বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।
শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।
কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।
জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।
এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ
দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।
এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।
সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।
জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি
রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।
আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’
সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
খুলনা নগরীর লবণচরা থানার এলাকার আলোচিত রাশেদ হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করছে। গত মঙ্গলবার (০২ জুন) খুলনার বিভিন্নস্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ।
এর আগে গত রাতে নিহতের বাবা আনিছুর কাজী বাদী হয়ে থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মন্টু হাওলাদার, মুসা গাজী ও মিরাজ।
লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (০২ জুন) রাতে নিহত রাশেদের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি ৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করেন। যারা এ হত্যা মিশনে অংশ নিয়ে ছিল। বাকী ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাতে এ মামলার এজাহার নামীয় তিনজন আসামিকে খুলনার বিভিন্নস্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
নিহতের ভাই রাইসুল কাজী বলেন, মাদক কারবারি ইমরান কারাগারে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীকে রাশেদ বিয়ে করে। যা নিয়ে উভয়ের দ্বন্দ্ব ছিল চরমে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এর আগে একবার আমাদের পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছিল ইমরান। সে সময় পরিবারের চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এর পরও থেমে থাকেনি ইমরান। একের পর এক পরিকল্পনা করতে থাকে রাশেদকে হত্যার জন্য।
মঙ্গলবার (০২ জুন) সকালেও এমন একটি ফাঁদ পাতে ইমরান। সেই ফাঁদে পা দিয়ে ছোট ভাই খুন হয়।
তিনি আরও বলেন, ফার্মেসীতে দুঘর্টনায় তাদের এক বন্ধু আহত হয়েছে বলে নাটক সাজায়। যে রাস্তায় আমার ছোট ভাই রাশেদের যাওয়া নিষেধ সেই রাস্তায় রাশেদকে ডেকে নেয় তারই ছোট ভাই মুসা গাজী। সেখানে নেওয়ার পর ইমরানকে খবর দেয় উপস্থিত থাকা একটি গ্রুপ। রাশেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর শেষ সময় মিরাজ নামে এক যুবক ফোন করে রাশেদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানায়। ভাই আহতের ঘটনা শুনে আমি লবণচরা থানাধীন স্কুলভিটায় উপস্থিত হই।
সেখানে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ তাকে ঘিরে রেখেছে। কিন্তু কোপানোর সময় কেউ তাকে ঠেকাতে এগিয়ে আসেনি। পুলিশ রাতে যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা সকলে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।
এদিকে বুধবার (০৩ জুন) দুপুরের পর রাশেদের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। আছরের নামজের পর জানাযা শেষে মরদেহ স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দেশজুড়ে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গায় জীবননগরে এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার (৩ দিন) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলা জুড়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তীব্র রোদের কারণে দুপুরের দিকে জীবননগর পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহন চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না।
প্রখর রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমে অনেকেই একটু পরপর গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার (৩ দিন) দুপুর ৩টায় উপজেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আগামী আরও কয়েক দিন এই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন।
প্রচণ্ড রোদে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। বাইরে বের হলেও ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার কথা বলছেন। শিশু এবং বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নে রাখার কথাও বলছেন চিকিৎসক।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় 'গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন' বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (৩ জুন) সকালে পরিষদ সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
"অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে-চলো যাই গ্রাম আদালতে" এই শ্লোগানের উপর জোর দিয়ে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডাঃ তামান্না তাসনীম।