মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

সোনারগাঁওয়ে বাস খাদে পড়ে অর্ধ শতাধিক যাত্রী আহত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সোমবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায় তিশা এন্টারপ্রাইজের বাস। ছবি: সংগৃহীত
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৮ অক্টোবর, ২০২৪ ১৬:৫৭

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ অর্ধ শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।

পিরোজপুর ইউনিয়নের আগমন সিএনজি স্টেশনের পাশে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় ক্লিনিকসহ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীরা জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ৬০ জন যাত্রী নিয়ে তিশা এন্টারপ্রাইজের বাসটি কুমিল্লা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসটি সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর এলাকায় আসলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

তারা আরও জানান, এ ঘটনায় কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের বাসের জানালে ভেঙে উদ্ধার করা হয়। আহতদের মধ্যে মুমূর্ষু যাত্রীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাসযাত্রী ফজলুল হক মোল্লা জানান, তিনি গৌরিপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী। জরুরি কাজে ঢাকা যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। বাসের সব যাত্রী কম-বেশি আহত হয়েছেন। তাদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের অফিসার সুজন কুমার হালদার জানান, বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। শিশুসহ বাসে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।


কারাগারে আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় তাদের স্বজনের উপস্থিতিতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। কারাসূত্র জানায়, বিয়ের কাগজপত্র আদালতে দাখিলের পর জামিন পাবেন মামলার আসামি ও বর তরিকুল ইসলাম (২৬)।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানান, যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন তরিকুল ইসলাম। তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার ভুক্তভোগীর সঙ্গে কারাগারে বিয়ের আদেশ দেন। বিয়ে সম্পাদনের শর্তে তার জামিনও মঞ্জুর করেন।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর-কনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কাজী ডেকে রেজিস্ট্রি করে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কারাসূত্র জানায়, তরিকুল দোকানে কাজ করেন। আর কনে (৩৫) স্থানীয় এক দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারের সহকারী। দুজনেরই আলাদা সংসার রয়েছে। তারপরও তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তরিকুল আপত্তি জানান। এ নিয়ে সম্পর্কের অবনতি হলে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ওই নারী। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা মেলে। একপর্যায়ে দুপক্ষ বিয়ে করার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে সম্মত হন। তখন আইনজীবী বিষয়টি আদালতকে অবহিত করলে বিচারক তাদের বিয়ের আদেশ দেন। আর বিয়ে সম্পাদনের কাগজপত্র আদালতে দাখিলের শর্তে তরিকুলের জামিনও মঞ্জুর করেন।


গাউছে পাক বিপণিবিতানের নবনির্বাচিত কমিটিকে সংবর্ধনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাউছে পাক বিপণিবিতান পরিচালনায় মতিঝিল হকার্স ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটিকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (১২ মে) ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন মতিঝিল কম্পিউটার সোসাইটি। সভায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, মতিঝিল কম্পিউটার সোসাইটির সভাপতি জনাব মশিউর রহমান খান দিদার, সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, সহসভাপতি মো. সোহেল হাসান ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আবিদ, মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সভাপতি খন্দকার আমিনুল হক লোটন প্রমুখ।

গাউছে পাক বিপণিবিতান পরিচালনায় মতিঝিল হকার্স ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন, সভাপতি এস এম নূরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হক, সিনিয়র সহসভাপতি সাহাব উদ্দিন। সভায় উভয়পক্ষ সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।


ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগ: তাহিরপুরে ৬ শিশু বিকাশ কেন্দ্র চালু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে ৬টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র বা ‘লার্নিং রুটস’ চালু করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। এই উদ্যোগের আওতায় উপজেলার ৪ থেকে ৫ বছর বয়সি প্রায় ১৩৮ জন শিশু প্রাক-শৈশব যত্ন, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশমূলক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ তাহিরপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চালু হওয়া ৬টি কেন্দ্রে বর্তমানে ১৩৮ জন শিশু নিয়মিত ক্লাস করছে। এর মধ্যে ৬৩ জন ছেলে ও ৭৫ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। আরসি পরিবারভুক্ত স্পন্সর শিশু রয়েছে ৪২ জন এবং নন-আরসি পরিবারের ৯৬ জন শিশু এই কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। এ ছাড়া ৩ জন প্রতিবন্ধী শিশুকেও এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শিশুদের খেলাধুলা, আনন্দমুখর শিক্ষা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়তা করছে এসব কেন্দ্র। শিশুদের সুন্দর, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে শিশু প্রাক-শৈশব বিকাশ ও শিখন কেন্দ্র। স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃত্ব ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, তাহিরপুর এপির কমিউনিটি লেড লার্নিং রুটস সেন্টার কার্যক্রম শিশুদের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তীয়, ভাষাগত ও মনোসামাজিক বিকাশে অনন্য অবদান রাখছে।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তানহা বেগমের মা বলেন, ‘আগে আমার মেয়ে চুপচাপ থাকত। এখন সে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। তার হাসি দেখলে আমাদের মন ভরে যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে প্রতিদিন আনন্দ নিয়ে কেন্দ্রে আসে। শুরুতে কিছুটা সংকোচ থাকলেও বর্তমানে সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গল্প শোনা, ছবি আঁকা ও খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছে। ধীরে ধীরে তার ভাষাগত ও সামাজিক দক্ষতারও উন্নতি ঘটছে।’

