিচ্চি রাজাকে পালাতে সাহায্য করে এসআই প্রবীর

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পালানোর সুযোগ করে দেন উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার বিশ্বাস। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ‘নাটক’ সাজানো হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এসব তথ্য জানান।

ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পলাতক আসামি পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক পিচ্চি রাজা ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা জজকোর্ট থেকে ২৯ জন আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে ঢাকার তাঁতিবাজার এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ভ্যানটি থামানো হয়।

এ সময় প্রিজন ভ্যানের ইনচার্জ এএসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে আনেন। পরে খাইরুল বাশারকে পুনরায় ভ্যানে তোলা হলেও পিচ্চি রাজা ও প্রবীর কুমার আর ভ্যানে ওঠেননি।

পুলিশের ভাষ্য, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে উঠে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রবীর কুমার ঘটনাস্থলে ফিরে এসে স্কোয়াড পার্টির সদস্যদের নিয়ে আসামি পালিয়ে যাওয়ার একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করেন।

সাক্ষ্যপ্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় প্রিজন ভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্র কলা ভবনের সামনে এই মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘আমরা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এরপরই দেখছি, গণমাধ্যমের ওপর বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে। গণমাধ্যম সংস্কারের বদলে সেটাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। গণমাধ্যম ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

গত রোববারের (৪ অক্টোবর) হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভিডিও দেখলেই বোঝা যায়, কোনো কারণ ছাড়াই তাদের মারধর করা হয়েছে। সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতেই সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা থেকেই গত রোববারের পরিস্থিতির সূত্রপাত।’ এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামুন।


নির্বাচিত

আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই

এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ঘুষ নিয়ে করা মন্তব্য যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায় আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।

সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে ইলিয়াস হোসেন এ বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাঁর ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে সেখানে গিয়েছিলেন এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। ওই সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি এ কথা বলেন।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, তাঁর (এএসআই ইলিয়াস হোসাইন) সঙ্গে বসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তদন্তে ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘুষ ছাড়া তিনি মামলার তদন্তে আগ্রহ দেখান না।

এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকারঘাট গ্রামে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্তের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, তিনি মামলার বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন এবং ভয়ভীতি দেখান।

স্থানীয় লোকজনের আরও অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম তাঁর এলাকার ‘বড় ভাই’—এমন পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানায় ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে জানতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ এরপর তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, তাঁর (এএসআই ইলিয়াস হোসাইন) সঙ্গে বসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।’


নির্বাচিত

বরিশালে ফেনসিডিলের মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি 

বরিশালে ফেনসিডিলের মামলায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) বরিশালের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেন আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরশিবা পণ্ডিতবাড়ির বাসিন্দা আজাহার আলী পণ্ডিতের ছেলে মো. শাহাদাৎ হোসেন পণ্ডিত (৪৭) এবং একই উপজেলার চরকপালবেড়া এলাকার আব্দুল বারেক হাওলাদারের ছেলে জলিল হাওলাদার (৪৬)।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ বলেন, ‘২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তৎকালীন র‍্যাব-৮-এর একটি দল নগরের নতুনবাজার এলাকায় তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে। সেই সময় ২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ শাহাদাৎ ও জলিলকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী নগরের উত্তর আলেকান্দা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে আরও ১৮৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।’

এ ঘটনায় তৎকালীন র‍্যাবের ডিএডি মশিউর রহমান বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে একই বছরের ৩ নভেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন এসআই আব্দুর রহমান মুকুল দুজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পাঁচজনের সাক্ষ্য-গ্রহণ শেষে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পলাতক আসামি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।


নির্বাচিত

সমেশপুরে ৫০ কোটি টাকার সবজি চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয় বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা ও পানি দেওয়া। কেউ চারা তুলছেন, কেউ ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা গাড়িতে তুলে দিতে। শীতের আগমুহূর্তে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরে এখন চলছে সবজির চারা বিক্রির ব্যস্ত মৌসুম।

ময়নামতি রানীর বাংলো পেরোলেই চোখে পড়ে এই কর্মব্যস্ততা। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এ এলাকায় সবজির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে সমেশপুরের চারা। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর জমিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন চাষিরা।

ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, লাউ, কুমড়া ও ব্রকলিসহ অন্তত ২৩ ধরনের সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে এখানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পলিথিনে ঢাকা ছোট ছোট তাবুর ভেতর মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে কোকোপিটে বেড়ে উঠছে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা চারা কিনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।