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় ৬১ টি জেলার মধ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়ায় এ গ্রাম আদালত পরিচালিত হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তিতে কাপাসিয়া উপজেলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী রুবি আক্তারের পরিচালনায় কর্মশালায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন, থানার এসআই শুভ চন্দ্র রায়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটন, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধি মালা রানী দাস, ইউএনও অফিস কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, কারিতাশ ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা, সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন শামীম, আব্দুল কাইয়ুম, সফিকুল আলম সবুজ, শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, আকরাম হোসেন রিপন, জাহাঙ্গীর আলম, হাসিব খানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জানানো হয় গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য ফৌজদারী মামলার মধ্যে চুরি, ঝগড়া বিবাদ, কলহ বা মারামারি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া, কোন নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা, গচ্ছিত কোনো মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, পশুহত্যা, ক্ষতি সাধন এবং দেওয়ানী মামলার মধ্যে পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত, স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত, অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায় সংক্রান্ত, কোনো অস্থাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত, গবাদিপশুর মেরে ফেলা বা গবাদিপশুর ক্ষতি সংক্রান্ত, কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া খোরপোষ আদায় ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় দেওয়ানজী ও ফৌজদারী বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।
বিরোধীয় পক্ষদের মনোনীত সমসংখ্যক সদস্য অর্থাৎ আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পক্ষ হতে ২ জন করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সহকারে মোট ৫ জন নিয়ে গ্রাম আদালত প্যানেল গঠন করা হয়।
দেওয়ানী মামলায় ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি দিতে হবে। মামলার শুনানির কার্যক্রম শুরু হবার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারলে অতিরিক্ত ৩৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১'শ ২০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল তাঁর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টুর অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
আজ বুধবার (৩ জুন) ভোর চারটার দিকে পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাবিব উদ্দিন মিন্টুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানাযায়, চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় নিজ বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টু।ডাকাতির দিন তিনি পৌরসভার বাটাখালীস্থ তাঁর নবনির্মিত বসতবাড়িতে স্ত্রী সহ অবস্থান করছিলেন। তাঁর দুই সন্তান ও ব্যবসায়িক কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সে সুবাদে ৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে । এরপর বাড়িতে থাকা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ, তাঁর সন্তান ও গৃহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২ লাখ নগদ টাকা, ৩টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টু বলেন, আমি চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালীস্থ নবনির্মিত বসতবাড়িতে স্ত্রী সহ অবস্থান করছিলাম। আমর দুই পুত্রসন্তানও বাড়ির বাইরে ছিলো। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুবাদে ডাকাতদল আমার বাড়িতে হানা দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এ এসপি) অভিজিৎ দাশ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ডাকাতদের সনাক্ত পূর্বক দ্রুত গ্রেফতার করার আশ্বাস দেন। এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান।
পটুয়াখালীর লোহালিয়া ইউনিয়নের পাজাখালী গ্রামবাসীর সাথে মতবিনিময় করেছেন আসন্ন লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২ জুন ) সন্ধ্যায় পাজাখালী গ্রামে তার নিজ বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভায় লোহালিয়া ইউনিয়নের অনেক সম্মানিত ও রাজনীতিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সবসময় আপনাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকবো। আমি লোহালিয়া ইউনিয়নকে একটি সুন্দর, মডেল ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমি সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি
‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে|
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়| র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়| পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা|
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যান্যরা|
সেসময় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি জন¯^াস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি| বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা| পাশাপাশি তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান বক্তারা|
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন|
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)| আটককৃক রফিকুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার নেপা বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শামসুল মন্ডলের ছেলে|
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বাঘাডাঙ্গা বিওপির একটি নিয়মিত টহল দল সীমান্ত পিলার ৬০/৪১-আর থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঘাডাঙ্গা বেনাপোড়া মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে|
অভিযানকালে মো. রফিকুল ইসলামকে তার ঘাসক্ষেত থেকে আটক করা হয়| এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়|