লক্ষ্মীপুর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কমিটির সভাপতি সুরমা আক্তার বলেন, ‘এই কেন্দ্র আমাদের এলাকার শিশুদের জন্য একটি আশীর্বাদ। শিশুরা এখন আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখছে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে।’

জয়নগর গ্রামের শিশুর অভিভাবক রুপা বেগম বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা আগে ঘরে বসে সময় নষ্ট করত। এখন তারা নিয়মিত শিখন কেন্দ্রে যায়। এতে তাদের আচরণ, শেখার আগ্রহ এবং সামাজিকতা অনেক উন্নত হয়েছে।’

প্রোগ্রাম অফিসার মহসিন খান বলেন, ‘জয়নগর, বীরনগর, মধ্য তাহিরপুর, লক্ষ্মীপুর, চিকসা ও ধুতমা গ্রামে পরিচালিত এই ৬টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে শিশুদের আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রতিদিন নিজে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করি, যেন শিশুরা সঠিকভাবে শিক্ষা, যত্ন ও মানসিক বিকাশের সুযোগ পায়। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আনন্দদায়ক ও মানসম্মত শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের তাহিরপুর এপির ম্যানেজার সজল ইগ্নেসিয়াস গমেজ বলেন, ‘শিশুদের জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর তাদের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়টাতে সঠিক যত্ন, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিশুরা আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠতে পারে। তাহিরপুরে চালু হওয়া এই শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলো শুধু শিক্ষা নয়, শিশুদের আনন্দময় ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ‘শিশুদের প্রাক-শৈশব বিকাশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই শিশুরা যদি সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের সুযোগ পায়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা দেশ ও সমাজের জন্য সম্পদ হয়ে গড়ে উঠবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, তাহিরপুর এপির এই কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা স্থানীয়ভাবে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’


কুমিল্লায় খুনের আসামিকে কুপিয়ে হত্যা, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার তিতাসে হত্যা মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার (১১ মে) রাতে উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের কাছ থেকে পুলিশ একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আব্দুল লতিফ ভূইয়া (৪৫) তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামের মৃত ধনু ভুঁইয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার সঙ্গে সাইফুল মেম্বারের লোকজনের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর দুপক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় লতিফ আসামি ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে তিন দিন আগে তিনি এলাকায় ফেরেন।

গত সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৯টায় আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া নিজবাড়ির পাশেই দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে ওসি মো. মমিরুল হক বলেন, ‘ঘটনা জানতে পুলিশের একাধিক সংস্থা মাঠে কাজ করছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় মামলা করা হয়নি।’


গাজীপুর মহানগরের একযোগে কর মেলা শুরু 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর  প্রতিনিধি

'সবাই মিলে দেব কর, সিটি কর্পোরেশন হবে স্বনির্ভর' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১২ মে) মহানগরের আটটি জোনে একযোগে কর মেলা শুরু হয়েছে। নগরবাসীকে কর প্রদানে উৎসাহিত করা, বকেয়া কর আদায় বৃদ্ধি এবং সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর মেলার উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান, অঞ্চল-৪ এর কর নির্ধারণ কর্মকর্তা, মোঃ আতাউর রসূল ভূঁইয়া, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশাই রিছীল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রশিদসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কর মেলায় আবাসিক হোল্ডিং মালিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। বকেয়াসহ চলতি বছরের কর একসঙ্গে পরিশোধ করলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কর মওকুফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, জনগণের রাজস্ব আয় নগরের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি, ,'একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও স্বনির্ভর নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের কর প্রদানের বিকল্প নেই।

নগরবাসীর করের অর্থ দিয়েই রাস্তা, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন ও নাগরিক সেবার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই কর প্রদান শুধু দায়িত্ব নয়, এটি নগর উন্নয়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ।'