চারা উৎপাদনকারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ১৯৬৬ সাল থেকে সমেশপুরে সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। এখানকার চারা দেশের অন্তত ৩৪টি জেলায় যায়। গ্রামের প্রায় দেড়শ পরিবার চারা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

আরেক চারা উৎপাদনকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা উৎপাদন ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় কাটছে।

চাষি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বুড়িচংয়ে ধানের পর চারা উৎপাদন কৃষকদের অন্যতম বড় আয়ের উৎস। তবে কৃষি অফিস থেকে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। ভালো বীজ ও মাটি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

চাষিরা জানান, মূল মৌসুমে সেচসংকট দেখা দিয়েছে। আবার বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে চারা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানসম্মত বীজ ও সার সংগ্রহ এবং মাটি পরীক্ষা নিয়েও নানা জটিলতা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিন আক্তার বলেন, চারা উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো শুনেছেন। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সমেশপুরের চারা উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের সবজি উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ জনপদ।


নির্বাচিত

যৌতুকের জন্য নির্যাতন’, বিষপান করে হাসপাতালে গৃহবধূ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিষপান করেছেন ঝুমুর খানম সেতু (২৭) নামে এক গৃহবধূ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার (৫ অক্টোবর) তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঝুমুর আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। স্থানীয় ও তার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে তিনি বিষপান করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

ঝুমুরের বাবা করিম খান জানান, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী এলাকার মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার জামাতা, মেয়ের শাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামী বিভিন্ন কারণে ঝুমুরকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। একপর্যায়ে স্বামীর বাড়ি থেকে ঝুমুর ও তার মেয়েকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তারা বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, প্রায় ৫০০ বরযাত্রীকে যথাযথভাবে আপ্যায়ন করতে না পারা এবং ঝুমুর দেখতে সুন্দরী না হওয়ার মতো বিষয়কে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।

ঝুমুরের স্বামী শাহারিয়া কাজী কাজের সুবাদে কুয়েতে অবস্থান করছেন। করিম খানের অভিযোগ, স্বামীর মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন, রিয়া এবং নাজমিনের স্বামী সাইদুল হাওলাদারের প্ররোচনায় ঝুমুরের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

ঘটনার রাতে শাহারিয়া ভিডিও কলে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মারা যেতে বলেন—এমন অভিযোগ করেছেন ঝুমুরের বাবা।

করিম খানের ভাষ্য, স্বামীর কথিত মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে ঝুমুর বিষপান করেন। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


নির্বাচিত

মৎস্য অধিদপ্তর পরিদর্শনে ওমানের প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনবল নেওয়ার আগ্রহ

ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মৎস্য অধিদপ্তর পরিদর্শন করেছেন এবং মহাপরিচালকের সাথে এক দ্বিপাক্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সফররত ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সোমবার (৫ অক্টোবর) মৎস্য অধিদপ্তর পরিদর্শন করেছেন এবং মহাপরিচালকের সাথে এক দ্বিপাক্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় ওমানের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মৎস্য খাতের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে বাংলাদেশ থেকে মৎস্য খাতে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল নিয়োগের ব্যাপারে তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেন।

​সভায় মৎস্য অধিদপ্তরের ব্লু-ইকোনমি উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. মোহাম্মদ শরিফুল আজম পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে অধিদপ্তরের অধীনে থাকা ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, প্রশিক্ষণ কারিকুলাম, অবকাঠামো এবং বিদ্যমান জনবলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামস্থ 'বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমি'র প্রশিক্ষণ অবকাঠামো ও কোর্স কারিকুলাম সম্পর্কেও ওমানের প্রতিনিধিদলকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

​মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ খালেদ কনক বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মৎস্য খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করছে এবং তারা সুনামের সাথে বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জেলে বা ডেকহ্যান্ড, স্কীপার, মৎস্য প্রকৌশলী এবং অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে বিশেষায়িত ডিপ্লোমাধারীদের ওমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

এছাড়াও, তিনি প্রতিনিধিদলকে দেশের মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রাম মেরিন ফিশারিজ একাডেমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্যাডেট ও ডিপ্লোমাধারীদের দক্ষতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

​সভা শেষে ওমানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মৎস্য খাতের কারিগরি মান এবং জনবলের দক্ষতার বিষয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

