সোমবার, ১ জুন ২০২৬
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বন্যার অবনতি, নতুন  করে প্লাবিত আরও ৫০ গ্রাম

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৫৪

বর্ষার শেষে দেশে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মাসে থেমে থেমেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরেই সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পর এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই বন্যার দেখা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা যায়। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সেখানকার আরও অন্তত ৫০টি গ্রাম। এতে তিন উপজেলার ২৩ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, তিন উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন নারী শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব উপজেলায় ৬৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।’ ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১২৭ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি কমলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা নির্ণয় করে মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইএনও) নিশাত শারমিন বলেন, সোমবার নতুন করে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানের পানি কিছুটা কমছে। আশা করা যাচ্ছে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এদিকে বন্যায় শেরপুরে গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বরও, ফুলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ও অন্যান্য ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকার আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; ভেসে গেছে মাছের খামার।

খবর নিয়ে জানা গেছে, হালুয়াঘাটের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন শুক্রবার থেকে প্লাবিত হয়েছিল। ওইসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে নতুন করে আরও ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান, সবজি ক্ষেত। সঙ্গে পুকুরের মাছও। পানিবন্দি হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার কারণে রান্নার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে মানুষ।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল আহমেদ বলেন, উজানে প্লাবিত হওয়া গ্রামের পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার নড়াইল, কৈচাপুর, ধুরাইল এবং আমতৈল ইউনিয়ন দিয়ে পানি ফুলপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হলেও সার্বিক পরিস্থিতি ভালো।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

দৈনিক বাংলার শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে। জেলার চারটি পাহাড়ি নদীর পানি আরও কমেছে। এসব নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও মৃগী নদীতে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যায় গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৯ জন মারা গেছেন।

সোমবার সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোগাই নদীর পানি ১৩৮ সেন্টিমিটার, চেল্লাখালী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অপর দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

তবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ। এখনও প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সংকট রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। আর বিশুদ্ধ পানির সংকট, শৌচাগারের সমস্যায় ভোগছেন।

কৃষি বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ৬ হাজারেরও বেশি। এতে মাথায় হাত পড়েছে আমন ও মৎস্যচাষীদের। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। এ বন্যায় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি, কলেজ বন্ধ রয়েছে।

জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৪১টি। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০১টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ কাজে সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ীসহ সবাই এগিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে আমরা এ দুর্ভোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।’ শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজারের মতো ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়। আরও ২৫ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার পাওয়া গেছে তা বিতরণ করা হবে।

এদিকে শেরপুরে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনবাহিনী। জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বন্যাকবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেরপুরে এখন পর্যন্ত চার হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পোঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের বাসায় রান্না করার ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সারিকালিনগর, দড়িকালিনগর ও হাতিবান্ধা ইউনিয়নের মিরপাড়া এলাকায় ২ শতাধিক দুর্গতের মধ্যে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ১৩ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট জোহায়ের খাবার বিতরণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দুর্ভোগ

দৈনিক বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানায়, জেলায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এতে স্বস্তি ফিরছে বানভাসিদের। তবে সংকট দেখা দিয়ে সুপেয় পানির। ভেসে উঠছে ভেঙে যাওয়া রাস্তার খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের। এর আগে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শতাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সমায়িক বন্ধ রাখা হয়। ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি।

এদিকে পূর্বধলার নাটেরকোনা এলাকায় একটি ফসলরক্ষা বাঁধ রোববার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ভেঙে গিয়ে ৭-৮টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার সেসব স্থান থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে।

সোমবার পানিবন্দী এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবগুলো নদ-নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ডুবন্ত রাস্তাগুলো ভেসে উঠছে। দৃশ্যমান হচ্ছে রাস্তার ভাঙা অংশ ও বড় বড় গর্ত। বন্যার্তদের জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ সহায়তা করছে।

জেলার শিক্ষা ও কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে গেছে। ২-৩ দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ধানের ক্ষতি অনেকটা কমে যাবে। এ ছাড়া পানি ওঠায় জেলায় ১৮৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে থাকবে বৃষ্টি