তিনি আরও বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক ও সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি। কর মেলার মাধ্যমে নাগরিকদের হয়রানিমুক্ত পরিবেশে সহজে কর পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

জনগণের সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে গাজীপুরকে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও স্বনির্ভর নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।'

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মোঃ সোহেল হাসান বলেন, 'কর আদায় বৃদ্ধি পেলে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। নগরবাসীর সুবিধার্থে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ এবং সেবার মানোন্নয়নে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি।'

কর মেলায় আগত নাগরিকরা জানান, একসঙ্গে কর পরিশোধে বড় অঙ্কের মওকুফ সুবিধা পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সহজ ও দ্রুত সেবা পাওয়ায় তারা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর মেলা চলাকালে নগরবাসীকে দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদানের জন্য বিশেষ বুথ, তথ্য সহায়তা কেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োজিত রাখা হয়েছে। আগামী একমাস এই কর মেলা চলবে।


মাগুরায় নার্স দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

“আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মাগুরায় ইউনিল্যাব নার্সিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আয়োজিত এ র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রতিষ্ঠানে এসে শেষ হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।

মানবতার সেবায় নিবেদিত বর্তমান ও আগামীর নার্সদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও উৎসাহ জানানোর উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি পরিচালনা করেন সুবাস চন্দ্র বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে ইউনিল্যাব নার্সিং ইনস্টিটিউটের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস।


পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনে যেকোনো ধরনের ছিনতাই বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ামাত্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সড়কে পশুবাহী ট্রাকের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি মুক্ত রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ হটলাইন সেবা চালু করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ঈদের আগে ও পরে মোট ১৪ দিন পুলিশ সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল কার্যকর থাকবে।

তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি পশুর চামড়া সংরক্ষণের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ উদ্দেশ্যে লবণ বিতরণের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কোরবানির ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এছাড়া সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঈদের আগেই দেশের সকল গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


ফেনীতে বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে বাস চাপায় ঝরল বাবা-ছেলের প্রাণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন নুর আলম ও তার ছেলে নিরব। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাফেজিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের সী-ম্যান সফিউল উল্যাহর বাড়ির নুরুল হুদার ছেলে নুর আলম ও তার ছেলে নিরব।

নুর আলম পেশায় ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক ছিলেন।

আহত ভাগিনা আফজাল মিঠুকে মুমূর্ষ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ছেলে ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়ি ভাঙার তাকিয়া থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফেনীতে ফিরছিলেন নুর আলম। পথে একটি দ্রুতগতির বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল সড়কের ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই নুর আলম মারা যান। স্থানীয়রা গুরুতর আহত ছেলে ও ভাগিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছেলের মৃত্যু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত আফজাল মিঠুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি থামিয়ে পালিয়ে সটকে পড়ে চালক। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। জব্দ করে বাস ও মোটরসাইকেল।

মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো: আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পলাতক রয়েছেন বাস চালক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




নারায়ণগঞ্জে লেকের পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মনিরুল (১৫) ও শুভ (১৫) নামে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) ভোরে লেকের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মনিরুল মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামের মোহাম্মদ জাকিরের ছেলে। বর্তমানে পরিবারসহ তারা সিদ্ধিরগঞ্জের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। অন্যদিকে শুভ পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া এলাকার মিজান শিকদারের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুনলাইট এলাকায় থাকতেন। তারা দুজনে গুদনাইল বাগপাড়া আলিম মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরে মাদরাসার পরীক্ষা শেষে কয়েকজন বন্ধু নাভানা মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। খেলা শেষে পাঁচ বন্ধু মিলে বার্মাস্ট্যান্ড নয়াপাড়া এলাকার ১ নম্বর সেতুর পাশে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর তিনজন বাড়ি ফিরে গেলেও মনিরুল ও শুভ আর ফিরে আসেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, রাতে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে স্থানীয়রা লেকে দুই কিশোরের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করে। ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


তালায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাংলাদেশ ফার্মাসিটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে “অধিকার আদায়ে আমরা সবাই একসাথে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২মে) তালা প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ সম্বোধন করে গ্রেপ্তার ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

তালা উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি মো: ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জামিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,সংগঠনের উপদেষ্টা মো: তৈইবুর রহমান,জাহিদুল ইসলাম,বিল্লাল হোসেন,আবির হোসেন ও কামাল হোসেন,কপিলমুনি শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন,ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা দেশের স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছেন। অথচ তাদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ,গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন,মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, চাকরির নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবী জানান। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।


ভোলার কুরবানির হাটে চমক, ২২ মণের ‘কালাচান’ ও ১৮ মণের ‘সাদাচান’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা প্রতিনিধি