নওগাঁয় অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মহাদেবপুরে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় নীরেন চন্দ্র বর্মন ওরফে হীরেন (৪৫) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরেশ চন্দ্র বর্মন (৫৮) নামে ভ্যানের এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নওগাঁ-নজিপুর আঞ্চলিক সড়কের এনায়েতপুর গ্রামের মদিনা পেট্রোল পাম্প এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।


নিহত নীরেন চন্দ্র বর্মন মহাদেবপুর উপজেলার মগরইল গ্রামের মৃত ধীরেন চন্দ্র বর্মনের ছেলে। আহত পরেশ চন্দ্র বর্মন একই গ্রামের মৃত অধীর চন্দ্র বর্মনের ছেলে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হীরেন ভ্যানে করে পরেশকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নজিপুরের দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত অ্যাম্বুলেন্স পেছন থেকে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে চালক ও যাত্রী সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।


স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নীরেন চন্দ্র বর্মনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত পরেশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

টাঙ্গাইলে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

জেলার মির্জাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার দুপুরে উপজেলার সোহাগপুর ও গোড়াই এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


অভিযান সূত্রে জানা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রির অভিযোগে সোহাগপুর বিসমিল্লাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে গোড়াই এলাকার মোল্লা ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল কেয়ারকে ৫ হাজার টাকা এবং গোড়াই ওয়াল সেতুর নিচে অতিরিক্ত দামে ফল বিক্রির অভিযোগে তিন ফল বিক্রেতাকে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, অভিযানে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

দুধ পান করে অসুস্থ ১৭ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি

# প্যাকেটে ফুটো, কিছু দুধ ছিল দইয়ের মতো # আপত্তি সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের দুধ পান করানোর অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৭
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

প্যাকেটে ফুটো, কোথাও দুধ জমে দইয়ের মতো—এমন অবস্থায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুরে দুধ পান করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা ও খিচুনিসহ বিভিন্ন উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।


অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে দুধ পরীক্ষা করা হবে।


বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের ভাষ্য, গতকাল সোমবার দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো দেখতে পান শিক্ষকরা। আবার কিছু প্যাকেটের দুধ জমাট বেঁধে দইয়ের মতো হয়ে থাকতে দেখা যায়।


বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। শিক্ষকরা দুধ বিতরণ না করার কথাও বলেন। দুধের প্যাকেটের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে ওই কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়।


পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে আসেন মনোয়ার হোসেন। শিক্ষকরা দুধ নিয়ে আপত্তি জানালেও তিনি নিজে দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং এতে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান। এরপর শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়।


শিক্ষকদের অভিযোগ, দুধ পান করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের কারও পেট ব্যথা, কারও মাথা ঘোরা, আবার কারও খিচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর একে একে আরও শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে।


চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলে, ‘দুধ খাওয়ার পর থেকেই আমার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয়। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে আনা হয়।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, ‘দুধ বিতরণের সময়ই কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং কিছু দুধ দইয়ের মতো দেখতে পান তারা। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। দুধ বিতরণ না করার জন্যও বলা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসে নিজে দুধ পান করে শিক্ষার্থীদেরও তা পান করতে বলেন। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।’


দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. বিমল দেবনাথ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৬-১৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। অনেকেই ভালো আছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা। তিনি অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজ নেন।


ইউএনও বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা দেখেছেন। দুধের নমুনা পরীক্ষা করতে ঢাকায় পাঠানো হবে। পরীক্ষায় কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মতো শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি কর্মসূচিতে বিতরণের আগেই দুধের প্যাকেটে ত্রুটি চোখে পড়ার পরও কেন তা শিক্ষার্থীদের পান করতে দেওয়া হলো—এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। দুধের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে।


নির্বাচিত

দেশজুড়ে র‍্যালি-আলোচনা, গুণী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না, একটি প্রজন্মের চিন্তা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎও নির্মাণ করেন। সেই শিক্ষকদের মর্যাদা, পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বানেই দেশজুড়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬। সোমবার (৫ অক্টোবর) মাগুরা থেকে মৌলভীবাজার, গাজীপুর থেকে পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া থেকে ময়মনসিংহ—বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় র‍্যালি, আলোচনা সভা, গুণী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।

এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য—‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’। ১৯৬৬ সালে আইএলও ও ইউনেসকোর শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সুপারিশ গ্রহণের ৬০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখেই এবারের আয়োজন। বাংলাদেশেও ৫ অক্টোবর দিবসটি এখন নিয়মিত জাতীয় কর্মসূচির অংশ।