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন| তিনি জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ম্যাগাজিনসহ আটক ব্যক্তিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে|
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী আজগর আলী (৫৮) জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করেই সংগ্রাম করে চলেছেন।
ছোটবেলায় টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার দুই পা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। এরপর থেকেই তাকে চলাফেরা করতে হয় বেয়ারিংয়ের তৈরি একটি গাড়িতে ভর করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও জীবিকার তাগিদে তিনি কখনো থেমে থাকেননি।
আজগর আলীর মা-বাবা কেউই এখন বেঁচে নেই। চার ছেলে নিয়ে তার সংসার। দীর্ঘ ২৬ বছর তিনি একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবার পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে শারীরিক অসুবিধার কারণে সেই দোকানটি তার মেজো ছেলে পরিচালনা করছেন। নিজেও একটি ছোট সবজির দোকান দিয়ে সংসারের আয়-রোজগারে সহযোগিতা করছেন। তবে ব্যবসা সবসময় ভালো যায় না। কোনো কোনো দিন প্রায় ৫০০ টাকার মতো লাভ হয় বলে জানান তিনি।
আজগর আলী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে জীবন কাটাচ্ছি। পরিবারকে নিয়ে কোনো রকমে চলছি। একটি ব্যাটারিচালিত হুইলচেয়ার পেলে আমার চলাফেরা অনেক সহজ হতো। কিন্তু অর্থের অভাবে সেটি কিনতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আমার অনেক উপকার হবে।"
তার চার ছেলের মধ্যে দুইজন এখনও পড়াশোনা করছে। একজন মাধ্যমিক এবং অপরজন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত।
স্থানীয় বাসিন্দা ওমর সরদার বলেন, “আজগর আলী অত্যন্ত পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকেননি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে পরিবার চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা চাই সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষ তার পাশে দাঁড়াক, যাতে তার জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ হয়।"
স্থানীয়দের মতে, কঠিন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আজগর আলীর জীবনসংগ্রাম অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। একটি ব্যাটারিচালিত হুইলচেয়ার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে তার দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর জিহাদ (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার চরভাঙ্গুড়া পূর্বপাড়া এলাকায় তার নানাবাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জিহাদ উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের আগবহর গ্রামের জাফর ইকবালের একমাত্র ছেলে। পরিবারের সঙ্গে ঢাকার সাভারে বসবাস করলেও ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে এসে পরে নানাবাড়ি চরভাঙ্গুড়া গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিল সে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল জিহাদ। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরদিন শিশুটির বাবা ভাঙ্গুড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়। অবশেষে বুধবার সকালে নানাবাড়ির পাশের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে জিহাদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাকিউল আজম বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন।
খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া পিপিএফ ফিড কম্পানির সামনে পাইকগাছা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী বেপরোয়া গতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া পিসিএফ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পাইকগাছার আছাবুর সরদারের ছেলে সাইদুর সরমান সাইদ (২৫) নামের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এবং ৭/৮ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান হাফিজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বাসটিতে পাইগাছা থেকে যাত্রী নিয়ে খুলনায় আসছিলে। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দূর্ঘটনায় এক যাত্রী নিহত হন। ৭/৮ জন যাত্রী আহত হন। তাদের ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পাবনার সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে এক কিশোরীর (১৪-১৬) হাত-বাঁধা ও বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওই কিশোরীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে তার গলায় একটি রুপার চেইন ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পদ্মার চরে কৃষকেরা কাজ করতে যাওয়ার সময় নদীর তীরে আটকে থাকা একটি নৌকার পাশে প্লাস্টিকের মুরগির বস্তা ভাসতে দেখেন। সন্দেহ হলে এক কৃষক কাঁচি দিয়ে বস্তার মুখ কেটে ভেতরে এক কিশোরীর লাশ দেখতে পান। লাশটির হাত বাঁধা এবং গলায় বাজারের ব্যাগ জড়ানো ছিল। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় চারজন মধ্যবয়সী যুবকসহ একটি অজ্ঞাত প্রাইভেটকার ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বলরামপুরের দিকে যাওয়ার সময় গাড়িটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িটি ধাক্কিয়ে বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, "আমাদের ধারণা, মেয়েটিকে অন্য কোথাও ধর্ষণের পর হত্যা করে এই প্রাইভেটকারে করেই লাশটি মাঝরাতে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বলরামপুর স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই গাড়িটি এবং এর ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব।"