রাজশাহী ছাড়া দেশের সব বিভাগেই সপ্তাহজুড়ে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরপর গরম কিছুটা বাড়বে। আর বৃষ্টি-গরমের এই পর্ব শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দেখা মিলতে পারে দেশে।

আজ সোমবার আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজশাহীতে একটু কম বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সব বিভাগেই আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিনই এক পশলা-দুই পশলা করে বৃষ্টিপাত হবে। এরপর কিছুটা গরম পড়বে। তবে, বৃষ্টির পরপরই শীত পড়ার আভাস নেই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে শীত নামতে শুরু করবে।’

সোমবার আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয়। এর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

বিষয়:

চিকিৎসাধীন অবস্থায় হানিফ পরিবহনের মালিক কফিল উদ্দিনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, হানিফ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন আর নেই। ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

দেশের পরিবহন খাতের পরিচিত এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ।

কফিল উদ্দিনের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই চলে যাওয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন এবং মহাসচিব মো. সাইফুল আলম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


মেহেরপুরে এক রাতেই ৭টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের মাঠের ৪টি এবং মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালি মাঠ থেকে ৩ টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়েছে।

এতে করে এই দুই উপজেলার প্রায় ৫০০ বিঘা জমির সেচকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গেল রাতের কোন এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, চকশ্যামনগর মাঠে মেহেরপুর সদর ফিডারের আওতায় চারটি এবং একই মাঠের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী অংশে বটতলা সংলগ্ন মুজিবনগর ফিডারের আওতায় আরো তিনটি ট্রান্সফর্মারের কয়েল চুরি হয়েছে।

রাতের আধারে অজ্ঞাত চোরেরা বৈদ্যুতিক পোল থেকে ট্রান্সফরমার খুলে ফেলে। ট্রান্সফরমারের উপরের কভার ভেঙ্গে ভেতরে থাকা কয়েল নিয়ে যায়।

এতে প্রায় ৫শতাধিক বিঘা জমির সেচ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুত সমিতির নিয়মানুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের সব খরচ গ্রাহককে বহন করতে হবে।এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সেচ পাম্প মালিকগণ।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সদর সার্কেলের ডিজিএম শ্যামল কুমার মল্লিক জানান, এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়ম তান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করলে নতুন ট্রান্সফর্মার লাগানো সম্ভব।

আর এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে চোর চক্রকে ধরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।


গজারিয়ায় তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করলো পিবিআই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া ( মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হালিমা আক্তার (১৯) নামের এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ এবং সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

​ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধান (৫০)। তারা সবাই গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।

গত শুক্রবার (২৯ মে) সকালে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে হালিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহটি পচন ধরায় প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই মুন্সীগঞ্জের একটি ক্রাইম সিন টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত হালিমা গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মহাসিন বেপারীর মেয়ে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম হালিমা অভিযুক্ত আবু কালামের কাছে ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেলের কাছে ১০ হাজার টাকা পেতেন। এছাড়াও অভিযুক্ত জামালের সাথে হালিমার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জামালের এক আত্মীয় দেখে ফেলেছিলেন। এই বিষয়টি ফাঁস হয়ে এলাকায় সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অভিযুক্তরা হালিমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ​

রবিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আমলী আদালত-৫ এর বিজ্ঞ বিচারক জিনিয়া ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

রবিবার সন্ধ্যায় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসমা আরা জাহান জানান, ঘটনার ১৫ দিন আগেই অভিযুক্তরা হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যায় কৌশলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে আনা হয়। পরে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে হালিমার পরনের প্যান্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।


ঈদের ছুটিতে মুখরিত লাউয়াছড়া, ৪ দিনে ৪ হাজার পর্যটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জায়েদ আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে উপচে পড়া পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান চিরসবুজ বন 'লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান'। ঈদের দিন থেকে শুরু করে আজ রবিবার (৩১ মে) পর্যন্ত মাত্র চার দিনে উদ্যানটিতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। এর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত চার দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ১৮১ জন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে ২৭ জন বিদেশি পর্যটকও ছিলেন। পর্যটকদের প্রবেশ টিকিট বাবদ সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫২ টাকা, যা এই স্বল্প সময়ে অন্যতম একটি রেকর্ড।

যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে ঈদের ছুটিতে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন এই চিরসবুজ বনে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ভিড়ে মুখরিত ছিল পুরো উদ্যান এলাকা।


সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকেই লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের সমাগম ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। বনের ভেতরের সুউচ্চ গাছপালা, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আর বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ দেখতে উদ্যানের ভেতরে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বনের বানর, বিরল প্রজাতির উল্লুক আর চশমা পরা হনুমানের দেখা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নানা বয়সী মানুষ।

উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়ায় মানুষের ঢল নামে। তবে এবার পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বনের পরিবেশ রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ঈদের শুরুর দিকে পর্যটকের দেখা কিছুটা কম পাওয়া গেলেও, সময়ের সাথে সাথে তা অনেকাংশেই বেড়েছে। আজ রবিবার ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত পর্যটকদের এই আনন্দঘন ও উপচে পড়া উপস্থিতি বজায় ছিল।



মেহেরপুর এক রাতেই ৬ ট্রান্সফরমার চুরি, বিপাকে কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা বাবু, মেহেরপুর প্রতিনিধি 

মেহেরপুরের সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের মাঠের ৪টি এবং মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালি মাঠ থেকে ৩ টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়েছে।

এতে করে এই দুই উপজেলার প্রায় ৫০০ বিঘা জমির সেচকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গেল রাতের কোন এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, চকশ্যামনগর মাঠে মেহেরপুর সদর ফিডারের আওতায় চারটি এবং একই মাঠের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী অংশে বটতলা সংলগ্ন মুজিবনগর ফিডারের আওতায় আরো তিনটি ট্রান্সফর্মারের কয়েল চুরি হয়েছে।

রাতের আধারে অজ্ঞাত চোরেরা বৈদ্যুতিক পোল থেকে ট্রান্সফরমার খুলে ফেলে। ট্রান্সফরমারের উপরের কভার ভেঙ্গে ভেতরে থাকা কয়েল নিয়ে যায়।

এতে প্রায় ৫শতাধিক বিঘা জমির সেচ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুত সমিতির নিয়মানুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের সব খরচ গ্রাহককে বহন করতে হবে।এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সেচ পাম্প মালিকগণ।

মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সদর সার্কেলের ডিজিএম শ্যামল কুমার মল্লিক জানান, এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়ম তান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করলে নতুন ট্রান্সফর্মার লাগানো সম্ভব।

আর এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে চোর চক্রকে ধরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।


সোনারগাঁয়ে গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বজনদের দাবি হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধুর নাম তৃষা (২১)। নিহতের স্বজনদের দাবি, তাকে পারিবারিক কলহে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে তার স্বামী ও তার পরিবার। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ভাদুড়িকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত তৃষা ওই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে।
অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, তৃষার বোনকে আনতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার সকালে শ্বশুরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তৃষা নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দেয়। দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা তৃষাকে ঘরের চালার কাঠের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্বামী সোহাগ ও স্বজনরা তাকে নামিয়ে আনলে তিনি আর জীবিত ছিলেন না।
ঘটনার পর খবর পেয়ে সোনারগাঁ তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত তৃষার মামা জামাল হোসেনের দাবি, ৬ বছর আগে সোহাগের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে সন্তান হয়নি। এ নিয়ে পরিবারে মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়। গতকাল রোববার ঝগড়ার এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। তবে আত্মহত্যার কোন চিহ্ন নাই। ঘটনার পর স্বামী পালিয়ে যায়।
সোনারগাঁ তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আজকের মেধাবীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে: ভূমি মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো

যে জাতি তার গর্বিত সন্তানদের স্বীকৃতি দিতে জানে না, সে জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদেরকে অহংকারী না হয়ে বিনয়ী হতে শিক্ষা দেয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে রাজশাহী কলেজ তাদের যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তা একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।
আজ রবিবার (৩১ মে) রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রাজশাহী কলেজ অ্যালামনাই ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জ্ঞান অর্জন করে এই মেধাবীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে।"
রাজশাহী কলেজের ঐতিহ্যবাহী মাঠের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, "এখান থেকে অনেক জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনে এই মাঠটি সংস্কার করে আরও সুন্দর ও আধুনিক করার ব্যবস্থা করা হবে। যারা রাজশাহী কলেজে পড়ালেখা করেছেন, তারা সত্যিই সৌভাগ্যবান। রাজশাহী কলেজসহ সমগ্র রাজশাহীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ইউনুছ আলী,রাজশাহী কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক,প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান,রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি চৌধুরী সাইদুর রহমান কোয়েল, রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ডাঃ তাহাসিনা শামীম তাসু প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মোট ৩৪২ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল কলেজ, ৮১ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েট) ৬৬ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০ জন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১১ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৯ জন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৫ জন।
সংবর্ধনা প্রদান ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে এক ফটোসেশনে মিলিত হন।


নৌপথে কোনো অঞ্চলের মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে দেব না: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা প্রতিনিধি

নৌপথে যাতায়াতকারী জনগণের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, দেশের কোনো অঞ্চলের নাগরিক যেন নৌপথে ভোগান্তির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং নৌযান চলাচল ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎রোববার (৩১ মে) বিকেল ৩টার দিকে আকস্মিক সফরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

‎প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদ ও ছুটিকে কেন্দ্র করে যেসব নৌপথে যাত্রীচাপ বেশি থাকে, সেসব এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চাঁদপুর, বরিশাল, মজুচৌধুরীঘাট, ইলিশাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাট পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া হাতিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন নৌপথ ও ঘাটের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

‎তিনি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে নিরাপদে তাদের প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ছুটি শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। ঘাটগুলো পরিদর্শনের সময় ছোটখাটো কিছু ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা আমাদের নজরে আসে। সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

‎মো. রাজিব আহসান আরও বলেন, জনগণের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা উন্নয়ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ঘাট ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের মাধ্যমে নৌখাতে সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।

‎ভোলার ইলিশা নদী বন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশা নদী বন্দরকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও কার্যকর নদী বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মানোন্নয়নে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

‎অবৈধ নৌযান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি নিবন্ধনবিহীন নৌযানগুলোকে চিহ্নিত করতে দেশব্যাপী শুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নৌযানের ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এনে সেগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। শুমারি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে অবৈধ নৌযানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

‎তিনি আরও জানান, যেসব রুটে যাত্রীসংখ্যা ও পরিবহন চাহিদা বেশি, সেখানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন জাহাজ ও নৌযান সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।

‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ডা. শামীম রহমান এবং শহিদুল্লাহ কাওছারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের উপস্থিতিতে ঘাটের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

‎সফর শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নৌপথে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।


ফেনীর ফুলগাজীতে গতিয়া খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ২নং মুন্সীরহাট ইউনিয়নের গতিয়া খাল থেকে সিলোনিয়া খাল পর্যন্ত দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (৩১ মে) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে গতিয়া খাল থেকে সিলোনিয়া খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পের প্রস্থ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫-৪৫ ফুট। খাল খননে প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমিয়ে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

পরে সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু স্থানীয় নোয়াপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম, উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা সোহেলী নওশীন প্রত্যাশা, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুল আলম স্বপন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আহম্মেদ, মুন্সি হাট ইউনিয়নের প্রশাসক ও গতিয়া খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।


টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে ফেরার পথে নদীতে পড়ে নিখোঁজ তামিমের লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ শেষে ট্রলার থেকে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া তামিম (১৫) নামের এক কিশোরের মরদেহ ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারের উত্তর পাশে পাটলাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তামিম সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা-এর গোল্লা গ্রামের মজিবুর মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তামিম তার পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি পর্যটক দলের সদস্য হিসেবে ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি নৌযানে করে টাঙ্গুয়ার হাওর ও টেকেরঘাট ভ্রমণে আসেন। ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত তিনি ট্রলার থেকে পাটলাই নদীতে পড়ে যান। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালানোর পর রবিবার (৩১ মে) তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। টানা অনুসন্ধানের একপর্যায়ে কিশোর তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।


ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

ঈদুল আযহার আনন্দ উদযাপন শেষে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথ পাড়ি দিয়ে মানুষ তাদের গন্তব্য যাচ্ছে।

রবিবার (৩১ মে) সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটে দুর দুরান্ত থেকে মানুষ যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, মাহিন্দ্র, মোটরসাইকেল যোগে ঘাটে এসে লঞ্চ ও ফেরিতে নদী পাড়ি দিচ্ছে। আবার অনেক বিভিন্ন জেলা থেকে সরাসরি পরিবহন যোগে নদী পারি দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে। এতেকরে ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে ছোট গাড়ির মধ্যে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঘাট এলাকায় সকল প্রস্তুতি গ্রহন করেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। ঘাটে আসা প্রতিটি বাসে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে ফাঁকা বাস ফেরিতে উঠছে। তবে প্রতিটি ঘাটেই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসা সদস্য সহ ঘাট-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা।

মেহেরপুর থেকে আসা গাজীপুরগামী যাত্রী মাহফুজুর রহমান বলেন, ঈদের আগে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষা বা যানজটের মুখে পড়তে হয়নি, তেমনি ফেরার পথেও কোন ভোগান্তি হয়নি। এবারের ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তির।

ঘাটে আসা আরেক যাত্রী ছালমা আক্তার বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ মাদারীপুর থেকে বাসযোগে ঘাটে এসে সরাসরি ফেরিতে উঠেছি। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যানবাহনে ভাড়া তুলনামূলক ভাড়া একটু বাড়তি।

এদিকে ঢাকা সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখনো নদী পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ।

লঞ্চঘাটে ঢাকা থেকে আসা যাত্রী আঃ কাদের বলেন, আমি ঢাকায় ব্যবসা করি। ঈদের মধ্যে বাড়ি যেতে পারিনি, গরু কোরবানি ঢাকাতেই দিয়েছি এখন মাংস নিয়ে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া যাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহা ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকামুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে দৌলতদিয়া প্রান্তে কোন ভোগান্তি নেই। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চলাচল করছে।


এমপির হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো পুকুর খনন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোর-৩ সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু এমপির হস্তক্ষেপে নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের পুন্ডরি গ্রামে আবাদি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন পুকুর খননের অপরাধে জমির মালিক হামিদ মণ্ডলকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম রোববার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার গভীর রাত থেকে ধানী জমিতে অসাধু ভেকু ব্যবসায়ী আরিফুল ও আলী হাসানের যোগসাজশে পুকুর খনন শুরু করা হয়।

পরে স্থানীয়রা বিষয়টি গণমাধ্যম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে জানালে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের তৎপরতারও প্রশংসা জানানো হয়।


মাগুরায় পুলিশের অভিযান ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার , গ্রেফতার ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম-সেবা)-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যাপস), খন্দকার খায়রুল হাসান (পিপিএম-সেবা)-এর নেতৃত্বে মাগুরা সদর থানা পুলিশ ও সিসিআইসি’র যৌথ একটি দল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষীকান্দর গ্রামের একটি মুরগির খামারে অভিযান চালায়।

অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য মো. পলাশ (৩৬)কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মাগুরা পৌরসভার মীরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খামারের একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় রয়েছে। তারা মোটরসাইকেল চুরি, লক পরিবর্তন, ক্রেতা সংগ্রহ এবং চোরাই মোটরসাইকেল সরবরাহের কাজে জড়িত। গ্রেফতারকৃত পলাশ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং চক্রটির সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাগুরা জেলা পুলিশ জানায়, জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। খুন, ডাকাতি, মাদক, অনলাইন প্রতারণা ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের পাশাপাশি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সাফল্য অর্জন করেছে পুলিশ।

এছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে মাগুরা জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


banner close