মাগুরা: জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকব্বীর আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মামুনুর রশীদ। সভায় শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

কুমিল্লার মুরাদনগর: উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে নজরুল মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়, নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরির কাজও করতে হয়। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মৌলভীবাজার: জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, শিক্ষকরা সমাজ পরিবর্তনের মূল কারিগর। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া: আলোচনা সভার পাশাপাশি পাঁচজন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের এসব শিক্ষকের দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর আগে উপজেলা এলাকায় র‍্যালি হয়।

গাজীপুরের শ্রীপুর: বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ৩২ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সম্মাননা ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়। আয়োজকেরা তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের যেন মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। প্রায় ৭০০ শিক্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

গাজীপুরের কাপাসিয়া: উপজেলা পরিষদ চত্বরে শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা হয়। বক্তারা জানান, জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ শিক্ষকসমাজের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। এবারের নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয়ভাবে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া: চৌরাস্তা বাজারের তেতুলতলা থেকে র‍্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে সহস্রাধিক শিক্ষক অংশ নেন। পরে মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকরাই জাতি গঠনের কারিগর। শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দুইজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষককে সম্মাননাও দেওয়া হয়।

পঞ্চগড়ের বোদা: উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র‍্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নীলফামারী: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র‍্যালি বের হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানসম্মত শিক্ষার প্রধান কারিগর শিক্ষক। তাদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মপরিবেশ উন্নয়ন জরুরি। অনুষ্ঠানে গুণী ও প্রবীণ শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম এবং নীলফামারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আফজালুল হক নান্নুকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা: উপজেলা চত্বর থেকে র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় ইউএনও আমিরুল আরাফাত বলেন, মেধাভিত্তিক ও আদর্শ জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা মুখ্য। শিক্ষকদের পেশাগত সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও: উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র‍্যালি বের হয়ে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মওলানা সামছুল হুদা পাঁচবাগী হলরুমে আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আইসিটিনির্ভর কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শ্রেণিকক্ষে পাঠপরিকল্পনা ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

দেশের এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে একটি বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে—শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু পাঠ্যক্রম বা প্রযুক্তির উন্নয়নে সম্ভব নয়; শিক্ষকের মর্যাদা, নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আয়োজন তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শিক্ষকতার মর্যাদা পুনর্বিবেচনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিক্ষকদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রত্যয়েরও প্রকাশ।


নির্বাচিত

সমেশপুরে ৫০ কোটি টাকার সবজি চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয় বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা ও পানি দেওয়া। কেউ চারা তুলছেন, কেউ ক্রেতার সঙ্গে দরদাম করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা গাড়িতে তুলে দিতে। শীতের আগমুহূর্তে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরে এখন চলছে সবজির চারা বিক্রির ব্যস্ত মৌসুম।


ময়নামতি রানীর বাংলো পেরোলেই চোখে পড়ে এই কর্মব্যস্ততা। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এ এলাকায় সবজির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে সমেশপুরের চারা। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর জমিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন চাষিরা।


ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, লাউ, কুমড়া ও ব্রকলিসহ অন্তত ২৩ ধরনের সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে এখানে।


সরেজমিনে দেখা যায়, পলিথিনে ঢাকা ছোট ছোট তাবুর ভেতর মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে কোকোপিটে বেড়ে উঠছে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা চারা কিনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।

চারা উৎপাদনকারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ১৯৬৬ সাল থেকে সমেশপুরে সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। এখানকার চারা দেশের অন্তত ৩৪টি জেলায় যায়। গ্রামের প্রায় দেড়শ পরিবার চারা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।


আরেক চারা উৎপাদনকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা উৎপাদন ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় কাটছে।


চাষি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বুড়িচংয়ে ধানের পর চারা উৎপাদন কৃষকদের অন্যতম বড় আয়ের উৎস। তবে কৃষি অফিস থেকে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। ভালো বীজ ও মাটি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।


চাষিরা জানান, মূল মৌসুমে সেচসংকট দেখা দিয়েছে। আবার বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে চারা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানসম্মত বীজ ও সার সংগ্রহ এবং মাটি পরীক্ষা নিয়েও নানা জটিলতা রয়েছে।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিন আক্তার বলেন, চারা উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো শুনেছেন। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সমেশপুরের চারা উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের সবজি উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ জনপদ।


নির্বাচিত

banner close