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয় এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, "এখনো ওই কিশোরীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ সব ধরনের ক্লু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যাত্রী ছাউনির ওয়ালটন শো রুমের সামনে অভিযান চালিয়ে ২২.০৫ গ্রাম (দুইশ পুইড়া) হেরোইন মূল্য ৮০ হাজার টাকা সহ চিহ্নিত হেরোইন ব্যবসায়ী মো: সুবল হোসেন মোল্লা (৪৩)কে আটক করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।
আটককৃত মাদক ও হেরোইন ব্যবসায়ী মোঃ সুবল হোসেন মোল্লা দৌলতপুর রামচন্দ্রপুর গ্রামের আরশেদ আলী মোল্লার ছেলে।
মঙ্গলবার ২ জুন বিকালে দৌলতপুর উপজেলা সদরের যাত্রী ছাউনির পাশে ওয়ালটন শো রুমের সামনে থেকে দৌলতপুর থানা পুলিশ অভিযান ঐ হেরোইন ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করে।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুর উপজেলা সদরের যাত্রী ছাউনির পাশে ওয়ালটনের শোরুমের সামনে দৌলতপুর থানার এস আই (নিঃ) মোঃ নজরুল ইসলাম ও এস আই সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় কনস্টেবল শামীম, আকরাম হোসেন নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হেরোইন ব্যবসায়ী মো : সুবল হোসেন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। এর নিকট হইতে উদ্ধারকৃত ২০০ (দুই শত পুইড়া ) হেরোইন ২২.০৫ গ্রাম, মূল্য অনুমান ৮০.০০০/- টাকা সহ উদ্ধার করা হয়।
এক বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পান, দৌলতপুর উপজেলা যাত্রী ছাউনির পার্শ্বে ওয়ালটন শোরুমে সামনে পাকা রাস্তায় একজন মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য হেরোইন বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করিতেছে। উক্ত স্থানে পৌঁছাইলে পুলিশের উপস্থিতি টের পাইয়া দৌঁড়াইয়া পালানোর চেষ্টা কালে সংগীয় অফিসার ফোর্সের সহায়তায় উক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের এস আই মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান,উপস্থিত সাক্ষীর মোকাবেলায় ধৃত আসামীর নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করিলে উপরে উল্লিখিত নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। ধৃত আসামীর নিকট কোন মাদকদ্রব্য আছে কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে প্রথমে এলোমেলো কথাবার্তা বলে। অতঃপর ব্যাপকতর জিজ্ঞাসাবাদ এবং দেহ তল্লাশীকালে ধৃত আসামীর বাম পায়ে এাংলেট মধ্যে থাকা সাদা পলিথিনে মোড়ানো বিশেষভাবে রক্ষিত ২০০ (দুই শত) পুইড়া হেরোইন , যাহার ওজন-২২.০৫ গ্রাম, যাহার প্রতিটি পুইড়ার মূল্য ৪০০/-টাকা অনুমান ৮০ হাজার/- টাকা নিজ হাতে বের করে দেয়। সাক্ষী গণের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে। জব্দকৃত ২২.০৫গ্রাম ঘটনাস্থলেই সঙ্গে থাকা ডিজিটাল ওজন পরিমাপক নিক্তির সাহায্যে ওজন পরিমাপ করে এবং বর্ণিত আলামত হইতে ০ ৫ (পাচ পুইড়া) রাসায়ণিক পরীক্ষার জন্য খাকি খামের ভিতরে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)স্বপন কুমার সরকার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক ক্রয়কারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দৌলতপুর থানায় আমি যতদিন আছি মাদক ব্যবসায়ী ও ক্রয়কারী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ীদের স্থান এক হয় জেলখানা আর নাইলে দৌলতপুর ছাড়তে হবে । দৌলতপুর থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী মো: সুবল হোসেন মোল্লা (৪৩) বিরুদ্ধে ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১)সারণির ৮(খ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ কোটে পাঠানো হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ঝর্না আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তবে হাসপাতালে লাশ রেখে তাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বসতঘরে তালা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈতলা গ্রামে স্বামীর বসতঘর থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ঝর্না আক্তার তেতৈতলা গ্রামের সুজন দেওয়ানের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার চান্দের কীর্তি গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঝর্না নিজ কক্ষের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরিবারের লোকজন দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ঝর্নার বোনদের খবর দেয়। পরে ড্রিল মেশিন দিয়ে লোহার দরজা কেটে ঝর্নাকে উদ্ধার করা হয়। তাকে প্রথমে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবরাহাম হোসেন ফাহিম বলেন, “রাত ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।”
নিহতের বোন তাসলিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই ঝর্নার ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝর্নাকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে কয়েকদফা আলোচনাও হয়েছে। বুধবার বিকেলে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঝর্না সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যারা ঝর্নার মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছে তারাই এ ঘটনার জন্য দায়ী।”
নিহতের মামা মো. রফিকুল জানান, ঝর্নার বাবা-মা নেই, মামার বাড়িতেই বড় হয়েছে সে। বিচ্ছেদ হয়ে গেলে কোথায় যাবে এই দুশ্চিন্তায় ঝর্না মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী সুজন দেওয়ানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বাসায় তালা ঝুলছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”