অপহরণ করার পর পাঁচ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি। নাফ নদীতে আজ বুধবার টহলরত বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। গত সোমবার নাফ নদীতে মাছ ধরতে গেলে আরাকান আর্মির সদস্যরা জেলেদের অপহরণ করে।
ফেরত পাঁচ জেলেকে নিয়ে এরপর টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়া সংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটি ঘাটে পৌঁছায় বিজিবি। টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিইদ্দীন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেদের ফেরত পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘গত সোমবার নাফ নদীতে বাংলাদেশি পাঁচ জেলে মাছ শিকার করেতে গেলে তাদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এ সময় তাদের নৌকা ভেসে মিয়ানমার সীমান্তে ঢুকে পরে। এতে খাইংচং নামক জায়গায় থেকে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্টি আরকান আর্মি অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে নৌকাসহ পাঁচ বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি। এক পর্যায়ে আজকে দুপুরে আরকান আর্মি জেলেদের হস্তান্তর করলে তাদের ফেরত আনা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ বলতে, সীমান্তে মিয়ানমারে যে সংগঠন থাকুক না কেন দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আরকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বাংলাদেশ সীমাসন্তে বিজিবি ও মিয়ানমার সীমান্তে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পাঁচ জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে তাদের (আরকান আর্মির) সঙ্গেও কথা হয়েছে। যার কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশে কোনো ট্রলারের ওপর গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া আমরা প্রতিনিয়ত সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের প্রতিহত করছি।’
জানা গেছে, ফেরত আসা জেলেরা হলেন- রাশেদ হোসেন, মো. বোরহান, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাশেল ও মোহাম্মদ আলম। তাদের মধ্যে নৌকার মাঝি মো. আলম বলেন, ‘আমরা নাফ নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়েছিলাম, সেখানে স্পিড বোট নিয়ে এসে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে মংডুতে তাদের (আরকান আর্মি) একটি ক্যাম্পে রাখা হয়। এ সময় আমাদের মারধর করা হয়। পরে রাত ৩টায় জঙ্গল থেকে পায়ে হেঁটে আরেকটি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। প্রথমবার মেরেছিলো আর মারেনি। দুই বেলায় খাবার দিয়েছিল। যেসব এলাকায় কোনো মানুষজন নেই। এলাকাগুলো নির্জন, চারদিকে খালি দেখা গেছে। অবশেষে এখন দেশে আসতে পেরে খুশি লাগছে।’
মক্কা চুক্তির বিষয়ে সব কিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করবে। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকার সন্তুষ্ট কিনা সেটি বিষয় না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় তিনি ই-জুডিশিয়ারি (বিচকর বিভাগের ডিজিটালাইজেশন) নিয়ে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে জানান তিনি।
এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই, কিছু দুষ্কৃতিকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফরিদপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে কৃষি পণ্য আমদানি নয়, দেশ থেকে কৃষি পণ্য রপ্তানি করা হবে। ফরিদপুর জেলায় দেশীয় মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ও সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ভালো। এ কারণে অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় এখানে চাষাবাদে তুলনামূলক কম পরিমাণে সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আর এ কারণে এই এলাকায় পেঁয়াজ ও পাটের চাষ খুব ভালো হয়।
এরপর তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার হলরুমে ফরিদপুর জেলার পেঁয়াজ ও পাট চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি, শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি, মো. ইলিয়াস আলী মোল্লা এমপি।
অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম। পৃথক মতবিনিময় সভায় কৃষি ও কৃষকসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং জেলার কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
গাজীপুরে একদিনে পৃথক ঘটনায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর দক্ষিণ পাড়া এলাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গরুর ঘাস কাটা নিয়ে বিবাদে চাচাতো ভাই রাসেলের হামলায় নিলয় সরকার (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত নিলয় ওই এলাকার মনির সরকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে ঘাস কাটা নিয়ে চাচাতো ভাই রাসেলের সাথে নিলয়ের কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। ঝগড়ার জেরে বাজার থেকে ফেরার পথে নিলয়ের ওপর ওত পেতে হামলা চালায় রাসেল। আব্দুর রশিদ এতিমখানার পাশে পাকা রাস্তায় পৌঁছামাত্রই নিলয়ের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত কোপ দেয় ঘাতক রাসেল। পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, অভিযুক্ত রাসেলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কাপাসিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর জাহিদ হাসান (৫) নামের এক শিশুর মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে ব্রহ্মপুত্র নদীর ঘাটে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পান। নিহত জাহিদ হাসান কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের খিরাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট দুপুর থেকে শিশু জাহিদ হাসানকে পরিবারের সদস্যরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কাপাসিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ব্রহ্মপুত্র নদীর ঘাটে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দিলে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
অপরদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গলাচিপা এলাকায় গজারী বন থেকে অর্ধগলিত এক কারখানা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত মশিউর রহমান রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার রাজবল্লভপুর এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে এবং স্থানীয় ‘জেএমই গার্মেন্টস’-এ চাকরি করতেন। তিনি গত বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার গলাচিপা এলাকায় গহীন গজারী বনের ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। এ সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা বনের ভেতর গিয়ে দেখতে পান এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ গজারী গাছের ডালে ঝুলে রয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগে ওই ব্যক্তিকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে সেখানে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।
এছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ট্রেনে কাটা পড়ে আবু বক্কর (৩৫) নামের এক বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বরাব পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু বক্কর বরাব পশ্চিমপাড়া এলাকার সাহেব আলীর ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়, বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে ‘প্রকৃত দোষীদের’ চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে বিবৃতি ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি জানান।
সমাবেশে নেতারা বলেন, একটি বিশেষ চক্র নিজেদের উদ্দেশ্য ও স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরিষদের দাবি, হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
নেতারা বলেন, বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ঐক্য পরিষদের নেতাদের ভাষ্য, রংপুরের হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নয়, সারাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে প্ররোচিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন।
সমাবেশে বক্তাদের দাবি, দেশে এখনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ঐক্য পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে সারা দেশে অন্তত ৪১টি আংশিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
সমাবেশে উল্লেখ করা হিসাব অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ও দুটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০টি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার, আদিবাসীদের ওপর হামলার পাঁচটি এবং বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০টি ঘটনা ঘটেছে।
‘রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক: চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মিলবে কোন পথে’—এই স্লোগানসংবলিত ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। পরে অর্ধশতাধিক সংখ্যালঘু নাগরিকের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও। যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, মিলন কান্তি দত্ত, ডিএন চ্যাটার্জী, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, জয়ন্তী রায়, পদ্মাবতী দেবী, অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য, সাংবাদিক পুলক ঘটক, অতুল মণ্ডল, দিপালী চক্রবর্তী, তাপস দাস ও দিপংকর চন্দ্র শীলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের আপত্তিকে সরকারের ওপর চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং এসব আপত্তিকে গঠনমূলক পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। সরকারের ওপর এ ধরনের গঠনমূলক চাপ থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামেয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টিকে কোনো দূরত্ব হিসেবে দেখছেন না। বরং যোগাযোগ যত বাড়বে, দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধানও তত কমে আসবে।
তিনি বলেন, ‘এর আগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো দায়িত্বে আমি ছিলাম না। তাই দেশের ওলামা, পীর-মাশায়েখদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের পরামর্শ নেওয়া এবং তাদের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন বিষয়ে যে পরামর্শ, চাপ কিংবা জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন সরকারের কাছে আসে, সেগুলোকে চাপ হিসেবে না দেখে গঠনমূলক পরামর্শ হিসেবে দেখা হয়। সরকারের ওপর এ ধরনের গঠনমূলক চাপ থাকা প্রয়োজন, যাতে ভুলত্রুটি এড়ানো সম্ভব হয়।
এদিকে হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ছেলে মুফতি আইয়ুব বাবুনগরী বলেন, শনিবার দুপুরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাদ্রাসায় এসে তার বাবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তার দোয়া নেন।
তিনি বলেন, সাক্ষাৎকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে চান। তিনি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নন, বরং সবার ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের দেওয়া বিবৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে মুফতি আইয়ুব বাবুনগরী বলেন, ‘বিবৃতিটি কে দিয়েছেন, সেটি আমরা জানি না। এ বিষয়ে আজ কোনো আলোচনা হয়নি।’
পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে নতুন একটি ‘স্পেশাল’ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে শিগগিরই অভিযানে নামতে যাচ্ছে নবগঠিত এ বিশেষ ইউনিট।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