আসন্ন ঈদুল আজহা-কে সামনে রেখে ভোলা সদর উপজেলা-র কুরবানির হাটে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির দুটি বলদ—কালাচান ও সাদাচান। ২২ মণ ও ১৮ মণ ওজনের এই দুই গরু দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়সহ দূর-দূরান্তের মানুষ।

জানা গেছে, রাজাপুর ইউনিয়ন-এর চরমনোষা গ্রামের খামারি দুলাল বেপারি গত তিন বছর ধরে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু দুটি লালন-পালন করেছেন। তার খামারে বর্তমানে ১০টি গরু থাকলেও সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের এই দুটি বলদ।

খামারি জানান, ‘কালাচান’-এর ওজন প্রায় ২২ মণ, যার দাম চাওয়া হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে ‘সাদাচান’-এর ওজন প্রায় ১৮ মণ এবং এর দাম ধরা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। তার দাবি, ১৫ লাখ টাকার কমে গরু দুটি বিক্রি করলে লোকসান হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুরবানির হাটকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দুলাল বেপারি ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যের মতোই আদর-যত্নে বড় করা হয়েছে গরু দুটিকে।

দুলাল বেপারি বলেন, “সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু দুটি পালন করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিদিন নিয়মিত দানাদার খাবার, জার্মান ঘাস ও ফল খাওয়ানো হয়।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত বড় গরু এলাকায় আগে খুব একটা দেখা যায়নি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শুধু গরু দুটি একনজর দেখতে খামারে আসছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ-এর কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, খামারি প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাকৃতিক উপায়ে গরু দুটি লালন-পালন করেছেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাবেন।


বিয়ের দাবিতে তাড়াশে দুই সন্তানের জননীর অনশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​সাব্বির মির্জা , তাড়াশ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক আরাফাত হোসেনের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন দুই সন্তানের এক জননী। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের কুসুম্বি গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটছে।

​ঘটনা সূত্রে জানা যায়, কুসুম্বি গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলের সাথে ওই নারীর দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। সম্প্রতি ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রেমিক ও তার পরিবার তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। উপায়ান্তর না দেখে গত (১১ মে ) বিকাল থেকে ভুক্তভোগী নারী আরাফাত হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন।

​বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ছেলের পরিবার মেয়েটিকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।

​পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে অনশনরত ওই নারীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাকে গ্রাম পুলিশের পাহাড়ায় রাখা হয়েছে।

​এলাকাবাসী জানান, দুই সন্তানের জননী হওয়া সত্ত্বেও প্রেমের টানে ওই নারী এখানে এসেছেন। তবে ছেলের পরিবার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে চাইছে না। বর্তমানে ওই বাড়িতে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো রাজিব সরকার রাজু বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আইনি প্রক্রিয়া বা সামাজিক মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

​শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিয়ের দাবিতে ওই নারী এখনো তার অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছি। ওই নারী বর্তমানে গ্রাম পুলিশের পাহারায় নিরাপদে আছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় যদি ভুক্তভোগী নারী কোনো অভিযোগ করেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে সেদিকে আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে।"


ডুমুরিয়ায় চিচিঙ্গার বাম্পার ফলন, কৃষিতে নতুন আশার আলো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা-য় চলতি মৌসুমে পোল্লা বা চিচিঙ্গা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক কৃষক এখন সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে মালচিং ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। বিশেষ করে উন্নত হাইব্রিড ‘রোহিণী’ জাতের পোল্লা চাষে খরচ কম হলেও ফলন মিলছে বেশি।

খর্নিয়া ইউনিয়ন-র গোনালী গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী ৫০ শতক জমিতে পোল্লা চাষ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষকদের ভাষ্য, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পোল্লা চাষে দ্বিগুণ লাভ হচ্ছে।

বর্তমানে স্থানীয় পাইকারি বাজারে প্রতি মণ চিচিঙ্গা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা এখন মাঠ থেকেই সরাসরি পাইকারদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন, এতে পরিবহন ব্যয়ও কমছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস-এর কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, পোল্লা চাষে সফল হতে হলে সঠিক সময়ে বীজ বপন, সুষম সার প্রয়োগ এবং মাচা বা জাংলা মজবুত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সবিতা সরকার বলেন, ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের জন্য উপযোগী। পোল্লার বাম্পার ফলন প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার নতুন পথ দেখাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের জৈব সার ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা ইতিবাচক। পোল্লা চাষে অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক শিক্ষিত যুবকও কৃষির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।


banner close