একইসঙ্গে, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তিনি। এসময় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পিস্তল, রিভলবার বা শটগান উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে খবর দিয়ে সহায়তাকারীদেরকে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য প্রদানকারীদের সুরক্ষার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। এছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে ইতোমধ্যেই অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একইসঙ্গে, সারাদেশে মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দুই বছর প্রেমের সম্পর্কের নামে একাধিকবার ধর্ষণ, গর্ভপাত এবং প্রতারণার পর মনিরুল ইসলাম নামের প্রেমিকের বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে অবস্থান নেন ওই তরুণী। মনিরুল কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আশা গাজীর ছেলে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী তরুণী (২০) একই উপজেলার ৪ নম্বর লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
জানা যায়, গত দুই বছর ধরে মনিরুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুবাদে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মনিরুল তার নিজ বাড়িসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন পার্কে ও গোপন স্থানে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক অ্যান্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসাউন্ড ও পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, গর্ভাবস্থার বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী ডেকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে কৌশলে গর্ভপাত (অ্যাবশন) করানো হয়। এরপর সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্ক অস্বীকার করে প্রতারক মনিরুল গোপনে দেশের বাইরে চলে যান।
আরো জানা যায়, মনিরুল বিদেশ চলে যাওয়ার পর অসহায় ওই নারী কোনো উপায় না পেয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের পরামর্শে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে নিজের অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তিনি কেড়াগাছি গ্রামে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, তাকে আইনি ও পারিবারিক মর্যাদা না দিলে তিনি ওই বাড়িতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুলের পরিবার দ্রুত স্থানীয় ওয়ার্ডের এক সাবেক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিযুক্তের দেশে ফেরার পর সালিশের মাধ্যমে সঠিক বিচার করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করলে, ওই নারী বাড়ি ফিরে যান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গ্যাসের আটটি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু করেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।
গত ১৭ বছরে দেশে নতুন গ্যাসকূপ ও বিদ্যুৎ গ্রিড যুক্ত না হওয়ায় বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির উদ্যোগে শিল্পশ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশকে লন্ডনের আদলে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
শিল্পশ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। শ্রমিকদের কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। বর্তমান সরকার এ সংকট নিরসনে কাজ করছে। নতুন গ্যাসকূপ খনন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি হোসেন সিকদারের সভাপতিত্বে স্থানীয় বিএনপি ও মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে শিল্পশ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিল্পনগরীর শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, আগামী গ্রীষ্মের আগেই ন্যূনতম তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে দেশ। ফলে আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব তো তেলের ওপর ভাসছে। সেখানে কেন তেলের দাম বাড়লো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন তেল-গ্যাসের দাম বাড়লো? বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে। সেখানে আমাদের মতো একটি দেশে সরকার কতদিন সমন্বয় না করে থাকবে?
তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার জনগণের কথা ভেবে সমন্বয় করছে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে পরিমিতিবোধ তৈরি করার পাশাপাশি বাচ্চাদেরও পরিমিত ব্যবহার শেখাতে হবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভাব বিস্তার কিংবা অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি করতে চায়, তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক, পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, যশোর বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষকরা।
বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার খাদ্য গুদাম পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করব। যেখানেই অনিয়ম সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় গুদাম ঘরে অনিয়ম পাওয়া গেছে, সঙ্গে সঙ্গে তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ধানকোড়া গিরিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে গণসংবর্ধণা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই আমার মন্ত্রাণালয়ের প্রথম কাজ জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপদ না হলে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে।
তিনি বলেন, খাদ্য মজুত যাতে যথেষ্ট থাকে এবং যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা যেন সামাল দিতে পারি সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখছি।
সার সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো সার সংকট নেই। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রীসহ আমারা মিটিং করেছি। সেখানে বলা হয়েছে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। হয়ত কোথায় বিতরণ ঠিকমত হচ্ছে না। এ কারণে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে না।
আর আপনারা জানেন, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-রাজবাড়ির দৌলতদিয়া এবং পাবনার কাজিরহাট নৌরুটে ওয়াই প্যাটার্নে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ইতোমধ্যে সমীক্ষাসহ প্রাথমিক কাজ চলছে।
ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ আমির হামজা ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মখান, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আওয়াল খান, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আযাদ বিপ্লব, সাটুরিয়া কৃষক দলের সভাপতি বরকত মল্লিকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছর ধরে এক্স-রে যন্ত্র অচল। হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও চার বছর ধরে নেই চালক। এর সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসক, কর্মচারী ও ওষুধের সংকট। ফলে সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের একদিকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বাইরে, অন্যদিকে জরুরি রোগী পরিবহনে ভরসা করতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর।
৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু কেশবপুরের মানুষই নয়, পার্শ্ববর্তী যশোরের মনিরামপুর, খুলনার ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া উপজেলার রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালটির ওপর রয়েছে আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষেরও নির্ভরতা।
জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪৩টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৪ জন। শূন্য রয়েছে ১৯টি পদ। এর মধ্যে অর্থোপেডিক, হৃদ্রোগ, চক্ষু, চর্ম ও সার্জারি বিভাগের পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ এবং ১৪ জন সাধারণ চিকিৎসকের পদ শূন্য।
চিকিৎসকের পাশাপাশি অন্যান্য জনবলেও রয়েছে ঘাটতি। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ১১৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৭ জন। চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৪ জন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে প্রায় ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। অন্তর্বিভাগে রোগী ভর্তি থাকেন প্রায় ১০০ জন। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় অনেক সময় মেঝেতেও রোগীদের থাকতে হয়।
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ রোগনির্ণয় ব্যবস্থা এক্স-রে যন্ত্রটি দুই বছর ধরে অচল পড়ে আছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করাতে রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে।
গত ২৪ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৭০ বছর বয়সি ভানু বিবিকে বুকের এক্স-রে, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করতে বলা হয়। রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষা হাসপাতালে করা গেলেও এক্স-রে করতে তাকে বাইরে যেতে হয়। এজন্য খরচ হয় ৪৫০ টাকা।
ভানু বিবির স্বজন আব্দুল খালেক বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে করা গেলে খরচ হতো ২২০ টাকা। যন্ত্র অচল থাকায় বাইরে বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।।
গত ২১ আগস্ট কেশবপুর শহরের বাসিন্দা খালিদুর রহমানের ভাগনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে খুলনায় নেওয়ার প্রয়োজন হয়। হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়। এতে খরচ হয় ২ হাজার ২০০ টাকা।
খালিদুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কেশবপুর থেকে খুলনায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া ১ হাজার ২০ টাকা। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা না পাওয়ায় তাদের প্রায় দ্বিগুণ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কয়েকজন ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কেশবপুর উপজেলার সাবদিয়া গ্রামের রোজিনা খাতুন গত ২৪ আগস্ট তার ৪১ দিনের শিশুকে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আনেন। চিকিৎসক শিশুটিকে দেখে ব্যবস্থাপত্র দিলেও ওষুধ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। এর ১৫ দিন আগেও একই হাসপাতালে এসে ওষুধ পাননি বলে তার অভিযোগ।
গত ৩০ আগস্ট হাসপাতালটিতে সরেজমিনে রোগীদের ভিড় দেখা যায়। চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে ছিল দীর্ঘ সারি। ওই দিন অন্তর্বিভাগে ভর্তি ছিলেন ৮২ জন রোগী। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন ৬৪৩ জন।
অর্থাৎ ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগীর চাপ নিয়মিতই রয়েছে। এর মধ্যেই চিকিৎসক, রোগনির্ণয় যন্ত্র, অ্যাম্বুলেন্স ও জনবলের ঘাটতি সামাল দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনেওয়াজ বলেন, চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা ঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। তার সরকারি গাড়ির চালক দিয়ে মাঝেমধ্যে রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। দুই বছর ধরে এক্স-রে যন্ত্রটি নষ্ট থাকার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। অর্থবছর শেষ হওয়ায় অনেক ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ওষুধ কেনা হলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
যশোরের সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা বলেন, অনেক জায়গাতেই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সংকট রয়েছে। চালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করা কঠিন। ওষুধের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শেষ হলে সংকট কমবে। নতুন এক্স-রে মেশিন কেনার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এলাকাবাসীরা বলেন, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বৃদ্ধি, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক পদের অনুমোদন থাকলেও প্রয়োজনীয় সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। এক্স-রে যন্ত্র দীর্ঘদিন অচল, অ্যাম্বুলেন্স চালানোর জন্য চালক নেই, চিকিৎসকের ১৯টি পদ শূন্য এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র একজন। ফলে হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল বিপুলসংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা নিতে এসে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বাড়তি ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ইজিবাইকের দাপটে যাত্রী কমে যাওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সময় বেশি লাগা, পথে যত্রতত্র থামা ও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কারণে যাত্রীরা বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক ও ট্রেনমুখী হয়েছেন। এতে যাত্রীসংকটে লোকসান হওয়ায় বাসমালিকেরা এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই বাসের যাত্রী কমার একমাত্র কারণ নয়। বাসের সময়সূচি, পথে যত্রতত্র থামানো এবং যাত্রীসেবার মানও এর সঙ্গে জড়িত। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বাস চালানো, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং সেবার মান উন্নত করা গেলে এ রুটে আবার যাত্রী ফিরতে পারে।
জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল থেকে আক্কেলপুর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
স্থানীয় বাসমালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকের পর এ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। তখন বাসভাড়া ছিল ৩ টাকা। কয়েক ধাপে ভাড়া বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়। একসময় প্রতিদিন গড়ে ৩০টি বাস এ রুটে চলাচল করত। সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বাস চলত। ১৫ মিনিট পরপর জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল ও আক্কেলপুর থেকে বাস ছেড়ে যেত।
গত কয়েক বছরে এ রুটে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়েছে। যাত্রীরা সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন এবং তুলনামূলক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এ কারণে অনেক যাত্রী বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক বেছে নিচ্ছেন। পাশাপাশি জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে ট্রেন চলাচল করায় কম খরচে যাতায়াতের সুযোগও রয়েছে। ফলে বাসের যাত্রীসংখ্যা আরও কমেছে।
নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসে জয়পুরহাট থেকে আক্কেলপুর যেতে সময় বেশি লাগে। বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার পর পথে বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য বাস থামানো হয়। এতে ২০ কিলোমিটারের পথ যেতে বেশি সময় লাগে। অন্যদিকে ইজিবাইকে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী না নেওয়ায় ইজিবাইকে ভিড়ও তুলনামূলক কম থাকে বলে যাত্রীরা জানান।
আক্কেলপুরের যাত্রী রিফাত হোসেন বলেন, বাসে সময় বেশি লাগে, তাই ইজিবাইকেই যাই। ইজিবাইকে আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া হয় না। তাই ভিড় কম থাকে, স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে যাওয়া যায়।
আরেক যাত্রী জুয়েল রানা বলেন, এটি ছোট যানবাহনের কাছে বড় যানবাহনের পরাজয়ের মতো মনে হচ্ছে। বাস বন্ধ থাকায় ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে বাস থাকলে যাতায়াতে সুবিধা হতো।
বাসচালক রাজু হোসেন বলেন, আগে যাত্রী ভালো ছিল। এখন অনেক সময় অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে বাস চলত। এতে জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচও উঠত না।
বাসমালিক সফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে শত শত ইজিবাইক ও সিএনজি চলছে। বাসমালিকেরা অনেক চেষ্টা করেও এ রুটে ইজিবাইক ও সিএনজি চলাচল বন্ধ করতে পারেননি। এসব ছোট যানবাহনের কারণে বাসে যাত্রী হয় না। বাসের আয় দিয়ে জ্বালানি, চালক-সহকারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছিল না। লোকসান হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাস বন্ধ করতে হয়েছে। এ রুটের বাসমালিকেরা তাদের বাস বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রায় আট মাস ধরে এ রুটে আর বাস চলছে না।
ইজিবাইকচালক আরিফ হোসেন বলেন, ইজিবাইকে যাত্রীরা সুবিধামতো জায়গা থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। এ কারণে যাত্রীরা ইজিবাইকমুখী হয়েছেন। এ রুটে এখন বাস চলাচল করে না।
জয়পুরহাট জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লিটন বলেন, ইজিবাইক ও সিএনজির কারণে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাসে যাত্রী হয় না। এ রুটে বাস চালিয়ে মালিকেরা দীর্ঘদিন লোকসান করেছেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা করে জয়পুরহাট হয়ে আক্কেলপুর দিয়ে সরাসরি বগুড়ায় বাস চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত তা চালু করা হবে।
আক্কেলপুর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতিউর রাব্বি তিয়াস বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় জয়পুরহাট ও আক্কেলপুরের মধ্যে যাতায়াতে ট্রেন ও ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ রুটে নিয়মিত বাসসেবা থাকা দরকার।’
নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে নীলফামারী জেলা পরিষদ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় নীলফামারী সার্কিট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সহধর্মিণী মোছা. তামান্না ইয়াসমিন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও তাদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করতে শিক্ষাসহায়তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবন শেষে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ শেষে সদর উপজেলা পরিষদের ইউপিডিএফ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪০টি ফ্যান, ১৫টি সেলাই মেশিন, ১৫টি সাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ,সদর উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলামসহ জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।